Friday, May 25, 2018

আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচার সম্ভব? by আমীন আল রশীদ

রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অধিকার বাংলাদেশের আছে কিনা, সে বিষয়ে বাংলাদেশের অভিমত জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার এই সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে ৮ জুনের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনীয়ভাবে অভিমত জানানোর অনুরোধ জানানো হয়। এখন প্রশ্ন হলো, রোহিঙ্গা নিধনের দায়ে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তা/সদস্য বা সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিচারের এখতিয়ার আদৌ এই আন্তর্জাতিক আদালতের রয়েছে কিনা বা তারা বিচার করলেও কীভাবে সেই বিচার কার্যকর হবে?
স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছরের ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি, বিভিন্ন প্রামাণ্য দলিল ও সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রায় দেন আন্তর্জাতিক গণ-আদালত। যেখানে মিয়ানমারের ওপর অবিলম্বে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিয়ানমারের সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত, মিয়ানমারের বাইরে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কথা হচ্ছে, এই আহ্বানগুলো কেউ কি কানে তুলেছে বা বাস্তবায়ন করেছে বা করতে পারবে? এই রায়ের ফলে মিয়ানমারের কী হয়েছে বা তারা কি এই রায়কে আদৌ ভয় পেয়েছে? এই রায়ের মধ্য দিয়ে কি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হয়ে গেছে বা সে পথে কোনও অগ্রগতি হয়েছে?
অনেকে এভাবে ভাবতে চান যে, প্রতীকী বিচার হলেও এর মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে জনমত, তা কিছুটা বেড়েছে এবং এতে দেশটির ওপরে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক চাপ বেড়েছে। বেড়েছে বলেই তাদের একজন মন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন এবং বলেছেন, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চান। পক্ষান্তরে এটিও বাস্তবতা যে, মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের বলেছেন, রোহিঙ্গারা তাদের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাইরে যেতে পারবে না। মানে হলো, কিছু রোহিঙ্গাকে তারা নামকাওয়াস্তে ফেরত নিলেও তাদের রাখা হবে একরকম জেলখানায়। সর্বদা সশস্ত্র পাহারায়। সুতরাং এরকম একটি বিভীষিকার মধ্যে রোহিঙ্গারা কেন যাবে? তার চেয়ে বাংলাদেশের ক্যাম্পেই তো তারা নিরাপদ। খাদ্য পাচ্ছে, বিদেশিরা যাচ্ছে, তাদের জন্য সমবেদনা জানাচ্ছে—এসব কম কিসে? ফলে রোহিঙ্গা নিধনের অপরাধে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার দোষী সাব্যস্ত হলেও এই সংকটের কোনও সমাধান হবে না বলেই মনে করি। কেন হবে না, সেই ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগে আমরা একটু দেখার চেষ্টা করি আইসিসি কী এবং তাদের কাজের ধরন ও এখতিয়ার কতটুকু?
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সাধারণত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে দায়ীদের অভিযুক্ত করে থাকে। যদিও রাশিয়া, চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এই আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন রোম নীতিমালায় স্বাক্ষর করলেও প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তা প্রত্যাহার করে নেন।
আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার করা বেশ কঠিন এবং সম্ভবত অসম্ভবও। কারণ, বাংলাদেশ এই আদালতের সদস্য হলেও মিয়ানমার সদস্য নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ‘রোম সনদ’, যা সংস্থাটির গঠনকালীন মূল দলিল, সেটিতে মিয়ানমার স্বাক্ষর করেনি। ফলে আইসিসিকে সহযোগিতা করতে তারা বাধ্য নয়।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা নিতে হলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন) প্রত্যেকের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও রাশিয়া যেহেতু এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারের পক্ষে রয়েছে, তাতে এটি ভাবার কোনও কারণ নেই যে, তারা মিয়ানমারের বিচারে সম্মতি দেবে। ফলে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়া কঠিন।
দেখা যাক আইসিসি কীভাবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে? সংস্থার ওয়েবসাইটে (https://www.icc-cpi.int/)  দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা কোথাও গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে বলে খবর পেলে সেটির প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। ফলে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে ধরনের জাতিগত নিধন হয়েছে, সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারের আওতায় পড়বে কিনা, সম্প্রতি তা জানতে চেয়েছেন আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ফাতোও বেনসোউদা। এ বিষযে একটি রুল চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তিনি। যেখানে বলা হয়, জোর করে কোনও দেশের বাসিন্দাকে আন্তর্জাতিক সীমানার বাইরে ঠেলে দেওয়া সব দিক থেকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মধ্যে পড়ে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রসিকিউটরকে এটি নিশ্চিত হতে হয় যে, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেখানে অপরাধের ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে এবং সেই অপরাধগুলোর তদন্ত আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত। কেননা, আইসিসি সব ধরনের অপরাধ আমলে নেয় না। প্রাথমিকভাবে অপরাধের প্রমাণ মিললে প্রসিকিউশন অপরাধীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে আইসিসির বিচারকদের অনুরোধ করেন।
বিচারপূর্ব ধাপে তিনজন বিচারক সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানেন। এরপর অভিযোগের শুনানি হয়, প্রসিকিউটর, অভিযুক্ত ও ভিকটিমের আইনজীবীদের সঙ্গে শুনানি করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচারক সিদ্ধান্ত দেন যে, এই মামলার বিচার চলবে কিনা? যদি সন্দেহভাজন গ্রেফতার না হয় অথবা সে দৃশ্যমান না হয়, তাহলে অভিযোগ জমা দেওয়া গেলেও শুনানি শুরু করা যায় না। বিচার পর্বে তিনজন বিচারককে এ ব্যাপারে সন্তুষ্ট করতে হয় যে, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বিদ্যমান।
তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে বিচারক রায় দেন ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে একজন ব্যক্তিকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড এমনকী ব্যতিক্রম হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দিতে পারেন। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণেরও আদেশ দিতে পারেন আদালত। তবে যদি অপরাধের ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকে তাহলে আদালত অভিযুক্তদের মুক্তি দিতে পারেন। আপিল গ্রহণ করেন পাঁচজন বিচারকের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ, যাদের কেউ মূল রায় প্রদানকারী বিচারক নন।
রোম স্ট্যাটু অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট ১৯৯৮ সালে বলা হয়েছে, ‘যেসব সদস্য দেশ রেকটিফাই করে আইসিসির পূর্ণাঙ্গ সদস্য হয়েছে, তারা যদি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, তাহলে আইসিসি তাদের বিচার করতে পারবে।’ সমস্যা হলো, মিয়ানমার এতে রেকটিফাই করেনি। কেউ কেউ মনে করেন, এক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি রেজুলেশন পাস করে সরাসরি আইসিসিকে বিচারের জন্য বলতে পারে। আবার কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে আইসিসি স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও অনুসন্ধান করে মামলা নিতে পারে। এর বাইরে যেহেতু মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তাই ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) গিয়ে রোহিঙ্গাদের খাবার, আশ্রয়, ভরণপোষণ চেয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে বলেও মত রয়েছে।
বলা হয়, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেহেতু এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালাচ্ছে বলে খোদ জাতিসংঘও স্বীকার করেছে, সুতরাং আইসিসির পক্ষে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই এর অনুসন্ধান করা সম্ভব। কেননা নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে জুলেশন পাস হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
কেউ কেউ অবশ্য এমনও মনে করেন যে, বাংলাদেশের আইনেও মিয়ানমারের বিচার করা সম্ভব। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুসারে কোনও ঘটনার বিচার করতে হলে অপরাধটি বাংলাদেশে সংঘটিত হতে হবে বলে বিধান থাকলেও আইনের সর্বজনীন এখতিয়ারও রয়েছে। সে অনুযায়ী, অন্য দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা যেহেতু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাই বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর অভিযুক্ত সদস্যদের বিচার করা যায়। যদিও সেটি খুব সহজ নয়। বরং রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর অভিযুক্ত সদস্যদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতই ভরসা। সেক্ষেত্রে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় গণ-আদালতের রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হতে পারে। আবার যেহেতু খোদ আইসিসির প্রসিকিউটর নিজেই আদালতের কাছে এটি জানতে চেয়েছেন যে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারের আওতায় পড়বে কিনা, ফলে ধরে নেওয়া যায় যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি আইসিসির সুনজরে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেসিডেন্ট চিল ইবো ওসুজি (Chile Eboe-Osuji) সম্প্রতি এক টু্ইটে লিখেছেন, ‘বিশ্বের যেকোনও প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং আইসিসি সেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে।’ আইসিসি এ যাবৎ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধ, সুদান ও উগান্ডায় যুদ্ধাপরাধ, কেনিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধ, আইভরি কোস্টের যুদ্ধাপরাধ, লিবিয়ায় যুদ্ধপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করেছে। আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, জর্জিয়া, গিনি, হন্ডুরাস, ইরাক, নাইজেরিয়া, ফিলিস্তিন ও ইউক্রেনে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়টিও প্রাথমিকভাবে তারা খতিয়ে দেখেছে। এই আদালত এ পর্যন্ত ৩৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন উগান্ডার বিদ্রোহী নেতা জোশেফ কোনি, সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা, লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফি ও আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট লরেন্ট জিবাগবো।
সমস্যা হলো, এ আদালত বিচারের মাধ্যমে যেকোনও ব্যক্তি বা সংগঠনকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন। এমনকী গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। তবে এর নিজস্ব কোনও বাহিনী না থাকায় অভিযুক্তদের ধরতে বা দণ্ড কার্যকর করতে পারেন না। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতি অভিযুক্তকে গ্রেফতারের আহ্বান জানান। প্রশ্ন হলো, আইসিসি যদি শেষাবধি রোহিঙ্গা নিধনের দায়ে মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করে এবং এই কর্মকাণ্ডের মূলহোতা তাদের সেনাপ্রধানসহ অন্যদের গ্রেফতারের আহ্বান জানান, মিয়ানমার সরকার কি সেই আহ্বান আমলে নেবে? কে না জানে যে, মিয়ানমারে কথিত গণতন্ত্রের নেত্রী অং সান সু চি'র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি ক্ষমতায় থাকলেও আদতে দেশ চালায় সেনাবাহিনী এবং সু চি মূলত তাদের ক্রীড়নক? সুতরাং এরকম একটি সেনা নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের সেনাপ্রধান বা সেনাবাহিনীর কোনও কর্মকর্তা বা সদস্যকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত দোষী সাব্যস্ত করবে আর মিয়ানমার সেই বিচারের রায় কার্যকর করবে, আপাতত এটি ভাবার কোনও কারণ নেই। মিয়ানমারে সরকার পরিবর্তন হয়ে পুরোদস্তুর গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলেও রোহিঙ্গা নিধনের দায়ে তাদের বিচার করা কঠিন হবে। কারণ সে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষই রোহিঙ্গা নিধনের পক্ষে। ‘রোহিঙ্গামুক্ত এলাকা’-এরকম সাম্প্রদায়িক সাইনবোর্ডও দেশটির বিভিন্ন স্থানে লাগানো আছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে। ফলে আফ্রিকার যেসব দেশে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিভিন্নজনকে আইসিসি দোষী সাব্যস্ত করেছে, তার সঙ্গে মিয়ানমারের মূল ফারাকটা এখানেই যে, আফ্রিকার ওইসব দেশের অপরাধে সাধারণ মানুষের কোনও সায় ছিল না। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপরে যা হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রের বৃহৎ অংশের সমর্থন আছে বলে জানা যায়। ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিচার হবে বা বিচার হলেও সেটি আখেরে কোনও ফল দেবে, সেই সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
আমীন আল রশীদলেখক: সাংবাদিক

খুলনা সিটি করপোরেশনের ‘চমৎকার নির্বাচন’ ও অন্যান্য by আহসান কবির

ক্লাস টুতে পড়ে বিল্টু। সে তার বাবার সঙ্গে ভোট দিতে গেছে। পোলিং এজেন্টকে সে একের পর এক প্রশ্ন করছে। পোলিং এজেন্ট মহা বিরক্ত। তাদের শেষ কথোপকথন:
বিল্টু: আংকেল ওটা কী লাগালেন হাতের আঙুলে?
পোলিং এজেন্ট: ভোট দিলে চিহ্ন হিসেবে ওটা লাগানো হয়।
বিল্টু: আচ্ছা পানি দিলে এই দাগ কি উঠবে?
পোলিং এজেন্ট: না। সময় লাগবে।
বিল্টু: কতদিন?
পোলিং এজেন্ট: উফ! একবছর লাগবে, একবছর।
বিল্টু: আংকেল তাহলে বাবার চুলে এটা লাগিয়ে দেন। চুলের কলপ দশ দিনের বেশি থাকে না।  কলপ দেওয়ার সময়ে বাবা আমাকে আর মাকে খুব ডিস্টার্ব করে। আর কলপ দেওয়ার পর বাবা ছোট খালাকে নিয়ে কোথায় কোথায় যেন ঘুরতে যায়!

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিল্টুরা আজকাল ভোট দিতে পারছে। সারা পৃথিবীতেই নির্বাচন নিয়ে সংশয়-সংঘর্ষ আর উল্টাপাল্টা ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। নির্বাচনি আবহাওয়া সারা পৃথিবীতে বোধ করি একইরকম। আফ্রিকার এক দেশের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী জনসভায় গিয়ে বলতে লাগলেন, জনগণ যা চাইবে তিনি তাই করবেন। এক জনসভা শেষে হাজারো জনতা দাবি তুললো পাশের নদীটা সাঁতরে পার হতে পারলেই তারা তাকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি বানাবেন। রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী নদীতে ঝাঁপ দিলেন। কিন্তু নদী পার হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হলো!
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গণতন্ত্র আর সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বড় বড় কথা বলে আমেরিকা। এমনকী কথিত স্বৈরাচারদের উৎখাত করতে সাগর পাড়ি দিয়ে ইরাক ও লিবিয়ায় যুদ্ধ করতে যায় আমেরিকান সৈন্য। কিন্তু আমেরিকার সত্তর ভাগ মানুষ বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তা পাড়ি দিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে চায় না। আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেমন ছিলেন? একতরফা এবং প্রায় সব ভোট পেয়েছিলেন জর্জ ওয়াশিংটন। কারণ তার কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিল না! মার্কিন লেখক ও অভিনেতা উইল রজার্স তাই বলতে পারেন—আমরা আশা করি, সবসময় যেন যোগ্য প্রার্থীই জেতেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা কখনোই হয় না! সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর অটো ফন বিসমার্কের মতে—মানুষ কখনোই এত মিথ্যা বলে না যতটা তারা বলে যুদ্ধ আর নির্বাচনের সময়।
২০১৮ সালের ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুরনো একটা কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সোভিয়েত রাশিয়ার জোসেফ স্ট্যালিন বলেছিলেন, যারা ভোট দেয়, তারা কোনও ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। যারা ভোট গোনে, তারাই সিদ্ধান্ত নেয় ফল কী হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরীকে নিয়ে প্রচলিত একটা কথা বলা যেতে পারে। তিনি নাকি নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বলতেন, আপনাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম আপনারা আমাকেই ভোট দেবেন। তাই কষ্ট করে আপনাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে না।
তবে ভোটাভুটির পর মানুষ শুধু যেকোনও প্রার্থীকে নির্বাচিত করে তেমন সবসময় নাও হতে পারে। আলাস্কার টালকিটনা শহরে মেয়র হতে পেরেছিল স্ট্যাবস নামের এক বিড়াল। ভোটারদের যুক্তি ছিল বড় অদ্ভুত। স্ট্যাবসের ব্যবহার নাকি খুব ভালো ছিল এবং সে নাকি জনগণের ওপর কোনও ট্যাক্স আরোপ করতো না। তবে রাজনীতি, নির্বাচন কিংবা ভোটের আগে প্রার্থীরা ভোটারদের আবেগ নিয়ে খেলে থাকেন। আবেগের ওপর ভর করে ভোটাররা কত কী যে করেন। ২০০৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেট নির্বাচনের আগে জেরি ওরোপেজা মারা যান। তবে ব্যালটে তার নাম ও প্রতীক রয়ে গিয়েছিল। ভোটের পরে দেখা গেল ভোটাররা মৃত জেরি ওরোপেজাকেই নির্বাচিত করেছেন। আমেরিকায় আরও দু'জন মানুষের এই রেকর্ড আছে। আর্ল উড ও চার্লস বিসলে মৃত্যুর পরে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নির্বাচনে বিড়ালরা যেমন নির্বাচিত হতে পারে, তেমনি মৃত মানুষরাও নির্বাচিত হতে পারেন। বড় বিচিত্র মানুষের মন। আমেরিকার মানুষরা বিভিন্ন দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে যতই নাক গলাক না কেন, নিজ দেশে নৈতিকভাবে তাদের অবস্থান ঠিক নেই। নর্থ সাউথের যুদ্ধে যে কালো মানুষেরা আমেরিকার পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই কালো মানুষদের একজনকে রাষ্ট্রপতি বানাতে আমেরিকার মানুষ দুই শত বছরেরও বেশি সময় নিয়েছে। বারাক ওবামার পরে আর কোনও কালো মানুষ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন কিনা, সেই সন্দেহও দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন মানুষকে (আমেরিকার বেশিরভাগ মানুষ তাকে উন্মাদ মনে করেন) আমেরিকানরা প্রেসিডেন্ট বানিয়েছেন কিন্তু একজন যোগ্য নারী যে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, বেশিরভাগ আমেরিকান আজও সেটা মনে করেন না। অবশ্য মার্কিন রহস্যোপন্যাস লেখক ডিন কুন্টেজের কথাটা স্মরণ করা যেতে পারে। তার মতে, আমাকে যদি বলা হয়, দুটি বাজে হরর মুভি থেকে একটি বেছে নিতে তাহলে সেটি হবে খুব কঠিন। ডিন কুন্টেজ তাও ভাগ্যবান।
যাইহোক খুলনা সিটি করপোরেশনের 'চমৎকার' (নির্বাচন কমিশন বলেছে চমৎকার নির্বাচন হয়েছে) নির্বাচনের কাছেই ফেরা যাক। তালুকদার আবদুল খালেক মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আগেও মেয়র ছিলেন। মাঝখানে হেরেও গিয়েছিলেন। কয়েকটি পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে ‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের নতুন রূপ’ দেখেছে খুলনা তথা বাংলাদেশ। বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মিজানুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হলেও তিনি বলেছেন, তালুকদার আব্দুল খালেক যেভাবে জিতেছেন তাতে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে।
কে ধ্বংস হয়েছেন আর কে ফিনিক্স পাখির মতো আবির্ভূত হবেন, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। আমেরিকা, ভারত বা ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর রাষ্ট্রযন্ত্র টাকা পয়সা ও মিডিয়া দিয়ে যে নির্বাচন প্রভাবিত করতে চায় না, তেমন না। তারপরও কোন দল কী করছে, তার একটা সীমা হয়তো থাকে। রিচার্ড নিক্সন (এই ভদ্রলোকের নামে বিদেশি পুরনো কাপড়ের একটা মার্কেট ছিল খুলনায়—নিক্সন মার্কেট) বিরোধী দলের অফিসে আঁড়ি পেতেছিলেন, ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ট্রাম্প কীভাবে জিতেছেন, কীভাবে তিনি পত্রিকা, টেলিভিশন-ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, এমনকী রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন ছিল, সেসব আজ কোনও না কোনোভাবে জানা যাচ্ছে। ভদ্রলোক তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন কিনা তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের নির্বাচনে স্থানীয় টিভি ও পত্রিকাগুলোতে চোখে পড়ার মতো বিজ্ঞাপন দিযেছিল ক্ষমতাসীন বিজেপি। একটি মাত্র পত্রিকা (কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র বাদে) ছাড়া প্রায় সব পত্রিকা ও টিভি সমর্থন দিয়েছিল বিজেপিকে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পত্রিকা ও টিভিতে দেওয়া বিজ্ঞাপনের বিল তারা পরিশোধ করছে না। কেউ সরকারের বিপক্ষে গেলে এই বিজ্ঞাপনের টাকা যে আর পাওয়াই যাবে না, তা বলাই বাহুল্য। ত্রিপুরায় এখন বিরোধী মতের পত্রিকা তথা মিডিয়ার নাম ফেসবুক।
সত্য হোক আর গুজব হোক পৃথিবীর অনেক দেশে এখন ফেসবুকই একমাত্র ভরসা। সুতরাং আসুন ফেসবুককে লই সহজে! ফেসবুকে এক বৃদ্ধের ভোট দেওয়ার কৌতুকটা তাই এখানে না বললেও চলবে।
লেখক: রম্যলেখক
আহসান কবির @রম্যলেখক

ব্যাংকে মুনাফা কমার ধাক্কা পুঁজিবাজারে

ধারাবাহিক দরপতন ও লেনদেন খরায় দেশের শেয়ারবাজার। এজন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমায় এই দরপতন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপও এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা। জানা গেছে , টানা ১৩ কার্যদিবস পতনের পর সোমবার বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর ও মূল্য সূচক বেড়েছিল। এর একদিন পরই মঙ্গলবার আবারও পুরনো বৃত্তে ফিরে গেছে বাজার। তবে সপ্তাহের শেষ দিন সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্লষকরা জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জেকে পাওয়ার মতো সুখবরও বাজারে প্রাণ ফিরছে না। ক্রমগত শেয়ারের দরপতনে কমে আসছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। পুঁজি হারানোর শঙ্কার পাশাপাশি আস্থার সংকটে পড়েছে বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ক্ষতি এড়াতে ব্যাংকগুলোকে বেশি করে টাকা তাদের মুনাফা থেকে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে, তাই মুনাফা কমে গেছে। এছাড়া প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার প্রভাব ব্যাংকিং খাতে পড়েছে বলে মনে করেন তারা। আর ব্যাংকগুলোর টাকায় কমতি থাকায় বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলেও মুনাফা কমে গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশির ভাগেরই মুনাফা কমেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে ২৬টি ব্যাংক তাদের ২০১৮ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ১৪টি ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের এই সময়ের তুলনায় কমেছে। ১২টি ব্যাংকের মুনাফা আগের বারের চেয়ে বেড়েছে। এদিকে বুধবার ব্যাংক খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৮টি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৮টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির এবং ১৬টির প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৪টি ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। ওয়ান ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩৩ পয়সা, যা আগের বারের তুলনায় ৯০ পয়সা বা ৭৩ শতাংশ কম। এই সময়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৮ পয়সা, যা আগেরবারের চেয়ে ১১ পয়সা বা ৫৮ শতাংশ কম। প্রাইম ব্যাংক এই তিন মাসে ৩৪ পয়সা শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে, যা আগেরবারের চেয়ে ৪৪ পয়সা বা ৫৬ শতাংশ কম। এবি ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ১৬ পয়সা, যা আগের তুলনায় ১৫ পয়সা বা ৪৮ শতাংশ কম। উত্তরা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ৩৩ পয়সা বা ৪৬ শতাংশ কমে ৩৯ পয়সায় নেমেছে। ইস্টার্ন ব্যাংক তিন মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৬৯ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৫৮ পয়সা বা ৪৬ শতাংশ কম। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ২৯ পয়সা বা ৪৫ শতাংশ কমে ৩৬ পয়সায় নেমেছে। আল-আরাফাহ্‌? ইসলামী ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৪১ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৩০ পয়সা বা ৪২ শতাংশ কম। সাউথইস্ট ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২৯ শতাংশ কমে যথাক্রমে ৬৮ পয়সা ও ২৭ পয়সায় নেমেছে। ট্রাস্ট ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৮৩ পয়সা, যা আগের চেয়ে ২২ পয়সা বা ২১ শতাংশ কম। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ১৮ শতাংশ কমে যথাক্রমে ৪০ পয়সা ও ৮৫ পয়সায় নেমেছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৪৪ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৪ পয়সা বা ৮ শতাংশ কম।
এদিকে ১১ ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩৬ পয়সা, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ২৬ পয়সা বা ২৬০ শতাংশ বেশি। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ২১ পয়সা বা ২১০ শতাংশ বেড়ে ৩১ পয়সায় উঠেছে। ব্যাংক এশিয়া মুনাফা করেছে ৬০ পয়সা, যা আগের চেয়ে ২৫ পয়সা বা ৭১ শতাংশ বেশি। যমুনা ব্যাংক এই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৫২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ১৩ পয়সা বা ৩৩ শতাংশ বেশি। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ১৬ পয়সা বা ২৮ শতাংশ বেড়ে ৭৩ পয়সায় উঠেছে। আইএফআইসি ব্যাংক এই সময়ে মুনাফা করেছে ৩০ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৪ পয়সা বা ১৫ শতাংশ বেশি। ব্র্যাক ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে এক টাকা ১৮ পয়সা, যা আগের চেয়ে ১১ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেশি। ঢাকা ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৫৫ পয়সা যা, আগের বারের তুলনায় ৫ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেশি। ডাচ্‌্‌-বাংলা ব্যাংক এই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩ টাকা ১৯ পয়সা, যা আগের চেয়ে ২৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেশি। প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের চেয়ে ৩ পয়সা বা ৭ শতাংশ বেড়ে ৪৫ পয়সায় উঠেছে। ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩৯ পয়সা, যা আগের চেয়ে ১ পয়সা বা ৩ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে লোকসান কমেছে একটি ব্যাংকের। এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ৩৪ পয়সা, যা আগের বারের তুলনায় ১৯ পয়সা বা ৩৬ শতাংশ কম।
ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। এছাড় ডলারের বিপরীতে টাকার মান ক্রমাগত কমে যাওয়াও এ প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে।
এদিকে গত ১৩ কর্যদিবসে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪৮২ কোটি টাকার বেশি। একই চিত্র চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, ব্যাংকগুলোতে সুদের হার অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে বেশি লাভের জন্য ব্যাংকে রাখছে। সার্বিকভাবে পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করেন লালী।
গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪২৯ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে ৪৭৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ১৫ কোটি টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৮৮ কোটি টাকার। অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৭৪৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার।

ওআইসিতে স্থায়ী পর্যবেক্ষক দেয়ার চিন্তা by মিজানুর রহমান

ওআইসির সহকারী মহাসচিব নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। অবশ্য এ পর্যালোচনাকে সময়ের দাবি বলছেন অনেকে। তাদের মতে, ভোটে হারার পর বিষয়টি সর্ব মহলে আরো বেশি অনুধাবিত হয়েছে। আর এ জন্যই ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রের ওই জোটের জেদ্দাস্থ হেড কোয়ার্টারে বাংলাদেশের একজন স্থায়ী পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। এতদিন ধরে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমেই ওআইসি সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
সরকারের নীতি নির্ধারণী একটি সূত্র সমপ্রতি মানবজমিনকে জানিয়েছে, জাতিসংঘের আদলে ওআইসির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে জেদ্দায় স্বতন্ত্র স্থায়ী পর্যবেক্ষক নিয়োগের এ চিন্তা। এ বিষয়ে অনেক দিন ধরে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চললেও সামপ্রতিক নানা ঘটনায় সেই নিয়োগ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্রুত এটি কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে ওই পর্যবেক্ষকের পদমর্যাদা কি হবে, তাকে কি রাষ্ট্রদূতের মর্যাদা দিয়ে পাঠানো হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সূত্র মতে, কোনো রকম ঘটনা-দুর্ঘটনা ছাড়া ওআইসির ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (সিএফএম) সফল আয়োজনে আত্মতুষ্টি থাকলেও নির্বাচনের হার ‘ঢাকাইয়া কূটনীতি’কে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দেড় যুগের মধ্যে ওআইসির সেক্রেটারিয়েটে দু’বার প্রার্থিতা এবং দুটোতেই শোচনীয় পরাজয় মুসলিম রাষ্ট্রের প্রধান ওই জোটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে পেশাদারদের। বিএনপির আমলে মহাসচিব পদে আর আওয়ামী লীগ আমলে সহকারী মহাসচিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পদে হারের ঘটনায় রাজনীতি, ভূ-রাজনীতি, কূটনীতি এবং কূটনীতিকদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত সরকারের প্রতিনিধিরাও বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না। মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের দীর্ঘ এক পর্যালোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল ওআইসিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে সমপ্রতি যে শুনানি হয়েছে এবং তাতে যেসব উদ্বেগ ও পরামর্শ এসেছে বৈঠকে তা নিয়েও কথা হয়েছে।
ইউনিভার্সেল পিরিওডিক রিভিউ’র আওতায় দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বসভার মূল্যায়ন বিশেষত ওই শুনানি নিয়ে যেসব প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা ও জবাব দিতে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ওই ব্রিফিং কবে-কোন ফর্মে হবে তা পররাষ্ট্র সচিবের বিবেচনায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সেগুনবাগিচা সূত্র জানিয়েছে- বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইও-উইংয়ের তরফে সিএফএম-এর মতো মেগা ইভেন্ট আয়োজন এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্জন তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই পর্যালোচনা বৈঠকে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করেন- বাংলাদেশের আয়োজনে সিএফএম’র সফল সমাপ্তি মুসলিম বিশ্ব তথা সারা দুনিয়ায় দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। আয়োজক রাষ্ট্র হিসেবে সহকারী মহাসচিবের পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কোনো ভুল ছিল না।
প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও আগাগোড়ায় সতর্ক ছিল ঢাকা। এশিয়া গ্রুপের ১৮ রাষ্ট্রের মধ্যকার ওই নির্বাচনে হোস্ট কান্ট্রি হওয়াসহ নানা কারণে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার আশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কাজাখ ও তুর্কি প্রেসিডেন্টের যৌথ প্রচারণায় শুধু বাংলাদেশ নয়, কুয়েতসহ অনেকের আশায় গুড়ে বালি হয়েছে। পেশাদারদের মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতাকে ভালোভাবে নেয়নি তুরস্ক। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের অনেক প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক সায় না দেয়ায়ও আঙ্কারা রুষ্ট হয়েছে। সৌদি প্রশ্নে ইরানেরও একটি অবস্থান রয়েছে। যদিও সহকারী মহাসচিব পদের নির্বাচনে ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েই গেছে! সেগুনবাগিচার অনেকে মনে করেন- নানা কারণে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পর্যালোচনার বিষয়টি সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আরব, গালফ এবং নন আরব মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবং এ সংক্রান্ত জটিল রসায়নের বিষয়টি উন্নয়নশীল মডারেট মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের কূটনীতিকদের আরো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তবে অনেকে মনে করেন- বাহ্যিকভাবে যাই মনে হোক না কেন- মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতে বাংলাদেশ রাইট ট্র্যাকেই রয়েছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটে বাংলাদেশের যোগদানও সময়োচিত সিদ্ধান্ত। তবে মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট প্রশ্নে বাংলাদেশ বরাবরই ব্যালেন্স অবস্থানে রয়েছে। ওআইসি’র ঢাকা সম্মেলন প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এক কূটনীতিক রোববার মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন- সৌদি আরব, ইরান, তুরস্ক এবং তাদের নিজ নিজ বলয়ে থাকা দেশগুলো মুসলিম রাষ্ট্রের জোটের বৃহত্তর স্বার্থ, প্রস্তাব-সিদ্ধান্ত বিশেষত প্রতিনিধি নির্বাচনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে রয়েছে। বাংলাদেশের আয়োজনে সদ্য সমাপ্ত ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ওআইসি সম্মেলন (সিএফএম)-এর এজেন্ডা চূড়ান্তকরণ থেকে শুরু করে সেক্রেটারিয়েট নির্বাচন এবং সবশেষ ঢাকা ঘোষণায় প্রভাবশালী ওই ৩ দেশ ও তাদের মিত্রদের গ্রুপিং-লবিং এবং প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টার বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সম্মেলনের আয়োজনের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভারসাম্য বজায় রেখেছে। সৌদির ভিন্ন অবস্থান থাকলেও ঢাকায় ইরানের প্রতিনিধিরা সম-মর্যাদা পেয়েছেন। পাকিস্তান প্রশ্নে বাংলাদেশের গণমানুষের মধ্যে রিজারভেশন থাকলেও দেশটির পররাষ্ট্র সচিবসহ অন্য প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরে মর্যাদা বা আতিথেয়তার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি ছিল না।

পুলিশ কি ওখানে জুঁই ফুলের গান গাইবে?

দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে আওয়ামী  লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না। এটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসা করে এদের একটা সিন্ডিকেট আছে। এদের সঙ্গে টেরোরিস্টরা আছে। অস্ত্রবাজরা আছে। যখন পুলিশ এদের ধরতে যায় তখন অস্ত্র নিয়ে ওরা মোকাবিলা করে। তখন এনকাউন্টার হয়।
এনকাউন্টারকে তো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলা যাবে না। কারণ, এখানে এক পক্ষের হাতে অস্ত্র নেই। অস্ত্র আছে দুই পক্ষের হাতে। তাহলে পুলিশ কি ওখানে জুঁই ফুলের গান গাইবে? তারা এটার কাউন্টার করবে না? সেখানে কি পুলিশ নীরব দর্শক থাকবে, সেটা আমার প্রশ্ন? গতকাল রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিআরটি’র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশ, মাদক ব্যবসা বা ড্রাগ ডিলিংসের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত তারা কেউ ছাড় পাবে না। যত প্রভাবশালীই হোক তাদের অবশ্যই এই মাদকবিরোধী অভিযানের আওতায় আনতে হবে। কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু আব্দুর রহমান বদি কেন, আরও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরকারি দলের প্রভাবশালী কেউ যদি হয়ও, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে, ড্রাগ ডিলিংয়ের সঙ্গে যে-ই বা যারা জড়িত যতো প্রভাবশালী হোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না।
এই অভিযানের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে একজন এমপিকে তো চট করে ধরা যায় না। প্রমাণ করতে হবে তো? যদি সে অপরাধী হয় অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সমর্থন করেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই সমর্থন করি। আমার প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছে, আমি সমর্থন করবো না? সারা দেশের মানুষ খুশি। তাহলে আমি সমর্থন করবো না কেন, এটা কেমন প্রশ্ন? অপর এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এই অভিযানে খুশি শুধু গাত্রদাহ শুরু হয়েছে বিএনপির। কারণ জনগণ খুশি কেন, সেটাই বিএনপির গায়ের জ্বালা।
বিএনপি এতো চিৎকার করছে কেন? এর সঙ্গে কি তাদেরও বহু লোক জড়িত? বিএনপির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া, এই সরকারের গত সাড়ে নয় বছরে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল একটি কথা বলেছেন কোনো রাজনৈতিক সভায়? প্রতিপক্ষকে গালিগালাজ ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপনারা একটি শব্দ  উচ্চারণ করেননি? কাজেই এ ব্যাপারে আপনাদের কথা বলার কোনো অধিকার নেই। আজ দেশ যে ভয়ঙ্কর অবস্থায় এসেছে আমরা যদি সকলে মিলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতাম সব দল, তাহলে এ অবস্থায় আসত না বলেও দাবি করেন তিনি।
আর এটা আজকে পুলিশকে মোকাবিলা করতে হতো না। তাই আজকে জনস্বার্থে এটা করতে হচ্ছে উল্লেখ করেন তিনি। সম্প্রতি কানাডার ফেডারেল কোর্টের একটি আপিলের রায়ে বিএনপিকে পুনরায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা তো বারবার বলেছি বিএনপি দুর্নীতিবাজ দল। তারা তাদের সংগঠনের ৭ ধারা বাতিল করে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ, করাপ্ট এবং টেরোরিস্ট দল হিসেবে নিজেকে স্বীকার করে নিয়েছে। এটা শুধু আজ দেশে নয়, বিদেশেও তারা আমাদের লজ্জা দিচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য বাস-সিনজি থামিয়ে যাত্রীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে থামিয়ে তিনি হেলমেট পরারও অনুরোধ করেন। এসময় বিআরটিএ’র  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হতাম -প্রিয়াংকা চোপড়া

শরণার্থী শিবিরে ঝুঁকির মুখে থাকা রোহিঙ্গা শিশু ও নারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড ও অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির ঘুরে এসে গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রিয়াংকা বলেন, শরণার্থী শিশুদের দায়িত্ব পুরো পৃথিবীকে নিতে হবে। কারণ তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ-এর শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বাংলাদেশে আসা প্রিয়াংকা বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের হৃদয় খুলে দিন। আপনারা মনে সহমর্মিতা আনুন। আমাদের নিজেদের শিশুদের মতো এই শিশুদের দেখুন। বলিউড ছাড়িয়ে হলিউডে পদচারণা এবং দ্যুতি ছড়ানো ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াংকার কাছে প্রশ্ন ছিল পুঞ্জিভূত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের প্রতি তিনি কোনো আহ্বান জানাবেন কি-না? ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সংকট সমাধানের বিশেষ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে মিয়ানমারের প্রতি চাপ বাড়াতে দিল্লির রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তার কোনো আহ্বান আছে কি-না? জবাবে চোপড়া বিনয়ের সঙ্গে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক লোক নই। আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হতাম...। বাক্য সম্পূর্ণ না করে তিনি যা বুঝানোর চেষ্টা করেন তা হলো- তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে সমাধানে চাপ বা তৎপরতা চালাতেন।
পরবর্তীতে তাকে ‘শিশুদের প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে এক প্রশ্নকর্তা জানতে চান- সারা দুনিয়াতে তিনি ইউনিসেফ’র শুভেচ্ছাদূত হিসেবে শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত, অসহায়, আশ্রয়হীনদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার কণ্ঠ। রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তাদের ছেড়ে আসা বসতিতে শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে ভারত সরকারের প্রতি আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের কোনো আহ্বান জানাবেন কি-না? এবারও তিনি প্রধানমন্ত্রী বা রাজনীতিবিদ নন বলে, তা হলে তিনি এ প্রশ্নের জবাব দিতেন এবং ভূমিকা রাখতেন বলে জানান। এ সময় তিনি প্রশ্ন কর্তার স্মার্টনেসের প্রশংসাও করেন। গত চারদিনে তিনি উখিয়া ও  টেকনাফের ১০টি শরণার্থী ক্যাম্প এবং সীমান্তের কাছের রোহিঙ্গা আগমনের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন তাদের বাস্তবতা, তাদের সংকট। ৫-৬ বছরের শিশুদের চিত্রকর্ম দেখার কথা জানিয়ে প্রিয়াংকা বলেন, তারা  দেখেছে মাথার উপরে রকেট লঞ্চার, পায়ের তলায় মাইন। তারা সেটা মনে রেখেছে এবং এঁকেছে। সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছে, তাদের প্রতি মানবিকতার জন্য। “যে মানবিকতা সারা বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।” সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি সীমা সেন গুপ্ত, ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর কমিউনিকেশনস চিফ জ্যঁ জ্যাক সিমনও বক্তব্য দেন।
এদিকে ইউনিসেফ প্রচারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুভেচ্ছা দূতের বাংলাদেশ সফরের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়- সফরকালে তিনি কঙবাজারের শামলাপুর, লেদা, উনচিপ্রাং, জামতলি, বালুখালি ও কুতুপালংসহ বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও অস্থায়ী আশ্র কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি তার সফরকে মূল্যায়ন করেন এভাবে- আমি এখানে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার মাধ্যমে সংকটের প্রকৃত ব্যাপকতা উপলব্ধি করেছি। শুনেছি নৃশংস হিংস্রতা ও নিষ্ঠুরতার হৃদয়বিদারক কাহিনী, যা পরিবারগুলোকে বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে। দেখেছি অসহনীয় পরিস্থিতি, যেখানে লাখ লাখ শিশু এখন বসবাস করছে। রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তা ও সুরক্ষায় ইউনিসেফ ও তার অংশীদাররা তাদের পক্ষে যা করা সম্ভব তার সবকিছুই করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বাবা-মায়েদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি হচ্ছে সন্তানদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনা। শিক্ষা ও শেখার সুযোগ না পেলে রোহিঙ্গা শিশুরা অতি দ্রুত হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মে পরিণত হবে।
শিক্ষা কোনো পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে গত সোমবার বাংলাদেশে আসেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি ঢাকায় অবতরণের পরই কঙবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে যান। সফরের সমাপনী দিনে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে। শুভেচ্ছাদূতের সফর নিয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, এমন জরুরি পরিস্থিতির কথা যাতে মানুষের মনে থাকে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে যাতে তারা উৎসাহিত হয় তা নিশ্চিত করতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো শুভেচ্ছা দূতদের সমর্থন অমূল্য। রোহিঙ্গা শিশুদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একসঙ্গে দুই নারীকে বিয়ে!

একসঙ্গে নিজের দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ফুটবল তারকা  রোনালদিনহো! এমন দাবি ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্টেই বিয়ের কাজটি সেরে ফেলবেন সাবেক বর্ষসেরা এই ফুটবলার। রোনালদিনহোর দুই বাগদত্তার নাম প্রিসিলা কোয়েলহো ও বিয়াত্রিজ সুজা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকেই তারা একসঙ্গে বসবাস করছেন  রোনালদিনহোর রিও ডি জেনিরোর বিলাসবহুল বাড়িতে। ২০১৬ সাল থেকে বিয়াত্রিজের সঙ্গে প্রেম করে যাচ্ছেন সাবেক এই বার্সেলোনা তারকা। আর প্রিসিলার সঙ্গে তার প্রেমের শুরু আরো আগেই। সমপ্রতি দুই প্রেমিকাকে একই রকম পারফিউম, একই রকম জামা উপহার দিয়েছেন রোনালদিনহো। বিশ্বকাপ জয়ী এ ফুটবলারের কাছ থেকে দুই  প্রেমিকা  দৈনিক ১৫০০ পাউন্ড ভাতা পান। ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক লিও দিয়াস জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে দুই প্রেমিকা সুজা এবং কোয়েলহোর হাত ধরে তাদের বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদিনহো। তাদেরকে একই সঙ্গে বাগদানের আংটিও পরান তিনি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম জানায়, দু’জন একসঙ্গে খুব সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সংসার করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে দুই নারীকে বিয়ে করার উদ্যোগে রোনালদিনহোর ওপর চটেছেন তার বোন ডেইজি। জানিয়ে দিয়েছেন, ভাইয়ের বিয়েতে আসবেন না তিনি। তবে বিয়ের মিউজিক বাজানোর দায়িত্ব পড়েছে রোনালদোর প্রতিবেশী বন্ধু গায়ক হোর্হে ভার্সিলোর ওপর।

সিটি নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ এমপিদের

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রস্তাব মেনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ করে দিলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের সভায় এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইয়ের পর এ বিষয়ে পরিপত্র জারি হলে এটি কার্যকর হবে। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর আগে কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে কমিশন সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ প্রদানের উদ্যোগ নিলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তারা সরে এসেছিল। গতকাল কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যপদ লাভজনক নয়। সেজন্যই তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন। এই সংক্রান্ত সংশোধনী নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে। সংসদ সদস্যপদ কেন লাভজনক নয়- তার ব্যাখ্যায় সচিব বলেন, তারা কোনো অফিস হোল্ড করেন না, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন না, কিনে ব্যবহার করেন। এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তাও যুক্ত নেই তাদের সঙ্গে। সিটি করপোরশন আচরণ বিধিমালায় বিভিন্ন ধরনের ১১টি সংশোধনী আনার প্রস্তাব কমিশন করেছে বলে জানিয়ে হেলালুদ্দীন বলেন, আগামী রোববার তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল আগেই ঘোষিত হওয়ায় এই সংশোধনী চূড়ান্ত হয়ে ওই নির্বাচনে কার্যকর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মন্তব্য করে ইসি সচিব।
তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সিটি করপোরেশন নয়, সব সংসদ সদস্যের জন্য এটা ওপেন থাকবে। লাভজনক পদ না হওয়ায় তাদের উপর থেকে এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হল। তবে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ তাদেরকে ইস্তফা দিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ইসির স্টেকহোল্ডার। তাদের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করেই সংশোধনীর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রচারণায় অংশ নিতে পারলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা তারা গ্রহণ করতে পারবেন না জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা ভোটের সময় ডাকবাংলো ব্যবহারের সুযোগ পাবে না।
ইসি সূত্রে জানা যায়, কমিশনের আইন ও বিধি সংস্কার কমিটি সব সংসদ সদস্য নাকি সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপিরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন এ বিষয়ে দ্বিমত রেখেই বৃহস্পতিবার কমিশনের সভায় তাদের সুপারিশ পেশ করে। কমিটির সদস্যদের এক পক্ষের যুক্তি-সব এমপিকে এ সুযোগ দেওয়া হলে পরিস্থিতি ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনের মতো হতে পারে। ব্যাপক বিতর্কিত ওই নির্বাচনের প্রচারে সংসদ সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি সে সময় নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব এমপিকে প্রচারণা চালানোর সুযোগ দিলে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। অন্য পক্ষের যুক্তি সংসদ সদস্যরা অফিস অব প্রফিট বা প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নন।
অন্যান্য নাগরিকের মতো তাদেরও নির্বাচনী প্রচার চালানোর অধিকার রয়েছে। গত ১৩ই এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনের দাবি জানায়। এরপর গত ১৯ এপ্রিল এ বিষয়ে বৈঠক করে কমিশন। বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। অপর একজন কমিশনার সব এমপিকে এ সুযোগ দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেন। তার পরও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের ওই দাবি পূরণের পক্ষেই কমিশনের সিদ্ধান্ত হয় এবং কমিশনের আইন ও বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমকে এ বিষয়ে সুপারিশ প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে ২০১৫ সালে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারের সুযোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন।
প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নাম উল্লেখ না করে সরকারি সুবিধাভোগীদের প্রচারের (সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বাদ দিয়ে) সুযোগ করে দিয়ে খসড়া তৈরি করে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে সরকারি সুবিধাভোগীদের সফর ও প্রচারণায় অংশ নেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গাজীপুর ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ চেয়ে ইসিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে ক্ষমতাসীনরা।
আওয়ামী লীগের দাবির মুখে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি সংশোধনে ফের উদ্যোগী হয় নির্বাচন কমিশন। ইসির আইন সংস্কার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশন সভায় গতকাল আচরণবিধি সংশোধনের অনুমোদন দেয়া হয়। ইসি কর্মকর্তারা জানান, এই আচরণবিধি আইন না হওয়ায় সংসদে উত্থাপনের প্রয়োজন হবে না। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষেই তা চূড়ান্ত করে গেজেট করতে পারবে ইসি। উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশন (নির্বাচনী আচরণ) বিধিমালা ২০১৬-এর ২(১৩) ধারায় ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞা দেয়া আছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাঁদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়রকে বোঝাবে। আর এ বিধিমালার ২২ ধারায় বলা হয়েছে- ১. সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, এ ধরনের ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হলে তিনি কেবল ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে যেতে পারবেন।’