Tuesday, February 18, 2025

রাহুলের আপত্তি উপেক্ষা করেই অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ জ্ঞানেশকে সিইসি নিয়োগ

আপত্তি করেছিলেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য নতুন কমিটি গঠনের বিরুদ্ধে আনা সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি ১৯ ফেব্রুয়ারি। সামনে কোনো নির্বাচনও নেই। অতএব তাড়াহুড়া না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নিয়োগ স্থগিত রাখা হোক। সেই আপত্তি আমলে না নিয়েই গতকাল সোমবার রাতে দেশের নতুন সিইসি হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের নাম ঘোষণা হলো।

জ্ঞানেশ কুমার তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সদস্য ছিলেন। আজ মঙ্গলবার থেকে অবসরে যাচ্ছেন সিইসি রাজীব কুমার। জ্ঞানেশ তাঁর স্থালাভিষিক্ত হবেন। জ্ঞানেশের ছেড়ে যাওয়া নির্বাচন কমিশনারের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিবেক যোশীকে।

এত কাল নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিত তিন সদস্যের কমিটি। প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার বিরোধী নেতার সঙ্গে সেই কমিটির তৃতীয় সদস্য ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কেন্দ্রীয় সরকার সেই নিয়ম বদলে কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেয়। সেখানে অন্তর্ভুক্ত হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আরেক শীর্ষ সদস্য। বর্তমানে সেই সদস্য হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

গতকাল বৈঠকের শুরুতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে রাহুল বলেন, সামনে কোনো নির্বাচন নেই। নিয়োগ কমিটি–সংক্রান্ত মামলাও সুপ্রিম কোর্টে উঠছে ১৯ ফেব্রুয়ারি। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাক। কারণ, তিন সদস্যের কমিটির দুজনেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কাজেই সরকারি সিদ্ধান্ত একতরফাই হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তা অগ্রাহ্য করে গতকাল রাতেই জ্ঞানেশ ও বিবেকের নিয়োগ ঘোষণা করেন।

জ্ঞানেশ কুমার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসভাজন। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা, অর্থাৎ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার ও রাজ্যকে দ্বিখণ্ডিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রধান। জম্মু কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের খসড়াও তাঁর হাতে তৈরি। অযোধ্যা মামলা ও পরবর্তীকালে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের সময়ও জ্ঞানেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

জ্ঞানেশ কুমার সিইসি পদে বহাল থাকবেন ২০২৯ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। মনে করা হচ্ছে, ওই বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঘোষণা তিনি থাকতে থাকতেই করে যাবেন। এই বছরের শেষ দিকে রয়েছে বিহার বিধানসভার ভোট। পরের বছর বিরোধীশাসিত পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও তামিলনাড়ু ছাড়া রয়েছে বিজেপিশাসিত আসাম রাজ্যের ভোট। তাঁর কার্যকালের মধ্যে মোট ২০টি বিধানসভার ভোট ছাড়াও তিনি পরিচালনা করবেন ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

বিদায়ী সিইসি রাজীব কুমারের সময়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে ঘৃণা ভাষণসহ আদর্শ নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। একটি ক্ষেত্রেও কমিশন ওই দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির ভূরি ভূরি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ইভিএমে কারচুপিরও অভিযোগ এসেছিল। কোনো অভিযোগই তিনি আমলে নেননি। স্বীকার করেননি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে রাজীব কুমার বলেছিলেন, অবসর নেওয়ার পরে তিনি হিমালয়ের গভীরে চলে যাবেন। সেখানে নির্জনে আত্মবিশ্লেষণ করবেন। শরীরের বিষক্ষয় (ডিটক্সিফাই) করবেন।

সস্ত্রীক ভারতের নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার
সস্ত্রীক ভারতের নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার। ছবি: এএনআই

এবার হোঁচট খেলে আর উঠে দাঁড়াতে পারব না: উপদেষ্টা মাহফুজ

দেশের মানুষ বারবার ভুল করেছে, বারবার হোঁচট খেয়েছে। এবার হোঁচট খেলে আর উঠে দাঁড়ানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘১৯৪৭ সালে রক্ত দিয়ে পাকিস্তান আনার পর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ পেয়েছি। গ্রামেগঞ্জে সর্বত্রই যুদ্ধ হয়েছে। সেই যুদ্ধের পরও আমরা স্বাধীন হতে পারিনি। এরপর ১৯৯০ ঘটেছে। সবশেষ ২০২৪। ফলে বারবার ভুল করছি, বারবার হোঁচট খাচ্ছি। এবার হোঁচট খেলে আর উঠে দাঁড়াতে পারব না।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে তারুণ্যের উৎসব ২০২৫–এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। দেশজুড়ে আয়োজিত উৎসবের ধারাবাহিকতায় ঢাকায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার পিআইবি চত্বরে আলোকচিত্র, গ্রাফিতি ও ভিডিও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

মাহফুজ আলম বলেন, এবারের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ যখন বুড়ো হয়ে যাবে, তখন তারা আসলে এই রাষ্ট্রকে গড়ে তোলার আর সুযোগ পাবে না। ফলে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া গেছে, সেটিকে কাছে লাগাতে হবে। ব্যক্তি রাষ্ট্র এবং সমাজকে পুনর্গঠিত করতে হবে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে বৈশ্বিকভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ বারবার আশাহত হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার ও সংস্কারের কাজ তাঁরা এগিয়ে নিচ্ছেন। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘যতটুকু সময় পাব, সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সেই সময়ের মধ্যে তরুণদের আশা–আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা চলছে।’

ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়নি—এমন প্রবাদের কথা উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, তবে হাসিনা তাঁর বাবার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। শেখ মুজিবুর রহমান যেসব কাজ করে যেতে পারেননি, নিপীড়নের মাধ্যমে সেই কাজগুলো হাসিনা চালিয়ে গেছেন। ১৯৭২ সালে যেভাবে নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, একই পদ্ধতিতে হাসিনাও মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন।

দেশে ফ্যাসিবাদের গোড়াপত্তন মুজিব করেছিলেন বলে মন্তব্য করে মাহফুজ আলম বলেন, মুজিব রক্ষীবাহিনী দিয়ে নির্যাতন চালিয়েছেন। আর হাসিনা পুলিশকে রক্ষীবাহিনী বানিয়েছেন, বিজিবিকে সীমান্ত থেকে এনে রক্ষীবাহিনীতে পরিণত করেছিলেন। সেনাবাহিনীকেও হাসিনা দূষিত করে গেছেন।

হাসিনার ফ্যাসিবাদে দলীয় গুন্ডাদের পাশাপাশি পুলিশও ছিল উল্লেখ করে মাহফুজ বলেন, মৌলবাদ ও জঙ্গি বলে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে সেটির ন্যায্যতা দিয়েছেন হাসিনা। এখন ফ্যাসিস্টদের অবশিষ্ট অংশ উৎখাত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে সারা দেশে মেয়েরা ২ হাজার ৯০০ ম্যাচ খেলেছে। এটা নিয়ে প্রতিবেদন হয়নি। একটি খেলা বন্ধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছর আমরা কেউ নামলাম না। আমাদের অপেক্ষা করতে হলো কিছু নাহিদের জন্য, আসিফদের জন্য। কিছু মাহফুজদের জন্য। হাসিনার মতো ভয়ংকর স্বৈরাচারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বুড়োরা। বারবার বড় বড় মিছিল হয়েছে নয়া পল্টনে বা ঢাকাজুড়ে। আমরা কেউ দাঁড়াতে পারিনি। একদিন হঠাৎ তরুণেরা বলল, আমরা দাঁড়াব, এরপর দেখেন কী পরিবর্তন এল। ওরা (আওয়ামী লীগ) কিছু করতে পারেনি। দেখেন, তার পুরো পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার ইজ ওভার। যে ভয়ানক ম্যাসাকার (গণহত্যা) করেছে, এটাকে জাতিসংঘ বলেছে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।’

প্রেস সচিব বলেন, ‘আপনি যখন ১ হাজার ৪০০ লোক মারবেন, যার ১৩ শতাংশ শিশু, সেখানে তো সবাই মানবতাবিরোধী অপরাধ বলবেই। তিনি চলে গেছেন, তাঁর দল এখন দেখেন। তাঁরা বলেন, তাঁরা নাকি হরতাল করছেন। আমি হরতালের তো কিছুই দেখিনি। তরুণেরা নতুন করে বাংলাদেশ নির্মাণ করবে, তাতে আমরা সবাই একীভূত হব।’

বক্তব্য দিতে গিয়ে মূর্ছা গেলেন বিবি আয়েশা

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শাকিলের মা–ও এসেছিলেন তারুণ্যের এই উৎসবে। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্যায়ে বক্তব্য শুরুর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তিনি দাঁড়ানো অবস্থা থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছে।

এর আগে বিবি আয়েশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেকে খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করাইছি। দেশের মা–বোনের নিরাপত্তার জন্য আমার ছেলে আন্দোলন করতে নেমেছিল। ছেলে হত্যার বিচার সরকারের কাছে চাই। যারা ছাত্রদের গুলি করার হুকুম দিছে, তাদের বিচার চাই।’

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তারা ধ্বংস করে গেছে। তরুণদের নেতৃত্বে জাতি ১৫ বছরের কালো অধ্যায় পার করতে পেরেছে।’

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উপলক্ষে প্রামাণ্য চিত্র ও চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। পিআইবি মিলনায়তন, ঢাকা। ১৮ ফেব্রুয়ারি
উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উপলক্ষে প্রামাণ্য চিত্র ও চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। পিআইবি মিলনায়তন, ঢাকা। ১৮ ফেব্রুয়ারি। ছবি : পিআইবি ফেসবুকে পেজ

‘একটা ধর্মকে বিক্রি করে খাচ্ছেন’, বিজেপিকে তোপ মমতার by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য

বিধানসভায় জবাবি ভাষণে বিজেপিকে একহাত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, বিজেপি বিধায়করা একটি ধর্মকে বিক্রি করে খাচ্ছেন। রাজ্যের শাসকদলকে তা করতে হয় না। তারা সব ধর্মকে নিয়ে চলতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীসহ ৪ বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিধানসভার বারান্দার সিঁড়িতে ধরনায় বসেন শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপির বিধায়করা। তখন বিধানসভার ভিতরে চাঁচাছোলা ভাষায় বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ শানান মমতা। বিধানসভায় জবাবি ভাষণে নাম না করে শুভেন্দুকে আক্রমণ করেন  মুখ্যমন্ত্রী । মমতা বলেন, আমি নাকি হিন্দু ধর্মকে তাছিল্য করে, মুসলিম ধর্মকে তোষণ  করি। যিনি হিন্দু ধর্মের কথা বলছেন তিনি জানেন  না আমি ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে। এই বয়সে এসে এই সব শুনতে হচ্ছে। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি করিনি। কোনও দিন জাত-ধর্ম নিয়ে কথা বলি না। ভোট এলেই বিবেকানন্দর বাড়ি যায় বিজেপি। বিবেকানন্দর বাড়ি ওরা দখল করে রেখেছে। আমরা ধর্ম বেচে খাই না।

স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে কাগজ ছুঁড়ে একমাসের জন্য বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন শুভেন্দুসহ ৪ বিজেপি বিধায়ক। এরপর রাজ্য সরকারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ এবং সাসপেনশনের কারণ নিয়ে মিথ্যাচার করায় বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিসও দেওয়া হয়েছে।এর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ বয়কট করে বিজেপি। সিঁড়িতে ধরনা দেয় তারা। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, “ওঁরা আমাকে ফেস করতে পারে না। তাই আমি যখন বলতে আসি ওঁরা চলে যায়।” শুভেন্দু অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্য সরকার আদপে মুসলিমের সরকার। হিন্দু ধর্মের হয়ে বলতে গিয়ে তাঁকে সাসপেন্ড হতে হয়েছে। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ উড়িয়ে পালটা তোপ দাগেন মমতা। বলেন, 'বারবার আমায় অসম্মান করতে দেব না। লক্ষ্মণরেখা যদি ভাঙবার চেষ্টা করেন তাহলে জবাব দেওয়ার অধিকার আমার আছে।” বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন রাজ্যে হিন্দু ধর্মের জন্য কী কী করেছেন? “স্বামীজির বাড়ি দখল হয়ে যাচ্ছিল। নিবেদিতার বাড়ি দখল রুখেছি। এগুলো কোন ধর্মের? উত্তর আছে বন্ধুরা?' গঙ্গাসাগর মেলায় কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়েও সরব হন তিনি। মমতার চ্যালেঞ্জ, “আমায় মুসলিম লীগ বলছেন? আপনারা তো নির্বাচনের সময় সাহায্য নেন মুসলিম লীগের। সব সত্যি  ফাঁস করব?”

mzamin


ইলন মাস্ক: খ্যাপাটে ব্যবসায়ী থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডান হাত’ by প্রতীক বর্ধন

টাইম ম্যাগাজিনের সর্বশেষ প্রচ্ছদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে বিশেষ ক্ষমতা পাওয়া ইলন মাস্ককে দেখা গেছে। লাল রঙে আচ্ছাদিত প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে, ইলন মাস্ক হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্টের রেজল্যুট ডেস্কের পেছনে বসে আছেন, হাতে কফির পেয়ালা।

এই ছবি যেন ভবিষ্যতের কথা বলে। হতে পারে, বিশ্বের একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর দিকে হাঁটছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইলন মাস্কের ফোনালাপ হয়েছে। এই ঘটনায় ইলন মাস্ক সম্পর্কে বাংলাদেশিদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

বাস্তবতা হলো, ইলন মাস্ক এখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডান হাত। তাঁর পরিচয় এখন আর নিছক ব্যবসায়ীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদী ও বিশ্বায়নবিরোধী যে ধারার রাজনীতি শুরু হয়েছে, ইলন মাস্ক হয়তো তার ভবিষ্যৎ কান্ডারি।

ট্রাম্প প্রশাসন এই ধনকুবের ইলন মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সিতে (ডিওজিই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বসিয়েছেন। এ দপ্তরকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসা শুরুর ২৫ বছরে সেরা ধনী

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ইলন মাস্ক। তাঁর ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব বিস্মিত করার মতো। স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ইলন মাস্ক। এখন বিল গেটস, স্টিভ জবসসহ অন্যদের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। ২৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২০ সাল থেকেই তিনি শীর্ষ পাঁচ ধনীর মধ্যে আছেন। তাঁর বর্তমান সম্পদমূল্য ৩৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ৩৯ হাজার ৪২০ কোটি ডলার। সেই সঙ্গে নিজের খেয়ালি আচরণের জন্যও তিনি বিখ্যাত।

টেসলাসহ ইলন মাস্ক মোট সাতটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। টেসলার ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক কোম্পানি এক্সএআইয়ের ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি।

১৯৯৫ সালে ইলন মাস্ক ও তাঁর ছোট ভাই কিম্বল মাস্ক জিপ ২ নামে একটি কোম্পানি শুরু করেন। জিপ ২ সংবাদপত্রের কাছে লাইসেন্সযুক্ত সফটওয়্যার সরবরাহ করত। ১৯৯৯ সালে কমপ্যাক কম্পিউটার করপোরেশনের কাছে ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ডলারে জিপ ২ বিক্রি করে দেন মাস্ক। এ ঘটনা মাস্কের জন্য নতুন সম্ভাবনা খুলে দেয় এবং তিনি এক্স. কম শুরু করেন।

হ্যারিস ফ্রিকার, এড হো ও ক্রিস্টোফার পেইনের সঙ্গে ইলন মাস্ক এক্স. কম প্রতিষ্ঠা করেন। এটা ছিল অনলাইন ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে তা কনফিনিটি ইনকরপোরেটেডের সঙ্গে একীভূত হয়। এক্স. কম ও কনফিনিটি ইনকরপোটেডে এক হয়ে পেপালের জন্ম হয়। পেপাল অনলাইন পেমেন্টের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। কিন্তু কনফিনিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েলসহ মাস্ক ও অংশীদারেরা ২০০২ সালে ই-বেতে বিক্রি করে দেন। পেপালকে একপর্যায়ে ১৯৯৯ সালের ‘সবচেয়ে বাজে ব্যবসায়িক আইডিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ২০০০ সালে হানিমুনে থাকাকালীন মাস্ককে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পেপাল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ইলন মাস্ক ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে দৃষ্টি দেন। ২০০৩ সালে তিনি কোম্পানিটি চালু করেন। টেসলা মোটরসের মূল লক্ষ্য ছিল অটোমোটিভ শিল্পকে জ্বালানি ব্যবহার থেকে বের করে বিদ্যুৎনির্ভর করে তোলা। ২০০৮ সাল থেকে ইলন মাস্ক টেসলার সিইও। টেসলার মডেল-৩ বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ি। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ এই মডেলের গাড়ি বিক্রি হয়েছে।

ইলন মাস্কের আরেকটি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেটের জন্য পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানের রকেট ডিজাইনের জন্য মার্কিন বিমানবাহিনী ও নাসার সঙ্গে বড় চুক্তি হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে মাস্ক নাসার সহায়তায় মহাকাশে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। গত ২০ বছরে স্পেসএক্স রকেট উৎক্ষেপণের ব্যর্থতা ও স্টারশিপ বিস্ফোরণের ঘটনা মোকাবিলা করেছে। স্পেসএক্সের নাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।

২০০৬ সালে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে মিলে মাস্ক সৌরশক্তিভিত্তিক কোম্পানি সোলারসিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানে মাস্ক প্রধান অর্থদাতা। গত দশকে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আবাসিক সোলার কোম্পানি হয়ে ওঠে এটি। মাস্ক টেসলার মাধ্যমে ২০১৬ সালে সোলারসিটিকে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ২৬০ কোটি স্টকের বিনিময়ে কিনে নেন।

২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কেনার উদ্যোগ নেন ইলন মাস্ক। পরে দীর্ঘ ছয় মাস নানা নাটকীয়তার শেষে টুইটারের নিয়ন্ত্রণ নেন ইলন মাস্ক। এ ছাড়া মাস্ক ২০১৫ সালে অলাভজনক কোম্পানি ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সালে তিনি নিউরালিংক ও বোরিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

ইলন মাস্ক সামগ্রিকভাবে একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। উদ্যোক্তাদের জন্য তাঁর পরামর্শ, সফলতার শর্টকাট রাস্তা নেই। সফল হতে পরিশ্রম করতে হবে ও নিজের লক্ষ্য অটুট থাকতে হবে।

কোথায় কোথায় বিনিয়োগ

ইলন মাস্ক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছেন, তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কানাডা, জার্মানি ও ফ্রান্স। টেসলা, স্পেসএক্স, নিউরালিঙ্ক ও বোরিংয়ের মতো তাঁর প্রধান কোম্পানিগুলোর মূল কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবেও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। টেসলার একটি বিশাল কারখানা আছে চীনে, যা কোম্পানিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারখানা। চীনের বাজারে টেসলার চাহিদা ব্যাপক, তাই মাস্ক এই বাজারে আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছেন। এ ছাড়া জার্মানির গ্রুয়েনহাইডে টেসলার একটি নতুন ‘গিগাফ্যাক্টরি’ রয়েছে, যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করা হয়। মাস্ক জার্মানির বাজারেও বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছেন। পিতৃভূমি কানাডায় তিনি বিনিয়োগ করেছেন। মাস্ক ফ্রান্সের কিছু প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায়নি।

অগ্রগামী চিন্তক: বৈদ্যুতিক গাড়ির স্বপ্ন দেখান

প্রায় আড়াই দশক আগেই ইলন মাস্ক ইন্টারনেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করতে পেরেছিলেন। ১৯৯৮ সালে সিবিএস সানডে মর্নিং অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ককে ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তাঁর উত্তর ছিল এমন: এটি হবে বিপ্লবী মাধ্যম; একসময় সব প্রচলিত মাধ্যমই ইন্টারনেটে ঢুকে যাবে। তিনি আরও বলেছিলেন, ইন্টারনেট সব মাধ্যমের যোগফল। এটি হবে যোগাযোগমাধ্যমের সর্বশেষ রূপ। মুদ্রিত, সম্প্রচার ও রেডিও—সবই ইন্টারনেটে মিশে যাবে। এটি প্রথম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন দ্বিমুখী যোগাযোগমাধ্যম, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজের ইচ্ছেমতো কনটেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন।

তখন মাস্কের কথা অনেকের কাছে প্রলাপের মতো মনে হলেও শেষমেশ তা-ই সত্য হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্টার লিংক এখন সারা বিশ্বে উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইলন মাস্কের ফোনালাপ হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয়। এই ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র অন্বেষণ এবং বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ নিয়ে স্টারলিংক আগ্রহ দেখিয়েছেন।

মাস্কের অগ্রগামী চিন্তার আরেকটি দিক হলো বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবসা। ২০০৩ সালেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যৎ যুগ হবে বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগ। সে কারণে টেসলা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তাঁর টেসলা এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি জনপ্রিয় করার পথ দেখাচ্ছে।
অনেক বিশ্লেষকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের হাত ধরে যে নতুন জমানা আসছে, ইলন মাস্ক হতে পারেন তার ভবিষ্যৎ কান্ডারি। তাঁর সঙ্গে আছেন বিবেক রামাস্বামীর মতো তরুণ ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী। এই মানুষেরা চিন্তায় আগের যুগের ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকানদের মতো নয়। তাঁরা হবেন নতুন ধারার পথিকৃৎ।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র

ইলন মাস্ক ১৯৭১ সালের ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই–বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা ছিলেন প্রকৌশলী, তাঁর মা মডেল ও পুষ্টিবিদ। তাঁর ভাই কিম্বল মাস্ক পরিবেশবাদী ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট এবং বোন টোসকা মাস্ক পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক ও প্রযোজক।

ইলন মাস্ক স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় এক বছর আগে স্কুলজীবন শুরু করেন। তাঁর স্কুলজীবন শুরু হয় ওয়াটারক্লুফ হাউস প্রিপারেটরিতে। সেখান থেকে পরে প্রিটোরিয়া বয়েজ হাইস্কুলে যান। ইলন মাস্কের বয়স যখন ১০ বছর, তখন তার মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। অনেক মেধাবী হলেও স্কুলে তাঁকে বেশ কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল। আফ্রিকান সংস্কৃতির খুব কম বন্ধু আছে। বড় হয়েও তিনি অনেক প্রতিকূলতার মুখে পড়েন। তবে তিনি মনে করতেন, জীবনে বড় হতে হলে প্রতিকূলতা আসবেই।

হাইস্কুল জীবন শেষে ইলন মাস্ক পদার্থবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে আগ্রহী হন। তিনি কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে দুই বছর পড়াশোনা করেন। এই দুই বছর পর পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। সেখানে তিনি দুটি মেজর বিষয়ে ডিগ্রি নেন। ইলন মাস্ক পেনসিলভানিয়ার ওয়ার্টন স্কুল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি অর্থনীতিতে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেন। এই দুটি ডিগ্রি ইলনের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় আগ্রহ বেশি

ইলন মাস্ক তিনবার বিয়ে করেছেন; এ ছাড়া বিভিন্ন সময় আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাঁর মোট সন্তান ১২টি। তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন লেখক জাস্টিন উইলসন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে পাঁচ সন্তান আছে। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০০৮ সালে। এরপর তিনি দুবার অভিনেত্রী তালুলাহ রাইলিকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের দুবারই বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে তিনি কারও সঙ্গে সংসার করছেন না। তাঁর তৃতীয় স্ত্রী কানাডীয় সংগীতশিল্পী গ্রাইমসের ঘরের সন্তানের নাম এক্স, যাকে এখন ইলন মাস্কের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময়ে এক্স উপস্থিত ছিলেন। যা সারা বিশ্বে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

তবে ইলন মাস্কের বিলাস-ব্যসন নিয়ে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে রক সংগীতের প্রতি ইলন মাস্কের দুর্বলতা আছে। মাঝেমধ্যেই টুইটারে তাঁকে পছন্দের গানের কিছু অংশ পোস্ট করতে দেখা যায়। চলচ্চিত্র দেখতেও ভালোবাসেন টেসলার এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সায়েন্স ফিকশন ঘরানার চলচ্চিত্র তাঁর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। বইও পড়েন তিনি। ইলন মাস্কের প্রিয় লেখকের তালিকা বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে জে আর আর টলকিন, ডগলাস অ্যাডামস, নিল গেইম্যানের মতো বিখ্যাত লেখকেরা রয়েছেন।

কাজপাগল মানুষ হিসেবে ইলন মাস্কের বেশ পরিচিতি আছে। টেসলার পাশাপাশি স্পেসএক্সসহ নিজের অন্য সংস্থাগুলোতেও তিনি সমান সময় দেন। ঘুমানোর জন্য খুব কম সময় পান বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। মহাকাশ ভ্রমণ, বই পড়া, চলচ্চিত্র দেখা, গান শোনা ও প্রযুক্তিবিষয়ক নতুন কিছু করার চেষ্টাই হলো ইলন মাস্কের প্রধান শখ। নতুন কিছু তৈরি করার ক্ষেত্রে তিনি সব সময় বেশ আগ্রহী।

ইলন মাস্ক বিভিন্ন সময় ভালো লাগা ও মন্দ লাগার কথা জানিয়েছেন। তাঁর অনেক বিষয় পছন্দ হলেও অপছন্দ করেন এমন জিনিসের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। তাঁর অপছন্দগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মিথ্যা কথা বলা ও অতিরিক্ত সমালোচনা করা। কোনো কাজ ফেলে রাখাকেও তিনি অপছন্দ করেন।

সূত্র: ফোর্বস, টাইম ম্যাগাজিন, দ্য ইকোনমিস্ট

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন। মাস্ক রয়টার্স ফাইল ছবি

গাজা যুদ্ধ: এতিম শিশুর দায়িত্ব নিলেন ২৩ বছরের নিঃসন্তান দম্পতি

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসযজ্ঞের ভেতরেও কিছু মানুষ আশার আলো ছড়াচ্ছেন। তারা সেই শিশুদের আগলে নিচ্ছেন, যারা এক মুহূর্তেই মা-বাবা, পরিবার- সব হারিয়েছে।

এই ভয়াবহ যুদ্ধের শিকার হয়ে হাজারো শিশু এখন অনাথ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ডুবে আছে। কিন্তু মানবিক হৃদয়ের কিছু মানুষ এসব শিশুকে নতুন জীবন দিতে এগিয়ে এসেছেন।

রামি ও আবির আরোকি, এক দম্পতি যারা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নিঃসন্তান ছিলেন। বহু বছর ধরে সন্তান নেওয়ার আশা করেও সফল হননি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে পাওয়া এক এতিম শিশুই তাদের স্বপ্ন পূরণ করল।

একদিন তাদের এক পরিচিত নার্স জানান, হাসপাতালে মাত্র দুই মাস বয়সী শিশু আছে, যে একাই বেঁচে গেছে, কিন্তু তার মা-বাবার কোনো খোঁজ নেই। ইসরায়েলি হামলা তার পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।

শিশুটির জন্য কেউ নেই- এই খবর শোনার পর রামি ও আবির সিদ্ধান্ত নেন, তারা শিশুটিকে দত্তক নেবেন। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে তারা শিশুটিকে গ্রহণ করেন এবং নাম রাখেন জান্নাত।

রামি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জান্নাত শুধু আমাদের দত্তক নেওয়া সন্তান নয়, সে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার।

এতিম শিশু নিয়ে আরও একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে উপত্যকার আল-শিফা হাসপাতালে। ৩৪ বছর বয়সী নার্স আমাল ইসমাইল হাসপাতালে কাজ করার সময় দেখতে পান, ৩০টি নবজাতক যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশুর কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই।

শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য মিসরে পাঠানোর কথা ওঠে, কিন্তু বাবা-মা ছাড়া তাকে কেউ নিতে রাজি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৫০ জন লোক শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ দেখান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালক নার্স ইসমাইলকেই দায়িত্ব দেন। তিনি শিশুটির নাম রাখেন মালাক, যার অর্থ ‘পরী’। কারণ হাসপাতালের সবাই শিশুটিকে ‘অজ্ঞাত’ বলে ডাকছিল।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে ১৭ হাজারেরও বেশি শিশু এতিম হয়ে গেছে। যুদ্ধে হারানো এই শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেছে। অনেক শিশু না খেয়ে আছে, চিকিৎসা পাচ্ছে না, ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই শিশুদের নতুন করে আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের মানসিক ও শারীরিক যত্ন নেওয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকটের মধ্যে রামি-আবির, আমাল ইসমাইলের মতো মানুষরা এগিয়ে এসে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

গাজা উপত্যকার প্রতিটি ধ্বংসস্তূপ, প্রতিটি আশ্রয়শিবির আজ এতিম শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে। শিশুদের খেলাধুলার সময়, শিক্ষার সময়, কিন্তু তাদের দিন কাটছে ভয়, ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।

বিশ্ব নেতাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় অনুরোধ- এই শিশুদের রক্ষা করতে হবে, তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে হবে। গাজার হাজার হাজার শিশুর জন্য একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।

এই যুদ্ধ থামাতে হবে, কারণ শিশুরা কখনোই যুদ্ধের পক্ষ নেয় না, কিন্তু তারাই সবচেয়ে বেশি শিকার হয়।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

রামি ও তার স্ত্রী ইমান দত্তক নেওয়া শিশু জান্নাতের সঙ্গে। ছবি : সংগৃহীত।
রামি ও তার স্ত্রী ইমান দত্তক নেওয়া শিশু জান্নাতের সঙ্গে। ছবি : সংগৃহীত।



জয়শঙ্করের সতর্কবার্তা: আগামী দু’বছরের মধ্যে বড় কিছু আসছে, যা বিশ্বকে বদলে দেবে

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, আগামী দু’বছরের মধ্যে এমন অনেক কিছু আসছে, যা বিশ্বকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই ডনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে কট্টর অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। সেদিকে ইঙ্গিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারত মহাসাগর সম্মেলনের সংলাপ-পর্বে আমেরিকা তথা পশ্চিম বিশ্বকে নিয়ে বাকি দুনিয়াকে সতর্ক করেছেন। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে যে যে ঘটনা ঘটছে, তাতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ত্রাসের সঞ্চার হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হাতে অগাধ ক্ষমতা এবং ‘বড় কিছু ঘটতে’ চলেছে।

তিনি মনে করেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে এমন অনেক কিছু আসছে, যা বিশ্বকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এত বিপুল ক্ষমতা এবং আগামী দিনে তার প্রভাব এতটাই বাড়বে যে, হয়তো দু’বছরের আগেই আপনারা এমন সব নীতি দেখতে পাবেন, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে। আমাদের দিকে খুব বড় কিছু আসছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শ, আবেগতাড়িত না হয়ে পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা উচিত সমস্ত দেশের।

তার মতে,আবেগতাড়িত না হয়ে এবং পুরনো অভ্যাসকে আঁকড়ে না থেকে পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা চাই, বা না চাই পরিবর্তন যে আসছে  এটা সকলকে বুঝতে হবে। এই বদলের কিছু অংশ নিশ্চয়ই আমাদের কাজে আসবে। তার থেকে সুযোগ খুঁজে নিতে হবে।

পশ্চিমা দুনিয়ার একাধিপত্য নিয়েও সরব হয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি খানিকটা কড়া সুরে বলেছেন, আমাদের যে সমস্ত বিষয় নিয়ে বুঝতে হচ্ছে, তার অন্যতম হল পশ্চিমা বিশ্বের একাধিপত্য। কিন্তু সেই একাধিপত্য জারি করা হচ্ছে মানবাধিকার এবং মূল্যবোধের মোড়কে। আমাদের এখন বলার সময় এসেছে, তোমরা যে পথে চলেছ, তাতে তোমাদের সুবিধা হতে পারে। কিন্তু সবার জন্যই রাস্তা এক নয়।

mzamin


রাজনৈতিক ঐক্যের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঐক্যের নজির খুব বেশি নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রতি একধরনের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক ঐক্যের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে লিখেছেন সৈয়দা লাসনা কবীর, এস কে তৌফিক হকমোহাম্মাদ ঈসা ইবন বেলাল

বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঐক্যের ইতিহাস বরাবরই দুর্লভ। ঐক্যের অভাবে দেশ বিভিন্ন সময়ে গভীর সংকটে আবর্তিত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর সমাধানে একমত হতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ’৭১-এর স্বাধীনতা কিংবা ’৯০–এর গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, জনগণের প্রতি প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে রাজনৈতিক দলগুলো বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মাত্র একবারই বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্য প্রচেষ্টার নজির পাওয়া যায়, যা ঘটেছিল ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়। সে সময় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল যে স্বৈরাচার এরশাদকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে সেই ঐক্যের বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে এবং গণতন্ত্র কতটা সুসংহত হয়েছে, তা আজও বিতর্কের বিষয়।

তিন জোটের রূপরেখার ব্যর্থ পরিণতি

১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো যে রূপরেখা তৈরি করেছিল, তা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।

১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট এবং বামপন্থীদের সমন্বয়ে গঠিত পাঁচদলীয় জোট একত্র হয়ে আন্দোলনে সক্রিয় হয়। জামায়াতে ইসলামীও পৃথকভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

এদিন তিনটি জোট পৃথক সমাবেশ থেকে একই সময়ে একটি রূপরেখা ঘোষণা করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে একটি সার্বভৌম সংসদ গঠন করা এবং প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

আন্দোলনের ফলে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তবে পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে নির্মূল করার রাজনীতিতে লিপ্ত হয়।

রূপরেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল, ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা ও একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ওঠে, যার ফলে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সামনে আসে। ১৯৯৬ সালে সংবিধানে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংসদীয় শাসনব্যবস্থা কার্যকর করা এবং সংসদকে শক্তিশালী করা ছিল রূপরেখার অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয় এবং বিরোধী দল সংসদ বর্জন করতে শুরু করে। এর ফলে সংসদ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে, যা গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংসদ কার্যত ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের একটি মঞ্চে পরিণত হয়।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ এবং মৌলিক অধিকারবিরোধী আইন বাতিল করা। কিন্তু ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও তারা এ দাবির বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই এমন কিছু আইন প্রণয়ন করেছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন দমনমূলক আইনের মাধ্যমে জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা হরণ করা হয় এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী রূপ আরও সুস্পষ্ট হয়।

ছাত্রদের ১০ দফার প্রতি অবহেলা

১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এই ছাত্র আন্দোলনই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে গতি দেয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে।

ছাত্রদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন ক্রমে স্বৈরাচার পতনের পথে এগিয়ে যায় এবং ১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করে। তাদের সংস্কারের দফায় সমাজ, অর্থনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা—এ রকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরে দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রদের এ দাবিগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবায়ন করেনি; বরং রাজনৈতিক স্বার্থে তা উপেক্ষা করেছে।

ছাত্রদের ১০ দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক হবে। তারা চেয়েছিল, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বাংলা ভাষা প্রধান মাধ্যম হবে, তবে পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষাও চালু রাখা যেতে পারে। কিন্তু এ দাবির বাস্তবায়ন হয়নি; বরং শিক্ষাব্যবস্থা আরও বৈষম্যমূলক হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ জনগণের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও মর্যাদা প্রদান করা। কিন্তু এ দাবিও উপেক্ষিত হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলমান থেকেছে। ক্ষমতাসীন দলগুলোর ছত্রচ্ছায়ায়, বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও গুম, খুনের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছাত্ররা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিও তুলেছিল। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলো এ দাবির প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন থেকেছে। দুর্নীতি আরও গভীরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এবং সরকারি সংস্থাগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমনকি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই স্বৈরাচার এরশাদ ও তাঁর দল জাতীয় পার্টিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং কাছে টানার চেষ্টা করেছে, যা ছাত্রদের নৈতিক অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।

ছাত্রদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে এই স্বাধীনতা কখনোই অর্জিত হয়নি; বরং বিগত আওয়ামী শাসনামলে তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং যেসব সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সরকারের সমর্থনমূলক সংবাদ প্রচার করেনি, তাদের হয়রানি, জেল ও আইনের অপব্যবহার করে দমন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন সব সময় সমতা ও বৈষম্যহীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০—প্রতিটি গণ–আন্দোলনে ছাত্ররা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রদের এসব সংস্কার প্রস্তাবকে বরারবই উপেক্ষা করে গেছে। এর ফলে সময়ে–সময়ে ছাত্রদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয়েছে।

তবে এবার সবাই আশা করছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

রাজনৈতিক ঐক্যের সম্ভাব্য ধাপগুলো

যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঐক্যের নজির খুব বেশি নেই, তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রতি একধরনের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। সক্রিয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই বুঝতে পারছে যে যদি তারা ঐক্যবদ্ধ না থাকে এবং দেশ পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ না করে, তাহলে দেশ আবারও স্বৈরাচারের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য চারটি ধাপে কাজ করা যেতে পারে।

প্রথম ধাপে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যেসব সংস্কার সরকার কেবল সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে কার্যকর করতে পারে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যদিকে সংস্কারের যেসব প্রস্তাবের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি থাকবে, সেগুলো সংস্কার প্রস্তাব থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি সম্মিলিত রূপরেখা প্রণয়ন করা যেতে পারে। এই রূপরেখায় সব সক্রিয় রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরসহ সম্মতিপত্র সংযুক্ত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে দলীয় মতবিরোধ এড়িয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। জাতীয় নির্বাচনের পর দলীয় সরকার পার্লামেন্টে বিল পাসের মাধ্যমে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারে।

তৃতীয় ধাপে যেসব সুপারিশ রাজনৈতিক দলগুলো পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেনি অথবা যেসব বিষয়ে আংশিক ঐকমত্য ও আংশিক মতভেদ রয়েছে, সেগুলোকে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরও গবেষণা, বিচার-বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যেতে পারে।

সংস্কারের চতুর্থ ধাপ হতে পারে গণভোট। সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ বাকি সংস্কার কমিশনগুলোও বেশ কিছু সুপারিশ প্রদান করেছে, যার বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন অনিবার্য। যেহেতু জাতীয় সংসদ বর্তমানে কার্যকর নয়, তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে একটি গণভোটের আয়োজন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে জনগণের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন অনুমোদন করা সম্ভব হবে। এটা সংস্কারপ্রক্রিয়াকে বিলম্বিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সংবিধান সংশোধনের অভাবে সংস্কার বাস্তবায়নে বাধাপ্রাপ্ত হবে না।

এই চার ধাপে সংস্কারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি ঐক্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা ও জাতীয় পুনর্গঠনের জন্য সহায়ক হতে পারে।

আশঙ্কা ও সম্ভাবনা

এত কিছুর পরও এবারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে কিছু আশঙ্কা থেকেই যায়। কেননা ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজনৈতিক দলগুলো যে সংস্কার প্রস্তাব নিজেরাই নির্ধারণ করেছিল, পরবর্তী সময়ে তারা সেই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বিভিন্ন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলো স্মরণে রাখবে কি না বা বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলো যদি শুধু ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ ও ভবিষ্যৎ স্বার্থ রক্ষার চিন্তা থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় যায়, তাহলে সংস্কারের বিষয়টি গৌণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কারণ, এই সংস্কারগুলোর বেশির ভাগই রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাবিত হয়েছে, যেন ভবিষ্যতে কেউ আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে।

তবে আশার দিকও রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে সংস্কারের প্রতি দলটির সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সংস্কারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু একটি চূড়ান্ত প্রশ্ন থেকে যায়—নির্বাচনের পর এই দলগুলো আদৌ এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করবে কি না?

তাই এ আশঙ্কা দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের দাবি ও সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সত্যিকার অর্থে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে, তাহলে তারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে দলীয় স্বার্থ নয়; বরং দেশপ্রেম, জনসেবা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থা নির্মূল করাই হওয়া উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর মূল লক্ষ্য। 

# সৈয়দা লাসনা কবীর অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

# এস কে তৌফিক হক প্রফেসর ও ডিরেক্টর, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

# মোহাম্মাদ ঈসা ইবন বেলাল গবেষণা সহযোগী, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজনৈতিক ঐক্যের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সম্পর্কে কি আধিপত্য থাকতে পারে by রাফিয়া আলম

দুটি মানুষের মনের মিল যতই থাক, শতভাগ বিষয়ে সহমত হওয়া প্রায় অসম্ভব এক ব্যাপার। অনেকেই নিজের ভাবনা চাপিয়ে দিতে চান অপরজনের ওপর, বিশেষ করে নিজের জীবনসঙ্গীর বেলায়। কেউ যদি সঙ্গীর ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন, তাহলে কি সম্পর্কটাকে সুস্থ বলা যায়? ভালো লাগা এবং ভালোবাসার ভিত্তির ওপর যে সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে, আদতে কি তাতে আধিপত্য থাকতে পারে?

পারিবারিক এবং সামাজিক পরিসরে প্রত্যেকেরই অবস্থান এবং দায়িত্ব আলাদা। সেই অবস্থান থেকেই একজন ব্যক্তি তাঁর জীবনসঙ্গীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভাবেন। সঙ্গীর খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, ঘুমের সময়সহ বহু বিষয় নিয়েই তাঁর কিছু বলার থাকতে পারে। পারিবারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও দুজনের ভাবনা দুই রকম হতে পারে। এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেকে সঙ্গীর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেন। মতের ভিন্নতা নিয়ে তো আলাপ করা যেতেই পারে। কিন্তু কথার ধরনের ওপরই নির্ভর করছে, সম্পর্কটা কেমন। এ প্রসঙ্গে বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী এবং পিএইচডি গবেষক হাজেরা খাতুন।

যদি হয় মতের অমিল

ধরুন, আপনার সঙ্গীকে নির্দিষ্ট কোনো রঙের পোশাকে দেখতে ইচ্ছা করে আপনার। কিন্তু রঙটা আপনার সঙ্গীর আবার অপছন্দ। এমন পরিস্থিতিতে আপনার ইচ্ছার প্রকাশ কিন্তু সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারেন তাঁর কাছে। আপনার অনুরোধে হয়তো তিনি কখনো ওই রঙের পোশাক পরবেন। কিংবা হয়তো কখনোই পরবেন না। এটি তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। যদি না-ই পরেন, আপনার অভিমান হওয়াও আবার অস্বাভাবিক নয়। তবে এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আধিপত্যমূলক আচরণ করা ঠিক নয়। নিজের ইচ্ছা তাঁর ওপর চাপিয়ে দেবেন না। বহু বিষয়েই কিন্তু দুজনের ভাবনার অমিল থাকতে পারে। সেসব নিয়ে আলাপও হতে পারে। তবে সবক্ষেত্রেই একে অন্যের ভাবনা এবং ইচ্ছাকে সম্মান করা জরুরি। সম্মানবোধ থাকলে আধিপত্যের প্রশ্ন আসে না।

আধিপত্যে সমাধান নয়

সামাজিক কারণেই অনেক ক্ষেত্রে পুরুষেরা নানা বিষয়ে আধিপত্য বিস্তার করেন সঙ্গীর ওপর। তবে উল্টোটাও দেখা যায় অনেক পরিবারে। দুটির কোনোটিই স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক নয় বলে জানালেন হাজেরা খাতুন। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রতি জোর দিলেন তিনি। কারও ওপর আধিপত্য দেখানো হলে তাঁর হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। বঞ্চনার অনুভূতি কাজ করতে পারে ভেতরে ভেতরে। নিজেকে পরাধীন মনে করতে পারেন। নেতিবাচক অনুভূতির চক্রে ঘুরপাক খেতে পারেন। অন্যদিকে, যিনি আধিপত্য বিস্তার করেন, তিনিও কিন্তু সম্পর্কের মধুরতা থেকে বঞ্চিত হতে থাকেন। অর্থাৎ সম্পর্কটা দুজনের কারও জন্যই সুখকর থাকে না। এমনকি ধীরে ধীরে সম্পর্কটা বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। তা ছাড়া তৃতীয় কারও সামনে আধিপত্য দেখালে সঙ্গী হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারেন।

কথার ধরন হোক বন্ধুত্বময়

যেকোনো বিষয়ে যদি আপনার জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা আপনার সঙ্গীর চেয়ে বেশি থাকে, সেটির ভালোমন্দ দিক আপনি সঙ্গীকে বলতেই পারেন। কিংবা ধরা যাক, সঙ্গী কোনো বিষয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। হয়তো তিনি কম ঘুমিয়ে বেশি কাজ করছেন কিংবা হুট করে কঠিন খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করে ওজন কমাতে চাইছেন। ওই বিষয়ে হয়তো তাঁর এবং আপনার একই রকম জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা আছে। তবে তারপরও আপনি সঙ্গীর জন্য বাড়তি শঙ্কা অনুভব করছেন। অর্থাৎ সব ভাবনাই আপনার ভেতর কাজ করছে কেবল আপনার সঙ্গীর ভালোর জন্য। সেটিও আপনি তাঁকে নিঃসন্দেহেই বলতে পারেন। তবে যে পরিস্থিতিতেই সঙ্গীকে আপনার ভিন্ন মতের কথা বলুন না কেন, আপনার কথা এবং আচরণে প্রকাশ করুন ভালোবাসা। এমনভাবে কখনোই কিছু বলবেন না, যাতে আপনার একক আধিপত্য প্রকাশ হয়। বরং একজন যোগ্য সঙ্গী হিসেবে বন্ধুত্বময় কথার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করুন নিজেকে।

বহু বিষয়েই কিন্তু দুজনের ভাবনার অমিল থাকতে পারে, সেসব নিয়ে আলাপও হতে পারে
বহু বিষয়েই কিন্তু দুজনের ভাবনার অমিল থাকতে পারে, সেসব নিয়ে আলাপও হতে পারে। মডেল: সুস্মি ও রেহান। প্রতীকী ছবি: প্রথম আলো

২৪ ঘণ্টা পরই আবুধাবিতে ফাঁসি উত্তরপ্রদেশের শাহজাদির

দুবাই থেকে আসা একটি ফোনে শ্মশানের নিস্তব্ধতা উত্তরপ্রদেশের বান্দা গয়রা মুলগি গ্রামে। দুবাইয়ের আবু ধাবি জেল থেকে বাবা-মায়ের কাছে ফোন এসেছিল ৩৩ বছর বয়সী শাহজাদির। কাঁদতে কাঁদতে সে জানায়, জানি না আর তোমাদের সঙ্গে কথা হবে কি-না, আমাকে এখন অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা হবে। হয়তো আর তোমাদের ফোন করতে পারব না, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না।

উত্তরপ্রদেশের মুলগি গ্রামে থাকতেন শাহজাদি। ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে মুখ ও শরীরের বেশ কিছুটা অংশ পুড়ে যায়। সেনিয়েই চলছিল লড়াই। ২০২০ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় আগরার যুবক উজেরের সঙ্গে আলাপ হয় শাহজাদির। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর সেই সম্পর্ক গড়ায় ভালোবাসায়। উজের শাহজাদিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, বিয়ে করে তাকে যথাযথ চিকিৎসা করাবেন। সব রকমভাবে ভালো রাখবেন। সুখের সংসার হবে দুজনের। ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন শাহজাদি।

কিন্তু অভিযোগ, ২০২১ সালে আগ্রায় পালিয়ে যাওয়ার পরই তাকে নিজের আসল রূপ দেখায় উজের। নিজের আত্মীয় ফৈজ ও নাদিয়ার কাছে তাকে বিক্রি করে দেয় সে। এরপর ওই দম্পতি শাহজাদিকে নিয়ে চলে যায় আবুধাবি। সেখানেই ফৈজ ও নাদিয়ার বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন শাহজাদি। তাদের সন্তানের দেখভাল করতেন। এভাবেই মরুদেশে কোনও রকমে জীবন কাটছিল শাহজাদির। কিন্তু একদিন তার জীবনে চরম বিপদ নেমে আসে। হঠাৎই মৃত্যু হয় ওই দম্পতির চার মাসের শিশুর। যার দায় গিয়ে পড়ে শাহজাদির ওপর। সন্তানের মৃত্যুর জন্য তাকে কাঠগড়ায় তোলে ওই দম্পতি। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত করে আবুধাবির পুলিশ গ্রেপ্তার করে শাহজাদিকে। ফাঁসির সাজা দেন আদালত।

এরপর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে আবুধাবির আদালতে শাহজাদি দাবি করেন, চিকিৎসার গাফিলতির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। যদিও আদালত তা মানেননি। শাহজাদিকে মিথ্যা অভিযোগের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দুবাইয়ের আদালত।

ফোনে কাতর কণ্ঠে পুরো বিষয় খুলে বলেন শাহজাদি, যা শোনার পর থেকেই কান্না থামছে না শাহজাদির বাবা-মায়ের। শাহজাদির বাবা, মা এখন ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের কাছে দুবাইয়ে তাদের মেয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও পাঠিয়েছেন। তবে চিন্তা একটাই, তাদের হাতে সময় বড্ড কম।

সূত্র: ফ্রি প্রেস জার্নাল

mzamin


শিক্ষার জঞ্জাল ঘোচাতেই নাভিশ্বাস by পিয়াস সরকার

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়মই নিয়ম হয়ে ওঠা শিক্ষা খাতের জঞ্জাল সারাতে এখন গলদঘর্ম অবস্থা অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা প্রশাসনের। একের পর এক দাবি নিয়ে শিক্ষা খাতের কর্মীদের আন্দোলন থামাতে ব্যতিব্যস্ত কর্মকর্তারা। যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়ার পর সামনে নতুন দাবি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো খাত নিয়ে মহাপরিকল্পনা বা সংস্কার পরিকল্পনা নেয়া ছাড়া এই সমস্যা উতরানো যাবে না। শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রথম চিত্র দেখা গেছে সরকার পতনের পর প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক মব। দলীয় প্রশাসন ও দলীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ অনেকটা মবে পরিণত হয়েছিল। এই মব পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গড়ে উঠেছে অনিয়মের আখড়া। সনদ বিক্রি, যত্রতত্র প্রতিষ্ঠান করে বাণিজ্য করার সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। আর এই সিন্ডিকেটেই ধস নামে শিক্ষা ব্যবস্থায়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রধান চ্যালেঞ্জ সামনে আসে পাঠ্য বইয়ের সংস্কার। দ্রুত সময়ে এই সংস্কার এবং পরিবর্তন করতে গিয়ে নানা বিপত্তিতে পড়ে প্রশাসন। সংস্কার করতে গিয়ে বছরের প্রায় দুই মাস পার হলেও এখনো অনেক শিক্ষার্থী হাতে বই পায়নি।

এ ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি ও অন্যান্য পদে নিয়োগের বিষয়ও চ্যালেঞ্জ হয়ে আসে। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই ভিসি ও অন্যান্য পদে আনতে হয়েছে পরিবর্তন। এসব পদে নিরপেক্ষ লোক খুঁজে পেতে নাভিশ্বাস অবস্থা তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পুরোদমে আওয়ামী লীগের প্রশাসন তৈরি করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কিছুটা গতি আসা শুরু হলেও একের পর এক আন্দোলন সামনে আসছে। যা ছিল গত ছয় মাসের নিয়মিত চিত্র। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে। তারা আন্দোলন করেছেন বেশ কয়েকদিন। সভা-সমাবেশ করার পাশাপাশি অবরোধ করেছিলেন সড়ক। কয়েক বছর ধরে এই আন্দোলন চললেও গুরুত্ব দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের চাকরিপ্রত্যাশীরা এখনো রয়েছেন সড়কে। যদিও এই সংকট তৈরি হয়েছে গত ৬ই ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ে নিয়োগ বাতিলের প্রেক্ষিতে। এই নিয়োগপ্রত্যাশীরা কয়েকবার অবরুদ্ধ করেন শাহবাগ। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়।
স্বতন্ত্র এবতেদায়ী শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবি দীর্ঘদিনের। বেশ কয়েক বছর ধরেই তারা আন্দোলন করে আসছেন। সরকার কোণঠাসা করে রেখেছিল মাদ্রাসাগুলোকে। একাধিকবার করেছিলেন কর্মসূচি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এসবে গুরুত্ব দেয়নি, করেনি সমাধান। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই শিক্ষকরা ফের আসেন সড়কে। তাদের উঠিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই বেসরকারি বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিপ্রথা চালুর জন্য আন্দোলন করেছিলেন শিক্ষকরা। বছরের পর বছর ধরে চলা সেই আন্দোলনে শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেছে তৎকালীন প্রশাসন। কিন্তু ইতিবাচক মনোভাব থাকায় এক মাসের মধ্যে এই বদলিপ্রথার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করেছেন জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা। তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শতভাগ উৎসব ভাতা, সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা প্রদানের আশ্বাস দেয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। একইসঙ্গে আজ ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়াও এই সময়ে আন্দোলন হয়েছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)’র ঝুলে থাকা বিসিএস’সহ অন্যান্য পরীক্ষা দ্রুত নেয়ার দাবিতে। এ ছাড়াও নন-ক্যাডার নিয়ে অসন্তোষও দূর করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)’তেও হয়েছে নানান আন্দোলন। শীর্ষ পদে এসেছে পরিবর্তন। আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগীদের হটাতেও হয়েছে আন্দোলন। এ ছাড়াও বৃহদাকার ধারণ করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ নিয়ে। অপরিকল্পিত, অপরিকপক্ব সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অধিভুক্ত করা হয়েছিল সাত কলেজকে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল নিয়মিত ঘটনা। অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেন। ঘোষণা দেন এই ঐতিহ্যবাহী সাত কলেজ নিয়ে হবে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের প্রক্রিয়া ঠিককরণে প্রক্রিয়া নিয়েও মহাবিপাকে সরকার।

এসব নানান আন্দোলন নিয়ে ভয়েই আছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, ভয়ে থাকি কখন কোথায় কোন আন্দোলন শুরু হয়। আমরা এসেছি সংস্কারের জন্য। কিন্তু বিভিন্ন পক্ষের জমে থাকা ক্ষোভ, না পাওয়ার বিষয় নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। আমরা সংস্কার নিয়ে ভাবার সময়টাও পাচ্ছি না। তিনি যুক্ত করেন, শিক্ষায় এত বিস্তর দুর্নীতি হয়েছে যেসব বিষয়ে সমাধানে আসাও দুরূহ।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, বিগত সরকারের নৈরাজ্য ছিল তারই প্রভাব এটা। শিক্ষা খাতের কাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছিল বিগত সরকার। যার কারণে বর্তমান সরকারকে চাপ দিয়ে দাবি আদায়ের একটা চেষ্টা চলছে। সরকারের বল প্রয়োগের যে অনীহা আছে সেটার কারণেই এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই অযৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে কঠোর হওয়া উচিত। আগস্টের পর এইচএসসিতে অটোপাসটা মানবিক কারণে মেনে নিলো তখন সবার কাছে বার্তা চলে গেল তাদের কাছে আন্দোলন করলে দাবি মানানো যায়। এখন উচিত স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসা।

mzamin
শাহবাগে নিয়োগপ্রত্যাশী প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের অবস্থান ছবি: জীবন আহমেদ

বিএনপিকে ঠেকাতে ছাত্রদের দল তৈরির পেছনে কি জামায়াত -আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

সরকারের বৃহত্তম সমর্থক দল বিএনপির নেতৃত্ব প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গিয়ে চলতি বছর শেষের আগেই নির্বাচনের দাবি জানানোর পরে হঠাৎই সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনীতি।

আন্দোলনকারী ছাত্ররা নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার বিষয়ে নীরবতা ভেঙেছে। উপদেষ্টা তথা কোটা-বিরোধী আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম সরকার থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন দলটির প্রধান বা সমন্বয়ক হতে চলেছেন। তবে ওই দলের দু'নম্বর পদ সদস্যসচিব কে হবেন, তা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি। সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও প্রস্তুতি সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটির দুই নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আখতার হোসেনের নাম এই পদের জন্য উঠছে। সুতরাং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম এখন ছাত্রদের পক্ষে সরকারে থাকছেন। এই মাসেই নতুন দলের নাম ঘোষণা হলে তথ্য ও সম্প্রচারসহ একাধিক উপদেষ্টার পদ ছেড়ে নতুন দলের হাল ধরবেন। সজীব ও মাহফুজ ইস্তফা দিয়ে দলের দায়িত্ব নেবেন কয়েক মাস পরে।

তবে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এই দল কীভাবে নির্বাচনে অবতীর্ণ হতে পারবে, পারলেও কী তার ফলাফল হতে পারে-এসব প্রশ্ন রয়েছেই। তবে নতুন এই দল গঠনে জামায়াতে ইসলামীর সাহায্য-সহযোগিতা চোখে পড়ার মতো। হাসিনা-বিদায় এবং দেশজুড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি ও স্মারক ভাঙা, ৩২ নম্বর ধানমন্ডি রোডে তার বাড়ি চুরমার করার পরেও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যকে যে মানুষের মন থেকে মোছা যাচ্ছে না, দিব্য বুঝছেন জামায়াত নেতারা। এই ইসলামী দলটির নেতারা একাত্তরের যুদ্ধের সময়ে শুধু যে অখণ্ড পাকিস্তানের সমর্থক ছিল তা-ই নয়, পাক সেনাবাহিনীকে সাহায্যের জন্য রাজাকার, আল বদর, আল শামস-এর মতো সংগঠন গড়ে মুক্তিকামী মানুষের ওপরে ভয়াবহ নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের রায়ে জামায়াতের একঝাঁক নেতার ফাঁসি হয়ে গিয়েছে! জামায়াত ভেবেছিল, নেতাদের মৃত্যুতে তারা একাত্তরের ‘পচা অতীত’ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। হাসিনা বিদায়ের পরের ছয় মাসে সেই সময়ে তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন একটি ভাষ্য প্রচার করতে শুরু করেছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

রোববারও একটি সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘সহযোগী হিসেবে ভারত এগিয়ে আসার কারণেই তারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেননি।’ শফিকুর বলেন, ‘আমরাও বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলাম। কিন্তু একটা দেশের অধীন থেকে বেরিয়ে এসে আর একটা দেশের অধীন হতে চাইনি।’

জামায়াতের আমির দাবি করেছেন, ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা না পেলে তারা গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতেও তৈরি ছিলেন। শফিকুরের এই দাবি শুনে হেসে ওঠেন খুনের মামলায় নাম জড়িয়ে দেয়ায় আত্মগোপনে থাকা এক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা তথা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, ‘কাদের যেন ছলের অভাব হয় না। একাত্তরে শফিকুর জামায়াতে ছিলেন কি-না জানি না, তবে আমরা মুক্তিযুদ্ধেই ছিলাম। সে সময়ে জামায়াতের কী অবস্থান ছিল, শফিকুর না-জানতেও পারেন। কিন্তু আমরা সকলেই জানি। গাল-গল্প বলে দেশের মানুষকে তিনি বোকা বানাতে চাইছেন। তার এবং বাংলাদেশের অনেকেই মনে করেন, নিজেদের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের কালি উঠছে না দেখেই জামায়াত পেছন থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করাচ্ছে। নতুন দলকে সমর্থনের আর্জি নিয়ে বাকি ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াত।

জামায়াত মনে করছে, জনপ্রিয়তার জোয়ারে ভাসা ছাত্রদের নতুন দলই পারে নির্বাচনে ধারে-ভারে বহু গুণ এগিয়ে থাকা বিএনপির অনায়াস জয়কে ঠেকাতে। একাত্তরে ‘পচা অতীত’-এর দায়ও এই তরুণ তুর্কিদের নেই।

mzamin


গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় ভূমধ্যসাগরে মার্কিন বিমান

গাজাবাসীকে উৎখাতের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। আর নিজেদের অধিকারের পক্ষে লড়াইরত যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসকে নির্মূল করার হুমকি দিয়েছেন তারই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানে বেজায় খুশি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন অবস্থায় গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হচ্ছে কায়রো সংলাপ। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পরে সৌদি আরব পৌঁছেছেন মার্কো রুবিও। ইসরাইলি প্রতিনিধিরা সংলাপের জন্য পৌঁছেছেন কায়রোতে। ওদিকে প্রথম দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হাজার হাজার ভ্রাম্যমাণ বাড়ি এবং তাঁবু অপেক্ষায় আছে গাজায় প্রবেশের জন্য। কিন্তু তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল।

অন্যদিকে গাজা ও পশ্চিমতীরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। গাজাবাসী যারা বাড়ি ফিরে গেছেন তারা ভয়াবহ রকম পানি সংকটের মুখোমুখি। তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। কোনো মৌলিক সেবা নেই। এই যখন গাজার বাস্তব পরিস্থিতি তখন কায়রো সংলাপে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কোনদিকে যায় তা বলা কঠিন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দফার আলোচনা এই সপ্তাহে অব্যাহত থাকবে। এমন অবস্থায় দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের সহযোগী প্রফেসর তামের কারমুট বলেন, ট্রাম্প গাজায় জাতিনিধনের পরিকল্পনা করেছেন। তার উল্টো অবস্থানে আছে সৌদি আরব। এর ফলে বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার একটি সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এখন দেখার বিষয় হলো ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কি প্রতিক্রিয়া দেখায়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো হামাস। কারণ ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে গাজা থেকে উৎখাত করতে চায়। হামাস বলেছে- তারা শাসন ব্যবস্থায় কোনো ভূমিকা রাখতে চায় না। তবে তারা ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে থাকতে চায় রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে। তবে প্রস্তাবে বলা হতে পারে হামাসকে রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে সরে যেতে হবে, যা হবে অবাস্তব।

ফ্লাইট রাডারের তথ্যমতে ভূমধ্যসাগরের উপর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি সামরিক বিমান উড়তে দেখা গেছে। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর।  এতে আছে দু’টি বোয়িং বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্টেস স্ট্র্যাটেজিক বোমারু, চারটি বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি আছে ইংল্যান্ডে। এর নাম রয়েল এয়ারফোর্স মিল্ডেনহল। সেখান থেকে বিমানগুলো উড্ডয়ন করে। ফ্লাইট পথ খতিয়ে দেখা যায়, বিমানগুলো দক্ষিণ ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকার কাছ দিয়ে ভূমধ্যসাগরের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। এর সম্ভাব্য গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য।

mzamin
ধ্বংসস্তূপ পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ ১৫ মাস পর নিজ ঠিকানায় ফিরছেন গাজার বাসিন্দারা ছবি: রয়টার্স

নেতৃত্ব চূড়ান্ত টানাপড়েন কাটেনি

টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করেছেন গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র নেতারা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও নাগরিক কমিটির শীর্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারি নতুন দলের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার পদত্যাগে একদফার ঘোষণা দেয়া স্থান শহীদ মিনার থেকেই ছাত্রদের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তার আগে তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন। আর সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এ ছাড়া মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। আর মুখপাত্রের ভূমিকায় থাকবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির জন্য নাম চূড়ান্ত করা হচ্ছে। রোববারের সভায় প্রায় ৭৫ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

এদিকে নেতৃত্ব নিয়ে টানাপড়েন থাকলেও এক পক্ষ কমিটি চূড়ান্ত করেছে। সদস্য সচিব পদের অন্যতম আরেক দাবিদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদের অনুসারীরা এখন কী করবেন সেটিই আলোচনা হচ্ছে। তারা আগামী ২২শে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই বিপ্লবী কাউন্সিলের ব্যানারে এক সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। যেখানে জুলাই বিপ্লবের ১৩৫টির মতো সংগঠন অংশ নেবে বলে জানা গেছে। আখতার ও জুনায়েদ অনুসারীরা গত কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে তাদের অংশীদারিত্বের বিষয় নিয়ে একের পর এক পোস্ট করছেন। গতকাল আলী আহসান জুনায়েদ এক ফেসবুক পোস্টে আস্থা ও বিশ্বাস মিলে গঠিত লক্ষ্যই জুলাইয়ের বড় শক্তি উল্লেখ করে বলেন, ‘সামনের দিনের যাত্রা সম্মিলিত হোক কিংবা স্বতন্ত্র ও আলাদা হোক না কেন, আমি মনে করি আস্থা ও বিশ্বাসেই এগিয়ে যাবো বহুদূর। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আমরা আজ এমন এক দেশে আছি যেখানে মুক্ত আলোচনা হচ্ছে, আলোচনা সম্ভব হচ্ছে। হয়তো কিছু মাস আগে হলেও এই আলোচনা-সমালোচনা কিংবা বিতর্কের সুযোগটাই আমরা পেতাম না। আমি আসলে প্রচণ্ড আশাবাদী আর পজিটিভ একটা মানুষ, তাই আমি দেখি আশার গল্প।’ নাগরিক কমিটির এক সদস্য সচিব নাহিদ-আখতারের নেতৃত্বে নতুন দলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়াও মূল দলের আগে ছাত্র সংগঠন আসবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র সংগঠনের আবির্ভাব নিয়ে কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা জানান, ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’- স্লোগানকে সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, নতুন এই ছাত্র সংগঠনটি লেজুড়বৃত্তিক হবে না, স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে। নতুন ছাত্র সংগঠনের নীতি-আদর্শ হবে ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’। শিগগির এই ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনমত জরিপ করবো। সেখান থেকে এই ছাত্র সংগঠনের নামসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করে ছাত্র সংগঠনটির আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে।

mzamin

বিকেলের ঘুম আপনার মুশকিল আসান করে

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে দুপুরের ঘুম বা ন্যাপ মস্তিষ্কের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা অ্যানালজিকাল সমস্যা সমাধান পরীক্ষা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে  বিকেলের এই ছোট ঘুম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

গবেষকরা তাদের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে লিখেছেন, 'বর্তমান ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে যখন কোনও সমস্যা সমাধানযোগ্য বলে মনে হয় না, তখন ঘুমিয়ে পড়ুন। এটি আপনাকে কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যদি ঘুমের মধ্যে REM ( rapid eye movement ) থাকে। ঘুমের এই পর্যায়টি আমাদের জীবনে সহজেই স্পষ্ট নয় এমন সম্পর্ক স্থাপন এবং অতীতের অভিজ্ঞতাগুলোকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এই গবেষণায় ৫৮ জনকে অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। তাদের বিভিন্ন সমস্যার একটি সিরিজ দেখানো হয়েছিল এবং সেই সমস্যার সমাধানগুলো দেখানো হয়। এরপর, তাদের একই ধরনের সমস্যার আরেকটি সেট দেয়া হয়েছিল। এই দ্বিতীয় সেটের সাথে, কোনও সমাধান সংযুক্ত ছিল না। তবে সমস্যাগুলো একই মানসিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সমাধানযোগ্য। এরপর দুই ঘণ্টার ব্যবধান ছিল, এই সময়কালে ২৮ জন স্বেচ্ছাসেবককে ১১০ মিনিটের ঘুমের সময় দেওয়া হয়েছিল, বাকি ৩০ জনকে জেগে থাকতে বলা হয়েছিল। ঘুমন্ত দলটি ঘুমানোর সময় EEG হেডসেট ব্যবহার করে তাদের REM সময় পরিমাপ করেছিল।

বিরতির পর, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের দ্বিতীয় সেট থেকে সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়া সমস্যাগুলো আবার দেখার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। যারা ঘুমিয়েছিলেন তারা প্রথমবারের মতো যেসব সমস্যার সমাধান করতে পারেননি, ঘুম থেকে উঠে সেগুলো সমাধানে সক্ষম হয়েছিলেন এবং তাদের REM এই সমস্যাগুলো সমাধানের সম্ভাবনার সাথে সম্পর্কিত ছিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় সেটে সমস্যাগুলোর মধ্যে মিল লক্ষ্য করার ক্ষেত্রে ন্যাপাররা জেগে থাকা দলের চেয়ে ভালো ফল করেছিল। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর স্লিপ রিসার্চ, লস এঞ্জেলেসের গবেষক জেরোম সিগেল বলেছেন, 'যারা রাতের বেলা পর্যাপ্ত সময় ঘুমাতে পারে না তাদের জন্য দিনের ঘুম মনোসংযোগ এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ বিষয়ে সবাই একমত যে, আপনি যদি ঘুম থেকে বঞ্চিত হন তবে খুব ভালোভাবে শিখতে, কাজ করতে বা চিন্তা করতে পারবেন না।'

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিকেলের  ঘুম স্মৃতিশক্তি ও শিখন ক্ষমতা বাড়ায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং মেজাজ ভালো রাখে। গবেষণাটি জার্নাল অফ স্লিপ রিসার্চে প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র : সায়েন্স এলার্ট

mzamin

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের সম্পর্কে নয়টি অবাক করা তথ্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ বিদেশী নাগরিকদের গণ-বহিষ্কারকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৮,০০০ ভারতীয় নাগরিককে চিহ্নিত করেছে, যারা অবৈধভাবে দেশে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরের সময় নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন যে, ভারত অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে এবং মানব পাচারকারী এই সিস্টেমের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। মোদির কথায়, এরা খুবই সাধারণ পরিবারের সন্তান। বড় স্বপ্ন এবং প্রতিশ্রুতির লোভে পা দিয়ে এরা আমেরিকায় পাড়ি দেয়। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাবি বুডিম্যান এবং দেবেশ কাপুরের একটি নতুন গবেষণাপত্রে সময়ের সাথে সাথে অনথিভুক্ত ভারতীয়দের সংখ্যা, প্রবেশ পদ্ধতি, অবস্থান এবং প্রবণতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সেখান থেকে  কিছু আকর্ষণীয় তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কতজন অবৈধ ভারতীয় আছেন?
অননুমোদিত অভিবাসীরা মার্কিন জনসংখ্যার ৩% এবং বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনসংখ্যার ২২%। তবে তাদের মধ্যে অননুমোদিত ভারতীয়দের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, বিভিন্ন গণনা পদ্ধতির কারণে এই পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হয়। পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ অফ নিউ ইয়র্ক (সিএমএস) ২০২২ সালের হিসাবে অবৈধ ভারতীয়র সংখ্যা প্রায় ৭০০,০০০।  যা তাদেরকে মেক্সিকো এবং এল সালভাদরের পরে তৃতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। বিপরীতে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (এমপিআই) এই সংখ্যাটি ৩,৭৫,০০০ বলেছে, তাদের  তালিকায় ভারতের স্থান পঞ্চম। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সরকারী তথ্য আরও একটি চিত্র তুলে ধরে। ২০২২ সালে আমেরিকায় অননুমোদিত ভারতীয়র সংখ্যা ২,২০,০০০ । গবেষণা অনুসারে, অনুমানের বিশাল পার্থক্যগুলি অননুমোদিত ভারতীয় জনসংখ্যার প্রকৃত আকার সম্পর্কে অনিশ্চয়তাকে তুলে ধরে।

তবুও অননুমোদিত অভিবাসীরা সংখ্যা আগের থেকে কমেছে যদি পিউ এবং সিএমএসের অনুমান সঠিক হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন ভারতীয় অভিবাসীর মধ্যে প্রায় একজন অনথিভুক্ত।  ভারতীয় অভিবাসীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বর্ধনশীল গোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটি। ১৯৯০ সালে ৬০০,০০০ থেকে ২০২২ সালে তা ৩.২ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। ডিএইচএস ২০২২ সালে অনুমান করেছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত ভারতীয় জনসংখ্যা ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ থেকে ৬০% কমেছে। এটি  ৫,৬০,০০০ থেকে কমে ২,২০,০০০ হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অবৈধ ভারতীয়দের সংখ্যা এত দ্রুত কীভাবে কমে গেল? কাপুর বলেন যে তথ্যগুলি এর স্পষ্ট উত্তর দেয় না। তবে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা হতে পারে যে কেউ কেউ সেদেশে আইনি মর্যাদা পেয়েছেন এবং অন্যরা ফিরে এসেছেন, বিশেষ করে কোভিড-সম্পর্কিত সমস্যার কারণে। তবে, এই অনুমানটি ২০২৩ সালে মার্কিন সীমান্তে ভারতীয়দের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটায় না, যার অর্থ প্রকৃত সংখ্যা এখন আরও বেশি হতে পারে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে মার্কিন নির্বাসন বিমানে প্রায় ১০০ জন ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরে আসেন। সীমান্ত সংঘর্ষ বৃদ্ধি সত্ত্বেও, মার্কিন সরকারের অনুমান অনুসারে, ২০২০ থেকে ২০২২ সালে  সামগ্রিকভাবে অনথিভুক্ত ভারতীয়দের সংখ্যায় কোনও স্পষ্ট বৃদ্ধি দেখা যায়নি। এনকাউন্টার বলতে বোঝায়, মেক্সিকো বা কানাডার সীমান্ত অতিক্রম করার সময় নাগরিক নয় এমন ব্যক্তিদের যখন  মার্কিন কর্তৃপক্ষ আটকে দেয়। ২০১৬ সাল থেকে ভারতীয়দের ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার হার ১.৫% এ স্থিতিশীল রয়েছে। ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (DACA) এর ক্ষেত্রে ভারতীয়দের সংখ্যাও ২০১৭ সালে ২,৬০০ থেকে কমে ২০২৪ সালে ১,৬০০ হয়েছে। Daca প্রোগ্রামটি শিশু অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের সুরক্ষা দেয়।

অভিবাসন রুটের পরিবর্তন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান স্থল সীমান্ত রয়েছে। মেক্সিকো সীমান্তবর্তী অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ মেক্সিকো এবং টেক্সাস রাজ্যের দক্ষিণ সীমান্তে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী প্রবেশ করে। এরপর ১১টি রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত মার্কিন-কানাডা সীমান্ত রয়েছে। ২০১০ সালের আগে, দুটি সীমান্তে ভারতীয়দের সাথে এনকাউন্টারের ঘটনা সবচেয়ে কম ছিল, কখনও ১০০০ এর বেশি হয়নি। ২০১০ সাল থেকে, ভারতীয়দের সাথে এনকাউন্টারের প্রায় সমস্ত ঘটনাই মার্কিন-মেক্সিকো দক্ষিণ সীমান্তে ঘটেছে। ২০২৪ অর্থবছরে, উত্তর সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের এনকাউন্টারের ঘটনা বেড়ে ৩৬% হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ৪% বেশি। কানাডা ভারতীয়দের জন্য আরও সহজলভ্য প্রবেশপথ হয়ে উঠেছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভিজিটর ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় কম ছিল। এছাড়াও, ২০২১ সাল থেকে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মেক্সিকো সীমান্তে এনকাউন্টারের ঘটনা ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। কাপুরের কথায় -' এটা কেবল ভারতীয়দের জন্য নয়। বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ভারতীয়রাও এর একটি অংশ ছিল। '

অবৈধ ভারতীয়রা কোথায় থাকে?
গবেষণায় দেখা গেছে যে, সবচেয়ে বেশি ভারতীয় অভিবাসী সম্বলিত রাজ্যগুলি - ক্যালিফোর্নিয়া (১১২,০০০), টেক্সাস (৬১,০০০), নিউ জার্সি (৫৫,০০০), নিউ ইয়র্ক (৪৩,০০০) এবং ইলিনয় (৩১,০০০) । ওহাইও (১৬%), মিশিগান (১৪%), নিউ জার্সি (১২%) এবং পেনসিলভানিয়া (১১%) -এ মোট অননুমোদিত জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারতীয়। এদিকে যেসব রাজ্যে ২০% এরও বেশি ভারতীয় অভিবাসী অননুমোদিত, তাদের মধ্যে রয়েছে টেনেসি, ইন্ডিয়ানা, জর্জিয়া, উইসকনসিন এবং ক্যালিফোর্নিয়া। দেবেশ কাপুর বলছেন, 'কোনও জাতিগত ব্যবসায় মিশে যাওয়া এবং কাজ খুঁজে পাওয়া সহজ - যেমন একজন গুজরাটি একজন গুজরাটি-আমেরিকানের জন্য কাজ করে অথবা একই ধরনের পরিবেশে একজন পাঞ্জাবি/শিখ কাজ খুঁজে নেয়। '

আশ্রয়প্রার্থী ভারতীয়রা কারা?
মার্কিন অভিবাসন নীতি মোতাবেক- সীমান্তে আটক থাকা ব্যক্তিরা, যারা তাদের নিজ দেশে নির্যাতনের আশঙ্কা করে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের বা  "ফিয়ার  স্ক্রিনিং" করার সুযোগ দেয়া হয়। যারা প্রমাণ দাখিল করতে সক্ষম হয় তারা আদালতে আশ্রয় চাইতে পারে, যার ফলে সীমান্তে আশঙ্কা বৃদ্ধির পাশাপাশি আশ্রয় চেয়ে আবেদনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।প্রশাসনিক তথ্যে ভারতীয় আশ্রয়প্রার্থীদের সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। তবে অভিবাসীদের কথার ওপর ভিত্তি করে আদালতের রেকর্ড কিছু অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। ২০০১ সাল থেকে ভারতীয় আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে পাঞ্জাবি ভাষাভাষীরাই আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। পাঞ্জাবির পরে, ভারতীয় আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে  হিন্দি (১৪%), ইংরেজি (৮%) এবং গুজরাটি (৭%) ভাষায় কথা বলা ব্যক্তিরা। ২০০১-২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত পাঞ্জাব এবং হরিয়ানাকে অভিবাসীদের প্রধান উৎস বলে মনে করে ৬৬% মামলা দায়ের হয়েছে। ভারতের পাঞ্জাবি ভাষাভাষীদের মধ্যেও আশ্রয়প্রার্থীর অনুমোদনের হার সর্বোচ্চ (৬৩%) ছিল, তারপরে ছিলেন হিন্দি ভাষাভাষীরা (৫৮%)। বিপরীতে, গুজরাটি ভাষাভাষীদের বিরুদ্ধে মাত্র এক-চতুর্থাংশ মামলা অনুমোদিত হয়েছিল।

কেন আশ্রয়ের দাবি বাড়ছে ?
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) কর্তৃক সংগৃহীত মার্কিন তথ্য দেখায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের আশ্রয়ের আবেদন আকাশচুম্বী। মাত্র দুই বছরে অনুরোধ দশগুণ বেড়েছে, যা ২০২১ সালে প্রায় ৫,০০০ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৫১,০০০-এরও বেশি হয়েছে। যদিও এই বৃদ্ধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে ,কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ায় একই রকম প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে ভারতীয়রা বৃহত্তম আশ্রয়প্রার্থী গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে। কাপুর বিশ্বাস করেন যে এটি "অপরাধজনিত ভয়ের পরিবর্তে আশ্রয় ব্যবস্থার সাথে খেলা করার একটি উপায়, কারণ প্রক্রিয়াকরণে বছরের পর বছর সময় লাগে"। বিপুল সংখ্যক পাঞ্জাবি-ভাষী আশ্রয়প্রার্থীর কারণে, কংগ্রেস দল (২০১৭-২২) এবং পরবর্তীতে আম আদমি পার্টি (২০২২-বর্তমান) দ্বারা শাসিত উত্তর ভারতীয় এই রাজ্যে এই উত্থান  কীভাবে  তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে, আশ্রয়ের অনুরোধ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আশ্রয়প্রার্থীরা ভারত সম্পর্কে আমেরিকায়  কী বলে?
মার্কিন তথ্য অনুসারে, বেশিরভাগ ভারতীয় আশ্রয়প্রার্থী পাঞ্জাবি এবং গুজরাটি - ভারতের ধনী রাজ্যগুলির গোষ্ঠীগুলি উচ্চ অভিবাসন খরচ বহন করতে সক্ষম। বিপরীতে, ভারতীয় মুসলিম এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়  বিশেষ করে  মাওবাদী অধ্যুষিত বা কাশ্মীরের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের লোকেরা খুব কমই আশ্রয় প্রার্থনা করে। তাই বেশিরভাগ ভারতীয় আশ্রয়প্রার্থী অর্থনৈতিক অভিবাসী, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বা সংঘাত-কবলিত অঞ্চল থেকে এরা  আসে না। গবেষণায় বলা হয়েছে, ল্যাটিন আমেরিকা হয়ে হোক বা কানাডায় "ভুয়া" ছাত্র হিসেবে - আমেরিকায় যাওয়ার কষ্টকর যাত্রায়  ভারতের মাথাপিছু আয়ের ৩০-১০০ গুণ বেশি খরচ পড়ে। যার ফলে এই অর্থ জোগাড় করার সময় কেবল যাদের সম্পদ আছে তারাই বিক্রি বা বন্ধক রাখার সুযোগ পায়। অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, পাঞ্জাব এবং গুজরাট - অননুমোদিত ভারতীয়দের জন্য শীর্ষস্থানীয় রাজ্য। ভারতের ধনী অঞ্চলগুলির মধ্যে এগুলি রয়েছে, যেখানে জমির মূল্য কৃষিকাজ থেকে প্রাপ্ত আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি অবৈধ কাজ করতেও অনেক টাকা লাগে।

অবৈধ ভারতীয় অভিবাসনকে কী উৎসাহিত করছে?
ভারত থেকে  ক্রমবর্ধমান আশ্রয়ের  দাবি "গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণের" সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাঞ্জাব এবং গুজরাটের অভিবাসনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যেখানে অভিবাসীরা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নয়। যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াতেও যাচ্ছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ভারত আনুমানিক ১২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে - যা দারিদ্র্যের কারণে নয় বরং "আপেক্ষিক বঞ্চনা" দ্বারা পরিচালিত উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে ইন্ধন জোগায়। কারণ পরিবারগুলি বিদেশে অন্যদের সাফল্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে। ভারতে এজেন্ট এবং দালালদের একটি সমান্তরাল চক্র চলে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারত সরকার এখন অন্য উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে।   কারণ অবৈধ অভিবাসীদের অন্য দেশ থেকে গ্রহণ করা অনেক বেশি বোঝার সমান ।

কতজন ভারতীয়কে নির্বাসিত করা হয়েছে?
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৬,০০০ ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওবামার আমলে প্রতি বছর গড়ে ৭৫০ জন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ১,৫৫০ জন এবং বাইডেনের আমলে ৯০০ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে ভারতীয় অভিবাসীদের বহিষ্কারের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এখনো পর্যন্ত  ২০২০ সালে প্রায় ২,৩০০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, সেটি ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা।

সূত্র : সাউথ এশিয়া জার্নাল

mzamin


‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ আসছে গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের নতুন ছাত্রসংগঠন

মধ্যমপন্থী, অন্তর্ভুক্তিমূলক, নারীদের রাজনৈতিক মানস গঠন ও বিগত সকল জাতীয় গণ আন্দোলনকে ভিত্তি করে নতুন ছাত্রসংগঠন আনতে চলেছে ২৪' এর গণঅভ্যুত্থানের নেতারা। দলের স্লোগান হবে- স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট।

সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা । এসময় উপস্থিত ছিলেন আবু বাকের মজুমদার, আব্দুল কাদের, জাহিদ আহসান, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, তাহমিদ আল মুদ্দাস্সির, হাসিব আল ইসলামসহ সাবেক সমন্বয়কদের অনেকে।

কোন পটভূমি এই রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন সৃস্টি হচ্ছে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে আব্দুল কাদের বলেন, বিগত সময়ে সরকারের প্রতিটি জায়গায় কায়েম হয়েছিল কাঠামোগত ও সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদের দোসররা অধিকার হরণের বৈধতা উৎপাদন করে গেছে। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গণ ও শিক্ষার্থীরা এই ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পায়নি।

প্রস্তাবনা পেশ করতে গিয়ে আবু বাকের মজুমদার বলেন, এই সংগঠন হবে মধ্যমপন্থী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বিগত সময়ের দলগুলোতে নারীদের উপস্থিতি ছিল না এই সংগঠন নারীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের রাজনৈতিক মানস গঠন করবে,  ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ অবধি  সকল জাতীয় গণ আন্দোলনকে ধারণ করবে ছাত্রসংগঠনটি।

কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, আজকে অনলাইনে ও আগামীকাল থেকে অনলাইন অফলাইনে জনমত জরিপ ও সদস্য আহ্বান করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, কার্জন হল এলাকা, মোকাররম ভবন এলাকা, কলাভবন, ব্যবসা শিক্ষা অনুষদ এলাকা, মোতাহার ভবন এলাকা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শহরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ, সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ছাত্রসংগঠনটির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই ছাত্রসংগঠনটি কখনো লেজুড়বৃত্তিকতা করবে না স্বতন্ত্র থাকবে।অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে অভ্যন্তরীণ চাঁদা গ্রহণের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতা নির্বাচন করা হবে। মূল স্লোগান হবে- স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট।

সবশেষ তিনি বলেন, জনমত জরিপের পর ছাত্রসংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করবে,এখনো নাম ও আত্মপ্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

mzamin


গণহত্যার বিচারের আগে জনগণ কোনো নির্বাচন মানবে না: আবু হানিফ

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘ যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেই প্রতিবেদন গণহত্যার বিচারে সহযোগিতা করবে। কিন্তু ৬ মাস হয়ে গেলেও এখনও বিচারের তেমন অগ্রগতি নেই। ইতোমধ্যে অনেকেই নির্বাচনের জন্য তাড়াহুড়ো শুরু করেছে। জুলাই গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করার আগে কোন নির্বাচন জনগণ মেনে নিবে না। তাই গণহত্যার বিচারের বিষয়ে সরকারকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। সোমবার বিকালে ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু হানিফ এসব কথা বলেন। জেলা শহরের মুক্তমঞ্চে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আবু হানিফ বলেন, এই সরকারের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি করতে পারেনি। অনেক দেরিতে হলেও যৌথ বাহিনী অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’ শুরু করেছে। অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’কে বিতর্কিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী তাদের পারিবারিক বা রাজনৈতিক আক্রোশকে ব্যবহার করে অনেক নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে ও বাণিজ্য শুরু করেছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। আমরা শুনেছি, এই বাণিজ্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে এমনকি কিশোরগঞ্জেও হচ্ছে। অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরুর পর ১০ দিন অতিবাহিত হলেও কোন রাঘববোয়ালদের আটক হয়নি, যাদের আটক করেছে সবাই চুনোপুঁটি। এই অপারেশনের গতি আরও বাড়াতে হবে। যেসব রাঘববোয়ালরা অবৈধ অর্থ খরচ করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তাদের শিকার করতে হবে। তা না হলে এই ডেভিল হান্ট অপারেশন সফলতার মুখ দেখবে না।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আরও বলেন, আজকে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলো এই সংগঠনটি। গত ৭ বছরে ফ্যাসিবাদের লড়াই জারি রেখেছিলো। এই ছাত্র সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা, মামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছে। সব শেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থাকা অধিকাংশ তরুণ এই ছাত্র অধিকার পরিষদের বর্তমান নেতা কিংবা সাবেক নেতা ছিলো। ২০১৮ সালে ছাত্র অধিকার পরিষদের জন্ম না হলে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান হতো না। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি রচনা করার জন্য বিগত সময় কাজ করেছে এই ছাত্র অধিকার পরিষদ।

আবু হানিফ বলেন, জুলাই আন্দোলনের ৬ মাস পার হয়েছে। এখনই আন্দোলনের ক্রেডিট নিয়ে নিজেদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঐক্যবদ্ধ শক্তির যেকোনো বিভাজনের ফলে পরাজিত শক্তি সুযোগ নিতে পারে। এমন কিছু করা যাবে না, যাতে সেই পরাজিত শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে। দেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সমাবেশ শেষে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে জুলাই গণহত্যার বিচার, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ ৫ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা ইমন খান, মারুফ আহমেদ হৃদয়, পায়েল চৌধুরী, রিপন রাজ, ফয়সাল, ইমরান, জেলার সাবেক ছাত্র নেতা অভি চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম প্রমুখসহ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

mzamin