Friday, September 2, 2016

ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ঘণ্টায়ই অবৈধদের তাড়াব: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
অনেকেরই ধারণা ছিল, মেক্সিকো সফর শেষ করে এসে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো এবং অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে সুর নরম করবেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি মেক্সিকো সফর থেকে আসার পরপরই বললেন, তিনি ক্ষমতা গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ লাখ অভিবাসীকে দেশছাড়া করবেন। কাউকে ক্ষমা করা হবে না। এ ছাড়া ট্রাম্প বলেছেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে দুই হাজার মাইল দীর্ঘ মহাপ্রাচীর গড়ে তোলা হবে। আর এই দেয়াল তোলার সব খরচ মেক্সিকো সরকারকে দিতে হবে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে গত বুধবার দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে ট্রাম্প এই অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর সুর নরম হয়ে আসে। আবার তিনি আগের অবস্থানে ফিরে এলেন। অভিবাসন ইস্যুতে ১০ দফা পরিকল্পনাও করেছেন ট্রাম্প। তিনি সমাবেশে বলেন, ‘বিশ্বের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে ঢুকলে কেউ আইনি স্বীকৃতি বা নাগরিকত্ব পাবে না। ওই দিন শেষ হয়ে গেছে।’ মেক্সিকোতে গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট পেনা নাইতোকে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে একটি বিশাল প্রাচীর নির্মাণ করবেন।
তবে সেই দেয়াল নির্মাণের খরচ কে দেবে, তা নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলে জানান। তবে প্রেসিডেন্ট পেনা এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দেয়াল নির্মাণের খরচ মেক্সিকো দেবে না। ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ে আরও কঠোর পরিকল্পনার কথা বলে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আছে অপরাধের রেকর্ড আছে এমন অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো, অনিবন্ধিত কয়েক লাখ অভিবাসীর সুরক্ষায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশ বাতিল এবং এসব অবৈধ অভিবাসীর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া। অ্যারিজোনার সমাবেশে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বেশির ভাগকেই ‘খুনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের তাড়িয়ে দিতে ‘বিশেষ টাস্কফোর্স’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। এ জন্য অভিবাসন কর্মকর্তাদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে হিলারি ক্লিনটন তাঁর প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে একটি পথ খোঁজার চেষ্টার কথা বলেছেন। তাঁর প্রচারণা, দল অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের এই কথাবার্তাকে ‘ঘৃণার প্রচারণা’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

রুসেফের অভিশংসন: কীভাবে দেখবে ইতিহাস?

দিলমা রুসেফ
১৯৯২ সাল। ওই বছর ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো কোলার ডি মেলোকে (কোলার নামে বেশি পরিচিত) অভিশংসনে এককাট্টা হয়েছিলেন দেশটির সিনেট ও কংগ্রেসের সদস্যরা। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। অথচ এর মাত্র তিন বছর আগে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে কোলার নির্বাচিত হয়েছিলেন। কোলারের অভিশংসন নিয়ে তেমন কোনো কথা ওঠেনি। অবৈধ উপায়ে পাওয়া টাকায় গাড়িসহ অন্যান্য জিনিস কেনার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনার ২৪ বছর পর ব্রাজিলের দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসনের খড়্গে কাটা পড়লেন দিলমা রুসেফ। রুসেফের বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগ, তিনি দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে ভোট পাওয়ার জন্য দেশের আর্থিক অবস্থা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়েছেন। ভোটের কথা মাথায় রেখে তিনি অবৈধভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অর্থ নিয়ে তা জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পে বেশি বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন।
কোলারের সঙ্গে রুসেফের অভিশংসনের বড় তফাত হলো, কোলারের দুর্নীতির বিষয়ে জনমনে সন্দেহ ছিল না। কিন্তু দিলমার যে দোষে তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে হলো, তা কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ইতিহাসই বা এই বিষয়টিকে কেমন করে দেখবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে নির্বাচিত হন রুসেফ। বিরোধীরা ভোট পুনর্গণনার দাবি তুলেছিল। অনেকেই বলেন, অভিশংসনের বীজ সেখানেই রোপিত হয়েছিল। তিনি যে মুহূর্তে ক্ষমতা নিলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা তখন অনেকটাই নাজুক। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যে নাজুক অবস্থার প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসে দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর দল ওয়ার্কার্স পার্টির আরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয় বলে কোম্পানি স্বীকার করে। গ্রেপ্তার হন পার্টির কোষাধ্যক্ষ। এর পাশাপাশি তীব্র মূল্যস্ফীতিতে কয়েক লাখ মানুষ চাকরি হারান। ব্রাজিলের মুদ্রার মান অর্ধেকে নেমে আসে। গত বছরের শেষ দিকে রুসেফের সঙ্গে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার এদোয়ার্দো কুনহার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
কুনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিশংসনের অভিযোগ গ্রহণ করা না-করার বিষয়টি স্পিকারের হাতেই থাকে। তিনি তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে রুসেফের বিরুদ্ধে অভিশংসনের আবেদন গ্রহণ করেন। আর্থিক অভিযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও পড়েন রুসেফ। গত মার্চ মাসে তাঁর জোটসঙ্গী পিএমডিবি জোট ছাড়ে। রুসেফের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল টেমার ভেতরে-ভেতরে রুসেফের বিরুদ্ধে লেগে পড়েন। রুসেফের সরকারের পতন তাতে আরও ত্বরান্বিত হয়। রুসেফ ও তাঁর সমর্থকেরা বরাবরই বলে আসছেন, তাঁকে ঠান্ডা মাথায় সরিয়ে দেওয়ার জন্যই অভিশংসন করা হয়েছে। এটিকে রুসেফ ‘ক্যু’ বা ‘অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করে আসছেন। দুই যুগ আগে প্রেসিডেন্ট কোলারকে অভিশংসনের সময় ব্রাজিলের সমাজ যতটা বিভক্ত ছিল, এখন এর চেয়ে অনেক বেশি। রুসেফকে যেসব প্রক্রিয়ায় অভিশংসন করা হলো, ইতিহাস নিশ্চয়ই এর চুলচেরা হিসাব করবে। দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে টেমার সরকার কতটা সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারে, এর ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।

ব্রাজিল সংকটের শেষ নাকি শুরু

রুসেফের বিদায় : শপথের পর অফিসে এসেছেন
ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের (বাঁয়ে)।
আলভোরাদা প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বুধবার বক্তব্য
রাখছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ -এএফপি
রাষ্ট্রীয় অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে। তরুণ বয়সে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়েছেন তিনি, পরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বসেছেন দেশের সর্বোচ্চ পদে। অবশেষে বুধবার অবমাননাকরভাবে তিনি বিদায় নিয়েছেন। তবে সিনেটে রুসেফের অভিশংসন শুধু এক নারীর বিদায়ের উপাখ্যান নয়। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে নজিরবিহীন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়েছিলেন রুসেফ। তবে তিনিই এক সময় দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার লড়াইয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হল না। রুসেফের বিদায়ের মাধ্যমে দেশটিতে ১৩ বছর ধরে চলা বামঘেঁষা ওয়ার্কার্স পার্টির শাসনের অবসান হল। তবে ব্রাজিলের এ সংকট অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে সৃষ্টি রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে আলাদা কিছু নয়। দক্ষিণ আফ্রিকাও একই সমস্যার মুখোমুখি। সেখান ক্ষমতাসীন এএনসি দলের বিরুদ্ধেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চীনের স্বৈরশাসনও দুর্নীতিগ্রস্ত। তবে এসব উদাহরণ রুসেফের অপকর্ম ঢাকার পক্ষে কোনো যুক্তি নয়। মনে রাখতে হবে যে, একজন নারীকে সরিয়ে দিতে একটি ভোট দিলেও সংকটের সমাধান হয়ে যায় না। ব্রাজিল এখন চরমভাবে বিভক্ত এবং মেরুকরণ কবলিত একটি দেশ। ব্রাজিলের নতুন নেতা মিচেল তেমের যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারেন তবে সংকট আরও বাড়তে থাকবে।
নয়া প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের : ব্রাজিলের সিনেট প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেয়ার পর ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের। বুধবার সিনেটের ভোটাভুটিতে ৬১-২০ ভোটে ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট রুসেফের বিদায় নিশ্চিত হয়। চলতি বছরের মে মাসে রুসেফ বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন রুসেফ সরকারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট তেমের। শপথ নেয়ার পর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও ১১ শতাংশ বেকারত্ব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে সমর্থন দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য চীনের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে দেয়া ভাষণে রক্ষণশীল এ নেতা বলেন, ‘এই মুহূর্তটি ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার আশা জাগিয়েছে। অনিশ্চয়তা শেষ হয়েছে।’ রুসেফের অপসারণ ব্রাজিলের ভাগ্যে পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন তার বিরোধীরা। মাত্র কয়েক বছর আগেও ব্রাজিল একটি দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির দেশ ছিল, বিশ্বে দেশটি মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল। কিন্তু এরপর ব্রাজিল মন্দার কবলে পড়ে, যা এক সময় গভীর হয়ে ওঠে। এরপর রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের ঘুষ কেলেংকারি প্রেসিডেন্ট রুসেফের জোট সরকারে কালো ছায়া ফেলে। লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে, তারা রুসেফের পদত্যাগ দাবি করে।
এর মাত্র আড়াই বছর আগে ব্রাজিলের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পেট্রোব্রাসের কেলেংকারি সঙ্গে রুসেফের কোনো সংস্পর্শ না থাকলেও তার জোট সরকারের শরিক অনেক নেতা এবং ব্রাজিলের ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকেই জড়িত আছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। পেট্রোব্রাসের তদন্তে শরিকদলীয় অনেক নেতা ও কংগ্রেস সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর একসময় প্রেসিডেন্ট রুসেফের বিরুদ্ধে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে দেখানোর অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, ২০১৮-র নির্বাচনে সুবিধা পেতেই এমনটি করেছেন তিনি। এ অভিযোগেই অভিশংসনে কংগ্রেসের ভোটে বরখাস্ত হন তিনি। এরপর তিন মাস শুনানি শেষে স্থায়ীভাবে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হন। নতুন প্রেসিডেন্ট তেমের তার অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি সফল করতে চান। যার মধ্যে বেসরকারিকরণ, জনকল্যাণমূলক পেনশন ও জনকল্যাণ আইন এবং সরকারি ব্যয়ের উচ্চমাত্রা কমিয়ে আনা অন্যতম। আইনপ্রণেতারা তার এসব কর্মসূচিকে সমর্থন করবেন বলে আশা করছেন তিনি। তবে এসব করতে গিয়ে তেমেরকে এই মুহূর্তে বিরোধী দলে পরিণত হওয়া ওয়ার্কার্স পার্টির তীব্র বাধার সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের বিরোধিতায় আসছে দিনগুলোতে কংগ্রেস ও রাস্তা, উভয় জায়গায় ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের শক্তি প্রদর্শন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক টানাপড়েন : রুসেফকে অপসারণ করার পর ব্রাজিলের সঙ্গে বাম-শাসিত ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। রুসেফের অপসারণকে ক্যু বা অভ্যুত্থান আখ্যা দিয়ে বুধবার ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর ও বলিভিয়া তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। জবাবে ব্রাসিলিয়াও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভেনিজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করেছেন, রুসেফের অপসারণের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র। জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘এই অভ্যুত্থান শুধু দিলমার বিরুদ্ধে নয়, এটা ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ার বিরুদ্ধে। এটা আমাদের বিরুদ্ধে। এটা জনপ্রিয়, প্রগতিশীল ও বামপন্থী আন্দোলনের ওপর আঘাত।’ সংসদীয় ক্যু-রুসেফ: সিনেটের ভোটে স্থায়ীভাবে অপসারিত হওয়ার পর দিলমা রুসেফ বলেছেন, তার অভিশংসন একটি সংসদীয় ক্যু এবং তিনি আবার প্রত্যাবর্তনের আশা ব্যক্ত করেছেন। বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি ও গার্ডিয়ান

অবৈধ অভিবাসী নিয়ে ট্রাম্পের সুর আরও চড়া

 যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের শতভাগ খরচ মেক্সিকোকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার আরিজোনা রাজ্যের জনসভায় এ ঘোষণা দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অভিবাসন নীতি ঘোষণার সময় এ ব্যাপারে তার আগের কড়া অবস্থানে অনঢ় থাকেন এ রিপাবলিকান নেতা। সিএনএন জানায়, এ ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিকো পিনা নিয়েতোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে দেয়াল নির্মাণের ব্যয়-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি। তবে পরে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, তিনি ট্রাম্পকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তার দেশ কোনো অর্থ পরিশোধ করবে না। অভিবাসীদের ব্যাপারে আরিজোনার জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের দেশের বসবাসরত সবার সঙ্গে উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করব। কিন্তু যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে তাদের সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। কারণ আইনে এমনটিই বলা হয়েছে।’ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং এ সংক্রান্ত আইনের সংস্কার করে মার্কিনিদের জীবনকে আরও উন্নত করতে এবারের নির্বাচনই শেষ সুযোগ বলে অভিহিত করেন তিনি। বিবিসি জানায়,
মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার নির্বাচনী এজেন্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে দেয়াল নির্মাণের পুরো অর্থ মেক্সিকোর কাছে দাবি করেন তিনি। কথিত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেকানোর জন্য এ সীমান্ত দেয়াল নির্মাণ করা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে বলে জানান ট্রাম্প। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকান অভিবাসীদের ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘ধর্ষক’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেন এ রিপাবলিকান প্রার্থী। তবে সম্প্রতি ধারণা করা হচ্ছিল আরিজোনার অভিবাসন বিষয়ক বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বহিষ্কারের পরিকল্পনা থেকে সরে আসবেন ট্রাম্প। কিন্তু আরিজোনা রাজ্যের ফনিক্সের দেয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের পরিণতি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নয় এবং ‘অপরাধী বিদেশীদের’ বহিষ্কার করাকে প্রাধান্য দেয়া হবে। ট্রাম্প বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের অবশ্যই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। নিজের অভিবাসন নীতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ‘আদর্শিক পরীক্ষা’য় উত্তীর্ণ হলেই তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, আদর্শিক পরীক্ষায় অনার কিলিং, নারী, সমকামী ও সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে শ্রদ্ধা এবং উগ্র ইসলামপন্থার ব্যাপারে মনোভাবের বিষয়টি যাচাই করা হবে।যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য উদ্বেগ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের কারণে আমাদের শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান, মজুরি, গৃহায়ণ, শিক্ষা, করসহ সাধারণ জীবনমান প্রভাবিত হচ্ছে।

সবই করা হচ্ছে চীনকে টার্গেট করে

গত সোমবার, ২৯ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত পরস্পরের স্থলভূমি, আকাশ ও নৌঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ রেখে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তিটিকে Logistics Exchange Memorandum of Agreement (LEMOA) বলে অভিহিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ চুক্তি অনুসারে শুধু জ্বালানি সরবরাহ, যৌথ মহড়া, মানবিক ত্রাণ কাজের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশ একে অপরের ঘাঁটি ব্যবহার করতে সহযোগিতা করবে। চুক্তি স্বাক্ষর করার পর ওয়াশিংটনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার বলেছেন, এ চুক্তি দ্বারা দুই দেশের সামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযানে উপকরণগত সহযোগিতা আরও কার্যকর ও সহজ হবে। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের মতে, সামরিক এ চুক্তির ফলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-সৈন্যরা সহজে পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারবে। সেই সঙ্গে মহড়ায় অংশ নেয়া ও মানবিক সহায়তা দেয়ার সময়ও তারা খুব সহজেই একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমান চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক উঁচু মাত্রার সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এরই মধ্যে চুক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। তাদের ভাষায় এ চুক্তি দ্বারা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সম্পর্কে এক ’উল্লম্ফন’ ঘটেছে। ‘ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে সরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক নতুন মৈত্রীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তবে তাদের মন্তব্যে এক ধরনের সতর্কতাও আছে। ‘যদি ভারত তাড়াহুড়া করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায় তাহলে এ পদক্ষেপ চীন, পাকিস্তান, এমনকি রাশিয়ার জন্য অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এর ফলে ভারত নিরাপদ হবে না বরং কৌশলগতভাবে ঝামেলায় পড়ে যেতে পারে; এশিয়া অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।’ অন্যদিকে ভারতের ভেতরও এক ধরনের মিশ্র মতামত লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, এর ফলে ভারতের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হল। আবার কারও মতে এটা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোট গড়ার এক চুক্তি যা ভারতের জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী ও দেশটির সার্বভৌত্বের লংঘন। গত শতাব্দীর নব্বই দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ভেতর যে গুণগত ও পরিমাণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সামরিক চুক্তি হয়েছে সন্দেহ নেই। অথচ ভারত বিভক্তির পর উপমহাদেশের দুটি দেশের মধ্যে পাকিস্তান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, যার সঙ্গে পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝি প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সিয়াটো ও সেন্টো সামরিক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র আবদ্ধ হয়েছিল। অপরপক্ষে ভারতের জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার বিষয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ নীতি ছিল ‘অনৈতিক নিরপেক্ষতা (immoral neutrality)’।
ভারত বরং সোভিয়েতের মিত্র হয়ে উঠেছিল তার জোটনিরপেক্ষতা এবং বর্ণবাদ-উপনিবেশবাদ-নিরস্ত্রিকরণনীতির জন্য। অথচ স্নায়ুযুদ্ধ অবসান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন বন্ধু খোঁজার দরজা খুলে দিল। যে যুক্তিতে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্ব পেত (সোভিয়েত বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিত) তার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ায় দেশটি আগের গুরুত্ব হারাল যখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের গুরুত্ব বেড়ে গেল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তা নির্মাণে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে ভারত ততদিনে আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নতুনভাবে তার দক্ষিণ এশীয় নীতি প্রণয়ন করতে শুরু করে। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৯০ দশকের শুরুর দিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ নৌমহড়া শুরু করেছিল যার ধারাবাহিকতায় স্থল ও বিমান বাহিনীর মধ্যেও যৌথ মহড়া সম্প্রসারিত হয়েছিল। লক্ষ করার বিষয়, নতুন অর্থনৈতিক নীতির ফলে চীনের অর্থনীতিতে যে বিরাট পরিবর্তন সংঘটিত হয় তা দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যকে জোরালোভাবে পরিচালনার তাগিদ সৃষ্টি করেছিল। এ তাগিদ থেকে চীন তার ভূখণ্ডের সন্নিহিত সমুদ্রপথকে যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করেছে তেমনই নিজ সমুদ্র অঞ্চলকেও সম্প্রসারিত করেছে। দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তার বিরোধ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে জটিলতা তৈরি করায় প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন সামরিক সহযোগিতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবাধ নৌ ও বিমান পরিবহন এবং নির্বিঘ্ন বাণ্যিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সমান আগ্রহী। তাদের কথা থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের একাধিপত্য তৈরিতে তাদের জোরালো আপত্তি আছে এবং তাদের আপত্তিকে তারা সামরিকপেশি দিয়ে প্রকাশ করতে চান।
২০১৫ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র Joint Strategic Vision for the Asia-Pacific and Indian Ocean Region নাম দিয়ে এক ঘোষণায় চীনের সঙ্গে সমুদ্র অঞ্চল নিয়ে বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরে সমুদ্র নিরাপত্তা এবং নৌ ও বিমান চলাচলের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার ব্যাপারে প্রত্যয় ঘোষণা করেছিল। এ ঘোষণা থেকে কিছু উদ্ধৃতি বিষয়টি বোঝার জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ‘নিরাপত্তার সঙ্গে আঞ্চলিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। আমরা সমগ্র অঞ্চল, বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ এবং সমুদ্র চলাচল ও বিমান যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে চাই ... আমরা সব পক্ষকে হুমকি অথবা শক্তি ব্যবহার করা পরিহার করতে বলি এবং শান্তিপূর্ণভাবে আঞ্চলিক ও নৌ বিরোধের সমাধানের আহ্বান জানাই।’ এটা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে চীনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের এ ধরনের সহযোগিতার তাৎপর্য সবার কাছে একভাবে দৃশ্যমান হবে না। সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, চীন তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু সেটা কতদূর চীনের ভেতরের কথা তা নিয়ে একটা প্রশ্ন উঠতে পারে। গত বছরের স্ট্রাটেজিক ভিশন ঘোষণা এবং বর্তমান চুক্তিকে বিশ্লেষণ করে বলা যায়, চীন আপাত স্বাগত জানালেও বিষয়টির ওপর তার নিশ্চয় তীক্ষè নজর থাকবে। কারণ তাকে উদ্দেশ করে এসব পদক্ষেপ নেয়া হলে দক্ষিণ চীন সাগরে তার যে লক্ষ্য তা বাধাগ্রস্ত হবে যা তার কাম্য হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক দ্বারা সামরিক সম্পর্ক প্রভাবিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ক্রমান্বয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ, বিশেষ করে গত কয়েক বছরে তার কাঙ্ক্ষিত অস্ত্রের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীতে পরিণত হওয়া এবং তাদের মধ্যে ঘন ঘন যৌথ মহড়া- এগুলো সবই চীনকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে। এশিয়া অঞ্চলে চীনের ‘মুক্তোমালানীতি’র বিপরীতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের চীনকে মোকাবেলা করার নীতি ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কী প্রভাব ফেলবে তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে।
ড. আকমল হোসেন : অধ্যাপক (অব.), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
akmalhussainir@yahoo.com

এটি কি ভারতের কূটনীতির ভারসাম্য?

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহযোগিতা নতুন কোনো চিন্তা নয়। এর আগেও তারা পারমাণবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার স্বাক্ষর রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক চুক্তির মধ্য দিয়ে নতুন যে সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হল, তা অবশ্যই সিগনিফিকেন্ট। এখানে একটি বিষয় আছে, পাকিস্তানের মতো লো ক্লাস রাষ্ট্রের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে এবং তারা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলে অভিযুক্ত, যারা সন্ত্রাসের প্রসার ঘটাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে। বিষয়টিকে এখন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা বড় হুমকি ভাবা হচ্ছে। যদিও চীন-পাকিস্তান সহযোগিতা এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সহযোগিতার বিষয়টি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য, তবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ চুক্তি ভারত মহাসাগরে রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন মেরুকরণ ঘটাবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, দক্ষিণ চীনে চীনের যে আধিপত্য বিস্তারের মনোভাব, সেটিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহী করেছে ভারতের সঙ্গে এ ধরনের একটি স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেশন গড়ে তুলতে। ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আমাদের অঞ্চলের নিরাপত্তা স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে অনিরাপত্তার জায়গাগুলোকে একটু ছোট করবে। পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন অনুরাগের যে বিষয়টি ছিল, সেটি থেকে বের হয়ে আসতে পারলে পাকিস্তানের যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, যা নিয়ে ভারত-আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ সব সময় অনিরাপত্তায় ভোগে,
তা থেকে মার্কিন সমর্থন দূরে নিয়ে আসা যাবে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়বে। পাকিস্তানের ওপর মার্কিন চাপ বৃদ্ধি পেলে আমাদের অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, তা হ্রাস পাবে। এর সঙ্গে জন কেরির বাংলাদেশ সফরের বিষয়টিও আমি যুক্ত করতে চাই। বাংলাদেশে মার্কিন সম্পর্কের একটি নতুন মোড় দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশ-মার্কিন সহযোগিতার বৃত্তে অনেক কিছু থাকলেও সেখানে গভীরতা সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে মার্কিন অবস্থান এতদিন যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পর্কের গভীরতা তৈরিতে একটি বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করেছে। জন কেরির সফরে আমরা দেখেছি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করা হয়েছে। এ নিরিখে আমরা বলতেই পারি, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ-ভারত ও মার্কিন সম্পর্কের বিষয়টি বেশ কিছুটা এগিয়ে গেল। ভারত যে বিশ্বে একটি উচ্চমানের শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে, সেই শক্তির প্রতি মার্কিন সহযোগিতা স্বভাবতই আন্তর্জাতিক মেরুকরণে প্রভাব রাখবে। ভারত যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করতে যাচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মার্কিন সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি না ঘটালেও কিছুটা বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করবে। আমি মনে করি, এ ধরনের চুক্তি চীনকে সামান্য হলেও শংকিত করবে। এ অঞ্চলে চীনের তো একটা অবস্থান আছে। এ অবস্থায় বাইরের কোনো শক্তি এসে যখন একটি অঞ্চলে সহযোগিতার সেতুবন্ধ তৈরি করছে, সেটিকে স্বভাবতই তারা হুমকি মনে করবে। সে ক্ষেত্রে চীনের বিরোধিতা একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হবে। আরেকটি বিষয় হল, চীন-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব অস্বাভাবিকতা না থাকলেও পরস্পরের কাছে যাওয়ার একটা প্রবণতা রয়েছে,
যদিও অরুণাচল প্রদেশ ও অন্যান্য সমস্যা খুব একটি গতি পায়নি। এ ক্ষেত্রে আমি বলব, চীন-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি প্রভাব ফেলবে এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বাঁক সৃষ্টি হবে।রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের এবং এর একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। এ অবস্থায় যুুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বা বেশি ঘনিষ্ঠতা রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক হালকা করে তুলবে বলে আমি মনে করছি না। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক হালকা করে ভারত আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরিতে আগ্রহী হবে- এমন পর্যায়ে ভারত যাবে বলে আমি মনে করি না। ভারতের এ নীতিকে আমরা বলব পররাষ্ট্রনীতির একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান। এ ধরনের চিন্তা যারা করছেন, আমি বলব, তারা কল্পনার রাজ্যে বাস করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হল কংগ্রেসের সময়, তখন বামজোট এটিকে ইস্যু করে সরকার থেকে বের হয়ে গিয়েছিল এ আশায় যে, তারা জনসমর্থন পাবে। পরে নির্বাচনের সময় দেখা গেল, বামদের ভরাডুবি শুরু হয়েছে। ওই ইস্যুতে বিরোধিতা করেও ভারতীয় জনগণের সমর্থন তারা পাননি- এটা হচ্ছে ঐতিহাসিক সত্য। একই বিষয়ে অন্য কেউ অবস্থান নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারবেন- এমনটি আমি মনে করি না। মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশীদ (অব.) : স্ট্র্যাটেজি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (আই ক্ল্যাডস)-এর নির্বাহী পরিচালক

বগুড়ায় পুঁজির অভাবে বন্ধ হচ্ছে পোলট্রি খামার

বগুড়ায় পুঁজি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে ছোট-বড় অর্ধেক অর্থাৎ আড়াই হাজারের বেশি পোলট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আড়াই লাখ মানুষ বেকার হয়েছেন। যে কয়েকটি খামার চালু আছে সেগুলোও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। মালিকরা কিছুটা লাভ, কিছুটা ক্ষতির মধ্যে থাকলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হচ্ছেন। ভুক্তভোগী খামারিরা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোলট্রি শিল্প খাতকে আবারও চাঙা করতে স্বল্প সুদে ঋণ, মুরগি ও ডিম বিদেশে রফতানির সুযোগ এবং সরকারি প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা দাবি করেছেন। বগুড়া জেলা পোলট্রি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের হিসাব অনুসারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই শুধু ব্যক্তি উদ্যোগে এ জেলায় ছোট-বড় ৫ হাজার ২০০ পোলট্রি খামার গড়ে ওঠে। আর ডিম ফোটানোর হ্যাচারি ৬০টি। এখানে এ পেশার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাড়ে ৫ লাখ মানুষ জড়িত। বছরে দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে।
পুঁজির অভাবসহ নানা কারণে অর্ধেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে গেছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। খামারিরা বলছেন, গত বছরের ৪ এপ্রিল প্রলয়ংকরী ঝড়ে ৪০ শতাংশ খামার ধ্বংস হয়ে গেছে। মালিকরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর দাঁড় করাতে পারেননি। এছাড়া পুঁজির অভাবে অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো অন্য শিল্পে সহজে ঋণ দিলেও সরকারি নির্দেশনা থাকার পরেও খামারিদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে না। ঋণ দিলেও ১২-১৭ শতাংশ সুদ দিতে হয়; যা পরিশোধ করা কঠিন। সূত্রটি আরও জানায়, পোলট্রি ব্যবসায় ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় ফিডে। কিন্তু এ ফিড মানসম্পন্ন ও জীবাণুমুক্ত না হওয়ায় মাংস ও ডিম উৎপাদনের হার দিন দিন কমে যাচ্ছে। মাংসের জন্য ব্রয়লার ও সোনালি জাতের মুরগি এবং ডিমের জন্য লাল রঙের হাইব্রিড ও সোনালি হ্যাচিং (ব্রিডিং) মুরগি পালন করা হয়। একটি সুস্থ মুরগি একদিন পর পর ডিম দিয়ে থাকে।

রিসা হত্যার আসামি গ্রেপ্তার

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিসা হত্যার আসামি ওবায়দুল খানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় যেকোনো অসাধ্য–সাধন করা যায়। গত বুধবার নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজার থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও এর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাংস ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন ও ইজিবাইকচালক ইসমাইল হোসেন আসামিকে কৌশলে সোনারায় বাজারে নিয়ে এসে পুলিশকে খবর দিলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সহজ হয়। যাঁরা রিসা হত্যার আসামিকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জানাই উইলস লিটল ফ্লাওয়ার বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও, যাঁরা অপরাধীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নজিরবিহীন না হলেও ব্যতিক্রমী। অভিভাবকেরা যথার্থই প্রশ্ন রেখেছেন, যদি একজন ছাত্রী এভাবে রাজপথে ঘাতকের হাতে খুন হয়, তাহলে মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? বাবা-মা কোন সাহসে সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন?
গত ২৪ আগস্ট রিসা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এই হত্যাকাণ্ড কেবল ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরই কাঁদিয়েছে, তা নয়। বিচলিত ও উদ্বিগ্ন করেছে দেশের প্রতিটি শান্তিকামী ও বিবেকবান মানুষকে। আমরা মনে করি, রিসা হত্যার আসামির গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব শেষ হয়নি, শুরু হলো মাত্র। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে তদন্তকাজেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুরূপ দক্ষতা ও আন্তরিকতা প্রত্যাশিত। রিসা হত্যার বিচারের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে যে খুনির ক্ষমা নেই। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। রিসার ঘটনা আমাদের সামনে এই সত্যই তুলে ধরেছে যে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে সাধারণ মানুষও অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এই সাধারণ মানুষকে সাহস জোগানো সমাজের এবং পুরস্কৃত করা সরকারের দায়িত্ব।

রোমাঞ্চিত ওয়ালশ

কোর্টনি ওয়ালশই যে মাশরাফিদের বোলিং কোচ হচ্ছেন, আগেই তা জানা গিয়েছিল। কাল জানা গেল, ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হওয়ার জন্য সই করেছেন তিনি। এ সপ্তাহেই নতুন দায়িত্ব নিতে ঢাকায় আসবেন এই সাবেক ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্টে রেকর্ড ৫১৯ উইকেট নেয়া ওয়ালশ বলেছেন, ‘বিশেষজ্ঞ বোলিং কোচ হিসেবে বিসিবিতে যোগ দিতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। ছেলেদের সঙ্গে কাজ শুরু করার জন্য আমি উদগ্রীব।’ তিনি যোগ করেন, ‘কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট দেখে আসছি। ওরা সত্যিই একদল প্রতিভাবান খেলোয়াড়।’ ওয়ালশ বলেন, ‘দলের প্রধান কোচ হিসেবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এ পর্যন্ত দারুণ কাজ করেছেন। আশা করি, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাফল্য অব্যাহত রাখতে পারব।’ তিনি হিথ স্ট্রিকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ওয়ালশের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর। ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। বিশ্বকাপের পরের আসর বসবে ইংল্যান্ডে।
গর্ডন গ্রিনিজের পর দ্বিতীয় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হলেন ওয়ালশ। সাবেক ক্যারিবীয় ওপেনার গর্ডন গ্রিনিজের প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ ’৯৭ আইসিসি ট্রফি জেতার পর ’৯৯ বিশ্বকাপে অভিষিক্ত হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো একটি বিবৃতি নিশ্চিত করেছে যে, ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্ব নিচ্ছেন ওয়ালশ। সেই বিবৃতিতেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিংবদন্তি এই ফাস্ট বোলার। ওয়ালশ বলেছেন, ‘বিসিবিতে স্পেশালিস্ট বোলিং কোচ হিসেবে যোগ দিয়ে আমি রোমাঞ্চিত। ছেলেদের সঙ্গে কাজ শুরু করার জন্য মুখিয়ে আছি আমি। দূর থেকে কয়ক বছর ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনুসরণ করে বুঝেছি, দারুণ প্রতিভাবান সব ক্রিকেটার আছে ওখানে।’ ক্যারিবীয় নির্বাচক হিসেবে থাকলেও বাংলাদেশের প্রস্তাব উপেক্ষা করা কঠিন ছিল বলে জানিয়েছেন ওয়ালশ। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডে নির্বাচক হিসেবে কাজ করাটা আমি দারুণ উপভোগ করেছি। আমাকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য ওদের ধন্যবাদ জানাই। অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজই আমার ঘর। তবে প্রতিভাবান একটি দলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোচিংয়ে নতুন মাত্রায় যাওয়ার সুযোগ এটি।
এ সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে চাইনি।’ প্রধান কোচের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান ওয়ালশ। তার কথায়, ‘প্রধান কোচ হিসেবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে অসাধারণ কাজ করেছেন এখন পর্যন্ত। আশা করি, ওর স্কিলের সঙ্গে আমি যোগ্য সঙ্গ দিতে এবং উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে পারব।’ এদিকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোর্টনিকে নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। তার লাখ লাখ অনুরাগী। ফাস্ট বোলিং সম্পর্কে তার জ্ঞান অতুলনীয়।’ বিসিবির সিইও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে পেস বোলিংয়ে বর্তমানে সেরা সময় যাচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে, কোর্টনি আসায় তাতে আরও উঁচুমাত্রা যোগ হবে।’ গত বছর একদিনের ক্রিকেটে নিজেদের সেরা সময় পার করেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার পর হোম সিরিজ জিতেছে তারা পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

সুন্দরবনের শেষ বেলায় by শাহদীন মালিক

হাফপ্যান্ট পরার বয়সে অনেকবার সুন্দরবনে গিয়েছিলাম। খুলনা থেকে লঞ্চে করে দক্ষিণে, অনেকবার একেবারে দক্ষিণের শেষ মাথা পর্যন্ত, যেখানে নদী বঙ্গোপসাগরে মিলায়। বন বিভাগের চাকুরে বাবা তখন ছিলেন সুন্দরবনের দায়িত্বে। তাঁকে বনের ভেতরে যেতে হতো ঘন ঘন। আমরা তাঁর সঙ্গে যেতাম প্রতি দুই-তিন মাসে একবার। সরকারি বাসা ছিল সরকারি লঞ্চঘাটের পাশে। মাঝেমধ্যে স্কুল ছুটির পর স্কুল থেকেই সোজা লঞ্চঘাটে। বন বিভাগের দুটো বড় লঞ্চ ছিল, ছোট লঞ্চ-নৌকা ছিল অজস্র। সুন্দরবনের মাঝখানে দুজনেই হাফপ্যান্ট পরা আর হাতে দোনলা বিরাট বন্দুক। আমাদের উচ্চতা আর বন্দুকের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান। তখন আমাদের বলা হতো বন্দুকের নলার আগা যাতে কোনো কিছু স্পর্শ না করে—মাটি, গাছ, নিজের পা, কোথাও যেন না ছুঁয়ে যায়। ওভাবে বন্দুক বহন করার বাহাদুরিটা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। বলা বাহুল্য, সেই গাদাবন্দুক দিয়ে গুলি ছোড়ার জন্য শরীরের যে ওজন দরকার, তা হতে অনেক বছরের তরুণ হতে হয়। সে সময় ছিলাম বালক। তখনকার যে ছবি আমার সংগ্রহে আছে, তাতে আমার পাশে দাঁড়ানো বন্দুক নিয়ে অন্য বালকটি ছিল রুমী—জাহানারা ইমামের পুত্র।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তাই নদীর নাম এখন মনে পড়ছে না। নদীটার তীরে শীতের সকালে দুই-তিন কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ডজন ডজন কুমির চিত হয়ে রোদ পোহাত। লঞ্চের ইঞ্জিন খুব আস্তে বা একেবারে বন্ধ করে দিয়ে নদী দিয়ে ভেসে গেলে কুমিররা মোটেও বিরক্ত হতো না। অবশ্য ইঞ্জিনের শব্দ হলে ঝুপঝুপ করে নদীতে নেমে পড়ত। সুন্দরবনের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে নদী-সমুদ্রের মোহনায় যেখানে জঙ্গল বা গাছের ঘনত্ব থাকত কম, সেখানে বালুচরে সন্ধ্যায় হরিণের পাল দেখা যেত। দু-তিনবার লঞ্চ থেকে সাঁতার কেটে নদী পার হতে দেখেছি বাঘ মামাকে। মাছের কোনো হিসাব–নিকাশ ছিল না। জেলেদের নৌকা থেকে গলদা চিংড়ি কেনা হতো ছোট বালতির হিসাবে। এক বালতি চিংড়ি এক বা দুই টাকা, সঙ্গে বেশ কিছু রুপচাঁদা আর ভেটকি মাছ ফাউ। বাবার চাকরির সুবাদেই ময়মনসিংহের মধুপুরের জঙ্গলে ছোট চিতাবাঘ দেখেছি। শূকর, হনুমান আর বানর ছিল জঙ্গলে শত শত, হাজার হাজার, পাখি বেশুমার। সিলেটেও বাঘ দেখেছি আর বিল-হাওরের মাছরাঙা পাখির টকটকে উজ্জ্বল কত যে রং হতে পারে, তা যাঁরা হরেক কিছিমের মাছরাঙা দেখেননি, তাঁদের পক্ষে আন্দাজ করা অতি দুরূহ। সেই বন-জঙ্গল আর বন্য পশুর খুব অল্পই এখনো টিকে আছে। গত বছর বেশ কিছুদিন পর পার্বত্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। বান্দরবান হয়ে রাঙামাটি। রাস্তার পাশে সব লেংটা লেংটা পাহাড়-টিলা। কবে যে গাছ কাটা হয়ে গেছে, কে জানে।
আর চারা লাগানো হয়নি। বাবা বন বিভাগে চাকরি নিয়েছিলেন ১৯৪৬ সালে, পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর। বছর পাঁচেক আগে প্রথম জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘বন বিভাগে কেন?’ ‘পাস করার পর প্রথম যে চাকরির বিজ্ঞাপন চোখে পড়েছিল, সেটা ছিল বন বিভাগের।’ সিলেট সব সময়ই ছিল আসাম প্রদেশের, রাজধানী ছিল শিলং। ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের বন বিভাগে চাকরি করে অবসরে যান ১৯৮৪ সালে। পরে আরও ১০ বছর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারে (আইইউসিএন) চাকরি। ১৯৯৭-৯৮ বা ওই রকম এক সময়ে বাবা খুব হতাশার সুরে বলেছিলেন, পশুপাখি, বন-জঙ্গল এ দেশে কিছু হয়তো থাকবে না। বুড়ো বয়সে তাঁর এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছিল যে আমাদের উন্নয়ন-ধারণা মোটেও পরিবেশবান্ধব নয়। উন্নয়নের জন্য আমরা পরিবেশ বিসর্জন দেব। বাবা শেষের দিকে আর বন-জঙ্গলের কথা বলতেন না। এত বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে গেলে দেশটাও উজাড় হয়ে যাবে, অর্থাৎ বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। বসবাসের জন্য ঢাকা এখন বিশ্বের চতুর্থ নিকৃষ্টতম শহর। পুরো দেশের অবস্থা খুব বেশি ওপরে হওয়ার কথা নয়। নিকৃষ্ট, তা বুঝি আমরা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রামপালে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে। অবশ্যই হবে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে না!
দুই. সরকার এসেছে, সরকার গিয়েছে। সরকারগুলো হাজারীবাগের ট্যানারি নিয়ে হম্বিতম্বি করছে বহু বছর ধরে। জোট সরকার, মহাজোট সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সেনা-সমর্থিত সরকার, সাম্প্রদায়িক শক্তি-সমর্থিত সরকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক ও অসাম্প্রদায়িক, অর্থাৎ কোনো ধরনের সরকারই বাদ নেই। কিন্তু ট্যানারি সেই ট্যানারির জায়গায়ই আছে। নদী শেষ করেছে, লাখো মানুষের জীবন শেষ করছে। পরিবেশ-টরিবেশ তো খুচরা ব্যাপার। সরকারি কলকারখানা সম্পর্কে ২৮ এপ্রিলের প্রথম আলো বলছে, বিসিআইসির ১৪টি কারখানার মধ্যে ১০টিতে নেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা; সাতটিতে নেই কোনো বর্জ্য পরিশোধনাগার। এটাই শেষ নয়, পাঁচটির কোনো পরিবেশ ছাড়পত্রই নেই। তবে হ্যাঁ, পরিবেশ অধিদপ্তর হয়েছে একটা পরিবেশ আইনের অধীনে। পরিবেশ রক্ষা করবে। কেউ পরিবেশ আইন ভঙ্গ করলে অধিদপ্তর মামলা করবে। পরিবেশ আদালতও হয়েছে পরিবেশ মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য। ছোট্ট একটা কিন্তু আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো নিজস্ব পরিবেশ আইনে বিশেষজ্ঞ আইন কর্মকর্তা নেই, মাঝেমধ্যে দু-একজন বিচারক প্রেষণে আসেন। অর্থাৎ পরিবেশ আইন অনুযায়ী পরিবেশ রক্ষার আইনগত ব্যবস্থা শুধু আইনেই সীমাবদ্ধ। আইনজীবী না হলে না-ই হলো, বন রক্ষা করতে বন কর্মকর্তা তো লাগবে। সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে ১৯৮৬ থেকে ২০০৩ সালের আগ পর্যন্ত একজন বন কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয়নি কোনো সরকার। ২০০৩ সালে ১৭ বছর পর একসঙ্গে ৩০ জন বন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারপর গত ১২ বছরে বন কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন মোট ৩৮ জন। বছরে গড়ে জনা তিনেক।
তিন. বিভিন্ন কারণে পরিবেশ নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। পরিবেশ, বন-জঙ্গল, পশুপাখি রক্ষা করার ক্ষমতা সরকারের। কিন্তু সরকারের গত দুই দশকের কোনো লোক কি বলতে পারবে যে এই বড় দূষণটা তারা ভীষণভাবে কমিয়ে বা রোধ করে পরিবেশ ও বনের বড় রকমের উন্নতি করেছে? সরকার যখন, বিশেষত সরকারপ্রধান যখন বলছেন রামপাল থেকে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না, তখন নিশ্চয় হবে না। কয়েক বছর আগেও সুন্দরবনে বাঘ ছিল সাড়ে চার শর মতো। এখন বলা হচ্ছে সোয়া শ। বাবা মারা গেছেন গত বছর, ৯০ বছর বয়সে। বেঁচে থাকলে রামপাল নিয়ে সম্ভবত উল্লসিত হতেন না। আমাদের বাসায় সেগুন কাঠের ফার্নিচার কখনো ছিল না, এখনো নেই।
ড. শাহদীন মালিক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট। শিক্ষক, আইন বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক।

এবার জিনের চরিত্রে তিশা

গল্পের প্রয়োজনে কত ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হয় শিল্পীদের। কখনও সাজতে হয় শাঁখারি বাজারের দোকানি, কখনও বা বেদে পল্লীর মেয়ে। মূলত দর্শকদের ভালো কিছু চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় ঘটাতেই তাদের এ প্রয়াস। তার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ‘জিম এন্ড জিমি’ নামের একটি নাটকে বোতলবন্দি জিন চরিত্রে অভিনয় করলেন তিনি। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মোন্তাসীর বিপন। নাটকটির গল্পে দেখা যাবে চল্লিশে পা ফেলা অতি সাধারণ জিম পেশায় একজন লেখক। তার জীবনে সমস্যার কোনো শেষ নেই। প্রতিটা স্তরে জীবন তার সঙ্গে কৌতুক করে চলেছে। জিম মনে-প্রাণে চায় এ জীবনের পরিবর্তন। হঠাৎ কুড়িয়ে পাওয়া একটি কাচের বোতল জীবন বদলে দেয় তার। কারণ কুড়িয়ে পাওয়া বোতলটিতে থাকে এক জিনকন্যা। এই জিনকে নিয়েই নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় গল্প।
এতে অভিনয় প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘এ ধরনের চরিত্রে এটিই প্রথমবার অভিনয় করলাম। এতে দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। শুটিংয়ের সময় নিজেকে জিন ভেবে বেশ হাসিও এসেছে। আশা করি নাটকটির গল্প দর্শকদের বিনোদিত করবে।’ এতে তিশার বিপরীতে অভিনয় করছেন শতাব্দী ওয়াদুদ। নাটকটি আসছে ঈদে কোনো এক বেসরকারি চ্যানেলে দেখানো হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, তিন বছর পর ঈদ উপলক্ষে একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিশা। নাটকের নাম ‘বিউটি বোট’। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান। এ ছাড়াও সম্প্রতি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ডুব’ ছবি নিয়েও ব্যস্ত রয়েছেন এ তারকা। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন বলিউডের ইরফান খান।