Thursday, April 29, 2010

ভারতীয় এক কূটনীতিক নয়াদিল্লিতে গ্রেপ্তার

ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসের এক নারী কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রসচিব গোপাল পিল্লাই জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসের মহিলা কূটনীতিক মাধুরী গুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর এএফপি।
সন্দেহ করা হচ্ছে, মাধুরী গুপ্ত পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গোপন তথ্য পাচার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি র-এর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে দিতেন। মাধুরী ইসলামাবাদ দূতাবাসে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করছেন। তিনি সেখানে তথ্য শাখার কর্মকর্তা ছিলেন।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব কে সি সিং ‘টাইমস নাউ’ সংবাদ চ্যানেলকে বলেন, অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এদিকে ভারতের গোয়েন্দা ব্যুরোর সাবেক প্রধান অরুণ ভগত ওই চ্যানেলকে মাধুরীর গ্রেপ্তার সম্পর্কে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ তথ্য নিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে। তবে জানা গেছে, ওই কূটনীতিক তাঁর অপরাধ স্বীকার করেছেন।

জাতীয় মহিলা দাবা

আরলিন ডেভেলপার জাতীয় মহিলা দাবায় শীর্ষে নাজরানা খান (ইভা)। চতুর্থ রাউন্ড শেষে তাঁর সংগ্রহ চার পয়েন্ট। সাড়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শামীমা আক্তার (লিজা) ও শারমীন সুলতানা (শিরিন)। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে কাল নাজরানা রোকসানা তিতলীকে, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ মাহমুদ হক চৌধুরীকে, প্রতিভা তালুকদার জাকিয়া সুলতানাকে হারিয়েছেন। মাসুদা বেগম দিলারা জাহানকে এবং জাহানারা হক রুনু ইয়ন সরকারকে হারিয়েছেন। শামীমা ও শারমীনের ম্যাচটি ড্র হয়েছে।

আইসিসিতেও পদত্যাগ

২০০০ সালের ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির পর আরেকটা মহাধাক্কা আসতে যাচ্ছে ক্রিকেটে? এক আইপিএল নিয়েই কত না কেলেঙ্কারির খবর, কত না গুঞ্জন! সেসব সত্যি হোক বা নাই হোক, ঠিক এই অবস্থায়ই পদত্যাগ করে বসলেন আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা রবি সাওয়ানি। সাওয়ানির পদত্যাগের সঙ্গে আইপিএলের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও সন্দেহের আঙুল সেদিকেই। এদিকে সাওয়ানির এই পদত্যাগ আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকেই নেতৃত্বশূন্য করে দিতে যাচ্ছে। কারণ, আগামী জুনে অবসর নিতে যাচ্ছেন বিভাগের দীর্ঘকাল ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা পল কনডনও।

শেষ রক্ষা হচ্ছে না উডসের

সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য কত কিছুই না করলেন টাইগার উডস! কিন্তু কাজ হচ্ছে না কোনো কিছুতেই। উডসের স্ত্রী এলিন নরদেগ্রেনের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র শিকাগো সান টাইমসকে জানিয়েছে, দিনের বেশির ভাগ সময়টা এলিনের এখন কাটছে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে, প্রসঙ্গ—বিবাহবিচ্ছেদ। একজন-দুজন নয়, আলোচনা চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও নিজের শহর স্টকহোমের বেশ কজন আইনজীবীর সঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, ডিভোর্স হলে উডসকে গুনতে হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সান টাইমস-এর সেই সূত্রই জানিয়েছে, এত বিশাল অঙ্কের অর্থ দাবি করার কারণ একটি বই। সম্প্রতি লেডি কলিন ক্যাম্পবেলের এমপ্রেস বিয়াঙ্কা বইটি পড়েছেন এলিন, যেটিতে ধনকুবের একজন লোক স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর সব সম্পদ সন্তানদের না দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে দেন। বই পড়ে চিন্তিত এলিন তাই নিজের দুই সন্তানের ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে চাইছেন। অ্যারিজোনায় একটা নতুন বাড়ি কেনার কথাও নাকি চিন্তা করছেন এলিন।

বাংলাদেশ ১৬৬/৫

বারবাডোজকে জয়ের জন্য ১৬৭ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে কাল কেনসিংটন ওভালে ইমরুল কায়েসের ৫৭ রানের সুবাদে ১৬৬ রান করেছে সাকিব আল হাসানের দল। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে ভালো একটা সূচনা এনে দেন ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ আশরাফুল। নবম ওভারের তৃতীয় বলে আশরাফুলের আউট হওয়ার আগে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৪ রান। ৩৫ রান করেন আশরাফুল। তাঁর ৩৫ বলের ইনিংসে আছে ৪টি চার ও ১টি ছয়। ইমরুলের ৫৭ রানই বাংলাদেশ ইনিংসের একমাত্র ফিফটি। তাঁর ৩৫ বলের ইনিংসটি ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো। ১টি চার ও ১টি ছয়ে ২১ বলে ২৬ রান করেন আফতাব আহমেদ। ৭ বলে ১১ করেন সাকিব। বল হাতে সবচেয়ে সফল বোলার মার্টিন নার্স। ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
১ মে গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই প্রস্তুতি ম্যাচটিও হবে কেনসিংটন ওভালে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৬/৫ (ইমরুল ৫৭, আশরাফুল ৩৫, আফতাব ২৬, সাকিব ১১, নাঈম ৯* মাহমুদউল্লাহ ১৪, মুশফিকুর ৪*; মার্টিন নার্স ৩/২১, অ্যাশলি নার্স ১/২৯, বাথওয়েট ১/৩৪)।

বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন কিউইদের চোখে

সেমিফাইনালের দল—ক্রিকেটের বড় আসরে নিউজিল্যান্ডের পরিচিতি যেন এটাই। তবে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠাটাই টার্গেট নিউজিল্যান্ডের। এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকাটা যে তাঁকেই নিতে হবে, সেটা ভালোই জানেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি।
বোলিংয়ে ভেট্টোরিই নিউজিল্যান্ডের বড় অস্ত্র। তবে দলের স্পিন আক্রমণে সহযোগী হিসেবে তিনি পাচ্ছেন নাথান ম্যাককালামকে। অলরাউন্ডার রব নিকোলও স্পিন বল করতে পারেন। আর এঁদের সঙ্গে আছেন শেন বন্ড-জ্যাকব ওরামের মতো পেসাররা। দলের বোলিং শক্তিটাই স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভেট্টোরিকে, ‘আমরা খুবই আশাবাদী। কাইল ফিরে এসেছে। তার ওপরও ভরসা করা যায়। টিম সাউদি ভালো করছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছে বাটলার; সেও দলের সফল বোলার।’ তবে ভেট্টোরির বেশি প্রত্যাশা স্পিনারদের কাছে, ‘আমি মনে করি ক্যারিবীয় ধীরগতির পিচে স্পিনই বড় একটা ভূমিকা রাখবে। আশা করছি, নাথান ম্যাককালাম এবং আমি নিজে গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রাখতে পারব।’
এবার শিরোপা জেতার লক্ষ নিউজিল্যান্ডের। যেমনটা বললেন স্কট স্টাইরিস, ‘শুধু সুপার এইট কিংবা সেমিফাইনাল খেলার কথাই ভাবছি না আমরা, টুর্নামেন্ট জয়েরও সত্যিকারের সম্ভাবনাই দেখছি।

সিলেট বিকেএসপি পেল বাফুফে

একাডেমি গড়তে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সিলেট বিকেএসপিকে ব্যবহার করতে পারবে বাফুফে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দু দিন আগে বাফুফেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। এর মাধ্যমে অবসান হতে চলেছে বাফুফে-মন্ত্রণালয় প্রায় এক বছরের চিঠি চালাচালি।
সিলেট বিকেএসপিতে একাডেমি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এত দিন সরকারের দিকে চেয়ে ছিল বাফুফে। সরকার সিলেট বিকেএসপির অর্ধেক দিতে রাজি হয়েছিল প্রথমে। কিন্তু বাফুফে চায় পুরোটাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তাদের ইচ্ছাই পূরণ হলো। যদিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও ৫ মাস পেরিয়ে গেছে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেএসপির বোর্ড অব গভর্নরসের ২১তম সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, শর্তসাপেক্ষে ৫ বছরের জন্য সিলেট বিকেএসপি বাফুফেকে লিজ দেওয়া যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে সরকার অথবা বাফুফের উদ্যোগে একটি ফুটবল একাডেমি গড়া হবে।
৫ বছরের জন্য বিকেএসপি নেবে কি না সে ব্যাপারে নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফে। সেই সিদ্ধান্ত বিকেএসপি নেওয়ার পক্ষেই যাবে বলে জানা গেছে। তবে কবে নাগাদ একাডেমির কাজ শুরু হবে বলা যাচ্ছে না।
পুলিশের দ্বারস্থ: চলমান বাংলাদেশ লিগে পাতানো খেলা বন্ধের জন্য পুলিশের সাহায্যপ্রার্থী বাফুফে। কাল বাফুফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশের দপ্তরে গিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন এবং খুব শিগগিরই অভিযানে নামবেন তাঁরা—বাফুফে থেকে এমনটিই জানানো হয়েছে। তবে অতীতেও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল বাফুফে। কিন্তু এ ব্যাপারে কখনোই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রস্তুতি ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ

জয় দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলো বাংলাদেশের। কাল কেনসিংটন ওভালে বারবাডোজের বিপক্ষে ৩৬ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৬৬ রান তোলে। জবাবে স্বাগতিকেরা ৩ উইকেটে করে ১৩০ রান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে উদ্বোধনী জুটিতে ভালোই একটা সূচনা এনে দিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ আশরাফুল। নবম ওভারের তৃতীয় বলে আশরাফুলের আউট হওয়ার আগে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৪ রান। ৩৫ রান করেন আশরাফুল। তাঁর ৩৫ বলের ইনিংসে আছে ৪টি চার ও ১টি ছয়। ইমরুল সমান ৩৫ বলে করেন ইনিংস-সর্বোচ্চ ৫৭ রান। দলীয় ১১৭ রানে আউট হওয়ার আগে আফতাব আহমেদকে নিয়ে ইমরুল দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫৩ রান করেন। ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো ইমরুলের ইনিংস। ১৩৯ রানে বারবাডোজের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে আফতাব ২১ বলে করেন ২৬। এর এক বল পরই আউট হয়ে যান অধিনায়ক সাকিব (৭ বলে ১১ রান)।
রান তাড়া করতে আসা বারবাডোজকে প্রথম ওভারেই আঘাত করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা; চতুর্থ বলে রশিদি বাউচারকে ফিরিয়ে দেন। দুই নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসা অধিনায়ক রায়ান হাইন্ডস ৪৯ বলে ৫০ (৫টি চার) রানে অপরাজিত থাকলেও ৩ উইকেটে ১৩০ রানের বেশি তুলতে পারেনি বারবাডোজ।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ১ মে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই প্রস্তুতি ম্যাচটিও হবে কেনসিংটন ওভালে। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৬/৫ (ইমরুল ৫৭, আশরাফুল ৩৫, আফতাব ২৬, সাকিব ১১, নাঈম ৯* মাহমুদউল্লাহ ১৪, মুশফিকুর ৪*; মার্টিন নার্স ৩/২১, অ্যাশলি নার্স ১/২৯, বাথওয়েট ১/৩৪)।
বারবাডোজ: ২০ ওভারে ১৩০/৩ (হাইন্ডস ৫০*, মার্টিন নার্স ১৮, বাউচার ০, কির্ক এডওয়ার্ডস ৮, কার্টার ৪৫*; মাশরাফি ১/২৭, রাসেল ০/৩৩, নাঈম ০/১৩, সাকিব ০/২৭, রাজ্জাক ১/৭, আশরাফুল ০/৪, রুবেল ১/১৮)।
ফল: বাংলাদেশ ৩৬ রানে জয়ী।

স্বপ্ন দেখছেন লুকা টনি

রূপকথার গল্প শেষে বাস্তবের মাটিতে নেমে এসেছেন অনেক আগেই। তবে গলা ছেড়ে হাল না ছাড়ার গান ঠিকই গেয়ে যাচ্ছেন লুকা টনি। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগের রূপকথার মতো সেই সময়টা হয়তো আর আসবে না, লুকা টনি তবু স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্ন আরেকটা বিশ্বকাপ খেলার। ইতালিয়ান স্ট্রাইকারের আশাবাদী হয়ে ওঠার কারণ দুটি। যে মার্সেলো লিপ্পি তাঁকে প্রথম ইতালি দলে ডেকেছিলেন, সেই লিপ্পিই যে এবারের বিশ্বকাপেও ইতালির কোচ! ধারে খেলতে আসা রোমায় তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সটাও ভালোই।
২০০৩ থেকে ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত, দারুণ এক সময়ই এসেছিল টনির ক্যারিয়ারে। পেশাদার ক্যারিয়ারটা সেই ১৯৯৪ সালে শুরু করলেও টনির প্রথম ছয়টি বছর কেটেছে মডেনা, ফিওরেনজুওলা, লোডিজিয়ানি, ট্রেভিসো, ব্রেসসিয়া নামের অখ্যাত ক্লাবগুলোতে যেনতেন মানের ফুটবল খেলেই। ক্যারিয়ারের বাঁক ঘুরে যায় ২০০৩ সালে। সে বছর পালের্মোতে যোগ দেন তিনি। দু বছরে এই ক্লাবে ৮০টি ম্যাচ খেলেছেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার, করেছেন ৫০ গোল। ২০০৪ সালে জিওভান্নি ত্রাপাত্তোনির জায়গায় ইতালির কোচ হয়ে আসেন মার্সেলো লিপ্পি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা টনিকে দলে নিয়ে নেন তিনি।
২০০৫-০৬ মৌসুমে লিগে ৩৮ ম্যাচে ৩১ গোল করে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ দলেও। কিন্তু রূপকথার গল্পেরও তো শেষ আছে! অনেক আশা জাগিয়েও তাই হতাশ একটা বিশ্বকাপই কাটাতে হলো তাঁকে। ইতালি বিশ্বকাপ জিতলেও মাত্র দুটি গোলই করতে পেরেছিলেন টনি।
বিশ্বকাপের হতাশা হয়তো ভুলে ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের ডাক পেয়ে। জার্মানি ২০০৬ বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে ২০০৭ সালে জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। কিন্তু জার্মানি যেন অপয়া একটা দেশই তাঁর জন্য! ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯, এ দুটি মৌসুম মোটামুটি কাটালেও নতুন মৌসুমটা একেবারেই বাজে গেল টনির। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ৫টি ম্যাচেই তাঁকে মাঠে নামিয়েছিলেন কোচ লুই ফন গল। গোল পেয়েছেন একটি।
এরপর টনির অনুরোধে বায়ার্ন তাঁকে ইতালির ক্লাব এএস রোমায় ধারে খেলতে পাঠায়। রোমাতে ১০ ম্যাচ খেলে ৫টি গোলও পেয়েছেন। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ‘ভালো কিছু ম্যাচ খেলেছি আমি। ফিরে পাওয়া ফর্মটা ধরে রাখতে পারলে তো স্বপ্ন দেখা যায়ই।’

ব্যর্থতা ঘোচাতে চায় অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে বলেছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পৌঁছার পর অধিনায়কের কণ্ঠে সুর মিলিয়ে ডেভিড হাসিও বললেন, অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ঘোচানোর সময় এটাই। এমন বিশ্বাসের পেছনে এই অলরাউন্ডারের বাজি, দলে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টদের আধিক্য।
প্রথম দুই বিশ্বকাপে প্রথাগত খেলোয়াড়দের ওপরই ভরসা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা। তাতে কাজ হয়নি। প্রথমবার তবুও সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছিল, গতবার তো বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই! অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিশ্বকাপের দলে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টদের। গত দুই বিশ্বকাপের অধিনায়ক রিকি পন্টিং তো টি-টোয়েন্টিই ছেড়ে দিয়েছেন। দলে নেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হিসেবে নজর কাড়া ডেভিড ওয়ার্নার, ডার্ক ন্যানেসসহ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি বিগ ব্যাশে ভালো করা দুই অলরাউন্ডার ড্যারিয়েল ক্রিস্টিয়ান ও স্টিভেন স্মিথ এবং উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান টিম পাইনকে।
প্রায় নতুন চেহারার দলটিই বিশ্বাসের রসদ জোগাচ্ছে হাসিকে, ‘গতবার আমরা সুপার এইটেও যেতে পারিনি, এটা ছিল চরম ব্যর্থতা। এবার সবাই যদি নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারি, তাহলে সুপার এইট তো বটেই, আশা করি আরও বেশি কিছু আমরা করতে পারব। আমি মন থেকে বিশ্বাস করি ফাইনাল খেলার মতো, এমনকি শিরোপা জয়ের মতো দলও এবার আমাদের আছে।’ হাসি ভ্রাতৃদ্বয়ের ছোট ডেভিড নিজেও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪৪৯ রান তাঁর, উইকেটও আছে ২৯টি।
হাসির মতো একই বিশ্বাস ব্রেট লিরও, তবে এই ফাস্ট বোলারের বাজি দলের ভয়ংকর পেস আক্রমণ, ‘আমাদের দলে চারজন বোলার আছে, যারা ১৫০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি গতিতে বোলিং করতে পারে, অনেকটা আশির দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো। পুরো ক্রিকেট-বিশ্বই বলছে, “এই পেস কোয়াট্রেটের দিকে লক্ষ রাখুন।” এমনকি এখানে (ওয়েস্ট ইন্ডিজে) রাস্তায় দাঁড়ালেও লোকে একই কথা বলছে। এই সুবিধা আমরা অবশ্যই কাজে লাগাব।’ নিজের খেলা নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও লি আশা করছেন মাঠে নামার, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে বুড়ো আঙুলে চোট লাগায় আট দিনের মতো মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে আমি এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি, পানি টানার জন্য নয়।’
গতকালই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা। ২ মে তাদের প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ ৫ মে