Wednesday, November 25, 2009

মেধাবীরা পেল পুরস্কার -চারদিক by সাইফুল সামিন

ছেলেটা প্রায় বখেই গিয়েছিল। কিন্তু কী অবাক কাণ্ড! সে-ই কিনা বিএসএস সম্মান পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হলো। এও কি সম্ভব!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অকাল প্রয়াত অধ্যাপক সিতারা পারভীনের সান্নিধ্যে একবার যে শিক্ষার্থী এসেছে, তাদের জীবন এমনভাবেই বদলে গেছে। এই যেমন, কাজী এম আনিসুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন ছাত্ররাজনীতিতে। সে চক্রে পড়ে তিনি নিয়মিত শুরু করেন মারামারি-কাটাকাটি আর ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছাত্রনেতাদের পিছু পিছু ঘোরাঘুরি। ছেলেটার পড়ালেখায় মন নেই, মন নেই ক্লাসেও। ব্যাপারটা নজরে এল বিভাগের অধ্যাপক সিতারা পারভীনের। ছেলেটাকে ক্লাস শেষে দেখা করতে বললেন তিনি। নরম সুরে তিনি ওকে দিলেন মানুষ হওয়ার মন্ত্র। এই মন্ত্রবলেই বদলে গেল আনিসুলের জীবন। নিয়মিত ক্লাসে আসা শুরু হয় তাঁর, ঠিক ঠিক মনও থাকে ক্লাসে। প্রায় রসাতলে যাওয়া সেই আনিসুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০০৭ সালের বিএসএস সম্মান পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হলেন।
একে কী বলা যায়? কোন বিশেষণে একে বাঁধব? অদ্ভুত, আশ্চর্য, নাকি অন্য কিছু? সময়ানুবর্তিতা, সততা, কর্মনিষ্ঠতার প্রতীক অধ্যাপক সিতারা পারভীন এমনই ছিলেন। মানুষ গড়া ছিল তাঁর পেশা আর নেশা। তাঁর পরামর্শ অনুসরণ করে পথহারা অনেক শিক্ষার্থীই পেয়েছেন পথের দিশা। কিন্তু এ মানুষটিই বড় অকালে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন চিরতরে। ২০০৫ সালের ২৩ জুন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। সিতারা পারভীন চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ চিরঞ্জীব হয়ে আছে। তাঁর জীবনাদর্শ, নীতি-নৈতিকতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে অধ্যাপক সিতারা পারভীন স্মৃতি পুরস্কার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রতিবছর অনার্স সম্মান পরীক্ষায় প্রথম ১০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
১৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ মিলনায়তনে ২০০৭ সালে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনার্স সম্মান পরীক্ষায় প্রথম ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন কাজী এম আনিসুল ইসলাম, উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল, মোহসিনা ইসলাম, মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত, এ এইচ এম ইয়াসিন, মিনহাজ উদ্দিন, তানিয়া আফরিন, রাজীব আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ রেজা-উল করিম শাম্মী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নীরবতা পালন করে সিতারা পারভীনের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তাঁর আবেগঘন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের নিয়ে যান অধ্যাপক সিতারা পারভীনের কর্মময় দিনগুলোতে। তিনি বলেন, সিতারা পারভীনের সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারি, সততা, কর্মদক্ষতার প্রতিফলন এ প্রজন্মের মানুষের মধ্যে আজকাল আর তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না।’
সিতারা পারভীন ছিলেন এক অন্য রকম মানুষ। সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও অতি সাধারণ জীবন যাপন করতেন তিনি। তাঁর বেশ-ভূষায় ছিল না কোনো আভিজাত্যের ছোঁয়া। তাঁর অমায়িক আচার-ব্যবহারে ছিল না কোনো অহমিকা। তাই অতি সহজেই তিনি মিশে যেতে পারতেন তাঁর সহকর্মী কিংবা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তিনি ছিলেন সবার থেকে আলাদা। সর্বদাই তিনি ললিতকণ্ঠে শিক্ষার্থীদের শোনাতেন জীবনের কথা। তাঁর পাঠদান-প্রক্রিয়ায় সিলেবাসভুক্ত বিষয়াবলির বাইরেও স্থান পেত নানা বিষয়। সিতারা পারভীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের সাধারণ আদব-কায়দার শিক্ষা দিতেন। তাঁর নীতি-নৈতিকতা, সততা, কর্মস্পৃহা, দায়িত্বশীলতা, কর্মদক্ষতা সত্যিই বিরল। এমন মানুষ কোথায় মিলবে!
প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া কাজী এম আনিসুল ইসলাম তাঁর অনুপ্রেরণার উত্স হিসেবে সিতারা পারভীনকেই দেখেন। তাই তো তিনি সিতারা পারভীনকে অভিহিত করলেন ‘শিল্পী’ হিসেবে; যিনি আমৃত্যু নিঃস্বার্থভাবে নিপুণ কারিগরের মতো মানুষ গড়ে গেছেন। তাতেই ছিল তাঁর সুখ। আর তাই তো সিতারা পারভীন মরেও অমর হয়ে আছেন। সিতারা পারভীনকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রথম শ্রেণীপ্রাপ্ত অপর শিক্ষার্থী মোহসিনা ইসলাম আবেগতাড়িত হয়ে বললেন, ‘মা যেমন তাঁর সন্তানদের আগলে রাখেন, সিতারা আপাও তেমনিভাবে আমাদের আগলে রাখতেন। তাঁর অনুপ্রেরণা হতাশ বুকেও আশা জাগায়। অধ্যাপক সিতারা পারভীন চলে গেছেন। কিন্তু রয়ে গেছে তাঁর কর্ম, আদর্শ, জীবনদর্শন। এসবই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগের পর যুগ। তাঁর শারীরিক উপস্থিতি হয়তো আমরা টের পাই না। কিন্তু তিনি আছেন সবার অন্তরে, সবার চেতনায়।

বিনিয়োগের চালচিত্র ও সম্ভাব্য করণীয় -অর্থনীতি by মামুন রশীদ

উন্নত অনেক দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও বাংলাদেশে কিন্তু গেল এক-দেড় বছরে আমরা ইতিবাচক ধারাই লক্ষ করেছি। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আমাদের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) ৫ দশমিক ৯ শতাংশসহ রপ্তানি খাতে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স আয়ে ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তথাপি আমাদের অর্থনীতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। কারণ চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের রপ্তানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে জুলাইয়ের তুলনায় পাঁচ শতাংশ আর জুলাইয়ে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ রপ্তানি কমেছে। সেপ্টেম্বরে কমেছে আরও বেশি। তবে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে রপ্তানি বাড়বে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার প্রায় ছয় শতাংশ, আমদানি এলসি নিষ্পত্তির হার ২০ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্র নিষ্পত্তির হার ২২ শতাংশ কমেছে। চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহও কমেছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ ২১ শতাংশ বাড়ে, যা কিনা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৬ শতাংশ কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এই হার ১৪ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আর চলতি অর্থবছরে তা এখনো পর্যন্ত কমতির দিকেই রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ বেড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।
সার্বিকভাবে শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণ বিতরণের পরিমাণও কমছে। দেশের আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে শিল্প খাতে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
২০০০-০১ অর্থবছরে দেশে মোট বিনিয়োগ হয়েছে এক হাজার ৮০ কোটি ডলার, যা তত্কালীন জিডিপির ২৩ শতাংশ। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে মোট বিনিয়োগ হয়েছে দুই হাজার ১৬০ কোটি ডলার, যা জিডিপির ২৪ শতাংশের সমান। ডলারের হিসাবে দেশে মোট বিনিয়োগ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু জিডিপির হিসাবে বিনিয়োগ বেড়েছে মাত্র এক শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে এরই মধ্যে জিডিপির ১৯ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় সরকারি খাতের বিনিয়োগ তেমন বাড়ছে না। প্রত্যেক অর্থবছরেই এডিপি সংশোধন তথা কাটছাঁট করে ছোট করতে দেখা যায়।
২০০৮ সালে অবশ্য সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে আশাবাদের সঞ্চার হয়। এই বছরে দেশে এফডিআই ১০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়, যা ২০০৭ সালে ছিল ৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তবে এফডিআই-প্রবাহ আবার কমতে শুরু করেছে। দেশে বিনিয়োগপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য নিম্নোক্ত কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে:
অবকাঠামো উন্নয়ন: দেশে বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমস্যাসহ পরিবহনব্যবস্থা অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে। এর ওপর তীব্র জ্বালানিসংকট তো আছেই। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অবকাঠামো খাতের ব্যাপক উন্নয়ন আর জ্বালানি (গ্যাস ও বিদ্যুত্) সংকটের সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যুত্ খাতে বিশেষ করে বেসরকারি ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) মাধ্যমে স্বতন্ত্র বিদ্যুেকন্দ্র (আইপিপি), ক্ষুদ্র বিদ্যুেকন্দ্র (এসপিপি) ও পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে জোর দিতে হবে। জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের বিষয়ে জোর দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত আঞ্চলিক বিদ্যুত্ গ্রিড স্থাপনের সম্ভাব্যতাও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। বিকল্প জ্বালানি সমাধান এবং নীতিনির্দেশনার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কয়লানীতি প্রণয়ন করতে হবে। এ ছাড়া গভীর সমুদ্রবন্দর ও এক্সপ্রেস হাইওয়ে স্থাপন এবং মেট্রো রেল চালু করলে অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।
বেসরকারি খাতের উন্নয়ন: বর্তমান সময়ে বেসরকারি খাতকে বলা হয় উন্নয়নের চাবিকাঠি। দেশে এখনো বেসরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার যেমন অভাব আছে, তেমনি করপোরেট সুশাসনেও বেশ ঘাটতি রয়েছে। সেই সঙ্গে মানবসম্পদের ব্যবস্থাপনা ও মেধাবী তরুণদের আকৃষ্ট করা এবং ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে। সরকার চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি-বেসরকারি খাতে অংশীদারিত্বে (পিপিপি) কাজ করার লক্ষে দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আমাদের বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তহবিলের তীব্র সংকট থাকে, সেখানে পিপিপির ভিত্তিতে কাজ করার ধারণা খুবই যুগোপযোগী।
নতুন বিনিয়োগ ক্ষেত্র: দেশে এখনো টেলিযোগাযোগ, বস্ত্র ও ব্যাংক খাতেই বেশি করে বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ যেহেতু কৃষিপ্রধান দেশ, সেহেতু এই খাতেও বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপারে জোর দিতে হবে। কারণ কৃষির বিভিন্ন উপখাত, যেমন—সার ও বীজ, কোল্ড স্টোরেজ, পিসি কালচার, পশুসম্পদ, হাঁস-মুরগি (পোলট্রি), মাংস রপ্তানি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সেচ যন্ত্রপাতি প্রভৃতিতে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এতে কৃষির বাণিজ্যিকায়ন ত্বরান্বিত হবে।
হালকা প্রকৌশল, গ্লাস সিট, মেলামাইন ও সিরামিক-পণ্যের ব্যাপক রপ্তানি সম্ভাবনা থাকায় এসব শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। জোর দিতে হবে বিশ্ববাজারে আমাদের চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ানো এবং আমদানি বিকল্প পণ্য উত্পাদনে। এ ছাড়া বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মানসম্পন্ন বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে জোর দিতে হবে। যেন দেশে অধিক সংখ্যায় মানবসম্পদ সৃষ্টি হয় এবং উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করা যায়।
উন্নত চিকিত্সার জন্য আমাদের দেশের নাগরিকেরা প্রতিবছর বিদেশে ২০ কোটি ডলারের মতো খরচ করে। সে জন্য দেশে উন্নত চিকিত্সাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও দক্ষ চিকিত্সক তৈরি করতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে। এতে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, তেমনি দেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ ওষুধশিল্পেও বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালাতে পারে।
পুঁজিবাজারের উন্নয়ন: বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা ৪৪৩ এবং বাজার মূলধনের যে আকার তা জিডিপির ২৫ শতাংশের সমান, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় কমই। গত দুই বছরে গ্রামীণফোন, ম্যারিকো বাংলাদেশ, তিতাস গ্যাসসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যেও মার্চেন্ট ব্যাংকিং শাখা খোলার পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড ছাড়ার আগ্রহ বাড়ছে। বুক বিল্ডিংয়ের সূচনাটাও দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। ব্যাংক খাতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাসেল-২ চালু করায় ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে ডেট ইনস্ট্রুমেন্ট বা ঋণ-উপকরণের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী হবে বলে আশা করা যায়। এর ওপর সিকিউরিটাইজেশন, করপোরেট বন্ড, বিভিন্ন ধরনের ডেরিভেটিভস ও কমার্শিয়াল পেপার ইত্যাদি প্রচলনেরও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের পুঁজিবাজারে কিছু সংস্কারসহ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অনেক জোরদার হয়েছে এবং তদারকিও বেড়েছে। এ ধরনের ইতিবাচক অবস্থায় পুঁজিবাজারে যাতে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, সেদিকে গভীর মনোযোগ দেওয়া দরকার। দেশের পুঁজিবাজারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে পুঁজিবাজারে নতুন নতুন শেয়ারের চাহিদা মেটানো, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্ত পরিবেশন, পোর্টফলিও ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব, মূল্যবৈষম্য ও আনুষ্ঠানিক ঋণবাজারের ঘাটতি দূরীকরণ, স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য প্রতিষ্ঠান ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সেবার মান বাড়ানো এবং গবেষণা ইত্যাদি বিষয়ে জোর দিতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট ট্যাক্সের ব্যবধানও বাড়ানো প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মতো পশ্চিমা কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা চালাতে হবে। সরকারও পরিবহন তথা যোগাযোগব্যবস্থাসহ অবকাঠামো খাতের বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করার পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ছাড়া কার্যকর আইন ও বিধিবিধানের ওপরও জোর দিতে হবে, যাতে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এ দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
আন্তর্জাতিক (বিনিয়োগ) সম্পর্ক: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে আকৃষ্ট করতে হলে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকেও মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম দেশগুলো এবং প্রতিবেশী ভারত, চীন ও সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশের বিনিয়োগ দেশে আনার ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। দেশের বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজারের কথাও ফলাও করে প্রচার করতে হবে।
আমাদের সামনে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভাবনা রয়েছে। অবকাঠামো খাতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ ও প্রচলিত আইনকানুন সংশোধন ও যুগোপযোগী করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ এবং সম্পদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মনোযোগ দিতে হবে সম্পদ সৃষ্টি ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে। এই পদক্ষেপগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে। তবে এসব কথা বলা যত সহজ বাস্তবায়ন করাটা ততই কঠিন। কিন্তু বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের আর কোন গত্যন্তর নেই।
মামুন রশীদ: ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিষয়ক বিশ্লেষক।

বাঙালি পরীক্ষকদের সৃজনশীলতা -গদ্যকার্টুন by আনিসুল হক

আমাদের দেশপ্রেমিক শিক্ষা-বিশেষজ্ঞরা বুদ্ধি খাটিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একটা সমস্যার সমাধান বের করলেন। সমস্যাটা হলো, স্কুলের শিক্ষার্থীরা বড় বেশি নোটবই, গৃহশিক্ষক, কোচিং সেন্টার আর মুখস্থবিদ্যার ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে তাদের সৃজনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে তাঁরা আবিষ্কার করলেন সৃজনশীল প্রশ্ন। প্রশ্নপত্রে দেওয়া থাকবে একটা অনুচ্ছেদ। শিক্ষার্থীরা প্রথমে সেই লেখাটা পড়বে। তারপর কিছু প্রশ্ন থাকবে। শিক্ষার্থীরা নিজের কল্পনা আর সৃজনশীলতা মিশিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে। এই অনুচ্ছেদটা কী, সেটা কোনো নোটবইয়ে দেওয়া থাকবে না। এর উত্তরও মুখস্থ লিখতে হবে না। ছাত্রছাত্রীরা বানিয়েই লিখতে পারবে। এর ফলে তাকে আর নোটবই মুখস্থ করতে হবে না। কোনো কোচিং সেন্টারে যেতে হবে না। কোনো গৃহশিক্ষকের কাছে বসতে হবে না।
খুবই ভালো কথা। কিন্তু বাঙালি ব্যবসায়ীদের সৃজনশীলতা সম্পর্কে এই সজ্জন ও সাধু ব্যক্তিদের ধারণা একটু কমই ছিল। নতুন প্রবর্তিত এই সৃজনশীল প্রশ্ন ও তার উত্তরকেই নোটবই ব্যবসায়ী ও কোচিং সেন্টার ব্যবসায়ীরা করে তুললেন তাঁদের বাণিজ্যের নতুন উপায়। বাজারে এখন বেরিয়েছে অনেকগুলো নতুন নোটবই, সেসবের বিষয় হলো, সৃজনশীল প্রশ্ন। রাস্তায় রাস্তায় পোস্টার পড়েছে, সৃজনশীল প্রশ্ন বিষয়টা কী, কীভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, জানতে হলে আজই কিনুন সৃজনশীল প্রশ্ন গাইড। পাঁচ শ সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরসংবলিত। হায়, আমাদের প্রিয় শিক্ষকেরা কী চাইলেন, আর বাস্তবে কী ঘটতে লাগল।
আমি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে বলেছিলাম, স্যার, আপনাদের ওই সৃজনশীল প্রশ্ন আর উত্তর নিয়েই তো নতুন গাইড বই বের হয়ে গেছে। স্যার জবাব দিলেন, বের হোক, কোনো লাভ হবে না, ওই গাইড বই থেকে কোনো প্রশ্ন আসবে না, শিক্ষার্থীদের নিজের সৃজনশীলতা দিয়েই নতুন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
ওই সব নোটবই পড়ে শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হবে না, সে তো জানা কথাই। তবে ওই সব নোটবই কিনলে যে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে, তাও আমাদের অজানা নয়।
আর শিক্ষার্থীদের বা তাদের অভিভাবকদের ভয় পাওয়ারও কোনো কারণ নেই। বাচ্চারা নিজেদের মতো করে খুব সুন্দর করে লিখবে। তারা নিজেদের মতো করে ভাববে, লিখতে, নিজেকে উপস্থাপন করতে শিখবে।
সৃজনশীল প্রশ্নের মতো সুন্দর বিষয়টাকেও নোটবই ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসার সৃজনশীল একটা উপায় হিসেবে ব্যবহার করছেন, তাই নয়, এটা দেখা যাচ্ছে, আমাদের প্রশ্নকর্তাদেরও সৃজনশীলতার পথ খুলে দিয়েছে।
গত কয়েক দিনে কাগজে অনেকগুলো প্রশ্নের নমুনা খবর হয়ে এসেছে। ‘হাসিনা ও খালেদা দুই বান্ধবী। তাঁরা দুজন টিভি দেখছিলেন। নামাজের সময় হলো। খালেদা নামাজ পড়তে গেলেন। হাসিনা বললেন, মন চায় নাই, তাই যাই নাই।’
‘মাওলানা নিজামী খুব ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি।’ ‘হাসিনার বান্ধবী মতিয়া।’
নানা ধরনের সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন করছেন আমাদের শিক্ষকেরা। আমাদের শিক্ষকেরা যে এত সৃজনশীল, তা আমাদের জানাই ছিল না। আমাদের ব্যবসায়ীরা যে এত উদ্ভাবনী প্রতিভার অধিকারী, তা-ই বা কে জানত!
এখন বাস্তবক্ষেত্রে প্রমাণিত হলো, শিক্ষা-বিশেষজ্ঞরা চলেন ডালে ডালে, আর অন্যেরা চলেন পাতায় পাতায়।
শিশুদের সৃজনশীলতা নিয়ে আমাদের কোনোই সন্দেহ নেই। তাদের কল্পনাশক্তি অপরিসীম আর সুযোগ দিলে তার প্রমাণ তারা রাখে হরহামেশাই।
বিদেশে একবার বিশেষজ্ঞরা চার থেকে আট বছরের বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘ভালোবাসা কী?’
খুব সুন্দর সুন্দর উত্তর দিয়েছিল বাচ্চারা।
যেমন—একজন লিখেছিল, ‘আমার দাদি যখন পায়ে নেইলপলিশ দিতে পারেন না, তখন দাদার বাতের ব্যথা হওয়া সত্ত্বেও দাদা দাদির পায়ে নেইলপলিশ লাগিয়ে দেন। এটা হলো ভালোবাসা।’
আরেকজন লিখেছিল, ‘ভালোবাসা হচ্ছে—যখন একটা মেয়ে গায়ে সুগন্ধি মাখে, আর ছেলে গালে আফটার শেভ লোশন দেয়, তারপর তারা বাইরে যায় আর একে অন্যের সুগন্ধ উপভোগ করতে থাকে...।’
এই রকম করে একেকজন বাচ্চা একেকটা জিনিস লিখেছিল। সেসবের কয়েকটা নিচে দেওয়া হলো:
‘ভালোবাসা হচ্ছে তা, যখন তুমি কারও সঙ্গে বাইরে যাও, সে তার থালা থেকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস তোমার পাতে তুলে দেয় আর তার বদলে তোমাকে তার পাতে কিছুই দিতে হয় না।’
‘ভালোবাসা হচ্ছে যখন তোমার মুখে হাসি থাকে অথচ তুমি আসলে খুবই ক্লান্ত।’
‘ভালোবাসা হচ্ছে— মা আমার বাবার জন্য কফি বানায়, আর বাবাকে তা দেওয়ার আগে একটু চেখে দেখে কফির স্বাদ ঠিক হয়েছে কি না!’
‘ভালোবাসা কী যদি তুমি শিখতে চাও, তাহলে তুমি সেটা শুরু করতে পারো, তুমি যাকে সবচেয়ে ঘৃণা করো তাকে তুমি ভালোবাসতে আরম্ভ করো।’
‘ভালোবাসা হচ্ছে—কেউ তোমাকে বলে, তোমার শার্টটা সুন্দর আর তুমি সেটা রোজ পরতে শুরু করো...।’
‘ভালোবাসা হচ্ছে এক বুড়ো আর বুড়ি, তাঁদের মধ্যে এখনও অনেক বন্ধুত্ব, যদিও নিজেদের সম্পর্কে জানার কিছুই তাদের বাকি নেই।’
‘আমি যখন মঞ্চে পিয়ানো বাজানোর জন্য উঠেছিলাম আর ভয় পাচ্ছিলাম, তখন আমি দেখলাম, বাবা আমার দিকে তাকিয়ে আছেন হাসিমুখে, তিনি হাত নাড়ছেন, আর কেউ সেটা করেনি আর আমার ভয় চলে গেল...এই হলো ভালোবাসা।’
‘আমার মা আমাকে এই দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। আর কেউ কি আছে যে আমাকে আমার ঘুমের মধ্যেও চুমু খায়?’
‘ভালোবাসা হচ্ছে যখন বাবা ঘর্মাক্ত আর নোংরা থাকেন, তখনো মা বলেন, তুমি এই পৃথিবীতে সবচেয়ে হ্যান্ডসাম।’
‘আমার বড় বোন আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, কারণ সে তার কাপড়চোপড়গুলো আমাকে দিয়ে দেয়। আর বেচারিকে কাপড়ের জন্য দোকানে যেতে হয়।’
‘কাউকে কখনো বলা উচিত না যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। যদি তুমি সেটা বিশ্বাস না করো। আর যদি সত্যি তুমি তাকে ভালোবাসো, তাহলে অনেকবার বলো। কারণ মানুষ খুব ভুলে যায়।’
আর এই বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো যে বলেছিল, তার উক্তি, ‘আমার বাড়ির পাশের একজন বুড়ো মানুষের বউ মারা যান। আমি তাঁর কাছে যাই। তাঁর কোলে বসে থাকি। মা জিজ্ঞেস করলেন, জন, তুমি ভদ্রলোককে কীভাবে সাহায্য করলে। আমি বললাম, কিছুই না। আমি শুধু তাকে কাঁদতে সাহায্য করেছি।’
তো দেখা যাচ্ছে বাচ্চারা খুব সুন্দর করে বলতে পেরেছে লাভ বা প্রেম বা ভালোবাসা কী?
এইবার একটা কৌতুক।
চিকিত্সকের কাছে গিয়ে একজন বললেন, ‘আমি ড্রাইভিং টেস্টের সময় খুব নার্ভাস হয়ে পড়ি।’
চিকিত্সক বললেন, ‘ভয় পাবেন না। আপনি ঠিকই পাস করবেন।’
রোগী বলল, ‘ডাক্তার সাহেব, আমি নিজেই তো পরীক্ষক।’
এবার আমাদের পরীক্ষকদের পাস করার পালা।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

কোরবানির পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি -দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন

রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর চাহিদা মেটাতে ঈদুল আজহার আগের দিনগুলোতে গবাদিপশু পরিবহনের সংখ্যা অনেক গুণে বেড়ে যায়। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রধান শহরগুলোতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। পশু পরিবহনে ব্যবসায়ীদের নানা জায়গায় অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে এবার সরকার আগে থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু এবারও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি। পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি হলে কোরবানির পশুর দাম বৃদ্ধি পায়, যার মাশুল গুনতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের।
গত সোমবারের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীতে পশু আসতে নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাকে পশু পরিবহনের সময় চাঁদাবাজির নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব চাঁদাবাজিতে স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে এখনই সতর্ক না হলে আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
কোরবানির পশুর বাজারেও চাঁদাবাজির প্রভাবে দাম বৃদ্ধি পাবে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পশু পরিবহনে নিরুত্সাহিত বোধ করতে পারেন। শহরগুলোতে পশুর সরবরাহে নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের। গবাদিপশুর হাটে, মহাসড়ক ও নৌপথে চাঁদাবাজিমুক্ত পশু পরিবহন নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এখনই পাহারা জোরদারসহ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, আগের বছরগুলোতে দেখা গেছে, অনেক সময় রাস্তাঘাট বন্ধ করে পশুর হাট বসানো হয়। এতে স্থানীয় লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্যে ও চলাফেরায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে। এবার যেন কোনো অবস্থাতেই রাস্তা বন্ধ করে হাট না বসানো হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল পদ্ধতি -এর কোনো বিকল্প নেই

স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল-ব্যবস্থা নতুন করে মেনে চলার প্রথম দিনে যানজটের খবর প্রকাশিত হয়েছে পত্রপত্রিকায়। নগরবাসীদের যা অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে তাদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। বিশ্বের সব আধুনিক শহরেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রিত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল-ব্যবস্থা থাকার পরও ঘোষণা দিয়ে তা কার্যকর করতে হয় এবং তার কী প্রতিক্রিয়া হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণেই বাস্তব পরিস্থিতি আজ এখানে এসে ঠেকেছে। শুরুতে অভিজ্ঞতা যা-ই হোক, আমরা মহানগর পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
যানজটের কারণে নগরবাসীকে কী পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রতিদিনই অসহায়ভাবে যানজট সহ্য করে যেতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ঢাকা শহরের আয়তন ও লোকসংখ্যা অনুযায়ী যে পরিমাণ রাস্তা থাকা উচিত, তার অভাব ও গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধিকে যানজটের স্বাভাবিক কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এটা বাস্তব, কিন্তু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির বিষয়টিও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল-ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারেনি ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু কেন? আইন ও নিয়ম মানতে যদি নাগরিকদের বাধ্য করা না যায়, তা ট্রাফিক পুলিশ বা সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবেই মানতে হবে।
ঢাকা শহরের যানবাহনের সংখ্যা, কোন মোড়ে মিনিটে কী পরিমাণ গাড়ি অতিক্রম করে—এ ধরনের নানা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্যাপক আয়োজন করে ঢাকায় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এর পর আমরা দেখলাম, একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ও ট্রাফিক পুলিশের হাত—দুটোই চলছে। সবুজ বাতি জ্বলে আছে, এর পরও গাড়ি থেমে আছে বা ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটকে রেখেছেন। আবার লাল বাতি জ্বলা অবস্থায় পুলিশ গাড়ি যেতে ইশারা করছে। কোনো সভ্য দেশ বা আধুনিক নগরের লক্ষণ এটা নয়। মহানগর পুলিশের কমিশনার শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যে এর কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় বাতির মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কেন কার্যকর করা যায়নি, সে ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। তিনি বলেছেন, পিক ও অফ পিক আওয়ারে যানবাহনের চাপ একেক দিকে একেক রকম থাকায় সিগন্যাল অমান্য করে ট্রাফিক পুলিশকে যান নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে। আমাদের বক্তব্য, এটা যদি সমস্যা হয়ে থাকে, তবে সিগন্যাল-ব্যবস্থা সমন্বয় করতে সমস্যা কোথায়? এ সমস্যা খুঁজে বের করতে এত সময় লেগে গেল! যা-ই হোক, এখন সমস্যার একটি দিক যখন চিহ্নিত করা গেছে তখন দ্রুত এর সুরাহা করা হবে, সে আশা আমরা করতে পারি। আর আগে যানবাহনের যে সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন রাস্তায় সিগন্যালের যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে, কারণ যানবাহনের সংখ্যা ও চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে। অনেক মোড়ে সিগন্যাল বাতি অকার্যকর রয়েছে, সেগুলো ঠিক করতে হবে।
একই সঙ্গে আরও কিছু দিক বিবেচনায় রাখা জরুরি বলে আমরা মনে করছি। সিগন্যাল অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এমনকি বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া যদি কোনো ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল অমান্য করে নিজেদের মতো যান নিয়ন্ত্রণ করে, তবে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এ জন্য তদারকির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতি করা গেলে যানজটের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমানো যাবে। এ ক্ষেত্রে উল্টো রাস্তায় যানবাহন, বিশেষ করে রিকশা চালানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা জরুরি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সামনে উল্টো পথে গাড়ি চলতে দেখা যায়। অনেকে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালান—এটা চলতে পারে না। ফুটপাতগুলো যাতে হাঁটার উপযোগী থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল-ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার কোনো বিকল্প নেই। এখন যেসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে সে অনুযায়ী সমস্যাগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ফ্লাইট ও আসন বাড়াবে এমিরেটস

যাত্রীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ফ্লাইট চালুর পাশাপাশি চলতি ফ্লাইটগুলোতেও আসনসংখ্যা বাড়াবে দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা এমিরেটস এয়ারলাইনস।
এমিরেটস আগামী ডিসেম্বর থেকে ব্যাংককে চতুর্থ ও সিডনিতে তৃতীয় দৈনিক ফ্লাইট চালু করবে। এ ছাড়া ম্যানিলায় সপ্তাহে দুটি ও জাকার্তায় একটি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালাবে।
ডিসেম্বর ’০৯ থেকে জানুয়ারি ২০১০ পর্যন্ত এ দুই মাসে সপ্তাহে ১৭টি নতুন ফ্লাইট চালু ও অধিক আসনসংবলিত বিমান চালু করার ফলে এমিরেটসের বিমান বহরের আসন ক্ষমতা ১৩ শতাংশ বাড়বে। ফ্লাইটসংখ্যা বাড়ার ফলে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে সপ্তাহে ১৮৭টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে এমিরেটসের।

বাংলালিংক ‘জিজ্ঞাসা’ পুরস্কার জিতেছে

সেরা মোবাইল এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ক্যাটাগরিতে এশিয়া মোবাইল অ্যাওয়ার্ড-২০০৯ জিতেছে বাংলালিংক ‘জিজ্ঞাসা’।
বিশ্বের জিএসএম অপারেটরদের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা জিএসএম অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এশিয়া মোবাইল অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
হংকংয়ে আয়োজিত মোবাইল এশিয়া কংগ্রেসে জিসিএমএর এশিয়া মোবাইল অ্যাওয়ার্ড ২০০৯-এর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বাংলালিংকের বিপণন পরিচালক শিহাব আহমেদ বাংলালিংকের পক্ষে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

ম্যাগী ২ মিনিট নুডলসের উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন

গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের রাজেন্দ্রপুরে নেসেল বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানায় নুডলস ব্র্যান্ড ম্যাগী ২ মিনিটের উত্পাদন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডের হেড অব মিশন গ্যাব্রিয়েল গেরিঘেট্টি, নেসেল বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লঁহো থেরন্ড, উত্পাদন পরিচালক জ্যোতিন্দ্র মিধাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অদ্বিতীয় স্থান। এখানে শিল্প স্থাপনে বিদেশি ও প্রবাসী বাঙালিদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে কর অবকাশসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।
নেসেল বাংলাদেশ নেসেল এসএর সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যা ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরু করে। শ্রীপুরে নেসেলর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ কারখানায় ম্যাগী নুডলস, ম্যাগী স্যুপ, নেসক্যাফে ও নিডোসহ বিভিন্ন ইনফ্যান্ট সেরিয়্যাল উত্পাদিত হয়ে আসছে।
সাতটি দেশে ৪৮১টি কারখানা এবং গবেষণা উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী নেসেলর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিনিয়োগ বোর্ড এককেন্দ্রিক সেবা আবার চালু করবে

দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এককেন্দ্রিক সেবা (ওয়ান স্টপ সার্ভিস) পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন বিনিয়োগ বোর্ডের (বিওআই) নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ।
গতকাল রোববার ঢাকা চেম্বার কার্যালয়ে কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ক্যানচেম) আয়োজিত ‘বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ক্যানচেম সভাপতি মাসুদ রহমান, সহসভাপতি জন ডগলাস হার্নস, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত রবার্ট ম্যাকদুগাল প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, সব ধরনের বিনিয়োগের অন্যতম ক্ষেত্র বাংলাদেশ। এখানে উদ্যোক্তাদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের দ্বার অবারিত। আইনের মাধ্যমে বিনিয়োগ বিশেষভাবে সংরক্ষিত। দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোক্তাদের আরও সুবিধা দেওয়া হবে।
এস এ সামাদ জানান, বর্তমানে দেশে কানাডার ২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের ৪৪টি বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে।
এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১১ হাজার ৪৭ জন মানুষের। এ বিনিয়োগ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিওআইয়ের চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি ও অপরাধ দিন দিন কমছে। এটিই প্রমাণ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
রবার্ট ম্যাকদুগাল বলেন, রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যানজট দূর করা জরুরি। এ জন্য মুখের বুলির চেয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হাতে নিতে হবে।
ক্যানচেম সভাপতি মাসুদ রহমান বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিকে (পিপিপি) অন্যতম উদ্যোগ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, বন্দর, সড়ক ও জনপথ, জ্বালানিসহ অবকাঠামো খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার।
মাসুদ রহমান আরও বলেন, সঠিক নীতিসহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা পাওয়া গেলে দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানায় অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

জ্যাকসনের দস্তানা সাড়ে তিন লাখ ডলারে বিক্রি

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের ব্যবহূত বিখ্যাত সাদা দস্তানা নিলামে সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া মাইকেল জ্যাকসনের ব্যবহূত আরেকটি কালো জ্যাকেট বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ডলারে। জ্যাকেটটি পপসম্রাট ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ভ্রমণের সময় পরেছিলেন। দস্তানাটি কিনেছেন জাজমাইন মুর নামের ১৯ বছর বয়সী একজন মাইকেলভক্ত। ফসম্যান মা নামে হংকংয়ের একজন ব্যবসায়ী জ্যাকেটটি কিনেছেন ।
নিলাম সংস্থা জুলিয়ান অকশনের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন জুলিয়ান গত শনিবার নিলামে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হওয়া সাদা দস্তানাটিকে মাইকেল জ্যাকসনের ‘হোলি গ্রেইল’ (পবিত্র বস্তু) বলে উল্লেখ করেছেন। এই দস্তানাটি এর আগে নিলামে ৫০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
কর ছাড়া কমিশনসহ এই বিখ্যাত সাদা দস্তানাটির মূল্য দাঁড়িয়েছে চার লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারে। সবকিছু মিলিয়ে জ্যাকসন পরিহিত কালো জ্যাকেটটির মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলারে।
আলোচিত এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের বিখ্যাত হার্ড রক ক্যাফেতে। শত শত রকসংগীতের ভক্ত ও নিলাম ব্যবসায়ী এই নিলামে উপস্থিত হন। এতে দস্তানা ও কালো জ্যাকেট ছাড়াও মাইকেল জ্যাকসনের একটি গাড়ি বিক্রি হয়েছে। গাড়িটি কোনো একসময় মাইকেল জ্যাকসন চালিয়েছিলেন।
দস্তানাটি কিনে জাজমাইন মুর আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি কখনোই মাইকেল জ্যাকসনকে সামনাসামনি দেখিনি। কিন্তু এই স্মারক নিলামে কিনে আমি জ্যাকসনের খুব কাছে চলে গিয়েছি।’ দস্তানাটি ১৯৮৩ সালে মাইকেল জ্যাকসন তাঁর বিখ্যাত মুন ওয়াক নাচের সময় প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। গত জুনে মাইকেল জ্যাকসন মারা যান।

মোবাইল ফোনের সফটওয়্যার নির্মাণ কর্মসংস্থানের বড় উৎস by ফখরুল ইসলাম

ফোরাম নকিয়ার এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডেভেলপার সম্পর্ক বিভাগের প্রধান কেনি ম্যাথারস বলেছেন, ‘মোবাইলে ব্যবহারোপযোগী নতুন নতুন সফটওয়্যার কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি করতে পারে। মোবাইল ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ যেহেতু একটি বড় বাজার, সুতরাং এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগও অন্য দেশের তুলনায় বেশি।’
গত সোমবার সিঙ্গাপুরের আলেকজান্ডার টেক পার্কের নকিয়া কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে কেনি ম্যাথারস সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় ফোরাম নকিয়া এশিয়ার ডেভেলপার রিলেশনস ম্যানেজার সুমিরে ফুরুইয়া, মিডিয়া অ্যান্ড ওভি সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার নেলসন উই, নকিয়া ইমার্জিং এশিয়ার কমিউনিকেশন ম্যানেজার মৌটুসি কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে গত সেপ্টেম্বরে দেশব্যাপী সফটওয়্যার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নকিয়া। শর্ত দেওয়া হয়, একেকটি দলে দুজন করে সদস্য থাকবে এবং প্রতি দলকে তিনটি করে ধারণা দিতে হবে। সে অনুযায়ী ৪০০ দল এতে অংশ নেয়। তবে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় ৩০ দলকে। এ থেকে নির্বাচন করা হয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের দুই ছাত্রের গড়া বাটারফ্লাই এবং বিজেআইটি লিমিটেড নামক দুই প্রতিষ্ঠানকে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্প্রতি প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় সিঙ্গাপুরের নকিয়া কার্যালয়ে।
দুটি দলই উইজেটের মাধ্যমে তাদের সফটওয়্যার তৈরি করে। বাটারফ্লাই দলের সদস্য আশরাফুল আবেদীন ও মাহমুদুর রহমান। আর বিজেআইটির এ কে এম আহমেদুল ইসলাম ও মঞ্জুরুল করিম। বাটারফ্লাই তৈরি করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওপর একটি সফটওয়্যার। এতে তালিকাভুক্ত যেকোনো কোম্পানির শেয়ারমূল্যের ওঠানামা স্বল্প ব্যয়ে জানা যাবে। একবার ঢুকলে গ্রামীণফোনে খরচ পড়বে মাত্র ৪১ পয়সা। শুধু মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্যই এ সফটওয়্যার।
মোবাইলের সেটিং অপশনে মিসড কল, ইনকামিং ও আউটগোয়িংয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি নম্বর সংরক্ষণ করা থাকে। এর আগের কলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। বিজেআইটি তৈরি করেছে এমন একটি সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে কল হওয়া বা কল আসা অনেক পুরোনো নম্বর ও ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) খুঁজে পাওয়া যাবে। উইজেটের মাধ্যমে তৈরি বলে এতেও খরচ অনেক কম।
নকিয়ার কেনি ম্যাথারস বলেন, ‘বাংলাদেশের উপযোগী বিভিন্ন ডিভাইস তৈরি করে ডেভেলপাররা যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে জন্যই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।’ বিজেআইটি ও বাটারফ্লাইয়ের সাফল্যে তিনি খুশি এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে এ ধরনের আরও সফটওয়্যার পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী। এসব ব্যাপারে ফোরাম নকিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
কেনি ম্যাথারস জানান, বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটিরও বেশি গ্রাহক নকিয়া ডিভাইস ব্যবহার করছে। একার পক্ষে ক্রমবর্ধমান গ্রাহক চাহিদা পূরণ সম্ভব নয় বলে নকিয়া তৃতীয় পক্ষের ডেভেলপারদের সঙ্গে কাজ করতে চায়। এ ডেভেলপাররা গ্রাহকদের সন্তুষ্টির জন্য সৃজনশীল অ্যাপ্লিকেশন ও সেবাসুবিধা সরবরাহ করে থাকে।
তিনি জানান, গ্রাহকদের কাছে নকিয়া ডিভাইসকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে তথ্য দিয়ে ডেভেলপারদের সহযোগিতা করে ফোরাম নকিয়া। সম্প্রতি ফোরাম নকিয়া ৪০ লাখ নিবন্ধিত ডেভেলপারের কাছে তথ্য সরবরাহ করেছে এবং ১৫ লাখেরও বেশি দর্শক যোগাযোগ করেছে ফোরাম নকিয়া ডটকম (forum.nokia.com) ওয়েবসাইটে।
সাংবাদিকদের আরও জানানো হয়, ডেভেলপারদের স্বীকৃতির জন্য ‘নকিয়া চ্যাম্পিয়নস’ নামে প্রতিবছরই বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার দেয় নকিয়া। প্রতিবছর দুজন করে নতুন চ্যাম্পিয়ন বাছাই করা হয়। উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন ও ব্যতিক্রমী মোবাইল সফটওয়ার তৈরির জন্য ফোরাম নকিয়া পিআরও আকসেলারেটর নামক আরেকটি কর্মসূচি রয়েছে নকিয়ার। এর সদস্যরা বাড়তি প্রযুক্তি, বিপণন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সেবাসুবিধা পেয়ে থাকেন। এটি ডেভেলপারদের জন্য নকিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের সেবাসুবিধা।
নেইলসন উই জানান, নকিয়ার সর্বশেষ সংযোজন হলো অভি স্টোর নামক একটি ওয়েবভিত্তিক শক্তিশালী মাধ্যম। এতে বিপুল তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। মোবাইল ফোনসেট হারানো বা চুরি গেলে ওভি স্টোরের মাধ্যমে সহজেই সব নম্বর ফিরে পাওয়া সম্ভব। নানা ধরনের ফানি গেইমস এবং এক্স-রে অ্যাপ্লিকেশনও রয়েছে ওভি স্টোরে।

ব্যাংকগুলোর তারল্য বৃদ্ধি সাময়িক - সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেছেন, দেশের ব্যাংকগুলোয় তারল্য বাড়লেও এটা সাময়িক। কারণ, দেশে বর্তমানে বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে, একই সঙ্গে প্রবাসী-আয় বেড়েছে। আর এতেই ব্যাংকগুলোয় তারল্য বেড়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সবার কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল শিল্প মালিক সমিতি আয়োজিত ‘হালকা প্রকৌশলশিল্পের উন্নয়নে নীতি ও কাঠামোগত বাধাসমূহ দূরীকরণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মশিউর রহমান বলেন, ‘ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিল্প খাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে এতে দুষ্টচক্রের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া নিজের বিনিয়োগের চেয়ে অধিক পরিমাণে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন করে ব্যবসা ভালো করতে না পারলে তখন ঋণ মওকুফ ও অবলোপনের চিন্তা করতে হয়।’ তাই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এ সেমিনারে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বুয়েটের অধ্যাপক এম কামালউদ্দিন।
মুক্ত আলোচনায় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আকতারুজ্জামান মঞ্জু, এসএমই ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ, মাইডাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মশিউর রহমান বলেন, ‘কম বিনিয়োগের ছোট ছোট শিল্পে কর্মসংস্থান তুলনামূলক বেশি হয় এবং মুনাফার পরিমাণ বেশি। এ জন্য এ খাতে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’
উপদেষ্টা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যে নীতির ওপর ভিত্তি করে ভ্যাট নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল আর বর্তমানে যেভাবে আদায় করা হচ্ছে, এতে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।’ অনেক সময় রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য অধিক হারে ভ্যাট আদায় করা হয় বলে তিনি জানান।
হালকা প্রকৌশল শিল্পে ভ্যাট আদায়ে কিছুটা অসংগতি রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে সংশোধনের আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মঈনুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলো বড় উদ্যোক্তাদের ঋণ দিলেও ছোট উদ্যোক্তাদের দেয় না। অথচ প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও চলতি মূলধন হিসেবে ঋণের প্রয়োজন হলেও ছোট শিল্পগুলো তা পায় না। তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের এককভাবে ঋণ না দিয়ে পাঁচজনকে একসঙ্গে দলভিত্তিক ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রকল্প ভালো হলে হালকা প্রকৌশলশিল্প ও এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ১০ শতাংশের কম সুদে ঋণ দেবে।’
মূল প্রবন্ধে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘দেশে ৪০ হাজারের বেশি হালকা প্রকৌশল শিল্প রয়েছে। এ খাতে উদ্যোক্তারা দুই হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান দুই শতাংশ। সরাসরি ছয় লাখ ও পরোক্ষভাবে ২০ লাখ লোক এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।’ এ খাতের বিকাশে সরকারের নীতিসহায়তাসহ অসংগতিগুলো দূর করার দাবি জানান।
মুক্ত আলোচনায় উদ্যোক্তারা বলেন, দেশের প্রকৌশলশিল্পের উদ্যোক্তাদের মেধা ও দক্ষতা রয়েছে। কিন্তু চলতি মূলধনের অভাব ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে পারছেন না। দেশের প্রকৌশলশিল্পসহ অন্যান্য এসএমই খাতের বিকাশের স্বার্থে তারা সহজ শর্তে চলতি মূলধনের জোগান ও আলাদা পল্লী স্থাপনের জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসীরা অচল করে দিক ভারত সেটা চায় না: মনমোহন সিং

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য পাকিস্তান অচল হয়ে পড়ুক, ভারত তেমন কিছু চায় না। তিনি বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসীরা এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করুক, যাতে পাকিস্তানের বেসামরিক সরকার নামেমাত্র একটা সরকারে পরিণত হোক, ভারত তাও চায় না। বরং পাকিস্তানে গণতন্ত্র সাফল্য লাভ করুক, ভারত সেটাই চায়। মনমোহনের দাবি, আফগানিস্তানে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের অভিন্ন লক্ষ্য নেই।
নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মনমোহন সিং এসব কথা বলেছেন। তাঁর ওয়াশিংটন সফরের আগে এই সাক্ষাত্কার প্রকাশ করা হয়। চার দিনের সরকারি সফরে গতকাল রোববার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান।
পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মনমোহন সিং বলেন, পাকিস্তানে এখন প্রায় সর্বত্র সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। আগে পাকিস্তানের কেবল উপজাতীয় এলাকায় সন্ত্রাসীদের তত্পরতা সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ আমাদের নিজেদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তার জন্যও কঠিন হুমকিস্বরূপ। আমরা পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের সেই অবস্থায় দেখতে চাই না, যেখানে জনগণের সরকার নামেমাত্র সরকারে পরিণত হয়।’
পাকিস্তানে বর্তমানে সেই অবস্থা বিরাজ করছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলছি না, সেই অবস্থা পাকিস্তানে এখনই সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পাকিস্তানে ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের সফলতা চাই। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও ঠিক, আল-কায়েদা ও সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসেছে।’
আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের একই লক্ষ্য রয়েছে কি না, সে ব্যাপারে আমি সন্দিহান। পাকিস্তান সেখানে কেবল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা চায়, যুক্তরাষ্ট্র যেন আফগানিস্তান থেকে দ্রুত বের হয়ে আসে।’
মনমোহন সিং বলেন, ‘ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাকিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা। প্রায় ২৫ বছর ধরে পাকিস্তানের সহযোগিতায়, পাকিস্তানের ইন্ধন ও উসকানিমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভারত আক্রান্ত হয়েছে। ভারত আশা করে, ওয়াশিংটন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে পাকিস্তানকে এই পথ থেকে বিরত রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এর আগেও বহু অনুষ্ঠানে বলেছি, ভারতকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই পাকিস্তানের। কারণ, আমাদের উভয়েরই গন্তব্য পরস্পর সম্পৃক্ত। আমাদের দুই পক্ষেরই উচিত, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও রোগব্যাধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। কারণ, দুই দেশের লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও রোগব্যাধির শিকার।’
মনমোহন সিং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে এলে আল-কায়েদা সেখানে ঘাঁটি গাড়ার সুযোগ পাবে। এতে করে সেখানে গৃহযুদ্ধ বেধে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বসম্প্রদায় আফগানিস্তানে অবস্থান করবে। তালেবানেরা আফগানিস্তানে জয়ী হলে তা গোটা বিশ্বের জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, গত শতাব্দীর আশির দশকে ধর্মীয় মৌলবাদীদের ব্যবহার করেই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ডেকে আনা হয়। তিনি বলেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাভূত করা সেই একই গোষ্ঠী যদি এখন আরেকটি বড় শক্তিকে (যুক্তরাষ্ট্র) পরাজিত করে, তাহলে তাদের মধ্যে যে সাহস সঞ্চারিত হবে, তা বিশ্বের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

সংগ্রামের অভিজ্ঞতা বিনিময় করলেন কমিউনিস্ট নেতারা - নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টির আন্তর্জাতিক সম্মেলনের স্লোগান হওয়া উচিত ছিল ‘দ্য ট্রায়ালস অব বিইং এ কমিউনিস্ট ইন টুডেস ওয়ার্ল্ড’, কিন্তু তার বদলে স্লোগান করা হয়েছে ‘কমিউনিজম অন দ্য গো’। গত শুক্রবার নয়াদিল্লির একটি হোটেলে তিন দিনের এই সম্মেলন শুরু হয়। গতকাল রোববার ছিল সম্মেলনের শেষ দিন।
পুরোনো স্লোগান ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ যে এখনো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কমিউনিস্ট নেতাদের এক জায়গায় সমবেত হওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে, এই সম্মেলনে আবারও সেটি প্রমাণিত হয়েছে। তিন দিনের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট নেতারা গণতন্ত্রের জন্য সামরিক শাসন, পুঁজিবাদী শাসন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। এই প্রথম এশিয়াতে কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টির এ ধরনের আন্তর্জাতিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হলো।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা বিভিন্ন ধরনের মত প্রকাশ করেন। আমেরিকার কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার বিজয় ন্যায়, শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে লড়াইয়ে নামার দ্বার খুলে দিয়েছে। এর বিপরীতে কিউবার প্রতিনিধি ওবামার বিভিন্ন পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের বিরুদ্ধে একটি নয়া ‘বন্ধুসুলভ উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, কিউবায় কর দেওয়ার বিষয়টি চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্টদের যেসব পরিবর্তন মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তা নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়। পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক মহাসচিব ইমদাদ কাজী বলেন, তাঁর দল শুধু পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পারে। তিনি বলেন, ‘বেলুচিস্তানে চলাফেরা করার জন্য আমাকে ছদ্মবেশে ঢোলা পায়জামা ও লম্বা দাড়ির আড়ালে থাকতে হয়।’ মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা জানান, দেশে তাঁদের গোপনে দলীয় কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। অল বার্মা স্টুডেন্টস লিগের কিয়াও থান বলেন, ‘আমরা যারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করছি, তারা ভারতে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নিয়েছি।’
চীনের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে তাঁদের দেশের মন্দা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠন কার্যক্রম তুলে ধরেন। চীনা প্রতিনিধি ডিং ডিং বলেন, ‘আমরা বেকারত্ব নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলাম, তবে তা সহজেই সমাধান করা হয়েছে।

চীনে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭

চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত শনিবার প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ৪২ জন বলে জানানো হয়।
খনির ভেতর এখনো আটকে আছেন অন্তত আরও ২২ জন। বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় ও টানেলগুলো ধসে পড়ায় আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী হেইলংজিয়াং প্রদেশের ওই খনিতে বিস্ফোরণের সময় ৫২৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণের পর অধিকাংশ শ্রমিক সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। আটকে পড়া শ্রমিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এবং প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

নিকারাগুয়ায় সরকার সমর্থক ও বিরোধীদের সংঘর্ষ, আহত ১২

কয়েক হাজার সরকার সমর্থক ও বিরোধী গত শনিবার নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়ার রাজপথে সমাবেশ করেছে। সে দেশের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগার ক্ষমতায় থাকার অভিপ্রায়ের সমর্থন ও বিরোধিতায় এ সমাবেশ হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ ও নয়জন বিক্ষোভকারী। ক্ষমতায় থাকার জন্য আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও করছেন ওর্তেগা।
রাজনৈতিক নেতারা ও স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মানাগুয়ায় ৫০ হাজার সরকারবিরোধী ও সমর্থক সমবেত হয়। ‘গণতন্ত্র হ্যাঁ, একনায়কতন্ত্র না!’ স্লোগান দিতে থাকে তারা। অন্যদিকে ওর্তেগার পক্ষেও হাজার হাজার জনতা সমাবেশ করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তাদের সংখ্যা বিরোধীদের চেয়ে কম। ওর্তেগার বিরোধীরা রাজপথে যাত্রা শুরু করলে সরকারি সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীরা আহত হয়।

কাস্ত্রোকে ভেনেজুয়েলা সফরের আমন্ত্রণ জানালেন শাভেজ

কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে ভেনেজুয়েলা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ। গত শনিবার রাতে প্রচারিত এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে শাভেজ একটিপত্র পাঠের মাধ্যমে এ আমন্ত্রণ জানান। শাভেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা আপনার (কাস্ত্রো) আগমনের প্রতীক্ষা করছে।’
আগামী এপ্রিলের মধ্যে শাভেজের সোশ্যালিস্ট পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি কাস্ত্রোকে এই আমন্ত্রণ জানান। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে কাস্ত্রোর অন্ত্রে জটিল অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে বলতে গেলে আসেন না। তিনি কিউবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর ভাই রাউল কাস্ত্রোকে কিউবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়েছেন।
কাস্ত্রোর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুজব রয়েছে। তবে শাভেজ বলেছেন, কিউবার বিপ্লবী এই নেতার স্বাস্থ্য বেশ ভালো। তাঁকে মধ্য ডিসেম্বরে হাভানায় অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ আমেরিকান বাণিজ্য ব্লক এএলবিএর আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শাভেজ।

জ্যাকসনের দস্তানা সাড়ে তিন লাখ ডলারে বিক্রি

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের ব্যবহূত বিখ্যাত সাদা দস্তানা নিলামে সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া মাইকেল জ্যাকসনের ব্যবহূত আরেকটি কালো জ্যাকেট বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ডলারে। জ্যাকেটটি পপসম্রাট ১৯৮৯ সালে বিশ্ব ভ্রমণের সময় পরেছিলেন। দস্তানাটি কিনেছেন জাজমাইন মুর নামের ১৯ বছর বয়সী একজন মাইকেলভক্ত। ফসম্যান মা নামে হংকংয়ের একজন ব্যবসায়ী জ্যাকেটটি কিনেছেন ।
নিলাম সংস্থা জুলিয়ান অকশনের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন জুলিয়ান গত শনিবার নিলামে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হওয়া সাদা দস্তানাটিকে মাইকেল জ্যাকসনের ‘হোলি গ্রেইল’ (পবিত্র বস্তু) বলে উল্লেখ করেছেন। এই দস্তানাটি এর আগে নিলামে ৫০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
কর ছাড়া কমিশনসহ এই বিখ্যাত সাদা দস্তানাটির মূল্য দাঁড়িয়েছে চার লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারে। সবকিছু মিলিয়ে জ্যাকসন পরিহিত কালো জ্যাকেটটির মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলারে।
আলোচিত এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের বিখ্যাত হার্ড রক ক্যাফেতে। শত শত রকসংগীতের ভক্ত ও নিলাম ব্যবসায়ী এই নিলামে উপস্থিত হন। এতে দস্তানা ও কালো জ্যাকেট ছাড়াও মাইকেল জ্যাকসনের একটি গাড়ি বিক্রি হয়েছে। গাড়িটি কোনো একসময় মাইকেল জ্যাকসন চালিয়েছিলেন।
দস্তানাটি কিনে জাজমাইন মুর আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি কখনোই মাইকেল জ্যাকসনকে সামনাসামনি দেখিনি। কিন্তু এই স্মারক নিলামে কিনে আমি জ্যাকসনের খুব কাছে চলে গিয়েছি।’ দস্তানাটি ১৯৮৩ সালে মাইকেল জ্যাকসন তাঁর বিখ্যাত মুন ওয়াক নাচের সময় প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। গত জুনে মাইকেল জ্যাকসন মারা যান।

আসামে তিনটি বোমা বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত, আহত ৪০

ভারতের আসাম রাজ্যের নলবাড়ি জেলায় গতকাল রোববার সকালে একাধিক বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এই বিস্ফোরণের পর আসামজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
বিস্ফোরণগুলো ঘটে মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে। প্রথম বোমাটি বিস্ফোরিত হয় একটি থানার সামনে। বোমাটি একটি সাইকেলের সঙ্গে বাঁধা ছিল। সকাল ১০টায় প্রথম বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।
দ্বিতীয় বোমাটি বিস্ফোরিত হয় প্রথম বিস্ফোরণস্থলের ১০ মিটার দূরত্বে। তৃতীয় বোমার বিস্ফোরণ ঘটে একই এলাকার গোপাল বাজারে। এখানেও বিস্ফোরক রাখা ছিল সাইকেলে।
পুলিশ এই বিস্ফোরণের জন্য আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামকে (উলফা) সন্দেহ করছে। কারণ নলবাড়ি জেলাটি উলফা অধ্যুষিত। উলফার বহু নেতার উত্থান হয়েছে এই নলবাড়ি থেকে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরণ গগৈ।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যে বেকারত্বের হার বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যে নতুন করে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন শ্রম দপ্তর গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
শ্রম দপ্তর জানায়, মিশিগান অঙ্গরাজ্যে এখন বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশের বেশি। সর্বোচ্চ বেকারত্বের তালিকায় আছে নেভাদা (১৩ শতাংশ) এবং রোড আইল্যান্ড (১২.৯ শতাংশ) অঙ্গরাজ্য। এ ছাড়া তালিকায় থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে আছে ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ডেলাওয়ার, ওয়াশিংটন ডিসি ইত্যাদি। এসব অঙ্গরাজ্যে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের বেশি। গত মাসে কেবল নিউইয়র্কে নতুন করে ১৫ হাজার ৩০০ লোক চাকরিচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে ফ্লোরিডায় সাড়ে আট হাজার, জর্জিয়ায় সাড়ে সাত হাজার এবং ভার্জিনিয়ায় সাত হাজারেরও বেশি লোকের চাকরিচ্যুতি ঘটেছে। কালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে গত এক বছরে প্রায় সাত লাখ লোক চাকরিচ্যুত হয়েছে।
অর্থনৈতিক মন্দা এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ার প্রভাব সর্বত্র তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। একের পর এক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরও অর্থনীতির মন্দাবস্থায় অনেকটা স্থিতি অবস্থা ফিরে আসার কথা বলছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। বেকারত্বের হার বৃদ্ধি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র জন-অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মন্দা অবস্থা কেটে উঠবে বলে বারবার আশ্বস্ত করছেন দেশবাসীকে। গত শনিবার দেওয়া বেতার ভাষণে এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ওবামা পুনরায় আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এশিয়া সফরের মাধ্যমে স্বদেশে চাকরির বাজারে প্রভাব পড়বে। নতুন নতুন অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে কয়েক লাখ মার্কিন জনগণের কর্মসংস্থান হবে তাঁর এশিয়া সফরের ফলে।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মেইন ফ্লেইথ বলেছেন, একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা খাত ছাড়া সব ক্ষেত্রে লোকজনের চাকরি হারানোর প্রভাবে চাকরিচ্যুতি ঘটেছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। দেড় বছর ধরে ব্যাপকভাবে লোকজনের চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটছে।
দেশজুড়ে বিশাল এ বেকারত্ব সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ওবামা প্রশাসনকে। সাধারণত চাকরিচ্যুতির পরে সীমিত সময়ের জন্য বেকারভাতা দেওয়া হয়ে থাকে। চাকরির বাজার মন্দা থাকার কারণে বেকারভাতার মেয়াদ এরই মধ্যে কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। কর্মক্ষম বিশাল জনগোষ্ঠীকে বেকারভাতা পরিশোধের চাপ পড়েছে মার্কিন অর্থনীতিতে। চাকরিচ্যুতির ফলে লোকজন ঘরবাড়ির ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। বসতভাড়ি নিলামে তুলেও ব্যাংকগুলো ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছে না।
মন্দা অর্থনীতির এ দুষ্টচক্র থেকে সহসা মুক্তি পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ—অর্থনীতিবিদেরা এ কথাই বলছেন বারবার। বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় জন-অসন্তোষে সবচেয়ে তোপের মুখে রয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী টিমোথি গাইথনার। দেশের অর্থনীতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন টিমোথি, এমন অভিযোগ এনে তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন অনেকে।

মহিলা বাস্কেটবল দলের প্রস্তুতি ম্যাচ

বাংলাদেশ মহিলা বাস্কেটবল দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আজ ঢাকা আসছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য দল। ধানমন্ডি বাস্কেটবল জিমনেসিয়ামে আজই সন্ধ্যায়ই তারা প্রথম ম্যাচ খেলবে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচটি হবে আগামী ২৪ ও ২৫ নভেম্বর। আসন্ন এসএ গেমসের প্রস্তুতি হিসেবেই বাস্কেটবল ফেডারেশন এই আমন্ত্রণমূলক ম্যাচের আয়োজন করেছে।
বাংলাদেশ দল: নাবিলা মাহবুব, উজমা আহমেদ, ফয়েজা রশিদ, বেনজির সরকার, ইশরাত আমিন, লামিয়া হাফিজ, মাছিয়াত ইফতেখার, মাধুরী কিবরিয়া, আশরিন মারিধা, রেদওয়ানা ফায়রুজ, জারা মোস্তফা, সুনিতা ইউসুফ, জারা আহমেদ ও উমামা রহমান।

শুরুর মতো শেষেও নায়ক কলিংউড

এতটা কি পল কলিংউডও ভাবতে পেরেছিলেন? অ্যালেক স্টুয়ার্টকে টপকে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৭১ ম্যাচ খেলার রেকর্ড করার দিনটিতে সব জায়গাতেই সফল। দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নিলেন, বোলিংয়ে নিলেন দুই উইকেট। এরপর ২৫১ রানের লক্ষ্যে যখন ৪৫ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলল ইংল্যান্ড, তখন দাঁড়িয়ে গেলেন ব্যাট হাতেও। অপরাজিত সেঞ্চুরি করে মাঠ ছাড়লেন দলের জয়কে সঙ্গী করে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। এই নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা ছয়টি ম্যাচ জিতল ইংলিশরা।
কলিংউডের মতো বড় না হলেও উপলক্ষ একটা ছিল জোনাথন ট্রটেরও—নিজের জন্মভূমিতে প্রথম ওয়ানডে। আগস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। কাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে করলেন ৮৭। কলিংউডের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন ৩০ ওভারে ১৬২ রানের জুটি। ট্রট প্রাপ্য সেঞ্চুরিটা না পেলেও ৭ চার ও ২ ছয়ে পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা (১১০ বলে ১০৫) পেয়েছেন কলিংউড। দলীয় ২০৭ রানে ট্রট আউট হওয়ার পর মরগ্যানের (১৮ বলে ২৭*) সঙ্গে ৪.৩ ওভারে গড়েছেন ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।
এই মাঠেই দিন সাতেক আগে ২০ ওভারে ২৪১ রান করেছিল স্মিথের দল। কাল ইংলিশদের ক্যাচ মিসের মহড়ার পরও ৫০ ওভারে করতে পারল ২৫০। পাঁচটি ক্যাচ মিস করেছে ইংল্যান্ড। একাই তিনটি মিস করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, যার দুটি ধরা যায় চোখ বন্ধ করেও। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৪ রান আলভিরো পিটারসেনের। জ্যাক ক্যালিস ইনজুরিতে না পড়লে যাঁর হয়তো এই ম্যাচ খেলাই হতো না, সেই হাশিম আমলা করেছেন ৫৭। কলিংউডের মতো ব্রেসনানও নিয়েছেন দুই উইকেট, ৩টি অ্যান্ডারসন।

ডানেডিনের শীতে কাবু পাকিস্তান

‘মনোযোগ এবার ক্রিকেটে’—পাকিস্তানের কোনো সিরিজ শুরু হওয়ার আগে অসংখ্যবার বলা কথাটিই আবার বলতে হচ্ছে। ডানেডিনে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোরে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড তিন টেস্টের সিরিজ। যে সিরিজের আগে বরাবরের মতোই পাকিস্তানের ক্রিকেটকে ঘিরে মাঠের বাইরের নানা ঘটনাপ্রবাহ আর বিতর্ক। এই সিরিজে যাঁর অধিনায়ক থাকার কথা ছিল, সেই ইউনুস খান বসে আছেন পাকিস্তানে। নাটকীয়ভাবে অধিনায়ক হয়ে গেছেন মোহাম্মদ ইউসুফ।
তবে বিতর্ক নতুন কিছু নয় বলে পাকিস্তানের মাঠের পারফরম্যান্সে এর কোনো প্রভাব নাও পড়তে পারে। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে দুদলই কাছাকাছি। আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আছে ছয় নম্বরে, নিউজিল্যান্ড সাতে, রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান ৪।
দুদলেরই মূল শক্তি বোলিং। উমর গুল, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমির, ইয়াসির আরাফাত, আব্দুর রউফকে নিয়ে গড়া পাকিস্তানের পেস আক্রমণ। সেরা একাদশে জায়গা পেলে দুই বছরের বেশি সময় পর আবার টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ পাবেন আসিফ। দানিশ কানেরিয়া ও সাঈদ আজমলকে নিয়ে গড়া স্পিন আক্রমণটাও দুর্দান্ত। তবে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে সেরা একাদশে জায়গা হবে যেকোনো একজনের। ক্রিস মার্টিন, ইয়ান ও’ব্রায়েনদের সঙ্গে শেন বন্ড ও ড্যারিল টাফি ফেরায় নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণটাও দারুণ, আর স্পিনে তো অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি আছেনই।
তবে পাকিস্তান দলকে এসব হিসাব-নিকাশের চেয়েও বেশি ভাবাচ্ছে আবহাওয়া। নিউজিল্যান্ডের মধ্য গ্রীষ্মেও ডানেডিনের শীত কাবু করে ফেলে উপমহাদেশের দলগুলোকে আর এবার তো পাকিস্তান সেখানে পা রেখেছে গ্রীষ্মের একেবারে শুরুতে। কনকনে বাতাস আর সিমিং উইকেটে পাকিস্তান অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে দুই দেশের পারস্পরিক টেস্ট লড়াইয়ের ইতিহাসে। যেখানে তারা অনেক এগিয়ে। ১৮টি টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ডের জয় মাত্র দুটিতে, সর্বশেষটি ১৯৮৫ সালে। পাকিস্তান জিতেছে ১২টি সিরিজ। ৪৫ টেস্টের ২১টি জিতেছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড মাত্র ৬টি।

তিন জাতি সিরিজেই বিশ্বকাপের মহড়া

ঢাকার যানজটের এখনই যে অবস্থা, ২০১১ বিশ্বকাপের সময় পরিস্থিতিটা কী দাঁড়াবে? বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটি তাই এখনই ভাবতে শুরু করেছে সমস্যাটা নিয়ে। গতকাল কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী জানুয়ারিতে ভারত, শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজে ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের একটা পোশাকি মহড়া দেওয়া হবে। শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, মহড়া হবে টিকিট ব্যবস্থাপনারও।
বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কালকের সভায় নেওয়া হয়েছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বাড়ানো হবে বিশ্বকাপের দুই ভেন্যুর দর্শক ধারণক্ষমতা। ২৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন করা হবে। আর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ১৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হবে ২৫ হাজার। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনে স্টেডিয়াম দুটির সংস্কারকাজে আর্থিক সহযোগিতা দেবে বিসিবিও। আগামী ডিসেম্বরেই শুরু হবে উন্নয়ন কার্যক্রম। ২০১০ সালের অক্টোবরের মধ্যে আইসিসির কাছে স্টেডিয়াম দুটি হস্তান্তর করার লক্ষ্য স্থানীয় আয়োজক কমিটির।
বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও হবে বাংলাদেশে। শিগগিরই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে খ্যাতনামা কোনো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে দেওয়া হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দায়িত্ব।

বার্সাকে টপকে গেল রিয়াল

কখনো গায়ে গা ঘেঁষে এগিয়েছে। কখনো হেঁটেছে পেছন পেছন। এবারের লিগে নক্ষত্রখচিত রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনাকে ছাড়িয়ে গেল পরশুই প্রথম। রিয়াল বার্সাকে ছাড়িয়ে গেল না বলে বলা উচিত বার্সেলোনা পেছনে পড়ল। নিজেদের মাঠে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনের গোল রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে রিয়ালকে এনে দিয়েছে ন্যূনতম ব্যবধানের জয়। এই ফলটা জেনেই অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠে খেলতে নেমেছিল বার্সা। দানি আলভেজের গোলে এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে ফিরেছে কাতালানরা। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রিয়াল, আর বার্সা দ্বিতীয় স্থানে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে।
‘এটা বাজে ফল’—বার্সেলোনার ফুলব্যাক আলভেজ করলেন আত্মসমালোচনা। ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য অমঙ্গল বয়ে এনেছে আসলে সবদিক থেকেই। পায়ের পেশিতে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মেসি। পরে জানা গেছে, ইন্টার মিলানের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে আগামীকালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটিতে খেলতে পারবেন না। রোববার ‘এল ক্লাসিকো’য় খেলা নিয়েও আছে সংশয়। অথচ রিয়ালের জন্য পরশুর জয়টি এসেছে সঞ্জীবনী হয়ে। রিয়াল কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি বাঁচলেন হাঁপ ছেড়ে, ‘দুই সপ্তাহ বিরতি এবং কিংস কাপের ওই পরাজয়ের পর এই জয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
জাভি হার্নান্দেজের পাস থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বার্সাকে ৫৩ মিনিটে এগিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান উইংব্যাক। মেসি-জাভিরা গোল মিসের মহড়ায় না নামলে বার্সা এগিয়ে যেতে পারত আগেই। তবে মাত্র পাঁচ মিনিট মাঠে থেকে অ্যাথলেটিকোকে সমতায় ফিরিয়েছেন তাদের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার গায়েজকো টকেরো। বদলি হিসেবে নেমে দারুণ এক হেডে গোল করলেন, এর পর আহত হয়ে চলে গেলেন মাঠের বাইরে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া গোলের সামনে রিয়াল কেমন যেন অনুজ্জ্বলই। তবে রেসিংয়ের গোলরক্ষকের ‘সহযোগিতা’ই ২২ মিনিটে গোল পাইয়ে দেয় রিয়ালকে। কাকার ক্রস পাঞ্চ করে হিগুয়েইনের পায়েই ঠেলে দিয়েছিলেন রেসিং গোলরক্ষক টোনো।
সিরি ‘আ’তে ইন্টার মিলানও ফিরেছে জয়ে। আর্জেন্টাইন ডিয়েগো মিলিতো ও কাম্বিয়াসোর সঙ্গে বালোতেল্লির গোল মিলে বোলনিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার।

পুল এললিগের স্বার্থে

অনেক দিনই হকি স্টেডিয়ামের দিকে যান না জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় মওদুদুর রহমান শুভ। বছরখানেক মাঠে লিগ খেলা হয় না, গিয়েই বা কী করবেন? তবে ঠিকই নিয়মিত যোগাযোগ করছেন অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে। একসময়ের সতীর্থরা ফোন করে বলেন, ‘ভাই, আমাদের জন্য কিছু একটা করেন।’ ‘কিছু একটা’ বলতে পুলের শৃঙ্খল ভাঙার কথাই বলেছেন তাঁর কাছে। কিন্তু শুভ শুধু সান্ত্বনাই দিতে পারেন তাঁদের, এর বেশি কিছু যে করার নেই তাঁর!
পরশু রাতে হকি ফেডারেশনের লিগ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, জার্মান-ফেরত ১৯ খেলোয়াড়ের ১৭ জন পুলের আওতায় খেলবেন। কিন্তু এর আগে ১২ অক্টোবরের লিগ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল জার্মানিতে যাওয়া ১৯ খেলোয়াড় লিগে অংশ নিতে পারবেন না। তবে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে জার্মানি থেকে ফিরেই খেলোয়াড়েরা লিগে খেলার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। খেলোয়াড়দের দিকটা ভেবে তখনই তাঁদের লিগে খেলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন। তখন অবশ্য পুল করার চিন্তা ছিল না। কিন্তু পরশু সেই পুলও করা হলো। দুই গোলকিপারকে বাইরে রেখে জাতীয় দলের ১৭ জন এই পুলে আছেন। যেকোনো দল এই পুল থেকে নিতে পারবে ৪ জন খেলোয়াড়। রাসেলমাহমুদ জিমি, মামুনুর রহমান চয়ন, জাহিদুল ইসলাম রাজন ও কামরুজ্জামানকে নিয়ে কোটা পূরণ করেছে শুধু মোহামেডান। অন্য বড় দল আবাহনী, ঊষা এখনো পুলের খেলোয়াড় নেয়নি।
ফেডারেশন বলছে, খেলোয়াড়দের সমানভাবে খেলার সুযোগ করে দিতেই এই পুল। ক্লাবগুলো এটি মেনে নিয়েছে, বলা ভালো এটি তাদেরই প্রস্তাব। কিন্তু পুলের ব্যাপারটা কিছুতেই মানতেই পারছেন না জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা। রাসেল মাহমুদ জিমি তো বলেই ফেললেন, ‘পুলপ্রথা অবশ্যই খারাপ। কারণ পুলের কোটায় আছে ৪ খেলোয়াড়। এখানে বড় চারটা ক্লাব যদি কোনো কারণে চারজন খেলোয়াড় না নেয় তাহলে এই খেলোয়াড়গুলো কোথায় যাবে? তাহলে তো তাদের ছোট দলেই খেলতে হবে। না হয় খেলতে পারবে না। ছোট দলে খেললে তেমন টাকাও পাবে না। গতবার পুল করাতে ১০ জন খেলোয়াড় দলই পায়নি। পরে ওদের ফ্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এই রকম পরিস্থিতি তো হওয়া উচিত না।’ জিমির সঙ্গে একই সুরে কথা বললেন আসাদুজ্জামান চন্দনও।
পুল যে খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষা করে না সেটা মানছেন আবাহনীর হকি কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ দোলনও। তবে এবারের প্রেক্ষাপটের জন্য ফেডারেশনকে দুষছেন তিনি, ‘ফেডারেশন তো ওদের খেলারই সুযোগ দিচ্ছিল না। আমরা ক্লাবগুলোই ওদের খেলার সুযোগ করে দিয়েছি।’
শহীদুল্লাহর কথায় পরিষ্কার, খেলোয়াড়দের লিগে খেলতে দিয়েই ‘অনেক করা হয়ে গেছে’। এখন পুলের ব্যাপারটা নিয়ে তাদের কথা না বলাই ভালো। ফেডারেশন সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিনের কথায়ও প্রকাশ পাচ্ছে যে, খেলোয়াড়দের লিগে খেলতে পারাটাই ‘অনেক’, ‘তাদের প্রথমে লিগ খেলতে দিতে চাইনি জাতীয় দলের কথা ভেবে, কিন্তু পরে তাদের রুজি-রোজগারের কথা ভেবে লিগে খেলার অনুমতি দিয়েছি, এখন খেলোয়াড়দেরও তো কিছুটা ছাড় দিতে হবে।’

বিশ্বকাপে ফার্গুসনের বাজি ব্রাজিল

এবার বাছাইপর্বে ইংল্যান্ডের খেলা দেখার পর থেকেই আশায় বুক বাঁধছে ইংলিশরা। সবেধন নীলমণি হয়ে থাকা সেই ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর আবার আসবে শিরোপা! কিন্তু সেই স্বপ্নে মজছেন না অ্যালেক্স ফার্গুসন। জাতে স্কটিশ হলেও ফার্গুসন জীবনের বড় অংশটাই কাটিয়ে দিলেন ইংলিশ ফুটবলে। দীর্ঘদিনের পোড়-খাওয়া অভিজ্ঞতা থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ বলছেন, ইংল্যান্ড নয়, আগামী বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল। ওয়েবসাইট।
‘আসলে ব্রাজিল ছাড়া আমি আর কাউকে দেখছি না। দক্ষিণ আফ্রিকায় ওরা অন্যতম ফেবারিটই থাকবে। তাদের হারানো সহজ হবে না। যেসব খেলোয়াড় ওদের আছে সেটি ভাবলেই বুঝবেন—দুর্দান্ত সব খেলোয়াড়ের জোগানদাতা ওরা’—মেইল অন সানডেকে বলেছেন ফার্গুসন। আরও বিশদ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছেন, ব্রাজিল কেন সেরা, ‘গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ছিল ১০৩ জন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়, অন্যদিকে ইংলিশ খেলোয়াড় ছিল মাত্র ১৫ জন। গত মৌসুমে তো চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশ খেলোয়াড়ের চেয়ে স্কটিশ খেলোয়াড়ই ছিল বেশি। আমার মনে হয়, ব্রাজিল যে ইংল্যান্ডকে হারাবে এর পক্ষে ১১/১০ (সহজ একটা বাজি) ধরাও হবে শতাব্দীর সেরা বাজি।’
ঘরোয়া লিগ এত শক্তিশালী হওয়ার পর কেন ইংল্যান্ডে খেলোয়াড়শূন্যতা? বর্ষীয়ান এই কোচ সেই পুরোনো সমস্যার কথাই বললেন, ‘প্রিমিয়ার লিগটা যেভাবে বিকশিত হয়েছে, সেই পদ্ধতির কারণেই চ্যাম্পিয়নস লিগে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন ইংলিশ খেলোয়াড় খেলে।’

সবার ওপরে মোহামেডান

দুদলই এগিয়ে যাচ্ছিল সমানে সমান। কালকের দিনটা আর সে রকম থাকল না মোহামেডান-আবাহনীর জন্য। বিমানের কাছে আবাহনীর হারের দিনে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে গতবারের রানার্সআপ সূর্যতরুণকে ৫২ রানে হারাল মোহামেডান।
এখন পর্যন্ত লিগে একমাত্র অপরাজিত দল—মোহামেডানের ঈদের ছুটিটা তাই ভালোই কাটবে। এই ছুটির পরেই অবশ্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা। পরের ম্যাচটিই আবাহনীর সঙ্গে। ৪ ডিসেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
মোহামেডানের ৮ উইকেটে ২৩৪ রানের জবাবটা অবশ্য ৪০তম ওভার পর্যন্ত ভালোই দিচ্ছিল সূর্যতরুণ। শেষ ৬১ বলে প্রয়োজন ছিল ৭৪ রানের, হাতে ৫ উইকেট। উইকেটে হাবিবুল বাশার ও ধীমান সরকার। কিন্তু ৪০তম ওভারের শেষ বলে ধীমান আউট হয়ে যাওয়ার পর একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানেই অলআউট হয়ে গেছে সূর্যতরুণ। ৪৬তম ওভারে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান (৭২ বলে) করে আউট হয়েছেন হাবিবুল। ৫ নম্বরে নেমে একটা প্রান্ত ধরে রাখলেও সঙ্গী খুঁজে পাননি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। শেষ ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ রান আনিসুরের, তার মানে বাকিদের কেউ দুই অঙ্কেই যেতে পারেননি। ২১ রানে পড়েছে সূর্যতরুণের শেষ ৫ উইকেট।
এর আগে ৭০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুটা একটু খারাপই হয়েছিল শিরোপাপ্রত্যাশী মোহামেডানের। ওপেনার শামসুর রহমান আর মাহমুদউল্লাহ মিলে সেই খারাপটাকে ভালো করে দিলেন চতুর্থ উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়ে। লিগে এর আগে ছয় ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ১০৬ রান, সর্বোচ্চ ছিল ৪৩। কাল শামসুরের ব্যাট থেকে এল ১১৬ বলে ৮৩, যাতে ৫টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কা। আগের ম্যাচে ফিফটি করার পর রানের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন মাহমুদউল্লাহ—চার বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ৮০ বলে করেছেন ৭০ রান। চতুর্থ উইকেটে শামসুর ও মাহমুদউল্লাহর ৭৫ রানের জুটি। এর পর মাত্র ৬ রানের মধ্যে মোহামেডান দুটি উইকেট হারালেও ষষ্ঠ উইকেটে ফারভিজ মাহারুফের (৩০ বলে ৩৩) সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর ৬৪ রানের জুটিটি মোহামেডানকে মোটামুটি ভালো একটা স্কোর এনে দেয়।