Saturday, August 27, 2016

বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত
সৈকতে পরিধেয় মেয়েদের পুরো শরীর ঢেকে রাখার পোশাক বুরকিনির ওপর ফ্রান্সের একটি শহরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত এক রায়ে বলেছেন, ভিলেনাভ-লুবেত শহর কর্তৃপক্ষের ওই নিষেধাজ্ঞা মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা, বিশ্বাসের স্বাধীনতা ও কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মারাত্মক ও স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ রায় এখন অন্য ৩০টি শহরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ওপরও প্রযোজ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে আদালত ওই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে দেবেন। বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফ্রান্সে ব্যাপক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু জনমত জরিপে দেখা গেছে, ফ্রান্সের অধিকাংশ মানুষ ওই নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করে। পর্যটন শহর নিসে ট্রাক নিয়ে সম্প্রতি প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার পর উপকূলীয় শহরগুলোর মেয়ররা জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ফরাসি সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের যুক্তি দেখিয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে ফরাসি সরকারের মধ্যে দৃশ্যত এ নিয়ে বিভক্তি রয়েছে।

বলিভিয়ায় মন্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করলেন খনি শ্রমিকেরা

বলিভিয়ার পানদুরো এলাকায় রাস্তার ওপর আগুন জ্বালিয়ে
বিক্ষোভ করছেন খনি শ্রমিকেরা। খনি আইন নিয়ে সেখানে
শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছে। এএফপি
বলিভিয়ার উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোদোলফো ইলানেসকে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা করেছেন বিক্ষোভরত খনিশ্রমিকেরা। খনি আইন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যস্থতা করতে গেলে মন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেইমি ফেরেইরার উদ্ধৃতি দিয়ে লা রাহন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে,
উপমন্ত্রী রোদোলফো ইলানেস বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী লাপাজের ১৬০ কিলোমিটার দূরে পানদুরো থেকে দেহরক্ষীসহ অপহৃত হন। তিনি সেখানে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস রোমেরো বলেছেন, ‘সব তথ্যপ্রমাণে’ বোঝা যাচ্ছে, তাঁকে সেদিন সন্ধ্যায় পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ঘুষের বিনিময়ে তালিকাভুক্ত!

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বরিশালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (বিএলপি) সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উৎকোচ নিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বিএলপি প্রকল্পে তালিকাভুক্ত করেছেন বলে বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। বিএলপি প্রকল্পে পাঁচটি উপজেলায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রমের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় ৩০০ কেন্দ্র স্থাপন করে ছয় মাস ধরে পাঠদান করা হবে। এর অধীনে ১৮ হাজার দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানো হবে। যেসব বেসরকারি সংস্থাকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি সেগুলোর প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিএলপি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওর মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব আহ্বানপত্র (আরএফপি) দেওয়ার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো সম্প্রতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আগ্রহপত্র আহ্বান করে।
এতে শতাধিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্র জমা দেয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে বাছাই করে ১৬টি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে তালিকাভুক্ত করার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিএলপি প্রকল্পের সহকারী পরিচালক সুবিমল চন্দ্র হালদার উৎকোচ নিয়ে অযোগ্যদের তালিকাভুক্ত করেছেন। কোনো দিন উপানুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেয়নি ও অফিস নেই, এমন প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সুবিমল চন্দ্র হালদার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আমাদের দেশে সরকারি কাজে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি। বিএলপি প্রকল্পের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগ সত্যি হলে ঘুষ গ্রহণকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিএলপি প্রকল্পে যেন যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হয়, সে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সৌদি আরবে মানবেতর জীবন

যখন সৌদি আরবে নতুন করে জনশক্তি পাঠানোর কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে, তখন সেই দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবেতর জীবনের খবর আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি ওজার নামের একটি বড় কোম্পানিতে প্রায় আট মাস ধরে ১ হাজার ৬০০ বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় তাঁদের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। এ ছাড়া সাদ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪২ বাংলাদেশি শ্রমিক চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। তেলের দাম কমে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। ফলে অনেক কোম্পানি শ্রমিক ছাঁটাই করছে; অনেক কোম্পানি নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। এই সব প্রবাসী শ্রমিক খুবই কম বেতন পান এবং তাঁদের উপার্জনের ওপর দেশে বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনেরা নির্ভরশীল। সে ক্ষেত্রে কেবল প্রবাসী শ্রমিকেরা নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও সমস্যায় পড়েছেন।
এ অবস্থায় শ্রমিকেরা বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাসের সহায়তা আশা করেন। কিন্তু পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের বকেয়া বেতন আদায়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চাপ দিলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেছেন, সাময়িক অসুবিধা দূর করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সৌদি আরবে ৫৩ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। যে দেশে শ্রমিকেরা কাজ করছেন, তাঁদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যাপারে সেই দেশটির দায়িত্ব আছে। আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের সরকার সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। কোম্পানিগুলো দেউলিয়া হয়ে পড়লে, কিংবা আমাদের প্রবাসী শ্রমিকেরা সেসব কোম্পানির কাজ হারালে, তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত। সৌদি আরব যেখানে নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার কথা বলছে, সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা মানবেতর জীবনযাপন করবেন, এটি মেনে নেওয়া যায় না।