Sunday, June 24, 2018
আমি বারে বারে ইনসিস্ট করলাম, তারপর সেনাপ্রধানকে নক করলাম by মহিউদ্দিন আহমদকে সাক্ষাতকারে ব্রিগেডিয়ার বারী

লেখক-গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর ১/১১ শীর্ষক লেখায় এসব কথা লিখেছেন। প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায় লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে।
লেখকের সঙ্গে তাঁর (চৌধুরী ফজলুল বারী) কথোপকথন এখানে তুলে ধারা হলো:
মহিউদ্দিন আহমদ: এক-এগারোর সময় এবং তার পরের দিনগুলোতে আপনার নাম অনেকবার শোনা গেছে। কোন পটভূমিতে এই পালাবাদল ঘটল? কী ছিল আপনার ভূমিকা? আপনি অনেক দিন ধরে জন-আলোচনায় আছেন। একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?
চৌধুরী ফজলুল বারী: এক কথায়, দেশটা অস্থিতিশীল হয়ে গেছে। ইলেকশন হলেও অস্থিতিশীল, না হলেও অস্থিতিশীল। এখন কী করণীয়? আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। নরমাল ইয়ের বাইরে আর্মি কেন আসবে? সবাই ঠিকমতো বেতন-ভাতা পাইতেছে! দেশ গোল্লায় যাক, নিজের বাচ্চা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে পড়তেছে। আর কী লাগে? আমি বারে বারে ইনসিস্ট করলাম। তারপর সেনাপ্রধানকে নক করলাম। নক করলাম জেনারেল মাসুদকে। জেনারেল মাসুদকে কেন নক করলাম? কারণ, উনি বেগম জিয়ার আত্মীয়। দেখি ওনার মনোভাবটা কী।
মহি: উনি সাঈদ এস্কান্দারের ভায়রা।
বারী: লেট আস কাম ব্যাক টু দ্য ইমার্জেন্সি। সিচুয়েশন তো ভোলাটাইল হয়ে গেছে। ইমার্জেন্সি হয়ে গেছে। ইমার্জেন্সি দেওয়ার জন্য আমি জেনারেল মাসুদকে জিজ্ঞেস করলাম। বলে, আসলেই তো, দেশের যে অবস্থা হয়েছে, কিছু একটা করা দরকার। আমি বললাম, মইনের কাছে একটু খোঁজখবর নেন। আমি জানি না উনি খোঁজখবর নিয়েছেন কি না। আমি আর জিজ্ঞেস করিনি। জিজ্ঞেস করা দরকার ছিল।
ওনাকে কয়েক দিন পরপরই আমি বলি, স্যার, চিফের কাছে যান, আলাপ-টালাপ করেন। এভাবে তো একটা দেশ চলতে পারে না। বলেন, হ্যাঁ, চিফের কাছে গেছিলাম, একটু হালকা উঠাইছি, উনি তো এদিকে যায় না। মানে ডরায়, কথা বলতে চায় না। মাসুদ হইল বেগম জিয়ার আত্মীয়। এ জন্য উনি হয়তো শেয়ার করেন না কিছু।
তারপর আমি চিফের ভাইকে নক করলাম। আমি যখন র্যাবে ছিলাম, উনি একবার আমার কাছে গিয়েছিলেন। টিপু ভাই। ওনাকে বললাম, ভাই, এই অবস্থা। ওনাদের বলেন। প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে কিছুদিনের জন্য ইমার্জেন্সি দিলে সবারই মুখরক্ষা হবে। আর বিএনপি যদি ইলেকশন করে-আমি এভাবেই বলেছিলামÑদেশে একটা কালো তিলক পড়বে, এ রকম জোর করে একটা ইলেকশন করালে। এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারিতে (১৯৯৬) একটা হয়েছে না? আরও একটা হবে? এগুলো বলে-টলে আমি ওনারে রিকোয়েস্ট করে পাঠালাম। উনি বললেন যে, না, সময় হয় নাই এখনো। এত তাড়াতাড়ি এগুলো করা ঠিক না। বুঝলাম, ওনার ইচ্ছা আছে, কিন্তু টাইম হ্যাজ বিকাম আ ফ্যাক্টর।
কিছুদিন পরে আমার ডিজি গেলেন ইউকে। সিচুয়েশন একদম পিকে। আমি অ্যাকটিং ডিজি। আমি গিয়া ওনাকে সিচুয়েশন ন্যারেট করলাম। তারপর উনি নিজে থেকেই বললেন যে, দেশের কী অবস্থা? বললাম, স্যার, দেশের অবস্থা এখন তো আর লুকানো নাই।
মহি: এটা চিফকে বললেন?
বারী: চিফকে, চিফের অফিসে। দেশের অবস্থা তো লুকানো নাই। মিডিয়া তো সব পাবলিশ করে। কোনো কিছু তো গোপন থাকে না। দেখছেন তো আপনি, প্রতিদিন কি হচ্ছে না হচ্ছে।
তোমার কী অভিমত?
এটা থেকে নরমালসি আনতে হলে প্রেসিডেন্টকে ইমার্জেন্সির জন্য বলতে হবে।
অন্যরা কী বলে? আর্মির অ্যাটিচ্যুড কী?
আর্মির অ্যাটিচ্যুড হলো, সেনাপ্রদান যা করবে, তারা তো তার বাইরে থাকবে না। সেনাপ্রধানের চিন্তাটা তো আসবে ওখান থেকেই, দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থা থেকে।
তুমি আর্মির কাছে গিয়ে খোঁজ নাও।
আই টকড টু অল কমান্ডারস, জিওসিস, দু-একজন ছাড়া যাদের সঙ্গে আমার ভালো ইয়ে নাই। কারণ, এগুলি তো সাংঘাতিক কঠিন প্রশ্ন। আমি কথা বললাম। সবাই ওপিনিয়ন দিলেন যে, কিছু একটা করা উচিত। বাট নো মার্শাল ল। চিফও বলেছেন, আই অ্যাম দ্য লাস্ট ম্যান টু ডিক্লেয়ার মার্শাল ল।
ঠিক আছে। তাহলে হু উইল বি দ্য কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট? কেয়ারটেকার চিফ হওয়ার জন্য আমরা ড. ইউনূসকে বললাম। উনি বললেন যে, না।
মহি: কে কে গিয়েছিলেন তাঁর কাছে?
বারী: জেনারেল মাসুদ আর আমি। না না, তার আগে তো ইমার্জেন্সি দেওয়া হলো। এর মধ্যে আমি অনেকগুলো গ্রাউন্ডওয়ার্ক করেছি। ইমার্জেন্সি প্রক্লেমেশনের জন্য যে একটা গেজেট বের করতে হবে, গেজেটে কী লেখা থাকবে? আমি দেখলাম বঙ্গবন্ধুর আমলে ইমার্জেন্সির গেজেট আছে, এরশাদ সাহেবের আমলের একটা গেজেট আছে। দুইটা এনে দেখলামÑএকটা মডারেট ভার্সন তৈরি করলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল, দেশে নরমালসি আসবে। তারপর ছোটখাটো কিছু ডিজনিস আছেÑবড় আঙ্গিকের ছোটখাটো জিনিস, দলীয়করণ-টরন বাদ দিয়ে মেধাবী লোকজনকে বসানোÑএটা বোধ হয় এভাবেই করা হয়েছিল। আমি জানি না, বিচার করবেন আপনারা। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের যে সদস্যরা ছিলেন, অ্যাডভাইজাররা ছিলেন, এটা আপনারা বিচার করবেন, এরা ভালো ছিল না খারাপ ছিল। হিউম্যান এরর তো থাকবেই।
ইমার্জেন্সি হলো ১১ তারিখ। ১০ তারিখ রাতে চিফের সঙ্গে আমার কথাবার্তা হয়। চিফ ১০ তারিখ রাতে আমাকে ফোন করলেন যে, বারী, একটা জিনিস তো পাওয়া গেছেÑইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার করার পক্ষে একটা শক্ত ডকুমেন্টÑইউএন মিশনে বাংলাদেশ থেকে সৈনিকদের আর নিবে না। এটা তো একটা বড় প্লি আমাদের জন্য। এইমটা তো ইমার্জেন্সি না, এইম হলো পিস রি-এস্টাবলিশ করা। এটা করতে গেলে, আমরা মনে করি যে, ইমার্জেন্সিক দিতে হবে। ইমার্জেন্সি করতে গেলে এটারও তো একটা সাপোর্টিং ইয়ে লাগবে। এটা আমি দেখিও নাই কোনো দিন। উনি বলছেন। আর্মিতে তো ওরাল অর্ডার বলে একটা কথা আছে। মৌখিক অর্ডার। এটা আইনসম্মত।
এটা সিওর যে উনি আমাকে রাতে ফোন করেছিলেন। আমি জেনারেল মাসুদকে বললাম, স্যার, চিফ তো বলছেন, স্যার আপনি তাড়াতাড়ি আসেন। উনি তখন সাভারে।
উনি রওনা করলেন। আসলেন আমার অফিসে। এটা ঐতিহাসিক একটা ঘটনা। বললেন, আমিনকে (ডিজিএফআইয়ের আরেকজন পরিচালক ব্রি. জে. এ টি এম আমিন) ডাকো। আমিন-এর মধ্যে ছিল না। দেশের মধ্যে একটা মোড় নিয়া নিল আমিনকে ডাইকা। এই সব লোকÑআমিন, মইন-সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এরা পড়াশোনা করছে আইসোলেটেড স্কুলে। আমিনের ফাদার সম্ভবত ফরেন মিনিস্ট্রতে ছিল, বিদেশ ঘুইরা বেড়াইছে। সাধারণ ছেলেদের সঙ্গে বসে যে ক্লাস করা, পালস বোঝা, গ্রামে কাদার মধ্যে লুঙ্গি উঠায়া আসাÑএ রকম তো দেখে নাই। এদের কাছে চিত্র এক রকম। আমাদের কাছে চিত্র এক রকম। যার ফলে তারা ফুটপাতে বাড়ি দিয়া উঠায়া দাও, মার্শাল ল কইরা ফেল, ভাইঙ্গা ফেলÑএই টাইপের অ্যাটিচ্যুড। টক শো বন্ধ কইরা দাও। আমি বললাম, আরে নরমালসি আনতে চাই আমরা। যখন ইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার হলো, সব টক শো বন্ধ। আমাকে তৃতীয় মাত্রার জিল্লুর সাহেব ফোন করলেন, ভাই আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করব? আমি তখনো বঙ্গভবনে। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেনাপ্রধানকে ফোন করলাম। স্যার, এগুলা বন্ধ করবেন না। মানুষকে কথা বলতে দিতে হবে। আমরা যদি খারাপ করি, বলুক। আমাদের বক্তব্য আমরা দিব। ভালো করলে সেটা বলবে। মানুষ তো খারাপ বলে নাই প্রথম দিকে।
যা হোক, আমিনকে আনল জেনারেল মাসুদ। তার সঙ্গে নাইন ডিভে কাজ করেছে, নাইন ডিভের আর্টিলারি কমান্ডার ছিল আমিন। আরও আগে থেকেই হয়তো পরিচয়-টরিচয় আছে। আমিনরে লাগানো হলো। আমি আমার কাজ করতে থাকলাম।
পরের দিন ১১ তারিখ মিটিং। প্রেসিডেন্টের সবাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং, ইলেকশন উপলক্ষে। ইলেকশন তো ২২ জানুয়ারি। মিটিং শুরু হলো। মিটিংয়ের মধ্যে চিফ আমাকে ফোন করে বললেন, আমি আসতেছি। তুমি থাইকো। প্রেসিডেন্টকে সব কিছু বুঝায়া বলব। সিচুয়েশন রিপোর্টটা তুমি বলবা, ফ্রম ইন্সেলিজেন্স পয়েন্ট অব ভিউ।
এর মধ্যে গোছগাছ করে আমি রেডি হয়ে গেলাম। চিফ আসরেন, বাহিনী প্রধানরা আসলেন। রাষ্ট্রপতির কাছে সময় নেওয়া হলো। উনি সময় দিলেন, লাঞ্চের পরে। তারপর ওনারা ওনাদের বক্তব্য দিলেন। সেনাপ্রধান তার বক্তব্য দিলেন। রাষ্ট্রপতি বললেন, কী করা? উনি বললেন, ইমার্জেন্সি দেওয়া।
আচ্ছা ঠিক আছে আমি একটু আলাপ-আলোচনা করে দেখি।
কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টকে পদত্যাগ করতে হবে।
আমাকে পদত্যাগ করতে হবে নাকি?
না, আপনাকে প্রেসিডেন্টশিপ থেকে পদত্যাগ করতে হবে না। বাট অ্যাজ কেয়ারটেকার চিফ ইউ হ্যাভ টু রিজাইন।
তো মেকানিজম যা করার করা হইল। জেনারেল মাসুদ ওই দিকে থাকলেন, নাইন ডিভ নিয়া। ওনাকে রেডি রাখা হইল। এটা স্বাভাবিক। এখানে তো পিজিআর আছে, এসএসএফ আছে। তবে কেউ ইয়া করে নাই। সিচুয়েশন যা হইছিল, এ ছাড়া বিকল্প ছিল না। পলিটিশিয়ানস হ্যাভ ফেইলড। আই ডু নট হ্যাভ ডিসরেসপেক্ট।
তারা যেভাবে আগাইতেছিলেন-দেশের মানুষের দুই দিন পরে পরে পাছার মধ্যে লাথি দিয়া, সরি মহিউদ্দিন ভাই, আমি এ রকম দু-একটা শব্দ অতি ঘৃণার সঙ্গে উচ্চারণ করছি। দেশের মানুষের কী হলো না হলো এটা নয়, হিটলারের মতো কমান্ড পোস্ট বানাইয়া ওনারা কমান্ড দিতে থাকলেন আর মানুষ মরতে থাকল। ৬৮ জন মারা গেছে। হু রিমেম্বারস দেম? হুইচ পলিটিশিয়ান ইজ রিমেম্বারিং দেম?
ইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার হইল। বক্তৃতা আমরাই লেখায়া দিলাম। উনি কিছু কাটছাঁট করলেন। কট্টরপন্থী কোনো কিছু করা হয় নাইÑরাষ্ট্রপতি, আপনাকে এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। বাইরে তো নানান ধরনের গুজব, সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্টের ইয়েকে চড় মারছেন, মুখলেছ সাহেবকে। অল বানোয়াট, বাখোয়াজ। উনিও দেখলাম লেখলেন বিশাল বড় এক পত্রিকার মধ্যে যে, আমি ট্রাক-ট্রুক নিয়া রেডি হইয়া আছি। আমি ট্রাক কই পাব? আমার ঢাল-তলোয়ার নাই, নিধিরাম সর্দার, আমি অ্যাকটিং ডিজি-জিজিএফআই। আমি এখানে আছি সেনাপ্রধানের সঙ্গে, প্রেসিডেন্টর সঙ্গে, কী হচ্ছে না হচ্ছে এগুলো নিয়ে।
যা হোক, ওনাদেরও পদত্যাগ করানো হলো। পদত্যাগ করানোর সঙ্গে সঙ্গেÑহু উইল বি দ্য কেয়ারটেকার চিফ? নাম আসল ড. ইউনূসের। তখন জেনারেল মাসুদকে বলা হলো, আমিনকে নিয়ে উনি গেলেন ওনার কাছে। ওনার প্রথম কথা হলো টাইম ফ্রেম কত দিনের জন্য?
তা তো আমরা বলতে পারি না?
কেউই বলতে পারে না মইনুদ্দিনও জানে না, কত দিন।
উনি বললেন, কম সময় যদি হয়, কোনো পরিবর্তন আনা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না।
তারপর কাকে করা যায়? আমি সার্চ লাগাইলাম। আমার অপিসাররা বলল, স্যার, আরেকজন আছে, ফখরুদ্দীন সাহেব। আমি কল দিলাম ফখরুদ্দীন সাহেবকে।
মহি: ফখরুদ্দীন সাহেবের নাম কি ড. ইউনূস সাজেস্ট করেছিলেন, না-কি এটা আপনার চয়েস?
বারী: এটা একদম আমাদের সার্চ। আমরা তো দীর্ঘদিন ধরেই কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের নামধাম চর্চা করতেছি। আমি তখন ওনাকে ফোন করলাম। দেখেন, আগে থেকে কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা নাই। এগুলি ইনস্টেন্টলি আসতেছে, একটার পর একটা।
যদি ক্যু করার চিন্তা, ক্ষমতার চিন্তা থাকত, তাহলে তো জেনারেল এরশাদের মতো ছক কইরা ফেলতাম, দুই বছর কী করব, তিন বছর কী করব, চার বছর কী করব? এক্সপার্ট লাগাইতাম। এগুলো তো আমরা নিজেরা নিজেররাÑনরমালসি আনার জন্য, সবই বহাল থাকবে, সবাই যার যার জায়গায় থাকবে।
ফখরুদ্দীনের বাসায় ফোন করলাম। ড. ইউনূসের বাসা থেকেই তারা সোজা চলে গেলেন। উনি বললেন, আমাকে একটু সময় দেন। উনি ওনার ওয়াইফের সঙ্গে কথা বললেন। তারপর বললেন, ঠিক আছে।
মহি: একটা গসিপ শুনেছি, আপনারা যখন প্রফেসর ইউনূসকে অ্যাপ্রোচ করলেন, উনি টাইম ফ্রেমের ব্যাপারে অ্যাগ্রি না করায় উনি নাকি ফখরুদ্দীন সাহেবের নাম প্রস্তাব করেছেন?
বারী: না। আমার নোটবইটা আনতে পারলে দেখাইতে পারতাম, এখন পর্যন্ত নামটা লেখা আছে। ফরিদ আর মশিউর সাহেব ছিল আবার অফিসার। ফরিদ ছিল জি-ওয়ান, আর মশিউর ছিল সিভিল। এদেরকে বললাম, নাম বাইর কর। ওরা ওনার নাম প্রপোজ করল।
মহি: ফরিদ কি আর্মির লোক?
বারী: আর্মির, মশিউর সিভিলিয়ান। আমাকে কোনো কাজ দিলে আমি তো ভিশনটা এদের দিয়া দিইÑআমার এই এই দরকার, এটা বাইর কর।
মহি: ফরিদের পুরো নাম কী।
বারী: ফরিদুল ইসলাম বোধ হয়।
মহি: উনি কি ওই সময় মেজর ছিলেন?
বারী: না, লে. কর্নেল। তো এরা বাইর করল ওনার নাম। ফোন নম্বর ছিল। ওই নম্বরেই যোগাযোগ করি।
মহি: তাহলে বলছেন, এটা আপনার ইনিশিয়েটিভে হয়েছে?
বারী: কোনটা?
মহি: ফখরুদ্দীন সাহেবেরটা।
বারী: না। এরপর যখন প্যানেল করা হইল, প্যানেলের মধ্যে আমরা ২০-২৫ জনের নাম নিয়া আসছি। তারপর চিফের কাছে গিয়া সবাই মিলে আলোচনা কইরা-ওনাকে দেখ, ওনাকে নক কর।
ইভেন আমি শাইখ সিরাজকে-আমি চাইছি একটা ইয়ং অ্যাডভাইজার গ্রুপ, ডাইনামিক, পরীক্ষিত কাজের লোক। চিন্তাধারা-মতাদর্শ যা-ই হোক। হোসেন জিল্লুর রহমান-এগুলি এন্টায়ারলি আমি করছি। ইভেন আনিসুল হকের কথা আমি বলছিলাম।
মহি: ইফতেখারুজ্জামানের কথা কি আপনি বলেছিলেন?
বারী: হ্যাঁ, ইফতেখারুজ্জামান আমার লিস্টে ছিলেন। নন-মুসলিম হিসেবে নাম দরকার ছিল। তারপর তপন বাবুর নাম ছিল। তারপর আরও একজন ‘হিন্দু’ ছিল। নামটা ভুলে গেছি। মহিলা ছিলেন একজন, সিলেটের। উনি তখন ইন্ডিয়ায় ছিলেন। ইন্ডিয়ায় আমি ফোন করছি। ফোন কইরা বলছি, আপনি চইলা আসেন তাড়াতাড়ি।
মহি: এ রকম কেউ ছিল লিস্টে, আপনি চাচ্ছিলেন কিন্তু উনি রিফিউজ করেছে?
বারী: শাইখ সিরাজ।
মহি: ইফতেখারুজ্জামানও আসেন নাই।
বারী: উনি আসেন নাই বা কেউ একজন চায় নাই-এই দুইটার একটা হবে।
মহি: মইনুল হোসেনকে পরে বাদ দেওয়া হলো কেন?
বারী: ওনার কথাবার্তা একটু...। মানুষ তো হান্ড্রেড পার্সেন্ট পারফেক্ট পাওয়া মুশকিল। ওনার মতো স্ট্রেচারের লোক দরকার ছিল।
মহি: ফাইনাল সিলেকশন তো চিফ করেছেন?
বারী: চিফই করেছেন, তবে অন্যদের সঙ্গে কনসাল্ট করে। আমরা লিস্ট দিছি।
মহি: একাডেমিক কাউকে পান নাই? ঢাকা ইউনিভার্সিটির?
বারী: একজনের নাম ছিল, জেনারেল মাসুদের ভায়রা। এ কারণেই ওনাকে আর করা হয় নাই। যেহেতু হি ইজ আ রিলেটিভ অব দ্য সিনিয়র মিলিটারি অফিসার।
মহি: ওই ক্যাবিনেটে ফখরুদ্দীন সাহেবের তো দুই জন রিলেটিভ ছিল?
বারী: কিন্তু এরাতো নিজস্ব গুনে এসেছিল। ফখরুদ্দীনের আত্মীয় বলেতো বাদ দিয়ে দেয়া যায় না। ফখরুদ্দীনের নিজের আত্মীয় না, ওনার ওয়াইফের দিক দিয়া আত্মীয়।
মহি: এখানে ফখরুদ্দীন সাহেবের কোন চয়েস ছিল না?
বারী: না। ফখরুদ্দীন সাহেব তো নিজেই পিকড আপ। হি নেভার নিউ অ্যাবাউট দ্য ইমার্জেন্সি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার ৩ গুণ যাত্রী by মোরশেদ আলম

বৃহম্পতিবার রাতে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার যাত্রী নৌ-টার্মিনালে অবস্থান করছে। লঞ্চগুলো টার্মিনালে ভিড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে লঞ্চে উঠছে বসার জায়গা দখল করার জন্য। যাত্রীরা প্রথম- দ্বিতীয়- তৃতীয় শ্রেণির আসন ও সংরক্ষিত কেবিন না পেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চের নিচের ডেকে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্লোরে চাদর বিছিয়ে ও কেবিনের সামনে করিডোরে হাঁটার রাস্তায় আসন দখল করতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে লঞ্চের ভিেতরে তিল ধারণের জায়গা পর্যন্ত নেই। কোনো যাত্রীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে বসা যাত্রীদের পায়ে মাড়িয়ে যেতে হয়। প্রতিটি লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার বা তার নিচে হলেও লঞ্চগুলো প্রায় ৩ গুনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে গতকাল রাতে এমভি মিতালী-৪, এমভি ইমাম হাসান-১ ও ২, এমভি জমজম-১, তাকওয়া, এমভি ময়ুর-২ ও ৭, সোনার তরীসহ ৮-১০টি লঞ্চকে উপচে পড়া যাত্রী নিয়ে রাতের আঁধারে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল ত্যাগ করতে দেখা যায়। যাত্রীদের হুড়োহুড়ি করে উঠতে দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন এ লঞ্চটিতে না উঠলে তাদের জন্য কোনো লঞ্চই আর নৌ-টার্মিনালে আসবে না। তাই তারা জীবনের দিক বিবেচনা না করে জীবনবাজি রেখে লঞ্চে উঠছে। শুক্রবার সরজমিন লঞ্চঘাট গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগে লঞ্চগুলোর স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী যাত্রী হলেও ছাড়ছে না। নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে লঞ্চগুলো। সকাল থেকে এমভি সোনার তরী, এমভি রফ রফ, এমভি ঈগল অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ঘাট ছেড়েছে। রামপুর থেকে আসা যাত্রী রাসেল মন্তব্য করেন বলেন, কর্মমুখী মানুষ ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যাবেন- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে যেন দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে না পড়েন সে বিষয়ে লঞ্চ মালিক ও বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বরতদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ওই যাত্রী আরো জানান, দিনের চাইতে রাতের বেলা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিটি লঞ্চ ধারণ ক্ষমতার চাইতে ২-৩ গুন বেশি যাত্রী নিয়ে রাতের অন্ধকারে চাঁদপুর নৌ-সীমানা থেকে পাড়ি দিয়ে পদ্মা-মেঘনা, ধলশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছে। দিনের বেলা লঞ্চগুলো কর্মমুখী অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপারের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা দিনের আলোতে সাঁতরিয়ে নদী পাড়ি দিয়ে বা অন্য কোনো মাধ্যমে জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও রাতের আঁধারে দুর্ঘটনায় পড়লে জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।
লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি রুহুল আমিন জানান, চাঁদপুর-ঢাকা-চাঁদপুর নৌরুটে ভ্রমণ আরামদায়ক হওয়ার কারণে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে এ রুটে ২২টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাতায়াত করে। চাঁদপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুর জেলার আংশিক মানুষ এখন এ রুটে যাতায়াত করেন। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে এখন কর্মমুখী মানুষগুলো নিজ গন্তব্যে ফেরার জন্য লঞ্চেই যাওয়া শুরু করেছেন। তিনি আরো জানান, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী লঞ্চে না উঠার জন্য বললেও যাত্রীরা তা শুনছে না। বাধ্য হয়ে লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নির্ধারিত সময়ের ২০-৩০ মিনিট পূর্বে ঘাট ত্যাগ করতে হচ্ছে।
লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার জানায়, ঈদের পরে তেমন ভিড় ছিল না। হঠাৎ যাত্রী সংখ্যা বেড়ে গেছে। যাত্রীদের না ওঠার জন্য নিষেধ করলেও তারা জোরপূর্বক লঞ্চে উঠছে। এই কারণে নির্দিষ্ট যাত্রীর চাইতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো চাঁদপুর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীর চাপ থাকায় যাত্রী পারাপারের জন্য ২টি ম্পেশাল লঞ্চ দেয়া হয়েছে। দুপুর ১২টায় এমভি-মিতালী-৭ ও দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এমভি নিউ আল বোরাক-চাঁদপুর থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর থেকে ঢাকা গিয়েছে। শুক্র ও শনিবার এ দুদিন যাত্রী চাপ বেশি থাকবে।
ঈগল, ময়ুর, বোগদাদীয়া, ইমাম হাসান সহ কয়েকটি লঞ্চের চাঁদপুর ঘাটের দায়িত্বরত মালিক প্রতিনিধি আলী আজগর সরকার জানান, যাত্রীরা ইচ্ছে করেই ঈদের পরে না গিয়ে হঠাৎ করে এখন ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। লঞ্চে না উঠার জন্য বারণ করলেও তাদের থামিয়ে রাখা যায় না। তারা জোড় করে লঞ্চে উঠে। যার ফলে লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাট ত্যাগ করছে।
চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, স্বাভাবিকের চাইতে বেশি যাত্রী যাচ্ছে। ওভারলোডিংও হচ্ছে। সেটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। সিডিউল মোতাবেক লঞ্চ না আসায় সীমিত লঞ্চ হওয়ায় আমরা অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সুযোগ দিচ্ছি। বর্তমান সময়ে ঈদুল ফিতরের পর অতিরিক্ত যাত্রী বহন অপরাধ হলেও লঞ্চ সীমিত হওয়ায় জরিমানা করা হচ্ছে না।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশে হৃদরোগে মৃত্যুর ৩০ শতাংশের কারণ ধূমপান by তাসকিনা ইয়াসমিন

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ অবস্থাকে ‘মহামারী’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, তামাকজাত পণ্যবিরোধী সচেতনতা তৈরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে তামাকবিরোধী সচেতনতা তৈরি করতে পারলে আগামীতে হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার কমে আসবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর একক কারণ হিসেবে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ বা হৃদরোগের অবস্থান শীর্ষে। বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ৩১ শতাংশই হৃদরোগজনিত কারণে ঘটে। এর এক-তৃতীয়াংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশের জন্য দায়ী তামাক ব্যবহার এবং পরোক্ষ ধূমপান। ২০০৫-২০১৬ সময়ে বাংলাদেশে অকাল মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ সপ্তম স্থান থেকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। এবং এই পরিবর্তনের হার ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি তামাক ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এদেশে ৪ কোটি ৬০ লাখ বা ৪৩ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সিগারেট, বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করেন। ৫৮ ভাগ পুরুষ এবং ২৯ ভাগ নারী ধোঁয়াযুক্ত অথবা ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করেন।
২০১০ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা যায়, ৯৮ দশমিক ৭ ভাগ মানুষের মধ্যে অন্তত একটি অসংক্রামক রোগের (হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়বেটিস) ঝুঁকি, ৭৭ দশমিক ৪ ভাগ মানুষের মধ্যে অন্তত দুটি ঝুঁকি এবং ২৮ দশমিক ৩ ভাগ মানুষের মধ্যে অন্তত তিনটি ঝুঁকি রয়েছে।
তামাক ব্যবহারকে অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে প্রকাশিত ২০১৭ সালের বুলেটিন অনুযায়ী, ২০০৯-২০১৬ সালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক মো. হারিসুল হক বলেন, ‘কেউ নেয় ধোঁয়া হিসেবে, কেউ নেয় গুল, জর্দা পাতা বা সাদা পাতা হিসেবে নেয়। কেউ কেউ তামাককে অন্যভাবে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘মূলত তামাকের নিকোটিন ক্ষতিকর। এই নিকোটিন চামড়ার উপরে ব্যবহার করা যায়। যারা বহুদিন ধরে ধূমপান করে, ছাড়তে পারছে না তখন আমরা তাকে চামড়ার উপর নিকোডার্ম লাগাতে বলি। এতে করে চামড়ার উপর নিকোডার্মটা চলে যায়। তখন সে অনুভব করে যে সে সিগারেট খায়। তখন যদি এভাবে দুই-তিন মাস কেউ এভাবে চালাতে পারে তারপর আর সে সিগারেট খায় না।’
মো. হারিসুল হক বলেন, ‘যারা ধূমপান করেন তাদের প্রথমত দুইটা রোগ বেশি হয়— ১. ফুসফুস ও ২. মূত্রথলির ক্যানসার। হৃদরোগ, স্ট্রোক— এসব রোগের সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক আছে। রক্তনালী সরু হয়ে পচন হতে পারে (বার্জাস ডিজিজ)। এটা চাষীদের মধ্যে বেশি হয়। ইদানিং কিছু স্টাডিতে দেখা যাচ্ছে, যারা সাদা পাতার গুল খান তাদের মাড়ি এবং চোয়ালের ক্যানসার হচ্ছে। যারা স্মোকার তাদের ৮০ ভাগেরই চোখের রেটিনার রোগ হয়। হার্ট ও রক্তনালীর সঙ্গে পায়ের শিরার মধ্যে ব্লক হলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আবার ঘাড়ের শিরার মধ্যে ব্লক হলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যারা নিকোটিন খায় ঠিক তাদের রেটিনার অসুখ হবেই। মূত্রথলির ক্যান্সার যাদের হয় তাদের প্রত্যেকেই নারী হলে জর্দা খায়, পুরুষ হলে সিগারেট খায়। তামাক খেলে নিকোটিন রক্ত নালীকে গিয়ে সংকোচন বাড়িয়ে দেয়। ঘন ঘন সংকোচন হলে ঠিকমতো রক্ত যেতে পারে না বুক ধড়ফড় করে। এসময় অক্সিজেন পায় আর তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়।’
তামাক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি বাংলাদেশ সরকার বর্তমান তামাকের কর ব্যবস্থাকে সংশোধন করে তাহলে এটি প্রায় ৬ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বর্তমান প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত করবে (৩ দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন সিগারেট ধূমপায়ী এবং ৩ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন বিড়ি ধূমপায়ী), সিগারেট সেবনের প্রবণতা ২ দশমিক ৭ ভাগ এবং বিড়ি সেবনের প্রবণতা ২ দশমিক ৯ ভাগে কমিয়ে আনবে, দীর্ঘমেয়াদে বর্তমান ধূমপায়ীদের মধ্যে অকাল মৃত্যু ২ দশমিক শূন্য ১ মিলিয়নে কমিয়ে আনবে (১ দশমিক শূন্য ৮ মিলিয়ন সিগারেট এবং ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫০ বিড়ি ধূমপায়ী) এবং অতিরিক্ত রাজস্ব ৭৫ থেকে ১০০ বিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পাবে (জিডিপি’র শূন্য দশমিক ৪ ভাগ)। এই অতিরিক্ত রাজস্ব তামাক ব্যবহারজনিত ক্ষতি হ্রাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে নতুন বা বিদ্যমান কর্মসূচির তহবিল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আইনজীবী ও তামাক বিশ্লেষক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সচেতনতার মাধ্যমে তামাকের কারণে হওয়া হৃদরোগ থেকে মানুষ দূরে রাখতে পারি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে কীভাবে হৃদরোগ হয় সে সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা, হার্টের সুস্থতা এবং সব ধরনের তামাকপণ্য থেকে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতনতা সৃষ্টিতে আমরা কাজ করতে পারি। পাশাপাশি তামাক পণ্যের ওপর কর বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে তামাক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে আমরা হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারি।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ▼ 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...