Monday, August 14, 2017

প্রকাশ্যে আন্দোলন গোপনে সমঝোতার চেষ্টা?

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রকাশ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আন্দোলনের পাশাপাশি বিচার বিভাগের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টাও রয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতার এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বাসভবনে যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে গত সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরুসহ দলীয় সমর্থক সিনিয়র আইনজীবীরা। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু রোববার যুগান্তরকে বলেন, আমরা কোনো অবস্থায় বিচার বিভাগের সঙ্গে বৈরিতা ও সাংঘর্ষিক অবস্থায় যেতে চাচ্ছি না। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। কারণ বিচার বিভাগ আমাদের শত্রু নয়। আলোচনার পাশাপাশি কি তাহলে আন্দোলনও চলবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, একতরফা মন্তব্যে কেউ বিক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিক্রিয়া তো দেখাতেই পারেন। তবে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, ‘আদালতের রায় নিয়ে ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা করা, বিচারককে অপমান করা, অপমানসূচক মন্তব্য করা, রাজনৈতিক রেষারেষি, পাল্টাপাল্টি অবস্থান- দেশের আইনের শাসন, আইনের প্রতি সম্মান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা জাতির জন্য অমঙ্গলজনক।’ আওয়ামী লীগ আন্দোলনের পাশাপাশি গোপনে সমঝোতার চেষ্টা করছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ‘তারা রায়ের বিষয়ে দ্বিমত করতে পারে, সংক্ষুব্ধ হতেই পারে। প্রকাশ করার পথ আছে। কিন্তু আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এদিকে অতীতে বিচারকদের যে সংস্কৃতি দেখেছি- তারা কোনো অনুষ্ঠানে যেতেন না, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা দিতেন না। কিন্তু যেটা ঘটেছে সেটা অস্বাভাবিক। সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে নৈশভোজ করেছেন। এটা আমি কাক্সিক্ষত মনে করি না।’ উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদ থেকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে ফিরে যাওয়ায় সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষুব্ধ। তার চেয়েও বেশি ক্ষোভ তাদের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের পর্যবেক্ষণে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে খাটো করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহল। ৭ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রায়ের পর্যবেক্ষণের ‘আপত্তিকর’ বক্তব্যগুলোর বিষয়ে সারা দেশে জনমত তৈরির নির্দেশ দেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের। এরপরই সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু বিষয়ে নিজেদের দ্বিমত ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরে তাদের পক্ষে জনমত শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। এই ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দল এখন সারা দেশে প্রতিবাদমুখর। শনিবার বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) চেয়ে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার ঢাকায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণসহ সারা দেশের আইনজীবী সমিতিগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৬ ও ১৭ আগস্ট সারা দেশে একই ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের। ঢাকায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে প্রতিবাদ সমাবেশে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সমাবেশে সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, একটি অপশক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। যখনই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, আইনজীবী সমাজ তখনই জেগে উঠেছে, রুখে দাঁড়িয়েছে। আজ সেই ষড়যন্ত্র দানা বেঁধেছে, তাই আইনজীবী সমাজের এই প্রতিবাদ সমাবেশ। বিএনপিও বসে নেই। ২০ দলীয় জোটপন্থী আইনজীবীরা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় আছেন। এছাড়া রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ অনভিপ্রেত ও রাজনৈতিক। সেই পর্যবেক্ষণ আজকে বিএনপিকে উল্লসিত করেছে। সভা-সমাবেশ ও সেমিনারে প্রতিবাদের পাশাপাশি বিচার বিভাগের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার বিকালে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানীর শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতির বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমি তার সঙ্গে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের যে পর্যবেক্ষণ বা অবজারভেশন সেগুলো নিয়ে আমাদের পার্টির বক্তব্য তাকে জানিয়েছি। তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আরও আলোচনা হবে। আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। শেষ হওয়ার আগে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সময়মতো সব কথা আপনারাও জানবেন, আমিও বলব।’ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সাক্ষাতের ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় পরিবর্তনের জন্য সরকার নানাভাবে বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কেননা এ রায়ের পর প্রধান বিচারপতিকে এত অশালীন ভাষায় আক্রমণ করার পর ওবায়দুল কাদের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে নৈশভোজ করেছেন। এতে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ এ রায় পরিবর্তনের জন্য প্রধান বিচারপতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপিরা যে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছেন তার নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম রোববার রাতে যুগান্তরকে বলেন, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব বন্ধ হওয়া দরকার। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ (সংসদ) ও নির্বাহী বিভাগ সংবিধানের সৃষ্ট। সুতরাং কোনো একটা আরেকটার ওপর আধিপত্য দাবি করতে পারে না। সবাইকে বিতর্ক বন্ধ করতে হবে। এদিকে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কি? এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা এখনও রায়ের সত্যায়িত কপি পাইনি। আশা করছি এ সপ্তাহে পেয়ে যাব। কপি পাওয়ার পর আমরা দেখব আমাদের যুক্তিতর্ক সব ঠিকঠাক এসেছে কিনা। দেখে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’ রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রায়ের সত্যায়িত কপি পাওয়ার পর এক মাসের মধ্যে আইনে রিভিউ করার সুযোগ রয়েছে। উভয়পক্ষ রিভিউ করতে পারবে।’ রায়ের মধ্যে যেসব বিষয় নিয়ে সরকারি দলের আপত্তি এবং তা প্রত্যাহারের কথা বলা হচ্ছে- সে বিষয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘রিভিউ ছাড়া তাদের আর কোনো সুযোগ নেই। রায় নিয়ে তাদের যেসব আপত্তি তা ওই রিভিউতেই বলতে হবে।’ এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা রিভিউ করব এবং রিভিউর মধ্যেই আমাদের আপত্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হবে।’

ঈদে ট্রেনের দেড়শ’অতিরিক্ত বগি

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে আগামী ১৯ আগস্ট থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ১৯ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ৫ দিন অগ্রিম টিকিট বিক্রির সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ‘ঈদ স্পেশাল ট্রেন’সহ অতিরিক্ত বগি সংযুক্তের জন্য চট্টগ্রাম পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় বগি মেরামতের কাজ চলছে। এবারের ঈদে প্রায় ১৫০টি অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনে ৭ জোড়া অর্থাৎ ১৪টি যাত্রীবাহী ট্রেন ঈদের ৫ দিন আগে এবং ঈদের পরের ৫ দিন চলাচল করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী ১৯ আগস্ট থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ১৭ আগস্ট অগ্রিম টিকিট বিক্রয়সহ ঈদ উপলক্ষে নেয়া নিরাপত্তা বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করতে রেলভবনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় ও নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। রেলওয়ে অপারেশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯ আগস্ট ২৮ আগস্টের অগ্রিম টিকিট, ২০ আগস্ট ২৯ আগস্টের, ২১ আগস্ট ৩০ আগস্টের, ২২ আগস্ট ৩১ আগস্টের এবং ২৩ আগস্ট ১ অক্টোবরের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম বিক্রয় করা টিকিট ফেরত নেয়া হবে না। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ ফেরত টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঈদের পর দিন থেকে ৫ দিনব্যাপী ঈদ ফেরত টিকিট বিক্রি করা হবে।

ভয়াবহ বন্যার কবলে উত্তরাঞ্চল

ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহসহ দেশের আরও কয়েটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। রোববার বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে পাঁচ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বানের পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন আরও ৭ জন। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, আত্রাই, সুরমাসহ ১৭ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ভেসে গেছে অনেকের ঘরবাড়ি-গবাদি পশু। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। এমনকি কয়েকটি জেলায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। দিনাজপুরে শহর রক্ষাবাঁধ ভেঙে পড়ায় তা মেরামতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। লালমনিরহাটে রেলপথের নিচের অংশ ভেঙে শহরে পানি প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার বাংলাদেশে বন্যা প্রলম্বিত হবে। বর্তমানে ভারতের বিহার ও আসামে বন্যা চলছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বন্যার ৮০ ভাগ পানি বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়। ওই পানির সঙ্গে বাংলাদেশের ভেতরের অতিবৃষ্টির পানি যোগ হয়ে বড় বন্যার আশঙ্কা আছে। এমনকি এটি ১৯৮৮ বা ১৯৯৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইমেইলে বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে জানান, ‘তিন নদী অববাহিকাই একসঙ্গে সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। এটা হলে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের মতো বড় বন্যা হওয়ার আশঙ্কা আছে। বর্তমানে আসামে ব্রহ্মপুত্রের ওপরের অংশে বন্যা চলছে। সেই পানি বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে প্রবাহিত হবে। বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।’ এদিকে বন্যার কারণে দেশের উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট জেলার চরাঞ্চল, নিন্মাঞ্চল পানির নিচে চলে গেছে। ওইসব এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ হয়ে গেছে লেখাপড়া। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক নুরুল আমিন জানান, রোববার পর্যন্ত তারা বন্যায় আক্রান্ত ১ হাজার ৯৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেয়েছেন। পানি বাড়তে থাকায় বন্যায় আক্রান্ত স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক চন্দ্র শেখর জানান, এখন পর্যন্ত বন্যায় আক্রান্ত ৮ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- কুড়িগ্রাম, চিলমারী, নাগেশ্বরী ও রৌমারী : বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু ও ২ জন পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সাপের কামড়ে, অন্যরা পানিতে ডুবে মারা গেছেন। নিহতরা হলেন- কুড়িগ্রাম সদরের খামার হলোখানা এলাকার অলিউর রহমানের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম, পৌরসভার ভেলাকোপা এলাকার দুলু মিয়ার ছেলে বাবু (দেড় বছর), ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের প্রাণকৃঞ্চ গ্রামের খাতক মামুদের ছেলে লুৎফর রহমান ও গোড়কমণ্ডল বস্তি গ্রামের মৃত কাচু মামুদের ছেলে হযরত আলী। এছাড়া কালুয়ারচর ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন রিফাত ও লোকমানের স্ত্রী। এদিকে ৯ উপজেলার ৫৭ ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি। বন্যার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৬০৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে ও প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘœ ঘটছে। চিলমারীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। হুমকির মুখে রয়েছে পাউবো বাঁধ। উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, ৫২টি গ্রামের প্রায় ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির সদ্য রোপণ করা আমন ধান, বীজতলা ও শাকসবজি। রৌমারীতে ৬ ইউনিয়নে ৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫০ হাজার মানুষ। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ৫৫টি বাড়ি। ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন খেটে খাওয়া মানুষ। নাগেশ্বরীতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি উঠেছে উপজেলা সদরের সড়কগুলোয়ও। রাস্তর ওপর দিয়ে তীব্র সে াতে পানি ঢুকছে শহরে। কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের দুই জায়গায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে বাস চলাচল। ১২ ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ডুবে গেছে সদ্য লাগানো ৯ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত।
লালমনিরহাট : কুলাঘাট ইউনিয়নে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজতে যাওয়ার পথে কলার ভেলা উল্টে একজন নিহত হয়েছেন। এতে একই পরিবারের তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানা যায়নি। পানির তোড়ে রেলপথসহ তিনটি স্থানের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে শহরে। লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেলপথের (নিচের অংশ) প্রায় ১০ ফিট জায়গা ভেঙে যায়। ফলে রোববার সকাল থেকে ওই রুটে রেল যোগোযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের প্রায় দুই ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি। এতে যান চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ধরলা নদীর মোগলহাটের বুমকা ও কুলাঘাটের দক্ষিণ শিবের কুটি বাঁধ ভেঙে শহরে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। নজিরবিহীন এ বন্যায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলার ৫ উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি। ঝুঁকিতে রয়েছে আদিতমারী উপজেলা সলেডি স্পার-২ বাঁধটিও। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার্তদের ত্রাণসহায়তা দিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ করলেও ভারি বর্ষণ আর পানির কারণে তা বিঘিœত হচ্ছে। হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজে খোলা হয়েছে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র। সেখানে রোববার বিকাল পর্যন্ত ১১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান।
রংপুর, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ : গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে ৫০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে আমনক্ষেতসহ বিভিন্ন সবজিক্ষেত। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের মাছ। পানিবন্দি পরিবারগুলো উঁচু স্থানসহ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবিক জীবনযাপন করছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে মানবিক জীবনযাপন করছে পানিবন্দি পরিবারগুলো। শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কাউনিয়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গেছে আমন ধান ও মাছের খামার। তারাগঞ্জ উপজেলায় যমুনেশ্বরী ও চিকলী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তীর নিন্মাঞ্চল গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৮ হাজার একর রোপা আমান ও আউশ ধানের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ত্রাণসহায়তা পাননি বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা। পীরগঞ্জে বন্যায় আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।
দিনাজপুর : কাহারোলে বন্যার পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম থেকে কলার ভেলায় চড়ে ৩ সন্তান ও প্রতিবেশীর ১ সন্তানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামে আসছিলেন আবদুর রহমানের স্ত্রী সোনাভান বেগম। এ সময় কলার ভেলা উল্টে একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হল- বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামের আবদুর রহমানের মেয়ে চুমকি (১৩), শহিদ আলী (১০), সিয়াদ (৭) ও প্রতিবেশী সাঈদ হোসেনের ছেলে সিহাদ। এদিকে জেলার সবক’টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভেঙে গেছে দিনাজপুর শহর রক্ষাবাঁধসহ বেশ কয়েকটি নদীর বাঁধ। বাঁধ রক্ষায় ও বানভাসি মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। বাড়িঘর ডুবে গিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন জেলার ৫ লাখ মানুষ। এরই মধ্যে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ২ হাজার ৯৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই বানভাসি মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। শহর রক্ষাবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তা সংস্কারে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বিজিবি বাঁধটি সংস্কারে ব্যর্থ হওয়ায় দুপুরে বাঁধ সংস্কার এবং বানভাসি মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। রোববার দুপুর থেকে মেজর তৌহিদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ৫২ সদস্য বাঁধ সংস্কার ও বানভাসি মানুষকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন। নীলফামারী, জলঢাকা ও তিস্তা ব্যারাজ : সৈয়দপুর শহর রক্ষাবাঁধের ১০০ মিটার ভেঙে গিয়ে শহরে পানি ঢুকছে। খড়খড়িয়া নদীর বাম তীরে পশ্চিম পাটোয়ারীপাড়া ও বসুনিয়াপাড়ায় দুটি স্থানে শহর রক্ষাবাঁধ বিলীন হয়েছে। রোববার ১৩ আগস্ট সকালে বাঁধ বিলীন হওয়ায় সৈয়দপুর সেনানিবাস শহরের কুন্দল, পাটোয়ারীপাড়া, নয়াবাজার, সুড়কিমিল, কাজীপাড়া, হাতিখানা, নতুন বাবুপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, বাঁশবাড়ী মহলায় হু-হু করে পানি ঢুকে পড়ে। জলঢাকায় মৎস্য খামার প্লাবিত হয়ে খামারিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে তিস্তা নদীর আগাম উজানের ঢলের খবরে শনিবার রাত ১০টায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে তিস্তা অববাহিকায়।
বগুড়া : রোববার সকালে কালিতলা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ৩০ সহস াধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ৫১০ হেক্টর জমি ডুবে গেছে। এতে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্যান্য স্কুলে পানি ঢুকে পড়েছে। নেত্রকোনা, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, পূর্বধলা ও দুর্গাপুর : কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের সুমেশ্বরী নদীতে বানের জলে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মো. আ. আজিজ নামে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হয়েছেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
রাজশাহী : তানোরে খাড়ির পানিতে ডুবে লিটন মূর্মূ নামে একজন আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিকে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজশাহী নগরীর নিন্মাঞ্চলের মানুষ।
ধোবাউড়া ও গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে শতাধিক গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৮টি উচ্চবিদ্যালয় পানির নিচে থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গামারীতলা ইউনিয়নে এক শিশুর লাশ ভেসে আসার খবর পাওয়া যায়। তবে শিশুটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঠাকুরগাঁও ও পীরগঞ্জ : রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় দুই দিন ধরে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটে। জেলার ১১টি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি অবস্থায় দিন যাপন করছেন কয়েক হাজার মানুষ।
জামালপুর : যমুনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে ইউনিয়নগুলোর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আরও কয়েকটি জেলায় বন্যা : এ ছাড়া সুনামগঞ্জ এবং এ জেলার জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজারে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন নাজমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। প্লাবিত হয়েছে জয়পুরহাটের নিন্মাঞ্চল। সিলেট ও জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বরিশালে বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। নওগাঁর মান্দায় বাঁধ ভেঙে ২০০ পরিবার পানিবন্দি। এছাড়া সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও রাঙ্গামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ায় গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রুমা বড়ুয়া(২৯) নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বেতাগী ইউপি চেয়ারম্যান নুর কুতুবুল আলম বলেন, নিহত গৃহবধূর স্বামী রিন্টু বড়ুয়া কক্সবাজারের রামু উপজেলায় সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জের ধরে রাতে স্বামী তার স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করতে পারেন অভিযোগ করেন তিনি। তবে অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু বড়ুয়া এ কথা অস্বীকার করে, উল্টো অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন। রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ইমতিয়াজ মো. আহছানুল কাদের ভুঞা বলেন, নিহতের স্বামীকে আটক নয় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ভেলাডুবি, ২ লাশ উদ্ধার

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ধরলার তীরে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ভেলাডুবির ঘটনায় আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হল। সোমবার সকালে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের পূর্ব বডুয়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন পূর্ব বডুয়া গ্রামের  আব্দুল হামিদ ওরফে সামাদের স্ত্রী আছমা বেগম নাসিমা ও একই গ্রামের মোজাম উদ্দিন রবিউলের ছেলে আলিফ। নিখোঁজ রয়েছেন মোজাম উদ্দিন রবিউল। এর আগে রোববার একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো মোজাম উদ্দিন রবিউল নামে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রীস আলী জানান, রোববার বিকালে ওই গ্রামের মোজাম উদ্দিন রবিউল ও হামিদের পরিবারের চারজন ভেলায় করে আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। এ সময় ভেলাটি ডুবে গেলে সবাই নিখোঁজ হন। অনেক চেষ্টায় রোববার সন্ধ্যার দিকে এদের মধ্যে মৃত অবস্থায় শিশু নাদিমকে খুঁজে পায় স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েও তাদের সন্ধান করতে পারেনি। পরে সোমবার সকালে নিখোঁজদের মধ্যে শিশু আলিফ ও নাসিমার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

সেফহোমে কান্নাকাটি করছেন বগুড়ার ধর্ষিতা কিশোরী

রাজশাহীর সেফহোমে হাঁপিয়ে উঠেছেন বগুড়ার আলোচিত ধর্ষিতা কিশোরী ছাত্রী। বাবা-মাবিহীন এ জীবনযাপনকে তিনি মেনে নিতে পারছেন না। একাকী বসবাসে অনভ্যস্ত কিশোরী প্রায়ই কান্নাকাটি করছেন। বলছেন, তাকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক। তবে রাজশাহীর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে কিশোরীর নির্যাতিত মা ভালো আছেন। সেখানে তার থাকা-খাওয়ায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সম্প্রতি তিনি কিশোরী মেয়েকে দেখতে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটার সেফহোমে যান। মা ও ভাবিকে দেখে কিশোরী ছাত্রী কান্নাকাটি করতে থাকেন। কিশোরীর মায়ের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের ফোনালাপে এর সত্যতা মিলেছে। রাজশাহীর শাহমখদুম থানা চত্বরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে তিনি যুগান্তরকে বলেন, মেয়ে আমাদের কাছে ফিরতে সবসময় কান্নাকাটি করছে। এর আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আদালতে যাওয়ার আগে কিশোরী ছাত্রী সেফহোমে যাওয়ার ব্যাপারে তার আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। বিচারক স্ত্রী ও কন্যার নিরাপত্তা বিধানের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি নিজের অপারগতা প্রকাশ করলে মা-মেয়েকে সরকারি হেফাজতে রাখার আদেশ দেন। পরে মা-মেয়েকে রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হয়। জানতে পেরে কিশোরীর বাবা বগুড়া শিশু আদালতের স্পেশাল পিপি মো. আমানউল্লাহর কাছে ছুটে যান। এবং মা-মেয়েকে নিজের হেফাজতে নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। পিপি নিরাপত্তার দিকটি আরও ভালোভাবে ভেবে দেখার কথা বললে তিনি ফিরে যান। জানতে চাইলে পিপি আমানউল্লাহ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মা-মেয়ের ওখানে থাকাই ভালো- এমন পরামর্শ দেয়ার পর কিশোরীর বাবা ফিরে যান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, নির্যাতিত ছাত্রী ও মায়ের অভিভাবকরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের রাজশাহী থেকে বগুড়ায় আনার কথা বলেছেন। এদিকে বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকায় যে ভাড়া বাসায় মা-মেয়ে থাকতেন সেটি সেভাবেই পড়ে আছে। বাসাটি তালা দেয়া। বাড়ির কেয়ারটেকার সাইফুল ইসলাম জানান, ভাড়া বাবদ ২ হাজার টাকা দিয়ে গেছে। দু’দিন আগে ছাত্রীর নানি এসে ঘরের আসবাবপত্র গুছিয়ে রেখে গেছেন।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর বন্ধ থাকবে ২ দিন

জন্মাষ্টমী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার ও আগামীকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সব ধরণের আমদানি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন জানান, জন্মষ্টমী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার ও  মঙ্গলবার দুইদিন বন্দরের সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বুধবার থেকে যথারীতি স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য ইমিগ্রেশন খোলা থাকবে।

লন্ডনের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কিছু নেপথ্য কথা

লন্ডনে থাকি। কিন্তু আজকাল বড় একটা ঘরের বাইরে যাই না। বার্ধক্য এবং জরা দুই-ই জড়িয়ে ধরেছে। তবু উইক এন্ডে (শনি ও রবিবার) মাঝে মাঝে বাজার-সওদা করতে ইস্ট লন্ডনে যাই। গেলে অধুনা একটা দৃশ্য চোখে পড়ে। তেতাল্লিশ বছর লন্ডনে আছি। আগে এই দৃশ্যটা চোখে পড়েনি। দৃশ্যটা হল ইস্ট লন্ডনের সিডনি স্ট্রিটে একটি বাড়ির সামনে একটি আবক্ষ মূর্তি। তাতে বাঙালি এবং বিদেশি মানুষের ভিড়। বিদেশিদের হাতেও ক্যামেরা এবং ফুল। আবক্ষ মূর্তিটি ফুলের মালায় আচ্ছাদিত। স্ট্যাচুটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এই স্ট্যাচুটি স্থাপিত হয়েছে এখনও বছর ঘোরেনি। এরই মধ্যে প্রতি শনি ও রবিবার এই স্ট্যাচুটি দেখতে এসে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রচুর ভিড় জমে। কোনো কোনো দিন বিদেশি দর্শকরাই বেশি ভিড় জমায়। লন্ডন ট্যুরিস্ট গাইডেও এই স্ট্যাচুকে লন্ডনের দর্শনীয় ভাস্কর্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে শহরের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এই স্ট্যাচু দেখার জন্য প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে। এই স্ট্যাচুর প্রতিষ্ঠাতা আফসার খান সাদেক একজন তরুণ ব্যবসায়ী এবং আওয়ামী লীগ যুক্তরাজ্য শাখার একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী। বৃহত্তর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারাবাই গ্রামের মানুষ। বয়স সাতচল্লিশ। ১৯৯০ সালে লন্ডনে আসেন। তার একেবারে বাড়ির সামনে দিন দিন ভিড় বাড়তে থাকায় সাদেকের পরিবার-পরিজন বিব্রত। এই হারে ভিড় বাড়লে তাদের পক্ষে বাড়িতে থাকা কষ্টকর হবে।
একেবারে বাড়ির দরজায় ভিড় বাড়তে থাকায় তারা আনন্দিত ও উৎসাহী হলেও ভবিষ্যতে এই স্ট্যাচু দর্শনের ভিড় অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে এই বাড়ি ছেড়ে যেতে হয় কিনা তা ভেবে বিড়ম্বিত। সাদেকের সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘকালের। বিয়ানীবাজারের চারাবাই গ্রামের শিক্ষিত এবং সম্ভ্রান্ত খান পরিবারের সন্তান। নিজেও শিক্ষিত এবং লন্ডনে এসেছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। তারপর লন্ডনেই থেকে গেছেন। দেশে থাকতে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। লন্ডনে এসেও লন্ডন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। এখন লন্ডন আওয়ামী লীগের একজন নেতা। ১৯৯৪ সাল থেকে আফসার খান সাদেকের ইচ্ছা লন্ডনে হয় পার্লামেন্ট স্কোয়ারে অথবা মাদামতুসোতে অন্যান্য বিশ্ব নেতার পাশে বঙ্গবন্ধুর একটি লাইফ-সাইজ স্ট্যাচু স্থাপিত হোক। সারা বিশ্বের বিখ্যাত নেতানেত্রীদের স্ট্যাচু মাদামতুসোতে স্থাপিত হতে পারলে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু স্থাপিত হবে না কেন? এখন তিনিও তো একজন বিশ্বনেতা। ব্রিটিশ রাজের শ্বেতাঙ্গ প্রতিনিধিরা দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে ২৭ বছর কারাগারে রাখার পর এখন লন্ডনে তার একাধিক মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে প্রায় পূজা করছে; তাহলে অধিকতর বর্ণাঢ্য চরিত্রের সংগ্রামী নেতা বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমানের স্ট্যাচু কেন লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে মাদামতুসোতে প্রতিষ্ঠা পাবে না? সেকথা বলার আগে একটু পেছনের কথা বলি। আমি যখন প্রথম লন্ডনে আসি, তখন লন্ডন আমার কাছে এক স্বপ্নের শহর। ব্রিটিশ শাসকদের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রকে ঘৃণা করি; কিন্তু তাদের ইতিহাস, সাহিত্য, শিল্পকলার দিকে গভীর অনুরাগ। পরিণত বয়সে লন্ডনে এসেছি; কিন্তু অপরিণত বয়সে, লন্ডনে আসার আগেই শহরটির রাস্তাঘাটের নাম, ঐতিহাসিক ব্যক্তি এবং তাদের বাড়িঘরের খবর আমার নখদর্পণে ছিল।
শেলী ও কীটসের বাড়ি, হাইগেটে কার্ল মার্কসের কবর, হাইড পার্কে চার্চিলের বাসভবন, পার্লামেন্ট স্কোয়ার এবং মাদামতুসোতে বিশ্বখ্যাত নারী-পুরুষের স্ট্যাচু দেখে নিজেকে ধন্য মনে করেছি। ছুটে গেছি সোহতে কার্ল মার্কস যে বাড়িতে ছিলেন। গেছি রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের বাসভবনে। কৈশোরে যে শার্লক হোমসের গোয়েন্দা কাহিনী পাগলের মতো পড়তাম, তার স্রষ্টা স্যার আর্থার কেনান ডায়লের বেকার স্ট্রিটের বাড়িতে (এখন মিউজিয়াম) কয়েক দফা ঢুকেছি। বেকার স্ট্রিটের কাছেই মাদামতুসোতে গান্ধী, নেহেরু, জোমো কেনিয়াতা প্রমুখ এশিয়ান ও আফ্রিকান নেতাদের স্ট্যাচু দেখে আমার মনে হয়েছিল, এই মাদামতুসোতে বঙ্গবন্ধুর একটি লাইফ-সাইজ স্ট্যাচু নেই কেন? তিনি তখন জীবিত এবং বিশ্বনন্দিত। একাধিক জীবিত নেতার স্ট্যাচু তখন মাদামতুসোতে ছিল এবং এখনও আছে। আমি লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন হাইকমিশনার সৈয়দ আবদুল সুলতানকে আমার মনের কথাটি জানিয়েছিলাম। তিনি বললেন, বঙ্গবন্ধু এ ব্যাপারে আগ্রহী নন। তাছাড়া এই স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠায় বড় রকমের খরচপত্রও আছে। বঙ্গবন্ধু নিজের জন্য এই খরচপত্রে আগ্রহী নন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর যখন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন প্রয়াত গউস খান, তখন আবার মাদামতুসোতে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। নানা কারণে উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। ২০১২ সালে অধ্যাপক সাইদুর রহমান যখন ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার, তখন লন্ডনের ক্যামডেন এলাকায় ব্রান্সউইক পার্কে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন; কিন্তু বিএনপি ও জামায়াতপন্থীদের চক্রান্তে সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। সাদেক এসব কথা জেনেই নিজের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। আমাকে তিনি যখন সিদ্ধান্তটি জানান, তখন তাকে বলেছি, এই স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠা বিরাট খরচের ব্যাপার। তুমি ব্যক্তিগতভাবে এত খরচের ধাক্কা সামলাতে পারবে? সাদেক বলেছেন, ‘একটি আবক্ষ স্ট্যাচু বানানোর খরচ সামলাতে পারব। আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে, যারা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী।’ বলেছি, তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠা করবে কোথায়? সাদেক বলেছেন, জায়গা না পেলে আমার বাড়ির সামনেই প্রতিষ্ঠা করব। লন্ডনে দেশ-বিদেশের এত নেতার স্ট্যাচু আছে, বঙ্গবন্ধুর নেই, এই দুঃখ থেকে আফসার খান সাদেক এই স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠার প্রজেক্ট হাতে নেন। তার বাড়িটি টাওয়ার হ্যামলেটসে অবস্থিত। সিডনি স্ট্রিটের ৫ নম্বর এলরিচ কটেজ। তিনি এই স্ট্যাচু তার বাড়ির সামনে নিজস্ব জমিতে প্রতিষ্ঠার জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে ২০০৯ সালে আবেদন জানান। কাউন্সিল জানায়, সাদেক নিজস্ব জমিতে স্ট্যাচু স্থাপন করলে তাদের পারমিশন লাগবে না। কিন্তু তার বন্ধু কয়েকজন কাউন্সিলর বলেন, এত বড় প্রজেক্ট, এজন্য কাউন্সিলের কাছ থেকে ফুল প্লানিং পারমিশন নিতে হবে। সাদেক ২০১৪ সালে ফুল পারমিশনের জন্য আবেদন জানান। সেজন্য প্রয়োজনীয় অর্থও জমা দেন। তার এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কাউন্সিল পূর্ণ তদন্ত চালায়। জায়গাটি আবাসিক এলাকা বিধায় বাসিন্দাদের এই ব্যাপারে কোনো আপত্তি আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হয়। এখানে বিএনপি ও জামায়াতিদের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা সানন্দে এই স্ট্যাচু স্থাপনে তাদের আপত্তি নেই বলে জানায়। সাদেকের প্রজেক্ট কাউন্সিলের অনুমোদন পায়। সিডনি স্ট্রিটে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু স্থাপনের পারমিশন পাওয়ার পর সাদেক বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার সঙ্গে দেখা করেন। রেহানা বলেন, ‘আমাদের হাইকমিশন যা পারেনি, তুমি তা করে ফেলেছ। তোমাকে অভিনন্দন।’
ওই বছর ২০১৪ সালেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু প্রতিষ্ঠায় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অনুমোদনপত্র দেখার পর সাদেককে তার প্রজেক্ট বাস্তবায়নের অনুমতি দেন। সাদেক কলকাতার এক ভাস্কর্যকে স্ট্যাচুটি নির্মাণের ভার দেন। এই স্ট্যাচু নির্মাণে সময় লেগেছে দু’বছর। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে এই স্ট্যাচু লন্ডনে এসে পৌঁছায়। সাদেকের বাড়ির সামনের জমিতে শুরু হয় স্ট্যাচুটি ইনস্টলেশনের কাজ। ১৩ জুন তা শেষ হয়। ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নির্দেশে স্ট্যাচুর আবরণ উন্মোচন করেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনারসহ ব্রিটেনের বহু বিশিষ্ট বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ নাগরিক। এই অনুষ্ঠানে একজন ব্রিটিশ এমপি বলেছেন, ‘মনে হতে পারে এটি একটি প্রাণহীন স্ট্যাচু; কিন্তু এই স্ট্যাচু যার অবয়ব ধারণ করেছে, তিনি ছিলেন শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের সংগ্রাম ও মুক্তির প্রতীক। তিনি ‘ছিলেন’ বলছি কেন, তিনি এখনও আছেন। নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষকে মুক্তির পথনির্দেশনা করছেন। মনে হতে পারে এটি একটি পাষাণমূর্তি। এই মূর্তির আড়ালেই রয়েছেন সেই চিরজাগ্রত মানুষটি। ব্রিটেনের মাটিতে তার অবস্থান আমাদের জন্য পরম গৌরবের (ইংরেজি বক্তৃতার অনুবাদ আমার)। সাদেকের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচুতে ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানাতে বহু মানুষের ভিড়ে আমিও গেছি। অবনত শিরে মনে মনে বলেছি : ‘মুক্তিদাতা, তোমারও দয়া, তোমারও ক্ষমা রবে চির পাথেয় চির যাত্রার।’ আফসার খান সাদেককে বলেছি, একদিন তোমার নামও লেখা হবে ব্রিটেনে বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু স্থাপনের প্রথম অগ্রদূত হিসেবে। তুমিও এক মহাজীবনের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলে!
লন্ডন, ১২ আগস্ট, শনিবার, ২০১৭

নাকে পলিপের আধুনিক চিকিৎসা

নাকে পলিপ কেন হয় তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। সাধারণভাবে বলা যায়, নাকে অ্যালার্জি এর প্রধান কারণ। ধূলাবালি, ধোঁয়া থেকে অ্যালার্জি হয়, ফাংগাল ইনফেকশন থেকে নাকে ও সাইনাসজুড়ে পলিপ হতে পারে। নাকের ভেতর রক্তনালির অস্থিরতা থেকে পলিপ হয় বলে গবেষকরা মনে করেন। পলিপ, গলায় অ্যালার্জি বা ফ্যারেনজাইটিস এবং ফুসফুসের অ্যালার্জি বা অ্যাজমা- এ তিনের মধ্যে সম্পর্ক আছে, যাদের হাঁপানি আছে তাদের ৫৫-৭০ জনের নাকে অ্যালার্জি থাকে।
চিকিৎসা : প্রাথমিক চিকিৎসা হল ধূলাবালি, ধোঁয়া ও ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে নাকে স্টেরয়েডজাতীয় স্প্রে ব্যবহার করলে পলিপ চলে যায়। পলিপ যখন নাককে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় তখন অপারেশন ছাড়া উপায় থাকে না। স্থানিক অবশ করে বা রোগীকে অজ্ঞান করে পলিপ ফেলে দেয়া যায়। পলিপের সর্বাধুনিক ও উত্তম চিকিৎসা হল অ্যান্ডোসকোপের সাহায্যে পলিপগুলো শেকড় থেকে ফেলে দেয়া। সাইনাসে পলিপ হলেও অ্যান্ডোসকপের মাধ্যমে ফেলে দেয়া সম্ভব। পলিপ তাদের উৎপত্তিস্থল থেকে সম্পূর্ণ ফেলে দিলে সাধারণত নতুন করে আর পলিপ হয় না। মনে রাখা দরকার, পলিপ ছাড়াও নাকে মারাত্মক ইনফেকশন, টিউমার, ক্যান্সার ও কিছু জটিল সমস্যা আপাতদৃষ্টিতে পলিপ আকারে প্রকাশ পেতে পারে। এক্ষেত্রে বায়োপসি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন,
ইমপালস হাসপাতাল, তেজগাঁও, ঢাকা

নেইমার নৈপুণ্যে পিএসজির দুর্দান্ত জয়

বার্সা ছেড়ে পিএসজির হয়ে অভিষেকে খেলতে নেমেই আলো ছড়ালেন নেইমার। বল পায়ে দারুণ সব নৈপুণ্যে দর্শকদের তৃপ্ত করেছেন এ ব্রাজিলিয়ান তারকা।তার করা একটি গোলসহ  ৩-০ গোলে জিতেছে প্যারিসের ক্লাবটি। সঙ্গে কাভানির নৈপুণ্যে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে টানা দ্বিতীয় জয় পাওয়া পিএসজি। রোববার রাতে ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে গ্যাঁগোঁর মাঠে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচের তিনটি গোলই হয় দ্বিতীয়ার্ধে। আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এদিনসন কাভানি। ম্যাচের উত্তেজনাকর মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করেন বার্সেলোনা থেকে আসা নেইমার। পুরো ম্যাচেই গোলের বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি দেখিয়েছেন ট্রেডমার্ক পায়ের কাজ। ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে নেইমারের দারুণ এক ক্রসে মার্কিনিয়োসের হেড ক্রসবারে লাগায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি পিএসজির। পরের মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে এদিনসন কাভানির বিদ্যুৎ গতির ফ্রি-কিক শেষ মুহূর্তে কোনোমতে ঠেকান গোলরক্ষক। খেলার ৬২তম মিনিটে নেইমারের দেয়া বিশেষ কারুকাচিত পাসে গোল করেন কাভানি। ৮১তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের কোনাকুনি জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। তবে পরের মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যান বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। প্রথম প্রচেষ্টায় ঠিকমতো হেড করতে পারেননি; কিন্তু কাভানির ফিরতি পাস পেয়ে কাছ থেকে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো মূল্যের এই খেলোয়াড়। আর তাতে জয়টাও নিশ্চিত হয়ে যায় গত পাঁচ মৌসুমে চারবার লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নদের। এদিকে রাদামেল ফালকাওয়ের হ্যাটট্রিকে বড় জয় পেয়েছে মোনাকো। দিজোঁর মাঠে ৪-১ গোলে জিতেছে তারা।

নেইমারবিহীন বার্সার বিপক্ষে রিয়ালের রোমাঞ্চকর জয়

স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগে নেইমারবিহীন বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আরেকটি শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাতে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ্বে কাম্প নউয়ে ফুটবল বিশ্ব দেখলো আরেকটি রোমাঞ্চকর ক্লাসিকো। কারণ এ ম্যাচে গোল পেলেন বর্তমান ফুটবল দুনিয়ার একচ্ছত্র নায়ক লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত গোলের পর লাল কার্ড দেখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আত্মঘাতী গোল, হলুদ কার্ডের ছড়াছড়ি। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। অথচ রোববার রাতে ম্যাচের প্রথমার্ধ দেখে মনেই হয়নি এতটা রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে দ্বিতীয়ার্ধে। পিএসজিতে চলে যাওয়া নেইমারকে ছাড়া প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নামে বার্সেলোনা। রিয়ালের প্রথম একাদশে ছিলেন না রোনালদোও। দশম মিনিটে গোলের প্রথম সুযোগ লুইস সুয়ারেস নষ্ট করেন রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস বরাবর মেরে। ২৫তম মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে যায়। বলার মতো তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি রিয়াল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই হলুদ কার্ড পান কাসেমিরো, গ্যারেথ বেল, দানি কারভাহাল, মেসি ও জেরার্দ পিকে।তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই জমে উঠে ম্যাচ। আর পঞ্চম মিনিটেই পিকের ভুলে এগিয়ে যায় রিয়াল। বাঁ দিক থেকে মার্সেলোর ক্রস তেমন কোনো চাপ ছাড়াই বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজের জালে জড়িয়ে দেন স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার। কিন্তু একটু পরই বার্সার সুযোগ আসে সমতা ফেরার।  ডান দিকথেকে জর্দি আলবার নিচু ক্রসে পা লাগাতে পারেননি মেসি।
বল পেয়ে বাঁ থেকে নেইমারের স্থলে সুযোগ পাওয়া জেরার্দ দেউলোফেউ আরেকটি ক্রস বাড়ান। এবারও বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড। ৭১তম মিনিটে খুব কাছ থেকে মার্সেলোর শট ঠেকিয়ে বিপদ বাড়াতে দেননি গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। তবে বেশ কয়েকবার সুযোগ নষ্ট করা মেসি অবশেষে ৭৭তম মিনিটে সমতা ফেরান পেনাল্টি কিকে। এবার চমকের পালা। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ইসকোর বাড়ানো বল ধরে পায়ের কাজে পিকেকে পরাস্ত করে ডি-বক্সে ঢুকেই জোরালো শটে চুপ করিয়ে দেন কাম্প নউকে। উপরের ডান কোনা দিয়ে জালে ঢোকা বলটি ঠেকানোর কোনো উপায় জানা ছিল না টের স্টেগেনের। গোলের পর জামা খুলে গর্জন করে সুগঠিত শরীর দেখান পর্তুগিজ অধিনায়ক। দেখেন হলুদ কার্ড। দুই মিনিট পর ডি-বক্সে ডাইভের অভিযোগে রোনালদো দেখেন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। আর লাল কার্ড দেখে মেজাজ হারিয়ে হাত দিয়ে রেফারির পিঠে ধাক্কা দেন পর্তুগীজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এজন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন চারবারের বর্ষসেরা এ ফরোয়ার্ড। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে একজন কম থাকার পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বার্সা । উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে জয় নিশ্চিত করে ফেলে জিদানের দল। লুকাস ভাসকেসের বাড়ানো বলে মার্কো আসেনসিওর বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শট জালে ঢোকে পোস্টের উপরের বাঁ কোনা দিয়ে। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারকে শট নিতে বাধা দিতে পারেননি পিকে। ২১ বছর বয়সী আসেনসিও লা লিগা, কোপা দেল রে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপের পর এবার স্প্যানিশ সুপার কাপেও রিয়ালের হয়ে অভিষেকে গোল পেলেন। চির প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠে দুর্দান্ত এই জয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতে মৌসুম শুরু করা রিয়াল স্প্যানিশ ফুটবলের মৌসুম শুরুর ট্রফিও ঘরে তোলার লক্ষ্যেও অনেক এগিয়ে গেল।

দুই যুগ পর বিটিভিতে সপরিবারে রুনা লায়লা

প্রায় দুই যুগ পর বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায় সপরিবারে দেখা যাবে প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী রুনা লায়লাকে। স্বামী চিত্রনায়ক আলমগীর ও আলমগীরের মেয়ে আঁখি আলমগীরের সঙ্গে ঈদের জন্য নির্মিত বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন রুনা। অনুষ্ঠানের নাম ‘তোমাদেরই গান শোনাবো’। এ অনুষ্ঠানে তিনি গান গেয়েছেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন আঁখি আলমগীর। এবং এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমগীর। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিজস্ব স্টুডিওতে। অনুষ্ঠানে রুনা গেয়েছেন ‘প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যের আগে’, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘যখন থামবে কোলাহল’,‘ ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’, ‘আমায় ভাসাইলিরে’, ‘কার তরে নিশি জাগো রাই’সহ দুটি গজল। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান গাওয়া প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, ‘প্রায় দুই যুগ পর বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য গান গেয়েছি। সেট ডিজাইন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য আয়োজন বেশ গুছানো ছিল। সবমিলিয়েই ভালো লেগেছে। তাছাড়া আঁখির উপস্থাপনাও খুব ভালো হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানটিই আশা করছি দর্শকের কাছে উপভোগ্য হবে।’ আঁখি আলমগীর বলেন, ‘এমন একটি অনুষ্ঠানে আমাকে উপস্থাপক হিসেবে রাখার জন্য বিটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কখনও ভাবিনি এমন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করার সুযোগ পাব। চেষ্টা করেছি আমার উপস্থাপনার মধ্যদিয়ে একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীকে যথাযথভাবে তুলে ধরার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আব্বার উপস্থিতিটাও ছিল রুনা আন্টির জন্য অনেক বড় চমক। সবমিলিয়ে খুব ভালো একটি অনুষ্ঠান হয়েছে।’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে রুনা লায়লা প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন করেন ১৯৭৪ সালে। এরপর আরও তিন/চারবার তিনি বিটিভিতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে তিনি বিটিভিতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।