Sunday, December 14, 2014

সুন্দরবনের নদীতে তেলবাহী জাহাজডুবি- দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তেল ছড়িয়েছে

(‘মহাদুর্যোগে সুন্দরবন: জরুরি করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা। প্রথম আলোর উদ্যোগে রোববার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কার্যালয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: জাহিদুল করিম) সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী জাহাজডুবির পর তেলের বিস্তৃতি রোধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে। এ দুর্ঘটনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হবে, তা পুষিয়ে উঠতে বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে। এমন দুর্ঘটনা রোধে বন্ধ করতে হবে সুন্দরবনের ভেতরে নৌযান চলাচল। গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এভাবেই প্রকাশ করলেন তাঁদের হতাশা আর শঙ্কা। একই সঙ্গে এ মহাদুর্যোগ থেকে উত্তরণে তাঁরা কিছু পথও বাতলে দিয়েছেন। জাহাজডুবির পর ফার্নেস তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আজ রোববার বিকেলে এক গোলটেবিল বৈঠক হয়। কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে ‘মহাদুর্যোগে সুন্দরবন: জরুরি করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে প্রথম আলো। গোলটেবিল বৈঠকে সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, দুর্ঘটনার পর ‘বুম’ ব্যবহার করে এ তেল সহজেই অপসারণ করা যেত। ফাঁপা প্লাস্টিকের পাইপের সঙ্গে দুই-তিন ফুট জাল দিয়ে এটি সহজেই বুম তৈরি করা যায়। এর মাধ্যমে তেল এক জায়গায় সংকুচিত করে পরে তা তুলে নেওয়া যেত। কিন্তু ব্যাপারটির গুরুত্ব বুঝতে না পারায় সেটি করা হয়নি। সংবিধানের ১৮-এর (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সরকারের দায়িত্ব এমনটা উল্লেখ করে আইনুন নিশাত বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে ব্যবহার করার দরকার ছিল। তেলের এ বিস্তৃতিতে ডলফিনসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর অভয়ারণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি জানান। সুন্দরবনের মধ্য নৌযান চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে আইনুন নিশাত বলেন, ঘটনার পর শুধু তদন্ত কমিটি গঠন না করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমান মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কেন বুম থাকবে না, তা জানতে চান। কচুরিপানা দিয়ে তেলের বিস্তৃতি রোধ করা যেত বলেও মনে করেন তিনি। শুধু মানুষের জীবিকায় নয় বরং এ দুর্ঘটনায় বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে আতিক রহমান আরও বলেন, এই মুহূর্তেই এ নৌপথটি বন্ধ করে দিতে হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, এ দুর্ঘটনা সুন্দরবনের জিন সম্পদের (জেনেটিক রিসোর্সেস) ক্ষতি করবে। এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কতটুকু প্রস্তুত রয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খান বলেন, ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় জোয়ার-ভাটায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ঘটনার পরপরই ভাসমান বাঁধ (ফ্লোটিং বেরিয়ার) দিয়ে তেলের বিস্তৃতি রোধ করা যেত। তেল অপসারণের স্বীকৃত আটটি পদ্ধতির মধ্যে কেবল ‘ভ্যাকুয়ামিং’ এবং ‘ম্যানুয়াল’ পদ্ধতি বাকি আছে এমনটা দাবি করে তানজিম উদ্দিন খান বলেন, মানুষ দিয়ে এ তেল অপসারণ করতে হবে। এ জন্য তেল অপসারণকারীদের জন্য হাতের দস্তানাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্বব্যাংকের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক ও সুন্দরবন গবেষক ইশতিয়াক সোবহান বলেন, গাছের শ্বাসমূলে এ তেল আটকে যাওয়ায় গাছ মরে যাবে। দীর্ঘ সময় ধরে এর প্রভাব পড়বে। সরকার সুন্দরবনের মতো একটি বিশ্ব ঐতিহ্যের কাছে রামপালের মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সরকারের দ্বৈত অবস্থান ফুটে ওঠে। প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বুম ছিল কিন্তু ঘটনাস্থলে বুম পৌঁছতে দুই দিন সময় লাগত বলে তা আনা হয়নি। নদীতে জোয়ার-ভাটা না হলে এ দুর্ঘটনায় আরও ক্ষতি হতো, এমন শঙ্কা প্রকাশ করে ইউনুস আলী বলেন, ছড়িয়ে পড়া তেলের আস্তরণে পানি দূষিত হয়েছে। ধীরে চলাচলকারী জলজ প্রাণীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রাথমিকভাবে কিছু জলজ প্রাণী মারা যাবে। তবে এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ১০ বছরের মতো লাগতে পারে। শ্যালা নদীর নৌরুট পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে এমনটা দাবি করে ইউনুস আলী আরও জানান, নৌযান চলাচলের জন্য পশুর চ্যানেলটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ১

(আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুিলবিদ্ধ হন তাপস পাল নামের এক শিক্ষার্থী। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সহপাঠীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাপস পাল নামের এক শিক্ষার্থী মারা গেছেন। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাপস পাল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তিনি মারা যান। নিহত তাপস পাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও ভার্সিটি এক্সপ্রেসের (ভিএক্স)মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গোলাগুলি হয়েছে। নিহত তাপস ছাত্রলীগের সিএফসি গ্রুপের সদস্য ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অহিদুল আলম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি থমথমে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আছে। এর আগে ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষে দুজন মারা যাওয়াসহ কয়েকটি ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৭৩ দিন বন্ধ ছিল। সর্বশেষ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কোন্দলে গত ৯ ও ১০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। এখানে ছাত্রলীগের কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই একটি ছাত্রাবাসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সংগঠনটির তিনটি পক্ষের তৎপরতায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। এরপরে আবার আজ এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষে দুজন মারা যাওয়ার ঘটনায় ৫৮ দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল।

‘পতাকা নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না’ -প্রধানমন্ত্রী

বিরোধী জোটের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানের দালালরা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে সে জন্য দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই পতাকা নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না। দরকার হলে বুকের রক্ত দেবো। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের দিন উনি ক্যান্টনমেন্ট থেকে হঠাৎ আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলেন। তখন তার প্রটোকল ছিল। কাউকে কিছু জানাননি। দেড় মাস তিনি ক্যান্টনমেন্টের বাসায় যাননি কেন? উনি ছিলেন কোথায়? এ প্রশ্নের জবাব উনাকে দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সবাই পিলখানায় ছুটে গিয়েছিলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কেন যাননি? বিচারেও তিনি কোন সহযোগিতা করেননি। উল্টো আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করে দিয়েছিলেন। এদেশে হত্যা-ক্যু সব বিএনপি-জামায়াত করেছে। আবার খুনিদের রক্ষাও করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষেও তারা। তারা খুনিদের পক্ষেই থাকে। একাত্তরে যে কায়দায় মানুষ হত্যা হয়েছে ৫ই জানুয়ারির আগেও ঠিক সেভাবেই মানুষ হত্যা করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শহীদ পরিবারের সন্তান তৌহিদ রেজা নূর ও ডা. নুজহাত চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে মানুষ হত্যা করা। সংখ্যালঘু নির্যাতন করা, খুনের রাজত্ব কায়েম করে বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করা। রক্ত নিয়ে খেলা এটাই তাদের চরিত্র। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ করেনি, উনি (খালেদা জিয়া) করেছেন! তখন তো বিএনপির জন্মই হয়নি, তারা থাকে কিভাবে আমি জানি না। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগের দিন উনি কাদের নিয়ে বক্তৃতা করলেন। আল-বদর, রাজাকারদের নিয়ে উনি কিভাবে বক্তৃতা দিলেন? কারা ছিল ওই মঞ্চে? আল-বদর আর রাজাকাররা। কাদের ছবি ছিল ওই বেলুনে?
যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে সরকারের দৃঢ়  অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল-বদর রাজাকারদের বিচার হবে। শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। তাহলে দেশে আর গরু থাকতো না। দেশে আর শকুন নেই। শুধু একটি শকুনি আছে।

শেলা নদীতে ভেসে উঠেছে মৃত ডলফিন

সুন্দরবনে শেলা নদীতে ট্যাংকার ডুবির ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ে একটি ডলফিনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল নদীতে একজন ফটোসাংবাদিক মৃত ইরাবতি ডলফিনটির মৃতদেহ খুঁজে পান। তেলবাহী ট্যাংকার যেখানে ডুবেছিল সেখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ডলফিনের সবচেয়ে বড় অভয়াশ্রমে বিরল প্রজাতির এ প্রাণীর মৃতদেহটি ভেসে ওঠে। শুক্রবারেই বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে এই প্রথম কোনও ডলফিন মারা যাওয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফটো সাংবাদিক সৈয়দ জাকির হোসেন গত ২৪ ঘণ্টায় সুন্দরবনের অনেক এলাকায় ঘুরেছেন। তিনিই প্রথম গতকাল শ্যালা নদীর হারিণটানা-তাম্বুলবুনিয়া চ্যানেলে একটি মৃত ইরাবতি ডলফিনের মৃতদেহের খোঁজ পান। শ্যালা নদীতে দুই প্রজাতির ডলফিনের অভয়াশ্রম। সাড়ে ৩ লাখ লিটার তেলসহ ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় বিরল এ সামুদ্রিক প্রজাতির জীবন সংশয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। যদিও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান দাবি করেছেন দুর্ঘটনার কারণে সুন্দরবনের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। গতকাল  সুন্দরবনের চাঁদপাই পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, তেল খুব বেশি ছড়ায়নি। এতে ডলফিন ও অন্যান্য প্রাণীর ক্ষতি হবে না। তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তবে সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবির দাবি করেছেন, কিছু ছোট মাছ ও কাঁকড়া ছাড়া অন্য কিছুর মরার খবর তারা পাননি। মরা ডলফিনের সঙ্গে তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

গণকর্মচারীর স্বেচ্ছা-অবসর এবং বাধ্যতামূলক অবসরের প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ by মোঃ ফিরোজ মিয়া

আইনের বিধান অনুসরণে কোনো কর্মচারীকে চাকরি থেকে অবসর দেয়া বা কোনো কর্মচারী কর্তৃক নিজে অবসর নেয়া দোষের কিছু নয়। কিন্তু যখনই দেখা যায় এই অবসর দেয়া ও নেয়ার ক্ষেত্রে আইনের বিধানকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না বা আইনের অপপ্রয়োগ হয়, তখনই এসব অবসর নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয় এবং তা বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি করে। এছাড়া শৃংখলা ও আপিল বিধিতে দণ্ড হিসেবে কোনো কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়ার উল্লেখ থাকলেও অবসর আইনে বাধ্যতামূলক অবসরের কোনো উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও এ আইনের অধীনে সরকার কোনো কর্মচারীকে অবসর প্রদান করলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর বলা হয় কেন, এ বিষয়টিও সবার কাছে স্পষ্ট নয়।
গণকর্মচারী অবসর আইনের বিধানমতে, মোট চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যে কোনো সময় যে কোনো কর্মচারী চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করতে পারেন। এ ধরনের অবসরকে স্বেচ্ছা-অবসর বলে। স্বেচ্ছা-অবসরের অন্যতম শর্ত হল অভিপ্রায়কৃত অবসরের দিনটির কমপক্ষে ত্রিশদিন আগে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বরাবরে সরাসরি অবসর গ্রহণের বা অবসর-উত্তর ছুটিতে যাওয়ার তারিখ উল্লেখ করে নোটিশ প্রদান এবং নোটিশে ছুটির মেয়াদ উল্লেখ করাসহ ছুটির প্রাপ্যতার সনদ সংযুক্ত করা। আইনের বিধান অনুসরণ করে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদন করা হলে কর্মচারীর স্বেচ্ছা-অবসরের প্রতিবন্ধকতাবিহীন অধিকার সৃষ্টি হয়, যা কর্মচারী প্রত্যাহার করতে পারেন না, এমনকি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষও তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। কিন্তু আইনের বিধান অনুসরণ না করে অর্থাৎ আইনের বিধানমতে ৩০ দিনের নোটিশ না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদন করা হলে তা স্বেচ্ছা-অবসরের নোটিশ হিসেবে গণ্য করে অবসরের আদেশ জারি আইনের বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এছাড়া আইনের বিধান অনুসরণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে অবসরের আবেদন করা আচরণবিধির সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদনে অবসর-উত্তর ছুটি ভোগের ইচ্ছা ব্যক্ত না করা হলে অবসর-উত্তর ছুটি মঞ্জুরেরও আইনগত কোনো সুযোগ থাকে না। উল্লেখ্য, কোনো কর্মচারী ছুটিতে থাকা অবস্থায়ও স্বেচ্ছা-অবসরের নোটিশ প্রদান করতে পারেন। এমনকি কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান অবস্থায়ও স্বেচ্ছা-অবসরের নোটিশ প্রদান করা যায়। তবে এক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদনের ওপর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যায় না। মামলা নিষ্পত্তির পর মামলার ফলাফলের ভিত্তিতে আবেদনটি নিষ্পত্তিযোগ্য হয়। অবশ্য এক্ষেত্রে স্বেচ্ছা-অবসরের আবেদনে যে তারিখ হতে অবসর গ্রহণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়, ওই তারিখ হতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারে না। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, আইনের বিধান অনুসারে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদান না করা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিক আবেদনের ভিত্তিতে স্বেচ্ছা-অবসরের আদেশ জারি করা হয়, যা আইন সমর্থন করে না।
গণকর্মচারী অবসর আইনের বিধানমতে মোট চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার যে কোনো সময়, জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে, কোনোরূপ কারণ দর্শানো ব্যতীত যে কোনো গণকর্মচারীকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করতে পারে। তবে এ ক্ষমতা সরকার ছাড়া অন্য কোনো অধঃস্তন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োগ করতে পারে না। যে ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সরকার ব্যতীত অধঃস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ অথবা বিধিবদ্ধ সংস্থা বা এর কোনো কর্মকর্তা, সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা যদি মনে করে যে, তদকর্তৃক নিযুক্ত কোনো গণকর্মচারীর আইনের বিধানমতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাকে জনস্বার্থে অবসরগ্রহণ করানো উচিত, তাহলে ওই কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এতদসংক্রান্ত প্রস্তাব প্রেরণ করবে এবং এরূপ প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্মচারীদের অবসরগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তার সদয় আদেশের জন্য পেশ করবে। এরূপ বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান শৃংখলা ও আপিলবিধির আওতাধীন শাস্তিমূলক বাধ্যতামূলক অবসর না হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি এবং ছুটি নগদায়নসহ সব ধরনের অবসর সুবিধাদি পাবেন।
সরকার কর্তৃক এরূপ অবসর প্রদান প্রকৃতপক্ষে জনস্বার্থে অবসর প্রদান। অবসর আইনে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের উল্লেখ না থাকলেও একে বাধ্যতামূলক অবসর বলা হয়। কারণ উচ্চতর আদালতের অনেক রায়ে সরকার কর্তৃক জনস্বার্থে এরূপ অবসর প্রদানকে বাধ্যতামূলক অবসর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন গণকর্মচারীর স্বাভাবিকভাবে অবসর গ্রহণের বয়সে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত চাকরি করার অধিকার থাকলেও অবসর আইনের অধীনে একজন গণকর্মচারীকে সরকার কোনোরূপ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করতে পারে। উচ্চতর আদালতের কোনো কোনো রায়ে সরকার কর্তৃক বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানকে সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় মর্মে উল্লেখ করা হলেও আইনের এ বিধানকে বাতিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে উচ্চতর আদালতের প্রায় সব রায়েই জনস্বার্থের বিষয়টির ওপর অধিক গুরুত্বারূপ করা হয়েছে। ডক্টর নুরুল ইসলাম বনাম বাংলাদেশ সরকার মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, অবসর আইনের অধীনে সরকারকে অবসর দানের প্রতিবন্ধকতাবিহীন অধিকার দেয়া হলেও আইনে বা বিধিতে অবসর দানের কোনোরূপ নির্দেশাবলী বর্ণিত নেই। আইনে বা এর অধীনে প্রণীত বিধিতে কোনোরূপ নির্দেশনাবলী ছাড়া সরকারকে বাধ্যতামূলক অবসর দানের প্রতিবন্ধকতাবিহীন অধিকার দেয়া সংবিধানের সমতার নীতির লংঘন। এছাড়া প্রয়োগের নির্দেশনাবলী ছাড়া আইনে প্রতিবন্ধকতাবিহীন স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রদান বৈষম্যমূলক এবং এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সমতা নীতির নিশ্চয়তার প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী। এ সম্পর্কে ডক্টর আবু আহমেদ চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ সরকার মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার অবসর দানের প্রয়োজনীয়তা এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করলেও চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এমন সমপর্যায়ের সব কর্মকর্তার মধ্য থেকে এককভাবে কোনো একজনকে বাধ্যতামূলক অবসরদান বৈষম্যমূলক।
চাকরির ২৫ বছর পূর্তির পর যে কোনো সময় সরকার কর্তৃক কোনোরূপ কারণ দর্শানো ছাড়া বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রধান ও অন্যতম শর্ত হল জনস্বার্থ এবং এই জনস্বার্থের বিষয়টি নির্ধারণের সম্পূর্ণ ক্ষমতা সরকারের বিধায় জনস্বার্থ প্রমাণের দায়িত্বও সরকারের। একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরিবিধি লংঘনের বা আচরণবিধির পরিপন্থী কোনো কাজের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার জন্য বিভাগীয় মামলা রুজু করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যায়। বিভাগীয় মামলায় কর্মচারীকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অনুসরণে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু অবসর আইনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বা জনশ্রুত অভিযোগের যথার্থতা বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দেয় বিধায় আচরণবিধির পরিপন্থী কোনো অভিযোগের কারণে অবসর আইনের অধীনে অবসর দেয়া যায় না।
কিন্তু প্রায়ই কোনো গণকর্মচারীর বিরুদ্ধে আচরণবিধির পরিপন্থী কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে চাকরিবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা গ্রহণ না করে অবসর আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রবণতা দেখা যায়। যার কারণে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। এছাড়া এসব মামলায় জনস্বার্থ প্রমাণ করা যায় না বিধায় আদালতে এরূপ অবসর প্রদানের আদেশ বাতিল বা রহিত হয়। অতীতে প্রদত্ত অধিকাংশ বাধ্যতামূলক অবসর আদেশই আদালতের আদেশে বাতিল বা রহিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা চাকরিতে ফিরে এসেছেন এবং অনেকে পরবর্তী পর্যায়ে উচ্চতর এক বা একাধিক পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। সেই সঙ্গে আর্থিক সুবিধাদিও পেয়েছেন।
চাকরিবিধি লংঘন বা আচরণবিধির পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী আইনের বিধান অনুযায়ী যথাযথ পদ্ধতিতে দণ্ড ভোগ করুক এটা সবারই কাম্য এবং এতে করে চাকরির শৃংখলাও বজায় থাকে। কিন্তু আইনের অপপ্রয়োগ চাকরির শৃংখলা বিনষ্ট করে। যার জন্য অবসর আইনের বিধানসহ বিদ্যমান চাকরি সংক্রান্ত সব আইনের বিধান যথাযথ প্রয়োগ হোক এটাই সবার কাম্য।
মোঃ ফিরোজ মিয়া : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রন্থের লেখক

জয় বাংলা ধ্বনি দিয়েই নিভে গেল বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবন প্রদীপ by এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান

একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেকের তাড়নায় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দায়বদ্ধতা থেকে একজন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনের শেষ স্মৃতিগুলো দেশবাসী, সতীর্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারকে জানানোটা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। এই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মজিবর রহমান মুন্সি, পিতা- মরহুম আঃ খালেক মুন্সি, গ্রাম- কাগ্দী, থানা- কাশিয়ানী, জেলা- গোপালগঞ্জ (ফরিদপুর)। সহযোদ্ধা শহীদ মজিবর রহমান মুন্সির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় ভারতের পশ্চিম বাংলার কল্যাণী রেস্ট ক্যাম্পে। মজিবরের উচ্চতর প্রশিক্ষণ হয় চাকুলিয়াতে আর আমার বীরভূমে। কল্যাণী থেকে আমরা একই কোম্পানি ও একই প্লাটুনে অন্তর্ভুক্ত হই। ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে তাদের ছাউনিতে আমরা বাগদা ভারতীয় সীমানায় (যশোরের বর্ডারে) ক্যাম্প স্থাপন করি। তখন মজিবর আমার পাশের সিটে থাকতেন।
মজিবর ছিল সদা হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপী ও বন্ধুবৎসল। বয়সে আমার চেয়ে প্রায় ২ বছরের বড় হলেও শরীরের গঠনে ও আকৃতিতে একটু ছোট ছিল। বয়স ও গ্রামের বাড়ি কাছাকাছি এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনী হিসেবে একসঙ্গে প্রায় প্রতিটি যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করার কারণে আমার সঙ্গে মজিবরের এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যে কোনো অপারেশন কিংবা রণপাহারায় আমি না গেলে সে যেত না, তেমনি সে না গেলে আমিও কোনো অজুহাতে ঝরপশ জবঢ়ড়ৎঃ করতাম। একদিন সন্ধ্যার পর আমরা পাকিস্তানি আর্মির অ্যাম্বুশে পড়লে সম্মুখযুদ্ধ চলাকালে আমাদের (মুক্তিযোদ্ধাদের) কোনো রকম সিগন্যাল/বার্তা না দিয়েই ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের ফেলে তাদের ক্যাম্পে চলে যায়। ওই যুদ্ধে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ভাগ্যক্রমে আমরা বেঁচে যাই।
প্রায় প্রতিটি অপারেশনেই আমাদের সামনে রাখা হতো, তাতে পাক আর্মি ও ভারতীয় আর্মি উভয় পক্ষের গুলিতে আমাদের জীবননাশের আশংকা ছিল। ২৬ দিন আমাদের এক কোম্পানি (মুক্তিযোদ্ধা) ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে অঙ্গীভূত করে রাখা হয়। একদিন ভারতীয় কর্নেলসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন অফিসার ও জয় বাংলার মেজর জলিল আমাদের সীমান্তবর্তী ক্যাম্পে দেখতে এলে শহীদ মজিবর এবং আমি একযোগে আমাদের দেশে গিয়ে যুদ্ধ করার অনুমতি প্রার্থনা করি। ফলে আমরা ওইদিনই দেশে আসার অনুমতি পাই। আমাদের কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন মেজর হুদা এবং প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন আমিনুর রহমান তালুকদার। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনী হিসেবে কর্মকালীন আমরা বিনামূল্যে ২ প্যাকেট চার্মিনার সিগারেট পেতাম। ধূমপায়ী সহযোদ্ধারা আমাদের সিগারেট নিয়ে নিত। একদিন দেখলাম শহীদ মজিবর বেশ কিছু সিগারেট জমিয়ে রেখেছে। কারণ জিজ্ঞাসা করায় বলল, দেশ স্বাধীন হলে মুক্ত বাতাসে এই সিগারেট ফুঁকব। নরঘাতক বর্বর পাক হায়েনার দল তাকে মুক্ত স্বাধীন দেশের নতুন সূর্যোদয় দেখার সুযোগ দিল না।
বাগদা বর্ডারস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছাউনি থেকে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামে অস্ত্র, গুলি, এক্সপ্লোসিভ, গ্রেনেড ইস্যু করে ২ মাসের খরচের টাকাসহ প্রয়োজনীয় ব্রিফিং দিয়ে দুজন গাইডসহ বিদায় দিলে অপরাহ্নে আমরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই যশোর জেলার ভেতর দিয়ে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার উদ্দেশে হেঁটে রওনা হই। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার এক অনাবিল আনন্দ অনুভব করলেও বুকের ভেতর এক অজানা শংকা কাজ করে। দেশের অভ্যন্তরে মা-বাবা, ভাই-বোন বেঁচে আছে কিনা; ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছে কিনা; গিয়ে কী দেখব তা আল্লাহই জানেন। হাঁটতে হাঁটতে মজিবর অদম্য সাহসে আমার ঘাড়ে হাত রেখে বলল, তুই চিন্তা করিস না, ওরা আমাদের একজন মানুষ হত্যা করলে আমরা ১০০ জন পাক আর্মিকে গুলি করে মারব। এখন আমাদের ট্রেনিং আছে, অস্ত্র আছে, ভয় কিসের!
প্রায় ১৫ বছর বয়সে রাইফেলসহ এত ভারী সরঞ্জাম নিয়ে হেঁটে সাত-সাগর তেরো নদী পাড়ি দেয়ার মতো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে আসতে পেরে নিজেদের পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান বলে মনে হয়েছিল। আমাদের কমান্ডার আমিনুর রহমান তালুকদারের পরামর্শে ও কোম্পানি কমান্ডার মেজর হুদার নির্দেশে কাশিয়ানী থানার রাতইল গ্রামে মধুমতি নদীর পাড়ে ব্রিটিশ আমলের ডিএসপি সাবান মিয়ার বাড়িতে ক্যাম্প স্থাপন করি। রাতইল গ্রাম থেকে পাক আর্মির ঐতিহাসিক ঘাঁটি ভাটিয়াপাড়ার দূরত্ব প্রায় ৩ মাইল। আমরা ঘরের মেঝেতে বিছানা পেতে বিশ্রাম নিতাম। এখানেও মজিবরের বিছানা ছিল আমারই পাশে। রাতইল গ্রাম, রাতইল স্কুল, চাপ্তা স্কুল ও চাপ্তা গ্রামের অনেক বাড়িতেই মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিব বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্প স্থাপন করে ভাটিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধের কাশিয়ানী থানা কমান্ডার মরহুম জগলুল কাদির সব দলের সদস্যদের ডিউটি বণ্টন করতেন। আমাদের গ্রামের কাওছার কাজী, ইদ্রিস মোল্লা ও আমাকে এক শিফটে এবং এক জায়গায় ডিউটি দেয়ার জন্য শহীদ মজিবর রহমান থানা কমান্ডারকে অনুরোধ করে। কারণ আমরা শপথ নিয়েছিলাম, যে কেউ মারা গেলে যত ঝুঁকিই থাকুক না কেন, লাশ যেন ফেলে না আসি। পাক আর্মিরা যেন আমাদের মৃত লাশ লাঞ্ছিত না করতে পারে, আর আমাদের কবরের চিহ্ন যেন থাকে।
সকাল-সন্ধ্যা ও সন্ধ্যা-সকাল এই দুই শিফটে আমরা ডিউটি করতাম। সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুরের নির্দেশে কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, লোহাগড়া (নড়াইল), আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারীর প্রায় সব মুক্তিফৌজ ও মুজিব বাহিনী একযোগে ভাটিয়াপাড়ার চতুর্দিকে অবস্থান নেয়। ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই ভাটিয়াপাড়ার পাক আর্মি, রাজাকার ও আলবদররা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পাক আর্মির সব ধরনের মুভমেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। ইতিমধ্যে যশোর ক্যান্টনমেন্ট মিত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এলে ভাটিয়াপাড়ার পাক আর্মিদের মনোবল ভেঙে পড়ে। পাক আর্মিরা পাকা বাংকার থেকেই হালকা ও ভারী অস্ত্রের গুলিবর্ষণ করত। মাঝে মাঝে আমরা দেখতাম চারদিক থেকে হাজার হাজার গুলি ছুড়লেও পাক আর্মিরা গুলি ফুরিয়ে যাওয়ার আশংকায় গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকত।
৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমাদের সকাল-সন্ধ্যা ডিউটি পড়ল ভাটিয়াপাড়া রেলস্টেশনের পূর্বদিকে। আমিন গ্রুপের আমি, শহীদ মজিবর, কাওছার, ইদ্রিস, মোদাচ্ছের, আবুলসহ আরও কয়েকজন (নাম মনে নেই) রেললাইন ঘেঁষে পজিশন নিলাম। উল্লেখ্য, রেললাইনের পর খাল এবং খালের পরই পাক আর্মিদের পাকা বাংকারসহ শক্তিশালী ঘাঁটি। আমাদের থেকে তাদের দূরত্ব খুবই কাছে হলেও রেললাইনটা আড় হিসেবে ব্যবহার করতাম। ওইদিন আমরা শত শত গুলি ছুড়লেও পাক হায়েনাদের দল সারাদিন একটি গুলিও ছুড়েনি। ওদের বাংকারে মেশিনগান HMG/MMG/LMG দেখা যায়, কিন্তু গুলি না করে কাওয়ালী গান গায়। প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত আমরা, পড়ন্ত বিকাল বেলায় ভাবছি, একটু পরে আমাদের রিলিভার (অন্যদল) এলে ক্যাম্পে ফিরে গিয়ে পেটপুরে খেয়ে গানের আসর বসাব। মজিবর বলছিল, আমাদের আজকের ডিউটি শেষ হতে চলল, একটা পাক আর্মি না মেরে ক্যাম্পে ফিরে যাব না। বাংকারের ছিদ্র পথে দেখতে পাওয়া পাক আর্মিদের গুলি করার উদ্দেশে হঠাৎ দেখলাম শহীদ মজিবর আমার পাশ থেকে রেললাইনে উঠে বসে বলল, শালাদের গুলি শেষ হয়ে গেছে। বলেই সে গুলি করার উদ্যোগ নিতেই একটা বুলেটে তার বক্ষ বিদীর্ণ হয়ে গেল। মজিবর গগনবিদারী জয় বাংলা ধ্বনিতে চিৎকার দিয়ে রেললাইনের ওপর লাফ দিয়ে পড়ে গেল। ফিনকি দিয়ে লাল রক্ত বের হতে লাগল। তখন পাক আর্মিরা বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করতে লাগল। আমাদের সহযোদ্ধারা অনেকেই বুঝতে না পেরে পালাতে শুরু করল। মজিবরকে টেনে নিচে নামালাম, রাইফেলটা নিলাম। তখন তার গলার স্বর নিচু হয়ে গেছে, আস্তে আস্তে বলল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। বিড় বিড় করে তার মায়ের কথা, বাবার কথা, কবরের কথা কী যেন বলছিল, বোঝা যাচ্ছিল না। আমরা চিকিৎসার ব্যাপারে কথা বলার কারণে তার শেষ ইচ্ছা বা কথাগুলো ভালো করে শুনতে পারলাম না। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই নিভে গেল সম্ভাবনাময় সদাহাস্য দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান মুন্সির জীবন প্রদীপ। বীর শহীদদের তালিকায় আরেকটি নাম অন্তর্ভুক্ত হল।
রাতেই মজিবরের লাশ কাঁধে করে আমরা সহযোদ্ধারা রেললাইন ধরে ৭/৮ কিমি. পায়ে হেঁটে কাগ্দি গ্রামে তার বাড়িতে পৌঁছলাম। অকস্মাৎ মজিবরের লাশ দেখে তার মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনের চিৎকার কান্নায় রাতের আঁধারে বাতাস ভারী হয়ে উঠল। রাতেই বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রেললাইন ঘেঁষে মজিবরকে সমাহিত করা হল। তার মা শুকুরন নেছার আহাজারি আজও আমার হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করে। মা শুকুরন নেছা ২০১২ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। বাবা আবদুল খালেক মুন্সি ১৯৮৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বড় ভাই আজিজুর রহমান মুন্সিও আর বেঁচে নেই। ভাই তৈয়বুর রহমান মুন্সী কৃষি কাজ করে এবং অপর ভাই হাবিবুর রহমান (অব. সেনা সদস্য) ঢাকায় শ্যামলীতে কোনো এক প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করে। মজিবরের বড় বোন সালেহা বেগম বিধবা হয়ে বেঁচে আছেন। ছোট বোন হাসিনা বেগম পার্শ্ববর্তী ব্যাসপুর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছেন।
এখানে একটি কথা না বললে সত্য গোপন করা হবে। আমাদের দলের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় সবাই হয় ছুটি নিয়ে না হয় ডিউটির ফাঁকে রাতের অন্ধকারে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। একমাত্র মজিবরই মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি। সে বলত, দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন দেশের পতাকা নিয়ে জয় বাংলা ধ্বনি দিতে দিতে বীরের বেশে একবারে বাড়িতে যাব। বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান মুন্সির সেই অদম্য ইচ্ছা আর পূরণ হল না।
আজ স্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান মুন্সির নাম। নতুন প্রজন্মের কেউ তাকে চেনে না আর জানার কৌতূহলও নেই কারও। যাদের রক্তে মুক্ত স্বদেশ, তাদের অসম্মান করলে জাতির গৌরবের পরিবর্তে দীনতা প্রকাশ পায়। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। দেরিতে হলেও পদকপ্রাপ্ত জাতীয় বীরদের তালিকায় এই শহীদদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় খেতাবসহ মর্যাদা দেয়া উচিত বলে মনে করি।
এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বিপিএম, পিপিএম : মুক্তিযোদ্ধা; ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা

কোন পথে যাব- কার হাত ধরব? by মোকাম্মেল হোসেন

পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। পারছি না। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের নগর-শহরে ফুটপাতের উপর দিয়ে আবেগ-কাতর নর-নারী হাত ধরাধরি করে হাঁটলে অন্য পথচারীদের সমস্যা হয় না। ঢাকা শহরে হয়। ঢাকা শহরের ফুটপাত হচ্ছে দুগ্ধবতী গাভী। মাস্তান, রাজনৈতিক পোষ্য ও রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনী প্রতিদিন দুবেলা এ গাভী দোহন করে বছরে যে পরিমাণ দুধ সংগ্রহ করে- টাকার অংকে তার পরিমাণ অন্তত ৬০০ কোটি। যে শহরের ফুটপাত প্রতিবছর অন্যূন ৬০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির সুযোগ করে দিচ্ছে, তার উপর দিয়ে হাঁটার সময় পথচারীদের পিঁপড়ারীতি অনুসরণ করা উচিত। বঙ্গীয় রোমিও-জুলিয়েট এ রীতি অনুসরণ করছে না। তারা হাঁটছে হাত ধরাধরি করে, পরস্পরের মুগ্ধতা বিনিময় করতে করতে। গলা খাঁকারি দিলাম- কাজ হল না। এক্সকিউজ মি বললাম- শুনল না। মুগ্ধতার নোনাজলে আকণ্ঠ ডুবে থাকা এ জুটির কারবার দেখে বাসের ঘটনা মনে পড়ল।
বাড্ডা নতুন বাজার পর্যন্ত জাবালে নূর নামে একটা বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। আজকাল এ বাসেই অফিসে আসা-যাওয়া করি। কয়েকদিন আগে বাসে উঠে বসতে না বসতেই অস্পষ্ট নারী কণ্ঠস্বর কানে এলো-
: আহ! ছাড়ো...
হায় আল্লাহ তুমি সোবাহান- ইজ্জতের মালিক। জোশের বশে ভুল করে ধরে ফেললাম না তো! হাতজোড়ার দিকে তাকালাম। নাহ! হাতের জায়গায় হাত আছে। কোনো গড়বড় হয়নি। তাহলে? প্রশ্রয়মাখা, আবেশ জড়ানো বাক্যের উৎস অনুসন্ধানে ডানে-বামে চোখ ঘোরাতেই দেখলাম- আমার পেছনের সিটে একজোড়া তরুণ-তরুণী বসে আছে। অফিসে যাওয়া-আসার পথে বাসে সহযাত্রী হিসেবে যাদের পাই- অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। বোঝা যায়, এরা নতুনবাজার-নর্দা-বসুন্ধরা এলাকার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ক্লাসরুমের বাইরেও শিক্ষার্থীদের অনেক কিছু শেখার আছে। দেখার আছে। এ দুই শিক্ষার্থীর শেখার ও দেখার অধিকার মেনে নিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছি, বাস কন্ডাক্টরের গলা বেজে উঠল-
: বাচ্চার কি সিট নিবেন?
আরে! এরমধ্যে বাচ্চাও হয়ে গেছে! এটা কীভাবে সম্ভব? চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল অসম্ভবকে সম্ভব করার দায়িত্ব পালন করছে। এ তরুণ কি তবে অনন্ত জলিলের খালাত ভাই জলন্ত খলিল? জলন্ত বারুদের ক্ষমতা ছাড়া এত দ্রুত পৃথিবীতে নতুন আদম সন্তানের আগমন ঘটানো সম্ভব নয়! বারুদের ক্ষমতার ফসল দেখার আশায় সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়াব কিনা ভাবছি, জলন্ত খলিলের কণ্ঠ শোনা গেল-
: অই মিয়া, বাচ্চা পাইলা কই?
শব্দ-নৈরাজ্যের মিছিলে যোগদানকারী জাবালে নূর চিৎকার করতে করতে দৌঁড়াচ্ছে। জাবালে নূর-এর আরবী উচ্চারণ জাবাল-আল-নূর। আরবী জাবাল মানে পাহাড় আর নূর হচ্ছে আলো। জাবাল-আল-নূর-এর বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায় আলোর পাহাড়। এ পাহাড়ের হেরা নামক গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় আখেরী নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর নবুয়ত প্রাপ্তি ঘটে। নবীজির (সাঃ) মাধ্যমে আল্লাহপাক কোরআনের যে আলো বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন, তার সূচনা ঘটে এ পাহাড় থেকেই। সেজন্য একে জাবাল-আল-নূর বা আলোর পাহাড় নামে অভিহিত করা হয়। পাহাড়ের পক্ষে নড়াচড়া করা অসম্ভব। পবিত্র নগরী মক্কার জাবাল-আল-নূর অনড় থাকলেও বাংলার জাবালে নূর দৌঁড়াচ্ছে। দিয়াশলাই বাক্স আকৃতির বাংলার আলোর পাহাড় শুধু দৌঁড়াচ্ছেই না, চলমান এ পাহাড়ের কোলে আরব্য রজনীর গল্পের স্টাইলে প্রেম-রোমান্স সবই চলছে। চাকা ফিট করে আলোর পাহাড়কে সচলকারীরা ক্বলবে পবিত্রতার জোশ অনুভব করলেও নামের পবিত্রতা যে রক্ষা হচ্ছে না- কন্ডাক্টরের কথায় তা স্পষ্ট হল। সে বলল-
: বাচ্চা না হইলে কোলে লইয়া বইসা রইছেন কী জন্য?
যৌবনপ্রাপ্ত নর-নারীর একে অপরের সান্নিধ্যে আসা, কোলে ওঠা বা ঠোঁটে ঠোঁট রাখা জাগতিক নিয়মের চিরন্তন রূপ। পশু-পাখিরাও এ নিয়মের অধীন। তবে সবার উপস্থাপনা এক রকম নয়। গোপনীয়তার মোড়কে আবৃত থাকে বলেই চুম্বনের স্মৃতি এত মধুর। বাঙালি যদি প্রকাশ্যে চকাস-চকাস চুম্বনচর্চায় লিপ্ত হতো, তাহলে চুম্বন তাদের স্মৃতির মন্দিরে জায়গা করে নিতো না। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা মন্দিরের বেদি থেকে চুম্বনকে রাজপথে টেনে নামানোর আন্দোলন শুরু করেছে। দাদাদের সবকিছুই আমাদের অতি প্রিয়। পাখি-ঢেউয়ের মতো চুম্বন-ঢেউ এদেশে আছড়ে পড়ার আতংকে আতংকিত হয়ে ওইদিনই একটা ডিভিডি প্লেয়ার কিনে বাসায় হাজির হলাম। বগলে বাক্স দেখে অবাক হয়ে লবণ বেগম জিজ্ঞেস করল-
: বাক্সের মধ্যে কী?
- লেখা আছে।
: কী লেখা আছে?
- কানিবুড়ি হইছ? কী লেখা আছে, দেখতেছ না?
: দেখলাম। এইটা কই পাইলা?
- কই পাইলাম মানে! এইসব কি রাস্তায় কুড়াইয়া পাওয়ার জিনিস? কিইন্যা আনলাম।
: কেন?
ব্যাগ থেকে কতগুলো ডিভিডি ডিস্ক বের করে টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বললাম-
: আইজ থেইক্যা বাসার ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। বাচ্চাদের জন্য কার্টুন ছবি আর তোমার জন্য ক্লাসিক ম্যুভি ও গানের ডিস্ক আনছি। এখন থেইক্যা বিনোদন জগতে তোমরা এইসব লইয়া বিচরণ করবা। আমি টাইম টু টাইম ডিস্ক সাপ্লাই দিব।
লবণ বেগম ডিভিডি ডিস্কগুলো খুঁটিয়ে দেখে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল-
: তাসিনের আব্বু! তোমারে নির্বোধ বলার মধ্যে আমার সুখ নাই; গৌরবও নাই। তারপরও আমি বলতে বাধ্য হইতেছি- তুমি একটা চরম নির্বোধ।
নারীজাতির মূল্যায়ন রিপোর্টে নির্বোধ চিহ্নিত হওয়া বড়ই লজ্জার বিষয়। কোনো পুরুষের পক্ষে এটা হজম করা মুশকিল। হজম করতে না পেরে মুখের ভাষা হারিয়ে ফেললাম। আগের কথার সূত্র ধরে লবণ বেগম বলল-
: টেলিভিশনের সম্প্রচার নীতিমালা সামাজিক অনুশাসন, বিধিবিধান ও আইনের কাঠামো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু ডিভিডি ডিস্কের তো কোনো বাপ-মা নাই। আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগে বাচ্চারা যদি অশ্লীল ছবির ডিস্ক জোগাড় কইরা দেখা শুরু করে- কী করবা? ডিশের লাইন বন্ধ করতে চাও- ভালা কথা। ইন্টারনেট? এইটা বন্ধ করবা কীভাবে? মাই ডিয়ার তাসিনের আব্বু! কাচের ঘরে বাচ্চাদের আবদ্ধ কইরা চরিত্রবান বানানোর চেষ্টা না কইরা তারা যাতে সত্য, সুন্দর ও সঠিক পথের অনুসারী হয়-সেই শিক্ষা দেও। সঠিক শিক্ষা পাইলে কোন পথে হাঁটা যাবে, কার হাত ধরা যাবে- এইটা নির্ধারণ করতে তারা ভুল করবে না।
মাগনা জিনিসের কদর কম। লবণ বেগমের ফ্রি পরামর্শ এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিলাম। তবে কথাগুলো ফেরত এলো। কয়েকদিন পর লবণ বেগমের প্রতিটি কথা হাজার গুণ শক্তিশালী হয়ে আমার চেতনার জগতে আঘাত করল।
অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হচ্ছি, লবণ বেগম জানতে চাইল-
: এইবার শাফিনের জন্মদিনে কী করবা?
- দোয়া করব।
: হুরু! তোমার খালি বাউলি কাটার স্বভাব। বাপ হইয়া সন্তানের জন্য দোয়া করবা- এইটা ঘোষণা দিয়া বলার দরকার নাই। ঘোষণা দিয়া কী করবা- সেইটা কও।
- নাথিং টু ডু। ফকিরচাঁনের পক্ষে দোয়া ছাড়া আর কিছু বিতরণ করা সম্ভব নয়।
: তাসিনের আব্বু! পিছলা মারবা না।
- পিছলা মারা না, যা সত্য- তাই বললাম। সন্তানের জন্য বাপ-মায়ের দোয়ার চাইতে মূল্যবান আর কিছু নাই...
সন্ধ্যার পর অফিস থেকে বাসায় ফিরে লবণ বেগমের খোঁজ করতেই রুমা বলল-
: আন্টি ট্যাবলেট কিনতে গেছে।
ততক্ষণাৎ লবণ বেগমকে ফোন করলাম। বললাম-
: কী হইছে তোমার?
- কিছু হয় নাই তো!
রুমা কি তবে ভুল তথ্য দিল? লবণ বেগমকে রুমার গাধামি সম্পর্কে বলতেই সে কুড়মুড় করে হাসল কিছুক্ষণ। তারপর বলল-
: রুমা ভুল বলে নাই। আমি ট্যাবলেট কিনতেই আসছি। তবে এইটা খাওয়ার ট্যাবলেট না, ব্যবহারের।
ব্যবহারের ট্যাবলেট! সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি একসময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী হিসেবে বাজারে এক ধরনের ট্যাবলেট সরবরাহ করত। এর নাম ছিল জয় ফোম ট্যাবলেট। বিশেষ মুহূর্তে ব্যবহার উপযোগী জয় ফোম ট্যাবলেট পরবর্তীকালে বাজার থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়। পুনরায় এর সাপ্লাই শুরু হল নাকি? আমার ভাবনা শুনে লবণ বেগমের হাসি হেঁচকিতে গিয়ে ঠেকল। হেঁচকি তুলতে তুলতে কোনোমতে সে উচ্চারণ করল-
: লাইনে থাক- পানি খাইয়া লই।
পানিপান পর্ব শেষ করে লবণ বেগম বলল-
: তোমার মতো গাধা জগতে দুইটা নাই। তুমি কোন লাইনের গাড়ি কোন লাইনে তুইল্যা দিছ- হুঁশ আছে? ট্যাবলেট কিনতে আসছি শাফিনের জন্য।
- শাফিনের কী হইছে?
: আবার বলে কী হইছে? আরে গাধা! এই ট্যাবলেট হইল ল্যাপটপের মিনি সংস্করণ।
- ল্যাপটপের মিনি সংস্করণ দিয়া শাফিন কী করবে?
: এর উত্তর আমি দিতে পারব না। শাফিনের জন্মদিন উপলক্ষে তার লাইজু খালামনি তারে এইটা উপহার দিতেছে। তোমার যা জিজ্ঞাসা করার শাফিনের খালামনিরে জিজ্ঞাসা কর।
বাসায় ফেরার পর লবণ বেগমকে বললাম-
: পুইচ্চাদের হাতে ট্যাবলেট-ফ্যাবলেট না দিয়া প্রাইজবন্ড কিইন্যা দিলেই হইত।
লবণ বেগম স্যুটের মাপ নেয়ার মতো সূক্ষ্মভাবে উপর-নিচে আমার মাপ সম্পন্ন করে বলল-
: জন্মদিন উপলক্ষে বাচ্চাদের একাধিকবার প্রাইজবন্ড উপহার দেওয়া হইছে। তার রেজাল্ট কী?
রেজাল্ট ফাটা বেলুন। অভাবের সংসারে প্রয়োজন যখন অনিবার্য হয়ে সামনে দাঁড়ায়, তখন সবার আগে রেডিমেড সঞ্চয়ের উপর হাত পড়ে। এ প্রক্রিয়ায় প্রাইজবন্ড ক্যাশে রূপান্তরিত হয়ে হজম হতে দেরি হয়নি। প্রাইজবন্ড বুমেরাং হয়ে আমাকেই আঘাত করবে বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে ভদ্রলোকের মতো চুপচাপ থাকতাম।
ট্যাবলেট হাতে পেয়েই শাফিন বলল-
: আব্বু, আমারে একটা সিম কিইন্যা দিবা?
- শিমের কারবার তো আমি করি না। রুমা করে। তুমি তার কাছে চাও।
: আব্বু! কথা ঘোরাবা না। আমি কোন সিমের বলতেছি, এইটা তুমি ঠিকই বুঝতে পারছ।
- সিম দিয়া কী করবা?
: ট্যাবে লাগাব।
- ট্যাবে লাগাইলে কী হবে?
: ইন্টারনেট ইউজ কইরা নতুন নতুন গেইম ডাউনলোড করা যাবে।
ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন শুধু গেইম ডাউনলোডেই সহায়তা করে না। এ লেখার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডাল্ট ফিল্মের অপশন নিয়ে হাজির হয়। ফেসবুকে ঢোকার জন্য এফ লিখতেই ফাক উঁকি মারে। অপরিপক্ক ছেলেমেয়েদের চোখের সামনে ফাকের পর্দা একবার উন্মোচিত হলে তার পরিণতি মারাত্মক হতে বাধ্য। জ্ঞানচর্চার নামে, স্মার্ট হওয়ার দোহাই দিয়ে আধুনিক প্রজন্ম ই-মেইল, ফেসবুক চর্চা করছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের ইন্টারনেট পরিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তুমুল প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কেউ কেউ রাত ১২টার পর থেকে ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত পাঁচভাগের এক ভাগ মূল্যে সেবা নেয়ার লোভ দেখাচ্ছে। বিদ্যাসাগর রাতে রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্টে বসতেন। তার হাতে থাকত বই। আমাদের সন্তানরা এখন স্মার্টফোন, ট্যাব, কম্পিউটার সামনে নিয়ে রাত জাগে। এসব উপকরণ সামনে নিয়ে কোন জ্ঞান আহরণ করছে তারা? দেশের মন্ত্রী-মিনিস্টার, এমপি-স্পীকার, আমলা-গামলারা এ প্রজন্মকে চরিত্রবান হওয়ার তাগিদ দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক আদর্শ সমাজ গঠনের কারিগর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হর-হাশেমাই বক্তৃতা-বিবৃতি দেন। অথচ ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট পাওয়ার মায়া ত্যাগ করে তারা উচ্চারণ করতে পারেন না- মাছের সামনে টোপ রাখার মতো ছেলেমেয়েদের সামনে গভীর রাতের টোপ ফেলা চলবে না।
পেশাগত প্রয়োজনে আমাকে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটের জগতে বিচরণ করতে হয়। কাজের উৎকর্ষ সাধনে ইন্টারনেটের কোনো জুড়ি নেই। এ জ্ঞান-সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় আমি ডলফিন আর হাঙরের পার্থক্য বুঝতে সক্ষম। আমার অল্পবয়েসী ছেলে কি তা বুঝতে সক্ষম? রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকের সুরক্ষা কবজ হিসেবে ভূমিকা পালন করে না, তখন যার যার ঘর তাকেই সামলাতে হয়। ছেলেকে সামলানোর একটা অস্ত্রই হাতে আছে আমার। আমি সেটা প্রয়োগ করে তাকে বললাম-
: নেভার অ্যান্ড এভার। কিছুতেই না। কখনই না। যে দোকান থেইক্যা ট্যাবলেট কেনা হইছে, তোমার আম্মুরে লইয়া সেখানে যাবা- তারা নতুন গেইমস ভইরা দিবে।
আজ শাফিনের জন্মদিন। কেক কাটা হবে সন্ধ্যায়। লবণ বেগম দুপুরে মুরগি-পোলাউয়ের আয়োজন করেছে। আমার তিনছেলে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে নাকে-মুখে মুরগি-পোলাউ খেয়ে ট্যাব নিয়ে বসে পড়ল। ডি ড্রাইভে সংরক্ষিত গেইমসের মজুদ শেষ হওয়ার পর শাফিন তার সীমাবদ্ধতার কথা জানাতেই ওর এক বন্ধুকে বলতে শুনলাম-
: আরে! এইটা কোনো ব্যাপারই না। আমি ওয়াই-ফাই দিয়া পাঁচ মিনিটের মধ্যে নতুন গেইম ডাউনলোড কইরা দিতেছি...
বুঝতে পারলাম- পৃথিবী যে গতিধারায় অগ্রসর হচ্ছে, কাঁচের ঘর তৈরি করে ওদের আড়াল করার চেষ্টা করা বৃথা। বরং তারা যাতে ভুল পথে পা না রাখে, ভুল মানুষের হাত না ধরে- সে চেষ্টা করা উচিত। ভুল পথে পা রাখলে, ভুল মানুষের হাত ধরলে তার মূল্য এক জীবনে শোধ করা যায় না। পৃথিবী নামের এই গ্রহে বাবার ভূমিকা পালন করে আমি আমার সন্তানদের একটা জীবন উপহার দিয়েছি। দ্বিতীয়বারের মতো তাদের জীবন দেয়ার ক্ষমতা আমাকে দেয়া হয়নি।
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যা প্রসঙ্গে by বদরুদ্দীন উমর

১৯৭১ সালে জনগণের ওপর পাকিস্তান সরকারের সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র আক্রমণ ২৫ মার্চ শুরু হয়েছিল অন্যদের সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের ওপর আক্রমণ দিয়ে। সেই আক্রমণ নয় মাস ধরে চলার পর চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করে ১৪ ডিসেম্বর শেষ হয়েছিল পরিকল্পনামাফিক দ্বিতীয় দফা বুদ্ধিজীবীদের ওপর আক্রমণের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র আক্রমণ যেভাবে হয়েছিল, দুনিয়ার ইতিহাসে তার ব্যাপকতার অন্য কোনো উদাহরণ নেই। জগন্নাথ হলের ছাত্রদের ঘেরাও করে শত শত ছাত্রকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং একই নিষ্ঠুরতার সঙ্গে হত্যা করা হয়েছিল ডক্টর জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, মনিরুজ্জামান, সন্তোষ ভট্টাচার্যসহ অনেক শিক্ষককে।
এ দুই তারিখের মধ্যবর্তী সময়ে যে বুদ্ধিজীবী হত্যা বন্ধ ছিল এমন নয়। নয় মাস ধরে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছিল, তাতে নিহত হয়েছিলেন আলতাফ মাহমুদসহ অন্য অনেকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্যে সেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন হাবিবুর রহমান, সুখরঞ্জন সমাদ্দার, মীর আবদুল কাইউমসহ অন্যরা। তারা সবাই ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহকর্মী।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষকদের অপহরণ করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন মুনীর চৌধুরী, গিয়াসুদ্দীন আহমদ, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা। এছাড়া একই দিনে অপহরণ করা হয়েছিল শহীদুল্লাহ কায়সার, ডাক্তার ফজলে রাব্বী, ডাক্তার আবদুল আলীম, সিরাজুদ্দীন হোসেনসহ অন্য অনেককে। তাদের সবাইকেই নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছিল রায়েরবাজারের ইটখোলায়। এদের সবার সঙ্গেই ছিল আমার পরিচয়। কারও কারও সঙ্গে ছিল কিছুটা ঘনিষ্ঠতা। সেই ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে ছিলেন শহীদুল্লাহ কায়সার, মুনীর চৌধুরী, ডাক্তার রাব্বী। একমাত্র ডাক্তার রাব্বী ছাড়া তাদের অন্য কারও সঙ্গে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় আমার দেখা হয়নি।
শহীদুল্লাহ কায়সারের অপহৃত হওয়ার কথা মনে হলে আমার অবাক লাগে। কারণ তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সেই হিসেবে পরিচিত। তাদের পার্টির অন্য লোকরা ভারতে চলে গেলেও তিনি ঢাকায় থাকছিলেন প্রকাশ্যে। ডিসেম্বর মাসের দিকে পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ করে নিজেদের পার্টির কিছু লোককে প্রকাশ্য থেকে গোপন আস্তানায় থাকার ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে নিরাপদ মনে করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা মনে করলেও জামায়াতে ইসলামীর আলবদর বাহিনী সেটা মনে করেনি। কাজেই তারা তাকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করে পরে হত্যা করে।
মুনীর চৌধুরী রাজনীতির সঙ্গে পঞ্চাশের দশকের পর আর যুক্ত থাকেননি। কিন্তু তিনি যে এককালে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এটা আলবদর বাহিনীর পরিচালকরা ভোলেনি। কাজেই তিনি নিজেকে যতই নিরাপদ মনে করুন, বুদ্ধিজীবী হিসেবে তারা তাকে শত্রু বিবেচনা করত। কাজেই তাকেও তারা ১৪ তারিখে অপহরণ করেছিল।
ডাক্তার রাব্বী বামপন্থী কোনো পার্টির সদস্য না হলেও বামপন্থীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তিনি তাদের অনেকের চিকিৎসাও করতেন। আমিও চিকিৎসার জন্য তার কাছে যেতাম। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের কোনো একদিন আমি সিদ্ধেশ্বরীতে তার চেম্বারে গিয়েছিলাম। সেই অবস্থায় হঠাৎ করে কারও পক্ষে আমাকে চেনার উপায় ছিল না। আমি তার সঙ্গে তার চেম্বারে বসে থাকার সময় তিনি উচ্চকণ্ঠেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণ ইত্যাদি বিষয়ে এবং সাধারণভাবে সরকারের বিরুদ্ধে অনেক কিছু বলছিলেন। তাকে সেটা করতে আমি নিষেধ করেছিলাম। কত ধরনের লোক তার কাছে আসে চিকিৎসার জন্য। সেই অবস্থায় তার কথাবার্তা যদি কোনো জামায়াতপন্থী বা পাকিস্তানপন্থী শোনে তাহলে বিপদ হতে পারে এটা বলে তাকে আমি সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু তিনি ওইভাবে তার কথাবার্তা পরে বন্ধ করেছিলেন বলে মনে হয় না। কাজেই যা হওয়ার তাই হয়েছিল। তাকে আলবদর বাহিনী অপহরণ করেছিল ১৪ তারিখে।
ডাক্তার আলীম কথাবার্তা সেভাবে না বললেও তারা তাকে শত্রু হিসেবেই চিহ্নিত করেছিল। কাজেই তাকে তারা ওইদিন রেহাই দেয়নি। অধ্যাপক গিয়াসুদ্দিন আহমদ মুক্তিবাহিনীর লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এদিক দিয়ে অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে একেবারে সম্পর্কহীন। তাকেও তারা তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল চোখ বেঁধে, যেমন তারা করেছিল অন্যদের ক্ষেত্রে।
১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের এভাবে তারা যখন অপহরণ করছিল, তখন ১৯৭১ সালের যুদ্ধের একেবারে শেষ অবস্থা এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী তখন আত্মসমর্পণ করার পর্যায়ে এসেছিল। তা সত্ত্বেও সেই অবস্থায় এভাবে বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ ও হত্যা করা ছিল এক ধরনের প্রতিশোধের ব্যাপার। তাছাড়া তারা মনে করেছিল, এভাবে কিছু বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে তারা স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করবে। এই চিন্তা যে নির্বোধ ছিল এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা তখন পরাজয়ের মুখে ছিল মরিয়া এবং তাদের সেই মরিয়া অবস্থায় তাদের নির্দেশ অনুযায়ী আলবদর ও আলশামস বাহিনীর ঠ্যাঙ্গাররা বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ ও হত্যা করেছিল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী হত্যা কোনো পর্যায়েই বন্ধ থাকেনি। কারণ এভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা জনগণের ওপর সাধারণ সামরিক হামলা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাপার ছিল না। কাজেই এই হত্যাকাণ্ডকে সাধারণভাবে যে হত্যাকাণ্ড তারা করেছিল তার থেকে আলাদাভাবে দেখার কোনো সুযোগ অথবা যথার্থতা নেই। যে গণহত্যা তারা করেছিল তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই হত্যাকাণ্ডকে বিবেচনা করতে হবে। নয় মাস ধরে বুদ্ধিজীবী হত্যা হয়ে চললেও ১৪ ডিসেম্বরের এই হত্যাযজ্ঞের দিনটিকে বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকেই পালন করে আসা হয়। এভাবে এই দিবসটি পালনের দ্বারা সাধারণভাবে অনেকের মধ্যে এই ভুল ধারণার সৃষ্টি হতে পারে যে, শুধু এই দিনেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড হয়েছিল। ইতিহাসের সঙ্গে অপরিচিত লোকদের মধ্যে এ ধারণা স্বাভাবিক। কাজেই এই দিবসটি পালনের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তা মনে রাখা দরকার। শুধু ঢাকাতেই নয়, সমগ্র দেশব্যাপী ১৯৭১ সালের নয় মাসে এমন অসংখ্য বুদ্ধিজীবী হত্যা করা হয়েছিল যার খবর এখনও জানা নেই। কাজেই বুদ্ধিজীবী হত্যা যে ১৪ ডিসেম্বরেই প্রথম হয়নি অথবা ওইদিনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এ বিষয়টি এই দিবস পালনের সময় মনে রাখা দরকার।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

আইএসের টুইটার বানানো সেই ভারতীয় গ্রেফতার

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পক্ষে প্রচারণার উদ্দেশ্যে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় জড়িত সন্দেহে শনিবার এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর পুলিশ। তার নাম মেহেদি মাসরুর বিশ্বাস (২৪)। তিনি উত্তর ব্যাঙ্গালুরুর জালাহালি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। ব্যাঙ্গালুরুরের কর্ণাটকের পুলিশের ডিজিপি পাকচাও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইএসের হয়ে এক টুইটার অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়ে মেহেদি মাসরুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আইএসের সদস্য সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ইংরেজিতে কথা বলা সন্ত্রাসী দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন এবং সদস্য সংগ্রহের বিষয়টি তাদের অবহিত করতেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চার হাজার কোটি টাকার বিচ্ছেদ!



স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের মূল্য আজকাল এতটাই চড়া হয়ে উঠেছে, যা কল্পনাকেও হার মানাচ্ছে। ব্রিটেনে এবার এক দম্পতির ছাড়াছাড়ির খেসারত বাবদ স্বামীকে গুনতে হচ্ছে ৩৩৭ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। শনিবারের বিনিময় হার অনুযায়ী ৩৩৭ মিলিয়ন পাউন্ড সমান হয় ৪ হাজার ৯৯ কোটি ৮৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা। প্রায় এ পরিমাণ টাকায় (৪১০৮ কোটি টাকা প্রায়) ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ বিনিয়োগকারী স্যার ক্রিস হহ্নের (৪৮) বিরুদ্ধে বিচ্ছেদের খোরপোষ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার দাবি করে মামলা করেন তার সদ্য সাবেক মার্কিন স্ত্রী জেমি কপার হহ্ন (৪৯)। শুক্রবার ব্রিটেনের হাইকোর্ট মামলা রায় দেন। ক্রিস হহ্নকে বিচ্ছেদ বাবদ তার সাবেক স্ত্রীকে ৩৩৭ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করতে আদেশ দেন আদালত।
এই বিচ্ছেদমূল্য ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। এত বেশি টাকায় এর আগে কোনো বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেনি দেশটিতে।
স্যার ক্রিস হহ্ন জানিয়েছেন, তার মোট সম্পদ মূল্যের চার ভাগের এক ভাগ অর্থ দিয়ে স্ত্রীকে ছাড়তে হচ্ছে। এতেও আপত্তি তার স্ত্রী জেমি কপার হহ্ন। তার স্ত্রীর দাবি, যেহেতু একসঙ্গে থাকার সময় তারা এ সম্পদের মালিক হন, সেহেতু তিনি অর্ধেকটাই পাবেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ব্যবসায়ী হ্যারল্ড হ্যামকে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়া বাবদ পরিশোধ করতে হয় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এর আগে মেক্সিকোতে এ ধরনের বড় অর্থমূল্যের একটি তালাকের ঘটনা ঘটে। টেলিগ্রাফ।

তৃতীয় স্ত্রীকেও তালাক দিলেন থাই যুবরাজ ভাজিরারংকর্ণ

প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন ১৯৯১ সালে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে ছেড়ে দেন ১৯৯৬ সালে। এবার তৃতীয় স্ত্রীকেও তালাক দিলেন থাই যুবরাজ মাহা ভাজিরারংকর্ণ (৬২)। ফলে রাজকীয় মর্যাদা হারালেন প্রিন্সেস শ্রীরাশমি (৪৩)। থাই রাজার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দুর্নীতির কেলেংকারির কারণে প্রিন্সেসের কয়েকজন আত্মীয়কে আটকের পর বিচ্ছেদের এ ঘোষণা দেয়া হল। শনিবার এ খবর প্রকাশ করে বিবিসি। শুক্রবার রয়্যাল গেজেটে প্রকাশিত প্যালেসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রিন্সেস শ্রীরাশমির রাজকীয় মর্যাদা বাতিল করা হল। এর মধ্য দিয়ে প্রিন্স মাহা ভাজিরারংকর্ণের সঙ্গে শ্রীরাশমির ১৩ বছরের বিয়ের ইতি ঘটল।
সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রীরাশমিকে তার রয়্যাল স্টেটাস হারানোর কথা প্রিন্স মাহা ভাজিরারংকর্ণ এক লিখিত ডকুমেন্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন। রাজার অনুমোদনের পর এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচ্ছেদের এ ঘটনার কারণে ভবিষ্যতে দেশটির রাজত্বের সংকট আরও গভীর হবে। কারণ ৮৭ বছর বয়স্ক থাই রাজা ভূমিবল আদুলায়াদেজের শারীরিক অবস্থার কারণে তার রাজ্য শাসন প্রায় অস্তমান। এদিকে কয়েক মাসের সহিংস বিক্ষোভের পর চলতি বছরের মে মাসে দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী সেনাবাহিনী বলছে, রাজতন্ত্র রক্ষায় এবং রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত দেশে আইনশৃংখলা পুনরুদ্ধারে আরও কিছু করা প্রয়োজন।
প্রিন্স মাহা ভাজিরারংকর্ণের সঙ্গে শ্রীরাশমির ২০০১ সালে বিয়ে হয়। ধারণা করা হয়েছিল শ্রীরাশমি দেশটির রানী হবেন। তাদের একটি ছেলে রয়েছে। ছেলেই হয়তো প্রিন্স মাহা ভাজিরারংকর্ণের উত্তরাধিকার হবেন।
রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের মিথ্যা দাবি করে বেশ কয়েকজন লোক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে। পুলিশ বলছে, এ ধরনের প্রায় বিশের অধিক লোককে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে প্রিন্সেসের অন্তত তিনজন আত্মীয় রয়েছে। এ ঘটনার পর শ্রীরাশমির ভাগ্য নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বেশ জল্পনা-কল্পনা চলছিল।

মোদিকেও গ্রেফতার করা উচিত : মমতা

সারদা কেলেংকারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও গ্রেফতার করা উচিত। সরকারের জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলা উচিত। শনিবার কলকাতার ধর্মতলায় প্রয়াত ফুটবলার গোষ্ঠপালের মূর্তির পাদদেশে একটি সভায় মাইক হাতে নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী মদনের গ্রেফতারের প্রতিবাদে দিল্লির শাসক দল বিজেপি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে এমন মারমুখী মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। সারদাকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গে টেনে মমতা বলেন ‘সাহারার অফিসে তল্লাশি চালানোর পরে একটি লাল ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। সেখানে তাবড় তাবড় ব্যক্তিদের নাম আছে। সারদা গ্র“পের কর্ণধার সুব্রত রায়ের সঙ্গে একটি ছবিতেও দেখা গেছে নরেন্দ্র মোদিকে। তাহলে তো প্রধানমন্ত্রীকেও গ্রেফতার করা উচিত।’ মমতা বলেন, ‘আমি কোনো সরকারের প্রতিনিধি হয়ে আসিনি, এসেছি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে। আমি খেলাধুলাকে ভালোবাসি। এ পজিশনে না থাকলে বলতাম জিভ-টা টেনে ছিঁড়ে দিতাম। কিন্তু একটা পজিশনে আছি তাই এ কথাটা আমি বলতে পারি না এবং আমি বলছিও না। কিন্তু আমি বলব ‘বেশি বাড় বেড়ো না, ঝড়ে পড়ে যাবে। এটা মাথায় রেখো’। মঞ্চ থেকে ফের একবার মদন মিত্রকে নির্দোষ সার্টিফিকেট দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘মদন চোর এটা আমি বিশ্বাস করতে রাজি নই। ওর এত অভাব পড়েনি যে সারদার রুপি দিয়ে বউ-বাচ্চাদের খাওয়াবে।’ মমতা আরও বলেন, দিল্লির ফোন আসার পরেই মদনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবটাই সাজানো, যাকে ইচ্ছে জেলে পুরে দাও। কোনো আইন নেই, কিছু নেই। সিবিআই শেষ কথা।

সিআইএকে শাস্তি দিতে পারবেন না ওবামা

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র বর্বর নির্যাতনের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে সারা বিশ্বে। কিন্তু বর্তমান ওবামা-প্রশাসন এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না বলে ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, বুশ-প্রশাসনের অধীনে যেসব কর্মকর্তা এই অমানবিক নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের শাস্তি দেয়া না হলে এ নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটার দরজাই খোলা রাখা হবে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ওবামা বাস্তবতার আলোকেই বলছেন, এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব নয়। জাতীয় নিরাপত্তা নীতির কারণেই দোহাই দিয়ে বেআইনি কাজ করলেও তাদের রেহাই দিতে হবে, কারণ তারা ব্যক্তিস্বার্থে এটা করেনি।
এখানে আইন দেখতে গেলে জল গড়িয়ে বহুদূর যাবে। কারণ, সিনেট রিপোর্টে এটা স্পষ্ট হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নিষ্ঠুর নির্যাতন করে নির্যাতনকারীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ স্বয়ং আইন লংঘন করেছেন। টেলিগ্রাফ।
আমেরিকার ফেডারেল আইন সব ধরনের নির্যাতন নিষিদ্ধ করেছে। তথ্য আদায় হোক আর যে কারণেই হোক, বন্দিদের ওপর শারীরিক নিপীড়নকে অবৈধ করে অনেক আইন করা হয়েছে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্র আমেরিকা। এত কিছু সত্ত্বেও বারাক ওবামা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের ঝুঁকি নেবেন না। আর এটা না করার এখতিয়ারও তার রয়েছে। কয়েকদিন আগে অভিবাসীদের বৈধতা সংক্রান্ত বিল পাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার দেখা গেছে। প্রেসিডেন্টকে অনেক ক্ষমতাই দেয়া হয়েছে। অভিবাসী আইন লংঘন করে বিদেশীরা আমেরিকায় যেমনভাবে সুবিধা পেয়ে গেল, তেমনভাবেই যেসব আমেরিকান নির্যাতন আইন লংঘন করে বর্বরতা দেখালেন, তারাও দায়মুক্তি পেয়ে যাবে। তাছাড়া সরকার এই মামলায় জিততে পারবে তাও নিশ্চিত নয়। নির্যাতনের যুক্তি হচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম সম্পদ ব্যয় করে তথ্য আদায়ের ‘কার্যকর’ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ওবামার যুক্তি হবে, নির্যাতনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন করা হয়েছে এবং রিপোর্টে বলা হয়েছে, তথ্য আদায়ে নির্যাতন খুব একটা কাজে আসেনি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপরাধীরা পার পেয়েই যাবে। কারণ কিছুদিন আগেই নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউনকে গুলি করে হত্যাকারী ও এরিখ গার্নারকে শ্বাসরোধে হত্যাকারী পুলিশও দায়মুক্তি পেয়ে গেছে। অর্থাৎ পুলিশকে ‘হত্যার লাইসেন্স’ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিআইএ তো বলছেই, যা কিছু ঘটেছে সরকারের অনুমোদনক্রমেই হয়েছে। পানি-নির্যাতন সম্পর্কে বুশ ব্যক্তিগতভাবে জানতেন। অতএব, আইনশৃংখলা রক্ষা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা অজুহাতে মানবাধিকার আইন পিষে ফেলাটাই আইনের স্বার্থ!

সুশাসনের অভাবে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে

(ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত রাজনৈতিক অর্থনীতি, জবাবদিহি ও সুশাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান l প্রথম আলো) রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সুশাসন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আর সুশাসনের অভাবে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ স্বচ্ছ, জবাবদিহি ও সুসংহত গণতন্ত্রের মাধ্যমেই উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি, জবাবদিহি এবং সুশাসন’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)। তিন দিনের এই সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতা করেছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থিঙ্ক ট্যাংক ইনিশিয়েটিভ, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার এবং ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের গবেষণা সংস্থা ইফেকটিভ স্টেটস অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট (ইএসআইডি)। সম্মেলনের একটি কর্ম-অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাজনীতি কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। অর্থনীতির প্রসার রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন ধরনের সত্য আবির্ভূত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের উন্নয়নে এনজিও সম্পৃক্ত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সেবা প্রদান করছে এসব এনজিও। রেহমান সোবহানের মতে, এ দেশে বিপুলসংখ্যক সামাজিক কর্মী তৈরি হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পোশাক খাতে ৪০ লাখ কর্মী রয়েছেন। দুই হাজার উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। তাঁরা রপ্তানিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। এভাবে রাজনৈতিক সুবিধার বাইরে বিকল্প হিসেবে দেশের উন্নয়নে বেসরকারি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে, যা রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রূপ নিয়েছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, সংবিধান ও অন্যান্য উন্নয়ন দলিলে বাংলাদেশকে উন্নয়নমুখী ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে বলা হয়েছে। অথচ এ লক্ষ্যে প্রণীত বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুশাসনের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ফলে রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সুশাসনের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল হয়েছে। তা সত্ত্বেও গত দুই দশকে দারিদ্র্য বিমোচন ও জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো পরিচালিত হয়। বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থ ও সুবিধাগুলো স্থানীয় সাংসদের মাধ্যমে দেওয়া হয়। কিন্তু সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারায় এতে লুটপাট হয়, মানুষ সুফল পায় না। তাঁর মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কাঠামো বিরাজমান। এ ছাড়া দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব রয়েছে। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশের সংসদ যদি কার্যকর না থাকে, তাহলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠানও এ দেশে দুর্বল। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের অধ্যাপক ও ইএসআইডির গবেষণা পরিচালক কুনাল সেন বলেন, কার্যকর সুশাসনের দিক থেকে মধ্য ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থা ভালো। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মুশতাক এইচ খান বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করলে চলবে না। ভারতের অনেক রাজ্য বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। আবার অনেক রাজ্য বাংলাদেশের চেয়ে বেশ পিছিয়ে আছে। তবে ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো অনেক শক্তিশালী। সে কারণে ভারতের মতো দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয় এবং তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যও হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকেও সেভাবে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। নেপালের পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শংকর পি শর্মা বলেন, ‘নেপালে ১৩ বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সে কারণে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি বেড়ে গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। রাজনৈতিক অনাগ্রহের কারণেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি। যদি হেরে যাই—এই ভেবে ক্ষমতাসীন দল এই নির্বাচন দিচ্ছে না।’
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি একা একা একটা নির্বাচন করলাম। এরপর মনে করতে থাকলাম যে সবকিছু আমার। এটা যারা মনে করছে, তারা শিগগিরই বুঝতে পারবে এভাবে বেশি দিন দেশ চলবে না।’
৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘প্রক্সি ইলেকশন’ উল্লেখ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন ছাড়া দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর করা সম্ভব নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের (এসএমই) উদ্যোক্তারা শতভাগ ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু বড় ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে যান। অবশ্য তিনি এ-ও বলেন, উচ্চবিত্তদের বাজে চর্চা (ব্যাড কনডাক্ট) এবং সুশাসনের ঘাটতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ব্রায়ান অ্যালিমেকিন্ডারস বলেন, সুশাসন ছাড়া গণতন্ত্র আসবে না। আর গণতন্ত্র ছাড়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন হবে না। বাংলাদেশে এখন সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে। সুশাসনের জন্য এটা দূর করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, রাজনৈতিক অর্থনীতির মানে হলো কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। আবার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো অন্যান্য সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সরকারের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে। এর মাধ্যমে জনগণ সরকারকে বিচার করার সুযোগ পায়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিব, বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমান, ইএসআইডির কর্মসূচি ব্যবস্থাপক জুলিয়া ব্রান্ট প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আবেগে শুরু রোমাঞ্চে শেষ

আবেগে শুরু ও রোমাঞ্চে শেষ হলো অ্যাডিলেড টেস্ট। খেলার মাঠের ঘটনায় অসি ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজের মৃত্যুতে তার স্মৃতি নিয়ে আবেগঘন আবহ দেখা যায় এবারের অ্যাডিলেড ম্যাচ জুড়ে। আর ম্যাচের শেষ দিন টেস্ট ক্রিকেটের আসল রূপ-রস দেখলেন ভক্ত-সমর্থকরা। নাটকীয়তায় ভরপুর শেষ দিনে আদতে জয়ের সম্ভাবনা দেখা দেয় উভয় দলের। এতে কৃতিত্ব দিতে  হবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। গতকাল ম্যাচের সম্ভাবনা ছিল ড্র’তে সমাপ্তিরও। তবে অসি স্পিনার নাথান লায়নের ম্যাজিক নৈপুণ্যে জয় নিয়ে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখ স্বাগতিকদেরই।  চার ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারতকে ৪৮ রানে হারিয়ে ১-০তে এগিয়ে রইলো অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডিলেড টেস্টের পঞ্চমদিন ভারত তারকাদের ব্যাটিং নৈপুণ্যের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক নাথান লায়ন। ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে লায়নের শিকার ৭ উইকেট। এতে  লায়নের ম্যাচ ফিগার রেকর্ড ১২/২৮৬। ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলিং ফিগার এটি।  আগের রেকর্ডটি  অসি অপর স্পিনার জেসন ক্রেইজার ১২/৩৫৮। ২০০৮’র ভারত সফরে এ রেকর্ড গড়েন ক্রেইজা। আগের দিনের ২৯০/৫ সংগ্রহ নিয়ে গতকাল সকালে খেলা শুরুর আগে ইনিংস ঘোষণা করেন অসি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। এতে সারাদিনের ৯৮ ওভারে ভারতের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৩৬৪ রানের। এতে ভক্তরা ভারতের জয়ের সম্ভাবনা হয়তো কমই দেখছিলেন। সমীকরণটা ছিল- জয় পেতে হলে এখানে রেকর্ড ভাঙতে হবে ভারতকে। অ্যাডিলেডের মাঠে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩০৬ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড একবার। আর ভারতীয়দের দেশের বাইরে টেস্টের পঞ্চম দিনের পুরোটা ব্যাটিংয়ে কাটাতে দেখা গিয়েছিল গত দুই যুগে মাত্র তিনবার। তবে অ্যাডিলেডের মাঠে আরও একবার আলোকিত ব্যাটিং দেখালেন ভারতীয়রা। কঠিন টার্গেটের পেছনে দলীয় ৫৭ রানে ভারত দুই উইকেট খোয়ালেও দিনের পরের দুই ঘণ্টা ভারতীয় ওপেনার মুরলি বিজয় ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি দেখান ব্যাটিংয়ে ঝলক। তৃতীয় উইকেটে ১৮৫ রানের জুটি গড়ে তোলেন এ দুই ভারতীয় টপঅর্ডার। স্বাগতিকদের দুশ্চিন্তায় রেখে ২০৫/২ সংগ্রহ নিয়ে চা বিরতিতে যান কোহলি-মুরলি। ফিরেও এ জুটি অবিচ্ছিন্ন থাকে ৯ ওভার। তবে নার্ভাস নাইনটিতে ৬৯.১তম ওভারে মুরলি বিজয় উইকেট খোয়ান ব্যক্তিগত ৯৯ রানে। একই ওভারের শেষ বলে আজিঙ্কা রাহানের আউটে পথ পিচ্ছিল হয় ভারতীয়দের। দিনের শুরুতে শিখর ধাওয়ান হন আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার। আম্পায়ারের ভুলে কাটা পড়ে রাহানের উইকেটটিও। ব্যাট-গ্লাভসে বল না ছুঁলেও উভয়েই হন কট বিহাইন্ড। সদ্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২৫০ রানের অসম্ভব ইনিংস খেলে হৈচৈ ফেলা রোহিত শর্মা ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন অ্যাডিলেডের দ্বিতীয় ইনিংসেও। ব্যক্তিগত ৬ রানে উইকেট দেন রোহিত। তবে ক্রিজের একপ্রান্তে ভারতীয়দের স্বপ্ন ধরে রেখেছিলেন অধিনায়ক কোহলি। সফল স্পিনার নাথান লায়নের এক ওভারের পর বাউন্ডারি ছক্কা হাঁকিয়ে সামর্থ্য দেখান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রিদ্ধিমান সাহাও। তবে ওই ওভারে ১৫ রান তুলে নেয়ার পরও শেষ বলে ক্রিজ ছেড়ে অহেতুক বড় শট হাঁকাতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ে উইকেট বিসর্জন দেন রিদ্ধিমান। জয়ের জন্য তখনও ভারতের দরকার ১৮ ওভারে ৬৫ রান। এতে ক্রিজের অন্যপ্রান্তে লেজের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে চাপ বাড়ে বিরাট কোহলির ওপর। এতে বড় শট হাঁকাতে গিয়ে উইকেট দেন কোহলিও। পরে ১১ রানে শেষ চার উইকেট খুইয়ে ভারতের ইনিংস থেমে পড়ে ৩১৫ রানে।

ভারতীয় জেলেদের ছাড়িয়ে নিতে নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ কামনা

বাংলাদেশ থেকে ২৪ জেলেকে ছাড়িয়ে নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনুরোধ করেছে তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার। গতকাল এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। এতে বলা হয়েছে, গত ১৭ই নভেম্বর কলকাতার বেত্তুয়াগাড় থেকে তিনটি বোটে করে ২৪ জেলে গভীর সমুদ্রে যান মাছ ধরতে। গত ৯ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক নৌ-সীমানা অতিক্রম করার অভিযোগে তাদেরকে আটক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এসব জেলেকে ফিরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও. পানিরসেলভাম। তিনি এ বিষয়ে একটি চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। তাতে তিনি জেলেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বলেছেন, পরিবারের রুটি-রুজির একমাত্র ভরসা ওইসব জেলে। তাদেরকে আটক করায় মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে পরিবারের এসব সদস্য। তাই পানিরসেলভাম প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অনুরোধ করেছেন, তিনি যেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন এ বিষয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ‘তৃতীয় সিএসই উৎসব’শু

রাজধানীর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের চলছে ৩দিন ব্যাপী তৃতীয় সিএসই উৎসব। মেলায় এবারও প্রদর্শিত হচ্ছে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা দিক। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মূল ক্যাম্পাসও এখন সেজেছে বর্ণিল সাজে। গতকাল বৃৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডির মূল ক্যাম্পাসে উৎসবের উদ্বোধন করেন ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী। উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসই) অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। এছাড়া, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী হাসান রবিন। উৎসবে এবার ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৫টি কলেজের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছেন। টানা তিন দিনব্যাপী এই উৎসব চলবে আগামী ১৩ই ডিসেম্বর শনিবার পর্যন্ত। মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসই) অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের এখন প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীল হতে হবে। আর এই প্রত্যেক ক্ষেত্রে উৎপাদনশীল হতে হলে তথ্য প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সিএসই উৎসব একটি সময়োপযোগী আয়োজন। ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, এখান থেকে পাঁচ সহস্রাধিক স্নাতক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের চাহিদা পূরণ  করতে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি চেষ্টা করছে। তৃতীয় এই সিএসই উৎসবে এবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আইটি অলিম্পিয়াড, গেমিং কনটেস্ট, আইটি ফেয়ার, কর্মশালা এবং সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন। আগামী শনিবার শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান এই উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন।

কাদের মোল্লার ছেলে যা বলেন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিল বলেছেন, ‘আমার বাবা দুনিয়া থেকে বিদায়ের আগে জানতেই পারলেন না, সংবিধান অনুসারে তার রিভিউ করার অধিকার আছে কিনা। যখন আইনের পূর্ণাঙ্গ আশ্রয় নেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তখন সেটা হত্যাকা- ছাড়া আর কিছু নয়।’ গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার পিতাকে হত্যার ৩৪৮ দিন পর আপিল বিভাগ থেকে আমার বাবার দায়ের করা রিভিউ আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এই রায়ে রিভিউ মেইনটেইনেবল বলে সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন। সেখানে বলা হয়, রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করা যাবে। অথচ রায় প্রকাশের সাত দিনের মাথায় তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।’ কাদের মোল্লার ছেলে বলেন, ‘এই সরকার আমার পিতাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এমনকি এই জালেম সরকার আমার পরিবারের সদস্যদের জানাজায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়নি। আমার বাবার মৃতদেহ শেষবারের মতো একবার দেখার সুযোগও দেয়া হয়নি। ওই রাতে আমাদের পরিবারের ওপর হামলা হলো, জেলে নেয়া হলো। এটা এত বড় জুলুম, যা অবশ্যই দেশবাসী বিচার করবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ার জাহান, দুই আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান ও সাইফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ভিন্ন আয়োজনে মিমি

বর্তমানে স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাজমিন মিমি। শো-এর ব্যস্ততা সারা বছর থাকলেও গত এক মাসে সেই মাত্রাটা খানিক বেড়ে গেছে। শো-এর মওসুম হওয়াতেই মূলত এমনটা হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেই স্টেজ মাতাচ্ছেন মিমি। স্টেজের পাশাপাশি তিনি অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানেও। তবে নতুন খবর হলো দুই বছরের ব্যবধানে এরই মধ্যে মিমি কাজ শুরু করেছেন নিজের চতুর্থ একক অ্যালবামের। তার সর্বশেষ একক অ্যালবাম ছিল ‘আড়াল’। হৃদয় খানের সুর-সংগীতে সেই অ্যালবামে মিমির গাওয়া গানগুলো শ্রোতামহলে প্রশংসিত হয়। তাই বেশ ভিন্ন আয়োজনে নিজের অ্যালবাম নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে অ্যালবামের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তার এ অ্যালবামের জন্য কয়েকটি গানের সুর করছেন কলকাতার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা। দুটি গান মিমির জন্য তৈরিও করেছেন তিনি। অনেক দিন ধরেই নচিকেতার সুরে গান করার পরিকল্পনা চলছিল। নচিকেতা নিজে থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মিমির জন্য গান করার। তারই ধারাবাহিকতায় তার সুরে দুটি গান করেছেন মিমি। এর মধ্যে তার সঙ্গে দ্বৈত গানও গেয়েছেন। গান দুটি হলো ‘ফিরে আসতে হবে’ ও ‘অচেনা পথ’। মিমির অ্যালবামের জন্য আরও কিছু গান করার কথা রয়েছে এ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর। এ অ্যালবামের জন্য আরও গান করতে পারেন দেশের সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীও। সম্পূর্ণ নিজের মনের মতো করে ক্যারিয়ারের এ চতুর্থ এককটি করছেন মিমি। নতুন বছরেই এটি শ্রোতাদের হাতে তুলে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে মিমি বলেন, শো-এর ব্যস্ততার পাশাপাশি চতুর্থ এককের কাজ শুরু করেছি। সম্পূর্ণ ভিন্ন আয়োজনে এর কাজ করছি। নিজের মনের মতো কথা-সুরের মাধ্যমে গানগুলো সাজাচ্ছি। আশা করছি গানগুলো সবার ভাল লাগবে।

তৃপ্ত মম

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে রকিবুল আলম রকিব পরিচালিত ছবি ‘প্রেম করব তোমার সাথে’। এতে জায়েদ খান ও আনিসুর রহমান মিলনের সঙ্গে জুটিবেঁধে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। আর এ ছবির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর চলচ্চিত্রে ফিরলেন তিনি। মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়াই পাচ্ছেন বলে জানান মম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা ছবির ফলাফল নিয়ে বলতে গেলে আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন। অন্তত আরও দুটি সপ্তাহ পর বলা যাবে। তবে এর মধ্যে যতটুকু দেখলাম তাতে ইতিবাচক সাড়াই পাচ্ছি। যেখানে যাচ্ছি সবাই প্রশংসা করছেন। আমার যতটুকু আশা ছিল তার অনেকটাই পূরণ হতে চলেছে বলে ভালই লাগছে। আশা করি ছবিটি থেকে আরও ভাল ফল পাবো। নতুন এ ছবিতে শহরের নামীদামি ব্যবসায়ী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের ভাগ্নির চরিত্রে অভিনয় করেছেন মম। তার সঙ্গেই গড়ে ওঠে জায়েদ খানের প্রেমের সম্পর্ক। ঘটনাচক্রে জায়েদ খান খুনের আসামি হয়ে যান। এর মাঝে পুলিশ অফিসার হিসেবে আবির্ভাব ঘটে মিলনের। এভাবেই ছবির গল্প এগিয়ে যায়। ছবিতে নিজের অভিনয় প্রসঙ্গে মম বলেন, আমি বরাবরই অভিনয়ের জায়গাটাকে বেশি গুরুত্ব দিই। এ ছবিতেও সেটাই করার চেষ্টা করেছি। দর্শক আমার কাছ থেকে যেমনটা চেয়েছিলেন তার পুরোটা দেয়ার জন্য নিজেকে উজাড় করে অভিনয় করেছি। ২০০৭ থেকে ২০১৪। সাত বছরের একটা লম্বা বিরতি। অবশ্য বিরতি দিয়ে মম কিন্তু বসে থাকেননি। নিজেকে একটু একটু করে তৈরি করেছেন বড় পর্দার জন্য। ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবিতে অভিনয়ের কল্যাণে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হলেও নিজেকে বড় পর্দায় একজন বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা হিসেবে দেখতে চেয়েছেন সব সময়। আর তাই সময় নিয়ে আবারও চলচ্চিত্রে পা রেখেছেন। সেদিক থেকে তার এ অপেক্ষা অনেকটা কাজে লেগেছে কথাটা বলাই যায়। এ প্রসঙ্গে মম বলেন, সময় নিয়েছি। সংসার, পড়ালেখা আর টিভিপর্দায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রস্তুত করেছি। এখন একজন নায়িকারূপে চলচ্চিত্রে অভিনয় করলাম। যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে তাতে আমি তৃপ্ত। এ তৃপ্তি যেন নিজের মাঝে সব সময় থাকে সেজন্য সবার দোয়া কামনা করছি। এদিকে আগামী বছরই মুক্তি পেতে যাচ্ছে মম অভিনীত দ্বিতীয় বাণিজ্যিক ধারার ছবি ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। এতে তার বিপরীতে রয়েছেন আরেফিন শুভ। এরই মধ্যে ছবির গানের অ্যালবামও প্রকাশ পেয়েছে। ‘প্রেম করব তোমার সাথে’র মতো নতুন এ ছবি নিয়েও মমর ব্যাপক প্রত্যাশা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ছবিটি নিয়ে আরও বেশি প্রত্যাশী। এ ছবিতে আমাকে আরও ভিন্নরূপে দেখা যাবে। বলতে পারেন নতুন বছরে দর্শকের জন্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হবো।

রাজধানীর ২১ প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা বোর্ডের শোকজ

রাজধানীর শীর্ষ ২১টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা ফেরত না দেয়ার অভিযোগে তাদের শোকজ করা হয়েছে। গতকাল এসব প্রতিষ্ঠানকে শোকজ পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর বাঙলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, ন্যাশানাল আইডিয়াল কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, রায়হান কলেজ, উদয়ন বিদ্যালয়, আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী, ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মনিপুর স্কুল, আলিমুদ্দিন স্কুল, আদর্শ বিদ্যালয়, মিরপুর স্মৃতি বিদ্যালয়, আনন্দময়ী বালিকা বিদ্যালয়, ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল, আরমানিটোলা সরকারি বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নৈয়ারবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৭ দিনের শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিলারা হাফিজ। কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, বোর্ডের কাছে যেটুকু ক্ষমতা আছে সবটুকু প্রয়োগের চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, প্রয়োজনে ওইসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিতসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আমরা আশা করবো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানগুলো আদায় করা অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়ে  দেবে। শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন সকল জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠানো এই শোকজে বলা হয়, ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে যারা আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকা ফেরত প্রদান করেননি তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দেয়া হলো। এর আগে ৩০শে নভেম্বর বোর্ডের নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকায় আদায় করায় ২৬ প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় বোর্ড।

জাপা নেতা মসীহ সৌদিতে, শহীদুল মালয়েশিয়ার দূত

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য মিলেছে। সূত্র মতে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল আসার পর জাপা নেতা মসীহ’র এগ্রিমো সৌদি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তার নিয়োগ চূড়ান্ত হলে তিনি হবেন জাপা কোটায় প্রথম রাষ্ট্রদূত। অবশ্য দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয়েছে নির্বাচনের পরপরই। তবে এখনও সুনির্দিষ্টভাবে তাকে কোন দায়িত্ব দেয়া হয়নি। রাজনীতিক গোলাম মসীহ ১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বৃটিশ পেট্রোলিয়াম  কোম্পানির আইন বিভাগে চাকরি করেন। লন্ডনে থাকাকালে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

ভালবাসার ভেলায় তানভীর-জেনি

ক্যামেরার পেছনের মানুষদের সঙ্গে অভিনেত্রীদের সম্পর্কের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। দেশীয় শোবিজ তারকা সুবর্ণা মুস্তাফা-বদরুল আনাম সৌদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকি-নুসরাত ইমরোজ তিশা, জাকিয়া বারী মম-এজাজ মুন্নারা প্রেম-বিয়ের পর এখন দিব্যি সংসার করছেন। তারই ধারাবাহিকতায়  কিছুদিন ধরে চ্যানেল নাইনের অনুষ্ঠান প্রধান তানভীর খানের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেছে মডেল-অভিনেত্রী জেনির। তবে এ গুঞ্জনটি তখনই বেশি পাখা মেলে, যখন তানভীর খান জেনির সঙ্গে কয়েকটি ছবি তুলে তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন। তাদের এসব ছবিতে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন অনেকে। জানা গেছে, ভালবাসার ভেলায় দীর্ঘ সময় ধরেই তানভীর খান ও জেনি ভেসে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি অবশ্য গোপনও রাখতে চাননি তারা। এদিক থেকে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এই প্রেমিকযুগল। তবে সম্পর্ক নিয়ে কানাঘুষা চললেও এ বিষয়ে কোন বক্তব্য আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি তানভীর খান ও জেনির। গতকাল নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি মানবজমিনের কাছে স্বীকার করেছেন তারা। সম্পর্কটা অনেক গভীর হলেও এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন না এ প্রেমিকযুগল। দু’জনই কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। কাজের ব্যস্ততাটা কমে এলে যখন তাদের মনে হবে বিয়ে করা উচিত, ঠিক তখনই সিদ্ধান্তটা নেবেন। সবাইকে জানিয়েই শুভ কাজটি সারবেন বলেও জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে তানভীর খান মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, এটা আসলে প্রচারেরও কিছু নেই আবারও লুকানোরও কিছু নেই। এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত বিষয়। তবে হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। এটা আমাদের কাছের মানুষদের প্রায় সবাই জানেন। তারা শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন আমাদের। বিয়ের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তানভীর খান বলেন, এখনও এ বিষয়ে কিছু ভাবছি না। কারণ, আমরা দু’জনই স্ব স্ব কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কাজের ব্যস্ততা কমলে হয়তো তখন আমরা কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাবো। দেখা যাক কি হয়। এদিকে তানভীর খান ও জেনির সম্পর্কের বিষয়টি এরই মধ্যে ‘টক অব দ্যা শাবিজ’ এ পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়াসংশ্লিষ্ট অনেকেই নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। তানভীর খানের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে অভিনেত্রী জেনি মানবজমিনকে বলেন, তানভীর খান ও আমার সম্পর্ক চলছে এটা সত্যি। তবে এটি খুব ইতিবাচক বিষয়। বিষয়টি যেন নেতিবাচক দৃষ্টিতে প্রকাশ না হয় মিডিয়ায় সেটাই প্রত্যাশা থাকবে। তানভীরের সঙ্গে সম্পর্কের বয়সটা একদম কম নয়, আবার বেশিও নয়। তবে আমরা দু’জন দু’জনকে অনেক বুঝি। এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। বিয়ের বার্তা সামনে আসছে কিনা- এমন প্রশ্নে জেনি খানিক হেসে বলেন, সম্পর্কের পরিণতি হচ্ছে বিয়ে। তবে দু’জনই আমরা কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কাজের ব্যস্ততাটা শেষ হলেই সুখবরটি আসবে। তখনই পারিবারিকভাবে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। উল্লেখ্য, এর আগে নির্মাতা অমিতাভ রেজার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল জেনির। তবে বছর দু’য়েকের মধ্যেই সেই সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর একাই থেকেছেন তিনি।

ক্রিকেটাঙ্গনে থমথমে নীরবতা

অনেক স্বপ্ন নিয়ে গড়া দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের টিকে থাকার খেলা দেখা গেল না লুৎফর রহমান বাদলকে। আগের রাতেই তিনি জেনে গিয়েছিলেন তাকে নিষিদ্ধের ফরমান। লাগাম ছাড়া কথার জের যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা আগে আঁচ করতে পারেন নি ক্রিকেটে অন্তপ্রাণ এ সংগঠক। যখন বুঝতে পেরে বিবৃতি দিলেন তখন তা আর কাজে দেয় নি। ফলে ক্ষমতাসীনদের দাপটে তার ওপর নেমে আসে নিষেধাজ্ঞার খড়গ। বিসিবি সভাপতি ও কর্তাদের উদ্দেশে তার গালাগাল নিন্দনীয় ছিল, ছিল মাত্রা ছাড়া কিন্তু তার ওপর আরোপিত শাস্তিও কি মাত্রার বাইরে হলো না-এ বিতর্ক এখন ক্রীড়াঙ্গনে। যেখানে পাতানো ম্যাচ খেলার দায়ে কেউ আজীবন নিষিদ্ধ হন না সেখানে এ শাস্তি প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া লুৎফরকে গালিগালাজ করে যারা মিছিল-মিটিং করলেন তারাই বা কেন শাস্তির উর্ধ্বে? পক্ষ বা প্রতিপক্ষ সংগঠকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারা এ সংগঠক আগে থেকেই অনেকের চক্ষুশূল। মোহমেডান, ভিক্টোরিয়া হয়ে শেষ পর্যন্ত গত আসরে নিজেই কিনে নেন একটি ক্লাব। দলকে শিরোপা জেতান প্রথম আসরেই। এবারও ওই দল গড়েন শিরোপা জেতার লক্ষ্যে। নাম পরিবর্তন করেন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার শচীনকে উড়িয়ে এনে। তার রাতারাতি আলোচনায় উঠে আসা অনেকের কাছে তাকে ঈর্ষার পাত্রে পরিণত করে। ফলে তাকে ঘায়েল করার জন্য ওৎ পেতে ছিলেন অনেকেই। অপেক্ষায় ছিলেন তার ভুলের। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন-এই সত্যের উদাহরণ রেখে তাদের পাতা ফাঁদে পা দিলেন অনেকেরই প্রিয় এ সংগঠক। তিনি যাদের প্রিয়পাত্র, ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে তারাও এখন নীরব দর্শক। গতকাল ফতুল্লাহ স্টেডিয়ামে ছিল প্রিমিয়ার লীগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অস্তিত্বের লড়াই। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে মুশফিকুর রহীমের প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়ে সুপার লীগে খেলার আশা দলটি বাঁচিয়ে রেখেছে সুপার লীগে খেলার আশা। কিন্তু দলের জয়ের পরও ক্লাবটির দুই-একজন কর্মকর্তাকে দেখা গেলেও তারা ছিলেন ভারাক্রান্ত। লুৎফর রহমান ছাড়াও মাঠে আসেননি ৫ বছরে জন্য নিষিদ্ধ যুগ্ম সম্পাদক ও ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম টিটু ও ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ দলটির কর্মকর্তা সাব্বির রহমান রুবেলও। এই তিন জনের মুঠো ফোনও সারাদিনই বন্ধ ছিল। লুৎফর রহমান বাদলের কাওরান বাজারস্থ অফিস সূত্রে জানা যায় তিনি রয়েছেন দেশের বাইরে। আর এ বিষয়ে যেহেতু বিসিবি’র কাছ থেকে অনুষ্ঠানিক কোন চিঠি তারা পাননি তাই এখনই তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি নন। জানা গেছে, ফতুল্লা থানায় দায়ের করা মামলার জেরে গতকাল সকালে টিটুর বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে সংবাদটির সত্যতা জানেন না বলে জানিয়েছেন মামলার বাদি ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার বাবুল মিয়া। এমনকি টিটুর সঙ্গেও এই ঘটনার সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে লুৎফর রহমান বাদল ও তার সহযোগীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কেউই কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর আগে বিসিবি’র সভাপতি ও পরিচালকদের সম্পর্কে বাদলের করা আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে সিসিডিএম ও আম্পায়ার্স কমিটির সুপারিশে বিসিবি’র ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে বিসিবি’র সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেন। এ সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ইমেইলের মাধ্যমে প্রেরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় ‘সিসিডিএম ও আম্পায়ার্স কমিটির সুপারিশক্রমে বিসিবি’র ডিসিপ্লিনারি কমিটি এক জরুরি সভার আয়োজন করে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ারম্যান জনাব লুৎফর রহমান বাদল কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সহ নির্বাচিত পর্ষদ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সম্পর্কে অশালীন, আপত্তিকর, শিষ্টাচার বর্হিভূত আচরণ এবং ক্রিকেটকে অবমাননা করে মিথ্যা ভিত্তিহীন বক্তব্যের উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। উল্লেখ্য যে, উক্ত মন্তব্য দেশ ও বিদেশে বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।’ এ বিষয়ে সভায় তাকে বিসিবি’র অধিনস্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সঙ্গে উদ্ধত আচরণের জন্য দলটির ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম টিটুকে ৫ বছরে জন্য  ও কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদকে ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গতকাল শেষ বিকলে দলের জয়ের পর মাঠে আসেন দলের সেক্রেটারি রিচার্ডস। তবে তিনি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি দলের ক্রিকেটারদেরও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কোন রকম কথা বলতে দেয়া হয়নি। লুৎফর রহমান বাদল এর আগে নানা ঘটনায় তার নিজ ক্লাব মোহামেডান থেকে বেরিয়ে ভিক্টোরিয়া ক্লাব কিনে নিয়েছিলেন। সে বছরই সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে দলে টেনে তিনি দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। এরপর ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তিনি গাজী ট্যাংক ক্লাব কিনে নিয়ে লীগে অংশ নেন। সেই দলেও ছিলেন সাকিব- তামিম। এবার তারই নাম বদলে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ রাখেন নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেয়া লুৎফর রহমান।

‘সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় কোষ্টগার্ডের ভূমিকা অপরিসীম’

নদ-নদীর নিরাপত্তায় কোষ্টগার্ডের অপরিসীম ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোষ্টগার্ড প্রশিক্ষণ ঘাটি ‘সিজি বেইজ অগ্রযাত্রা’ দক্ষিণাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে। আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর রসুলপুর (দূর্গাপুর) এলাকায় এই প্রশিক্ষণ ঘাটি উদ্বোধন শেষে কোষ্টগার্ড সদস্যদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রে চোরাচালন রোধ, জলদস্যুতা নিয়ন্ত্রণ, মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় কোষ্ট গার্ডের এ ঘাটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আর্ন্তজাতিকভাবে ভৌগলিক দিক থেকে বঙ্গোপসাগরের ভূমিকা গূরুত্বপূর্ণ। ফলে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় এ ক্ষেত্রকে রক্ষায় কোষ্ট গার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূ-খন্ডের প্রায় সমপরিমান সমুদ্র এলাকা এবং এর সম্পদের ওপর আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্পদ আহরণসহ সমূদ্র এলাকায় সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করেছি। জাতির পিতার স্বপ্নে ‘ব্লু ইকোনমি’র ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর। আমাদের সমূদ্র সম্পদ সঠিক ভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন সমুদ্র এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা। আর এ জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী সামদ্রিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোষ্ট গার্ডের মূল মন্ত্র হলো ‘সমুদ্রের অভিভাবক’। তাই বাংলাদেশ কোষ্টগার্ডের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছি। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষন নদীমাতৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরণীর জলজ সম্পদ সুরক্ষা এবং নদ নদীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কোষ্টগার্ডের ভূমিকা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পটুয়াখালীতে নবনির্মিত পায়রা সমুদ্র বন্দরের নিরাপত্তা প্রদানেও কোষ্টগার্ড অন্যন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। মাদক ও মানব সম্পদ পাচার রোধেও কোষ্ট গার্ডের ভূমিকা উত্তরোত্তর বাড়ছে। নতুন নতুন দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তুলতে আমরা কোষ্ট গার্ডকে একটি যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের একাধিক সদস্য, রাজনৈতিক, সামরিক এবং বে-সামরিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তেল সংগ্রহে শ’ শ’ নারী-পুরুষ


বনবিভাগের উদাসীনতার কারণেই সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়েছে এমন অভিযোগ সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের। তারা বলছেন, ট্যাংকার দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বনকর্মীরা সচেষ্ট হলে তেল বেশি দূর এগোতে পারতো না। ছড়িয়ে পড়তো না সুন্দরবনের আনাচে-কানাচে। বনবিভাগের অলসতা আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই সুন্দরবনের এই মহাবিপর্যয়। তাদের মতে, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ অফিস থেকে শেলা নদীর ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব মাত্র এক থেকে দেড় কিলোমিটার। মঙ্গলবার ভোরে যখন ট্যাঙ্কারটির খোল ফেটে তেল বের হতে থাকে তখন শেলা নদীতে প্রায় প্রথম জোয়ার। মরা কটালের কারণে নদীতে স্রোতও তেমন ছিল না। তাছাড়া, শেলা নদীতে জোয়ার ঢোকে দু’দিক থেকে। আর এ নদীর প্রস্থ মাত্র ২/৩ শ’ গজের মতো। দুর্ঘটনার পরপরই বনবিভাগ নদীর দু’পাশ নেট দিয়ে আটকিয়ে রাখলে ভাসমান তেল এত গড়াতো না। সেভ দ্য সুন্দরবনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, তেল দূষণে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ মহাবিপর্যয়ের মুখে। সুন্দরবন রক্ষায় মাঠ পর্যায়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে বনবিভাগের। তারা তাৎক্ষণিক ভাবে দ্রুত উদ্যোগ নিলে ভাসমান তেলকে ঠেকানো যেতো। তিনি বলেন, দূষিত তেল প্রায় ১শ’ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়েছে। আর এখন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ভাসমান তেল সংগ্রহ করার। এটা হাস্যকর হলেও কিছুটা উপকারে আসবে। মংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি ও উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূর আলম বলেন, এখন ঢাকঢোল পিটিয়ে যে ভাবে তেল তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, প্রথমদিনই এ কাজটা করা যেতো। শেলা নদীতে ২/৩ কিলোমিটার পরপর বনবিভাগের অফিস রয়েছে। তারা ইচ্ছা করলে ভাসমান তেলকে ঠেকাতে পারতেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনের প্রতি খোদ বনবিভাগ যে আন্তরিক নয় সে প্রমাণ পাওয়া গেল। ফলে অপূরণীয় ক্ষতি হলো সুন্দরবনের। চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ বিভিন্ন মহলকে অবগত করেছি। পদক্ষেপ নিয়ে কাজ শুরু করতে করতে তেল অনেক দূর ছড়িয়েছে। তাছাড়া, ভাসমান তেল ঠেকাতে তাৎক্ষণিক কি করণীয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত পেতেও দেরি হয়েছে।
ওদিকে, বিপর্যয় ঠেকাতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ের শ’ শ’ নারী-পুরুষ। যে যেভাবে পারছেন তুলে আনছেন নদীর ভাসমান তেল। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এদের সহযোগিতা করছেন। শনিবার বিকাল পর্যন্ত প্রায় ৮০০০ লিটার ভাসমান তেল সংগ্রহ করা হয়েছে। জয়মণির ঘোল এলাকার কয়েক শ’ নারী-পুরুষ তেল সংগ্রহে নেমেছেন। পদ্মা অয়েল কোম্পানির ঠিকাদার ৩০ টাকা লিটার দরে এ তেল কিনে রাখছেন। কোস্টগার্ড, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন বিভাগ ও বিআইডব্লিউটিএ সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ভাসমান তেল সংগ্রহ অভিযান তদারক করছেন। ভাসমান তেলের মাত্রা কমে যাওয়ায় পরিষ্কার হতে শুরু করেছে শেলা ও পশুর নদীর কালো পানি। নদীতে গাঢ় ভাসমান তেল এখন আর চোখে পড়ছে না। তেল সংগ্রহকারী জয়মণি এলাকার বাসিন্দা আবদুল সাত্তার (৪৭) জানান, গত দু’দিনে তিনি একাই ৪২ লিটার তেল সংগ্রহ করেছেন। এতে তার আয় হয়েছে ১২৬০ টাকা। তিনি বলেন, ‘টাহা বড় কতা না, এই ত্যাল নদীতে থাকলে মাচ মরবে, বনের ক্ষতি অইবে, কেউ না কইলেও মোরা নিজেরাই এই ত্যাল তুইল্যা হালাইতাম।’ একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ (৩৫) বলেন, ‘হুনছি তেলের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হইবে, মোরা জীবন দিয়া হইলেও এই ক্ষতি অইতে দিমু না, সুন্দরবন ও নদী আমাগো রুটি-রুজির জাগা।’ মংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানান, শনিবার বিকাল পর্যন্ত প্রায় ৮০০০ লিটার তেল সংগ্রহ হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে নৌপরিহন মন্ত্রী শাজাহান খান শনিবার দুপুরে জয়মণির ঘোল পরিদর্শন করেছেন। এ সময়ে তিনি ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে সকালে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় তিনি যোগ দেন। পরে বিকালে তিনি মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-রুট সরজমিন ঘুরে দেখেন। রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। অন্যদিকে তেল দূষণে সুন্দরবনের বিপর্যয়ের প্রতিবাদে রোববার সকালে মংলা পৌরসভার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে মংলার নাগরিক সমাজ। বেসরকারি সংস্থা গঠন, পবা, বারসিক ও সার্ভিস বাংলাদেশসহ সচেতন নাগরিকরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
সুজনের মানববন্ধন: সুন্দরবন ও সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার দাবিতে গতকাল বাগেরহাট শহরে মানববন্ধন ও পথসভা করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বিকালে শহরের মিঠাপুকুর পাড়ে খানজাহান আলী সড়কে সুজনের জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। মানববন্ধনে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ও ঘষিয়াখালী-মংলা নৌপথে স্থায়ীভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের দাবি জানানো হয়। পথসভায় বক্তারা বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে তাগাদা দেয়ার পরও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধ না করায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ এক মহাবিপর্যয়ের মুখে। বাগেরহাটের মানুষ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে এই নৌপথ চিরদিনের মতো বন্ধ দেখতে চায়। পাশাপাশি লবণ পানি থেকে এলাকার কৃষি ও মাটি বাঁচাতে বাগেরহাটবাসী ঘষিয়াখালী-মংলা নৌ চ্যানেলও বন্ধ দেখতে চায়। পথসভায় বক্তব্য দেন সুজন বাগেরহাট জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো.  মোজাফফর হোসেন, সহ-সভাপতি শেখ আসাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক পারভীন আহমেদ, বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের অধ্যাপক আমিরুল আলম, মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ফরিদা বেগম, তহুরা বেগম প্রমুখ।

সৌদি আরব থেকে ৯০ সহস্রাধিক অভিবাসী ফেরত

সৌদি আরবে অবৈধভাবে বসবাসকারী ৯০ সহস্রাধিক অভিবাসী কর্মীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এতো বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে পাঠানো হয়েছে মাত্র ৪০ দিনের ব্যবধানে। অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের শনাক্ত এবং দেশে ফেরত পাঠাতে পদক্ষেপ জোরদার করেছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে চলছে অভিযান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ। সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগ একাধিক স্পন্সরের জন্য কর্মরত ছিলেন। অবৈধ অভিবাসী বিরোধী কর্মসূচীতে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় অভিযান চালানোর জন্য সম্প্রতি যোগ করা হয়েছে হেলিকপ্টার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪০ দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট এক লাখ আট হাজার ৩৪৫ জন অভিবাসীকে। এর মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে ৯০ হাজার ৩৪৫ জনকে। বাকিদের বর্তমানে বিভিন্ন প্রদেশের ডিপোর্টেশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

‘সবুজ পণ্যে ৪% সুদে ঋণ দেয়া হবে’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, খাদ্যশস্য চাষাবাদের জন্য কৃষকরা মাত্র ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ পেয়ে থাকেন। সবুজ পণ্য উৎপাদনেও এই রেয়াতি ঋণ দেয়া হবে। গতাকল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নিওস্টার্ট ইনোভিঅ্যাশন আয়োজিত ‘গ্রিন ফাইন্যান্স ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’- শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। আতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে ঋণ সুবিধার ফলে উৎপাদন বেড়েছে। এতে খাদ্যে বৈদেশিক নির্ভরতা কমছে। এখন ঈদ-পূজায় আদা, রসুন, পিয়াজের মতো খাদ্যশস্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। তিনি বলেন, সবুজ পণ্য উৎপাদনের সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর তাদেরকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে তারা সবুজ পণ্য উৎপাদনে আরও উৎসাহী হবে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনীতির গতি তরান্বিত হবে। গভর্নর বলেন, উদ্ভাবনী সবুজ পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করে দেশের জনবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

গ্রীন ব্যাকিংয়ের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলে পরিবেশ সহায়ক এবং জলবাযু পরিবর্তন মোকবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। সেমিনারে বক্তারা বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু মোকাবিলায় সবুজায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই সবুজ পণ্য উৎপাদনে অর্থায়নের প্রয়োজন। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন- সবুজায়ন সহায়ক প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের সিইও নুরুল আক্তার, রহিম আফরোজ রিনিউঅ্যাবল এনার্জি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনোয়ার মিজবাহ মঈন, নিওস্টার্ট ইনোভিঅ্যাশনের সিইও অ্যাডওয়ার্ড অপূর্ব সিংহ প্রমুখ।

চাষী নজরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি

বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘ওরা ১১ জন’-এর পরিচালক অসুস্থ চাষী নজরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ল্যাব এইডে চিকিৎসাধীন এই গুণী নির্মাতার পুরো শরীরে পানি চলে এসেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলে আজ জানিয়েছেন চাষী নজরুল ইসলামের স্ত্রী জ্যোৎস্না কাজী। তিনি চাষী নজরুল ইসলামের সুস্থতার জন্য সবার দোয়া কামনা করেছেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বাধিক মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্যনির্ভর ছবির পরিচালক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’, ‘মেঘের পরে মেঘ’ এবং ‘ধ্রুবতারা’ নির্মাণ করেন। পাশাপাশি তিনি সাহিত্যনির্ভর ছবি ‘চন্দ্রনাথ’, ‘শুভদা’, ‘দেবদাস’, ‘রঙিন দেবদাস’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ নির্মাণ করেন। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তিনি দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বস্তরের মানুষ চাষী নজরুল ইসলামের আশু রোগমুক্তি কামনা করেছেন।

ড্যান মজিনাকে নিয়ে ‘উইথ শাইখ সিরাজ’

বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারধর্মী অনুুষ্ঠান ‘উইথ শাইখ সিরাজ’ চ্যানেল আইতে প্রচার হবে ১৮ই ডিসেম্বর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে। ওই অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের সঙ্গে আলাপচারিতায় ড্যান মজিনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক। তিনি করিৎকর্মা, উৎসাহী ও সফল জাতি হিসেবে বাঙালি জাতিকে আখ্যায়িত করে বলেছেন, উন্নয়নমনোষ্ক এই জনগোষ্ঠি সবক্ষেত্রেই এখন বিশ্ববাসীর সামনে সাফল্যের উদাহরণ গড়ে তুলছে। তিনি এদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে শাইখ সিরাজের নিরলস উন্নয়ন সাংবাদিকতা ও চ্যানেল আইয়ের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, এখানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে উঠেছে।

বৃটেনের সর্ববৃহৎ পরিবারে আসছে ১৮তম সন্তান

বৃটেনের সর্ববৃহৎ পরিবারের তকমা র‌্যাডফোর্ড দম্পতির। নোয়েল (৪৩) ও তার স্ত্রী সু (৩৯) ১৫ সন্তানের পিতা-মাতা। এছাড়া রয়েছে দুই নাতি নাতনী। তারা ফেসবুকে জানিয়েছেন, তাদের পরিবারে আসছে ১৮ তম সদস্য। আর অনাগত এ শিশুই হবে তাদের শেষ সন্তান। এমনটাই ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বৃটেনের ট্যাবলয়েড মিররের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রাণোচ্ছল এ পরিবারের গল্প। ফেসবুকে ঘোষণার তারা আরও বলেছেন, নিজেদের অসম্ভব সৌভাগ্যবান আর আশীর্বাদপুষ্ট বলে অনুভব করছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়ার পরপরই মুহুর্তেই তাদের এক লাখ তিরিশ হাজার ফলোয়ার তাদের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। র‌্যাডফোর্ড দম্পতি ল্যাঙ্কাশায়ারের মোরেক্যাম্বেতে একটি বেকারি চালান। তাদের ব্যবসা দারুন সফল। নিয়মিত শিশু ভাতা ছাড়া বিশাল এ পরিবার চালাতে অতিরিক্ত কোন সরকারী সুবিধা নেয়ার প্রয়োজন পড়েনি তাদের। তারা বলেন, অনাগত সন্তানকে নিয়ে উচ্ছসিত তারা। এটাকে সর্বোত্তম ক্রিসমাস উপহার বলে মনে করছেন তারা। ১৫ ভাইবোনের মধ্যেও বিরাজ করছে আনন্দঘন আবহ। নতুন ভাই বা বোনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষ করছে তারা। নোয়েল ও সু’র মধ্যে প্রেমের বন্ধন সেই ছেলেবেলা থেকে। সু প্রথম অন্তস্বত্ত্বা হয়েছিলেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। প্রথম সন্তান ক্রিসের বয়স এখন ২৫। ক্রিসের পর তাদের সংসার আলো করে এসেছে ক্লোয়ি ১৯, জ্যাক ১৭, ড্যানিয়েল ১৫, লুক ১৪, মিলি ১৩, কেইটি ১২, জেমস ১১, ইলাই ৯, এইমি ৮, জশ ৭, ম্যাক্স ৬, টিলি ৪, অস্কার ৩, এবং ক্যাসপার ২। জুলাই মাসে ২১ সপ্তাহ অন্তস্বত্ত্বা অবস্থায় ‘অ্যালফি’ নামক অনাগত সন্তানকে হারায় র‌্যাডফোর্ড দম্পতি। এরপর তারা আবার সন্তান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন এটাই হবে তাদের শেষ সন্তান।

ইবোলা মহামারিতে এতিম সুইটির আকুল আবেদন- ‘তুমি কি আমাকে নেবে?’

চার বছরের সুইটি সুইটি। তার বাবা ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পরপারে চলে গেছে তার বোনও। রক্তবমি করতে করতে তার মাও এখন মৃত্যুপথযাত্রী। সিয়েরা লিওনের সুইটি এখন নিরুপায়। এক পরিদর্শককে দেখতে পেয়ে নিষ্পাপ এ শিশুটির আকুল নিবেদন ছিল- ‘তুমি কি আমাকে নেবে?’ নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সুইটির হৃদয়স্পর্শী গল্প। বাড়ির সামনে অ্যাম্বুলেন্স আসার পর তার মা উঠে পড়ে তাতে। পেছন পেছন সুইটিও উঠে পড়ে। তাদের পুরো বাড়িতে মড়কের মতো আঘাত হেনেছে ইবোলা। সুইটির মধ্যে অবশ্য ইবোলার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। তারপরও গ্রামের কেউ তাকে নিতে চায়নি। এমনটি আত্মীয় স্বজনরা নয়। সবাই আতঙ্কিত। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় মায়ের সঙ্গে সে চলে যায় ইবোলা ক্লিনিকের রেড জোন পর্যন্ত। ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্থানে কাটিয়ে দেয় দু সপ্তাহেরও বেশি। সেখানে সুইটি ছাড়া আর যারা সুস্থ ব্যক্তিরা রয়েছেন তাদের প্রত্যেকে বিশেষ স্যুট পরিহিত। সুইটির মায়ের স্বাস্থ্য ক্রমে অবনতি হচ্ছিল। সুইটি সুইটি ওষুধ খাওয়ার জন্য মাকে অনুরোধ করতে থাকে। তাকে খাবার খাওয়াতে চেষ্টা করে। মায়ের ময়লা কাপড় ধুয়ে পরিস্কার করে নিজ দায়িত্বে। কর্তব্যরত নার্সরা মাত্র ৪ বছরের এ মেয়েটির এসব প্রচেষ্টা দেখে বাকশূন্য হয়ে পড়ে। তার আসল নাম জানেনা স্বাস্থ্যকর্মীরা। আর তাই মেয়েটিকে তারা নাম দিয়েছে সুইটি সুইটি। কিছুদিন পর সুইটিকে এতিম করে দিয়ে ওপারে পাড়ি জমায় তার মাও। কিংকর্তব্যবিমূঢ় মেয়েটি এর পর ক্লিনিকের ফটকের বাইরে দাড়িয়ে তার বড় বড় চোখ দিয়ে এদিক ওদিক দেখতে থাকে। তাকে আশ্রয় দেবার কেউ নেই। পরবর্তীতে একটি মটোরগাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি গ্রুপ হোমে। সেখানকার শূন্য, নিষ্প্রাণ হলওয়ে এখন তার একাকী ঘুরে বেড়ানোর স্থান। সুইটিকে দত্তক নেয়ার মতো কাউকে খুজে বেড়ানোর চেষ্টা করছে সামাজিক কর্মীরা। বেসরকারী দাতব্য সংস্থা চাইল্ডফান্ড ইন্টারন্যাশলের অর্থায়নে স্থাপিত একটি গ্রুপ হোম এখন ইবোলায় পিতা মাতা হারানো এতিম শিশুদের আশ্রয়। সেখানেই রয়েছে সুইটি। সিয়েরা লিওনের পোর্ট লোকোতে এর অবস্থান। সুইটির এখনও সুস্থ থাকাটাই অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। অসুস্থ মায়ের পাশের বিছানাতেই সে ঘুমাতো। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার আশেপাশেই মানুষ মারা গেছে অহরহ। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো তার কোন নিরাপত্তামূলক স্যুট ছিলনা। এছাড়া প্রতিদিন সকালে মায়ের বিছানাও পরিস্কার করতো সে। সবসময় চেষ্টা করতো মায়ের উদ্যোম চাঙ্গা রাখতে। মায়ের প্রতি সুউটির নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগের কারণেই স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে নাম দিয়েছে সুইটি সুইটি। মায়ের সঙ্গে টুকরো টুকরো অস্পষ্ট আলাপচারিতা থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধারণা মেয়েটির বয়স চার, তার পিতা নিজেও ছিলেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী আর সুইটির প্রকৃত নাম সম্ভবত এমবালু কামারা। তবে শীর্ষ সমাজ কর্মী যিনি সুইটির বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন তিনি বলেছেন তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোন আত্মীয় স্বজন সুইটির খোজে এখনও আসেনি। সুইটির মায়ের চিকিৎসায় ছিলেন এমন একজন নবীন স্বাস্থ্য কর্মী উসমান কোরোমা সুইটিকে দেখাশোনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সুইটির মা মৃত্যুর আগে এমন ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন। সরকারী সমাজ সেবা কর্মী মুসা কোন্টেহ সুইটির দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে সহায়তা করছেন। কারো কাছে দত্তক দেয়ার আগে সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত উসমানের প্রতি তাদের আস্থা অর্জন হয়েছে। মুসা জানালেন, উসমান শিক্ষিত ব্যক্তি। সে সুইটিকে একটা নতুন জীবন দিতে পারবে। সুইটির মতো এমন অনেক এতিম বাচ্চার ঘটনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের হাতে। আর তাই কবে নাগাদ চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।