Saturday, October 29, 2016

এ কী বললেন এফবিআই পরিচালক!

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে সব বিতর্ক ছাপিয়ে এবার তোপের মুখে মার্কিন তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক জেমস কমি। নির্বাচনের জন্য বাকি মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়। এর মধ্যে তিনি কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, অন্য একটি তদন্ত করতে গিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের গোপন ই-মেইলের সন্ধান পাওয়া গেছে। তদন্তে অপরাধমূলক কিছু পাওয়ার আগেই তাঁর এমন বক্তব্যে অনেকেই অবাক। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার কংগ্রেসের সব কমিটি চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে এমন তথ্য জানান জেমস কমি। এরপরই শুরু হয়েছে হইচই। বিষয়টি দ্রুত সংবাদমাধ্যমে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারকালে এফবিআই পরিচালকের এমন পদক্ষেপকে হিলারি ক্লিনটনের জন্য অমঙ্গলের বার্তা বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা। পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা মনে করছেন, এবারে হিলারি ঠিকই ধরা খাবেন। 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটন ব্যক্তিগত ই-মেইলে রাষ্ট্রীয় বিষয়ের লেনদেন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্পর্শকাতর তথ্য অন্যদের হাতে চলে গেছে বলে অভিযোগ ছিল। প্রায় এক বছর ধরে তদন্তের পর গত জুলাই মাসে এফবিআই কংগ্রেসে প্রতিবেদন দাখিল করে। সে সময় এফবিআই-প্রধান জেমস কমি বলেন, হিলারির বিরুদ্ধে তদন্তে কিছু পাওয়া যায়নি। সাবেক কংগ্রেসম্যান অ্যান্থনি উইনারের বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্র ধরে গতকাল শুক্রবার এফবিআই পরিচালকের কাছে নতুন তথ্য আসে। তড়িঘড়ি করে ওই দিন সকালেই তিনি কংগ্রেসের সব কমিটি-প্রধানের কাছে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানান। চিঠিতে বলা হয়েছে, অ্যান্থনি উইনারের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে হিলারির ওই ই-মেইলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব ই-মেইলের মধ্যে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য আছে কি না বা কোনো আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা বলা হয়নি। প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে এ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভাগীয় প্রধানের পদক্ষেপ নিয়ে এফবিআইতেই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এফবিআই মনে করছে, তদন্তে অপরাধমূলক কিছু পাওয়ার আগেই কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে হিলারির নির্বাচনী প্রচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন জেমস কমি। সাধারণত,
নির্বাচনের ঠিক আগে আগে এমন পদক্ষেপ নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, তদন্ত করার আগেই হিলারির ই-মেইল নিয়ে এফবিআই পরিচালকের এমন মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট) তোলপাড় চলছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডায়ান ফেইন্সটাইন বলেছেন, নির্বাচনের প্রভাব বিবেচনা করেই এফবিআই এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে আরও সতর্কতা দরকার ছিল। তবে রিপাবলিকানরা এফবিআই পরিচালকের পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ ফুরফুরে মেজাজে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ওয়াটারগেটের মতোই হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেঙ্কারি। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা করেন। শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে ই-মেইল নিয়ে হিলারির প্রচারশিবিরকে দিনভর বিব্রত থাকতে হয়েছে। হিলারি বলেছেন, ই-মেইলে কী পাওয়া গেছে, সব খোলাসা করে বলা হোক।

ট্রেনে সাজতে মানা!

‘সব নারীই সুন্দর। তবে কখনো কখনো তাঁদের বিশ্রী দেখায়।’—গানের কথাগুলো এ রকম। চলন্ত ট্রেনে এ গান যখন বাজছে, তখন দেখা গেল যে দুই তরুণী লিপস্টিক আর মাশকারা নিয়ে নিজেদের সাজাতে ব্যস্ত। পরের দৃশ্যে হাজির অভিনেত্রী সাওয়া নিমুরা। তিনি ওই দুজনকে বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে এমন আচরণ থেকে দয়া করে বিরত থাকুন।’ জাপানের রেলওয়ে কোম্পানি তোকু করপোরেশন এমনই একটি মিউজিক ভিডিও বানিয়েছে। গত মাসে প্রকাশ করা ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটি নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। কেউ কেউ বলছেন, এই ভিডিও প্রচার করা উচিত। রেলগাড়িতে বিরক্তিকর সাজগোজ এবার যদি বন্ধ হয়! আবার আরেক দল বলছে, বড্ড বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগ মেনে নেওয়া যায় না। টুইটারে একজন লিখেছেন, ‘ট্রেনে সাজতে গেলে পাউডার বা প্রসাধনসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে পারে। এতে অন্য যাত্রীদের পোশাক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রসাধনের তীব্র গন্ধও হয়তো কারও বিরক্তির উদ্রেক করবে।
তাই বলে রেলওয়ে কোম্পানি তো আমাকে বলতে পারে না—আমি সুন্দর নাকি অসুন্দর।’ আরেকজনের মতে, ‘এই সমাজ নানাভাবে নারীবিদ্বেষকে ঠিক বলে দেখাতে চায়। আর এভাবেই তারা নারীর প্রতি নিপীড়ন চালিয়ে যেতে চায়। ট্রেনে সাজগোজে মানা করলে তো কেউ খেপছে না। বরং তারা এ ধরনের অবমাননাকর মিউজিক ভিডিওর প্রতিবাদ করছে।’ যাঁরা পক্ষে আছেন তাঁরা বলছেন, ট্রেনে লোকের সামনে সাজগোজের মতো আচরণ সুরুচির প্রকাশ নয়। বিরোধীরাও পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। একজন বলেছেন, পশ্চিমা দেশে জনসমক্ষে কোনো নারী সাজগোজ করলে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা করা হয়। কিন্তু ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথকে তো প্রায়ই দেখা যায় যে সবার সামনে লিপস্টিক বের করে ঠোঁটে দিচ্ছেন। তখন লোকে তো কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে না! বরং তিনি কোন ব্র্যান্ডের লিপস্টিক মাখছেন, সেটাই আলোচনা করে। দুই পক্ষে যখন এমন পাল্টাপাল্টি চলছে, তখন তোকু করপোরেশন জানিয়েছে, তারা এ রকম আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করতে যাচ্ছে। রেলযাত্রীদের আদবকায়দা শেখানোই তাদের উদ্দেশ্য। বাকি ভিডিওগুলোয় আছে, ট্রেনে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে কীভাবে অন্য যাত্রীরা বিরক্ত হন অথবা ভিড়ের মধ্যে ভারী ব্যাগ নিয়ে চলাফেরা করলে সহযাত্রীদের কতটা কষ্ট হয়—সেসব বিষয়ে লোকজনকে সচেতন করা। জাপানের বেসরকারি রেলওয়ে সমিতির জরিপ ও যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই ভিডিওগুলোর বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচন ভিন্ন রকম তাই মাঠে নেমেছি: মিশেল

নর্থ ক্যারোলাইনায় এক মঞ্চে হিলারি
ক্লিনটন ও মিশেল ওবামা। এএফপি
ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে প্রচার মঞ্চে উঠে তাঁর জন্য ভোট চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। মিশেল এতে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর আগে কোনো ফার্স্ট লেডি এতটা জড়িয়ে পড়েননি। কিন্তু এবারের নির্বাচন ‘একেবারে ভিন্ন ধরনের হওয়ায়’ তিনি মাঠে নেমেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত যৌথ প্রচারণায় মিশেল ওবামা এ কথা বলেন। মিশেল ওবামা ও হিলারির এই যৌথ প্রচারণা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এটি ছিল মিশেল ওবামা ও হিলারির প্রথম যৌথ নির্বাচনী সভা। ফার্স্ট লেডি হিসাবে মিশেল ওবামা এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর জনসমর্থনের পরিমাণ ৬২ শতাংশ (ওবামার ৫৭ শতাংশ)। হিলারির নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে ওবামা ও মিশেল উভয়েই নির্বাচনী অভিযানে জড়িয়ে পড়েছেন। সে জন্য অবশ্য তাঁরা দুজনেই রিপাবলিকানদের কাছে সমালোচিত হয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনার ভাষণে মিশেল ওবামা স্বীকার করেন, আগের কোনো ফার্স্ট লেডি প্রচারণায় এতটা জড়িয়ে পড়েননি। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এবারের নির্বাচন আগের অন্য কোনো নির্বাচনের সঙ্গে তুলনীয় নয়, আর সে কারণেই আমি মাঠে নেমেছি।’ ফার্স্টলেডি ও হিলারি ক্লিনটনের এ যৌথ প্রচারণার জন্য নর্থ ক্যারোলাইনাকে বিশেষভাবে বেছে নেওয়ার কারণ এই অঙ্গরাজ্যের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার কৃষ্ণকায় ও নারী। এখানে এই মুহূর্তে ট্রাম্পের তুলনায় হিলারি আড়াই পয়েন্টে এগিয়ে, তিনি এই সুবিধাজনক অবস্থা ধরে রাখতে চান। মিশেলের উপস্থিতি আফ্রিকান-আমেরিকান অর্থাৎ কৃষ্ণাঙ্গ ও নারী ভোটারদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করবে, হিলারি পক্ষ সেই আশা করছে।
 কোনো কোনো গ্রুপকে ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করতে ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরের তৎপরতার নিন্দা করেন মিশেল ওবামা। ব্লুমবার্গ বিজনেস উইক অজ্ঞাতনামা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভোট দেওয়া ঠেকাতে ট্রাম্প প্রচারণা শিবির নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ও উদারপন্থী শ্বেতকায় ভোটারদের মধ্যে বিশেষ প্রচারণা শুরু করেছে। হিলারি কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে যে কটু কথা বলেছেন, বিল ক্লিনটন ক্ষমতায় থাকার সময় নারীঘটিত যেসব কেলেঙ্কারি করেছেন এবং হিলারি উদারনৈতিক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকে পরাস্ত করতে যে সব ‘আপত্তিকর পথ’ অনুসরণ করেছেন, এই প্রচারণায় তার সবিস্তার বিবরণ থাকছে। নর্থ ক্যারোলাইনায় ফার্স্টলেডি ভোট ঠেকানোর এই তৎপরতার তীব্র নিন্দা করেন। ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘হিলারির প্রতিপক্ষ চায় আমরা যেন ভোট কেন্দ্র না যাই, সেটাই তাদের নির্বাচনী কৌশল। তাঁরা নোংরা ও কদর্য উপায়ে হিলারির বিজয় ঠেকাতে চায়।’ মিশেল বলেন, ‘এই দেশে ভোটাররাই ঠিক করে কে জিতবে, কে হারবে।’

শীতল যুদ্ধে ফিরতে চায় না ন্যাটো

জেনস স্টোলটেনবার্গ
রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ বলেছেন, ন্যাটো জোট আরেকটি শীতল যুদ্ধ চায় না। তারা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধে জড়াতে চায় না। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন স্টোলটেনবার্গ। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টোলটেনবার্গ বিবিসিকে বলেন, সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক অভিযান চালানো এবং সেখানে রণতরি পাঠানো নিয়ে পাশ্চাত্যের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা বাড়লেও তাঁরা দেশটিকে হুমকি হিসেবে দেখছেন না।
স্টোলটেনবার্গ বলেন, সংঘাতের উসকানি দেওয়ার জন্য নয়, বরং সংঘাত ঠেকানোর জন্যই ন্যাটো পূর্ব ইউরোপে অতিরিক্ত চার হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। ন্যাটোর মহাসচিব বুধবারই সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাশিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা তাদের জোটকে পূর্ব ইউরোপে সেনা সমাগম বাড়াতে বাধ্য করছে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে শীতল যুদ্ধ অবসানের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় নেমে এসেছে। যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্রদেশগুলো পূর্ব ইউরোপে সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতির আয়োজন করেছে। এমন পটভূমিতে ন্যাটোর পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এল। রাশিয়া ২০১৪ সালে প্রতিবেশী ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ নিজের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মস্কোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষ নিয়ে দেশটির বিদ্রোহীদের ওপর রাশিয়া সামরিক অভিযান শুরু করলে দুই পক্ষের উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়। সিরীয় বিদ্রোহীদের অনেককে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিচ্ছে।
সম্প্রতি রাশিয়া তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র সিরিয়ার উপকূলে স্থায়ী নৌঘাঁটি গড়ার ঘোষণা দেয়। রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরি ন্যাটো দেশ যুক্তরাজ্যের গা-ঘেঁষে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে সিরিয়ার দিকে রওনা হয়েছে। দিন কয়েক আগে রণতরিটি জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য ন্যাটো সদস্য স্পেনে ভিড়তে চেয়েছিল। তবে ওই রণতরি থেকে হামলা চালিয়ে সিরিয়ার বেসামরিক মানুষ মারা হতে পারে বলে ন্যাটো উদ্বেগ জানালে রাশিয়া জাহাজটি স্পেনে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বিবিসির প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদদাতা জনথন মার্কাসের মূল্যায়ন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাশিয়া মনে করছে, পশ্চিমারা তাদের দমিয়ে রাখতে চায়। সে কারণেই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছেন। এ কারণেই ন্যাটো উদ্বিগ্ন হয়ে রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে পোল্যান্ড এবং বাল্টিক অঞ্চলের তিন দেশ এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়ায় আগামী বছরের শুরুতে এক হাজার করে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়ার আশঙ্কা,
ক্রিমিয়ার মতো তাদেরও রাশিয়া আবার দখল করে নিতে পারে। আর পোল্যান্ডের মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে কালিনিনগ্রাদে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা স্থাপন করায় সে দেশটিও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ন্যাটোর প্রধান স্টোলটেনবার্গ বিবিসিকে বলেন, ন্যাটোর তৎপরতা রাশিয়ার সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর জন্য নয়। ন্যাটোকে সমন্বিত প্রতিরক্ষার স্বার্থেই এটি করতে হবে। তিনি বলেন, ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে আরও ‘সহযোগিতা ও গঠনমূলক সম্পর্ক’ গড়তে চায়। ন্যাটোর পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে, তাদের ধারণা রাশিয়া তার পশ্চিম সীমান্তে ৩ লাখ ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন রেখেছে। এদিকে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, শীতল যুদ্ধের পর থেকে পূর্ব ইউরোপে সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতির আয়োজন করছে পশ্চিমা দেশগুলো। যুক্তরাজ্য বলেছে, আগামী বছরের প্রথম চার মাসের মধ্যেই রোমানিয়ায় বিমানবাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হবে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালোন বলেছেন, এস্তোনিয়ায় তাঁরা ৮০০ সেনা পাঠাচ্ছেন।

আর মুখ খারাপ করব না: দুতার্তে

বেফাঁস কথাবার্তার জন্য সুপরিচিত ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে বলেছেন, তিনি ‘ঈশ্বরকে কথা দিয়েছেন’ আর কাউকে গালিগালাজ করবেন না বা অশিষ্ট ভাষায় কথা বলবেন না। জাপান সফর শেষে গতকাল শুক্রবার নিজ শহর দাভাওতে ফিরে দুতার্তে বলেন, ঈশ্বর এ বিষয়ে ‘চরমপত্র’ দেওয়ার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের বিমানবন্দরে নেমে দুতার্তে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিমানে হঠাৎ একটি কণ্ঠ শুনলাম, কণ্ঠটি আমাকে বলল, “গালিগালাজ বন্ধ কর, নইলে বিমান মাঝ আকাশেই ভেঙে পড়বে”;
এরপরই আমি গালমন্দ করব না বলে কসম করেছি।’ প্রেসিডেন্ট দুতার্তে বলেন, তিনি মনে করেন ঈশ্বরকে কথা দেওয়া মানে দেশের জনগণকেও কথা দেওয়া। তবে দুতার্তে এ-ও বলেন, কিছু বিষয়ে তাঁর এই প্রতিশ্রুতির সীমাবদ্ধতা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অথবা তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী লেইলা ডি লিমার বিষয়ে কথা বলার সময় এ প্রতিশ্রুতি রাখবেন কি না তা সেই সময়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। পশ্চিমা নেতাদের ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে প্রায়ই গালি দেওয়ায় দুতার্তে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তাঁর গালমন্দ ও কটুক্তির দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ও একাধিক কূটনীতিক; যাঁদের তিনি ‘...ছেলে’ বলে গালি দিয়েছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের ফিলিপাইন ছাড়ার আহ্বান, ইইউকে ‘ভণ্ড’ আখ্যা দেওয়া ও হিটলারের ইহুদি নিধনকে সমর্থন করেছেন তিনি। ফিলিপাইনের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রয়োজনে সম্পর্ক ছিন্ন করারও হুমকি তিনি দিয়েছেন। দুতার্তের লাগামহীন বাক্যবাণ নিয়ে জোর সমালোচনা হলেও সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, তিনি নিজ দেশে জনপ্রিয়তার তুঙ্গেই রয়েছেন।

হলিউডের পদপথে ট্রাম্পের ‘তারকা’ হামলার শিকার

হলিউডের বিখ্যাত ‘ওয়াক অব ফেম’-এ প্রায় আড়াই হাজার বিখ্যাত ব্যক্তির নামে তারকা খচিত আছে। এঁদের একজন হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প চলচ্চিত্রের কেউ না হলেও তাঁর জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘অ্যাপ্রেন্টিস’-এর জন্য সোনালি রং মাখা তারকাটি অর্জন করেন। গত বুধবার কে বা কারা সেই তারকাটি হাতুড়িজাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করেছে।
পরে সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে জানা গেছে, জেইমি অটিস নামের এক যুবকের কাজ এটি। জেইমি পুলিশকে বলেছেন, তিনিই কাজটি করেছেন এবং এর জন্য জেলে যেতেও প্রস্তুত। জেইমি একটি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা ছিল তারকাটি কেটে তুলে নিয়ে তা নিলামে তোলা। এ থেকে যে অর্থ উঠবে, তা ট্রাম্পের যৌন আগ্রাসনের শিকার নারীদের সাহায্যে ব্যবহার করা হবে। এই পদপথটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেসের চেম্বার অব কমার্স এক দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত তারকাটি মেরামত করে ফেলে। এর জন্য তাদের গচ্চা দিতে হয়েছে ২ হাজার ৫০০ ডলার।

র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার নিজামপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। র‍্যাবের ভাষ্য, নিহত তিনজন ডাকাত দলের সদস্য ​ছিল। তবে তাদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি র‍্যাব। র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) চন্দন দেবনাথ আজ শনিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন,
পাঁচ থেকে সাতজনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবর পেয়ে র‍্যাবের টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করে। এ সময় ডাকাতেরা গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে ডাকাত দলের তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ তিনজনকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। চন্দন দেবনাথ বলেন, ওই ঘটনায় র‍্যাবের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

কী বার্তা দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নতুন ও সাবেক সাধারণ
সম্পাদক হাতে হাত ধরে অভিনন্দনের জবাব দেন
একটি সুশৃঙ্খল, সফল ও আলোকসজ্জা–শোভিত সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এখন ফুরফুরে মেজাজে আছেন। আরও ফুরফুরে আছেন দলের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি প্রায় প্রতিদিনই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, সংবাদ সম্মেলন করছেন। বৃহস্পতিবার দুটি জাতীয় দৈনিকে তাঁর সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীেগর সাধারণ সম্পাদক দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নির্বাচন, জঙ্গিবাদ ইত্যাদির ওপর আলোকপাত করেছেন।
চলমান রাজনৈতিক সংকট সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না বললেও ওবায়দুল কাদের দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করার কথা বলেছেন। দলের হাইব্রিড নেতাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার কথা বললেও কীভাবে হাইব্রিড নেতারা দলে এলেন, তাঁদের বের করে দেওয়া হবে কি না, তা বলেননি তিনি। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগকে আরও গতিশীল করা এবং চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় জানানোর পাশাপাশি দলে যে কিছু সমস্যা আছে, তা–ও স্বীকার করেছেন। বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘বিএনপি কি আসলেই সংলাপ চায়? সংলাপ চাইলে তো তারা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিত। প্রধানমন্ত্রী টেলিফোন করে আমন্ত্রণ জানালেও বিএনপির চেয়ারপারসন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিএনপি এখনো গত নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার খেসারত দিচ্ছে। ৫০০ লোকের মিছিলও করতে পারছে না। তারা বিরোধী দলের সম্মানও হারিয়েছে। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে ভুলের চোরাবালিতেই আটকে থাকবে বিএনপি।’ (সমকাল, ২৭ অক্টোবর ২০১৬) যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নিই যে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাহলে এ কথাও বলতে হবে যে বিএনপির ভুল সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নির্বাচন, সংসদ ও গণতন্ত্র। বহু আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে এ দেশের মানুষ যে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা কীভাবে অপহৃত হলো? ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি আসেনি মানলাম। কিন্তু পরবর্তী উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন এবং প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে হওয়া পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তো তারা অংশ নিয়েছে। সেসব নির্বাচন কেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলো না? কেন মানুষ পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিতে পারল না?
আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক কি সেসবও বিএনপির ভুলের খেসারত বলে চালিয়ে দেবেন? ওবায়দুল কাদের ওই সাক্ষাৎকারে একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনও সর্বদলীয় সরকারের অধীনে হবে। যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়ে থাকে, ঠিক সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।’ আগামী নির্বাচন কমিশন সবার প্রত্যাশা পূরণ করে গ্রহণযোগ্য অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করবে বলে তিনি মনে করেন। (সাক্ষাৎকার, ওই)। বিএনপির দাবিও তো তা–ই। গত বুধবার এক সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচন যেই সরকারের অধীনে হোক না কেন, নির্বাচন কমিশন হতে হবে সব দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান মুসলিম লীগের নেতা ও জাতীয় পরিষদের সদস্য রানা আফজল খান বলেছেন, তাঁদের দেশে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সরকারি ও বিরোধী দল থেকে তিনটি করে নাম দেওয়া হয়। এর মধ্যে যে নামটি মিলে যায়, তাঁকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পাকিস্তানের উদাহরণে অনেকে ভ্রু কুঁচকাতে পারেন। কিন্তু স্বীকার করতে হবে, ওখানে সব দল মিলে একটি নির্বাচন করতে পেরেছে। আমরা পারিনি। অপর সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘আমাদের প্রথম টার্গেট আগামী নির্বাচন। পরবর্তী টার্গেট রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন। অর্থাৎ উন্নত ও মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা। ...এই মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ আমাদের প্রধান বিপদ। প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে তারা ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি যে নিচ্ছে না, এ কথা বলার উপায় নেই।
এ বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’ (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৭ অক্টোবর ২০১৬) তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবেন না। জঙ্গিবাদ যে দেশের প্রধান বিপদ, সে সম্পর্কে মানুষ সজাগ। বরং সরকারের ঘুমটা ভেঙেছে হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির পর। আগে ভাঙলে হয়তো আরও অনেক অঘটন থেকে দেশ রেহাই পেত। তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল, আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বের কাছে বিএনপি প্রত্যাশা করছে, তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে এবং নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে; আপনি কী বলবেন? জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্র ও নির্বাচন সবই আছে। একটা গণতান্ত্রিক দল দীর্ঘদিন সরকারের বাইরে আছে। সরকারের বাইরে থেকে বিরোধী দলের যে দায়িত্ব, তা যদি যথাযথভাবে পালন করে এবং গত নির্বাচনের মতো নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতি যদি তারা না ঘটায়, তাহলে দেশে স্বস্তি আসবে। ...যেসব ঘটনা দেশকে পিছিয়ে দেয়, গণতন্ত্রকে রক্তাক্ত করে, দেশের স্থিতিকে রক্তাক্ত করে, সেসব ঘটনা না ঘটিয়ে তারা জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন করুক। জনমত গড়ে তুলুক। বিরোধী দল বা বিরোধী পক্ষ শক্তিশালী হলে সরকার আরও শক্তিশালী হয়।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের সঙ্গেও আমরা একমত। গণতন্ত্রকে রক্তাক্ত করা কিংবা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করা কোনো দায়িত্বশীল দলের কাজ হতে পারে না। অতীতে বিএনপি আন্দোলনের নামে জ্বালাও–পোড়াও করলেও এখন তাদের একমাত্র দাবি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। এমনকি সরাসরি না বললেও আওয়ামী লীগের নেতারা যে হরদম বলে বেড়াচ্ছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগেও নির্বাচন দেবেন না,
সেটিও তাঁরা মেনে নিয়েছেন। পরের প্রশ্ন ছিল, বিএনপি আপনাদের স্বাগত জানিয়েছে—বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমাদের মতের বিভেদ থাকতে পারে। তবে রাজনীতিতে সৌজন্য হারিয়ে যাবে, এটা ঠিক না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা কাজের পরিবেশ থাকা ভালো। তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোরও স্বাস্থ্য ভালো থাকে। বিএনপি স্বাগত জানিয়েছে, আমিও তাদের শুভেচ্ছা জানাই।’ কিন্তু উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করলাম, তাঁর এই উপলব্ধিই এক দিন পরই পাল্টে যায়। পরদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিলেন। এর মাধ্যমে কী বার্তা দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? তিনি অরাজকতার পুরো দায় যেমন বিএনপির ওপর চাপালেন, আবার বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের ওপরও চাপাতে পারেন। কিন্তু সংকট উত্তরণের উপায়টা কী? ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির কাজ এখন প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছে’ কিংবা ‘তারা ৫০০ লোককে নিয়ে মিছিলও করতে পারে না’। সত্যিই কি বিএনপি ৫০০ লোককে নিয়ে মিছিল করার সামর্থ্য হারিয়েছে? সেটা হলে তো আওয়ামী লীগের উচিত বিএনপির মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন করে জনপ্রিয়তা যাচাই করা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রে বোমাসন্ত্রাস যেমন কাঙ্ক্ষিত নয়, তেমনি বাঞ্ছিত নয় কোনো দলকে ঘরে আটকে রাখাও। বিএনপির কোনো নেতা বা কর্মী যদি অতীতে বা বর্তমানে সন্ত্রাসী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে থাকেন, সরকারের দায়িত্ব তাঁকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা; উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া। কিন্তু সব শীর্ষ নেতাকে হুকুমের আসামি করে দৌড়ের ওপর রেখে ক্ষমতার বাহাদুরি দেখানো যেতে পারে, তাতে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না।
এতে বরং আন্দোলনের নামে যাঁরা জ্বালাও-পোড়াও করেছেন, তাঁদের ছাড় পাওয়ার আশঙ্কা থাকবে; ইতিমধ্যে অনেকে ছাড় পেয়েও গেছেন। সম্প্রতি সিলেটে ছাত্রলীগের এক নেতার হাতে খাদিজা নামের এক কলেজশিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতারা জোরেশোরে বলতে থাকলেন, ‘অপরাধীদের কোনো দল নেই। অপরাধ যে–ই করুক না কেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে।’ একই যুক্তি কেন বিএনপির নেতা-কর্মীদের বেলায় প্রযোজ্য হবে না। তবে ওই সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের দলের নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে যে আত্মসমালোচনামূলক বক্তব্য রেখেছেন, সে জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। কেননা, আমাদের কোনো দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাই দলীয় কর্মীদের দোষ স্বীকার করেন না। সবকিছুর জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, ‘দলকে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা আমাদের অন্যতম কাজ। উন্নয়ন আর আচরণকে একই ধারায় বহমান করা দরকার। উন্নয়ন যতই হোক না কেন, আচরণ খারাপ করলে উন্নয়ন ম্লান হয়ে যায়। আবার ভোটের রাজনীতিতেও এর প্রভাব আছে। এখন থেকেই এ কাজটি আমাদের করতে হবে।’ এর মাধ্যমে তিনি অন্তত দলীয় শৃঙ্খলা ও কর্মীদের আচরণগত সমস্যাটি অনুধাবন করেছেন বলে ধারণা করি; রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা গণমাধ্যমের অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেননি। সম্প্রতি দলের দুজন সাংগঠনিক সম্পাদকও ব্যক্তিগত আলাপে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আচরণগত সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেছেন, কেবল উন্নয়ন দিয়ে নির্বাচনে জেতা যায় না; নির্বাচনে জিততে হলে আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও নেতাদের আচরণ ও ভাষাভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। আর নেতারা পরিবর্তন না হলে কর্মীদের কাছে সেটি আশা করাও অবান্তর। আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই দল ও দেশের পার্থক্যটি বোঝেন না। তাঁরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ মানেই দেশ। অর্থাৎ, দেশকে ভালোবাসলে সবাইকে আওয়ামী লীগারই হতে হবে। তাঁরা ভুলে যান যে দেশের কোনো জনগোষ্ঠী বা শ্রেণির মানুষকে বাদ দিয়েও একটি দল গঠিত হতে পারে, কিন্তু দেশটি হয় সবাইকে নিয়ে। যদি কোনো দল ধরেই নেয় যে তারাই একমাত্র দেশপ্রেমিক এবং তাদের বাইরে যারা আছে, তারা সব দেশবিরোধী; তাহলে দেশ, সমাজ ও গণতন্ত্র এক অনিরামেয় ব্যাধির শিকার হতে বাধ্য।
আমরা কি সেদিকেই যাচ্ছি?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রে কী হবে?

এবারের মার্কিন নির্বাচন দুটি কারণে বিশিষ্ট। প্রথম কারণটি হচ্ছে, এর প্রচারণায় ভব্যতা-সভ্যতার অভাব দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, দুই প্রার্থীর মধ্যকার পার্থক্য: একদিকে ক্ষমতাকাঠামোর বিরোধী ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে আছেন মার্জিত হিলারি ক্লিনটন। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় মার্কিন সমাজের এক গভীর ত্রুটি বেরিয়ে এসেছে। এতে দেশটির বৈশ্বিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। মার্কিনরা এ ব্যাপারে একমত, প্রচারণা-পর্ব অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে। মার্কিন নাগরিকেরা সাধারণত কোনো বিষয়ে একমত হন না, তার মধ্যে এই একটি বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন। কিন্তু শিগগিরই এটা শেষ হয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে: এরপর কী হবে?
জরিপে দেখা যাচ্ছে, সাবেক সিনেটর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিতর্কিত প্রার্থী ট্রাম্পকে পরাজিত করবেন। কিন্তু জরিপকে বাস্তবতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। কারণ, জুনে ব্রিটেনের ব্রেক্সিট গণভোটের আগেও মানুষ ধারণা করেছিল, ব্রিটেন ‘থেকে যাওয়ার’ পক্ষেই ভোট দেবে। আরও সম্প্রতি কলম্বিয়ার ভোটাররা দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের এক শান্তিচুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। অথচ ধারণা ছিল, এই শান্তিচুক্তি জনপ্রিয়তা পাবে। এত কিছু বলার লক্ষ্য হলো, হিলারি ক্লিনটনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ব্যাপারটা নিশ্চিত নয়। শুধু ৮ নভেম্বরের ভোটেই জানা যাবে, কে জয়ী। তার আগ পর্যন্ত আমরা শুধু সন্দেহ করতে পারি। তা সত্ত্বেও মানুষ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পারে। এ ব্যাপারে তেমন সন্দেহ নেই যে এই নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র বিভক্ত হয়ে যাবে, যার সরকারেরও পরিণতি একই হবে, তা সে যেই প্রেসিডেন্ট হোক বা যে পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাক না কেন। কথা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিক কেউই নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না, যদি না তারা একে অপরকে কিছু সাহায্য করে। কিন্তু কারও এটা ভাবা ঠিক নয়, মার্কিন রাজনীতি শুধু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবিরেই বিভক্ত। বস্তুত, এই দুই দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনও দ্বিদলীয় বিবাদের মতোই গভীর। দুই দলের মধ্যেই বড় ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ একটি গোষ্ঠী আছে, যারা দলকে একটি চরম জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যকার চরমপন্থী অংশটি দলকে বামপন্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, আর রিপাবলিকানদের চরমপন্থী অংশটি দলকে চরম ডানপন্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে তাদের পক্ষে একটা মধ্যপন্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে ওঠে। এদিকে নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনীতি দ্রুত শুরু হয়ে গেলে আপস-মীমাংসা করা কঠিন হয়ে যাবে। যদি হিলারি ক্লিনটন জেতেন, তাহলে হয়তো দেখা যাবে, রিপাবলিকানরা মনে করবে, শুধু ট্রাম্পের ভুলের কারণেই এমনটা হয়েছে। তারা ভাববে, হিলারি সম্ভবত একবারের জন্যই প্রেসিডেন্ট হবেন। তারা ভাববে, যে দেশটি পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে, সে দেশ পরপর চারবার ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট রাখবে না। অনেক রিপাবলিকান (বিশেষ করে, যাঁরা তাঁর বিজয়ের বৈধতা মানতে চাইবেন না) হয়তো তাঁর প্রশাসনকে হতাশ করার চেষ্টা করবেন, যাতে তিনি ২০২০ সালে সফলতাপ্রাপ্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবারও নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারেন। একইভাবে যদি ট্রাম্প জিততে পারেন, তাহলে অধিকাংশ ডেমোক্র্যাটই (সঙ্গে অনেক রিপাবলিকানও থাকবেন) এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন, যাতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ না পান। তখন এটাই হবে তাঁদের প্রধান কাজ। কথা হচ্ছে, ট্রাম্পের নীতিপ্রণেতাদের কাছে তাঁর অনেক অ্যাজেন্ডাই আপত্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাঁর আমলে শাসন পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে যাবে। উভয় ক্ষেত্রেই আবার কিছু বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে। দেশটির আগামী সরকার হয়তো আইন করে সেখানকার পুরোনো অবকাঠামোগত নবায়নে অর্থায়ন করতে পারে। উভয় প্রার্থী ও কংগ্রেসের অনেক সদস্যই এটা পছন্দ করবেন। আবার দেশটির রাজস্ব–ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পক্ষেও হয়তো কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যেতে পারে: করপোরেশনের উচ্চ কর হার কমিয়ে সম্পদশালী ব্যক্তিদের কর বাড়ানো। এমনকি স্বাস্থ্য খাতেও কিছু সংস্কার আনা যেতে পারে, যেটা ছিল বারাক ওবামার মূল অর্জন।
যদিও বিদ্যমান ব্যবস্থায় এর বাস্তবায়ন কঠিন ছিল। আর অন্য যেসব বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজন হবে, সেগুলো শিগগিরই আমলে নেওয়া হচ্ছে না, সম্ভবত এর একটি হচ্ছে অভিবাসন–ব্যবস্থার সংস্কার। এটা যেমন যুক্তরাষ্ট্রে খুবই বিতর্কিত ব্যাপার, তেমনি ইউরোপেও। আরেকটি হচ্ছে বাণিজ্য। কারণ, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে নীতিপ্রণেতারা এমন অবস্থান নিতে ভয় পান, যার কট্টর বিরোধী গোষ্ঠী সৃষ্টি হতে পারে। কথা হচ্ছে, ট্রাম্প ও হিলারি উভয়েই ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপের বিরোধী, যদিও যুক্তরাষ্ট্র তা অনুসমর্থন করলে তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা হবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতি ও ঋণ উভয়ই বাড়তে পারে, কারণ তার অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় কমানোর তেমন ইচ্ছা নেই। তবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির। কারণ, মার্কিন সংবিধান অনুসারে তাদের প্রেসিডেন্টের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি অনুসমর্থন করা বা যুদ্ধ ঘোষণার অধিকার কংগ্রেসের। কিন্তু প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়াও সামরিক বলপ্রয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট চুক্তি ব্যতীত আন্তর্জাতিক মতৈক্য, হোয়াইট হাউসের ক্ষমতাধর কর্মী নিয়োগ ও নির্বাহী ক্ষমতার বলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বদলে দিতে পারেন। সম্প্রতি কিউবার বেলায় ওবামা যেটা করেছেন। হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হলে এই বিশেষাধিকার প্রয়োগের ফলাফল এমন হতে পারে: সিরিয়ায় এক বা একাধিক নিরাপদ এলাকা প্রতিষ্ঠা করা, ইউক্রেনকে আরও আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ। তবে নির্বাচিত হলে ট্রাম্প কী করতে পারেন, তা ধারণা করা আরও কঠিন। তারপরও ধারণা করা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু প্রথাগত মিত্রের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনবে, আর মধ্যপ্রাচ্য থেকে দূরে থাকবে। নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রে কী হবে, প্রশ্ন হিসেবে তা উন্মুক্ত প্রকৃতির, যদিও কিছু ধারণা করা যায়। কিন্তু একটি কথাই শুধু নিশ্চিত করে বলা যায়: বিশ্বের ৯৬ শতাংশ মানুষ এ নির্বাচনে ভোট না দিলেও মার্কিন নাগরিকদের মতো তারাও এর প্রভাব অনুভব করবে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট।
রিচার্ড এন হাস: কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রেসিডেন্ট।