Monday, December 10, 2018

৫৮টি অনলাইন পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি

দেশের ৫৮টি অনলাইন পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর মধ্যে তালিকায় রয়েছে প্রিয়ডটকম, ঢাকা টাইমস ও পরিবর্তনের মতো অনলাইন পত্রিকা। 
এর আগে রবিবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে বিটিআরসি দেশের আইআইজিগুলোকে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এর পর রাত থেকেই সংশ্লিষ্ট সাইটগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বাংলাদেশ ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ সংস্থার মহাসচিব মো. ইমদাদুল হক বলেন, রবিবার বিকালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের পক্ষ থেকে এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বন্ধের নির্দেশ পাওয়া সাইটগুলো হলো-
প্রিয়ডটকম-https://www.priyo.com
রাইজিংবিডিডটকম- http://risingbd.com
পরিবর্তনডটকম- http://poriborton.com
রিপোর্টবিডি২৪ডটকম- https://reportbd24.com
শীর্ষনিউজ২৪ডটকম- http://sheershanews24.com
ঢাকাটাইমস২৪ডটকম- http://www.dhakatimes24.com
বিডিপলিটিকোডটকম- https://bdpolitico.com
পেজনিউজ২৪ডটকম- http://pagenews24.com
রেয়ারনিউজ২৪ডটকম- http://www.rarenews24.com
বিএনপিনিউজ২৪ডটকম- http://bnpnews24.com
প্রথমবাংলাদেশডটনেট- https://www.prothombangladesh.net
ডেইলিআমারদেশডটএক্সওয়াইজেড- http://dailyamardesh.xyz
ডিএনএনডটনিউজ- http://dnn.news
রাজনীতি২৪ডটকম- http://www.razniti24.com
আরবিএন২৪ডটকোডটইউকে- http://www.rbn24.co.uk
সংবাদ২৪৭ডটকম- http://www.sangbad247.com
দেশভাবনাডটকম- http://deshbhabona.com
আমারদেশ২৪৭ডটকম- http://amardesh247.com
অ্যানালাইসিসবিডিডটকম- http://www.analysisbd.com
আওয়াজবিডিডটকম- https://www.awaazbd.com
বদরুলডটঅরগ- http://www.badrul.org
বিএনপিঅনলাইনউইংডটকম- http://bnponlinewing.com
ইনডটবিএনপিবাংলাদেশডটকম- http://en.bnpbangladesh.com
বিএনপিবাংলাদেশডটকম- http://bnpbangladesh.com
বাংলামেইল৭১ডটইনফো- http://banglamail71.info
এটিভি২৪বিডিডটকম- http://www.atv24bd.com
বাংলাস্ট্যাটাসডটকম- https://www.banglastatus.com
বিবাড়িয়ানিউজ২৪ডটকম- http://www.bbarianews24.com
শিবিরডটঅরগডটবিডি- http://shibir.org.bd
নিউজ২১-বিডিডটকম- http://news21-bd.com
ওয়াননিউজবিডিডটনেট- https://www.1newsbd.net
নিউজবিডি৭১ডটকম- http://newsbd71.com
জাস্টনিউজবিডিডটকম- http://www.justnewsbd.com
এক্সপ্রেসনিউজবিডিডটকম- http://www.expressnewsbd.com
ডেইলিবিডিটাইমসডটকম- http://dailybdtimes.com
ময়মনসিংহনিউজ২৪ডটকম- http://www.mymensinghnews24.com
মূলধারাবিডিডটকম-http://www.muldharabd.com
সিএনএনবিডি২৪ডটকম-http://cnnbd24.com
ডেইলিমিরর২৪ডটকম-http://www.dailymirror24.com
দেশনেত্রীসাইবারফোরামডটকম-http://www.deshnetricyberforum.com
আলাপনডটলাইভ-http://www.alapon.live
দিগন্তডটনেট-https://diganta.net
মোরালনিউজ২৪ডটকম-http://www.moralnews24.com
পত্রিকাডটকম-http://www.potryka.com
দাওয়াহিলাল্লাহডটকম-https://dawahilallah.com

আফগান শান্তি সম্মেলনে এই প্রথম এলো তালেবান. কী করে সম্ভব হলো এটা?

সম্মেলন কক্ষে ঢুকছেন প্রতিনিধিরা
লাস্ট আপডেট- ৯ নভেম্বর ২০১৮: এই প্রথম বারের মতো একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে আফগানিস্তানের তালেবান।
আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। উদ্বোধন করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
দীর্ঘ দিন ধরে আফগানিস্তানে যুদ্ধরত বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে রাশিয়া। এর আরেকটা তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে শুধু তালেবান বা আফগান সরকারি প্রতিনিধিরাই নয় - আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এতে সম্পৃক্ত করেছে।
রাশিয়াই এই যোগাযোগের প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছিল। তারাই ধীরে ধীরে এর আওতা সম্প্রসারিত করেছে। এখন ১২টি দেশ এতে সম্পৃক্ত হয়েছে।
বিভিন্ন স্তরে সযত্ন প্রয়াসে গড়ে তোলা আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে রাশিয়া।
আফগান প্রশাসনের প্রতিনিধি ছাড়াও প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি পাকিস্তান, ভারত এবং চীনও এতে অংশ নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছে।
আফগান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না - তবে আফগানিস্তানের উচ্চ শান্তি কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য এতে যোগ দিচ্ছেন।
মস্কোর শান্তি আলোচনায় তালেবান প্রতিনিধি শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানাকজাই ও আরো একজন
আফগান সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে কাবুল ও তালেবানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ খুলে যেতে পারে।
সম্মেলনস্থল থেকে পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে তালেবান নেতারা পাকিস্তান ও চীনসহ অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন।
বিবিসির বিশ্লেষক জিল ম্যাকগিভারিং বলছেন, এ থেকে কোন চটজলদি ফল আসবে বলে কেউ আশা করছেন না কিন্তু - তালেবান এবং আফগান সরকার এবং তালেবানের প্রতিনিধিরা যে একটি সম্মেলন কক্ষে শান্তি আলোচনার জন্য বসেছেন - এটাই আসল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর আগে রাশিয়ার শুরু করা এই প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা তালেবানের সাথে নিজস্ব উদ্যোগে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছিল। সেই যুক্তরাষ্ট্রও এ সম্মেলনে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে তালিবানের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রশ্নে ভারতের অবস্থানেও পরিবর্তন ঘটেছে।
আগে তারা তালেবানের সঙ্গে এরকম আলোচনার বিরোধী ছিল। কিন্তু এই আলোচনায় ভারত থেকে একটি 'অনানুষ্ঠানিক' প্রতিনিধিদল গেছে - যেখানে দুজন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিকও আছেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে আফগান শান্তি কাউন্সিল ও তালেবানের প্রতিনিধিরা

‘নির্বাচনে আপনারা তো হেরে যাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ’ -ড. কামাল

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন,  ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে আপনারা তো ইনশাআল্লাহ হেরে যাচ্ছেন। এরপর জনগণ আপনাদের কিভাবে দেখবে সেই কথাটাও একটু ভাবুন। আপনাদের নেতা-কর্মীদের জনগণকে মোবারকবাদ দেয়ার সুযোগ করে দিন।  আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘রাজনীতি  ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বর্তমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এরা বিনাভোটে নির্বাচিত হলেও এখনো তারা একজন সংসদ সদস্য হিসেবেই বিবেচিত। তাই তাদের অবস্থান থেকে এখনো কিছু করতে পারেন তারা। কারণ আর কয়েকদিন পর তো সাধারণ পাবলিকে পরিণত হয়ে যাচ্ছে এসব সংসদ সদস্যরা। তাই যাবার আগে প্লিজ একটা কিছু করে যান। কারণ আপনারা তো বলছেন, দেশের জন্য অনেক উন্নয়ন করেছেন।
তাই বিনাবিচারে এভাবে যারা মারা যাচ্ছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিন, কিছু একটা করুন। তখন জাতিকে বলতে পারবেন, হ্যাঁ আমরা বিনাবিচারে হত্যার ব্যাপারে ক্ষমতার শেষ সময়েও পদক্ষেপ নিয়েছি।
জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, ভোটাধিকার না দেওয়ার শতভাগ ব্যর্থতা জনগণের নিজের। ক্ষমতার মালিক জনগণ, এটাতো কাগজ দেখিয়ে বলার কিছু নেই। নীরব-নিষ্ক্রিয় হলে চলবে না। দেশের মালিক ১৮ কোটি মানুষ। এর অর্ধেকও যদি একত্র হয়ে মালিকানা নিজেরা ভোগ করতে চায়, তবে কেউ তা রাখতে পারবে না।
নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা সবসময়ই মাঠে আছে। আমি নিজেও সব সময় কথা বলছি জনগণের সঙ্গে। আপনাদের মধ্য দিয়েও কথা হচ্ছে। নেতা-কর্মীদেরও বোঝাচ্ছি, আমরা আছি।
ড. কামাল বলেন, বিনা বিচারে হত্যাকান্ড মহামারি আকারে বাড়ছে যা মানুষের মনে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়ছে। দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণে এসব হত্যাকান্ড বাড়ছে।  কেন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা গুম খুন আরো বাড়ছে তার তদন্ত হওয়া উচিত এবং এ জন্য সরকারের জবাবদিহি করা উচিত। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- সাবেক মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম, মো. নূরুল হুদা মিলু, আবদুল্লাহ আল মামুন ও তালুকদার মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

নির্বাচন ঠিকমত হলে তা স্থিতিশীলতার জন্য মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে -ইব্রাহিম খালেদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো সংশয় নেই। এখন পর্যন্ত সংশয় হওয়ার মতো কিছু দেখছি না। কারণ আমাদের নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট ডেমোক্র্যাটিক এবং কিছুটা লিবারেলি কাজ করেছে। যারা অবৈধ প্রার্থী হয়ে গিয়েছিলেন তাদেরকে খুব লিবারেলভাবে আবার নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। কাজেই এমন কিছু দেখছি না যে নির্বাচনটা অবাধ হবে না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনতো দেখার কিছু নেই। নির্বাচন ৫ বছর পরে হতে হয়। তাই নতুন করে নির্বাচন প্রয়োজন এবং এ পর্যন্ত যেভাবে প্রগ্রেস করছে তাতে আমি বলব যে অত্যন্ত সন্তোষজনক।
প্রতিবার নির্বাচনের আগে যেমন মারামারির ঘটনা ঘটে এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে কোনো মারামারি হয়নি।
সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনটা কেমন হবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরাতো কোনো ভবিষ্যতবাণী করতে পারি না। যা ঘটছে তাতে আশা করছি যে সফলভাবেই নির্বাচন হবে। এখন বাকিটা নির্ভর করবে জনগণের ওপর। জনগণ যদি স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসে তাহলে আমার মনে হয় না ভোট দিতে কারো অসুবিধা হবে।
জোট-মহাজোটে নির্বাচন হচ্ছে এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থীতি আনবে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন ঠিকমত হয় তাহলে এটা রাজনীতিতে স্থীতিশীলতা আনার পক্ষে মাইল ফলক হয়ে দাঁড়াবে। কারণ এর আগে কোনো নির্বাচন মারামারি ছাড়া হয়নি। এবারই প্রথম একটি সুষ্ঠু ভোট হতে যাচ্ছে এবং সবারই অংশগ্রহণ রয়েছে। কাজেই সেটা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।
ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের আবির্ভাবটা ইতিবাচক ভাবেই দেখছি। যেহেতু তাদের (বিএনপি) নেতা খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান দুজনের একজন জেলে আরেকজন বিদেশে। দুজনেই শাস্তিপ্রাপ্ত। ফলে বিএনপি অনেকটা মুরুব্বিহীন হয়ে গিয়েছিল। কামাল হোসেন সেখানে একজন মুরুব্বির ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়াতে তাদের পক্ষে সঠিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে সুবিধা হয়েছে।
মানবজমিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।    

আহমেদাবাদে নারী হচ্ছেন পুরুষ, বেড়েছে প্রবণতা

ভারতের আহমেদাবাদে লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারী হয়ে যাচ্ছেন পুরুষ। আবার পুরুষ হয়ে যাচ্ছেন নারী। এই প্রবণতা সেখানে গত ৫ বছরে দ্বিগুন হয়েছে। এ প্রক্রিয়াকে নাম দেয়া হয়েছে ‘সেক্স রিঅ্যাসাইনমেন্ট সার্জারি’ (এসআরএস)। এ নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে অরুণা (পরিবর্তিত নাম) নামের ৩০ বছর বয়সী এক যুবতীর কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
অরুণা নারী থেকে পুরুষ হতে চান। তাই তিনি গত এক বছরে বেশ কয়েকবার আহমেদাবাদের একজন মনোবিজ্ঞানীর দ্বারস্থ হয়েছেন।
অরুণা বলেন, পিতামাতার একমাত্র সন্তান আমি। শৈশব থেকেই আমি ছেলেদের মতো পোশাক পরা শুরু করি। নতুন একটি শহরে সম্প্রতি স্থানান্তরিত হয়েছি। সেখানে সম্প্রতি একজন ‘পার্টনার’ খুঁজে পেয়েছি। আর তাই এসআরএস প্রক্রিয়ায় একজন পুরুষ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি বাবা-মাকে। কিন্তু তারা আমাকে একজন পুরুষ হিসেবে দেখতে রাজি নন।
অরুণা একাই নন। তার মতো অনেক মানুষ একই রকমভাবে লিঙ্গ পরিবর্তনের পক্ষে। আহমেদাবাদের মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত পাঁচ বছরে লিপ্ত পরিবর্তনের হার দ্বিগুণ হয়েছে। আগে বছরে এমন অপারেশন করানো হতো ৫ জনকে। এখন এই শহরে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ জনে।
১৯৭৭ সাল থেকে এই শহরে লিঙ্গ পরিবর্তনের অপারেশন করছেন আহমেদাবাদের প্লাস্টিক সার্জন ডা. পি কে বিলওয়ানি। তিনি এ সময়ে ৪৭ জনের লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন। তিনি বলেছেন, গত বছরে লিঙ্গ পরিবর্তন প্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ওদিকে মনোবিজ্ঞানী ডা. অমৃত বোদানি এ বছর ১০ জন রোগিকে এসআরএস করানোর মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, যখন একজন মানুষ জন্মের পর তার লিঙ্গগত পরিচয় বুঝতে পারে না, তখন তার মধ্যে প্রচন্ড এক মানসিক মর্মবেদনা অনুভূত হয়। বিস্ময়করভাবে এমন ঘটনার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগের বেশিই হলেন নারী। তারা নারী থেকে পুরুষ হতে চান।

অ্যাঙ্গেলা মারকেল: একজন ‘ইউরোপ সম্রাজ্ঞী’

জার্মানির হামবুর্গ শহর। সেখানে পিতা হোর্স্ট কাসনার ও মা হারলিন্ডের ঔরসে ১৯৫৪ সালের ১৭ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন বর্তমানের জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। ধর্মযাজক পিতার কন্যা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ‘জার্মানির রানী’। কেউ কেউ তাকে ‘ইউরোপের সম্রাজ্ঞী’ হিসেবেও অভিহিত করেন। ২০১৫ সালে তিনি বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন। অনেকবার প্রভাবশালী রাজনীতিকদের মধ্যে তিনি নিজের বড় জায়গা ধরে রেখেছেন। দোর্দন্ড প্রতাপে ইউরোপে নিজেকে জাহির করেছেন। বিশ্বমঞ্চেও তার উপস্থিতি নজরকাড়া।
জার্মানিতে নিজের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেট পার্টির প্রধানের পদে আছেন ১৮ বছর। সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মারকেল। তাই তার জীবনালেখ্য প্রকাশ করছে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। অনলাইন বিবিসি লিখেছে, জার্মানির ক্ষমতাসীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেট দলের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন  চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। শুক্রবার ৭ই ডিসেম্বর এক আবেগময় বিদায়ী ভাষণে তিনি দেশের ভিতরে এবং বাইরে জার্মানির উদার মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সুদীর্ঘকাল জার্মানির ক্ষমতায় আসীন অ্যাঙ্গেলা মারকেল। এ সময়ে নিজেকে তিনি একজন বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী নেতা হিসাবে প্রমাণ করেছেন। পরপর চার মেয়াদে দেশটির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দলের নেতৃত্ব এখন ছাড়লেও চ্যান্সেলর হিসাবে তার চতুর্থ মেয়াদ শেষ করবেন ২০২১ সালে। তখন দেশটির প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কাজেই ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানির নেতৃত্বে তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত থাকলেও এটা এক অর্থে হবে সাময়িক দায়িত্ব পালন।
তার ক্ষমতার শক্ত ভিত প্রথম নড়ে যায় যখন শরণার্থীদের জন্য জার্মানির উন্মুক্ত-দ্বার নীতির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে পড়তে হয়। তার এই নীতির ফলশ্রুতিতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দেশটির চরম ডান-পন্থিরা এবং তার দল প্রায় ৭০ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করে ২০১৭ সালে।
অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেছেন, কোন রাজনৈতিক পদ নিয়ে তার ভবিষ্যত কোন পরিকল্পনা নেই। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, দুই জার্মানি একত্রিত হবার পর থেকে তিনি কোন না কোন রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখন পর্যন্ত একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন।
যখন তার বয়স মাত্র দু’মাস তখন তার বাবাকে পূর্ব জার্মানির এক ছোট্ট শহরের এক গির্জার ধর্মযাজকের দায়িত্ব দেয়া হয়।  চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের সরকারে মারকেল প্রথম দায়িত্ব নেন নারী ও তরুণ বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে। কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে বার্লিনের উপকণ্ঠে এক গ্রাম এলাকায় বড় হয়েছেন অ্যাঙ্গেলা মারকেল। পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট করে অ্যাঙ্গেলা কাজ নেন পূর্ব বার্লিনের একটি বিজ্ঞান অ্যাকাডেমিতে রসায়নবিদ হিসাবে। ১৯৭৭ সালে সহপাঠী ছাত্র উলরিখ মারকেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু চার বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
১৯৮৯ সালের মধ্যে তিনি পূর্ব জার্মানিতে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গতিশীল হয়ে ওঠে তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর বার্লিন প্রাচীর যখন ভেঙে ফেলা হয়, তখন পূর্ব জার্মানিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তিনি পূর্ব জার্মান সরকারের মুখপাত্র হিসাবে কাজ নেন। ১৯৯০ সালে জার্মানির একত্রীকরণের দু’মাস পর তিনি মধ্য দক্ষিণপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেট পার্টিতে (সিপিইউ) যোগ দেন। পরের বছর চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের সরকারে তিনি মহিলা ও তরুণ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
মি: কোল অবৈধ অর্থ লেনদেনের এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লে অ্যাঙ্গেলা মারকেল ১৯৯৯ সালে তার পদত্যাগ দাবি করেন। ২০০০ সালে সিপিইউ দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে তিনি জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলর হন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তাকে দেখা হতো অনাকর্ষণীয় প্রাদেশিক সাদামাটা একজন নেতা হিসাবে। কিন্তু প্রথম থেকেই সেই ভাবমূর্তি তিনি ঝেড়ে ফেলতে উদ্যোগী হন তার পোশাকআশাক ও চেহারার পরিবর্তন ঘটিয়ে। তিনি চুলের স্টাইল বদলান, উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরতে শুরু করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে ইয়োকিম সয়ারকে বিয়ে করেন।
প্রথম সরকার গঠন করেন মধ্য বামপন্থী সোসাল ডেমোক্রেটদের সঙ্গে একটা মহাজোট করে। অ্যাঙ্গেলা মারকেলের চ্যালেঞ্জ বাড়ে যখন তাকে ইইউ’র ‘প্রকারান্তরে নেতা’ বলে বর্ণনা করা শুরু হয়। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি ব্যবসা-বান্ধব ফ্রি ডেমোক্রেট দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করেন। 
ইউরোপ যখন অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি ব্যয় সঙ্কোচের প্রতীক হয়ে ওঠেন। দক্ষিণ ইউরোপের উপর্যুপরি ঋণ সমস্যার মোকাবিলায় তিনি ব্যাপক বাজেট হ্রাস এবং কড়া নজরদারির সুপারিশ করেন।
সমালোচকরা বলেন, তিনি অর্থসঙ্কট সামাল দিতে বাড়তি অর্থসাহায্য দেবার ব্যাপারে প্রথমদিকে অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু ইউরোজোনের আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে জার্মানিই পরে সবচেয়ে বড় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এবং ইউরোর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ইইউর প্রয়াসের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন অ্যাঙ্গেলা মারকেল।
গ্রিস ও স্পেনে বিক্ষোভকারীরা ব্যয়সঙ্কোচন নীতি বলবৎ করার জন্য জার্মানিকে দোষারোপ করে এবং মিসেস মারকেলকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে। কিন্তু এই সঙ্কটের মধ্যে জার্মানির শক্ত অর্থনৈতিক অবস্থান, বেকারত্বের নিচু হার এবং বেশ ভাল মাত্রার রপ্তানি দেশের ভেতর তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। জার্মানির মানুষ ব্যাপকভাবে মনে করে কঠিন সময়ে তিনি দেশের জন্য নিরাপদ একজন নেতা।
২০১৩ সাল নাগাদ ব্যয়সঙ্কোচন নীতি সম্পর্কে তিনি অপেক্ষাকৃত নমনীয় মনোভাব নেন। তিনি বলেন, বেকারত্ব সমস্যা মোকাবেলার জন্য ইউরোপের শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করা দরকার, যাতে তরুণরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ খোঁজার সুযোগ পান।
মিসেস মারকেলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসে যখন অভিবাসী ও শরণার্থীরা তাদের গন্তব্য হিসাবে বিপুল সংখ্যায় পাড়ি জমায় সফল অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে, দেখা যায় জার্মানিতে আশ্রয় পাবার জন্য কয়েক বছর ধরে অপেক্ষারত এক শরণার্থী নারীকে চ্যান্সেলর সান্তনা দেবার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ এটাকে ভাল চোখে দেখেনি। তারা মনে করেছে তিনি সহমর্মিতা দেখান নি।
কিন্তু দলে দলে নতুন শরণার্থী আসার ¯্রােত যখন বাড়তে থাকে তিনি জার্মানির সীমান্ত খুলে দেন। শরণার্থীরা ইইউ’র যে দেশ দিয়ে ইউরোপে ঢুকছে সেখানে তাদের আশ্রয়াপ্রার্থী হিসাবে নাম নথিভুক্ত করার ইইউ নীতি তিনি সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেন।
জাতিসংঘ তার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গীর ভূয়সী প্রশংসা করে। তিনি টাইম সাময়িকীতে সেবছরের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নির্বাচিত হন এবং তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘প্রকারান্তর নেতা’ ঘোষণা করা হয়। লাখ লাখ জার্মান নাগরিক তার এই বার্তায় কণ্ঠ মিলিয়ে বলে ‘আমরা মানিয়ে নেব’।
কিন্তু এই উন্মুক্ত-দ্বার নীতিকে সবাই স্বাগত জানায় নি। চরম দক্ষিণপন্থীরা এই নীতির বিরোধিতা করে প্রচারণায় নামে। দেশের পূর্বাঞ্চলে তারা ইসলাম-বিরোধী প্রচারণায় তৎপর হয়ে ওঠে। প্রচারণা পূর্বাঞ্চলের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যত্রও।
এরপর নববর্ষের এক অনুষ্ঠানে অভিবাসীদের দিক থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং গ্রীষ্মকালে ইসলামী চরমপন্থি গোষ্ঠির হামলা এই প্রচারণাকে শক্ত ভিত্তি দেয়। ধাক্কা খায় মিসেস মারকেলের জনপ্রিয়তা। তিনি স্পষ্ট করে না বললেও এক রকম স্বীকার করতে বাধ্য হন তিনি ভুল করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি পারতাম ঘড়ির কাঁটা কয়েক বছর পেছনে নিয়ে যেতাম, শরণার্থীর ঢল সামাল দেবার জন্য।’ 
সেপ্টেম্বর ২০১৭’র সাধারণ নির্বাচনে তার সিডিইউ দল খুবই খারাপ ফল করে। ১৯৪৯সালের পর এটাই ছিল দলের সবচেয়ে শোচনীয় ফল, যা ছিল মিসেস মারকেলের প্রতি জনসমর্থন তলানিতে যাওয়ার ইঙ্গিত।
বেশ কয়েকমাস আগেই মিসেস মারকেল ঘোষণা করেছিলেন দলের প্রধানের পদের জন্য তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এবং বর্তমান মেয়াদের পর চ্যান্সেলর পদের জন্যও তিনি আর দাড়াবেন না। সমালোচকরা অনেকেই বলেছেন, দলের খারাপ ফল থেকে এটা পরিষ্কার তার আগামীতে জেতার সম্ভাবনা সম্ভবত ক্ষীণ। কিন্তু কারণ যাই হোক ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেট দলের তিনিই সবচেয়ে বেশি মেয়াদে থাকা দলীয় প্রধান এবং আধুনিক জার্মানিতেও তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতাসীন নেতা।