Monday, February 21, 2011

উ. কোরিয়ার আরও হামলার আশঙ্কা দক্ষিণের

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম হোয়াং সিল্ক বলেছেন, উত্তর কোরিয়া আবারও দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক হামলা চালাতে পারে।
গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কমান্ডার, মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সহযোগীদের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় কিম বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া এখনো দায়িত্বশীল আচরণ করছে না।’

মাদাম তুসো জাদুঘরে ৪৪ প্রেসিডেন্টের মোমের মূর্তি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির মাদাম তুসো জাদুঘরে নতুন একটি গ্যালারি চালু করা হয়েছে। এতে দেশটির ৪৪ জন প্রেসিডেন্টের মোমের মূর্তি একসঙ্গে রাখা হয়েছে।
‘ফাউন্ডিং ফাদারস’ নামের ওই গ্যালারিটি গত বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হয়।
জাদুঘরটিতে রাখা বেশির ভাগ মূর্তিই পপ তারকাদের। আর পপ তারকাদের ভিড়ের মধ্যে প্রেসিডেন্টদের মূর্তিসংবলিত নতুন এ গ্যালারিটি পর্যটক ও শিক্ষার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেইজিংয়ের বাসিন্দারা দুটির বেশি ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন না

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের স্থায়ী বাসিন্দারা দুটির বেশি ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন না। অন্যরা একটির বেশি কিনতে পারবেন না। সম্প্রতি বেইজিংয়ে ফ্ল্যাটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেইজিং ছাড়াও চীনের বেশ কয়েকটি শহরে ফ্ল্যাটের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বেইজিংয়ে ফ্ল্যাটের দাম নিয়ন্ত্রণে তাদের নতুন সিদ্ধান্ত বেশ কাজ দেবে। সম্প্রতি বাড়ি নির্মাণ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করে কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকে অর্থ রেখে পাওয়া লাভের চেয়ে ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ করলে অনেক বেশি লাভ পাওয়া যায় বলে বিনিয়োগকারীরা সেদিকেই ঝুঁকছেন। এ কারণেও ফ্ল্যাটের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞ তিয়ানকুয়েন মনে করেন, ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা স্বল্পমেয়াদি। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাটের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্যই এটা করেছে। তবে আমার মনে হয় না এটা খুব একটা কাজে আসবে

রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছেন অমর্ত্য সেন

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ঘোষিত বিশেষ রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৌমেন্দ্রনাথ বেরা গতকাল শনিবার জানান, আজ সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পুরস্কার বাবদ এক লাখ রুপি ও একটি স্মারকসহ সনদ অমর্ত্য সেনের হাতে তুলে দেবেন।

জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অব্যাহত রাখায় এর প্রতি নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনা প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার ওই প্রস্তাব আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের ১৪ সদস্যই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ এর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রশাসনের গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। মুখ থুবড়ে পড়া শান্তি আলোচনা আবার শুরুর ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কো-ন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ওবামা প্রশাসন এই প্রথম এ ধরনের প্রস্তাবে ভেটো দিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এতে মধ্যপ্রাচ্য-সংকটের মোচন সহজেই হবে না। বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অব্যাহত সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের এই সময়ে ওয়াশিংটনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত আরব বিশ্বকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলবে।
গত শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আরব দেশগুলোর আনা ওই নিন্দা প্রস্তাবে বলা হয়, ১৯৬৭ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ইহুদি বসতি স্থাপন অবৈধ। অথচ ইসরায়েল সেখানে বসতি স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েলের এ ধরনের ভূমিকা সবচেয়ে বড় বাধা।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ দাবি জানিয়ে আসছে, শান্তি আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। তাঁদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল বলছে, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে শর্তহীনভাবে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।
গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের আগে ওই প্রস্তাবের পক্ষে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে আব্বাস তা নাকচ করে দেন।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত সুসান রাইস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, দশকের পর দশক ধরে চলা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে জাতিসংঘের এই প্রস্তাব যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আক্ষেপের সঙ্গে ওই প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। ভেটোর পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান তুলে ধরে সুসান বলেন, এই খসড়া প্রস্তাব দুই পক্ষের (ইসরায়েল-ফিলিস্তিন) অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলত। এই প্রস্তাব পাস উভয় পক্ষকে সমঝোতা না করার জন্য উস্কানি দিত।

তালেবানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন আফগানিস্তানের জ্যেষ্ঠ তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে সরাসরি বৈঠক শুরু করেছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্কার সাময়িকীর একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
ওই প্রতিবেদনে এ বৈঠককে ওবামা প্রশাসনের একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘বৈঠকের উদ্দেশ্য তালেবানের নেতৃত্ব নিরূপণ করা। যদি নেতৃত্ব থাকে, তাহলে আফগান শান্তির জন্য তারা কোন শর্তে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করতে চায়, তা নির্ধারণ করা।’
পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া সাংবাদিক স্টিভ কোল জানান, কয়েকটি সূত্র তাঁকে ওই বৈঠক সম্পর্কে জানিয়েছে। তবে সূত্রের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, একমাত্র রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই আফগানযুদ্ধের অবসান সম্ভব।

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শহরের নাম পরিবর্তন!

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনের গতি কমানোর জন্য সতর্কতামূলক নানা প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু তাই বলে শহরের নাম পরিবর্তন! এমনটিই ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের একটি শহরে।
জানা গেছে, গত বছর ভিক্টোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় স্পিড নামের একটি ছোট শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই দুর্ঘটনা রোধে প্রচারণা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত শুক্রবার স্পিড শহরের নাম পরিবর্তন করে স্পিডকিল রাখা হয়। আর এ পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে ভিক্টোরিয়া ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্সিডেন্ট কমিশন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে এ বিষয়টি প্রচার করার জন্য একটি পেইজ খোলা হয়। এতে মাত্র ১০ ঘণ্টায় ১০ হাজার লোক সমর্থন দিয়েছে।

সু চির দলকে দুঃখ প্রকাশের দাবি সামরিক জান্তার

মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা অবরোধ সমর্থন করায় সে দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসিকে (এনএলডি) প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে সামরিক জান্তা। গতকাল শনিবার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত তিনটি পত্রিকায় প্রকাশিত মন্তব্য প্রতিবেদনে এ দাবি জানানো হয়।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে সামরিক জান্তা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা অবরোধসহ অন্যান্য বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন না করলে সু চি ও তাঁর দলকে ‘করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে’।
গতকাল প্রকাশিত ‘হাই টাইম টু টেক স্ট্রাইড টু ন্যাশনাল গোলস উইদাউট ইকোনমিক স্যাংশনস’ শিরোনামের ওই মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়, এনএলডিকে পশ্চিমা অবরোধের ব্যাপারে মনোভাব পাল্টাতে হবে। জনগণের স্বার্থেই অবরোধ প্রত্যাহার করা দরকার। কিন্তু এনএলডি জনগণের স্বার্থের কথা না ভেবে নিজেদের স্বার্থে অবরোধের সমর্থনে কথা বলছে। জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এই অবস্থানের জন্য দলটিকে অবশ্যই প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।
শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে বলেন, মিয়ানমারের ওপর আরোপিত পশ্চিমা অর্থনৈতিক অবরোধ এই মুহূর্তে তুলে নেওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না তিনি। অব্যাহত অবরোধের মুখে জান্তা সরকার বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এই অবরোধ দেশের অর্থনীতির ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলছে না। জনগণের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।
তাঁর এই মন্তব্যের পরের দিনই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে সু চি ও তাঁর দলকে করুণ পরিণতি ভোগ করার হুমকি দেওয়া হয়। এতে আরও বলা হয়, সামরিক জান্তা সু চিকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু তাঁর প্রতি জান্তা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো শিথিল হয়নি। জান্তার অবস্থান কঠোরই আছে।
প্রসঙ্গত ১৯৯০ সালের নির্বাচনে সু চির দল নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। কিন্তু সামরিক জান্তা দলটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বরং গত দুই দশকের বেশির ভাগ সময় সু চিকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এ সময়ের মধ্যে গত নভেম্বরে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন দেওয়া হয়। কিন্তু সামরিক জান্তা তার আগেই এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। সু চির দল ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। নির্বাচনে জালিয়াতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের কয়েক দিন পর গৃহবন্দিত্ব থেকে সু চিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পশ্চিমা অবরোধের মুখেও মিয়ানমারের জান্তা সরকার এশিয়ার মিত্র দেশগুলোকে বিনিয়োগে আগ্রহ সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে। দেশটির অবকাঠামো, জ্বালানি, রত্নসামগ্রী, পর্যটন ও ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ সৃষ্টি করতে সম্প্রতি নতুন বিনিয়োগনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া শত শত সরকারি কোম্পানি বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকালের ওই মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু এশিয়া নয়, সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের জন্য মিয়ানমারের দরজা খোলা।
পশ্চিমা অবরোধ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে জান্তা সরকার কখনো সরাসরি আহ্বান জানায়নি।
তবে ওই মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজার অর্থনীতিতে মিয়ানমারের দুয়ার খোলা। কিন্তু অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত থাকায় এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল মিলছে না।
মিয়ানমারের জান্তা সরকার সাধারণত গণমাধ্যমে কোনো কিছু বলে না কিংবা বিবৃতি দেয় না। বরং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকার মাধ্যমেই তাঁদের অবস্থান তুলে ধরে।

ডব্লিউটিও ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগানোর তাগিদ

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) যে ব্যবস্থা দাঁড় করিয়েছে, তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংস্থাটির অন্যতম উপমহাপরিচালক হর্ষ ভি সিং।
হর্ষ ভি সিংয়ের মতে, ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইইইউ) ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৪০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাও সত্যি হবে যদি বাণিজ্য সহজীকরণ ও জোগানজনিত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ সম্ভব হয়।
হর্ষ সিং আরও বলেন, ডব্লিউটিওর বিধিবিধানগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পদ্ধতিটি আসলে একটি বৈশ্বিক গণসম্পদ। কাজেই বাংলাদেশসহ সব দেশেরই এর সদ্ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতিতে ‘উন্নয়নের জন্য ডব্লিউটিও ব্যবস্থার গুরুত্ব’ শীর্ষক এক লোক বক্তৃতায় হর্ষ সিং এই আহ্বান জানান। সমিতির সভাপতি আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।
হর্ষ সিং তাঁর বক্তৃতায় ডব্লিউটিওর কর্মপদ্ধতি ও বিধিবিধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় (এলডিসি) এর প্রয়োজনীয়তার ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ৩০টি দেশ এই সংস্থার সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে যার মধ্যে ১২টি দেশই হলো এলডিসি।
চলমান দোহা আলোচনা পর্বে বাংলাদেশসহ এলডিসিগুলোকে নতুনভাবে কোনো কিছুর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে না উল্লেখ করে হর্ষ সিং বলেন, বরং তারা রপ্তানি ঋণ ও খাদ্য সাহায্যের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে কাতারের দোহায় সংস্থাটির মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনে দোহা পর্ব সূচনা করা হয়। ১০ বছর পরও কৃষি ভর্তুকি ও বাজার সুবিধার বিষয়ে উন্নত ও অগ্রসর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধের কারণে এই পর্বটি সমাপ্ত করা যায়নি।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হর্ষ সিং বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হয়েছে যে এ বছরের মধ্যেই এর সমাপ্তি টানতে হবে। জেনেভায় আগামী ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিপর্যায়ের অষ্টম সম্মেলনে সব পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এতে একমত হতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অবশ্য সিং এও স্বীকার করেন যে কিছু বিষয়ে এখনো মতবিরোধ রয়ে গেছে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড় বড় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বাজার উন্মুক্ত করার জন্য দাবি জানাচ্ছে। কৃষি খাতে বিশেষ সুরক্ষা পদ্ধতি (এসএসএম) নিয়ে বিরোধ আছে।
সিং আরও বলেন, বাজার সুবিধায় বাংলাদেশের মূল স্বার্থের জায়গাটি হলো সব উন্নত দেশে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া। হংকং ঘোষণা অনুসারে, এলডিসির রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ৯৭ শতাংশ এই সুবিধা পাবে। বাস্তবে অবশ্য এই সুবিধা ৯৭ শতাংশ থেকে শতভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এমনকি কিছু উন্নয়নশীল দেশও এই সুবিধা দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশসহ সব এলডিসি অর্থপূর্ণ বাজার সুবিধা দেওয়ার যে দাবি তুলেছে, তাতেও অন্যরা সম্মত হয়েছে।
কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাংলাদেশকে শতভাগ বাজার সুবিধা দিচ্ছে না—এই তথ্য উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানতে চান যে আমেরিকায় শতভাগ বাজার সুবিধা প্রাপ্তির কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা যায় কি না।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও জানতে চান যে দোহা সমঝোতা চূড়ান্ত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোও উন্নত বিশ্বের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশসহ এলডিসিগুলোর অগ্রাধিকারে যে ক্ষয় ঘটবে (প্রেফারেন্স ইরোশন), তার প্রতিকারে ডব্লিউটিও কী করতে পারে।
জবাবে হর্ষ সিং বলেন, অগ্রাধিকারের ক্ষয়টি এড়ানোর কোনো উপায় নেই। এটি মেনে নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, অগ্রাধিকার ক্ষয়ের বিষয়টি এ রকম—বাংলাদেশি পণ্য এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশ করছে আর চীন-ভারতের পণ্যে গড়ে ১০-১২ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হচ্ছে। দোহা সমঝোতা হয়ে গেলে চীন-ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শুল্কহার কমে পাঁচ বা ছয় শতাংশে নেমে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসব দেশের পণ্যের সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। কেননা, বাংলাদেশের বিদ্যমান সুবিধা তুলনামূলকভাবে কমে যাবে।
অপর প্রশ্নের জবাবে হর্ষ সিং বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য আলোচনা যেদিকে যাচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শতভাগ বাজার সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষত, ‘অর্থবহ ও গুরুত্বপূর্ণ’ বাজার সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সব পক্ষ একমত হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে হয়তো কংগ্রেসে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
তবে এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে ডব্লিউটিওর উপ মহাপরিচালক উল্লেখ করেন।
একইভাবে ২০১৬ সালের পর মেধাস্বত্ব বিধান পরিপালনের ক্ষেত্রে পাওয়া ছাড়ের সময়সীমা বাড়বে কি না জানতে চাইলে, তিনি বলেন, এটি সব সদস্যদের আলোচনা ও সম্মতি সাপেক্ষে হতে পারে।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিটজ ডব্লিউটিওর বিধিবিধানকে উন্নত বা ধনী দেশগুলোর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন কেন—এমন একটি প্রশ্নের জবাবে হর্ষ সিং বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। কেননা, ডব্লিউটির বিধানের আতওায় উন্নয়নশীল দেশ অনেক উন্নত দেশকে অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা থেকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
সভাপতির ভাষণে আবুল বারকাত বলেন, ডব্লিউটিওর বিধিবিধানগুলো সম্পর্কে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ভালোভাবে অবহিত নন। ফলে, বিশ্ব বাণিজ্যে তাঁরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। এসব দেশীয় ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জানা-বোঝা বাড়ানোর জন্য অর্থনীতি সমিতি ডব্লিউটিওর সহায়তায় কিছু পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি জানান।

মূল্যস্ফীতি রোধে ব্যাংক জমার হার বাড়াল চীন

মূল্যস্ফীতিতে লাগাম টানার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে দেশের ব্যাংকগুলোর বাধ্যতামূলক জমার হার দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে পিপলস ব্যাংক অব চায়না এই বর্ধিত হারকে কার্যকর ঘোষণা করেছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর নতুন বিধিবদ্ধ জমার হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ।
চীনের মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বর মাসের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারি মাসে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ সরবরাহ আরও সীমিত করার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ নিয়ে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো চীন ব্যাংকের বিধিবদ্ধ জমার হার বাড়াল। এ ছাড়া গত চার মাসে তিনবার সুদের হারও বাড়ানো হয়েছে দেশটিতে।
উচ্চহারে ঋণপ্রবাহ দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জোরালোভাবে এগিয়ে নিচ্ছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে দেশটির প্রবৃদ্ধির হারে। গত বছর চীনের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।
কিন্তু এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অনিবার্যভাবেই মূল্যস্ফীতির হারকেও ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে। তাই নিয়ন্ত্রণমূলক মুদ্রানীতির মাধ্যমে সে দেশের সরকার এখন মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন সরকারের হাতে যা যা হাতিয়ার আছে, তার প্রায় সবই প্রয়োগ করা হচ্ছে মূল্যস্ফীতিকে বাগে আনার জন্য। কেউ কেউ এমনও বলেছেন, মুদ্রানীতির হাতিয়ারগুলো প্রয়োগে চীন শুরুর দিকে কিছুটা শৈথিল্য দেখালেও এখন তা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁরা এও বলছেন, সম্প্রতি গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এখনো যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। তাই ভবিষ্যতেও কিছু বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
২০১০ সালে জাপানকে টপকে চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

চার প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আজ রোববার শেয়ার ও নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড ও লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স।
ঢাকা ব্যাংকের ৩৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ: ঢাকা ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ৩৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ অর্থাত্ প্রতি ২০টি শেয়ারে ৭টি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৯ মার্চ। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২ মার্চ। এজিএমের সময় এবং স্থান পরে জানানো হবে। ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৬.৩১ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৪.৭৪ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৮.৫৯ টাকা।
প্রাইম ব্যাংকের ৩৫ শতাংশ শেয়ার ও ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ: প্রাইম ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ৩৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ এবং পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা শেরাটন হোটেলের উইন্টার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৩ মার্চ। ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৫৬.৯০ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৯০.৩০ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ০.৪৮ টাকা।
ওয়ান ব্যাংকের ৫৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ: ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড জানিয়েছে, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ৫৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ বা প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৫৫টি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৮ মার্চ বেলা ১১টায় রমনার ২৬, বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ১৩ মার্চ। ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৯৭.৭৫ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৩৬.৪৫ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১১৯.১৮ টাকা।
লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্সের ৫৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ: লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ৫৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ (প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৫৫টি বোনাস শেয়ার) ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ক্লজ ও আর্টিকেলের সংশোধনীরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আগামী ২৭ মার্চ বেলা সাড়ে ১০টায় এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বেলা ১১টায় স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টার, হাউস নম্বর ১৯, রোড নম্বর ৭, গুলশান ১, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএম ও এজিএমের রেকর্ড ডেট ৩ মার্চ। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট লাভ ১৭০ কোটি এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির এককালীন শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩২ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ৯০.৩১ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১৯.০৪ টাকা।

পরিবেশবান্ধব থ্রি হুইলার তৈরির পরামর্শ শিল্পমন্ত্রীর

শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জনকল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব থ্রি হুইলারসহ অন্যান্য যানবাহন তৈরির কারখানা স্থাপনের জন্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
শিল্পমন্ত্রী গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর গলফ গার্ডেনে ভারতের শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল প্রস্তুতকারী কোম্পানি অতুল অটো লিমিটেড উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব ডিজেল ও সিএনজি থ্রি হুইলার বাজারজাতকরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
অতুল অটোস্ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনিসুল হক, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টু, বাংলাদেশ মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুর রহমান, ভারতের অতুল অটোস্ বাংলাদেশ লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক নিরেজ, অতুল অটোস্ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান খান বক্তব্য দেন বলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরি লিমিটেডের সহায়তায় দেশীয় প্রযুক্তি সংযোজন করে অতুল অটোস্ বাংলাদেশ লিমিটেড প্রাথমিকভাবে এই থ্রি হুইলার বাজারজাত করছে। খুব শিগগির বাংলাদেশেই স্বল্প দামের পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমানের এই থ্রি হুইলার তৈরি করা সম্ভব হবে বলে উদ্যোক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

কিউইদের চমকে দিতে চায় কেনিয়া

আজ ম্যাচ শুরুর আগে জিমি কামান্ডে এই দাবি করতে পারেন, ‘নিউজিল্যান্ড? হাহ্। ওদের হারাতে তো আমাদের মাঠেই নামতে হয় না!’
দাবিটা একেবারেই অমূলক নয়। নিউজিল্যান্ডকে একবার মাঠে না নেমেই হারিয়ে দিয়েছিল কেনিয়া!
নিউজিল্যান্ড-কেনিয়া এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচে ‘মুখোমুখি’ হয়েছে। গত দুই বিশ্বকাপে। ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়াকে ১৪৮ রানে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়া নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল একটি বলও খরচ না করে! আসলে নিরাপত্তার অজুহাতে সেবার কেনিয়ায় গিয়ে খেলতে রাজি হয়নি নিউজিল্যান্ড। ওয়াকওভার পেয়ে গিয়েছিল কেনিয়া।
সে যা-ই হোক, বুক ফুলিয়ে কেনিয়া বলতেই পারে, মুখোমুখি লড়াইয়ে তো সমতাই আছে! সমতা আরেক জায়গায়। দুই অধিনায়কের সাম্প্রতিক মন্তব্যে।
ড্যানিয়েল ভেট্টোরি: ‘আমরা জানি, সম্প্রতি আমাদের ফর্ম খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। কিন্তু এই বিশ্বকাপে আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই খেলব।’
জিমি কামান্ডে: ‘গত এক বছরে আমাদের দলে ধারাবাহিকতার অভাব আছে। কিন্তু বিশ্বকাপ আমাদের প্রমাণের মঞ্চ।’
নিউজিল্যান্ড, কেনিয়া দুই দলেরই সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো নয়। নিউজিল্যান্ড যেমন গত ২০ ওয়ানডের মাত্র চারটি জিতেছে। গত তিনটি ওয়ানডে সিরিজেই নাস্তানাবুদ হয়েছে। দুবার হয়েছে ধবলধোলাই (বাংলাদেশের কাছে ৪-০, ভারতের কাছে ৫-০)। সর্বশেষ নিজ দেশে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-২-এ সিরিজ পরাজয়।
গত বিশ্বকাপের ঠিক উল্টো অবস্থান থেকে শুরু করছে নিউজিল্যান্ড। সেবার বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ হোয়াইটওয়াশ করে আত্মবিশ্বাসে জ্বালানি ভরে বিশ্বকাপে এসেছিল কিউইরা। এবার একের পর এক সিরিজে হেরে তাদের আত্মবিশ্বাসের পর্দাটা ফুটো হয়ে গেছে।
ফলে আজ চেন্নাইয়ে কেনিয়া চমকে দিতে চাইবে নিউজিল্যান্ডকে। কামান্ডে এই বলে সতর্ক করছেন, ‘কোনো দলকেই খাটো করে দেখাটা হবে ভুল। বিশেষ করে র্যাঙ্কিংয়ের নিচু সারির দলগুলোকে। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপে অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’
নিউজিল্যান্ড সেই ভুল করছে না। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর মার্টিন গাপটিল দুজনই সাংবাদিকদের বলেছেন, কেনিয়াকে তাঁরা দেখছেন শ্রদ্ধার চোখেই।
দেখা যাক, অঘটন-বিশেষজ্ঞ কেনিয়া কোনো চমক দিতে পারে কিনা!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে চোটের হানা

চোট বিশ্বকাপে অনেক দলকেই আঘাত দিয়েছে। সর্বশেষ চোটের থাবাটা পড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে। চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল থেকে ছিটকে পড়েছেন ওপেনার আড্রিয়ান বারাথ ও উইকেটকিপার চার্লটন বাফ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন বাফ। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা নিশ্চিত যে, এই দুই খেলোয়াড় দু-তিন সপ্তাহ অনুশীলনই করতে পারবে না।’
বারাথের পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন বারবাডোজের ব্যাটসম্যান কার্ক এডওয়ার্ডস।

শ্রীলঙ্কার সামনে সেই কানাডা

কানাডাকে ২০০৩ বিশ্বকাপের সর্বনিম্ন স্কোরের (৩৬) লজ্জা দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেই বিশ্বকাপে কানাডার কাছে পরাজয় লজ্জায় ডুবিয়েছিল বাংলাদেশকে। ঘটনাটা আট বছর আগের, কিন্তু আজ আবার স্মৃতিতে উঠে আসছে। নিজের মাঠ হাম্বানটোটায় আজ বিশ্বকাপ শুরু করছে শ্রীলঙ্কা; প্রতিপক্ষ সেই কানাডা।
প্রতিপক্ষ হিসেবে কানাডাকে একবারই পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম দেখায় ‘পুঁচকে’ কানাডাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার স্মৃতি মনে করলে আজ নির্ভারই থাকার কথা ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ীদের। তবে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা কানাডাকে দিচ্ছেন যথেষ্ট গুরুত্ব। সতীর্থদের বলেছেন সতর্ক থাকতে, ‘কানাডাকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। বিশ্বকাপ এলে প্রতিটি দলই তাদের খেলায় উন্নতি ঘটায়।’
কানাডা আসলেই উন্নতি করছে। প্রস্তুতি ম্যাচেই পাওয়া গেছে এর প্রমাণ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে হেরেছে মাত্র ১৬ রানে। বড় ইনিংস খেলেছেন রিজওয়ান চিমা (৭১ বলে ৯৩)। আজও নিশ্চয় বড় ইনিংসই খেলতে চাইবেন। স্মরণীয় কিছু করার লক্ষ্য থাকছে দলের সবচেয়ে বড় তারকা জন ডেভিডসনের; এটা যে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। বয়স হয়ে গেছে ৪০, এই ব্যাটসম্যানকে বাড়তি কিছু উপহার দিতে চাইবেন তাঁর সতীর্থরাও।
তবে সবকিছুর ওপরে মাঠে কানাডার খেলোয়াড়েরা মজতে চান উপভোগের মন্ত্রে। অধিনায়ক আশিস বাগাই সেটা বলেই দিয়েছেন, ‘কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় আর একটা বড় দলের বিপক্ষে জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনাল! তবে আমাদের মূল লক্ষ্য উপভোগ করা।’

সুনামির ক্ষত ভুলতে প্রস্তুত হাম্বানটোটা

২০০৪ সালে প্রলয়ংকরী সুনামির তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা। প্রাণহানি হয়েছিল প্রায় তিন হাজার মানুষের। কিন্তু এখন সেই ক্ষত ভুলে বিশ্বকাপের আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেখানকার মানুষ। আজ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে হাম্বানটোটায় নবনির্মিত স্টেডিয়ামে।
কানাডার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ম্যাচটা খুবই একতরফা হবে, এটা অনুমান করার পরও ইতিমধ্যেই ৩৫ হাজার সিটের গ্যালারির সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ‘আনন্দ উদযাপন শুরু হোক’, ‘হাম্বানটোটায় স্বাগতম’ এ ধরনের লেখাসংবলিত ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সেক্রেটারি নিশান্তে রানাতুঙ্গা বলেছেন, ‘২০০৪ সালে হাম্বানটোটা সুনামি তাণ্ডবের শিকার হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপে এখানকার মানুষ কিছুটা আনন্দের উপলক্ষ খুঁজে পাবে। এটা তাদের জন্য একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
হাম্বানটোটা স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয় ২০০৮ সালে। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৯ সালের মে মাসে। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নির্মাণকাজ কিছুটা থমকে যায়। বিশ্বকাপের আগে স্টেডিয়াম পুরোপুরি প্রস্তুত হবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন আয়োজকেরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনী আর একটা চীনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে খুব ভালোমতোই শেষ হয়েছে স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ। আর এখন তো শুধু বিশ্বকাপই না, হাম্বানটোটায় ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের জন্যও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে লঙ্কানরা।
হাম্বানটোটা স্টেডিয়াম পরেও শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী নিশান্ত রানাতুঙ্গা। তিনি বলেছেন, ‘হাম্বানটোটা স্টেডিয়াম শুধু বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ না। এখানকার তরুণ ক্রিকেটারদের অগ্রগতির জন্যও এটা একটা ভালো ভূমিকা রাখবে। আর আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে এখান থেকে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসবে।

বিশ্বকাপে দলীয় সর্বোচ্চ রান

৪১৩/৫ ভারত-বারমুডা পোর্ট অব স্পেন ২০০৭
৩৯৮/৫ শ্রীলঙ্কা-কেনিয়া ক্যান্ডি ১৯৯৬
৩৭৭/৬ অস্ট্রেলিয়া-দ. আফ্রিকা সেন্ট কিটস ২০০৭
৩৭৩/৬ ভারত- শ্রীলঙ্কা টন্টন ১৯৯৯
৩৭০/৪ ভারত-বাংলাদেশ মিরপুর ২০১১

সেরা ৫ ইনিংস
১৮৮* গ্যারি কারস্টেন দ. আফ্রিকা-আ. আমিরাত রাওয়ালপিন্ডি ১৯৯৬
১৮৩ সৌরভ গাঙ্গুলী ভারত-শ্রীলঙ্কা টন্টন ১৯৯৯
১৮১ ভিভ রিচার্ডস ওয়েস্ট ইন্ডিজ-শ্রীলঙ্কা করাচি ১৯৮৭
১৭৫* কপিল দেব ভারত-জিম্বাবুয়ে টানব্রিজ ওয়েলস ১৯৮৩
১৭৫ বীরেন্দর শেবাগ ভারত-বাংলাদেশ মিরপুর ২০১১

শেবাগের ব্যাটে রং হারাল উত্সব

রংচঙে দিনটা সন্ধ্যার আগেই খেই হারাল। উত্সবের ঢেউ জোর হারিয়ে ফেলল যেন। ফ্লাডলাইটের ঝলমলে আলোর নিচে দেখা গেল নিস্তরঙ্গ জনসমুদ্র। সারা দিনের এত আয়োজন, এত আশা মাত্র তিন ঘণ্টাতেই বিলীন! শেবাগ-ঝড়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের বিশ্বকাপটাকে প্রথম দিনেই করে দিল বিবর্ণ, ফ্যাকাসে।
ভারতের মতো ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে টসে জিতেও কেন সাকিব আল হাসান আগে ফিল্ডিং নিলেন, সেটা একটা রহস্য। গ্যালারির দর্শক থেকে শুরু করে প্রশ্নটা ভারতীয় মিডিয়ার মুখেও। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে সাকিব নিশ্চয়ই এর একটা ব্যাখ্যা দেবেন। ব্যাখ্যাটা একটু অনুমানও করা যায়—রাতে শিশির থাকবে, আর শিশির ভেজা বল বাংলাদেশি স্পিনারদের পুরো জাদুটা দেখাতে দেবে না। কাজেই আগে বোলিং!
সিদ্ধান্তটা যে কারণেই হোক, আগে বল করাটা যে বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হলো সেটা শফিউল ইসলামের প্রথম বলেই কভার দিয়ে বাউন্ডারি মেরে বুঝিয়ে দিলেন বীরেন্দর শেবাগ। এরপর তো এটা তাঁরই ম্যাচ, বাংলাদেশি বোলারদের নির্যাতিত হওয়ার প্রামাণ্যচিত্রও।
দুই পেসার শফিউল আর রুবেল হোসেনের সঙ্গে রাজ্জাক, নাঈম, মাহমুদউল্লাহ এবং অধিনায়কসহ চার স্পিনার—শেবাগ-কোহলিদের সামনে সাকিবের সব অস্ত্রই ভোঁতা ঠেকল। কোনো বোলারের ওপরই একটানা বেশিক্ষণ আস্থা রাখা গেল না। সব বোলার মিলিয়ে ইনিংসে ১ ওভারের স্পেলই হয়েছে ৬টা! শফিউল ২ ওভারের প্রথম স্পেলে দিলেন ২০ রান। প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে ভালো বল করলেও শেবাগের কাছে বেশি মার খেলেন তিনিই। শফিউলের করা ৭ ওভার থেকে মাত্র ১৭টি বল খেলেই ৩৩ রান করেছেন শেবাগ। শুরুতে কিছু শর্ট বল করলেও সে তুলনায় ২৯ বলে ২২ রান দিয়ে রুবেলই কিছুটা কর্তৃত্ব দেখাতে পেরেছেন শেবাগের ওপর। প্রথম স্পেলটাও খারাপ না, ৫-০-২৮-০।
দুই পেসার মিলে ৪ ওভারেই দিলেন ৩৬ রান। সাকিব ভাবলেন স্পিন দিয়ে যদি কিছু করা যায়! সেই পরিকল্পনাও ব্যর্থ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বল হাতে নিয়ে ৪ ওভারের প্রথম স্পেলে ২০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য রাজ্জাক। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনারের অবশ্য সুখকর অভিজ্ঞতা নেইও। কাল উইকেটই পাননি, এর আগে ৮ ম্যাচ খেলেও পেয়েছেন মাত্র ৬ উইকেট। তাও সর্বশেষ উইকেটটি ২০০৮-এর জুনে, ঢাকায়। কালকেরটিসহ ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ চার ম্যাচেই তাঁর কোনো উইকেট নেই।
বাংলাদেশের স্পিন দিয়ে নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়েকে কাবু করা গেলেও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সামনে এ যেন ভোঁতা অস্ত্র। বিশ্বসেরা ওয়ানডে অলরাউন্ডার সাকিব ৬ ওভারের প্রথম স্পেলে ৩০ রান দিয়ে কিছুটা সফল, কিন্তু দুই স্পেলে করা পরের চার ওভারেই দিলেন ৩১ রান! এর মধ্যে শেবাগের উইকেটটা আছে, কিন্তু ইনিংসের মাত্র ১৫ বল বাকি থাকতে ১৭৫ রান করে ফেলা একজন ব্যাটসম্যানকে আউট করলেই কী আর না করলেই কী!
সাকিব-রাজ্জাকই যেখানে ফেল, নাঈম-মাহমুদউল্লাহ আর কী করবেন! প্রথমজন ৪ ওভারের প্রথম স্পেলে দিলেন ২৭ আর পরের ৫ ওভারের স্পেলে ২৯ রান। গৌতম গম্ভীরের উইকেটটা ৭ ওভারে ৪৯ রান দেওয়া মাহমুদউল্লাহর জন্য সান্ত্বনা হতে পারে।
টসে হেরেও ব্যাটিং পেয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা মাথার ওপর খোলা আকাশই পেয়ে গিয়েছিলেন। রানের শৃঙ্গটাকে যতটা সম্ভব ওপরে তুলতে শেবাগ-কোহলিদের সিঁড়ি হলেন বাংলাদেশি বোলাররা। প্রায় ২৬ হাজার দর্শকভর্তি গ্যালারি তার পরও লাল-সবুজকে জাগাতে সমর্থনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। নেচে উঠেছে একটা ভালো বল বা একটু ভালো ফিল্ডিংয়েও। কিন্তু শেবাগ কি আর ওদিকে তাকান! স্বাগতিক দর্শকদের চাপ তাঁর গায়ে চিমটিটাও কাটতে পারল কিনা সন্দেহ। উইকেটে যতক্ষণ ছিলেন, ভারতীয় স্কোরবোর্ডটাকে মন্থর হতে দেননি কখনোই।
২০০৭ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তির আশায় ভারত ম্যাচটা নিয়ে এবার কল্পনার ফানুস কম ওড়ানো হয়নি। শেবাগ-কোহলির ব্যাট শুধু সেই ফানুসটাকেই ফুটো করে দেয়নি, বাংলাদেশের বিশ্বকাপটাকেও যেন নাড়িয়ে দিল। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ জমবে কি জমবে না, সেটারও যে নিক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ!

সিরিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ নিহত ৬

সিরিয়ায় বিভিন্ন শহরে গত শুক্রবার ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছে। সম্প্রতি আরব বিশ্বে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর সিরিয়ায় এটা ছিল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।
দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা শহরে বিক্ষোভ ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেয়। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দুই থেকে তিন হাজার বিক্ষোভকারী একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে। তারা সিরিয়ায় রাজনৈতিক সংস্কার ও প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের দুর্নীতির অবসানের দাবিতে স্লোগান দেয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে, পরে গুলি চালায়। গুলিতে ছয়জন নিহত হয়। সরকার এ প্রাণহানির খবর অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া ভূ-মধ্যসাগর তীরবর্তী বানিয়াস শহরেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।