Friday, November 8, 2019

কাশ্মির সংকট: বলদর্পিতা নয় গণভোটই সমাধান

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরকে দুইভাগে ভাগ করার ভারতীয় পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান।
পাক-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'জম্মু ও কাশ্মিরের অবস্থার পরিবর্তন আনাটা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব এবং এমনকি পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতারও খেলাপ। আর এ কারণে ইসলামাবাদ ভারতের এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করছে।'
ভারত সরকার তিন মাস আগে ঘোষিত সিদ্ধান্তের আলোকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ৩১ অক্টোবর জম্মু ও কাশ্মিরকে 'জম্মু ও কাশ্মির' এবং 'লাদাখ'- এই দুই নামে বিভক্ত করেছে এবং এ দুই অঞ্চলকে সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় আনা  হয়েছে।
পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আরও বলেছে, জম্মু ও কাশ্মিরের মালিকানা যে বিরোধ-কবলিত বা বিতর্কিত তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত; আর তাই নয়াদিল্লির একতরফা সিদ্ধান্তে এই বিরোধের মূল প্রকৃতি বা চরিত্রের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। পাকিস্তান ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের স্বশাসন সংক্রান্ত আইন বাতিলের ভারতীয় পদক্ষেপের বিষয়টি বিচার করে দেখতে এবং ওই অঞ্চলকে একটি বড় কারাগারে পরিণত করা ও সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন চলতে থাকার বাস্তবতা তুলে ধরতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানায় বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাশ্মিরের বিষয়ে ভারতের আচরণ দীর্ঘ বহু বছর ধরেই ঘরে-বাইরে হচ্ছে নিন্দিত। ভারত সরকার নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে আসলেও সেখানে চালাচ্ছে বলদর্পি স্বৈরশাসন এবং নির্মম দমন-পীড়ন। লাখ লাখ কাশ্মিরির জীবন কেড়ে নেয়া ছাড়াও সেখানে নারী ও শিশুর ওপরও ভারতীয় বাহিনীর মাধ্যমে চালানো হয়েছে পাশবিক আচরণ!
জাতিসংঘের ঘোষণার আলোকে কাশ্মিরের ভাগ্য সেখানকার জনগণের ভোটে নির্ধারণ করার বিষয়টি নেহেরু সরকার মুখে মুখে মেনে নিলেও কখনও তা বাস্তবায়ন করেনি। জম্মু ও কাশ্মিরকে ভারতীয় সংবিধানে স্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেয়া হলেও  ভারতের পরবর্তী সরকারগুলোও মূলত মুসলমান অধ্যুষিত এই অঞ্চলকে ভারতীয়  শাসনের আওতায় ধরে রাখার চেষ্টা করেছে বল প্রয়োগ করেই। ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার ওই স্বায়ত্তশাসনের প্রতীকী ধারাটিও উঠিয়ে দিয়ে জম্মু ও কাশ্মিরকে দুই ভাগ করে এবং সেখানে বহিরাগত হিন্দুদের আবাসনের ব্যবস্থা করে ইহুদিবাদী ইসরাইলি কায়দায় জনসংখ্যাগত অবস্থায়ও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে যা জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক আইনের ও এমনকি পাক-ভারত সমঝোতারও পরিপন্থী।
ম্যাথিও ক্ল্যাফিল্ডসহ আন্তর্জাতিক বিষয়ের অনেক বিশ্লেষক বলছেন, জম্মু ও কাশ্মিরকে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গায়ের জোরে বা অবৈধ যে কোনো পন্থায় খুব দীর্ঘকাল ধরে রাখতে পারবে না ভারত। সেনা-শাসন জারি করে, স্থানীয় যুবক ও নেতাদের গণহারে বন্দি করে এবং ইন্টারনেটসহ যোগাযোগের নানা ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে কাশ্মিরিদের স্বাধিকার আদায়ের দাবিকে স্তব্ধ করা সম্ভব হবে না। জম্মু ও কাশ্মিরকে ইসরাইলি কায়দায় অবৈধভাবে ভারতের মধ্যে বিলীন করতে দিল্লির মোদি সরকারের এ ধরনের অন্যায় পদক্ষেপ কেবল সহিংসতা ও অশান্তিই বাড়াবে, কাশ্মির সংকটের কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান বয়ে আনবে না।
জম্মু ও কাশ্মিরে যৌক্তিক ও মানবিক আচরণ করতে ভারত সরকারের ওপর মুসলিম বা গণতান্ত্রিক বিশ্বের সম্মিলিত নানা নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগকেও অনেকেই সময়ের দাবি বলে মনে করছেন। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না বলেই ভারত দীর্ঘকাল ধরে এ অঞ্চলে বলদর্পিতা বজায় রাখতে পেরেছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।
শিল্পীর চোখে জম্মু ও কাশ্মিরের পরিস্থিতি

জলবায়ু পরিবর্তনে অভিবাসন সংকট তীব্র by সুজানা স্যাভেজ

১৬ই মে ২০১৯ বিলাতের দি টেলিগ্রাফে মুদ্রিত প্রতিবেদনের হুবহু তর্জমা: বাংলাদেশ একটি ঘূর্ণিঝড় থেকে নিজকে সবে রক্ষা করেছে, কিন্তু এই দেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন সংকট গভীরতর হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। মে মাসের শুরুতে সাইক্লোন ফণী পূর্ব ভারতে আঘাত হেনেছিল , বাংলাদেশে যাওয়ার আগে ৪২ জনকে হত্যা করেছিল। এখানে প্রায় ১৭ জন নিহত হয়েছে- পূর্ববর্তী সাইক্লোনগুলোর চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কম।
সৌভাগ্যক্রমে একটি মিশ্র অবস্থার কারণে এবারে বেঁচে যাওয়া। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশ ঢুকে পড়ার কারণে ঝড়টি শক্তি হারায়। আর দুর্যোগ রুখতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ছিল, বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ড. সালেমুল হক।
তিনি বলেন, ‘আমরা জীবন বাঁচাতে খুব ভালো, আমি বলব বিশ্বের অন্য যেকোনো স্থানের চেয়ে ভালো’, তিনি আরো ব্যাখ্যা করেন। ‘কিন্তু আমরা যা বন্ধ করতে পারি না, সেটা হলো ক্ষতি- এটা অপরিহার্য। মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষের বিরাট অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি ঘটে।’
সারা দেশে ১৩ হাজার ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। চাঁদপুর, মধ্য বাংলাদেশের জনপদ, সেখানে অন্তত ১শ’ জন আশ্রয়ের ভরসা ছাড়াই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পড়েন কৃষকরা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের মতে, প্রায় ৬৩ হাজার হেক্টর জমি বন্যায় তলায়। এবং ১৮শ’ হেক্টর ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে।
যদিও কিছু ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়, কিছু ক্ষেত্রে পরিণতি দীর্ঘস্থায়ী, আর কখনো তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে যায়। ২০০৭ সালে সাইক্লোন সিডর দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু অংশ তার থেকে রেহাই পায় না। সিডর ১৫ হাজার মানুষের প্রাণ কাড়ে। আর হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করে। বেঁচে থাকা বেশিরভাগই হয় রাজধানী ঢাকা, বা অন্যান্য শহরে কোনো বিকল্প ছাড়াই চলে যাচ্ছে।
১০ বছরেরও বেশি সময় পরে, এখনো উদ্বাস্তু স্রোতের রেশ রয়ে গেছে। ২০১৭ সালে বরিশাল থেকে ১শ’ কিলোমিটার দূরে, তাতালি উপজেলার ২৫ বছর বয়সী শাহজালাল মিয়াকে তার গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
শাহজালাল বলেন, ‘সেখানে কোনো কাজ ছিল না, সামপ্রতিককালে তিনিও একজন কৃষিকর্মী ছিলেন। ‘আমি শুধুমাত্র তিন মাস কাজ করতে পারি। বাকি নয় মাস আমি কিছুই করছিলাম না।’
তিনি এবং তার পরিবার এক খণ্ড ছোট্ট জমিতে চাল ফলাতেন। সাইক্লোন সিডর শুধু তাদের ঘর এবং ফসলই ধ্বংস করেনি, বাড়ির ভেতরে লবণ পানিতে সয়লাব করে ফেলে। এতে ধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এমনকি আজও, স্থানীয় কৃষকদের জন্য চাল বা অন্যান্য ফসল উৎপন্ন করার জন্য মাটি এখনো খুব লবণাক্ত। ভূগর্ভস্থ নলকূপ এবং নদী থেকে তোলা পানিতেও উচ্চ লবণাক্ততা রয়েছে।
এমনকি আজও, স্থানীয় কৃষকদের জন্য চাল বা অন্যান্য ফসল উৎপন্ন করার জন্য মাটি এখনো খুব লবণাক্ত। ভূগর্ভস্থ নলকূপ এবং নদী থেকে পানিও উচ্চ লবণাক্ততা রয়েছে।
শাহজালাল বলেন, ‘পানিতে অনেক লবণ আছে। মাঠে কিছুটা ফসল বাড়ানোও সত্যি কঠিন। ‘যদি মিষ্টি [বিশুদ্ধ] পানি থাকত, তবে আমার জন্য ফসল চাষ করা এবং অন্যান্য কৃষি কাজ করা সম্ভব হতো,’ কিন্তু, যথেষ্ট লবণাক্ততার কারণে, ‘কৃষক বছরে একবার ফসল ফলাতে পারে, অথচ একই জমিতে দুই বা তিনবার ফসল ফলাতেই তারা অভ্যস্ত।’
ধনী গৃহস্থের জমিতে কাজ নিয়েও তিনি জীবিকা নির্বাহ করতে অক্ষম থাকলেন, এরপর আসলে শাহজালাল ও তার স্ত্রীর সামনে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
তাদের গল্প খুব সাধারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজি ও মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ) এর মতে, প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর কারণে শহরে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
এই সংখ্যা বাড়ছে। আগামী দশকে ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি তাদের জীবিকা হারাবেন, এই মন্তব্য করেন ড. হক অনুমান করেন।
অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতির জন্য ঘূর্ণিঝড় অনেকগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম। দেশটিতে উচ্চ মাত্রায় নদী এবং উপকূলীয় ভাঙন, বন্যা এবং এমনকি কিছু জায়গায়, খরা বা পানির অভাব তীব্র হতে দেখা যাচ্ছে।
ইউনাইটেড ন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) দ্বারা প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের বন্যার কারণে স্থানচ্যুতির ঝুঁকির দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম স্থানে রয়েছে।
জেনেভা-ভিত্তিক আইডিএমসি-এর পরিচালক, আলেকজান্ডার বিলাল বলেন, ওই প্রতিবেদনে ‘ধীর গতির বিপর্যয়গুলোর’ কারণে যারা বিতাড়িত তাদের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ এটি নিরীক্ষা করা কঠিন।’
তিনি আরো বলেন, ‘যখন আমি বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে সফরে গিয়েছিলাম, তখন আসলেই উপকূলীয় ভাঙন কতটুকু প্রকট তা দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। ভোলার [বরিশাল শহর দক্ষিণে একটি জেলা] জমি আক্ষরিক অর্থেই জলে মিশে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশে বেশিরভাগ বাস্তুচ্যুত লোকের ঠিকানা হয় ঢাকা শহরের কোনো একটি বস্তি। গত কয়েক দশকে ঢাকায় আসা মানুষের সংখ্যা এই এলাকা থেকে এত বেশি হচ্ছে যে, এর একটি বস্তির নামকরণ করা হয়েছে- ‘ভোলা’।
যদিও সবাই রাজধানীতে চলে আসে না। শাহজালাল তাদের একজন। ঢাকা না গিয়ে তিনি তার নিকটতম বড় শহর বরিশাল গিয়েছিলেন।
‘আমার গ্রাম থেকে অনেক লোক বরিশালে কাজ করতে আসে এবং আমি ঢাকা বা চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য আমার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে ছেড়ে যেতে চাই না- বরিশালে আমি তাদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারব, এটা আমার শক্তিতে কুলায়’, তিনি বলেন।
জীবন এখানেও যে সহজ তা নয়। শাহজালালের স্ত্রী নাদিরা বেগম, যিনি তখন গর্ভবতী ছিলেন, বললেন, ‘বরিশালে আমরা প্রথম যে বস্তিতে গিয়েছিলাম, সেটি নোংরা ছিল এবং কোনো পরিষ্কার পানি বা টয়লেট ছিল না।’
শাহজালাল আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি কিভাবে অন্য বাচ্চারা বড় হয়ে উঠছে, এটা কতটা নোংরা ছিল এবং আমরা আমাদের বাচ্চাকে এভাবে বেড়ে উঠতে দেখতে চাইনি।’
তাদের মেয়ে হালিফা, এখন পাঁচ মাস বয়সী- তারা জন্মগ্রহণ করে বরিশালের নামার চর বস্তিতে। হালিফা মনে করেন, এই বস্তি নদী লাগোয়া হওয়ার কারণে বাতাস নির্মল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এখন তাদের একটি টয়লেট এবং পানির ব্যবস্থা আছে।
শাহজালাল ও নাদিরার রুম থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে সিঙ্কসহ একটি পরিষ্কার টয়লেট ব্লক রয়েছে। দাতব্য প্রতিষ্ঠান ওয়াটার স্যানিটেশন ফর আরবান পুওর (ডব্লিউএসইউপি) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই ব্লকে পানি ধরে রাখার ট্যাংক এবং পাম্প রয়েছে, যার মানে হলো, বস্তিতে যেমন টয়লেট থাকে, এটা তার থেকে আলাদা। এটা পরিষ্কার রাখা সহজ।
এই মুহূর্তে আটটি পরিবার দুটি টয়লেট এবং একটা ধোয়ার বেসিন ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। এটা তাদের পরিচ্ছন্ন জীবন গঠনে বড় প্রভাব ফেলে। নাদিরা বলেন, ‘আমরা যেখানে বাস করতাম তার তুলনায় এটা অনেক ভালো।’
বাংলাদেশের অনেক বস্তিবাসীর তুলনায় তারা ভাগ্যবান। বেশিরভাগ বস্তি যে কেবল জনাকীর্ণ তাই নয়, পুরো পরিবারের সদস্যরা একটি কক্ষে থাকে। আর তাদের জীবনযাপনের আইনি শর্তগুলো জটিল ও অদ্ভুত থাকার কারণে পৌর বা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বা পয়প্রণালীর দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মনোযাগের বাইরেই তাদের জীবন কাটে। বস্তিবাসীরা বিশেষ করে অসুস্থতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণই থাকে- বিশেষ করে পানিবাহিত রোগে তারা বেশি ভোগে।
‘খারাপ স্যানিটেশন পরিবারের এবং ব্যক্তি জীবনে বিশাল প্রভাব ফেলে,’ আবদুস শহীদ, ডব্লিউএসইপি বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মন্তব্য করেন।
‘যদি কোনো রিকশাচালক অসুস্থ হয় এবং এক বা দুই দিনের জন্য কাজ করতে না পারেন, তবে এটি তাদের জন্য বিশাল ক্ষতি বয়ে আনে। গার্মেন্টকর্মী যদি সাত দিনের জন্য অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তার বস তাকে সরিয়ে দেবে। তিনি তার চাকরি হারান,’ তিনি বলেছেন।
ডব্লিউএসইউপির মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো বাংলাদেশের চারটি শহরে এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর পাশাপাশি আফ্রিকায় কাজ করে। এমন বেসরকারি সংস্থাগুলো স্যানিটেশন সমস্যা মেটাতে কঠোর পরিশ্রম করছে, তবে সমস্যাটির নিরসন সহজ নয়।
শাহীন বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত আরো বেশি মানুষ নগরীতে আসছে, বাংলাদেশে এর মূল কারণটা হলো জলবায়ু পরিবর্তন’ ‘আমি আশঙ্কা করি যে বস্তিগুলোতে পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো খারাপ থেকে নিকৃষ্টতর হবে।’
বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় এটিই অবশ্য একমাত্র দেশ নয়। গ্লোবাল রিপোর্ট অন ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্টের মতে, ২০১৮ সালে ২৮ মিলিয়ন নতুন অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ে ১৭ মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে। এ ছাড়া সংঘর্ষ ও সহিংসতার ফলে আরো প্রায় ১১ মিলিয়ন লোক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
আইডিসিএম পরিচালক মিজ বিলাক বলেন, ক্রমবর্ধমানভাবে, বিশ্বের অভ্যন্তরীণভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষেরা শেষপর্যন্ত শহরগুলোতেই ভিড় জমায়। তিনি বলেন, ‘যেকোনো শহরের বিতাড়িত ব্যক্তিরা প্রধানত স্থানীয় সরকারগুলোর উপরেই বিরাট চাপ সৃষ্টি করে।’
তিনি বলেন, ‘তারা যে পরিমাণে সমস্যা মোকাবিলা করতে সফল হয়, সেটা নির্ভার করে সম্পদের যোগানের ওপর।’ স্বাভাবকিভাবেই, এটি দরিদ্র দেশগুলোকে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়, তিনি যোগ করেন।
জলবায়ু-সংক্রান্ত বিপর্যয়গুলোই কিন্তু শুধুমাত্র গ্রামীণ-নগর অভিবাসনের ক্রমবর্ধমান হারে পরিবর্তন এনে শহরগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না। বিশ্ব ক্রমাগতভাবে গ্রাম মুছে দিয়ে শহুরে হয়ে উঠছে। শহুরে নাগরিকরাও ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন যেটি এই বছরে মানুষের স্থানচ্যুতির বিষয়ে শহুরে ডাইমেনশনের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে, সেটি বলেছে, ??‘বিশ্বব্যাপী ১৭ মিলিয়ন মানুষ কেবল বন্যার কারণে স্থানচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ শহরে বা আধা শহর এলাকায় বসবাস করে।
আর দক্ষিণ এশিয়ায়, যেখানে শহুরীকরণ বিশেষ করে দ্রুতলয়ে ঘটছে, সেখানে এই হার ৯০ শতাংশ ।
যে শহরগুলোতে যাদের স্থানচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বস্তিবাসী, মন্তব্য করেন মিজ বিলাক। কারণ তারা যেভাবে বেঁচে থাকে, সেখানকার কাঠামো এবং সেটিংস নাজুক, সম্পদ অপ্রতুল। এসবই তাদের স্থানান্তর ও রুগ্ন থাকার জন্য যথেষ্ট। ‘অবশ্যই, তাদের (শহুরে বস্তিবাসী) মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে তাদের গ্রামীণ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে, এটি হবে তাদের জীবনের একটি দ্বিতীয় স্থানচ্যুতি।
আর যারা গ্রামে রয়ে গেছেন তাদের জন্য পরিস্থিতি উজ্জ্বল হওয়া থেকে অনেক দূরে। শাহজালালের গ্রামকে যুক্ত করেছে যে সড়ক, তার দুপাশে মাঠের পর মাঠ বিরান পড়ে আছে। আগে তা ছিল ধানক্ষেত। ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার গ্রাম ছিল কৃষকে পরিপূর্ণ। অথচ এখন আপনি তাদের কাউকে দেখবেন না। সব খালি।’
গ্রামও খুব অদ্ভুতভাবে শান্ত। শাহজালালের বর্ধিত পরিবারে কেবল পুরোনো প্রজন্মই রয়ে গেছে। শাহজালালের বাবা-মা ও তার চাচা। তাদের অনুমান, ঘূর্নিঝড় সিডরের পরে ৭০ ভাগ মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।
শাহজালালের চাচা বলেন, ‘সব যুবক কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হন।’ ‘কখনো কখনো তারা তাদের সঙ্গে করে স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে যায়, কখনো তারা রেখে যায়।’
ব্যতিক্রম হলো শাহজালালের ভাই মোহাম্মদ সাইদুল। তিন ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ হলেন ২৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ। চট্টগ্রামে গিয়ে কিছুদিন কাজ করেছিলেন, কিন্তু বাড়ি ফিরে আসেন।
এখন তিনি এবং তার পরিবার চিংড়ি এবং মাছ চাষ করেন। এটি ধান চাষের চেয়ে অনেক কম লাভজনক।
‘আমরা জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট সংগ্রাম করি কিন্তু আমি তা ছেড়ে শহরে যেতে চাই না- কারণ এটা আমার বাড়ি’, বলেছেন সাইদুল।
[সুজানা স্যাভেজ: প্রখ্যাত বৃটিশ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, দি ইকনোমিস্ট, বিবিসি, আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পােসে্ট তার লেখা নিয়মিত ছাপা হয়। ১৬ই মে ২০১৯ বিলাতের দি টেলিগ্রাফে মুদ্রিত প্রতিবেদনের হুবহু তর্জমা]

নবতায়িয়ান সংস্কৃতি: সৌদি আরবের হারিয়ে যাওয়া রহস্যময় সভ্যতার সন্ধান

নবতায়িয়ান সমাধিক্ষেত্র
সৌদি আরবের একাংশে প্রথমবারের মতো গভীর প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ শুরু করেছে এক দল গবেষক। উদ্দেশ্য একসময় সেই অঞ্চলে বসবাসকারী এক রহস্যময় সভ্যতার বিষয়ে আলোকপাত করা।
নবতায়িয়ান সংস্কৃতি নামে পরিচিত সেই সভ্যতার অত্যন্ত জটিল ও উন্নত কিছু পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ সেই সময়ে সাক্ষ্য দিলেও এখনো অনেকগুলি সাইট অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে।
সৌদি আরবের আল উলার শিলাকীর্ণ মরুভূমির কুচকুচে কালো আকাশের জন্য পরিচিত। কারণ, এখানে স্টারগেজার বা তারা দেখতে আসা মানুষেরা কোন ধরণের আলোক দূষণ ছাড়াই মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
কিন্তু এগুলো ছাড়াও ধীরে ধীরে এই এলাকাটি প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একটি সভ্যতার বাস ছিল এই অঞ্চলে যা পরিচিত ছিল নবতায়িয়ান সভ্যতা নামে। খ্রিষ্টপূর্ব ১০০ বর্ষ থেকে শুরু করে পরবর্তী ২০০ বছর টিকেছিল এই সভ্যতা।
নবতায়িয়ান শাসকরা তাদের সাম্রাজ্য শাসন করতেন মনোমুগ্ধকর শহর পেত্রা থেকে যা জর্ডানে অবস্থিত। আল উলা'য় তারা তাদের দ্বিতীয় রাজধানী হেগ্রা(আধুনিক নাম মাদা ইন সালেহ)স্থাপন করেছিল।
পাথরের এই স্মৃতিস্তম্ভটি নবতায়িয়ানদের তৈরি করা অন্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি
বর্তমানে, প্রত্নতত্ত্ববিদরা ওই এলাকায় একটি বিস্তীর্ণ ভূমি যা প্রায় বেলজিয়ামের সমান, সেখানে বিশদভাবে জরিপ চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৩৩শ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দুই বছরব্যাপী একটি জরিপ প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ৬০ জন বিশেষজ্ঞের একটি আন্তর্জাতিক দল কাজ শুরু করেছে।
এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এতো বড় এলাকায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রক্রিয়াগত-ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নবতায়িয়ান্স

•তারা আরবের উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাস করতো খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে শুরু করে ১০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ে।
•জর্ডানের পেত্রা ছিল তাদের রাজধানী, কিন্তু সৌদি আরবের মাদা'ইন সালেহও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
•তাদের পরিশীলিত স্থাপত্য ঐতিহ্য মেসোপটেমীয় এবং গ্রিকদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত ছিল। মন্দির এবং সমাধির প্রবেশ মুখ তারা পাথরের পাহার খোদাই করে তৈরি করেছিল।
•নবতায়িয়ানদের অনেক গ্রাফিতি এবং লিপির উদাহরণ মিললেও এখনো তাদের বাস্তবিক কোন লেখা বা সাহিত্যের সন্ধান মেলেনি।
•রোমান সম্রাট ট্রাজানের দখলে যাওয়ার পর থেকে নবতায়িয়া হিসেবে স্বাধীন সভ্যতার মর্যাদা হারায় তারা।
জর্ডানের পেত্রায় নবতায়িয়ানরা তাদের রাজধানী স্থাপন করেছিল
সৌদির প্রত্নত্ত্বাতিকদের নেতৃত্বে মাদা'ইন সালেহ-এর আশেপাশে এবং উল্লেখযোগ্য নবতায়িয়ান সাইটগুলোতে খনন কাজ চালানো হয়েছে। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিয়াদের বাদশাহ সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আবদুলরাহমান আলসুহাইবানি।
"আমি পূর্বের দেদানাইত এবং লিহিয়ানাইত সভ্যতার উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি," তিনি বলেন।
"এখন আল উলা'র প্রকল্পে রয়্যাল কমিশন সংশ্লিষ্ট থাকায়, প্রাথমিক সমাজ ব্যবস্থা কিভাবে বিকশিত হয়েছিল তা আরো গভীর ভাবে বোঝার বড় ধরণের সুযোগ তৈরি হবে।"
রয়্যাল কমিশন জড়িত থাকার মানে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রত্নতাত্ত্বিকদের সহায়তায় সর্বশেষ এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
যেখানে গুগল আর্থ এবং অভিজ্ঞ চোখ মিলে এমনিতেই বলে দিতে পারে যে কোনটি প্রাকৃতিক আর কোনটি মানব তৈরি, সেখানে বিশেষায়িত ক্যামেরা সম্বলিত হাল্কা বিমান ওই এলাকার সবচেয়ে বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম। যার আওতায় রয়েছে আল উলা ওয়াদি এবং এর আশেপাশের উপত্যকা। এর মাধ্যমে এখনো পর্যন্ত অজানা প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য তুলে আনা সম্ভব।
আল উলার রয়্যাল কমিশনের জরিপ বিষয়ক দলের প্রধান এবং মার্কিন প্রত্নতাত্ত্বিক রেবেকা ফুটি বলেন, আগের প্রকল্পগুলোতে মূলত খনন কাজের উপর জোর দেয়া হয়েছে। কারণ এ ধরণের সুশৃঙ্খল জরিপ পরিচালনার জন্য অনেক সময় এবং অর্থের দরকার যা কেবল এখন আছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, সৌদি আরবের এই উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশটিকে প্রাচীন ইতিহাসের মানচিত্রে জায়গা করে দেবে।
প্রাচীন প্রত্নতত্ত্বের খোঁজে আল উলা ওয়াদি এলাকায় জরিপ চালিয়ে যাচ্ছে প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
"খ্রিস্টপূর্ব প্রথম থেকে তৃতীয় সহস্রাব্দ সম্পর্কে বিস্তারিত অনেক তথ্য জানা গেছে এবং আমরা সবাই প্রাচীন মিশর এবং মেসোপটেমিয়া সম্পর্কে জানি," তিনি জানান।
"এখন পর্যন্ত প্রাচীন সময়ের আরব উপত্যকা সম্পর্কে তুলনামূলক-ভাবে তেমন কিছুই জানা যায়নি। আমাদের পাওয়া তথ্য প্রাচীন ইতিহাস বুঝতে কিভাবে সহায়তা করবে সে সম্পর্কেও এখনো আমরা কিছু জানি না। কিন্তু মনে হচ্ছে যে, প্রাথমিক যুগ সম্পর্কে বৈশ্বিক মত পাল্টে দিতে পারে এটি।"
জর্ডানে অবস্থিত প্রাচীন শহর পেত্রায় বহু বছর ধরে কাজ করছেন ফুটি। এই শহরটিতেই নবতায়িয়ান সভ্যতার সবচেয়ে আলোচিত স্মৃতিস্তম্ভগুলো রয়েছে। তিনি বলেন, আকাশ পথে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হবে মূল চাবিকাঠি যার সাহায্যে ওই সভ্যতার সমাধিস্তম্ভের স্থাপত্য, দাঁড়িয়ে থাকা পাথর এবং আরো অন্যান্য অপ্রচলিত সাইট নিয়ে অনুসন্ধান চালানো সহজ হবে। আর তা না হলে বছরের পর বছর কেটে যাবে এগুলো খুঁজে বের করতে হলে।
"এখন প্রযুক্তি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং বিস্তারিত ধারণা দেবে," তিনি বলেন। "এর আগে এতো বড় ধরণের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।"
এরআগে ফরাসিদের নেতৃত্বে একদল খননকারী একটি ধূপ বাণিজ্যের নেটওয়ার্ককে ধরে ফেলে যারা আরবের পশ্চিমাঞ্চলের সক্রিয় ছিল এবং আল উলা হয়ে যাতায়াত ছিল তাদের। রেবেকা ফুটি এই তথ্যের উপর ভর করে আরো এগিয়ে যেতে চান এবং তিনি বুঝতে চান যে, ওই এলাকার উন্নয়নে পানি কিভাবে প্রভাব ফেলেছিল সে সম্পর্কে আরো জানতে চান তিনি।
তিনি মন্তব্য করেন: "আমরা ধারণা করতে পারি যে তাদের একটি সফল কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ছিল, কিন্তু তখন কি ধূপের উপর কোন ধরণের কর ছিল? তারা কিভাবে পানির চাহিদা পূরণ করতো?"
হাইড্রোলজি বা পানি সম্বন্ধীয় গবেষণা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আর এতে করে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে, বিমান নিয়ে কাজ করা প্রত্নতত্ত্ববিদ দলটিকে ধন্যবাদ, তাদের সাহায্য ছাড়া নির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে জানা যেত না।
অনেক সভ্যতা এই এলাকায় গড়ে উঠেছিল এবং তাদের চিহ্ন রেখে গেছে।
দুই কিংবা তিন হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ে, অক্সফোর্ডের প্রত্নতত্ত্বের জেমি কুয়ারটারমাইনের নেতৃত্বে থাকা জরিপ দলটি এরইমধ্যে প্রত্যাশিত সাড়ে এগারো হাজার সাইটের মধ্যে অর্ধেকেরই অবস্থান খুঁজে পেয়েছে। প্রতিরোধমূলক জরিপ নামে পরিচিত এই জরিপের মানে হচ্ছে, এসব প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় ভবিষ্যতে কোন ধরণের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ পরিচালনা করা হবে না।
"আমরা অন্য দেশের ভুল দেখে শিক্ষালাভ করেছি এবং আমরা যেকোন ধরণের ক্ষতি রুখতে বেশ সময় নিয়ে কাজ করছি," তিনি বলেন। "সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত হলেও, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে, তা আসলে সবার জন্য ছেড়ে দেয়া হবে না।"
এই জরিপ অন্য বিশেষজ্ঞদের যেমন পাথর শিল্প সম্পর্কিত প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারবে।
"এমনকি ৫ বছর আগেও জিপিএস ব্যবস্থা এতোটা নির্ভুল ছিল না," জেমি কুয়ারটারমাইনি বর্ণনা করেন। "আজ আমরা ফটোগ্রাফির বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করছি যেমন ড্রোন, হাল্কা বিমানে সংযুক্ত ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিমান অরফো-ফটোগ্রাফি।"
প্রতি দুই থেকে তিন সেকেন্ডে নতুন একটি করে ছবি দেয়ার মাধ্যমে, হাজার হাজার ছবি বিশ্লেষণ করে সত্যিকার দূরত্ব পরিমাপ করা যায়। বিশেষায়িত সফটওয়্যার এসব কিছুকে একটি উচ্চ রেজ্যুলিউশন সম্পন্ন এবং বিস্তারিত বর্ণনা সম্বলিত একটি ভূমিরূপ পাওয়া যাবে।
ক্যামেরাগুলো ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঠিক করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত একটি সমাধিক্ষেত্র , ব্রোঞ্জ যুগের সমাধিক্ষেত্রের ভূমিরূপ এবং সমাধির গঠন। এছাড়াও, একই অ্যাঙ্গেলে ক্যামেরা সম্বলিত ড্রোনও রাখা হয়েছে।
"এটি আমাদেরকে শুধু অনুভূমিক চিত্রই তুলে ধরে না বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে উল্লম্ব চিত্রও চোখে পড়ে," তিনি বলেন।
আমর আল মাদানি আল উলাতে রয়্যাল কমিশনের হয়ে কাজ করেন
"আমাদেরকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে যে কিছু কিছু জায়গায় পাথরে শিল্পকর্ম মিলতে পারে।"
জরিপের সর্বশেষ ধাপে, বিশেষায়িত দলের সদস্যদের পাঠানো হবে, যেমন পাথরে শিল্পকর্মের বিশেষজ্ঞ মারিয়া গুয়াগনিন, যিনি খালি পায়েই মাঠে ঘুরে বেড়ান। আরবের উত্তরাঞ্চলে ৫ বছর কাটানোর পর, মারিয়া শেষ পর্যন্ত অভিভূত হয়েছে এটা দেখে যে, সব যুগের তথ্য সম্বলিত বিশালাকার তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে।
"প্রথমবারের মতো, প্রত্নতত্ত্বের সব দিক খতিয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছি আমরা," তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন।
"প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো অনেকটা খননকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক এবং মহাসাগরীয় স্থানগুলির অবস্থানের উপর নির্ভরশীল।"
"ধারণা করা হয় যে, আরবিয় উপত্যকা থেকে অনেক এরইমধ্যে অনেক প্রজাতি বিলোপ হয়েছে, কিন্তু সেগুলো শিলা চিত্রের প্যানেলে এখনো টিকে আছে।"
আল উলাতে পূর্বে অঘোষিত স্তন্যপায়ী প্রজাতির উপস্থিতি তাদের অবস্থান, বাসস্থান এবং খাদ্যাভ্যাস যা সেই সময়ে প্রাগৈতিহাসিক প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলিতে রয়েছে সে সম্পর্কিত নতুন তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
এছাড়া কোন সময়ে কোন পশু ছিল সেটি সনাক্ত করতেও এসব চিত্রের সহায়তা নেয়া হয়েছে বলে মনে করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ঘোড়া কিংবা উট খ্রিস্টপূর্ব ১২ অব্দের আগে থেকে ছিল।
গৃহপালিত পশু, ভেড়া এবং ছাগল আরবিয় উপত্যকায় আনা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮শ বা ৬২শ এর মাঝামাঝি অব্দে। এগুলো ভূ-মধ্যসাগরের পূর্বাংশে গৃহপালিত করে সৌদি আরবে আনা হয়। বিভিন্ন শিলা চিত্র থেকে এই সময় গুলো জানা যায়, কারণ ওই সময়ের আগে ওই এলাকায় গৃহপালিত কোন পশু ছিল না বলে অনুমান করা হয়।
আল উলা আন্তর্জাতিক দলের সংগ্রহ করা এসব তথ্যে উল্লেখিত স্থানগুলো পেত্রার বিভিন্ন অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে এছাড়া পেত্রা এবং মাদা'ইন সালেহর মধ্যকার রাস্তাও আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবদুলরাহমান আলসুহাইবানি কয়েক বছর ধরে দেদান এলাকায় খনন চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি হচ্ছে এমন একটি সাইট যেখানে নবতায়িয়ানদের আগেরও সভ্যতার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন যে, এমনটাও হতে পারে যে, এসব বিষয়ে জানতে কয়েক প্রজন্ম দরকার হতে পারে: "বিশ্বের দরবারে এই কাজগুলোকে যা অনেক বেশি মূল্যবান করে তুলেছে তা হল, মাদা'ইন সালেহ এবং পেত্রাই নয় বরং এর আগের সভ্যতা যা আমাদের কাছে অজানা তারও ইঙ্গিত রয়েছে।"
আবদুলরাহমানের একটি দায়িত্ব হচ্ছে, বাদশাহ সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া যারা আল উলায় একটি আউটপোস্টে কাজ করছে।
"তারা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপক একটি জরিপের অংশ হিসেবে শিখছে এবং এর সাথে সম্পর্কিত খনন সম্পর্কে জানছে,"তিনি বলেন। "আজকের শিক্ষার্থীরাই হয়তো এমন আবিষ্কার করবে যা আমরা ভাবতে পর্যন্ত পারি না।"
নবতায়িয়ান সমাধিক্ষেত্র

সপ্তাহে তিনটির বেশি ডিম খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে - নতুন গবেষণা রিপোর্ট

ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো কিনা - এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই বিতর্ক করে আসছেন। এ বিষয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে করা এক নতুন গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশের পর।
আমেরিকান মেডিক্যাল জার্নাল জে এ এম এ-র প্রকাশিত এক জরিপ রিপোর্টে বলা হচ্ছে, প্রতিদিন মাত্র দুটি ডিম খেলেই হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়, এবং অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।
এতে বলা হয়, আসলে ডিম খাওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো কিনা - তা হয়তো নির্ভর করে আপনি কতগুলো ডিম খাচ্ছেন তার ওপর।
ডিম নিয়ে এ উদ্বেগের কারণ হচ্ছে: ডিমের কুসুমে থাকে বিপুল পরিমাণ কোলেস্টেরল। একটি বড় আকারের ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১৮৫ মিলিগ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মানুষের খাদ্যে দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি কোলেস্টেরল থাকা উচিত নয়। অথচ এর অর্ধেকেরও বেশি কোলেস্টেরল আছে একটি মাত্র ডিমে।

ঝুঁকি আসলে কতটা?

এ জরিপে মোট ৬টি পরীক্ষার উপাত্ত ব্যবহৃত হয়েছে - যা ১৭ বছর ধরে ৩০ হাজার অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা।
গবেষকরা এর পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে - খাবারের সাথে দিনে ৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে ১৭ শতাংশ, আর অকালমৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়ে ১৮ শতাংশ।
বিশেষ করে ডিমের ক্ষেত্রে গবেষকরা দেখতে পান যে প্রতি দিন তিন থেকে চারটি ডিম খাবার সাথে হৃদরোগের ৬ শতাংশ বাড়তি ঝুঁকি এবং অকালমৃত্যুর ৮ শতাংশ বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক আছে।
জরিপটি বলছে, হৃদরোগ বা অকালমৃত্যুর সাথে ডিমের এই সম্পর্কের সাথে বয়স, ফিটনেসের স্তর, তামাক ব্যবহার, বা উচ্চ রক্তচাপের মতোআগে থেকে বিদ্যমান কোন স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক নেই।
"আমাদের জরিপে দেখা গেছে যে দুজন লোক যদি হুবহু একই খাবার খায়, এবং একজনের ক্ষেত্রে শুধু ডিমের পরিমাণটিই আলাদা হয় - তাহলে এ লোকটির হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বেশি হবে" - এ কথা বলছেন জরিপ রিপোর্টটির অন্যতম প্রণেতা, এবং নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক নোরিনা এ্যালেন।
'আগেকার গবেষণার সাথে এ ফলাফল মিলছে না'
এর আগের গবেষণায় বলা হয়েছিল, ডিম খাওয়া এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই।
কিন্তু নতুন এই গবেষণার সাথে সেসব ফলাফল মিলছে না।
নোরিনা এ্যালেন বলছেন, আগেকার জরিপগুলোতে নমুনার বৈচিত্র্য কম ছিল এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপর নজর রাখা হয়েছিল কম সময় ধরে।
তবে এই গবেষকরাও স্বীকার করছেন যে তাদের জরিপ পদ্ধতি বা বিশ্লেষণেও ভুল থাকতে পারে।
কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, নতুন গবেষণাটির ফল 'পর্যবেক্ষণমূলক' - তারা ইঙ্গিত করছেন যে ডিম খাওয়ার সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে - কিন্তু 'একটার কারণেই যে অন্যটা হচ্ছে' তা প্রমাণ করতে পারেননি।

তাহলে এবার বলুন, দিনে ক'টা ডিম খাওয়া যাবে?

কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ - এ প্রশ্ন করা হলে নোরিনা এ্যালেন বলছেন, সপ্তাহে তিনটির বেশি নয়।
তিনি আরো বলেন, "আমি ডিম খাওয়া একেবারে বাদ দিতে বলছি না, শুধু কমাতে বলছি - এবং কুসুম বাদ দিয়ে প্রধানত ডিমের শ্বেতাংশটাই খেতে বলছি।"
এক জরিপে বলা হয়, একজন আমেরিকান বছরে গড়ে ২৫২টি ডিম খায়। সেদেশে ২০ শতাংশ মৃত্যু হয় হৃদরোগের কারণে। কিন্তু জাপানে এক জন লোক বছরে গড়ে ৩২৮টি ডিম খায়, কিন্তু সেখানে হৃদরোগে মৃত্যু হয় মাত্র ১১ শতাংশ লোকের।
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টম স্যান্ডার্স বলছেন, পরিমিত মাত্রায় ডিম খেলে - যেমন সপ্তাহে তিন থেকে চারটি - তাতে কোন সমস্যা নেই।
সূত্র: বিবিসি by মানবজমিন

হজের প্রধান লক্ষ্য ও শিক্ষা আল্লাহর জিকির

মোমিন ভাইয়েরা, এভাবেই হজে ও হজের পরে জিকিরের মর্যাদা প্রতিভাত হয়। বস্তুত ইসলামে সব ধরনের ইবাদতই চালু করা হয়েছে আল্লাহর জিকির বাস্তবায়নের জন্য। আর জিকির সবচেয়ে সহজ ইবাদত। সবচেয়ে মহৎ ও মর্যাদাবান ইবাদত। জিকির সবচেয়ে বড়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর জিকির সর্বশ্রেষ...।
হজের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ও প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহর জিকির প্রতিষ্ঠা করা। জিকির এক মহান ইবাদত। জিকিরের মতো অন্য কিছু দিয়ে আল্লাহর নৈকট্যশীলরা এত নৈকট্য লাভ করেন না। হজে জিকিরের মতো অন্য কিছুর জন্য এত ইবাদত প্রবর্তন করা হয়নি। প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ এবং জামারায় পাথর নিক্ষেপ ও পশু জবাই বিধিবদ্ধই করা হয়েছে শুধু আল্লাহ তায়ালার জিকির প্রতিষ্ঠার জন্য।
হাজীরা যখন হজের আনুষ্ঠানিকতা থেকে মুক্ত হন, তখন জিকিরকেই বানানো হয়েছে তাদের সমাপনী আমল। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘জাহেলি যুগে লোকেরা হজ মৌসুমে দাঁড়িয়ে একে একে বলত- আমার বাবা খাবার খাওয়াতেন, অপরের বোঝা বহন করতে, মুক্তিপণ আদায় করে দিতেন ইত্যাদি। তাদের মুখে বাপ-দাদার কীর্তি ছাড়া কোনো জিকির ছিল না।’ এর পরিপ্রেক্ষিতেই আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর নাজিল করেন- ‘আর অতঃপর যখন হজের যাবতীয় অনুষ্ঠান ক্রিয়াদি সমাপ্ত করে ফেলবে, তখন স্মরণ করবে আল্লাহকে, যেমন করে তোমরা স্মরণ করতে নিজেদের বাপ-দাদাদের; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে।’ (সূরা বাকারা : ২০০)।
মোমিন ভাইয়েরা, এভাবেই হজে ও হজের পরে জিকিরের মর্যাদা প্রতিভাত হয়। বস্তুত ইসলামে সব ধরনের ইবাদতই চালু করা হয়েছে আল্লাহর জিকির বাস্তবায়নের জন্য। আর জিকির সবচেয়ে সহজ ইবাদত। সবচেয়ে মহৎ ও মর্যাদাবান ইবাদত। বরং জিকির সবচেয়ে বড়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর জিকির সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।’ (সূরা আনকাবুত : ৪৫)।
আল্লাহ জিকিরের প্রতিদান বানিয়েছেন  নিজের কাছে জিকিরকারীদের জিকির তথা স্মরণ করা। তিনি বলেন, ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা বাকারা : ১৫২)।
যারা জিকিরের গুণে উদ্ভাসিত, আল্লাহ স্বয়ং তাদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহর জিকির করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সব পবিত্রতা তোমারই, আমাদের তুমি দোজখের শাস্তি থেকে বাঁচাও।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৯০-১৯১)।
আল্লাহর বান্দারা, জিকির হলো জান্নাতের তৃণলতা। জান্নাতিরা প্রতিটি নিঃশ্বাসে জিকির করবে। যেমন সুনান তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইসরার (মেরাজের) রাতে ইবরাহিম (আ.) এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ, তোমার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে আর তাদের বলবে যে- জান্নাতের মাটি সুগন্ধিযুক্ত, এর পানি সুমিষ্ট আর এটি সমতল এবং এর তৃণ হলো, সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।’
জিকিরই ছিল সাহাবিদের উদ্দেশে আল্লাহর রাসুলের অসিয়ত। সুনান তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে- একদা একজন সাহাবি আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! ইসলামের বিধিবিধান আমার জন্য বেশি হয়ে গেছে। অতএব আপনি আমাকে এমন একটা জিনিস শিখিয়ে দিন, যার ওপর আমি রীতিমতো আমল করতে পারি।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর জিকির দ্বারা তোমার জিহ্বা যেন সব সময় তরতাজা থাকে।’
একদা নবী করিম (সা.) মুয়াজ (রা.) এর হাত ধরে বললেন, হে মুয়াজ! আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে ভালোবাসি। হে মুয়াজ! আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমাকে অসিয়ত করছিÑ প্রত্যেক নামাজের পর এ দোয়াটি তুমি অবশ্যই বলবে, কখনও ছাড়বে না : আল্লাহুম্মা আয়িন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমার জিকির করার, তোমার কৃতজ্ঞতা আদায় করার এবং সুন্দরভাবে তোমার ইবাদত করার তৌফিক আমাকে দান কর। (বর্ণনায় আবু দাউদ)।
যে কেউ কোরআন ও সুন্নাহর বক্তব্যগুলোতে চোখ রাখবে, যাবতীয় কল্যাণকে আল্লাহর জিকিরের মধ্যেই দেখতে পাবে। জিকির দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা দূর করে। রিজিক, আনন্দ ও প্রফুল্লতা আনয়ন করে। জিকিরকারীকে ব্যক্তিত্ব ও উজ্জ্বলতার পোশাকে শোভিত করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তর শান্তি পায়।’ (সূরা রাদ : ২৮)।
সুনান তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব না যা তোমাদের আমলগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম আর তোমাদের প্রভুর কাছেও পবিত্রতম? যা তোমাদের মর্যাদা সর্বাধিক উন্নতকারী এবং তোমাদের জন্য (আল্লাহর রাস্তায়) সোনা-রুপা ব্যয়ের চেয়েও উত্তম। এমনকি যা তোমাদের শত্রুর মুখোমুখি হয়ে তাদের গর্দানে আঘাত করা এবং তারা তোমাদের গর্দানে আঘাত করার চেয়েও উত্তম?’ সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ‘অবশ্যই বলে দিন।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করলেন, ‘তা হলো আল্লাহর জিকির।’
কোরআন তেলাওয়াতের পর সর্বোত্তম জিকির হলোÑ সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার। এগুলোই চিরস্থায়ী নেককাজ।
যে ব্যক্তি একদিনে একশতবার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পড়বে তার সমূহ গোনাহ ক্ষমা করা হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়। আর ‘লা হাওয়া ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ’ হলো জান্নাতের অন্যতম ভা-ার। বোখারিতে রয়েছে, ‘দুটি বাক্য আল্লাহ তায়ালার কাছে অতি প্রিয়, উচ্চারণে খুব সহজ অথচ মিজানের পাল্লায় ভারী ও দয়াময় : সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।’
যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির থেকে উদাসীন ও  উন্নাসিক আল্লাহ রব্বুল আলামিনও তার থেকে  উদাসীন হন তথা মুখ ফিরিয়ে নেন। জিকির থেকে বান্দা যতটুকু দূরে যায় সে আল্লাহর থেকে ততটুকু দূরে সরে যায়। উদাসীন ব্যক্তি আর আল্লাহর মাঝের নির্জনতা ও পরিচয়হীনতা দূর করার একমাত্র মাধ্যম আল্লাহর জিকির।
আল্লাহ সত্যই বলেছেন, ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। আল্লাহ বলবেন, এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতগুলো এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব।’ (সূরা ত-হা : ১২৪-১২৬)।

>>>১৫ জিলহজ ১৪৪০ হিজরি মক্কার মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত।
>>ভাষান্তর আলী হাসান তৈয়ব

পর্নো ব্যবসা এত বিপুল হয়ে উঠলো কীভাবে: শেষ পর্ব by ফ্রাঙ্কি কুকনি

নব্বইয়ের দশক। ডিভিডি ও ইন্টারনেটের বদৌলতে  সম্পূর্ণ পাল্টে গেলো পর্নো বিকিকিনির ধরণ। আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ তখন পর্নো দেখার সুযোগ পেলো। এই ব্যবসা থেকে টাকা কামানোর উপায়ও পাল্টে গেলো। তখনও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত ছবি বা ভিডিও দেখতে গাঁটের পয়সা খরচ করতে রাজি ছিলো মানুষ। কিন্তু অনলাইন বিজ্ঞাপনের আবির্ভাব যখন হলো, তখন ছবি বা ভিডিও ওয়েবসাইট মালিকরা বুঝতে পারলেন, শুধু সাবস্ক্রিপশনই নয়, বিজ্ঞাপনও হতে পারে অর্থ আয়ের নতুন পথ। ‘দ্য প্লেয়ার্স বল: অ্যা জিনিয়াস, অ্যা কন ম্যান, অ্যান্ড দ্য সিক্রেট হিস্টোরি অব দ্য ইন্টারনেট’স রাইজ’ বইয়ের লেখক ডেভিড কুশনার লিখেছেন, ‘ওয়েবসাইট মালিকরা তখনও সাইটের সদস্যপদের সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করতেন। ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য মাসে মাসে একটা অর্থ কেটে নিতেন গ্রাহকদের কাছ থেকে।
কিন্তু দ্রুতই তার বিজ্ঞাপনে যেন গ্রাহকরা ক্লিক করেন, সেই কৌশল অবলম্বন শুরু করেন।’
২০০৭ সালে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটলো। দুটি পর্নোসাইটের ‘টিউব’সাইট এলো অনলাইনে, যেখানে বিনামূল্যেই পাওয়া যায় পর্নো ভিডিও। একই বছর বাজারে এলো আইফোন। আর ঠিক ওই বছরই ভিভিড এন্টারটেইনমেন্ট প্রকাশ করলো কিম কার্দাশিয়ানের সেক্স টেপ। আজকের সোস্যাল মিডিয়া তারকা কার্দাশিয়ানকে তখন খুব কম মানুষই চিনতো। এমনও নয় যে, তিনিই প্রথম সেলেব্রেটি যিনি সেক্স টেপ তৈরি করেছেন, আর যা ফাঁস হয়ে গেছে। কিন্তু ওই ভিডিও এত সহজে পাওয়া গেলো যে, এর দর্শকের পরিমাণ ছিল নজিরবিহীন। সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মাইক স্টাবাইল বলেন, ‘বহুদিন ধরেই, একটি পর্নোসাইটে কিম কার্দাশিয়ান ছিলেন সবচেয়ে বেশি খোঁজা শব্দ।’
এই সময়ের মধ্যেই অনলাইনে কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে যেকোনো ধরণের দৃশ্যের জন্য সার্চ দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে। এই যে পর্নো শিল্পে প্রযুক্তির এই প্রভাব, তা-ই ছিল বৃটিশ সাংবাদিক জন রনসনের অডিও তথ্যচিত্র ‘দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট’-এর প্রধান উপজীব্য। কিন্তু পর্নো শিল্পে প্রযুক্তির যতো প্রভাব বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ে পাইরেসি। গ্রাহকরা কোনো প্রিমিয়াম ওয়েবসাইট থেকে অর্থ পরিশোধ করে পর্নো ভিডিও কিনে তা আপলোড করে দিলো বিনামূল্যের টিউব সাইটগুলোতে। আর সেখানে হাজার হাজার মানুষ একই ভিডিও বিনামূল্যে দেখার সুযোগ পেলো। জন রনসন এই শিল্পের বহু পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা/অভিনেত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, যারা বর্ণনা করেছেন কীভাবে এই অনিয়ন্ত্রিত পাইরেসি এই শিল্পের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
নেইটগ্লাস হলেন টেইকডাউন পাইরেসি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার এই প্রতিষ্ঠান কপিরাইট নিশ্চিতে বিভিন্ন কোম্পানিকে সহায়তা করে থাকে। ২০১৫ সালে তিনি সিএনবিসি’কে বলেন, ‘টেইকডাউন পাইরেসি প্রতিবছর টিউবসাইটগুলোর কাছে প্রায় ২৫ হাজার কপিরাইট নোটিশ পাঠিয়ে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো কোম্পানির মুনাফা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু এটা বোঝা যায় যে, পর্নো প্রযোজনার হার কমছে। আগের চেয়ে কমসংখ্যক কোম্পানি এখানে কাজ করে। নতুন কনটেন্ট নির্মিত হচ্ছে কম। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজও কমে গেছে। ২০০৯ সালে আমি যখন বিভিন্ন স্টুডিওর হয়ে কাজ করতাম, তখন ওই বছরেই ডিভিডি বিক্রির পরিমাণ এক বছরের মধ্যে হঠাৎ করে ৫০ শতাংশ কমে যায়। আমার মনে হয়, তখন থেকেই এই নেতিবাচক ধারার শুরু।’
শিরাট্যারান্ট নিজের লেখা বই ‘দ্য পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি হোয়াট এভরিওয়ান নিডস টু নো’-এ অনুমান করে বলেছেন যে, পাইরেসির কারণে পর্নো ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক ক্ষতি হয় ২০০ কোটি ডলার। অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও আগের চেয়ে কম অর্থ আয় করেন। ২০১২ সালে, এই শিল্পে কাজ করা এজেন্ট মার্ক স্পিগলার বলেন, একুশ শতাব্দীর শুরুতে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী যত কামাতেন, এখন তার অর্ধেক পান। তার ভাষ্য, ‘এক দশক আগে গড়পড়তা একজন নারী পারফরমার বছরে ১ লাখ ডলার আয় করতেন। তিনি এখন ৫০ হাজার ডলারের মতো পান হয়তো।’
ভিডিও প্রযোজনা ও বিতরণের উপায়ই শুধু পরিবর্তিত হয়নি। পুরো বাজারই পাল্টে গেছে নাটকীয়ভাবে। কোপেনহেগেন-এর সেই ট্রেড শো ‘সেক্স ৬৯’ সম্পর্কে অবজারভার পত্রিকার সাংবাদিক লিখেন, ‘এখানে যারা ঘুরতে এসেছেন এদের ৯০ শতাংশই পুরুষ। নারীরা খুব কম।’ কিন্তু একটি পর্নোসাইটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাইট ভিজিটরদের ৩০ শতাংশই এখন নারী।
এর বাইরেও স্বাধীন পর্নো স্টুডিও হয়েছে। এছাড়া সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করায় পর্নো শিল্পীরাও কিছুটা স্বাধীনতা পেয়েছে। ফলে এই শিল্প নিয়ে তারা প্রায়ই প্রকাশ্যে কথা বলছে। অনেকে আবার যৌন শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেছে। অনেকে আবার শ্রম অধিকার বা যৌন হয়রানি নিয়েও সরব হয়েছে।
এখন বার্লিন, ভিয়েনা আর লন্ডনে পর্নো চলচ্চিত্র উৎসব হয়। ড্যানস্যাভেজ-এর হাম্প! ফেস্টিভাল-এর কথা না-ই বা বললাম। আমরা যদি এই গত ৫০ বছরের দিকে তাকাই, এটা মনে করা খুব সহজ যে আমরা অনেক দূর এসেছি। কিন্তু এ সম্পর্কিত আইন, শিল্প ও দর্শক পরিবর্তিত হলেও, কিছু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও রয়ে গেছে যা সেই ১৯৬৯ সালের মতোই।
যেমন ‘সেন্সরশিপ ইন ডেনমার্ক’ তথ্যচিত্রকে ‘অনবদ্য’ আখ্যা দেওয়া এক চলচ্চিত্র সমালোচকের রিভিউর প্রতিক্রিয়ায় তখনই একটি নিবন্ধ লিখেন নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ভিনসেন্ট ক্যানবি। তিনি লিখেন, ‘এটি হয়তো অনেককেই মুগ্ধ করবে, কিন্তু তারপরই এটি অনেক কিছুকেই হুমকির মুখে ফেলবে, যেটা নিয়ে কথা বলা অত ফ্যাশনেবল নয়, বরং কঠিন। যেমন: বিশুদ্ধবাদী বিবেক ও আমাদের যৌনতা সংক্রান্ত ট্যাবু, যেটি আমরা স্বীকার করি আর না করি, আমাদের মধ্যে বিদ্যমান। আর এর সঙ্গে মনের সম্পর্ক নেই, আছে আবেগের সম্পর্ক।’
এখন যেকোনো বিতর্কিত যৌন কনটেন্ট-এর বিষয়ে উপরের কথাগুলো প্রয়োগ করে দেখুন। আজ অবদি সেই কথাগুলো কারও কারও কথার সঙ্গে মিলে যায়। এই তো এই সপ্তাহেই, কয়েক মাসের বিতর্ক, যৌন শিক্ষাবিদ ও বাকস্বাধীনতা অ্যাক্টিভিস্টদের প্রতিবাদের মুখে যুক্তরাজ্য সরকার তাদের বিতর্কিত বয়স যাচাইকরণ বিল প্রত্যাহার করেছে। এই পর্নো শিল্পের আকার হয়তো অনেক ব্যাপক, এর চাহিদা হয়তো অনেক বেশি, কিন্তু এই পর্নো নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা এখনও হিমশিম খাই।
কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। সেটা হলো, পর্নো টিকে থাকবেই! এই শিল্প নিয়ে লেখা প্রত্যেকটি ঐতিহাসিক বইপুস্তক এই উপসংহারই টেনেছে।
(ফ্রাঙ্কি কুকনি একজন লেখিকা ও সাংবাদিক। তার এই নিবন্ধ মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া হয়েছে)