Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts

Tuesday, September 30, 2025

নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা: এরপর দক্ষিণ এশিয়ায় কোথায় আগুন জ্বলবে!

লোহার ফটকের কাঁপন যেন ঢাকের শব্দে রূপ নিল, জনতা এগিয়ে এলো ঢেউয়ের মতো। দেহের সমুদ্র ভেঙে ফেলল ব্যারিকেড- যা মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও ক্ষমতার প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। দেশের নেতার বাড়ির করিডোরে প্রতিধ্বনিত হলো কাদামাখা পায়ের গর্জন। কেউ ভাঙল জানালা ও শিল্পকর্ম, কেউ তুলে নিল বিলাসবহুল বিছানার চাদর কিংবা জুতো। যে অট্টালিকা এতদিন কর্তৃত্বের প্রতীক হয়ে ছিল, অস্পৃশ্য, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে- তা হঠাৎ করেই কয়েক ঘণ্টার জন্য জনগণের হাতে চলে এলো। এ দৃশ্য নেপালের, গত সপ্তাহের। তবে এটি একইসাথে শ্রীলঙ্কার (২০২২) এবং বাংলাদেশের (২০২৪) ছবিও। অনলাইন আল জাজিরায় প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপাল এখন এমন এক পথে হাঁটছে যা প্রচলিত নির্বাচনী গণতন্ত্রের সঙ্গে খাপ খায় না। একের পর এক যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে দক্ষিণ এশিয়ায় সরকার পতন ঘটছে। তাই প্রশ্ন উঠছে- বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চল কি জেনারেশন জেড বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে?

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক পল স্ট্যানিল্যান্ড বলেন, এটি নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। এক ধরনের নতুন অস্থিরতার রাজনীতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রায় ১০ হাজার নেপালি তরুণ- যাদের মধ্যে প্রবাসীরাও ছিলেন, তারা একজন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করল না শারীরিক ভোটে, না নির্বাচনী ব্যালটে, বরং গেমারদের প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডে অনলাইন জরিপের মাধ্যমে। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তিন দিনের আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে, নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নে ৭০ জনেরও বেশি নিহত হন। পরে নেপাল সরকার মার্চে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি যখন আন্দোলনকারীদের ‘জেন জেড উৎস’ নিয়ে ঠাট্টা করলেন, তার অল্প কিছুদিন পরেই তাকে পদত্যাগ করতে হলো। বার্তা স্পষ্ট- রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আস্থাহীন তরুণরা নিজেদের ক্ষমতাসীন ঘোষণা করছে যখন তারা প্রতারিত মনে করছে। স্ট্যানিল্যান্ড বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে প্রতিবাদের ইতিহাস আছে। কিন্তু শাসক পতনের ঘটনা বিরল। এটি সামরিক অভ্যুত্থান বা প্রচলিত রাজনৈতিক সংঘাতের ধারা নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রূপ।

তিন ভিন্ন প্রেক্ষাপট, এক অভিন্ন দৃশ্য

শ্রীলঙ্কা (২০২২): অর্থনৈতিক ধস, ঋণ খেলাপি, জ্বালানি ও খাদ্য ঘাটতি, আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি। জন্ম নিল ‘আরাগালায়া’ (সংগ্রাম) আন্দোলন। যুবকরা ‘গোটা গো ভিলেজ’ বানালো কলম্বো প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ের সামনে। জুলাইতে প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
বাংলাদেশ (২০২৪): বৈষম্যমূলক চাকরির কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পুলিশি দমনপীড়নে শত শত নিহত হন। পরে আন্দোলন রূপ নেয় শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান দাবিতে। আগস্টে হাসিনা পদত্যাগ করে হেলিকপ্টারে ভারতে পালান।
নেপাল (২০২৫): সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণ, তীব্র বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ৭০ জনের বেশি। পার্লামেন্ট ও মিডিয়া হাউসেও আগুন জ্বলে ওঠে। অবশেষে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী ওলি।

সাধারণ সূত্র: প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে জেন জেড
মানবাধিকার সংস্থার মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, এই দেশগুলোতে যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মূল কারণ একই- অমীমাংসিত বৈষম্য, দুর্নীতি, প্রবীণ রাজনীতিকদের প্রজন্ম থেকে বিচ্ছিন্ন শাসন। জেন জেড তাদের জীবনে দুটি বড় মন্দা দেখেছে- ২০০৮-০৯ সময়ে এবং কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক ধস। এ প্রজন্ম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেড়ে উঠেছে। কিন্তু তাদের শাসন করেছেন দাদা-দাদীর বয়সী নেতারা।  তার মধ্যে নেপালে ওলি (৭৩), বাংলাদেশে হাসিনা (৭৬), শ্রীলঙ্কায় রাজাপাকসে (৭৪)। তরুণদের নৈতিক ক্ষোভ প্রবল হয়েছে স্বজনপ্রীতি, বৈষম্যমূলক বিলাসিতার প্রদর্শনী এবং রাজনৈতিক অভিজাতদের জীবনযাত্রা দেখে।

ডিজিটাল প্রজন্মের শক্তি
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রুমেলা সেন বলেন, রাগান্বিত দৃশ্যের বাইরে দেখলে বোঝা যায়, এই তরুণদের আকাঙ্ক্ষা হলো ‘গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।’ ডিজিটাল দক্ষতার কারণে তারা অনায়াসে অনলাইনে সংগঠন, প্রচার ও প্রতিবাদের নতুন কৌশল তৈরি করছে। সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করলে বা প্ল্যাটফর্ম ব্লক করলে তা উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। তিনি বলেন, এ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ চুরি হয়ে যেতে দেখছে। তাদের ক্ষোভ একেবারেই সত্যিকারের।

একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা
রাজনৈতিক নৃবিজ্ঞানী জীবন শর্মা বলেন, নেপালি তরুণরা শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের আন্দোলন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এসব বিদ্রোহ আলাদা নয়, বরং গভীর হতাশা থেকে জন্ম নেয়া। স্ট্যানিল্যান্ডও বলেন, এরা একে অপরকে দেখছে, শিখছে এবং অনুপ্রাণিত হচ্ছে।
অবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায়-এরপর কোথায় আগুন জ্বলবে?
https://mzamin.com/uploads/news/main/180299_Untitled-10.webp

Saturday, September 7, 2024

ফ্যাসিবাদীরা কেন বিশ্ববিদ্যালয় ঘৃণা করেন -দ্য গার্ডিয়ান

বাংলাদেশে উল্লেখ করার মতো কিছু ঘটনা ঘটে গেল। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে প্রাথমিকভাবে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বড় পরিসরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ক্রমেই স্বৈরাচার হয়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে তা গায়ে লাগাননি। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার পরিবর্তে তিনি এমন সব পদক্ষেপ নেন যে, তাতে সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

জুলাই মাসের মাঝামাঝি শেখ হাসিনার সরকার বিক্ষোভ দমনে চূড়ান্ত রকমের সহিংসতার আশ্রয় নেয়। পুলিশের গুলিতে মারা যান অনেক শিক্ষার্থী। দেশজুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট যোগাযোগ। পুলিশের নৃশংসতার ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ওই মাসের শেষ নাগাদ বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। ঘটনাক্রমে সেনাবাহিনী ছাত্র–জনতার পক্ষে অবস্থান নিলে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এভাবেই দেশব্যাপী ছাত্র–জনতার আন্দোলন একজন সহিংস স্বৈরশাসককে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হয়। দৃশ্যত, অন্তত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের আন্দোলনকারীরা জয়ী হয়েছেন।

বাংলাদেশের ওই সহিংস আন্দোলনের প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি প্রতিবেশী দেশগুলোও। পাকিস্তানে, জনপ্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইমরান খান প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে বন্দী। এর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁর নাম না নিতে, তাঁর বক্তব্যকে উদ্ধৃত না করতে বা তাঁর ছবি প্রদর্শন না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারাগারে ঢোকানো হয়েছে তাঁর দলের অনেককে। কিন্তু বিস্ময় জাগানো কিছু শুরু হয়েছে সেখানেও। বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের শুরু করা গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পাকিস্তানের স্টুডেন্টস ফেডারেশন গত ৩০ আগস্টের মধ্যে ইমরান খানকে মুক্তি দিতে সরকারকে সময় বেঁধে দেয়। তাঁকে মুক্তি না দিলে দেশজুড়ে ছাত্রবিক্ষোভ শুরুর হুঁশিয়ারি দেয় তারা।

বাংলাদেশে যা ঘটেছে এবং পাকিস্তানে যা ঘটতে পারে, তা প্রতিটি স্বৈরশাসকের জন্যই দুঃস্বপ্নের। কর্তৃত্ববাদীরা ও সম্ভাব্য কর্তৃত্ববাদীরা এটা জানেন, তাঁদের সমালোচক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রাথমিক ঘাঁটি বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা ফ্যাসিবাদের জন্য বিপদের আগাম সতর্কবার্তা।

ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্তৃত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সাল থেকে দেশটি শাসন করছেন। ‘ভারত-বিরোধিতার’ অজুহাতে দেশটির অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিশানা বানানো তাঁর সরকারের একটা বৈশিষ্ট্য।

একইভাবে হাঙ্গেরির স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের কথা বলা যায়। বুদাপেস্টে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি ‘জেন্ডার মতাদর্শ’ ছড়িয়ে দিচ্ছে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে বাগাড়ম্বরপূর্ণ রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। আইনকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দেশছাড়া করতে চায় তাঁর সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রেও পরিস্থিতি অনেকটা একই রকমের। ভিন্নমত দমনে সম্ভাব্য কর্তৃত্ববাদীরা ও একদলীয় রাজ্যগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করছে। যেমন সংখ্যালঘু ভোটারদের কঠোরভাবে দমন করতে ভোটার জালিয়াতির পুরাকথা ব্যবহার করছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর ও ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বৈরাচার’ রন ডিস্যান্টিস (যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবিক অর্থে কখনো ভোটার জালিয়াতি হয়নি। অভিযোগ তদন্ত করে দেখা গেছে, এমন জালিয়াতি হলেও তা হয়তো অঙ্কের হিসাবে শূন্য দশমিক ০০০৩ থেকে শূন্য দশমিক ০০২৫ শতাংশ)।

সংখ্যালঘু ভোটারদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিশানা বানিয়েছেন ডিস্যান্টিস। ফ্লোরিডার সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও শিক্ষাগত স্বাধীনতার ওপর গত বছরের মে মাসে ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি)’–এর এক বিশেষায়িত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অঙ্গরাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা, শর্তাবলি ও শাসন এখন রাজনৈতিক ও আদর্শিক হামলার শিকার; যা মার্কিন ইতিহাসে নেই। কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভীতির পরিবেশ বজায় থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

অতি সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিবাদে গণহত্যাবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে। বিক্ষোভে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইহুদি শিক্ষার্থীও অংশ নেন। এই বিক্ষোভকারীদের হামাসপন্থী আখ্যা দিয়ে অভিজাত ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের ওপর মৌখিক, রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে আক্রমণ চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র আন্দোলনে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাবনার বিষয়ে অবগত রয়েছে। রিপাবলিকান দল ক্রমেই যত কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝুঁকবে, ততই বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শাসকদের মতো ভিন্নমত গুঁড়িয়ে দিতে চাইবে। আর এটি শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের মধ্য দিয়ে। তবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অপরিসীম সাহস ও সংকল্প দিয়ে এটিই দেখিয়েছে, ফ্যাসিবাদীদের কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে।

শেখ হাসিনা ও হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান

Friday, July 12, 2019

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে পিটিএ চূড়ান্ত করছে বাংলাদেশ ও ভুটান

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভুটান একটি প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) চূড়ান্ত করছে।
ভুটানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সোনম তবদেন রাবগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সংসদ ভবন অফিসে সাক্ষাত করতে গিয়ে এ কথা বলেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি এসহানুল করিম এ সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাউল্লেখ করেন এবং বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরো বলেন যে, ভুটান তাদের দেশের যেকোন স্থানে একটি ওয়্যারহাউজ তৈরি করতে পারে যেখানে বিবিআইএন সুবিধা গ্রহণকারী যানবাহনগুলো পণ্য জমা করতে পারবে।
দুই দেশের মধ্যে কানেকটিভি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান যে ভুটান চাইলে বাংলাদেশের বিমান ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের হৃদয়ে ভুটানবাসীর জন্য বিশেষ দরদ রয়েছে। কারণ ১৯৭১ সালে তারাই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো।
ভুটান সফরের কথা স্মরণ করে হাসিনা বলেন, তিনি যেকোন দেশ সফরে যান না কেন সেখানে ভুটানের পরিবেশের কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত রাবগে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি এখানে অবস্থানকালে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার জন্য।
বাংলাদেশের অভাবনীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ভুটানের দূত। শিগগিরই ভুটান থেকে এক লাখ মেট্রিক টন পাথর বাংলাদেশে এসে পৌছাবে বলে জানান তিনি।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে শেরিংয়ের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে দূত বলেন, তিনি বাংলাদেশে পহেলা বৈশখ উদযাপন খুবই উপভোগ করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ভুটানিজ প্রতিপক্ষ ড. লোটে শেরিং

Saturday, March 11, 2017

বৃটেনের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে নিরাপত্তা ও ব্রেক্সিট মুখ্য আলোচ্য by মিজানুর রহমান

বৃটেনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত সংলাপে বসছে বাংলাদেশ। আগামী ২৮শে মার্চ ঢাকায় ওই সংলাপ হবে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক আর বৃটেনের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি স্যার সাইমন ম্যাকডোনাল্ড নেতৃত্ব দেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন সংলাপে ঢাকার তরফে বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে দেশটির বেরিয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) প্রশ্নে গণরায় এবং তা কার্যকর হওয়ার পর ইইউ’র মতো বৃটেনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসবে। বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা থেকে সরাসরি লন্ডনে কার্গ পরিবহন নিষিদ্ধ করে বৃটেন। নিষেধাজ্ঞা জারির পর বৃটেনসহ বৈশ্বিক উদ্বেগ নিরসন এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে চটজলদি বৃটেনের প্রতিষ্ঠান ‘রেডলাইন’কে দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ। তাদের সুপারিশ মতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তাও ঢেলে সাজানো হয়। একই সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে দেশটির সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দেন-দরবার অব্যাহত রয়েছে। সেগুনবাগিচার কর্মকর্তারা ঢাকা-লন্ডন স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত সংলাপে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও উদ্বেগ প্রশ্নে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ আলোচনা হওয়ার আভাস দিয়েছেন। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবজমিনকে গতকাল বলেন, ‘এটি স্ট্র্যাটেজিক সংলাপ। সুতরাং এখানে উভয়ের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং আকাঙক্ষার বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে।’ সংলাপের তিনটি সেশন থাকবে। প্রথম সেশনে রাজনৈতিক, পররাষ্ট্র নীতি ও ২০৩০ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন এজেন্ডা; দ্বিতীয় সেশনে ব্রেক্সিট ও এর প্রভাব, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিনিয়োগ, অভিবাসন এবং তৃতীয় সেশনে নিরাপত্তা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আলোচনা করা হবে জানিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, গত দেড় দশক ধরে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বৃটেনসহ বিভিন্ন দেশের। কয়েক মাস আগে ডিপি রেল নামে বৃটেনের একটি কোম্পানি পায়রাবন্দরের সঙ্গে ঢাকার রেল সংযোগের কাজ পেয়েছে। এ নিয়ে শুরুতে খানিক বিতর্ক ওঠলেও উভয় সরকারের চেষ্টায় তা নিরসন সম্ভব হয়েছে। এছাড়া গত বছর বৃটেনের রোলস রয়েস ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক যৌথভাবে তাদের কাছ থেকে বিমানের ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে, যা বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। ব্রেক্সিট পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে ঢাকার এমন এক কূটনীতিক বলেন, ইইউ জোটের সদস্য হিসেবে বৃটেনের বাজারে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ভোগ করে আসছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বৃটেন বেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ  যেন এ সুবিধা পায়, বরং সেই সুবিধা যেন আরো বাড়ে সেই চেষ্টাই চালাচ্ছে ঢাকা। বৃটেনে ‘অবৈধভাবে’ যাওয়া কিংবা বৈধভাবে গিয়ে কোনো কারণে ‘অবৈধ’ হয়ে পড়া বাংলাদেশের ফেরানোর চাপ রয়েছে ঢাকার ওপর। সংলাপে সেই বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করেন এখানকার কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে আচমকা ঢাকা সফর করেন বৃটেনের এশিয়া ও প্রশাস্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক মন্ত্রী অলোক শর্মা। এখানে তার সফরটি ছিল ৩ দিনের। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী,  সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, সংখ্যালঘুসহ নানা ধর্ম-বিশ্বাসের লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। শিভেনিং অ্যান্ড কমনওয়েলথ অ্যালামনাই প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়েছে তার। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়াই বৃটিশ মন্ত্রী ঢাকা সফর করেছেন। তার সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অগ্রগতি হয়েছে তা হলো বাংলাদেশ ও বৃটেন কৌশলগত সংলাপে সম্মত হওয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে ওই সংলাপের কাঠামোও চূড়ান্ত করেন বৃটিশ মন্ত্রী। মন্ত্রীর সফরের সিদ্ধান্ত মতে ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে নিয়মিতভাবে সেই সংলাপ হবে। প্রথম সংলাপটি হবে ঢাকায়। পরবর্তীতে অল্টারনেটিভ ভেন্যুতে (একবার লন্ডনে অন্য বছর ঢাকায়) সংলাপটি হবে। বৃটিশ মন্ত্রী ঢাকা সফর এবং বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিন্ন ইতিহাসের অংশীদার বাংলাদেশ ও বৃটেনের সম্পর্ক শক্তিশালী বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যমান সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও সমপ্রসারণে নিয়মিত সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বৃটিশ মন্ত্রীও সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে গেছেন।

Sunday, June 5, 2016

৯৭ জন নারী সৈনিকের যাত্রা শুরু হচ্ছে বিজিবিতে

এই প্রথমবারের মত নারী সৈনিক নিয়োগ দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। আজ থেকে সীমান্ত রক্ষী এই বাহিনীতে ৯৭ জন নারী সৈনিক তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বিবিসিকে বলছিলেন এই নারী সৈনিকেরা মূলত বিভিন্ন চেকপোস্ট ও বিভিন্ন অভিযানের দায়িত্বে থাকবেন। আজিজ আহমেদ বলেন, “সীমান্তে বিভিন্ন চেকপোস্টে যেদিক দিয়ে বৈধভাবে মানুষ আসা যাওয়া করে সেখানে কোনও সন্দেহভাজন নারীকে দেখলে তাকে তল্লাশিতে মাঝেমধ্যেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সেখানে এখন নারী সৈনিকরা কাজ করবে”। “এছাড়া সীমান্তের যেসব এলাকা দিয়ে চোরাচালানকারীরা নারীদের ব্যবহার করে সেসব এলাকায় তল্লাশিতেও কাজ করবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই নারী সৈনিকরা”-বলেন আজিজ আহমেদ। তবে সীমান্ত পাহাড়ার কাজগুলোতে এখনই তাদের নিয়োজিত করা হচ্ছে না বলে জানান বিজিবি মহাপরিচালক। মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ আরো বলেন, “কোনও অভিযানে গেলে সেখানে অন্যদের সাথে নারী সৈনিকরাও থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে মেডিক্যাল এসিস্টেন্ট হিসেবে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে”। নানান ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জায়গায় এদের নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান বিজিবির মহাপরিচালক।

১২০ প্রাণ ঝরল যে নির্বাচনে by আবু সালেহ আকন

১২০ প্রাণ সংহারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। গতকাল শনিবার শেষ দফার নির্বাচনেও প্রাণ যায় চারজনের। মোট ছয় ধাপের নির্বাচনে আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে অনেকেই জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস এবারের ইউপি নির্বাচন। এত হানাহানির নির্বাচন এ দেশে অতীতে হয়নি। গতকাল শেষ দফার নির্বাচন শেষ হলেও নির্বাচনকেন্দ্রিক আরো প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। গতকালের হানাহানির রেশ আরো কয়েক দিন থাকতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সহিংসতারোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় অনেকেই মন্তব্য করেছেন।  নির্বাচনের দিন, নির্বাচন-পূর্ববর্তী ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংস ঘটনায় এসব প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে কিছু রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহতের ঘটনা। সহিংস ঘটনায় প্রকাশ্যে এ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হতে দেখা গেছে।
এমনকি কোন কোন এলাকায় বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপের নির্বাচনের দিনে বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয় ১১ জন এবং আহত হয় হাজারের ওপরে। নির্বাচনের পরের দুই দিনে ও নির্বাচনের দিনে আহত আরো তিনজনসহ প্রথম ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ছয়জন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের আগেই সারা দেশের অনেক এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয় ১০ জন। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপে নিহত হয় ২৭ জন এবং আহত হয় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৩১ মার্চ। ওই দিন সাত উপজেলায় সহিংসতায় এক শিশু, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ আটজন নিহত হয়। নির্বাচনের আগে-পরে ও নির্বাচনের দিন মিলিয়ে দ্বিতীয় দফা শেষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭ জনে। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় দফার নির্বাচন। ওই দিন বাগেরহাট সদর ও শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দুইজন নিহত হন। বিভিন্ন এলাকায় ব্যালট ছিনতাই ও সংঘর্ষে আহত হয় দুই শতাধিক। তৃতীয় দফার আগে-পরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তৃতীয় দফা নির্বাচন শেষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭ জন।
আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার। ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ ধাপের নির্বাচন। এ দিন পাঁচজন নিহত হয়। এর মধ্যে রাজশাহীর বাগমারায় দুইজনসহ নরসিংদী, কুমিল্লা ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন করে মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও জামালপুরে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে নিজ গুলিতে একজন বিডিআর সদস্য নিহত হন। চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হন ৯০ জন এবং আহতের সংখ্যা ছয় হাজারেরও বেশি। ২৮ মে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম ধাপের নির্বাচন। এই নির্বাচনেও ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে দেশের বিভিন্ন স্থানে। পঞ্চম দফার নির্বাচন শেষে হিসাব করে দেখা যায় নিহতের সংখ্যা ১১১। এর মধ্যে কিছু রয়েছেন, যারা বিভিন্ন ধাপের সহিংসতায় আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা যোগ হয়। এ ছাড়া ওই দিন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম কালু মারা গেছেন।
সর্বশেষ গতকাল ৪ জুন অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ ও শেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। শেষ ধাপে দেশের ৪৬ জেলার ৯২ উপজেলার ৭১০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গতকালও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শাজাহান (৫২), সোনাগাজীতে নাসির (১৮) এবং নোয়াখালী সদরে আরাফাত (২৩) নামে তিনজনের প্রাণ গেছে। শেষ ধাপের নির্বাচনের আগে নিহত হয়েছেন আরো চারজন। এর মধ্যে নড়াইলের লোহাগড়ায় গত ২ জুন নিশান মুন্সি এবং গোবিন্দগঞ্জে একজন নিহত হন। ১ জুন নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারদলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন লিটন মিয়া নামে এক পথচারী। ৩ জুন চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিহত হন ফারুক নামে এক যুবক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে নির্বাচন-পূর্ব সংঘর্ষে ৪৯ জন, ভোটের দিন সংঘর্ষে ৪৯ জন এবং ভোটের পর সংঘর্ষে ২০ জন নিহত হন। এর আগে দেশে ১৯৮৮ সালের নির্বাচন সবচেয়ে বেশি সহিংস ও প্রাণঘাতী ছিল। ওই নির্বাচনে ৮০ জনের প্রাণহানি হয়। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইউপি নির্বাচনে ১০ জনের প্রাণহানি হয়। ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ২৩ জন মারা যায়। এবারে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

Wednesday, April 20, 2016

কম তাপমাত্রা ধানমন্ডি লেক এলাকায়

গ্রীষ্মের এই গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী। গা জুড়াতে এক শিশু নেমেছে
নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানের লেকের পানিতে (বাঁয়ে)। অসহ্য গরমে
স্কুল থেকে ফেরার পথে শিশুরা ছাতা মাথায় বাড়ি ফিরছে।
ছবিটি তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে গতকাল দুপুরে তোলা
ধানমন্ডি লেকের চেয়ে ঢাকার অন্য এলাকার তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি বলে জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। জরিপের মাধ্যমে সংস্থাটি এ তথ্য পেয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। কলাবাগানে পবার কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকায় এলাকাভেদে তাপমাত্রার তারতম্য নিরূপণের লক্ষ্যে ১১ থেকে ১৮ এপ্রিল বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা জরিপ করা হয়। এতে দেখা যায়, পল্টন মোড়, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ১ নম্বর ফটক, শাপলা চত্বর, নিউমার্কেট বাসস্ট্যান্ডে অন্যান্য এলাকার চেয়ে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ থেকে ৪ ডিগ্রি বেশি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মোটরযানের ধোঁয়া, পাকা সড়কের গরম, জনসংখ্যার আধিক্য, নিম্নমানের গণপরিবহন, বিভিন্ন ভবন ও যানবাহনের এসির বাতাস। এসব স্থানে ফুটপাতের চেয়ে সড়কের মাঝখানে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি বেশি। আর বাসের ভেতরে পেছনের চেয়ে সামনে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঢাকায় থার্মোমিটারে যে তাপমাত্রা পাওয়া যায়, বাস্তবে জনজীবনে অনুভূত তাপমাত্রা ৩ থেকে ৮ ডিগ্রি বেশি। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানির অভাব। ফলে তাঁরা গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তাঘাটে অনিরাপদ পানীয় পান করছেন। এতে পানিবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে পবার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সোবহান বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা হবে দুই কোটি। কিন্তু ঢাকার নদী-খাল, জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চল দখল ও ভরাট, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দূষণ, ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত উত্তোলন, বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন কারণে পরিবেশ, জনজীবন ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকায় কংক্রিটের সড়ক ও মোটরচালিত যানবাহন থেকে নির্গত তাপ শহরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মনিটরিংয়ে দেখা যায়, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বাড়লেও ঢাকায় বাড়ছে ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধে অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করতে হবে বলে অভিমত দেওয়া হয়। আবদুস সোবহান বলেন, ঢাকা চারদিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত। প্রাকৃতিক পরিবেশসমৃদ্ধ এ ধরনের শহর পৃথিবীতে বিরল। কিন্তু দূষণ, দখল, ভরাটের ফলে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। এ ছাড়া এই শহরে যে পরিমাণ নিম্নাঞ্চল রয়েছে, তার প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে পাল্লা দিয়ে চলছে ভরাট কার্যক্রম। ভরাটের এই গতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ শতভাগ নিম্নাঞ্চল হারিয়ে যাবে। তাই ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বত্র গাছপালা রোপণ করা দরকার বলে তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেলিন চৌধুরী, সহসম্পাদক মো. সেলিম, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, স্থপতি শাহীন আজিজ, প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ধোলাইখালের ব্যস্ত সড়কজুড়ে ট্রাক

পুরান ঢাকার ধোলাইখাল এলাকায় সড়ক দখল করে
ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে
দিনের বেলায় সড়কে ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ, কিন্তু রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় শুধু চলাচল নয়, ব্যস্ত সড়ক রীতিমতো ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এ জন্য ওই সড়ক ছাড়াও টিপু সুলতান রোড, রোকনপুর, ঋষিকেশ দাস রোড, মুরগিটোলা প্রভৃতি এলাকার রাস্তায় প্রতিদিন দীর্ঘস্থায়ী যানজট হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই এলাকায় গেলে এমন অবস্থা চোখে পড়ে। বেলা একটার দিকে দেখা যায়, জনসন রোডের মোড় থেকে পুরো ধোলাইখাল এলাকায় যানবাহন স্থবির হয়ে আছে। টিপু সুলতান রোড দিয়ে কিছু যানবাহন রথখোলা হয়ে যাতায়াত করছিল। বাকি যেসব যানবাহন জনসন রোড বা ধোলাইখাল যাওয়ার জন্য এগোচ্ছিল, সেগুলো রাস্তার মুখে এসে আটকে যাচ্ছে। রোকনপুর স্কুলগেট থেকে মুরগিটোলা পর্যন্ত যানবাহনের ভিড়। উল্টো দিকে নারিন্দা যাতায়াতের পথেও যানজট। দয়াগঞ্জের দিকে যাওয়ার রাস্তায় যত দূর চোখ যায়, খালি জায়গা নেই, শুধু যানবাহন। সব রাস্তার যখন এমন দশা, সেখানে ধোলাইখাল প্রধান সড়কে বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে আছে ৩০টির মতো খালি ট্রাক। এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা রাশেদুল হক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘তেজগাঁও ও গাবতলী থেকে যদি দীর্ঘদিনের অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড উঠিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে এখানে কেন সম্ভব হবে না?’
একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী আবদুর রহিম গুদামে যাচ্ছিলেন ওষুধ আনতে। হাঁটতে গিয়ে যানজটে বাধা পেয়ে বিরক্ত হয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন রাখেন, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে হাঁটাচলার অবস্থা কি কখনোই আসবে না?
প্রথম আলোর আলোকচিত্রী এলোমেলোভাবে সড়কে রাখা ট্রাকের ছবি তুলতে গেলে একদল লোক এগিয়ে আসেন। তাঁরা ছবি তুলতে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেন। রাস্তার ওপর ট্রাক রাখা নিষেধ, যানজট হচ্ছে—এ কথা বলার পরও তাঁদের চোখেমুখে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায় না। পরে দলের একজন বলেন, এখানে ট্রাক না রেখে তাঁদের উপায় নেই। এগুলো সরিয়ে দিলে তাঁদের পেটে লাথি মারা হবে। জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র প্রথম আলোকে বলেন, ইতিপূর্বেও সড়কের ওপর থেকে ট্রাক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ যেন সড়কে ট্রাক না রাখেন, সে বিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাক ছাড়াও ধোলাইখালে সড়কের মধ্যেই বড় বড় ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতি ভাঙার কাজে নিয়োজিত একদল শিশু-কিশোর। দুই পাশের পুরোনো মোটর যন্ত্রাংশের দোকানগুলোর হয়ে কাজ করছে তারা। এসব কাজের জন্যও সড়কের দৈর্ঘ্য কমে আসছে। সড়ক বিভাজকের ওপর যেটুকু জায়গা, তার প্রায় পুরোটাই দখলে গাড়ির পুরোনো হর্ন বিক্রেতাদের। পথচারীদের এপার-ওপার যাওয়ার উপায় নেই। অনেক ঘুরে রাস্তা পেরোনোর ভোগান্তি তাঁদের সহ্য করতেই হচ্ছিল। রোকনপুর স্কুল প্রান্তে চাকার দোকানগুলোর অনেক চাকা সড়কের ওপরই রাখা। সেগুলোর জন্যও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। চাকা ব্যবসায়ী রকিবুল হোসেন বলেন, গাড়ির চাকা লাগানোর জন্য রাস্তাতেই চাকা রাখতে হচ্ছে। একপর্যায়ে দেখা যায়, বড় বড় কাভার্ড ভ্যান ঢুকে পড়ায় ধোলাইখাল থেকে টিপু সুলতান রোডে যাওয়ার পথটি প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। দিনের বেলায় কাভার্ড ভ্যানও চলাচল নিষেধ, কিন্তু কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে দেখা গেল না।

কদমতলীতে হেলে পড়েছে চারতলা ভবন

রাজধানীর কদমতলী থানার মোহাম্মদবাগ এলাকায় কলেজ
রোডের একটি চারতলা ভবন পাশের ছয়তলা ভবনের
ওপর গতকাল হেলে পড়ে। কদমত​লীতেই জনতাবাগ
এলাকার একটি পাঁচতলা ভবন প্রায় দুই মাস আগে
পাশের নয়তলা ভবনের ওপর হেলে পড়ে
রাজধানীর কদমতলীতে মোহাম্মদবাগ কলেজ রোডে একটি চারতলা ভবন পাশের একটি ছয়তলা ভবনের গায়ে হেলে পড়েছে। ভবন দুটির বাসিন্দারা বলেছেন, গত বুধবারের ভূমিকম্পের আগে দুটি ভবনের মাঝে এক হাতের মতো ফাঁকা ছিল। কিন্তু ভূমিকম্পের পর থেকে একটু একটু করে চারতলা ভবনটি ছয়তলা ভবনের গায়ে হেলে পড়েছে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার একটি ভবনের কার্নিশ অপর ভবনের কার্নিশের ওপর উঠে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সেখানে গিয়ে ভবন দুটির বাসিন্দাদের সরিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (নিয়ন্ত্রণকক্ষ) এনায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বেলা দেড়টার পর ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা ভবন দুটির বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে এনে দুটি ভবনেই তালা লাগিয়ে দেন। বিষয়টি সিটি করপোরেশন ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) জানানো হয়েছে। চারতলা ভবনটি হেলে পড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সন্ধ্যা ছয়টায় ঘটনাস্থলে থাকা রাজউকের জোন-৮-এর অথরাইজড অফিসার আশিস কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কেবল দেখতে পাচ্ছি দুটি ভবনের একটি আরেকটির গায়ে লেগে আছে। ঠিক কী কারণে ভবনটি হেলে পড়েছে কিংবা আগে থেকেই হেলে ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভবনের বাসিন্দাদের কেউ বলছেন, ভবনটি আগে থেকেই খানিকটা হেলে ছিল।
রাজধানীর কদমতলী থানার মোহাম্মদবাগ এলাকায়
কলেজ রোডের একটি চারতলা ভবন পাশের
ছয়তলা ভবনের ওপর গতকাল হেলে পড়ে।
কদমত​লীতেই জনতাবাগ এলাকার একটি
পাঁচতলা ভবন প্রায় দুই মাস আগে
পাশের নয়তলা ভবনের ওপর হেলে পড়ে
আবার কেউ বলছেন, বুধবারের ভূমিকম্পের পরই এ ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি বলেন, দুই ভবন মালিকের কেউই রাজউক অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেননি। আজ বুধবার বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল এনে ভবন দুটি পরীক্ষা করার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। রাতে গিয়ে দেখা যায়, রাত ১১টার পরও আশপাশের এলাকার বেশ কিছু উৎসুক মানুষ ভবন দুটি দেখতে এসেছেন। পাশের মেরাজনগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমরা দু-তিন দিন ধরেই ভবন হেলে পড়ার কথা শুনছিলাম।’ প্রায় আড়াই বছর ধরে ছয়তলা ভবনে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করা শফিউদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘দুপুরে আমাদের ভবন থেকে বের করে দিয়ে ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ। কিন্তু সন্ধ্যার সময় এসে আবার তালা খুলে দিয়ে বলেছে সকালে চলে যেতে।’ এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দুই ভবন মালিকের কাউকেই পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই মাস আগে কদমতলী থানার জনতাবাগে একটি পাঁচতলা ভবন ভূমিকম্পের পর পাশের একটি নয়তলা ভবনে হেলে পড়ে। পরে হেলে পড়া ভবনটি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে ভবনটি সিলগালা করে দেয় রাজউক। ওই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রাজউক সেখানে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি সাঁটিয়ে দিয়েছে। গতকাল রাতে ভবনটির দেয়ালে ওই বিজ্ঞপ্তি দেখা গেছে।

তিন মাসে অর্থ ফিরে পাবে বাংলাদেশ by লিরা ফার্নান্দেজ

জুলিয়া বাকে-আবাদ
তিন মাস পরে ওই চোরাই অর্থের পুরোটা এএমএলসির মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করে অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে জুলিয়া বাকে-আবাদ,
মহাপরিচালক ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার তিন মাসেই ফিরিয়ে দেওয়ার আশা করছে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি)। তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেননি এএমএলসির মহাপরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ। এএমএলসির মহাপরিচালক গতকাল মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ম্যানিলার আঞ্চলিক বিচার আদালত (আরটিসি) ওই চোরাই অর্থের একাধিক তহবিল এবং ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম ওয়ংয়ের ফিরিয়ে দেওয়া ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার সংরক্ষিত রাখার একটি সাময়িক আদেশ দিয়েছেন। ওয়ং ওই অর্থ এএমএলসির কাছে জমা দিয়েছেন। আর চোরাই অর্থের অন্য তহবিলগুলো গত ১ মার্চ আপিল আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জব্দ (ফ্রিজ) করেছে এএমএলসি। সাময়িক আদেশটি ২০ দিন বহাল থাকবে। আর এ সময়ের মধ্যে আদালত সংক্ষিপ্ত শুনানির দিন নির্ধারণ করবেন। ওই অর্থ সংরক্ষণের একটি স্থায়ী আদেশ দেওয়া হবে কি না, তা ওই শুনানির পরই চূড়ান্ত হবে। এএমএলসির মহাপরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ বলেন, তিন মাস পরে ওই চোরাই অর্থের পুরোটা এএমএলসির মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করে অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কেউ ফিলিপাইনের আদালতে কোনো মামলা করেনি। আবাদ আশা করেন, নির্ধারিত সময়েই (তিন মাস) কাজটা সম্পন্ন হয়ে যাবে। কারণ, এ বিষয়ে কেউ বিরোধিতা করবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই একতরফাভাবেই সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেবেন আদালত। ফলে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। ফিলিপাইনের অর্থ বাজেয়াপ্তকরণ আইন অনুযায়ী, এ মামলায় কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন (এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার) সেই অর্থ দাবি করে আবেদন করতে পারে। সেটা যাচাই করার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পৃথক আদেশে ওই অর্থ হস্তান্তরের অনুমতি দিতে পারেন। এদিকে, ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির প্রধান তৃতীয় তেওফিস্তো গুইংগোনা বলেন, সিনেট কমিটি আরও ৪ কোটি ৮০ লাখ পেসোর (ফিলিপাইনের মুদ্রা) খোঁজ পেয়েছে, যা ওই চোরাই অর্থের অংশ এবং ফিলিপাইন অ্যামিউজমেন্ট অ্যান্ড গেমিং করপোরেশনের কাছে গেছে। ফিলিপাইনের কংগ্রেসে বাজেট আইন চালু করার পরই এ অর্থ বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।  ‘তদন্ত শিগগির শেষ হবে’: বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সিনেট ষষ্ঠ শুনানি গতকাল অনুষ্ঠিত করেছে। ম্যানিলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ আশা প্রকাশ করেন, অর্থ চুরি নিয়ে আলোচনা ও তদন্তের ইতি টানা যাবে শিগগিরই। রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি সিটির একটি শাখায় ভুয়া একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ক্যাসিনোর পরিচালনাকারী ব্যবসায়ীদের হাতে গেছে। সিনেট কমিটি এ ঘটনার তদন্ত করছে। গোমেজ বলেন, নিঃসন্দেহে এ অর্থ বাংলাদেশের। আর তা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া যত শিগগির সম্ভব সম্পন্ন করা উচিত। বাংলাদেশের জনগণ এ চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ। পালমারেসের সাক্ষ্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ইলেকট্রনিক চুরির ঘটনাটির একজন প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির কাছে সেই বর্ণনা দিয়েছেন। মার্ক পালমারেস নামের ওই ব্যক্তি মুদ্রা রূপান্তরকারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেম সার্ভিসেস করপোরেশনে চাকরি করেন। মার্ক পালমারেস স্বীকার করেন, তিনি ৬০ কোটি পেসো এবং ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের একটি অংশ ফিলরেমের প্রধানের বাড়িতে এবং বাকিটা সোল্যার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোয় পাঠিয়েছেন। ফিলরেমের প্রেসিডেন্ট সালুদ বাতিস্তার উপস্থিতিতেই ওই লেনদেন হয়েছে। আরও অর্থ ফেরত দিল ওয়ংয়ের কোম্পানি: ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম ওয়ংয়ের প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি লিমিটেড গত সোমবার এএমএলসির কাছে আরও ৪৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার ফিরিয়ে দিয়েছে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া অর্থের একটি অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে মোট ৯৮ লাখ ডলার এএমএলসিকে দিয়েছে ওয়ংয়ের ওই প্রতিষ্ঠান। এএমএলসির মহাপরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ সিনেট কমিটির সামনে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছন। ওয়ংয়ের আইনি পরামর্শক ভিক্তর ফার্নান্দেজ বলেন, বাংলাদেশি অর্থের আরও কিছু অংশ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে এএমএলসির সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চালছে।চীনা ব্যবসায়ীর অবস্থান জানার নির্দেশ: চীনা ব্যবসায়ী ওয়েইকাং শু কোথায় আছেন, তা জানতে এএমএলসিকে নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, শু তাঁদেরই একজন। অর্থ পাচারবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এএমএলসির প্রাথমিক শুনানিতে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এদিকে, ফিলিপাইনে বিচার বিভাগ ওয়ংয়ের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের সময়সীমা গতকাল পুনর্নির্ধারণ (আগামী ৩ মে) করেছেন। ওয়ং, দেগুইতো ও বাতিস্তার ফোন রেকর্ড অনুসন্ধান: অর্থ চুরির ওই ঘটনায় ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ওয়ং, ফিলরেমের প্রধান বাতিস্তা এবং আরসিবিসির চাকরি হারানো শাখা ব্যবস্থাপক মারিয়া সান্তোস-দেগুইতোর টেলিফোনের রেকর্ড (গত ৫ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) যাচাই করে দেখবে তদন্তকারী সিনেট কমিটি। ওই সময়ের মধ্যেই ফিলরেম থেকে ওয়েইকাং শুর কাছে নগদ অর্থ পাঠানো হয়েছিল। ওয়ংয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য মামলা: ওয়ংয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়ে গত সপ্তাহে ম্যানিলা রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্টে (আরটিসি) একটি মামলা করেছে এএমএলসি। সংস্থাটি গতকাল এ কথা জানিয়েছে।

শফিক রেহমানকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় পুলিশ

শফিক রেহমান
সাংবাদিক শফিক রেহমানকে সঙ্গে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁর ইস্কাটনের বাসা থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে। জব্দ করা হয়েছে তাঁর দুটি পাসপোর্ট, যার একটি যুক্তরাজ্যের। পুলিশের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলা-সম্পর্কিত ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কিছু নথি জব্দ করা হয়েছে ওই বাসা থেকে। মামলার তদন্ত-তদারক কর্মকর্তা ও ডিবির উপকমিশনার মাশরুকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শফিক রেহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীপুত্র অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলা-সংক্রান্ত এফবিআইয়ের নথি তাঁর বাসায় সংরক্ষিত আছে। কিন্তু তিনি ছাড়া এটা কেউ পাবেন না। এ জন্য তাঁকে সঙ্গে নিয়েই তাঁর বাসায় যাওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় গেলে শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান বলেন, ‘ডিবির ১০-১২ জন সদস্য শফিককে নিয়ে তিনতলায় তাঁর পড়ার ঘরে যান। এরপর তাঁরা বাসার সব কক্ষ ঘুরে দেখেন। এ সময় শফিকের কিছু কাগজপত্র ও দুটি পাসপোর্ট নিয়ে গেছেন তাঁরা।’ তালেয়া রেহমান বলেন, ‘শফিকের সঙ্গে আমার কিছু কথা হয়েছে। ওকে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছ? বলল, পুলিশ তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে, সেদিক দিয়ে চিন্তা নেই। তবে তাঁর চিন্তা হচ্ছে তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না, জেলেই দেবে। শফিক বলছে যে, সে কোনো দিন কারও কাছে কোনো কিছু চায়নি। কেবল দিয়েছে। দিয়েছে ভালোবাসা। তার বদলে কোনো পদ বা কোনো কিছু পায়নি। আশাও করেনি।’ গত শনিবার ইস্কাটনের বাসা থেকে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুলিশ গত বছরের আগস্টে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এই মামলাটি মিথ্যা আখ্যা দিয়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএফজে, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংগঠন গতকাল শফিক রেহমানের মুক্তি দাবি করেছে।
মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ডিবির কর্মকর্তারা একটি মাইক্রোবাসযোগে শফিক রেহমানকে নিয়ে তাঁর ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় যান। মাইক্রোবাসের সঙ্গে ডিবির সদস্যদের বহনকারী দুটি পিকআপ ছিল। কাগজপত্র জব্দ করার ক্ষেত্রে ডিবিকে সহায়তা করেন শফিক রেহমান। তালেয়া রেহমান বলেন, ‘জেলে থাকা নিয়ে শফিক যথেষ্ট চিন্তিত। তাঁকে বিষণ্ন মনে হয়েছে। তাঁর গালের দু-এক জায়গায় ফোলা ছিল। শফিক বলেছে, এগুলো মশার কামড়। মশার ওষুধ দেওয়া হলেও কাজ হয়নি। ডিবি কর্মকর্তারা তাঁকে চিন্তা না করতে বলেছেন। জানিয়েছেন, ভিআইপি কক্ষটি তাঁকে দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশের ব্রিফিং: সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম গতকাল মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, প্রথমে প্রধানমন্ত্রীপুত্র অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনায় রমনা থানায় জিডি করা হয়। ওই জিডির তদন্ত করতে গিয়ে জাসাস (জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা) সহসভাপতি মোহাম্মদউল্লাহ মামুনের ছেলে ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রিজভী আহমেদ সিজারের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে। ডিএমপির মুখপাত্র বলেন, এই মামলার প্রেক্ষাপট হলো প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্র সেখানকার এফবিআইয়ের নজরে আসে। এতে ওই সংস্থার একজন বিশেষ প্রতিনিধি রবার্ট লাস্টিক ও তাঁর বন্ধু জোহানস থ্যালারের সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রিজভী আহমেদ সিজারের সম্পৃক্ততা মেলে। মনিরুল বলেন, তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০১২ সাল থেকে ষড়যন্ত্র চলছিল এবং শফিক রেহমান যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি দুই বিদেশির সঙ্গে, রিজভী ও আরেকজন প্রবাসীর সঙ্গে সেখানে একাধিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, রিজভী আহমেদের বাবার বন্ধু শফিক রেহমান। রিজভীকে তাঁর বাবা শফিক রেহমানের সঙ্গে পরিচয় করে দেন। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মনিরুল। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ২৫ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে সব বেরিয়ে আসবে। মনিরুল ইসলাম বলেন, শফিক রেহমান আমেরিকায় বৈঠক করার কথা স্বীকার করেছেন। এ-সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র তাঁর হেফাজত থেকে জব্দ করা হয়েছে। আরও কিছু দলিল-দস্তাবেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার এজাহারে বিএনপির হাইকমান্ডের জড়িত থাকা প্রসঙ্গে মনিরুল বলেন, বিদেশ থেকে হাইকমান্ড পরিচালনা করেন তারেক রহমান। দুই আসামির একজন রিমান্ডে আছেন, আরেকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বলা যাবে, হাইকমান্ড বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে। এদিকে এই মামলা তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ডিবির উপকমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ।

দাম্পত্য কলহে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

নিহত নেহাল সাদিক
রাজধানীর বনশ্রীতে দুই শিশু হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এক মায়ের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভিযোগে উঠেছে। পুলিশ বলছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে মা নিজেই তাঁর সন্তানকে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন ও ফাহমিদা মীর দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল নিহত নেহাল সাদিক। গত সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান এলাকার একটি বাসায় দেড় বছর বয়সী এই শিশুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফাহমিদা মীরকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ হোসেন ও ফাহমিদা নিজেদের পছন্দে সাড়ে চার বছর আগে বিয়ে করেন। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকে তাঁরা পরস্পরকে সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে প্রায়ই দুজনের ঝগড়া হতো। ফাহমিদাকে মাঝেমধ্যেই মারধর করতেন সাজ্জাদ। এর মধ্যেই দেড় বছর আগে নেহালের জন্ম হয়। চার দিন আগেও ছেলেকে নিজের কাছে রেখে ফাহমিদাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন সাজ্জাদ। কিন্তু ফাহমিদা ছেলেকে ফেলে যেতে রাজি হননি। ওই দিন রাত ১২টার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন। এ বিষয়ে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সিরাজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহের কারণে ব্লেড অথবা ছোট চাকু দিয়ে মা তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছেন এবং পরে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সোয়া ১০টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তিনি জানান। ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক কান গলা বিভাগের শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আঘাত দেখে মনে হচ্ছে ফাহমিদা মীর নিজের গলায় পোঁচ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। আঘাতের গভীরতা বেশি। তবে আমরা আশা করছি, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’ গত সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সাজ্জাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ওই বাসায় যান। এ সময় তাঁরা দেখেন, খাটের ওপর নেহালের নিথর দেহ পড়ে আছে। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। পাশেই শুয়ে আছেন মা ফাহমিদা। তাঁর ঘাড়ের বাঁ পাশে কাটা দাগ। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং গতকাল সকালে নেহালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মা ফাহমিদার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ রাতেই তাঁকে আটক করে। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল সকালে তাঁকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, ফাহমিদার কথাবার্তা তাঁদের কাছে অসংলগ্ন মনে হয়েছে। তিনি একেক সময় একেক কথা বলছেন। তাঁর মানসিক অবস্থা জানতে মনোরোগ চিকিৎসকের সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে। এদিকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মানুষের কিছু মৌলিক প্রবৃত্তি থাকে। বিভিন্ন সামাজিক প্রক্রিয়া তাকে ঢেকে রাখে। মাঝে মাঝে মানুষ প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ হয়ে যায়, রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। তখন অপরাধ ঘটিয়ে বসে। এই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক খবর প্রাধান্য দিয়ে ছাপার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন মানুষ খারাপ খবর বারবার পড়ে, তখন এর একটা প্রভাব পড়ে। গতকাল সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে ৩০৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বেঞ্চে বসে আছেন ফাহমিদা। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফাহমিদা প্রথম আলোকে বলেন, সাজ্জাদের সঙ্গে বিয়ের আগে তাঁর আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর জানতে পারেন প্রথম স্বামীর আগে অন্য এক মেয়ের সম্পর্কের কথা। সেই মেয়েকে বিয়ের জন্য ফাহমিদার কাছে অনুমতি চান তাঁর প্রথম স্বামী। ফাহমিদা অনুমতি না দিলে লুকিয়ে তিনি ওই মেয়েকে বিয়ে করেন ও উত্তরায় সংসার শুরু করেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ফাহমিদা তাঁর প্রথম স্বামীকে ছেড়ে বাবার বাসায় ওঠেন। ওই সংসারে তাঁর একটি কন্যা হয়। সে এখন বাবার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। ফাহমিদা বলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলার সময় তাঁর পরিচয় হয় সাজ্জাদের সঙ্গে। এর কয়েক মাস আগেই সাজ্জাদ ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়। সাজ্জাদের ওই সংসার টিকেছিল তিন মাস। ফাহমিদার দাবি, সাজ্জাদ ভালোবাসার অভিনয় করে তাঁকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পরই সব উল্টে যায়। তাঁকে সব সময় সন্দেহ ও মারধর করতে থাকেন। ঘটনা সম্পর্কে ফাহমিদা বলেন, সোমবার সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হন সাজ্জাদ। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি বাসায় কলবেলের আওয়াজ শোনেন। এরপর আর কিছু মনে নেই। রাতে বাসায় চিৎকার-চেঁচামেচিতে তাঁর ঘুম ভাঙলে ছেলেকে মৃত দেখতে পান। ছেলেকে কে হত্যা করেছে জানতে চাইলে ফাহমিদা বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে অনেক ভালোবাসি। তাকে আমি কেন মারব? ওর জন্য আমি কত রাত ঘুমাইনি, কত কষ্ট সহ্য করেছি।’ তাঁর অভিযোগ, সাজ্জাদ কাউকে দিয়ে তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছেন। এদিকে গতকাল বিকেলে উত্তরখান থানায় সাজ্জাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে বাসায় ফিরে বাইরে থেকে দরজা আটকানো দেখতে পাই। দরজা খুলে বাসায় ঢুকে মা-ছেলেকে বিছানায় দেখি। ছেলের বুক থেকে নিচ পর্যন্ত কাঁথা দিয়ে ঢাকা ছিল। কাঁথা তুলে পেটে কাটা দাগ দেখতে পাই। পরে চিৎকার শুরু করি।’ সাজ্জাদের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী ছেলেকে হত্যা করেছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘ক্ষোভ থাকলে আমাকে মারত। আমার বাচ্চাটা কী দোষ করেছিল।’ ফাহমিদার সঙ্গে একাধিক পুরুষের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল দাবি করে সাজ্জাদ বলেন, এ নিয়ে প্রায়ই তাঁদের ঝগড়া হতো। মাস্টারপাড়া সোসাইটির এ/পি ৮৫৯ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন সাজ্জাদ-ফাহমিদা দম্পতি। গতকাল বিকেলে ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, সদর দরজা তালাবদ্ধ। পাশের ফ্ল্যাটের নাজনীন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, নিয়মিত তাঁদের ঝগড়া হতো। সাজ্জাদ স্ত্রীকে মারধরও করতেন। তিন দিন আগে সাজ্জাদ ফাহমিদাকে বাসা থেকে বের করে দেন। সাজ্জাদ স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন বলে তিনি জানান। নাজনীন আক্তার বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ফাহমিদা তাঁকে বাইরে থেকে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিতে বলেন। সে অনুযায়ী তিনি ছিটকিনি লাগান। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে পারেন। সাজ্জাদের বাড়ি ভোলার দৌলতখানের গুপ্তের বাজার। তিনি ঢাকার একটি বিপণিবিতানে বিক্রয়কর্মীর কাজ করেন। আর ফাহমিদার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। ফাহমিদা ইডেন কলেজে সমাজকল্যাণ বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু স্নাতক শেষ করার আগেই তিনি পড়ালেখা ছেড়ে দেন।

জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

নির্যাতনের পর মুন্সিগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হাসানের মৃত্যুর প্রতিবাদে
গতকাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়ক অবরোধ
করে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ করেন
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় প্রতিপক্ষের নির্যাতনের পরে কারাগারে ছাত্রলীগের নেতা আসিফ হাসান মারা যাওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন। ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে জেলা ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতারা অংশ নেন। সড়ক অবরোধের কারণে জেলা শহরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল মৃধা সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তৃতা করেন শহর ছাত্রলীগের সভাপতি নছিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত হোসেন, সদর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সুরুজ মিয়া প্রমুখ। একই দাবিতে বাকি পাঁচ উপজেলায়ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আসিফ হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আন্দোলন করা হবে। সিরাজদিখান থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ছাত্রলীগের ওই নেতার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় গত সোমবার রাতে তাঁর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিনসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছাত্রলীগের নেতা আসিফ হাসানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিয়াকত মীর নির্বাচিত হন। লিয়াকতের পক্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসিফ হাসান নির্বাচন করেন। পরাজিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচন করেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন হোসেন। এ কারণে উপজেলা ছাত্রলীগ ইয়ামিনকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে আসিফের সঙ্গে নাসির উদ্দিনের পক্ষের শত্রুতা বেড়ে পায়। ১২ এপ্রিল আসিফ হাসানকে ইয়ামিনসহ কয়েকজন ধরে নিয়ে একটি বাড়িতে নির্যাতন করেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। ইয়ামিনকে মারধর করার অভিযোগে করা একটি মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। গত রোববার ভোরে আসিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

ঝিনাইদহে ‘অপহৃত’ কলেজছাত্রের লাশ চুয়াডাঙ্গায়

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ‘অপহৃত’ কলেজছাত্র সোহানূর রহমানের (১৬) গুলিবিদ্ধ লাশ চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের খাড়াগোদা গ্রামের একটি মাঠে সোহানূরের লাশ পাওয়া যায়। পরে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। সোহানূরের এক স্বজন লাশ শনাক্ত করেন। তিতুদহ পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রশিদ বলেন, গুলিবিদ্ধ লাশটি উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি সোহানূরকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে আসছিল তার পরিবার। এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ। সোহানূর শহরের শহীদ নূর আলী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।
সোহানূরের মা পারভীনা বেগমের ভাষ্য, তাঁর ছেলে কোনো রাজনীতি করত না। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে ঈশ্বরবা-জামতলা নামক স্থানে একটি দোকানে বসে ছিল সোহানূর। এ সময় কালীগঞ্জ শহর থেকে একটি ইজিবাইকে করে চারজন লোক এসে নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। তাঁরা অস্ত্রের মুখে সোহানূরকে তুলে কালীগঞ্জের দিকে চলে যান। উপস্থিত লোকজন বাধা দিতে গেলে তাঁদের অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।

Sunday, April 17, 2016

আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আজ রোববার
সকালে আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ
জজ আদালত-৩-এ এই মামলার বিচারকাজ চলছে
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আজ রোববার আদালতে হাজির হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালেদা জিয়া আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। তাঁর আগমনের আগেই আদালতে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৩-এ এই মামলার বিচারকাজ চলছে। ৭ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার। ওই নির্দেশ অনুযায়ী আজ আদালতে হাজির হলেন খালেদা জিয়া। ৭ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হননি। তাঁর পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

হেলে পড়া ভবনে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম

ভূমিকম্পে হেলে পড়া চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার সিদ্দিক
শপিং কমপ্লেক্স (ডানে)। ঝুঁকি উপেক্ষা করে ভবনটির
বেশির ভাগ দোকান গতকাল বিকেলে খোলা ছিল
ভূমিকম্পে হেলে পড়া চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট এলাকার বহুতল ভবন সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্সে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলছে। ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তবে এ অবস্থাকে নিরাপদ মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প প্রকৌশল গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, হেলে পড়া ভবনগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থেই আপাতত অবস্থান করা উচিত হবে না। ভবনগুলো ঝুঁকিমুক্ত কি না, এ-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সবার অপেক্ষা করা উচিত। গত বুধবার রাতের ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় একটি, নিউমার্কেট এলাকায় দুটি, এনায়েতবাজারে একটি, হালিশহর আবাসিক এলাকায় একটি, ওয়াসা মোড়ে একটি, ঝাউতলায় একটি, জিইসি মোড়ে একটি ও রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভবন হেলে পড়ে। এই নয়টি ভবনের মধ্যে আবাসিক তিনটি, বাণিজ্যিক পাঁচটি ও একটি ভবনে কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। ভবনের নিচতলায় জুতার দোকানে কেনাকাটা করতে দেখা যায় ক্রেতাদের। শো প্যালেসের মালিক আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভূমিকম্পে এই ভবনের কিছুই হয়নি। কোনো সমস্যা থাকলে আমরা কি এখানে ব্যবসা করতাম?’ হেলে পড়া ভবনে ব্যবসা করতে কোনো আতঙ্ক কাজ করছে কি না—জানতে চাইলে অ্যাডিডাস শুজের মালিক আবদুর রহিম বলেন, ‘না, এই ভবনে কোনো ঝুঁকি নেই।’ স্ত্রীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আসিফ হোসেন বলেন, এই মার্কেট ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। ভূমিকম্পে নগরের এনায়েতবাজার এলাকায় পাঁচতলা ও তিনতলাবিশিষ্ট দুটি ভবন একটি অপরটির সঙ্গে লেগে গেছে। তিনতলা ভবনের নিচতলায় স্যানিটারি দোকান, দোতলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও তৃতীয় তলায় বাসাবাড়ি রয়েছে। পাঁচতলা ভবনে ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। তিনতলা ভবনের মালিক মোহাম্মদ জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, আগে থেকেই ভবন দুটি জোড়া লাগানো অবস্থায় আছে। এই ভবনের নিচতলার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ মাসুদ ও মো. মোস্তাফিজ বলেন, ‘ঝুঁকি থাকলে তো দোকান খুলতাম না।’ পাঁচতলা ভবনে থাকা একটি বিমা কোম্পানির শাখা ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভূমিকম্পে ভবনগুলো হেলে পড়েছে বলে মনে হয় না।’ তাঁর কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের মধ্যে কোনো ভীতি নেই বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অথরাইজড কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম প্রথম আলোকে বলেন, চুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল হেলে পড়া ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এরপর সেখানে লোকজন থাকতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ রোববার সিডিএর সঙ্গে চুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

রানি এলিজাবেথের জন্মদিনের কেক বানাচ্ছেন নাদিয়া

নাদিয়া হোসেইন
ব্রিটিশ বেকিংয়ের চ্যাম্পিয়ন হয়ে খ্যাতি কুড়িয়েছেন এরই মধ্যে। এবার রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৯০তম জন্মদিনের কেক বানানোর ডাক পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়া হোসেইন। খবরটা নিজেই প্রকাশ করেছেন তিনি। বিবিসি টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’ প্রতিযোগিতায় গত বছর চ্যাম্পিয়ন হন নাদিয়া। গত ৭ অক্টোবর ওই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। নাদিয়া হোসেইন জানান, রানির জন্য তিনি একটি কমলা রঙের ঝুরঝুরে কেক তৈরি করবেন। সেটি করা হবে কমলা দধি ও কমলা মাখন দিয়ে। এ খবর জানিয়ে আইটিভির লুজ উইমেনকে নাদিয়া বলেন, রানির জন্য বানানো সেই কেকের স্বাদ-গন্ধ হবে ‘একেবারে লেবুর মতো’। তিনি প্রথমে একটি ফলের কেক বানানোর চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু পরে ভাবেন একটা ভিন্ন কিছু করা দরকার। আগামী বৃহস্পতিবার রানির ৯০তম জন্মদিনে উইন্সডর ক্যাসলের গিল্ড হলে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে নাদিয়ার তৈরি কেকটি।

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক চার মাসের বেশি নিখোঁজ

মো. আবদুল হান্নান
‘তোমার সন্তানদের তুমি ভালোবাসো না? ওদের জন্য হলেও তো তোমাকে বাঁচতে হবে।’ গত ৭ ডিসেম্বর নিখোঁজ হওয়ার আগে স্বামী মো. আবদুল হান্নানের সঙ্গে আফরোজা সুলতানার এই ছিল শেষ কথা। সেদিনই তেজগাঁও কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এই সহসভাপতি নিখোঁজ হন। চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আবদুল হান্নানের খোঁজ মেলেনি। মন্ত্রী-দলীয় সহকর্মী-কর্মস্থল-পুলিশ—কারও কাছ থেকে স্বামীর সন্ধান পাননি আফরোজা। ৭ ডিসেম্বর আবদুল হান্নান ট্রাউজার ও ফুলশার্ট পরে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। ইন্দিরা রোডে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষকদের আবাসিক ভবনে সপরিবারে থাকতেন তিনি। স্ত্রী আফরোজাও একই কলেজের শিক্ষক। যাওয়ার আগে মুঠোফোনটি বাসায় রেখে যান আবদুল হান্নান। সকালে দুই সহকর্মী তাঁকে চন্দ্রিমা উদ্যানের দিকে যেতে দেখেছেন। এর বেশি আর কোনো তথ্য পরিবারের কাছে নেই। আবদুল হান্নান নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর ৮ ডিসেম্বর আফরোজা সুলতানা শেরেবাংলা নগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। গতকাল শনিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডায়েরি করার পর থেকে আমিই থানায় ফোন করে খবর নিয়েছি কোনো খোঁজ আছে কি না। র্যাব-২-এ অভিযোগ করেছি। কোনো দিন পুলিশ বা র্যাবের পক্ষ থেকে কেউ এসে আমার সঙ্গে কথা বলেনি।’ তেজগাঁও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় সাংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আফরোজা একাধিকবার তাঁর কাছেও গেছেন বলে জানান। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোপাল গণেশ বিশ্বাস গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। তবে আমরা জেনেছি, উনি প্রায়ই এ রকম বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন।’ আফরোজা যাঁদের কাছে যাচ্ছেন, তাঁরা সবাই আবদুল হান্নানের শারীরিক অসুস্থতার প্রসঙ্গ টানছেন। আফরোজা বলেন, ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হান্নানের মাথার সামনের দিকে একটি স্প্লিন্টার ঢুকেছিল। তবে কলেজের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে লম্বা সময় ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি। কলেজ সূত্র জানায়, ২০১১ সালে তেজগাঁও কলেজ বিজ্ঞাপন দিয়ে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়। আবদুল হান্নান সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই পদে নিয়োগ পান। মাস দুয়েক পর কলেজের দুজন শিক্ষক ওই নিয়োগের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একপর্যায়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেন, পরিচালনা পর্ষদ যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা-ই চূড়ান্ত। কিন্তু আবদুল হান্নানের পরিবর্তে ওই পদে নিয়োগ পান কলেজের অধ্যক্ষের ভাই হারুন অর রশীদ। কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ ও মো. আবদুল হান্নান দুজনের বাড়িই জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে। দুজনেই সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। চার-পাঁচ দিন আগে আবদুর রশীদ তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ পেয়েছেন। তাঁর ভাই হারুন অর রশীদ সরিষাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। জানা গেছে, মো. আবদুল হান্নান দুঃখ করে অনেককেই বলেছিলেন, দল ক্ষমতায় থাকার পরও তাঁকে সরে আসতে হলো, এ বিষয়টি তিনি মানতে পারছেন না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত দীর্ঘদিন। তিনি আশা করেছিলেন তাঁর সমস্যার সুরাহা হবে। দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে বহুবার ধরনাও দিয়েছেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘উপাধ্যক্ষ পদ নিয়ে আবদুল হান্নানের কোনো ক্ষোভ ছিল না। মামলা-মোকদ্দমা ছিল। সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। আমার ভাই উপাধ্যক্ষ হয়েছে, কারণ সে মেধাবী, ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট।’ তবে আফরোজা সুলতানার দাবি, তাঁর স্বামী এত অসুস্থ ছিলেন না যে হারিয়ে যাবেন। তিনি নিয়মিত আত্মীয়স্বজন, কলেজের সহকর্মী, দলের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অনেক সাংসদের ফোন নম্বরও তাঁর মুখস্থ ছিল। প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন আবদুল হান্নান। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিচিতদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল।

জামদানি ফজলি আম নকশিকাঁথা তুমি কার? by ইফতেখার মাহমুদ

খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ বছর আগে প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্র বইতে ঢাকাই মসলিন ও জামদানির কথা উল্লেখ করেছেন। ১৪ শতকের মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতার লেখায়ও ঢাকার অদূরে সোনারগাঁয়ে জামদানি তৈরির কথা লিপিবদ্ধ আছে। অথচ এই বাংলাদেশের মাটি, পানি ও মানুষের সৃজনশীল উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত জামদানি শাড়ি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতীয় পণ্য হিসেবে। এই স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক নাম জিওগ্রাফিক্যাল ইনডেক্স (জিআই) বা ভৌগোলিক নির্দেশক। উপাধ্যায় জামদানি নামে একটি পণ্যের জিআই নিবন্ধন নিয়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ। শুধু তা-ই না, আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব প্রতিষ্ঠান বা ওয়াইপিওতে নকশিকাঁথার জিআই নিবন্ধন পেয়েছে ভারত। নিবন্ধন পেয়েছে তিন প্রকার আম—ফজলি, হিমসাগর ও লক্ষ্মণভোগের, যেগুলো বাংলাদেশের রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাত বলে আমরা জানি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো এই পণ্যগুলো নিজেদের দাবি করে নিবন্ধন চাওয়া হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে এগুলোর আদি উৎপত্তিস্থল ভারত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তবে দেরিতে হলেও টনক নড়েছে বাংলাদেশের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো খুব দেরি হয়ে যায়নি। কেননা, নিবন্ধনদাতা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সালিস বসিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যের ইতিমধ্যে হাতছাড়া মালিকানা ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ জামদানি শাড়িকে নিজেদের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিতে চাইছে। সরকারের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই শেষে ওই দাবির পক্ষে একটি গেজেট প্রকাশের জন্য ছাপাখানায় পাঠানো হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রিপস চুক্তিতে বিশ্বের সবগুলো দেশকে তার ভূমিতে উৎপাদিত পণ্য, বস্তু ও জ্ঞান নিবন্ধন করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এগুলোকে বলা হয় ওই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই)। মেধাস্বত্ব-বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা ওয়াইপিওর নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই নিবন্ধন দেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরকে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রতিটি দেশকে নিজেদের আইন ও বিধিমালা তৈরি করতে হয়। বাংলাদেশ দেরিতে হলেও সেই আইন করেছে ২০১৩ সালে। আর বিধিমালা করা হয়েছে ২০১৫ সালে। এরপর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জিআইয়ের জন্য আবেদন চাওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের কী কী পণ্য জিআই হতে পারে, এখন পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তার কোনো জরিপই হয়নি। প্রতিটি সংস্থা নিজস্ব জ্ঞান ও উদ্যোগে জিআই আবেদন করছে। বিপরীতে ভারত ১৯৯০ সাল থেকে জিআই নিবন্ধন শুরু করে দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আইন ও বিধিমালা অনুমোদন হওয়ার পর তাঁরা সবগুলো সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন। জেলার ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে জিআই নিবন্ধন দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জামদানি ও নকশিকাঁথা এবং ফজলিসহ আমের বেশ কিছু জাত ভারত নিবন্ধন দেওয়া বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ভারত নিবন্ধন নেওয়াতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা ওই পণ্যগুলোর নাম কিছুটা পরিবর্তন করে বাংলাদেশের নামে নিবন্ধন দিব।’ পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের কাছে সুগন্ধি চাল কালিজিরা ও কাটারিভোগকে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। ব্রি আরও ১৮টি দেশি ধানের জাত এবং বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর ইলিশ মাছের জিআই আবেদনের প্রস্তুতিও শেষ করে এনেছে। পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ডব্লিউটিও, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জিআই) মহিউদ্দিন আল ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘জিআই আবেদন করতে পারে এমন সবগুলো সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছি আমরা। তাদের সঙ্গে এখনো নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এর ফলাফল হিসেবেই জামদানির জিআই আবেদন চূড়ান্ত করে আমরা গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছি। কালিজিরা ও কাটারিভোগ ধানের নিবন্ধনের গেজেটও দ্রুত প্রকাশ করা হবে।’
মেধাস্বত্ব-বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা ওয়াইপোর পরামর্শক ও বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক কবি নুরুল হুদা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ৩৫ পণ্য ও জ্ঞানের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের জিআইয়ের সম্ভাব্য তালিকা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে ওই তালিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া বা ওই তালিকাকে ভিত্তি করে একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়নি। ওয়াইপিওর নিয়ম অনুযায়ী জিআই হিসেবে আবেদনের পর তা যাচাই-বাছাই করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। গেজেট প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে দেশের ভেতরে অন্য কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠী ওই পণ্যের জিআই হিসেবে দাবিদার না হলে তা চূড়ান্ত নিবন্ধন বা অনুমোদন পেয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভারত ইতিমধ্যে ২১৮টি পণ্যের জিআই নিবন্ধন করেছে। ওই পণ্যগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি পণ্য বাংলাদেশেও ঐতিহাসিকভাবে উৎপাদিত হয় বলে বেশ কয়েকটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে কবি নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক দিন থেকে বাংলাদেশের জিআই আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বলে আসছি। এর মধ্যে ভারত একে একে জামদানি, ফজলি আম চালসহ অনেক কিছুর জিআই নিয়ে গেছে। ফলে আমাদের আর দেরি না করে বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করে এমন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা উচিত, যারা সরকারকে জিআই কার্যক্রমে সহায়তা দেবে।’ মেধাস্বত্ব গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘আমাদের গ্রাম’-এর পরিচালক রেজা সেলিম এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, জিআই বিষয়ে আমাদের একটি আইন ও বিধিমালা হয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক দিক। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেভাবে দ্রুতগতিতে তাদের পণ্যের জিআই নিবন্ধন দিচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশকে এগোতে হবে। নয়তো আমাদের আরও অনেক পণ্যের জিআই হাতছাড়া হয়ে যাবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ফল, শাক-সবজি, কন্দালজাতীয় ফসলের মোট ২০০টি জাত ও বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর ইলিশ মাছের জিআই নিবন্ধন আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জীবন্ত কোনো কিছুর জিআই নিবন্ধন করাতে এর আঙ্গিক ও কৌলিক পরীক্ষা করতে হয়। বারি থেকে ইতিমধ্যে আমের আটটি জাতের আঙ্গিক বা মরফোলজিক্যাল মূল্যায়ন হয়ে গেছে। কৌলিক মূল্যায়ন এখনো বাকি আছে। তবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) থেকে দুই বছর ধরে আমের ১২টি জাত, মরিচের চারটি, লিচুর পাঁচটি, কলার চারটি জাতের জিআই নিবন্ধন নেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছে। তবে এখনো তারা জিআই পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে আনতে পারেনি। ভারত যে ফজলি, লক্ষণভোগ ও হিমসাগরের জিআই নিবন্ধন নিয়েছে, সেই একই জাতের নিবন্ধন পেতে বারি থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারির মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফজলি আম যে ভারত নিবন্ধন করেছে, তা আপনার কাছ থেকে প্রথম শুনলাম। তবে আমরা শুধু ফজলি আম না, অন্য আরও ১২টি আমের জাতের নিবন্ধন পাওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছি।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রির পরিচালক (প্রশাসন) শাহজাহান কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব জাতের কয়েক হাজার ধানের জাত আছে। পর্যায়ক্রমে আমরা সবগুলো জিআই নিবন্ধন করাব। প্রাথমিকভাবে আমরা ওই ২০টি জাতের নিবন্ধন আবেদন করছি।’
মৎস্য অধিদপ্তরের জাটকা প্রকল্পের পরিচালক জাহিদ হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ইলিশের জিআই আবেদনের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি। খুব দ্রুতই তা শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেব।’

শফিক রেহমান গ্রেপ্তার, পাঁচ দিনের রিমান্ডে

সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গতকাল ঢাকা
মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়
বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল আটটার দিকে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে গত বছরের পল্টন থানার একটি হত্যা পরিকল্পনার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনায় পুলিশ গত বছরের আগস্টে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে তা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সেই মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল নিউইয়র্কে। সেখানে এই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মামলার রায়ে সেখানকার বিএনপি নেতার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের ৪২ মাসের কারাদণ্ড হয়। এ ছাড়া ঘুষ লেনদেনের জন্য এক এফবিআই এজেন্টের বন্ধুর ৩০ মাসের কারাদণ্ড হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনায় শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের কললিস্ট চেক করে এ ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের সঙ্গে শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানের ফোনে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শফিক রেহমানকে নিয়ে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পর তাঁকে আটকের কথা স্বীকার করে পুলিশ। দুপুরে শফিক রেহমানকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পল্টন থানার পুলিশ। বিচারক মাজহারুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শফিক রেহমানের স্ত্রী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডেমক্রেসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান সাংবাদিকদের বলেন, ডিবির তিনজন সদস্য বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাসায় আসেন। এত সকালে সাংবাদিকদের বাসায় আসার খবর শুনে তাঁর একটু সন্দেহ হয়েছিল। শফিক রেহমানের বাসার তত্ত্বাবধানকারী আবদুল মতিন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ছয়টার দিকে বাসার মূল গেটে প্রথমে দুজন ধাক্কা দেন। তারপর আরেকজন আসেন। তাঁরা একটি টিভি চ্যানেল থেকে এসেছেন বলে জানান। তাঁরা বলেন, ওই টিভিতে শফিক রেহমানের অনুষ্ঠান আছে। তাঁকে নিয়ে যেতে এসেছেন। মতিন বাসার পেছনে তিনতলা ভবনের নিচতলায় তিনজনকে বসান। তিনতলায় থাকা শফিক রেহমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তাঁদের নাশতা দিতে বলেন। তাঁরা তিনজন নাশতা খান। শফিক রেহমানের নামতে দেরি হলে সকাল আটটার দিকে তাঁরা বাসার বাবুর্চি আলীকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে ওপরে যেতে বলেন। আলী উঠতে থাকলে ওই তিনজনও পিছু পিছু দোতলা পর্যন্ত উঠে যান। এ সময় শফিক রেহমান নিচে নামছিলেন। আবদুল মতিন বলেন, শফিক রেহমান দোতলায় নামার পর ওই তিনজন ডিবি থেকে এসেছেন জানিয়ে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনেন। এ সময় বাবুর্চি আলী ও তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁরা ডিবি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘তুই আসবি না’। এরপর বাসার সামনে দাঁড়ানো মাইক্রোবাসে করে সকাল আটটার দিকে শফিক রেহমানকে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিবি কার্যালয়ের পরিচয় দিয়ে শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমানের কাছে একটি ফোন আসে। তালেয়া রেহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, শফিক রেহমানের জন্য নাশতা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ডিবি কার্যালয় থেকে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো পাঠানো হয়েছে। তিনি কোলেস্টরেল আধিক্যজনিত সমস্যা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দুপুর ১২টার দিকে তালেয়া রেহমান মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে যান। শফিক রেহমানের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব রয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ডিবি পুলিশের গ্রেপ্তারের বিষয়টি ঢাকায় ব্রিটিশ দূতাবাসকে জানানো হয়েছে। ‘শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’: মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনা মামলা তদন্ত করছে ডিবি। এতে শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । মারুফ হোসেন বলেন, শফিক রেহমান ২০১৩ সালে একবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তখনই জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পেরেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক সাক্ষ্য গ্রহণের একপর্যায়ে এ ঘটনায় শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু গতকাল রাতে বিবিসি বাংলাকে বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ফাঁস হলে সেই মামলায় দেশে-বিদেশে বিভিন্ন রকম তদন্ত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে কিছু তথ্য আছে। এত দিন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করেছে, পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখেছে। সেই মামলার সঙ্গে শফিক রেহমানের সম্পর্ক আছে মনে করেই কর্তৃপক্ষ তাঁকে আদালতে পেশ করেছে। প্রাথমিক অভিযোগকারী নাম না দিলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের মধ্য দিয়ে বহু অজানা তথ্য পান এবং তার ভিত্তিতে অনেক দোষী ব্যক্তি সামনে চলে আসে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। এ ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ উঠবে কি না, প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি ভিন্নমত দমনের নীতি থাকত এবং পত্রপত্রিকা সরকারের সমালোচনামুখর না হতো, তাহলে আপনার অভিযোগ আমি গ্রহণ করতাম। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মাধ্যম সরকারের সমালোচনায় মুখর এবং হাসিমুখে আমরা তা সহ্য করছি।’ সাংবাদিক শওকত মাহমুদ ও আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন আটক রাখা প্রসঙ্গে হাসানুল হক ইনু বলেন ‘এটা গণমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ না। এটা ব্যক্তির অপরাধজনিত ঘটনা।’শফিক রেহমান দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাবেক প্রকাশক ও সম্পাদক। বর্তমানে তাঁর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক মৌচাকে ঢিল বের হচ্ছে। তিনি বিএনপির কূটনৈতিক বিভাগের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সর্বশেষ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।খালেদা জিয়ার বিবৃতি: শফিক রেহমানের গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অবৈধ’ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে এখন যুদ্ধ শুরু করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সাজানো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সম্পাদকদেরও গ্রেপ্তার এবং নির্যাতন করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, শফিক রেহমান সত্য উচ্চারণে অবিচল ও সাহসী এক কলমযোদ্ধা। সে কারণে তাঁকে কবজা করতে না পেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটি সরকারের চরম স্বেচ্ছাচারিতারই বহিঃপ্রকাশ। শফিক রেহমানকে আটকের খবর পেয়ে তাঁর ইস্কাটনের বাড়িতে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পরে নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘টিভির নাম দিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন এভাবে তুলে নিয়ে যাবে। এটা কোন দেশ!’ রিজভী বলেন, ‘দেশের বিশিষ্ট গুণীজনদের যদি এই পরিণতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।’ ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থানরত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘শফিক রেহমান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশের লোকজন সাদাপোশাকে তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণিত এ দেশে কথা বলার স্বাধীনতা নেই, লেখার স্বাধীনতা নেই।’ সাংবাদিক নেতাদের নিন্দা: শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (বিএফইউজে)-এর একাংশ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এর মধ্য দিয়ে ভিন্নমতের প্রতি সরকারের অসহিষ্ণুতা প্রকাশ পেয়েছে।