Friday, June 25, 2010

আরও দুর্দিনে দুগ্ধশিল্প by শাইখ সিরাজ

আবারও সেই চিত্র। রাস্তার কালো পিচ সাদা হয়ে যাচ্ছে দুধে। মণকে মণ দুধ ঢালা হচ্ছে রাস্তায়। ক্ষোভে-দুঃখে হাহাকার করে উঠছেন হাজারো দুগ্ধ খামারি। তাঁদের সামনে এগোনোর সমস্ত পথই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। গত বছর এপ্রিলে ঠিক একই চিত্র দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সেবার পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টনকে টন দুধ রাস্তায় ঢেলে প্রতিবাদ জানান দুগ্ধ খামারিরা। তখন খামারিদের অভিযোগ ছিল, সরকারি-বেসরকারি দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বাইরে থেকে দুধ আনায় তাঁদের দুধের চাহিদা কমে গেছে। এ জন্য পথে বসার উপক্রম হয়েছে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের লক্ষাধিক খামারি ও দুধ সংগ্রহকারী এজেন্টদের।
দুগ্ধ খামারিদের তখনকার দাবি ছিল, বাইরে থেকে কম দামে গুঁড়া ও তরল দুধ আনা বন্ধ করতে হবে। তখন আকস্মিকভাবে ভারত থেকে বিভিন্ন পথে তরল ও গুঁড়া দুধ এত বেশি আসতে থাকে যে, স্থানীয় বাজারে দুধের চাহিদা একেবারেই পড়ে যায়। বেসরকারি কোম্পানিগুলো বৈধ-অবৈধ পথে আসা দুধ প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে পাঠানোকেই বেশি লাভজনক হিসেবে গ্রহণ করে। যা হোক, পরবর্তী সময় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও সরকারের কাছে দুগ্ধ খামারিদের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয় দুধের দেশীয় বাজার কাঠামো জোরদার করার। তিল তিল করে গড়ে ওঠা যে শিল্পের সঙ্গে একে একে বহু মানুষ যুক্ত হয়েছে, এ শিল্প দেশের মোট দুধের চাহিদার খুব অল্প অংশ পূরণ করলেও জাতীয় অর্থনীতি তথা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই যে ভূমিকা রাখছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সামগ্রিক দুগ্ধশিল্পে। কিন্তু ৬০ লাখ মানুষের স্বার্থের কথা কি আমরা ভাবছি?
প্রশ্নটি উঠল এ কারণে যে ২০১০-২০১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এবার দেশীয় দুগ্ধশিল্পের জন্য চরম ক্ষতিকর একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দিয়ে পরপর তিন বছর বাইরে থেকে আমদানি করা গুঁড়া দুধের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। এবারের এই শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি অনেক বড় আকারের ও দৃষ্টান্তমূলক। প্রস্তাবিত বাজেটে গুঁড়া দুধ আমদানির শুল্কহার ১২ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটিও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর অর্থাৎ ২০০৯ সালের বাজেটে গুঁড়া দুধ আমাদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হয়। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালে ঘোষিত বাজেটে ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এই যে পরপর তিন বছর সরকারের এ সিদ্ধান্তের কোনো কার্যকারণ সাধারণ খামারি তথা সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিষ্কার নয়। খামারিরা বুঝেই নিয়েছেন যে দুগ্ধ শিল্পকে কেন্দ্র করে তাঁদের স্বপ্ন দেখার দিন শেষ। পাশাপাশি তাঁরা এও বুঝতে পারছেন যে সরকারও চাইছে না দেশীয় দুগ্ধশিল্পের উন্নয়ন। বাজেট ঘোষণার দুদিন পর পাবনা অঞ্চলের এক দল দুগ্ধ খামারির কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। ওই চিঠির শিরোনামে তাঁরা সরকারের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘আমাদের পেটে লাথি না মেরে দেশীয় দুগ্ধশিল্পকে বাঁচান।’ খামারিদের এই আকুতি এবং লিখিত বিবরণ পড়ে হতাশ হতে হলো। তাঁরা লিখেছেন, ‘পত্রিকা মারফত জেনেছি যে দেশে নাকি আড়াই শ কোটি লিটার দুধ উৎপাদিত হয়, যার দ্বারা দেশের দুধের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এত বিপুল পরিমাণ তরল দুধ উৎপাদিত হলেও মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ দুধ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। ফলে প্রতিবছর ৪০ হাজার মেট্রিক টন গুঁড়া দুধ আমদানি করতে হয়। আমরা যে দুধ উৎপাদন করছি, তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে উল্টো আমদানি শুল্ক কমিয়ে বিদেশ থেকে দুধ আমদানিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’ হয়তো খামারি ভায়েরা খুব বেশি তীব্রভাবে সরকারের কাছে তাঁদের যন্ত্রণা উপস্থাপন করতে পারেননি, কিন্তু সমস্যার মূলে পৌঁছে সরকারের কাছে আসল আবেদনটি করেছেন। খামারিদের ওই চিঠি পড়ে দুগ্ধশিল্পের প্রতি এ পর্যন্ত সরকারের দৃষ্টিপাত এবং ব্যর্থতার নানা চিত্র যা দেখেছি তার অনেক কিছুই মনে পড়ে যায়।
সত্তর-পরবর্তী সময় দেশীয় দুগ্ধশিল্পের প্রসার এবং গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের জন্য বিদেশি সহায়তায় সাভারে প্রতিষ্ঠিত হয় সাভার ডেইরি। গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় দেশে শুরু হয় কৃত্রিম প্রজনন। বাইরে থেকে ষাঁড় এনে দেশের প্রতিটি পশুসম্পদ বিভাগে কৃত্রিম প্রজননের ব্যবস্থা চালু হয়। গ্রাম পর্যায়ে উন্নত জাতের ষাঁড় ও গাভি বিস্তারের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। দেশীয় গাভির যেখানে দুই তিন সের দুধ হতো, সেখানে উন্নত জাতের গাভির দুধ উৎপাদন শুরু হলো ১৫-২০ সের দিয়ে। কৃষকের ঘরের গাভিটি আঙিনায় কিংবা বাড়ির পাশের মাঠে চরে এবং গৃহস্থালি উপকরণ খেত, কিন্তু উন্নত জাতের গাভিটির খাদ্যব্যবস্থাপনা ভিন্ন। তার খাবারের জন্যও নতুন ভাবনা ভাবতে হলো। প্রয়োজন হলো গাভির সুষম খাবার প্রদানের। এই সুষম খাবার মানেই উচ্চমূল্যের খাবার, বিশেষ পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার। এর ধারাবাহিকতায় দেশে শুরু হলো উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদন। এভাবেই কৃষক কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার হাত ধরে এগিয়ে যেতে শুরু করল দুগ্ধশিল্প, কিন্তু এসব খামারির ঘরে উৎপাদিত দুধের বাজারজাত ব্যবস্থা হলো না। অর্থাৎ তৎকালীন সময়ের সেই প্রকল্পটি ছিল অসম্পূর্ণ ও অদূরদর্শী একটি প্রকল্প। তখন চিন্তা করা হয়নি, কোথায় বিক্রি হবে খামারিদের উৎপাদিত দুধ—শুধু মিষ্টির দোকানে কিংবা মানুষের ঘরে ঘরে গৃহস্থালির প্রয়োজনে? তখন পরিকল্পিতভাবে চিলিং প্লান্টও করা হলো না, অথচ সে সময় পৃথিবীর যেখানেই দুগ্ধশিল্পের বিকাশ ঘটছে, সেখানেই সমন্বিতভাবে চিলিং প্লান্ট ও বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। যেটি শুধু আমাদের ক্ষেত্রেই হলো না।
এই পরিকল্পহীনতার কারণে এখন এক বোতল মিনারেল ওয়াটার ২০ টাকায় বিক্রি হলেও এক লিটার দুধ ১২-১৪ টাকায়ও বিক্রি হয় না। এটি রাজধানী কিংবা নগরে অবস্থানকারীরা খুব বেশি বুঝে উঠতে পারবেন না। যেসব গ্রামে দুগ্ধশিল্পের প্রসার ঘটেছে, দরিদ্র কৃষক-কৃষাণীরা ঘরে ঘরে দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন, তাঁদের দুর্দশার চিত্র কাছে গিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন।
সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্তসংখ্যক চিলিং প্লাট করা হলে তবেই খামারিরা দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারতন, দুধ পাঠাতে পারতেন বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিতে। বেসরকারি দুগ্ধশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থেই তাদের কারখানা এলাকার মধ্যেই গড়ে তুলেছে চিলিং প্লান্ট, কিন্তু এলাকার বাইরে থেকে দুধ সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা বা কাঠামো তাদের নেই। এর চেয়ে তাদের জন্য গুঁড়া দুধ প্রক্রিয়াজাত করে তরল করাটিই বেশি লাভজনক। তাদের এ সুবিধার পাল্লাই সরকার ভারি করে চলেছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু সরকারের শুল্ক মার যাচ্ছে তা-ই নয়, তিল তিল করে গড়ে ওঠা দেশের বিশাল একটি শিল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে।
দেশে মিল্ক ভিটার মাধ্যমে দুগ্ধশিল্পকেন্দ্রিক সমবায় বিকাশের যে উদ্যোগ, তাও সীমিত ও ছোট্ট একটি পরিধির মধ্যেই রয়ে গেছে। বেসরকারি দুগ্ধশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও বাইরের জেলার খামারিদের দুধ কেনার ব্যাপারে কার্যকর কোনো অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। পচনশীল একটি পণ্য হিসেবে খামারির ঘরেই দুধ নষ্ট হচ্ছে। অথচ সারা বিশ্বের সামনে দুগ্ধশিল্পের প্রশ্নে প্রতিবেশী দেশ ভারত এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাদের বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি দৃষ্টিভঙ্গি শুরু থেকেই ছিল নিজস্ব শিল্প সম্প্রসারণের পক্ষে। অথচ আমরা আমাদের নিজস্ব শিল্পকে স্থানীয়ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে ফেলছি। এবারের বাজেটে সরকারি পদক্ষেপ সে কথাই জানান দিচ্ছে। বিষয়টি বাজেট পাস হওয়ার আগেই সরকার ভেবে দেখবে এবং দেশীয় শিল্প রক্ষার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে, সেটিই প্রত্যাশা।
শাইখ সিরাজ: কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান, চ্যানেল আই।
shykhseraj@channelitv.net

অশান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

একটি মামলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গত কয়েক দিনে যে সংঘর্ষ, মিছিল-পাল্টা মিছিল, হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। সোমবার মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের ২৫ নেতা-কর্মী আহত হন। ছাত্রলীগের দাবি, তাদের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে ছাত্রদল এবং তারা মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি ছাত্রসংগঠনটি। কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার সমাধান করা যেত। কিন্তু তা না করে ছাত্রলীগ সহিংস পথ কেন বেছে নিল? হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদল আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেছে, ৩০ জুনের মধ্যে তিন দফা দাবি মানা না হলে ১ জুলাই থেকে তারা লাগাতার ধর্মঘট পালন করবে।
হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে পাঁচ ছাত্রকে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ। মঙ্গলবার দুই বিবদমান ছাত্রসংগঠনই মিছিল করে পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ এনেছে। সে ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে নতুন করে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে অবিলম্বে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। ছাত্রসংগঠনগুলোকে বুঝতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পেশিশক্তি প্রদর্শনের স্থান নয়। কোনো নেতা বা কর্মী, তিনি যে ছাত্রসংগঠনেরই হোক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। ছাত্রলীগের যেসব কর্মী হামলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিতে চাইলে তাও শক্ত হাতে ঠেকাতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে, এটাই সবাই আশা করেন। ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থানই কাম্য।

কমনওয়েলথ এক্সপ্রেস

ভারতে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ গেমসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ প্রদর্শনী ট্রেন ‘কমনওয়েলথ এক্সপ্রেস’। ১১টি কোচ নিয়ে যাত্রা শুরু করবে এ ট্রেন। আজ বৃহস্পতিবার এই বিশেষ ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে রাজধানী নয়াদিল্লির সফদরজং স্টেশন থেকে। ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই বিশেষ ট্রেনটি প্রথম যাবে পাঞ্জাবে। ২৫ জুন পাকিস্তান থেকে ঘুরে আসা কমনওয়েলথ গেমসের মশাল নিয়ে আসা হবে ভারতে এই বিশেষ ট্রেনে। এই ট্রেনটি ভারতের ৫০টি স্টেশনের ওপর দিয়ে যাবে। থাকবে কমনওয়েলথ গেমসের নানা প্রদর্শনী। গোটা দেশে এটি ঘুরবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
প্রসঙ্গত, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে কমনওয়েলথ গেমস।

তিমি শিকার বিষয়ে সমঝোতা হয়নি

তিমি শিকারি দেশগুলোর সঙ্গে ‘শান্তি চুক্তিতে’ পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে শিকারবিরোধী দেশগুলো। ইন্টারন্যাশনাল হোয়েলিং কমিশনের (আইডব্লিউসি) বার্ষিক সভায় দুই দিনব্যাপী আলোচনার পরও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। গত সোমবার মরক্কোর আগাদিরে দুই দিনব্যাপী এই সভা শুরু হয়।
সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থতার জন্য আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা পরস্পরকে দায়ী করছেন।
জাপানের কনিষ্ঠ কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী ইয়াসুয়ি ফুনাইয়ামা বলেন, খসড়া প্রস্তাবে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা জাপানের জন্য মেনে নেওয়া খুব কঠিন।
জাপান আর্থিক সহায়তার শর্ত হিসেবে তিমি শিকার বিষয়ে কয়েকটি দেশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে—মর্মে খবর প্রকাশিত হলে এ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।
উল্লেখ্য, জাপান, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, কানাডাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে তিমির মাংস ও তেলভিত্তিক শিল্প রয়েছে। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনসহ অনেক দেশ তিমি শিকারের বিরোধিতা করে আসছে।

আফজল গুরুর প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করার সুপারিশ

২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্ট ভবনে হামলার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী মহম্মদ আফজাল বা আফজল গুরুর প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করার জন্য রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাতিলের কাছে সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই সুপারিশে বলা হয়েছে, ফাঁসির আদেশ পাওয়া আসামিকে ক্ষমা নয়।
২০০১ সালে লস্কর-ই-তাইয়েবা ও জইশে মুহাম্মদের জঙ্গিরা রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের পার্লামেন্ট ভবনে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় ছয়জন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন বেসামরিক নাগরিক মারা যান। ভারতের নিরাপত্তা কর্মীদের পাল্টা আক্রমণে পাঁচ সন্ত্রাসীও মারা যায়। এই হামলার পেছনে ছিল আফজল গুরুর হাত।
২০০২ সালের ১৮ ডিসেম্বর দিল্লির নিম্ন আদালত আফজল গুরুর ফাঁসির আদেশ দেন। এরপর দিল্লি হাইকোর্টে এ নিয়ে আপিল করা হলে হাইকোর্টও ২০০৩ সালের ২৯ অক্টোবর এক আদেশে নিম্ন আদালতের ওই ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। এরপর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়। সুপ্রিম কোর্টও ২০০৫ সালের ৪ আগস্ট ফাঁসির আদেশই বহাল রাখেন।
এরপরই আফজল গুরুর ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার দিন ঘোষণা করা হয় ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর। এর আগেই আফজলের স্ত্রী তারাসসুম প্রাণভিক্ষা চেয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে একটি আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে মন্ত্রণালয় আফজল গুরুর আবেদন না-মঞ্জুর করার জন্য সুপারিশ করে।

ম্যাক আর্থারের পথে জেনারেল স্ট্যানলি?

রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় বরখাস্ত হতে পারেন আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর অধিনায়ক জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল।
ঘটনাটিকে বিগত ৫৯ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে আলোচিত বিসম্বাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৫১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান বরখাস্ত করেছিলেন দূরপ্রাচ্যে নিয়োজিত সেনা অধিনায়ক জেনারেল ডগলাস ম্যাক আর্থারকে। কোরিয়া যুদ্ধ নিয়ে সেনা অধিনায়কের সঙ্গে বড় ধরনের মতপার্থক্য হওয়ায় ট্রুম্যান তাঁকে বরখাস্ত করেছিলেন। ম্যাক আর্থার কংগ্রেসে এক আবেগঘন বিদায়ী ভাষণে একটি উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সৈনিকেরা কখনো মরে না। তারা স্রেফ আস্তে আস্তে হারিয়ে যায়।’
ট্রুম্যান প্রশাসন কোরীয় যুদ্ধ সীমিত পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ম্যাক আর্থার প্রকাশ্যেই ওই নীতি উপেক্ষা করে যুদ্ধ কোরীয় উপদ্বীপ ছাড়িয়ে চীন তথা এশিয়ার কমিউনিস্ট শাসিত এলাকা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে বলেন। এ নিয়ে মতান্তরের জের ধরে ট্রুম্যান তাঁকে অপসারণ করেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর একই ধরনের পরিণতির দিকে এগোচ্ছেন আরেক জেনারেল।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নারী নিক্কি হ্যালি মনোনয়ন পেলেন

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নারী হিসেবে সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নিম্রতা রান্ডওয়া, যিনি নিক্কি হ্যালি নামেই বেশি পরিচিত। গত মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রাপ্তির দৌড়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য গ্রেশ্যাম ব্যারেটকে পেছনে ফেলেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মনোনয়ন পাওয়ার মাধ্যমে ওই পদে ৩৮ বছর বয়সী নিক্কির জয় প্রায় নিশ্চিত। নভেম্বরের নির্বাচনে জিতলে তিনি হবেন ওই অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচিত প্রথম নারী এবং প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নারী।
দুই সন্তানের মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিক্কির বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে নিক্কিকে সমর্থন করেছেন রিপাবলিকান দলীয় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সারাহ পেলিন, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর মিট রামনি প্রমুখ।
সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেবেন নিক্কি। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির ভিনসেন্ট শেহিন। তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সাউথ ক্যারোলাইনা তেমন অনুকূল স্থান নয়।

কিরগিজস্তানে শরণার্থীরা ফিরছে

কিরগিজস্তানে জাতিগত সহিংসতার কারণে উজবেকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার শরণার্থী দেশে ফিরতে শুরু করেছে। এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচনও এক মাস এগিয়ে আনার চিন্তা করছে।
কিরগিজস্তানের বর্ডার সার্ভিস গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার শরণার্থী দেশে ফিরে এসেছে। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে ফিরে আসা শরণার্থীদের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র নাতালিয়া প্রকোপচুক জানান, ‘ঠিক কতজন শরণার্থী ফিরে এসেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তবে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ফিরে আসছে, এটা বলতে পারি।’ শরণার্থীদের অনেকেই নিজের জীবন বাঁচাতে স্বজনদের ফেলে উজবেকিস্তানে আশ্রয় নেয়। তারা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চাচ্ছে।
এদিকে সরকার পার্লামেন্ট নির্বাচন এক মাস এগিয়ে সেপ্টেম্বরে করার চিন্তাভাবনা করছে। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত এপ্রিলে বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ। এর পর থেকে রোজা তুনবায়েভার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করছে।
১০ জুন কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের ওশ শহরে কিরগিজ ও উজবেকদের মধ্যে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে দুই হাজার মানুষ নিহত হয়। এখন পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত হয়েছে। সরকার আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী রোববার সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠানেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জ্যামাইকার মাদকসম্রাট কোক গ্রেপ্তার

জ্যামাইকার মাদকসম্রাট হিসেবে পরিচিত ক্রিস্টোফার ‘দুদুস’ কোককে পুলিশ গত মঙ্গলবার রাজধানী কিংস্টোনের উপকণ্ঠ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। জ্যামাইকার কয়েকটি গণমাধ্যমে জানানো হয়, কোক নিজেই একটি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। কিন্তু তথ্যমন্ত্রী দারিল ভাজ জানান, পুলিশ তাঁকে একটি তল্লাশি চৌকি থেকে আটক করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কোককে কিংস্টোনের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় পত্রিকা জ্যামাইকা অবজারভার জানায়, গত মাসে কোককে আটক করতে কিংস্টোনে তাঁর মূল ঘাঁটিতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। সে সময় তাঁর দলের লোকজন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭৬ ব্যক্তি নিহত হন। এর পর কিংস্টোনের কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
কোক গ্রেপ্তার হওয়ার পর জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জ্যামাইকার পার্লামেন্ট এ ঘোষণা দেয়। জ্যামাইকার সরকার মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পলাতক আসামিদের তালিকাভুক্ত কোককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করবে। ৪১ বছর বয়সী কোক কুখ্যাত ‘শাওয়ার পোসি’ নামক চক্রের প্রধান।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী এ চক্রটি মাদক ও অস্ত্র পাচারের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক চালায়। এ ছাড়া চক্রটির বিরুদ্ধে জ্যামাইকা ও যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারে কোক দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে

তিন বছরের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে অস্ট্রেলিয়া

আগামী তিন বছরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল বুধবার অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন ফকনার এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, এ সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে তাঁদের মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শেষ হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন ফকনার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ উরুজগানে মোতায়েন সেনারা দুই বছরের মধ্যে নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব আফগান সেনাদের হাতে তুলে দেবে। এরপর প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত এক বছর পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করবে অস্ট্রেলীয় সেনারা।
ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের জন ফকনার বলেন, দুই থেকে চার বছরের মধ্যে আফগান ন্যাশনাল আর্মিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শেষ করা উচিত অস্ট্রেলিয়ার। তিনি বলেন, দুই থেকে চার বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণ মিশনের ভূমিকা পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় রূপান্তরিত হবে। এরপর আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজ শুরু হবে।
আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার দেড় হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে। তাদের অধিকাংশই উরুজগান প্রদেশে ডাচ্ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আফগান ন্যাশনাল আর্মিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
গত ৭ জুনের পর থেকে আফগানিস্তানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও বোমা হামলায় পাঁচ অস্ট্রেলিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানালেন।
জন ফকনার বলেন, আফগান অভিযান এখনো কঠিন ও বিপজ্জনক। তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ ও প্রাণহানি সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। ফকনার বলেন, সন্ত্রাসবাদ এখনো অস্ট্রেলিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হুমকিস্বরূপ।

পাকিস্তানে পরমাণু চুল্লি নির্মাণে সহযোগিতা করবে চীন

পাকিস্তানে ৬৫০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন দুটি পরমাণু জ্বালানি চুল্লি নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে পারে চীন। এ ব্যাপারে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়টিকে তারা বিবেচনা করবে না। পরমাণু নিরাপত্তা গ্রুপের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে চীন ঘোষণা দেবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডে এই বৈঠক হবে।
চীনা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে চায়না ডেইলি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য দেশের উদ্বেগকে পরোয়া না করে পাকিস্তানে দুটি পরমাণু চুল্লির নির্মাণকাজে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চীন এগিয়ে যেতে পারে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে এসব চুল্লি নির্মাণের কথা। নিউজিল্যান্ডে ৪৬ দেশের পরমাণু নিরাপত্তা বৈঠকে এ ব্যাপারে তারা ঘোষণা দিতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বৈধতার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানে নতুন পরমাণু চুল্লি নির্মাণে চীনের পরিকল্পনার ব্যাপারে সরাসরি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা শুধু শান্তির লক্ষ্যে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে ইসলামাবাদকে সহযোগিতা করার কথা বলেছে। আর তা করা হবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি চীন সফর করেন। এ সময় চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াং গুয়াংলি ঘোষণা করেন, সামরিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলাবে চীন।
এর আগে গত এপ্রিলে চীনের জাতীয় পরমাণু সংস্থার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, পাকিস্তানে তারা ২৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের পরমাণু জ্বালানি চুল্লি রপ্তানি করবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তানে চীনের পরমাণু চুল্লি নির্মাণে সহযোগিতা করার পরিকল্পনার কথা জানা যায়।

সাগরে তেলকূপ খননে ওবামার নিষেধাজ্ঞা আদালতে স্থগিত

গভীর সাগরে তেলকূপ খননে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জারি করা নিষেধাজ্ঞা গত মঙ্গলবার স্থগিত করেছেন একটি মার্কিন আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গভীর সাগরে তেলকূপ খননের ক্ষেত্রে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন প্রশাসন।
আদালতের এই রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিউ অরলিন্স অঙ্গরাজ্যের আদালতের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল করবে প্রশাসন। এক জরিপে জানা গেছে, মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্র দুর্ঘটনার পরও বেশির ভাগ নাগরিক গভীর সমুদ্রে তেলকূপ খননের পক্ষে তাদের মত জানিয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওবামা গভীর সাগরে তেলকূপ খননের ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। একই সঙ্গে সাগরের যেসব তেলকূপ থেকে তেল আহরণ করা হচ্ছে, সেগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও পরীক্ষার নির্দেশ দেন ওবামা। ওবামা প্রশাসনের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয় এক ডজনের বেশি তেল কোম্পানি।
মঙ্গলবার বিচারক মার্টিন ফেল্ডম্যান বলেন, তেল কোম্পানিগুলো প্রমাণ করতে পেরেছে নিষেধাজ্ঞার ওই আদেশ স্বেচ্ছাচারী ও খেয়ালি। গভীর সাগরে তেলকূপ খনন কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আদালতের এই রায়ের পরও তেল কোম্পানিগুলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার আগে নিরাপত্তা ও পরিবেশবিষয়ক শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।
আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, পরিণতি কী হবে, তা না জেনেই সাগরের অনেক গভীরে কূপ খনন করে যাওয়া কোনো মানে তৈরি করে না। আপিলে মার্কিন প্রশাসন আদালতের বর্তমান রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চাইবে।
আদালতের মঙ্গলবারের রায় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি), শেভরন করপোরেশন, রয়্যাল ডাচ্ শেলের মতো বড় তেল কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় জয়। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। একাধিক কোম্পানি তাদের তেল উত্তোলনের রিগগুলো ব্রাজিল ও অন্যান্য দেশের সমুদ্রসীমায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায়ের পর মঙ্গলবার তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কিছুটা বাড়লেও দিনের পরের দিকে তা আবার কমে যায়। তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর বিপির শেয়ারের দাম প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। লন্ডনের পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামে ওই দিন।
আদালতের এই রায়ে ক্ষোভ জানিয়েছে মার্কিন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। সিয়েরা ক্লাব নামের একটি সংগঠন জানিয়েছে, তারা ওবামা প্রশাসনের উদ্যোগকে সমর্থন জানাবে। অন্যদিকে এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা। কারণ, এই তেলশিল্পের ওপরই নির্ভরশীল তাদের জীবিকা।

শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে প্যানেল নিয়োগ

শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘ গত মঙ্গলবার একটি প্যানেল নিয়োগ করেছে। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে শ্রীলঙ্কার সরকার বলেছে, এটি তামিল গেরিলা সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমকে (এলটিটিই) চাঙা করে তোলার উদ্যোগ।
শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে সেনাসদস্যরা হাজার হাজার বেসামরিক তামিল নাগরিককে হত্যা করে বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এই প্যানেল গঠন করেন।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন নেসিরকি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মারজুকি দারুসমানকে এই প্যানেলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। চার মাসের মধ্যে এই প্যানেল তদন্তকাজ শেষ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রীলঙ্কার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সে দেশে গৃহযুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও এ সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের যে কঠোর অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দিতে একটি প্যানেল নিয়োগ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মারজুকি দারুসমানকে এই প্যানেলের প্রধান করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ওই কর্মকর্তা বলেন, দারুসমানকে প্যানেলের প্রধান করা নিরপেক্ষ হয়নি। ২০০৮ সালের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিপেনডেন্ট গ্রুপ অব ইমিনেন্ট পারসনসের যে তদন্তদলটি আসে, এর অন্যতম সদস্য ছিলেন দারুসমান। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে তারা তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ান। কাজেই এই প্যানেলে আবার তাঁকে নিয়ে আসার ঘটনা শ্রীলঙ্কার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার সরকার পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানাতে পারে।
গতকাল বুধবার শ্রীলঙ্কার সরকার জাতিসংঘের এই তদন্তের উদ্যোগকে গোপন কর্মসূচি বলে আখ্যা দিয়েছে। সরকারের মুখপাত্র কেহেলিয়া রামবুকওয়েলা সরকারি ওয়েবসাইটে বলেন, এটি হচ্ছে এলটিটিইকে অক্সিজেন দেওয়ার উদ্যোগ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পেগি হিকস জাতিসংঘের এই প্যানেলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি জলের মতো পরিষ্কার যে শ্রীলঙ্কার সরকার যুদ্ধকালীন অপরাধ ও নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের ব্যাপারে অনিচ্ছুক।

ওবামা ক্ষুব্ধ, পদ হারাতে পারেন জেনারেল স্ট্যানলি

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আফগাননীতি ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে ফেঁসে যাচ্ছেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন সেনা অধিনায়ক জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল। তাঁকে বরখাস্ত করা বা পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে।
মন্তব্যের জন্য ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করে ম্যাকক্রিস্টাল নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওবামা বলেছেন, তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামনাসামনি ওই জেনারেলের সঙ্গে কথা বলতে চান। ম্যাকক্রিস্টাল ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের পথে এবং স্থানীয় সময় বুধবার সকালেই তাঁর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার কথা।
প্রেসিডেন্ট ওবামা জেনারেল ম্যাকক্রিস্টালের মন্তব্যের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ। হোয়াইট হাউস তার কাজকে বড় রকমের ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের নেতারাই তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। ম্যাকক্রিস্টালের উত্তরসূরিও খোঁজা শুরু হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে তাঁর বিদায় বলতে গেলে অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি রোলিং স্টোন সাময়িকীতে লেখা এক নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করেন স্ট্যানলি। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক প্রেসিডেন্ট তথা বেসামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এ ধরনের বক্তব্যে উত্তপ্ত ওয়াশিংটন।
কয়েকটি সূত্র বলছে, স্ট্যানলি সঙ্গে করে পদত্যাগপত্র নিয়ে আসছেন। বৈঠকের পরই এটি তিনি প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিতে পারেন।
প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পরিষদে মঙ্গলবার সভা করেন বিষয়টি নিয়ে। সভার পর প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি স্ট্যানলির বক্তব্যসংবলিত লেখাটি পড়েছেন। এতে লেখক ‘দুর্বল বিবেচনার’ পরিচয় দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রণাঙ্গনের সেনাধিনায়ককে বরখাস্ত করার ঘটনা খুবই বিরল। ১৯৫১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান বরখাস্ত করেছিলেন দূরপ্রাচ্যে নিয়োজিত সেনাধিনায়ক ডগলাস ম্যাকআর্থারকে। কোরিয়া যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এ বরখাস্তের ঘটনাটি ঘটেছিল। তার পর থেকে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের এ ধরনের প্রকাশ্য বিরোধ আর দেখা যায়নি।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টালকে আফগান রণাঙ্গনে অধিনায়ক নিযুক্ত করেন। দ্রুত তালেবান দমন করে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
স্ট্যানলি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ওবামার সমালোচনা করেননি। রোলিং স্টোনকে বলেন, আফগানিস্তান রণাঙ্গনের জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন প্রাপ্তির সময়টি ছিল ‘বেদনাদায়ক’। আর প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তানের মতো একটি ‘অবিক্রয়যোগ্য’ বিষয় তাঁর হাতে হস্তান্তর করেছেন। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম শুনে তাঁকে চেনা যায় না বলেও কৌতুক করেছেন।
কংগ্রেসে হাউস অ্যাপ্রোপিয়েট কমিটির চেয়ারম্যান ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডেভিড ওবে বলেছেন, জেনারেল স্ট্যানলিকে স্বপদ থেকে সরে যেতে হবে। প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনও তাঁর সমালোচনা করেছেন।

বার্জারের ১০ টাকার শেয়ারে ১৫ টাকা করে লভ্যাংশ অনুমোদন

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ টাকা মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৫ টাকা করে লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে।
ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।
সভায় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেরাল্ড কে এডামস সভাপতিত্ব করেন।
এতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরীসহ পরিচালক কে আর দাস, অনিল ভাল্লা, সুবীর বোস, জাঁ ক্লদ লট্রিউল, আশফাক উর রহমান ও আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।
জেরাল্ড কে এডামস সভায় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ২০০৯ সালের প্রতিবেদন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করেন।

শেয়ারবাজার: আজ সূচক সামান্য বেড়েছে

গতকাল দরপতন হলেও ঢাকার শেয়ারবাজার আজ বৃহস্পতিবার সামান্য বেড়েছে। আজ দিনের শুরুতে লেনদেনে চাঙাভাব দেখা গেলেও দর দুই দফা ওঠা-নামা করেছে। শেষদিকে লেনদেনে কিছুটা চাঙাভাব লক্ষ করা যায়। দিন শেষে দেখা যায়, সাধারণ সূচক ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬১৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ বাজারে মোট এক হাজার ৫৫৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মোট ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৮টির, কমেছে ১৩০টির। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো বেক্সিমকো, এবি ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, ওয়ান ব্যাংক ও এনবিএল।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ওয়ান ব্যাংক, থেরাপিউটিকস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস ও মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ।
দাম কমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো সাভার রিফ্রাক্টরিজ, সমতা লেদার, রেকিট বেনকিজার, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর ও কে অ্যান্ড কিউ।

বেসরকারীকরণ অব্যাহত রাখতে ঢাকা চেম্বারের জোর সুপারিশ

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারীকরণে বিরতি দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনটি মনে করে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার স্বার্থে বেসরকারীকরণ জরুরি।
পাশাপাশি সংগঠনটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) কার্যক্রম সফল করার জন্য একটি স্থিতিশীল পিপিপি নীতিমালা করে বেসরকারি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। খবর ইউএনবির।
গতকাল বুধবার মতিঝিলে চেম্বার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাসেম খান বলেন, ‘সরকার যদি বেসরকারীকরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমরা তা সমর্থন করব না। বরং এটা অব্যাহত রাখতে হবে। এর ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য তহবিল সংস্থান করা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, পিপিপির জন্য একটি সুসংহত নীতিমালা লাগবে। কেননা যখনই যে সরকার ক্ষমতায় আসুক, চলমান প্রকল্প যেন বন্ধ না হয় ও বেসরকারি বিনিয়োগ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নীতিমালার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।
আর এটি নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। ফলে বিনিয়োগও বাড়বে বলে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মন্তব্য করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে যে ছয় হাজার ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই বরাদ্দ অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি ঢাকা চেম্বার দ্রুত কয়লা নীতি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির জন্য ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে রেল খাতের প্রতি সরকারকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়। এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে রেলওয়ের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়।
চেম্বারের পক্ষ থেকে দ্রুত চূড়ান্ত শিল্পনীতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে আরও বলা হয়, শিল্পনীতির সঙ্গে রাজস্বনীতির সমন্বয় করতে হবে। তা না হলে দেশে শিল্পায়ন হবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আয়তন খুব বড় ও চ্যালেঞ্জিং বলে তিনি মনে করেন না। বরং এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি সরকারকে প্রকল্পে অগ্রাধিকার ঠিক করার আহ্বান জানান।
আরেক প্রশ্নের জবাবে চেম্বারের অন্যতম পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক শতাংশ করায় রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর তাই এই হার দশমিক ২৫ শতাংশে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
চেম্বারের আরেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সারা দেশে কর কার্যালয় স্থাপন করার বদলে কর বিভাগকে কম্পিউটারায়ন ও স্বয়ংক্রিয়করণের দিকে অধিকতর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেটে ঢাকা চেম্বারের সুপারিশমতো ট্যাক্স কার্ড প্রবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

ইংল্যান্ডের জয়

এউইন মরগানের চমৎকার সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ওয়ানডেতে ৪ উইকেটে হারাল ইংল্যান্ড। রোজবোলে পরশু প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৬৭ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। মাইকেল ক্লার্ক করেন সর্বোচ্চ ৮৭ রান। জবাবে মরগানের অপরাজিত ১০৩ রানের (৮৫ বলে ১৬টি চার) সুবাদে ৪ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে সাবেক এই আইরিশ ব্যাটসম্যানের হাতেই। পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টি আজ কার্ডিফে।

সেন্ট কিটস টেস্ট ড্র

নিষ্প্রাণ ড্র-ই হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্ট। পরশু চা-বিরতির ঘণ্টাখানেক পর ৩ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করলে শেষ পর্যন্ত ড্র-ই হয় সেন্ট কিটস টেস্টের পরিণতি। ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান জ্যাক ক্যালিস। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে তোলে ৫৪৬ রান। ৬ উইকেটে ৫৪৩ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ড্রয়ে তিন টেস্টের সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। বারবাডোজের কেনসিংটন ওভালে ২৬ জুন শুরু হবে শেষ টেস্ট।

সেই ‘সাধু মার্টিন’

আর্জেন্টিনার ‘নতুন ম্যারাডোনা’দের একজন তিনি নন। তাঁকে নিয়ে কেউ কোনো দিন মাতামাতিও করেনি। নীরবে এসেছিলেন, সরব নিন্দার ভেতর দিয়ে ‘শেষ’ হয়ে গিয়েছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার। নিজেও আকাশি-নীল জার্সি পরার স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছিলেন।
কিন্তু ফুটবল-নিয়ন্তার ইচ্ছে ছিল অন্য রকম। অন্য রকম সেই ইচ্ছেতে ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’ তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ১১ বছর পর আবার ফিরে এলেন তিনি। শুধু ফিরেই এলেন না, ৩৬ বছর বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে নেমেই গোল করলেন ‘সেইন্ট মার্টিন’—মার্টিন পালের্মো।
সেই পালের্মো; ১৯৯৯ কোপা আমেরিকায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে তিনটি পেনাল্টি মিস করে যিনি নাম লিখিয়েছিলেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। সেই পালের্মো, যিনি এক দশকেরও বেশি সময় আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুনিয়া থেকে।
পরশু গ্রিসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে দুনিয়া দেখল পালের্মোর প্রত্যাবর্তন। মাঠে নামার দশ মিনিটের মধ্যেই গোল—লিওনেল মেসির শট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক, পায়ের ওপর এসে পড়া বল জালে জড়িয়ে দিলেন পালের্মো।
উৎসবে মেতে উঠলেন। হাসিতে ভরে যাওয়া চোখ থেকে বেরিয়ে এল আনন্দের অশ্রু। বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে এসেছেন, খেলতে পেরেছেন, এমনকি গোলও করেছেন! বিশ্বাসই হচ্ছে না ‘বুড়ো’ হয়ে যাওয়া পালের্মোর, ‘সত্যি বলি, আমার এখনো কিছু বিশ্বাস হচ্ছে না। ১০ মিনিটের মধ্যেই সবকিছু হয়ে গেল।’
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই এই কথাটা বলে আসছেন পালের্মো। মেসি-তেভেজ-হিগুয়েইন-আগুয়েরো-মিলিতোদের মতো মহাতারকাদের পাশে নিজেকে তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। আর্জেন্টিনার এই দলে তাঁর যে জায়গা হবে, সেটা নাকি স্বপ্নেও ভাবেননি পালের্মো।
অথচ পারের্মো এতটা হেলাফেলা করার মতো খেলোয়াড় নন। ১৯৯২ সালে আর্জেন্টিনারই এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে অভিষেক। ১৯৯৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন বোকা জুনিয়র্সে। ২০০১ থেকে ২০০৪, চার বছর স্পেনে কাটিয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরেছেন বোকা জুনিয়র্সে। ম্যারাডোনার সাবেক ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে। ক্লাবের সমর্থকেরা ভালোবেসে নাম দিয়েছে—সাধু মার্টিন।
জাতীয় দলেও দারুণ একটা ক্যারিয়ারের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৯৯ সালে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সে বছরই কোপা আমেরিকায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের ওই ‘কীর্তি’ করায় এক ধাক্কায় শেষ হয়ে গিয়েছিল পালের্মোর ক্যারিয়ার।
প্রায় মৃত এই ক্যারিয়ারটাকে আসলে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন আলফিও বাসিলে। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে পালের্মোর দুর্দান্ত ফর্ম দেখে ২০০৮ সালেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁকে ফেরাতে চেয়েছিলেন। সেবার বাদ সেধেছিল ইনজুরি। অবশেষে পালের্মো পুনরুজ্জীবন পেলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে।
এই বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে প্রত্যাবর্তন হলো হারিয়ে যাওয়া পালের্মোর। মাঝে ঘানার বিপক্ষে একটা প্রীতি ম্যাচ খেললেন। এরপর পেরুর বিপক্ষে সেই ম্যাচ। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে তুলে দেওয়া গোলটা করলেন পালের্মো।
আর্জেন্টিনার দুর্দিনে ত্রাতা হয়ে ওঠা পালের্মো তার পরও বিশ্বকাপের আশা করেননি। এখনো তাই বলছেন, ‘আমি ডিয়েগোর (ম্যারাডোনার) কাছে ও কোচিং দলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি জানি, দলে আমার চেয়ে এগিয়ে থাকা অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে।’
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে খেলার, গোল করার এই যে সুযোগ পালের্মো পেলেন, এর পেছনে তিনি অলৌকিক কিছুর ছোঁয়া দেখতে পাচ্ছেন, ‘এই অনুভূতি বর্ণনা করা যায় না, এই অনুভূমি অমূল্য। ওপরে বসে থাকা তিনি সব সময় আমার দিকে চেয়ে হাসেন এবং আমার সৌভাগ্য লিখে দেন। নিশ্চয়ই কোনো একজন দেবদূত আজ আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন।’
সেই ‘দেবদূত’ কি ম্যারাডোনা?

‘আমি ছাড়াও ব্রাজিল ব্রাজিলই’

প্রথমে খুব রাগ হয়েছে তাঁর। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচটি মিস হবে, এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না কাকা। ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছিলেন, কিন্তু লাল কার্ড দেখার কারণে খেলতে পারবেন না পর্তুগালের বিপক্ষে। এই ছন্দপতন কি ভালো লাগে?
রাগটা এখন আর নেই কাকার। রাগের বদলে অনুশোচনা হচ্ছে ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকারের। মেজাজটা আরেকটু নিয়ন্ত্রণ কেন করতে পারলেন না—কাকার অনুশোচনা এ নিয়েই। আইভরিকোস্টের বিপক্ষে লুইস ফ্যাবিয়ানো এবং এলানোর করা গোল দুটির উৎস ছিলেন কাকা। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে নিষ্প্রভই ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার। আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে নিজেকে ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবদুল কাদের কেইটাকে কনুই দিয়ে ধাক্কা মারার অভিযোগে দেখতে হয়েছে লাল কার্ড।
কেইটাকে ধাক্কা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কাকা। সঙ্গে এও বলেছেন, সেই ধাক্কাটা এমন ছিল না যে এর জন্য তাঁকে লাল কার্ড পেতে হবে। লাল কার্ড অবশ্য কাকা দেখেছেন দুই হলুদ কার্ড থেকে। কেইটাও একটু বেশিই অভিনয় করেছেন বলে মনে করেন কাকা, ‘ও (কেইটা) আসলে ভান করেছে।’
তবে কেইটা ভান-টান যাই করুক, কাকা নিজে মনে করেন তাঁর আরও সংযত থাকাই উচিত ছিল, ‘আমি নিজেকে আরেকটু বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম। এই ব্যাপারগুলো এড়িয়ে যাওয়া দরকার। আসলে বিশ্বকাপে কোনো ঝুঁকিই নেওয়া উচিত নয়।’ এমনিতে কাকা মাঠে ‘ভদ্র’ ও ‘শান্ত’ খেলোয়াড় হিসেবেই পরিচিত। সাধারণত তাঁকে এমন কাজ করতে দেখা যায় না। তবে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে হঠাৎ কী কারণে এমন একটা কাজ করে ফেলেছেন। এ জন্য অবশ্য ক্ষমাও চেয়েছেন কাকা, ‘আমি দুঃখিত। ক্ষমা চাইছি।’
ক্ষমা চেয়েছেন ঠিক, তবে লাল কার্ডটা এখনো তিনি মেনে নিতে পারছেন না। এটুকু অপরাধে কার্ড পাবেন, এটা তিনি ভাবতেও পারেননি। অনেকেই তাঁকে এসএমএস করে সমর্থন জুগিয়েছেন। পাশে পেয়েছেন কোচ কার্লোস দুঙ্গা আর সতীর্থদের। বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ এবং রিয়ালে সতীর্থ পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও পাশে পেয়েছেন। ‘ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে আমার সব সময়ই কথা হয়। সর্বশেষ সে আমাকে এসএমএস করে জানিয়েছে, আমার লাল কার্ড পাওয়াটা সত্যি অন্যায় হয়েছে।’
আগামীকাল এই রোনালদোর দল পর্তুগালেরই মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। ন্যায় বা অন্যায় যেভাবেই হোক, আইভরিকোস্টের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় পর্তুগালের বিপক্ষে খেলা হচ্ছে না কাকার। কাকাবিহীন ব্রাজিল কেমন কী করবে পর্তুগালের বিপক্ষে? ‘ব্রাজিল আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিততে সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি, ড্র করতে পারলেই আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হব। তবে জয়টা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।’
কাকার বিশ্বাস, তাঁকে ছাড়াই ব্রাজিল আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া ভরে নেওয়া একটা জয় পাবে। ‘আমি ছাড়াও ব্রাজিল ব্রাজিলই’ উল্লেখ করে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের ভূমিকার কথাও বলেছেন কাকা, ‘অনুশীলনে আমি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে চাই। আমি দলের সবাইকে সাহায্য করব। প্রেরণা জোগাব এবং পরামর্শ দেব।’

পেলে-ম্যারাডোনার ‘ভালোবাসা’

ডিয়েগো ম্যারাডোনা নাকি পেলেকে খুব ভালোবাসেন! খোঁচা দেওয়া কথাটা কদিন আগেও একবার বলেছিলেন পেলে। দুই ফুটবল কিংবদন্তির কথার লড়াইয়ের সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে খোঁচাটা পেলে দিলেন আবারও।
ম্যারাডোনাও যেমন নানা প্রসঙ্গে পেলেকে আক্রমণ করছেন, পেলেও ছাড়ছেন না। পেলের দাবি, ম্যারাডোনা তাঁকে খুব ভালোবাসেন বলেই নাকি তাঁর মুখে বারবার তাঁর নাম আসছে, ‘পুরো পৃথিবীই জানে, ম্যারাডোনা আমাকে ভালোবাসে। ও আমাকে খুব পছন্দও করে। ও যখন আর্জেন্টিনায় টেলিভিশন শো শুরু করল, আমাকে ডেকেছিল। বোকা জুনিয়র্সে একবার ওরা তহবিল সংগ্রহ অভিযান আয়োজন করল, সেবারও আমি গিয়েছিলাম।’
শুধু পেলে নন, ব্রাজিলের নানা প্রসঙ্গেই ম্যারাডোনার খোঁচাখুঁচি চলছে। এই বিশ্বকাপেই ফ্যাবিয়ানোর হ্যান্ডবল প্রসঙ্গে অনেকে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’-এর উদাহরণ টেনে এনেছিল। ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ফ্যাবিয়ানোর গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ হতে পারে না। কারণ ঈশ্বরের হাত পৃথিবীতে একটিই!
পেলে এক ধাপ এগিয়ে বললেন, ফ্যাবিয়ানোর গোলটা আসলে পেলে-ম্যারাডোনার মিশ্রণ, ‘আমার ধারণা, ও আমাদের দুজনের থেকেই কিছু নিয়েছে। ও আমার মস্তিষ্ক আর ম্যারাডোনার হাতটা কাজে লাগিয়েছিল।’
এবার তাহলে ম্যারাডোনার জবাবের অপেক্ষায় থাকতে হবে?

জামব্রোত্তার প্রেরণা অতীত

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ার লজ্জার রেকর্ড আছে ফ্রান্সের। ১৯৯৮-এর চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ২০০২ বিশ্বকাপে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। এবার ইতালিও কি নিতে যাচ্ছে ফরাসিদের লজ্জার ভাগ? প্যারাগুয়ের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ড্র, খোদ ইতালিয়ানরাই জ্বলছে ‘বাদ’ শঙ্কার আগুনে!
তবে ইতালিয়ান খেলোয়াড়দের ভাবনাটা উল্টোই। আজ স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে বাদ পড়ার কথা চিন্তাই করছেন না ডিফেন্ডার জিয়ানলুকা জামব্রোত্তা। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, ইতালি তাদের যোগ্যতা দিয়ে ঠিকই পেরিয়ে যাবে প্রথম রাউন্ডের বাধা। বাদ পড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি না। যদি এমন কিছু ঘটেই, চিন্তাটা তখন করব। কিন্তু এই চিন্তাটা আমাদের মাথায়ই নেই। অর্ধেক খালি গ্লাস নয়, আমরা তাকিয়ে আছি অর্ধেক ভর্তি গ্লাসের দিকে।’ শঙ্কা উড়িয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করতে হলে আজ স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে জিততেই হবে। প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স বলছে, কোচ মার্সেলো লিপ্পির দলের পক্ষে কাজটি কঠিন। কিন্তু জামব্রোত্তা এতটা আত্মপ্রত্যয়ী থাকতে পারছেন কী করে? কারণ অতীত।
চারবারের চ্যাম্পিয়ন, দুবারের রানার্সআপ, একবারের তৃতীয় স্থান অধিকারী ইতালির কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বেরিয়ে আসার অভিজ্ঞতার অভাব নেই। ১৯৮২ সালে চ্যাম্পিয়ন ইতালি। অথচ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল তারা। তিন ম্যাচে ড্র করেছিল আফ্রিকান দেশ ক্যামেরুনও। কিন্তু ইতালিয়ানদের সৌভাগ্য, একটি গোল বেশি করার পুরস্কার হিসেবে পা রাখে পরবর্তী রাউন্ডে। আর ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে শেষে তো চ্যাম্পিয়নই তারা।
১৯৭০ ও ১৯৯৪—ব্রাজিলের কাছে হেরে দুটো বিশ্বকাপেই রানার্সআপ তারা। অথচ গ্রুপ পর্বে পাড়ি দিতে হয়েছে কঠিন পথ। ১৯৭০-এ সুইডেনের বিপক্ষে জয়ের পর উরুগুয়ে, ইসরায়েলের সঙ্গে ড্র করে ইতালি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ভাগ্যটা আরও ভালো। গ্রুপের চার দলেরই এক অবস্থা—এক জয়, এক ড্র, এক হারে পয়েন্ট সমান ৪ করে। সেরা তৃতীয় দলের একটি হওয়ায় পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা পায় ইতালি।
পেছনে এমন জ্বলজ্বলে অতীত আছে বলেই কি না জামব্রোত্তা বলছেন, ‘এবারই প্রথম এই ধরনের ম্যাচের মুখোমুখি হচ্ছি না আমরা। আমরা জানি এই ম্যাচের গুরুত্ব। এবং ম্যাচে আমরা সবকিছুই ঢেলে দেব।’ ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার এতটাই আত্মবিশ্বাসী যেন ইতালির ভয়-শঙ্কা কিছুই নেই! বলেছেন, ‘ভয় পাচ্ছি না। আমরা বরং খুবই আত্মবিশ্বাসী। আমরা পরবর্তী রাউন্ডে যাবই। আমাদের ভালো করার দারুণ সুযোগ আছে। আমাদের শুধু ডেড বলে গোল ঠেকানোর কাজটি রপ্ত করতে হবে। কারণ আমরা দুই ম্যাচেই ডেড বলে গোল খেয়েছি।’
শেষে বলেছেন আসল কথাটা, ‘আমাদের কোনো জাদু নেই। আমাদের আরও সাবধানী হতে হবে এবং প্রতিপক্ষ সম্পর্কে সচেতন থাকবে হবে।’

এশিয়ার গর্ব দক্ষিণ কোরিয়া

কাছাকাছিই ছিলেন তাঁরা চারজন। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে চারজনই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। নিদারুণ হতাশায় মাথা নুইয়ে পড়ল দুজনের, বাকি দুজন দুই হাত তুলে শুরু করলেন প্রার্থনা। ম্যাচ ড্র হয়েছে ২-২ গোলে, কিন্তু নাইজেরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচ শেষে দুই দলের চিত্র ছিল এমনই উল্টো। দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে ‘এশিয়ার টাইগার’রা ছিল আনন্দে উদ্বেল, আর আফ্রিকার বিশ্বকাপে বাদ পড়ার পর ‘সুপার ইগল’রা ছিল হতাশায় মুহ্যমান।
শেষ ষোলোয় যেতে নাইজেরিয়ার জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়ার ড্র হলেও চলে, তবে নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ছিল জয়। দুই দলই তাই জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আর এতেই ম্যাচটি হয়ে উঠে এখনো পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে যেমন গোল হয়েছে চারটি, তেমনি মিসও হয়েছে অসংখ্য। নাইজেরিয়ার কয়েকটি মিস এমনই দৃষ্টিকটু ছিল যে বাদ পড়ার জন্য কেবল নিজেদেরই দায়ী করতে পারে তারা। ১২ মিনিটে চিডি ওদিয়াহর দুর্দান্ত পাসে পা লাগিয়ে নাইজেরিয়াকে এগিয়ে দেন কালু উচে। ৩৮ মিনিটে লি জাং সুংয়ের গোলে সমতা ফেরায় কোরীয়রা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আগের ম্যাচের আত্মঘাতী গোলদাতা পার্ক চু ইয়ংয়ের ফ্রি কিক এগিয়ে দেয় কোরিয়াকে, সমতা ফেরে ইয়াকুবু আইয়েগবানির পেনাল্টিতে।
এই ড্রয়ে জয়ের চেয়েও বেশি কিছু পেয়ে আনন্দে ভেসে যাচ্ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় তারকা পার্ক জি সুং, ‘আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি, এই প্রথম দেশের বাইরে আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলাম। আমি সত্যিই ভীষণ খুশি, দলের সবাই খুশি।’ ১৯৫৪ বিশ্বকাপ দিয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে দক্ষিণ কোরিয়ার যাত্রা শুরু। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৯ আর তুরস্কের বিপক্ষে ৭ গোল খেয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তবে থমকে যায়নি তাদের ফুটবল, এশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি, অষ্টমবার বিশ্বকাপ খেলছে তারা। ২০০২ বিশ্বকাপে নিজেদের মাটিতে খেলেছে সেমিফাইনাল। এবার অন্য মহাদেশের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে প্রমাণ করল কতটা এগিয়েছে তাদের ফুটবল। দলের সাফল্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে পুরো দক্ষিণ কোরিয়ায়, দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট লি মিউং-বাক।
দলের মিডফিল্ডার কি সুং-ইয়ংয়ের এখন প্রত্যাশা, এশিয়ার অন্য দলগুলো অনুসরণ করবে তাদের, ‘আমি চাই, এশিয়ার দলগুলো দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে। এশিয়ার দলগুলো অনেক উন্নতি করেছে। এখন জাপানও যদি দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে, তাহলে দারুণ হবে।

পা খুঁজছে ষোলো মাত্রা

লেভেন্ডিস’ মার্কা নয়, পুরোপুরিই ‘লেভেন্ডিস’ কাকা রেফারিদের কোপদৃষ্টিতে পড়ে গেল সেদিন। বেচারাকে লাল কার্ড দেখিয়ে খেলার শেষ মুহূর্তে মাঠছাড়া করেছেন। এই দিন ‘গা ঝাড়া’ দিয়ে তার আসল ফর্মে প্রায় চলে এসেছিল। সারা মাঠ দাপিয়ে খেলছিল, বলের জোগান দিচ্ছিল সবাইকে গোল করার জন্য।
আর্জেন্টিনার মেসি বা তেভেজের মতোই অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিলের এই কাকা। তার তো ফাউল করা সাজে না। কিন্তু প্রতিপক্ষের তিন-চারজন প্রতি মুহূর্তে ঘিরে থাকায় ব্যূহ ভেদ করে বের হওয়ার নানা কসরত করতে করতে, বিপক্ষের ছেঁকে ধরা খেলোয়াড়দের ক্রমাগত ধাক্কা খেতে খেতে কখন যে রেগে কাঁই হয়ে বড়সড় ফাউলের ভাবনা মনে পোষা শুরু করেছিল কাকা, তা দর্শক তেমন না বুঝলেও মাঠের ‘জজ সাহেব’ রেফারি ঠিকই গুরুত্ব দিয়ে নজরে রাখছিলেন। ফলে শেষতক লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করেছিলেন নির্দ্বিধায়। তবে বোঝা গেল না, কাকা তাতে খুশি খুশি ভাব নিয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন কেন?
কাকার এই লাল কার্ড খাওয়া ব্রাজিলের জন্য বিপদ ডাকারই শামিল। তো, এই কাকাকে লেখার শুরুতেই ‘লেভেন্ডিস’ বলা হলো কেন, তার ব্যাখ্যাটি এবার খোলাসা করি। অনেকের মতো ব্রাজিলের এই খেলোয়াড়টি আমারও খুব পছন্দের। ফুটবল খেলোয়াড়দের ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’—ঢাকাইয়া ভাষায় যে বলে ‘চাপা-টাইট’ এবং ‘গিটঠু লাগা’—সে ব্যাপারটি কাকার ক্ষেত্রে খাটে না। বেশ সুদর্শন, হ্যান্ডসাম খেলোয়াড়। সেই জন্যই ‘লেভেন্ডিস’ শব্দটির ব্যবহার। শব্দটি গ্রিক। মানে হলো ‘অতীব হ্যান্ডসাম।’
একেই বোধহয় বলে, ‘এক ভাষার বুলি অন্য ভাষায় গালি’। এই শব্দটি অর্থাৎ ‘লেভেন্ডিস’ কথাটি বাংলায় আঞ্চলিকতা মিশিয়ে আমরা উচ্চারণ করি ‘মাজুল’ বা ‘ল্যাবা-স্যাবা’ অর্থে। একেবারেই বিপরীত দিক। কাউকে তেমন দেখলে ঠাট্টা করে এই শব্দ ব্যবহূত হয়। তো, কাকার জন্য ঠাট্টা করে বাংলার শব্দটি বলা নয়, এটি দারুণ প্রশংসাসূচক অর্থে বলা। যা-ই হোক, খেলার কথায় আসা যাক। দেখতে দেখতে খেলা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রথম পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে এরই মধ্যে খেলার ভাবগতিক পাল্টেছে অনেকটাই। এত দিনে বড় দলগুলোর যেন হুঁশ ফিরেছে। আড়মোড়া ভেঙে স্বমূর্তিতে ফেরার চেষ্টায় নেমেছে। আন্ডারডগ ভাবা দলগুলোর কাছে গদি হারানোর যে উপক্রম হয়েছে এবং দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে, তা থেকে নিষ্কৃতি পেতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে বড়রা।
এমনটা তো হতেই হবে। কারণ, সবার লক্ষ্য মই দিয়ে ওপরে ওঠার দিকে। প্রাথমিক ধাপগুলো পেরিয়ে যাওয়ার ভাবনাই এখন সবার কাছে মুখ্য। ‘চলো চলো, ষোলোয় চলো’—এই একটাই মন্ত্র আউড়ানো চলছে এখন। পরবর্তী সময়ে কী হবে, সেটা নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। তবে গণনা বা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে ষোলোতে পা দেওয়া নিশ্চিত বা প্রায়নিশ্চিত দলগুলোর। ষোলোতে পৌঁছে কার সঙ্গে কার খেলা পড়বে এবং কাকে কে কীভাবে ট্যাকল করবে, তার ছকও তৈরি শুরু করে দিয়েছে।
তো, ষোলোতে যাওয়ার খেলায় যাদের প্রায় ষোলোকলা পূর্ণ হওয়ার পথে, তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনাই নিজেদের মান-সম্মান, নাম-সুনাম আর শক্তি-সামর্থ্য দেখিয়ে সবার চেয়ে সেরা বলে বিবেচিত যে হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। ব্রাজিল মন ভরাতে পারেনি। পর্তুগাল ছন্দে ফিরেছে। তবে দুর্বল প্রতিপক্ষকে একগাদা গোল দিয়ে নাস্তানাবুদ করে ছাড়লেও ‘সমানে সমান’দের সঙ্গে কত দূর কী করবে তা এখনো সঠিক করে বলা যায় না। অন্তত আমার তা-ই মনে হয়। স্পেন হন্ডুরাসকে হারাল। কিন্তু সমপর্যায়ের সঙ্গে খেলতে গিয়ে কী করবে, কে জানে। ছয়টি মহাদেশের মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা ভালো গেল না। এশিয়া থেকে শুধু দক্ষিণ কোরিয়া এ পর্যন্ত নিজেদের ষোলোর জন্য টিকিয়ে রাখতে পারল। অন্য দুটির তো হাল খারাপ। অতএব, মূল পর্বের দিকে এগিয়ে যাওয়া দলগুলো দক্ষিণ আমেরিকা আর ইউরোপেরই হবে চিরাচরিত নিয়মে, তা প্রায় সবার ধারণা। তবে দক্ষিণ আমেরিকা বনাম দক্ষিণ আমেরিকা যে ফাইনাল হবে না, তা-ই বা কে বলতে পারে। খেলা দেখে মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপের কাপটা চিরদিন ওখানেই ঘুরেফিরে থাকবে যেন। আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে আসা সহজ হবে না। চিলি, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, মেক্সিকোর যে ভাবসাব, তাতে এবার যেমনই ফলাফল হোক, ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য খবর হয়ে যাবে।
তো, এবার আমার কথা বলি। এখনো সাপোর্ট দেওয়ার দল কোনটা হওয়া উচিত, ভেবে উঠতে পারিনি। ষোলো দলের খেলার পর্বের পরই মনে হয় ঠিক করতে হবে। সেই পর্বের দিকে তাকিয়ে আছি।

নিজেদের দোষেই বিদায়

চোখে-মুখে অবিশ্বাস ছিল তখনো, তবে এখন যদি ভিডিও দেখেন ইয়াকুবু আয়েগবেনি কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারবেন না তিনি আসলেই এমনটি করেছেন।
ম্যাচের বয়স তখন ৬৬ মিনিট। বাঁ দিক থেকে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন ইয়াকুবুর এক সতীর্থ, আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে পাস দেন ইয়াকুবুকে। গোল লাইন থেকে ইয়াকুবু তখন বড়জোর তিন-চার হাত দূরে, সামনে ফাঁকা গোলপোস্ট। ওই জায়গা থেকে বাইরে মারাটাই ছিল সবচেয়ে দুরূহ কাজ, কিন্তু ওই দুরূহ কাজটাই ‘দারুণ’ সাফল্যের সঙ্গে করলেন নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড। পরের মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল, অথচ সঙ্গে সঙ্গেই কোচ তুলে নিলেন তাঁকে!
সবচেয়ে দৃষ্টিকটু বলেই এই মিসটার এমন বর্ণনা দেওয়া, ইয়াকুবু মিস করেছেন আরও। শুধু ইয়াকুবুই নয়, পুরো ম্যাচে নাইজেরিয়ানরা গোল মিস করেছেন অসংখ্য। প্রথম রাউন্ডেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যাওয়ায় নাইজেরিয়ান খেলোয়াড়েরা তাই দায়ী করতে পারেন নিজেদেরই। যেমন করেছেন ডিফেন্ডার যোসেফ ইয়োবো, ‘আমি স্রেফ বলতে পারি, আমরাই আমাদের হারিয়েছি। আমরা হাজারো সুযোগ সৃষ্টি করেছি, কোরিয়ানদের চেয়ে অনেক বেশি, কিন্তু সেই সুযোগগুলো নিজেরাই নিইনি।’ হতাশ নাইজেরিয়া কোচ লার্স লেজারব্যাক অবশ্য দায়ী মানছেন নিজেকেই, ‘আমি হতাশ, দলের জন্য এটা হতাশাজনক ফলাফল। আমাদের জয়ের সুযোগ ছিল, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। ফলাফলের জন্য আমিই দায়ী, আমিই গেম প্ল্যান করি, আমিই দলকে অনুশীলন করাই।’
পরশু প্রথমবারের মতো এই বিশ্বকাপে মাঠে নামা নোয়ানকো কানুর কণ্ঠে ছিল চূড়ান্ত হতাশা, ‘আমরা মোটেও খুশি নই, আর একটা গোল করতে পারলেই আমরা হয়তো দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতাম।

আসল কাজটা স্ট্রাইকারদের

ইতালির সামনে এখন ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত। গ্রুপ পর্ব থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নেওয়ার শঙ্কা। প্যারাগুয়ে আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটো হতাশাজনক ড্রয়ের পর আজ স্লোভাকিয়ার মুখোমুখি তারা। জটিল হিসাবের সমীকরণ আছে, তবে আমি চাই, ইতালি জয় দিয়েই উঠে যাক দ্বিতীয় রাউন্ডে। দলের বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে কোচ মার্সেলো লিপ্পি বিভিন্ন ছকে খেলিয়ে দেখেছেন। অবশ্য একটা জায়গায় তিনি কোনো পরিবর্তন আনেননি। রক্ষণের চার সেনানী ক্যানাভারো, জামব্রোত্তা, চিয়েলিনি আর ক্রিসিতো। মাঝমাঠেও আমি কোনো সমস্যা দেখি না। সেখানে মন্তোলিভো-পেপেরা ভালোই তো খেলছে। ইতালির সমস্যা আসলে তাদের আক্রমণভাগে।
নিজে স্ট্রাইকার ছিলাম বলে জানি, আসল কাজটা স্ট্রাইকারদেরই করতে হয়। না হলে দলের সামগ্রিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। জিলার্দিনো, ইকুইন্তা, ডি নাতালে ও পাজ্জিনিদের কারণে যে সমস্যায় এখন ইতালি ভুগছে। গোল করতে পারছে না চ্যাম্পিয়নরা। এমন সময় মাঠের বাইরে বসে আছে আন্দ্রে পিরলো। বাকি স্ট্রাইকাররা দলের প্রাপ্যটা মিটিয়ে দিতে ব্যর্থ।
স্লোভাকিয়া মাত্র একটি পয়েন্ট পেয়েছে। ইতালিকে হারালে এখনো তাদের পক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া সম্ভব। ওদের মাঝমাঠের শিল্পী হামসিক তো আমাকে মুগ্ধ করেই যাচ্ছে। ফরোয়ার্ড ভেইসও নজর কেড়েছে। এবং ওরা আজ একটা অঘটনের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে। ইতালির আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলার সুযোগ নিতে চাইবে স্লোভাকিয়া। কোনোমতে একটা গোল আদায়ের সন্ধানে থাকে ওরা।
ড্র করলেও প্যারাগুয়ের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত, জিতলে তো কথাই নেই। তবে যতটা সহজ মনে হচ্ছে কাজটা কিন্তু ততটাই কঠিন। আগের দুই ম্যাচ থেকে দুটো পয়েন্ট কুড়িয়ে এনেছে ইতালি। আজ জিতলে দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যাবে ওরা। প্যারাগুয়েকেই অবশ্য আমার ফেবারিট মনে হচ্ছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে। আক্রমণভাগে সান্তা ক্রুজ, ভালদেসের মতো খেলোয়াড় আছে ওদের। মাঝমাঠে রিভেরস আর ভেরা। তবে কিউইরাও প্রমাণ করে দিয়েছে, ওরা ‘অংশগ্রহণই বড় কথা’র মন্ত্রেই তৃপ্ত নয়। আরও বড় কিছু করে দেখাতে চায়।
নিউজিল্যান্ড দলে সে রকম কোনো তারকা নেই। বেশির ভাগ ফুটবলারই পুরোপুরি পেশাদারও নয়। হয়তো তাদের সেই মাপের প্রতিভাও নেই। তবে বড় একটা হূদয় তাদের আছে। ইতালির বিপক্ষে ওদের সেন্টারব্যাক নেলসেন আর গোলরক্ষক প্যাস্টন তো দুর্দান্ত খেলল। স্মেলজ আর কিলেন ইতালির রক্ষণদুর্গে বেশ কবারই হামলা চালিয়েছে।
ডেনমার্ক আর জাপানও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মুখোমুখি। দুই দলেরই পয়েন্ট ৩। জাপান অবশ্য গোল ব্যবধানের হিসাবে এগিয়ে আছে। ফলে ড্র করলেও ওরা চলে যাবে। হল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পর ডেনমার্ক দেখলাম ওদের দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে বেশ সজাগ। সেটারই ফল তারা পেয়েছে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে। জাপানও হল্যান্ডের কাছে হেরেছে, জিতেছে ক্যামেরুনের বিপক্ষে।
জাপানের খেলার ধরনটাই হলো আঁটসাঁট ডিফেন্স, পাল্টা আক্রমণ। হোন্ডা আর ওকুবু দুজনই বিপজ্জনক। ডেনমার্ক অবশ্য ওদের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। বেন্টনার, টমাসন, রোমেদাল...আক্রমণভাগে একঝাঁক প্রতিভাবান খেলোয়াড়। কোচ ওলসেন তাঁর দলকে এমনভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন, ওদের আর হারানোর কিছু নেই, যা আছে তা শুধুই পাওয়ার। তবে জাপানিদের আছে গতি, আর আছে হোন্ডা নামের একটা ইঞ্জিন।
ক্যামেরুনের জন্য খারাপই লাগছে। শেষ ম্যাচটা ওদের জন্য নিয়মরক্ষার। অবশ্য এই ম্যাচ থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নেওয়ার রসদ খুঁজে নিতে পারে ওরা। কিন্তু প্রতিপক্ষ হল্যান্ড বলে স্যামুয়েল ইতো কতটা কী করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

জিতে জার্মানি, হেরেও ঘানা

৫৯ মিনিটে মেসুট ওজিলের দেওয়া একমাত্র গোলে ঘানাকে হারিয়ে জার্মানি চলে গেল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে। জার্মানির কাছে হেরেও গোলগড়ে এগিয়ে থাকায় শেষ ষোলোতে ঘানা।
জার্মানি জিতলেই সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে—সমীকরণ ছিল এমনই। তারা সেই জয়টা তুলে নিতে পেরেছে। কিন্তু অন্য মাঠে সার্বিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ছিল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। ৬৯ মিনিটে টিম কাহিল ও ৭৩ মিনিটে হলম্যান গোল করে ২-০ তে এগিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। ৮৪ মিনিটে পান্টেলিচ ২-১ করলেও বিশ্বকাপ থেকে সার্বিয়ার বিদায় ঠেকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ই ছিল এই ম্যাচ।
৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। সমান ৪ পয়েন্ট ঘানা ও অস্ট্রেলিয়ার। ঘানা গোল দিয়েছে দুটি, খেয়েছেও দুটি। গোলগড় শূন্য। অস্ট্রেলিয়া গোল করেছে ৩টি, খেয়েছে ৬টি। গোলগড় মাইনাস ৩। দ্বিতীয় রাউন্ডে ঘানা খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। জার্মানির প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

ব্রিটিশ মিডিয়ার এবারের লক্ষ্য জার্মানি

ইংল্যান্ড দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে ব্রিটিশ মিডিয়া। দলের সমালোচনা করতে করতে ক্লান্ত ব্রিটিশ গণমাধ্যম এখন অস্ত্র শানিয়ে নিচ্ছে পুরোনো শত্রু জার্মানির বিপক্ষে। ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের ময়দানে দেখা হচ্ছে দুই ‘জাতশত্রু’র। স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে জিতে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ব্রিটিশ গণমাধ্যমজুড়ে এখন ইংল্যান্ড দলের প্রশস্তি। বিখ্যাত সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, ‘আগের চেয়ে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে অনেক অনেক ভালো খেলেছে ইংল্যান্ড দল।’ দ্য সান মন্তব্য করেছে, ‘প্রথম দুই ম্যাচের পারফরমেন্স হতাশাজনক হলেও স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে আমাদের ছেলেরা পুরোপুরিই পাল্টে গেছে।’ স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে খেলা শুরুর আগে কোচ ক্যাপেলো নাকি রুনি-জেরার্ড-ল্যাম্পার্ডদের বিয়ার পানের অনুমতি দিয়েছিলেন। এ নিয়ে ‘দ্য টাইমস’-এর মন্তব্য, ‘প্রতিশোধের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা! খেলার আগে বিয়ারটা তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে।’
আনন্দ-উচ্ছ্বাস-প্রশংসার পর ব্রিটিশ মিডিয়ার চোখ এখন ইংল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচের দিকে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির। দ্য টাইমসে ব্যাপারে তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, বিশ্বকাপে জার্মানদের মুখোমুখি হলে ইংলিশরা যে রকম উত্তেজিত হয়ে যায়, আর কিছুতেই তেমনটি হয় না।’
এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে জার্মানির মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। শেষ তিনবারই জিতেছে জার্মানি। এবার নিশ্চয়ই প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়েই মাঠে নামবে ইংল্যান্ড।