Monday, February 1, 2010

জীবনানন্দ দাশের বাড়ির সেই দুটি খুঁটি by দীপংকর চন্দ

বরিশাল সদরের খানাখন্দভরা রাজপথ। বগুড়া রোড। আম্বিয়া হাসপাতালের বিরাট ভবন। খুব কাছেই মুন্সির গ্যারেজ। কয়েকটি রিকশা রাস্তার পাশের লাইটপোস্টের সঙ্গে চেইন দিয়ে বাঁধা। ছায়া সুনিবিড় একটি বাড়ির প্রবেশদ্বার। হালকা লালচে ওই প্রবেশদ্বারের মোটা থামে একটা নামফলক। ওই ফলকে কালো হরফে লেখা ‘ধানসিড়ি’। হ্যাঁ, অনেক অনেক দিন আগে, এ বাড়িতেই থাকতেন কবি জীবনানন্দ দাশ।
বরিশাল সদরের ধানসিড়ি নামের এ বাড়িটির পূর্বনাম ছিল সর্বানন্দ ভবন। জীবনানন্দ দাশের পিতামহ সর্বানন্দ দাশের নামানুসারেই বাড়িটির এই নামকরণ করা হয়েছিল। সর্বানন্দ দাশের আদি নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগনার পদ্মাপারের গাউপাড়া গ্রামে। জীবনানন্দের পিতামহ বরিশালের কালেক্টরেট অফিসে চাকরি নিয়ে গাউপাড়া থেকে বরিশালে আসেন। বংশগতভাবে তাঁরা ছিলেন হিন্দু। আদিতে তাঁদের পদবি ছিল দাশগুপ্ত। কিন্তু এ পরিবারে সর্বানন্দই প্রথম ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন এবং পদবি দাশগুপ্তের শেষাংশ অর্থাত্ ‘গুপ্ত’ ছেঁটে ফেলে নামশেষে ব্যবহার করা শুরু করেন দাশ উপাধিটুকু। সর্বানন্দ দাশের সাত ছেলে, চার মেয়ে। সর্বানন্দের ছেলেমেয়েরা বরিশাল শহরে বাড়ি তৈরি করে বাবার নামে সেই বাড়ির নাম রাখেন ‘সর্বানন্দ ভবন’।
জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯ সালে। তাঁর বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন সর্বানন্দের দ্বিতীয় ছেলে। জীবনানন্দের মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ। জীবনানন্দ দাশের বাল্যশিক্ষার সূত্রপাত বাড়িতে, মায়ের কাছেই। তারপর ব্রজমোহন স্কুলে ভর্তি হন তিনি। ১৯১৫ সালে মেট্রিক পাস করেন জীবনানন্দ দাশ। ১৯১৭ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আইএ, ১৯১৯ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন তিনি। এ বছরই প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় তাঁর। ‘বর্ষ-আবাহন’ নামে এই কবিতাটি জীবনানন্দের বাবা সত্যানন্দ দাশ প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত ব্রহ্মবাদী পত্রিকার বৈশাখ ১৩২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন তিনি। ১৯২২ সালে কলকাতা সিটি কলেজে ইংরেজি ভাষা সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন জীবনানন্দ দাশ। ১৯২৫ সালে প্রথম গদ্যরচনা প্রকাশিত হয় তাঁর। ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতাগ্রন্থ ঝরা পালক। ১৯২৯ সালে খুলনা জেলার বাগেরহাট কলেজে মাস তিনেক অধ্যাপনা করেন তিনি। ওই বছরের শেষদিকে যোগ দেন দিল্লির রামযশ কলেজে। ১৯৩০ সালের মে মাসে চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরেন জীবনানন্দ দাশ। ৯ মে বিয়ে করেন রোহিণীকুমার গুপ্তের মেয়ে লাবণ্য গুপ্তকে। বিয়ের পর অনেক দিন কর্মহীন জীবন যাপন করেন জীবনানন্দ দাশ। ১৯৩৫ সালে তিনি আবার যুক্ত হন শিক্ষকতা পেশায়। এবার বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে যোগ দেন জীবনানন্দ দাশ। ১৯৪৬ সালের ৮ জুলাই কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে কলকাতা যান তিনি। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টকারী দাঙ্গাসহ নানা প্রতিকূল কারণেই আর দেশে ফেরা হয়নি জীবনানন্দ দাশের।
দেশভাগের পর কবি-পরিবারও চলে যায় কলকাতায়। ১৯৫৫ সালে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বানন্দ ভবন সংরক্ষণের আইনসিদ্ধ অনুমতি প্রদান করা হয় আইনজীবী পবিত্র কুমার ঘোষকে। তবে আইনসিদ্ধ এই অনুমতি প্রদানের অনেক আগে থেকেই এ বাড়িতে বাস করতেন কালেক্টরেটের কর্মচারী আবদুর রাজ্জাক। তিনি ১৯৬০ সালের ১৭ জুন বাড়িটির বেশ কিছু অংশ ক্রয় করেন। পরবর্তীকালে বাড়িটির ৭০ ভাগ জমি হুকুম-দখল করে সরকার। বর্তমানে সেখানে রয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি আবাসিক ভবন এবং সিটি করপোরেশনের একটি জল উত্তোলন প্রকল্প। সরকারি এই স্থাপনা, প্রকল্প সহজেই চোখে পড়ে আমাদের। বিষণ্ন মনে সেদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে আমরা ধানসিড়ি নামের বাড়িটির প্রবেশদ্বার অতিক্রম করি। ভেতরে ছায়া সুনিবিড় সরুপথ। একহারা গড়নের সুপারি গাছের সারি পথের দুই পাশে। এ ছাড়া আছে চিত্র-বিচিত্র পাতাবাহার আর বাহারি পুষ্পবীথির সুসম বিন্যাস। পাতা-পুষ্পের প্রদীপ্ত সৌন্দর্য অবলোকন করতে করতেই জলিল ফারুকের সঙ্গে পরিচয় হলো আমাদের। ক্রয়সূত্রে কবির সম্পত্তির কিয়দংশের মালিক মরহুম আবদুর রাজ্জাকের তৃতীয় ছেলে তিনি। জলিল ফারুক আন্তরিকভাবেই আমাদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখালেন জীবনানন্দ দাশের বসতবাড়ির পরিবর্তিত অংশটুকু। কবির সময়ের চিহ্ন বলতে দুটি সিমেন্টে নির্মিত খুঁটি ছাড়া তেমন কিছুই নেই আজ দেখার মতো। আমরা সেই খুঁটি দুটোর সামনে দাঁড়াই কিছুক্ষণ। অল্প সময়ের জন্য হলেও কেমন একটা বিহ্বলতা কাজ করে আমাদের ভেতর। জলিল ফারুক জানালেন, শুধু কবির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ এখনো ধরে রেখেছেন তাঁরা খুঁটি দুটোর অস্তিত্ব। সরকার চাইলে অধিগ্রহণ করতে পারে কবি জীবনানন্দের পুরো বাড়ি। এতে জলিল ফারুক এবং তাঁর পরিবারের আপত্তি নেই মোটেই। কিন্তু সরকার কি তা চায় আদৌ? সংশয়ের সতেজ বীজ রোপিত হয় তত্ক্ষণাত্ আমাদের ভাবনার ভরকেন্দ্রে। অতি দ্রুত সেই বীজ থেকে জন্ম নেয় সন্দেহের অচিন বৃক্ষ। অচিন সেই বৃক্ষ শাখা-প্রশাখায় বেড়ে ওঠে কী অবলীলায়! কত সহজে!

আন্দোলনের হুমকি by আসিফ নজরুল

বিভিন্ন কারণে দাতা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় আছে আমাদের অনেকের। অত্যন্ত ক্ষমতাশালী এমন একজন ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর একটি গবেষণার জন্য আলোচনায় বসেন আমার সঙ্গে। আলোচনার একপর্যায়ে অনিবার্যভাবে আসে দেশের রাজনীতির কথা। নির্বাচনে অভাবিত পরাজয় ঘটেছে বিএনপির। এই ফলাফল কি মেনে নেবে তারা? না মেনে নেওয়ার মতো শক্তি কি আছে তাদের? তিনি খুব আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানালেন, বিএনপি ফলাফল মেনে নেবে। আরও বললেন, দুই বছর অন্তত কোনো বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি দেবে না বিএনপি, হরতালও করবে না। প্রসঙ্গক্রমে আরও জানালেন, দুই বছর তারেক রহমানও ফিরবেন না বাংলাদেশে।
বিএনপির এখনকার আন্দোলনের হুমকি শুনে সেসব পুরোনো কথা মনে পড়ে। টিপাইমুখ ইস্যু ছিল, ছিল করিডর, দ্রব্যমূল্য এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টার মতো ইস্যু। হাতে আছে ভারতের কাছে ‘দেশকে বেচে দেওয়ার’ গুরুতর অভিযোগও। বেগম খালেদা জিয়া কঠোর ভাষায় আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু আমার সংশয় তবু যায় না। নির্বাচনের দুই বছরের মধ্যে আন্দোলন করা হবে না—এ ধরনের কোনো অলিখিত ‘মুচলেকা’ আছে নাকি কোথাও? না হলে টিপাইমুখ নিয়ে যখন উত্তাল ছিল সিলেট, তখনো অন্তত সিলেটে আধাবেলা হরতাল ডাকা হলো না কেন! এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার উদাহরণ কি আছে নিকট ইতিহাসে? নেই। তাহলে হয়তো দাতা বন্ধুর কথাই ঠিক। তাদের চেয়ে বেশি জানার সুযোগ নেই আমাদের অনেকের। আবছাভাবে আমরা শুধু জানি বাংলাদেশের ভাগ্যবিধাতা শুধু জনগণ নয়, দাতাদেশ ও প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী এবং বড় ব্যবসায়ী—অন্তত এই তিনটি শ্রেণী বাংলাদেশে কে কখন ক্ষমতায় আসবে তা নির্ধারণে বিরাট ভূমিকা রাখে। উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকে সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমেরও। তবে প্রথমোক্ত শ্রেণীর তুলনায় এদের ভূমিকা অনেক খোলামেলা ও প্রকাশ্য।
তুলনামূলকভাবে অপ্রকাশ্য যে তিনটি শ্রেণীর কথা বললাম, এদের ভেতরে ঐক্য আর বোঝাপড়া থাকে অধিকাংশ সময়। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে যত বেশি এই বোঝাপড়া থাকে, জনগণের ভূমিকা তত গৌণ হয়ে ওঠে। আবার জনগণ ও জনমতকে প্রকৃত অর্থে সংগঠিত করা গেলে অন্তরালের শক্তিরাও সুযোগমতো অবস্থান বদলে জনগণের ভাষায় কথা বলতে থাকে। ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আমরা দেখেছি তা। কিছুটা দেখেছি ১/১১-এর দ্বিতীয় বছরেও।
দুই বছরের কোনো সমঝোতা যদি থাকে, তাহলে বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে বিএনপিকে তাই বিশাল জনসমর্থন গড়ে তুলতে হবে দেশে। সেটি এতই বিশাল এবং সুশক্ত হতে হবে যাতে রাজনীতির অন্য নিয়ন্ত্রকেরা আন্দোলনের যৌক্তিকতায় সম্মত হন। প্রশ্ন হচ্ছে, আন্দোলনের পক্ষে এত বড় জনসমর্থন পাওয়ার মতো কোনো ঘটনা কি ঘটেছে দেশে? সেই সমর্থন গড়ে তোলার মতো সাংগঠনিক শক্তি ও প্রস্তুতি কি আছে বিএনপির?

২.
সরকারের প্রতি জনগণ বিক্ষুব্ধ হয় মূলত দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দ্রব্যমূল্য, গণতন্ত্রহীনতা ও দেশবিরোধী কোনো কাজের জন্য। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের দু-একজন উপদেষ্টা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তবে তা যথেষ্ট জোরালো ও ব্যাপকভাবে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নানাভাবে স্থবির ও শক্তিহীন করার চেষ্টা রয়েছে। দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা টেন্ডার ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছেন এমন অভিযোগও ছাপা হয়েছে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে। কিন্তু বাংলাদেশের অতীত সরকারগুলোর তুলনায় তা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগ সরকার বরং মাত্রা ছাড়ানো বাড়াবাড়ি করেছে প্রশাসন দলীয়করণে। তবে সাধারণ জনগণ প্রত্যক্ষভাবে এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। সরকারকে বিতাড়িত করতে এ কারণে রাস্তায়ও নেমে আসেন না।
আওয়ামী লীগ সরকার তুলনামূলক সাফল্য দেখিয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার ক্ষেত্রে। এ সময়ে স্বভাবজাত অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, খুন-খারাবি ও বড় অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রথম আমলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা যেভাবে নিজেরাই প্রকাশ্যে গডফাদারের ভূমিকায় নেমেছিলেন এবং যে কারণে জনগণ ও গণমাধ্যম বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছিল তেমন ঘটনা ঘটেনি এখনো দেশে। বরং গডফাদারদের অনেককে নির্বাচনে মনোনয়ন না দিয়ে এমনকি দলের নেতৃত্ব থেকে বাতিল করে শেখ হাসিনা প্রশংসিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সম্ভাবনাময় সন্ত্রাসীদের জন্য একটি সতর্কবাণী হিসেবেও তা কাজ করেছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এ থেকে কতটুকু শিক্ষা নিয়েছে সেই প্রশ্ন অবশ্য বাড়ছে দিনে দিনে।
আওয়ামী লীগের প্রতি কিছু মানুষের ইতিমধ্যে রুষ্ট হয়ে ওঠার কথা দ্রব্যমূল্যোর কারণে। কত টাকায় চাল খাওয়ানো হবে, দ্রব্যমূল্য কতটা সহনীয় থাকবে—এ ধরনের কিছু প্রতিশ্রুতি আওয়ামী লীগের নেতারা নির্বাচন চলাকালীন সময়ে দিয়েছিলেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না সরকারের খুব একটা চেষ্টা আছে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন, চাঁদাবাজি দমন, টিসিবি ধরনের প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ বিশেষজ্ঞরা দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার সুসমন্বিতভাবে দ্রব্যমূল্য কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এমন কিছু শোনা যায়নি।
এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের কিছু ব্যর্থতা আছে ঠিকই, তবে তা ব্যাপক জনগণকে বিক্ষুব্ধ করার পর্যায়ে যায়নি। আওয়ামী লীগের নেতারা দেশে গণতন্ত্র চর্চার পথেও অর্থবহ কোনো প্রতিবন্ধকতা গড়ে তোলেননি। মাঝেমধ্যে টকশো, সংবাদপত্র এবং বাগ্স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের কিছু আত্মঘাতী উদ্যোগের কথা শোনা যায়। কিন্তু সরকার শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ বাস্তবে নেয়নি এখনো। এ সময়ে আমার দেশ পত্রিকার একজন প্রতিবেদককে শারীরিকভাবে হামলা করার মতো কিছু নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে, তবে তা এখনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলের গলা টিপে ধরলে কী ভয়ংকর পরিস্থিতি হয় তা দেখার দুর্ভাগ্য আমাদের হয়েছে অতীতে। সরকার ঠিক সে ধরনের কিছু এখনো করেনি। বিরোধী দল এসব নিয়ে তাদের অভিযোগ করেছে, কিন্তু তা খুব আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে নয়, তেমন জোরালো ভাবেও নয়।
৩.
আওয়ামী লীগ সরকার সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে ‘ভারতপ্রীতির’ কারণে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর এই সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। তার সরকার ভারতকে ইতিমধ্যে কিছু বিষয় ‘ডেলিভার’ করেছে (যেমন উলফা নেতাদের সমর্পণ), কিছু বিষয়ে তুলনামূলকভাবে ভারতের জন্য বেশি লাভজনক চুক্তি করেছে (যেমন সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন), কিছু বিষয়ে ভারতকে আনুকূল্য দেওয়ার সুশক্ত অঙ্গীকার করেছে (যেমন বন্দর ব্যবহার, নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ লাভে সমর্থন)। কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশ যা পেয়েছে তা মূলত ভবিষ্যতে কিছু পাওয়ার প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস ও আশাবাদ।
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি এমনকি লিখিত চুক্তি পালনের ক্ষেত্রে ভারতের ট্র্যাক-রেকর্ড অবশ্য আশাপ্রদ নয়। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তিসহ বেশ কিছু উদাহরণ দেওয়া যায় এ ক্ষেত্রে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানও তাঁর সাম্প্রতিক লেখায় ভারতের কয়েকটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা বলেছেন। তিনি আশাবাদী মানুষ বলে তারপরও আমাদের ‘মনের বাঘ’ থেকে বেরিয়ে এসে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সম্ভাবনাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার জন্য বলেছেন। কিন্তু সব মানুষ সমভাবে আশাবাদী ধরনের নয়। বিশেষ করে ফারাক্কা ব্যারাজের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ভারত সম্পর্কে অবিশ্বাস ও আশঙ্কায় ভোগা অযৌক্তিকও বলা যাবে না।
এই অবিশ্বাস দূর করানোর ক্ষমতা রয়েছে মূলত ভারতেরই। বাণিজ্যবৈষম্য কমানো, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধ, কানেকটিভিটি সুবিধা সমভাবে বণ্টন, সমুদ্রসীমানা ন্যায়ভাবে নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে ভারত প্রকৃত বন্ধুসুলভ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ভারতবিরোধী মনোভাব বহু মানুষের মধ্যে থাকা স্বাভাবিক। এ পরিস্থিতিতে একতরফাভাবে বাংলাদেশের মাটি ও বন্দর ভারতকে উন্মুক্ত করে দিলে জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হবে তা ব্যবহার করে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা অবশ্যই সম্ভব।
তবে এই ভবিষ্যত্ খুব নিকটে নয়। ভারতকে যা যা দেওয়ার অঙ্গীকার আছে যৌথ ইশতেহারে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রায় বছর দুয়েক সময় লাগবে আওয়ামী লীগ সরকারের। আমার ধারণা, এই হিসাব যথেষ্টভাবেই বিবেচনায় রয়েছে বিএনপির। সরকারবিরোধী আন্দোলনে এখনই তাই ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা নয় দলটির। কাউন্সিল অনুষ্ঠান এবং ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা রিজভী আহমেদের মতো ব্যক্তিদের ক্ষমতাবান করার পর বিএনপি কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে অবশ্যই। কিন্তু অতীতে এই দলটির আন্দোলনে বিশাল ভূমিকা রাখত যে ছাত্রদল, তার নেতৃত্ব নির্বাচনে চরম ভুল করে ছাত্রদলের কতটা শক্তি ক্ষয় করা হয়েছে তার কিছু আলামত এখনি দেখা যাচ্ছে।

৪.
সরকারের ব্যর্থতা উন্মোচনের জন্য রাজপথের চেয়ে শ্রেয়তর ফোরাম হচ্ছে সংসদ। অতীতে কোনো বিরোধী দল সংসদের শক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। বাস্তবতাকে বিবেচনা করে বিএনপিকে সেই চেষ্টাই করতে হবে। মাঠপর্যায়ে শক্তি সংহত করার পাশাপাশি সংসদে গেলে বিএনপির অন্তত কোনো ক্ষতি নেই।
নতুন প্রজন্ম এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন। এদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হলে বিএনপি যে ভবিষ্যতে শ্রেয়তর সরকার হবে তা গবেষণালব্ধ বক্তব্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ভারতের সঙ্গে চুক্তিসহ সব বিষয়ে নিজের চিন্তা ও পরিকল্পনা সংসদ ও বাইরে তুলে ধরতে হবে। তা না হলে আন্দোলনের সাফল্যের জন্য বিএনপিকে সরকারের বিশাল কোনো ব্যর্থতার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমার ধারণা, কারও ব্যর্থতা বা অযোগ্যতার জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার চেষ্টা শ্রেয়তর।
আসিফ নজরুল: আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটাবে by গাজী মো. আহসানুল কবীর

সৃজনশীলতা মানুষের একটি অন্তর্নিহিত গুণ। মানুষের এ সুপ্ত সৃজনশীলতাকে জাগিয়ে তোলার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়, নানা বিষয় সন্নিবেশ করা হয়। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থী এমনভাবে গড়ে ওঠে যে কর্মজীবনে প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ক্ষেত্রে দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ছাপ রাখতে পারে। কিন্তু আমরা এখনো বাংলাদেশে সে ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। পৃথিবীর দেশে দেশে যেখানে দক্ষতা বিনির্মাণে একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে আমরা চলছি মুখস্থ বিদ্যানির্ভর বিশ্ব দরবারে প্রায় অচল একটি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে। এ পদ্ধতিতে মেধার কোনো মূল্যায়ন হয় না, সৃজনশীলতা বিকাশের কোনো সুযোগ নেই। এ সংকট থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন উদ্যোগের সফল সূচনা। সূচনা ইতিমধ্যে হয়ে গেছেও। শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক স্তরে এসএসসি পরীক্ষায় মূল্যায়ন পদ্ধতি সংস্কার করে নতুন সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে। সরকারি ঘোষণা অনুসারে ২০১০ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথমপত্র ও ধর্ম—এ দুটি বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২০১১ সালে আরও পাঁচটি বিষয় (রসায়ন, ভূগোল, সাধারণ বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও ব্যবসায় উদ্যোগ) এবং পরবর্তী বছর অবশিষ্ট বিষয়গুলোয় সৃজনশীল প্রশ্নপত্র অনুসারে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সব নতুনই মানুষের কাছে অপরিচিত মনে হয়। তাই এ নতুন পদ্ধতি সম্পর্কেও এক অজানা আশঙ্কা ও ভীতি শিক্ষার্থী-অভিভাবক-শিক্ষকসহ সবার মনেই কাজ করছিল। কিন্তু মনে হয়, এ ভীতি এরই মধ্যে কেটে গেছে। কারণ গত আগস্ট মাসে সারা দেশব্যাপী বাংলা ও ধর্মশিক্ষায় একই প্রশ্নপত্রে (সৃজনশীল) সব শিক্ষার্থী প্রাক-নির্বাচনী (প্রিটেস্ট) এবং পরে গত অক্টোবরে নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দেখতে পেল, এ সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি দারুণ এক শিক্ষার্থী-বান্ধব পদ্ধতি।
সৃজনশীল প্রশ্নের যে চারটি অংশ থাকে তার সবটুকুই শিক্ষার্থীরা নিজেরাই উত্তর দিতে পারে। এর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বসে বিরক্তির সঙ্গে মুখস্থ করার প্রয়োজন পড়ে না, সাহায্যের জন্য কারও কাছে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু গল্পের বইয়ের মতো পড়ে নিলেই চলে। নিজে নিজেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে শিক্ষার্থীরা। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে চিন্তাশক্তির প্রয়োগে এবং সমস্যা সমাধানে পারদর্শী অর্থাত্ সামগ্রিকভাবে সৃজনশীল করে গড়ে তোলার জন্যই নতুন এ পদ্ধতি। সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে দুটি অংশ থাকে। তিন ঘণ্টার পরীক্ষায় প্রথম অংশে ৬০ নম্বর এবং দ্বিতীয় অংশে ৪০ নম্বর। প্রথম অংশে ছয়টি কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নের উত্তর করতে হয় (নয়টির মধ্যে) এবং দ্বিতীয় অংশে ৪০ নম্বরের জন্য ৪০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর করবে। প্রথম অংশে প্রতিটি ১০ নম্বরের কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নের শুরুতে বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য প্রথমে একটি দৃশ্যকল্প (প্যারাগ্রাফ বা চিত্র বা ছক) দেওয়া থাকে। তারপর এর ওপর চারটি প্রশ্ন করা হয় সহজ থেকে ক্রমান্বয়ে কঠিনের দিকে যথাক্রমে ১ নম্বর, ২ নম্বর, ৩ নম্বর ও ৪ নম্বরের অর্থাত্ মোট ১০ নম্বরের প্রশ্ন। এ চারটি প্রশ্নের প্রথমটি স্মৃতিনির্ভর, বইতে যা পড়েছে তা স্মরণ করে উত্তর লিখবে। দ্বিতীয় অংশে শিক্ষার্থী বস্তু বা বিষয়টি সম্পর্কে কতটুকু বুঝতে পারল তা যাচাই করার জন্য একটি সহজ প্রশ্ন করা হয়। এর পর প্রশ্নের তৃতীয় অংশে জানতে চাওয়া হয় সে এ বস্তু বা বিষয়টি সম্পর্কে যা জানল ও বুঝল তা নতুন পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজে লাগবে অর্থাত্ তার অরিচিত কোনো ক্ষেত্রে তার লব্ধ জ্ঞানটি কীভাবে প্রয়োগ করবে এবং সর্বশেষ চতুর্থ অংশে বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষার্থীর কিছু বিশ্লেষণধর্মী মতামত ও মূল্যায়ন বা তার কাছ থেকে সমস্যার একটি সমাধান চাওয়া হয়। অর্থাত্ এ পদ্ধতিতে চারটি ছোট প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে তিলে তিলে একজন সৃজনশীল মানুষ তৈরি করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়।
অনেকে মনে করতেন, এ ধরনের বিশেষণমূলক মতামত বা সমস্যার সমাধান কি শিক্ষার্থীরা দিতে পারবে? তাদের জন্য এটি কঠিন হয়ে যাবে না তো? কিন্তু না, দেখা গেছে, পরীক্ষার্থীরা নিজের মতো করে মতামত দিচ্ছে বা সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। আর ‘আমিও সমাধান দিতে পারি’ এ অনুভূতি শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে উদ্বেলিত করে। শিক্ষা সংস্কারের বিভিন্ন প্রোগ্রাম উপলক্ষে দেশের কিছু কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয় পরিদর্শনের সুযোগ আমার হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে শিক্ষার্থীদের সাড়া দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছি। এটি সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির সফলতা সম্পর্কে আমাদের যথেষ্ট আশাবাদী ও আস্থাশীল করে তুলেছে।
এ ব্যাপারে বলে রাখা ভালো যে বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির তুলনায় সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতিতে মূল্যায়ন অনেক বেশি নির্দোষ, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য। যেমন, বর্তমান পদ্ধতিতে কোনো বিষয়ের একটি প্রশ্নপত্রে একই অধ্যায় থেকে একাধিক প্রশ্ন করা যায়, আবার কোনো কোনো অধ্যায় থেকে হয়তো একটিও প্রশ্ন না করেও থাকা যায়। কিন্তু প্রস্তাবিত সৃজনশীল পদ্ধতিতে একজন প্রশ্নকর্তা এ ধরনের অসামঞ্জস্য আচরণ দেখাতে পারবেন না। তাঁকে একটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে প্রতিটি অধ্যায় থেকে এবং শ্রেণীর জন্য নির্ধারিত প্রতিটি শিখন উদ্দেশ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রশ্ন করতে হয়। এ জন্য প্রশ্নকর্তা শিক্ষককে একটি নির্দেশক ছক অনুসরণ করতে হয়। এ ছাড়াও এ পদ্ধতিতে প্রশ্নকর্তাকে প্রতিটি প্রশ্নের একটি নমুনা উত্তরও (model answer) লিখে প্রশ্নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়। আবার কোন প্রশ্নে কীভাবে নম্বর দেবেন তার নির্দেশিকাও (marking scheme) করে দিতে হয়। প্রশ্নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া এ নমুনা উত্তর এবং নম্বর প্রদান নির্দেশিকা পরে যতাযথ বিষেজ্ঞগণ যাচাইবাছাই করে ঠিক করে দেন। আবার পরীক্ষা গ্রহণের পর পরীক্ষকেরা এ নমুনা উত্তর ও নম্বর প্রদান নির্দেশিকা ব্যবহার করে প্রধান পরীক্ষকের তত্ত্বাবধানে কিছু উত্তরপত্রের নমুনা মূল্যায়ন করবেন। প্রত্যেক পরীক্ষক তাঁর বিয়য়ের ১০ থেকে ২০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের এ মহড়ায় অংশ নিয়ে নিজের ভুলভ্রান্তি শুধরে নেবেন। এ মূল্যায়নকে স্ট্যান্ডার্ড বা মান ধরেই ওই পরীক্ষক পরবর্তী সময় তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত অবশিষ্ট উত্তরপত্রগুলো মূল্যায়ন করবেন। এ পদ্ধতি অনুসরণ করায় নিঃসন্দেহে মূল্যায়নপ্রক্রিয়া যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য ও যথার্থ হয়।
মুখস্থবিদ্যাকে নিরুত্সাহিত করে শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানো এবং তার সৃজনশীলতাকে উত্সাহিত করার জন্য সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। সৃজনশীল প্রশ্নগুলো হতে হয় মৌলিক। এর যে দৃশ্যকল্প ব্যবহার করা হবে তা আগের কোনো পরীক্ষার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি হতে পারবে না বা ভবিষ্যতেও আবার ব্যবহার করা যাবে না। এ দৃশ্যকল্পের বিষয়বস্তুটি অবশ্যই পাঠ্যপুস্তকের কোনো অধ্যায়ে থাকতে হবে। তবে ওই দৃশ্যকল্প পাঠ্যপুস্তক থেকে নেওয়া যেতে পারে, অন্য কোনো বই বা সংবাদপত্র থেকেও নেওয়া হতে পারে অথবা প্রশ্নকর্তা নিজেও বানিয়ে দিতে পারেন।
সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতিতে নমুনা উত্তর (model answer) সরবরাহের ও পরীক্ষাপূর্ব নম্বর প্রদান নির্দেশিকা (Marking scheme) এবং পরীক্ষা পরবর্তী নমুনা নম্বর প্রদানের (Sample making) ব্যবস্থা থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট স্বচ্ছ (Transparent) ও নির্ভরযোগ্য হতে বাধ্য। বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতির মতো পরীক্ষকের ইচ্ছামতো নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না এ ক্ষেত্রে। অর্থাত্ আগের পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা থেকে যে অনিয়ম ঘটার আশঙ্কা থাকে তা এখানে অনেকটাই কমে যাবে।
সৃজনশীল প্রশ্নের জ্ঞাননির্ভর ও অনুধাবনমূলক অংশ (ওপরের উদাহরণের প্রথম দুটি প্রশ্ন) শিক্ষার্থীরা সহজে উত্তর করতে পারবে বলে অকৃতকার্যের হারও কমে যাবে। একইসঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পক্ষে উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্ন (৩ নম্বর ও ৪ নম্বর) উত্তর করা সহজ হবে বলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার পার্থক্যও নির্ধারণ করা যায় এ পদ্ধতিতে। অথচ বর্তমান পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থী মেধাবী না হয়েও কেবল মুখস্থবিদ্যার কারণেই বেশি নম্বর পেয়ে যেতে পারে। সুতরাং বর্তমান পদ্ধতিতে নম্বরের পার্থক্য যোগ্যতার পার্থক্য বোঝায় না, দক্ষতার পার্থক্য দেখাতে পারে না।
সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্ন মৌলিক হওয়ায় এবং একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা থাকায় নোটবই বা গাইডবইয়ের আর প্রয়োজন হবে না। এতে অসাধু পন্থা অবলম্বনের প্রবণতাও কমে যাবে। সুতরাং আসুন, আমরা সবাই এ পদ্ধতি মনেপ্রাণে সমর্থন করি এবং এর বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই।
ড. গাজী মো. আহসানুল কবীর: সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবং অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক, নায়েম। বর্তমানে এসইএসডিপি প্রকল্পে কারিকুলাম কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত।

হাওয়ার্ড জিন ও তাঁর শেষ প্রতিবাদ by মার্ক ফিনে

লেখক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মী হাওয়ার্ড জিন গত হয়েছেন। ‘বিকল্প ইতিহাস’ নামে পরিচিত তাঁর জনপ্রিয় বই এ পিপলস হিস্টরি অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস বিক্রির তালিকার শীর্ষে উঠেছিল। গত ২৭ জানুয়ারি ৮৭ বছর বয়সে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমেরিকার ইতিহাসের সেই যুগটি শেষের কাছাকাছি পৌঁছালো, যে যুগে তারকা গায়কের চেয়ে কোনো কোনো বুদ্ধিজীবী মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতেন বেশি। দাপুটে ক্ষমতার বিরুদ্ধে তাঁদের নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান একটা সময় কোটি কোটি মানুষকে আলোড়িত করত, দুনিয়াকে অন্যভাবে দেখতে ও সক্রিয় হতে প্রেরণা জোগাত।
ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম যাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন, বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ হাওয়ার্ড জিন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তাঁর সম্পর্কে আরেক মার্কিন পণ্ডিত ও সোচ্চার লেখক নোয়াম চমস্কি বলেছেন, ‘তাঁর লেখালেখি গত শতকের ষাট দশকের তরুণ প্রজন্মের চিন্তাচেতনা পাল্টে দিয়েছিল। যখনই যুদ্ধ বা কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হতো, তখন যে কেউ নিশ্চিত থাকতে পারত, হাওয়ার্ড জিনকে সবার সামনে দেখা যাবে। তিনি ছিলেন একটি দৃষ্টান্ত ও বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক।
হাওয়ার্ড জিনের জন্য প্রতিবাদী তত্পরতা ছিল তাঁর বিকল্প ইতিহাসচর্চারই স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত তাঁর এ পিপলস হিস্টরি অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস বইয়ের নায়ক আমেরিকার ‘প্রতিষ্ঠাতা পিতারা’ ছিলেন না। তাঁর নায়কেরা ছিলেন কৃষক বিদ্রোহের নেতা, কিংবা ত্রিশের দশকের শ্রমিক ইউনিয়নের সংগঠকেরা।
তাঁর আত্মজীবনী চলন্ত ট্রেনে আপনি নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না (১৯৯৪) গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ‘গোড়া থেকেই আমার শিক্ষকতা উত্সারিত হতো আমার নিজেরই জীবন থেকে। আমি অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করতাম। তবে আমি কেবল “নৈর্ব্যক্তিকতায়” সন্তুষ্ট ছিলাম না। আমি চাইতাম শিক্ষার্থীরা আমার কাছ থেকে কেবল বুঝমান হয়েই ফিরে না যাক; তারা নীরবতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোক, যেখানেই অন্যায় দেখবে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার নৈতিক সাহস রাখুক। বলতে বাধা নেই, এ জন্য আমাকে অনেক বাধাবিপত্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।’ এ জন্য তাঁকে এই অভিযোগও শুনতে হয়েছে, ‘হাওয়ার্ড জিন শিক্ষার পরিবেশ বিষাক্ত করে তুলছেন।’
ড. জিনের জন্ম ১৯২২ সালের ২২ আগস্ট, নিউইয়র্ক শহরে অভিবাসী হয়ে আসা এক ইহুদি পরিবারে। তিনি নিউইয়র্ক পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন বিমান বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ব্রুকলিন বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ নিয়েছিলেন। যুদ্ধে বোমারু হিসেবে বীরত্বের জন্য তাঁকে ‘এয়ার মেডেল’ দেওয়া হয় এবং তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন।
যুদ্ধের পরে তাঁকে গায়ে খাটা মজুরের কাজ করতে হয়েছে। ২৭ বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। দিনের বেলায় পড়াশোনা আর রাতে কুলির কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাতে হতো তাঁকে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ড. জিন অনেক নাগরিক অধিকার আন্দোলনে কাজ করেছেন। তাঁর সময়ে সবচেয়ে প্রতিবাদী ছাত্রসংগঠন স্টুডেন্ট নন-ভায়োলেন্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটির (অহিংস ছাত্রদের সমন্বয় কমিটি) নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার ভূমিকার জন্য তিনি একই সঙ্গে খ্যাতি ও বিড়ম্বনার শিকার হন। তাঁর খ্যাতি যখন তুঙ্গে, তিনি ও আরেক যুদ্ধবিরোধী সংগঠক রেভারেন্ড ড্যানিয়েল বেরিগান ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে গিয়ে উত্তর ভিয়েতনামের গেরিলাদের কাছ থেকে তিন মার্কিন বন্দীকে গ্রহণ করেন। গেরিলা মুক্তিসংগ্রামীরা তাঁর সম্মানে ওই তিন মার্কিনিকে মুক্তি দেয়।
যুদ্ধবিরোধী তত্পরতার অংশ হিসেবে তিনি দুটি বই লেখেন—ভিয়েতনাম: দ্য লজিক অব উইথড্রয়াল (১৯৬৭) ও ডিসঅবিডিয়েন্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (১৯৬৮)। এ ছাড়া লিখেছেন দ্য পলিটিকস অব হিস্টরি (১৯৭০), পোস্টওয়ার আমেরিকা (১৯৭৩), জাস্টিস ইন এভরি ডে (১৯৭৪) ও ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স (১৯৯০)। তাঁর বই অবলম্বনে তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র, নাটক ও টেলিভিশনের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান। ১৯৮৮ সালে জিন আগাম অবসর নেন, যাতে লেখালেখি ও বক্তৃতায় আরও মন দিতে পারেন।
মৃত্যুর দিন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি তাঁর পাঠদান ৩০ মিনিট আগে শেষ করেন। কারণ, সেখান থেকে তিনি যাবেন একটি মিছিলে যোগ দিতে। তাঁর ক্লাসে উপস্থিত প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীকেও সেই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের মধ্য থেকে এক শয়ের মতো শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন। সেটাই ছিল তাঁর শেষ প্রতিবাদ।
বোস্টন গ্লোব থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
মার্ক ফিনে: মার্কিন সাংবাদিক।

বেসরকারীকরণ নিয়ে জটিলতা -সুস্পষ্ট নীতি নিয়ে সরকারকে অগ্রসর হতে হবে



রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পদক্ষেপ বাজার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মোটা দাগে এর উদ্দেশ্য হলো, ব্যক্তি উদ্যোগকে উত্সাহিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করা। এতে রাষ্ট্রের পরিচালন ব্যয়ভার কমে যায়, কমে যায় ব্যবস্থাপনার দায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দর্শন যখন থেকে বাজারমুখী হয়ে পড়েছে, তখন থেকেই বিরাষ্ট্রীয়করণ বা বেসরকারীকরণের নীতির অনুসরণ শুরু হয়েছে। তবে দুই যুগের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই কাজে সঠিক নীতিমালা ও পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। আর সে কারণেই বেসরকারীকরণের কাঙ্ক্ষিত সুফল বেশির ভাগ সময়ই পাওয়া যায়নি। বিপরীতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির চক্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই ক্রমশ বোঝায় পরিণত হয়েছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেসরকারীকরণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পরও এ বিষয়ে কার্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকেই জানা যায়, বেসরকারীকরণ নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। শিল্পমন্ত্রী একাধিকবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে না ছাড়ার কথা বলেছেন। প্রশ্ন হলো, তাহলে কি বছরের পর বছর এসব প্রতিষ্ঠান অদক্ষভাবে চলবে আর রাজকোষ থেকে অর্থ গচ্চা দেওয়া হবে? অন্যদিকে লোকসান ও অদক্ষতা ঠেকানোর জন্য বেসরকারীকরণের নামে নির্বিচারে বিভিন্ন সময়ে যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, সেটাও ছিল ভুল পদক্ষেপ। এই ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করার পেছনে বিশ্ব ব্যাংকসহ দাতাগোষ্ঠীর পরামর্শও কম দায়ী নয়। আবার বিভিন্ন সময়ে যারা এসব প্রতিষ্ঠান কিনেছে, তাদের উদ্দেশ্যও সব সময় বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা করা না থাকায় বিক্রি হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
বস্তুত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক ও দক্ষভাবে পরিচালনা করার জন্য সরাসরি ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়াই একমাত্র বিকল্প নয়। সরকারি মালিকানায় রেখে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নয়ন ঘটানো, ব্যক্তি খাত থেকে কৌশলগত অংশীদার নিয়ে আসা, পর্যায়ক্রমে শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার মতো বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, যেগুলো অনুসরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সুফল পেয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব বিকল্প নিয়ে কখনোই গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা হয়নি, এগুলো বাস্তবে প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়নি।
এই বাস্তবতায় সরকার যদি এখন নতুনভাবে বেসরকারীকরণ কার্যক্রমে গতি আনতে চায়, তাহলে প্রথমেই একটি সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এই নীতিতে বেসরকারীকরণের পদ্ধতি এবং বেসরকারীকরণের পর তদারকের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তি খাতকে উত্সাহিত করতে হবে সরকারের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করার জন্য। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অপসারণ অপরিহার্য। মনে রাখা প্রয়োজন, সবকিছু ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দিয়ে সরকার তথা রাষ্ট্র নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। আর ব্যক্তি খাত মানেই সবকিছু দক্ষ ও লাভজনকভাবে চলবে, এমনটা ভাবাও অযৌক্তিক।

পদ্মা সেতু -নির্মাণব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান মহাজোট সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ ও কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ বছরই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু ও ২০১৩ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ঘোষণা করেছেন। এই সেতু দক্ষিণবঙ্গের মানুষের যেমন দীর্ঘদিনের চাওয়া, তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিবেচনায়ও খুবই জরুরি। এই সেতু তৈরি হলে দেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে এক বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ এখনো চলছে। এ অবস্থায় এর সম্ভাব্য নির্মাণব্যয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে হিসাব তুলে ধরা হয়েছে, তাতে বিভ্রান্তির সুযোগ রয়েছে। পদ্মা সেতুর দ্রুত নির্মাণ, এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও জনমনে এ নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন উঠতে না পারে, সে জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছি।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী এই সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় ২০০৯ সালেই চারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, মাটি পরীক্ষা বা এ ধরনের মৌলিক কাজগুলো শেষ না করে এবং সেতুর নকশা একেবারে চূড়ান্ত না হওয়ার আগে সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে একেকবার একেক হিসাব না দেওয়াই ভালো। কারণ, প্রাথমিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পরই সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব। এক বছরে চারবার সম্ভাব্য ব্যয় পরিবর্তন করায় ও খরচ আগের তুলনায় ৮০ কোটি ডলার বা প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এ ছাড়া এখন যে নির্মাণব্যয়ের কথা বলা হচ্ছে ২৬০ কোটি ডলার বা ১৭ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, সেটাও বিভিন্ন বিবেচনায় অস্বাভাবিক। আন্তর্জাতিকভাবে গত এক দশকে যেসব সেতু নির্মিত হয়েছে, তার কোনোটিতেই এত অর্থ খরচ হয়নি। এগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতুর চেয়ে দীর্ঘ সেতুও রয়েছে। বাংলাদেশের মাটি ও নদীর প্রকৃতি, নদী শাসন বা পুনর্বাসন—এসব বিষয়ের বাস্তবতা হয়তো অন্য দেশের তুলনায় ভিন্ন, কিন্তু এর পরও বর্তমান বিশ্ববাজার বিবেচনায় নিয়ে পদ্মা সেতুর মতো একটি সেতু নির্মাণে কত খরচ হতে পারে, এর একটি ধারণা পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে যে সম্ভাব্য ব্যয়ের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে এটা সংগতিপূর্ণ কি না, তা অবশ্যই বিবেচনা করে দেখতে হবে।
দ্রুততার সঙ্গে এই সেতু নির্মিত হোক—এটা আমাদের সবার চাওয়া। কিন্তু এই সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশকে যে পরিমাণ ঋণ করতে হবে, তা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। খরচ কমানো ও অর্থের অপচয় রোধ করার বিষয়টি তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীনে ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণে যেখানে ব্যয় হয়েছে ১৭০ কোটি ডলার, সেখানে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মা সেতু নির্মাণে কেন ২৬০ কোটি ডলার খরচ হবে—এই প্রশ্নের একটি যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা সেতু নির্মাণে স্বচ্ছতার স্বার্থে দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার করা জরুরি।
অতীতে বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, সম্পদের অপচয়, অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো অভিযোগ যেন না উঠতে পারে, সে জন্য আগাম সতর্কতা নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কাশ্মীরে দুই ভারতীয় সেনা নিহত

কাশ্মীরের পার্বত্য এলাকায় জঙ্গিদের হামলায় ভারতীয় দুই সেনা নিহত হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপিকে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, কিস্তওয়ার জেলার পার্বত্য এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে লড়াই শুরু হয়। ওই সময় জঙ্গিদের হামলায় ওই দুজন সেনাসদস্য নিহত হন। সেনারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছেন। ওই এলাকায় দ্রুত অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে।
কুলগাম জেলার কমিউনিস্ট পার্টির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইসমাইল লোনি সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের গুলিতে আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলাটি চালানো হয়। পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, লোনির ভ্রাতুষ্পুত্রও গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন।

মোগাদিসুতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের তুমুল লড়াই

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর কেন্দ্রস্থলে গতকাল শুক্রবার ভোররাতে ইসলামপন্থী বিদ্রোহী ও আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তিরক্ষী বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়েছে। রাত দুইটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয় এবং তা সারা রাত ধরে চলতে থাকে। অল্প সময়ের জন্য সংঘর্ষ থামলেও ভোরে তা আবার পুরোদমে শুরু হয়। এই সংঘর্ষ সোমালিয়ার রাজধানী ও বন্দরের মধ্যবর্তী কৌশলগত কে-৪ জংশনের আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ে। কে-৪ বা কিলোমিটার ফোর মোগাদিসুর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। সেখানে এয়ারপোর্ট রোডটি অন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সেখানে প্রায়ই বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধে। সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট প্রেসিডেন্ট শরিফ শেখ আহমদের দুর্বল অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বর্ষপূর্তির সময় গতকাল এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। শরিফ সরকার আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় রাজধানীর মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

পেরুর মাচু পিচ্চু থেকে এক হাজার ৪০০ পর্যটক উদ্ধার

পেরুর মাচু পিচ্চু অঞ্চলে উদ্ধারকর্মীরা প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে চার দিন ধরে আটকে পড়া কয়েক হাজার পর্যটককে সরিয়ে নিচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। পেরুর পর্যটনমন্ত্রী মার্টিন পেরেজ বলেছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ইনকা সাইটের আশপাশের এলাকা থেকে এক হাজার ৪০০ লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রবল বর্ষণের পর বিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টিসহ মোট ১২টি হেলিকপ্টার আগুয়াস কেলিয়েনতেস শহর থেকে কমপক্ষে ৯৩ বার গিয়ে ওই পর্যটকদের ফিরিয়ে এনেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো ৮০০ পর্যটক মাচু পিচ্চু বা ইনকা ট্রেইল বরাবর আটকা পড়ে রয়েছে। এসব এলাকায় পৌঁছাতে চার দিন লাগে।
প্রবল বৃষ্টিপাত ও কাদায় রোববার থেকে প্রাচীন ইনকা রাজ্যের রাজধানী কিউসকো নগর ও আগুয়াস কেলিয়েনতেস নগরের মধ্যে যোগাযোগের রাস্তা ও রেলপথ অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে। পেরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাককিনলে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার তত্পরতায় সহায়তা করছে। উদ্ধার তত্পরতা শেষ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন লাগতে পারে। আগুয়াস কেলিয়েনতেস অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে অবস্থিত বলে সেখানে হেলিকপ্টার নিয়ে অবতরণ করা পাইলটদের জন্য কঠিন।
মাচু পিচ্চু হচ্ছে লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে প্রতিবছর কমপক্ষে চার লাখ পর্যটক বেড়াতে যান। পেরুর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। পেরু সরকার আগুয়াস কেলিয়েনতাস নগরের আট হাজার বাসিন্দার জন্য খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছে।

তামিল গেরিলাদের হামলার আশঙ্কায় ভারতে সতর্কতা

শ্রীলঙ্কার সাবেক গেরিলাগোষ্ঠী এলটিটিইর সদস্যরা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় ভারতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর উপকূল থেকে গোলাবারুদ এবং চার ব্যক্তিকে আটকের পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আটক হওয়া ভারতীয় ওই চার নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শ্রীলঙ্কা থেকে এলটিটিইর গেরিলাদের ভারতে পালিয়ে আসতে সাহায্য করেছেন তাঁরা।
কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার ভারতীয় চার নাগরিক খলিল রহমান, পাঝানি কুমার, সিলভাকুমার ওরফে জিভা ও রাজুকে আটক করা হয়। এ সময় তামিলনাড়ু উপকূল থেকে নাইন এমএম রাইফেলের গুলি ও স্যাটেলাইট টেলিফোন আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জিভা জানিয়েছেন, গত ২৪ ডিসেম্বর তিনি নৌকায় করে সাগরের মাঝপথ থেকে দুজন তামিল নারী ও পুরুষকে তামিলনাড়ুতে পৌঁছে দেন। পেশায় জেলে জিভা জানান, এর পর তাঁদের একটি গাড়িতে করে ভারতের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই গাড়ির চালক রাজুকেও আটক করা হয়। জিভা বলেন, তামিল ওই নারী-পুরুষের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই।
জিভা আরও জানান, গত বছর শ্রীলঙ্কায় তামিলদের পরাজয় এবং তাদের নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের মৃত্যুর পরে অনেক তামিল গেরিলাকে ভারতে আসতে তিনি সাহায্য করেন। জিভার এ স্বীকারোক্তিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা বলেন, ভারতে প্রবেশ করা তামিল গেরিলারা এখন সে দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি এলটিটিই-পন্থী বিশেষজ্ঞরা শ্রীলঙ্কায় তামিলদের পরাজয়ের জন্য তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি এলটিটিইকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে জান্তা

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, দেশের সামরিক জান্তা সরকার নির্বাচনের পর তাঁকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলে তাঁর মুক্তির আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। সু চির দলের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স অনলাইনের।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মং উ ২১ জানুয়ারি দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, নির্বাচনের পর নভেম্বরে অং সান সু চিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
সু চির আইনজীবী এবং তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিয়ান উইন জানান, নির্বাচনের পর নভেম্বরে মুক্তি দেওয়ার কথা শুনে সু চি বলেছেন, গৃহবন্দিত্বের বিরুদ্ধে তাঁর আবেদনের শুনানি করছেন সর্বোচ্চ আদালত। এই মুহূর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। সু চির সঙ্গে দেখা করে উইন আরও বলেন, ‘মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার শামিল বলে মনে করেন সু চি।’
বিগত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই গৃহবন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন সু চি। গত বছরের আগস্টে গৃহবন্দিত্বের শর্ত ভঙ্গের এক ঠুনকো অভিযোগে তাঁকে আরও দেড় বছর গৃহবন্দী করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সু চি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। কিন্তু নিম্ন আদালত এ আপিল শুনানিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সর্বোচ্চ আদালত শুনানিতে রাজি হন।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে জান্তা সরকার নতুন করে গৃহবন্দিত্বের নির্দেশ দেয়। অনেকে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে সু চির আপিল শুনানি হলেও তাতে কোনো লাভ হবে না। প্রকৃতপক্ষে জান্তা সরকার চাইলেই কেবল সু চি মুক্তি পেতে পারে।
১৯৯০ সালে মিয়ানমারের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল সু চির দল এনএলডি। কিন্তু সামরিক সরকার এনএলডির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৬২ সাল থেকে মিয়ানমার শাসন করছে সামরিক সরকার।
আসন্ন নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করেনি মিয়ানমার সরকার। তবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেছে জান্তা।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি সম্প্রতি অং সান সু চিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য সে দেশের সামরিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ বছর সাজানো একটি নির্বাচনের পর সু চিকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পরপরই তিনি এ আহ্বান জানান।
এনএলডি নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছে, সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে এ নির্বাচনের আয়োজন করেছে সামরিক সরকার।

পশ্চিম আফ্রিকায় তীব্র খাদ্যসংকট, লাখ লাখ মানুষ ঝুঁকির মুখে

সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোতে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে নাইজার ও পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের সাহায্য সংস্থা বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।
ইউরোপিয়ান কমিশন হিউমেনিটারিয়ান এইডের (ইসিএইচও) আঞ্চলিক প্রধান ব্রায়ান ও’নেইল বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে চরম খাদ্যঝুঁকির মুখে পড়েছি। এরই মধ্যে এ অঞ্চলের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত লোকজন দুর্দশায় পড়েছে।’
খাদ্যসংকট সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে নাইজারে। সেখানে ১০ লাখ টন খাদ্যশস্যের সংকট দেখা দেবে বলে জানানো হয়েছে। এতে সে দেশের ২৭ লাখ লোকের খাদ্যসংকটে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৫০ লাখ লোকের মাঝারি ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রায়ান ও’নেইল বলেন, ২০০৯-১০ কৃষি মৌসুমে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, নাইজার, শাদ ও নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
ও’নেইল বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের সাহায্যার্থে এ মুহূর্তে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় নেতৃত্বের প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আগেভাগে পদক্ষেপ নেওয়া গেলে এ সংকট দুর্ভিক্ষে রূপ নেবে না। আর সেটা করতে ব্যর্থ হলে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।
এর আগে ২০০৫ সালে নাইজারে চরম খাদ্যসংকট দেখা দেয়। তখন নাইজারসহ আফ্রিকার এ অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রচুর আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য আসে। সেসব দেশের শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে আসছে।
ইউনিসেফের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ও’নেইল বলেন, অপুষ্টিসহ নানা কারণে আফ্রিকার এ অঞ্চলে বছরে মোট ছয় লাখ শিশু মারা যায়। সারা বিশ্বের মধ্যে এ অঞ্চলেই শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তিন লাখ শিশু মারা যায় শুধু অপুষ্টিজনিত কারণে। তিনি বলেন, ‘সুনামিতে যত মানুষ মারা যায়, এ অঞ্চলেও তত মানুষ মারা যায়। কিন্তু এটা কারোরই নজরে আসে না। কেউই এদিকে ফিরে চায় না।’
ও’নেইল বলেন, এ বছর খাদ্যসাহায্য বাবদ নাইজারের ২৩ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্যের প্রয়োজন হবে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে।

রাজাপক্ষেকে সপরিবারে হত্যার পরিকল্পনা করছেন ফনসেকা: সরকারের অভিযোগ

শ্রীলঙ্কার সরকার অভিযোগ করেছে, পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জেনারেল শরত্ ফনসেকা প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও তাঁর পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন। সরকারের মিডিয়া সেন্টার ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির পরিচালক লক্ষ্মণ হুলুগালে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, জেনারেল ফনসেকা হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত ৭০ জন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে বিজয়ী প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার নীলনকশা তৈরি করেছেন।
লক্ষ্মণ দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কলম্বোর গলে সড়কে বা লেক হাউস জংশনে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, বুধবার ফনসেকার সঙ্গে হত্যার নীলনকশায় জড়িত সন্দেহে রাজধানীর হোটেল থেকে সেনাবাহিনীর পলাতক নয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন ঘটনাসহ নির্বাচনের পর জেনারেল ফনসেকা তাঁর জীবন বিপদাপন্ন দাবি করে ভারতের কাছে নিরাপত্তা চাইলে তাঁর কলম্বোর হোটেলের বাইরে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয় সরকার।
বৃহস্পতিবার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র উদয় নানায়াক্কারা বলেন, ফনসেকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বুলেটপ্রুফ গাড়িসহ চারটি গাড়ি ও ২০ জন সেনাসদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে মন্ত্রী জি এম পিয়েরিস বলেন, জেনারেল ফনসেকা জনগণের রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। কলম্বোয় বিদেশি মিশনগুলোতে ছুটে গিয়ে তাঁর জীবন হুমকিতে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এসব কাজ করে তিনি গণতান্ত্রিক আচরণের সব ধরনের সীমা লঙ্ঘন করেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে পিয়েরিস বলেন, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে ফনসেকা বিদেশে শ্রীলঙ্কার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই, কারণ মানুষ সত্য জানে।
অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাইতে পারেন ফনসেকা
শরত্ ফনসেকা গত বুধবার জানিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কা ত্যাগের কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। তবে এখন তিনি দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। চাইছেন অস্ট্রেলিয়ায় সাময়িক রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে। গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্র দ্য অস্ট্রেলিয়ান কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ফনসেকা তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান। প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত হয়।
কলম্বোর বাসভবনে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ফনসেকা বলেন, সাময়িক রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কলম্বোয় মার্কিন ও যুক্তরাজ্যের দূতাবাসের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
তবে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন স্মিথ গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে ফনসেকা এখনো কলম্বোয় অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসকে কোনো অনুরোধ করেননি। আমার পরামর্শ হচ্ছে, জেনারেল ফনসেকার এমন অনুরোধ করা ঠিক হবে না, যা আমরা গ্রহণ করতে পারব না। আমি মনে করি, জেনারেল ফনসেকাকে দুটি জিনিস দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক. তাঁকে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া উচিত। দুই. তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া উচিত।’
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো গতকাল শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হংকংভিত্তিক এশিয়ান মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভোট গণনায় অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজাপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নের সম্মুখীন।
এদিকে দ্য অস্ট্রেলিয়ানকে ফনসেকা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কম্পিউটারের মাধ্যমে ভোট গণনায় কারচুপি করেছে। আমাদের কাছে অনেক প্রমাণ আছে। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করতে যাচ্ছি আমরা, যাতে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে আবার ভোট গণনা করা হয়।’ এএফপি, এশিয়ান ট্রিবিউন, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ দিবস পালিত

৩৪তম কলকাতা বইমেলায় গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মেলার ইউবি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট লেখক ও কবিরা।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে বাংলাদেশের উপন্যাসে প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
সেলিনা হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস একের ভেতর বহুর কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত করে। মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস একটি নতুন সাহিত্য-তত্ত্বের জন্ম দেবে বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।
শুরুতে অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার সৈয়দ মাসুদ মহম্মদ খোন্দকার বাংলাদেশের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের তাত্পর্য নিয়ে বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নিয়ে সৈয়দ শামসুল হক, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, পল্লব সেনগুপ্ত ও কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বাংলাদেশের উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, তা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ দিবসে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউসের আদলে তৈরি এই বিশাল প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ২৫টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছে।

অনাগত শিশুদের বাঁচাতে গর্ভপাত বিশেষজ্ঞকে হত্যা করেছি!

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে গর্ভপাত বিশেষজ্ঞ এক চিকিত্সককে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। গত বৃহস্পতিবার আদালতে শুনানির সময় তিনি যুক্তি দেখান, ওই চিকিত্সকের হাত থেকে অনাগত শিশুদের জীবন বাঁচাতে তিনি তাঁকে খুন করেন। খবর এএফপির।
খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী স্কট রোয়েডার ২০০৯ সালের ৩১ মে গর্ভপাত বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক জর্জ টিলারকে কানসাসের রিফর্মেশন লুথেরান গির্জায় হত্যা করেন।
স্কটের ভাষ্যমতে, চিকিত্সককে হত্যা করে তিনি সামান্য পাপ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তিনি ওই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে স্কট বিচারকের উদ্দেশে বলেন, গর্ভপাত এক ধরনের হত্যাকাণ্ড। জীবন নেওয়া মানুষের কাজ নয়।
গর্ভপাত বিষয়ে অভিজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রে যে অল্পসংখ্যক চিকিত্সক রয়েছেন, টিলার তার মধ্যে অন্যতম। শুধু গর্ভপাত করে জীবিকা নির্বাহ করায় লোকজন তাঁকে ‘টিলার দ্য বেবি কিলার’ উপাধি দিয়েছে।
স্কট বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করেছে, এ নিয়ে তিনি কোনো বিতর্কে জড়াবেন না। তিনি স্বীকার করেন, তিনি গুলি করে টিলারকে হত্যা করেছিলেন।
স্কট স্বীকার করেন, ছোটবেলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি গির্জায় যেতেন। ১৯৯২ সালে টেলিভিশনে ‘৭০০ ক্লাব’ নামের একটি অনুষ্ঠান দেখার আগ পর্যন্ত ধার্মিক ছিলেন না তিনি।
স্কট বলেন, ‘আমি আমার কক্ষে একা থাকতাম। এক দিন আমি হাঁটু গেড়ে বসে যিশুখ্রিষ্টকে ত্রাণকর্তা হিসেবে গ্রহণ করি।’ এর পর থেকে তিনি মনে করেন, গর্ভপাত করা ঠিক নয়। দিন দিন তাঁর ভেতরে জোরালো হয় এ ধারণা।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার ইঙ্গিত দিলেন হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরান অব্যাহতভাবে আন্তর্জাতিক পরমাণুনীতি লঙ্ঘন করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পারমাণবিক ইস্যুতে দেশটির অবস্থান এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যে তাদের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ ছাড়া বিশ্ব শক্তিগুলোর জন্য আর কোনো বিকল্পই থাকছে না।
লন্ডনে আফগানিস্তানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের হিলারিএ কথা বলেন।
হিলারি বলেন, ‘ইরানের কট্টর অবস্থানের কারণে সহযোগীদের নিয়ে তাদের ওপর ব্যাপকতর চাপ প্রয়োগ ছাড়া আমাদের গত্যন্তর থাকছে না। আশা করছি, এতে করে ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা আগে হিলারি লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নাড কুচনার, জার্মানির গিডো ওয়েস্টারবেল ও ইতালির ফ্রাংকো ফ্রাত্তিনির সঙ্গে ইরানবিষয়ে মতবিনিময় করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী করণীয় এবং বিদ্যমান পদক্ষেপগুলোর অধিকতর বাস্তবায়ন নিয়ে তাঁরা সেখানে আলোচনা করেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাস ও আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম-সংক্রান্ত আন্ডার সেক্রেটারি স্টুয়ার্ট লেভির একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংও শোনেন। কর্মকর্তারা জানান, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচির সঙ্গে হিলারির একান্ত বৈঠককালেও ইরান প্রসঙ্গ আলোচিত হয়।
বৃহস্পতিবার লন্ডনে এ বৈঠকের এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের উদ্দেশে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছিলেন, পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে দেশটি ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। হিলারি লন্ডনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও বৈঠক করেন। লাভরভ বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান বিশ্বকে অনন্তকাল অপেক্ষায় রাখতে পারে না।

ওবামার রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে

আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণ করতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষিত পরিকল্পনাকে উচ্চাভিলাষী বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, বাণিজ্য বাধা দূর করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন করা খুবই কঠিন হতে পারে।
গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ওবামা জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণ হলে দেশের আরও ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে তিনি মনে করেন।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওবামার ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ হতে হলে প্রতিবছর অব্যাহতভাবে রপ্তানির পরিমাণ ১৫ শতাংশ বাড়াতে হবে। কিন্তু ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ সাল—এ সময়কাল ছাড়া সেটা কখনোই সম্ভব হয়নি।
রপ্তানি বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন তৃতীয়। ১৯৯০-এর দশকে তারা জার্মানির কাছে প্রথম স্থান হারায়।
তবে ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে ওবামার এই লক্ষ্য প্রশংসা পেয়েছে। ন্যাশনাল ফরেন ট্রেড কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট বিল রিঞ্চ বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে রপ্তানি দ্বিগুণ করতে প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব এবং এর মাধ্যমে ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি করবে।’
তবে রিঞ্চ বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে দোহা আলোচনা ইতিবাচক ফলাফল এবং কলম্বিয়া, পানামা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুমোদনের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।’
কয়েকটি বাণিজ্য অঞ্চলের মধ্যে মতানৈক্যের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এই দোহা আলোচনা কয়েক বছর ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। তবে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন ‘বিজনেস রাউন্ডটেবিল’ ওবামার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কংগ্রেসে আটকে থাকা এফটিএগুলো পাস করাতে হবে। আমরা মনে করি, এখনই সেই সময়। মার্কিন অর্থনীতির পরিধি বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অনেক বিশ্লেষক আবার ওবামার লক্ষ্য পূরণের আশঙ্কা নিয়ে সন্দিহান। গ্লুস্কিন শেফ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের অর্থনীতিবিদ ডেভিড রোজেনবার্গ বলেন, ‘অনেকভাবেই আপনি বাণিজ্য বাড়াতে পারেন, কিন্ত ভোক্তা দেশের চাহিদার পরিমাণ তো আর আপনি বাড়াতে পারেন না। সেটা করতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট পণ্যের কর মওকুফ অথবা ভর্তুকি দিতে হবে। তবে সেটা হবে রক্ষণবাদী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এ ক্ষেত্রে নিয়মনীতি আছে।’
চন্দ্রাভিযান বাদ দেওয়ার প্রস্তাব: আগামী সোমবার কংগ্রেসে ২০১১ সালের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে ওবামা সরকার। নতুন বাজেটে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রকল্প বাদ দেওয়ার জন্য মহাকাশ সংস্থা নাসাকে আহ্বান জানানো হবে। পরিবর্তে নাসাকে বলা হবে অন্যান্য অভিযানের দিকে নজর দিতে। প্রশাসন ও নাসা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফ্লোরিডার দুটি পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।

তালেবানদের শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান কারজাইয়ের

অর্থ এবং চাকরির বিনিময়ে শীর্ষস্থানীয় তালেবান নেতাদের সংঘাতের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই আহ্বান জানিয়েছেন। কারজাইয়ের ওই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছে তাঁর পশ্চিমা মিত্ররা। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ওই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট কারজাই। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে মিত্র দেশগুলো আফগানিস্তানকে ১৪ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে এ বছরের শেষ নাগাদ আফগানিস্তানের কয়েকটি প্রদেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগানদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়।
সংঘাত ছেড়ে রাজনীতির মূল স্রোতে এবং চূড়ান্তভাবে সরকারে যোগ দেওয়ার জন্য শান্তি আলোচনায় বসতে এর আগেও তালেবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট কারজাই। কিন্তু এবার তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে ওই আহ্বান জানালেন।
তালেবানদের শান্তি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে হামিদ কারজাই বলেন, ‘দেশের সবার সঙ্গেই আমাদের কথা বলতে হবে। বিশেষ করে যারা সংঘাতের পথ ছেড়ে দিয়েছে, আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত নেই এবং যারা দেশের সংবিধান মেনে নিয়েছে।’
এরই মধ্যে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত কাই এইদে দুবাইতে তালেবান নেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানদের শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে আলোচনা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে কথা বলার জন্য তালেবান নেতারা একটি বৈঠকের আয়োজন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তা ছাড়া প্রকাশ্যে আসার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চেয়েছেন তাঁরা।
তবে তালেবান নেতাদের সঙ্গে ওই দিন দুবাইতে কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এইদে। তিনি জানিয়েছেন, সেদিন তিনি কাবুলে আসার জন্য দুবাইতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য যাত্রাবিরতি করেছিলেন। কিন্তু অন্য কোনো দিন তালেবান নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এইদে কোনো কথা বলতে চাননি। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের খবর সত্যা নাকি মিথ্যা, তা নিয়ে আমি কখনো কথা বলি না।’
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তালেবান নেতাদের সঙ্গে এইদের বৈঠকের খবর সত্য হলে সেটা হবে জঙ্গিদের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে তালেবান বরাবর বলে আসছে, কারজাই সরকারের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। যদিও তালেবান মুখপাত্র কারি মোহাম্মদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘শান্তি আলোচনার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে শান্তি আলোচনায় বসবে কি বসবে না, এ বিষয়ে তালেবান নেতারা শিগগির সিদ্ধান্ত নেবেন।’
সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আফগানিস্তানের কয়েকটি প্রদেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগান বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এভাবে পুরো দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে তুলে দিতে প্রায় পাঁচ বছর লেগে যেতে পারে।
অর্থ ও চাকরির বিনিময়ে তালেবানদের সংঘাতের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে আফগান সরকারের পরিকল্পনাকেও সমর্থন করেছে তাদের পশ্চিমা মিত্ররা। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড তাঁর দেশের সমর্থন নিশ্চিত করে বলেন, সম্মেলনে যোগ দেওয়া অন্যরাও এই পরিকল্পনা সমর্থন করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন জানিয়েছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সাহায্যের অর্থ যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের সংস্কার পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সব সময় নজর রাখবে।

সেরেনা-ফেদেরারের অপেক্ষা

আজ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মেয়েদের এককে লড়বেন সেরেনা উইলিয়ামস। আগামীকাল পুরুষ এককে রজার ফেদেরার। সেরেনার জন্য আজকের ফাইনালটি হবে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ। আর ফেদেরারের জন্য সর্বোচ্চ চূড়াটাকে স্পর্শ করার। আজ জিতলে এটি হবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সেরেনার পঞ্চম শিরোপা। টেনিসে ‘ওপেন-যুগ’ শুরুর (১৯৬৮ সাল) পর এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মেয়েদের এককে পাঁচটি শিরোপা জেতা হয়নি কারোরই। স্টেফি গ্রাফ, মার্গারেট কোর্ট, মনিকা সেলেস, গুলাগং কাউলিদের পাশাপাশি সেরেনাও জিতেছেন চারটি করে (২০০৩, ২০০৫, ২০০৭ এবং ২০০৯ সালে)। সেরেনার জন্য তাই আজ সুযোগ টেনিসের এই সাবেক কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে যাওয়ার। অন্যদিকে ফেদেরারের জন্য ঠিক নতুন রেকর্ড গড়া হবে না, জিতলে তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন আন্দ্রে আগাসির রেকর্ড। ওপেন-যুগের পর সর্বোচ্চ চারবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতেছেন আগাসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিনবার করে জিতেছেন ফেদেরার (২০০৪, ২০০৬, ২০০৭) এবং ম্যাটস উইল্যান্ডার।

সরিষাবাড়ীতে ক্রিকেট

অমর একুশে কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে কাল যমুনা ক্রিকেট একাদশ ২৯ রানে আরামনগর বাজার ক্রিকেট একাদশকে হারিয়েছে। বিজয়ী দলের আলামিন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা ওঠেনি

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর লাল কার্ডটিই মানতে পারছিল না রিয়াল মাদ্রিদ। দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাটা মানে কীভাবে? স্প্যানিশ লিগে রোনালদোর দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে তাই আবেদন জানিয়েছিল তারা। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।
তিন সদস্যের আপিল কমিটিতে ছিলেন জোসেপ ম্যাথু ডায়াজ, পেদ্রো গার্সিয়া পেরেজ ও ফ্রান্সিসকো রবিও সানচেজ। এঁদের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রোনালদোর ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত সেটাই বলবত্ থাকবে। গত রোববার স্প্যানিশ লিগে মালাগার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কনুই মেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ উইঙ্গার রোনালদো।

আনোয়ারায় গোল্ডকাপ ফুটবল

আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়ায় হাফেজ আহমেদ ডিলার স্মৃতি ফুটবলে কালারপোল ক্রীড়া সংঘ ১-১ গোলে ড্র করেছে গোবাদিয়া ফুটবল একাদশের সঙ্গে। সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন গোবাদিয়ার শিপু।

কোম্পানীগঞ্জে ক্রিকেট

নোয়াখালীর সরকারি মুজিব কলেজ মাঠে কাল শুরু হয়েছে বিএনও লুব্রিকেন্টস টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী খেলায় বসুরহাট উচ্চবিদ্যালয় ৬ উইকেটে হারায় চরপার্বতী এসসি উচ্চবিদ্যালয়কে। সকালে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান।

আরও ভুগতে হচ্ছে দ্রাবিড়কে

গ্রায়েম স্মিথ এখনো মুখে কিছু বলেননি। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে একটা ‘ধন্যবাদ’ পাওনা পড়ে আছে শাহাদাত হোসেনের। বাংলাদেশের এই পেসার যে বড় উপকার করে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়কের। ভারতের গত বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় টেস্টে শাহাদাতের বাউন্সার গিয়ে লাগে দ্রাবিড়ের মাথায়। হেলমেট পরাই ছিল। তার পরও আঘাত পান দ্রাবিড়। ওই ম্যাচে আর খেলতেই পারেননি।
শুধু তা-ই নয়, দ্রাবিড় নেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের প্রথম টেস্টের দলেও। ভারতের জন্য র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও ‘দ্য ওয়াল’কে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, গতকাল বেঙ্গালুরুতে অস্ত্রোপচারের পর চিকিত্সকেরা দুই থেকে তিন সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন তাঁকে। ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু নাগপুর টেস্টে তো বটেই, দ্রাবিড় খুব সম্ভবত খেলতে পারবেন না ১৪ তারিখ শুরু কলকাতা টেস্টেও।
মানিপল হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর এইজ এস বালাল জানিয়েছেন, ‘দুই দিনের মধ্যেই তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারবেন। অবশ্য ক্রিকেট কিংবা যেকোনো ধরনের খেলা থেকে তাঁকে দু-তিন সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁর চিকিত্সক কিশোর নায়ক। তাঁর ফিটনেস নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে।’

হ্যারিসের সঙ্গে এবার হরিজও

দুর্দান্ত বোলিং করে অস্ট্রেলিয়াকে আগের ম্যাচটা জিতিয়েছেন রায়ান হ্যারিস। কালও ৫ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি পেসার। এদিনও হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। তবে কাল পার্থে অস্ট্রেলিয়ার ১৩৫ রানের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল আরও একজনের—নাথান হরিজ। ৩৯ বলে করেছেন অপরাজিত ৫৩ রান।
না, এটি অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস সর্বোচ্চ রান নয়। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৭ রান মাইক হাসির। তার পরও ‘ব্যাটসম্যান’ হরিজের অবদানটাকে বড় করে দেখার কারণ—সপ্তম উইকেটে হাসির সঙ্গে হ্যারিসের দুর্দান্ত জুটিটা না হলে পাকিস্তানকে ২৭৮ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারত না স্বাগতিকেরা। ১৯০ রানে অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে ফেলেছিল ৬ উইকেট। যখন মনে করা হচ্ছিল, আর বেশি দূর যেতে পারবে না তারা, তখনই হরিজ হাসির সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান উইকেটে। পাকিস্তানি ফিল্ডারদের হতাশ করে তারা করেন ৮০ রান। ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া করে ২৭৭। হরিজের অপরাজিত ৫৩ রানে ছিল ১টি চার ও ৪টি ছয়।
রান তাড়া করতে এসে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারে বাট, পঞ্চম ওভারে ইউনুসকে হারিয়ে ফেলে তাঁরা। ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তানের জন্য তখন দরকার ছিল কারও বড় রান। কিন্তু কোনো ব্যাটসম্যানই পূরণ করতে পারেনি দলের প্রয়োজন। উল্টো ৯৯ রানে পাকিস্তান হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। পরের ৫ উইকেট পড়েছে মাত্র ৪৩ রানে। অর্থাত্ ১৪২ রানেই অলআউট পাকিস্তান। ১৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার রায়ান হ্যারিস।
এই হারে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াটওয়াশের কিনারে এসে দাঁড়াল পাকিস্তান। ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে আগামীকাল শেষ ম্যাচে জিততেই হবে পাকিস্তানকে। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৭৭/৮ (মার্শ ১২, হাডিন ৩২, পন্টিং ৩০, ক্লার্ক ১০, হোয়াইট ৪৪, হাসি ৬৭, হোপস ১৬, হরিজ ৫৩*, হ্যারিস ৪, ম্যাকে ০*; আসিফ ৩/৪২, আজমল ২/৫৫, আফ্রিদি ১/৪৪, নাভেদ ১/৭০)।
পাকিস্তান: ৩৭.৫ ওভারে ১৪২ (বাট ০, কামরান আকমল ১৭, ইউনিস ৬, ইউসুফ ১০, উমর আকমল ৩৮, ফাওয়াদ ২১, আফ্রিদি ২৯, নাভেদ ০, ইফতিখার ৫, আজমল ৭, আসিফ ০*; হ্যারিস ৫/১৯, সিডল ২/৩১, ম্যাকে ১/১৬)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১৩৫ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রায়ান হ্যারিস (অস্ট্রেলিয়া)।

টেলর অপেক্ষমাণ অধিনায়ক

নিয়মিত অধিনায়ক না থাকলে সহ-অধিনায়কেরই দায়িত্ব পালন করার রেওয়াজ। কিন্তু এদিক দিয়ে ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত রাখল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ দুটোর জন্য ‘অপেক্ষমাণ’ অধিনায়ক হিসেবে নাম ঘোষণা করা হলো রস টেলরের। টেলর যদিও দলের সহ-অধিনায়ক নন। তার পরও নিয়মিত অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি কোনো ম্যাচে খেলতে না পারলে দলের দায়িত্ব নেবেন টেলরই।
গত অক্টোবর পর্যন্ত দলের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলে কোনো সহ-অধিনায়ক রাখা হয়নি। এর বদলে টেলরকে দিয়ে শুরু হলো অপেক্ষমাণ অধিনায়কের নাম ঘোষণা। এর কারণ হিসেবে এনজেডসির ক্রিকেট মহাব্যবস্থাপক নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেসার জিওফ অ্যালট জানিয়েছেন, ম্যাককালাম আর টেলর দুজনের মধ্যেই ভবিষ্যত্ নেতৃত্বের ছায়া দেখে বোর্ড। ম্যাককালাম সুযোগ পেয়েছেন। এবার রস টেলরকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
‘ব্ল্যাক ক্যাপসরা ইচ্ছে করেই সহ-অধিনায়কের নাম ঘোষণা করছে না। কারণ আমরা চাই দলের মধ্যে আরও বেশি নেতৃত্ব গড়ে উঠুক’—বলেছেন অ্যালট। কিন্তু এতে তো উল্টো ফলও হতে পারে। ম্যাককালাম ভাবতে পারেন, তাঁর পদাবনমন হয়েছে। এনজেডসির প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভন উড়িয়ে দিয়েছেন এমন ধারণা, ‘বিষয়টি এমন নয় যে রস দুই নম্বর আর ব্রেন্ডনের নম্বর তিন। ভবিষ্যতের সিরিজগুলোতে ব্রেন্ডনকেও অপেক্ষমাণ অধিনায়কের ভূমিকা দেওয়া হবে।’
৩ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর। ৫, ৮, ১১ ফেব্রুয়ারি তিনটি ওয়ানডে। ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে সফরের একমাত্র টেস্ট।

এত বল

অনুমান করুন তো, একটা গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে কতগুলো টেনিস বল লাগতে পারে? ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে লেগেছিল ৪৫ হাজার বল!

এবার জ্বর-সমস্যা মাশরাফির

কাল নিউজিল্যান্ড যাওয়া হয়নি মাশরাফি বিন মুর্তজার। চোট কাটিয়ে উঠেছেন, তবে তাঁকে এবার পেয়ে বসেছে জ্বর। টেলিফোনে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর পরিবার-সূত্র থেকে কাল রাতে জানা গেছে, তীব্র জ্বরের সঙ্গে কাশিও আছে বেশ। তবে এটা ভাইরাস না মৌসুমি জ্বর, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি ডাক্তার।
বিসিবি এবং মাশরাফির পরিবার-সূত্র জানিয়েছে, আজ ডাক্তারি পরীক্ষা হবে এবং তার পরই জানা যাবে মাশরাফির জ্বরটা আসলে কোন ধরনের। পুরোপুরি সুস্থ হলেই কেবল নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
কাল মাশরাফির সঙ্গে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল, শাহাদাত হোসেন, মাহমুদউল্লাহ ও আফতাব আহমেদের। বিসিবি জানিয়েছে, বাকি তিনজন চলে গেছেন। তবে দলের সঙ্গে যোগ দিতে মাশরাফি ঠিক কবে যাত্রা করতে পারবেন, সেটা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি কেউই।
নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ ১টি টি-টোয়েন্টি, ৩টি ওয়ানডে এবং ১টি টেস্ট খেলবে। ৩ ফেব্রুয়ারি হ্যামিল্টনে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে সফর। ওয়ানডে সিরিজ শুরু ৫ ফেব্রুয়ারি আর একমাত্র টেস্টটি হ্যামিল্টনে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে।

খুলনার বড় জয়

এই প্রথম ড্র দেখল এবারের জাতীয় লিগ। চট্টগ্রামে ঢাকা ও রাজশাহীর ম্যাচটি গতকাল ড্র হয়েছে। আর ফতুল্লা স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে ১৭৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে খুলনা। লিগে তিন ম্যাচে বরিশালের এটি তৃতীয় পরাজয়, খুলনা জিতল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ।
লিগে প্রথম জয়ের জন্য কাল শেষ দিনে বরিশালকে করতে হতো ৩৩০ রান। জয়ের জন্য মূল লক্ষ্যটা ছিল ৩৬৩ রানের। স্কোর বোর্ডে বিনা উইকেটে ৩৩ রান নিয়ে কাল চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিল তারা। বরিশালের যা ব্যাটিং তাতে এই লক্ষ্যটা তাদের জন্য ছিল অনতিক্রম্য। লাঞ্চের মধ্যে বরিশালের পরাজয়টা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ৭৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলায়। লাঞ্চের পর ফজলে রাব্বি (১৯), সাজিদুল ইসলাম (২৩), সোহাগ গাজী (৩৪) ও মনির হোসেনের (২১) ছোট ছোট অবদানে খুলনার জয়ের অপেক্ষাটা একটু লম্বাই হয়েছে কেবল। শেষ পর্যন্ত চা-বিরতির আগেই বরিশাল অলআউট হয়ে যায় ১৮৩ রানে।
ওদিকে ঢাকা-রাজশাহী ম্যাচটি ড্র দেখছিল কাল শেষ দিনের শুরু থেকেই। ঢাকা ৯ উইকেটে ৪৪০ রান তুলে ম্যাচে যখন নিজেদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়, ততক্ষণে দিনের খেলা প্রায় শেষ। চা-বিরতির খানিক আগে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা, রাজশাহীর সামনে লক্ষ্য দেয় ২৬১ রানের। ৩৪ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১০৫ রান তোলে রাজশাহী। ড্র ম্যাচ থেকে রাজশাহীর প্রাপ্তি হয়ে থাকে জহুরুলের হাফ সেঞ্চুরি (৬৬)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা-রাজশাহী  ঢাকা: ১৯৫ ও ১৪৪ ওভারে ৪৪০/৯ ডিক্লে. (শুভাগত ৭৪, শরীফুল্লাহ ৫৬, নাদিফ ৪১, মোশাররফ ১৬*; দেলোয়ার ৪/১০৬, ফরহাদ ২/৭৮, সাকলাইন ২/১৫৫)। রাজশাহী: ৩৭৫ ও ৩৪ ওভারে ১০৫/৩ (জহুরুল ৬৬, মাসুদ ১৪, ফরহাদ হোসেন ১৩; নাদিফ ২/৩১, শরীফ ১/২৬)।
ফল: ম্যাচ ড্র।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ফরহাদ হোসেন।
বরিশাল-খুলনা  খুলনা: ৩৩২ ও ২৩২/৮ ডিক্লে.। বরিশাল: ২০২ ও ৬৫ ওভারে ১৮৩ (সোহাগ ৩৪, হিমেল ২৭, সাজিদুল ২৩, মনির ২১, রাব্বি ১৯, নাফীস ১৮, আবুল বাশার ১৩, আরাফাত সালাউদ্দিন ১২; মুরাদ ৬/৬৪, রাসেল ২/৩৪, নাজমুস ১/২৬, ডলার ১/৩৮)।

হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

গেমস শুরুর আগে অনেক কথা শোনা গিয়েছিল। চমক থাকবে এবার অনেক ডিসিপ্লিনেই। সোনা আসবে গোটা বিশেক। সাফল্যের তালিকায় থাকতে পারে নাকি মেয়েদের ফুটবলও। যেসব দলের বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশা ছিল তাদের অন্যতম নেপালের কাছেই হোঁচট খেল বাংলাদেশ মহিলা দল। কাল কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে নেপালের কাছে ০-১ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ওদিকে ভারতের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। মইরাংথিমের হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কাকে ৮-১ গোলে হারিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ভারত।
ম্যাচটা গুছিয়ে উঠতে উঠতে গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। ৩৫ মিনিটে গোল করেন যমুনা গুরুং। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের অনেক চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ ৭৩ ও ৮৪ মিনিটে। ভালো দুটো সুযোগ নষ্ট করেন রওশন আরা আক্তার।
হারের জন্য কোচ সাহীদুর রহমান সান্টু আঙুল তুলেছেন প্রস্তুতি ম্যাচের অপ্রতুলতার দিকেই, ‘আমরা গেমস শুরুর আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারিনি। ভারতে যেতে চেয়েছিলাম শেষ দিকে, সেখানেও যাওয়া হলো না শেষ পর্যন্ত। এই ম্যাচে এটাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।’ তবে প্রথম ম্যাচে হেরে লড়াই ছাড়ছেন না সান্টু। ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চান, ‘আমরা খেলায় ফিরব আগামী ম্যাচ থেকেই। এখনই আশা ছাড়ছি না। এখনো সুযোগ আছে আমাদের।’
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে দাঁড়াতেই দেয়নি ভারত। প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক দেখেছে এসএ গেমসের দর্শকেরা।
ম্যাচের ৯ মিনিটে প্রথম গোল করেন মইরাংথিম, ৫৬ ও ৫৯ মিনিটে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। নাওবি চানু করেছেন ২টি গোল। সাসমিতা, জুমনান ও পিঙ্কি বমপাল ১টি করে। শ্রীলঙ্কার সান্ত্বনার গোলটি পুষ্প একনায়েকের।

টি-টোয়েন্টি নিয়েই মেতেছে রাজশাহী by দুলাল আবদুল্লাহ

হোক অনূর্ধ্ব-২১ দলের খেলা। তার পরও তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট! আর এটি আয়োজনের স্বপ্ন রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের। অপ্রতুল আবাসনসুবিধার অজুহাতে রাজশাহী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হতে পারেনি। তাই শেষ মুহূর্তে এসএ গেমসের তিনটি ম্যাচ আয়োজনের জন্য অনুমতি পেয়েই নিজেদের গাঁটের টাকা খরচ করে প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দেয় স্থানীয় সাংগঠনিক কমিটি। উদ্দেশ্য একটাই, ভবিষ্যতে রাজশাহী যাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর স্বীকৃতি পায়।
এর আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দলগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য মহড়া চালাচ্ছেন স্থানীয় আয়োজকেরা। শহীদ কামারুজ্জামান রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামেরও প্রয়োজনীয় সংস্কার করে গ্যালারিতে রং লাগানো হয়েছে। শেষ মুহূর্তে রংতুলির আঁচড়ে বর্ণিল করা হচ্ছে স্টেডিয়ামের বহিরাঙ্গন ও নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে। মহানগরকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হচ্ছে। দর্শককে স্টেডিয়ামমুখী করার জন্য প্রচারণা চলছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য প্রত্যেক দিন একবার করে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সভা করছেন আয়োজকেরা। সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান ও সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন গত বৃহস্পতিবার স্টেডিয়াম দেখতে এসে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম এই গেমসের ক্রিকেটের সব ম্যাচ এই ভেন্যুতে হবে। কিন্তু পাওয়া গেল মাত্র তিনটি ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ। তবে আমরা হতাশ নই। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আন্তরিকতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেব। আমরা হতাশ না হয়ে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে যাব। তাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে পাওয়া মাত্র ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি নিজেরা আরও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছি এসএ গেমসের তিনটি ক্রিকেট ম্যাচের জন্য।’
সাংগঠনিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আমমেদ বলেন, ‘রাজশাহীতে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তাই ১৮ জানুয়ারি ঢাকা থেকে অনুমতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিজেরাই অর্থ ব্যয় করে প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছি। আমাদের সবার আশা, এই আয়োজন হবে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যু স্বীকৃতি আদায়ের মহড়া।’ গতকাল এসএ গেমসের উদ্বোধন হয়ে গেলেও আগামীকাল থেকে রাজশাহীতে নেপাল ও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দলে ক্রিকেট ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে। বাংলাদেশসহ নেপাল ও শ্রীলঙ্কা দল রাজশাহীতে পৌঁছে যাবে আজই। বিসিবির ভেন্যু ম্যানেজার সাইফুল্লাহ খান জেম বলেন, মাঠ প্রস্তুত। শনিবার দলগুলো এসেই প্র্যাকটিস করবে এখানে। রাজশাহীর তিনটি টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ম্যাচ এটিএন বাংলা টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। আর স্টেডিয়ামে খেলা দেখার জন্য দর্শকের কোনো টিকিট লাগবে না। রাজশাহীতে সর্বশেষ ‘আন্তর্জাতিক গন্ধ’ মাখা ম্যাচ আয়োজিত হয় ২০০৮ সালের মে মাসে। তাতে স্বাগতিক বাংলাদেশ একাডেমি দলের বিপক্ষে খেলে পাকিস্তান একাডেমি দল।

এখানেও দুর্ঘটনা!



দুপুরে নেপাল দলের হোটেলে লিফট ছিঁড়ে ঘটে গেছে দুর্ঘটনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলার সময়ও দেখা গেল স্ট্রেচার নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের দৌড়াদৌড়ি। এবারও ঘটনা একই—ভূপাতিত। তবে খেলোয়াড়েরা নন, এবার আহত হয়েছেন দায়িত্বরত দুই ফটোসাংবাদিক। আবাহনী গ্যালারির সামনে রাখা অ্যাথলেটিক জাজদের বসার স্ট্যান্ডে উঠে অনেকেই অনুষ্ঠানের ছবি তুলছিলেন। কিন্তু আচমকা ধপাস! হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে সেটি। শেষ পর্যন্ত দুজনের ঠিকানা হয়েছে হাসপাতালে। মালদ্বীপের মহিলা সাংবাদিক আয়শাথ উলসওয়াথ অ্যাডামের ক্যামেরা তো ভেঙেছেই, আশঙ্কা করা হচ্ছে তাঁর ডান হাতও ভেঙেছে।

টিকিট যেন সোনার হরিণ!

গত পরশু চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। ছোটখাটো ব্যবসা করেন। খেলার প্রতি গভীর টান। এসএ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি মাঠে বসে দেখবেন বলে সোজা চলে এসেছেন ঢাকায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মূল গেটের সামনে কাল দুপুরে তাঁকে দেখা গেল বিমর্ষ। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই বললেন, ‘ভাই ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাড়াটা পুরো পানিতে গেল। এখানে এসে কোনো টিকিটই পেলাম না।’ আশপাশেই তখনো গ্যালারির ৫০ টাকা দামের টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছিল ৫০০ টাকায়। কিন্তু আগুন দামে তা কেনে কার সাধ্য? উত্তর বাড্ডার জাহাঙ্গীর আলম অবশ্য তাতেই রাজি, ‘৫০০ টাকা দিয়ে কিনলাম তাতে কি? অনুষ্ঠান তো স্টেডিয়ামে বসে দেখতে পারব।’ এদিক দিয়ে অবশ্য ভাগ্যবানই বলা যায় গুলশান কালাচাঁদপুরের রিয়াজকে। ৫০ টাকাতেই টিকিট পেয়ে গেছেন। তাঁর মতো এমন সৌভাগ্য কম লোকেরই হয়েছে।

কোটান আর মাঠের দোষ দেননি

গত মাসে সাফ ফুটবলে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে এসে শিরোপা জিতে ফিরেছিল ভারত। এবার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রতিযোগিতায় নিয়ে এসেছে ১৯ বছর বয়সী তরুণদের। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের কাছে ০-১ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ভারতকে।
নিজের দলের ব্যর্থতা আড়াল করেননি, তবে মাঠ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন ভারতের ইংলিশ কোচ কোয়াম টুল। কোটানের মতো অত জোরালো অবশ্য নয়। ‘দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল মাঠ এ রকম খারাপ বলেই দলগুলোর র্যাঙ্কিংয়ের এই অবস্থা—’ বলেছেন কোয়াম। এর মিনিটখানেক আগে আফগান কোচ ইলিয়াস আহমেদ বলে গেলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় এ রকম মাঠ অনেক রয়েছে।’
তবে দুই কোচের আরও একটি জায়গায় মিল। দুজনই নিজেদের খেলোয়াড়দের কৃতিত্বকে দেখলেন বড় করে। প্রথমার্ধে আফগানরা ভারতীয়দের তুলনায় আক্রমণে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ৪৩ মিনিটে বেলাল আরজু দুজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে ভারতের জালে বল পাঠান। তবে এর দুই মিনিট আগে বেলালের শটটি ক্রসবারের ওপরে না গেলে তখনই গোল উদযাপন করতে পারতেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে ভারত। গোলের সুযোগও তৈরি করেছে কয়েকটি। কিন্তু সফলতা পায়নি। শেষদিকে একবার জালে বল জড়িয়ে উদযাপন করতে গিয়ে তারা দেখে, উঠে রয়েছে সহকারী রেফারির পতাকা!
কোয়াম বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা বয়সে ছোট। তাদের বড় ম্যাচের এক্সপোজার দিতেই এখানে আসা।’
শ্রীলঙ্কা ১: ০ পাকিস্তান
‘আমি কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না’—দুই দুটি পেনাল্টি মিস করার পর জর্জ কোটান আর কিইবা বলতে পারতেন!। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ০-১ গোলের পরাজয়টা তাঁকে খুব বিঁধছিল। আগের দিন মাঠের সমালোচনায় মুখর কোটান ম্যাচ শেষে নিজেদের ভাগ্যকেই বারবার দুষলেন।
৮৩ ও ৮৭ মিনিটে যথাক্রমে আব্বাস আলী ও আবদুল আজিজ পেনাল্টি দুটি মিস করেন। প্রথমটি শ্রীলঙ্কার গোলরক্ষক ভিরাজ আটকে দিলেও দ্বিতীয়টি চলে যায় সাইডবারের বাইরে। অথচ তখন পাকিস্তান ০-১ গোলে পিছিয়ে।
ম্যাচের সাত মিনিটে পেরেরার পাসে জোরালো শটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন এম এস কাইজ। এরপর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরা ম্যাচটি দেখে আনন্দ পেয়েছে উপস্থিত হাজার দুয়েক দর্শক। দু দলই নষ্ট করেছে আরও কয়েকটি সুযোগ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তান এগিয়েছিল প্রতিপক্ষের চেয়ে। প্রথম ম্যাচ জিতেই শ্রীলঙ্কার কোচ আমানউল্লাহ সোনা দেখছেন, ‘ছেলেরা আমাকে সোনা উপহার দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’

একটি ভুল এবং জন্মের আগেই নারীর মৃত্যু প্রসঙ্গ by ফরিদা আখতার

কলকাতা থেকে প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রথম পাতায় আট কলামজুড়ে শিরোনাম, ‘হোয়ার এ পাক পিকচার ক্যান প্রভোক শেইম...’ (যেখানে একটি ছবি লজ্জাকে উস্কে দেয়) আমার দৃষ্টি কেড়েছে। শিরোনামটি উপেক্ষা করার জো নেই। খবরের সঙ্গে একটি সরকারি বিজ্ঞাপনের ছবিও রয়েছে। সেই বিজ্ঞাপনের আংশিক ছবিতে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান তানভীর মাহমুদ আহমেদ ও ওস্তাদ আমজাদ আলী খানের ছবি দেখা যাচ্ছে। ঘটনা কী, জানার জন্য দ্রুত পড়ে ফেললাম।
২৪ জানুয়ারি ছিল জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। এ উপলক্ষে ভারতে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পত্র-পত্রিকায় পুরো পাতাজুড়ে একটি বিজ্ঞাপন ছেপেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রী, সংগীতজ্ঞ, ক্রীড়াবিদের ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আপনি কোথায় থাকতেন, যদি আপনার মাকে জন্মাতে না দেওয়া হতো?’ এ স্লোগানের ওপরের অংশে ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী এবং নারী ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী কৃষ্ণা তিরাতের ছবি। নিচে ছিল, ক্রিকেট সুপারস্টার বিরেন্দর শেবাগ ও কপিল দেব, সরোদসম্রাট ওস্তাদ আমজাদ আলী খান এবং পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান তানভীর মাহমুদ আহমেদের ছবি। তানভীর মাহমুদ আহমেদ ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রধান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। নাশতার টেবিলে যাঁরা পত্রিকা পড়েন, তাঁদের জন্য একটা বোমা ফাটার মতো ঘটনাই ঘটে গেছে সাত-সকালে। হইচই পড়ে গেল চারদিকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ঘটনার তদন্ত ও মন্ত্রীকে ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা বলা হলো। কন্যাশিশুকে বাঁচানোর জন্য যে বক্তব্য, তা ছাপিয়ে উঠে এল রাজনৈতিক বক্তব্য।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ইন্টারনেট থেকে গুগল ইমেজের ছবি ব্যবহার করতে গিয়ে। ভারত সরকারের ডিরেক্টরেট অব অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড ভিজুয়াল পাবলিসিটি (ডিএভিপি) ছবি সহকারে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য গুগল থেকে ছবি সংগ্রহ করতে গিয়েই এই গোলমাল বাধিয়েছে। তারা অবশ্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি করতে দিয়েছিল। তারা চেয়েছিল কন্যাশিশু দিবসে ভ্রূণ হত্যার (ফিমেল ফেটিসাইড) যে প্রবণতা ভারতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, এই দিনে বিভিন্ন পেশার মানুষের ছবি দিয়ে এই বক্তব্য তুলে ধরা যে এই কন্যাশিশুরাই তো এত গুরুত্বপূর্ণ মানুষের মা, ভবিষ্যতেও তারা এমন সন্তানই জন্ম দেবে। বিশেষ করে ক্রিকেট খেলোয়াড়, সংগীতশিল্পী, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তার ছবি বিজ্ঞাপনে থাকলে খুব ভালো হবে বলেই মনে করেছিল এই অধিদপ্তর। কিন্তু গুগল থেকে ছবি ডাউনলোড করার পর তারা লক্ষ্য করে দেখেনি যে বিমানবাহিনীর পোশাক পরা ব্যক্তি ভারতের নন, পাকিস্তানের। সর্বনাশ! ফলে সরকারি বিজ্ঞাপনে বিদেশি নাগরিকের (শুধু বিদেশি নয়, ‘শত্রু দেশের’ সামরিক বাহিনীর) ছবি প্রকাশিত হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এ খবরের উপশিরোনাম ছিল অ্যাপোলজি আফটার অ্যাড শোয়িং ‘এনিমি’ (বিজ্ঞাপনে ‘শত্রু’কে দেখানোর জন্যক্ষমাপ্রার্থনা)। কাজেই ঘটনাটি খুব সহজে ফেলে দেওয়ার নয়। যদিও মন্ত্রী কৃষ্ণা তিরাত তাঁর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু তাঁর মতে যে বক্তব্য তিনি এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারীভ্রূণ হত্যার বিরুদ্ধে দিতে চেয়েছেন, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাত্ জন্মের আগে কন্যাশিশু হত্যা বা ভ্রূণ হত্যা রোধ করার জন্য সব ধরনের পেশার মানুষের জন্ম দেয় যে নারী, তাকে জন্মাতে দেওয়া হচ্ছে না, তাই এই বক্তব্য। যাক গে। গুগল ইমেজ নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জন্য এ ঘটনা একটি সাবধান বাণী হয়ে থাকবে আশা করি। ছবি হলেই হবে না, ছবি চিনে তবে ছাপতে হবে।
রাজনৈতিক দিক থেকে দেখতে গেলে বিদেশি নাগরিকের ছবি দিয়ে সরকারি বিজ্ঞাপন করা অবশ্যই সঠিক কাজ নয়। তবে যাঁকে নিয়ে এত হইচই তিনি এতে বিব্রত নন। বিবিসি নিউজ ওয়েবসাইটে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান তানভীর মাহমুদ আহমেদ বিষয়টি লক্ষ করেননি। কারণ, তিনি গলফ ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর মতে, এটা একটা ইনোসেন্ট (নিষ্পাপ) ভুল। পাঠকেরা এ বিষয় নিয়ে আরও জানতে চাইলে গুগলেই পাওয়া যাবে।
জাতিসংঘের হিসাব মতে, ভারতে প্রতিদিন অবৈধভাবে দুই হাজার কন্যাশিশুর ভ্রূণ গর্ভপাত ঘটছে। ফলে ভারতে সার্বিকভাবে নারীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ২০০১ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি হাজার পুরুষের বিপরীতে ৯২৭ জন নারী। অথচ ১৯৬১ সালে তা ছিল, প্রতি হাজার পুরুষের তুলনায় ৯৭৬ জন নারী। প্রায় তিন থেকে চার কোটি কন্যাশিশু ভারতের জনসংখ্যা থেকে হারিয়ে গেছে। পাঞ্জাব, উড়িষ্যা, রাজস্থান, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এমনকি মুম্বাই এবং রাজধানী দিল্লির অবস্থা আরও খারাপ। সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা গেছে, দক্ষিণ দিল্লিতে নারী-পুরুষ অনুপাত হচ্ছে প্রতি হাজারে ৭৬২ জন নারী এবং মুম্বাইতে প্রতি হাজারে ৭২৮ জন নারী। ধনী-গরিব সব ধরনের পরিবারেই কন্যাশিশুদের জন্মের আগেই হত্যা করা হচ্ছে।
এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে বাংলাদেশেও এ ঘটনা ঘটছে না। মোট জনসংখ্যায় নারীর সংখ্যা কম হওয়ার কারণ জন্মের আগেই নারীর মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে চিকিত্সা বিজ্ঞানের তথাকথিত ‘উন্নত’ প্রযুক্তি বা সেক্স সিলেকশন টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে, যার মাধ্যমে গর্ভাবস্থায়সন্তানের লিঙ্গ চিহ্নিত করা যায়। বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে বন্ধ্যত্ব দূরীকরণের চিকিত্সা এবং গর্ভধারণের পর ভ্রূণটি ছেলে না মেয়ে জানার জন্য প্রিইমপ্লেনটেশন জেনেটিক ডায়াগনোসিস (পিজিডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় শোনা যায়, আলট্রা সাউন্ড পরীক্ষা দিয়ে সন্তান ছেলে না মেয়ে জানা যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে গর্ভপাতও ঘটানো হচ্ছে। গর্ভকালীন সময় মধ্যবিত্ত নারীরা এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন, চিকিত্সকেরাও তাঁদের সহায়তা করছেন। কিন্তু সরকারের এ বিষয়ে কোনো নীতি আছে কি-না, তা কারোই জানা নেই। পরিবারগুলো পুত্রসন্তান চায়। পরিবারে সব ছেলে থাকলে তখন মেয়ে হলে আদর লাগে, কিন্তু সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইনের কারণে মেয়েদের ভ্রূণেই মৃত্যু ঘটানো হচ্ছে। এটা একটা নীরব হত্যাকাণ্ড, যা ঘটে চলেছে আমাদের সবারই অজান্তে। অন্ধকার ও বর্বর যুগে যা ছিল, তা এখন আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ঘটছে বলেই কি আমরা সবাই মেনে নিচ্ছি?
চীন দেশে এক সন্তান জনসংখ্যা নীতিগ্রহণের কারণে একটি সন্তান কন্যা হলে তাকে হত্যা করার ঘটনা জাতীয়পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলে গর্ভেই নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে আর প্রযুক্তি যেখানে নেই, সেখানে মেয়েটি জন্মে পৃথিবীর আলো দেখতে না দেখতেই তাকে যে কোনোভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে। কেউ কেউ এত নিষ্ঠুর হতে চাননি, তাই কন্যাকে এতিমখানায় পালতে দিয়ে কিংবা জন্মনিবন্ধন না করিয়ে আর একটি ছেলেসন্তানের চেষ্টা করার সুযোগ নিয়েছে। এটাও তো এক ধরনের মৃত্যু, কারণ এই মেয়েটি মা-বাবা থাকা সত্ত্বেও স্বীকৃতি পেল না। সে এতিম হলো কিংবা জন্মেছে এমন হিসাবের বাইরে চলে গেল। চীনে প্রতি ১১৬ জন ছেলের বিপরীতে মেয়ের সংখ্যা ১০০। কিন্তু এখন হয়েছে অন্য বিপদ। কন্যাশিশুকে নিয়ে এই ভয়ানক সমস্যা চিহ্নিত আবারও সেই পুরুষদেরই প্রয়োজনে। যেমন ভারতের কয়েকটি রাজ্যে পুরুষেরা বিবাহযোগ্য হয়ে উঠেছে কিন্তু তাদের বউ হবে এমন বয়সী মেয়ে সেখানে নেই। চীনেও একই সমস্যা। বউ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই অন্য রাজ্য কিংবা দেশ থেকে পাচার করে মেয়েদের নিয়ে আসা হচ্ছে ছেলেদের বিয়ে করানোর জন্য এবং বংশ বৃদ্ধির জন্য।
আবারও ভারতের সেই বিজ্ঞাপনের কথায় ফিরে যাই। আসলে যদিও বলা হচ্ছে, ‘আপনি কেমন করে জন্মাতেন যদি আপনার মা না জন্মাতো’—সেটা বলা হচ্ছে, বিখ্যাত পুরুষদের জন্ম নিশ্চিত করার জন্য। এই নারীদের বেঁচে থাকা বা জন্মানোর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কি? নারীকে জন্মাতে হবে পুরুষ জন্ম দেওয়ার জন্য, আর কিছু নয়? বাহ্। এটাই কি কন্যাশিশু দিবসের মূল কথা?
ফরিদা আখতার: নারী আন্দোলনের নেত্রী।

কুষ্ঠরোগ: যে অবস্থার পরিবর্তন জরুরি by মার্টিন অধিকারী

আজ বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস। মানুষের জানা সব রোগের মধ্যে কুষ্ঠ একটি প্রাচীনতম রোগ। অতীতে রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক, বংশগত, আরোগ্য হয় না, এর দ্বারা রোগীর অঙ্গহানি অনিবার্য এবং রোগটি ঈশ্বরের অভিশাপ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু আজ ওই সব ধারণা পাল্টে গেছে। এখন বিনা মূল্যে এ রোগের সফল চিকিত্সা পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত এমডিটি বা মাল্টি ড্রাগ থেরাপি রোগের মাত্রাভেদে নির্দিষ্ট মেয়াদে সেবন করলে এ রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। তবে দুঃখের বিষয়, আজও আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবার-পরিজন এবং আগে কুষ্ঠ ছিল এমন সব ব্যক্তির সমাজে স্থান করে নেওয়া বড়ই কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা তাদের মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এখনো অনেকেই কুষ্ঠরোগীদের বিষয়ে পুরোনো সংস্কারজনিত ‘অস্পৃশ্যতা’র (Stigma) মনোভাব পোষণ করে থাকে। তাই আজও এ রোগ চিকিত্সা সমস্যার চেয়ে একটি সামাজিক ও মানসিক সমস্যা। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা, ভুল বোঝাবুঝি, উদাসীনতা ইত্যাদি কারণে আমাদের দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত মানুষ ও তাদের পরিবারের লোকজন অনেক দুঃখ-কষ্ট ও বঞ্চনার শিকার হয়ে জীবনকে বোঝাস্বরূপ মেনে নিয়ে কোনো মতে বেঁচে থাকেন। তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধিতার চেয়ে বেশি বড় প্রতিবন্ধিতা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি।
এ অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। যাদের কুষ্ঠরোগ হয়, তাদের প্রতি বিরাজমান অস্পৃশ্যতার কারণে তাদের নিজেদের মধ্যেও তৈরি হয় এক আত্মধিক্কার (self-stigma)। এ কারণে কারও কুষ্ঠ হলে তিনি এ রোগ অন্যের কাছ থেকে গোপন রাখতে চান; এমনকি কেউ কেউ চিকিত্সাও গ্রহণ করতে চান না। এর পরিণতি হয় ভয়াবহ, ধীরে ধীরে রোগী প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়। শরীরের কুষ্ঠ ভালো হলেও মনের কুষ্ঠ যেন সারে না। কুষ্ঠের কারণ ও কুফল সমাজের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে জড়িত। তাই কুষ্ঠরোগের প্রসঙ্গটি একটা মানবাধিকার ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ।
বাংলাদেশে কুষ্ঠরোগের অবস্থান
২০০৮ সালের নতুন কুষ্ঠরোগী চিকিত্সা প্রদানের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ পঞ্চম অবস্থানে আছে। কয়েক বছর ধরে দেশে বছরে পাঁচ-ছয় হাজার নতুন নতুন কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হচ্ছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আছে, যারা এর কারণে বিভিন্নভাবে ও মাত্রায় প্রতিবন্ধী হয়ে আছে। ১৯৮৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকে এক লাখ ৮২ হাজার রোগী নিয়মিত চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। বর্তমানে আনুমানিক চার হাজার রোগী চিকিত্সাধীন। যদিও বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কুষ্ঠরোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার অনুপাতে নথিভুক্ত রোগীর হার এক-এর কম) অর্জন করেছে, তদুপরি এখনো বার্ষিক রোগী শনাক্তকরণ সংখ্যা একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায়েই রয়ে গেছে। কুষ্ঠ বাংলাদেশের সর্বত্র সমানভাবে বিস্তৃত নয়। দেখা গেছে যে কয়েকটি জেলায়, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় সব সময়ই দেশের অধিকসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়ে আসছে। বর্তমানে নীলফামারী, গাইবান্ধা, সিলেট, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে এই পাঁচটি জেলায় কুষ্ঠরোগের প্রাদুর্ভাব এখনো বেশি।
‘জাতীয় কুষ্ঠ উচ্ছেদ কর্মসূচি’র আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশে কুষ্ঠরোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবার কাজ চলছে। এ সেবা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রদান করা হয়। কুষ্ঠরোগে আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমিয়ে আনা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখায় দেশি-বিদেশি কর্মসূচি রয়েছে।
কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পক্ষে অ্যাডভোকেসি
কুষ্ঠরোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের অবস্থার সামগ্রিক ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বার্থে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি সুশীল সমাজ, সরকারি ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী কিংবা পেশাদারি সব সংগঠন ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের কয়েকটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হলো: ১. কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিভিন্ন সংবাদ ও কুষ্ঠ বিষয়ে সাফল্যমূলক তথ্য ও খবরাখবর পরিবেশন করা আবশ্যক। দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এবং দি লেপ্রসি মিশন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পসহ কুষ্ঠরোগের জন্য কাজ করে এমন সব সংস্থায় এ রোগের চিকিত্সা বিনা মূল্যে পাওয়া যায়—এ তথ্য প্রচার করা গুরুত্বপূর্ণ।
২. আক্রান্ত ব্যক্তিরা যাতে নিজেদের সমস্যার কথা নিজেরাই বলতে পারে, তার জন্য তাদের ক্ষমতায়ন করা, যেন তারা স্থানীয় ও বৃহত্তর পরিমণ্ডলে তাদের মানবাধিকার অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে পারে। তৃণমূল পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংগঠন তৈরিতে সাহায্য করা ও তাদের সঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের অধিকারের কথা নিজেরা বলতে না পারবে, ততক্ষণ তারা অধিকার লাভ করতে পারবে না। কমিউনিটি বেইজড রিহ্যাবিলিটেশনের মাধ্যমে কুষ্ঠরোগের শিকার দরিদ্র ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে আর্থসামাজিকভাবে পুনর্বাসন করার বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এভাবে তাদের অন্যের ওপর নির্ভর করার চেয়ে স্বনির্ভর হলে তাদের আত্মধিক্কার দূর হবে এবং এর মাধ্যমে Self-advocacy-ও হবে; তৃণমূল পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংগঠন তৈরিতে সাহায্য করা প্রয়োজন। এভাবে তারা আত্মধিক্কারের পরিবর্তে আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা লাভ করবে।
৩. কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, সেসব বিষয় শনাক্ত করা দরকার। এ রোগ সম্পর্কে পুরোনো যে আইন আছে, যেমন: ১৮৯৮-এর লেপার্স অ্যাক্ট (Lepers Act 1898), তা বাতিল করা প্রয়োজন। আইনটি দ্বারা কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজের অন্য মানুষদের কাছ থেকে আলাদা রাখা হতো। তারা এখানে-সেখানে পালিয়ে বেড়াত ও বাঁচার জন্য ভিক্ষা করত। তাই তাদের গ্রেপ্তার করে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখা হতো। এবং তাদের অনেক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হতো। সেকালে ওই আইনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তা এখন বাতিল করা দরকার।
৪. বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য রোগের পাশাপাশি কুষ্ঠরোগেরও চিকিত্সার ব্যবস্থাপনা (Integration of treatment) থাকা উচিত। দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে কুষ্ঠরোগ ও তার চিকিত্সার বিষয়ে যথেষ্ট শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। কুষ্ঠরোগীরা যেন প্রয়োজনীয় চিকিত্সা পেতে পারে, তার স্বার্থে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ও নার্সিং ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে যথেষ্ট বাস্তবানুগ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
সংশ্লিষ্ট সবার অবগতি ও বিবেচনার জন্য জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল-এর কুষ্ঠরোগ সম্পর্কিত নীতিমালা নিচে উল্লেখ করছি: ১. প্রতিটি স্বাক্ষরকারী দেশের (বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি) মানতে হবে যে কুষ্ঠরোগের কারণে বৈষম্য মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ২. প্রতিটি দেশের সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন কুষ্ঠরোগের কারণে ঘটা সব বৈষম্য দূর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ৩. জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা কুষ্ঠরোগকেন্দ্রিক মানবাধিকারমূলক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ৪. তাদের আরও অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা কুষ্ঠরোগ-সংক্রান্ত বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশ যে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার ওপর গবেষণা চালান ও তথাদি সংগ্রহ করেন।
বিগত দুই বছরে জাতিসংঘ ও তার হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অ্যাডভাইজরি কমিটি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য দূর করার স্বার্থে অনেক কাজ করেছে। এসব মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় দলিল ও পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আশাবাদী হতে পারি যে দেশের সব মহলেই কুষ্ঠের কারণে ঘটিত প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনকে পরিপূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার স্বার্থে যথাসাধ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। আসুন আমরা সবাই কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে সবাই কাজ করি।
রেভারেন্ড মার্টিন অধিকারী: মিশন ইন্টারলেপ্রসি ন্যাশনাল বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি ও প্রমোশন বিভাগের পরিচালক

তাপসের ওপর বোমা হামলা

তিন মাসেও সাংসদ ফজলে নূর তাপসের ওপর বোমা হামলার তদন্তকাজ শেষ না হওয়া দুঃখজনক। গত বছরের ২১ অক্টোবর তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। তখন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল নিষ্পত্তির শুনানি চলছিল। ঘটনার পর পুলিশ বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছিল। তাঁদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের স্বজনও ছিলেন। পরে পুলিশের তদন্তে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে না পাওয়া গেলেও কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার মতো যাঁদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে, তা গোটা জাতির নিরাপত্তার জন্যই বিপজ্জনক।
তদন্তে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এই হামলার সঙ্গে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কয়েকজন জুনিয়র কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন জিজ্ঞাসাবাদে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকারও করেছেন বলে জানা গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সেনা সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, তাপসের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় সেনা কর্তৃপক্ষের তদন্ত (কোর্ট অব ইনকোয়ারি) চলছে। তদন্ত দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমামুল হুদা। এর আগে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়েছিল, ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইএসপিআর এ নিয়ে অনুমাননির্ভর সংবাদ না ছাপানোরও পরামর্শ দিয়েছিল। ধারণা করি, তদন্তে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে কারণেই তারা এ পরামর্শ দিয়েছিল।
কোনো ঘটনায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলে সেনা আইনে তাঁদের বিচার (কোর্ট মার্শাল) হওয়ার কথা। আইএসপিআরের উল্লিখিত বক্তব্যের পর দুই মাসেরও বেশি চলে গেছে। তদন্ত দলের সদস্যসচিব তদন্তকাজ চলছে বলে গত ১২ জানুয়ারি প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করলেও কবে নাগাদ শেষ হবে, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি। ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এর সঙ্গে যেমন জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত, তেমনি সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিও। সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান ও পদমর্যাদা বিবেচনা না করে অপরাধের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে। অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক অপরাধের তদন্ত ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। আবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ঘটনাও ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে সে রকম কিছু হবে না বলেই প্রত্যাশা। যত দ্রুত সম্ভব তাপসের ওপর বোমা হামলার তদন্ত দ্রুত শেষ ও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

অন্ধ্র প্রদেশে নৌকাডুবি ১২ জনের লাশ উদ্ধার

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের পশ্চিম গোদাবাড়ি জেলার গোদাবাড়ি নদীতে গতকাল শনিবার সকালে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় গতকাল ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন। অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। জেলা পুলিশ সুপার মাধব চারি জানান, নৌকাটির ধারণক্ষমতা ৩৫ জনের হলেও তাতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ওঠানো হয়। যাত্রীদের বেশির ভাগ ছিল নারী ও শিশু। যাত্রীরা মন্দিরে পূজা করতে যাচ্ছিল।

মন্দার মধ্যেও বই কেনা বাদ দেননি মার্কিনিরা

অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সব ধরনের বাড়তি খরচ বাদ দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগলেও বই না কিনে পারছেন না। সম্প্রতি অনলাইনে পরিচালিত একটি জরিপের ফলাফলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রপ্তবয়স্কদের তিন-চতুর্থাংশই বলেন, তাঁরা ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া, বাইরে খাওয়া-দাওয়া, সিনেমা দেখা, এমনকি শখের কেনা-কাটা করাও বাদ দিতে পারবেন। কিন্তু বই কেনা বাদ দিতে পারবেন না।
জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা হারলেকিন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মিশেল রিনওড বলেন, ‘এই মন্দা আমাদের হিংসা, লোভ ও বাড়তি তৃপ্তি লাভের নেতিবাচক দিকটি দেখিয়েছে। একইসঙ্গে জীবনের সরলতম আনন্দগুলোকেও নতুন করে চিনিয়েছে।
তিন হাজার লোকের ওপর চালানো এ জরিপের উদ্দেশ্য ছিল কোন কোন জিনিস মানুষকে অর্থ ব্যয় করতে প্রলুব্ধ করে এবং তাতে অর্থ ব্যয় করার কারণ ও ব্যয়ের পরের প্রতিক্রিয়া জানা। জরিপে দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ পুরুষ বেশি আনন্দ পায় যৌনতায়। আর ৫৪ শতাংশ নারী বেশি আনন্দ পায় খাদ্যে। যৌনজীবন নিয়ে নারী-পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও উঠে এসেছে জরিপে। দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় বেশিসংখ্যক পুরুষ এই আনন্দকে নির্দোষ ও অক্ষতিকর মনে করছেন। পুরুষদের প্রায় অর্ধেক (৪৩ শতাংশ) তাঁদের বন্ধুদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে পছন্দ করেন। নারীদের মধ্যে এ হার ২০ শতাংশ।
অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের উচ্চ হার যে কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও প্রলোভন বাড়িয়েছে সে চিত্রও পাওয়া গেছে জরিপে। এতে ৪৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক স্বীকার করেন, তাঁরা লুকিয়ে তাঁদের সহকর্মীদের বেতন-ভাতার পরিমাণের দিকে নজর রেখেছেন।
১০ শতাংশ নারী স্বীকার করেন, তাঁরা একজন করে সহকর্মীর ক্ষতি করেছেন। এ কথা পুরুষদের মধ্যে স্বীকার করেন ১৫ শতাংশ।
রিনওড বলেন, ‘ওই কাজ করার কথা যাঁরা স্বীকার করেছেন তাঁদের সংখ্যা খুবই অবাক করার মতো। চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কর্মক্ষেত্রে অন্যের কাজের স্বীকৃতি নিজের নামে করে নেওয়া নিয়েও জরিপে কাজ করা হয়। এতে ১৫ শতাংশ পুরুষ এ কাজ করার কথা স্বীকার করেন। নারীদের মধ্যে স্বীকার করেন আট শতাংশ।

নয় বছর বয়সে মা

চীনে নয় বছর বয়সী একটি শিশু মা হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিলিন প্রদেশের চ্যাংচুন হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। শিশুর ওজন পৌনে তিন কেজি। মা ও শিশু সুস্থ আছে। চীনে এত কম বয়সে মা হওয়ার ঘটনা সম্ভবত এটিই প্রথম।
চ্যাংচুনভিত্তিক সিটি ইভনিং নিউজ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, এ ঘটনায় সদ্য মা হওয়া শিশুটির বাবা-মা আইনি সহায়তা নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। চীনা আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ধর্ষণের শামিল। চীনে এর আগে সবচেয়ে কম বয়সে যে মা হয়, তার বয়স ছিল ১১ বছর।

জরুরি অবতরণে বাধ্য হলো চীনের একটি বিমান

চীনের সাউদার্ন এয়ারলাইনসের একটি বিমান গতকাল শনিবার দেশটির গোলযোগপূর্ণ জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে উড্ডয়নের পর কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। বিমানের দুজন যাত্রী শৌচাগারে ঢুকে টয়লেট পেপারে আগুন ধরিয়ে দিলে বিমানটি অবতরণে বাধ্য হয়। এএফপি।
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, উহান নগর থেকে বিমানটি উড্ডয়নের পর ওই বিমানের একজন ক্রু বিষয়টি টের পান। ঘটনাটি পাইলটকে জানালে তিনি বিমানটি জরুরি অবতরণ করান। পুলিশ জানায়, অবতরণের পর বিমান থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আর বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চীনের অন্য প্রদেশগুলোর তুলনায় জিনজিয়াং প্রদেশ অনেক বেশি গোলযোগপূর্ণ। বেইজিং নিজেও স্বীকার করেছে, এই অঞ্চল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হুমকির মুখে রয়েছে। তবে এ অঞ্চলের নির্বাসিত মুসলিম উইঘুরের সদস্যরা বলছেন, এ অঞ্চলকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য চীন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হুমকির বিষয়টি সবসময় অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরে।

‘তালেবান-আল কায়েদা সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে’

যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে তালেবান নেতারা শান্তি নিয়ে আলোচনায় বসলে আল-কায়েদার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। বিশ্লেষকেরা এ কথা বলেছেন। তাঁরা বলেন, আলোচনায় আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে তালেবানের ছত্রচ্ছায়ায় আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা পূরণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো চাপে আল-কায়েদার জঙ্গিরা বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে পারে।
আফগানিস্তানে যুদ্ধের অবসানে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা চুক্তি করার লক্ষ্যে দেশটির সরকার গত বৃহস্পতিবার তালেবান নেতাদের একটি শান্তি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। মোল্লা ওমরের নেতৃত্বাধীন তালেবান নেতারা ওই আলোচনায় বসার বিষয়ে ‘শিগগির’ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও আল-কায়েদার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের আলোচনায় অগ্রগতি হলে তা আল-কায়েদার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তালেবান নেতারা আফগান সরকারের সঙ্গে বিরোধ নিরসন-সংক্রান্ত সমঝোতা করলে আল-কায়েদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কেননা তারা মিত্র হারাবে, একই সঙ্গে আশ্রয়স্থলও।’
পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলের আস্তানায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত চালকবিহীন বিমান হামলায় এমনিতেই চাপে আছে আল-কায়েদা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তালেবান ও আফগানিস্তান সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে তা তাদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দেবে বলে মনে করছেন হেগভিত্তিক ক্লিনজেনদায়েল ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক এডউইন বাক্কার।

যুক্তরাষ্ট্র সে দেশের নাগরিকদের ভারত ভ্রমণে সতর্কথাকার পরামর্শ দিয়েছে

সন্ত্রাসী চক্র ভারতে আবারও ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন নাগরিকদের ভারতে ভ্রমণের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সামনের মাসগুলোতে ভারতে ভ্রমণের সময় তাদেরও ওই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়, ভারতে চলমান নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তারা সতর্ক করছে। মার্কিন সরকার প্রতিনিয়ত গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খবর পাচ্ছে, সন্ত্রাসীরা ভারতে হামলার পরিকল্পনা করছে। এ সময় দেশটিতে ভ্রমণরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কিংবা পশ্চিমারাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ কারণে তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও ভারতে ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্ক করে কয়েকবার বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কায় বিরোধীদের সমর্থক একটি পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ

শ্রীলঙ্কা পুলিশ গতকাল শনিবার বিরোধী একটি পত্রিকার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। লংকা উইকলি নামে ওই পত্রিকাটি সরকারের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার সমালোচনা করায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে পুলিশ শুক্রবার পত্রিকাটির সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের ওপর প্রতিহিংসামূলক আচরণের অভিযোগ এনেছে। তবে সরকার এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। খবর এএফপির।
লংকা উইকলি তাদের অনলাইন সংস্করণে জানিয়েছে, পুলিশ গতকাল পত্রিকা কার্যালয়ে এসে এটি বন্ধ করে দিয়েছে। এ সময় অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা পত্রিকাটির কার্যালয় ঘিরে রাখেন।
প্যারিসভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের প্রতি সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বেসরকারি ও বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। তারা বলেছে, প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে সহিংসতা ভবিষ্যত্ দুর্বল রাজনীতির ইঙ্গিত বহন করে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস জানায়, নির্বাচনের দুই দিন আগে একজন সাংবাদিক নিখোঁজ হন। নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সুইজারল্যান্ডে একজন সাংবাদিককে বহিষ্কার করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। সংস্থাটি শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রতি নিখোঁজ সাংবাদিককে খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, শ্রীলঙ্কার অনেক সাংবাদিক বিদেশে পালিয়ে গেছে। গত তিন বছরে নয়জন সাংবাদিক খুন এবং আরও ২৭ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে, সরকারবিরোধী সমালোচনা বন্ধে শ্রীলঙ্কা সরকার সাংবাদিকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে।

আসামে বাঘ খাঁচাছাড়া, অতঃপর

ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটির চিড়িয়াখানাটি দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড়। প্রতিদিনের মতো কাল শনিবার সকালেও চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচার তত্ত্বাবধায়ক লোহার খাঁচাটি খুলতে যান। যেই মুহূর্তে তিনি দরজা খোলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে খাঁচা থেকে বেরিয়ে পড়ে দুটি বাঘ। এরপর ধীরে-সুস্থে মনের আনন্দে চিড়িয়াখানায় হাঁটতে থাকে তারা।
ওই সময় চিড়িয়াখানায় প্রায় ১০ হাজার লোক ছিল। কয়েকজন লোক দেখতে পায় দুটি বাঘ খাঁচা থেকে বের হয়ে হাঁটছে। ভয় পেয়ে জীবন বাঁচাতে বাঘ বাঘ বলে চিত্কার করে দৌড়ায় তারা। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও দেয় দৌড়।
চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা নারায়ণ মহন্ত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, কপাল ভালো যে বাঘ দুটি চিড়িয়াখানার ভেতরে ছিল। রাস্তায় যাওয়ার চেষ্টা করেনি।
তিনি বলেন, আমরা তাত্ক্ষণিক লোকজনকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর এবং বাঘ দুটির অবস্থান জানার চেষ্টা করি। একটি বাঘ চিড়িয়াখানার একটি পুকুরের পাশে চুপচাপ বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এটি উদ্ধারের কিছুক্ষণ পর অন্য বাঘটিকেও শান্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গুয়াহাটির ওই চিড়িয়াখানায় এর আগে ২০০৭ সালে বাঘের থাবায় ৫০ বছর বয়সী এক লোক নিহত হন। লোকটি খাঁচার সামনে গিয়ে বাঘের ছবি তোলার চেষ্টা করলে বাঘ হামলা চালায়।

নাইজেরিয়ার বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার

নাইজেরিয়ার প্রধান সশস্ত্র বিদ্রোহী দল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ তেল উত্পাদন কেন্দ্র নাইজার ডেল্টায় তাদের একতরফা যুদ্ধবিরতি গতকাল শনিবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দি মুভমেন্ট ফর দি ইমানসিপেশন অব দি নাইজার ডেল্টা (মেন্ড) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানায়, সতর্ক বিবেচনা ও ব্যাপক আলোচনার পর তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর এএফপির।
অসুস্থ হওয়ার আগে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট উমারু ইয়ার আদুয়া গত বছর জঙ্গি দল মেন্ডকে প্রস্তাব দিয়েছিল তারা অস্ত্র সমর্পণ করলে তাদের নিঃশর্তভাবে সাধারণ ক্ষমা করা হবে। সেই সঙ্গে বিদ্রোহী জঙ্গিদের নগদ অর্থ প্রদান, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের ২৫ অক্টোবর জঙ্গিরা একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। কিন্তু এর পরও জঙ্গিরা গত ডিসেম্বরে নাইজার ডেল্টায় শেল ও শেভরনের পরিচালিত প্রধান তেল পাইপলাইনে হামলা চালায়।
মেন্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তরিক ইচ্ছা নিয়ে সরকার নাইজার ডেল্টার জনগণের জন্য আলাপ-আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করবে, এমন আশায় অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই মুহূর্তে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, সম্পদ ও ভূমির নিয়ন্ত্রণ নাইজার ডেল্টার প্রকৃত মালিক জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে এই দলটির দাবি-দাওয়া বিবেচনায় সরকারের কোনো আগ্রহ নেই।’ জঙ্গিরা দাবি করে, কিছু প্রতিশ্রুতি সরকার এখনো বাস্তবায়ন করেনি। মেন্ড নাইজার ডেল্টায় তেলশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানিকে তাদের বিভিন্ন স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর সর্বাত্মক হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করে দিয়েছে।
সশস্ত্র বিদ্রোহী দল মেন্ড গঠিত হওয়ার পর থেকে নাইজার ডেল্টাবাসীর জন্য তেলশিল্প থেকে পাওয়া রাজস্ব আয়ের ন্যায্য অংশ দাবি করছে। দাবি আদায়ে ২০০৬ সাল থেকে তারা তেলক্ষেত্রগুলোতে বেশ কয়েকবার হামলা চালায়

৯/১১ হামলার সন্ত্রাসীদের বিচার নিউইয়র্কে না করার সিদ্ধান্ত

ওবামা প্রশাসন ৯/১১ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিচার নিউইয়র্কে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতর ও বাইরে এবং নিউইয়র্কবাসীর আপত্তির মুখে হোয়াইট হাউস এ সিদ্ধান্ত নিল। তবে বিচার করার নতুন স্থান ঘোষণা করেনি মার্কিন প্রশাসন। এর ফলে ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার-প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট গতকাল শনিবার ওবামা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, ‘নিউইয়র্কে বিচার হচ্ছে না। আমরা বিকল্প স্থান খুঁজছি।’ আরেক প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিচারের বিকল্প স্থান নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা সামরিক ঘাঁটি এবং কারাগারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের বিচারের স্থান বদলের সিদ্ধান্তকে ওবামা প্রশাসনের জন্য আরেকটি ধাক্কা বলে অভিহিত করেছে পত্রিকা দুটি। খবর এএফপি ও এপির।
মার্কিন আইনপ্রণেতা ও নিউইয়র্কের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ৯/১১ হামলার আত্মস্বীকৃত পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার নিউইয়র্কে হলে এখানকার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাছাড়া ওই সন্ত্রাসী হামলায় বেঁচে যাওয়া লোকজন এবং নিহতের স্বজনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে।
গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ করে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আদালতে খালিদ মোহাম্মদসহ অন্য চার সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর বিচার করার ঘোষণা দিয়েছিল ওবামা প্রশাসন। গ্রাউন্ড জিরোর কাছে অবস্থিত এই আদালত। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিশেষ করে নিউইয়র্কে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিরোধী শিবির রিপাবলিকানদের পাশাপাশি ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলায় বেঁচে যাওয়া লোকজন ও নিহতদের আত্মীয়স্বজনরা বলেছে, গ্রাউন্ড জিরোর কাছে সন্ত্রাসীদের বিচার করা উচিত হবে না। এমনকি মার্কিন আইনের মাধ্যমে তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়াও ঠিক হবে না।
নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা সরকারের ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সন্ত্রাসীদের নিউইয়র্কে বিচার করা হলে ওয়াল স্ট্রিটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা হুমকি দেখা দেবে।
সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান ফেটইস্টেইন বলেন, ‘বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টার ঘটনা আমাদের বিশ্লেষণ করে দেখা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদা ও এর সহযোগীদের হামলার ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতারই অংশ ছিল এটি। এই ষড়যন্ত্রের এখানেই শেষ নয়।’ তিনি বলেন, ‘১৯৯৩ সালে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে বোমা হামলার পর থেকে সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয়েছে নিউইয়র্ক। কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের নিউইয়র্কে বিচার করা হলে এ নগর আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ প্রথমে সরকারি সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানালেও পরে তাঁর মত পাল্টেছেন। তিনি গত শুক্রবার বলেছেন, নিউইয়র্কের বদলে সন্ত্রাসীদের অন্যত্র বিচার করা হোক। সন্ত্রাসীদের এমন স্থানে বিচার করা হোক, যেখানে কোটি কোটি ডলার খরচ হবে না। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের নিউইয়র্কে বিচার করা হলে এখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। এর চেয়ে বরং কোনো সামরিক ঘাঁটিতে তাঁদের বিচার করা হোক। যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এতে করে সন্ত্রাসীদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টাও সহজতর হবে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর চাক সুমার বৃহস্পতিবার বলেন, নিউইয়র্কের বদলে অন্য কোথাও সন্ত্রাসীদের বিচার করার জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, চারদিক থেকে বিরাধিতা আসায় ওবামা প্রশাসন সন্ত্রাসীদের নিউইয়র্কে বিচার করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।
নিউইয়র্কের মেয়র না চাইলেও নিউবুর্গের মেয়র চান, তাঁর শহরে সন্ত্রাসীদের বিচার করা হোক। নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের নিউবুর্গে বিচার করা হলে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি এ শহরে নিপতিত হবে। এ শহর সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য এটা একটা বিশাল উপায়।
খালিদ মোহাম্মদের পাশাপাশি সন্দেহভাজন আরও চার সন্ত্রাসীর বিচার করার কথা রয়েছে। তাঁরা হলেন, মোহাম্মদ রামজি বিনালশিভ, ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আবদুল আজিজ আলী ও মুস্তাফা আহমেদ আল-হাওয়াসাবি। তাঁরা সবাই বর্তমানে গুয়ানতানামো কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
ওবামা প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিচারের দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করেনি। এমনকি বিচারের স্থান পরিবর্তন নিয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, খালিদ মোহাম্মদসহ অন্য সন্ত্রাসীদের ফেডারেল কোর্টেই বিচার করা হবে। যদিও কংগ্রেসের কিছু সদস্য তাঁদের সামরিক আদালতে বিচার করার দাবি জানিয়ে আসছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সচিব বিল বার্টন বৃহস্পতিবার বলেন, খালিদ মোহাম্মদ একজন আত্মস্বীকৃত ঘৃণ্য খুনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তিনি সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই অপরাধীর বিচার করতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক বিনিময় স্থগিত করল চীন

তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার প্রতিবাদে চীন ও মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সফর কর্মসূচি ও নিরাপত্তা সংলাপ স্থগিত করেছে বেইজিং। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ কথা বলা হয়।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, অস্ত্র চুক্তি সম্পর্কে অভিযোগ করার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশেকে ডেকে পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্র-সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কুইআন লিহুয়া।
মার্কিন কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠানো সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থাটিও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এর আগে সিনহুয়া পরিবেশিত একটি প্রতিবেদনে রোববার একটি সামরিক সফরের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে পরিবেশিত প্রতিবেদনে ওই সফরের বিষয়টি আর উল্লেখ করা হয়নি।
গতকাল চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক বিনিময় স্থগিত করেছে। এ ছাড়া কৌশলগত নিরাপত্তা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একটি সংলাপও স্থগিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই চুক্তির ফলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সহযোগিতা অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
গতকাল চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হি ইয়াফেই এক বিবৃতিতে বলেন, ওই অস্ত্র বিক্রি চুক্তির কারণে চীন-মার্কিন সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। ওই চুক্তি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যকার বিনিময় এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ওই চুক্তি এমন ফল বয়ে নিয়ে আসবে, যা কোনো পক্ষই দেখতে চায় না।
গত শুক্রবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ তাইওয়ানের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে।
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে বলেন, সর্বশেষ ওই পদক্ষেপ চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্থূল হস্তক্ষেপ, যা চীনের জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির দিকে ঠেলে দেবে। চীনের শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণকেও এটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে। চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন হান্টসম্যানের কাছেও বিবৃতিটি পাঠানো হয়েছে। তাইওয়ানকে নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে চীন। পুনরেকত্রীকরণের জন্য প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে রেখেছে বেইজিং।
তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির ফলে যে মারাত্মক ক্ষতি হবে, সেটা পুরোপুরি অনুধাবন করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হি ইয়াফেই। চীনের অবস্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির ভুল সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের জন্যও ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

কানাডায় এক্সিম ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউসের কার্যক্রম শুরু

কানাডায় বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশিদের সর্বোত্তম রেমিট্যান্স সেবা দানের লক্ষ্যে টরন্টোতে কার্যক্রম শুরু করেছে এক্সিম ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এক্সিম এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (কানাডা) লিমিটেড।
এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার প্রধান অতিথি হিসেবে সম্প্রতি এ এক্সচেঞ্জ হাউসের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইয়াকুব আলী।
এতে ব্যাংকের পরিচালক নাসরিন ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মসিহুর রহমান, অন্টারিওর সাবেক ডেপুটি প্রিমিয়ার জর্জ স্মিনথারম্যান, কানাডার সাংসদ মারিয়া মিন্না, মিশেল সিমসন, রেজা মরিদি ও লোরেনজু বারডিনিট্রি বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে সামছুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক খান ও রেজাউর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।