Monday, February 16, 2015
এশিয়ায় ধর্ষণের ব্যাপকতা by নাজমুল হোসেন
ভারতের নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠে। দিল্লির ওই ঘটনা ভারতে নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনে। ২০১২ সালে ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে নির্মম গণধর্ষণের শিকার মেডিক্যাল ছাত্রীর মামলার রায় দিয়েছে সে দেশের আদালত। প্রত্যাশিতভাবেই দোষী চারজনকেই ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। ‘বিরলের মধ্যে বিরলতর’ ঘটনা উল্লেখ করে চারজনকেই চরমতম সাজা দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পরই আদালত কক্ষে উপস্থিত ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর মারাত্মক অত্যাচার করে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় রেখে যায় ধর্ষকেরা।
একই সাথে ওই ছাত্রীর সাথে থাকা ছেলেবন্ধুকেও মারধর করে চলন্ত বাস থেকে ফেলা দেয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে আদালতের রায় দেয়ার আগপর্যন্ত ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। চরমতম শাস্তির দাবিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আদালত চত্বরে যুব-জনতা নিয়মিতভাবে ভিড় জমায়। দণ্ড ঘোষণার দিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রায় প্রকাশের পর বিচারপতি বলেন, পরিকল্পনা করে ঠাণ্ডামাথায় নৃশংসতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়ে এই অপরাধ ঘটানো হয়। তাই মৃত্যুদণ্ডই এর একমাত্র শাস্তি।
এই পরিস্থিতিতে চিন্তার বিষয় হলো এক দিকে দেশকাঁপানো একটি অপরাধের পর এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তির পরও যদি এভাবে এই ঘটনা বেড়েই চলে তাহলে তা উদ্বেগজনক। ভারতের অভিভাবকেরা, বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা তাদের কন্যাসন্তানদের এখন বাড়ির বাইরে পাঠাতে ভয় পান। এই পরিস্থিতি ভারতের মতো একটি দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
দুর্ভাগ্যবশত এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থাও তেমন ভালো নয়। মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানচেট গ্লোবাল হেলথের একটি নতুন গবেষণা জানাচ্ছে বিষয়টি। জরিপে অংশ নেয়া এশিয়ার ছয়টি দেশের প্রতি ১০ জনের একজন জানিয়েছেন, তারা তাদের স্ত্রী নয় এমন কাউকে ধর্ষণ করেছে। এ পরিসংখ্যান প্রতি চারজনে একজন দাঁড়ায়, যখন তাদের স্ত্রী ও মেয়েবন্ধুদের এ তালিকায় যোগ করা হয়। গবেষকেরা এ কাজে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ও শ্রীলঙ্কার ১০ হাজারেরও বেশি নাগরিকের মধ্যে জরিপ পরিচালনা করেন। জরিপে অংশ নেয়া নাগরিকদের বয়স ছিল ১৮-৪৯।
ধর্ষণ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রশ্ন করা হয়নি তাদের, বরং জানতে চাওয়া হয়েছিল, যৌনমিলনে তারা তাদের স্ত্রী বা মেয়েবন্ধুদের বাইরে অন্য কোনো নারীকে কখনো জোরজবরদস্তি করেছিল কি না। উত্তরগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ছিল ৪ শতাংশ আর পাপুয়া নিউগিনির ক্ষেত্রে তা ছিল ৪১ শতাংশ। এমনকি প্রতি সাতজন ধর্ষকের মধ্যে একজন প্রথম এ ঘটনাটি ঘটায়, যখন তার বয়স ১৫ বছরেরও কম ছিল। ২০ বছরের নিচেই অর্ধেক পুরুষ এ অপকর্মে যুক্ত হয়েছিল। মাত্র ৫৫ শতাংশের মধ্যে অনুতাপ কাজ করেছিল এবং এক-চতুর্থাংশের কম অভিযুক্ত হয়ে জেল খেটেছিল।
জাতিসঙ্ঘ প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, এশিয়ায় বেশির ভাগ নারী ধর্ষণের পেছনে দায়ী থাকে তার বন্ধু বা প্রেমিক। এশিয়ার এক-চতুথাংশ পুরুষ বর্তমানে ধর্ষণে অংশগ্রহণ করেন। জরিপে দেখা গেছে প্রেমসংক্রান্ত বিষয়ে নারীরা বেশি ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে। আর এর বিপরীতে এশিয়ায় প্রতি ১০ পুরুষের মধ্যে একজন অপরিচিত নারীকে ধর্ষণ করছে। এই জরিপে ছয়টি দেশের প্রায় ১০ হাজার পুরুষ অংশগ্রহণ করেছে। অবাক করার বিষয় হলো, এই জরিপে দেখা গেছে যারা ধর্ষণ করছে তাদের অর্ধেকের কম স্বীকার করেছে তারা এ রকম কাজ একধিকবার করেছে। এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে ধর্ষণের ব্যাপকতা একেক দেশে একেক রকম। পাপুয়া নিউগিনির ১০ জন পুরুষের মধ্যে ছয়জনেরও বেশি নারীদের সাথে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এর পাশাপাশি কম্বোডিয়া, চীন ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি পাঁচজনের একজন ধর্ষণের সাথে জড়িত।
ধর্ষণ প্রবণতায় জাতিসঙ্ঘের প্রতিবদন
পাপুয়া নিউগিনির বোগেনভিল উপদ্বীপ : ৬২%
ইন্দোনেশিয়ার শহরাঞ্চলে : ২৬%
ইন্দোনেশিয়ার গ্রামাঞ্চলে : ১৯.৫%
চীনের শহর ও গ্রামাঞ্চলে : ২২.২%
কম্বোডিয়ায় : ২০.৫%
শ্রীলঙ্কায় : ১৪.৫%
দিল্লির বাসে গণধর্ষণের মতো মারাত্মক ঘটনার পর এই জরিপের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে জানান ড. ইম্মা ফুলু। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো এই জরিপে ভারতের কোনো প্রবণতা উল্লেখ করা হয়নি। ছয়টি দেশের ১০ হাজার মানুষের ওপর তার এই গবেষণা চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেন।
আফ্রিকান মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল এশিয়ার যে ছয়টি দেশের ওপর অনুসন্ধান করেছে সেগুলো হলো, বাংলাদেশ, চীন, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও পাপুয়া নিউগিনি। ১০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানায়। গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতি ১০ জনে একজন পুরুষ সঙ্গিনী নন এমন মহিলাকে ধর্ষণ করেন। জরিপে আরো প্রকাশ করা হয় পুরুষই একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছেন। যেখানে বাংলাদেশের ১১ শতাংশ পুরুষ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। সেখানে পাপুয়া নিউগিনিয়ার ধর্ষকের সংখ্যা ৬০ শতাংশ।
এশিয়ার ওপর এ জরিপ চালানো হলেও এখানে সবচেয়ে ধর্ষণকবলিত দেশ হিসেবে আলোচিত ভারতের নাম নেই। অথচ বিশ্বে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র ভারত ধর্ষণের জন্য বেশ সমালোচিত। ভারতীয় ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী এখানে প্রতি ২০ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়।
শুধু তা-ই নয় সাম্প্রতিক সময়ে গণধর্ষণের ঘটনাও বেড়ে গেছে ভারতে। এমনকি বিদেশী পর্যটকেরাও বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর পরও জরিপে ভারতের নাম না থাকার বিষয়টি বিস্ময়কর।
এই জরিপে ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মোট ১০ হাজার ১৭৮ জন পুরুষ অংশ নেয়। জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে পরিচালিত এ ধরনের জরিপ এটিই প্রথম। ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জরিপ চালানো হয়। জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিল এমন নারীকে পুরুষ দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা এ অঞ্চলে শতকরা ২৪ ভাগ। বাংলাদেশে এ হার ১৩ ভাগ এবং পাপুয়া নিউগিনিতে ৫৯ ভাগ। জরিপে অংশ নেয়া চার ভাগের এক ভাগ পুরুষ স্বীকার করেছেন, তারা কমপক্ষে একজন নারীকে ধর্ষণ করেছেন। আর ধর্ষকদের মধ্যে অর্ধেক স্বীকার করেছেন, তারা একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। প্রশ্নপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে এ জরিপ চালানো হয়। তবে প্রশ্নপত্রে ধর্ষণ শব্দটি গোপন রাখা হয়। জরিপে অংশ নেয়া পুরুষদের প্রশ্ন করা হয়, আপনার স্ত্রী অথবা সঙ্গী যৌনসম্পর্ক স্থাপনে রাজি হবে না জেনেও কি আপনি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন?
অন্য এক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, আপনি কি নেশাগ্রস্ত ও মদ্যপ অবস্থায় কোনো নারীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করেছেন। হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি রাজি হতেন না।
কারো অসম্মতিতে বা জোর করে যৌনকর্মে বাধ্য করাকে ধর্ষণের ভিত্তি ধরে জরিপটি পরিচালিত হয়। আশঙ্কার ব্যাপার হলো, ধর্ষণ করেছেন এমন ব্যক্তিদের অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, তারা বয়ঃসন্ধিক্ষণে এবং ১২ শতাংশ ১৫ বছরের কম বয়সে ওই কাজ করেছেন। বেশির ভাগ পুরুষ বলেছেন, এ কাজের জন্য তাদের কোনো আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হয়নি।
সবচেয়ে বেশি ধর্ষক মিলেছে পাপুয়া নিউগিনিতে। এ দেশের বোগেনভিল এলাকার ৬২ শতাংশই ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। হয়তো বহু বছরের গৃহযুদ্ধ ও দারিদ্র্যের কারণে দেশটির এ পরিস্থিতি। ১৯৯৮ সালে দেশটিতে যুদ্ধ শেষ হয়। তবে এখনো আইনি ব্যবস্থার চেয়ে সামাজিক সালিসব্যবস্থাকেই বেশি গুরুত্ব দেয় দেশবাসী।
জাতিসঙ্ঘের নারীবিষয়ক অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক রবার্ট ক্লার্ক থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘অনেক নারীর জন্যই সহিংসতা এক বীভৎস বাস্তবতা। যে সংস্কৃতি পুরুষকে নারীদের ওপর খবরদারি চালানোর সুযোগ করে দেয়, সে টিকে অবশ্যই বদলে দিতে হবে।’ জাতিসঙ্ঘ বলছে, ধর্ষণের প্রবণতা স্থানভেদে কমবেশি হয়। যেসব এলাকায় জরিপ পরিচালিত হয়েছে সেগুলো পুরো দেশের সম্পূর্ণ পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করে না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তান যে কারণে হারল : মিয়াঁদাদের বিশ্লেষণ
ম্যাচের একাদশ নির্বাচনটাই পাকিস্তান সমর্থকদের চরম হতাশ করল৷ ইউসিন খানকে ওপেনার হিসেবে পাঠানোর পিছনে কোন রকেট সায়েন্স ছিল? স্পেশালিস্ট উইকেটকিপার সরফরাজ আহমেদও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংক করতে পারে, তা-ও ও কেন বাদ?
চোট পাওয়া মহম্মদ হাফিজের বদলি নাসির জামশেদ শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া উড়ে গিয়েছে৷ ও কি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য গিয়েছে, নাকি ওকে বিশ্বকাপের ম্যাচেও খেলানো হবে? উইকেট কিপিংটা স্পেশালিস্টদের কাজ৷ গুরুতর মুহূর্তে উমর আকমলকে বিরাট কোহলির ক্যাচটা ওকে মিস করতে দেখে আমি কিন্তু অবাক হইনি৷ এই ধরণের ভুলগুলোর মানে, পাকিস্তান টিম এটা জানেই না কোথায় তাদের শক্তি৷ ওরা চাইছে ৮ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যান থাকুক৷ সঙ্গে ছ'টা বোলারও যেন থাকে হাতে৷ বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এগুলো করা যায় না৷
ভারত তাদের হোমওয়ার্কটা দারুণ ভাবে করে রেখেছিল৷ ধাওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে কোহলি ভারতের ইনিংসটা তৈরি করে গেল৷ ওদের বিরুদ্ধে মিসবার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না৷ পাকিস্তানের পেস বোলিং ও মহম্মদ ইরফানের উচ্চতা নিয়ে ওরাও চিন্তিত ছিল৷ কিন্তু লুজ বলের জন্য অপেক্ষা করে গিয়েছে৷ আমার মনে হল, বড় ম্যাচের চাপটা ইরফানের মধ্যে প্রভাব ফেলেছিল৷ না হলে বল করতে গিয়ে ডেঞ্জার জোনে বারবার ঢুকে রাউন্ড দ্য উইকেট বল করতে বাধ্য হত না৷
কোহলি আর ধাওয়ান বুদ্ধিমানের মতো স্ট্রাইক বদলে গিয়েছে নিয়মিত৷ ধাওয়ান যদি রান আউট না হত, আরও ৩০-৪০টা রান বাড়ত৷ কোহলি-ধাওয়ানের শতরানের পার্টনারশিপটাই ধোনিকে অনেক রিল্যাক্স করে দিয়েছিল৷ তাই রাহানের আগে ও রায়নাকে পাঠাতে পারল৷ ডান হাতি-বাঁ হাতি কম্বিনেশনের বিরুদ্ধে পাক বোলাররা কখনওই স্বস্তিতে ছিল না৷ অ্যাডিলেডের মতো ব্যাটিং উইকেটে বোলাররা ক্রমাগত শর্ট বোলিং করল৷
স্পিনটা ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা দারুণ খেলে৷ তবু তিন জন স্পিনারকে নিয়ে নেমেছিল পাকিস্তান৷ ইয়াসিরের আটটা ওভার খুব সহজে সামলে ভারতীয়রা ৬০টা রানও করেছে৷ বাঁ হাতি স্পিনার হ্যারিস সোহেলকে খেলানো আর একটা ঝুঁকি৷ অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডের পিচে ওর সফল হওয়া খুব মুশকিল৷ পাকিস্তানের একটাই পজিটিভ দিক দেখলাম, পাঁচ উইকেট পাওয়া পেসার সোহেল খান৷
অ্যাডিলেডের পিচে কোনও জুজু ছিল না৷ দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে ব্যাটসম্যানরা টিমকে হারাল৷ মিসবা টসের সময়ই বলল, ও ইউনিসকে দিয়ে ওপেন করাবে৷ স্কোর বোর্ডে ৩০০ রান দেখার পর ভাবলাম, আহমেদ শাহজাদের সঙ্গে আফ্রিদিকে ওপেন করতে পাঠাতে পারে মিসবা৷ কিন্তু পাক অধিনায়কের তো ম্যাচ রিডিংটাই নেই! মিসবা যতই রান করুক, ওর ৭৬ রান হারের ব্যবধানটা শুধু কমিয়েছে৷
১৯৯২ সালেও ভারতের কাছে পাকিস্তান হেরেছিল৷ কিন্তু তার পরও কাপটা জিতে ফিরেছিলাম আমরা৷
ভারতের ম্যাচটার পর পাকিস্তানের উপর আর চাপ থাকল না৷ গ্রুপ লিগের বাকি পাঁচটা ম্যাচে মনোঃসংযোগ করুক৷ শুধু নজর রাখুক, ব্যক্তির উর্ধ্বে উঠে টিমকে গুরুত্ব দিক৷ যারা ফর্মে নেই তাদের বাদ দিয়ে ঠিকঠাক টিম মাঠে নামাক মিসবাহ৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজধানীতে ৮ গাড়িতে আগুন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজশাহীর লালনশাহ পার্ক- ব্লক চুরি, সৌন্দর্য ম্লান by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সে সময় এই পার্কে ১ হাজার ১৩২ বর্গমিটার আয়তনের একটি ওপেন থিয়েটার, একটি ফুডকোর্ট, ৮২ দশমিক ৮১ বর্গমিটারের দুটি কফিশপ ও ২৫৫৮ দশমিক ৮৫ বর্গমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ফুডকোর্টের ভেতরে তিন দিকে তিনটি ঘর রয়েছে। দক্ষিণ দিকে ৪৫ দশমিক ৫৭ বর্গমিটার, পশ্চিমে ৮১ দশমিক ১৮ বর্গমিটার ও উত্তর পাশে ৪০ দশমিক ৪ বর্গমিটার আয়তনের ঘর নির্মাণ করা রয়েছে। ফুডকোর্টের ভেতরে ১৭৪ বর্গমিটার এবং বাইরে (পূর্বে) ৬৩ দশমিক ৩৪ বর্গমিটারের দুটি বাঁধানো চত্বর রয়েছে। এগুলো ঘিরে আরও অনেক শৈল্পিক আয়োজন করা হয়েছে।
কফিশপের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ছোট ছোট যে চৌবাচ্চা করা হয়েছে, তাতে পানি ও ময়লা জমে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ ছাড়া সুন্দর বাঁধানো জায়গার সর্বত্রই ময়লা-আবর্জনায় ভরা।
গতকাল দুপুরে পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, এর দৃষ্টিনন্দন ২৭টি জায়গা থেকে ২০০ শতাধিক ব্লক চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে পশ্চিম দিকে খোলা মঞ্চের পেছন দিক দিয়ে নামার প্রথম সিঁড়ির রেলিংয়ের চারটি জায়গা থেকে আটটি ব্লক তুলে নেওয়া হয়েছে। মঞ্চের একটি জায়গা থেকে ১০টি ব্লক এবং অন্য একটি জায়গা থেকে চারটি টাইলস, মঞ্চের পূর্ব দিকের চারটি জায়গা থেকে ১৫টি ব্লক খুলে নেওয়া হয়েছে।
পার্কের পূর্ব দিকে গিয়ে দেখা যায়, গরুকে খাবার দেওয়ার জায়গায় গরুর পায়ের নিচে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে কিছু ব্লক; যাতে গরুর পায়ের নিচের জায়গাটুকু কর্দমাক্ত না হয়। কেউ কেউ নিজের সুবিধামতো জায়গা দিয়ে শহররক্ষা বাঁধের ওপরে ওঠার জন্য ওই ব্লক এনে সিঁড়ি বানিয়েছেন। এ ছাড়াও বাঁধের ওপরে ছোট ছোট যে দোকান করা হয়েছে, সেসব দোকানের কাজেও এ ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে।
পূর্ব পাশে চারটি গাছ লাগানো হয়েছিল। তার একটিও বেঁচে নেই। গোড়া বাঁধাই করা ছিল। তা থেকে তিনটি ব্লক খুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফুডকোর্ট, পশ্চিম পাশের কফিশপ ও পূর্ব পাশের কফিশপ এবং পার্কের পূর্ব দিকে ওয়াকওয়ে থেকে আরও অর্ধশতাধিক ব্লক খুলে নেওয়া হয়েছে। যেসব জায়গা থেকে ব্লক ওঠানো হয়েছে, তার পাশেরগুলো নড়বড়ে করে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় এগুলো খুলে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পূর্ব দিকে ওয়াকওয়ের পাশের জায়গা স্থানীয় লোকজন ইচ্ছেমতো গবাদিপশু পালনের কাজে ব্যবহার করছে। সব সময় সেখানে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হচ্ছে। পূর্ব দিকে একটি ছোট বটগাছের গোড়া সুন্দর করে বাঁধাই করা ছিল। গাছটি বড় হলে সেটি একটি দৃষ্টিনন্দন চত্বর হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে বটগাছটি ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে। গোড়ার গোলচত্বর থেকে ব্লক খুলে নেওয়া হয়েছে। মাঝখানে ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছে। এক পাশে ব্লক দিয়ে বাঁধানো সুন্দর জায়গাটিতে গরুর খাবারের জন্য চাড়ি (খাবারের পাত্র) বসানো হয়েছে। সেখানে গরুর পরিচর্যা করছিলেন গৃহবধূ রীপা খাতুন। তিনি জানান, এখানে জায়গা পড়ে থাকে, তাই তাঁরা ব্যবহার করেন। সরকার থেকে নিষেধ করা হলে তাঁরা অন্যত্র চলে যাবেন।
পার্কের দর্শনার্থী স্কুলশিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘পার্কের কাছে এসে দাঁড়ালে জায়গাটিকে স্বপ্নের জায়গা মনে হয়। দুই বছর আগে যাঁরা রাজশাহীতে এসেছেন, তাঁরা এখন এ জায়গা চিনতে পারবেন না। পরিত্যক্ত স্থানে এমন পরিকল্পিত একটি বিনোদনকেন্দ্র করা যাবে, আমরা কখনো কল্পনা করতে পারিনি। এর নির্মাণশৈলীই রোজ বিকেলে এখানে হাজারও মানুষকে টেনে আনে। কিন্তু এমন জায়গা অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, মনে হচ্ছে দেখার কেউ নেই।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, ব্লক চুরির বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। এ জন্য তাঁরা পার্কের চারদিকে একটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কথা ভাবছেন। তিনি আরও বলেন, এর নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এ জন্য আরও দেড় কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর ফোন বন্ধ রয়েছে।
সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান বলেন, ‘বাকি নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য অর্থমন্ত্রীর একটি তহবিল থেকে এখনো আমি টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছি। কিন্তু সংরক্ষণ করতে না পারলে তো টাকা এনে লাভ হবে না।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৪০ দিনে গ্রেপ্তার ১৪,০০০ by নুরুজ্জামান লাবু
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ই জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা সমাবেশের দু’দিন আগে থেকেই মূলত রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গণগ্রেপ্তার শুরু হয়। এরপর টানা গ্রেপ্তার চলতে থাকে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের তালিকা করা হয়েছে। তালিকা ধরে ধরে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় সিটি এসবি ও গোয়েন্দা শাখা ছাড়াও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের তালিকা করা হয়। ঢাকার বাইরে প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় একইভাবে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর মেট্রোপলিটনের বাইরে প্রতিটি জেলায় পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জেলা-উপজেলার বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ গ্রেপ্তার অভিযানের কারণে রাজধানী ও জেলা-উপজেলার বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা সবাই আত্মগোপনে চলে গেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকার বাইরে রাজশাহী, যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা অন্য জেলাগুলোর চাইতে বেশি। এসব এলাকায় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে এসব এলাকায় বেশি সংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারা দেশে বিশেষ গ্রেপ্তার অভিযানে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের বাইরেও সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তারের নামে ‘বাণিজ্যে’ নেমে গেছেন। অর্থবিত্তের খোঁজ-খবর নিয়ে বিএনপি সমর্থন করেন এরকম লোকজনকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে পুলিশের মহাপরিদর্শক শনিবার বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের ইন্টারনাল গোয়েন্দারা এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন। এদিকে ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত ৪০ দিনে রাজধানী ঢাকায় বিরোধী জোটের অন্তত দেড় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ হিসেবে রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গত ৫ই জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি ৫ তারিখ পর্যন্ত রাজধানীতে ১১০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও ২২৭টি মামলা দায়ের হয়। এর বাইরে গত ১০ দিনে আরও অন্তত ৪০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীতে গ্রেপ্তারের বিশেষ অভিযানে একে একে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল কোতোয়ালি থানা পুলিশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক থানা সাংগঠনিক সম্পাদক রজ্জব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দক্ষিণখান এলাকা থেকে জামায়াতের বিমানবন্দর থানা সভাপতি এনামুল হকসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যরা হলেন আবদুল হান্নান, ইকবাল হোসেন ও হাবিবুর রহমান। তারা সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর বাইরে গতকাল বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৪০ দিনে গ্রেপ্তার হওয়া দেড় সহস্রাধিক বিরোধী জোট নেতাকর্মীদের মধ্যে ৯৯৬ জন বিএনপি ও বাকিরা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। এদের মধ্যে প্রায় শ’ দুয়েক নেতাকর্মীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে নাশকতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাদেরই কেবল গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ অনেক সতর্কতা অবলম্বন করে অভিযান চালায়, যাতে সাধারণ মানুষ কেউ যেন হয়রানি না হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হরতাল-অবরোধে দরপতন- সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষই দুগ্ধ খামারের ওপর নির্ভরশীল। দুটি উপজেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ লিটার দুধ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। আর কিছু দুধ সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী মিল্ক ভিটায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বাকি দুধ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কিনে অন্যত্র সরবরাহ করেন। কিন্তু টানা অবরোধ-হরতালে পরিবহন বন্ধ থাকায় দুধ সরবরাহ কমে গেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদামতো দুধ কিনছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান ৫০ টাকা লিটারের দুধ দাম কমিয়ে ২৮ থেকে ৩৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। তাও আবার তাদের সুবিধামতো ক্রয় করছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে দুধ সরবরাহ করতে না পেরে তাঁরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন হাটবাজারে ১২ থেকে ১৫ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করছেন। এতে তাঁদের খরচই উঠছে না।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার খামারিরা জানান, প্রতিদিন তাঁদের খামারের প্রায় ৩০ হাজার লিটার দুধ উপজেলার জগাতলা এলাকায় ব্র্যাকের দুগ্ধ ক্রয়কেন্দ্রে সরবরাহ করেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি দুধ ক্রয় ও দাম কমিয়ে দিয়েছে। অনেক সময় পরিবহনে সমস্যা হলে দুধ ক্রয় বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে প্রতিদিনই দুধ নিয়ে ঝামেলায় পড়ছেন তাঁরা। অনেকের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশাও দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে উপজেলার কয়েকটি সমবায় সমিতির খামারিরা দুধ নিয়ে ব্র্যাকের ক্রয়কেন্দ্রে যান। ক্রয়কেন্দ্র থেকে তাঁদের জানানো হয় যে বিকেলে দুধ নেওয়া হবে না। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন খামারিরা। শেষ পর্যন্ত ক্রয়কেন্দ্র দুধ না নেওয়ায় ৭৭ জন খামারি তাঁদের প্রায় দুই হাজার লিটার দুধ সড়কে ঢেলে প্রতিবাদ জানান।
এ প্রসঙ্গে উপজেলার পাথরঘাটা সমিতির জুয়েল রানা বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে তাঁরা প্রতিদিন দুধ নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন দেনা বাড়ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে খামারের গাভি বিক্রি করেছেন। এভাবে চলতে থাকলে খামারিদের পথে বসতে হবে।
ফরিদপুর উপজেলার আরকান্দি গ্রামের খামারি আবদুল মমিন বলেন, ‘আমার খামারে ১০০ লিটার দুধ হয়, যা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতাম। অবরোধের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানই দুধ নিচ্ছে না। ফলে পুরো দুধই স্থানীয় বাজারে অল্প দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
ব্র্যাকের ভাঙ্গুড়া দুগ্ধ ক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আবদুদ দায়েন বলেন, টানা হরতাল ও অবরোধের কারণে দুধের লরি নিয়মিত যাতায়াত করতে পারছে না। তাই প্রতিদিন দুধ ক্রয়ও সম্ভব হচ্ছে না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বাংলাদেশে নির্বাচন ছাড়া সঙ্কটের সুরাহা হবে না’
বার্তা সংস্থা এএফপি‘র এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ক্রিস্টিয়ান ওট্টোনের লেখা এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিলাপ করে রাকিবের মা রাশিদা খাতুন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন, আমার ছেলে কার কি ক্ষতি করেছে? ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে হুইল চেয়ারে করে মায়ের সামনে দিয়ে ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি বলছিলেন, সে আমাদের পরিবারের একমাত্র খাদ্য যোগানকারী সদস্য। আমরা আমাদের হাত দিয়ে শুধু জীবিকা অর্জন করতে পারি। কিন্তু, সে এখন সেটাও করতে পারবে না।
সরকার ও বিরোধী দলের সহিংসতায় ঢাকার হাসপাতালে আহতদের উপচে পড়া ভিড়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার শত্রুতা বহু যুগ পুরনো এবং তাদের দলীয় সহিংসতা নতুন কোন ঘটনা নয়। কিন্তু, পর্যবেক্ষরা আশঙ্কা করছেন সাম্প্রতিক রক্তপাতের ঘটনা ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হতে পারে। এ বছর এ ঘটনাগুলোতে এখন পর্যন্ত ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার সূত্রপাত। প্রধানমন্ত্রীর অনড় অবস্থান ও দলীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়া আটক থাকায়, আশার খুব বেশি আলো দেখছেন না কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঢাকার একজন বিশ্লেষক আতাউর রহমান বলছিলেন, এ সহিংসতা চলতেই থাকবে এবং তা ধীরে ধীরে জ্বলবে। ২০১৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে যাবে। আতাউর রহমান বলেন, সহিংসতার দায়ের একটি অংশ অবশ্যই খালেদা জিয়াকে নিতে হবে। কিন্তু, তিনি এখনও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। ধারণা থেকে আতাউর রহমান এমনটাও বলছেন, মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি’র মতো গৃহবন্দিত্বেও কাটাতে পারেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। খালেদা জিয়া বলছেন, গত ৩রা জানুয়ারি থেকে তিনি গুলশান কার্যালয় থেকে বের হতে পারছেন না। ‘প্রহসনমূলক’ নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীতে বিক্ষোভ-আন্দোলনের আহ্বান জানানোর সময় থেকেই তিনি কার্যালয়ে আটক রয়েছেন। নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে খালেদা জিয়া সড়ক-অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন। তারপর থেকে শ’ শ’ যানবাহন পেট্রলবোমার আগুনে পুড়েছে। বিরোধী দলের জঙ্গিরা এ সমস্ত হামলা চালাচ্ছে বলে সরকারের অভিযোগ। অন্যদিকে, বিএনপি এর দায় চাপাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর।
বিরোধী দলীয় বহু কর্মীকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত বছরের নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বহু দিক থেকে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাপ্রবাহ বেশি আতঙ্কজনক। কারণ, এ ঘটনাগুলো ঘটছে বিশৃঙ্খলভাবে এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে সহিংসতা অবসানের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের সার্জন সাজ্জাদ খন্দকার (৫৫) বলছিলেন, ককটেল বা বিশেষ হাতবোমা ও পেট্রলবোমায় দগ্ধ ৫৫ জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট বার্ন ইউনিটের করিডোরে চিকিৎসার অপেক্ষায় স্ট্রেচারে শুয়ে আছেন বহু মানুষ। বেশির ভাগ মানুষই বলছেন কিভাবে তাদের যানবাহনে আগুন দেয়া হলো। ৫ ডলারেরও কমে এ হামলাগুলো চালাচ্ছে তরুণরা। গাজীপুরের একটি সবজির বাজার থেকে রাস্তায় পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট সবজি সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ হামলার শিকার হয় রাকিব। তার সারা শরীর আগুনে দগ্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে আহতদের দেখতে গিয়ে বার্ন ইউনিটে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি বিএনপি’র সঙ্গে সংলাপে বসতে চান কিনা। প্রত্যুত্তরে তিনি ক্ষুব্ধভাবে বলেছিলেন, খুনিদের সঙ্গে, যারা আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারছে, তাদের সঙ্গে? এমন কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছিলেন, সরকার সংলাপের নীতির বিরুদ্ধে নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা সম্ভব নয়। এএফপি’কে ইনু বলেন, আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে ধর্মীয় জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করা। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে এএফপি’কে দেয়া সাক্ষাতকারে খালেদা জিয়া হাসিনাকে সরে দাঁড়ানো ও একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সব দলের ঐকমত্যে ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই নির্বাচন হওয়া উচিত। পাল্টা-জবাবে ইনু বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে ঐক্যের সরকারে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু, সেটা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। খালেদা জিয়ার বয়কটকে মারাত্মক ভুল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, জনমত জরিপগুলো বিএনপি’র জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ইউরোপীয় এক কূটনীতিক বলছিলেন, ব্যাপক পর্যবেক্ষণের আওতায় নির্বাচন হতো এবং ভোটে কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত হলে, খালেদা জিয়া ব্যাপক কূটনৈতিক সমর্থন পেতেন। ওই কূটনীতিক বলেন, ঢাকায় জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। দেশকে অচল করে দিতে বিএনপি’র প্রচেষ্টা এখন তেমন একটা প্রভাব ফেলছে না। অপর এক পশ্চিমা কূটনীতিক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছিলেন, খালেদা জিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলায়, চলমান সহিংসতাই ‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থা হয়ে হয়ে ওঠার মতো ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ, নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় এ সহিংসতাই হয়ে উঠতে পারে স্বাভাবিক।
৩ দশক ধরে পারস্পরিক অপছন্দের সম্পর্কের কারণে দুই নেত্রীকে ‘ব্যাটলিং বেগমস’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। শেখ হাসিনার পিতা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার স্বামী সামরিক সরকারের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ছিলেন স্বাধীনতাযুদ্ধের নায়ক। দুই জনই হত্যাকান্ডের শিকার হন, যা তাদের শহীদী মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। এমনকি পরবর্তী প্রজন্মও দুই নেত্রীর শত্রুতার বিষে আক্রান্ত। খালেদা জিয়ার পুত্র ও তার সুস্পষ্ট উত্তরাধিকারী তারেক রহমান সরকারকে ভীষণভাবে অপছন্দ করেন। তিনি এখন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। ২০০৪ সালে বোমা হামলার ঘটনায় অনুপস্থিতিতে তারেকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। বিএনপির মধ্যে কেউ কেউ আশঙ্কা করেন যে সরকার বিএনপি’কে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। খালেদা জিয়া ও অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ এনে তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার ষড়যন্ত্র করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ১৯৭১ সাল থেকে প্রায় ২০টি অভ্যুত্থানের ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশ। তবে, পুনরায় সেনা হস্তক্ষেপ হতে পারে এমন রিপোর্ট নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, দ্রুত সঙ্কট সমাধানের কোন ইঙ্গিত নেই। তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ সংঘাত চলতে থাকবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘জানমাল রক্ষার জন্য কাউকে হত্যা করলে অপরাধ হবে না’ -ডিআইজি রাজশাহী
আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে কার্যবিধি ৪৬ ধারা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বা অপরাধী মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন দন্ডে দন্ডিত তাদেরকে গ্রেপ্তারে গুরুতর আঘাত থেকে শুরু তাকে হত্যা করার ক্ষমতা আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতিটি সদেস্যর আছে। আজকে যারা পেট্রোল বোমা ককটেল মেরে মানুষ হত্যা করছে তাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড, যারা এসব করছে তা সন্ত্রাসী কাজ তা রাজনৈতিক কর্মসূচী হতে পারে না। এটা স্বমূলে উৎপাটন করার দায়িত্ব আমাদের। যারা এগুলো মারছে বা বহন করছে তাদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন পিছপা হবে না, প্রয়োজনে তাদের হত্যা করে গ্রেপ্তার করা হবে। জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকা সিটি’র নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগাগোড়া সব সমান by শামীমুল হক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
র্যাব কেন হাডুডু খেলবে না? by কামাল আহমেদ

এ ধরনের দৈহিক শক্তির কসরতওয়ালা খেলাধুলা সব দেশেরই সামরিক বাহিনী বা অন্যান্য সুশৃঙ্খল বাহিনীর ব্যারাকগুলোতে নিয়মিত অনুশীলনের একটি আবশ্যিক অংশ। আমাদের দেশে যেহেতু রাগবির প্রচলন নেই এবং ফুটবলের জন্য সব জায়গায় বড় আকারের মাঠও নেই, সে কারণে অল্প জায়গায় খেলা যায় এমন একটি প্রতিযোগিতা হিসেবে হাডুডুর চেয়ে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য খেলা আর কী হতে পারে? অথচ, আমাদের একটি নিরাপত্তা বাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান তাঁর মন্তব্যে হাডুডু সম্পর্কে কিছুটা অবমাননাকর মন্তব্য করে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন। তিনি ক্রসফায়ারের সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়েছেন যে ‘আমরা অস্ত্র ব্যবহার করব না তো কি হাডুডু খেলব?’ তাঁর এই বক্তব্যের জেরে প্রশ্ন উঠতে পারে যে পুলিশ ম্যানুয়াল অথবা তাদের বিধিমালায় হাডুডু খেলা কি নিষিদ্ধ? তাদের অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনায় কি আইন অনুসরণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই?
নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রত্যেকেরই নিজস্ব অভিযানকালীন নির্দেশনা বা অপারেশনাল গাইড লাইনস আছে, যেগুলোর কোনোটিতেই বিনা বিচারে কাউকে এমনকি চিহ্নিত অপরাধীকেও হত্যার অনুমোদন নেই। আত্মরক্ষা অথবা সাধারণের জান-মাল রক্ষার প্রয়োজনে আইনগত কর্তৃপক্ষের আদেশ প্রতিপালনে অস্ত্রের ব্যবহার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পুলিশের স্বীকৃত কৌশল। তবে এসব কৌশলের অপব্যবহার বিভিন্ন দেশে অতীতে এত বেশি পরিমাণে হয়েছে যে এখন অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে যেকোনো মৃত্যুর গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ তদন্ত অবশ্যম্ভাবী। এমনকি, নিহত ব্যক্তি যদি কুখ্যাত সন্ত্রাসী হয় অথবা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী, তবু তার তদন্ত হবে পুলিশের বাইরের কোনো আধা বিচারিক সংস্থার দ্বারা। অথচ, আমাদের দেশে ‘কথিত’ সন্দেহভাজনকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানকালে দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিবিনিময়ে সেই সন্দেহভাজনের নিহত হওয়ার কাহিনি এতই বহুল ব্যবহৃত যে এখন র্যাব ও পুলিশ নতুন নতুন কৌশল চালু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ক্রসফায়ারের কোনো মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত তো দূরের কথা, বিভাগীয় তদন্তও সব ক্ষেত্রে হয় কি না, তা–ও স্পষ্ট নয়। নতুন কৌশলের মধ্যে আছে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর পেট্রলবোমা ছোড়ার অভিযোগে ট্রাকচাপায় মৃত্যু (যেমনটি ঘটেছে যশোরে, তা–ও দুজনের ক্ষেত্রে) অথবা চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির চুয়াডাঙ্গায় বোমা মারতে গিয়ে মৃত্যু। নতুন বছরে নতুন করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতায় গত ৩৯ দিনে এ ধরনের ক্রসফায়ারে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।
নাশকতা ও আগুনে বোমায় হত্যা বন্ধে নিরাপত্তা বাহিনীকে যে কঠোর হতে হবে, সে প্রশ্নে কারও ভিন্নমত নেই। কিন্তু তা হতে হবে আইন মেনে।
রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা না থাকলে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সদস্যদের ব্যক্তিপর্যায়ের আবেগ কিংবা ক্রোধ নিরসনে হাডুডু খেলার নিয়মিত অনুশীলন যেসব সম্ভাব্য ইতিবাচক ফল দিতে পারে, সেগুলো বোধ হয় সবারই বিবেচনার সময় এসেছে। ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফি বছর বৈশ্বিক পর্যায়ে আমাদের রেকর্ডগুলো যে ধরনের সমালোচনার মুখে পড়ে, তা এড়ানোর জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। তাহলে হয়তো আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য ব্যাখ্যা প্রদানের বিড়ম্বনা থেকে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিকেরা রেহাই পাবেন। এ রকম অবিশ্বাস্য ব্যাখ্যার দুটি উদাহরণ এখানে দেওয়া যায়। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের বাংলাদেশ পরিস্থিতির পর্যালোচনা (ইউপিআর) অধিবেশনে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন যে বাংলাদেশে গুম বলে কিছু নেই এবং বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে না। আবার র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের জবাবে গত বছরের মে মাসে লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ানদের এক সভায় বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন যে সম্ভবত ব্রিটিশ ট্রেইনারদের ট্রেনিংটা ঠিক ছিল না? কেননা, তোমরাই তো এই বাহিনী প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছ?
ক্রসফায়ার ও গুমের মতো ঘটনাগুলোয় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেই যে তা সবাই বিশ্বাস করবেন, এ ধারণাটি দেশের ভেতরে-বাইরে কেউই গ্রহণ করেন না। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উৎসাহে সন্ত্রাসবিরোধী নীতির প্রয়োজনে একটি যোগ্য ও চৌকস নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে র্যাব গড়ে তোলা হলেও ওই দেশ দুটিই এখন আর অস্ত্র-সরঞ্জাম যেমন দিচ্ছে না, তেমনি প্রশিক্ষণ থেকেও নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। ভাবনার বিষয় হলো, র্যাবের অভ্যাসটি এখন পুলিশ যেভাবে অনুশীলন করতে শুরু করেছে, তাতে করে তাদেরও একই পরিণতি ঘটতে পারে। সে রকমটি হলে অস্ত্রশস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য পুলিশের জন্য তখন রাশিয়া, চীন ও বেলারুশের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
এসব বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা অতি উৎসাহে বা দলীয় আনুগত্যের কারণে পেশাদারত্ব জলাঞ্জলি দিয়ে অমানবিক আচরণের মাধ্যমে নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিচ্ছেন, তাঁরা পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রশিক্ষণের সুযোগ হারানোর মতো ঝুঁকি নিচ্ছেন। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষার চাকরিতে এসব রেকর্ড যে বিবেচনায় নেওয়া হয়, সম্ভবত সে কথাটাও তাঁরা ভুলে গেছেন। অতীতে দেখা গেছে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির আমলে বিতর্কিত পুলিশকর্তাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। যাঁরা ভবিষ্যতে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার কথা চিন্তাও করেন না, তাঁদের জন্য যখন-তখন অস্ত্র ব্যবহারের চেয়ে হাডুডু খেলাই কি শ্রেয় নয়?
বৈশ্বিক পরিসরে মানবাধিকার আন্দোলন এখন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। ফলে কারও বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে সেটা তার জন্য ভবিষ্যতে কী ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে, তার একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে নেপালের পুলিশকর্তা কর্নেল কুমার লামাকে ব্রিটেনে আটক করে বিচারের সম্মুখীন করার ঘটনা। নেপালে কর্নেল লামার কাছে নির্যাতনের শিকার দুই ব্যক্তির পক্ষে একটি মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে (ইউকে ডিফেন্ডস ডিসিশন টু প্রসিকিউট নেপালিজ কর্নেল ফর টর্চার, দ্য গার্ডিয়ান, ৬ জানুয়ারি, ২০১৩)।
অতি উৎসাহী পুলিশকর্তাদের এ ধরনের আচরণে রাজনীতিকদের কেউ কেউ তুষ্টি লাভ করছেন সন্দেহ নেই। যে কারণে তাঁদের কেউ কেউ এ ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাস বন্ধ না হলে এনকাউন্টারের মাধ্যমেই জবাব দেওয়া হবে (সহিংসতা দমনে এনকাউন্টারের হুমকি শেখ সেলিমের, যুগান্তর, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এ ধরনের বক্তব্য সরকারের জন্য যে ভালো ফল আনে না, সেটা সম্ভবত এঁদের অনেকেই জেনেশুনে উপেক্ষা করছেন। অথচ, মাত্র দুই দিন আগে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) সিনিয়র গবেষক, দক্ষিণ এশিয়া প্রকল্পের পরিচালক, সামিনা আহমেদ জার্মান রেডিও ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘পুলিশ এবং সবচেয়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী নিরাপত্তা বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ (র্যাব) আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর আদেশ পালন করে চলেছে।’ বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ তৈরির জন্য পরিচিত ব্রাসেলসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইসিজি ৯ ফেব্রুয়ারি ‘ম্যাপিং বাংলাদেশিজ পলিটিক্যাল ক্রাইসিস’ প্রকাশের পরদিন ডয়চে ভেলের ইংরেজি অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামিনা আহমেদ নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকলাপ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিচালিত হওয়ার কথা বললেন (বাংলাদেশ ক্রাইসিস ফাস্ট অ্যাপ্রোচিং পয়েন্ট অব নো রিটার্ন, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, ডয়চে ভেলে)।
সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনের প্রয়োজনের কথা বলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা তার একটা নির্মম দৃষ্টান্ত। আশা করি, সাম্প্রতিক কালের ওই ঘটনা কেউ বিস্মৃত হননি।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘জনগণ খালেদাকে গ্রেপ্তার করে কাশিমপুরে পাঠাবে’ -শাজাহান খান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঝুঁকিতে ইউক্রেন রাশিয়া শান্তিচুক্তি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তালেবান পুষছে আইএসআই
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রক্তের দামে কেনা দেশটাকে জেদাজেদি করে ধ্বংস করবেন না by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম
ছেলেমেয়ে বড় হলে মা-বাবার সাহায্য হয়। গ্রামগঞ্জে বলে, ছেলে হলো বাবার হাতের লাঠি। চরে দেখতাম, সবাই সংসারে অনেক ছেলে চায়- কেউ যাতে তাকে মাড়িয়ে যেতে না পারে। আধুনিক জামানায় সব মা-বাবারই ছেলেমেয়ে কম। আমরা ছিলাম দুই মায়ের ১৫ সন্তান। এখনো তার ১০ জন বহালতবিয়তে বেঁচে আছি। কিন্তু আমার মাত্র তিনটি। তারা আমাদের সাহায্য করবে কী, তাদের সাহায্য করতেই আমরা পেরেশান। পান থেকে চুন খসতেই গাল ফোলে, মুখ ঘুরিয়ে থাকে। ছোটজন তো সবার ওপরে। উঠতে বসতে ভয়ে থাকতে হয়। তবে তারা যে আমাদের আদরযতœ করে না, তা নয়। ছোটজনের নজর মায়ের মতো। আমার ুধা লেগেছে কি না, কোথাও যাওয়ার পথে ড্রাইভার ভালোভাবে গাড়ি চালাচ্ছে কি নাÑ এসব নিয়ে সে সবসময় তৎপর। বড়টা কুঁড়িমণি, নিজেরা সারা দিন কলকল করে, কিন্তু আমার সাথে কথা বলে কম। কিন্তু তারপরও যে ওরা ঘুমিয়ে নেই তা বুঝলাম শনিবার গভীর রাতে ঝড়-বৃষ্টির সময়। দুই-আড়াইটার দিকে কুঁড়িমণি ড্রাইভার হোসেনকে ফোন করেছিল, ‘এই হোসেন, তোমাদের ঐদিকে বৃষ্টি হচ্ছে?’ হোসেন বলছিল, না। কিন্তু তখন মোহাম্মদপুরে বৃষ্টি হচ্ছিল। বলতেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু। গুঁড়ি থেকে ভারী। ঘুম ভেঙে দেখি, ২৫-৩০ জন আমার মাথার ওপর কাপড় ঠিক করছে, কেউ ত্রিপল দেয়ার চেষ্টা করছে; সে এক এলাহী কারবার। একসময় মনে হচ্ছিল, অতগুলো কর্মী ৫০-৬০ স্কয়ার ফুট জায়গার মধ্যে ওপরে হাত তুলে রাখলেই বৃষ্টি পড়া বন্ধ হতে পারে। সত্যিই এক মজার ব্যাপার, আশপাশে পড়লেও চার ফুট বাই সাত ফুট লোহার খাটিয়া, তাতে এক ফোঁটা পানি পড়েনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য কর্মী পেয়েছিলাম, যারা আমার গায়ে পায়ে মাছিও বসতে দেয়নি। এবার রাস্তায় অবস্থান নিয়ে জীবনের শেষদিকে তার চেয়েও ভালো একঝাঁক কর্মী পেয়েছি। আর সাধারণ মানুষের কথা কী বলব? যেমন মানুষ নামের কলঙ্ক দেখছি, তেমনি যে কত মহামানবের দেখা পেলাম মতিঝিলের এই মহাস্থানে। আনন্দে গৌরব আর গর্বে হৃদয় ভরে যায়। ঘরে বসেও আমার সন্তানেরা স্বস্তিতে নেই, বাবার জন্য তাদের উৎকণ্ঠা নিশ্চয়ই আল্লাহ দেখবেন। আমি তো জানি, সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া যেমন আল্লাহ মঞ্জুর করেন, তেমনি সন্তানের দোয়াও পিতা-মাতার জন্য মহা মূল্যবান। দেশের জ্ঞানী গুণী যারাই যেখানে কথা বলার চেষ্টা করছে, ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব কতজন কতভাবে দাবি-দাওয়া করে চলেছে কিন্তু কেউ শোনার নেই। এভাবে আর যা হোক, কোনো দেশ চলতে পারে না। সেজন্য একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফুটপাথে অবস্থান নিয়েছি। এতকাল শুনে এসেছি, মুক্তিযোদ্ধার সম্মান নাকি সবার ওপরে। স্বাধীনতার পর আমার কর্মকাণ্ড কারো পছন্দ না হলে সেজন্য নিশ্চয়ই নিন্দা করতে পারেন, কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নয়। তাই আশা নিয়ে বসেছি দেশের মানুষের বিবেক জাগবে।
বেশ কিছু দিন মতিঝিলের ফুটপাথে আছি। এই ক’দিনে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, শত বছর ঘরে থেকে তা পেতাম না। দাবি খুব বেশি নাÑ বিরোধী দলের নিরন্তর অবরোধ ও হরতাল প্রত্যাহার, সরকারের দেশে সুস্থ পরিবেশ আনতে আলোচনায় বসা। কিন্তু কেউ কথা শুনছে না, মনে হয় শুনবেও না। কারণ কারোরই দেশের প্রতি দয়া-মায়া, ভালোবাসা নেই। গত সপ্তাহে কাঁথা-বালিশ, প্রস্রাব-পায়খানার চটের বেড়া চুরি করছিল। ক’দিন হলো বন্ধ হয়েছে। আগের শুক্রবার বায়তুল মোকারম থেকে বেরিয়েই সবকিছু পুলিশে নিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছিলাম, এবার তেমন হয়নি। মনে হলো কিছুটা সুমতি হয়েছে, হলেই ভালো। চোরের ভয়ে তো আর বউ নেংটা রাখা যায় না। সরকারের কাজ সরকার করবে, আমাদের কাজ আমরা করব। তবে আল্লাহর কী অপার মহিমা, জানি না শুনি না বায়তুল মোকারম থেকে ফিরে দেখলাম কিছু নেই। পাটি বিছিয়ে ফুটপাথে বসেছিলাম, তখনই আল্লাহর ফেরেশতার মতো জয়পুরহাটের রশিদুল এসেছিল। তার মায়ের শত ছেঁড়া শাড়ি দিয়ে কাঁথা বানিয়ে আমার জন্য নিয়ে এসেছে। বুকটা আনন্দে ভরে গিয়েছিল। বছর পঁচিশ আগে রাজশাহীর বাঘার এমপি মো: আলাউদ্দিনের সাথে রাজশাহী সফরে গিয়েছিলাম। রাজ্জাক নামে এক ব্যাংক অফিসার সে যাত্রায় আমার সাথে ছিল। বাঘাতে জনাব মো: আলাউদ্দিনের বাড়িতে এক রাত ছিলাম। সেই সময় হাজার-বারো শ’ টাকায় একটা নকশিকাঁথা কিনেছিলাম। দারুণ সুন্দর ছিল সে কাঁথা। রশিদুলের মায়ের কাঁথা তারচেয়েও সুন্দর। ১০ দিনের বেশি তার মায়ের কাঁথা গায়ে রাত কাটাচ্ছি। আল্লাহ তায়ালা আবাবিল পাখির দ্বারা যেভাবে পাথর ছুড়ে পবিত্র কাবার ওপর আবরাহার আক্রমণ ঠেকিয়েছিলেন, কাঁথা গায়ে প্রতি মুহূর্তে তেমনি মনে হচ্ছে রশিদুলের মায়ের কাঁথায় প্রতিটি সূচের ফোঁড় বর্মের মতো আমায় রা করছে। মানুষ আমায় ভালোবাসে এটা জানতাম, কিন্তু এত ভালোবাসে তা জানতাম না। বর্তমান ধনবানেরা অনেকেই ফোন ধরে না। আমাদের খাওয়ার জন্য দু’পয়সা দিতে খুবই কষ্ট। কিন্তু রাস্তার মানুষ অকাতরে ৫-১০ টাকা দিয়ে যাচ্ছে। গতকাল আমার এক ভাস্তী জামাই অতি সাধারণ চাকরি করে। দানপাত্রে যখন ১০০০ টাকার একটা নোট সন্তর্পণে ফেলে গেল, তখন শরীর শিউরে উঠেছিল। হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ধনবানদের কোটি টাকার চেয়ে গরিব ভাস্তী জামাইয়ের হাজার টাকা অনেক বেশি। তাই আল্লাহর ভরসায় বেঁচে আছি।
এর মধ্যে বেগম সাহেব নিজে থেকেই ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথেও কথা বলতে চাচ্ছিলেন, আমি কোনো আপত্তি করিনি। সেদিন কুশিকে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর গেটে। ২৫-৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন, দেখা হয়নি। আমার স্ত্রী ১০-১২ বছর আগে থাইরয়েড অপারেশন করে অকালেই জীবন নষ্ট করেছেন। এখন খুব বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, তেমন পরিশ্রম করতেও পারে না। দু’বছর আগে দু’বার হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছে। আল্লাহ যে তাকে এখনো আমার জন্য বাঁচিয়ে রেখেছেন, এইটাই প্রভুর দয়া। তাই আমার স্ত্রীর রাস্তায় ২৫-৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা আমার কাছে ২৫ বছরের মতো। শুক্রবার গিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি। খালেদা জিয়ার সাথেও দেখা হয়নি। এটা যদি এমন হতো ব্যস্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখা দেননিÑ সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু স্বাধীন দেশে বেগম খালেদা জিয়ার বাড়িতেও কেন তার মর্জি চলবে? হ্যাঁ, সেখানে সরকারের বিধিনিষেধ অবশ্যই চলত, যদি তিনি বন্দী থাকতেন কিংবা গৃহবন্দী। তা যদি না হয়ে থাকেন তাহলে কারো সাথে দেখা হওয়া-না-হওয়া বেগম খালেদা জিয়ার বাড়িতে তার ইচ্ছা অনিচ্ছাতেই হওয়া দরকার। সেখানে তো সরকারি ইচ্ছায় চলতে পারে না। তবে কি বেগম খালেদা জিয়া বন্দী? গৃহবন্দী, নজরবন্দী বা অন্যকিছু যাই হোন, মুক্ত মানুষ হলে সেখানে কোনো সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা নয়। অথচ সরকার পদে পদে খেয়ালখুশিমতো যা খুশি তা-ই করছে। তিন-চার দিন ধরে খাবার নিতে বাধা দিচ্ছে। এসব সভ্য সমাজে চলে না। কোনো অপরাধী, ফাঁসির আসামিকেও যতœ করে খাবার দিতে হয়। এখানে তো একজন প্রধান নেত্রী, তার সাথে এতটা অমানবিক আচরণ করা ভালো না। আমাদের বিবাহিত জীবন ৩২ বছর। এই জীবনে আমরা খুব একটা কেউ কারো কাছে লজ্জা পাইনি, কেউ কারো কাছে ছোট হইনি। কিন্তু আমার স্ত্রী হিসেবে শান্তির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিরোধী দলনেত্রীর সাথে দেখা করতে না পেরে নিজেকে বেশ ছোট মনে করছেন। আমার কাছেও বেশ অসম্মানবোধ হচ্ছে। জীবনে কত কষ্ট করেছি, কিন্তু আমার স্ত্রী কখনো কোথাও কারো সাথে দেখা করতে গিয়ে বিমুখ হয়ে ফিরে আসেনি। সেটা প্রেসিডেন্ট জনাব সাহাবুদ্দীনই হোক অথবা ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতিই হোক। তাই চেষ্টা করেও মনটা হালকা করতে পারছি না। কিছুটা অস্বস্তি অবশ্যই কুরে কুরে খাচ্ছে। তবু বাস্তবকে অস্বীকার করে কোনো পথ নেই। তাই কষ্ট হলেও মেনে নেয়া ছাড়া উপায় কী?
ভালোবাসা দিবসে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিধান সভার নির্বাচনে অভাবনীয় বিজয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রকাশ্য শপথ নিলেন। রামলীলা ময়দান এক ঐতিহাসিক স্থান। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, দেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন থেকে ঢাকার পথে দিল্লির এই রামলীলা ময়দানেই শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীও রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরির সাথে ১০ জানুয়ারি ’৭২ ভারতীয় লাখো জনতার সামনে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল খোলা ময়দানে শপথ নিলেন। গত মঙ্গলবার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রশাসিত দিল্লির বিধান সভার ৭০ আসনের ৬৭টি আম আদমি পার্টির ঝাড়– পেয়েছে। এখন কেজরিওয়ালের নোংরা দিল্লি সাফ করার পালা। দেখার বিষয় শত বছরের পুরনো দল, যারা একটানা ১৫ বছর দিল্লি শাসন করেছে, সেই কংগ্রেস দিল্লির বিধান সভায় কোনো সিট পায়নি। শুধু তা-ই নয়, ৬২ আসনে কংগ্রেস জামানত হারিয়েছে, কোনো আসনে দ্বিতীয়ও হতে পারেনি। অথচ বছরও ঘোরেনি, লোকসভা নির্বাচনে দিল্লির ১০টি আসনের ১০টিই বিজেপি পেয়েছে। এসব দেখেও কি আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা কেউ কিছু শিখবেন না বা বুঝবেন না? ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জির একমাত্র কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখার্জি মুন্নী এই প্রথম ভোটে দাঁড়িয়েছিল। ছেলেবেলায় তাকে কত গল্প শুনিয়েছি। এখনো মুন্নীর অনেক বই আমার কাছে পড়ে আছে। ভাবছিলাম মেয়েটা বিধান সভায় সদস্য হলে আমার আরো একটা ঠিকানা হবে। কিন্তু তা হয়নি। ঝাড়–র ঢেউয়ে কেউ দাঁড়াতে পারেনি। মানুষের রোষানল যে কীÑ সেটা যদি কেউ না বোঝে তাকে জোর করে বুঝানো যাবে না। দেশের অবস্থা ভালো নাÑ কেন যেন কাউকে বুঝানো যাচ্ছে না। সরকার এত অসহিষ্ণু, কারো কথা সহ্য করতে চায় না। সরকারের চামড়া হবে গণ্ডারের থেকেও মোটা। কিন্তু এ তো দেখছি রসুনের চোচার চেয়েও পাতলা। যাকে তাকে যখন তখন গালাগাল করছে। এখন শামসুল হুদা সংলাপের জন্য তৎপর হয়েছেন, তাই রাজাকার হয়ে গেছেন। তিনি যেমন পাকিস্তানের চাকরি করেছেন, অনেক রথীরাও তেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের চাকরি করেছে- আমি তো তাদের কথাই বলেছি।
নিজের দলের প্রকৃত রাজাকারদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা বানানো আর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার- এমন প্রয়াস মোটেই ভালো না। যে দেশের ভালো মানুষকে সম্মান করা হয় না, সে দেশে ভালো মানুষ জন্মায় না। ঠুনকো অসত্য আর অন্যায়ের ওপর ভর করে কোনো কিছু বেশি দিন চলে না। তাই আবার উভয় নেত্রীর কাছে দেশবাসীর প থেকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, অবরোধ হরতাল প্রত্যাহার করুন। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও সুস্থিতির জন্য যার সাথে প্রয়োজন তার সাথেই আলোচনা করুন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে কারো জয়, পরাজয়ের প্রশ্ন নেই। তাই যত তাড়াতাড়ি আলোচনা করবেন ততই মঙ্গল। এই সাদামাঠা কথাটা কারো বোঝার অসুবিধা আছে বলে মনে হয় না। সব উগ্রতা ঝেড়ে ফেলে মানবতায় ফিরে আসুন। মানবতাহীন অসভ্যতায় অনেক জাতি ধ্বংস হয়েছে। আমাদের রক্তের দামে কেনা দেশটাকে জেদাজেদি করে ধ্বংস করবেন না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলির শব্দে ঘুম ভাঙল- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, চারজন আহত
লাঠি ও ইটের আঘাতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের দুই কর্মীর হাত-পা ও মাথা থেঁতলে দিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুজন। এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন ছাত্র তাপস সরকার। সংঘর্ষের পর বিকেলে শাহজালাল এবং সন্ধ্যায় শাহ আমানত হলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ৬১ জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। এ সময় শাহজালাল হল থেকে রড, রামদাসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র, কয়েক বস্তা ইট ও পাথরের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের মূল ফটক, প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্য দপ্তর ও শিক্ষক ক্লাবে তালা লাগিয়ে দেয় এক পক্ষ।
এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার তদন্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের ১৪টি শেল ও পাঁচটি রাবার বুলেট ছোড়ে। তবে তাঁর দাবি, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়নি।
ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ হলো ভিএক্স (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) এবং সিএফসি (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ। দুই পক্ষই নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সংঘর্ষের সময় সকাল নয়টার দিকে সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের কর্মীরা কয়েকজন শিক্ষককে ধাওয়া দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুপুরে কর্মীরা কয়েকজন শিক্ষকের বাসায় গিয়েও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, ‘প্রতিবাদের নামে উপাচার্য দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা লাগানো, শিক্ষকদের ধাওয়া করা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া গর্হিত কাজ। ছাত্রদের কাছ থেকে এমনটি আশা করি না।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল ভোর ছয়টায় শাহজালাল হলে ভিএক্স পক্ষের প্রায় ৬০ জন নেতা-কর্মী ঢুকে পড়েন। তাঁরা আগে এ হলে অবস্থান করতেন। তাপস হত্যার পর তাঁরা হল ছেড়ে যান। নতুন করে ভিএক্স পক্ষের নেতা-কর্মীরা হলে উঠেছেন—এ খবর প্রচার হওয়ার পর শাহ আমানত হলে অবস্থানরত সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নেতা-কর্মীরা হল থেকে বেরিয়ে পড়েন। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা থেমে থেমে গুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে আহত হন সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নিয়াজ উদ্দীন ও মো. রাসেল। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শাহজালাল হলে তল্লাশি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দুপুরে ভিএক্স পক্ষের চার-পাঁচজন নেতা-কর্মী হলের পেছন দিক দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগের চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিপক্ষের কর্মীরা সোহেল খান ও মো. কাউসার নামের কর্মীকে লাঠি ও ইট দিয়ে হাত-পা ও মাথা থেঁতলে দেন।
ভিএক্স পক্ষের নেতা মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ আমাদের ৫০ জন নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে। তাঁদের যদি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া হবে।’
সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তাপসের খুনিরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করায় আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়েছি। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো খুনিকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণে জড়িত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানুষ যেন মানুষকে না পোড়ায় -বিশেষ সাক্ষাৎকারে : সামন্তলাল সেন by মশিউল আলম
প্রথম আলো : ২০১০ সালে নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে মারা গিয়েছিল ১২৪ জন মানুষ। সেটা ছিল একটা দুর্ঘটনা। আর এখন মানুষ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে প্রতিদিন। এ পর্যন্ত পেট্রলবোমা ও আগুনে পুড়ে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০ পেরিয়ে গেছে। এটাকে আপনি কী বলবেন?
সামন্তলাল সেন :মানুষ মানুষকে পোড়াচ্ছে, এভাবে দগ্ধ মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া আমাদের জন্য যারপরনাই দুঃখজনক। একসময় আমরা বলতাম, আমাদের যেন অ্যাসিডে পোড়া মেয়েদের চিকিৎসা করতে না হয়। ঠিক তেমনই এখন আমাদের বলতে ইচ্ছা করছে যে, আমাদের যেন মানুষে মানুষে সহিংসতার শিকার পোড়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে না হয়। আমাদের যাতে দেখতে না হয় যে, মানুষ হয়ে মানুষকে আগুনে পুড়িয়েছে আর সেই পোড়া মানুষের চিকিৎসা আমাদের করতে হচ্ছে।
প্রথম আলো :রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে মানুষ যে প্রতিদিন দগ্ধ হচ্ছে এবং তারা চিকিৎসা নিতে বার্ন ইউনিটে আসছে, এর ফলে বার্ন ইউনিটের ওপর যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে, আপনারা কি তা যথাযথভাবে সামাল দিতে পারছেন?
সামন্তলাল সেন: আজ শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি। গতকাল পর্যন্ত বার্ন ইউনিটে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট পোড়া রোগী ভর্তি ছিল ৫৫ জন। গতকালই আরও আটজন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৬৩। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যারা সহিংসতার শিকার নয়। তারা বিভিন্নভাবে আগুনে পুড়েছে। অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২০ জনের বেশি রোগী। সুতরাং, রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বার্ন ইউনিটের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে, এই বার্ন ইউনিটের ওয়ার্ড বয় থেকে শুরু করে চিকিৎসকেরা পর্যন্ত সবাই খুবই নিবেদিতপ্রাণ। সে জন্যই এ চাপ সামলানো সম্ভব হচ্ছে। সবাই ভীষণ আন্তরিক। আজ শুক্রবার, ছুটির দিন, তবু সবাই কাজ করছেন। পাঁচ-ছয়জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা নিজে থেকেই যাচ্ছেন। শুক্রবারে কর্মস্থলে যাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রথম আলো : আন্তরিকতা আছে, এটা বেশ ভালো কথা, কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল কি আছে? চিকিৎসা ও রোগীদের সেবাশুশ্রূষা তো শুধু আন্তরিকতা দিয়ে হয় না, এ জন্য বিশেষজ্ঞ জ্ঞানসম্পন্ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবল প্রয়োজন। তা কি আছে?
সামন্তলাল সেন : বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬ লাখ ৫৩ হাজার ১১৬ জন মানুষ বিভিন্ন কারণে পুড়ে যায়। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৩৫২ জন মারা যায়। এই মানুষগুলোর চিকিৎসা করার জন্য বাংলাদেশে মোট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন মাত্র ৫২ জন। আমাদের হিসাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন প্রায় দেড় হাজার। সেদিক থেকে লোকবলের ঘাটতি বিরাট। তবে এখন বিশেষ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ১৮ জন চিকিৎসক ও ৩০ জন নার্সকে এখানে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দিনরাত কাজ করছেন। এটা হলো একটা দিক, আরেকটা দিক হলো আমাদের এখানে একটা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৩০ জন চিকিৎসক অংশ নিচ্ছেন। তাঁরাও এই বিশেষ পরিস্থিতিতে আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন। এসব মিলিয়ে আমরা বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।
প্রথম আলো : আপনি বলতেচাইছেন,জরুরি পরিস্থিতি আপনারা ঠিকমতোই সামাল দিতে পারছেন?
সামন্তলাল সেন : এত বড় সমস্যা ঠিকমতো সামাল দেওয়া শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দেখুন, একজন পোড়া রোগীর জন্য প্রথম ২৪ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা না পেলে অনেক পোড়া রোগীকেই বাঁচানো সম্ভব হয় না। এখন কেউ একজন পঞ্চগড়ে দগ্ধ হলেন, তাঁকে যদি ঢাকা আনতে হয়, তার আগের ২৪ ঘণ্টা তো তাঁকে সুচিকিৎসা পেতে হবে। সে জন্যই আমি যে প্রশিক্ষণের কথা বললাম, সেটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা-উপজেলা হাসপাতালগুলোয় যেসব চিকিৎসক ও নার্স আছেন, তাঁরা যাতে পোড়া রোগী আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসাটা সামাল দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই তাঁদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণটা দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম আলো : নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের সময় আমরা দেখেছিলাম, এ দেশে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। তখন উপলব্ধি করা হয়েছিল যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সামর্থ্য বাড়ানো প্রয়োজন, প্রয়োজন আরও বার্ন ইউনিট। এমন কথাও শোনা গিয়েছিল, দেশের জেলা হাসপাতালগুলোয় বার্ন ইউনিট করা হবে। তারপর কি কোনো অগ্রগতি হয়েছে?
সামন্তলাল সেন : নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে একটা ভালো বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে সব সময় ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে, তারা সুচিকিৎসা পায়। এ ছাড়া কুমিল্লায় একটা ভালো বার্ন ইউনিট করা হয়েছে। সিলেটে একটা হয়েছে এবং রংপুরে একটা ভালো বার্ন ইউনিট করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর—এই তিনটি বার্ন ইউনিট বেশ ভালো। সেখানে সব সুবিধাই মোটামুটি আছে। এ ছাড়া ঢাকায়ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে একটা বার্ন ইউনিট আছে, সেখানেও যোগ্যতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন, চিকিৎসার যাবতীয় সুবিধা আছে।
প্রথম আলো : কিন্তু আমরা তো শুনতে পাই, একমাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ছাড়া দেশের আর কোনো হাসপাতালে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।
সামন্তলাল সেন : আগে ছিল না। কিন্তু এখন আছে। সমস্যা হলো, রোগীরা অন্যান্য বার্ন ইউনিটে যেতে চায় না। সংবাদমাধ্যমে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের ইতিবাচক প্রচারের কারণে সব পোড়া রোগী শুধু এখানেই আসতে চায়। আপনাকে একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমাদের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার পর চারজন পোড়া রোগীর অবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে। আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আমাকে বললেন, ‘স্যার, এদের এখন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠিয়ে দিই।’ কিন্তু দেখা গেল, ওই চার রোগী সেখানে যেতে চায় না, তারা এখানেই থাকতে চায়। যা-ই হোক, অতীতে বার্ন ইউনিটের ভালো কাজের জন্যই হয়তো এই প্রতিষ্ঠানের একটা ভালো ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে—এটা ভালো কথা। তবে সবাইকে এটাও জানিয়ে দেওয়া উচিত যে, ঢাকার বাইরেও অন্তত ভালো তিনটি বার্ন ইউনিট এখন কাজ করছে। সেখানে গেলেও পোড়া রোগীরা ভালো চিকিৎসা পেতে পারে। আমার মনে হয়ে, দেশের অন্য বার্ন ইউনিটগুলো রোগীদের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট বার্ন ইউনিটগুলোর চিকিৎসক, ব্যবস্থাপক ও গণমাধ্যম ভূমিকা রাখে। গণমাধ্যমে এটা প্রচার হওয়া উচিত যে অন্য বার্ন ইউনিটগুলোও ভালো। তাহলে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের ওপর থেকে চাপ একটু কমতে পারে।
প্রথম আলো : চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার পোড়া রোগীদের ছবি তোলার জন্য বার্ন ইউনিটে ফটোসাংবাদিকদের বেশ ভিড় দেখা যায়। সম্প্রতি এখানে রোগীদের ছবি তোলা নিয়ে কিছু ঘটনা ঘটেছে, যার সমালোচনা হচ্ছে। আপনারা ফটোগ্রাফারদের নিয়ন্ত্রণ করেন না কেন?
সামন্তলাল সেন : এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখানে শুটিং করা হয়েছে, রোগীদের বিশেষ ভঙ্গিমায় ছবি তোলা হয়েছে। আমার মতে, এটা একটা অপরাধজনিত কাজ হয়েছে, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের লোকজন বুঝতে পারেনি যে এসব করা হবে। সমস্যা হলো, সংবাদমাধ্যম থেকে এখানে কেউ ছবি তুলতে এলে তাঁদের নিষেধ করা যায় না। এক প্রতিষ্ঠানের কাউকে ঢুকতে দিলাম, অন্য প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিককে ঢুকতে দিলাম না—এটা তো করা যায় না। আমাদের দিক থেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকবে, কিন্তু তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন ফটোসাংবাদিকদের নিজেদের বিচার-বিবেচনা। দেখুন, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে অধিকাংশ পোড়া রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণ ইনফেকশন। এ রকম ইনফেকশনের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ছবি তোলার জন্য দলে দলে সাংবাদিক ভিড় করলে সেটা তো ভীষণ দুঃখজনক। তা ছাড়া পোড়া-বীভৎস রোগীদের ছবি কেন সংবাদমাধ্যমে দেখাতে হবে—সেটাও আমার বোধগম্য নয়।
প্রথম আলো : দেশের পোড়া রোগীদের চিকিৎসাব্যবস্থা আরও উন্নত এবং আরও পর্যাপ্ত করার জন্য কী করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
সামন্তলাল সেন : প্রথমেই দরকার আরও অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকতৈরির উদ্যোগ নেওয়া। যেখানে প্রায় দেড় হাজার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ৫২ জনকে দিয়ে কখনোই পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে এবং পোড়া রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কেউ পুড়ে গেলে তাকে যাতে ঢাকায় আনতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথমে প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, অন্তত বিভাগীয় সদর হাসপাতালগুলোয়, তারপর জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত এই চিকিৎসাব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে হবে। পোড়া রোগীদের জন্য দক্ষ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে একটা স্বতন্ত্র বার্ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথম আলো : আপনাকে ধন্যবাদ।
সামন্তলাল সেন : আপনাকেওধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটি বই সবার পড়া উচিত by আশরাফ আল দীন
বর্তমানে চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে সমগ্র বাংলাদেশে। রাজধানী ছাড়া পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আর রাজধানীতে কড়া নজরদারিতে জীবনযাত্রা চলছে অনেকটা স্বাভাবিকের মতো। বিশ্বযুদ্ধের সময়ও দেখা গেছে, বেশির ভাগ দেশের রাজধানী শহরগুলোর জীবনযাত্রা সচল ছিল, যদিও পুরো দেশ অচল! সে যা-ই হোক, রাজধানী ঢাকায় এখন বইমেলার মৌতাত! বইমেলায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তাই বলতে চাইছি, বই পড়ার কথা! যত দূর জানি, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখিত এগারোটি বই এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। যারা লেখেন বেশি এরা পড়েনও বেশি। সেই সূত্রে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাব, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেন এ বইটি অবশ্যই পড়ে নেন। ১৫৮ পৃষ্ঠার বইখানি পড়ার সময় না হলে, অন্তত বইটির শুরুতে যুক্ত মাত্র পাঁচ পৃষ্ঠার ‘গ্রন্থের পেছনের গল্প’টুকু যেন পড়ে নেন। এ ছাড়াও, বিরোধীদলীয় নেতৃসহ পক্ষ-বিপক্ষের সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের এই বই পড়া উচিত বলে আমার মনে হয়েছে। কেন পড়া উচিত? তা একটু পরেই বলছি।
শাসকের একগুঁয়েমি ও গৃহযুদ্ধ
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ রোববারের পত্রিকায় দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- তিনি কোনো অবস্থাতেই জঙ্গিদের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। ঘোষণাটি দ্ব্যর্থহীন ও অনমনীয়, সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার ভেতরটা অনিরাপত্তায় কেঁপে উঠল। আমার মনে পড়ল সিয়েরা লিয়নের কথা। দীর্ঘ দশ বছরের গৃহযুদ্ধে সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া দেশটির ধ্বংসাবশেষ আমি অত্যন্ত কাছে থেকে দেখেছি। গণমানুষের কাছে গিয়ে এবং সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের সাথে কাজ করে আমি ওদের ক্ষয়ক্ষতির যে বীভৎস রূপ দেখেছি, তা বর্ণনাতীত। তাই আজো আমি ‘গৃহযুদ্ধ’ শব্দটি শুনলে আর ‘শাসকের একগুঁয়েমি’ দেখলে নিজে নিজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এক্ষণে পাঠকদের সম্মানে আমি ‘চাইল্ড সোলজার’ বইটির ৮ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে খানিকটা তুলে ধরছি।
‘‘কী অঘটন ঘটেছিল সিয়েরা লিয়নে? এই প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক। সংক্ষেপে এটুকুই কেবল বলা যায় যে, শুধুমাত্র একজন শাসকের জেদ ও খামখেয়ালিপনার জন্য কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ও সম্ভাবনাময় এই দেশটি নিক্ষিপ্ত হয়েছিল ‘গণতন্ত্রের স্বপ্ন’ থেকে ‘স্বৈরশাসনের আঁস্তাকুড়ে’ আর নিপতিত হয়েছিল ধ্বংসের রাহুগ্রাসে। সে এক করুণ ইতিহাস!” এরপর যে ইতিহাসের বর্ণনা, তার অনেক কিছুই আমাদের অতীত-বর্তমানের সাথে হুবহু মিলে যায়! “--- নির্বাচনের মাধ্যমে বিরোধী দল ক্ষমতায় আসে এবং ১৯৬৭ সালের ২ মার্চ সাইকা স্টিভেন্স প্রধানমন্ত্রী হন। নিজের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তিনি সিয়েরা লিয়নকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং নিজে প্রথম প্রেসিডেন্ট হন। --- তিনি বামধারার রাজনীতিকে গ্রহণ করেছিলেন এবং --- একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন।--- দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক অবস্থার আরো অবনতি হতে থাকে ক্রমাগতভাবে। এ অবস্থায় ১৯৯১ সালের ২৩ মার্চ রেভল্যুশনারি ইউনাইটেড ফ্রন্ট (আরইউএফ) গৃহযুদ্ধের সূচনা করে।” এর পরের ইতিহাস কেবলই ক্যু-কাউন্টার ক্যু এবং প্রতিশোধপূর্ণ হত্যা-প্রতিহত্যার মাধমে মেধাহীন ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তের হোলিখেলার ইতিহাস!
সাইকা স্টিভেন্স কারো কথাই শুনতে চাননি। যে গণমানুষের ভোটে তিনি ক্ষমতায় এলেন তাদের কাছ থেকেই ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ কেড়ে নিলেন। তিনি মনে করলেন, তিনিই একমাত্র দেশপ্রেমিক এবং তার একারই দায়িত্ব দেশকে রক্ষা করা! তিনি শুনতেই চাইলেন না যে, দেশের মানুষের একটি বিশাল অংশ তাকে এবং তার কর্মকাণ্ডকে পছন্দ করছে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত করলেন। তাদের শায়েস্তা করার জন্য তিনি জেল-জুলুম, পেটোয়া বাহিনী এবং হত্যার পথ বেছে নিলেন। গণতন্ত্রকে মেনে নিয়ে ‘চেয়ার’ ছাড়তে তিনি রাজি হলেন না। দেশকে তো তিনি রক্ষা করতে পারলেনই না, বরং ’৭১ থেকে ’৯১ দীর্ঘ সময় ধরে অরাজকতা বিরাজ করার পর দেশে শুরু হলো গৃহযুদ্ধ! গৃহযুদ্ধ তো এমন জিনিস যে পুরো দেশ ছারখার না হওয়া পর্যন্ত সে কখনো নিবৃত্ত হয় না!
বাংলাদেশের ওপরও কি সাইকা স্টিভেন্সের ভূত সওয়ার হয়েছে? এ কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমরাও কি বিশ বছর অপেক্ষা করব? আমাদের অশিক্ষিত গ্রাম্য লোকেরাও ভূতের কথা শুনলে ওঝা ডাকতে ছোটে। শুনেছি কোথাও কোথাও, রোগীকে ঝাঁটাপেটা করে ভূত ছাড়ায়! এখন আমরা শিক্ষিত লোকেরা কী করব? গালিগালাজ, হুঙ্কার, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও হত্যা ছাড়া কি আর কোনো পথ নেই? যারা রাজনীতি-সম্পৃক্ত তারা ছাড়াও যারা কথায় কথায় ‘গৃহযুদ্ধ’ শব্দটি বলেন বা লেখেন তাদের সবারই প্রয়োজন ‘দ্য চাইল্ড সোলজার’-এর মেসেজটুকু আত্মস্থ করা। আশা করা যায় আমরা যুদ্ধংদেহি মনোভাব থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিকতায় নিবিষ্ট হবো।
বইটি কেন পড়বেন?
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লন্ডনের বিখ্যাত ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকা সম্প্রতি মন্তব্য করেছে : ‘খাদের কিনারে বাংলাদেশ!’ এই কথাটা আমরা কতজন কতটুকু বুঝি? এই ‘খাদ’ সম্পর্কে কি আমাদের কোনো ধারণা আছে? এই খাদ কতটা গভীর, ভয়ঙ্কর আর কতটা না-ফেরার দেশ, তা আমাদের সবারই ভালোভাবে জানা দরকার, বিশেষত বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে। গৃহযুদ্ধটা যে কোনোভাবেই ঠাট্টা মশকরার বিষয় নয়, এ কথা আমাদের গলাবাজ জননেতাদের ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। কাউকে ছোট করার জন্য এ কথা বলছি না। আসলে কার কতটুকু অভিজ্ঞতা আছে গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে? রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি তথা পুরো জীবনটা তছনছ করে দেয় একটি গৃহযুদ্ধ! ২০০১ সালে সদ্যসমাপ্ত গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সিয়েরা লিয়নকে সরেজমিন দেখে আমার মনে হয়েছে, তাদের ক্ষয়ক্ষতি ও যন্ত্রণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সুদীর্ঘ নয় মাসের নরকযন্ত্রণার তুলনায় শত গুণ বেশি। সেই অবর্ণনীয় পরিস্থিতির খানিকটা আঁচ হৃদয়ে ধারণ করার জন্য দ্য চাইল্ড সোলজার পড়ে দেখা প্রয়োজন বলে আমার মনে হয়েছে।
অনেক ভালো ভালো শাসক সিয়েরা লিয়ন পেয়েছে। ১৯৬১ সালের ২৭ এপ্রিল সিয়েরা লিয়ন ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। প্রথম বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হন স্বাধীনতার স্থপতি ও দেশপ্রেমিক নেতা স্যার ড. মিলটন এ এস মরগাই। তিনি ছিলেন উদার ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। কিন্তু পরবর্তীকালে একজন মাত্র শাসকের স্বেচ্ছাচারিতা ও একগুঁয়েমির ফলে সে দেশের গণতন্ত্র মুখথুবড়ে পড়ে। সাইকা স্টিভেন্স উন্নয়নের নামে বা বাহানায় যা কিছু করেছেন তাতে গণতন্ত্র ছত্রখান হয়ে গেছে, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে এবং নিতান্তই রাজনৈতিক বিরোধ গোত্রীয় প্রতিহিংসার রূপ পরিগ্রহ করেছে। ধ্বংসের জন্য যা কিছু বাকি ছিল তা পূর্ণ করা হলো দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে। এ ধরনের গল্পের শুরুটা শুনে মনে হতে পারে আমরা বাংলাদেশের কাহিনীই বর্ণনা করছি। তারপরও কি আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ‘দেখি না, কী হয়’ বলে! ‘অসম্পূর্ণ মূক্তিযুদ্ধ’, ‘চেতনা রক্ষার যুদ্ধ’ বা ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ প্রভৃতি অস্থির রাজনীতির স্লোগান দিয়ে আমাদের কি প্রবেশ করতেই হবে গৃহযুদ্ধের সর্বগ্রাসী আবর্তে দেশ ও জাতির শেষ ধ্বংসটুকু সম্পন্ন করার জন্য? এখনো আমরা আশায় বুক বাঁধি! গণতন্ত্রের পথের ওপর আজদাহা সাপের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে আমাদের শাসকেরা তো পারেন সরে দাঁড়াতে; দেশটা যেন বিপথে পা না বাড়ায়! নিজ দলের সুবিধামতো ও পছন্দমতো সংবিধান কাটাছেঁড়া করে সংশোধন করে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশকে বিঘ্নিত করার মধ্যে কেবল ধ্বংসের অশনি সঙ্কেতই বিরাজ করে; এ ছাড়া অন্য কোনো কল্যাণ নেই- এই শিক্ষা আমরা সিয়েরা লিয়নের ইতিহাস থেকে নিতে পারি। সিয়েরা লিয়নের দুর্ভাগ্যের ইতিহাস আমাদের জন্য শিক্ষা নেয়ার সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে বৈকি!
এবার বইটি সম্পর্কে বলি
জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি কন্টিনজেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে আমি সিয়েরা লিয়ন যাই ২০০১ সালের ২৬ মার্চ। সেখানেই আমার হাতে আসে আইভান মেলভিন রজার্স নামের একজন শিশু সৈনিকের ইংরেজিতে লিখিত আত্মকথনের পাণ্ডুলিপি। আমি তা বাংলায় অনুবাদ ও সম্পাদনা করি সে দেশে অবস্থানকালেই। প্রকাশের আগে বইটির শুরুতে ভূমিকা হিসেবে ‘গ্রন্থের পেছনের গল্প’ এবং শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে ‘শিশু সৈনিক’ ও ‘শিশু শ্রম’-এর ওপর দুখানি গবেষণামুলক প্রবন্ধ সংযুক্ত করে দিই। বইটিতে শিশু সৈনিকদের ও তাদের নিষ্ঠুরতার কিছু ছবি ছাপা হয়েছে। বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশক : অ্যাডর্ন পাবলিকেশন।
সিয়েরা লিয়নের আইভান মেলভিন রজার্স মাত্র দশ বছর বয়সে জড়িয়ে পড়েছিল গৃহযুদ্ধের আবর্তে। চাইল্ড সোলজার হিসেবে। সশস্ত্র যুদ্ধের সব ধরনের অমানবিকতা ও নৃশংসতার অভিজ্ঞতা অর্জন করে সে। অবশেষে বিশ বছর বয়সে যুদ্ধাহত হয়ে সে ছিটকে পড়ে জীবনের সব স্বস্তি থেকে। এই আত্মকথন এতটাই বিচিত্র যে, এই সময়কালের ভেতর তিনটি পৃথক দেশের (সিয়েরা লিয়ন, লাইবেরিয়া ও গিনি) সেনানিবাসে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার হয়েছে। তার স্থান হয়েছে মেহমান হয়ে প্রেসিডেন্ট ভবনে এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারেও! সব কিছু ছাপিয়ে উঠেছে গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতার বর্ণনা।
ইতিহাস থেকেই তো আমরা শিক্ষা নিতে পারি!
মিরপুর, ঢাকা, ০৮-০২-২০১৫
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার বাতিল কোন যুক্তিতে? by জি. মুনীর
২০১১ সালে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমারে সামরিক সরকারের অপসারণের পর বড় ধরনের আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছিলÑ সে দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইবে। কারণ, তখন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু কি ও আরো অনেক রাজনীতিবিদ মুক্তি পান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কেননা, ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসানে এটিকে বিবেচনা করা হয় শান্তিপ্রক্রিয়ার একটি উদ্যোগ হিসেবে। এর ফলে মিয়ানমারের সব দল-মত ও ধর্মমতের মানুষ সম-অধিকার নিয়ে সে দেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।
দেশটিতে ২০১৫ সালের মে মাসে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে সাংবিধানিক সংস্কারকল্পে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে পারে, এমন কথাও উঠেছে। কিন্তু এমনি এক সময়ে দেশটির সার্বিক চিত্র কেমন জানি বদলে যাচ্ছে। সম্প্রদায়গত সমালোচনামূলক তিরস্কার বাড়ছে। শান্তিপ্রক্রিয়া থেমে গেছে। সংখ্যালঘু রেহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমনপীড়ন বেড়ে গেছে। এদের বাধ্য করা হচ্ছে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে। দেশ ছেড়ে পালাতে। এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী নাগরিক কার্ড বাতিল করে কেড়ে নেয়া হলো এদের ভোটের অধিকার। এখন নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছেÑ মিয়ানমারে এখন এসব কী ঘটছে? ২০১৫ সালের বাকি সময়টায় আরো কী ঘটবে? সে দেশে কি সবার অংশগ্রহণে কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে? জাতীয় নির্বাচন কি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে? রেহিঙ্গারা কি তাদের ভোটের অধিকার ও নাগরিকত্ব পাবে? রোহিঙ্গাবিরোধী জাতিগত বিতাড়নপ্রক্রিয়া কি আরো বেড়ে যাবে? বাকি দুনিয়া বা জাতিসঙ্ঘ কি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকার পাওয়ার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে? এমনি বিভিন্ন প্রশ্ন এখন মিয়ানমারকে ঘিরে।
এ দিকে আবার নতুন শঙ্কা। জাতিসঙ্ঘ একজন বিতর্কিত শিক্ষাবিদকে এর রাখাইনবিষয়ক আবাসিক সমন্বয়কের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। জ্যাক লেইডার নামের লুক্সেমবার্গ ইতিহাসবিদ হচ্ছেন এই নবনিয়োজিত উপদেষ্টা। তাকে গত জানুয়ারি মাসে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক ও মানবাধিকারবিষয়ক সমন্বয়ক রেনেটা লক ডেসালিয়েনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট করা করা হয়েছে। অভিযোগ আছে, জ্যাক লেইডার রাখাইনদের প্রতি পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। রোহিঙ্গা রাজনীতিবিদেরা এ নিয়োগের নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতির মাধ্যমে এ নিয়োগের কথা জানায়। ড. লেইডার উপনিবেশ-পূর্ব সময়ের রাখাইন মারুক-ইউ রাজ্যের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ। কিন্তু রোহিঙ্গা সম্প্রদায় সম্পর্কিত তার অবস্থান তাকে অব্যাহতভাবে বিতর্কিত করে তোলে। এ জন্য তিনি রোহিঙ্গা ও কিছু মানবাধিকার গোষ্ঠীর কাছে একজন অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত। ড. লেইডারের অভিমতÑ ‘রোহিঙ্গা পদবাচ্যটি একটি পলিটিক্যাল লেবেল, কোনো এথনিসিটি নয়। রোহিঙ্গা শব্দটি জনপ্রিয় করে তোলা হয় নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে। তার এই অভিমত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের মর্যাদা পাওয়া ও তাদের ভোটের অধিকার পাওয়ার বিষয়টিকে কার্যত আরো বিতর্কিত করে তুলেছে।
মিয়ানমারে রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। কিন্তু দেশটির সরকার তাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। দেশটিতে গত বছর পরিচালিত আদমশুমারিতেও তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করা হয়নি। ২০১২ সালে দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হামলায় নিহত হন কয়েক শ’ রোহিঙ্গা। বাড়িঘর ছাড়েন দেড় লাখ। এ ঘটনার পর রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসঙ্ঘ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ যুক্তরাষ্ট্র ও বিভিন্ন দেশ থেকে চাপ এলে রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে ভোটাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। কিন্তু সম্প্রতি তা বাতিল ঘোষণা করায় এ ইস্যুতে নতুন করে সঙ্কট সৃষ্টি করা হলো। সেই সাথে রোহিঙ্গা সমস্যা প্রশ্নে মনে হয় দেশটির সরকার আবারো উল্টো পথে হাঁটার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। অথচ শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশটির উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের মতোই সরকারও রোহিঙ্গাদের প্রতি চরম বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে থাকে। এরা কিছুতেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব মেনে নিতে চাইছে না।
রোহিঙ্গা মিয়ানমারে একটি নৃতাত্ত্বিক জাতি সম্প্রদায়। শত শত বছর ধরে বার্মার তথা আজকের মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে এরা বসবাস করে আসছে। আরাকান প্রদেশটি আজ রাখাইন প্রদেশ নামে পরিচিত। কিন্তু মিয়ানমারের প্রতিটি সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও যাবতীয় মানবাধিকার অস্বীকার করে আসছে। বলছে, এরা ভিনদেশী। বাংলাদেশ অঞ্চল থেকে এরা বার্মায় গিয়ে অবৈধভাবে সেখানে বসাবস করছে। এরা বার্মায় থাকতে পারবে না। ফলে আজ এরা সেখানে নাগরিক অধিকারহারা। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও অন্যান্য নাগরিক সেবা জোগানোয় মিয়ানমার সরকারের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। নিজ দেশে এরা পরবাসী। এরা ‘রাষ্ট্রহীন’ এক জনগোষ্ঠী। এরা হাজারো বছর ধরে আরাকানে বসবাস করেও সে দেশে নেই এদের সম্পত্তি অর্জনের অধিকার। কেড়ে নেয়া হয়েছে তাদের জমিজমা। অবাধ চলাচলের, লেখাপড়া শেখার, ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকারও নেই এদের। ফলে অমানবিক এক পরিবেশে এদের সে দেশে বসবাস করতে হচ্ছে । তা-ও নেই জীবনের নিরাপত্তা। অব্যাহতভাবে দফায় দফায় শিকার হতে হচ্ছে রাখাইনদের পরিচালিত রোহিঙ্গা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী নির্মূল অভিযানের। হতে হচ্ছে দেশছাড়া। রাখাইনদের নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক রোহিঙ্গা আজ শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ আরো কিছু দেশে। ২০১২ সালের হিসাব মতে, রাখাইন প্রদেশে এখনো বসবাস করছে আট লাখ রোহিঙ্গা। রাখাইন রাজ্যটি বাংলাদেশের লাগোয়া। তাই যখনই এখান থেকে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, তখনই এরা বাংলাদেশে এসে শরণার্থী হয়। জাতিসঙ্ঘের মতে, এরা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এরা বিশ্ববাসীর কাছে ভুলে যাওয়া এক জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশে আছে তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী, অন্য হিসেবে পাঁচ লাখেরও বেশি। পাকিস্তানে দুই লাখ, থাইল্যান্ডে এক লাখ আর মালয়েশিয়ায় ২৪ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। তবে অনেকেই মনে করেন, প্রকৃত হিসাবে এসব দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী কমপক্ষে আরো ৫০ শতাংশ বেশি। তা ছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো অনেক দেশেই বিচ্ছিন্নভাবে কিছু রোহিঙ্গা ঠাঁই নিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের কোনো আগ্রহ নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত আরাকান রাজ্যটি রোহিঙ্গাদের নয়, রাখাইনদেরÑ এ দাবি পাকাপোক্ত করার জন্য ১৯৮৯ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার আরাকান রাজ্যের বা প্রদেশের নাম পাল্টে রাখে রাখাইন প্রদেশ। নাগরিকত্ব ও সম্পত্তির অধিকার কেড়ে নেয়ার মতো জঘন্য অপরাধ বার্মা তথা আজকের মিয়ানমারের প্রতিটি সরকার করে আসছে, দেশটি ১৯৪৮ সালে ইংরেজদের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই। বিশেষ করে জেনারেল নে উইন ক্ষমতায় আসার পর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর হয়রানি আর নির্যাতনের মাত্রা হাজার গুণে বেড়ে যায়। থেমে থেমে বিভিন্ন অজুহাতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে চলে রোহিঙ্গা নির্মূল তথা এথনিক কিনসিং। এ উদ্দেশ্যেই ১৯৮২ সালে করা হয় মিয়ানমার নতুন নাগরিকত্ব আইন।
মিয়ানমারের সরকার জানাতে চায় না, অন্যদের জানতে দিতে চায় নাÑ সে দেশের রোহিঙ্গাদের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি। মিয়ানমারে এদের শেকড় গভীরভাবে প্রোথিত। সে দেশে এরা নাগরিকত্ব হারিয়ে কোনো বিবেচনায়ই ‘রাষ্ট্রহীন’ থাকতে পারে না। শত শত বছর ধরে সে দেশে বসবাস করে আসা রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ছিনিয়ে নেয়া এ এক চরম অন্যায়। ন্যায়নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনকানুনের প্রতি সীমাহীন অবজ্ঞা। কিন্তু গায়ের জোরে মিয়ানমার এদের বিদেশী বলে অপপ্রচার চালিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে এদের ঠেলে দিয়েছে ‘রাষ্ট্রহীন’ মর্যাদায়।
রোহিঙ্গা শব্দটি এসেছে ‘রোহাঙ্গ’ শব্দ থেকে। আরাকান রাজ্যের মূল নাম ছিল রোহাঙ্গ। মধ্যযুগের আরাকান ও চট্টগ্রামের করিরা- আলাওল, দৌলত কাজী, মরদান, শমসের আলী, আইনুদ্দিন, আবদুল গনি ও অন্যরা তাদের লেখায় আরাকানকে বারবার উল্লেখ করেছেন রোসাং, রোসাঙ্গো দেশ ও রোসাঙ্গো শর (শহর) নামে। রোহাঙ্গের মূল অধিবাসীদের মধ্যে ছিল হিন্দু, বৌদ্ধ ও অ্যানিমিস্ট বা সর্বপ্রাণবাদীরা। অ্যানিমিস্টদের বিশ্বাস বৃক্ষ, পাথর, বায়ু প্রভৃতি সব বস্তুর প্রাণ আছে। প্রাক-ইসলামি আমল থেকেই এই অঞ্চলটি আরব সমুদ্র-অভিযাত্রীদের কাছে সুপরিচিত ছিল। তখন এখানে আসা অনেক আরব স্থানীয় লোকদের সাথে মিশে গিয়ে বসবাস করতে থাকেন আরাকান তথা রোহাঙ্গ রাজ্যে। এরাই আজ রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। কিছু ইতিহাসবিদ উল্লেখ করেছেন, আরাকানে প্রথম যে মুসলমান বসবাস শুরু করেন, এরা আরব। এরা সপ্তম শতাব্দীতে আরাকানে আসেন মোহাম্মদ ইবনে হানাফিয়ার নেতৃত্বে। তিনি রানী কৈয়াপুরিকে বিয়ে করলে রানী মুসলমান হয়ে যান। সাথে সাথে দলবদ্ধভাবে তার কৈয়াপুরির প্রজরা সবাই মুসলমান হয়ে যায়। যে পাহাড়চূড়ায় এরা বসবাস করতেন, তা আজো হানাফিয়া টঙ্কি ও কৈয়াপুরি টঙ্কি নামে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। তাই যদি সত্যি হয়, তবে আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের শেকড় প্রোথিত হয় সেই সপ্তম শতাব্দীতে। তাহলে সেখানে তাদের বসবাস আজ ১৪০০ বছর ধরে। তাহলে এদের বাংলাদেশী প্রত্যাবাসী বলে তাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার বাতিল করা কোন যুক্তিতে?
এ এলাকায় মুসলমানদের বড় ধরনের আরেকটি আগমন ঘটে অষ্টম শতাব্দীর দিকে। ব্রিটিশ বার্মা গেজেটিয়ারে (১৯৫৭) মতে, ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মাহাতেইং সানদিয়া ভেসালির সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং পুরনো রামাওয়াদির জায়গায় নতুন নগর ভেসালি গড়ে তোলেন। তিনি বাইশ বছর রাজত্ব করার পর মারা যান। তার শাসনামলে বেশ কয়েকটি জাহাজ রামব্রি দ্বীপে এসে ধ্বংস হয়ে যায়। এসব জাহাজের নাবিকেরা ছিল মুসলমান। তাদের পাঠানো হয় আরাকান সদরে। এরা সেখানে কয়েকটি গ্রামে বসবাস গড়ে তোলেন। এরা ছিল মুর আরব মুসলমান।
তৃতীয় আরেকটি মুসলমান জনগোষ্ঠী আরাকানে আসে ১৪০৪ সালের পর, যখন আরাকানি রাজা বার্মিজদের কাছে সিংহাসনচ্যুত হয়ে বাংলার রাজধানী গৌড়ে আশ্রয় নেন। সিংহাসনচ্যুত এই রাজা সিংহাসন ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে বাংলার সুলতান জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ শাহের সহায়তা চান। সুলতান হাজার হাজার সৈন্য পাঠান আরাকান বিজয়ের জন্য। এসব সৈন্যের অনেকেই সেখানে থেকে যান ও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন।
আরো পরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীÑ যেমন মোগল (মোগল যুবরাজ শাহ সুজার যুদ্ধের মাধ্যমে), তুর্কি, পার্সি, মধ্য এশীয়, পাঠান ও বাঙালিরাও আরাকানে এসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে মিশে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করে। আরাকানে ও বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে ইসলামের প্রসার ঘটে সমুদ্রপথে এ অঞ্চলে আসা সুফি ও আরব বণিকদের মাধ্যমে। এর সত্যতা মেলে আরাকান ও বার্মার সুদীর্ঘ উপকূল বরাবর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন সুফি-আউলিয়া-দরবেশের দরগাহ ও মাজারের উপস্থিতি থেকে। বার্মিজ ইতিহাসবিদ ইউ. কাইয়ি লিখে গেছেন ‘The superior morality of Muslims attracted large number of people towards Islam, who embraced it en masse.’ (The History of Burma, By U. Kyi, page-160).
আরাকান নামে মধ্যযুগের এ রাজ্যটি বার্মিজরা ১৭৮৪ সালে দখল করে এটিকে বার্মার একটি প্রদেশে পরিণত করে। অতএব বলার অপেক্ষা রাখে না, রোহিঙ্গা মুসলমানেরা সেই সপ্তম শতাব্দী থেকে আরাকানে তথা আজকের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছে। এরা এমন এক জাতি সম্প্রদায়, যার সৃষ্টি বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সমন্বয়ের মাধমে। কোনো উপজাতি থেকে এর উদ্ভব ঘটেনি। চৌদ্দ শ’ বছর ধরে যাদের বসবাস এ দেশে, সে দেশে এরা নাগরিকত্বহারা হতে পারে না। পেতে পারে না ‘রাষ্ট্রহীন’ পরিচয়। হতে পারে না রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার। কোনো বিবেচনায়ই তাদের বিরুদ্ধে চলতে পারে না জাতিগত উচ্ছেদ বা নির্মূল অভিযান।
সার্বিক বিবেচনায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সন্তান। এরা মিয়ানমারে স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার রাখে। অথচ দেশটির বৌদ্ধবাদী সামরিক সরকারগুলো নির্মম ব্যবহার করেছে রোহিঙ্গাদের সাথে। এরা কখনোই সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। বরং সরকার নিজেই রোহিঙ্গা নিধন-নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রতিটি সরকার রোহিঙ্গাদের যাবতীয় নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। এদের রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে নিজ দেশে পরবাসী করা হয়েছে। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী নাগরিক কার্ডও বাতিল করে ভোটের অধিকার বাতিল করেছে। অতএব মিয়ানমার সরকার নিজে থেকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসে রোহিঙ্গাদের মৌল অধিকার বাস্তবায়ন করবে, তেমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই।
অতএব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই এখন রোহিঙ্গাদের শেষ ভরসা হয়ে উঠেছে। জাতিসঙ্ঘের ব্যানারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না এলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা নিশ্চিত অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে। এখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সার্র্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রথমেই দরকার জাতিসঙ্ঘের অধীনে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করা। জাতিসঙ্ঘকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাসহ যাবতীয় নাগরিক অধিকার দিতে। রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়ন ও হত্যা বন্ধ করতে হবে। স্বাধীনভাবে লেখাপড়া করা ও ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকার দিতে হবে। মিয়ানমারের সবখানে তাদের অবাধে যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে দিতে হবে। সম্পদ অর্জনের অধিকার দিতে হবে। অন্য নাগরিকদের মতো রোহিঙ্গাদের সব ক্ষেত্রে সমসুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির থেকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে আনতে হবে। ফিরিয়ে দিতে হবে তাদের কেড়ে নেয়া সম্পদ। পুনর্বাসন করতে হবে তাদের ছেড়ে যাওয়া বাড়িঘরে। তাদের রাজনীতি ও অর্থনীতির মূল স্রোতে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রায়ের ভূমিকাই হতে হবে মুখ্য।
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
February
(1363)
-
▼
Feb 16
(42)
- এশিয়ায় ধর্ষণের ব্যাপকতা by নাজমুল হোসেন
- পাকিস্তান যে কারণে হারল : মিয়াঁদাদের বিশ্লেষণ
- রাজধানীতে ৮ গাড়িতে আগুন
- রাজশাহীর লালনশাহ পার্ক- ব্লক চুরি, সৌন্দর্য ম্লান ...
- ৪০ দিনে গ্রেপ্তার ১৪,০০০ by নুরুজ্জামান লাবু
- হরতাল-অবরোধে দরপতন- সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ
- ‘বাংলাদেশে নির্বাচন ছাড়া সঙ্কটের সুরাহা হবে না’
- ‘জানমাল রক্ষার জন্য কাউকে হত্যা করলে অপরাধ হবে না’...
- ঢাকা সিটি’র নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আগাগোড়া সব সমান by শামীমুল হক
- র্যাব কেন হাডুডু খেলবে না? by কামাল আহমেদ
- ‘জনগণ খালেদাকে গ্রেপ্তার করে কাশিমপুরে পাঠাবে’ -শা...
- ঝুঁকিতে ইউক্রেন রাশিয়া শান্তিচুক্তি
- তালেবান পুষছে আইএসআই
- রক্তের দামে কেনা দেশটাকে জেদাজেদি করে ধ্বংস করবেন ...
- গুলির শব্দে ঘুম ভাঙল- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছা...
- মানুষ যেন মানুষকে না পোড়ায় -বিশেষ সাক্ষাৎকারে : ...
- একটি বই সবার পড়া উচিত by আশরাফ আল দীন
- রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার বাতিল কোন যুক্তিতে? by জি. ম...
- তাহলে আমরা কি তরুণদের খাদে ঠেলে দিচ্ছি? by দিদারুল...
- রাজনীতিকদের সৃষ্ট সঙ্কট তাদেরই সমাধান করতে হবে by ...
- সঙ্কটকে স্বীকার করে ছাড় দিন by আলী ইদরিস
- এ কেমন রাজনীতি? by মীর আবদুল আলীম
- বাংলাদেশে আমজনতার রাজনীতি by প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক
- অনেক ক্যানসারই নিরাময়যোগ্য by মমতাজ বেগম
- একদিন নয় বিষাদ ভুলিয়া by জয়া ফারহানা
- ইলোরা-অজন্তা by আলী যাকের
- বিক্ষোভ ও পুলিশি বাধা, রাজনৈতিক সংঘাত বন্ধ হোক
- দিনাজপুরে যৌথবাহিনীর গুলিতে শিবির নেতা নিহত : ঢাকা...
- সাভারের ফুলচাষিরা ভালোবাসা দিবসে কিছুটা পুষিয়েছেন ...
- সন্দেহ হলেই পুলিশের গুলি- রক্ষকেরাই এখন আইনের ভক্ষক!
- সংলাপ না হওয়ার পরিণতি ভয়াবহ
- শতকোটি রুপির বিয়ে
- সীতাকুণ্ডে পুলিশের গুলিতে নিহত আরিফ যুবদল নেতা
- কার সঙ্গে সংলাপে বসবো? -প্রধানমন্ত্রী
- পঞ্চম দিনের মতো কার্যালয়ে খাবার নিতে বাধা- খালেদা ...
- ইছামতি নদী রক্ষা করুন by আবদুল বাছের শিকদার
- প্রধানমন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
- ভেঙেছেন দুই পুরুষের হৃদয়
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা কৌশল সরকারের by জাকির হো...
- জ্বালানি তেল আমদানির জন্য আইটিএফসির কাছ থেকে জরুরি...
- স্মরণ : নূরুল মোমেন
-
▼
Feb 16
(42)
-
▼
February
(1363)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















