Tuesday, April 21, 2020

জীবন দিয়ে শ্রীলংকা হামলার একাংশ ঠেকিয়েছিলেন যিনি

দুই সন্তানের সাথে রমেশ রাজু ও ক্রিসান্থিনি - ছবি : সংগৃহীত
ইস্টার সানডের প্রস্তুতি চলছিল। শ্রীলঙ্কার জিয়ন গির্জা তখন ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। ঠিক ওই সময় এক ব্যক্তি পিঠে ভারী ব্যাগ নিয়ে গির্জায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি ভেতরে ঢুকতে পারলে বহু মানুষের জীবনহানি হতো ওই গির্জার ভেতরে। কিন্তু তাকে এ অবস্থায় ভেতরে যেতে বাধা দেন রমেশ রাজু নামের এক ব্যক্তি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
ও্ই প্রতিবেদনে বলা হয়, শেষ পর্যন্ত ওই হামলায় প্রাণ দিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী রমেশ নিজেই। কিন্তু এর বিনিময়ে বাঁচিয়ে দেন ওই মুহূর্তে ওই গির্জায় থাকা সাড়ে চারশো মানুষের অনেককেই।
রাজুর স্ত্রী ক্রিসান্থিনি ওই গির্জাতেই সানডে স্কুল টিচার হিসেবে কাজ করেন এবং এই রোববারেও তিনি ক্লাসে চলে গিয়েছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে; ১৪ বছরের রুখশিখা ও ১২ বছরের নিরুবান।
তিনি ও রমেশ প্রতি সপ্তাহেই বাচ্চাদের গির্জায় নেন এবং পরে সন্তানদের প্রার্থনায় নিয়ে যেতেন রমেশই।
ক্রিসান্থিনি জানান, ওইদিন ক্লাস শেষে ক্রিসান্থিনি ও কয়েকটা শিশু বাইরে যান খাবার কিনতে এবং তখনো ইস্টার সানডের কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এমন সময় তিনি গির্জার বাইরের চত্বরেই তিনি এক ব্যক্তিকে বড়ব্যাগসহ দেখেন। ওই ব্যক্তি বলছিলো তার ব্যাগে ভিডিও ক্যামেরা রয়েছে এবং তিনি ভেতরে প্রার্থনার ভিডিও ফুটেজ নেবেন।
তার অবস্থা দেখে আমার স্বামী কিছু একটা সমস্যা আঁচ করতে পারছিলেন এবং ওই ব্যক্তিকে বললেন তাকে আগে অনুমতি নিতে হবে।
ক্রিসান্থিনি বলেন, এরপর এক প্রকার জোর করেই ওই ব্যক্তিকে চলে যেতে বাধ্য করেন তার স্বামী। এরপর ক্রিসান্থিনি ভেতরে চলে যান যেখানে প্রায় ৪৫০ জনের মতো মানুষ প্রার্থনায় যোগ দেয়ার অপেক্ষায়।
এর মধ্যেই বড় বিস্ফোরণের শব্দ কানে আসে ও লোকজন ভয়ার্ত হয়ে যে যেদিকে পারে দৌড়াতে থাকে, কারণ ইতোমধ্যেই ভবনের এক পাশে আগুন ধরে গেছে।
এ অবস্থায় ক্রিসান্থিনি ও তার পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যান এবং তারা রমেশকে খুঁজতে হাসপাতালে যান।
কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃতদেহ পান তারা। ক্রিসান্থিনি জানান, রমেশ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন যেখানে ক্রিসান্থিনি তাকে সর্বশেষ দেখেছিলেন। সোমবার দাফন করা হয়েছে রমেশকে।
এর আগে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় ক্রিসান্থিনির মাও খুন হয়েছিলেন। এরপর তার পিতাও খুন হয়েছিলেন এবং সর্বশেষ স্বামীও হারালেন তিনি। সব হারিয়ে এখন অনেকটা বাকহারা ক্রিসান্থিনি।

২১ এপ্রিল ২০১৯  সকালে ৩ গির্জায় আকস্মিক ওই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সকালে ইস্টার সানডে উপলক্ষে অনেক মানুষের ঢল নামে কলম্বোর গির্জাগুলোতে। এসময় ৩টি গির্জা একসঙ্গে সিরিজ বোমা হামলা ঘটানো হয়, ওই কলম্বো শহর থেকে কিছু দুরে অবস্থিত আরও কয়েকটি গির্জায় হামলা চালানো হয়। এদিকে শুধু গির্জায় হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, জঙ্গিরা গির্জার পাশে অবস্থিত শহরের প্রধান দু’টি হোটেলেও সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়।

এদিকে ওই ঘটনায় দেশটির বোমা স্কোয়াডের একটি সূত্র জানায়, কলম্বের যে গির্জায় সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছে। তার থেকে ঠিক কয়েক কিলোমিটার দুরে অবস্থিত শহর নিগোম্বোতে আরও একটি গির্জায় একই সসয়ে একই কায়দায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।





হারিয়ে যাচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি by হামিদুল ইসলাম লিংকন

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে মুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত। বিক্রমপুর বাংলার একটি ঐতিহাসিক এলাকা। সুপ্রাচীন কাল থেকেই এই অঞ্চল তার বৌদ্ধ জ্ঞান চর্চার জন্য এবং পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য সুপরিচিত।
ধারণা করা হয়, বৈদিক যুগ থেকে ভাওয়াল ও সোনারগাঁও রাজধানী হিসেবে আবির্ভূত হবার আগ পর্যন্ত এটিই ছিল বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী। বিক্রমপুর ছিল রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজধানী। এই এলাকায় বাংলার বহু কীর্তিমান ব্যক্তির জন্ম হয়েছে। সে সময় থেকেই যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ঘোড়ার গাড়ি।
আধুনিক যান্ত্রিক যানবাহনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে ঘোড়ার গাড়ি! ইঞ্জিনের স্পর্শে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক যানবাহনই কালপরিক্রমায় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সময় অতিবাহিত হবার সাথে সাথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের ধারক-বাহক অনেক বাহনেরই আমূল পরিবর্তন, আধুনিকায়ন সাধিত হয়েছে। আবার ঐতিহ্যবাহী অনেক বাহনই হারিয়ে গেছে দৃশ্যপট থেকে।
তেমনি মান্ধাতার আমলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ঘোড়ার সাহায্যে চলমান ঘোড়ার গাড়ি বহুবিধ কারণে বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে দৃশ্যপট থেকে। কয়েক বছর আগেও কালে ভাদ্রে দু’একটি ঘোড়ার গাড়ির দেখা মিললেও বর্তমানে তা যেন ডুমুরের ফুল।
জানা গেছে, প্রাচীনকাল থেকে গাঁও গ্রামে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হতো ঘোড়ার গাড়ির অবকাঠামো। আর কেটে পুরিযে গোলাকার করে পেরেক মেরে তৈরি করা হতো চাকা। ওই গাড়িকে টেনে নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো ঘোড়াকে। কালের আবর্তে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার কমে যেতে থাকলেও এখনও বিশ্বে আধুনিক সকল যানবাহনের জন্য তৈরিকৃত সকল ইঞ্জিনের ক্ষমতাকে ঘোড়ার শক্তি (অশ্বশক্তি) হিসাবে পরিমাপ করা হয়েছে থাকে। যে ইঞ্জিনের অশ্বশক্তি (হর্স পাওয়ার) যত বেশী তার পরিবহন ক্ষমতা ও মূল্যও তত বেশী হয়ে থাকে।
সুপ্রাচীনকাল থেকে দেশের গ্রামীণ জনপদের কাঁচা মেঠো পথে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে গরুর গাড়ি, মহিষের গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ির বহুল প্রচলণ পরিলক্ষিত হতো। কিন্তু যখন থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানী দ্বারা চালিত ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি যানবাহনের প্রচলন ঘটতে থাকে তখন থেকেই মান্ধাতা আমলের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরিকৃত ‘ঘোড়ার গাড়ি’র কদর ও ব্যবহার হ্রাস পেতে থাকে।
বর্তমানে দেশের গ্রামীণ জনপদের বেশীরভাগ কাঁচা ও মেঠোপথ/সড়ককে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ওইসব সড়ককে পিচপাথর দিয়ে পাকা সড়কে রূপদান করা হয়েছে। সড়কে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে জায়গা করে নিয়েছে যান্ত্রিক ইঞ্জিন দ্বারা চালিত বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি অটোরিক্সা, নছিমন, করিমনরা।
নদীমাতৃক এ দেশের চরাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনে দু’একটি ঘোড়ার গাড়ির দেখা মিললেও ক্রমান্বয়ে তাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ফলে প্রাচীনকাল থেকে সড়ক যোগাযোগে বহুল জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ‘ঘোড়ার গাড়ি’ বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে।
ঘোড়ার গাড়ির এই তীব্র দুর্দিনেও প্রাচীনকালের এই বাহনটি চালান মমিন আলী। তিনি বলেন, আগে আমার বাবা এই ঘোড়ার গাড়ি চালাইতো। তাই আমিও চালাই, কিন্তু আগের মত মালামাল বহন করা হয় না। আমার ঘোড়াটা বিক্রি করতে পারলে অন্যকাজ করতাম। ঘোড়াটা বিক্রি হয় না বলে আমি ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে যা পাই তাই বহন করি সংসার চালাতে হবে তাই।
বয়রাগাদী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেন্টু মিয়া বলেন, একটা সময় ঘোড়ার গাড়ির চাহিদা ছিল। এখন দেশ উন্নত হয়েছে, ইঞ্জিন চালিত গাড়ির অভাব নেই। তাই আগের মত ঘোড়ার গাড়ির চাহিদা নেই।

শ্রীলংকা: ইস্টার সানডে থেকে বেসাক – একটি ব্যক্তিগত আখ্যান by এস বিক্রেমারত্নে

২০ এপ্রিল ২০১৯ আমি সামনের সপ্তাহ নিয়ে ভাবছিলাম – জীবনের পরিকল্পনা এবং সাপ্তাহিক চাহিদার হিসাব নিকাশ করছিলাম। চারদিকে সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক।
২১ এপ্রিল, ২০১৯, রোববার আমি জেগে উঠলাম চরম উদ্বেগের মধ্যে। এরপরও সকাল ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা নিলাম আমি। হঠাৎ বাবার একটা চিৎকারে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম আমি “একটা বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে”। আমার মুখ হা হয়ে গেলো, ‘কি’?
১৯ বছর ধরে এই শব্দগুলোর সাথে যোগাযোগ নেই আমার। দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে গৃহযুদ্ধ দেখতে হয়নি আমাকে, কিন্তু কলম্বোতে আমার ছেলেবেলায় এই শব্দগুলো অনেক শুনেছি।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ঘটনার সত্যতা জানতে পারলাম। পুরো শ্রীলংকা জুড়ে একটা আঘাত আর যাতনা বয়ে যাচ্ছে এবং আশার আলোটা ক্রমেই কমে আসছে। যন্ত্রণাদায়ক দেশপ্রেমের মধ্যে, একটা চিন্তারই পুনরাবৃত্তি করলাম আমরা: “প্লিজ, নট এগেইন”।
আধা ঘন্টার মধ্যে আমাদেরকে গৃহযুদ্ধের সময়ে ফিরে যেতে বাধ্য করা হলো, পরিস্থিতি অবশ্য গৃহযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ ছিল। শয়তানী শক্তির কাছে কলম্বো এক দিনেই ছয়বার নত হলো। একটা বিস্ফোরণ স্থল ছিল আমার কর্মক্ষেত্র থেকে মাত্র ১০ মিটার দূরে।
আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। অবিশ্বাস, যন্ত্রণা আর গৃহযুদ্ধের স্মৃতি স্মরণে নিয়ে আমি পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী আর সাহায্যকারীদের খোঁজ নিতে শুরু করলাম। তারা জীবিত আছেন। আমার পরিচিতরা ‘জীবিত’ আছেন – কিন্তু আমার কাছে এটা অবাস্তব আর ভঙ্গুর মনে হলো।
আমি মানসিক আঘাত আর উদ্বেগ নিয়ে অস্থির থাকলাম, আমার পরিবারের লোকেরা টেলিভিশন সেটের সামনে বসে থাকলো। কিন্তু আমি দেখতে পারলাম না। ২২ মিলিয়ন শ্রীলংকানের উপর – আমাদের জীবন, আমাদের স্বাভাবিকতা, আমাদের আশার উপর যে অসহায়ত্ব আর যাতনা আরোপিত হয়েছে, সেটাকে আমি মেনে নিতে পারলাম না।
কারফিউ জারি হলো, রাত নামলো, শেষ পর্যন্ত টেলিভিশনে সারা দিনের বর্বরতার দৃশ্য দেখলাম। যন্ত্রণায় চোখে পানি আসলো, হাঁটু কাঁপতে লাগলো। আমার জন্মস্থান কলম্বো বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। নিষ্পাপ মানুষ মারা গেছে – যাদের মধ্যে শিশুও আছে, যাদের এমনকি বিভাজন সম্পর্কে ধারণাও নেই, তারাও মারা গেছে। বহু পরিবারের অস্তিত্ব মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই মুছে গেছে। সেন্ট অ্যান্থনি চার্চ, সিনামন গ্র্যান্ড, সাংগ্রি-লা, এবং কিংসবেরি টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। এইসব জায়গার আনন্দময় স্মৃতিগুলো রক্তাক্ত আর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। কলম্বোর শোককে সান্ত্বনা দেয়ার কোন উপায় নেই।
পরদিন শ্রীলংকা জেগে উঠলো থমকে থমকে, আতঙ্ক আর শোকের মধ্যে। স্বাভাবিকতা হারিয়ে গেছে, ২৩ এপ্রিলের কালো আকাশের নিচে আতঙ্কের মধ্যে মৃতদের কবর দিয়েছি আমরা।
এক সপ্তাহ আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটিয়েছি, ঘরে বন্দী থেকেছি, নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোন দিশা খুঁজে পায়নি। হাসপাতালগুলো খালি হয়ে গিয়েছিল কারণ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছিলেন ডাক্তাররা। আমার উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছিল কারণ আমার বাবার জরুরি মেডিকেল কেয়ারের প্রয়োজন পড়েছিল। একমাত্র সন্তান হিসেবে আমি তাকে সঙ্গ দিতে পারিনি। আমাকে সংবাদের পিছনে ছুটতে হয়েছে, আরও বিস্ফোরণ ঘটলো কি না, সেটা খুঁজতে হয়েছে, কারা মারা গেলো তাদের পরিচয় খুঁজতে হয়েছে। তাই, আমার বাবাকে সম্ভাব্য সমস্যার মধ্যে ফেলেই আমাকে ছুটতে হয়েছে, আমি জানতামও না তিনি ফিরে আসবেন কি না।
ইস্টার সানডের বোমা হামলার পর চার সপ্তাহ ধরে আতঙ্ক আর আস্থার দোলাচলের মধ্যে আছে শ্রীলংকা। জীবন বদলে গেছে। প্রাণবন্ত আর চটকদার কলম্বো প্রচণ্ড নিরব হয়ে গেছে। প্রার্থনার জায়গাগুলো হঠাৎ করেই থেমে গেছে। সরকারের ব্যাপারে জোরেসোরে এবং তীব্র ভাষায় সমালোচনা চলছে। অস্থিরতার ভেতরের স্রোতটা থেমেছে, এরপর আবারও নিরপরাধ ব্যক্তিরা হামলার শিকার হয়েছে। আতঙ্ক ও যন্ত্রণা আবারও ঘিরে ধরেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থমকে গেছে। কর্মস্থলগুলোতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়ে দুর্গ বানিয়ে তোলা হয়েছে।
কিন্তু দয়া এবং ঐক্যের বহিপ্রকাশের কারণে নতুন আশার জন্ম নিয়েছে। বৌদ্ধ ও ইসলাম নিয়ে প্রশ্ন ঘন ঘন জিজ্ঞাসা করা হযেছে, যেখানে একজন মাত্র কার্ডিনাল (সব ধর্মের লোক যাকে সমর্থন দিয়েছে) বৌদ্ধ সংখ্যাগুরু একটা জাতির মধ্যে ঐকতান নিয়ে এসেছেন।
নতুন এই নীতির মধ্যে প্রত্যেকে নিরাপত্তা, আশা, ভালোবাসা, ঘৃণা, শৃঙ্খলা ও আস্থা – প্রত্যেকেই যারা নিজ নিজ গল্পের কাঠামোয় গভীর হতাশায় নিমজ্জিত – প্রত্যেকেই তারা এই গভীর উত্তরহীন প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজেছেন।
এইসব চিন্তা, বিনিময় এবং সম্ভাব্য অনৈক্যের মধ্যে একটা বিষয় বোঝা গেছে, শ্রীলংকা যে নাগরিক তৈরি করছে, তাদের মানের দিকে নজর দিতে হবে, সমস্ত নাগরিককে ক্ষতিমুক্ত দেশপ্রেম, সমন্বয়, সহিষ্ণুতা, দয়া, সমবেদনা, এবং সততায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে, এই ধারণাগুলোকে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে, প্রতিটি বাড়িতে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ও বারবার পুণরাবৃত্তি করতে হবে, যাতে সম্মিলিতভাবে আমরা কোমলমতি মানুষ তৈরি করতে পারি – এমন মানুষ যারা শ্রীলংকাকে এর ট্রপিক্যাল সৌন্দর্য, এর সংস্কৃতি ও বৈচিত্রের জন্য ভালোবাসবে।
গত মাসের যন্ত্রণা আর অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে আধ্যাত্মিকতা – শুরুটা হয়েছে ইস্টার সানডে দিয়ে, যেদিন যীশু খ্রিস্ট আসমানে উঠে যান – সেটা দিয়ে, এরপর এসেছে রমজান, আর শেষ হয়েছে বেসাক দিয়ে – যে দিনটিতে বুদ্ধর জন্ম, বোধিপ্রাপ্তি এবং নির্বাণ লাভ হয়েছে।
এটাকে সম্ভবত কাকতালীয় বলা যাবে না, বরং শ্রীলংকা এবং বিশ্ব নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য এটাকে একটা বৈশ্বিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি ধর্মের মধ্যে যে কোলমতা এবং সহিষ্ণুতা রয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষার দিকে যাওয়ার অনুপ্রেরণা ফুটে উঠেছে।
“সমগ্র বিশ্বে – উপরে নিচে ও চারিদিকে – নিরঙ্কুশ, বিদ্বেষহীন, শত্রুতমুক্ত – সীমাহীন প্রেম ছড়িয়ে দাও।”- বুদ্ধ। (মেত্তা সুত্তা থেকে)

ঘরে চাষ হোক অ্যালোভেরা

টাটকা অ্যালোভেরার শরবতের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। এছাড়া ত্বক ও চুলচর্চায়ও এই ভেষজের জুড়ি মেলা ভার। টাটকা অ্যালোভেরা যদি হাতের কাছে পেতে চান, তাহলে টবেই লাগিয়ে ফেলতে পারেন অ্যালোভেরা গাছ। অ্যালোভেরার একটি পাতা থেকেই হবে গাছ। খুব বেশি যত্নআত্তিরও প্রয়োজন নেই এই গাছের।
চাষের জন্য কয়েকটি অ্যালোভেরার পাতা সংগ্রহ করুন। লক্ষ রাখবেন যেন নিচের দিকের সাদা অংশটি থাকে পাতার সঙ্গে। এবার সাধারণ মাটির মাঝে গর্ত করে বসিয়ে দিন অ্যালোভেরার পাতা। পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিন মাটি। শেকড় গজাতে শুরু করলে বড় পাত্রে সরিয়ে দিতে পারেন পাতা। চাইলে একবারেও বড় টবে লাগাতে পারেন।
আরেকটি উপায়ে অ্যালোভেরার পাতা থেকে গাছ গজাবে। অ্যালোভেরার পাতা মাঝখান থেকে কেটে নিন ধারালো ছুরির সাহায্যে। দুই সপ্তাহ উষ্ণ স্থানে রেখে দিন পাতা। বাদামি রং হয়ে আসলে টবে লাগান। তবে নিচে যেন ছিদ্র থাকে সেদিকে লক্ষ রাখবেন। ঝরঝরে মাটি দিয়ে দিন টবে। মাটির মাঝে অ্যালোভেরার পাতা গুঁজে পানি দিয়ে দিন। এমন জায়গায় রাখবেন যেখানে সরাসরি রোদ আসে। পানি দিতে হবে প্রতিদিন। ৪ সপ্তাহের মধ্যেই বাড়তে শুরু করবে অ্যালোভেরা গাছ।
অ্যালোভেরা গাছ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করতে পারেন। সার তৈরির জন্য ৪/৫টি ডিমের খোসা চূর্ণ করে নিন। মুঠোভর্তি আলুর খোসা, কয়েকটি কলার খোসা ও ডিমের খোসা দেড় লিটার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পাত্র ঢেকে রাখবেন। ৩ দিন পর ফেনা উঠে গেলে মিশ্রণটি ছেঁকে পানি আলাদা করুন। অ্যালোভেরা গাছে প্রতি ১৫ দিন পর পর এই পানি দিন।