Sunday, June 26, 2011

শিক্ষকের শূন্যপদ

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, সারা দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক হাজার ২৬৮টি পদ খালি রয়েছে। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পার্বত্য জেলা বাদে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে মোট আট হাজার ৬৩৫টি। আমাদের মনে হয়, শিক্ষাক্ষেত্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্তরে, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট প্রায় ১০ হাজার শিক্ষকের পদে কোনো শিক্ষক নেই—এ বাস্তবতার তাৎপর্য কী? এক. শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য এই শিক্ষকদের প্রয়োজন, পদগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে সে কারণেই। দুই. শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদান, পরীক্ষা নেওয়া, খাতা দেখা থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় লোকবলের ঘাটতি রয়েছে এবং সেই ঘাটতি নিয়েই বিদ্যালয়গুলো যখন চলছে, তখন শিক্ষার গুণগত মান বাড়ার কথা নয়। তিন. বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের শূন্যপদ নিয়েই যখন বিদ্যালয়গুলো চলতে পারছে, তখন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মনে হতে পারে চলছেই যখন, তখন নতুন শিক্ষক নিয়োগে তাড়াহুড়োর কী আছে?
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়ভিত্তিক পদশূন্যতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিবছর দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে সেই অব্যাহত নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থেকে যাচ্ছে, অনেকটা যেন ধ্রুবকের মতো। শিক্ষাকে জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে এ খাতে জাতীয় বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েও যদি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকশূন্যতাই পূরণ করা না যায়, তবে তা দুর্ভাগ্যজনক। পুরোনো শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়া বা অন্যান্য কারণে তাঁদের পদগুলো শূন্য হয় সারা বছরই। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ করা হয় বছরে একবার, একটি নির্দিষ্ট সময়ে। এখানে একটা পরিবর্তন আনা উচিত বলে মনে হয়; বছরে দুবার, সম্ভব হলে তিনবার শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হলে শূন্যপদগুলোর সব পূরণ না হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যকই পূরণ হবে। বিদ্যালয়ে কম্পিউটার দেওয়াসহ নানামুখী উন্নয়ন-তৎপরতার চেয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে শূন্যপদগুলো পূরণের আশু উদ্যোগ নেওয়া হোক।

অবৈধ অর্থ লেনদেন মামলার রায়

সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থের অবৈধ লেনদেনের দায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো এবং তাঁর সহযোগী ইসমাইল হোসেন সায়মনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আমাদের দেশে অন্য সব বিষয়ে যেমন রাজনীতির রং চড়ানো হয়, এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আদালতের রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপির নেতারা একে সাজানো বলে দাবি করেছেন। রায় নিয়ে সমালোচনা অন্যায় নয়; কিন্তু সেই সমালোচনা এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে বিচারব্যবস্থার ওপরই অনাস্থা প্রকাশ পায়। তা ছাড়া বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তত আপিল পর্যন্ত অপেক্ষা করাই সমীচীন ছিল।
আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থের লেনদেনের মামলা হয় ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেই এ রায় দেওয়া হয়েছে। বিএনপি এর বিরুদ্ধে ২৬ মার্চ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। কার বিরুদ্ধে তাদের এই কর্মসূচি? সরকার? কিন্তু সরকার তো এই মামলার বাদী নয়। বাদী হলো দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের পক্ষের আইনজীবী আনিসুল হক বলেছেন, এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
এখানে দেখার বিষয়, আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সিমেন্সের দেওয়া ঘুষের অর্থ জব্দ করেছিলেন, যার বড় অংশ জমা পড়েছিল সিঙ্গাপুরে আরাফাত রহমান কোকোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এই অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে সিঙ্গাপুরে আরাফাত রহমান কোকোর সহযোগীকে জরিমানাও গুনতে হয়েছে। বিদেশে কোকোর ঘুষ লেনদেনের খবরটি নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২০০৮ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় প্রথম প্রকাশিত হয়।
আদালতের রায় নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক বিতর্ক বাঞ্ছনীয় নয়। মন্ত্রীরাও এ নিয়ে কথা যত কম বলবেন, ততই মঙ্গল। কোন মামলার বিচার কবে হবে, সেটি ঠিক করার দায়িত্ব আদালতের।
বিএনপির দাবি অনুযায়ী এটি যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কেন দেশে ফিরে আইনি লড়াই করলেন না? এখনো সময় আছে। নিম্ন আদালতে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়েছে মাত্র। এরপর আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন, দলমত-নির্বিশেষে সব দুর্নীতির মামলাই সমগতিতে চলা উচিত। কে কোন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তার ওপর বিচারের গতিবিধি ঠিক হতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। সেটাই ন্যায়বিচারের পূর্বশর্ত। আরাফাত রহমান কোকোর অবৈধ অর্থের লেনদেনের ঘটনাটি বিএনপির আমলের। দুর্নীতির মামলার এ রায় থেকে বর্তমান ক্ষমতাধরদেরও সাবধান হওয়া উচিত। সুশাসন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সব দুর্নীতিরই বিচার হওয়া প্রয়োজন।

পরবর্তী প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন? by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত খসড়া দেশের রাজনৈতিক আকাশকে দ্রুতগতিতে সাংঘর্ষিক রাজনীতির কালো ছায়ায় আবৃত করছে। মাত্র কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট যেভাবে নির্বাচনের ভরাডুবি মেনে নিয়েছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশে সেই মানসিক উত্তরণের জন্য আমাদের আরও অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে—অন্তত রাজনৈতিক দলগুলোর আচার-আচরণ থেকে তা-ই মনে হয়। বর্তমান দলীয় শাসনের অধীনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ একাধিক নির্বাচনে বিরোধী দল বিজয়ী হলেও শুধু দলীয় সরকারের অধীনে কিংবা কোনো সত্যিকারের নিরপেক্ষ পদ্ধতির অধীনে নির্বাচনে পরাজয় যে বিরোধী দল মেনে নেবে না, তা বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের মধ্যে আস্থাহীনতার যে প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল, সেই আস্থাহীনতা তো হ্রাস পায়ইনি বরং সময়ের সঙ্গে আরও জোরালো হচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন কী ব্যবস্থায় করা হবে, তা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনেই পরাজিত দল নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেয় না, সেখানে দলীয় সরকারের অধীনে পরাজয় মেনে নেওয়ার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরাজিত দল থেকে আশা করা বাহুল্য মাত্র। তাই সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক সাংঘর্ষিক পরিণতি এড়ানোর জন্য, দেশকে অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং আগামী নির্বাচনপদ্ধতি সরকার ও বিরোধী দলের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য চিন্তাভাবনা করা উচিত।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সূচনায় এটা নিয়ে যতটা গবেষণা, চিন্তাভাবনা করা দরকার ছিল, তা করা হয়নি। এর ফলে প্রতিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অন্তত পরাজিত দলের নানা আপত্তি। বিরোধী দল বরাবরই তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিশেষ করে, এর প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে সরকারি দলের সঙ্গে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারছে না। অবশ্য মতৈক্যে পৌঁছানোর কারণও নেই। সরকারি দল ইচ্ছা করলে প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তটি যতটা প্রভাবিত করতে পারে, বিরোধী দল তা করতে পারে না। প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের নিয়মে সরকারি ও বিরোধী দলের আধিপত্যের ব্যবধান যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ এই মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হবে না। প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান অংশগ্রহণই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ। উভয় দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিতকারী ও স্বচ্ছ একটি পদ্ধতির বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।
প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার সম্মতিসূচক স্বাক্ষরসহ ব্যক্তিদের তালিকা সরকারি ও বিরোধী দল তৈরি করবে। এই উভয় তালিকায় যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের নাম থাকবে, তাঁদের মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা করলে কোনো দলেরই আপত্তি থাকার কথা নয়। কারণ, নামটি তাদের তালিকা থেকেই এসেছে। এ রকম তালিকা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা জাতীয় টেলিভিশনে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবেন। তালিকায় উপস্থিত নামের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য তালিকা দুটি পেনড্রাইভের মাধ্যমে কম্পিউটারে ইনপুট করা যেতে পারে।
নামের বানান বিভ্রাট কিংবা অসংগতি এড়ানোর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রকে ব্যবহার করা যেতে পারে। টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগের স্বচ্ছতা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে কোনো দলের অসম্মতি জ্ঞাপন করাও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। যেহেতু কেবল উভয় তালিকায় আছে, এমন ব্যক্তিকেই প্রধান উপদেষ্টা করা হবে, জাতীয় টেলিভিশনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কালক্ষেপণ যাতে করতে না হয়, তার জন্য কেবল যথাসম্ভব দলনিরপেক্ষ ব্যক্তির নামই উভয় দলের তালিকায় স্থান পাবে।
ধরা যাক, প্রথমে উভয় তালিকায় প্রথম ১০ জনের মধ্যে মিল খোঁজা যেতে পারে। এ রকম একাধিক মিল থাকলে যে নামের জন্য তালিকায় ক্রমিক সংখ্যার যোগফল সবচেয়ে কম (এটা উভয় দলের কাছে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে), তাকে বাছাই করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে টাই হলে উভয় তালিকায় ক্রমিক সংখ্যার ব্যবধান যে ক্ষেত্রে কম, তাকে গ্রহণ করা যেতে পারে। এর পরও টাই থাকলে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়ে একটি মুদ্রা টসের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রথম ১০ জনের তালিকায় মিল না হলে প্রথম ২০ জন, না হলে প্রথম ৩০ জনের মধ্যে এই মিল খোঁজা যেতে পারে, যতক্ষণ না মিল পাওয়া যায়। এ রকম একটি অ্যালগরিজমের যাবতীয় প্যারামিটার (প্রথম কত জনের তালিকা থেকে মিল খুঁজতে হবে ইত্যাদি) উভয় দলের সম্মতি নিয়েই নির্ধারণ করা যেতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির সামান্য ব্যবহার থাকলেও ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যয়ী বর্তমান সরকার প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের এই পদ্ধতিতে জনগণের সঙ্গে সাফল্য ভাগ করে নিতে পারে।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

পিএইচডি চাই, তবে... by শেখ হাফিজুর রহমান

৬ জুন প্রথম আলোয় প্রকাশিত অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘মাত্র এক হাজার পিএইচডি’ শিরোনামের কলামটি পড়লাম। তিনি যথার্থই বলেছেন, ‘আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে ওঠেনি। তার কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব দুটি—এক. জ্ঞান বিতরণ করা, দুই. জ্ঞান সৃষ্টি করা। এই দুটি মূল দায়িত্বের একটি আমরা হয়তো জোড়াতালি দিয়ে পালন করছি, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জ্ঞান বিতরণ করে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারছি না। জ্ঞান সৃষ্টি করতে হলে গবেষণা করতে হয়, আর সত্যিকার অর্থে গবেষণা করার জন্য দরকার মাস্টার্স এবং বিশেষ করে পিএইচডি ছাত্রছাত্রী। কাজেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু জ্ঞান সৃষ্টি করছে, তার সবচেয়ে সহজ হিসাব হচ্ছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ছাত্রছাত্রী নেই, বুঝে নিতে হবে সেখানে গবেষণাও নেই।’
ধন্যবাদ যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে তার দৈন্যের চিত্রটি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করতে ভোলেননি যে এ দৈন্যের মূল কারণ শিক্ষার গুরুত্বের ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় উপলব্ধি ও সরকারি বরাদ্দের অভাব। ভারত শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা ক্ষেত্রে সক্ষমতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য তারা শিক্ষাকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেই ভারত তার জিডিপির চার শতাংশ শিক্ষার জন্য খরচ করছে, অথচ বাংলাদেশ করছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। জাফর ইকবাল যথার্থই নির্দেশ করেছেন, গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার কারণেই গবেষণা হচ্ছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেটা অন্যতম প্রধান কাজ, অর্থাৎ নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা, তা আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না।
২০১০ সালের ২৬ জুন প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘মৌলিক গবেষণাশূন্য ১৫ গবেষণাকেন্দ্র’। গবেষণাকেন্দ্রগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ১৫টি গবেষণাকেন্দ্রের জন্য এক শিক্ষাবর্ষে বরাদ্দ ছিল সাড়ে ২৪ লাখ টাকা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ১৫টি গবেষণাকেন্দ্রের মানসম্পন্ন গবেষণার জন্য এক বছরে সাড়ে ২৪ লাখ টাকা কি পর্যাপ্ত? গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রাপ্ত বরাদ্দ ও ব্যয়ের ব্যাপারে দু-একটি উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক হবে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় (Washington University in St. Louis) ২০০৬ অর্থনৈতিক বর্ষে গবেষণা করার জন্য ফেডারেল রিসার্চ ফান্ড থেকে ৪৩৪ মিলিয়ন ডলার লাভ করে। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বার্ষিক বরাদ্দ (Endowment) হচ্ছে ১৪৪ কোটি সিঙ্গাপুর ডলার।
বাংলাদেশের সঙ্গে আমি যুক্তরাষ্ট্র বা সিঙ্গাপুরের মতো ধনী দেশের তুলনা দিচ্ছি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বরাদ্দ যে খুবই দরকার, সেটা বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখ করলাম। আর জাফর ইকবাল তো উল্লেখই করেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীকে মাসে ১২ হাজার রুপি করে বৃত্তি দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে গবেষণা করার জন্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু বাংলাদেশে, প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫টি গবেষণাকেন্দ্রের জন্য বার্ষিক বরাদ্দ সাড়ে ২৪ লাখ টাকা। তাহলে একটি গবেষণাকেন্দ্রের ভাগে দেড় লাখ টাকাও পড়ে না। এই টাকা দিয়ে গবেষণা করাই তো সম্ভব নয়, মানসম্পন্ন ও মৌলিক গবেষণা তো দূরের কথা! যাঁরা গবেষণার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা স্বীকার করবেন যে মানবিক বা সামাজিক বিজ্ঞানবিষয়ক কোনো একটি গবেষণাকেন্দ্রের মানসম্পন্ন গবেষণার জন্য বছরে ২৪ লাখ টাকা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। সেখানে ১৫টি গবেষণাকেন্দ্রের জন্য কীভাবে সাড়ে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়? আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরিসহ যে সুযোগ-সুবিধা দরকার, তার জন্য প্রয়োজন কোটি কোটি টাকা।
বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ, এ জন্য গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। এ কথা বলে গবেষণার মতো মৌলিক বিষয় এড়ানো যাবে না। এ বছর এক লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকার বিশাল বাজেট দেওয়া হয়েছে এবং রাজস্ব বাজেটের প্রায় ৫৮ শতাংশ ব্যয় হবে সিভিল প্রশাসন, প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতের মতো অনুৎপাদনশীল খাতে। এসব অনুৎপাদনশীল খাতের ব্যয় কমিয়ে ৫০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকা কি শুধু গবেষণার জন্য বরাদ্দ করা যায় না? মৌলিক গবেষণা তো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করবে; তাতে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এগোবে, ত্বরান্বিত হবে উন্নয়ন।
শুধু পিএইচডি চাই না, মানসম্পন্ন পিএইচডি চাই। শুধু গবেষণার খাতিরে গবেষণা চাই না; এমন গবেষণা চাই, যাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও চিত্রকলা এগিয়ে যেতে পারে। কেননা, এখন অনেক ছাত্রছাত্রী, এমনকি শিক্ষকের মধ্যেও এমন প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে যে তারা শুধু নামের আগে ডক্টর জুড়ে দেওয়ার জন্য পিএইচডি করতে চান। মৌলিক কোনো গবেষণা বা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করার জন্য তাঁরা পিএইচডি করতে চান না। সরকারি অনেক কর্মকর্তা, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এখন পিএইচডির দিকে ঝুঁকছেন। আর ‘অতি সহজে’ পিএইচডি করে যাঁরা নামের আগে ডক্টর জুড়ে দিতে চান, তাঁরা ‘সহজ ও সস্তা’ সুপারভাইজার খোঁজেন। যে সুপারভাইজার খুব বেশি খাটাবেন না, যাঁর অধীনে খুব একটা পড়াশোনা না করেই ডক্টর হয়ে যাওয়া যাবে, অধিকাংশ সম্ভাব্য পিএইচডিধারী সে ধরনের সুপারভাইজারের সন্ধানে থাকেন এবং পেয়েও যান। ফলে শত সীমাবদ্ধতার পরও প্রতিবছর কিছু কিছু ডক্টরের সংখ্যা বাড়ে; কিন্তু মৌলিক গবেষণা হয় না, নতুন জ্ঞানও বাড়ে না।
এত এত বিশ্ববিদ্যালয়, এত এত ডক্টর, অথচ অজপাড়াগাঁয়ের অশিক্ষিত আরজ আলী মাতব্বরের মতো একটু যুক্তিবোধও যখন তাঁদের মধ্যে দেখতে পাই না, তখন খুবই লজ্জিত হই। সে জন্য প্রত্যাশা করি, রাষ্ট্র গবেষণার গুরুত্ব বুঝে তাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিক, যাতে মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হতে পারে। আর যুক্তিবোধসম্পন্ন, শিক্ষা-অনুরাগী ও কর্মঠ গবেষকেরাই যেন মৌলিক গবেষণার মধ্য দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন। নইলে আমাদের মৌলিক গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির দৈন্য কোনোভাবেই ঘুচবে না।
শেখ হাফিজুর রহমান: সহযোগী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
hrkarzon@yahoo.com

করাচিতে মসজিদ থেকে বোমা উদ্ধার

পাকিস্তানের করাচি শহরের একটি হাসপাতালের সীমানার ভেতর স্থাপিত মসজিদ থেকে বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে বোমাটি পাতা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইকবাল মেহমুদ জানান, জিন্নাহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টারের আবাসিক এলাকার মসজিদে একটি ব্যাগে ওই তাজা বোমাটি পাওয়া যায়। সন্দেহজনক ব্যাগটি দেখে লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। তারা জানায়, কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি ব্যাগটি রেখে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের অপর এক কর্মকর্তা জানান, এটি দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা। নামাজের সময় এটির বিস্ফোরণ ঘটানো হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বোমাটির ওজন কমপক্ষে ১৫ কেজি।

সিরিয়ায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, নিহত ১

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে কিসওয়াহ শহরে গতকাল শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে একজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। মানবাধিকার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের দাবিতে গতকাল জুমার নামাজের পর মুসল্লিরা দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেন। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের গ্রুপ সিরিয়ান রেভল্যুশন ২০১১ এ বিক্ষোভের ডাক দেয়।
লন্ডনভিত্তিক সিরীয় অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের একজন কর্মকর্তা জানান, কিসওয়াহে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছুড়লে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে সিরিয়ার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের তিনজন কমান্ডারের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার কমান্ডার মোহাম্মদ আলী জাফারি, মেজর জেনারেল কাসেম সোলায়মানি ও হোসেইন তায়েবের ওপর এ অবরোধ আরোপ করা হয়। অবরোধের আওতায় তাঁদের সম্পদ জব্দসহ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

রুয়ান্ডার গণহত্যায় জড়িত সাবেক নারী মন্ত্রীর যাবজ্জীবন

রুয়ান্ডার গণহত্যায় জড়িত থাকার দায়ে দেশটির সাবেক নারী মন্ত্রী পলিন নিরামাসুহুকোকে (৬৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। গণহত্যা ও ধর্ষণে প্ররোচনার দায়ে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়। রুয়ান্ডার গণহত্যা বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল শুক্রবার এই রায় দেন। রুয়ান্ডার গণহত্যার ঘটনায় এই প্রথমবারের মতো কোনো নারীর সাজা হলো।
১৯৯৪ সালে গণহত্যার সময় রুয়ান্ডার পরিবার ও নারী উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন পলিন নিরামাসুহুকো। আট লাখ মানুষ গণহত্যার শিকার হয়, যার বেশির ভাগই জাতিগতভাবে তুতসি। নিরামাসুহুকো, তাঁর ছেলে ও স্থানীয় চারজন কর্মকর্তা সংঘবদ্ধভাবে গণহত্যায় জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। নিরামাসুহুকো তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
আদালতের প্রধান বিচারক উইলিয়াম হুসেন সেকুলে বলেন, ‘তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের সঙ্গে গণহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে পলিন জড়িত ছিলেন।

গ্রিসের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে ইইউ

আর্থিক সংকট মোকাবিলায় গ্রিসকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল বারোসো বলেছেন, প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে ইইউয়ের নেতারা সত্যিই আন্তরিক। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউয়ের শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন শেষে গত বৃহস্পতিবার বারোসো এ কথা বলেন।
ইইউয়ের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেতে হলে গ্রিসের পার্লামেন্টকে আগামী সপ্তাহে নতুন করে ব্যয় সংকোচন আইন পাস করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে দুই হাজার ৮০০ কোটি ইউরো ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা করছে গ্রিস সরকার।
এই ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা যদি পার্লামেন্ট অনুমোদন দেয়, তবেই ইইউয়ের দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্যাকেজ হিসেবে পাওয়া ১১ হাজার কোটি ইউরোর পরবর্তী কিস্তি এক হাজার ২০০ কোটি ইউরো পাবে গ্রিস সরকার। এই অর্থ না পেলে গ্রিস তাদের ঋণের পরবর্তী কিস্তি দিতে পারবে বলে মনে হয় না। আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি নাগাদ এ কিস্তি দেওয়ার কথা। তবে অর্থনীতিবিদদের অনেকে বলছেন, এখন পারলেও ভবিষ্যতে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা গ্রিসের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
সম্মেলনের প্রথম দিন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হারম্যান ভন রমপি বলেছেন, গ্রিসের অর্থ পাওয়ার বিষয়টি আরও সহজ করতে কাজ করছে ইইউ।
তবে এর আগে লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জ্য-ক্লদ জাঙ্কার ইইউয়ের আর্থিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য সব ধরনের শর্ত পূরণ করার জন্য এথেন্সের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সব শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে। গ্রিস যদি তা করে, তাহলে আমরাও আমাদের দিক থেকে যা করার, সবকিছু করব।’
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রু জানান, আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে ব্যয় সংকোচননীতি পাস করানোর ক্ষেত্রে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা যাতে অব্যাহত থাকে, তা আমরা করব।

পরিবর্তন না আনলে পাকিস্তানকে আর সামরিক সহায়তা নয়

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন না আনলে পাকিস্তানে আগের মতো সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন।
সিনেটের একটি কমিটিকে হিলারি বলেন, পাকিস্তান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত নয়। পাকিস্তানকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সে ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি হিলারি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানকে পারস্পরিক স্বার্থ ও পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করার সময় এখনই।
হিলারি ক্লিনটন আরও বলেন, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের আত্মগোপন সম্পর্কে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তারা জানতেন, এটা যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বাস করে না।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়ে থাকে। ওই সহায়তার একটি বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় করা হয়।

টাটার মামলার কারণে সিঙ্গুরের কৃষকের মধ্যেহতাশা

সিঙ্গুর আইনকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে টাটা মোটরসের করা মামলার জের ধরে জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রাজ্য সরকার কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার পক্ষে অনড় আছে।
জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকদের ধারণা ছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতিমতো তাঁরা শিগগিরই জমি ফিরে পাবেন। কিন্তু টাটা মোটরস সিঙ্গুরের জমি ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের আইনকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করলে জটিলতা শুরু হয়। এ কারণে এখন সিঙ্গুরে আনন্দ-উৎসবের পরিবর্তে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে টাটার করা মামলার শুনানি গতকাল শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমিত্র পালের এজলাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আগামী সোমবার শুনানির দিন ধার্য করেন। গতকাল আদালতে দুই পক্ষই বলে, তারা এ বিষয়ে একটা সমঝোতায় যেতে চায়।
শিল্পমন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জমি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিচারাধীন এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিতে ‘সিঙ্গুর পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিল’ পাস করেন।

মায়া সভ্যতার...

মায়া সভ্যতার এক শাসকের সমাধির ভেতর তৈজসপত্র, শেষকৃত্যে ব্যবহূত মুক্তা ও মূল্যবান পাথরখচিত কাপড়ের টুকরো এবং সমাধিটির দেয়ালে আঁকা রঙিন চিত্রকর্মের সন্ধান মিলেছে। দূরনিয়ন্ত্রিত একটি ছোট ক্যামেরার সাহায্যে এসব চিত্র ধারণ করা হয়। ১৯৯৯ সালে মেক্সিকোর শিয়াপাস রাজ্যের প্যালেঙ্ক শহরে একটি পিরামিডের ভেতর সমাধিটির সন্ধান মেলে। এখন পর্যন্ত এর ভেতর কেউ ঢুকতে পারেনি। পিরামিডের শীর্ষে থাকা একটি ছিদ্রপথে ক্যামেরা পাঠিয়ে ছবিগুলো তোলা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, সমাধিটি ৪৩১ থেকে ৫৫০ সালের মধ্যে নির্মিত। ২৫০ থেকে ৯০০ শতকে মায়া সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।

গানে গানে স্মরণ করা হবে জ্যাকসনকে আজ

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। বিশ্বের অগণিত ভক্ত আজ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা জানাবে গান গেয়ে, সমাধিতে ফুল দিয়ে। এ ছাড়া আজ বিশ্বের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল পপসম্রাটকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।
জ্যাকসনের জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহর আজ পপসম্রাটের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণা দিয়েছে। গ্যারিতে তাঁদের সেই পুরোনো বাড়ির সামনে জ্যাকসনের একটি ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে। এই বাড়িতে পাঁচ ভাইকে নিয়ে গঠিত ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডদলের মধ্য দিয়েই শুরু হয় মাইকেলের সংগীতজীবন।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শিল্পী, অভিনেতাসহ অগণিত জ্যাকসনভক্ত আজ গ্যারি শহরে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িতে হাজির হবে। তাঁরা সেখানে জ্যাকসনের জ্যাকসনের ভাস্কর্যের সামনে নেচে-গেয়ে প্রিয় তারকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।
এদিকে, মাইকেল জ্যাকসনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর তিন দিন আগে তাঁর বোন লা টয়া জ্যাকসনের লেখা একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। স্টার্টিং ওভার নামের ওই বইয়ে টয়া অভিযোগ করেছেন, গভীর চক্রান্ত করে মাইকেল জ্যাকসনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে সিএনএনকে তিনি বলেছেন, মৃত্যুর আগে মাইকেল জ্যাকসন তাঁকে হত্যা করা হতে পারে বলে টয়াকে জানিয়েছিলেন। টয়া বলেছেন, জ্যাকসনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেই তাঁকে হত্যা করা হয়।
২০০৯ সালের ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ ফ্ল্যাটে জ্যাকসন মারা যান। ধারণা করা হয়, অতি মাত্রায় ঘুম ও ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডেলে ফরেস্ট লন মেমোরিয়াল পার্কে পপসম্রাটকে সমাহিত করা হয়েছে।

আল-কায়েদার নাম পাল্টাতে চেয়েছিলেন বিন লাদেন

আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন তাঁর জঙ্গি সংগঠনটির নাম বদলাতে চেয়েছিলেন। গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটনে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা জানান।
গত ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানের সময় সেখানে পাওয়া একটি চিঠিতে সংগঠনটির নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানা যায়। আল-কায়েদার হাতে অনেক মুসলমান মারা যাচ্ছে। যাকে আল-কায়েদার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে মনে করতেন বিন লাদেন। এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। নিজের পুরোনো সব সহযোদ্ধা মারা যাওয়ায়ও উদ্বিগ্ন ছিলেন।
আল-কায়েদার পুরো নাম আল-কায়েদা আল-জিহাদ থেকে একসময় আল-জিহাদ শব্দটি হারিয়ে যায়। একপর্যায়ে শুধু আল-কায়েদা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে জঙ্গি সংগঠনটি। বিষয়টিকে সমস্যা মনে করছিলেন বিন লাদেন। এ জন্য আল-কায়েদার নাম পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন তিনি।

বড় ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হলো ভারত-পাকিস্তান আলোচনা

ইসলামাবাদে গতকাল শুক্রবার ভারত-পাকিস্তান শান্তি আলোচনার আরেক দফা শেষ হয়েছে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই। শুধু আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তই হয়েছে এই দফার আলোচনায়।
দুই দিনের আলোচনায় পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সে দেশের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির এবং ভারতের পক্ষে সে দেশের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকেরা এতে যোগ দেন।
বৈঠক শেষে গতকাল একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী জুলাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে এর আগে নয়াদিল্লিতে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে ওই বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আলোচনা খুবই খোলামেলা ও আন্তরিক হয়েছে। গঠনমূলক এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দুই পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর সীমান্ত বরাবর বাণিজ্য ও ভ্রমণ বাড়ানোসহ পারমাণবিক বিষয়ে পারস্পরিক আস্থা বিনির্মাণে একমত হয়েছে দেশ দুটি। পাকিস্তানের দ্য নেশন ও ডন পত্রিকা জানায়, উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা থেকে বিরত থাকতেও রাজি হয়েছে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে একসঙ্গে দেখা গেছে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবকে। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বিবৃতিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ভারত ও পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্র বিষয়ে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাবে।
বিতর্কিত কাশ্মীর বিষয় নিয়ে আড়াই বছরের মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রথম এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির আলোচনা করেন। এ আলোচনা হয়েছে গঠনমূলক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ।
দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তোলা এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় অগ্রগতির জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে বিশেষজ্ঞদের একটি বৈঠক হবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাও বলেছেন, ‘আমাদের জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ, ভ্রমণ এবং বাণিজ্য করতে দিতে সহায়তা করা উচিত।’
জম্মু-কাশ্মীর ছাড়াও সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই সচিব আলোচনা করেছেন। এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে আগামী মাসে পাক-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার পট প্রস্তুত হলো।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে পড়ে। কাশ্মীর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দুবার যুদ্ধ হয়েছে।

জিম্বাবুয়েকে ডেকে আনছে নিউজিল্যান্ড

জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে যেন সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রায় ছয় বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন পর্ব কাটিয়ে এ বছরই টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছে টেস্ট পরিবারের নবম সদস্য। আগামী আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে একমাত্র টেস্ট দিয়ে টেস্ট আঙিনায় প্রত্যাবর্তন হচ্ছে তাদের। এরই প্রস্তুতি পর্বে পেল তারা আরেক এক সুসংবাদ, ১১ বছরের মধ্যে এই প্রথম নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার সুযোগ এসে গেছে তাদের সামনে।
আগামী বছরের শুরুতেই নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকেও আতিথ্য দেবে নিউজিল্যান্ড। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ড জিম্বাবুয়ে সফরে গেলেও, রবার্ট মুগাবে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিউজিল্যান্ড নিজেদের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানায়নি। জিম্বাবুয়ে সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফর করেছিল ২০০০ সালের ডিসেম্বরে। সরকারের ইচ্ছাতেই এরপর আর জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানায়নি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।
অবশেষে সরকারের অনুমতিতেই নিশ্চিত হয়েছে সফরসূচি। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সফরে একটি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ছাড়াও ২টি টি-টোয়েন্টি খেলবে জিম্বাবুয়ে। এই সিরিজ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হবে ওয়াঙ্গেরাই কোবহাম ওভাল স্টেডিয়ামের। জিম্বাবুয়ের পরপরই সফরে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফেব্রুয়ারি-মার্চের সফরে থাকবে সমান তিনটি করে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্ট। এএফপি, ক্রিকইনফো।

সিদ্ধান্তে অনড় ভারত

‘ভারতীয় বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর চেষ্টা করব আমরা।’ তা চেষ্টা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) করেছে। কিন্তু ফল শূন্য। সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য এসএলসির অনুরোধ বিসিসিআইয়ের কাছে অরণ্যে রোদন হয়ে ফিরেছে, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট লিগে (এসএলপিএল) ভারতীয় খেলোয়াড় যাবে না। আর এসএলসিও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ভারতীয়দের ছাড়াই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে।
এসএলপিএলের আয়োজক সিঙ্গাপুরভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমারসেট এন্টারটেইনমেন্ট। ‘বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত টুর্নামেন্টে আমরা খেলোয়াড় পাঠাতে পারি না’—এই হলো বিসিসিআইয়ের অবস্থান।
এ নিয়ে গত পরশু দুই বোর্ডের মধ্যে টেলিকনফারেন্স হয়। এতে বিসিসিআই একটা শঙ্কা ব্যক্ত করে, খেলোয়াড়দের চুক্তির টাকা নিয়ে সমস্যা হলে জটিলতা বাড়বে, যেহেতু টুর্নামেন্টটি এসএলসির নয়। জবাবে এসএলসি চুক্তির টাকার নিরাপত্তার জন্য ব্যাংক নিশ্চয়তার প্রস্তাবও দিয়েছে। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নয় বিসিসিআই।
তবে বিসিসিআই যা-ই বলুক, আসল কারণ ললিত মোদি। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী মাহিন্দানন্দা আলুথগামাগেই বলেছেন, ললিত মোদির কারণেই খেলোয়াড় পাঠাতে চায় না বিসিসিআই, ‘ভারতীয় বোর্ড আমাদের বলেছে, তারা খেলোয়াড় পাঠাবে না, কারণ তারা মনে করছে, মোদি টুর্নামেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিসিসিআই আরও বলেছে, মোদি তৃতীয় পক্ষ এবং পর্দার আড়ালে বসে কাজ করছে।’
বিসিসিআই অস্বীকৃতি জানালেও অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড টুর্নামেন্টকে সমর্থন জানিয়েছে। সমর্থন জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী টিম মেও।

টেন্ডুলকারকে সরিয়ে শীর্ষে ক্যালিস

জ্যাক ক্যালিসের কাছে আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারালেন শচীন টেন্ডুলকার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে না যাওয়াতেই এই বিপত্তি। একটি টেস্ট না খেললে রেটিং পয়েন্টের এক শতাংশ হারান ক্রিকেটাররা। সেই হিসাবে পরের দুই টেস্টের জন্য আরও পয়েন্ট হারালেও ইংল্যান্ড সফরটা দুই নম্বরে থেকেই শুরু করতে পারবেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি। গতকাল প্রকাশিত হয়েছে এই র‌্যাঙ্কিং।
তবে কিংস্টন টেস্টের ম্যাচজয়ী অসাধারণ সেঞ্চুরিটা শীর্ষ বিশে ফিরিয়েছে রাহুল দ্রাবিড়কে। গত নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাগপুর টেস্টের পর সেরা বিশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন ‘দ্য ওয়াল’। দ্রাবিড় এগোলেও পিছিয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। পাঁচ ধাপ পিছিয়ে তাঁর অবস্থান এখন ১৩ নম্বরে।
অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সুরেশ রায়না এগিয়েছেন ২৬ ধাপ। কিংস্টনে ৮২ ও ২৭ করা রায়নার বর্তমান অবস্থান ৬১। তবে ২৯ ধাপ এগিয়ে ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বড় লাফটি দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আদ্রিয়ান বারাথ। ৯১ থেকে এক লাফে ৬২। ১৮ নম্বরে থাকা তামিম ইকবাল আছেন বাংলাদেশিদের মধ্যে সবার ওপরে।
কোনো পরিবর্তন নেই বোলিংয়ের সেরা দশে। তিন ধাপ এগিয়ে ভারতের ইশান্ত শর্মা এখন ১১-তে। উন্নতির ধারা অব্যাহত দেবেন্দ্র বিশুরও। একবারে ১২ ধাপ উঠে ৪৯-এ রয়েছেন এই লেগ স্পিনার। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান আছেন আটে।