Monday, April 3, 2017

ওয়াশিংটনে আজ ট্রাম্প-সিসি সাক্ষাৎ

যুক্তরাষ্ট্র সফররত মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে আজ সোমবার সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কঠোর সমালোচনার মুখে থাকা মিসরের এই ক্ষমতাধর নেতাকে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প।  প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর বিশ্বনেতাদের মধ্য ট্রাম্পকে প্রথম অভিনন্দন জানান সিসি। তাঁর কাছে এই সফরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছ থেকে কখনোই তিনি আমন্ত্রণ পাননি। দুই নেতার আলোচ্যসূচির মধ্যে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়টির পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তিপ্রক্রিয়াটিও স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মিসর ও জর্ডান—এই দুটি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সই করেছে। নতুন করে শান্তিপ্রক্রিয়ায় এই দুটি দেশ অন্যতম ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে যে অচলাবস্থা বিরাজ করছে, তা কাটিয়ে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, এ বিষয়ে মিশ্র আভাস দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প কয়েক দশক ধরে চলে আসা মার্কিন নীতি ভেঙে গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের (ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন) মধ্যে সমঝোতা করাতে তিনি বাধ্য নন। বলেছেন, যদি উদ্দেশ্য শান্তি হয় তাহলে একটি রাষ্ট্র স্থাপনে তাঁর আপত্তি নেই। আবার ইসরায়েল যে বসতি স্থাপন করছে তা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। ট্রাম্প ও সিসির আজকের বৈঠকের পর যৌথ ব্রিফিংয়ের পরিকল্পনা নেই। গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প যখন পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন, তখন তাঁদের দেখা হয়েছিল। তখন ট্রাম্প সিসিকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০১৩ সালে মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিসি। এরপরই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসন মিসরে সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেন। ২০১৫ সালে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও ওবামার সঙ্গে তাঁর শীতল সম্পর্ক ছিল।

দুবাইয়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে আগুন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনে গতকাল রোববার আগুন লাগে। ওই ভবনটির অবস্থান দুবাইয়ের কেন্দ্রীয় অংশে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ইমার প্রপার্টিজের নির্মাণাধীন ৬০ তলা ভবনে গতকাল সকালে আগুন লাগে। এতে ভবনটির আশপাশের এলাকা কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। অগ্নিনির্বাপকেরা দ্রুত এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেন।
ভবনটির আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভবনটি দুবাই মল এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফার কাছে। পরে দুবাই মিডিয়া অফিসের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় ভবনটির নির্মাতা কোম্পানি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বিগত বছর দুয়েকের মধ্যে দুবাইয়ের বহুতল আবাসিক ভবন ও হোটেলে কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের মাজারে ২০ জনকে হত্যা

পাকিস্তানের একটি মাজারে ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই মাজারের খাদেমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঞ্জাব প্রদেশের প্রত্যন্ত শহর সারগোদায় আজ রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের আঞ্চলিক প্রধান জুলফিকার হামিদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ৫০ বছর বয়সী খাদেম আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন, ওই লোকজনগুলো তাঁকে হত্যা করতে এসেছিল—এমন ভয় থেকে তিনি তাঁদের হত্যা করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে উল্লেখ করে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, এই ব্যক্তির মানসিক সমস্যা থাকতে পারে অথবা মাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধিতা থেকে এই ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের প্রধান শামশির জয়া বলেন,
নিহত ব্যক্তিদের জামাকাপড় ছেড়াফাড়া ছিল। দেখে মনে হয়েছে, তাদের নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু সঠিক কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। জয়া বলেন, মাজারটি প্রায় আড়াই বছর আগে গড়ে ওঠে। প্রথম খাদেমের মৃত্যুর পর ওয়াহিদ দায়িত্ব নেন। ওয়াহিদ এক সময় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাজ করতেন। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। গত ফেব্রুয়ারিতে সিন্ধু প্রদেশে সুফি মাজারে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৮৮ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক।

তিন দিন পর সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুঁজিবাজারে

টানা তিন কার্যদিবস দরপতনের পর সূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। আজ সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দৈনন্দিন লেনদেনের গতি সামান্য বেড়েছে। এ ছাড়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে দুই পুঁজিবাজারে। ডিএসইতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক ১৮ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫৭০৯ পয়েন্টে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪১৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। গতকাল এ সময় পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৫২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩১৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৯টির, কমেছে ১২৪টির।
দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টি কোম্পানির। গত তিন কার্যদিবসে ডিএসইতে ডিএসইএক্স সূচক কমে ৪৬ পয়েন্ট। এর মধ্যে গতকাল রোববার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ২৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫৬৯১ পয়েন্টে। অন্যদিকে, সিএসইতে আজ দুপুর ১২টা নাগাদ সার্বিক সূচক বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। মোট লেনদেনের পরিমাণ এখন পর্যন্ত ২৭ কোটি টাকা। গতকাল এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হয় ২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ১৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ৮১টির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি কোম্পানির।

একান্ত প্রয়োজনে ধর্মীয় স্থাপনা অধিগ্রহণ করা যাবে

জনস্বার্থে সরকার একান্ত অপরিহার্য মনে করলে মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয় মন্দির, প্যাগোডা, কবরস্থান ইত্যাদি অধিগ্রহণ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে ওই সব ধর্মীয় স্থাপনা স্থানান্তর করে পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে। এমন বিধান যুক্ত করে ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ২০১৭’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দুপুরে সংবাদ বিফ্রিংয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাধারণ বিধান অনুসারে আগের মতো ধর্মীয় উপাসনালয় অধিগ্রহণ করা যাবে না। তবে সরকার জনস্বার্থে একান্ত অপরিহার্য মনে করলে যেন তা অধিগ্রহণ করতে পারে, সে জন্য প্রস্তাবিত আইনে এ বিধান যুক্ত করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি কোনো একটি মসজিদ না সরালে সড়কে চলাচল ও কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করা হয়, তাহলে সেই মসজিদ সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যাবে। প্রস্তাবিত আইনে যেকোনো স্থাবর সম্পত্তি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে সরকারি পর্যায়ে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে বাজারদরের তুলনায় ২০০ শতাংশ বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অধিগ্রহণ করা জমির বাজারমূল্য এক কোটি টাকা হলে ২০০ শতাংশ বেশি হিসাবে আরও দুই কোটি টাকা যুক্ত করে মোট তিন কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্তকে দিতে হবে। আর কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এই মূল্যের জমি অধিগ্রহণ করলে ৩০০ শতাংশ হিসাবে ক্ষতিগ্রস্তকে চার কোটি টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া আজকের সভায় জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা ২০১৭-এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালা অনুসারে, চলচ্চিত্রে সরাসরি ধর্ষণের দৃশ্য দেখানো যাবে না। অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা পরিহার করতে হবে। যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত করাসহ আরও অনেক বিষয় রাখা হয়েছে নীতিমালায়। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল জনস্বাস্থ্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাউথ-ইস্ট এশিয়ান রিজিয়ন অ্যাওয়ার্ড ফর ‘এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ’ পুরস্কার পাওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সভায় তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।

যেভাবে ডুবে যায় নৌকাটি

‘তখন প্রচণ্ড বাতাস। সাগরে উত্তাল ঢেউ। যাত্রীবাহী সি-ট্রাকটি তীরে ভিড়তে পারছিল না। তাই মাত্র দেড় শ গজ দূরে তীরে ওঠার জন্য নৌকাই ভরসা। সি-ট্রাক থেকে ঠাসাঠাসি করে ৫৫-৬০ জন যাত্রী তোলা হয় নৌকায়। ইঞ্জিন চালু করে কয়েক গজ সামনে যাওয়ার পরই সি-ট্রাকের সঙ্গে পরপর তিনবার ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় নৌকাটি।’ এভাবেই নৌকাডুবির ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন মোয়াহেদুল মাওলা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ছিলেন তিনি। তিনি সন্দ্বীপের থানা উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। নৌকাডুবির পর সাগরে ঢেউয়ের সঙ্গে আধা ঘণ্টা যুদ্ধ করেছেন মোয়াহেদুল। জানালেন, ‘যতটুকু মনে পড়ছে, কয়েকবার লোনা পানি খেয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করি। কয়েকজন এসে আমাকে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছিলেন। চারদিকে তখন বাঁচার আকুতি নিয়ে চিৎকার। একপর্যায়ে উল্টে যাওয়া নৌকাটি দেখে সাঁতরে কাছাকাছি যাই। নৌকাটির ওপরে উঠে সাত-আটজন আশ্রয় নিই। পরে স্পিডবোট এসে আমাদের উদ্ধার করে।’ বেঁচে যাওয়া এই শিক্ষক জানান, সি-ট্রাক থেকে আনুমানিক ২৫-৩০ জন যাত্রী নৌকায় ওঠার পর নতুন করে যাত্রী না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন যাত্রীরা। এতে রেগে যান নৌকার মাঝি। আরও যাত্রী তোলার জন্য গালাগালি করেন। তখন জোর করে আরও ৩০ জনের মতো নৌকায় তোলা হয়। দুর্ঘটনার পর সি-ট্রাক থেকে কোনো বয়া বা ভাসমান কিছু ফেলা হয়নি।
উল্টে যাওয়া নৌকার ভেতর অনেকে আটকা পড়লেও তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা হয়নি। সেটি করা হলে আরও অনেক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা যেত। এদিকে নৌকাডুবির ঘটনায় আজ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনদের থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে উপজেলা প্রশাসন বলছে, নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাঁরা হলেন বড়দা জলদাশ, সালাউদ্দিন, সচীন্দ্র জলদাশ ও রুহুল আমিন। তাঁদের মধ্যে প্রথম তিনজনের বাড়ি সন্দ্বীপে। রুহুল আমিনের বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি মেয়েকে দেখতে সন্দ্বীপ যাচ্ছিলেন। অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা প্রথম আলোকে বলেন, চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ চলছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ফিরে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা জানিয়েছেন। নৌকাটিতে আনুমানিক ৫১ জন যাত্রী থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কাতারপ্রবাসী মুসলিম উদ্দিনের দুজন সন্তান রয়েছে। তারা বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে সন্দ্বীপ যাচ্ছিল। তারা হলো তাহসিন (৯) ও নিহা (৪)। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী রয়েছেন।
নিখোঁজদের তালিকা
উপজেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা হলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী তানজীম মো. জোবায়েদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক মো. ওসমান, ইউসুফ আলম ও আনোয়ার হোসেন, আমিন রসুল, মো. শামসু, নিজাম মোস্তফা, কামরুজ্জামান, তাহসিন (৯), নিহা (৪), হাফিজ উল্যাহ, মাঈন উদ্দিন, মো. ইউছুপ, মাসুদ মো. আজিজ, মো. হাসান, সামান্তা, রাবিয়া আক্তার ও নিজাম উদ্দীন। গত রোববার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাট থেকে যাত্রীবাহী একটি সি-ট্রাক সন্ধ্যায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে পৌঁছায়। সি-ট্রাকটি সরাসরি তীরে ভিড়তে না পারায় নৌকায় করে যাত্রীদের তীরে নেওয়া হয়। সি-ট্রাক থেকে তীরে নেওয়ার সময় আনুমানিক ৫১ জন যাত্রীবাহী একটি নৌকা উল্টে যায়। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত নৌকাটির ২২ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

পশ্চিমবঙ্গের মাদরাসায় মুসলিমের চেয়ে অমুসলিম ছাত্রই বেশি

মাদরাসা মানে শুধু মুসলিম পড়ুয়া নয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তত পাঁচটি মাদরাসায় অ-মুসলিম ছাত্রই সংখ্যায় বেশি। পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকায় আজ সোমবার এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। মাদরাসা পরিষদ সূত্রে খবর, বর্ধমানের ওড়গ্রাম চতুষ্পল্লি হাইমাদরাসা, হুগলির দাবরা হাইমাদরাসা, পুরুলিয়ার হুড়া মুজাফফর আহমেদ অ্যাকাডেমি হাইমাদরাসা, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ইসলামিয়া হাইমাদরাসা এবং উত্তর দিনাজপুরের কসবা এম এম হাইমাদরাসায় অমুসলিম ছাত্ররা সংখ্যাগুরু। ওড়গ্রামে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১২৩০। এর মধ্যে অ-মুসলিম ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৮০০। দাবড়ায় ২৫৬ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অ-মুসলিম পড়ুয়ার সংখ্যা ১৫৭। পুরুলিয়ার হুড়ায় ১৩৬০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৭২০ জন অ-মুসলিম। চন্দ্রকোনায় ৩৮৩ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ২২৫ জন আর উত্তর দিনাজপুরের কসবায় ৫৯৫ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৩২০ জন পড়ুয়া অ-মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। ওড়গ্রাম হাইমাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত সায়ন বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মাদরাসা মানেই কেবল মুসলিম পড়ুয়ারা পড়বে, সাধারণ মানুষের মনে এটা একটা ভুল ধারণা রয়েছে। ওড়গ্রাম চতুষ্পল্লি হাইমাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আমি গর্বিত। ওই মাদ্রাসার স্যারেদের জন্যই আমি এত দূর পৌঁছতে পেরেছি।’’ পুরুলিয়ার হুড়া মুজাফফর আহমেদ অ্যাকাডেমি হাইমাদরাসার সাবেক ছাত্রী মিতালি মাহাতো বর্তমানে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নার্সিং-এ স্নাতক পড়ছেন।
তার কথায়, ‘‘হুড়ার মাদরাসায় পড়াশোনার সময় কখনোই জাতপাতের কথা মনে হয়নি। আরবি পড়ে ক্লাসে ভালে নম্বরও পেয়েছি। বর্তমান সময়ে সাম্প্রদায়িকতা যখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে তখন এমন মাদরাসা সম্প্রীতির মডেল হওয়া উচিত।’’ ঠিক একই কথা বললেন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাদ্রাসা শিক্ষা সংগঠনের সভাপতি এ কে এম ফারহাদ-ও। তার কথায়, ‘‘মাদরাসা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বদল হওয়া দরকার। মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে এই পাঁচটি মাদ্রাসা সারা রাজ্যে মডেল হওয়া উচিত।’’ এ রাজ্যে বর্তমানে মাদরাসা পর্ষদ পরিচালিত ৬১৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সঙ্গে মাদরাসা পর্ষদের সিলেবাসে তফাৎ একটাই। মাদরাসা পর্ষদে বাড়তি বলতে ১০০ নম্বরের আরবি সাহিত্য। হুড়া মুজাফফর আহমেদ অ্যাকাডেমি হাইমাদরাসার প্রধান শিক্ষক আহমাদুল্লাহ আনসারি বলেন, ‘‘আমাদের মাদরাসা প্রাক্তন ছাত্র অনন্ত টুডু আরবিতে সর্বাধিক নম্বর পেয়ে বর্তমানে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি অনার্স নিয়ে পড়়াশোনা করছে।’’ পাঁচটি মাদরাসাতেই অ-মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরা সংখ্যায় বেশি। মাদরাসা পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবিদ হোসেন বলেন, ‘‘পাঁচটি মাদ্রাসার এক কিলোমিটারের মধ্যেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত বিদ্যালয়ও রয়েছে। তা সত্ত্বেও অ-মুসলিম পড়ুয়ারা মাদরাসায় ভর্তি হয়েছে।’’ অর্থাৎ? মাদরাসা পর্ষদ সচিব রেজওয়ানুল করিম তরফদার বলেন, ‘‘সমাজের বড় অংশের মধ্যে আসলে মাদরাসা সম্পর্কে ভুল ধারণা রয়েছে। রাজ্যের পাঁচটি মাদরাসায় অ-মুসলিম ছাত্রদের সংখ্যাধিক্য সেই ভুলটাই ভেঙে দিল।’’

উত্তরপ্রদেশ পাকিস্তান হয়ে যেত!

ভারতের ‘‌উত্তরপ্রদেশ আর একটা পাকিস্তান হয়ে যেতে পারত। যোগীই বাঁচিয়েছেন।’‌ দাবি হিন্দুত্ববাদী নেত্রী সাধ্বী প্রাচীর। বিধানসভা ভোটে রাম মন্দির ও গো রক্ষাকে হাতিয়ার করে উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। সেই প্রেক্ষাপটেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্ভলের এক সভায় বলেছেন, ‘উত্তরপ্রদেশের ‌মুখ্যমন্ত্রী হয়ে জনগণকে স্বস্তি দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছেন।
রাজ্যটা আর একটা পাকিস্তান হয়ে যেতে বসেছিল। উনি এসে বাঁচিয়ে দিলেন।’ মার্চ মাসে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ছিল সমাজবাদী পার্টি। তাদেরও একহাত নিয়েছেন সাধ্বী। তার দাবি, ক্ষমতায় এসেই কাজ শুরু করে দিয়েছে যোগী সরকার। খুব শিগগির আগের সরকারের আসল ছবিটা প্রকাশ পাবে। দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়ে গিয়েছে সপা নেতৃত্বের।

শ্রীনগর বিমানবন্দরে গ্রেনেডসহ ভারতীয় সেনা গ্রেফতার

জম্মু-কাশ্মিরের শ্রীনগর বিমানবন্দরে দুটি গ্রেনেডসহ সেনাবাহিনীর এক সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হওয়া ওই সেনা সদস্যের নাম ভূপাল মুখিয়া। তিনি পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা। আজ সোমবার সকালে ‘অ্যান্টি হাইজ্যাকিং স্কোয়াড’ তাকে গ্রেফতার করে। ভূপাল মুখিয়া ১৭ জম্মু-কাশ্মির রাইফেলসের সদস্য। তিনি ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উরি সেক্টরে মোতায়েন ছিলেন। তাকে গ্রেফতার করার পরে বাডগাম পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। ওই সেনা সদস্য বিমানে করে শ্রীনগর থেকে দিল্লি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দরে চেকিংয়ের সময় তার ব্যাগ থেকে দুটি গ্রেনেড উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তথ্যে প্রকাশ, দিল্লির কোনো এক ব্যক্তির কাছে ওই গ্রেনেড তুলে দেয়ার কথা ছিল ভূপাল মুখিয়ার। তার দাবি, এক কর্মকর্তা তাকে ওই গ্রেনেড দিয়েছে কিন্তু পুলিশ তার কথা বিশ্বাস করছে না।
এটি কোনো বড়সড় ষড়যন্ত্র কী না পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে। ওই সেনা সদস্যের বিশেষ চার্টার্ড বিমানে দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। বিমানটিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দিল্লিতে আসছিলেন সেসময় গ্রেনেডসহ সেনা সদস্যকে গ্রেফতার করার ঘটনার মধ্যে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টমহল মনে করছেন। শ্রীনগর বিমানবন্দর দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিমানবন্দর হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবসময় কঠোর থাকে। ওই সেনা সদস্যকে গ্রেনেডসহ এমন সময় গ্রেফতার করা হল যখন রোববার জম্মু-কাশ্মির সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এদিন সেখানে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পথ উদ্বোধন করেন। সূত্র : ওয়েবসাইট

ভোটযন্ত্রে শুধু মোদির দলের প্রতীক, ভারতে উদ্বেগ

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে মধ্যপ্রদেশের নির্বাচনের আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন পরীক্ষায় দেখা গেছে, যন্ত্রটি ব্যবহার করলে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের প্রতীকই বের হয়ে আসছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দু'জন কর্মকর্তাকে বদলিও করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে আগামী সপ্তাহেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু রাজ্যটিতে ভোট অনুষ্ঠানের আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পরীক্ষা করার সময় কর্মকর্তারা দেখতে পান, যন্ত্রটিতে যে কোনো বোতাম চাপলেই শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি'র নির্বাচনী প্রতীক আঁকা স্লিপ বের হয়ে আসছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দিল্লি থেকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হবে। কর্মকর্তাদের ইভিএম পরীক্ষা করার এ ভিডিওটি গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন,
ইভিএম-এ এমন অদ্ভুত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। এছাড়াও দু'জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের দুটো প্রতিনিধি দলও পাঠানো হচ্ছে মধ্যপ্রদেশে। ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের শুরু থেকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত এ দল দুটো মধ্যপ্রদেশেই থাকবে বলে জানিয়ছে নির্বাচন কমিশন। গত মাসেই ভারতের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দেশটির নির্বাচনে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলে। প্রায় দুই দশক আগে ভারতের নির্বাচনে প্রথম ইভিএম ব্যবহার করা হলেও এখন কয়েকটি রাজনৈতিক দল অভিযোগ করছে ইভিএম-এ ভোট জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত উত্তরপ্রদেশের ভোটে ইভিএমে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনেন বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী। তারপরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং দিল্লির কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেনও অভিযোগ করেন যে ইভিএম-এ কারচুপি করা সম্ভব। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন বরাবরই বলে আসছে, ভোটযন্ত্রে কারচুপি করা সম্ভব নয়। আর দেশের সব ভোটে ইভিএম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। সূত্র : বিবিসি

ইরাক সফরে ট্রাম্পের জামাতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং তার শীর্ষ সহকারী জারেড কুশনার সরকারি এক সফরে ইরাক গেছেন। রোববার মার্কিন প্রশাসনের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানান, কুশনার জয়েন্ট চীফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল জোয়ি ডানফোর্ডের সাথে ইরাক সফর করছেন। তিনি তাকে এ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে তার এ ইরাক সফরের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আর কিছু জানানো না হলেও সেখানে আলোচনার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ইসলামি স্টেট গ্রুপের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র আইএস গ্রুপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত মাস থেকে আন্তর্জাতিক এ জোট মসুলের পশ্চিমে তুমুল লড়াই করে আসছে।
এরফলে এ অঞ্চল থেকে নিরাপত্তার জন্য দুই লাখেরও বেশি বেসামরিক লোক পালিয়ে গেছে। সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের আগের কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও কুশনার ওয়াশিংটনে ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গের অন্যতম বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি হোয়াইট হাউজের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির ওপর তার যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়াও তার স্ত্রী ইভাঙ্কা ট্রাম্পও প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গত সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের সহকারীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে হোয়াইট হাউজে নিয়মিতভাবে ইভাঙ্কার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চীনে কারখানায় বিস্ফোরণে ৫ জনের মৃত্যু, আহত ৩

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় আনহুই প্রদেশে রোববার বিকেলে এক অগ্নিকা-ে পাঁচ জনের মৃত্যু ও অপর তিন জন আহত হয়েছে। নগরীর গণসংযোগ কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে আনকিং নগরীর ওয়ানহুয়া তেল কোম্পানির একটি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকা-ের তিন ঘন্টা পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়।
উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে অপর পাঁচ জন সেখানে আটকা পড়ে। সোমবার ভোরে পাঁচ জনের সকলকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। অপর জন সামান্য আহত হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ

মেক্সিকোর একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাংবাদিকদের প্রতি সহিংসতা এবং বিচারহীনতার প্রতিবাদে তারা পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়েছে। মেক্সিকোর 'নর্তে দে সোদাদ জুয়ারেজ' নামের ওই পত্রিকা তাদের সম্পাদকীয়তে জানিয়েছে, সাংবাদিকদের প্রতি ধারাবাহিক সহিংসতা এবং অপরাধীদের শাস্তির নজির না মেলায় তারা প্রকাশনা বন্ধ করে দিচ্ছে। রোববার পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে জানানো হয় যে এটিই তাদের শেষ সংস্করণ। যদিও পত্রিকাটি অনলাইনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যমের একজন সংবাদকর্মী মিরোসলাভা ব্রিচকে মার্চ মাসে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মার্চে মেক্সিকোর তিনজন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন যাদের একজন ছিলেন মিস ব্রিচ।
মেক্সিকোর সংগঠিত অপরাধের সাথে রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন তিনি। নিজ পত্রিকা ছাড়াও একটি জাতীয় পত্রিকার জন্যও তিনি ওই প্রতিবেদন বানিয়েছিলেন ব্রিচ। চিহুয়াহুয়া রাজ্যে নিজ বাড়ির সামনে নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মিস ব্রিচ। দুর্বৃত্তরা আটবার গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। ওই ঘটনার সময় মিস ব্রিচের এক সন্তানও তার সাথে গাড়িতে ছিল। যদিও সে কোথাও আঘাত পায়নি। হত্যা করে যাওয়ার সময় একটি নোট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা "খুব বেশি কথা বলার জন্য"। সূত্র : বিবিসি

ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ৯ বছরের মেয়ের মামলা

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়েছে নয় বছরের এক মেয়ে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখণ্ডের মেয়ে রিদিমা পাণ্ডে মামলাটি করেছে। নিজেকে ‘সহানুভূতিশীল শিশু’ দাবি করে মেয়েটি জানায়, সে চায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার সরকার পৃথিবীকে সংরক্ষণ করুক।
উল্লেখ্য, তিন বছর ধরে ভারী বৃষ্টি, বন্যা এবং ঘন ঘন ভূমিধসের কারণে উত্তরাখণ্ডে কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে। রিদিমার যুক্তি বিশ্বের তৃতীয় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ ভারত জলবায়ু বিষয়ে স্বাক্ষর করা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতে পানি সমস্যার সৃষ্টি হবে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্যসঙ্কট তৈরি হবে বলে এর আগে জানিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। সূত্র : ইন্ডিপেনডেন্ট

'উ. কোরিয়াকে একাই মোকাবেলা করবে যুক্তরাষ্ট্র'

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলায় একাই পদক্ষেপ নিতে পারে তার দেশ। যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যম ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেছেন, "চীন যদি উত্তর কোরিয়ার সাথে সমস্যা মোকাবেলায় ব্যবস্থা না নেয় বা যদি পিয়ংইয়ং এর ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি না করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র একাই ব্যবস্থা নিতে পারে।" চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে ট্রাম্পের প্রথম সাক্ষাতে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক মিসাইল পরীক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সপ্তাহেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে সাক্ষাত করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। "উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আর চীনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলায় আমাদের তারা সাহায্য করবে কিনা।
যদি চীন সাহায্য করে তাহলে তাদের জন্যই সেটি অনেক মঙ্গলদায়ক, আর যদি না করে তাহলে সেটি কারো জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনবে না" - ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে বলেছেন ট্রাম্প। তবে উত্তর কোরিয়াকে মোকাবেলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দফা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। গত মাসেই শক্তিশালী রকেট প্রযুক্তি তৈরির দাবি জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ওই রকেট পরীক্ষার ঘোষণার সময় নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন পূর্ব এশিয়া সফর করছিলেন। উত্তর কোরিয়া বলছে, এই প্রযুক্তি তাদের মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা যে এই প্রযুক্তিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
সূত্র : বিবিসি

'অর্ধেক মার্কিনি মনে করেন ট্রাম্প উন্মাদ ও বদমেজাজি'

আমেরিকানেরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ ও ‘বদমেজাজি’ লোক হিসেবে মনে করেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সময়কার প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কৌঁসুলি জন ডিন এ কথা বলেন। ট্রাম্পের শাসনামল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুর্যোগের ঘনঘটা বলেও মনে করেন তিনি। স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় মোট জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষই এ ব্যাপারে নিশ্চিত নন যে তিনি উন্মাদ নাকি পুরোপুরি বদমেজাজি লোক। তারা জানেন না তিনি কী করছেন। ৪০ শতাংশ লোককে তার ব্যাপারে খুশি মনে হচ্ছে কিংবা তার কাজ সমর্থন করেন। আর বাকি ১০ শতাংশ হয়তো বুঝতে পারছেন না কিংবা এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অদ্ভুত একটি সময় চলছে এখানে।’
১৯৭০-এর দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সময় কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন ডিন। এফবিআইয়ের মতে, তিনিই ছিলেন ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মূল হোতা। ডিন মনে করেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টের ‘মনোযোগের ঘাটতি ও শৃঙ্খলার অভাব’ রয়েছে এবং পেশাদার হয়ে ওঠার কোনো চেষ্টাও নেই তার মধ্যে। তিনি বলেন, ‘এ দিক থেকে আমি মনে করি দুর্যোগের প্রকাশ পাচ্ছে ক্রমেই। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এটা দেখে খুশি হই যে, তিনি বিশ্বের কোনো প্রান্ত উড়িয়ে দেননি।’ ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে নিক্সন প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন ডিন। তিনি দোষ স্বীকারের পর রাজসাক্ষী হওয়ার বিনিময়ে লঘুদণ্ড ভোগ করেছিলেন। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের সদ্যবিদায়ী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফিনকেও ট্রাম্পের রুশ সংযোগের বিষয়ে সিনেট ও হাউজ ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে সাক্ষ্যদানের বিনিময়ে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক নয়।

সন্দ্বীপে ট্রলারডুবি : ৪ লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার গুপ্তছড়া ঘাটে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির পর এ পর্যন্ত ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অন্তত ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন, পড়দা জল দাশ, সালাউদ্দিন, সচিন্দ্র জল দাশ, হাজী রুহুল আমিন। এদের সবার বাড়ী সন্দ্বীপে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ট্রলারডুবির পর মধ্যরাতে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে এদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নারী শিশু স্কুল শিক্ষক ও একজন প্রকৌশলী রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।

গুপ্তছড়ায় ট্রলারডুবি : আরেক লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার গুপ্তছড়া ঘাটে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ১৭ জনের মধ্যে আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বেলা দেড়টার দিকে নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার নাম হাফেজ আমিনুর রসূল। তিনি সন্দ্বীপ হরিষপুর বাতেন মার্কেট জামে মসমজিদের ইমাম। এর আগে সকাল পর্যন্ত আরো ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনো অন্তত ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সেনবাগে ৪ শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মানিকপুর, নিজসেনবাগ ও শায়েস্তানগর গ্রামের সেফটি ট্যাঙ্ক ও পুকুরের পানিতে ডুবে চার শিশুর করুন মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশূরা হচ্ছে: দক্ষিন মানিকপুর গ্রামের মোস্তফা ড্রাইভারের বাড়ির বেলাল হোসেনের মেয়ে ফারিয়া আক্তার(৫) তার চাচাতো ভাই মোঃ নাছেরের ছেলে আবদুর রহমান (৬), একই ইউপির গোরকাটা গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে মুনতাহা তাবাচ্ছুম অপু ও শায়েস্তানগর গ্রামের মোঃ সুমনের ছেলে সিয়াম(৩)। স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে: রোববার দুপুরে সেনবাগ উপজেলা ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়নের দক্ষিন মানিকপুর গ্রামের মোস্তফা ড্রাইভারের দুই নাতি-নাতনী ফারিয়া ও আবদুর রহমান বাড়ির পাশ^বর্তী মাঠে খেলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তারা নিখোঁজ থাকায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি শুরু করে।
যার এক পর্যায়ে বাড়ির পাশ^বর্তী টয়লেটের ডাকনা বিহীন একটি সেফটি ট্যাঙ্ক থেকে তাদের চাচাতো-জেঠাতো ভাই-বোনের মরহেদ উদ্ধার করে। অপরদিকে রোবাবার দুপুরে নিজসেনবাগ গ্রামের নানার বাড়ীতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মুনতাহা তাবাচ্ছুম অপু (২) নামে এক শিশুর করুন মৃত্যু হয়েছে। অপু উপজেলার ৫নং অর্জনতলা ইউপির গোরকাটা গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে। এরআগে গত মঙ্গলবার কাবিলপুর ইউনিয়নের আজিজপুর গ্রামে নানার বাড়িতে ভেড়াতে গিয়ে মোঃ সিয়াম(৩) বছরের একটি শিশূ পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। সিয়াম ওই ইউপির শায়েস্তানগন গ্রামের আলী আজ্জম (ক্বারি সাহেবের )বাড়ির মোঃ সুমনের ছেলে। ৪ শিশুর করুন মৃত্যুতে উভয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেফটি ট্যাংকে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ শাহাজান ভূঁইয়া ও সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুন অর রশিদ চৌধুরী।

কমলনগরে ভাইস চেয়ারম্যানসহ জামায়াতের ১৫ জন আটক

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাওলানা হুমায়ুন কবির ও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুর উদ্দিনসহ জামায়াতের ১৫ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল ৮টার দিকে হাজিরহাট-মাতাব্বর হাট সড়কের মার্কাজ মসজিদের পেছনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন একটি টিনসেট বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, সকালে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জামায়াতের প্রায় ৪০ জন নেতা-কর্মী ওই ঘরে বৈঠক করছিলো। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ২০/২৫ জন দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ১৫ জনকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মহসিন কবির মুরাদ, কমলনগর উপজেলা জামায়াতের উপজেলা আমির নুর উদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরসহ জেলা ও উপজেলাসহ বিভিন্ন শাখার জামায়াত-শিবিবের দায়িত্বশীল নেতারা রয়েছেন। এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আটক নেতা-কর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিল। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫টি মোটর সাইকেল, বেশ কিছু লিফলেট ও বই জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

গাজনার বিল বহুমূখী প্রকল্পের কাজ নির্দ্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না

বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের তত্বাবধানে সেনাবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডিজেল প্লান লিঃ পাবনার সুজানগরে “গাজনার বিল সংযোগ নদী খনন, সেচ সুবিধা উন্নয়ন ও মৎস্য চাষ” প্রকল্পের আওতায় তালিমনগরে প্রায় ১৭২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ডুয়েল পদ্ধতির পাম্পিং স্টেশন নির্মান কাজ নির্দ্ধারিত সময় চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হচ্ছে না। এদিকে প্রকল্পের সংশোধিত ডিজাইন ও এষ্টিমেটে পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৬ কোটি টাকা। বহুমুখী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষিজ পণ্য ও মাছ উৎপাদন হবে। এতে প্রকল্প এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকার “গাজনার বিল সংযোগ বাদাই নদী খনন, সেচ সুবিধা উন্নয়ন ও মৎস্য চাষ” প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বহুমূখী প্রকল্প গ্রহন করে। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে শুরু হওয়া ৩ বছর মেয়াদী এই পকল্পটির কাজ ২০১৩ সালে ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রায় ৩৬ মাস সময় বাড়িয়ে প্রকল্প কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬০ ভাগ। প্রকল্পের ব্যয় ঠিক রেখে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ ২৪ মাস মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবনা পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, বন বিভাগ এবং মৎস্য সম্পদ ও প্রাণী সম্পদ বিভাগকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়।
বেড়া পাউবো বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডিজেল প্লান লিঃ ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি সুজানগরের তালিমনগরে শুরু হওয়া ডুয়েল পদ্ধতির পাম্পিং স্টেশন নির্মান কাজ ২০১৭ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। এছাড়া পাম্পিং স্টেশন থেকে কাজিরহাটের যমুনা নদী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সংযোগ খাল খনন করা হবে। খালের পানি উত্তোলনের জন্য পাম্পিং স্টেশনে অত্যাধুনিক আটটি পাম্প মেশিন বাসানো কথা রয়েছে। পাম্পিং ষ্টেশনের জন্য ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের সংশোধিত এষ্টিমেটে পাম্প স্টেশন নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৬ কোটি টাকা। জানা যায়, প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর গ্রোস এরিয়ার এই প্রকল্পে ১৭ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পাবে। এই প্রকল্পে মোট ৫০ কিলোমিটার বাদাই নদী খনন, ১১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সেকেন্ডারি খাল, ৪৯ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল, তালিমনগরে একটি পাম্পিং স্টেশনসহ নানা প্রকার ভৌত অবকাঠামো নির্মান করা হবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এক ফসলী জমি দুই ফসলী এবং দুই ফসলী জমি তিন ফসলীতে রুপান্তরিত হবে। ফসলের উৎপাদন ১৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০০ শতাংশতে উন্নিত হবে। এতে করে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষিজ পণ্য উৎপাদন হবে। গাজনার বিল, বিল গ্যারগা, গাঙভাঙ্গার বিল ও মোস্তার বিলের অভয়াশ্রম থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যাবে। সাবমার্জএবল সড়ক পথে শুস্ক এবং বর্ষা মওসুমে কৃষকেরা সরাসরি মাঠ থেকে ফসল ঘরে নিতে পারবেন। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষ রোপণ করা হবে।
এদিকে “গাজনার বিল সংযোগ নদী খনন, সেচ সুবিধা উন্নয়ন ও মৎস্য চাষ” প্রকল্পের ভৌগলিক অবস্থান গত কারণ বিবেচনা করে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের ষ্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। সেটি এখন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় হয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প ব্যয় না বাড়িয়ে আগের ডিপিপি থেকে কিছু কিছু ভৌত অবকাঠামো বাদ দিয়ে নতুন ভাবে ১৭টি হেড রেগুলেটর/চেকষ্ট্রাকচার ও ২টি ব্রীজ সংযোজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় ৫০ কিলোমিটার আত্রাই ও বাদাই নদী খনন করা হয়েছে। প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি গ্রুপে জিয়ার জোলা, আত্রাই নদী, হিরন নদী, নাগনাখালী ও ভাদুরঠাকুরের জেলার ৬৮ কিলোমিটার খনন করে শাখা খাল তৈরি করা হচ্ছে। গাজনার বিল, বিল গ্যারগা, গাঙভাঙ্গার বিল ও মোস্তার বিলের অভয়াশ্রমে দেশী প্রজাতি বিভিন্ন মাছ চাষ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ৪৯ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল, প্রায় ৪৫ কিলোমিটার শাখা খালসহ নানা ধরনের ভৌত অবকাঠামো নির্মান কাজে হাত দেয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ও মৎস্য সম্পদ বিভাগ প্রকল্প এলাকায় কিছু কিছু কাজ করেছে। তবে বন বিভাগ ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ কোন কাজ না করেই প্রকল্প গুটিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দুটি খাতে বরাদ্দ অর্থ কি করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তালিমনগরে বেড়া পওর বিভাগের অধিন সুজানগর উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী এ.এম রশিদ জানান, পাম্পিং ষ্টেশনের নির্দ্ধারিত জায়গায় গোরস্থান ও মাসজিদ ছিল। এগুলো স্থানান্তর নিয়ে এলাবাসীর সাথে সৃষ্ট জটিলতার কারণে নির্মাণ কাজ প্রায় দেড় বছর পিছিয়ে যায়। এ কারণে নির্দ্ধারিত সময় ২০১৭ সালের ৩০ জুনে নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ জন্য ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্মাণ কাজের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে পাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৫৫ ভাগ। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ৮৮ ভাগ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। পাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণের জন্য ৮৯ মিটার লম্বা ৬৮ মিটার চওড়া ও ১২ মিটার গভীর একটি পুকুর খনন করা হয়েছে। সেখানে পাইলিং ও আরসিসি ফাউন্ডেশনের (ভিত্তি) কাজ শেষ হয়েছে। রড বাঁধাই (বাইন্ডিং) ছাড়া মূল অবকাঠামো, সিসি ব্লক নির্মাণ, মেশিনের সাহায্যে মাটিকাটা, ডিওয়াটারিংসহ অন্যান্য কাজ চলছে। ফাইন্ডেশনের উপর নির্মিত অবকাঠামোতে অত্যাধুনিক ৮টি পাম্প মেশিন স্থাপন করা হবে। আটটি পাম্প মেশিনের পানি উত্তোলন ও নিস্কাশন ক্ষমতা এক হাজার ৪০০ কিউসেক। গাজনার বিল বহুমূখী প্রকল্পের আড়াইডাঙ্গি, বিলবাউসি, চৈত্রহাটি, বিলগাজনা, পুরাডাঙ্গা, মধুপুর এলাকায় দেখা যায়, বাদাই ও আত্রাই নদী খনন করায় বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা দুর হয়েছে। দিগন্ত বির্¯Íৃীর্ণ হাজার হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকেরা রকমারি ফসল ফলাচ্ছেন। নদী বিলে মাছের চাষ হচ্ছে। বাদাই কদমতলি গ্রামের কৃষক শ্রী বিমল চন্দ্র বিশ্বস, পুরাডাঙ্গার জরু মোল্লা, বিলবাউসার তাহের মোল্লা, চৈত্রহাটির আব্দুল্লাহ্, শ্রীকোল গ্রামের আউব আলী জানান, শুকনো মওসুমে বাদাই নদী শুকিয়ে যেতো। পানির জন্য তাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বাদাই ও আত্রাই নদী খনন করায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানির অভাব দুর হয়েছে। ফলে দিগন্ত বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে এখন পেঁয়াজ, ডাল, পাটল, মরিচ, পাট, বোরো, আমন ধানসহ নানা ফষল আবাদ হচ্ছে। স্থাপিত হয়েছে নৌ-যোগাযোগ।
এলাকার কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন। বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সুজানগর পওর উপ-বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, পাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ৮৮ ভাগ এবং ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ হবে। প্রকল্প এলাকায় নানা ধরনের জটিলতার কারণে নির্দ্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্প কাজের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে অতিরিক্ত কোন অর্থ ব্যয় হবে না। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর গঠিত টাস্কফোর্সের তত্বাবধানে ডিজাইন অনুয়ায়ী কাজ বুঝে নেয়া হচ্ছে। এর ফলে “গাজনার বিল সংযোগ নদী খনন, সেচ সুবিধা উন্নয়ন ও মৎস্য চাষ” প্রকল্পে নদী খননসহ অন্যান্য কাজে ফাঁকী দেয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানান। বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। কৃষির সাফল্য জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এই প্রকল্পের ২৭ হাজার হেক্টর জমি নিস্কশন এবং ১৭ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পাবে। এক ফসলী জমি দুই ফসলী এবং দুই ফসলী জমি তিন ফসলীতে রুপান্তরিত হবে। প্রকল্প এলাকায় বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষিজ পণ্য ও দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদন হবে। এতে এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উপরে উঠে আসবে। আর্সেনিক প্রবনতা কমে যাবে। এলাকার আবহাওয়া থাকবে শীতল।

টয়লেটের প্যানে নবজাতকের লাশ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেট থেকে ফুটফুটে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার ভোরে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন পেশার মানুষ বিস্ময় ও দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, হায়রে মানুষ, হায়রে মানবতা! কী দোষ ছিল ফুটফুটে এ নবজাতকের। অভিযোগ রয়েছে, এক তরুণী অবৈধ গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে তার নবজাতক ছেলে সন্তানকে হাসপাতালের টয়লেটে ফেলে দিয়েছে। ওই তরুণী নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। প্রেমের কথা বলে লোহাগড়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী একই উপজেলার ঝিকড়া গ্রামের এক তরুণ প্রায় নয় মাস আগে মেয়েটির সাথে অবৈধ ভাবে মেলামেশা করায় মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে, পরিবার ও লোকচুক্ষুর ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি ওই মেয়েটি। প্রসব যন্ত্রণায় মেয়েটি তার নানীকে সাথে করে শনিবার (১ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান,
পেটে ব্যাথার কথা বলে মেয়েটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালের কয়েকজন রোগী জানান, রোববার ভোরে দীর্ঘ সময় ধরে মেয়েটি হাসপাতালের টয়লেটে অবস্থান করে। প্রায় এক ঘণ্টা পরে অন্য এক রোগী টয়লেটে গিয়ে প্যানের ভেতর নবজাতকের লাশ দেখতে পান। এ সময় ওই রোগীর চিৎকারে সবাই এগিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালের আয়া টয়লেটের প্যান থেকে নবজাতককে তুলে আনেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মেয়েটি জানায়, গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে ছেলেটি তার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। এদিকে, রোববার অভিযুক্ত ওই তরুণের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে, গতকাল অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। লোহাগড়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রোববার বিকেলে নবজাতকের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। জীবিত না, মৃত অবস্থায় নবজাতকটি ভূমিষ্ঠ হয়েছিল, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার জন্য ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এদিকে, অভিযোগ পেলে ওই তরুণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া অভিযুক্ত ওই তরুণের সাথে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনও হতে পারে।

মান্দায় আনন্দ মেলার নামে চলছে জুয়া ও নগ্ন নৃত্য

নওগাঁর মান্দায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের কিছু পশ্চিমে দেলুয়াবাড়ি-চৌবাড়িয়া সড়কের পার্শ্বে আনন্দ মেলার নামে পুলিশের চোখের সামনেই চলছে অবাধে জুয়া ও অশ্লল নগ্ন নৃত্য। ২৭ মার্চ থেকে মাইক ব্যবহার করে ও বড় বড় সাউন্ড বক্স এ হিন্দি গান জুড়ে দিয়ে সন্ধার পর থেকে রাতভর চলছে বেসামালভাবে উদ্ভট সুন্দরী নারীদের গাঁয়ের সব পোশাক খুলে ফেলে উলঙ্গ ও নগ্ন নৃত্য ও গান। এর পার্শেই চলছে ৬টি জমজমাট জুয়ার আসর। এতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উঠতি বয়সের সব স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী ও গ্রাম্য যুবকসহ দূর-দূরান্তের বিকৃত মানসিকতার মানুষের উপচেপড়া ভীড়। তাদের আড্ডায় জমে উঠছে মেলা প্রাঙ্গন।এখানে চলছে এখন শুধুই অশ্লীলতা ও বিকৃত যৌন আবেদনে ভরা উলঙ্গ নৃত্য ও অরুচিকর গানের আগ্রাসন। ফলে চলতি এইচএসসি,আলীম ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পরীর্ক্ষীসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করে চোখেমুখে কুলূপ এঁটে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। সরেজমিনে মেলায় গিয়ে জানা যায়, সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে ও নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় ভারশোঁ গ্রামের জানবক্স সরকারের ছেলে ও মেলা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম সরকার চিতল, বড় ভাই ইদল, ভারশোঁ ইউপি’র চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, বকাজার কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন,সেনা সদস্য আপেল, পিয়ন ডালিম,কাইজাল,সদের আলী, আবদুর রশিদ, ইউনুছ আলী মন্ডল এবং ডিসলাইনের মালিক বাবুল আকতারসহ আরো কতগুলো সমাজের দলপতি ও তাদের অনুগত কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী দলীয় লোকজন শেয়ার পার্টনার হিসেবে একজোট হয়ে এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ। মেলায় অর্থ যোগানদাতা হিসেবে রয়েছেন গোলাম মোর্শেদ কাবুল। তাদের মতো বিকৃত মনের মানুষ দ্বারা সমাজ বিরোধী এসব অপকর্ম পরিচালিত হলেও নগদ লক্ষ্যি কিছু হাতে পড়ায় তুষ্ট হয়ে উপজেলা প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলেছে। প্রশাসনের সহযোগিতা থাকায় এসব অপকর্ম করার সাহস দেখিয়ে যাচ্ছে প্রতি বছরের মতো এ বছরও তা বলাই বাহুল্য মাত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসির অভিযোগ, ভারশোঁ মধ্যপাড়া জামে মসজিদ, বাজার জামে মসজিদ, তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২০০-৩০০ মিটার অদূরে নিয়মিতভাবে এখানে আনন্দ মেলার নামে ১০০টাকা থেকে সর্বনি¤œ ২০টাকা টিকিটে চলছে বোনাস হিসেবে ফ্রি হিট শো সর্ম্পূণ উলঙ্গ নৃত্য। সন্ধ্যা থেকে মাইক ও বড় বড় সাউন্ড বক্স এ হিন্দি গান জুড়ে দিয়ে প্রচার চালানো হয়। এরপর রাতভর সেখানে ১টি আনন্দ মেলা নামের যাত্রায় ও মিতা অলৌকিক যাদু প্রদর্শনী গ্রুপ বিচিত্রা অনুষ্ঠান এবং অলৌকিক যাদু প্রদর্শনী পুতুল নাচের নামে ভ্যারাইটি শো চলছে। এতে প্রদর্শন করা হচ্ছে বেসামালভাবে উদ্ভট ফর্সা সুন্দরী নারীদের গাঁয়ের সব পোশাক খুলে ফেলে উলঙ্গ ও নগ্ন নৃত্য ও গান। পার্শ্বেই চলছে রাজশাহীন কুখ্যাত জুয়ারু আবদুল কাইয়ুমসহ চাঁপাই নবাবগঞ্জের ৬টি অবৈধ জুয়ার আসর। জুয়ার আসরগুলোয় লাখ লাখ টাকার অবৈধ জুয়া খেলা চলছে প্রকাশ্যে। সাংবাদিক জুয়ার ছবি মোবাইলে উঠালে এক জুয়ারুর লোকজন ছবি ডিলিট করে দেয় এবং বলে ছবি তুলছেন কেনো? আপনি কি করেন? ছবি তুললে এখুনি পুলিশ এসে জুয়া বন্ধ করে দিবে।
এ সময় মোবাইল কেড়ে নিতেও সাহস দেখায়। প্রশাসনিকভাবে ১৫ দিনের জন্য বিচিত্রা গানের নামে অনুমোদনের পর উলঙ্গ নৃত্য চালালে পুলিশ ভেঙ্গে দিচ্ছেন না। প্রশাসনও পুলিশকে ম্যানেজ করে ঐখানে আনন্দ মেলার নামে চলছে অবৈধ জুয়া ও উলঙ্গ নৃত্য। বর্তমানে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় অটোরিক্সায় করে মাইকিং করে মেলায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো ছাড়াও দৈনিক পদ্মা র‌্যাফেল ড্র’র নামে অবৈধভাবে ৬০টি অটোরিক্সায় করে ২০টাকা মূল্যের লটারির প্রচারিভিযান ছাড়াও মান্দা,নিয়ামতপুর ও তানোর উপজেলায় ডিশ লাইনের মাধ্যমে খোনো হচ্ছে। বিচিত্রা অনুষ্ঠানের নামে সন্ধার পর থেকে শুরু হচ্ছে উলঙ্গ নৃত্য ও অবৈধ জুয়ার আসর। যুব সমাজসহ সব বয়সের লোকদেরকে গ্রাস করছে ভয়াবহ অবক্ষয়ের নীল ছোবল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় দলপতি জানান, প্রথমে অনুমতি না পেলেও ২৭ মার্চ থেকে বিচিত্রা অনুষ্ঠানের কথা বলে প্রশাসনের অনুমতি নেয়া হয়েছে। তাই ভিন্ন পথে অন্যনামে আবেদন করে তবেই প্রশাসনের অনুমতিতে তা অবলিলায় চালানো সম্ভব হচ্ছে।এ জন্য অবশ্য মান্দা থানায় নিয়মিত টাকা দিয়ে অবৈধভাবে উলঙ্গ নৃত্য, ডাব্বু জুয়াও লটারি চালানো হচ্ছে। তাছাড়া অয়োজকরা সবাই স্থানীয় ও দলীয় লোকজন হওয়ায় দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে এ উলঙ্গ নৃত্য ও অবৈধ জুয়ার আসর চালানোর সাহস পাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন এলাকাবাসীর। উলঙ্গ নৃত্য ও অবৈধ জুয়ার আসরগুলো বন্ধের জন্য সচেতন এলাকাবাসিরা প্রশাসনের নিকট দাবী জানিয়ে লিখিত আবেদন দিলেও প্রশাসন তা কর্ণপাত করছে না বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ চেয়ারম্যান সুমনের নাম ভাঙ্গিয়ে আনন্দ মেলার নামে অশ্ল¬ীলতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে এলাকার উঠতি বয়সের যুবকরা বিপথ গামী করা হচ্ছে।

রাতে ফেসবুক বন্ধের কথা ভাবছে সরকার

মধ্যরাতে ছয় ঘণ্টা ফেসবুক বন্ধ রাখার কথা ভাবছে সরকার। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির মতামত চাওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত বছর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে ফেসবুকের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে আলোচনা হয়, রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটি ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থী ও তরুণদের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। নেশার মতোই তারা মাধ্যমটি ব্যবহার করছে।
সে কারণে রাতে ফেসবুক বন্ধ রাখার সুপারিশ আসে। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ টেলিযোগাযোগ বিভাগকে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে রাত বারটা থেকে ছয় ঘণ্টা ফেসবুক বন্ধ রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর টেলিযোগাযোগ বিভাগ ওই বিষয়ে বিটিআরসির মতামত চেয়েছে। মতামত পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আরো ২৮ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

আরো ২৮টি ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক (পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন) স্টোরাইড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল মঞ্জুর করে এ রায় দেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই ২৮টি কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন একই হাইকোর্ট বেঞ্চ। উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া ২৮টি ওষুধ কোম্পানি হচ্ছে- অ্যামিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এজটেক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেঙ্গল টেকনো ফার্মা লিমিটেড, বেনহাম ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ডিসেন্ট ফার্মা লিমিটেড, ডা. টিমস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, গ্লোবেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইনোভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ম্যাক্স ড্রাগস লিমিটেড, ম্যাডিমেট ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, মর্ডার্ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মিসটিক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, অর্গানিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড, ওয়েস্টার ফার্মা লিমিটেড, প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, প্রাইম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, সীমা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, হোয়াইট হর্স  ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মমতাজ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইউনিকফার্মাসিউটিক্যালস লি., ইউনাইটেড কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এফএনএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড ইউনিট-১, ইউনিট-২, ইউনিট-৩। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা ‘জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকটরি প্র্যাকটিস)’ অনুসরণ না করে ২৮টি কোম্পানি নিম্নমানের অ্যান্টিবায়েটিক, স্টোরাইড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন করছে। এতে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। ওষুধের মান ঠিক রাখতে উৎপাদন পদ্ধতি, লোকবল, ফ্যাক্টরির অবস্থান, পদ্ধতি, প্যাকেট, বোয়িংসহ অনেক বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে জিএমপি নীতিমালায়। এ নীতিমালাটি আমাদের দেশের প্রচলিত আইনেও স্বীকৃত। ফলে জিএমপি লঙ্ঘন করে ওষুধ উৎপাদন সম্ভব নয়’। রিট আবেদনে বলা হয়,  ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর ১৫ (১) ধারা অনুসারে  প্রতিটি ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি অনুযায়ী ওষুধ উৎপাদন করবে।
১৫  (২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ওষুধ কোম্পানি জিএমপি অনুসরণ না করে, তবে সে সকল কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল অথবা সাসপেন্ড করা যেতে পারে’। ১৭ ধারায় নিম্নমানের ওষুধ প্রস্তুত, মজুদ, অথবা বিক্রির জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানাসহ শাস্তি অথবা উভয় দণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে’। এর আগে একই হাইকোর্ট বেঞ্চের নির্দেশে ২০টি কোম্পানির সকল ধরনের ওষুধ ও ১৪টি কোম্পানির সকল ধরনের এন্টিবায়োটিক উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। মানসম্মত ওষুধ উৎপন্ন না করায় এ সকল কোম্পানির লাইসেন্সও বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। উৎপাদন বাতিল হওয়া আগের ২০টি ওষুধ কোম্পানি হলো- এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যাল, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যাল, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলপা ল্যাবরেটরিজ, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যাল, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ড্রাগ, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল, রিমো কেমিক্যাল, রিদ ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টার ফার্মাসিউটিক্যাল, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যাল, টুডে ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড। অ্যান্টিবায়েটিক ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করা ১৪টি কোম্পানি হলো- আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল ড্রাগস, ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রিস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যাল, এমএসটি ফার্মা, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, পনিক্স কেমিক্যাল, রাসা ফার্মাসিউটিক্যাল এবং সেভ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।

সিডিএ চেয়ারম্যানের পুনঃনিয়োগ কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের পুনঃনিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।
জনপ্রশাসন সচিব, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ও চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে এক সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রোববার চট্টগ্রামের বাসিন্দা আবু সাইদ বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আইনজীবী সাকিব মাহবুব বলেন, ২০০৯ সালে চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর চারবার তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ২২ এপ্রিল আবদুচ ছালামকে আবারো নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়।

বর্ধিত ভূমি কর দিতে হবে

ভূমি উন্নয়ন কর হিসেবে বর্ধিত হারে কর আদায়ের ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে বর্ধিত হারে কর আদায়ে কোনো বাধা থাকল না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভূমি উন্নয়ন কর হিসেবে বর্ধিত হারে কর আদায়ের ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট।
বর্ধিত কর নির্ধারণ করে ২০১৫ সালের ৩০ জুন ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করার এক আদেশের প্রেক্ষাপটে করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি হতে পারে

দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সাথে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার এক পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া সারাদেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে এবং এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাংশ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল শতকরা ৮১ ভাগ। সূত্র : বাসস

সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের রিভিউ কার্যতালিকায়

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। একই সঙ্গে কার্যতালিকায় এসেছে খালাস চেয়ে আবেদন করা সাঈদীর রিভিউ আবেদনও। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, আজ সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চের কার্যতালিকায় বিষয়টি ১৪৭ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঈদীর প্যানেল আইনজীবী আ্যডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায়  রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। একই বছরের ১৭ জানুয়ারি আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন সাঈদী। রিভিউ আবেদনে সাঈদীর খালাস চাওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাঈদী আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

ভারত সফরে দেশবিরোধী চুক্তি হলে প্রতিবাদ জানাবে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে দেশবিরোধী কোনো চুক্তি হলে প্রতিবাদ জানাবে বিএনপি। গত রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ছাড়াও বৈঠকে দেশের চলমান রাজনীতিসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা নুরুল ইসলাম নুরু হত্যার ঘটনায় শীর্ষ নেতারা ােভ প্রকাশ করেছেন। নুরুসহ নেতাকর্মীদের গুম-খুনের প্রতিবাদে বৈঠকে কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। স্থায়ী কমিটির নেতারা কুসিক নির্বাচনে ইসির ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা মনে করেন, ইসি কুসিক নির্বাচনে অনিয়ম সন্ত্রাস রোধে ব্যর্থ হয়েছে। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রাত সাড়ে ৯টায় এই বৈঠক শুরু হয়ে সাড়ে ১১টায় শেষ হয়। চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবস্থা, কূটনৈতিকসহ নানা বিষয় নিয়ে চেয়ারপারসন দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আজ সোমবার বেলা ১টায় নয়া পল্টনের কার্যালয়ে ব্রিফিং হবে। জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে দলের অবস্থান বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আকস্মিক ইরাক সফরে কুশনার

আকস্মিকভাবে ইরাক সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকার স্বামী হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনার। খবর নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ানের। রোববার ট্রাম্পের এক সিনিয়র অফিসিয়াল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কুশনারের সফরসঙ্গী হন মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাম্প দফতরের কর্মকর্তা জানান, কুশনার নিজ ইচ্ছাতেই ইরাক সফরে করেছেন।
সেখানে গিয়ে তিনি ইরাকিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিষয়টি আরও পরিষ্কার করেন। এর আগে গত ২০ মার্চ ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আইএসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে অকুণ্ঠ সমর্থন দেবে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন।

হঠাৎ ধোঁয়ায় ঢেকে গেল বুর্জ খলিফা

হঠাৎ করে রোববার বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের ‘বুর্জ আল খলিফা’ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রথমে সবাই ভেবেছিল, ভনটিতে আগুন লেগেছে। এতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে লাগা আগুনের ধোঁয়া বুর্জ খলিফাকে ঢেকে ফেলে। তবে দুবাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। খবর খালিজ টাইম, আরব নিউজের। আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ভেতরে আটকে পড়া তিন নির্মাণ শ্রমিককে উদ্ধার করে সহকর্মীদের কাছে বুঝিয়ে দেয় দমকল বাহিনী।
রোববার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। ৬০তলা ওই নির্মানাধীণ ভবনের নাম ‘ফাউন্টেন ভিউ’। নগরীর দুবাই মলের পাশেই অবস্থিত ওই ভবটির একটু দূরেই বুর্জ-আল খলিফা ভবন। অগ্নিকাণ্ডের সময় পুরো আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভবনের আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। দুবাই সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক মেজর জেনারেল রশিদ থানি আল মাতরৌশি জানান, দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সাংবাদিক হত্যা: পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ

সাংবাদিকদের প্রতি সহিংসতা ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে মেক্সিকোর একটি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তার প্রকাশনা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার 'নর্তে দে সোদাদ জুয়ারেজ' নামের মেক্সিকোর একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  খবর বিবিসির। পত্রিকাটি রোববারের সম্পাদকীয়তে জানিয়েছে, সাংবাদিকদের প্রতি ধারাবাহিক সহিংসতা এবং অপরাধীদের শাস্তির নজির না মেলায় তারা প্রকাশনা বন্ধ করে দিচ্ছে। এটিই তাদের শেষ সংস্করণ। যদিও পত্রিকাটি অনলাইনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। জানা গেছে, ওই সংবাদমাধ্যমের একজন সংবাদকর্মী মিরোসলাভা ব্রিচকে মার্চ মাসে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ মাসেই মেক্সিকোর তিনজন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন,
যাদের একজন ছিলেন মিস ব্রিচ। মেক্সিকোর সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন ব্রিচ। নিজ পত্রিকা ছাড়াও একটি জাতীয় পত্রিকার জন্যও তিনি ওই প্রতিবেদন বানিয়েছিলেন। চিহুয়াহুয়া রাজ্যে নিজ বাড়ির সামনে নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ব্রিচ। দুর্বৃত্তরা আটবার গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। ওই ঘটনার সময় ব্রিচের এক সন্তানও তার সঙ্গে গাড়িতে ছিল। যদিও সে কোথাও আঘাত পায়নি। হত্যা করে যাবার সময় একটি নোট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা, যাতে লেখা ছিল 'খুব বেশি কথা বলার জন্য'।

উ.কোরিয়াকে একাই শায়েস্তা করবেন ট্রাম্প

চীনের সহায়তা ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, ‌'চীন সহায়তা না করলেও আমরা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সমস্যার সমাধান করবই।' আর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ট্রাম্প একাই সফল হতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, 'উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের প্রভাব রয়েছে। তাই দেশটির পারমাণবিক হুমকি এবং এ থেকে উৎসারিত সমস্যা সমাধানে চীনের সহায়তা করা উচিৎ। চীন সহায়তা করলে ভালো। নয়তো সমস্যা সমাধান করতে গেলে কারও জন্যই মঙ্গল হবে না।'
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের এ ধরনের ঘোষণা চীনের ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। দুই নেতার প্রথম সাক্ষাতে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক মিসাইল পরীক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সপ্তাহেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাতে সক্ষম দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণে সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ভয় থেকেই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে উঠে পড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভারত সরকারের বিরুদ্ধে শিশুর মামলা

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়েছে নয় বছরের এক মেয়ে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখণ্ডের মেয়ে রিদিমা পান্ডে মামলাটি দায়ের করেছে। নিজেকে ‘সহানুভূতিশীল শিশু’ দাবি করে মেয়েটি জানায়, সে চায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার সরকার পৃথিবীকে সংরক্ষণ করুক। রিদিমার বসবাসের রাজ্য উত্তরাখণ্ডে গত তিন বছর ধরে ভারি বৃষ্টি, বন্যা এবং ঘনঘন ভূমিধসের কারণে কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে।
রিদিমার যুক্তি, বিশ্বের তৃতীয় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ ভারত জলবায়ু বিষয়ে স্বাক্ষর করা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতে পানি সমস্যার সৃষ্টি হবে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হবে বলে এর আগে জানিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। ২০১০ সালে পরিবেশ বিষয়ক মামলা নিষ্পত্তির জন্য ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল গঠন করে ভারত সরকার। রিদিমার মামলাটির শুনানি এ আদালতেই হবে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা চলবে : বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা অব্যাহত রাখার পক্ষে রায় দিয়েছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে সহিংসতার জন্য সমর্থকদের উসকানি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিন বিক্ষোভকারীর করা ওই মামলা থেকে ট্রাম্পকে অব্যাহতি দেয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তার আইনজীবী। ২০১৬ সালের ১ মার্চ কেন্টাকির লুইসভিলে এক সমাবেশে ট্রাম্পের সমর্থকরা ওই মামলাকারীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের আহত করেন। শুক্রবার লুইসভিলের বিচারক ডেভিড জে হালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ মামলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। মামলাকারীদের মধ্যে দু’জন নারী ও একজন পুরুষ। তারা হলেন কাশিয়া নাওয়ানগুমা, মলি শাহ এবং হেনরি ব্রোশিউ। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের সমর্থক ম্যাথিউ হেইমবাস, আলভিন বামবেরজার এবং অজ্ঞাতনামা একজন তাদের ওপর শারীরিক আক্রমণ করেন। আরও অভিযোগ করেন, ‘এসব সমর্থকদের উসকানি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের সমর্থকরা আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন এবং ঘুষি দিয়েছিলেন।’ ওই সময়ে এ সহিংসতার ভিডিও সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পায়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলছেন, ‘তাদের বের করে দাও’। বিচারক ডেভিড জে হালে বলেন, ট্রাম্প, তার প্রচার শিবির এবং তিন সমর্থকের বিরুদ্ধে এ মামলা অব্যাহত থাকবে। তার এ রায়ের পক্ষে বহু যুক্তিও উপস্থাপন করেছেন হালে। তিনি বলেন, এ হামলায় বিক্ষোভকারীরা আহত হয়েছিলেন। সুপ্রিমকোর্ট এর আগে এক রায়ে বলেছে, বাক স্বাধীনতার নামে সহিংসতায় উসকানি দেয়া যাবে না। হালে আরও বলেন, এটি বিশ্বাসযোগ্য যে ট্রাম্পের ‘তাদের বের করে দাও’ চিৎকার সংঘাতকে উসকে দেয়ার শামিল। এটি একটি আদেশ এবং নির্দেশ। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আলভিন বামবেরজার পরে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেন, ট্রাম্পের উসকানিতে উত্তেজিত হয়ে একজন তরুণীকে ঘুষি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সে সময় বারবার বলছিলেন, তাদের বের করে দাও। আরেক অভিযুক্ত হেইমবাস এ মামলার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

ডাইনোসরের বৃহত্তম পায়ের ছাপ অস্ট্রেলিয়ায়

এখন এটি অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ড। এই প্রথম ডাইনোসরদের পায়ের ছাপের হদিস পাওয়া গেল এখানেই। ১০ কোটি বছর আগে তারা দাপিয়ে বেড়াত। ডাইনোসররা লম্বায় দীর্ঘদেহী মানুষের উচ্চতার সমান, ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। এদের গলা ছিল খুব লম্বা। কিন্তু মুখ ছিল হাঁসের চঞ্চুর মতো। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র উপকূলে এমন ২১ প্রজাতির ডাইনোসর একই সঙ্গে থাকত বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, ডাইনোসরদের এত বড় পায়ের ছাপের সন্ধান এর আগে পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই মেলেনি। অনেকটা ক্রেটেসিয়াস যুগের সেরেঙ্গেটিদের মতো। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ওয়ালমাডানির সমুদ্র উপকূলে ১৫ মাইল এলাকাজুড়ে (মানচিত্রে যে এলাকাকে ‘জেমস প্রাইস পয়েন্ট’ বলা হয়) ডাইনোসরদের এ রকম হাজার হাজার পায়ের ছাপের খোঁজ পাওয়া গেছে।

জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের গলফ কূটনীতি ব্যর্থ হচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত সাপ্তাহিক অবকাশ কাটাতে গলফ খেলা পছন্দ করেন। কখনও কখনও ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে পড়েন বিদেশি কোনো নেতার বিপক্ষে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের চিন্তা করছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিয়ে। ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মালিকানাধীন মার-এ-লাগো রিসোর্টে আগামী ৬ এপ্রিল জিনপিংকে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প। সেখানে গলফ খেলার মাধ্যমে জিনপিংয়ের ওপর প্রভাব বাড়াতে চান তিনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ গলফ-কূটনীতি কোনো কাজে আসবে না। ফুটবলপ্রেমী জিনপিং ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ খেলতে রাজি হবেন বলে মনে হয় না। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলা হিসেবে গল্ফের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। পাঁচ বছর আগে ক্ষমতায় আসার পর শি জিনপিংয়ের সরকার দেশজুড়ে গলফ খেলা নিষিদ্ধ করে। এমনকি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রায় ৯ কোটি সদস্যকে খেলা থেকে কার্যত বিরত রাখা হচ্ছে।
দ্য ফরবিডেন গেম : গলফ অ্যান্ড দ্য চাইনিজ ড্রিম নামে একটি বই লিখেছেন ড্যান ওয়াশবার্ন। তিনি বলেছেন, গলফ খেলাকে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন জিনপিং। এখন তার জন্য ওই টপিক সামনে নিয়ে আসা বিব্রতকর। তবে শুধু জিনপিংয়ের হাতেই চীনে গলফ খেলায় নিষেধাজ্ঞার সূচনা হয়নি। ১৯৪৯ সালে দেশটিতে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর গলফ নিষিদ্ধ হয়। সে সময় এ খেলাকে ‘কোটিপতিদের খেলা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আশির দশকের মধ্যভাগে চীন যখন বিশ্বের জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করেছিল, তখন বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গলফ খেলা পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। তখন সরকারিভাবে এ খেলাকে সমর্থনও করা হয়নি, আবার প্রত্যাখ্যানও করা হয়নি। ২০০৪ সালে চীনজুড়ে নতুন গলফ-প্রজেক্ট নিষিদ্ধ করা হয়। আবাদি জমি বাঁচাতে ও পানির সঙ্কট কাটাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় জমির মালিকরা গলফ প্রজেক্ট সংস্থার কাছে তাদের জমি বেচতে আগ্রহী ছিল। অবশেষে সরকার গলফ নিষিদ্ধকরণ আইন করে এবং দেশজুড়ে কার্যকর করে। শি জিনপিং যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, তখন গলফ খেলাও টার্গেটে পড়ে যায়। ২০১৫ সালে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন করে সরকারি টাকায় গলফ খেলা, অতিরিক্ত ব্যয়ে খাবার খাওয়া ও অপ্রয়োজনীয় বিদেশে ভ্রমণ করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ অন্য ধরনের মানুষ। ধনকুবের এই ব্যবসায়ীর জন্য গলফ খেলাটা একটা নেশা।
সপ্তাহখানেক আগেই তিনি ভার্জিনিয়ার একটি গলফ ক্লাবে হঠাৎ ক্যামেরাবন্দি হয়ে পড়েন। অথচ একই সময়ে তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছিলেন, প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে সরকারি কজে মগ্ন আছেন। ওই ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের এ ধরনের প্রবঞ্চনা আগেও দেখা গেছে। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর এক টুইটার পোস্টে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘এটা কি বিশ্বাস করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এত সমস্যা মোকাবেলা করছে, আর ওবামা গলফ খেলে সময় কাটাচ্ছেন! কার্টারের চেয়েও খারাপ!’ এমনকি ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন, ‘আমি জনগণের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি। গলফ খেলার মতো সময় আমার নেই।’ অথচ এখন প্রতি সপ্তাহান্তেই তিনি গলফ খেলার মাঠে হাজির হন। শি জিনপিংয়ের যেহেতু গলফ খেলায় কোনো আগ্রহ নেই, সেহেতু বিনোদনমূলক কাজটা কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে ট্রাম্প দু-রাউন্ড গলফ খেলতে পেরেছিলেন। কিন্তু জিনপিং এতে রাজি হবেন না। এখন নতুন খেলা নিয়ে গণমাধ্যম একটা পরামর্শ দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চীনের টেবিল টেনিস দলকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন একটা মৈত্রী ম্যাচ খেলার জন্য। এ খেলার মাধ্যমেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার সূচনা হয়েছিল।

ভারতে ‘প্রেমের আঘাতে’ বেশুমার প্রাণহানি

বিশ্বব্যাপী বর্তমানে একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। প্রতিদিনই এ অভিশাপের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে নতুন এক পরিসংখ্যান বলছে, সন্ত্রাসের চেয়েও ভয়াবহ হচ্ছে প্রেম! অন্তত ভারতের ক্ষেত্রে এটাই সত্য। এখানে সন্ত্রাসী হামলার চেয়ে ছয়গুণ বেশি মানুষ মারা যায় ‘প্রেমের আঘাতে’। নতুন এক জরিপ অনুসারে, গত ১৫ বছরে সন্ত্রাসী হামলায় ভারতে যত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন প্রেমঘটিত ব্যাপারে। ২০০১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রেমের কারণে ৩৮ হাজার ৫৮৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে এবং আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৭৯ হাজার ১৮৯টি। এছাড়া ২ লাখ ৬০ হাজার অপহরণের ঘটনা ঘটেছে প্রেমের কারণে। এসব নারীর অধিকাংশকেই অপহরণ করা হয়েছে বিয়ের উদ্দেশে। একই সময়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, এসব মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটেছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়– ও মধ্যপ্রদেশ। প্রেমের কারণে সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে এসব এলাকায়। তদন্তে দেখা গেছে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিক নৃশংস হয়ে উঠেছেন। অনেক সময় প্রেমিকাকে ক্ষোভে খুন করেছেন। আবার কখনও নিজেকেও শেষ করে দিয়েছেন। তবে প্রেমে ব্যর্থতা হয়ে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। গত ১৪ বছরে ১৫ হাজার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ভারতের এ রাজ্যে। আত্মহত্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। ১৫ বছরে ৯ হাজার ৪০৫টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে সেখানে। তবে ভারতে এ ধরনের ঘটনা আরও বেশি হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানে মাজারের খাদেমের হাতে ২০ মুরিদ খুন

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের একটি মাজারের খাদেম ও তার সহযোগীদের হাতে তিন নারীসহ ২০ মুরিদ খুন হয়েছেন। শনিবার রাতে সারগোধা শহরের চক-৯৫ এলাকায় অবস্থিত দরবার আলি মুহাম্মদ গুজ্জার মাজারে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। খুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। খবর বিবিসি ও জিও টিভির। শহরের ডেপুটি কমিশনার লিয়াকত আলী চাট্টা জানান, নিহতদের প্রথমে নেশাজাতীয় কিছু খেতে দেয়া হয়। পরে তাদের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এ সময় ৪ নারীসহ মোট ২০ জন মুরিদ নিহত হন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ৫ জন রয়েছেন। আহত অবস্থায় পালাতে সক্ষম হন অপর ২ নারীসহ বেশ কয়েকজন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ২০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় মাজারের খাদেম আবদুল ওয়াহিদ ও তার ২ সহযোগীকে।
স্থানীয় পুলিশ বলছে, নিহতরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। প্রত্যেকটি মরদেহ নগ্ন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তরা প্রাথমিক তদন্তে তার দোষ স্বীকার করেছেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, খাদেম ওয়াহিদ ও তার সহযোগীরা মুরিদদের পিটিয়ে ‘পাপ মুক্ত’ করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। খাদেম ওয়াহিদের বিরুদ্ধে এর আগেও মুরিদদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ ছিল। তিনি স্থানীয় নির্বাচন কমিশনে চাকরি করেন। মাঝে মাঝে মাজারে গিয়ে খাদেম হিসেবে কাজ করতেন। তবে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওয়াহিদ এক বছর আগেই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। পুলিশের মতে, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। যদিও এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসের অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ

'ঘুষের হাট নবাবগঞ্জ ভূমি অফিস' শিরোনামে যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। পরে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে জানান, আদালত দৈনিক যুগান্তরের সংবাদটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছে। এটি অভিযোগ হিসেবে নিয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গতকাল ২ এপ্রিল 'ঘুষের হাট নবাবগঞ্জ ভূমি অফিস' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক যুগান্তর। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো, নাজির, সার্ভেয়ার, তহশিলদাররের ঘুষ-দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে।

খুলনা-কলকাতা দ্বিতীয় মৈত্রী ট্রেন উদ্বোধন ৮ এপ্রিল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৮ এপ্রিল খুলনা-কলকাতা রুটে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেলওয়ের উন্নয়নে আরও দুটি প্রকল্পের সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। এর আগে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকা-কলকাতা রুটে প্রথমবারের মতো মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু হয়। রেলপথ সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ উন্নয়নে রেলওয়েতে ব্যাপক কাজ করা হচ্ছে। রেলওয়ের উন্নয়নে ভারত সহযোগিতা করছে। ৭ থেকে ১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে ৮ এপ্রিল দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাধিকাপুর-বিরল সেকশনে নতুন রেলপথের উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া কন্টেইনার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া-কোঙ্কন রেলওয়ে কর্পোরেশন এবং কন্টেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। ভারতীয় রেলওয়ে উপদেষ্টা ও ফার্স্ট সেক্রেটারি দিব্বাজন রায় যুগান্তরকে জানান, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ উন্নয়ন ও যাত্রী সেবা বাড়াতে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন ও রাধিকাপুর-বিরল রেলপথের উদ্বোধন করবেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনার সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক ট্রান্স-এশিয়ান রেলরুটে অন্তর্ভুক্ত হবে বাংলাদেশ। এতে রেলপথে পণ্য রফতানি-আমদানির সুবিধাসহ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বৃদ্ধি পাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে যাত্রীবাহী বগি ও ইঞ্জিন স্বল্পতা থাকায় শুরুতে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভারতীয় ইঞ্জিন ও রেক দিয়ে চলাচল করবে। ট্রেনটি উদ্বোধন হলে খুলনা-কলকাতা ১৫০ কিলোমিটার রেলপথ মাত্র ৩ ঘণ্টায় চলাচল সম্ভব হবে। এটি খুলনা-যশোর-বেনাপোল-পেট্রাপোল-বনগাঁও জেলার উত্তর চব্বিশ পরগনা হয়ে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছবে। রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক সাংবাদিকদের জানান, উদ্বোধনের পর থেকে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে ১ দিন চলাচল করবে। পরে ট্রিপ বাড়ানো হবে। এছাড়া আগামী ১ বৈশাখ থেকে ঢাকা-কলকাতা রুটে চলমান মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চলবে। তিনি বলেন, রেলপথে যাত্রী সেবা বাড়ানো ও সল্প সময়ের মধ্যে চলাচলে বুলেট ট্রেন, বৈদ্যুতিক ট্রেনসহ বিশ্বমানের আধুনিক ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

তিস্তা ছাড়া অন্য চুক্তি মানবে না জনগণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে প্রতিরক্ষাসহ আরও অন্তত ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর মধ্যে তিস্তার পানি চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু নেই। এ দফায়ও পানি চুক্তি হচ্ছে না তা অনেকটাই নিশ্চিত। বিএনপি, সিপিবিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন তিস্তা চুক্তি না হলে এ সফরের তেমন কোনো মূল্যই থাকবে না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তিস্তা চুক্তিই জনগণের প্রধান দাবি। কাজেই তিস্তার পানি ছাড়া অন্য কোনো চুক্তি জনগণ মানবে না বলে তারা মনে করেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে কোনো চুক্তি নানা কারণে স্পর্শকাতর। কাজেই যে কোনো বিষয়ে চুক্তি হলেও সে সম্পর্কে জনগণ বিস্তারিত জানতে চায়। জনগণকে না জানিয়ে যখন অন্ধকারে রাখা হয়, তখনই নানা ধরনের সন্দেহ-গুজবের ডালপালা ছড়াতে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে যে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে সেগুলো সম্পর্কে মানুষ তেমন কিছুই জানে না। তিস্তার পানি চুক্তি হবে কিনা সে সম্পর্কে মানুষ এখনও অন্ধকারে। এসব কারণে সফরের সময় সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা হচ্ছে। এ চুক্তিতে কি আছে সে বিষয়ে মানুষ জানতে চায়। দেশের মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন। এটা সরকারকে বুঝতে হবে। কাজেই জনগণকে আড়ালে রেখে কোনো ধরনের চুক্তি এখন আর করা যাবে না। যদি করা হয় তবে তা কেউ মানবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বেই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ এ প্রসঙ্গে রোববার যুগান্তরকে বলেন, তিস্তা বাদ দিয়ে অন্য কোনো চুক্তি দেশের জনগণ মানবে না। ভারত প্রথম থেকেই এমন মনোভাব দেখাচ্ছে যে তারা বাংলাদেশকে তিস্তার পানি দেবে না। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গঙ্গা চুক্তির সময় তিস্তা, ধরলাসহ ৭টি নদীর পানি নিয়ে চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তিস্তাতেই তা আটকে যায়। তিনি বলেন, পানি হচ্ছে দেশের জীবন-মরণ সমস্যা। অথচ সরকার তিস্তা চুক্তি বাদ দিয়ে প্রতিরক্ষা চুক্তি করছে। বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত রয়েছে তারপরও তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে। আমরা কি কখনও ভারতকে আক্রমণ করতে যাব? এ চুক্তির কারণে ভারত কোনো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধে গেলে বাংলাদেশকেও জড়াতে হবে। তা কখনোই আমাদের জন্য শুভ হবে না। প্রতিরক্ষা চুক্তির ভেতরে কি আছে তা জনগণ জানতে চায়। জনগণ এখন অনেক সচেতন। দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ এর জবাব দেবে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারতে সফরে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। এ আলোচনায় উঠে এসেছে, তিস্তার পানির চেয়ে প্রতিরক্ষা বা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত চুক্তি কি বেশি জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের দোহাই দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা চুক্তির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে। অথচ ভারত অনেক দ্বিপাক্ষিক বিষয় এগিয়ে নিচ্ছে যাতে অন্য কোনো রাজ্যকে প্রকাশ্যে টেনে আনছে না। তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে শুধু ব্যতিক্রম। উজানের দেশ হিসেবে তারা বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে চাচ্ছে না। এজন্য তারা কৌশলে পশ্চিমবঙ্গের নাম ব্যবহার করছে।
দেশটিতে এ বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হলেই শুধু বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাবে। এর আগে সম্ভাবনা খুবই কম। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ না করায় বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, সরকারের মন্ত্রী-সচিবরা একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে কথা বলেন। তিস্তা নিয়ে তাদের প্রশ্ন করা হলে এক উত্তর, তা হল ভারত বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে চুক্তি হবে। সে অনুযায়ী একটি খসড়াও প্রস্তুত। চুক্তি হবেই এ ব্যাপারে মন্ত্রী-সচিবরা আশাবাদী। তবে কবে নাগাদ হবে তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না। তারা বলেন, জনগণের আপত্তি এখানেই। জনগণ মনে করে তিস্তার পানি বাংলাদেশের অধিকার। কোনো দেশের দয়ার দান নয়। কাজেই অধিকার আদায়ে সরকারকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। দেশের মানুষকে বোঝাতে হবে সরকার তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বদ্ধপরিকর। কাজেই আসন্ন সফরে পানি বণ্টনের চুক্তিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিস্তা বাদ দিয়ে যদি অন্য কোনো চুক্তি হয় তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বলেন, তিস্তার পানি চুক্তির বিষয়ে ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রী (ড. মনমোহন সিংহ ও নরেন্দ্র মোদি) বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছেন। কাজেই তিস্তা চুক্তি হবেই। সে অনুযায়ী একটি খসড়াও তৈরি করেছে সরকার।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে এ চুক্তি হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। প্রায় অভিন্ন কথা বলেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান। তিনি বলেন, তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে উভয় দেশ একটি খসড়া তৈরি করেছে। এটি কবে নাগাদ সই হতে পারে সে বিষয়টি নির্ভর করছে ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষ করে ভারতের কেন্দ্রীয় ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের মতামতের ভিত্তিতেই এ চুক্তি সই হবে। জানা গেছে, তিস্তার পানি নিয়ে একটি চুক্তি হোক সে ব্যাপারে বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সরকারই একমত। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরাও চান ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিস্তার পানি চুক্তি দেশ ও দলের জন্য অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালেও যখন ভারত সফর করেছিলেন, তখনও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিল্লিতে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ৭ বছর পর আবারও প্রধানমন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি তোলা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ভারতের রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন এবং তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে। এবারই প্রথম সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কারণ তিস্তার পানি সিকিম হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাই তাদের বক্তব্যও শুনতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে তিস্তা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে রাজনৈতিক সমাধানের সূত্রও।
রোববার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রতিরক্ষা নয়, তিস্তা চুক্তি চাই।’ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের জনগণের স্বার্থে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ দু’দেশের মধ্যে জিইয়ে থাকা বিরোধগুলোর সমাধান অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিস্তাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যু বাদ দিয়ে প্রতিরক্ষা চুক্তি করলে দেশের জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম হবে। দু’দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বছরের পর বছর ধরে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হলে ভারত বিরোধিতা বাড়তে থাকবে এবং দু’দেশের সম্পর্ক নষ্ট হবে। দেশের পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, তিস্তা চুক্তির বিষয়টি ২০১১ সাল থেকে প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। বাকিটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এর আগেও ভারত তার দায়িত্বের কথা মনে রেখে বাংলাদেশকে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা হলেও তিস্তার পানি ছাড় দিত। কিন্তু ২০১১ সালের পর তারা উজান থেকে তিস্তার পানি প্রত্যাহার করছে। যেটা সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। তিস্তা চুক্তি যত দ্রুত হবে ততই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল। এ বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতে পানি সমস্যা সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটি বাংলাদেশের জন্য জীবন-মরণ সমস্যা। ভারতের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির চেয়ে তিস্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকারকে এটি অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। জানা গেছে, ২০১০ সালে তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি একটি অন্তর্র্বর্তীকালীন চুক্তি হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ওই চুক্তির খসড়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়- তিস্তার ৪০ ভাগ পানি ভারত পাবে এবং ৪০ ভাগ পাবে বাংলাদেশ। আর তিস্তার নাব্য রক্ষার জন্য থাকবে বাকি ২০ ভাগ পানি। বাংলাদেশের এ প্রস্তাব নিয়ে মমতা ব্যানার্জির তীব্র আপত্তি থাকায় ঝুলে যায় বাংলাদেশ-ভারত অন্তর্র্বর্তীকালীন তিস্তা চুক্তি। সর্বশেষ গত ১৬ বছরে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় বাংলাদেশ অংশে কি পরিমাণ পানি ছিল তার তথ্য-উপাত্ত চায় পশ্চিমবঙ্গ। এ পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ নদী কমিশন থেকেও পশ্চিমবঙ্গের কাছে জানতে চাওয়া হয়, জলপাইগুড়ির গজলডোবা বাঁধের সামনে গত ১৬ বছরে কী পরিমাণ পানি ছিল। একই সঙ্গে গজলডোবা বাঁধের ২৫ কিলোমিটার উজানে ডাইভার্সন পয়েন্ট থেকে পানি ভাগাভাগি হবে নাকি ডাইভার্সন পয়েন্টের ভাটিতে জমা পানি ভাগাভাগি হবে তাও জানতে চাওয়া হয়। ভারত থেকে তিস্তা বাংলাদেশের যে প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে সেই নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রাম থেকে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত তিস্তার গতিপথ বাঁচিয়ে রাখতে কি পরিমাণ পানি ছাড়া হবে- এটাও নির্দিষ্ট করতে বলা হয় পশ্চিমবঙ্গকে। বিষয়টি সেখানেই ঝুলে রয়েছে।

ঐক্যবদ্ধ আ'লীগকে হারানো অসম্ভব: শামীম

ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারে না বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম। সোমবার সকালে ধানমণ্ডিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ দাবি করেন। এনামুল হক শামীম বলেন, আগামী ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। নিজেদের মধ্যে অন্যৈকের কারণে ফলাফল কেমন হয়, তা কুমিল্লা সিটিতে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. শাহজাহান আলম সাজু, কামরুল ইসলাম আনসারি, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হানিফ মুন্সী, ভাইস চেয়ারম্যান আমির হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য কবির হোসেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মজিবুর রহমান, বন্দর আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম, তালশহর ইউপি চেয়ারম্যান বাদল সাদিক, ঢাকাস্থ আশুগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাহাউদ্দীন বাহার, চেয়ারম্যান আবু শ্যাম প্রমুখ।

জামানতবিহীন ঋণ পাবেন নারী ও নতুন উদ্যোক্তারা

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের নতুন উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়াই ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রয়োজনে তা আরও বাড়ানো যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া নারী উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। উভয় ঋণই বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় দেয়া হবে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, নির্দেশনাটি পুরনো। আবার নতুন করে তা ভালোভাবে কার্যকরের জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

সৈয়দপুরে থেকে বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে সকল প্রকার বাস চালাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বাস যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মোটরযান আইনে জরিমানা ও শাস্তির বিধান রাখার প্রতিবাদে মোটর মালিক ও শ্রমিকরা এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। রংপুর পরিবহন ফেডারেশন সভাপতি ও নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আখতার হোসেন বাদল জানান, সরকার মোটরযান আইনে পরিবহন শ্রমিকদের শাস্তি ও জরিমানার বিধান করার প্রতিবাদে শ্রমিকরা পরিবহন মালিকের কাছে চাবি দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
ফলে গত দু’দিন থেকে  সৈয়দপুর, দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী লাইনে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঘোষিত কালাকানুন বাতিল না করা পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে শ্রমিকগণ ইজিবাইক বা রিকশা চালাবেন বলে জানিয়েছেন।

মাহমুদ হাসানের মৃত্যুতে মালয়েশিয়ায় দোয়া

মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মাহমুদ হাসানের মৃত্যুতে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বাদ মাগরিব তিতিওয়াংসা সুরাউ বায়তুল মোকাররামে এ দোয়া মাহফিল হয়। এ সময় মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক সোহরাওয়ার্দী হোসেন সোহরাব, মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন মুকুল, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, বিএনপি নেতা তালহা মাহমুদ, জাতীয় পার্টির সভাপতি এস এম রহমান পারভেজ, শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুল, সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম হাওলাদার, সেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালাল উদ্দিন সেলিম প্রমুখ। গত শনিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মাহমুদ হাসান (৬২) মারা যান।

মালয়েশিয়ায় নিয়োগকারীদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময়

মালয়েশিয়ার মালাক্কার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। ৫০টি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে শনিবার মালাক্কার হোটেল রামাদায় এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া সফররত বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশী হাইকমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক দক্ষতার ফলে দেশটিতে শ্রমবাজার উম্মুক্ত হয়েছে এবং অবৈধরা বৈধ হওয়ার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ সময় তিনি অবৈধ শ্রমিকদের দ্রুত বৈধ হওয়ার পরামর্শ দেন। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- হাইকমিশনারে কাউন্সিলর (শ্রম) মো. সায়েদুল ইসলাম, মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) রইছ হাছান সারোয়ার, মালয়েশিয়াস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ড. আহমেদ আল ওয়ালি, অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নূরুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

আতিয়া মহলে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল

সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ীর জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে গেছেন র‌্যাবের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় র‌্যাবের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল বাড়িটির আশপাশ পরিদর্শন করেন।এ সময় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় আতিয়া মহলের আশপাশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ। র‌্যাবের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে ডগ স্কোয়াড দিয়ে আতিয়া মহলের অভ্যন্তরে তল্লাশি করা হবে। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ টিম অভ্যন্তরে প্রবেশ করবেন।
আতিয়া মহলের চারপাশে পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসের ফোর্স ছাড়াও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অবস্থান করছেন। জঙ্গি নির্মূলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমোন্ডোর পরিচালিত অপারেশন টোয়ালাইটের শেষ দিন ২৮ মার্চ ২ জঙ্গি নিহত হয়। এর পর থেকে লাশ দুটি সেখানেই রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ শুক্রবার ভোরে গোপন খবরে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল ঘিরে রাখে আইনশৃংখলা বাহিনী। পরের দিন সকাল থেকে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা। এরই মধ্যে আতিয়া মহলের অদূরে দুটি বোমা বিস্ফোরণে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান, পুলিশসহ ৭ জন নিহত হন। বোমা হামলার ঘটনায় ২৬ মার্চ মোগলাবাজার থানার সাব ইন্সপেক্টর শিপলু চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে দুই দেশের সংসদীয় দল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সোমবার সাক্ষাৎ করবেন যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের সংসদীয় দুটি প্রতিনিধি দল। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন নরওয়ের প্রতিনিধি দল।
আর রাত সাড়ে ৯টায় একইস্থানে বৈঠক করবেন যুক্তরাজ্যের সংসদীয় প্রতিনিধি দল। বিএনপি চেয়ারপাসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। পৃথক এ বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক রিভিউ কার্যতালিকায়

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক আবেদন সোমবারের কার্যতালিকায় এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেয়া কজ লিস্টে রিভিউটি ১৪৭ নম্বরে রয়েছে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিলেন যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের করা দুটি আপিলের শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। রায়ের প্রায় সাড়ে ১৫ মাস পর ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আমৃত্যু কারাদণ্ডের মূল রায়টি লিখেছেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া তার রায়ে সাঈদীকে খালাস দিয়েছেন এবং সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তার রায়ে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। এরপর ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ সাঈদীর আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করেন। এতে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির দণ্ড বহাল চেয়ে রিভিউ আবেদন করা হয়। আর ১৭ জানুয়ারি খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন সাঈদী। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে সাঈদীকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, লুণ্ঠনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতার দেখায়। এরপর ২০১০ সালের ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একাত্তরে তিন হাজারের বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা করা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর ও ধর্মান্তরে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০টি ঘটনায় ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে জামায়াতের এই নেতার বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

কমলনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ জামায়াতের ১৫ নেতা আটক

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হুমায়ুন কবির ও উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুর উদ্দিনসহ জামায়াতের ১৫ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে শিবির নেতাও রয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাজিরহাট-মাতাব্বর হাট সড়কের মার্কাজ মসজিদের পেছনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানে বাড়ি সংলগ্ন একটি টিনসেট বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। তাৎক্ষণিক সবার নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
তবে তাদের বাড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে। কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সকালে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জামায়াতের প্রায় ৩৫/৪০ জন নেতাকর্মী ওই ঘরে বৈঠক করছিলো। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা নুর উদ্দিন, কামলনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হুমায়ুর কবিরসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জব্দকরা হয় ৫টি মোটরসাইকেল, বেশ কিছু লিফলেট ও বই।

সন্দ্বীপে নৌকাডুবি, ৪ লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সি-ট্রাক থেকে যাত্রী নামাতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় এক নারীসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার গোপ্তাছড়া ঘাটে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে রাত ২টার দিকে তিনজন এবং সোমবার সকালে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখনও শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি, কোস্টগার্ড, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম পূর্ব জোন কমান্ডার লে. কর্নেল ওমর ফারুক যুগান্তরকে জানান,
চট্টগ্রামের কুমিরাঘাট থেকে ছেড়ে আসা একটি সি-ট্রাক গোপ্তাছড়া ঘাটে নোঙর করে। এ সময় যাত্রী নিতে ছোট আকারের একটি নৌকা সি-ট্রাকের কাছে যায়। সেখান থেকে যাত্রীরা ওঠার সময় প্রচণ্ড ঢেউ ও সি-ট্রাকের ধাক্কায় ৪০/৪৫ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় ২৫ জনকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যরা স্রোতে ভেসে যায়। রাতেই তিনজনের এবং সোমবার সকালে আরও এক লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান লে. কর্নেল ওমর ফারুক।

ঢাকা থেকেই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

শিশুদের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী শিশু অধিকার কর্মী কৈলাশ সত্যার্থী। তিনি বলেন, আজই সময়, এ ঢাকা থেকেই আমাদের শিশুদের জন্য কিছু করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সহানুভূতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার এখনই সময়। তিনি বলেন, বিশ্বের সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য মাত্র ২২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। যা বিশ্বের সাড়ে তিনদিনের প্রতিরক্ষা বাজেটের সমান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের এ বিশ্ব কি এতই গরিব যে, এ পরিমাণ অর্থ প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ব্যয় করতে পারবো না?  ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৩৬তম সম্মেলনের প্রথম দিনে আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উত্থাপনকালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মানবাধিকার কর্মী কৈলাশ সত্যার্থী এ কথা বলেন। তিনি সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘সমাজের বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে সবার মর্যাদা ও মঙ্গল সাধন’-এর ওপর মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন। পরে বিষয়টির ওপর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। ওই আলোচনায় বৈষম্যের কারণগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আইপিইউ সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশন গতকাল সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়। বেলা ১১টায় মূল প্রতিপাদ্যের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এই আলোচনায় চলাকালে আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল মটিন চুংগং উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাপী আয় বৈষম্যকে অর্থনৈতিক সহিংসতার বড় কারণ উল্লেখ করে কৈলাশ সত্যার্থী বলেছেন, অর্থনৈতিক বৈষ্ণম্যের কারণে সৃষ্ট এ সহিংসতা মানবজাতির নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য বড় ধরনের হুমকি। বিশ্বে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিশ্বের একশ’ কোটি মানুষ এখনো দিনে দুই ডলার আয় করতে পারে না। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। ভারতের শিশু অধিকার কর্মী কৈলাশ বলেন, আমরা যখন এ সম্মেলন করছি তখন ২৭০ মিলিয়ন শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। ২১ মিলিয়ন মানুষ বিক্রি হয়ে শ্রমদাসে পরিণত হয়েছে। এটা মেনে নেয়া যায় না, সহ্য করা যায় না। তিনি বলেন, একদিকে একশ মিলিয়ন শিশু দাসত্ব, পাচার ও শিক্ষাবঞ্চনাসহ বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে একশ’ মিলিয়ন তরুণ রয়েছে, যারা চাচ্ছে পৃথিবীকে বদলে দিতে। তাদের পৃথিবী বদলে দেয়ার শক্তি, ক্ষমতা ও আদর্শ আছে। এই তরুণদের পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদের। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীকে সুন্দর করতে তরুণদের শক্তি আছে, আদর্শ আছে, সম্ভাবনা আছে। আমরা যদি এই শক্তিকে কাজে লাগাতে না পারি, তবে তারা হতাশাগ্রস্ত, অসহিষ্ণু এবং সহিংস হয়ে পড়বে। তরুণদের যদি ক্ষমতা কাজে লাগানো যায় এই পৃথিবী আরো আনন্দময় ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা করেন। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের দিকে ইঙ্গিত করে শান্তিতে নোবেল জয়ী কৈলাশ সত্যার্থী বলেন, দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর কিছু অংশে তরুণরা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। উগ্রবাদের পথ বেছে নিচ্ছে। বিশ্বের ২৩০ মিলিয়ন শিশু সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। তাদের জীবন ও শিক্ষা বিপদগ্রস্থ। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার শিশু ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কারণে মারা যাচ্ছে। প্রকৃত অর্থে তারা মারা যাচ্ছে না, তাদের হত্যা করা হচ্ছে। আড়াই লাখ শিশু পাচারের শিকার হচ্ছে। যৌথভাবে এর সমাধান আমাদের দায়িত্ব। বিপদগ্রস্ত শিশুদের বাঁচানোর জন্য বিশ্বের সব দেশের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় একটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে কৈলাশ সত্যার্থী বলেন, বিশ্ব নাগরিকদের জন্য একটি নতুন সভ্যতা গড়তে হবে। তাই আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাবো, আমরা সব নোবেল জয়ীরা একটা ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। ২০শে সেপ্টেম্বর এমপিরা নিজ নিজ স্কুলে যান। আপনাদের স্কুলে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। আমরাও এই কাজটি করবো। তিনি বলেন, আজই সময়, এই ঢাকাই স্থান, এখান থেকেই আমাদের শিশুদের জন্য কিছু করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সহানুভূতি নিয়ে সারা বিশ্বের শিশুর পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রবন্ধে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই নোবেল বিজয়ী। তিনি বলেন, যদি নারীকে আমরা সমভাবে ক্ষমতায়িত করতে পারতাম, তাহলে গত ৫ হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাসে অনেক সমস্যা আমাদের মোকাবিলা করতে হতো না; যা এখন আমোদের এখনো করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, করপোরেট নেতৃত্বের ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এই ক্ষমতা মেলালে চলবে না। আপনারা কেবল জনগণ, ভোটার ও এলাকার জনপ্রতিনিধি নন, আপনারা লাখো প্রত্যাশা ও স্বপ্নের প্রতিনিধিত্ব করেন। আপনারা তাদের বিবেক এবং বিশ্বাসের রক্ষক। এটা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বশান্তির জন্য আপনাদের ভূমিকা রাখতে হবে। এ আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সমাজে বৈষম্য নতুন বিষয় নয়। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে এই বৈষম্য চলে আসছে। এই বৈষম্য নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। তার আগে বৈষম্যের কারণগুলো চিহ্নিত করা দরকার। তিনি বলেন, সমাজে যেমন অর্থনৈতিক বৈষম্য রয়েছে, তেমনি নারী পুরুষের বৈষম্য। এ বৈষম্যের কারণে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়ছে; যা আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। স্পিকার আরো বলেন, আমাদের বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। আমাদের সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোও সেই পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, সেটা সবার আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। আইপিইউ সম্মেলন আমাদের আলোচনার পথ তৈরি করে দিয়েছে। বৈষম্য নিরসনে আইপিইউ সম্মেলনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ আলোচনায় নামিবিয়ার স্পিকার মার্গারেট মেনসা উইলিয়াম বলেন, বিশ্বে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। আমাদের সংসদ এসব বৈষম্য নিরসনে কাজ করছে। এছাড়া বর্তমান বিশ্বের ১৭টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও স্পিকার রয়েছে। পাশাপাশি ১৮ দশমিক ৩ ভাগ মন্ত্রী-এমপি নারী। অথচ বিশ্বায়নের এই যুগে নারীদের প্রতিনিধিত্ব যে জায়গায় থাকার কথা ছিল, তার থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছি। তিনি আরো বলেন, যেসব দেশে সংসদের স্পিকার নারী তাদেও, এই ক্ষেত্রে কাজ করার অবারিত সুযোগ রয়েছে। তারা সংসদে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিশু ও নারীদের উৎসাহিত করতে পারেন। নামিবিয়ার স্পিকার বলেন, নারীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হয়ে উঠলেও এখনো আর্থিকভাবে তত বেশি শক্তশালী হয়ে ওঠেনি। কারণ, এখনো সাধারণ নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক কম আয় করে থাকেন। তবে, গৃহস্থালির কাজে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। এতো কিছুর পরও নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে আসতে হলে অবশ্যই শক্তভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব পদক্ষেপ জেন্ডার বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ পার্লামেন্টারিয়ান আর ব মিথি বলেন, সমাজের সব ধরনের অসমতা কমাতে হলে শিক্ষার মাধ্যমে আমরা এই কাজে যুব-সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। যেখানে তারা বিশ্বের মানবাধিকার উন্নয়নে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য কমাতে চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ রাখতে হবে। এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার জন্য সম্মেলনে অংশ নেয়া প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছি এ কথা তো কেউ বুঝবে না

‘আমি তো আসামি। স্কুলে যাব না, পড়ালেখা করব না। স্কুলে গেলেই তো সবাই আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করবে, কেউ আমার সঙ্গে বসতে চাইবে না। হত্যা মামলায় মিথ্যা জেল খেটেছি, কেউ তো এ কথা বুঝতে চাইবে না। লজ্জায় সমাজেও মুখ দেখাতে পারছি না।’ কান্নায় ভেঙে পড়ে কথাগুলো বলছিল ভৈরবের হাজি জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী বুশরা আক্তার পান্না। সে কমলপুর মুসলিমের মোড় এলাকার রিকশাচালক মো. খায়ের মিয়ার ছোট মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক নজমুল হুদার রোষানলে পড়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় পান্না। পরে একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৩৫ দিন কারাভোগের পর বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পায়। একই মামলায় পান্নার সঙ্গে কারাভোগ করেন তার বড় বোন দুই সন্তানের মা বন্যা বেগমও। কারাভোগের পর বাড়িতে এসেও তারা কার্যত অন্তরীণ অবস্থায় আছেন লোকলজ্জার ভয়ে। এলাকার আলোচিত ঘটনা হওয়ায় রোজ আশপাশের লোকজন দুই বোনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছে। লোকজন এসে নানা কথা জানতে চাইছে। মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করানোয় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিচার ও সম্মানহানি হওয়ার ক্ষতিপূরণ চাইছে ক্ষতিগ্রস্ত দুই বোনসহ তাদের পরিবার। পান্না ও বন্যার বাবা খায়ের মিয়া এবং মা মরিয়ম বেগম বীনা জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি ডাকাতি মামলায় অভিযুক্ত তার ছেলে কাউছারকে (২৫) গ্রেফতার করতে আসে এসআই নজমুল হুদার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। পুলিশ গেট ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তখন ঘরে থাকা বুশরা ও বন্যা বাড়ির গেট ভাঙার প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এসআই নজমুল হুদা দুই বোনকে কিল-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরিবারের অভিযোগ, এ সময় পুলিশ সদস্যরা কাউছারকে বাড়িতে না পেয়ে ঘরের আসবাব ও মালামাল তছনছ করতে থাকে। বুশরা ও বন্যা ফের প্রতিবাদ জানায়। তাদের মারধর করে থানায় নিয়ে যান এসআই নজমুল। সেখানে নিয়ে দুই বোনকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। বন্যা-পান্নাকে গ্রেফতার ও নির্যাতনের খবর দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভিতে প্রচার হলে চাপের মুখে পড়ে পুলিশ প্রশাসন। পরে ওই এসআইকে গাজীপুরে বদলি করা হলেও বিচার হয়নি তার। রোববার সকালে এ প্রতিনিধি ওই বাড়িতে গেলে বন্যা জানান, জেলে যাওয়ার পর তার দুই শিশু সন্তানকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসে নিয়ে যায়। ৩৫ দিন কারাগারে থাকাবস্থায় দুই শিশু মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জেল খেটেছে বলে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে দেখতে আসেনি এবং তার সন্তানদের এখনও ফেরত দেয়নি। স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে এখন বন্যা অপরাধী। বিনা অপরাধে তাদের কলংকিত করায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা নজমুল হুদার বিচার দাবি করছে তারা।

দুই গ্রামের আধা কিলোমিটারজুড়ে ফাটল

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া খনি পার্শ্ববর্তী বাঁশপুকুর ও বৈদ্যনাথপুর গ্রামের ভূমিতে এক সপ্তাহ আগে থেকে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ ও এক ফুট প্রস্থ এ ফাটলের ফলে গ্রাম দুটিতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।  গত তিন দিন বৃষ্টিতে ফাটলের গভীরতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেকের পাকা বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ফাটলের কারণে শুকিয়ে গেছে পুকুরের পানি। তার পরও ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে ওই গ্রাম দুটির অন্তত ৩০০ পরিবার। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিশুদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে। আতঙ্কের মধ্যেই সরকারের কাছে অধিক ক্ষতি পূরণের আশায় সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা, বসতবাড়ি ও গুদামঘর নির্মাণ করছে একদল সুযোগ সন্ধানী মানুষ। খনি কর্তৃপক্ষ দ্রুত ওই সব জায়গা অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ না দিলে একদিকে যেমন প্রাণহানি ঘটবে, অন্যদিকে অবকাঠামো খাতে অধিক টাকা গুনতে হবে সরকারকে। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে খনি কর্র্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। গত শনিবার বিকালে আট দফা দাবিতে বড়পুকুরিয়া বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছে জীবন ও পরিবার সম্পদ রক্ষা কমিটি। কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবীব উদ্দীন বলেন, দুই গ্রামে ফাটল দেখা দেয়ায় সার্ভে কাজ শুরু করা হয়েছে। এ জন্য জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

বগুড়ায় চুরি যাওয়া নবজাতক উদ্ধার

বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগ থেকে চুরি যাওয়া তিন দিন বয়সী নবজাতকটি উদ্ধার হয়েছে। শিশু চোর চক্রের সদস্য রত্না নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। সে এক নিঃসন্তান দম্পতিকে দেয়ার জন্য বাচ্চাটি চুরি করে। চুরি যাওয়ার ৩০ ঘণ্টা পর পুলিশ রোববার বিকালে গাবতলীর মাজবাড়ী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় লাবনী ও ফুলমিয়া দম্পতি পালিয়ে যায়। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে তার বাবা-মার কোলে তুলে দেন। এ সময় তারা আনন্দে কেঁদে ফেলেন। বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছিল। জানা যায়, বগুড়া শহরের ঝোপগাড়ি এলাকায় ডায়নামা মিস্ত্রি রুবেল ২৮ মার্চ তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হোসনে আরাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন সকালে চিকিৎসকরা সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি শিশুপুত্র প্রসব করান।
হোসনে আরার পাশাপাশি তার মা রেহেনা বেগম শিশুটিকে দেখভাল করছিলেন। ৩০-৩৫ বছর বয়সী এক নারী রোগীর স্বজন সেজে কয়েক দিন ধরে ১৫ নম্বর বেডে অবস্থান করছিল।ওই নারী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কৌশলে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যায়। রোববার বিকালে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, নবজাতকটি চুরি করে বগুড়া শহরতলির বারোপুর এলাকার মাহফুজার রহমানের স্ত্রী রত্না। সে শিশু চোর চক্রের সদস্য। অর্থের বিনিময়ে শিশু চুরি করে নিঃসন্তান দম্পতিদের এনে দেয়াই তার কাজ। তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে রোববার বিকাল ৩টার দিকে নশিপুর ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলামের সহায়তায় লাবনী ও ফুলমিয়া দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তারা টের পেয়ে শিশুটিকে বারান্দায় রেখে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।