Saturday, October 3, 2015

নতুন ‌'জিন্নাহ' ওয়াইসির হাতেই ভারতীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ!

তার নাম আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। অনেকে তাকে বলে ভারতের নতুন 'জিন্নাহ'। ভারতের দুর্দশাগ্রস্ত মুসলমানদের নতুন মুখপাত্র হিসেবেও অনেকে তাকে অভিহিত করে। বিহারের আসন্ন নির্বাচনেও তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এখানে এ নিয়ে সেমন্তী ঘোষের লেখা আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হুবহু প্রকাশ করা হলো।
তাঁকে নিয়ে বিজেপির আশা পূর্ণ হবে কি
এমআইএম-এর কট্টর ইসলামি নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি তেলঙ্গানা ও মহারাষ্ট্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে এ বার বিহার বিধানসভা নির্বাচনে। মুসলিমদের প্রতি বঞ্চনা ও বৈষম্যের ধুয়ো তুলে তিনি বিহারের নতুন ‘আইডেন্টিটি রাজনীতি’র মুখ।
উত্তর-পূর্ব বিহারের ছোট শহর কিষানগঞ্জ। জেলাটারও ওই নাম, যার পশ্চিম ও উত্তরে তিন জেলা, আরারিয়া, পূর্ণিয়া, কাটিহার। চার জেলা মিলিয়ে বিহারের ‘সীমাঞ্চল’। রাজ্যের তো বটেই, গোটা দেশেরই অতি পশ্চাৎপদ অঞ্চলের তালিকায় মহাসমারোহে জায়গা করে নিয়েছে এই সীমাঞ্চল। সাচার কমিটি রিপোর্ট তা-ই বলছে। অন্যান্য সমীক্ষা বা মিডিয়া রিপোর্টেও সেটাই উঠে এসেছে। পড়াশোনার সুযোগ, চাকরিবাকরি দূরস্থান, জীবনযাপনের স্বাভাবিক শর্তগুলিও এখানে খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। তবু অক্টোবরের বিহার বিধানসভা ভোটে একটা বিরাট ভূমিকা নিতে চলেছে সীমাঞ্চল : এ বারের ভোটের সম্ভাব্য ‘গেম-চে়ঞ্জার’ আসাদুদ্দিন ওয়াইসির সাধের তুরুপের তাস।
হায়দরাবাদের কট্টর ইসলামি নেতা ওয়াইসি। তাঁর দল অল-ইন্ডিয়া-মজলিস-এ-ইত্তেহাদ-আল-মুসলিমিন, সংক্ষেপে, এআইএমআইএম এই প্রথম বার তেলঙ্গানা আর মহারাষ্ট্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে এসেছে বিহারে, ভোটে লড়তে। এত দিন এই দলের নামের ‘অল ইন্ডিয়া’ অংশটা নেহাত আলংকারিক ছিল। এত দিনে দেখা যাচ্ছে, শব্দবন্ধটা কেবল মুখের কথা নয়, এদের সামনে একটা বড় অ্যাজেন্ডা। হায়দরাবাদের ঘাঁটিতে নিজেকে আটকে না রেখে এআইএমআইএম ক্রমে গোটা দেশের ‘মুসলিম দল’ হতে চায়, তাই এর সামনে প্রথমে বিহার, তার পর পশ্চিমবঙ্গ। কালে-দিনে দেশের এক ও অনন্য মুসলিম দলের মাথায় থাকবেন ‘সোল স্পোকসম্যান’ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। (কারও কি মনে পড়ছে ত্রিশ-চল্লিশের দশকের মুসলিম লিগের কথা?) যোগেন্দ্র যাদবের মতে যিনি ‘এই মূহূর্তে গোটা দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক লোক’ সেই ওয়াইসি এক বিন্দু সংশয়ের জায়গা না রেখেই পরিষ্কার বলে দিচ্ছেন, তাঁর উদ্দেশ্য মুসলিম আইডেন্টিটি-র কার্ডটা খেলা। অন্য কোনও দলের হয়ে নয়, একটা ‘মুসলিম দলীয় রাজনীতি’র জন্যই। ‘এই দেশে শিখদের অকালি দল হতে পারে, তামিল দ্রাবিড়রা দ্রাবিড় পার্টি তৈরি করতে পারে, মরাঠি মান্নুস-দের পার্টি হতে পারে, কেবল মুসলিমদের পার্টি হলেই যত দোষ?’ মুসলিম পার্টির ব্যাপারটা যে অনেকেই পছন্দ করছেন না, সেটাও ওয়াইসির কাছে খুব সুবিধেজনক। ওখান থেকেই তিনি প্রমাণ টানেন যে, মুসলিমদের ভারতে আলাদা রকম নিচু চোখে দেখা হয়: ‘সকলেই আইডেন্টিটি পলিটিকস করে। কিন্তু আমি যে-ই মুসলিম অধিকারের কথা বলি, আপনাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে! এটা দ্বিচারিতা নয়?’ একের পর এক সাক্ষাৎকারে নিয়মিত এই মন্তব্য তাঁর।
চৌকস রাজনীতিক ওয়াইসি বিহারের মাঠে নেমেই বুঝে নিয়েছেন, তাঁর ফোকাস হবে কিষানগঞ্জ। তাই আর সব ছেড়ে কেবল সীমাঞ্চলেই এ বার প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। বিহারে যদি ক্রমে একটা উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল হতে হয়, তবে এটাই শুরুর সিঁড়ি। সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসতি এই অঞ্চলে। কিষানগঞ্জের সত্তর শতাংশ মুসলমান। সীমাঞ্চলের বাকি তিন জেলায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ। ইতিহাস বলছে, বিহারের অধিকাংশ তারকা মুসলিম নেতারা এখানেই লড়াই করেছেন, ভোটে জিতে নেতা হয়েছেন। কংগ্রেসের সাংবাদিক সাংসদ এম জে আকবর, জনতা দলের সৈয়দ শাহাবুদ্দিন, ভারতীয় জনতা পার্টির অতি-বিজ্ঞাপিত মুসলিম মুখ শাহনওয়াজ হোসেন, সকলেই কিষানগঞ্জ হয়ে পার্লামেন্টে গিয়েছেন। বিহারের বাকি অংশে মুসলিম বসতি ছড়ানো ছিটানো। সুতরাং সেখানে সংখ্যায় ভোট যদি-বা টানা যায়, আসন পাওয়া মুশকিল। তাই গত ১৬ অগস্ট ওয়াইসি কিষানগঞ্জে একটা জব্বর সমাবেশ করলেন। সাড়া-ফেলে-দেওয়া ভিড় হল, সুবাগ্মী ওয়াইসির বক্তৃতা শুনতে এলেন আধ লক্ষ লোক। অঞ্চলের আদি বাসিন্দারা বলছেন, এ জায়গায় নির্বাচনী সভায় এত ভিড় কয়েক দশকে দেখা যায়নি। ওয়াইসির সে দিনের বক্তৃতা ইউটিউবে ইতিমধ্যে লাখ-দুই ‘হিট’ পেয়েছে। এবং হোয়াটসঅ্যাপ-এ সেটা আজও ঘুরেই চলেছে।
এত দিন কাকে ভোট দিতেন কিষানগঞ্জের মুসলিমরা? কার কাছ থেকে ভোট কেড়ে আনতে চান ওয়াইসি? এখানেই রাজনীতির একটা প্যাঁচ লুকিয়ে থাকার ঘোর সম্ভাবনা। সাধারণত বিহারি মুসলিম ভোট কংগ্রেস, লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর মধ্যে ভাগাভাগি হয়, দলিত রাজনীতির মধ্যে অনেকাংশে ঢুকে যান দলিত মুসলিমরা। কিষানগঞ্জ এত দিন ছিল নীতীশ কুমারের ঘাঁটি। সুতরাং এখানে মুসলিম ভোট কাটাকাটি হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেডিইউ। আর গোটা রাজ্যের মুসলিম ভোট কাটাকাটি হলে তিনটি দলের ভোট-বাক্সেই ধস নামবে। লাভটা স্পষ্টত বিজেপি-র। ফলে যুক্তি বলছে, ওয়াইসি-র বিহার আগমনের পিছনে নিশ্চয়ই নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের ব্রেনওয়েভ। ‘ভোট-কটবা’ হিসেবেই আনা হয়েছে তাঁকে। পুরনো ছক। বিপক্ষের ভোট যাতে ছিটিয়ে যায়, তার ব্যবস্থা। হাতের কাছে ওয়াইসির মতো এত ‘ভাল’ অস্ত্র, এবং বিহারের মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে এত বড় ক্ষোভের ফাঁক থাকতে মোদীরা তার সদ্ব্যবহার করে নীতীশ-লালুকে পর্যুদস্ত করতে চাইবেন, এ তো সহজ অঙ্ক। হাতে পেনসিলও দরকার নেই!
এটা ঘটনা যে পশ্চাৎপদতার দিক দিয়ে বিহারে সীমা়ঞ্চলের আজও জুড়ি নেই। ফলে মানুষের মনে পুঞ্জ পুঞ্জ ক্ষোভ। কংগ্রেস বা জনতা দলের রাজনীতিকরা ভোটের জন্য মুসলিমদের ব্যবহার করছেন, কাজের কাজ কিছুই করেননি, বেশির ভাগ জায়গায় সেটা প্রমাণ করা অতি সহজ কাজ। এত সত্ত্বেও অবশ্য নীতীশ কুমার এখানে যথেষ্ট জনপ্রিয়, তাঁর শাসনকালে অল্প হলেও পরিবর্তন এসেছে। সেটা ওয়াইসি জানেন বলে প্রথম থেকেই ‘বৃহত্তর মুসলিম বঞ্চনা’র গল্পটার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ইয়াকুব মেমনের কথা বেশি বেশি বলেছেন। এ দেশে কেন ‘শুধু’ মুসলিমদেরই ফাঁসি হয়, প্রশ্ন তুলেছেন। বিজেপি নেতারা সারা ক্ষণ ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে পারলে ‘আল্লা’র নামে প্রচারে দোষ কী, সেই প্রশ্নও তুলেছেন। একের পর এক জনসভায় এমআইএম-এর নেতারা আশ্চর্য নৈপুণ্যে মিশিয়ে দিয়েছেন— এক দিকে আঞ্চলিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং অন্য দিকে মুসলিম হিসেবে ‘উপেক্ষিত’ হওয়ার জ্বালা। এখানে যে স্কুল নেই বলে পড়াশোনা হয় না, কোনও শিল্প, ক্ষুদ্রশিল্প বা ব্যবসা নেই বলে চাকরি হয় না, কিংবা সেচের বন্দোবস্ত নেই বলে চাষবাসটাও ঠিকঠাক হয় না, এ সব তো ওয়াইসিরাই আজ নতুন বললেন না, দশকের পর দশক বিভিন্ন দলের নেতারা এসে এই সব বলেই ভোট চেয়ে গিয়েছেন। পেয়েছেনও। কিন্তু আজ এমআইএম যে ভাবে ক্ষণে ক্ষণে ‘মুসলিম’ শব্দটি উচ্চারণ করছে, প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে গোটা ভারতের জলে-হাওয়ায় আইনব্যবস্থায় বিচারব্যবস্থায় ‘মুসলিম-বিদ্বেষ’ গিজগিজ করছে, এটা সীমাঞ্চলের মুসলমানদের কাছে একেবারে নতুন। তাঁরা এত দিন জানতেন, নীতীশ-লালু সীমাঞ্চলে তেমন সফল হননি। কিন্তু নীতীশ-লালু যে ধর্মবৈষম্যের কারণেই সীমাঞ্চলকে গুরুত্ব দেননি, ওয়াইসির কাছেই তাঁরা প্রথম শুনলেন। এমন করে কেউ তাঁদের বোঝাননি, এমন করে তাঁদের মূল বিশ্বাসের নাড়িটি ধরে টান দেননি। দেশের ‘মিসিং মুসলমান’-দের ‘পরিত্রাতা’ হতে চান ওয়াইসি। এটাই তাঁর জনসংযোগ টেকনিক। পশ্চিমবঙ্গেও তাঁরা কাজ শুরু করেছেন ২০১৬-র নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে। সেখানেও নিশ্চয় এই টেকনিক দেখা যাবে।
বিদ্যুৎতরঙ্গ বওয়ানো বক্তৃতা, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিভিশন: এই সবের সমাহার মনে করিয়ে দিচ্ছে গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের আর এক নেতার কথা। নরেন্দ্র মোদীর মতো এক পদ্ধতিতেই তরুণ প্রজন্মকে নতুন আবেগ আর আশার ঝলকে ভাসাতে চাইছেন ওয়াইসি। মোদীর মতোই, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় ছোট শহরেই ওয়াইসির সমর্থন বেশি। কিন্তু একটা দুর্বলতা তিনি কাটাতে পারছেন না। মোদীর মতো তাঁর গুজরাত মডেল নেই, বস্তুত কোনও মডেলই নেই। কোনও রকম সরকারি ক্ষমতা হাতে না থাকলে প্রসাদ বিতরণের রাজনীতিটা করা যায় না, কেবল স্লোগান-নির্ভর হয়েই থাকতে হয়। ভারতীয় সমাজ, বিশেষত বিহার বা উত্তরপ্রদেশের সমাজ কিন্তু সহজে এই বিতরণী রাজনীতি থেকে বার হতে পারে না, বার বার দেখা গিয়েছে। এ নিয়ে সমীক্ষা হয়েছে, গবেষণা হয়েছে। ‘পেট্রনেজ’-অধ্যুষিত উত্তর ভারতে হাতে ক্ষমতা না থাকলে ভোটে বড় সাফল্য মেলা কঠিন বলেই দেখা গিয়েছে, যে সব মুসলিম দল নিজেদের আঞ্চলিক ঘাঁটি ছেড়ে বাইরের প্রদেশে নির্বাচনে লড়েছে, তারা মোটেও সফল হয়নি। ২০০৭ সালে অসমের ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ উত্তরপ্রদেশে পঞ্চাশ জন প্রার্থী দিয়েও এক জনকেও জেতাতে পারেনি। কাঞ্চন গুপ্ত-র গবেষণা বলছে, এই কারণেই বহুজনসমাজ পার্টি কেবল উত্তরপ্রদেশে সফল, আর কোথাও নয়, এমনকী কাঁসিরামের নিজের রাজ্য পঞ্জাবেও না। উত্তরপ্রদেশে চট করে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল বলেই বিএসপি-র সেখানে দ্রুত উন্নতি। প্রশ্ন হল, বিহারে কোনও ‘পেট্রনেজ’ বিতরণ ছাড়াই কেবল ইসলামের হাঁকডাক দিয়ে কত দূর যেতে পারবেন ওয়াইসি?
ওয়াইসি-র ইসলাম-ডাক নীতীশের উন্নয়ন-ডাককে কতটা বেগ দিতে পারে, এ বারের বিহার ভোটে সেটার বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। এই পরীক্ষা ওয়াইসি-র পক্ষেও, বিহারি তথা ভারতীয় সমাজের পক্ষেও। হাজার হোক, না মেনে উপায় নেই, সীমাঞ্চল তথা বিহারের অনেকটাতেই উন্নয়নের যজ্ঞটাও তো অতীব নাম-কা-বাস্তে। এখনও ১৭ লক্ষ কিষানগঞ্জবাসীর জন্য দুটি মাত্র কলেজ। একটি কলেজে দু’হাজার ছাত্রের জন্য মাত্র এক জন শিক্ষক। গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও সরবরাহ নেই। বাৎসরিক বন্যার ত্রাণ নেই। সত্যিকারের উন্নয়ন কাকে বলে, সেটা বাস্তবে তো নয়ই, স্বপ্নেও দেখার স্পর্ধা করেন না এঁরা। পিছিয়ে-থাকা’দের স্বপ্ন ও বাস্তবের ফাঁক গলেই এত দিন দেশ জুড়ে বিজয়রথ চালাচ্ছে জাত-রাজনীতি। ওয়াইসিদের রাজনীতিও নির্ঘাত তা-ই চালাবে। অদূর ভবিষ্যতে।

গরুর মাংস খাই, হিম্মত থাকলে কেউ মেরে দেখাক

বাড়িতে গরুর মাংস রাখা ও গরুর মাংস খাওয়ার গুজবে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায়। এই ঘটনা নিয়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। গরুর মাংস ভক্ষণের এই নারকীয় বিরোধিতার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অনেকেই।
প্রখ্যাত লেখিকা শোভা দে টুইট করেছেন, তিনি এই মাত্র গো-মাংস খেলেন। এ জন্য কেউ যদি তাকে মারতে চায় তাহলে তিনি তার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
প্রেস কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কেন্ডেয় কাটজুও টুইট করেন যে তিনিও গো-মাংস খেয়েছেন, হিম্মত থাকলে তাকে কেউ মেরে দেখাক..। কাটজু আরও লিখেছেন, তার লাঠি ওইসব লোকেদের জন্য অপেক্ষা করছে।
বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ঋষি কাপূরও নিজেকে গো-মাংস ভক্ষণকারী হিন্দু বলে দাবি করেছিলেন। তীব্র বিরোধিতার মধ্যেও নিজের মন্তব্যে অনড় তিনি।

‘৮০ ভাগ ব্যবসায়ী এমপি দিয়ে আইনের শাসন হবে না’ -প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, “ইউরোপ-আমেরিকায় সংসদ সদস্যদের ৮০ শতাংশই আইনজীবী বা আইনের ছাত্র, অপরদিকে বাংলাদেশের আইনপ্রণেতাদের ৮০ শতাংশই হচ্ছে ব্যবসায়ী-এই অবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”   শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কে খান আইন অনুষদ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন বলেও আশ্বস্ত করেন। প্রধান বিচারপতি আইন শিক্ষাকে জনসেবার বড় সুযোগ উল্লেখ করে বলেন, “আমেরিকায় ৯০ ভাগ কংগ্রেস সদস্য আইনের ছাত্র। এমনকি কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক পার্টির যে লিডার, তিনি কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক। সেখান থেকে পদত্যাগ করে তিনি কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে গিয়ে দেখেন, ৮০ ভাগ সংসদ সদস্য আইনের ছাত্র, আইনের শিক্ষক বা আইনজীবী। আমার বাংলাদেশে, ৮০ ভাগ সংসদ সদস্য হলো ব্যবসায়ী। মাত্র দুই থেকে তিন ভাগের আইনের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “সময় চলে আসছে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রকে যদি রক্ষা করতে হয়, তোমরা আইনের ছাত্ররা এগিয়ে আসবে, তোমরা সংসদ সদস্য হবে, পার্লামেন্টে কথা বলবে, আইনের শাসন, রুল অব ল তোমরা তুলে ধরবে। তোমরা ছাড়া ব্যবসায়ীদের দিয়ে এটা হবে না, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে না।” বিচার বিভাগ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমার বিচারকরা এখন আর টেলিফোন ধরেন না। টেলিফোন করে জামিন, ইনজাংশন কিংকা রায় দেবে সেই দিন চলে গেছে। আপনারা দোয়া করবেন, এটা আর বাংলাদেশে হবে না।”   অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রের হেফাজতে মৃত্যু কিংকা হত্যাকে আত্মহত্যা বলা সমর্থন করা যায় না।” চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এ কে খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সেক্রেটারি সালাহউদ্দিন কাশেম খান, আইন কমিশনের সদস্য ড. এম শাহ আলম, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

জঙ্গি দমনে সরকার কতটা আন্তরিক? by জায়েদুল আহসান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অস্তিত্ব নেই। তাঁর কথা অনুযায়ী হয়তো এখন পর্যন্ত সংগঠন হিসেবে আইএসের কোনো শাখার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যেমন ১০ বছর আগে দেশে আল-কায়েদার কোনো শাখার অস্তিত্ব মেলেনি। তখনো জঙ্গিদের অস্তিত্ব ছিল, এখনো আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন বলছেন, দেশে আইএস নেই। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল। সামিউন নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিককে ঢাকায় গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেছিলেন, আটক সামিউন সিরিয়ায় আইএসের সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেছেন। তঁার মুঠোফোনের এসএমএস থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ গত ২৪ মে রাতে আইএসের সঙ্গে জড়িত আমিনুল ইসলাম বেগ ও সাকিব বিন কামাল নামের দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইএসের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের সংগঠন তৈরি, সদস্য সংগ্রহ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা চালাচ্ছিল। তারা জেএমবির সদস্য হলেও বাংলাদেশে আইএসের শাখা খুলে তাদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
গোয়েন্দারা এ পর্যন্ত ৩০ জনের মতো আইএস জঙ্গিকে আটক করতে পেরেছে বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতির ছেলে যেমন আছেন, তেমনি সাবেক সেনা কর্মকর্তার ছেলেও রয়েছেন। বেশ কজন সিরিয়ায় যুদ্ধ করতেও চলে গেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নারীও আছেন বলে ডিএমপির মুখপাত্র জানিয়েছেন। প্রতিটি গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলন করে গোয়েন্দা পুলিশ বা পুলিশের মুখপাত্র বলতেন, আইএসের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিরা বাংলাদেশ থেকে সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশে যে আইএসের শাখা খোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন, সেটিও তাঁরা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো বলতে চেয়েছেন, দেশে জঙ্গি আছে ঠিকই, তবে আইএসের কোনো শাখা নেই। গত ৩১ মে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে গোয়েন্দা পুলিশ সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে জঙ্গি আবদুল্লা আল গালিবকে। পুলিশের তথ্য হচ্ছে, গালিব আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সহসমন্বয়ক। এর আগে তিনি হিযবুত তাহ্রীর ও জেএমবির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এই তিনটি সংগঠনই নিষিদ্ধঘোষিত। সম্প্রতি গালিব ‘জুনুদ আত-তাওহিদ ওআল খিলাফা’ নামে সশস্ত্র জিহাদি সংগঠন খুলে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁর লক্ষ্য আইএসের আদলে বাংলাদেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। কয়েকজন সদস্য সংগ্রহ করে তাদের প্রশিক্ষণও দিয়েছেন তিনি। এমনকি গালিব আইএসের হয়ে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার তুরস্কে যাওয়ার চেষ্টাও করেছেন।
এখন সরকারের পক্ষ থেকে যদি বলা হয়, দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই, তাহলে সত্যকেই অস্বীকার করা হবে। জঙ্গিরা আগে কোন সংগঠন করত বা এখন কোন সংগঠন করে, সেটা বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। একসময় যে জঙ্গি আল-কায়েদাকে মনেপ্রাণে ধারণ করত, এখন সেই জঙ্গি আইএসকেই আদর্শ মনে করে।
সরকার জঙ্গি দমনে নানা কমিটি, কমিশন অনেক কিছুই করেছে। কিন্তু সরকারের সংস্থাগুলো জঙ্গি দমনে কতটা সক্রিয়?
আওয়ামী লীগ সব সময় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা বলে আসছে। বিএনপি-জামায়াত জোট জঙ্গি থাকার কথা স্বীকারই করেনি, এখনো করছে না। আজ টানা সাত বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এ সময়ে সরকার বিএনপি-জামায়াতের মতো জঙ্গিবাদ বিস্তারে পৃষ্ঠপোষকতা করেনি, সেটি ঠিক। কিন্তু প্রতিরোধে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে? হিযবুত তাওহীদ আর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে নিষিদ্ধ করতেই এক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সরকার আনুষ্ঠানিক অনেক সিদ্ধান্তই নিয়েছে, কিন্তু ফলাফল তেমন দৃশ্যমান হয়নি। নাগরিক হিসেবে আমাদের উদ্বেগ ওখানেই।
সরকার ২০০৯ সালের এপ্রিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি করেছে। একই বছর সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস হয়েছে। ২০১২ সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন হয়েছে। ওই বছরের জুলাই মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিটির অধীনে চার সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করেছে। ২০১৪ সালে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে সভাপতি করে জঙ্গিবাদের অর্থের উৎস অনুসন্ধানে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়।
গঠনের পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের আগস্টে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি আইনশৃঙ্খলা সংস্থাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি জঙ্গি দমনবিষয়ক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা ছিল পাঠ্যসূচিতে জঙ্গিবাদবিরোধী লেখা অন্তর্ভুক্ত করার, মাদ্রাসার বইগুলোর সঙ্গে কোরআন ও হাদিসের কী কী বৈপরীত্য রয়েছে, তা চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল জঙ্গিবাদবিরোধী তথ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং জঙ্গিবাদের নেতিবাচক দিক এবং এর প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে প্রতি মাসে একটি করে জঙ্গিবাদবিরোধী নাটক প্রচার করে, সে ব্যবস্থা নিতেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ ছিল। কিন্তু অধিকাংশ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি।
শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে জঙ্গিবাদের অর্থের উৎস অনুসন্ধানে যে টাস্কফোর্স হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেটিরও সদস্য। জঙ্গি তৎপরতা রোধে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি, আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা এই টাস্কফোর্সের। টাস্কফোর্সের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতিই বা কী?
র্যাব ২০০৪ সাল থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ১০৯ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে জামিন পেয়েছে ২৬৪ জন। তাদের ৯১ জনেরই হদিস নেই। ঠিক তেমনি পুলিশ আটক করেছে ২ হাজার ৫৪৩ জনকে। তাদের অনেকেই জামিনে বের হয়েছে। জামিন পাওয়ার পর তারা কী করছে এবং মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে কি না, এসব বিষয় তদারক করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল। এখন পর্যন্ত সেই সেলের খবর নেই।
প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এই জঙ্গিরা তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছে বারবার। তিনি সম্প্রতি জাতিসংঘেও জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সব রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানান তিনি।
এরই মধ্যে যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্কে চলে এসেছে, তা তো প্রমাণিত। ১৯৯৯ সালে উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলায় ১০ জনকে হত্যার সময় সরকারযন্ত্র ভাবেনি, এই দেশে বিদেশি কানেকশনে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটতে পারে। আশির দশকে যারা এ দেশ থেকে আফগানিস্তানে গিয়ে যুদ্ধ করেছিল, তারাই ১৯৯২ সালে দেশে ফিরে হরকাতুল জিহাদ বা হুজি নামে সংগঠন তৈরি করে পরবর্তী এক দশকে একের পর এক বোমা হামলা চালিয়েছে। আজ যারা আইএসের হয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে গেছে, তারা ফিরে এসে যেন আরেকটি জঙ্গি সংগঠন তৈরি করতে না পারে, সে রকম কোনো প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?
নাইন-ইলেভেনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্স। ২০০৮ সালের মুম্বাইয়ে তাজ হোটেলে জঙ্গি আক্রমণের পর ভারতে হয়েছে সুপার কমান্ডো বাহিনী, পাকিস্তানে আছে এলিট ফোর্স, শ্রীলঙ্কায় আছে স্পেশাল টাস্কফোর্স, মালয়েশিয়ায় রয়েছে পিজিকে ও জার্মানিতে আছে জিএসজি।
২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর সারদা পুলিশ একাডেমির শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে জঙ্গিবাদ দমনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেররিজম ইউনিট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিন বছর পার হচ্ছে, এখনো হয়নি সেই ইউনিট।
সরকার জঙ্গি দমনে নানা কমিটি, কমিশন অনেক কিছুই করেছে। কিন্তু সরকারের সংস্থাগুলো জঙ্গি দমনে কতটা সক্রিয়? জঙ্গি দমনে নেওয়া সরকারের উদ্যোগে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাদেরও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
জায়েদুল আহসান: সাংবাদিক।

পাকিস্তানের শান্তি পরিকল্পনা ভারতের প্রত্যাখ্যান

পাকিস্তান ও ভারত সীমান্তের মধ্যকার বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলের বিষয়ে চার দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। উল্টো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে পাল্টা বক্তব্য দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। রয়টার্স জানিয়েছে, পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনের বক্তব্যে এ প্রস্তাব উত্থাপন করলে পরদিন বৃহস্পতিবার প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করে ভারত। সভায় পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটোর উচিত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা এবং বিভক্ত অঞ্চলটি থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেয়ার জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। পাকিস্তানের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে খুব দ্রুত জবাবে ভারত অভিযোগ করে বলে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের প্রধান শিকার হলেও ‘বাস্তবতা হল যে তারা নিজেরাই সন্ত্রাসবাদের মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় নিজেদের নীতির জালে জড়িয়ে পড়েছে।’
সুষমা স্বরাজ তার বক্তব্যে আরও বলেন ‘আমাদের চার দফার প্রয়োজন নেই। আমাদের একটিই দফা- আর তা হল, সন্ত্রাসবাদ ছাড় ও আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বস। চলতি বছরের জুলাই মাসে উফাতে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় তা ছিল যথাযথ।’ তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পরিকল্পনাকারী এখনও পাকিস্তানে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অপমানজনক। সুষমা বলেন, পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য হলে চলতি বছর উফায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ডিজিএমও পর্যায়ের বৈঠক করতে ভারত প্রস্তুত। সুষমা স্বরাজ জাতিসংঘের ৭০তম বার্ষিকীতে ১৯৯৬ সালে ভারতের প্রস্তাবিত কম্প্রিহেনসিভ কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম (সিসিআইটি) গ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ধারক হিসেবে জাতিসংঘের বৈধতা সংরক্ষণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার খুবই জরুরি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং শান্তিরক্ষা মিশনে দেশটির অবদান আরও বৃদ্ধি করবে। তবে তিনি শান্তিরক্ষা অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এএফপি

সিরিয়ায় রুশ-মার্কিন নতুন উত্তেজনা

সিরিয়া হামলাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও মার্কিন মিত্রদের ভেতর নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ চাইছে হামলা বন্ধ হোক, অন্য পক্ষ তা মানতে নারাজ। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও জোটের অন্য সদস্যরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়ার বিমান হামলা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, যা কেবল চরমপন্থাকেই আরও উস্কে দেবে।
রাশিয়ার বিমান হামলায় কেবল ইসলামিক স্টেটবহির্ভূত বিদ্রোহীরা এবং বেসামরিক নাগরিকরাই মারা পড়ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বাহিনীকে সহায়তা করতে বুধবার থেকে সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করে রাশিয়ার বিমান বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, শুক্রবারও সিরিয়ায় নতুন করে আরেক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, তারা আইএসের আস্তানাগুলোতে বিমান হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের বিদেশবিষয়ক কমিটির প্রধান আলেক্সাই পুশকভ বলেছেন, হামলা চলবেই।
কে কার জন্য যুদ্ধ করছে
যুক্তরাষ্ট্র
সমর্থন : সিরিয়ায় বাশারবিরোধী বিদ্রোহীদের মধ্যে মডারেট গ্রুপগুলোকে সমর্থন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিরোধিতা : প্রেসিডেন্ট বাশার, আইএস ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠী।
যেভাবে যুদ্ধ করছে : ৬০ দেশের একটি জোট গঠন করে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস এবং অন্য চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়া
সমর্থন : প্রেসিডেন্ট বাশারকে সমর্থন করছে রাশিয়া। দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়া-ই দেশটির একমাত্র বন্ধুরাষ্ট্র।
বিরোধিতা : আইএসের বিরোধিতা করছে রাশিয়া। কয়েক হাজার রুশ তরুণ আইএসে যোগ দিয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
তুরস্ক
সমর্থন : যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু বাশারবিরোধী গ্রুপকে সমর্থন করছে তুরস্ক।
বিরোধিতা : বাশার সরকার এবং সশস্ত্র কুর্দি বাহিনী পিকেকের সমর্থনপুষ্ট সিরীয় কুর্দিদের বিরোধিতা করছে তুরস্ক। একই সঙ্গে আইএসেরও বিরোধী তারা।
যেভাবে যুদ্ধ করছে : ইরাকে কুর্দি বাহিনী পিকেকের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে গত জুলাই মাস থেকে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
ইরান
সমর্থন : বাশার ও সিরিয়া সরকাকে সমর্থন করছে ইরান।
বিরোধিতা : সুন্নিপন্থী জঙ্গি, ইসলামিক স্টেট ও সুন্নি উগ্রপন্থীদের বিরোধিতা করছে ইরান।
যেভাবে যুদ্ধ করছে : ২০১১ সাল থেকে সিরিয়াকে অস্ত্র, রসদ ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করে আসছে ইরান।
সৌদি আরব
সমর্থন : সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে সৌদি আরব।
বিরোধিতা : সিরিয়া সরকার এবং আইএস।
যেভাবে যুদ্ধ করছে : বাশারের কঠোরবিরোধী সৌদি আরব বিদ্রোহীদের আরও অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করার ঘোষণা দিয়েছে।
ফ্রান্স
সমর্থন : সিরিয়ার বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর মধ্যে মডারেট গ্রুপগুলোকে সাহায্য করছে ফ্রান্স।
বিরোধিতা : বাশার, ইসলামিক স্টেট ও উগ্রপন্থীদের বিরোধিতা করছে ফ্রান্স।
যেভাবে যুদ্ধ করছে : যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়ে বিমান হামলা চালাচ্ছে ফ্রান্স।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা নৈমিত্তিক ঘটনা

আবারও নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বললেন, কিছুদিন পর পরই গুলিতে গণহত্যার ঘটনা ‘নৈমিত্তিক’ হয়ে গেছে। কিন্তু তা রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারিনি আমরা। নযুক্তরাষ্ট্রের ওরেগণ অঙ্গরাজ্যে উম্পকুয়া কমিউনিটি কলেজে বৃহস্পতিবার বন্দুকধারীর গুলিতে ৯ শিক্ষার্থীসহ ১০ জন নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এদিন রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া টেলিভিশন ভাষণে এ কথা বলেন ওবামা। তার ওই বিবৃতি ছিল হতাশায় ভরা। গান কন্ট্রোল ল’ বা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করতে না পারায় তিনি এ হতাশা প্রকাশ করেন। আইন সংশোধনের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে তিনি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
জেমস এস ব্রাডি প্রেস ব্রিফিং কক্ষে টেলিভিশনে বিবৃতি দেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘কীভাবে সরকারের মাধ্যমে এ আইন (অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন) পরিবর্তন করানো যায়, এসব জীবন বাঁচানো যায় এবং তাদের বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়া যায়, তা ভাবার জন্য আমি আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ এসময় ওবামা তার অপারগতা স্বীকার করে বলেন, বন্দুকধারীর গুলিতে গণহত্যা এড়াতে আমি ব্যর্থ হয়েছি। দুই দুই বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকার পরও আমি অস্ত্র আইন সংশোধন করতে পারিনি। কংগ্রেসে রিপাবলিকান এমনকি ডেমোক্রেটদেরও এ ব্যাপারে বিরোধিতা রয়েছে, যে কারণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ বার বার ভেস্তে গেছে। এখন এ জন্য জনগণকে জাগতে বলছেন তিনি।

জিএসপি দিলে দাও না দিলে না দাও -প্রধানমন্ত্রী

জিএসপি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি নিয়ে যে ১৬টি শর্ত দিয়েছিল বাংলাদেশ তা পূরণ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা খুব কম পেত। কাজেই এত শর্ত দেয়া অযৌক্তিক। আর জিএসপি ছাড়াও রপ্তানি বেড়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিএসপি নিয়ে আমরা বলছি দিলে দাও না দিলে না দাও। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৭০তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে অবস্থিত জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ভয়েস অব আমেরিকাকে এ সাক্ষাৎকার দেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাৎকারটি নেন ভয়েস অব আমেরিকার সরকার কবির উদ্দিন।
সাক্ষাৎকারে তিনি জাতিসংঘের দুটো পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন এটা তাদের অবদান। বিরোধী দলের অপরিহার্যতা নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে সংসদে যারা বিরোধী দল আছে তারা যথেষ্ট গঠনমূলক কাজ করে যাচ্ছে। তারা সমালোচনা করছে, ওয়াকআউট করছে, প্রতিবাদও করছে। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সংসদে অসংলগ্ন কথাবার্তা, খিস্তি খেউরের জন্য  কথা কান পাতা যেত না। সাক্ষাৎকারের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ একটা বিজয়ী জাতি হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে সম্মান পেত। সেই সম্মানটা ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ধুলায় লুটিয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল বলেই সেই জায়গা থেকে আবার বাংলাদেশের মানুষের সেই ভাবমূর্তিটাকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। অন্য কেউ আনবে না। এট হলো বাস্তব কথা।
এখানে ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম। ভয়েস অব আমেরিকার পক্ষ থেকে শুরুতেই দু-দুটো পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এবং সেই সঙ্গে এ দুটো পুরস্কার- জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আমাদের দর্শক শ্রোতাদের কিছু বলবেন?
উত্তর: আমি প্রথমে বাংলাদেশের মানুষকে অভিনন্দন জানাই। কারণ যে পুরস্কার আমি পেয়েছি এটা ঠিক আমার নয় এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য। কারণ বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন এবং আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আজকে যতটুকু কাজ করতে পারছি তারই অনুপ্রেরণা। ওনার কাছ থেকেই সবকিছু শেখা। কাজেই যেটুকু পুরস্কার যা কিছু স্বীকৃতি এটাতো বাংলাদেশের মানুষের অবদান।
প্রশ্ন: নতুন সহস্রাব্দের প্রথম দশকে আপনার সরকার, আপনার নেতৃত্বাধীন সরকার বেশির ভাগ সময় ক্ষমতায় থেকেছেন। অনেক কিছু পেয়েছেন। অনেক কিছু পাওয়া বাকি রয়েছে। সে সম্পর্কে বলবেন-
উত্তর: ২০০০ সালে আমি তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলাম যখন আমরা সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করি এবং কি কি কর্মসূচি নেয়া যায় সেটা যখন আমরা গ্রহণ করি। আমার সৌভাগ্য যে, তখন হয়তো খুব বেশি সময় আমরা পাই নি কাজ করতে কিন্তু আমাদের যে দলীয় নীতিমালা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তার সঙ্গে কিন্তু এ সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রাগুলি সামঞ্জস্যপূর্ণ আমরা করি। আমরা যখন একদিকে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করি- সেটা ছিল ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। আর ৫ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা আমরা প্রণয়ন করেছিলাম যখন আমি ৯৬ থেকে ২০০১ এর সরকারে ছিলাম। এর মাঝখানে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কখনোই কোন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয় নি। যে কারণে মানুষ তার ফলটা পায়নি। আমরা ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা যখন গ্রহণ করি, তার মাঝে কিন্তু এই এমডিজি গোল অনেকগুলো আমরা এর ভেতরে সম্পৃক্ত করে বাস্তবায়ন করি। এবং যার ফলাফলটা মানুষ পাচ্ছে। সেইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থাৎ ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত একটা পরীক্ষিত পরিকল্পনা আমরা নেই। দীর্ঘমেয়াদি যে কাজগুলো সেগুলো আমরা যেন শুরু করে দিতে পারি। তার ফলে যেটা হবে এটা আমাদের পক্ষে বাস্তবায়ন করাটা খুব সহজ হবে। এবং যার ফলাফলটা আমাদের দেশের মানুষ পাবে। সাধারণ মানুষ পাবে। এর মাঝে যেমন যেটা সবথেকে বড় দরকার- দারিদ্র্যবিমোচোন, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং সেই সঙ্গে আরও বেশি উন্নয়নটাকে ত্বরান্বিত করা। এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।
প্রশ্ন: আপনি এই যে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কথা বললেন, আপনি ২০২০ সালের কথা উল্লেখ করলেন। আমরা জানি আপনি ২০২১ এর মধ্যে আপনি দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আমরা এখন আপনার কাছ থেকে জানতে চাইছি যে, অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ বলেন, আপনি দেশকে যে প্রবৃদ্ধির হারে নিয়ে গিয়েছেন। ৬+ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট। এবং কেউ কেউ বলছেন যে, আরও তিন থেকে চার শতাংশ যদি যোগ হয়-  এবং এটা সম্ভব হতে পারে যেমন পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম লেন বৃদ্ধি, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং অবকাঠামোগত অন্যান্য উন্নয়ন এবং তাতে করে মধ্যম আয়ের শতাংশ যেটা প্রবৃদ্ধি হার হওয়া দরকার সেখানে পৌঁছানো সম্ভব। তো এ সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করবেন?
উত্তর: আমি তো বিশ্বাস করি যে আমরা করতে পারবো। আমাদের যেটা সমস্যা বাংলাদেশে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগও দেখা দেয়, আমাদের তো মনুষ্য সৃষ্টি দুর্যোগও মোকাবিলা করতে হয়। এবারে আমাদের যেমন প্রবৃদ্ধি আমরা ৬.৫ ভাগে ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট করেছি যে ৬.৫ ভাগ আমরা অর্জন করবো। এমনকি এটা ৬.৭ ভাগেও যেতে পারে। আমাদের কিন্তু লক্ষ্য ছিল ৭ ভাগে ওঠা। একেবারে যারা নিম্নস্তরে পড়ে আছে সেই মানুষগুলোকে আস্তে আস্তে তাদের জীবনটাকে উন্নত করা। এটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রশ্ন: আপনি এই যে সহিংসতার কথা উল্লেখ করলেন- জঙ্গিবাদ দমন, সন্ত্রাস প্রতিহতকরণ এবং ব্লগার হত্যা হামলা; এগুলো নিবৃত্ত করার জন্য, প্রতিরোধ করার জন্য আপনার সরকার যাই করেছেন, করছেন- তাতে আপনি কতখানি সন্তুষ্ট?
উত্তর: সন্ত্রাসের কথা বললে, আমি নিজেও তো সন্ত্রাসের শিকার বারবার। আমার ওপর গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে কি না হয়েছে। আমি আমার বাবা মা ভাই সবাইকে হারিয়েছি। ১৫ই আগস্ট যেভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে সপরিবারে সেটা তো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছিল। সে সন্ত্রাসের শিকার তো আমরা। এমনকি খুনিদের বিচার পর্যন্ত হতে দেয় নি। জেলখানায় কারাগারে বন্দি চার নেতা- তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এভাবে এ দেশে তো হত্যা কু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি একেবারে মানে -যেন একটা এবং তাদেরকে বিচার না করা। এভাবে করে খুনিদেরকে উৎসাহিত করা। এ ধরনের একটা অবস্থা ছিল। আমি চাচ্ছিলাম বাংলাদেশকে এই জায়গা থেকে সরিয়ে আনতে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হবে। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে, নিরাপদে চলবে। এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নতি হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য। এজন্য সন্ত্রাস দমনে আমরা আমাদের সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
প্রশ্ন: গণতন্ত্রকামী বিশ্বে আমরা জানি যে একটা শক্তিশালী, সুসংবদ্ধ, গঠনশীল একটি বিরোধীপক্ষ, বিরোধীদল অপরিহার্য একটি অঙ্গ। এ ব্যাপারে আপনি কতখানি সজাগ?
উত্তর: বর্তমানে যারা এখন বিরোধী দলে আছে আমাদের পার্লামেন্টে, কিন্তু আমি এটুকু বলবো- আগে যেমন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে পার্লামেন্টে আসলে কান পাতা যেতো না, কথা শোনা যেতো না। যত নোংরা কথা, বাজে কথা, আজেবাজে খিস্তি খেউর, নানা ধরনের অসংলগ্ন কথা এবং তাদের অঙ্গভঙ্গি, এটা সেটা- মানে এমন ছিল যে পার্লামেন্টের যে স্যাঙ্কটিটি, পার্লামেন্টে যে একটা সুন্দর অবস্থা সেটাই ছিল না। বর্তমানে বাংলাদেশে যারা সত্যিকার অফিসিয়াল বিরোধী দল তারা যথেষ্ট গঠনমূলক কাজ করে যাচ্ছে। তারা সমালোচনা করে, তারা ওয়াকআউট করে তারা প্রতিবাদ করে- সবই তারা করছে।
প্রশ্ন: দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এ ভূখণ্ডে যে সম্পর্ক ছিল সে তুলনায় বর্তমান সম্পর্ক কিরকম বলে আপনার মূল্যায়ন-
উত্তর: সেটা আপনারাই মূল্যায়ন করে দেখেন। আমি এই দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের দেশগুলি- প্রতিবেশী দেশ প্রত্যেকের সঙ্গে একটা সুসম্পর্কই শুধু বজায় রাখিনি আমাদের যে সমস্যাগুলো ছিল সমুদ্রসীমা নিয়ে যে সমস্যা মিয়ানমার, ভারতের সঙ্গে সেটা সমাধান করেছি। যার ফলে আজকে দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক আজ বজায় রয়েছে।
প্রশ্ন: আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক- বিশেষ করে গার্মেন্ট  ক্ষেত্রে, জিএসপি সুবিধে ইত্যাদি বিষয়ে...
উত্তর: আমাদের সকলের সঙ্গেই বন্ধুত্ব। কারও সঙ্গেই বৈরিতা না। জিএসপি কেন বন্ধ করেছে সেটা আমরা জানি না। তাদের ১৬টা শর্ত দিয়েছিল। সেগুলো আমরা সম্পন্ন করেছি। যদিও জিএসপি সুবিধা বাংলাদেশ খুব কম পেত। কাজেই এটা নিয়ে তাদের এত কন্ডিশন দেয়া- এটা অযৌক্তিক। আমরা ৩২ বিলিয়ন ইউএস ডলার ইতিমধ্যে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। আমেরিকা আমাদের জিএসপি দেয় না তা সত্ত্বেও কিন্তু বেড়েছে। সেটুকু আমি শুধু বলতে পারি। কিন্তু এটা দিয়ে দিয়ে- এটা মানে একটা ইমেজের মতো যেন ব্যাপার। আমরা বলছি দিলে দাও না দিলে না দাও।
প্রশ্ন: আমরা উপসংহারে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী সম্পর্কে একটু আপনার কাছ থেকে শুনতে চাইবো-
উত্তর: যে বাংলাদেশ ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে একটা বিজয়ী জাতি হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে সম্মান পেতো। সে সম্মানটা ধুলায় লুটিয়ে পড়লো ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে। তখন মনে হতো যে ওটা খুনি জাতি হয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশের মানুষের আবার সেই ভাবমূর্তিটাকে উজ্জ্বল করা, ইমেজটাকে ফিরিয়ে আনা। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল বলেই এটা আনতে পেরেছে। অন্য কেউ আনবে না। এট হলো বাস্তব কথা। আমরা আনবো, আওয়ামী লীগ আনবে। আমরা এনেছি। সে জায়গায় আমরা নিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আরও সামনে নিয়ে যাবো।
ভিওএ: আপনি আমাদের সঙ্গে কথা বললেন, আমাদেরকে সময় দিলেন, ভয়েস অব আমেরিকা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
প্রধানমন্ত্রী: আমি আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার মাধ্যমে ভয়েস অব আমেরিকার সকল কলাকৌশল, শ্রোতা, বন্ধু সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

৫ বছরে ৬৪৭৮ বেওয়ারিশ লাশ by রুদ্র মিজান

প্রতিদিন তিন থেকে চারটি বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যাচ্ছে রাজধানী ও এর আশপাশে। গত পাঁচ বছরে ৬ হাজার ৪৭৮টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। অধিকাংশ লাশ ক্ষতবিক্ষত, গলিত ও গুলিবিদ্ধ। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা থেকে উদ্ধার হচ্ছে হাত-পা বাঁধা লাশ। সুটকেসে বন্দি লাশ মিলছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। এসব লাশের ৮০ ভাগই হত্যাকাণ্ডের শিকার। পরিচয় না মেলার কারণে এসব হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধারের কোন সুযোগ থাকছে না। বেওয়ারিশ হিসেবেই দাফন করা হচ্ছে রাজধানীর দুটি কবরস্থানে। রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যাও। ওই সময়ে রাজনৈতিক শত্রুতা ছাড়াও অপরাধীরা সুযোগ গ্রহণ করে থাকে। রাজনৈতিক সহিংসতার পরপরই বাড়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা। ওই সময় থেকেই বিভিন্ন থানা, ডিবি, র‌্যাব কার্যালয়  থেকে হাসপাতালের লাশ কাটা ঘর পর্যন্ত নিখোঁজদের খোঁজ করেন তাদের স্বজনরা। এই খোঁজ চলতেই থাকে। তাদের অনেকে কখনও স্বজনের লাশ খুঁজে পান। আবার অনেকেই হারানো স্বজনের খোঁজ পান না।
৫ই জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে গত জানুয়ারি মাসে শুরু হয় রাজনৈতিক সহিংসতা। সহিংসতা শুরুর পর থেকে প্রায় দিনই অজ্ঞাত গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে বিভিন্নস্থানে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তথ্যানুসারে প্রতি দুই দিনে একজন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ১৭ জন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাদের পরিচয় পাওয়া গেলেও র‌্যাব-পুলিশ পরিচয়ে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকেরই কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। জানুয়ারি মাসে ১৪ এবং ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন নিখোঁজ হন। তারা আদৌ বেঁচে আছেন নাকি নেই তা জানেন না স্বজনরা। যদি বেঁচে না থাকেন বেওয়ারিশ হিসেবে তাদের দাফন করা হয়েছে কি-না তাও নিশ্চিত না।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে যায়। আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায় বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যাও। ওই বছর ১৪০৫টি বেওয়ারিশ লাশ বেশি পাওয়া যায়। যা আগের বছরগুলোর চেয়ে কয়েক শ’ (রানা প্লাজায় নিহতদের লাশ ব্যতীত) বেশি। একইভাবে ৫ই জানুয়ারির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে চলতি বছরের শুরুতে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে যায়। সূত্রমতে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৭২৭টি লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। তার আগে ২০১৩ সালে ১৪৩০টি লাশ দাফন করা হয়। এরমধ্যে রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার কারণে নিহত বেওয়ারিশ ২৯১ লাশ বাদ দিলে ওই বছরে অন্যান্য বেওয়ারিশ লাশ ছিল ১১৩৯টি।
রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াও বস্তাবন্দি, ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার হয় প্রায়ই। গত ২৭শে আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় ডেমরা আমুলিয়া আতিক মার্কেটসংলগ্ন সড়ক থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহাদ আলী জানান, ওই যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের ধারণা, ওই অজ্ঞাত যুবককে দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও হত্যা করে লাশ সেখানে ফেলে গেছে। তার আগে গত ২৪শে জুন সকালে ওয়ারী থানার রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাবের সামনে থেকে বস্তাবন্দি কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৬ই মার্চ রাজধানীর বনানীর কাকলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ভেতরে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ থেকে একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ৯ই মার্চ রাজধানীর তুরাগ এলাকায় এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।  পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে সাতটায় তুরাগের দৌড় এলাকার বেড়িবাঁধের পুরাতন স্লুইস গেটের সামনে থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার দুই কানে গুলির চিহ্ন ছিল।
গত জুলাই মাসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৮৫ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৯টি লাশ গ্রহণ করে। তার আগে জুন মাসে ঢামেক হাসপাতাল থেকে ৯৫টি এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আটটি লাশ গ্রহণ করে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম। পাঁচ বছরের সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম এরকম বেওয়ারিশ ৬ হাজার ৪৭৮ লাশ দাফন করেছে। উদ্বেগজনক এ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মতে, লাশ শনাক্তে পুলিশের যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা বাড়ছে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। একস্থানে হত্যার পর অন্যস্থানে লাশ ফেলে পার পেয়ে যাচ্ছে তারা।
আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের সহকারী পরিচালক (সার্ভিসেস) মো. আবদুল হালিম মানবজমিনকে জানান, পুলিশ বেওয়ারিশ ঘোষণা করলে আঞ্জুমান তা দাফন করার দায়িত্ব নেয়। মূলত ঢাকা ও আশপাশ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশগুলোই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরমধ্যে অধিকাংশ লাশই ক্ষতবিক্ষত ও গলিত অবস্থায় থাকে। বেওয়ারিশ লাশগুলো রাজধানীর জুরাইন ও আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সূত্রমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ৭২৭টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৭৪, ফেব্রুয়ারিতে ১০৮, মার্চে ১০৯, এপ্রিলে ৮৯, মে মাসে ১২০, জুনে ১১৭ ও জুলাইয়ে ১১০টি। ২০১৪ সালে ১৪০৫টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে এই প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ১০৩, ফেব্রুয়ারিতে ১০৯, মার্চে ১১৯, এপ্রিলে ১২০, মে মাসে ১৩১, জুনে ১০৭, জুলাইয়ে ১১৬, আগস্টে ১১০, সেপ্টেম্বরে ১১৮, অক্টোবরে ১৪৪, নভেম্বরে ১১৫ ও ডিসেম্বরে ১১৩টি। ২০১৩ সালে ১৪৩০টি লাশ দাফন করে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৯২, ফেব্রুয়ারিতে ৮৫, মার্চে ৯০, এপ্রিলে ৭২, মে মাসে ৩৬৭, জুনে ৮৮, জুলাইয়ে ১১৩, আগস্টে ৯৯, সেপ্টেম্বরে ৮৯, অক্টোবরে ১৩৮, নভেম্বরে ১০২ ও ডিসেম্বরে ৯৫টি। ২০১২ সালে ১২৪৮টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়। জানুয়ারিতে ১১৫, ফেব্রুয়ারিতে ৮৩, মার্চে ৯৭, এপ্রিলে ৭৭, মে মাসে ৯০, জুনে ৮৪, জুলাইয়ে ১১৩, আগস্টে ১২৮, সেপ্টেম্বরে ১১০, অক্টোবরে ১১৫, নভেম্বরে ১৪৫ ও ডিসেম্বরে ৯০টি। ২০১১ সালে ১১৯১টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে এই প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৮৮, ফেব্রুয়ারিতে ৮৮, মার্চে ৯০, এপ্রিলে ৮৬, মে মাসে ১০৬, জুনে ৯৮, জুলাইয়ে ১২৭, আগস্টে ১০৯, সেপ্টেম্বরে ১১১, অক্টোবরে ১০০, নভেম্বরে ১১২ ও ডিসেম্বরে ৭৬টি।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে ১৩৭, ফেব্রুয়ারিতে ১৪৮, মার্চে ১২৯, এপ্রিলে ১২২, মে মাসে ১০২, জুনে ৬৮, জুলাইয়ে ৫০, আগস্টে ৮৪, সেপ্টেম্বরে ৮৬, অক্টোবরে ১০৭, নভেম্বরে ১০১, ডিসেম্বরে ৭০টি লাশসহ ওই বছরে ১২০৪টি লাশ দাফন করে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম।
সূত্রমতে, বর্তমানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া লাশের মধ্যে বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে অন্তত এক সপ্তাহ হাসপাতাল মর্গে লাশ সংরক্ষণ করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত না হলে পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামে হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময় লাশ উদ্ধারের তারিখ, স্থান ও সংশ্লিষ্ট থানার নাম দেয়া হয় আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামকে। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে এই সূত্র ধরেই আঞ্জুমানের সাহায্যে কবর শনাক্ত করা হয়।
বেওয়ারিশ লাশ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, বেওয়ারিশ লাশের আলোকচিত্র রাখা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের গেজেটে ছবি প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া খুন বা দুর্ঘটনার শিকার লাশের মতোই প্রতিটি বেওয়ারিশ লাশেরই সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত হয়। তারপরও অধিকাংশ লাশেরই পরিচয় পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, মানুষের স্থানান্তরের কারণে পরিচয় পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তরা দায় থেকে বাঁচতেই হয়তো বিকৃত করে এক এলাকার লাশ অন্য এলাকায় ফেলে যায় বলে মনে করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক সহিংসতায় বেওয়ারিশ লাশ বৃদ্ধি সম্পর্কে মুনতাসিরুল ইসলাম জানান পরিসংখ্যানটি তার জানা নেই।
রাষ্ট্র কোনভাবেই বেওয়ারিশ লাশের দায় এড়াতে পারে না জানিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে তাদের পরিচয় বের করা। হত্যাকাণ্ডে মৃতদের ক্ষেত্রে দায়ীদের শাস্তির মুখোমুখি করা। সংশ্লিষ্টরা তা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলেই দুষ্কৃতিকারীরা সুযোগ নিচ্ছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমে বেওয়ারিশদের ছবি প্রকাশ করলে ভাল হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের পরিবেশ ব্যবসাবান্ধব না

দেশের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করেন এখানে ব্যবসা করার মতো সহায়ক পরিবেশ নেই। সে কারণে এ বছর তাঁদের বিনিয়োগও কমে যেতে পারে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) করা এক তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন জরিপে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে গতকাল বুধবার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিপিডি। ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে এই জরিপটিও প্রকাশ করে সংস্থাটি।
এই জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নেই। আগের বছরের জরিপে ব্যবসায়ীরা দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিদ্যমান বলে মত দিয়েছিলেন।
জরিপে শুধু যে নেতিবাচক তথ্যই উঠে এসেছে এমন নয়। এতে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে। আবার তাঁদের ৮০ শতাংশ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহে আছেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন ও তাৎক্ষণিক জরিপ প্রতিবেদনের নানা দিক তুলে ধরেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, এবারের জরিপে অংশ নিয়েছেন ৫৬ জন ব্যবসায়ী, যাঁদের সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি টাকার ওপরে। গত বছরের জরিপে অংশ নিয়েছিলেন ৭৭ জন ব্যবসায়ী।
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের কাছে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের ব্যবসার পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। অবশ্য জরিপটি করা হয়েছে এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মে পর্যন্ত। বিশ্বের ১৪০টি দেশে একই সময়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জরিপের কাজটি করা হয়। একই ব্যবসায়ীদের ওপরই তাৎক্ষণিক জরিপটি চালায় সিপিডি।
ব্যবসায়ীরা প্রায়ই সভা-সেমিনারে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার নিয়ে সোচ্চার হন। এটাকে কমিয়ে এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার দাবি জানান তাঁরা। তবে সিপিডির এই তাৎক্ষণিক জরিপে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। দেশে সুদের হার কমে আসায় জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ ব্যবসায়ী এখন আর এটিকে অতটা বড় সমস্যা হিসেবে দেখেন না। তবে ৩০ শতাংশ ব্যবসায়ী এখনো মনে করেন, উচ্চ সুদের হার ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সুশাসনে পেছনের সারিতে বাংলাদেশ: বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগোলেও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এখনো পেছনের সারিতে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনে সুশাসনের দিক থেকে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩২। আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-দপ্তরে ঘুষ দেওয়ার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯।
জরিপ অনুযায়ী, ৯১ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ঘুষ দিতে হয়। ৮৪ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, সরকারি সেবা পেতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ঘুষ দিতে হয়। ৮৯ শতাংশ ব্যবসায়ীর মতে, কর পরিশোধের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ঘুষ দিতে হয়। আর ৮৮ শতাংশ বলেছেন, সরকারি চুক্তি কিংবা লাইসেন্স পেতেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ঘুষ দিতে হয়।
অবশ্য দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট নৈতিকতাও বেশ দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে বলেও ৫৪ শতাংশ ব্যবসায়ী মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিকদের নৈতিক মান খুবই নিম্ন। সরকার খুব কম ক্ষেত্রেই ব্যবসা করার জন্য একটি টেকসই নীতি দিতে পারেন। সরকারি সেবাও যথেষ্ট নয়। শুধু তা-ই নয়, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা চুক্তি করার ক্ষেত্রে খাতিরের কোম্পানির প্রতি পক্ষপাত করেন দেশের সরকারি কর্মকর্তারা।
ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিতে ১৫টি বড় ঝুঁকি: সিপিডি গতকাল ‘২০১৫ সালে বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ’ নামেও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এটি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনেরই অংশ। ওই প্রতিবেদনে দেশের ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিতে আগামী ১০ বছরে বড় বৈশ্বিক ঝুঁকিগুলো উঠে এসেছে। প্রধান তিনটি ঝুঁকি হলো, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার ধাক্কা, জাতীয়ভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়া।
এ ছাড়া অন্য বড় ঝুঁকিগুলো হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা, আর্থিক খাত ও প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনায় ব্যর্থতা, গভীর সামাজিক অস্থিরতা, সম্পদের অতিমূল্যায়ন, জীববৈচিত্র্য ক্ষয় ও বাস্তুসংস্থানে ধস, সাইবার আক্রমণ, আন্তদেশীয় দ্বন্দ্ব, আর্থিক খাতের সংকট, মনুষ্যসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো ভেঙে পড়া এবং তথ্য চুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ক্যাম্পাসে বন্দুকধারীর তাণ্ডবে নিহত ৯

যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন অঙ্গরাজ্যের একটি কলেজ ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এক বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে ৯ জনকে হত্যা করেছে। এতে আহত হন আরও ৭ ব্যক্তি। এরপর পুলিশের গুলিতে ওই বন্দুকধারী নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দুকধারী ব্যক্তি স্থানীয় উম্পকুয়া কমিউনিটি কলেজের একটি শ্রেণীকক্ষে ঢুকে সেখানকার শিক্ষার্থীদের ওপর গণহারে গুলি করতে থাকে। পরে ২ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে গুলিবিনিময়কালে মারা যায় সে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, তার নাম ক্রিস হার্পার-মার্সার। কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার বয়স ছিল ২৬ বছর। সিএনএন জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির কাছে ৩টি পিস্তল, একটি লম্বা বন্দুক ও শরীরে বর্ম ছিল। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গুলি করার একপর্যায়ে ওই বন্দুকধারী ভীতসন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে নিজ নিজ ধর্মের নাম উল্লেখ করতে বলে। এভাবেই একের পর এক ছাত্রছাত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছে সে। মরার অভিনয় করে বেঁচে যাওয়া ১৮ বছর বয়সী আহত এক ছাত্রীর পিতা স্টাসি বয়লান বলেন, তার মেয়ে জানিয়েছেন, বন্দুকধারী ব্যক্তি শ্রেণীকক্ষে ঢুকেই অধ্যাপককে একেবারে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে তাদের ধর্মের নাম জিজ্ঞেস করতে থাকে। একজনকে ওই বন্দুকধারী জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কি খ্রিস্টান? যদি তুমি খ্রিস্টান হও, তবে দাঁড়াও। কেননা, তুমি যদি খ্রিস্টান হও, তবে ১ সেকেন্ড পরই তুমি ঈশ্বরকে দেখতে পাবে।’ এর পরই তাকে গুলি করে ওই বন্দুকধারী। বেঁচে যাওয়া আরেক শিক্ষার্থী কোর্টনি মুর (১৮) স্থানীয় এক পত্রিকাকে একই বর্ণনা দিয়েছে।
বন্দুকধারীর এমন আচরণের কোন ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ডগলাস কাউন্টির শেরিফ জন হানলিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বন্দুকধারী ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, আহত ৩ ভুক্তভোগীকে সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে ওই বন্দুকধারীর নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হানলিন বলেন, আমি তাকে এ ক্রেডিটটুকু দেবো না। নৃশংস ও কাপুরুষোচিত কাজটি সে হয়তো এ ক্রেডিটের জন্যই করেছে।
এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। মে মাসে টেক্সাসে ২ মোটরসাইকেল গ্যাংয়ের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ৯ জন। জুনে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লস্টনে কৃষ্ণাঙ্গদের একটি চার্চে এক বন্দুকধারীর তাণ্ডবে নিহত হয় ৯ জন। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনা বাদেও চলতি বছর এ ধরনের ২৯৩টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। এগুলোর প্রত্যেকটিতে কমপক্ষে ৪ জন বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সহিংসতার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আরও কঠোর বন্দুক সংক্রান্ত আইনের দাবি উঠছে। মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যক্তিবিশেষের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত। বৃহস্পতিবারের নারকীয় ওই তাণ্ডবের ঘণ্টাকয়েক পরই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, এ ধরনের গণহারে হত্যার ফলে মার্কিন নাগরিকদের উচিত নিজ নিজ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আরও কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন দাবি করা। দৃশ্যত রাগত স্বরে ওবামা বলেন, যে করে হোক এ ধরনের ঘটনা এখন রুটিনে পরিণত হয়েছে। এ মঞ্চে আমার প্রতিক্রিয়া দেয়ার ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু রুটিন হিসেবেই থেকে যায়। আমরা যেন এ ব্যাপারে নিশ্চল!
রোজবার্গের উম্পকুয়া কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি রুটিন ব্যতীত কিছুই নয়। শিক্ষার্থী কেনি আঙ্গারম্যান এনবিসি চ্যানেলকে বলেন, তিনি বন্দুকধারীকে দেখেছেন। তার পরনে ছিল জিনস ও টি-শার্ট। পিস্তল হাতে সে ভবনে প্রবেশ করে। এরপরই বন্দুকের শব্দ ও চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। আরেক শিক্ষার্থী কাসান্দ্রা ওয়েলডিং সিএনএনকে জানান, তিনি অন্তত ৩৫-৫০টি গুলির শব্দ শুনেছেন। আরেক শিক্ষার্থী ব্রাডি উইন্ডার ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি পাশের শ্রেণীকক্ষে ছিলেন। কিন্তু গুলির শব্দ শুনেই তিনি দৌড়ে পালান।
সন্ধ্যার দিকে, বহু মানুষ স্থানীয় একটি পার্কে নিহতদের সম্মানে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। রোজবার্গের এ ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল ক্যাম্পাসে হওয়া এ বছরের সবচেয়ে রক্তাক্ত বন্দুক সহিংসতার ঘটনা। এর আগে ২০০৭ সালের এপ্রিলে ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী ৩২ জনকে হত্যা ও ২৫ জনকে আহত করে নিজে আত্মহত্যা করে।

রেজিকে নিয়ে লাপাত্তা লন্ডনি আবুল by ওয়েছ খছরু

বিয়ের আয়োজন করা হয় কমিউনিটি সেন্টারে। বর সেজে আসবেন লন্ডন প্রবাসী আবুল মিয়া। কনে রেজিনা আক্তার রেজিও বধূ বেসে আছেন। কিন্তু বাদ সাধলো পুলিশ। বিয়ের আসরে উপস্থিত। এই খবর শুনে এলেন না বর আবুল মিয়া। কারণ প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আবুল মিয়া। আগের স্ত্রী রোমেনা খাতুন তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় আছে মামলাও। আনুষ্ঠানিক বিয়ে না হলেও অবশেষে আবুলের কাছেই চলে গেছেন রেজি। এখন পুলিশ তাদের খুঁজছে। আর অজ্ঞাত স্থানে থেকে নববধূ রেজিকে নিয়ে অভিসার করছেন লন্ডন প্রবাসী আবুল মিয়া। পূর্বের স্ত্রী রোমেনা আক্তারের স্বজনদের দাবি, আবুল এক এক করে তিনটি বিয়ে করেছেন। আর চতুর্থ স্ত্রী হচ্ছে তরুণী রেজীনা আক্তার রেজি। সব স্ত্রীর সঙ্গে এক এক করে সম্পর্ক করে ছিন্ন করে দেশে এসে নতুন বউয়ের সন্ধান করেন আবুল মিয়া। লন্ডনি বলেও তিনি পেয়ে যান সুন্দরী মেয়ে। আর তাদের বিয়ে করাই এখন তার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন বধূকে নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো আবুলকে নিয়ে জগন্নাথপুর ও বালাগঞ্জ উপজেলায় তোলপাড় চলছে। সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার কামারগাঁও এলাকার মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে আবুল মিয়া (৪৫)। তৃতীয় বউয়ের অভিযোগে আবুল এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অবশেষে আবুল এর চতুর্থ বিয়ের সাধ পূরণ হলো না। নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে প্রতারণার মাধ্যমে আবুল মিয়া ক্রমান্বয়ে তিনটি বিয়ে করেন। পুলিশ ও তার তৃতীয় স্ত্রী রোমেনার পারিবারিক সূত্র জানায়, আবুল মিয়া দীর্ঘদীন যাবৎ যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। দেশে এসে গত ৫ বছরে আবুল একে একে ৩টি বিয়ে করে। এর মধ্যে তার দুই স্ত্রীকে তিনি পর্যায়ক্রমে লন্ডনে নিয়ে গেছেন। ওখানে নিয়ে গিয়ে কিছুদিন অবস্থান করে স্ত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন আবুল মিয়া। স্ত্রীদের ওপর চালান নির্যাতনে স্টিম রোলার। এভাবে এক এক করে সঙ্গ ছাড়েন স্ত্রীদের। প্রথম স্ত্রী সাফিয়া বেগম। তাদের সংসারে এক ছেলে তিন মেয়ে রয়েছে। দুই নম্বরের স্ত্রীর বাড়ি জগন্নাথপুরে। বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ার পর এভাবেই নির্যাতন করে। নির্যাতন সইতে না পেরে ওই স্ত্রীও আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। তার সর্বশেষ স্ত্রী হলেন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার কামারগাঁও গ্রামের মৃত লাল মিয়ার মেয়ে রোমেনা খাতুন। ২০১৩ সালে সামাজিকভাবে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবুল মিয়া লন্ডনে বিয়ে করেন রোমেনা খাতুনকে। বিয়ের এক বছর পর ২০১৪ সালে আবুল রোমেনাকে নিয়ে দেশে চলে আসে। এ সময় প্রতারক আবুল গোপনে ওসমানীনগর থানার খালপার গ্রামের জমির আলীর মেয়ে রেজীনা আক্তার রেজির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক তৈরি করে। আর এ খবর পৌঁছে যায় রোমানার কানেও। রেজির সঙ্গে প্রেমের কারণে আবুল তৃতীয় স্ত্রী রোমেনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। এ সময় আবুল রোমেনার কাছে বিশ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। রোমেনা প্রাণ রক্ষার্থে পাঁচ লাখ টাকা আবুলের হাতে তার বাড়ি থেকে এনে দিলেও পাষণ্ড আবুল এর হাত থেকে রক্ষা পায়নি রোমেনা। এরপরও শারীরিক ও মানসিকভাবে বিষিয়ে তুলে আবুল। এক সময় রোমেনাকে বেদম প্রহার করে জোর করে লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে রোমেনা খাতুন বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলা নং-১৩(৮)১৫। এরপর আবুল মিয়া গোপনে রেজিকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর তারিখে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন নাজিরবাজার এলাকার ইমা কমিউনিটি সেন্টারে আবুল-রেজির বিয়ের কথা ছিল। আবুল আসবেন বর সেজে। আর রেজিকে বিয়ে করে নিয়ে যাবেন তার বাড়ি। কিন্তু তার আগেই জগন্নাথপুর, ওসমানীনগর ও দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের সংবাদ জানে আবুল। পুলিশ আসার খবরে আবুল মিয়া আর বিয়ের আসরে আসেনি। পুলিশ আসার খবরে কনে রেজিকে বিয়ে করতে না এসে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী জানান, কামারগাঁও গ্রামের আবুলের বিলাসবহুল বাড়িসহ প্রচুর জায়গা জমি রয়েছে। বিয়ে করে স্ত্রীদের লন্ডন নিয়ে যাওয়ার নাম করে শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই বিয়ে ব্যবসায় নামে আবুল। রোমেনা খাতুনের স্বজন আলহাজ এম এ মুগনী জানিয়েছেন, বিয়ের খবর শুনে তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযানে নামে। তিনি জানান, বিয়ের সেন্টারে আবুল না গেলেও পরবর্তীতে রেজিকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। জগন্নাথপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আবুলকে স্ত্রীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজ হচ্ছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

নওয়াজ শরিফের চার দফা ‘শান্তি প্রস্তাব’

কাশ্মীরের ‘বেসামরিকীকরণ’ এবং সিয়াচেন হিমবাহ থেকে নিঃশর্ত সেনা প্রত্যাহারসহ চার দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নওয়াজ শরিফ এ প্রস্তাব দেন। তবে বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে এর কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। খবর দ্য হিন্দু ও ডনের।
নওয়াজ শরিফ জাতিসংঘে বলেন, ‘উন্নতির জন্য আমাদের জনগণের শান্তির প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি অর্জন হতে পারে।’ ভারতকে দেওয়া প্রথম প্রস্তাবে নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির জন্য ২০০৩ সালের সমঝোতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।’ যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য নওয়াজ জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক সংস্থার কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও পাকিস্তানকে দৃঢ়তা সহকারে বলতে হবে যে তারা কোনো অবস্থাতেই একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করবে না বা হুমকি দেবে না।
তৃতীয় এবং চতুর্থ প্রস্তাবে নওয়াজ বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরের ‘বেসামরিকীকরণ’ এবং সিয়াচেন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে সেনা প্রত্যাহার করার বিষয়ে রাজি হতে আহ্বান জানান।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর ওই ভাষণের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। দেশটি বলেছে, নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলি চালানোর দায়ভার পাকিস্তান এড়াতে চাইছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়। এতে বলা হয়, পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সন্ত্রাসবাদের প্রধান শিকার। সত্য হলো, সন্ত্রাসবাদের জন্ম ও লালন করার যে নিজস্ব নীতি তাদের রয়েছে, তারা সেটারই শিকার।

পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন চান শিক্ষামন্ত্রী, ডিআরইউতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার পদ্ধতি পরবির্তনের পক্ষে মত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আমি পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের পক্ষে। মাস ভরে পরীক্ষা হয়। এতদিন প্রশ্নপত্র পাহারা দেয়াওতো কঠিন। মন্দ লোকেরা এই সুযোগ নেয়। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই-তিন মাস ধরে পরীক্ষা চলায় ক্লাস বন্ধ থাকে। সময় নষ্ট হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি তো আছেই। এই জন্য পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা চলছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া প্রসঙ্গে বিকল্প চিন্তা প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
ডিআরইউর সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে এ বছর এসএসসিতে ১৭ জন, ও লেভেলে দুইজন এবং এইচএসসির ১২ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে তিন হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যত সুপার টেকনোলোজি ব্যবহার করা হোক না কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস পুরোপুরি ঠেকানো যাবে না। যারা অপরাধী তারা সুপার টেকনোলোজির চেয়েও এগিয়ে থাকে। তাছাড়া চাইলেও সুপার টেকনোলজি চালু করা সম্ভব না।
শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ঘুষ দিয়ে যদি চাকরি নিতে হয় তাহলে সেই শিক্ষক পড়াবেন কীভাবে? তার কাছ থেকে কতটুকু দায়িত্ববোধ আশা করা যায়?
তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সারাদেশে পিএসসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এতে অনিয়ম করার সুযোগ বন্ধ হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আক্ষেপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো শিক্ষার মান তেমন উন্নত করা যায়নি। আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন ৫৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। আমরা এসেই তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেই। এই সময়ের মধ্যে কেউ নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়নি। পরে আমরা ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে বাধ্য করেছি।
২০১০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা করা হয়েছে জানিয়েছে তিনি বলেন, কথা না শোনায় ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিল করেছি। কিন্তু তারা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ এনে এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ডিআরইউ’র সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন, ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক আরিফুর রহমান, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আহবায়ক ডিআরইউর সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সদস্য সচিব সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস মোবারক প্রমুখ।
ডিআরইউর কল্যাণ সম্পাদক শাহনাজ শারমিনের সঞ্চালনায় অভিভাবকদের মধ্যে এহসানুল হক বাবু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফরাদ, আর্শিয়ানা চৌধুরী বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মানবজমিনের সিনিয়র সাংবাদিক আওলাদ হোসেনের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। তিনি গত বৃহস্পতিবার রাতে ইন্তেকাল করেন।

যুক্তরাজ্য মনে করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বড় হুমকি রয়েছে

যুক্তরাজ্য মনে করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বড় হুমকি রয়েছে। এই সময়ে বৃটিশ নাগরিকদের এ দেশে অবস্থান এবং চলাফেরায় সাদামাটাভাব বজায় রাখাসহ পশ্চিমা নাগরিকদের সমবেত হওয়ার স্থান বা অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ সীমিত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষ করে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর কূটনৈতিক জোনে ইতালীয় এনজিও কর্মী সিজারকে গুলি করে হত্যার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ পূর্ব-পশ্চিমের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা বা (ট্রাভেল এলার্ট)   নিয়মিত হালনাগাদ (আপডেট) করছে। সর্বশেষ গতকাল (২রা অক্টোবর) পর্যন্ত বলবৎ থাকা বৃটেনের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল এলার্ট)-এ দেশটির নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বড় হুমকি রয়েছে। এই সময়ে আপনারা জনসমক্ষে চলাফেরায় নিজেদের সাদামাটাভাব (লো প্রোফাইল) বজায় রাখুন এবং হোটেল কনফারেন্স সেন্টারগুলোসহ যে সব স্থান বা অনুষ্ঠানে পশ্চিমা নাগরিকদের সমবেত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোতে অংশগ্রহণ সীমিত রাখুন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃটেন তার পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ারের ঢাকা সফরও স্থগিত করেছে। আজ থেকে তার ৩ দিনের সফর শুরুর আয়োজন প্রায় চূড়ান্ত ছিল। এদিকে গুলশানে বিদেশী নাগরিক খুনের পর নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি। ১লা অক্টোবর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের হালনাগাদি করা ভ্রমণ বার্তায় আগের অবস্থান শিথিলের ঘোষণা দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়- ২৯শে সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা ‘শেল্টার ইন প্লেস’ (বাড়ি, কর্মস্থল বা কোন ভবনের অভ্যন্তরে তাৎক্ষণিক অবস্থান এবং সেখানে গতিবিধি সীমাবদ্ধ রাখা) নির্দেশ উঠিয়ে নিয়েছে দূতাবাস। তবে শহরে চলাফেরায় দূতাবাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা থাকছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের নিজ সুবিবেচনা মোতাবেক সতর্কতা অবলম্বন করা অব্যাহত রাখা উচিত। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তাদের সতর্ক থাকা উচিত এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সতর্ক ও অবগত থাকা জরুরি। পায়ে হাঁটা, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা কিংবা ভাড়ায় চালিত যান ব্যবহার ও ফুটপাতে অরক্ষিত সকল ধরনের যাতায়াতের মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা অবলম্বন করতে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারদের নির্দেশ দেয়া হয় হালনাগাদ করা সর্বশেষ ভ্রমণ বার্তায়। স্থানীয় নিরাপত্তা কার্যালয় থেকে অনুমতি পাওয়া ব্যতিরেকে বাংলাদেশে বড় ধরনের কোন জনসমাবেশে যোগ দিতে বারণ করা হয়েছে। এ নির্দেশনা আন্তর্জাতিক হোটেলে অনুষ্ঠিত কোন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওদিকে ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের ওয়েব সাইটে তাদের নাগরিক খুনের পর সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড এলার্ট জারি করা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর অবশ্য তাতে লাল হরফের বদলে কালো হরফ এবং কিছুটা সংশোধনী আনা হয়। প্রথম বার্তায় ঘটনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-এর দায় স্বীকারের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কিন্তু পরে তা ফেলে দেয়া হয়। গতকাল থেকে দূতবাসের ওয়েবসাইটে ওই বার্তা বা নোটিশটি আর দৃশ্যমান নেই।

অবাক জলপান, ঘড়ার ফাঁসে চিতাবাঘ

একদা এক বাঘের গলায় হাড় ফুটিয়াছিল। এক বক তখন সাহস করে এগিয়ে এসেছিল তাকে সাহায্য করতে। বুধবার গলায় জলের ঘড়া আটকে নাজেহাল চিতাবাঘ চার ঘণ্টা ধরে ঘুরে বেড়ালো। এই বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করার ক্ষমতা বকেরও ছিল না।
রাজস্থানের কুম্ভলগড় অভয়ারণ্য থেকে জলের খোঁজে কাছেই সরতুল খেডা গ্রামে ঢুকে পড়েছিল চিতাবাঘ। ওই অঞ্চলে জল ভরে রাখার জন্য অ্যালুমিনিয়ামের ঘড়ার চল খুব বেশি। প্রায় প্রতি ঘরেই ওই রকম ঘড়া থাকে। ওজনে হালকা, কিন্তু অনেক জল ধরে। রোদে ভাজা ভাজা হয়ে জলের তেষ্টায় চিতাবাঘ ওই রকমই একটা ঘড়া দেখতে পেয়ে যায়। মুখ ঢুকিয়ে জল খেতেও দেরি করেনি। কিন্তু বিপত্তিটা হল তার পরে। জল খাওয়ার তাড়নায় কষ্টেসৃষ্টে মাথা ঢুকেছিল বটে, কিন্তু আর তো সে বেরোয় না। চিতাবাঘ এ দিক-ও দিক মুণ্ডু নাড়ায়। কিন্তু ঘড়া তার ঘাড় থেকে নামে না। কী বিপদ! চিতাবাঘ বলে কথা! ক্ষিপ্র তার গতি! গাছে উঠতে পারে, জলে সাঁতরাতে পারে! জঙ্গলের রাজত্বে তাকে অনেকেই সমীহ করে চলে! কিন্তু দু’পেয়েদের এলাকায় এসে একটা ঘড়া কি না তার সমস্ত বীরত্ব ঘুচিয়ে দিল!
চিতাবাঘ কখনও বসছে, কখনও দাঁড়াচ্ছে! বারবার মাথা নাড়িয়ে চলেছে! কিছুতেই কিছু হয় না! কার মুখ দেখে চোখ খুলেছিল আজ, ভাবতে বসে সে। ‘কথামালা’য় আছে, হাড়-ফোটা বাঘের গলায় বক তার ঠোঁট ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এ দিন গ্রামের লোকে ক্রমশ ভিড় জমাতে থাকে চিতাবাঘকে ঘিরে। কামড়াতে তো পারবে না, ফলে ভয়ও নেই। কিন্তু সাহস করে ঘড়া-মুক্ত করবে কে? মুখ না থাক, থাবা তো আছে! আর, মুক্ত হওয়ার পরে চিতাবাঘ যে কৃত়জ্ঞতা দেখাবেই, তারই বা ঠিক কী? বকের অভি়জ্ঞতা তো ভাল ছিল না! ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাবার হতে থাকে! গ্রামবাসীদের সঙ্গে তখন ঝেঁটিয়ে জড়ো হয়ে গিয়েছে সংবাদমাধ্যমও! ঘড়া-মুখো চিতাবাঘ কখনও রাস্তার উপরে, কখনও মাঠের মাঝে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে। তার হাবভাব তখন বাঘের চেয়ে বাঘের মাসির মতোই দেখাচ্ছিল বেশি।
মাঠের ধারে ঘাস খাচ্ছিল একপাল মোষ। তারাও মজা দেখতে ভিড় করে। চিতাবাঘ এবং জলের ঘড়া, দু’টোই আলাদা করে দেখা ছিল তাদের। কিন্তু এমন ঘড়া অবতারে চিতাবাঘ, তাদের চোখেও নতুন ঠেকল। চিতাবাঘের আর সহ্য হল না! শেষে মোষেও করবে মস্করা! নিষ্ফল আক্রোশে একটা হুঙ্কার ছাড়ল সে। ঘড়ার মধ্য দিয়ে সে হাঁক প্রায় নিনাদ হয়ে বেরোল। মোষেরা ল্যাজ তুলে চম্পট দিল। কিন্তু এ ভাবে আর কত ক্ষণ? শক্তি ফুরিয়ে আসছিল চিতাবাঘের। গ্রামবাসীরা অবশ্য তার কোনও ক্ষতি করেননি। খবর গিয়েছিল বন দফতরে। শেষে বনকর্মীরা এসে ঘুমপাড়ানি ইঞ্জেকশন দিলেন। ঘড়া-মুখেই ঘুমিয়ে পড়ল চিতাবাঘ।
যখন চোখ খুলল, তখন সে বন বিভাগের খাঁচায়। কিন্তু মুখ থেকে খুলে গিয়েছে ঘড়া! অনেক ক্ষণ পরে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে একটা বড় করে হাই তোলে সে। খাঁচায় জেগে উঠেও যে এত আনন্দ পাওয়া যেতে পারে, এ কথা আগে কোনও দিন ভাবতে পারেনি সে। শেষমেশ যখন তাকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, চিতাবাঘের মনে হল, এ এক নতুন জীবন! আর হ্যাঁ, দু’পেয়েরা সব সময় খুব খারাপও নয়!
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

আ’লীগ এমপি লিটন গুলি করলেন স্কুলছাত্রকে

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌরভ
গতকাল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন পিস্তল দিয়ে গুলি করলেন চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্র সৌরভকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত শিশুটি এখন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে কাতরাচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এমপি লিটনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
এলাকাবাসী, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার ভোরে স্থানীয় এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন ল্যান্ড ক্রুজারে করে বাড়ি যাওয়ার পথে সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কের গোপালচরণ এলাকায় কালাই ব্রিজের পূর্ব পাশে প্রাতঃভ্রমণকারী ওই এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে সৌরভ (৯) ও মকবুল মুন্সির ছেলে তাজরুল ইসলামকে দেখতে পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে তাজরুল ইসলাম দৌড়ে পালালেও সৌরভের দুই পায়ে তিন রাউন্ড গুলি লাগলে সে গুরুতর আহত হয়। সাথে সাথে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথে এমপি লিটনের লোকজন বামনডাঙ্গায় অ্যাম্বুলেন্স আটক করে ড্রাইভারকে নামিয়ে নেয়। পরে সেখানে এলাকাবাসী প্রতিবাদ গড়ে তুললে নিজস্ব ড্রাইভার দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি পার করে দেয়া হয়। পরে ড্রাইভার এসে অ্যাম্বুলেন্সটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হয়। সৌরভ স্থানীয় হুড়াভাড়ায়খা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। সে গরিব হাঁড়িপাতিল ব্যবসায়ী সাজু মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সৌরভের চাচা শাহজাহান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে ওঠে ভাতিজাসহ আমরা সড়কে হাঁটতে থাকি। এ সময় এমপির গাড়ি এলোমেলোভাবে চলতে থাকে। আমাদের সামনে আসা মাত্রই এমপি লিটন আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই। গাড়ি চলে যাওয়ার পর এসে দেখি আমার ভাতিজার পায়ে গুলি লেগেছে। রক্ত ঝরছে। তখন আমরা তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ মেডিক্যালে ভর্তি করি।
প্রত্যদর্শীরা আরো জানান, এ ঘটনার কিছুণ পর গুলিবর্ষণ শেষে এমপির নিজ বাড়ি বামনডাঙ্গায় যাওয়ার সময় বৈদ্যনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় রাস্তায় প্রাত:ভ্রমণকারী আনজুমান আরা আছিয়া ও নাজমা নামে দুই মেয়েকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলা ও বিবস্ত্র করার চেষ্টা করলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় এমপি লিটন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও জানান প্রত্যদর্শীরা।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা: মাহফুজুর রহমান জানান, সৌরভের দুই পায়ে তিনটি গুলি লেগেছিল। আমরা অস্ত্রোপচার করে শিশুটির পা থেকে গুলি বের করেছি।
হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ সৌরভের পিতা সাজু মিয়া জানান, আমার নিরপরাধ ছেলেকে এমপি লিটন কেন গুলি করলেন তা আমি বুঝতে পারছি না। আমি আমার ছেলের ওপর যে গুলি চালিয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি বলেন, গাড়িতে এমপি সাহের তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
হাসপাতালে সৌরভের মা সেলিনা কাঁদতে কাঁদতে জানান, আমার বাচ্চা কারো কোনো দিন কোনো ক্ষতি করেনি। স্কুল যায়। পড়াশোনা করে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে সড়কে যায়। কিন্তু কেন এমপি সাহেব আমার ছেলের ওপর গুলি চালালেন। এর আমি জবাব চাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল হাই মিলটন জানান, শিশুটিকে বহনকারী গাড়ি আটক করার কথা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তবে কিভাবে শিশুর পায়ে গুলি লেগেছে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) জিন্নাত আলী গুলিতে শিশু আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কিভাবে বা কে গুলি করেছে তা তিনি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে এসআই কাবেরুল গিয়েছেন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম। পরে তাদের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে বিােভ ও অবরোধ শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিসি আবদুস সামাদ, পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম, ইউএনও আব্দুল হাই মিল্টন ওসি তদন্ত জিনাত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে বিােভ থেকে সরে আসেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
তবে এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সুন্দরগঞ্জের মানুষ। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আওয়ামী লীগের একজন এমপি হয়ে এভাবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে নিরপরাধ শিশুর ওপর গুলি চালিয়ে তাকে আহত করার ঘটনায় পুরো উপজেলায় সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করে এমপির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সাজু জানান, এ ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে আমাদের লজ্জা রাখার জায়গা নেই। অপরাধী যে দলেরই হোক, যত বড় নেতাই হোকÑ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুর রশিদ ডাবলু। তিনি জানান, একজন জনপ্রতিনিধি আইনপ্রণেতা যখন আইন হাতে তুলে নিয়ে নিরপরাধ শিশুকে বুলেট বিদ্ধ করেছেন তাতে রাজনীতিবিদ হিসেবে আর আমাদের জনগণের কাছে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। আমি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, সাবেক এমপি আব্দুল আজিজ, উপজেলা জামায়াতের আমির ইউনুস আলী, সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম মনজু, উপজেলা চেয়ারম্যান মাজেদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু সোলায়মান সাজা। বিবৃতিতে তারা দাবি করেছেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের এই এমপি এরকম ঘটনা বারবার ঘটাচ্ছেন। যাকে ইচ্ছে তাকে গুলি করছেন। যখন ইচ্ছা তখন মহিলাদের শ্লীলতাহানি ঘটাচ্ছেন। কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। তারা অবিলম্বে তাকে এমপি পদ থেকে অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ব্যাপারে কথা বলতে সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের ০১৭১১৫৪৮৫৬১ নম্বর মোবাইল ফোনে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রংপুর অফিস আরো জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে এমপি লিটন বামনডাঙ্গার লিটনের মোড়, খানের দোকানের সামনে, খানবাড়ি ও গোপাল চরণ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আরো ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। গতকাল সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু সৌরভকে দেখতে এসে আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌরসভার মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সাজু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাসুদসহ আওয়ামী লীগ নেতারা এ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করে আওয়ামী লীগের পরিবর্তে এমপি লীগ নামে একটি বাহিনী তৈরি করেছেন লিটন। তার হাতে সুন্দরগঞ্জের মা-বোন ও শিশু কেউই নিরাপদ নয়। রাস্তাঘাটে মা বোনদের দেখামাত্র তিনি তাদের ওপর হামলে পড়েন। তারা অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার অপসারণের দাবি জানাবেন বলে মন্তব্য করেন।

দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা এখন পৌনে দুই লাখ by ফখরুল ইসলাম

দেশের ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮১ জন মানুষ এখন ঋণখেলাপি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এ তথ্য দিয়েছেন।
সংসদে এক প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোট খেলাপির মধ্যে ৫০ হাজার টাকার খেলাপি যেমন রয়েছেন, রয়েছেন ১০ হাজার থেকে তারও বেশি টাকা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণখেলাপিও। তবে কার কাছে, কোন ব্যাংকের, কত টাকা খেলাপি রয়েছে সংসদে এই দফায় অর্থমন্ত্রী সেই তথ্য আর দেননি।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত জুন পর্যন্ত হিসাবমতে দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। এর বাইরে আরও ৩৭ হাজার কোটি টাকা রাইট-অফ বা অবলোপন করা হয়েছে। অর্থাৎ দেশের পৌনে দুই কোটি ঋণখেলাপির হাতে আটকা আছে প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই আর আদায় হবে না।
বছরের পর বছর আদায় করতে না পেরে ব্যাংকগুলো একপর্যায়ে ব্যাংকের স্থিতিপত্র বা ব্যালান্সশিট থেকে কিছু খেলাপি ঋণের (মন্দ বা কুঋণ) হিসাব বাদ দিয়ে দেয়। একেই বলা হয় ঋণ অবলোপন। খেলাপি ঋণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ২০০২ সালে এই ঋণ অবলোপন পদ্ধতি চালু হয়েছিল।
ঋণখেলাপিদের নিয়ে গবেষণা করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মইনুল ইসলাম সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পৌনে দুই লাখ ঋণখেলাপির মোট তথ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী বিষয়টিকে জলো করে ফেলেছেন। এর মধ্যে রাঘববোয়াল খেলাপি আড়াই হাজারের বেশি হবে না। আগেরবার বড় খেলাপি ছিল দুই হাজার ১১৭ জন।’
অর্থনীতির এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘এভাবে গড়ে ঋণখেলাপির সংখ্যা বেশি দেখানোর পরিবর্তে বরং এক কোটি টাকার বেশি ঋণের খেলাপিদের তালিকা করা উচিত। তাহলেই মানুষের পক্ষে বোঝা সহজ হবে যে কার কাছে কত টাকা আটকে আছে।’
অর্থমন্ত্রী অবশ্য সংসদকে জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের সঙ্গে সরকারের বার্ষিক পারফরম্যান্স চুক্তি (এপিসি) রয়েছে এবং প্রতি মাসেই তা তদারকি হয়। অর্থঋণ আদালতসহ অন্যান্য বিচারাধীন মামলা তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে বিশেষ সেল রয়েছে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তার তদারকি হয় এই সেল থেকে। এর বাইরেও রয়েছে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে খেলাপি অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা—অর্থমন্ত্রী এসব কথাও জানিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন করে বিকল্প পদ্ধতি চালুর চিন্তাভাবনা চলছে। ইতিমধ্যে একটি ধারণাপত্রও তৈরি করা হয়েছে। মতামত চেয়ে ধারণাপত্রটি শিগগির বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হবে।’ খেলাপি ঋণ আদায় করে দিলে আদায় করা অর্থের একটি অংশ কমিশন পাবে, এমন তৃতীয় কোনো পক্ষকে সরকারের অনুমতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।
এর আগে গত জুনে অর্থমন্ত্রী সংসদকে মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের একটি হিসাব দিয়েছিলেন। সে সময় পর্যন্ত তা ছিল ৫৪ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকের খেলাপিই ২২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। আর ৩৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ২২ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলো এক বছরে ৩৭ হাজার ২৫২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে।
অবলোপন পদ্ধতি চালু তো আছেই, বর্তমান সরকার ঋণ গ্রহণকারীদের দিয়েছে আরও নতুন সুযোগ। যেমন ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ গ্রহণকারীদের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে ঋণ পুনর্গঠনের এই সুযোগ খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে পারবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সুযোগের সাফল্যের কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানান অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।