Sunday, December 7, 2014

‘পোশাক খাত রক্ষায় সজাগ থাকুন’ -প্রধানমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাময় তৈরি পোশাক খাতকে ধ্বংসে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ঢাকা অ্যাপারেল সামিট’ উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এ সামিটের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। কিন্তু অনেকে এটা পছন্দ করে না। এ জন্য তারা এ খাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, যে কোন সমস্যা সমাধানের সামর্থ আমাদের রয়েছে। এ জন্য এই খাত রক্ষায় দেশি ও বিদেশি এ চক্রের বিরুদ্ধে সদা সজাগ থাকতে হবে।
বিজিএমই সভাপতি আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি হেনস-জোয়েচিন ফুচেল, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট ডেলিগেশন ফর রিলেশনস উইথ দ্যা কান্ট্রিজ অব সাউথ এশিয়ার চেয়ারপার্সন জেন ল্যাম্বার্ট, এলায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ফর সেফটির চেয়ারম্যান এলেন তুসচার ও এইচএসবিসি ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঙ্কোইচ দি মেইকো উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে গার্মেন্ট পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। গার্মন্ট পন্য ক্রেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পন্যের দাম বাড়ালে আমাদের শ্রমিক ভাই ও বোনেরা আরও সাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারবে এবং তখন সকলে উন্নয়নের সম-অংশীদার হবেন।

শামীম ওসমানের শ্বশুরকে রাজাকার বলায় রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে মামলা

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা। রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপির পক্ষে তিনি এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বাদীসহ সালমা ওসমান লিপি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনিছুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলকে সাক্ষী করা হয়েছে। আদালত আগামী ১ই জানুয়ারি স্ব-শরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে রফিউর রাব্বিকে আদালতে হাজির থাকার সমন জারি করেছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৫ই ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের ব্যনারে সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে রফিউর রাব্বি শামীম ওসমানের শ্বশুরকে রাজাকার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যা পরের দিন বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। রফিউর রাব্বির এ ধরনের অশালীন বক্তব্যে সাক্ষী সালমা ওসমান লিপি সামাজিক, মানসিক, আর্থিক ও শারিরীকভাবে ক্ষতির শিকার হওয়ার পাশাপাশি তার মানহানিও ঘটেছে।

৩ সচিবের দপ্তর বদল ৬ জেলায় নতুন ডিসি

তিন সচিব পদে রদবদল করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয় জেলায় নতুন ডিসি (জেলা প্রশাসক) নিয়োগ ও পাঁচ জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আলাদা আলাদা আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বিপিএটিসি’র রেক্টর খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দারকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া নানা কারণে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনকে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদারকে বিপিএটিসি’র রেক্টর করা হয়েছে। এদিকে ছয় জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির ডিসি মো. মোস্তফা কামালকে খুলনার ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বান্দরবানের ডিসি কে এম তরিকুল ইসলামকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, খাগড়াছড়ির ডিসি মো. মাসুদ করিমকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, বাগেরহাটের ডিসি মো. শুকুর আলীকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, জয়পুরহাটের ডিসি মোহাম্মদ ইয়াসীনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং খুলনার ডিসি আনিস মাহমুদকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব নিয়োগ করা হয়। অপর আদেশে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব মো. শামসুল আরেফীনকে রাঙ্গামাটির ডিসি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বাগেরহাটের ডিসি, অর্থ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. মিজানুল হক  চৌধুরীকে বান্দরবানের ডিসি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবদুর রহিমকে জয়পুরহাটের ডিসি এবং ঢাকার দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসার মুহম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানকে খাগড়াছড়ির ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। আলাদা আরেক আদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ- প্রেস সচিব বিজন লাল দেবকে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

ক্রেন নয়, বাস তুলে ছাত্রীদের বের করল জনতা by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

(রাজশাহী পবা উপজেলার কাটাখালীতে আজ রোববার দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিকে এভাবেই টেনে তোলেন সাধারণ মানুষ। ছবি: শহীদুল ইসলাম) বেলা একটা পাঁচ মিনিট। উল্টে যাওয়া বাসের তলা থেকে তখনো গোঙানির আওয়াজ আসছে। আওয়াজ শুনে সমস্বরে চিৎকার উঠল ‘এই বেঁচে আছে, বেঁচে আছে’।
তখনো বাসের তলায় তিনজন ছাত্রী চাপা পড়ে ছিলেন। বাইরে থেকে ঠিক চাকার নিচে পড়া একজন ছাত্রীর পা দেখা যাচ্ছিল। বাস উঁচু না করে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন কর্মী ঘটনাস্থলে গেছেন। তাঁদের কাছেও উদ্ধারসামগ্রী নেই। এরই মধ্যে সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন। বাসটি সোজা করতে ক্রেনের জন্য অপেক্ষা না করে সবাই হাত লাগালেন। একটু উঁচু হলো বাস। কয়েকজন গাছের ডাল ভেঙে ঠেকা দিলেন। একে একে বের করা করা হলো তিন ছাত্রীকে। তাঁদের মধ্যে তখন শুধু একজন কথা বলে উঠলেন। অন্য দুজন নিথর।
ইসলাম পরিবহনের যাত্রী ছিলেন পিন্টু নামের এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি নগরের হাজরাপুকুর এলাকায়। দুর্ঘটনার সময় তিনি আতঙ্কে চাদর দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই টের পান, তাঁর কিছু হয়নি। তিনি বাস থেকে নেমে পড়েন। লাকি পরিবহনের পেছনের কাচ লাথি দিয়ে ভেঙে পাঁচজন ছাত্রীকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার শিকার বাসের আহত যাত্রী রাজশাহী কলেজের সমাজবিজ্ঞান সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী খালেদা খাতুন জানান, তাঁর বাড়ি চারঘাট উপজেলার ডাকরা গ্রামে। পরীক্ষা শেষে তিনি ওই বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসের দরজার পরে দ্বিতীয় সারিতে বসা ছিলেন তিনি। কাটাখালীতে গিয়ে শুধু মনে হলো বাসটি ধাক্কা খেল। তারপর মুহূর্তের মধ্যে উল্টে গেল। অনেক ছাত্রী এসে তাঁর গায়ের ওপরে এসে পড়েন। কিছু সময়ের জন্য তাঁর জ্ঞান ছিল না। পরে তাঁকে লোকজন টেনে বের করেন। হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে খালেদাকে। পা দুটি নাড়াতে পারছেন না তিনি।
আজ রোববার দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার কাঁটাখালীতে রাজশাহী কলেজের ছাত্রীদের বহনকারী বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে রাস্তা থেকে নিচে ঢালে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন ছাত্রী মারা গেছেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩ জন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন ছাত্রী।
নিহত ছাত্রীরা হচ্ছেন: মাহমুদা আক্তার, বিউটি খাতুন ও শারমিন আক্তার। মাহমুদা আক্তার রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার কাপাশিয়া গ্রামে। বিউটি খাতুন রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সম্মান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি জেলার দুর্গাপুর উপজেলার রইপাড়া গ্রামে। শারমিন রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার চকধাদাস গ্রামে।
বিকেল চারটার দিকে তিন ছাত্রীর লাশ রাজশাহী কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে আসা হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। বিকেল চারটা ১০ মিনিটের দিকে মাইক্রোবাসে করে লাশগুলোকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও তাঁর সহকারীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য আটটি বাস রয়েছে। এর মধ্যে একটি কলেজের নিজস্ব। আর অন্য সাতটি ভাড়া করা। ভাড়া করা বাসের মধ্যে লাকি পরিবহন নামে বাসটি প্রতিদিন সকালে পুঠিয়ার বানেশ্বর থেকে ছাত্রীদের নিয়ে আসে আবার কলেজের ক্লাস শেষে পৌঁছে দিয়ে যায়। আজ বেলা পৌনে একটার দিকে কাটাখালীতে বিপরীত দিক থেকে আসা ইসলাম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাকি পরিবহন রাস্তার উত্তর পাশের ঢালে উল্টে যায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ইসলাম পরিবহনের বাসটি রাস্তার ওপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাসের সামনের কাচটি খুলে নিচে পড়ে আছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন বাসের জানালা ও সামনে পেছনের কাচ ভেঙে ছাত্রীদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
হাসপাতালে ভর্তি আহত ছাত্রীরা হচ্ছেন: উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের লাবণী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সেতু ও ফজিলা, সমাজকর্ম বিভাগের আদুরী, অর্থনীতি বিভাগের সুমী ও তুফানী হাওলাদার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মুন্নী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের খালেদা, মিতা, আফিয়াসহ মোট ১৩ জন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ আগামীকাল সোমবার কলেজের সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রউফ মিয়া জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ফোনে তাঁদের জানিয়েছেন, সরকারিভাবে চিকিৎসার সব খরচ বহন করা হবে।

পোশাক খাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সজাগ থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা সম্ভাবনাময় তৈরি পোশাক খাতকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ঢাকা অ্যাপারেল সামিট’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসের। শেখ হাসিনা দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য আগামী দিনের রোডম্যাপ প্রণয়নে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এক্সপো ফর বিল্ডিং অ্যান্ড ফায়ার সেফটি-২০১৪ এবং সেন্টার ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এই সামিট ও এক্সপোর আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। কিন্তু অনেকে এটা পছন্দ করেন না। এ জন্য তাঁরা এই খাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, যেকোনো সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য সরকারের আছে। তিনি পোশাক খাতকে রক্ষা করতে দেশি ও বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিক, শ্রমিক, বিদেশি ক্রেতা, ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্রেতা ও তাঁদের প্রতিনিধি আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন। আমি পণ্যের দাম বাড়াতে তাঁদের প্রতি আহ্বান জানাই। এর ফলে আমাদের শ্রমিক ভাই ও বোনেরা আরও সাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারবেন এবং তখন সবাই উন্নয়নের সম-অংশীদার হবেন।’
শেখ হাসিনা তৈরি পোশাকের আরও নতুন নতুন বাজার খোঁজার জন্য দেশের রপ্তানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও জাপান জিএসপির রুলস অব অরজিন শিথিল করেছে। সরকারের এসব পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ ভারতে ৪৬টি পণ্য এবং চীনে ৯৮ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। এ জন্য আমি পোশাক রপ্তানিকারকদের আহ্বান জানাই যে এসব সুযোগ-সুবিধার সদ্ব্যবহার করুন, সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার বাড়াতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি হেনস-জোয়েচিন ফুচেল, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ডেলিগেশন ফর রিলেশনস উইথ দ্য কান্ট্রিজ অব সাউথ এশিয়ার চেয়ারপারসন জেন ল্যাম্বার্ট, এলায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ফর সেফটির চেয়ারম্যান এলেন তুসচার ও এইচএসবিসি ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঙ্কোইচ দি মেইকো বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য দেন ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও ধন্যবাদ জানান সেকেন্ড ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম মান্নান।

বিশুদ্ধ পানি নিয়ে মালদ্বীপের পথে ‘সমুদ্রজয়’

বিশুদ্ধ পানি নিয়ে মালদ্বীপের পথে ‘সমুদ্রজয়’
পানিসংকটের কারণে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এক লাখ লিটার (১০০ টন) বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ভ্রাম্যমাণ পাঁচটি ডিস্যালাইনেশন প্লান্ট নিয়ে মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘সমুদ্রজয়’।
জাহাজটি আজ রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম নৌ জেটি ছেড়ে যায়। এ সময় চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ আখতার হাবীব, কমোডর কমান্ডিং বিএন ফ্লোটিলা কমোডর এম খালিদ ইকবাল ও নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমুদ্রজয়কে বিদায় জানান। নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমুদ্রজয় ১১ ডিসেম্বর মালদ্বীপে পৌঁছাবে। এটি দেশটির রাজধানী মালেতে অবস্থান করে বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করবে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নৌবাহিনীর জাহাজ সমুদ্রজয়ের মাধ্যমে জরুরি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের এ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা মালদ্বীপের জনগণের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এতে বলা হয়, ৪ ডিসেম্বর মালদ্বীপের রাজধানী মালের ওয়াটার ও সুয়ারেজ কোম্পানির (এমডব্লিউএসসি) জেনারেটরে আগুন লাগলে পানি শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে রাজধানী মালেতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চরম পানিসংকটে পড়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার ৫ ডিসেম্বর জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করে সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন করে। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় এক দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নৌ বাহিনী জাহাজটি মালদ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাহাজটি চট্টগ্রাম ছাড়ার আগে এক লাখ লিটার বোতলজাত পানি সংগ্রহ করা হয়। পানি ছাড়াও পাঁচটি ডিস্যালাইনেশন প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩০ হাজার লিটার পানি বিশুদ্ধ করে তা সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া জাহাজটির নিজস্ব পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার পানি পরিশোধন করে মালদ্বীপের জনগণের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হবে।

রাজশাহী কলেজের বাস উল্টে তিন শিক্ষার্থী নিহত

(রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় আজ রোববার দুপুরে রাজশাহী কলেজের এ বাসটি উল্টে তিন শিক্ষার্থী মারা যান। ছবি: শহীদুল ইসলাম) রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস অন্য আরেকটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গিয়ে তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৩ জন। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ রোববার রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় রাজশাহী জুট মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের নাম মাহমুদা ও শারমিন। তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহত অপরজনের নাম-পরিচয় কিছুই জানা যায়নি। আহত শিক্ষার্থীরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকারী লাকি পরিবহনের বাসটি পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকায় যাচ্ছিল। পথে কাটাখালী জুট মিলের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে এর ধাক্কা লাগে। এতে কলেজের বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে এটি রাস্তার পাশে ঢালে পড়ে উল্টে যায়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজিয়া আক্তার বিপাশা প্রথম আলোকে তিন শিক্ষার্থী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা পুলিশের: আটক ৩

ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। আজ শাহবাগের কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় অন্তত দশ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক শিক্ষার্থীরা হলেন, রিয়াজুল ইসলাম, আহসান হাবীব ও ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জিলানী শুভ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্মারকলিপি দিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে দিকে মিছিল নিয়ে  যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে বেলা একটার দিকে শিক্ষার্থীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি দিয়ে আবার শাহবাগে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই আচমকা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় তাদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়া হয়। সেখান থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

ছাত্রলীগের মন পরিষ্কার করতে বললেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন “ক্লিন ক্যাম্পাস-সেফ ক্যাম্পাস” কর্মসূচি রূপক অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার করার জন্যে হলেও এর মূল উদ্দেশ্য মনটাকে পরিশুদ্ধ করা। ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস পরিষ্কার করার পাশাপাশি মন পরিষ্কার করতে হবে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পার্শ্বে “ক্লিন ক্যাম্পাস- সেফ ক্যাম্পাস” কার্যক্রম উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাস ক্লিন রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দুনীতিমুক্ত ও জঙ্গিমুক্ত করে করে গড়ে তোলার কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনার স্বপ্ন ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত কররার স্বপ্ন পূরণের ছাত্রলীগকে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি ক্যাম্পাস পরিষ্কারের পাশাপাশি ছাত্রলীগকে আদর্শভাবে গড়ে উঠা। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মো: শাদাত উল্লা বলেন, শুধু ক্যা¤পাস পরিষ্কার করলেই চলবেনা, বাহ্যিক পরিষ্কারের সঙ্গে অন্তরের কালিমাও দূর করতে হবে।
মিডিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ভাল কাজ মিডিয়া প্রকাশ করে না। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের প্রশংসা করে বলেন, ছাত্রলীগের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কোন দুর্র্নীতি হয়নি। ক্যা¤পাসের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্টভাবে চলছে এবং এবারের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর যে ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হল তাতে ছাত্রলীগ ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ তার বাধ্য সন্তানের মতো কথা শুনছে। উদ্বোধনের পর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার করা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির উপ-সম্পাদক কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নাজমুল, সেক্রেটারী দেবাশীষ দাশসহ শিক্ষকÑকর্মকর্তারা।

সেলিমা রহমানের গাড়িবহরে ছাত্রলীগের হামলা

বরিশালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং বিএনপির ৫ কর্মী আহত হয়েছেন। আজ বেলা ১১টার দিকে মুলাদী উপজেলার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল সত্তার খান অভিযোগ করেন, সকালে মুলাদী ডিগ্রি কলেজে বিএনপি’র কর্মী সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে আসেন সেলিমা রহমান। এ সময় সেখানে অপেক্ষমাণ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালায়।
জেলা উত্তর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নূরুল আলম রাজু জানান, মুলাদীতে বিএনপির কর্মী বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য সেলিমা রহমান সড়ক পথে মুলাদিতে আসেন। পথিমধ্যে ডিগ্রি কলেজর কাছাকাছি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েলের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল তাদের গাড়ি বহরে হামলা চালায়। তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে এবং ৫ জনকে আহত করে। অপরদিকে এ ঘটনায় জন্য অভিযুক্ত মুলাদী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জুয়েল জানান, সমাবেশ শেষে বিএনপি’র নেত্রী বেগম সেলিমা রহমান পায়ে হেটে উপজেলা বিএনপি’র বাস ভবনে যেতে দেখা গেছে। তার কোন গাড়ি বহর ছিলোই না। সেখানে হামলাতো কোন প্রশ্নই আসে না।

চলছে অ্যাপ তৈরির মহাযজ্ঞ

(হ্যাকাথনে সমস্যার সমাধান মেলাতে ব্যস্ত কয়েকজন প্রতিযোগী। ছবি: খালেদ সরকার) ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগের মতো রোগের বৃদ্ধি বর্তমানে জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মানুষের অসচেতনতা ও অজ্ঞানতা এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিন, লিনা, শাহী, নয়ন ও সেঁজুতি এমন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে এসব রোগের নানা তথ্য থাকবে। পাশাপাশি গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) মাধ্যমে কাছের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঠিকানা এবং ফোন নম্বর দেখানোর পরিকল্পনা আছে তাঁদের। এ রকম আরও অনেক অ্যাপ তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার থেকে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) ভবনে শুরু হয়েছে টানা ৩৬ ঘণ্টার মোবাইল অ্যাপ তৈরির প্রতিযোগিতা ‘জাতীয় হ্যাকাথন ২০১৪’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।’ অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব শ্যামাপ্রসাদ ব্যাপারী, রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুপুন বীরাসিংহে, জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মিয়া মাসুদুজ্জামান, আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ, এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আবিরসহ অনেকে বক্তৃতা করেন।
এই প্রতিযোগিতায় যানজট, প্রশ্নপত্র ফাঁস, সড়ক দুর্ঘটনা, যৌন হয়রানি, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, নৌ-দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যব্যবস্থার আচরণগত পরিবর্তন এবং অ-সংক্রামক রোগ বৃদ্ধি, এসব সমস্যা দেওয়া হয়েছে। এগুলোর সমাধান দিতে হবে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে।
জাতীয় হ্যাকাথনে ২৮৮টি দলে ১৬৭৫ জন প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। আজ বিকেলে অ্যাপের চূড়ান্ত প্রদর্শনী ও বিজয়ী ১০ দলের নাম ঘোষণা করা হবে। আইসিটি বিভাগ আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কারিগরি সহায়তা করছে এমসিসি লিমিটেড। —মেহেদী হাসান

ল্যাপটপের বাতিল ব্যাটারি থেকে জ্বলবে আলো

(ভারতের বেঙ্গালুরুর রাস্তার পাশের একটি দোকানে জ্বলছে এলইডি বাতি। ল্যাপটপের ফেলে দেওয়া ব্যাটারিই এই আলোর উৎস l ছবি: এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ) ল্যাপটপের ব্যাটারি পুরোনো হয়ে গেলেও একেবারে ফেলনা নয়। কারণ, আলোর জোগান দেওয়ার উপযোগী যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি অবশিষ্ট রয়ে যায় এসব পরিত্যক্ত ব্যাটারিতে। মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান আইবিএমের এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষকেরা জানান, পরিত্যক্ত প্রতিটি ব্যাটারিতে যে পরিমাণ শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তা ব্যবহার করে একটি এলইডি বাতি দিনে অন্তত চার ঘণ্টা করে এক বছর পর্যন্ত জ্বালানো যায়। ল্যাপটপের ফেলে দেওয়া ব্যাটারির ৭০ শতাংশই এ ধরনের এলইডি বাতি জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। আর এতে খরচও পড়বে প্রচলিত বাতির চেয়ে অনেক কম। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বর্জ্য অপসারণ নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তার সমাধানও হবে।
ল্যাপটপের পুরোনো ব্যাটারি দিয়ে এলইডি বাতি জ্বালানোর প্রক্রিয়াটি ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে। দরিদ্র বস্তিবাসী এবং রাস্তার ফেরিওয়ালাদের কাছে এ ধরনের বাতি জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, ভ্রাম্যমাণ এসব ব্যবসায়ী বিদ্যুতের লাইন থেকে সংযোগ নেওয়ার সুবিধা পান না।
আইবিএমের অধীনে ভারতীয় একদল গবেষক ওই সাশ্রয়ী এলইডি বাতির কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চালান। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) বিশেষজ্ঞরা ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে শহরে অনুষ্ঠেয় এক সম্মেলনে আলোচনা করবেন।
আইবিএমের দলটি ল্যাপটপের পুরোনো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে এলইডি আলো জ্বালানোর যন্ত্রটির নাম দিয়েছেন ইয়োরজার। এটি বাতির মতো স্বল্প ক্ষমতার ডিসি যন্ত্র চালাতে পারে। ওই গবেষকদের লক্ষ্য ভারতে বিদ্যুৎ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত প্রায় ৪০ কোটি মানুষের মধ্যে আলো ছড়িয়ে দেওয়া। এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রচলন শুরু হলেও তা বেশ ব্যয়বহুল এবং কৌশলগত কারণে কখনো কখনো অসুবিধাজনক।
এক একটি ইয়োরজার কমপক্ষে এক বছর ব্যবহার করে আলো পাওয়া যাবে। প্রথম দফায় বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত প্রতিটি যন্ত্রের দাম পড়বে মাত্র ৬০০ ভারতীয় রুপি। গবেষকেরা বলেন, জ্বালানির সংকট দূর করার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির আবর্জনার সদ্ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ইয়োরজার। পরীক্ষামূলক ব্যবহারে বাতিটির ব্যাপারে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যন্ত্রটির উন্নয়নের জন্য যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ইঁদুরে কাটতে পারে না—এমন তার ব্যবহার করার ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনেক ঘাটতি রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রয়োজন ফুরিয়ে যন্ত্রপাতির ব্যবহার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেশি দেখা যায়। আইবিএমের গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ ৪২ হাজার কম্পিউটার ফেলে দেওয়া হয়। বছরে এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটিতে পৌঁছায়।
আইবিএমের উদ্যোগে ইয়োরজার প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার এইড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কিথ সনেট বলেন, ফেলে দেওয়া যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাত করে পুনর্ব্যবহার করার চেয়ে সরাসরি পুনর্ব্যবহারের ব্যাপারটা চমৎকার। তবে পরিবেশের যাতে ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা জরুরি। সূত্র: বিবিসি ও এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ।

উৎপাদন বাড়লেও পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষক -গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকেরা

(প্রথম আলো কার্যালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত ‘গরিববান্ধব কৃষি ব্যবসা: সম্ভাবনা ও সমস্যা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকেরা l ছবি: প্রথম আলো) কৃষিতে উৎপাদন বাড়লেও কৃষক এখনো পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের কাছে কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি ও তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি পণ্য বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করে তার সঙ্গে প্রান্তিক কৃষককে সরাসরি যুক্ত ও ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।  প্রথম আলো আয়োজিত ‘গরিববান্ধব কৃষি ব্যবসা: সম্ভাবনা ও সমস্যা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুইস কন্ট্যাক্টের এগ্রি বিজনেস ট্রেড কম্পিটিটিভনেস প্রকল্প-ক্যাটালিস্টের সহযোগিতায় গতকাল শনিবার প্রথম আলো কার্যালয়ে এ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিড (বীজ) উইংয়ের মহাপরিচালক আনোয়ার ফারুক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্ত।
আনোয়ার ফারুক বলেন, কৃষক যেন তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পান সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। সে জন্য উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যাতে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় উপকরণটি হাতের কাছে পান সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য এ খাতের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর মতে, চাঁদাবাজি ও আড়তদারদের দৌরাত্মে৵র কারণেও কৃষকেরা পণ্যের যথাযথ দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। কৃষিকে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন এ কৃষি কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্ত বলেন, বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত কর্মসংস্থানের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে কৃষি। দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৫০ শতাংশই হয়েছে এ খাতে। সর্বশেষ ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, মোট দেশজ উৎপাদনে বা জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি হ্রাস পাচ্ছে। ১০ টাকার হিসাব খোলার মাধ্যমে দেশের এক কোটি প্রান্তিক কৃষককে ব্যাংকিং লেনদেনের আওতায় আনা হয়েছে। এসব হিসাব যাতে সচল থাকে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ২০০ কোটি টাকা পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ূমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের উপসচিব হাফিজুর রহমান, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমজাদ খান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শেখ মোরশেদ জাহান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ, এসিআই এগ্রি বিজনেসের নির্বাহী পরিচালক এফ এইচ আনসারী, উন্নয়ন সংস্থা সুইসকন্ট্যাক্টের কর্মকর্তা অনির্বাণ ভৌমিক, ক্যাটালিস্টের ক্যাপিটালাইজেশন, কমিউনিকেশনস ও এক্সটারনাল রিলেশনস বিভাগের প্রধান নাসিরউদ্দিন আহমেদ, এম এম ইস্পাহানি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক ফওজিয়া ইয়াসমীন, পেট্রোকেম বাংলাদেশের বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পার্থ সারথী রায়, লালতীর সিড লিমিটেডের নির্বাহী সমন্বয়ক ফিরোজ শাহ শিকদার।
প্রাণ আরএফএল গ্রুপের সিইও আমজাদ খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে কৃষিনির্ভর ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা। অন্যান্য ব্যবসার মতো এ ব্যবসায়ও অনেক সমস্যা রয়েছে। তাই সাহস করেই এ ব্যবসায় নামতে হবে। দেশের সত্যিকার উন্নয়ন ঘটাতে হলে সেটি কৃষির মাধ্যমেই ঘটাতে হবে। তাঁর বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৭৮ হাজার কৃষক প্রাণ আরএফএল গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের উপসচিব হাফিজুর রহমান বলেন, বিদেশের বাজারে রপ্তানির সময় আন্তর্জাতিক মানে মোড়কজাত করা হয় না বলে আমাদের শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। এমনকি রপ্তানি প্রক্রিয়ার নানা ধাপে পণ্য নষ্ট হয়। এর ফলে দামের দিক থেকে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় হারায় আমাদের পণ্য।
ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শেখ মোরশেদ জাহান বলেন, কৃষিপণ্যের ফলন পরবর্তী অব্যবস্থাপনার কারণেই শুধু কৃষকের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ লোকসান হয়। আমাদের দেশে পণ্য উৎপাদনে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয় উৎপাদন-পরবর্তী সংরক্ষণের বেলায় ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ বলেন, কৃষির উন্নয়নের পরিকল্পনা এমনভাবে হওয়া উচিত যার ফলে কৃষক থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত যেন সুফল পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
ক্যাটালিস্টের ক্যাপিটালাইজেশন, কমিউনিকেশন ও এক্সটারনাল রিলেশনসের প্রধান নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, কৃষি ব্যবসাটি কীভাবে আরও বেশি দরিদ্র কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব করা যায়, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করা দরকার।
সুইসকন্ট্যাক্টের অনির্বাণ ভৌমিক বলেন, বাংলাদেশের কৃষককে এখন শুধু একজন কৃষক বা উৎপাদক হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। একেকজন কৃষক মানেই এখন একেকজন উদ্যোক্তা। তাই অন্যান্য ব্যবসার মতো এ খাতের উন্নয়নে কৃষকের ঋণপ্রাপ্তিকে সহজলভ্য করতে হবে।
ইস্পাহানি গ্রুপের ফওজিয়া ইয়াসমীন বলেন, বাংলাদেশের সব ব্যবসা সূচনা পর্বে সরকারি অর্থ সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু কৃষি ব্যবসার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সহযোগিতা মিলছে না। ফলে এ খাতের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্য সংরক্ষণাগারসহ নানা ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। যার সর্বশেষ প্রভাব গিয়ে পড়ছে পণ্যের দামের ওপর।
এসিআইয়ের এফ এইচ আনসারী বলেন, কৃষি ব্যবসার বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রযুক্তি। বড় কৃষকেরা প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি করতে পারলেও ছোট কৃষকেরা তা পারছেন না। ফলে বাজার প্রতিযোগিতায় ছোট কৃষকদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই প্রান্তিক কৃষকের কাছেও যাতে প্রযুক্তি ও তথ্যসেবা সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই উদ্যোগ নিতে হবে।
লালতীর সিডের ফিরোজ শাহ শিকদার বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি বা কৃষকের জন্য সবার আগে প্রয়োজন পুঁজি। কৃষকের পুঁজির জোগান নিশ্চিত করতে কৃষি বাণিজ্য সহায়তা তহবিল নামে বিশেষ তহবিল গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।
পেট্রোকেম বাংলাদেশের পার্থ সারথী রায় বলেন, কৃষকের কাছে পণ্যের দাম বড় কোনো বিষয় নয়। কৃষক চান মানসম্মত কৃষি উপকরণ, যা দিয়ে তাঁরা উৎপাদন বাড়াতে পারবেন। কৃষকের সেই চাহিদা পূরণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

রাজশাহীতে গ্রিসের ‘লেমনি’ by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

(গাছে ধরে আছে কাঁচা ‘লেমনি’। চারঘাটের ফতেপুর গ্রামে বেলাল হোসেনের বাড়িতে। ডানে পাকা লেমনি l ছবি: প্রথম আলো) গ্রামের নাম পার্নাসোস। গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে ২৮৫ কিলোমিটার উত্তরে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত পাহাড়ি গ্রামটিতে প্রচণ্ড ঠান্ডা। সুদূর গ্রিসের এই গ্রামেই বাংলাদেশি বেলাল হোসেনের চোখে পড়ে একটি ফল। স্থানীয় লোকদের কাছে যা ‘লেমনি’ নামে পরিচিত। স্বাদ ও গন্ধে লেমনি আমাদের দেশীয় কাগজিলেবুর মতোই। কিন্তু আকারে অনেক বড়; রসও বেশি। বেলালের হাত ধরে এ দেশে আসার পর এখন লেমনির চাষ হচ্ছে রাজশাহীতে। শুধু তাই নয়, রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রে লেমনি নিয়ে গবেষণাও হচ্ছে। অচিরেই লেবুর নতুন জাত হিসেবে ছাড়া হতে পারে লেমনিকে। বর্তমানে এটি রয়েছে মূল্যায়ন পর্যায়ে। ২০০৫ সালের কথা। সপরিবারে গ্রিস ছাড়ছিলেন বেলাল। তখনো তাঁর মাথায় ছিল লেমনি। তাই দেশে ফেরার সময় বেলাল পার্নাসোস গ্রামে গেলেন। লেমনির একটি চারা সংগ্রহ করলেন। দেশে ফিরে তিনি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ফতেপুর গ্রামে নিজের বাগানে চারাটি রোপণ করেন। তখন এর উচ্চতা ছিল এক ফুটের মতো।
বেলাল জানালেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গাছটাকে টিকিয়ে রাখতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। কারণ, পার্নাসোস গ্রামে ছিল প্রচণ্ড ঠান্ডা। আর এখানে গরম। তিনি গাছটির ওপর খড়ের চালা তৈরি করেন। তিন বেলা চট ভিজিয়ে চারদিকে ঘিরে দিতেন। একটা পর্যায়ে মরতে মরতে গাছটি বেঁচে যায়। এক বছরের মাথায় সেটি আগের চেহারা ফিরে পায়। ফল আসে দুই বছরের মাথায়। সেই গাছ থেকে কলম তৈরি করে ছয়টি রোপণ করেন রাজশাহী শহরে নিজ বাড়ির ছাদের টবে। আরও তিনটি দেন রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রকে।
বেলালের গ্রামের বাড়ির গাছটি ১৪-১৫ ফুট উঁচু হয়েছে। এখন প্রায় এক হাজার লেবু আসে। আর টবের গাছে ধরে ২০-২৫টি করে। অবশ্য এ বছর ব্যস্ততার কারণে গাছের ভালো যত্ন নিতে পারেননি। তাই ফলনও বেশি ভালো হয়নি। গত বছর রোজার মাসে প্রতিটি লেবু পাইকারদের কাছে ১০ টাকা করে বিক্রি করেছেন বেলাল। আর খুচরা বিক্রেতারা বাজারে ১৫-২০ টাকা করে বিক্রি করেছেন।
ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, লেমনির আদিনিবাস চীনে। সেখান থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পাড়ি জমায় যুক্তরাষ্ট্রে। সে দেশের কৃষি দপ্তরের কর্মী ফ্রাঙ্ক নিকোলাস মায়ার চীন সফরের সময় নমুনা হিসেবে নিজ দেশে নিয়ে যান একটি চারা। সম্ভবত তাঁর নামানুসারেই এর ইংরেজি নাম meyer lemon. বৈজ্ঞানিক নাম citrus limon. এটি rutaceae পরিবারের একটি ফল।
একটি প্রমাণ আকারের লেমনির দৈর্ঘ্য ৭ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার; প্রস্থ্য ৬ দশমিক ২ সেন্টিমিটার। গড় ওজন ১৪৮ গ্রাম। এই আকৃতির একটা লেমনি থেকে রস পাওয়া যায় ১০০ মিলিলিটার। বড় আকারের হলে ২০০ গ্রাম পর্যন্তও রস পাওয়া যায়। এ বছরের লেমনিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ভিটামিন সি পাওয়া গেছে ২৯ দশমিক ৩৮ মিলিগ্রাম। এতে মোট চিনি রয়েছে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর অম্লতার পরিমাণ ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
লেমনিগাছে ফুল আসে ফেব্রুয়ারিতে। নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত গাছে থাকে। পরিপক্ব হলে গায়ের রং হলুদ হয়ে যায়।
রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দীন বলেন, তাঁরা গবেষণা করে লেমনির দুটি সম্ভাবনার দিক দেখতে পেয়েছেন। একটি হচ্ছে, এটি আকারে দেশীয় লেবুর চেয়ে অনেক বড়। এতে প্রচুর পরিমাণে রস আছে। ভিটামিন সির পরিমাণও বেশি। অন্যটি হচ্ছে, দেশীয় লেবুর মৌসুম যখন শেষ হয়, তখন লেমনি উঠতে শুরু করে। অসময়ে হওয়ার কারণে লেমনি ভালো বাজার পাবে।

ভবনের ছাদে গাঁজার চাষ

(পাথরঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনির একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ থেকে গাঁজার গাছটি উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা ক্যাম্প থেকে ছবিটি তোলা। ছবি: প্রথম আলো) বরগুনার পাথরঘাটা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ থেকে প্রায় নয় ফুট লম্বা একটি গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার গাছটি উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা স্টেশন কমান্ডার লে. এ এম রাহাতুজ্জামানের ভাষ্য, গোপন খবরের ভিত্তিতে শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কলোনির একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ থেকে বড় একটি গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়। গাঁজার গাছটি ওই ভবনের ছাদে মাটিতে চাষ করা ছিল। গাছটি প্রায় নয় ফুট লম্বা।
রাহাতুজ্জামান আরও জানান, কোস্টগার্ডের সদস্যদের ধারণা, প্রায় দেড় থেকে দুই বছর ধরে গাঁজার গাছটি ওই ভবনের ছাদে চাষ করা হচ্ছিল। ওই গাছের পাতা নিয়ে স্থানীয় যুবকেরা নিয়মিত সেবন ও বিক্রি করত। সেই সঙ্গে তারা বড় পরিসরে গাঁজা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গাছটি পাথরঘাটা থানায় হন্তান্তর করা হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন সরকার জানান, এ ব্যাপারে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা এলাকায় নতুন বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি এম শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঢাকার রাস্তার ১৫৫ সিসি ক্যামেরা বন্ধ- প্রকল্পের ৬১ কোটি টাকা পানিতে by কামরুল হাসান

রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ৫৯টি সংযোগ ও প্রবেশমুখে ১৫৫টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা আছে। দূর থেকে সম্ভাব্য অপরাধ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য এই ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। কিন্তু চার বছর ধরে এগুলো বন্ধ পড়ে আছে। সার্ক ফোয়ারার মোড়ে গত ২৯ নভেম্বর বাসের ধাক্কায় সাংবাদিক জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরী নিহত হন। এই মোড়েও দুটি সিসি ক্যামেরা আছে। সাধারণ ধারণা ছিল, এই সিসি ক্যামেরার চিত্র (ফুটেজ) থেকে সহজেই কোন বাস তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিল তা শনাক্ত করা যাবে। কিন্তু গত সাত দিনেও বাসটি কেন শনাক্ত করা যায়নি, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেল, শুধু সার্ক ফোয়ারার মোড়ের ক্যামেরা দুটিই নয়, নগরের সব কটি সিসি ক্যামেরা আসলে বন্ধ আছে। মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলার সময় ক্যামেরাগুলো দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে (আন-অফিশিয়ালি) কিছু নজরদারি করা হয়েছে। এর পর থেকে এগুলো বন্ধ আছে। পুলিশ টেলিকম বিভাগ ঠিকাদারের কাছ থেকে সেগুলো বুঝেও নেয়নি। তবে প্রকল্পের ৭০ ভাগ টাকা তারা ঠিকাদারকে পরিশোধ করেছে।
প্রকল্পের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো রাজধানীকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনতে এবং ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সাত বছর আগে ২৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় ৬১ কোটি টাকা। চার বছর আগে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। কিন্তু পুলিশ প্রকল্পটি এখনো বুঝে নেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে তাঁদের মধ্যে ভীতি রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো আইনি ঝামেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাঁরা প্রকল্পটি বুঝে নিতে আগ্রহী নন।
জানতে চাইলে পুলিশ টেলিকমের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নওসের আলী প্রথম আলোকে জানান, প্রকল্পটি বুঝে নেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত দেবে।
বর্তমান ব্যবস্থায় পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ শুধু ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে। পুলিশের এই কাজকে সহজতর ও গতিশীল করতে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (১৯৯৮) ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন কন্ট্রোল রুম আধুনিকায়ন’ নামে এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো ও কেন্দ্রীয়ভাবে অপরাধ ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা, ট্রাফিক ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে রাস্তার যানজট পরিস্থিতি পথ ব্যবহারকারীদের জানানো, পুলিশের বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা এবং ওয়াকিটকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা। প্রকল্পের কাজ পায় ফলেক কমিউনিকেশন্স নামের ব্রুনাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান।
মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে প্রকল্পের জন্য ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও একপর্যায়ে তা এসে দাঁড়ায় ৪১ কোটি টাকায়। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের জন্য খরচ হয় আরও ২০ কোটি টাকা। সব মিলে খরচ দাঁড়ায় ৬১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
প্রকল্প বুঝে না নেওয়ায় বছরের পর বছর ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ক্যামেরা ও ডিজিটাল বোর্ডগুলো রাস্তায় পড়ে আছে অবহেলায়। এগুলোর বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে এই ৬১ কোটি টাকাই পানিতে যাবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফলেক কমিউনিকশন্সের স্থানীয় প্রতিনিধি কাজী জাকারিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ফলেক থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১০ সালেই প্রকল্পের কাজ শেষ গেছে। এরপর তাদের দুই বছরের বিক্রয়-পরবর্তী সেবা দেওয়ার মেয়াদও শেষ হয়। এখন এ প্রকল্প নিয়ে তারা কোনো দায় নিতে চায় না। কার্যালয় গুটিয়ে চলে যেতে চায় তারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্পটি ‘অনিষ্পন্ন’ রাখার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২৯ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোনো জবাব দেয়নি।
জানতে চাইলে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি উন্নয়ন) গাজী মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিজেও বিস্মিত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও কেন প্রকল্পটি বুঝে নেওয়া হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘গ্রহণ-সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে প্রকল্পটি নিতে কোনো বাধা আছে বলে আমি মনে করি না।’
এই প্রকল্পের আওতায় ১৫৫টি সিসি ক্যামেরা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ৩১টি ট্রাফিক ডিসপ্লে বোর্ড লাগানো হয়। আবদুল গণি রোডে স্থাপন করা হয় (কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন) নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এরপর ওই প্রকল্প থেকেই পুলিশকে দেওয়া হয় এক হাজার ২৩টি আধুনিক টেট্রা সিস্টেম-সংবলিত (টেরিস্ট্রিয়াল ট্রাংকড রেডিও) ওয়াকিটকি বা বেতার যন্ত্র, থানার ৩০টি টহল গাড়িতে স্থাপিত হয় স্বয়ংক্রিয় যান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা। পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় দেড় বছর এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে পুলিশ। এরপর সব বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রকল্পের সঙ্গে সূত্র জানায়, প্রকল্পের চুক্তিপত্র মোতাবেক কাজ হয়েছে িক না, তা দেখতে ১২ সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি করে পুলিশ। সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যেভাবে প্রকল্পের নকশা করা হয়েছিল তা সঠিক ছিল নয়। শুরুতে ভাবা হয়েছিল পুরো ব্যবস্থাকে তারবিহীন (ওয়্যারলেস) করা হবে। ক্যামেরাগুলোতেও কোনো তার থাকবে না, চলবে বেতার তরঙ্গে। কিন্তু প্রকল্প শেষ করে দেখা গেল, উঁচু ভবনের কারণে বেতার তরঙ্গ বাধা পাচ্ছে। ফলে অনেকগুলো ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে, ওয়্যারলেসও কাজ করছে না ঠিকমতো।
চলতি বছরের প্রথমদিকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রকল্পটি চালু করতে হলে তারের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। সেই অনুযায়ী, অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপনের জন্য বিটিআরসির সঙ্গে চুক্তি করে পুলিশ। চুক্তি অনুযায়ী সব ক্যামেরা ও ডিসপ্লে বোর্ড সংযুক্ত করতে অপটিক্যাল ফাইবার বসানোর জন্য পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয় বিটিআরসিকে। এ বছরের মার্চ মাসে বিটিআরসি অপটিক্যাল ফাইবারের কাজ শেষ করে। এবার সবকিছু ঠিকমতো কাজ করছে িক না, তা দেখার জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি গত ১৮ মার্চ তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে সবকিছু সচল আছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর শুরু হয় প্রকল্প গ্রহণ করা নিয়ে চিঠি চালাচালি।
এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শহরের কিছু স্থানে নিজের মতো করে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে। কিন্তু সে ক্যামেরা ব্যবহার করে কী সুফল পাওয়া গেছে, তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ জানাতে পারেনি।
পুলিশের গণসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কাজ চালানোর জন্য কিছু ক্যামেরা বসিয়েছি।’
যোগাযোগ করা হলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) এএসএম শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, যে উদ্দেশ্যে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলো, পুলিশের সমন্বয়হীনতার কারণে তার সুফল পেল না নগরবাসী। আর জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরীর মতো অনেক মৃত্যু, দুর্ঘটনার বা গুরুতর আইন অমান্যের তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার সুযোগও থাকল না। এর জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরীর by জেসমিন আখতার

বে-সামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব উপজেলার কৃতি সন্তান খোরশেদ আলম চৌধূরী শনিবার কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের সাথে দ্বীপরক্ষা বাঁধের মারাত্মক দৈন্যদশা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এবং জরুরী আর্থ ওয়ার্কের কাজ ঠিকমতো না করলে বিল পাবেনা বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বাঁধ নির্মাণে বরাদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে স্থানীয়দের আশ্বস্থ করেন সচিব। উত্তর ধূরুং ও আলী আকবর ডেইল এলাকায় পরিদর্শন কালে ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন হায়দার, ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল-আযাদ, থানা ওসি আলতাফ হোছাইন, আ.লীগ নেতা আহমদ উল্লাহ মাষ্টার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী, পাউবোর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজিজ মুহাম্মদ চৌধুরী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তফাজ্জল হোছাইন, মাসুদুর রাব্বী ও ছাত্রলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন লিটনসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আইএসের বিরুদ্ধে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে : জর্ডান

ইরাক-সিরিয়ায় দখল পাকাপোক্তকারী ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে বলে সতর্কবাণী করেছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, মধ্য মেয়াদে এ যুদ্ধ চললে তা হবে কৌশলগত কিন্তু দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে এটি আদর্শিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর এএফপির। এ সময় ওবামা তার দেশকে বড় ধরনের মার্কিন সাহায্য দেয়ার অঙ্গীকার করেন। ওবামা জর্ডানের জন্য প্রতি বছর ৬৬০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সাহায্যের অঙ্গীকার করেন। এছাড়া দেশটিকে অতিরিক্ত ঋণ প্রদানেরও নিশ্চয়তা দেন ওবামা। বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, জর্ডান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য দেশকে একত্রিত হয়ে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। এটি করা সম্ভব না হলে তা প্রজন্মগত যুদ্ধে পরিণত হবে। সিবিএস টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আবদুল্লাহ বলেন, এই সমস্যাটি সমাধানে আমাদের সবাইকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। এটি একটি মুসলিম সমস্যা। আমাদের এর দায়ভার নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটা পরিষ্কারভাবে ভালো ও মন্দের মধ্যে একটি যুদ্ধ। অন্য অর্থে আমি মনে করি, এটি একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দীর্ঘ মেয়াদে এটি চলতে থাকলে তা আদর্শিক কারণে পরিণত হবে। এ সমস্যা সমাধানে আরব ও মুসলিম বিশ্বে বহুসংখ্যক নেতা রয়েছেন এবং এজন্য তারাই যথেষ্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, বর্ধিত মার্কিন সাহায্যের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জর্ডানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করা। জর্ডান মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ইরাকের আনবার প্রদেশ জর্ডানের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। বর্তমানে আনবার আইএস জঙ্গিদের দখলে রয়েছে। কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে মিলে জর্ডানও সিরিয়ার আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় অংশগ্রহণ করছে। বাদশাহ আবদুল্লাহ বর্ধিত আর্থিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের দেইর ইজ্জরে শনিবার ভয়াবহ যুদ্ধের পর সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিমান ঘাঁটির কিছু অংশ দখল করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা। মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, আইএস জঙ্গিরা শনিবার ভোরে দেইর ইজ্জরে সামরিক বাহিনীর একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
ইরাকে হামলার কথা স্বীকার করেছে ইরান
ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ইরানি সেনাবাহিনীর বিমান হামলার কথা স্বীকার করেছে তেহরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রহিমপোর ব্রিটিশ ডেইলি দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, নভেম্বরের শেষ দিকে ইরাক সরকারের অনুরোধে দেশটির দিয়ালা প্রদেশে আইএসবিরোধী বিমান হামলা চালায় ইরানি সেনাবাহিনী। দিয়ালা ইরান সীমান্তে অবস্থিত। তবে ইরানের বিমান হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কোনো সমন্বয় নেই বলে জানান তিনি। ইরানের ওই কর্মকর্তা জানান, ইরাকে তাদের বিমান হামলার উদ্দেশ্য হল মিত্র দেশের স্বার্থ রক্ষা। লন্ডনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইব্রাহিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো সমন্বয় নেই, আমরা শুধু সমন্বয় করছি ইরাক সরকারের সঙ্গে। ইরাক সরকারের অনুরোধে চালানো সেনা অভিযান সে দেশের সরকারকে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযানে ইরানের ভূমিকা সম্পর্কে এই প্রথম দেশটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়া হল। এএফপি।

আমেরিকায় কি আদৌ বর্ণসাম্য আসবে?

ছয় বছর আগে আমেরিকায় যখন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা নির্বাচিত হলেন, তখন সমাজবিজ্ঞানীরা বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্ণবাদ-উত্তর সমাজব্যবস্থায় প্রবেশ করল। ওবামার বিদায়ের মুহূর্ত এখন ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু আমেরিকা বা এর সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন আসলে কতটুকু হয়েছে? ফার্গুসন নিউইয়র্কের পর অ্যারিমোনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বর্ণবাদপ্রথা মার্কিনিদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত। এ অবস্থা থেকে বের হওয়া আদৌ সম্ভব কিনা কিংবা আদৌ কি সেখানে বর্ণসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে?
তা এখন নতুন করে ভাববার সময় হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার তিনজন কেবিনেট সদস্য কৃষ্ণাঙ্গ। এর মধ্যে আছেন বিদায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার, হোল্ডারের উত্তরসূরি হিসেবে ওবামা মনোনীত লরেত্তা লিঞ্চ। লরেত্তার নিয়োগ কার্যকর হলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী প্রধান।
মোটা দাগের এই চমকপ্রদ তথ্য বাইরে রেখে ভেতরে নজর দিলে বোঝা যাবে আসল রহস্য। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনগোষ্ঠীর ১৪ শতাংশ আফ্রো-আমেরিকান বা কৃষ্ণাঙ্গ। দেশটির সংবিধানে নাগরিক অধিকার অধ্যাদেশ সংযুক্ত হওয়ার ৫০ বছর পর এখানকার ১০০ সিনেটরের মধ্যে মাত্র দুজন কৃষ্ণাঙ্গ। কোম্পানিগুলোর কথা বললে ৫০০টির মধ্যে ১০ জন কৃষ্ণাঙ্গও কোম্পানির সিইও বা প্রধান নির্বাহী পদে নেই। দেশের পাঁচ শতাধিক কোটিপতির মধ্যে মাত্র দুজন অপরাহ উইনফ্রে ও মাইকেল জর্ডান।
ন্যাশনাল পোভার্টি সেন্টারের ২০১০ সালের তথ্যানুযায়ী কৃষ্ণাঙ্গদের ২৭.৪ শতাংশ জনগণ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। এই পরিসংখ্যান অহিস্পানিক শ্বেতাঙ্গদের মাত্র ৯.৯ শতাংশ। গত বছরের পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা মতে, শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে অন্তত ৬ গুণ কৃষ্ণাঙ্গ বন্দিত্বের শিকার। আর যে কারণে আমেরিকা এখন উত্তাল, তা তো হরহামেশাই ঘটছে- শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গর মৃত্যু। প্রো-পাবলিকার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১০-১২ সাল পর্যন্ত ১৫-১৯ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরদের মিলিয়ন প্রতি ৩১.১৭ শতাংশ পুলিশের হাতে নিহত হয়েছে, যা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় অন্তত ২০ গুণ বেশি।
নির্বাচনী প্রচারণায় ওবামা বলেছিলেন, আমেরিকা থেকে বর্ণবাদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বর্ণবাদ-উত্তর সমাজব্যবস্থার প্রচলন ঘটতে যাচ্ছে তার হাতে। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে ফার্গুসনে ব্যাপক বর্ণবাদী দাঙ্গার পর তিনি হতাশ হয়ে জানিয়েছেন, কঠিন সত্য হচ্ছে, বর্ণবাদ সমাজের অনেক গভীরে প্রোথিত। এটা ফার্গুসনের সমস্যা নয়, এটা আমেরিকান সমস্যা।
ফার্গুসনে দাঙ্গার সময়, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিস (৩৪) তার পূর্ণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, কৃষ্ণাঙ্গ যুবকরা সত্যিকারভাবে জীবনের কোনো অর্থ খুঁজে পায় না। তাদের জীবনের যেখানে মূল্য নেই, সেখানে তারাও গুলি করলে, বিল্ডিং ভাংচুর করলে, দাঙ্গা, লুটপাট করলে কী আর এসে যাবে! ভিডিও দৃশ্যে স্পষ্ট বোঝা যাওয়ার পরও কৃষ্ণাঙ্গ এরিক বার্গারকে শ্বাসরোধে হত্যাকারী শ্বেতাঙ্গ পুলিশকে দায়মুক্তি দিয়েছে নিউইয়র্কের গ্রান্ড জুরি। দুই সপ্তাহ আগেই ফার্গুসনে দায়মুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনা লরেত্তা লিঞ্চের বিচার বিভাগীয় প্রধান হওয়ার পথে জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছয় সন্তানের জনক নিরস্ত্র বার্গারকে (৪৩) হত্যার সময় নাগরিক অধিকার লংঘিত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগ উদ্যোগ নিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে বিক্ষোভ চলছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি'র খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে বৃষ্টির মধ্যে নিউইয়র্কে শত শত লোক বিক্ষোভ করে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্র্য্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী মাটিতে লাশের মত করে শুয়ে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা ও গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধন্তের প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া মায়ামি, শিকাগো, বোস্টন, নিউ অরলিন্স ও ওয়াশিংটন ডিসিতেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

জঙ্গিরা গণতন্ত্রে হামলা করছে : মোদি

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর উপত্যাকায় সেনাক্যাম্পে জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সামরিক পোশাকের জঙ্গিরা ভারতের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করছে। জওয়ানদের প্রশংসা করে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের আÍত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। খবর ইনডিয়া টুডের।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা ভারতের গণতন্ত্রে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আমাদের জওয়ানরা জীবন দিয়ে জঙ্গিদের প্রতিহত করেছে।’ শনিবার ঝাড়খণ্ডের একটি নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডের বীর সন্তান সংকল্প কুমার ও অন্য জওয়ানদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, যারা দেশের নিরাপত্তায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। শুক্রবার কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলীয় বারামুলা জেলার উরি সেনাক্যাম্পে সীমান্ত পার হয়ে আসা জঙ্গিদের চারবারের হামলায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল সংকল্প কুমারসহ ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। এতে সেনাক্যাম্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। এসব সন্ত্রাসী হামলাকে ‘উন্মত্ত প্রচেষ্টা’ অভিহিত করে মোদি তার নিন্দা জানান।
এদিকে, ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল দালবির সিং সুহাগ বলেছেন, কাশ্মীরের সেনাক্যাম্পে হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা নির্বাচন বানচালের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। উরি সেনাক্যাম্পে জঙ্গি হামলার পর শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সেনা সদস্যরা এখন ২৪ ঘণ্টা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছেন।
দালবির বলেন, ‘এসব হামলা ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস করার অপচেষ্টা। কাশ্মীরের তৃতীয় দফা নির্বাচন বানচালের জন্য জঙ্গিরা হামলা করছে। আমি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, জঙ্গিদের এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল করতে দেয়া হবে না।’ জেনারেল দালবির শনিবার নিহত জওয়ানদের শেষ কৃত্যানুষ্ঠান পালনে শ্রীনগরের বাদামিবাগ ক্যান্টনমেন্টে যান। এ সময় তিনি জীবন উৎসর্গকারী এসব জওয়ানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি এই সাহসী জওয়ানদের প্রতি সশ্রদ্ধ স্যালুট জানাই, যারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তাদের আÍোৎসর্গ বিফলে যাবে না। এটা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।’ সেনাপ্রধান অঞ্চল ঘুরে ঘুরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
ওদিকে, জম্মু কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধির পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেছেন কংগ্রেসের ভাইস প্রেসডেন্ট রাহুল গান্ধী। শনিবার তিনি বলেছেন, মোদি ক্ষমতায় আসার পর ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ বেড়েছে। রাহুল বলেন, তিনি (মোদি) বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে তিনি ঝামেলা মিটিয়ে ফেলবেন। তা পারছেন কই? কংগ্রেসের এ নেতা আরও বলেন, যখন ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন কাশ্মীরে পর্যটকরা বেড়াতে আসতেন। আর মোদি ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাসীরা আসে। মোদি যেখানে যান, সেখানেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, সন্ত্রাস হয়। এখন মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তর প্রদেশেও তা হতে যাচ্ছে। বিজেপি এক সম্প্র্রদায়কে আরেক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়।
নয়াদিল্লিতে রেড এলার্ট
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিদের দফায় দফায় হামলার পর সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীতে শুক্রবার রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গোটা রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, মেট্রো স্টেশন ও মলগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনায় পুলিশের স্পেশাল অ্যান্ড ট্যাকটিস (সোয়াট) ও হিট টিমের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা ও গোয়েন্দারা দিনভর তৎপর রয়েছেন। তারা সন্দেহভাজনদের যে কোনো ধরনের চলাচলের ওপর তীক্ষè নজর রাখছেন। দিল্লি পুলিশ কমিশনার বিএস বাসি শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সব জেলার ডিসিপিদের সঙ্গে বাহিনীর প্রস্তুতির বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। ইন্ডিয়া গেট ও রেড ফোর্টের মতো স্থানেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কৌশলগত স্থানগুলোতে পিসিআর ভ্যান মোতায়েন করা হয়েছে।

শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশী ছাত্রীকে ধর্ষণ

শান্তিনিকেতন পাঠভবনের বাংলাদেশের বাসিন্দা এক দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীর যিনি ছিলেন রক্ষক, তিনিই ভক্ষক হয়ে দিনের পর দিন ওই পড়ুয়াকে ধর্ষণ করলেন নিজের ঘরে। এমনই অমানবিক ঘটনার অভিযোগে বিশ্বভারতির এক পিএইচডি পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে শনিবারই আদালতে পাঠায় বোলপুর থানা। বিচারক অভিযুক্ত যুবককে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। নির্যাতিত ছাত্রী ও অভিযুক্ত যুবক, দুজনেরই বাড়ি বাংলাদেশে। ছাত্রীটির ভর্তির সময় স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে অভিযুক্ত সফিকুল ইসলামের নামই বিশ্বভারতীতে নথিভুক্ত করেছিলেন ছাত্রীর বাবা। কলাভবনের পর একই ধরনের কলংকজনক ঘটনা পাঠভবনে হওয়ায় এদিন বিকালে চাপে পড়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে। সন্ধ্যায় অভিযক্ত পিএইচডি পড়ুয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
ছাত্রীটির বাড়ি ঢাকা লাগোয়া খালিগঞ্জ থানা এলাকায়। অভিযুক্ত ছাত্রের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জের দাদপুর গ্রামে। দুজনেরই পরিবার পূর্বপরিচিত। অভিযুক্ত সফিকুল শ্রীনিকেতনের রুরাল এক্সটেনশন সেন্টারে গবেষণা করে। একাদশ শ্রেণীতে ছাত্রীটি যখন ভর্তি হয় তখন সফিকুলকে বিদেশে মেয়ের রক্ষক হিসেবে ভরসা করে স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে বিশ্বভারতীতে পরিচয় নথিভুক্ত করেছিলেন ধর্ষিতার বাবা। কিন্তু তার সেই বিশ্বাস ও আস্থা যে মেয়ের এত বড় সর্বনাশ করবে তা তিনি ভাবতে পারেননি। এদিন দুপুরে বোলপুর আদালতে দাঁড়িয়ে ছাত্রীর বাবা বলেন, সফিকুল শুধু আমার মেয়ের সর্বনাশ করেনি, বাংলাদেশের মান-সম্মান ডুবিয়ে দিল। ওপার বাংলা থেকে যারাই পড়তে এসেছে তাদেরও বদনাম করে দিল সফিকুল।
পুলিশের কাছে শুক্রবার রাতে ছাত্রীটি অভিযোগ করেছে, মাসপাঁচেক আগে একদিন সফিকুলের পূর্বগুরুপল্লীর ভাড়া বাড়িতে ডেকে পাঠায়। সেখানেই প্রথম জোর করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় গোপনে পুরো ঘটনাটির ভিডিও রেকর্ডিং করে। ঘটনার পর ছাত্রীটি যখন কান্নাকাটি শুরু করে তখন ওই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেলিং শুরু করে সফিকুল। একই দিনে ফের দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করে। ছাত্রীটি মাধবী ছাত্রীনিবাসে থাকত। পুলিশে ছাত্রীটির অভিযোগ, ওই ছবি দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে হোস্টেলে ফিরে আসার কথা থাকলেও ছাত্রীটি মাঝে মধ্যেই রাত সাড়ে আটটার পরে ফিরত। প্রশ্ন উঠেছে, কেন হোস্টেল সুপার ফিরে আসার ক্ষেত্রে দেরি করার কড়া ব্যবস্থা নিলেন না? ইদানীং সহবাসে সম্মতি না দিলেও ঘরে ডেকে নিয়ে নির্যাতিতাকে বেধড়ক মারধর করত সফিকুল। সহবাস না করলে বিশ্বভারতীতে সিডি করে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করারও হুমকি দিয়েছিল অভিযুক্ত। অত্যাচারের মাত্রা সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দিন কয়েক আগে বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানায় নির্যাতিতা। ৩ ডিসেম্বর ছাত্রীর বাবা শান্তিনিকেতনে আসেন। পরদিন মেয়ের কাছে পুরো বিষয়টি জেনে শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঠভবনের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। রাত ১১টা নাগাদ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ছাত্রী ও তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশে এফআইআর করেন। রাত একটা নাগাদ পূর্বগুরুপল্লীর বাড়ি থেকে সফিকুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বোলপুর আদালতে সফিকুল জানিয়েছে, পুরোপুরি চক্রান্ত করে ফাঁসানো হল আমাকে। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটির বাবা সম্পর্ক মানতে পারেননি বলেই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অবশ্য এদিন ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা করেছে। সফিকুলকে গ্রেফতারের সময় তার ঘর থেকে একটি ল্যাপটপ, পাঁচটি পেনড্রাইভ, বেশ কিছু সিডি ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে। পুলিশ এখন ল্যাপটপে কী আছে এবং ছাত্রীটির অশ্লীল ভিডিও সিডি করে বিক্রি করে দিয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছে। প্রচুর পরিমাণে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, ওই ছাত্রী ছাড়াও অন্য কেউ কি তার ঘরে আসত? নাকি গোটা বিষয়টিতে কোনো চক্র জড়িয়ে আছে? কলাভবন কেলেংকারির ভিডিও-চক্র সফিকুলের পরিচিত কিনা তাও তদন্ত করে দেখছে বোলপুর পুলিশ।

হ্যালো আমি শেখ রেহানা বলছি ...

‘হ্যালো আমি শেখ রেহানা বলছি। প্রধানমন্ত্রীর বোন। একজন পঙ্গু পুরুষ ও প্রেগনেন্ট (অন্তঃসত্ত্বা) মহিলাকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। তাদের কিছু আর্থিক সমস্যা আছে।’ ৩০ নভেম্বর এভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে ফোন করেন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার মারজিয়া জান্নাতি নূপা (৩১)। ফোন করে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের বড় কিছু ইন্স্যুরেন্স পঙ্গু পুরুষ ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে দেয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন বিকাল সাড়ে ৫টায় তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও নির্ধারণ করে দেন নূপা। শেখ রেহানার পরিচয়ে ফোনের বিষয় সন্দেহ হয় ড. আতিউরের। তিনি পিএর মাধ্যমে ওই নম্বরে ফোন করে জানতে পারেন ওই মহিলা প্রকৃতপক্ষে শেখ রেহানা নন। অভিযোগটি জানানো হয় র‌্যাবকে। র‌্যাব দীর্ঘ অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়, গভর্নরকে ফোন করা ওই নারীর প্রকৃত নাম মারজিয়া জান্নাতি নূপা ও তার স্বামী বিআইডব্লিউটির ঠিকাদার এমএ কাশেম মজুমদার। র‌্যাব তাদের শনিবার বনশ্রীর বাসা থেকে আটক করে।
শনিবার র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে সিও লে. কর্নেল গোলাম সারওয়ার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অল্প সময়ে বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া অপরাধীদের পুরাতন কৌশল। প্রতারণার কৌশল হিসেবে বিভিন্ন সময় নিজেকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অপচেষ্টা করেন। র‌্যাব তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে তৎপরতা চালিয়ে আসছে।
র‌্যাব আরও জানায়, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশের সিনিয়র অফিসার নূপা ও তার স্বামী কাশেম মজুমদার আর্থিকভাবে সচ্ছল। তারা আরও সচ্ছলতার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এর অংশ হিসেবে ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অফিসিয়াল ল্যান্ডফোন নম্বরে ফোন করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বলেন, ‘আমি একজন পুুরুষ এবং একজন মহিলাকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছি। পুরুষটি পঙ্গু এবং মহিলাটি অন্তঃসত্ত্বা।’ তাদের কিছু আর্থিক সমস্যা রয়েছে। তাই তাদের আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এলসির বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংকের ইন্স্যুরেন্স যেন এই মহিলাকে দেয়া হয় সে বিষয়ে গভর্নর যেন ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেন। নূপা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যত বেশি ইন্স্যুরেন্স করাতে পারবেন তত তাড়াতাড়ি চাকরিতে ভালো অবস্থানে যেতে পারবেন এবং বেশি লভ্যাংশ পাবেন। এ কারণে প্রতারণার মাধ্যমে বড় অংকের ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আনার চেষ্টা করেন। মাসে আনুমানিক এক কোটি টাকা রোজগারের পরিকল্পনা করেন এই নারী। ওই পঙ্গু পুরুষ ও অন্তঃসত্ত্বা নারী তার অধীনস্থ কর্মচারী।
র‌্যাব আরও জানায়, ৩০ নভেম্বর শেখ রেহানা পরিচয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে গভর্নর তাদের সঙ্গে পরের দিন বিকাল ৫টায় সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেন। তিনি কথা সমাপ্ত করে ফোন রেখে দেন। কথা শেষ করার প্রায় আধা ঘণ্টা পর গভর্নরের সন্দেহ হলে তিনি পিএকে দিয়ে ওই নম্বরে ফোন করান। তখন ওই মহিলা নিজেকে সেতু বলে পরিচয় দেন এবং বাসা বাড্ডা এলাকায় বলে জানান। পরে বিষয়টি র‌্যাবকে জানানো হয়। র‌্যাব গোয়েন্দা দল ব্যাপক অনুসন্ধান শেষে নিশ্চিত হয়, প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা পরিচয় দানকারী মহিলার প্রকৃত নাম মারজিয়া জান্নাত নূপা।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩, ঢাকার একটি দল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বনশ্রী থেকে নূপা ও তার স্বামী কাশেম মজুমদারকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে নূপা নিজেকে শেখ রেহানা পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ফোন করার কথা স্বীকার করেছেন।

৯০ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা ও প্লট পাবে ভুটান

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ঢাকায় ভুটানের দূতাবাস নির্মাণে প্লট বরাদ্দে দেশটির সঙ্গে দুটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা নবায়ন করা হয়। এ চুক্তির অধীনেই একটি প্রটোকল সই হয়। সে অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৯০টি পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভুটান। এছাড়া ঢাকায় দূতাবাস নির্মাণে বিনামূল্যে প্লট পাবে দেশটি এই মর্মে পৃথক প্রটোকল সই হয়। শনিবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে এ প্রটোকল স্বাক্ষরিত হল। এর আগে সকালে তিন দিনের সরকারি সফরে টোবগে ঢাকা আসেন। বিকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকের পরপরই প্রটোকল দুটি স্বাক্ষরিত হয়। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।
ভুটানকে বাংলাদেশে ৯০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে চুক্তিতে সই করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও ভুটানের অর্থমন্ত্রী নরভু ওয়াংচুক। এর আগে ভুটান বাংলাদেশে ৭৪টি পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পেয়ে আসছিল। চুক্তির নবায়ন প্রটোকল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই পণ্যের সংখ্যা ৯০টিতে উন্নীত করা হল। অপর চুক্তিতে ঢাকার বারিধারার কূটনীতিক জোনে ভুটানের দূতাবাস স্থাপনের জন্য প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভুটান আগেই বাংলাদেশকে বিনামূল্যে দূতাবাসের প্লট বরাদ্দ দেয়। তারই প্রতিদান হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এই প্লট বরাদ্দ দিল। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিনজিন দর্জি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পূর্বে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় একান্তে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার বার্তাটি হস্তান্তর করেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিদ্যুৎ, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তঃযোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্কে কোনো ধরনের বাধা না রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য ভুটান থেকে বোল্ডার আনতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেব। ব্যবসা-বাণিজ্যে আমরা উভয়ে উভয়কে সহায়তা করব। জলবিদ্যুৎ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তোফায়েল আহমদ। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে যা কিছু করা প্রয়োজন করা হবে এমন ব্যাপারেও দুই নেতা একমত হন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে ভুটান এগিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে এই পার্থক্য কমিয়ে আনতেও দুই নেতা ঐকমত্য প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার। সম্প্রতি বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ কেনার বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী পৃথকভাবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশকে স্বীকৃতির বার্তা হস্তান্তর : মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের আগেই স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের কাছে পাঠানো একটি বার্তায় ভুটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুক এই স্বীকৃতি জানান। এই বার্তাটি গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তুলে দেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। এই বার্তায় লেখা আছে, ‘আমার সরকার ও আমার ব্যক্তিগত তরফে মহামান্য আপনাকে এবং বাংলাদেশ সরকারকে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিচ্ছি’।
‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের মহান ও বীর সন্তানরা বৈদেশিক আধিপত্যের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং নিকট ভবিষ্যতে সাফল্যের মুকুট পরবে’।
‘আমার জনগণ এবং আমি মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি এবং আমরা আশা করি, প্রভু তাকে বর্তমান আটক দশা থেকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনবেন, যার ফলে তিনি আপনাদের দেশ ও জনগণের নেতৃত্ব দিতে পারবেন, যার বড় কাজ হলো জাতীয় পুনর্গঠন ও অগ্রগতি অর্জন’।
লাল গালিচা সংবর্ধনা : ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগেকে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী রয়্যাল ভুটানিজ এয়ারলাইন্সের ‘দ্রুক এয়ার’র একটি বিমান সকাল নয়টা দুই মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে নামার পর ৯টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরের ভিভিআইপি ট্যারম্যাকে শেরিং টোবগেকে অভ্যর্থনা জানান।
বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল শেরিং টোবগেকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী একটি সুসজ্জিত মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালাম গ্রহণ করেন। পরে তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন।
বিমানবন্দরে এ সময়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও কেবিনেট সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং স্বাধীনতার শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি একটি উদয় পদ্মফুল গাছের চারা রোপণ করেন। গত জুলাই মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি শেরিং টোবগের প্রথম বাংলাদেশ সফর।

চউকের প্লট বরাদ্দ নিয়ে চরম স্বেচ্ছাচারিতা

সবার শেষে বরাদ্দ দেয়া হলেও সবার আগে রেজিস্ট্রি দেয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক প্রকল্প ‘অনন্যা’র বহুল আলোচিত বেশ কিছু প্লট! বিশেষ করে গ্রহীতারা মন্ত্রী-এমপি তথা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সরকারের সাবেক এবং বর্তমান আমলা হওয়ার কারণেই তারা বিশেষ এ সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে লটারির মাধ্যমে প্লট পাওয়া সাধারণ গ্রহীতাদের প্লট রেজিস্ট্রি করে দেয়া হচ্ছে না। বছরের পর বছর অপেক্ষা করে কিংবা চউকের পাওনা পরিশোধের পর রেজিস্ট্রির জন্য আবেদন করেও রেজিস্ট্রি নিতে পারছেন না তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চউক সর্বশেষ যেসব প্লট মন্ত্রী-এমপি ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের ‘উপঢৌকন’ হিসেবে দিয়েছে সেসব প্লট দ্রুত রেজিস্ট্রি করে দেয়া হচ্ছে। প্লটগুলো নিয়ম না মেনে দেয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। সরকার না থাকলে কিংবা দুদকের ‘বদ’ নজর পড়লে এসব প্লট নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে- এ কারণেই প্লটগুলো দ্রুত রেজিস্ট্রি করে দেয়া হচ্ছে। এদিকে চউক থেকে রেজিস্ট্রি নেয়ার পর ভিআইপি গ্রহীতারা নিজ নিজ প্লট দ্রুত হাতবদল অর্থাৎ বিক্রি করে দিয়েছেন। অনন্যা আবাসিক প্রকল্পের ডি ব্লকে এ ধরনের প্রায় ৫৯ প্লট রয়েছে। যার বেশির ভাগই ৪ থেকে ৫ কাঠার।
যদিও চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সরকারি বিধি-বিধান ও শর্ত মেনেই মন্ত্রী-এমপি বা সরকারদলীয় নেতা ও আমলাদের প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রি ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে না বা বিশেষ সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। যারাই প্লটের বিপরীতে চউকের পাওনা পরিশোধ করছেন তাদের নিয়ম মেনে প্লট রেজিস্ট্রির ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। চউকের নামে নামজারি বা মিউটেশন না হওয়ার কারণে অনন্যার অন্য ব্লকের প্লট রেজিস্ট্রি বিলম্ব হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে এ-ব্লকের প্লট চউকের নামে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্লট রেজিস্ট্রি কার্যক্রম ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে।
চউক সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে অনন্যা আবাসিক এলাকায় লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন কোটায় প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এসব প্লট গ্রহীতাদের বুঝিয়ে দিতে পারেনি চউক। নালা-নর্দমা নির্মাণ, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নে শম্ভুক গতির কারণে বিলম্ব হয়। ফলে গ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এদিকে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৪০৫তম বোর্ড সভায় অনন্যা আবাসিক এলাকার ডি-ব্লকের ৫৯টি প্লট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে অন্তত ২০টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-এমপিদের নামে। বাকিগুলো আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও পূর্ত মন্ত্রণালয় ও চউকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের নামে-বেনামে বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্লটের বরাদ্দপত্র পাঠানো হয় একই বছরের ২১ নভেম্বর। অনেকটা গোপনে কম মূল্যে এভাবে প্লট বরাদ্দ দেয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ায় চট্টগ্রামজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। চউকের অধিকাংশ বোর্ড মেম্বারও এ প্লট বরাদ্দ সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। অনন্যার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরাও এতে ক্ষুব্দ হন। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের অভিযোগ, যাদের জমি-জমা অধিগ্রহণ করে এই আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত তেমন ভূমি মালিকদের ৪ জনকে বি-ব্লকে মাত্র আড়াই কাঠার একটি প্লটও দেয়া হয়েছে। একই ব্লকের আড়াই কাঠার ২১৫ নম্বর প্লটটি দেয়া হয়েছে তিনজন ক্ষতিগ্রস্ত মালিককে। সূত্র জানায়, সবার শেষে বরাদ্দ দেয়া আলোচিত এসব প্লটের বরাদ্দ বাতিল চেয়ে আবু সাঈদ চৌধুরী নামে ক্ষতিগ্রস্ত একজন ভূমি মালিক পূর্ত সচিব ও চউক চেয়ারম্যানস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাফসান আল আলভি প্রদত্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৮ সালের বরাদ্দ নীতিমালা এবং অনন্যা আবাসিক এলাকার প্লট বরাদ্দ নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজের লাভের জন্য চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গোপনে অনন্যা আবাসিক এলাকার অনধিক ৫০টি প্লট চট্টগ্রামের মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা এবং তার আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে বরাদ্দ দিয়েছেন। এতে যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। এ প্রকল্পে আবু সাঈদ চৌধুরীর ০ দশমিক ১৪০০ একর বা ১৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তার প্লট পাওয়ার কথা থাকলেও আবেদন করার পরও তার অনুকূলে চউক কর্তৃপক্ষ কোনো প্লট বরাদ্দ করেনি। চউক কর্মচারীদের সংগঠন চউক কর্মচারী লীগও এ বরাদ্দ নিয়ে ক্ষুব্দ। মূলত এসব কারণেই সবার শেষে বরাদ্দ দেয়া প্লটগুলো সবার আগে রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করেছে চউক। রেজিস্ট্রি পাওয়ার পর অনেক মন্ত্রী-এমপি তথা ভিআইপি প্লট বাতিল বা ঝামেলায় জড়ানোর আশংকায় প্লটগুলো হাতবদল বা বিক্রি করে দিয়েছেন। এরই মধ্যে চউক থেকে রেজিস্ট্রি নেয়ার পর সীতাকুণ্ডের সাবেক এমপি আবুল কাসেম মাস্টার, পটিয়ার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়ব, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বাহাউদ্দিন খালেক শাহজী তাদের প্লট বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া মিরসরাইয়ের এমপি পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বান্দরবানের এমপি বীর বাহাদুর, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া তাদের অনুকূলে বরাদ্দ করা প্লট রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কে ঘাটতি দেখা দেবে বলে মনে করছে বিএনপি। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুক্রবার দেয়া বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এ আয়োজন করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠকের বিষয়টি আবারও অস্বীকার করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বলা হয়, বিএনপিকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করতে হয় না।
দেশের রাজনীতি কলুষিত করার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন এমন অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিরাচরিত ও স্বভাবসলুভ ভঙ্গিমায় রুচিহীন ও রাজনৈতিক শিষ্ঠাচারবহির্ভূত মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য ছিল তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও দুই বারের বিরোধীদলীয় নেতার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক ও অবিশ্বাস্য নোংরামিতে পূর্ণ। উনার ওই বক্তব্য আমরা উচ্চারণ করতে ঘৃণাবোধ করছি।
দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার পায়ের নিচে মাটি শক্ত। আমাদের বক্তব্য হলÑ যদি মাটি শক্ত হয়ে থাকে, নির্বাচন দিন, তখন দেখা যাবে কার পায়ের নিচের মাটি কত শক্ত। দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্র দরকার হয় না। তিনি রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। গুলশানের কার্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবারের বৈঠক সম্পর্কে গণমাধ্যমের খবরের কোনো ভিত্তি নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সেদিন গুলশানের কার্যালয়ে এ ধরনের কোনো বৈঠক হয়নি। পত্রপত্রিকায় যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। ফুটেজের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, বৈঠকই হয়নি, কিসের ফুটেজ? ফুটেজ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ফখরুল বলেন, বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই বরাবর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে। দেশের জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে দিতে এরকম ষড়যন্ত্রের কথা বলে জনগণকে তারা বিভ্রান্ত করে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকের বিষয়টিও তেমনি একটি।
দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়া হয়েছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংস্থার আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখা হবে বলে তিনি বলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চান, টিআইবি এ ধরনের প্রতিবেদন আবার করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে দুর্নীতি শুরু- প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে মানুষ হাসবে। আওয়ামী লীগ দুর্নীতি ও দুঃশাসনের জনক। অতীতে আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। আর এবার শেখ হাসিনা দুর্নীতিকে রাষ্ট্রায়ত্তকরণ করেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে বেধতা দিয়েছেন। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নামে আইন করে দুর্নীতিকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে।
সাম্প্র্রতিককালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালানের কয়েকটি ঘটনার কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, কারা এই সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছের লোকজনই এই স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত রয়েছে বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ জানুয়ারি সাজানো নির্বাচন ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা থলের বিড়াল এইচটি ইমামের বক্তব্যে বেরিয়ে গেছে। এটা এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে, বংশবদ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ওই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে।
গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকলে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে জেলে থাকতে হতো না। কেবল তা-ই নয়, অনেক সাংবাদিককে খুন ও নির্যাতন করা হয়েছে। চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভিসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু এক লাইন ফেসবুকে লেখার জন্য এক সেনা কর্মকর্তার বিচার চলছে। এক ছাত্র সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য তাকে ৭ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। এ হচ্ছে দেশে বাক স্বাধীনতার নমুনা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য শুধু কূটনীতিক শিষ্ঠাচারবহির্ভূতই নয়, এখানে বর্ণবাদের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এরকম বক্তব্যের পর সরকার সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা করেনি, কথা বলেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বর্ণবাদের পক্ষে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। বর্তমান বিশ্বে দুটি দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও থাকে। সরকার প্রধানের এরকম বক্তব্যে দুদেশের সম্পর্ক অযাচিত ধাক্কা খেয়েছে।
সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে স্থলসীমান্ত চুক্তির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান তিনি। তবে তিনি বলেন, সীমান্ত চুক্তি হলেও তা বড় কিছু পাওয়া নয়। ২০০২ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ছিটমহল হস্তান্তর, অপদখলকৃত ও বিরোধপূর্ণ ভূমির বিষয়াবলী এক সঙ্গে প্যাকেজ আকারে নিষ্পত্তি করার জন্য ভারতকে বলা হয়েছিল। এটা করা হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। অন্যথায় আমরা অসম্পূর্ণ থেকে যাব।
মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী সফরের বিষয়ে তুলে ধরে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ায় সফরে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, তারা অনেক চুক্তি করেছেন। কিন্তু তেমন কোনো গুরত্বপূর্ণ চুক্তি দেখছি না। আর পদ্মা সেতু করে দেবে বলে মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানি বলেছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরকালে ওই সেতুর বিষয়ে আলোচনা হল না কেন এ ব্যাপারে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান তিনি। এ সময় দলের সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ও আসাদুল করীম শাহিন উপস্থিত ছিলেন।

নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বোচ্চ বেতন ৭২ হাজার টাকা এবং সর্বনিু ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে রাখা হয়েছে ১৬টি গ্রেড। এছাড়া বাড়িভাড়া, গৃহনির্মাণ, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবও থাকছে। বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো প্রস্তাব করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবীমা ও এককালীন চিকিৎসা খরচ দেয়ার সুবিধা। বীমা সুবিধা পরিবারের সদস্যরাও পাবেন। পাশাপাশি চাকরিজীবীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের নামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি স্বাস্থ্যকার্ড ইস্যু করার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। চলতি সপ্তাহেই বেতন কমিশনের প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অসংখ্য সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করেছে। বীমা সুবিধা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য সুপারিশ থাকবে। অন্য সুবিধাগুলো বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে যৌক্তিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর নতুন বেতন স্কেলে গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬টি। গত বছরের ২৪ নভেম্বর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের অষ্টম জাতীয় চাকরি ও বেতন কমিশন গঠন করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর। কমিশন সূত্র জানায়, বর্তমান বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার টাকা এবং সর্বনিু ৪ হাজার ১শ’ টাকা নির্ধারণ করা আছে। প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ৭২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, উৎসব, শ্রান্তি বিনোদন, টেলিফোন, গাড়ি, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুগোপযোগী করার প্রস্তাব থাকছে। কমিশনের সুপারিশে কোনো ভাতাই বাতিল করা হচ্ছে না। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সঙ্গে বিভিন্ন ভাতার পরিমাণের মিল নেই। এসব অসামঞ্জস্যতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হয়েছে বেতন কমিশনে প্রতিবেদনে।
সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসিক সংকট মোকাবেলায় সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার সুপারিশ থাকছে। বর্তমানে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণ নিতে পারেন। নতুন বেতন স্কেলে বাড়ি নির্মাণ বা কেনা বাবদ ঋণের পরিমাণ ৪০ মাসের মূল বেতনের সমান করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এ ঋণ হবে সুদযুক্ত। সুদের হার হতে পারে ৫ শতাংশ।
সংবিধানে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার অধিকার এবং কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণাকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদেও বীমা সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করা হচ্ছে কমিশনের প্রতিবেদনে। তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সুবিধা পাবেন। কমিশনের নতুন সুপারিশে বেতন বা স্বাস্থ্যভাতা থেকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট হারে টাকা কেটে রাখা হবে। এর বিনিময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যয় সুবিধা দেয়ার সুপারিশ করবে কমিশন। তবে কেউ মারা গেলে অথবা দুর্ঘটনার কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে আলাদাভাবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, বীমা সুবিধার জন্য প্রিমিয়াম বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে। এই অর্থসংস্থানের উৎস নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব থাকছে বেতন কমিশনের সুপারিশে। এক্ষেত্রে পুরো বীমার অর্থ সরকারের কাছ থেকে নেয়া অথবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেয়ার প্রস্তাব থাকছে। এছাড়া বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে প্রিমিয়ামের টাকা সরকার ও চাকরিজীবী- উভয়ের কাছ থেকে আদায় করা হবে। বিকল্প প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে সেখান থেকে প্রিমিয়ামের টাকা কেটে নেয়া।
এছাড়া চাকরিজীবীদের নামে পাঁচ বছরের জন্য একটি স্বাস্থ্যকার্ড প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে। এ কার্ড প্রদর্শন করে সরকারি এবং মাঝারি মানের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা।
বেতন কমিশনের রিপোর্টের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সুপারিশ পেলে এটি পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনার পর আইনি প্রক্রিয়ায় এটি চূড়ান্ত আকারে পাস করা হবে। তবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে আগামী ২০১৫ সালের পহেলা জুলাই থেকে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত আরও ১৭ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক সদস্য জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে হলে তাদের আকর্ষণীয় বেতন দিতে হবে। কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই উপকৃত হবেন। সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্ঘটনার শিকার হলে যাতে আর্থিক সুবিধা পান, সে জন্য বীমা সুবিধা দেয়ারও সুপারিশ করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন নির্ধারণ করার কথা। এখন যে বেতন কাঠামো কার্যকর রয়েছে তা ২০০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে। যেখানে আগের চেয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এ মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে। যখন নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে তখন মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় হয়ে যাবে।

কারজাবির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মিশরীয় বংশোদ্ভূত বিশ্বখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইউসুফ আল-কারজাবির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। মিশর সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।
মিশরের বর্বর স্বৈরাচার সরকার উদারপন্থী এই সুন্নী মুসলিম শিক্ষাবিদের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত হত্যায় উসকানি, জেলবন্দীদের পালিয়ে যাওয়ায় সহায়তা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও চুরির’ অভিযোগ এনেছে। এসব অভিযোগে মিশর সরকার তার বিচার করতে চায়। কারজাবি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি মিশর ভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সুন্নী রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি সহানুভূতিশীল। আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত তার ইসলামি অনুষ্ঠান ‘শরীয়াহ ও জীবন’ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়।
গত বছর জুলাইয়ে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সেনাবাহিনী বন্দুকের নলের মাথায় উৎখাত করলে তার নিন্দা জানান কারজাবি।
২০১১ সালে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের সময় জেল ভেঙে বহু মানুষ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মুরসি ও কারজাবির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মিশরের সেনা সমর্থিত সরকার।
বর্তমানে কাতারে বসবাস করছেন ৮৮ বছর বয়সী বিশ্ববরেণ্য এই আলেম। তিনি কাতারের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
মিশরের পূববর্তী স্বৈরাচারী সরকারগুলোর আমলে তিনি একাধিকবার জেল খেটেছেন। হোসনি মোবারকের পতনের পর তিনি আকস্মিকভাবে তাহরির স্কয়ারে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং জুমার নামাজের ইমামতি করেন।
গত মে মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বয়কট করার জন্য মিশরীয়দের প্রতি আহ্বান জানান কারজাবি। ভোটারবিহীন ওই নির্বাচনের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।
তিনি মোহাম্মদ মুরসিকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে তার পুনর্বহালের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: ডেইলি নিউজ ইজিপ্ট

অবৈধ শাহজালাল হাসপাতাল সিলগালা

বৈধতা না থাকায় এক সপ্তাহের মাথায় রাজধানীতে আরও একটি হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে। ভুয়া ডাক্তার, নার্স দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকা এবং চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগে শনিবার রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের শাহজালাল জেনারেল হাসপাতালটি র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত সিলগালা করে দেন। একই সঙ্গে মালিক সুজন দাসসহ ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মানুযায়ী প্রতি দশ বেডের হাসপাতালে তিনজন ডাক্তার ও ছয়জন নার্স ও তিনজন সুইপার বাধ্যতামূলক হলেও এখানে পাওয়া যায় ৩ ভুয়া ডাক্তার, এক ভুয়া নার্স ও ২ ভুয়া টেকনিশিয়ান। হাসপাতালের মালিক অভিযুক্ত সুজন জানায় গত ৩ বছর ধরে হাসপাতালটি এভাবেই চলছে। এর আগে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশ্লেষক জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরীর চিকিৎসায় অবহেলার কারণে রাজধানীর পান্থপথেও মোহনা হাসপাতালের চিকিৎসাসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার।
জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরী ২৯ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। সে অবস্থায় মোহনা হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। এরপর মোহনা হাসপাতালের বিরুদ্ধে তার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
৩ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মোহনা হাসপাতালের মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে গড়ে ওঠা অবৈধ হাসপাতালগুলো অভিযান চালিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার শাহজালাল জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব-২। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক ডা. স্বপন কুমার তপাদার উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান প্রসঙ্গে আনোয়ার পাশা জানান, ভুয়া ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান দিয়ে হাসপাতালটি চালানো হচ্ছিল। এইচএসসি পাস করে এ হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করছে মাসুম। সে রোগীদের অপারেশনসহ সব ধরনের প্রেসক্রিপশন করে। শনিবার ৮ রোগীকে অস্ত্রোপচার করার সময় আটক করা হয় অভিযুক্ত ৬ জনকে। এদের মধ্যে হাসপাতালের মালিক সুজন দাশকে ২ বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সাজা দেয়া হয়। ভুয়া ডাক্তার সুমন পাল ও মো. মাসুম মৃধাকে ২ বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জারিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া মিতু জয় ধর, সুব্রত বালা এবং পংকজ চন্দ্রকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
২০১৩-এর জুন মাসে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অবৈধভাবে হাসপাতাল চালিয়ে আসছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি অত্যধিক পুরনো এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের ছাড়পত্র নেই। এছাড়া টেকনিশিয়ান সুব্রত বালা এবং পংকজ চন্দ্রের কোনো ডিপ্লোমা নেই এবং নার্স পরিচয়ে মিতু জয় কাজ করলেও তার রেজিস্ট্রেশন নেই। মানবিক বিভাগে এসএসসি পাস করে নার্সিং ডিগ্রি ছাড়াই এখানে সে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. স্বপন কুমার তপাদার যুগান্তরকে জানান, হাসপাতালের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের কেউ চিকিৎসক, নার্স বা ডিপ্লোমাধারী নয়। হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, যা চিকিৎসা সেবা প্রদানের একেবারেই অনুপযোগী। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে শাহজালাল জেনারেল হাসপাতালের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

লুটপাটের নতুন আয়োজন

গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চারী কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচি নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। দুস্থ জনগণকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কর্মসূচি দুটি বদলে দেয়া হচ্ছে। এখন থেকে টিআর কাবিখায় বরাদ্দকৃত অর্ধেক অর্থ সোলার প্যানেল ও ব্যায়োগ্যাস স্থাপনের কাজে ব্যয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাকি টাকায় হবে অবকাঠামো উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে প্রকল্প সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখে এ ধরনের দুস্থবান্ধব কর্মসূচির জন্য বরাদ্দের অর্থ দিয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গ্রামের গরিব মানুষগুলোকে বিরোধী দলের হাতে তুলে দেয়ার জন্য, গ্রামীণ জনপদকে অস্থিতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রমলূকভাবে এসব করা হচ্ছে। তাদের মতে, সোলার প্যানেল বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের নামে অতি দরিদ্র জনগণের অর্থ লোপাটের আয়োজনে সহায়তা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের চাল, গম বিক্রি করে নগদায়নের কথা বলা হয়েছে। চাল, গম বিক্রির সময় এবার দুর্নীতি হবে। সোলার প্যানেল কেনার সময় হবে আরেক দফায় দুর্নীতি। পুরনো কিনে বলা হবে নতুন। কম দামে কিনে দেখানো হবে বেশি দাম। না কিনেও দেখা হবে কেনার ভুয়া কাগজপত্র। এর মাধ্যমে নানাভাবে অর্থ লোপাটের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করা হচ্ছে। শুধু লুটপাটই নয়, এর পাশাপাশি এই প্রকল্পের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে খোদ সরকারবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের জাল। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠীকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসবের সঙ্গে তিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সরকারবিরোধী একাধিক এনজিও, বিদেশী একটি সিন্ডিকেট, দুর্নীতিবাজ একাধিক আমলা মিলে গড়ে ওঠা চক্র জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। চক্রটি সরকারপ্রধানকে অন্ধকারে রেখে গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছে। সরকারপ্রধানকে ভুল বুঝিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে চক্রটি এ ধরনের ষড়যন্ত্র করছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তাদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা।
পরিবর্তনের বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ আগ্রহ থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছেন। বিদ্যুতের ব্যাপারে তিনি খুবই সিরিয়াস। যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানে টিআর ও কাবিখার মাধ্যমে সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস দিচ্ছে। আর আলাদা প্রজেক্ট নিলে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি তো হতেই পারে। এটি নতুন একটি কনসেপ্ট। সে হিসেবে কিছু অনিয়মও থাকতে পারে। পরে তা ঠিক হয়ে যাবে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রধান বদিউল আলম মজুমদার এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত মোটেও সঠিক নয়। দরিদ্র মানুষের জন্য নেয়া কর্মসূচিতে সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা তাদের অধিকারে হস্তক্ষেপের শামিল। যাদের খাবার পয়সা নেই তারা বিদ্যুৎ ও গ্যাস দিয়ে কি করবে? এমনিতেই গরিবরা তাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত। গরিব মানুষের সহায়তার জন্য নেয়া কর্মসূচিতে যেন তাদের সহায়তার ব্যবস্থাই বহাল রাখা হয় সে বিষয়টি নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। সরকারের এ পদক্ষেপকে আপনি কিভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম বলেন, কোনো বিশেষ শ্রেণীর ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকার এটা করে থাকতে পারে।
জানা গেছে, অভাবের সময় গ্রামের দুস্থ মানুষগুলোর মুখে খাবার তুলে দেয়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতার পর থেকে কাবিখা এবং টিআর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে প্রতি বছর এ দুই খাতে চাল, গম বরাদ্দ দেয়া হয়। সাধারণত গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই প্রকল্পের অধীনে কাজ করে পরিবারের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে। চলতি অর্থবছরে টিআর কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল দেড় লাখ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ মেট্রিক টন গম। কাবিখা কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন গম। টাকার অংকে দুই খাতের বরাদ্দের মূল্য তিন হাজার কোটি টাকা। যার পুরোটাই দুস্থ মানুষগুলোর পাওয়ার কথা। কিন্তু সম্প্রতি প্রথমবারের মতো জারি করা নির্দেশিকার কারণে অর্ধেক টাকা অর্থাৎ দেড় হাজার কোটি টাকা চলে যাবে সোলার প্যানেল খাতে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য সম্পূর্ণ বিক্রি করে নগদায়ন করতে হবে। বরাদ্দের ৫০ ভাগ অর্থ এ খাতে ব্যয় হবে। পাশাপাশি কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করতে হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রহস্যময় এই গভীর ষড়যন্ত্রের মূল ইন্দনদাতা হচ্ছে একটি বিদেশী সিন্ডিকেট। নেপথ্যে থেকে তাদের অর্থ ও শক্তি জোগাচ্ছে বিশেষ ব্যাংক নামধারী দেশীয় একটি শক্তিশালী এনজিও। যাদের দেশব্যাপী একটি বৃহৎ সোলার প্রকল্প রয়েছে। অভিযোগ আছে, কিছুদিন আগেও এই এনজিওর মালিকের গভীর ষড়যন্ত্রে পদ্মা সেতু থেকে অর্থ বরাদ্দ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক। অথচ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ চক্রটি ওই এনজিওকে আর্থিক সুবিধা দিতে টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচিতে বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেকই সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস খাতে ব্যয়ের প্রকল্প তৈরি করেছে। অভিযোগ- প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিন্ডিকেট চলতি অর্থবছরেই দেড় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়বে গ্রামীণ অবকাঠামো ও তৃণমূলের অর্থনীতি। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠবে লাখ লাখ হতদরিদ্র মানুষ। গ্রামে গ্রামে তীব্র হবে সরকারিবিরোধী আন্দোলন। মোটকথা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশে দুর্যোগ নেমে আসার আশংকা রয়েছে।
এ উদ্যোগে বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলকে সুযোগ করে দেয়ার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, যাদের জন্য কর্মসূচি, সেই দরিদ্র জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হবেন। আমাদের বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে, তবে তা টিআর-কাবিখা কর্মসূচির মাধ্যমে কেন? এর মাধ্যমে সমাজে যাদের ভালো অবস্থান তাদেরই সুবিধা করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এতে আর্থিক অনিয়মেরও আশংকা থাকছে। কারণ মান সুনির্দিষ্ট না থাকায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কম দামে পণ্য কিনে তা বেশি দামে চালিয়ে দেয়ার সুযোগ নিতে পারে।
এর সুবিধাভোগী কারা হবেন তা নির্ধারণ না করায় এক ধরনের অস্বচ্ছতা তৈরি হবে উল্লেখ করে ড. ইফতেখার আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের সরকারদলীয় লোকেরা এ থেকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত ব্যবসায়ীরাও ফায়দা নিতে পিছ-পা হবেন না।
দেশের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সংকট আগের চেয়ে কম। এ খাতে নেয়া নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০২১ সালের মধ্যে চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব হবে। এ অবস্থায় টিআর-কাবিখার মতো কর্মসূচি কাটছাঁট করে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে গ্রামে বিদ্যুৎ দেয়ার পরিকল্পনার মধ্যে দুর্নীতির গন্ধ খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে- নিম্নমানের সোলার প্যানেলের কারণে ইতিমধ্যেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটির সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুস্থবান্ধব কর্মসূচি থেকে অর্থ বের করে সোলার প্যানেল খাতে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে মুহূর্তে আশংকা করা হচ্ছে যে, সরকার পতনের লক্ষ্যে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বড় আন্দোলন করতে পারে। ঠিক সেই সময় তাদের হাতে এ রকম বড় ধরনের স্পর্শকাতর ইস্যু তুলে দেয়া হচ্ছে। এটি দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ ছাড়া কিছুই নয়। তাদের মতে, এ প্রক্রিয়াকে প্রকাশ্য দুর্নীতি বললেও ভুল হবে না। কারণ প্রথমদিকে সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস রিমোট এরিয়ায় করার কথা বলা হলেও নির্দেশনায় সারা দেশেই তা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। তাহলে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস রয়েছে সেখানে কেন সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস স্থাপনের নামে হতদরিদ্র জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ করতে হবে?
একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, হঠাৎ করে টিআর-কাবিখা খাতের অর্ধেক টাকা সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কেনার নেপথ্যে রয়েছে সরকারবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে টিআর-কাবিখা প্রকল্প তৈরি করেছিল সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস খাতে অর্ধেক টাকা ব্যয় করা হলে এর পুরো উদ্দেশ্যটাই ভেস্তে যাবে। তার মতে, মূলত গ্রামের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীই টিআর-কাবিখা প্রকল্প থেকে সহায়তা পেয়ে থাকেন। আর এই শ্রেণীর জনগণই মূলত যে কোনো দেশের একটি সরকারকে নড়বড়ে করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। তিনি অবিলম্বে টিআর-কাবিখা খাত থেকে সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি বাতিল করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। অন্যথায় এই একটি প্রকল্পই যে কোনো মুহূর্তে সরকারের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবে তিনি বলেন, সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস খাতকে উৎসাহিত করা খুবই জরুরি। কারণ গ্রামীণ জনপদকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে একমাত্র মাধ্যম সোলার প্রজেক্ট। কিন্তু সেক্ষেত্রে টিআর-কাবিখার বরাদ্দ কাটছাঁট করে সোলার প্রজেক্টকে উৎসাহিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজন হলে সোলার খাতে আলাদা অর্থ বরাদ দিয়ে হলেও টিআর-কাবিখা প্রকল্পটি রক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সোলার কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-অধিদফতরের পাশাপাশি কতিপয় বিএনপি-জামায়াতপন্থী দুর্নীতিবাজ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট অফিসারের গোপন যোগসাজশ রয়েছে। মূলত এ কারণেই তড়িঘড়ি করে রাতারাতি সিন্ডিকেট পুরো টিআর-কাবিখা প্রকল্পের নির্দেশিকা সংশোধন করেছে।
কয়েকটি সোলার কোম্পানি এ চক্রের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের একটি বড় সোলার কোম্পানিও আছে। অভিযোগ সরকারের ৩ জন প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এই সোলার কোম্পানিটি বর্তমানে চট্টগ্রামে স্পর্শকাতর স্থানে কাজ করছে। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটকে রিপাওয়ারিং করার প্রকল্পেও ওই সোলার কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত একটি বৃহৎ সোলার প্যানেল কোম্পানিও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। দেশের সবচেয়ে বড় সুপারশপের মালিকানাধীন ওই সোলার কোম্পানিটি বর্তমানে দেশের ৬০ শতাংশ সোলারের চাহিদা পূরণ করছে। এর বাইরেও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার সোলার প্যানেল বিক্রি করে এমন দুই শতাধিক এনজিও জড়িত বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি তৈরির জন্য দেশী-বিদেশী এই সিন্ডিকেট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ তিনজন পরিচালককে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। পরিচালকদের মধ্যে ২ জনকে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে অধিদফতরে আনা হয়েছে। বিনিময়ে তারও মোটা অংকের টাকা সুবিধা পেয়েছেন।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, এমনিতেই টিআর-কাবিখা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। ‘নেতাকর্মী পালনের কর্মসূচি’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে টিআর-কাবিখা। সব সরকারের আমলেই টিআর-কাবিখা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। কিন্তু তারপরও বাস্তবে ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। এতে দেশের ঘূর্ণায়মান অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কিন্তু এখন টিআর-কাবিখা কর্মসূচির মোট বরাদ্দের অর্ধেক যদি সোলার বা বায়োগ্যাস প্রকল্পে ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয় তবে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মেছবাহ উল আলম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, সরকার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই বিনা পয়সায় গরিব মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পৌঁছে দিতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা এসেছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই সেখানে এটা কাজে দেবে। যেখানে প্রয়োজন নেই সেটা আমরা দেখব। যেখানে বিদ্যুৎ আছে সেখানে এর প্রয়োজন নেই, এমন নির্দেশনা আমরা এখনই দিচ্ছি না।
যেহেতু সোলার ও বায়োগ্যাস খাতে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ খরচ করা বাধ্যতামূলক তাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস রয়েছে সেসব এলাকায় ওই বরাদ্দ কোন খাতে খরচ করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ওই টাকা কি করা হবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা নেই। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আরও ৬ মাস সময় রয়েছে। এটুকু বলতে পারি, বাস্তবতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।
বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এ বন্দোবস্ত কিনা- এমন প্রশ্নে মেছবাহ উল আলম বলেন, আমাদের নির্দেশনায় কোথাও অমুক বিশেষ কোম্পানির কাছ থেকে সোলার কিনতে হবে এমন কথা বলা নেই। এটা বলার সুযোগও নেই। কারণ স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। ওই কমিটি এসব বিষয় মনিটরিং করবে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ও বিএনপি নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ যুগান্তরকে বলেন, সরকার দেশের রিমোট এরিয়ায় সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস দেবে এটা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এটা টিআর-কাবিখা কর্মসূচির টাকায় কেন? এ দুটি কর্মসূচি গরিব মানুষের কর্মসংস্থান ও উপকারের জন্য। এ কর্মসূচির টাকা অনেক সময় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা নয়-ছয় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারপরও ওই টাকা গ্রামাঞ্চলেই থাকে। কিন্তু সোলার ও বায়োগ্যাস দিলে তা যাবে এনজিও বা ধনী ব্যবসায়ীদের হাতে। এতে গ্রামাঞ্চলের কোনো উপকারই হবে না বরং এ কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি আরও বাড়বে।
তবে বিষয়টির সঙ্গে একমত নন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কারও ফায়দা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় প্রজেক্ট কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে কারা এ সুযোগ পাবেন এবং কোন কোম্পানির সোলার বা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নেয়া হবে। এসবের মান খারাপ হলে কমিটিকে দায়িত্ব নিতে হবে। অনিয়ম হলে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হবে। ডিসিদের ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মনিটরিং বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
টিআর-কাবিখার মতো কর্মসূচিতে সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, সরকারের লক্ষ্য হলো গ্রাম পর্যায়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। মূলত সে কারণেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিএনপির গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও অভিন্ন মত প্রকাশ করে যুগান্তরকে বলেন, সরকারের এ পদক্ষেপে গরিব ও হতদরিদ্র মানুষের কোনো উপকারই হবে না। উপকার হবে আওয়ামী ব্যবসায়ীদের। ক্ষমতাসীন দলের ব্যবসায়ী ও নেতাকর্মীদের বিশেষ সুবিধা দিতেই এটা করা হয়েছে।