Saturday, August 25, 2018

৭০০ কোটি কি শুধুই গল্প!

হাইলাইটস
৭০০ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য। যা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্র এবং কেরালা সরকারের মধ্যে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ চলল, এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সেই আর্থিক সাহায্যের অস্তিত্ব ঘিরেই!
ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দূতাবাসের এক শীর্ষস্থানীয় কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, তাঁর দেশ এখনও বন্যা-বিধ্বস্ত কেরালার জন্য কোনও আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেনি।
তিরুবনন্তপুরম: ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য। যা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্র এবং কেরালা সরকারের মধ্যে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ চলল, এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সেই আর্থিক সাহায্যের অস্তিত্ব ঘিরেই! ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দূতাবাসের এক শীর্ষস্থানীয় কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, তাঁর দেশ এখনও বন্যা-বিধ্বস্ত কেরালার জন্য কোনও আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেনি। এ নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনও কথাও হয়নি তাঁদের। শেখ মহম্মদ বিন রশিদ শুধুমাত্র জরুরি ভিত্তিতে একটি কমিটি তৈরি করেছেন, যে কমিটি কেরালার জন্য ত্রাণ নিয়ে আলোচনা করছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সাহায্যের অঙ্ক ঠিক করবে তারা। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে ‘৭০০ কোটি’র গল্প এল কোথা থেকে? খোদ বিদেশ মন্ত্রক পর্যন্ত যা নিয়ে বিবৃতি দিতে বাধ্য হল!
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বক্তব্য, তাঁর তথ্যে কোনও ভুল নেই। কারণ, ত্রাণ এবং আর্থিক সাহায্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হবু রাজার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আশা করি কেন্দ্র এখন এটা অস্বীকার করবে না।’ কেরালার জন্য ৭০০ কোটি টাকার সাহায্য গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে প্রবল চাপে ছিল মোদী সরকার। এ দিন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বিজয়নকে বিঁধতে আসরে নেমে পড়ে বিজেপি। দলের কেরালার সভাপতি জানতে চান, ইউএই যখন বলছে তারা এখনও সাহায্যের অঙ্ক ঘোষণা করেনি, তা হলে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ৭০০ কোটির কথা জানলেন কী ভাবে? বিজয়ন জানিয়েছেন, ইউসুফ আলি নামে এক প্রবাসী মালয়ালি শিল্পপতি তাঁকে জানিয়েছিলেন মোদী এবং শেখের মধ্যে ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য নিয়ে কথা হয়েছে। সেই কথাই তিনি টুইটারে লিখেছিলেন। এ প্রসঙ্গে ১৮ অগস্ট মোদীর করা একটি টুইটের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, যাতে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ইউএই-র যুবরাজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি অবশ্য এত সহজে বিজয়নকে রেহাই দিতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, ৭০০ কোটির গল্প তৈরি করে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিষাক্ত প্রচার অভিযানে নামা হয়েছিল।
ঘটনা হল, এখন ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য নিয়ে বিজেপি কেরালার মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেও দু’দিন আগে মোদীর মন্ত্রিসভারই সদস্য কে জে আলফোন্স দাবি জানিয়েছিলেন, আমিরশাহি থেকে আসা ৭০০ কোটির আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করুক কেন্দ্র। এমনকী, বিদেশ মন্ত্রক টুইট করে এও জানিয়েছিল, নীতিগত কারণে তারা বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিতে পারবে না। তবে প্রবাসী কিংবা বিদেশি কেউ চাইলে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থদান করতে পারেন। যাতে অনেকের মনে হয়েছিল, চাপের মুখে কেন্দ্র ঘুরপথে বিদেশি অর্থ নেওয়ার দরজা খুলে দিচ্ছে। তবে, আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব এখনও না এলেও, বিপুল পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী ইতিমধ্যেই কেরালার উদ্দেশে রওনা করে দিয়েছে ইউএই।
সূত্রঃ এই সময়

সবুজের রাজ্যে হাতছানি by ইমাদ উদ দীন

চারদিকেই সবুজ প্রকৃতির হাতছানি। এ যেন এক অন্যরকম আবেশ। পর্যটকদের মুগ্ধ করতে সর্বদাই প্রস্তুত সবুজ প্রকৃতির ‘মানসকন্যা’ মৌলভীবাজার। ২৭৯৯ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত সবুজের এ রাজ্য মনকাড়া অপরূপ নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। চা বাগানগুলোর মনোহর দৃশ্য, হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ সফেদ জলরাশি, লাউয়াছড়ার দুর্লভ জীববৈচিত্র্য, দেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড ও দুর্গম পাহাড়ের জলকন্যা হামহাম আর নয়নাভিরাম শতাধিক চা বাগান, রাবার বাগান, আগর বাগান, মাধবপুর লেইকসহ এ জনপদের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এ সকল সৌন্দর্যের ডালি প্রকৃতিপ্রেমীদের আনন্দ ভ্রমণের আহ্বান জানায়।
চা বাগান: ছোট ছোট চা গাছ। আর বিশাল বিশাল ছায়াবৃক্ষ। খোলা চোখ যতদূর যায় শুধু চা আর ছায়াবৃক্ষ। এ যেন সবুজ দুনিয়া। চা শ্রমিকদের দুটি পাতা একটি কুঁড়ি সংগ্রহের দৃশ্য এ এক অন্যরকম অনুভূতি। সিলেট বিভাগের ১৯৩টি বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজারে রয়েছে ৯২টি চা বাগান।
হাকালুকি হাওর: স্থানীয়ভাবে প্রবাদ আছে হাওর মানে হাকালুকি আর সব কুয়া (কুপ), ব্যাটা (পুরুষ) মানে মান মনসুর আর সব পুয়া (ছেলে)। প্রকৃতির এই বিশাল দুনিয়ায় কি নেই। নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ, পাখি, শাপলা-শালুক, ঝিনুক, কচ্ছপ শত শত প্রজাতির জলজ ও উভয়চর প্রাণী আর হিজল, করচ, বরুন, আড়ং, মূর্তা, কলুমসহ সবুজের ঢেউ জাগানিয়া মনকাড়া পরিবেশ। বর্ষা মওসুমে থৈ থৈ পানি আর শীত মওসুমে ধু-ধু সবুজের মাঠ। শীতের সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন সোনামাখা রোদে দেশী ও পরিযায়ী পাখিদের উড়াউড়ি, ডুবসাঁতার আর তাদের খাবার সংগ্রহের ব্যস্ত বিমোহিত রূপ মাধূর্যে কাছে টানে প্রকৃতিপ্রেমীদের। ৫টি উপজেলা জুড়ে ২৩৬টি বিল নিয়ে এ হাওরের আয়তন ২০ হাজার ৪ শত হেক্টর।
জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া: দেশের ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত কমলগঞ্জের  লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বিনোদনের অন্যতম এ স্পটটি দেশের বনাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়ায় দেখা মেলে বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণীর। জানা যায়, ১৯২৫ সালে ১২৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে তৈরি করা প্লান্টেশনই এখনকার ঘন অরণ্যের রূপ নিয়েছে। ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের একটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি হিসেবে টিকে আছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে ‘জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে ঘোষণা করে। ওখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ এবং উদ্ভিদ। নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেস্টের মতো এখানেও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’ ছবিটির একটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল ওই বনে।
মাধবকুন্ড জলপ্রপাত: দেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড। বড়লেখা উপজেলার কাঠালতলী বাজার থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্ব দিকে এগোলেই কানে আসবে ক্রমাগত জল গড়ানোর ঝুম ঝুম শব্দ। সেই সঙ্গে থাকবে সবুজ চা পাতার তাজা গন্ধ। প্রায় ২০০ ফুট পাথারিয়া পাহাড়ের উপর থেকে ছোট-বড় পাথরের বুক চিরে আছড়ে পড়া সফেদ জলরাশির ঝর্ণাধারার দৃশ্যে মন নাচে আনন্দ আবেগে।
দুর্গম হামহাম: গহীন অরণ্যের দুর্গম হামহাম জলপ্রপাত। ১৫০ ফুট পাহাড়ের উপর হতে স্ফটিকের মত স্বচ্ছ পানি আছড়ে পড়ছে বড় বড় পাথরের গায়ে। হামহাম জলপ্রপাত কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিটের গহীন অরণ্যে। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. পূর্ব-দক্ষিণে আয়তন ৭ হাজার ৯৭০ একর। এলাকার পশ্চিমদিকে চাম্পারায় চা বাগান, পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। প্রায় ১০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয় এই ‘ঝর্ণা সুন্দরী’র আঙ্গিনায়।
পাথারীয়া ফুল ঝেরঝরী ও ফুলবাগিচা: অতি সম্প্রতি লোকচক্ষুর সামনে আসা পাথারিয়ার ফুল ঝেরঝেরী ও ফুলবাগিচা জলপ্রপাত। এই দুই জল সুন্দরীর কাছে পৌঁছাতে দুর্গম পাহাড়ি পথে মিলে পাহাড়ি টিলার পাদদেশে বয়ে চলা ছড়ার স্বচ্ছ শীতল পানি, সবুজ প্রকৃতি, বনফুল, চাষনী লেবুর সুবাস, পাখি ও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ডিমাই বাজার হয়ে বড়লেখা সদর বন বিটের আওতাধীন পাথারিয়া পাহাড়ের নির্জন পল্লী ডিমাই পুঞ্জির পাশ দিয়ে দুর্গম পাহাড়ি ও ছড়া পথে হাটলেই চোখে পড়ে দৃষ্টি নন্দন অনেক ছোট ঝর্ণা। প্রায় ৬ কিলোমটিার পিচ্ছিল পাথুরে ছড়া দিয়ে হাঁটার পর এই ছোট ঝর্ণাগুলো বেয়ে ওপরে ওঠলে দুটি টিলার ভিতরেই অবস্থান অনিন্দ্য সুন্দর ঝেরঝেরী জলপ্রপাত। আর ফুলবাগিচা জলপ্রপাতে পৌঁছাতে প্রায় ৬০-৭০ ফুট উঁচু দুটি পাহাড়ের পিচ্ছিল পথ এগুলেই দেখা মিলে এই জল সুন্দরীর।
মাধবপুর লেক: মাধবপুর লেক। নয়ন জুড়ানো এই লেক জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানের পাদদেশে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পাহাড়ি ও সমতল পথ পেরিয়ে চা বাগানের ভেতরে দেখা মিলে আকর্ষণীয় এই লেকের। ন্যাশনালটি কোম্পানির মালিকানাধীন চা বাগানের ভেতরে মাধবপুর লেক নিজের রূপ দিয়েই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নয়ন কাড়ে।
পাখি বাড়ি: কুলাউড়ার ব্রাহ্মণ বাজারের মনোহর পুর গ্রামের ‘বকপাখি বাড়ি’, বড়লেখার হাকালুকি হাওর তীরের হাল্লা গ্রামের মনোহর মাস্টারের দেশি ও অতিথি পাখির মিলনস্থল‘পাখি বাড়ি’ ও রাজনগরের হরিপাশা গ্রামের ‘পাখি বাড়ি’ ওইসকল স্থানে একসঙ্গে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পাখির নিরাপদ নিবাস, দরদ জাগায় প্রকৃতি প্রেমে।
অন্যান্য আর্কষণীয় স্থান: এছাড়া অর্ধশতাধীক রাবার বাগান,শতাধীক আগর বাগান, কমলাবাগানসহ আছে কুলাউড়া উপজেলার টাটুরার বান্ধ (বাঁধ) লেক, শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কা বিল, শ্রীমঙ্গলের লেবু ও আনারসের বাগান, কুলাউড়ার লালমাটি টিলা, গগন টিলা (ওপেন ওয়াচ টাওয়ার), হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি বিজড়িত সিআরপি রেস্ট হাউস ও জুড়ী উপজেলার কমলা, আনারস ও কাঠালের বাগান। কমলগঞ্জের নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, গারোটিলা, রাজনগরের নানা স্মৃতিকথার কমলা রাণীর দিঘি, কুলাউড়ার পৃথিম পাশা নবাব বাড়ির চারশত বছরের প্রাচীতম নানা কারুকাজের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ও মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের ইমামবাড়া, কাদিপুরের শৈল্পিক কারুকাজের শিববাড়ি মন্দির ও পুষাইনগর সিটিএস মন্দির, খাসিয়া পুঞ্জি আর পুঞ্জিতে খাসিয়াদের চাষকৃত পানের বরজ। আর পর্যটকদের থাকা ও খাওয়ার জন্য আছে পাঁচতারকা মানের দুটি হোটেলসহ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও কটেজ। জেলা প্রসাশন সূত্রে জানা যায় পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচার দাবি আসিয়ানের ১৩২ এমপির

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৩২ জন এমপি। তারা মিয়ানমারকে এ জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, তিমুরের ১৩২ জন এমপি এ যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা ইউএনবির। বিবৃতি দাতাদের মধ্যে রয়েছেন আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ফর হিউম্যান রাইটসের ২২ সদস্য। বিবৃতিতে তারা মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি। কিন্তু রোম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় মিয়ানমার। তাই সেখানে কোনো বিচার করার এক্তিয়ার নেই আইসিসির। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে সেখানে তদন্ত করতে পারে এই আদালতের মাধ্যমে।
মালয়েশিয়ান পার্লামেন্টের একজন সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো। তিনি এপিএইচআরের চেয়ারপারসনও। তিনি বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারপর এক বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারের আওতায় আনার কোনো লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। মিয়ানমার এ বিষয়ে নিজে তদন্ত করতে অনিচ্ছুক ও অক্ষম। তাই আমরা এখন এমন এক অবস্থানে আছি যেখান থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমার পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অবিলম্বে নেয়ার জন্য আমার অন্য ১৩১ জন সহকর্মী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন আমি তাদের সঙ্গে একমত। যারা মিয়ানমারে ওই নৃশংসতার জন্য দায়ী অবশ্যই তাদের বিচার হতে হবে। তাদেরকে এই অপরাধ থেকে মুক্তি দেয়া যেতে পারে না।
কারণ, তারা ভবিষ্যতেও একই অপরাধ আরো ঘটাবে। এক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসব এমপির নিজ নিজ সরকার যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তা স্বীকার করেন তারা। তারা ইন্দোনেশিয়াসহ আসিয়ানভুক্ত সব সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সব রকম মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পক্ষপাতিত্বহীন তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা বিষয়ক মেকানিজম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ইয়াং লি। তার এ আহ্বানের প্রতি সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা।
আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) গত বছর মিয়ানমারের পুলিশ পোস্টের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। এর প্রতিশোধ নিতে ২৫শে আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। শুক্রবার এ হামলার বর্ষপূর্তি হয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী ওই হামলায় হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। ব্যাপক যৌন সহিংসতা চালিয়েছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর, দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

আমাকে ইমপিচ করলে অর্থনীতি ভেঙে পড়বে

অভিশংসিত হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন অনেক পর্যবেক্ষকের মুখে এ কথা শোনা গেছে বহুবার। কিন্তু খোদ ট্রাম্পই এবার এ প্রসঙ্গে কথা বললেন। অবশ্য তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তাকে অভিশংসিত করলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। নিজের প্রিয় চ্যানেল ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন ট্রাম্প। তার মতে, তাকে অভিশংসিত করলে ধসে পড়বে পুঁজিবাজার। এমনকি সবাই খুব দরিদ্র হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন তার দীর্ঘদিনের আইনজীবী মাইকেল কোহেন নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। তিনি এ-ও দাবি করেছেন যে, তিনি ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ীই এসব করেছেন।
ট্রাম্প নিজের অভিশংসিত হওয়ার কথা খুব কমই বলেছেন। তবে তার প্রতিপক্ষ তাকে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অভিশংসনের চেষ্টা করবেন এমন সম্ভাবনা কম।
অভিশংসন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না যে লোক অসাধারণ কাজ করে দেখিয়েছে তাকে কীভাবে আপনি অভিশংসিত করবেন। আমি বলি কি, আমি যদি কখনো অভিশংসিত হইও, পুরো পুঁজিবাজার ধসে পড়বে। আমি মনে করি সবাই খুব দরিদ্র হয়ে যাবে।’
খবরে বলা হয়, ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুই নারীকে চুপ রাখতে ট্রাম্পের হয়ে অর্থ দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন মাইকেল কোহেন। এদের একজন পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েল ও সাবেক প্লেবয় মডেল ক্যারেন ম্যাকডগাল। উভয়ই দাবি করেন, তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল ট্রাম্পের।
মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও প্রেসিডেন্টের বিচার বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তদন্তে কাজ করছেন রবার্ট মুলার। তার কৌঁসুলি দলই ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী কোহেনকে পক্ষত্যাগে রাজি করায়। কোহেন বিচারকদের শপথ গ্রহণপূর্বক বলেছেন, তিনি ওই দুই নারীকে অর্থ দিয়েছেন ট্রাম্পের নির্দেশনায়। এই অর্থ প্রদানের প্রধান কারণ ছিল নির্বাচন প্রভাবিত করা। সেই হিসাবে দুই নারীকে অর্থ প্রদান নির্বাচনী ব্যয়ের আওতায় পড়ে। কিন্তু সমস্যা হলো- সেই অর্থ কোহেন প্রথমে নিজের পকেট থেকে দিয়েছেন। আর প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর নির্বাচনী তহবিলে ব্যক্তিগতভাবে যত অর্থ অনুদান দেয়া যায়, তার চেয়ে বেশি অর্থ কোহেন খরচ করেছেন। এ কারণেই নির্বাচনী তহবিলে অর্থ প্রদানের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে মর্মে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
কিন্তু ট্রাম্প বলছেন, এতে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘিত হয়নি। তার মতে, ওই অর্থ তার নিজের পকেট থেকেই দেয়া। নির্বাচনী তহবিল থেকে নয়। তাছাড়া তিনি এই অর্থ দানের কথা আগে জানতে পারেননি। কিন্তু কোহেন নিজেই এক অডিও টেপ প্রকাশ করেন, যাতে দেখা যায় ট্রাম্প ও তিনি নির্বাচনের আগেই ওই অর্থ প্রদানের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প অবশ্য অভিযোগ করেছেন, কোহেন লঘু দণ্ড পেতেই গল্প বানিয়ে বলছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ওই অর্থ প্রদানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়নি। কিন্তু এখানে বিবেচ্য বিষয় হলো, ট্রাম্প ওই অর্থ নিজের ব্যক্তিগত সুনাম রক্ষার জন্য দিয়েছিলেন, নাকি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে। দ্বিতীয়টি হলে এই অর্থ নির্বাচনী অনুদান হিসেবে বিবেচিত হবে।
যদি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এ কারণে বিচারের মুখোমুখি হনও, তাহলে প্রমাণিত হতে হবে যে তিনি নির্বাচনী কারণেই কোহেনকে অর্থ দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হওয়ায় কোনো সাধারণ আদালতে এই বিচার হবে না। হলেও তা অভিশংসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কংগ্রেসে হবে।
প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরোধিতা করলেন অ্যাটর্নি জেনারেল: এবার সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস। তাকে আক্রমণ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন তার জবাব দিয়েছেন সেশনস। ট্রাম্প বলেছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর জেফ সেশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এর জবাবে জেফ সেশনস বলেছেন, তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের প্রধান। কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। উল্লেখ্য, আইন মন্ত্রণালয়েল সমালোচনায় সম্প্রতি কণ্ঠ জোরালো করেছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে যে তদন্ত হচ্ছে তা নিয়ে সেশনস যেভাবে ‘হ্যান্ডলিং’ করলেন তাতে অসন্তুষ্ট তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন প্রথমদিকের সমর্থক ছিলেন সেশনস। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের ওই অভিযোগ তদন্ত থেকে আগেভাগেই সরে এসেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল সেশনস। উদ্দেশ্য বড় রকমের স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাই সেখান থেকে তিনি সরে এসেছেন। দায়িত্ব দিয়েছেন তার ডেপুটি রড রোজেনস্টেইনকে। এক্ষেত্রে জেফ সেশনসের সিদ্ধান্ত ও স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলারের তদন্তের অগ্রগতিতে মাঝে মাঝেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ট্রাম্প। এই ক্ষোভ আসছে টুইটারে আবার ব্যক্তিগতভাবেও তার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিচার ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন কিনা তাও ওই তদন্তে যাচাই করে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বারবারই দাবি করে এসেছেন, তার নির্বাচনী প্রচারণা টিম ও রাশিয়া সরকারের মধ্যে কোনো সমঝোতা ছিল না। এ ছাড়া তিনি বিচার ব্যবস্থায় কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। ওদিকে সর্বশেষ আরো একটি ইঙ্গিত মিলেছে। তাতে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সিনেটে। ওই নির্বাচনের পরে যদি জেফ সেশনসকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরখাস্ত করেন তাহলে তাকে সমর্থন করবেন রিপাবলিকান দলের গুরুত্বপূর্ণ দু’জন সিনেটর। তবে অন্য রিপাবলিকানরা বলেছেন, তারা মনে করেন সেশনসকে সরিয়ে দেয়া হবে একটি খারাপ কাজ। এক্ষেত্রে তারা জেফ সেশনসের পক্ষে থাকবেন।
জেফ সেশনস যা বলেন: এক বিবৃতিতে জেফ সেশনস বলেছেন, যেদিন আমি শপথ নিয়েছি সেদিন থেকেই আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর আমার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যতক্ষণ আমি এটর্নি জেনারেল আছি ততক্ষণ আইন মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো অন্যায্য প্রভাব মেনে নেবো না। আমি চাই উচ্চমানের মানদণ্ড বজায় রাখতে। সেজন্য যেখানেই সেটা করা হয় না, আমি সেখানেই পদক্ষেপ নিই। যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারীদের তদন্তকারী ও প্রসিকিউটরদের চেয়ে আত্মনিবেদিত ও মেধাবী গ্রুপ আর কোনো দেশে নেই। তাদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। আইনের শাসনে যেসব সফলতা আমরা পেয়েছি তার জন্য গর্বিত।

কুলদীপ নায়ার (১৯২৩-২০১৮)

ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, বিশ্লেষক কুলদীপ নায়ার আর নেই। বুধবার গভীর রাতে দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে পুরো উপ-মহাদেশেই জনপ্রিয় ছিলেন কুলদীপ নায়ার।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনেও কাজ করেছেন তিনি। গণতন্ত্রের পক্ষে সদা সরব এই সাংবাদিক শাসকমহলের সমালোচনায় মুখর ছিলেন বেশির ভাগ সময়। কারাভোগও করতে হয়েছে তাকে ।কুলদীপ নায়ারের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ই আগস্ট বৃটিশ ভারতের পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে। আইন শাস্ত্রে লেখাপড়া করেও তিনি কর্মজীবন শুরু করেন উর্দু পত্রিকা দৈনিক আনজামের একজন রিপোর্টার হিসেবে। ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইনডিয়ান এক্সপ্রেস এবং স্টেটসম্যান সম্পাদনা করা কুলদীপ নায়ার ছিলেন সেইসব সাংবাদিকদের একজন, যারা সত্তরের দশকে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে জরুরি অবস্থা জারির বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন। প্রতিবাদী হওয়ায় তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। কুলদীপ নায়ার ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে যুক্তরাজ্যে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
ধর্মীয় উগ্রবাদের পাশাপাশি উগ্রজাতীয়তাবাদের বিরোধিতায় সরব এই কলামনিস্ট শেষ বয়সে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য। গণতন্ত্রকামী এই অধিকারকর্মী তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে লিখে গেছেন ১৫টি বই। তার আত্মজীবনী বিয়ন্ড দ্য লাইনসে ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি ইতিহাসের নানা অধ্যায় উঠে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। কুলদীপ নায়ারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বহু মানুষ। এক টুইটে মোদি বলেছেন, কুলদীপ নায়ার আমাদের সময়ের এক মহান বুদ্ধিজীবী ছিলেন। মতামত প্রকাশে স্পষ্টভাষী ও নির্ভীক ছিলেন তিনি। জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে তার অবস্থান, উন্নত ভারতের জন্য তার নিবেদন সবসময় মনে থাকবে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক।
পুরো উপমহাদেশব্যাপী কুলদীপ নায়ারের বিরাট প্রভাবের বিষয়টি উঠে আসে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনামের এক লেখায়। তিনি লিখেছেন, কুলদীপ নায়ারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন আন্তরিক ও বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারাল, ভারত হারাল ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের একজন বিবেকবান রক্ষককে। পাকিস্তান হারাল দুই প্রতিবেশীদের মধ্যে বৃহত্তর বোঝাপড়ার অতন্দ্র কণ্ঠস্বর। দক্ষিণ এশিয়া হারাল সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের প্রতি ঘৃণা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বত্র সর্বাধিক জোরালো বক্তব্যের অধিকারী ব্যক্তিত্বকে। সাংবাদিকতা হারাল এই পেশার নীতি-আদর্শের জন্য অতুলনীয় উদাহরণকে। আর মানবতা হারাল মানুষের শুভবোধে ওপর প্রকৃত আস্থাশীল একজনকে।