Friday, May 8, 2015
মাঠের অভাবে ঘরবন্দী কৈশোর by সুমনকুমার দাশ
সিলেট নগরে একযুগের মধ্যে হারিয়ে গেছে ৩৯টি উন্মুক্ত খেলার মাঠ। নগরজুড়ে এখন মাত্র ১৫টি খেলার মাঠ আছে, যার ১৩টি-ই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থিত। ফলে খেলার সুযোগ না থাকায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক গঠন ব্যাহত হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, খেলার মাঠগুলোর মধ্যে উপশহরে দুটি, বালুচর, পাঠানটোলা, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, তাঁতীপাড়া, গোটাটিকর এলাকায় একটি করে সুবিশাল মাঠ রয়েছে। এর বাইরে কয়েক দশক আগেও ব্যক্তি মালিকানাধীনে থাকা উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ভবন নির্মিত হয়েছে। নগরের জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় এক যুগ আগে মুরীরের মাঠ নামে পরিচিত ৭০ থেকে ৮০ একরের ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি উন্মুক্ত জায়গা ছিল। এখন সেখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ভবন। দেয়ালে ঘেরা ১০ থেকে ১৫ একর জায়গায় শিশুরা এখন খেলাধুলা করে। এর বাইরে নগরের লামাবাজার এলাকায় একটি স্টেডিয়াম থাকলেও সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়।
২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের মেয়র (বর্তমানে বরখাস্ত) আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরের উন্মুক্ত স্থান ও মাঠ নিয়ে একটি ব্যক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। ২০০২ সালে নগরে ৫৪টি মাঠ ছিল বলে তিনি অনুসন্ধান করে বের করলেও এর কোনো তালিকা সিটি করপোরেশনে রক্ষিত নেই। সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় মেয়র কারাবন্দী থাকায় এ নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
সিটি করপোরেশন সূত্র আরও জানায়, ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। তখন নগরের লোকসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৭ জন। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। ২০০১ সালে নগরে নয় বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল ৫২ হাজার ৮০০ এবং ২০১১ সালে একই বয়সী শিশুর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৫৫৪ জন। ২০১১ সালের পর পরিসংখ্যান অধিদপ্তর নতুন জরিপ না চালালেও বর্তমানে নগরে প্রায় এই বয়সের দেড় লাখ শিশু রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
শিশুরা খেলাধুলা করতে না পারার প্রভাব সম্পর্কে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রভাত রঞ্জন দে জানান, শারীরিক কোনো পরিশ্রম না হওয়ায় অসংখ্য শিশু মোটা হয়ে পড়ছে।
এর সূত্র ধরে নগরের তিনটি এলাকার উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অভিভাবক ও শিশুদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা লিলি বেগম ছেলেকে ভালো বিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য দুই বছর আগে নগরের বালুচর এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনে বসবাস শুরু করেন। তাঁর স্বামী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তাঁদের নয় বছরের ছেলে মুস্তাকীন নাইম জানায়, গ্রামের বাড়িতে থাকার সময় বড় মাঠে সে খেলাধুলা করত। এখন ফ্ল্যাটের নিচে গ্যারেজে এক চিলতে খালি জায়গায় খেলে।
নাইমের মা লিলি বেগম বলেন, ‘সিলেটে আসার দুই বছরে ছেলের চোখে চশমা লেগেছে, ওজনও আগের তুলনায় অনেকটা বেড়ে গেছে। বাসার পাশে শাহি ঈদগাহ খেলার মাঠ রয়েছে। তবে নিরাপত্তার অভাবে তাকে সেখানে খেলতে দিই না।’
নগরের কুয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক শিপ্রা দেবনাথের দুই মেয়ে ঐন্দ্রিলা নাথ ও মৌনতা নাথ সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। দুই বোন অভিন্ন কণ্ঠে বলে, ‘খেলি তো। কম্পিউটারে ফুটবল, ক্রিকেট খেলি। খুব মজা লাগে।’
নগরের লোহারপাড়া এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মারজান আহমেদের বাবা একটি দোকানের কর্মচারী এবং মা গৃহপরিচারিকা। মারজান জানায়, তাদের বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। তাই বিদ্যালয়ে সে সহপাঠীদের নিয়ে ক্লাসরুমেই খেলাধুলা করে। তার মা শেওলা বেগম বলেন, ‘আমরার পাড়াত কুনু খেলার মাঠ নাই। স্কুল থেইক্যা আইসা মারজান পাড়ার গলির মুখও খেলাত যায়। তয় তারে আমি যাইতে দিই না। কুনসময় যে রিকশা-গাড়ির নিচে চাপাত পড়ব, হের তো ঠিক-ঠিকানা নাই।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, ‘আগের মেয়রের হিসাব অনুযায়ী মাঠের সংখ্যা ৫৪টি হলেও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য সংরক্ষণ করা নেই। এ ছাড়া লোকসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে অন্তত নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ২৭টি খেলার মাঠ থাকা উচিত ছিল, যেটি আমাদের নেই।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনাদরে অবহেলায় রবীন্দ্রস্মৃতি by পার্থ শঙ্কর সাহা ও তৌহিদী হাসান
![]() |
| কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কাসবা গ্রামের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কাছারিবাড়ি। l প্রথম আলো |
কবিগুরুর নানা স্মৃতিচিহ্ন বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করেছেন, সংরক্ষণ করছেন নিজেদের মতো করে। তাঁরা চান, সরকারি কর্তৃপক্ষ এসব সংগ্রহ করুক। তবে তাতে সাড়া নেই সরকারের তরফে।
নিজ উদ্যোগে কবিগুরুর একাধিক স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ করেছেন নওগাঁর পতিসরের মতিউর রহমান। তিনি ২০০৩ সাল থেকে এসব সংগ্রহ করছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী, চিঠি, কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠি, পুত্রবধূর চিঠি, কবির দেওয়া বই—এসব মিলিয়ে অন্তত ২০টি স্মৃতিস্মারক সংগ্রহ করেছেন মতিউর। এগুলো এখন সংরক্ষিত আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য পতিসরের কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশনের একটি ঘরে। তাঁরা এর নাম দিয়েছেন জাদুঘর। ১৯৩৭ সালে কবি নিজেই তাঁর ছেলে রথীন্দ্রনাথের নামাঙ্কিত এই হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। মতিউর বলছিলেন, ‘এখন যেভাবে এসব স্মৃতিচিহ্ন আছে, তা মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। এগুলো সংগ্রহ করার জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক শাখাকে অনুরোধ করেছি। তবে তারা এসব সংগ্রহ করেনি।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩৭ সালের ২৭ জুলাই অসুস্থ অবস্থাতেই পতিসরে এসেছিলেন। সেটাই এখানে তাঁর শেষ আসা। তখন এসে কবি একটি আশীর্বাণী লিখেছিলেন। শুরুতেই ছিল ‘রথীন্দ্রনাথের নামচিহ্নিত কালীগ্রামের এই বিদ্যালয়ের আমি উন্নতি কামনা করি।’
রবীন্দ্রনাথের পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর একটি চিঠিও সংগ্রহে আছে। সেই চিঠিটি তিনি লিখেছিলেন তাঁদের জমিদারি এস্টেটের ম্যানেজার বীরেনকে, একজনের বিয়েতে অর্থ সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে।
এসব সংগ্রহই শুধু নয়, কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশনে এখনো আছে কবিগুরুর সময়ের দুটি ঘর। মাটির এই ভবনে এখনো ক্লাস চলে। ঝড়ে প্রতিবছরই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলছিলেন, ‘সরকারি নানা মহলের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছি ভবন দুটি সংরক্ষণ করার জন্য। কোনো উপলক্ষ এলে সবাই এখানে আসে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। কিন্তু কোনো ফল হয় না।’
পতিসরে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির পাশেই আছে বিশাল পুকুর। এই দর্শনীয় স্থানটিকেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এখানে আসা পর্যটকেরা পুকুর দেখতে গেলে বাধা পান অনেক সময়। জানতে চাইলে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেমন্ত হেনরি কুবি বলেন, ‘এই সম্পত্তিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। তাই আইন মেনেই আমাকে ইজারা দিতে হয়েছে। তবে সম্পত্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এই সম্পত্তিকে ভিন্নভাবে দেখা যেত। কিন্তু এটি সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৩ সালে এসেছিলেন শাহজাদপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনে। সেই সময় পরিদর্শন বইয়ে তিনি মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন। কবির স্বাক্ষরিত সেই লেখা এখন বিদ্যালয়েই রক্ষিত আছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক জাহিদ সুলতান বলেন, ‘আমি শাহজাদপুরে কার্ডিয়াক থাকার সময় একাধিকবার সেই লেখা চেয়েছি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ সেটি দিতে রাজি হয়নি।’
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে এমন অনুরোধ আসেনি। হয়তো আগে আসতে পারে।’ তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জানামতে, আমাদের কাছে সেই লেখার মূল কপিটি নেই। আছে একটি ফটোকপি।’ তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে মূল কপিটিই ছিল।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কাছারি ভবন ও দাতব্য চিকিৎসালয়ের এখন ভগ্নদশা। গতকাল বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে জরাজীর্ণ দাতব্য চিকিৎসালয়ের ছাদ নেই। পাশের কাছারি ভবনের টালির ছাদ ধসে পড়ছে। পরগাছায় জড়িয়ে পড়েছে দুটি স্থাপনা। দেয়াল ও অন্দরে বেড়ে উঠেছে লতাপাতা। ঘরের ভেতরের কারুকাজ ছিল, তা ঢেকে গেছে বহুদিনের জমে ওঠা ধুলো আর শেওলায়। সেখানে এখন শালিক-চড়ুই পাখির বাস।
রবীন্দ্রনাথের দাদু প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর কুঠিবাড়ির পাশেই কসবা গ্রামে প্রজাদের জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় তৈরি করেছিলেন। তার পাশেই ছিল খাজনা আদায়ের কাছারি ভবন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শিলাইদহ কুঠিবাড়ি সংরক্ষণ করলেও কাছারি ভবন ও দাতব্য চিকিৎসালয়ের কোনো খোঁজখবর রাখে না। প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে এর ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন, ইটের টুকরা। দাতব্য চিকিৎসালয়ের পাশের বাসিন্দা আবদুস সাত্তার বললেন, ‘প্রায়ই বছরই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের লোকজন মাপজোক করতে আসে। পরে আর কোনো খবর থাকে না। কোনো পরিবর্তন হয় না।’
পতিসরে রবীন্দ্রস্মৃতি সংরক্ষণে প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন রবীন্দ্রগবেষক, প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংগ্রহের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তৎপরতার অভাব আছে বলে মনে করেন তিনি। গতকাল আহমদ রফিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের রবীন্দ্রচর্চা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই শেষ হয়। তবে আমাদের আন্তরিকতা নেই।’ তিনি জানান, শিলাইদহে বা শাহজাদপুরে যেমন সব এলাকা অধিগ্রহণ করা হয়েছে, পতিসরে তা হয়নি। এখানে শুধু বাড়িটিই অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রস্মৃতি সংরক্ষণে পতিসরে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্নবাহী এলাকাগুলোকে অধিগ্রহণ করতে হবে।’
জানতে চাইলে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘রবীন্দ্রস্মৃতি সংরক্ষণে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। এ রকম যেসব স্মৃতিচিহ্ন এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সেগুলোর বিষয়েও আমরা যথাব্যবস্থা নেব। ’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিইসির কাছে তাবিথের কিছু প্রশ্ন
সিইসিকে তাবিথ লিখেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে আপনাকে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। এছাড়া আমি ও আমার নির্বাচনী এজেন্টের মাধ্যমে মৌখিক ও টেলিফোনের কথা বাদ দিয়েও চিঠি এবং ফ্যাক্স যোগে কমিশনে ১১৩টি অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি। নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন এক মন্ত্রী বলেন, যেভাবেই হোক এ নির্বাচনে জিততেই হবে। অথচ তার বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কমিশনকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল না। বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচন বিধিমালা ভঙ্গ করে তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে ভোটদান ও ভোট আদায়ে কাজ করার নির্দেশ দিলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আপনার কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ছিল নির্বিকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য নানাভাবে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট জালিয়াতিতে মদত দেয়, আমার পোলিং এজেন্ট ও সমর্থকদের গ্রেপ্তার করে আতংকের সৃষ্টি করে। নির্বাচনের দিন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন থাকা সত্ত্বেও কমিশন তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা নেই। সিইসিকে তাবিথ লিখেছেন, নির্বাচনের সময় প্রাথমিকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিতে গিয়ে আপনি নিজে বলেছিলেন- এতে মানুষ স্বস্তিতে ভোট দিতে পারবে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আপনি সেনা মোতায়েনের ঘোষণা পাল্টে দিলেন। নির্বাচনের দিন তারা যেন তাদের আবাসস্থলেই থাকে সে ঘোষণা দিলেন। অনেকে মনে করে নির্বাচনের দিন সেনাবহিনী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ভোট ডাকাতির তাণ্ডব মঞ্চস্থ করা সম্ভব হবে না এ কারণেই সরকারের ইশারায় আপনি রাতারাতি সেনা মোতায়েনের ঘোষণা পাল্টে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে নির্বাচনের দিন পুলিশ, র্যাব, বিজিবি নির্বাচনী মাঠে যে ভোট জালিয়াতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তাদের অধিকাংশই যে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে মদদ দেয়। ভোট জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ে। তা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সুবাদে, মেয়র প্রার্থীদের অভিযোগের মাধ্যমে সবই আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন বা গোচরীভূত হয়েছে। এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দিন সেনা মোতায়েন ছিল অত্যাবশক ও সময়ের দাবি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ছিল একেবারেই নীরব, নির্লিপ্ত। চিঠিতে লেখা হয়, নির্বাচনের পরপরই জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, নির্বাচনে জালিয়াতি ও ভোট কারচুপির বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন তাদের কাছে রয়েছে। সকলেই এ অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত অনুষ্ঠানের আহবান জানান। নির্বাচনের দিনই এসব অনিয়ম ও ব্যত্যয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত অনুষ্ঠানের জন্য আমি নিজে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সরকারি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না করতেও লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু কমিশন কোন ভূমিকা পালন করেনি।
তাবিথ লিখেছেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যও তাই। আমি বিশ্বাস করি, এই নির্বাচন শুধু ব্যক্তি বিশেষের হার-জিতের নির্বাচন বা নিয়ম রক্ষা বা একটি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্বাচন ছিল না। এই নির্বাচন ছিল দেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার একটা চমৎকার সুযোগ। এই নির্বাচন ছিল নগরবাসীর জন্য নির্ভয়ে ভোট প্রদানের মৌলিক অধিকার। অথচ এই নির্বাচনে অধিকাংশ নবীন ভোটারের প্রথমবারের ভোটদানের স্বপ্ন, রোমাঞ্চ ও আকাঙ্ক্ষা ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হলো। তাদের বেশির ভাগ জীবনে প্রথমবার ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত হলো। যে ক’জন প্রথমবার ভোট দিতে গিয়েছিলন, ভোট কেন্দ্রের তাণ্ডব তাদের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগের অভিজ্ঞতাকে চিরতরে তিক্ত ও বিষাদময় করে দিল। যে অশীতিপর মানুষটি হয়তো জীবনের শেষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন কিন্তু ভোট দিতে পারলেন না তাকে আপনি কি জবাব দেবেন? চিঠিতে লেখা হয়, এবারের প্রকাশ্য ভোট জালিয়াতি আর ভোট কারচুপির ফলে গণতন্ত্রের তথা জাতির কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল তা কিভাবে পূরণ হবে? চোখের সামনে বারবার ভোটের এ ধরনের প্রহসন মঞ্চস্থ হতে দেখে জনমনে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে- নির্বাচন মানে কি মানুষ আর নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে না? তাহলে আপনার বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন- এমন একটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে কে বা কারা হারলেন সেটা বড়, না জাতি হিসাবে আমরা কি হারালাম সেটা বড় বিবেচ্য। হয়তো জালিয়াতির এ ভোট গণনায় কাউকে না কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র হেরে গেছে। জনগণ আপনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের উপর, চলমান পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। আপনারা আবারও প্রমাণ করলেন এ নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আর কোন ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সিইসিকে তাবিথ লিখেছেন, আমার স্বল্প অভিজ্ঞতার আলোকে জানি ও বিশ্বাস করি- এসব প্রশ্নের জবাব পাবো না। তবে আপনাকে নিজের বিবেক ও নৈতিকতার কাছে প্রশ্ন করতে বিনীত অনুরোধ করছি। আপনি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং আপনার উপর অর্পিত সাধারণ নাগরিকের ভোট প্রয়োগের অধিকার সুরক্ষার পবিত্র দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে সক্ষম হয়েছেন? আপনার বিবেকের কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন, আপনাদের এহেন কর্মকাণ্ড ও নির্লিপ্ততার কারণে যখন পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার উপরই জনগণের আস্থা চুরমার হয়ে গেছে তারপরও আপনি কি মনে করেন সাংবিধানিক এ পদটির প্রতি আপনি আদৌ সুবিচার করছেন? আশা করি জাতির বৃহত্তর কল্যাণে আপনি এখন এমন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেবেন। যার ইতিবাচক সুফল হিসেবে কোন ব্যক্তি বিশেষ বা দলের জয় পরাজয় নয়, গণতন্ত্র মুক্তি পাবে- জিতবে বাংলাদেশ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চট্টগ্রামে মা-মেয়ে খুন, খুনিরা পূর্বপরিচিত? ‘বাসায় দুজনের লাশ পড়ে আছে’
![]() |
| নাসিমা বেগম,রিয়া আক্তার |
পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ নালাপাড়ার আল ইসলাম ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন শাহ আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে খবর পান, বাসার ভেতরে তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৫) ও কন্যা রিয়া আক্তারকে (৮) নৃশংসভাবে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। রিয়া নালাপাড়ার কাছেই নগরের পূর্ব মাদারবাড়ি বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ওই বাসার খাবার টেবিলের পাশ থেকে শাহ আলমের স্ত্রীর এবং স্নানাগার থেকে তাঁর মেয়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ১৬টি আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মিতশ্রী বড়ুয়া।
রিয়াকে গলা কেটে এবং তাঁর মা নাছিমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে বলে জানান নগর পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শাহ মো. আবদুর রউফ। তিনি জানান, বাসা থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যায় ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া বাসার দারোয়ান, গৃহশিক্ষকসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।
শাহ আলম জানান, তাঁর সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। কেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না। তবে তাঁর ধারণা, হত্যাকারীরা পূর্বপরিচিত। চিনে ফেলায় তাঁদের খুন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দুর্বৃত্তরা বাসার আলমারি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।
দক্ষিণ নালাপাড়ায় মুরগির ও খাসির মাংসের দুটি দোকান রয়েছে শাহ আলমের। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের পূর্বধুর গ্রামে। স্ত্রী, এক মেয়ে, দুই ছেলে রিয়াদ হোসেন ও হৃদয় হোসেন, শ্যালক আলাল হোসেন ও তাঁর বাবা রশিদ মিয়াকে নিয়ে তিনি নালাপাড়ায় ভাড়া থাকেন। দুই ছেলে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুলে পড়ে।
শাহ আলম জানান, সকাল সাড়ে সাতটায় তাঁর শ্যালক বাসার গলির মুখের মুরগির দোকানে যায়। পৌনে আটটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি মাংসের (মুরগির দোকান থেকে একটু দূরে) দোকানে যান। দুই ছেলে স্কুলে গেছে কি না, তা জানার জন্য সকাল নয়টার দিকে স্ত্রী নাসিমা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় স্ত্রী তাঁকে জানান, বাচ্চারা স্কুলে গেছে। এরপর সকাল ১০টার দিকে তাঁর শ্যালক তাঁকে ফোন করে জানান, বাসার গৃহকর্মী জমিলা আক্তার দোকানে ছুটে এসে জানিয়েছে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে খুন হয়েছে।
পুলিশও ধারণা করছে, হত্যাকারীরা পূর্বপরিচিত হতে পারে। তবে ডাকাতি, পূর্বশত্রুতা, নাকি পারিবারিক বিরোধের জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাসার গৃহকর্মী জমিলা আক্তার জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টার দিকে কাজ করতে আসেন তিনি। গতকাল ১০টার দিকে বাসায় এসে সদর দরজাটি সামান্য খোলা দেখতে পান। ভেতরে ঢুকেই খাবার টেবিলের পাশে নাসিমা আক্তারের লাশ দেখতে পান। ভয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে বাসা থেকে বের হয়ে মুরগির দোকানে গিয়ে আলালকে ঘটনাটি জানান।
পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা শান্তনু দাশ জানান, গৃহকর্মী কান্নাকাটি শুরু করলে স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করার কথা তাঁরা জানতে পারেন। একই কথা জানান আরেকটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা রুনু খাস্তগীরও। গৃহকর্মী আসার আগে ওই বাসায় কোনো চিৎকার শোনেননি তাঁরা।
ভবনের দারোয়ান মো. সুমন ও মো. সিদ্দিক জানান, বাসায় কত লোকজনই আসা-যাওয়া করে। শাহ আলমের বাসায় কারা এসেছিলেন, তা জানেন না তাঁরা।
তবে ভবনের মালিক মোবাশ্বের হোসেন জানান, শাহ আলমের বাসায় প্রতিদিন প্রচুর লোকজন আসত। এ নিয়ে অন্য ভাড়াটেরা তাঁর কাছে অভিযোগও করেছেন বেশ কয়েকবার। বাসায় লোকজন কম আসতে বলা হলেও শাহ আলম তাঁর আত্মীয়স্বজন বেশি বলে অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বাসায় নিয়মিত বাইরের লোকজন আসার বিষয়ে শাহ আলম বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন বাসায় প্রায়ই আসত। তারা কেউ এ খুনের সঙ্গে জড়িত বলে মনে হয় না। তবে এদের মাধ্যমে খবর নিয়ে কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে।’
ঘটনাস্থলে কথা হয় শাহ আলমের বন্ধু কমল দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে শাহ আলমের সঙ্গে বন্ধুত্ব। তাঁর স্ত্রী আমার বোনের মতো। বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় তাঁদের বাসা থেকে গেছি।’
হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল দুপুর ১২টায় গিয়ে দেখা যায়, ভবনের আশপাশে লোকজনের ভিড়। সিঁড়িতে বসে কান্নাকাটি করছে নিহতদের স্বজনেরা। শাহ আলমের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, পাশে স্নানাগার, পাশে লম্বালম্বিভাবে বসার ও খাবার ঘর। খাবার টেবিলের পাশে পড়ে আছে নাছিমা বেগমের লাশ। মেঝেতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। দুই হাত দূরে স্নানাগারে আছে রিয়া আক্তারের লাশ। বাসার সদর দরজার সামনে রক্তের দাগ এবং দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলার সিঁড়ির কয়েকটি ধাপেও রক্তের দাগ দেখা যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার জানান, ডাকাতি, পূর্বশত্রুতা, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। হত্যাকারীরা পূর্বপরিচিত হতে পারে। ধরন দেখে খুনিদের পেশাদার মনে হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডাউকী নড়লেই কাঁপে সিলেট, ভূমিকম্প আতঙ্ক by ওয়েছ খছরু
![]() |
| ভূমিকম্পে সচেতনতা বাড়াতে সিলেটে মহড়া |
কিন্তু তাদের সেই আশঙ্কা কিংবা উদ্বেগের প্রতি কান না দিয়ে আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতা বেড়েই চলছে সিলেটে। গত এক দশকে হাজারও ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এ নগরীতে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ১৫৪৮ সালে প্রচণ্ড ভূমিকম্পে সিলেট এলাকায় ব্যাপক ভূপরিবর্তন ঘটে। উঁচু-নিচু ভূমি সমতলে পরিণত হয়। এরপর ১৬৪২, ১৬৬৩, ১৮১২ ও ১৮৬৯ সালের ভূমিকম্পে সিলেটের মানচিত্র অনেকটাই পাল্টে যায়। সিলেটে এ যাবৎকালের মধ্যে ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে সংঘটিত ভূমিকম্প ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থ কোয়াক’ নামে পরিচিত। ৮ দশমিক ৭ মাত্রার সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫০ বর্গকিমি এলাকার পাকা দালান-কোঠার ব্যাপক ক্ষতি হয়। শুধু সিলেট জেলারই ৫৪৫টি ভবন ভেঙে পড়ে। মারা যান অসংখ্য মানুষ। ওই ভূকম্পের ফলেই সিলেটজুড়ে সৃষ্টি হয় বিশালাকারের হাওর, বিল, জলাশয়ের। পরবর্তীকালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ১৯১৮ সালের ১৮ই জুলাই ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পন হয়েছিল।
এদিকে সিলেটের কাছাকাছি এলাকার প্লেটটি ক্রমেই উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। এক শতাব্দীতে তা এক মিটার করে সরেছে। এ কারণে এ অঞ্চল প্রবল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলা দেশে ৩টি ভূকম্প বলয়ের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তথা প্রথম বলয়েই রয়েছে সিলেট। এদিকে, ভুমিকম্প হলে সিলেটের ক্ষতি কেমন হবে এসব নিয়ে গবেষণা, তথ্য প্রকাশসহ নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম। একই সঙ্গে সিলেটের মানুষকে নানাভাবে সচেতন করারও চেষ্টা চালাচ্ছেন।
নেপালের ভূমিকম্পের পর তিনি বলেন, সাধারণ ভূমিকম্পের সময়সীমা থাকে ৩০-৪০ সেকেন্ড। ২৫শে এপ্রিল যে ভূকম্প হয়েছে ৯০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। এবং এটি ক্ষতি করেছে নেপালে। তিনি নেপালের এই ভূমিকম্পকে বিপদ সংকেত বলে মনে করেন।
চলছে মহড়ার পর মহড়া: নেপালে ভূমিকম্পের বিপর্যের পর সতর্কতা স্বরূপ সিলেটে চলছে মহড়ার পর মহড়া। সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাগুলোয় দেয়া হচ্ছে এ মহড়া। এতে ভূমিকম্প হলে করণীয় কি এসব বিষয় নিয়ে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে। নগরীর দরগাহ গেট এলাকায় নূরজাহান হাসপাতাল, মুসলিম সাহিত্য সংসদে মহড়া দেয়া হয়। এতে সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, নূরজাহান হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. নাসিম আহমদসহ কমিউনিটি ভলেন্টিয়াররা উপস্থিত ছিলেন। মহড়ায় দমকল কর্মীরা ভূমিকম্প হলে বহুতল ভবন ধসে গেলে সেখান থেকে যতটুকু সম্ভব কম সময়ে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারের কৌশলের মহড়া দেন।
এছাড়াও নূরজাহান হাসপাতালে দুর্যোগকালীন মুহূর্তে কিভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে, তার মহড়া দেয়া হয়। সমপ্রতি নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে কেঁপে ওঠে সিলেটও। পৃথিবীর দীর্ঘতম ফল্টলাইন ডাউকির অবস্থান মাত্র আড়াইশ’ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে হওয়ায় সিলেট ভূমিকম্প ঝুকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দেন বিশেষজ্ঞরা। আর সিলেটে বহুতল ভবনের সংখ্যা বেশি হওয়াতে অধিক ক্ষতির আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরপর কয়েক দফা ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিস বিশেষ প্রশিক্ষণসহ নগরীরর বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেয়।
সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভির ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সিলেট ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ একটি নগরী। তাই স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। জনসচেতনা বৃদ্ধিতে এই মহড়া দেয়া হচ্ছে। মহড়া অব্যাহত থাকবে। স্বেচ্ছাসেবীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কনগ্র্যাচুলেশন by পরিতোষ পাল
ভারতের লোকসভায় ঐতিহাসিক বিল পাস
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৪১ বছরের ব্যবধানে এ দুটি দেশের সীমান্ত চিহ্নিতকরণ বিষয়ক বিল পাস হয়েছে ভারতের লোকসভায়। এর ফলে এ চুক্তি বাস্তবায়নের পথে আর কোন বাধাই রইলো না। এখন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী বিলে স্বাক্ষর করলেই তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটবে। বিলটিকে ঐতিহাসিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লোকসভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে। গতকাল লোকসভায় বিল নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের কাছে রোড কানেকটিভিটি, সড়ক, রেল ও নৌপথ ব্যবহারের সুবিধার দাবি তোলেন বিজেপির এমপি সুরেন্দ্রর সিং আলুওয়ালিয়া। তিনি আবেগঘন এক বক্তব্যে ভারত সরকারের কাছে এ চুক্তির বিনিময়ে বাংলাদেশের কাছে কিছু চাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে পরবর্তীতে যেসব চুক্তি করবে তার মধ্যে যেন এগুলো রাখা হয়। রাজ্যসভার মতোই গতকাল লোকসভাতেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি কার্যকর সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে। বাংলাদেশের কাছে এই সহমতের বার্তাটি দিতেই লোকসভার সদস্যদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এদিন দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে বিতর্কের পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ৩৩১ সংসদ সদস্যদের সমর্থনে বিলটি সভায় সর্বসম্মতিতে পাস হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সভায় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বিলটি প্রত্যাহারের জন্য আসাম ইউনাইটেড ডেমোক্রাটিক ফ্রন্টের সংসদ সদস্য বদরুদ্দিন আজমল দাবি জানালেও পরে ভোটাভুটির সময় তিনি আর আপত্তি জানাননি। বুধবারই সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিলটি ১৮০ জনের সমর্থনে সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে। এদিন সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় গৃহীত বিলটি কোনরকম পরিবর্তন ছাড়াই পাস হওয়ায় দীর্ঘ ৪১ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত স্থায়ীভাবে চিহ্নিত হওয়ার পথে প্রায় সব বাধাই দূর হয়ে গেছে। এখন ভারতের ৫০ শতাংশ রাজ্যের সমর্থন পাওয়ার পর প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই চুক্তি কার্যকর হবে। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ১১৯তম সংবিধান সংশোধন বিলটি লোকসভায় পেশ করেন। তিনি বিলটি সভায় পেশ করতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন। সেই সঙ্গে তিনি এই বিল আনার ক্ষেত্রে ভারতের পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তবে বিলটি নিয়ে লোকসভায় এদিন প্রবল বিতর্ক হয়েছে। এদিনের বিল নিয়ে আলোচনায় প্রায় সকলেই এই বিলকে ঐতিহাসিক বলে চিহ্নিত করেন। দুই দেশের সম্পর্ক এর ফলে আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ভারতের জাতীয় স্বার্থও রক্ষিত হবে বলে সদস্যরা মতপ্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ট্রানজিট, এনার্জিসহ সব ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতকে ভূমিকা রাখার আবেদন জানান। সভাতে অনেক সদস্যই ছিটমহলে যেভাবে দীর্ঘ সময় ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে সে ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে সংসদের দুই সভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাস হওয়ার ফলে ছিটমহলের বাসিন্দারা নাগরিকত্ব লাভ করবেন দীর্ঘ ৬৮ বছরের ব্যবধানে। ছিটমহলবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৩৮৫০ কোটি রুপির আর্থিক সাহায্যের দাবি মেনে নিয়েছেন বলে সভায় জানানো হয়। সভায় আলোচনাকালে তৃণমূল কংগ্রেসের সুগত বসু দুই দেশের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে কখনও রবীন্দ্রনাথ কখনও জীবনানন্দ দাসের কবিতা তুলে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, এই বিল পাস হওয়ার ফলে সীমান্ত স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত হবে। এর ফলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের মতো সমস্যার সমাধান হবে। সিপিআইএমের মহম্মদ সেলিম অন্নদা শঙ্কর রায়ের কবিতা উল্লেখ করে বলেন, এই ঐতিহাসিক বিলের মাধ্যমে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। তিনি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীর পানি বণ্টন সমস্যা, ট্রানজিট সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর পুত্র সংসদ সদস্য গৌরব গগৈ সভায় কেন ইন্দিরা গান্ধী ও শেখ মুজিবুর রহমান সীমান্ত চুক্তি করেছিলেন তার কারণ ব্যাখ্যা করে তথ্যসহ জানান যে, এই চুক্তির ফলে অচিহ্নিত সীমান্ত যেমন চিহ্নিত হবে তেমনি অপদখলীয় জমির সমস্যার সমাধান হবে। এ দিনটিকে গৌরবের বলে তিনি চিহ্নিত করেন। তবে আসামের দুই বিজেপি সংসদ সদস্য আসামের জমি হারানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আসাম থেকে বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠানোর যে প্রতিশ্রুতি নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারকালে দিয়েছিলেন সে কথাও তারা স্মরণ করিয়ে দেন। কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী বিতর্কে অংশ নিয়ে বিল নিয়ে গোপনীয়তার অভিযোগ করেন। অন্যদিকে ডিএমকের এক সংসদ সদস্য বেরুবাড়িকে এই বিলের অন্তর্ভুক্ত না করায় আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সদস্যদের এসব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রথমেই সদস্যদের কাছে অনুরোধ রাখেন- বাংলাদেশের কাছে ভাল বার্তা দেবার স্বার্থে কোনও সদস্য যেন বিলটির বিরোধিতা না করেন। এর পরেই তিনি জানান, সরকার বিল নিয়ে কোনও গোপনীয়তা করেনি। বরং ১৯৭৪ সালের চুক্তি ও মনমোহন সিং স্বাক্ষরিত প্রটোকল হুবহু সংসদে পেশ করার জন্য বিলে রাখা হয়েছে। স্ট্যান্ডিং কমিটির সুপারিশের পরেও বিল পেশে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংসদের সময়ের অভাবের কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বাসন প্যাকেজ চূড়ান্ত করেছেন। বেরুবাড়ি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে। আদালতের বিচারাধীন বলে তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। এক সদস্যের তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে তোলা প্রশ্নের উত্তরে সুষমা স্বরাজ জানান, এ গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই এগুলোর সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। প্রতিবেশী সম্পর্কে বড় ভাই সুলভ ঔদ্ধত্যের মনোভাব না দেখানোর কথা এক সংসদ সদস্য উল্লেখ করায় সুষমা বলেন, ভারত বড় দেশের রোগেন্ট মনোভাব নিয়ে চলছে না। বরং এলডারলি ভাইয়ের মনোভাব নিয়েই চলছে। দার্জিলিংয়ের বিজেপির সংসদ সদস্য সুরেন্দ্রর সিং আলুওয়ালিয়া বাংলায় ভাষণ দেন লোকসভায়। তিনি এদিন আবেগপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য রাখেন। বলেন, এ বিল পাস হওয়ার পর বাংলাদেশের উচিত ভারতকে ট্রানজিট ইস্যু দেয়া। তিনি বলেন- আমার দাবি আমাদেরকে একসেস টু রোড (ট্রানজিট), আমাদের এন্টায়ার নর্থইস্ট শিলিগুড়ি ঘুরে যেতে হয়। কিন্তু আমরা যদি ঢাকা হয়ে যাই তাহলে অনেক কাছে পড়ে যায়। আমরা শিলচর যাওয়ার জন্য বা আগরতলা যাওয়ার জন্য আমাদেরকে শিলচর হয়ে আগরতলা যেতে হয়। আমরা ঢাকা হয়ে আরামে যেতে পারি। আমরা যদি এই রোড কানেকটিভিটিটা পাই, রোড একসেসটা, রেল একসেসটা পাই তারপর আমরা যদি রিভার একসেসটা পাই, যা থেকে আমরা সি- লিংক পাই- এ ব্যবস্থাটা আমি আমার মাধ্যমে দাবি করি সরকারের কাছ থেকে। সরকার নিশ্চয়ই চুক্তি সই করার পর নিশ্চয় পরবর্তীকালে উনারা নতুন কিছু চুক্তি করবেন, সেই চুক্তির মধ্যে যদি এই বিষয়গুলো রাখা যায়। ওদিকে গতকাল লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার খবরে দুই দেশের মধ্যে অবস্থিত ছিটমহলগুলোর অধিবাসীরা আনন্দে ফেটে পড়েন। তারা এই প্রথম কোন দেশের নাগরিকত্ব পেতে যাচ্ছেন। তারাও জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার পাবেন। পাবেন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নাগরিক সব অধিকার। এ আনন্দে তারা মিষ্টি বিতরণ করেন। এ এক অন্যরকম দৃশ্য ছিটমহলগুলোর।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্রিটিশ এমপি হলেন টিউলিপ ও রূপা, রুশনারা পুনঃনির্বাচিত
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সোনার দরবারে লাশ আর দাসের কারবার by ফারুক ওয়াসিফ
![]() |
| থাইল্যান্ডের জঙ্গলে বন্দী অবস্থায় নিহত বাংলাদেশিদের দায় কে নেবে? |
রোহিঙ্গাদের নাহয় মিয়ানমার স্বীকারই করে না, তাই
লাশ আনা বা বিচার করার বালাই তাদের নেই। বাংলাদেশও কি তার নাগরিকদের
অস্বীকার করে বসে আছে? নইলে লাশ আনার ব্যবস্থা কই? তাই পাচার হওয়া বাবারা
তোমরা এমনভাবে মারা যাও, যাতে লাশটাও না পাওয়া যায়, যদি পাওয়াও যায়,
যাতে চেনা না যায়। আর যারা বেঁচে আছ, তারা কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার পাঠাও, আমরা
উন্নয়ন করি। গত মাসে ভূমধ্যসাগরে ৯০০ জন যাত্রী নিয়ে শরণার্থীদের একটি
জাহাজ ডুবে যায়। জীবিত উদ্ধার পায় মাত্র ২৮ জন, যাদের একজন বাংলাদেশি।
বেশির ভাগই আরব ও আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষ। বাংলাদেশেও কি
যুদ্ধ চলছে? তাহলে এ দেশের উদ্বাস্তু মানুষের লাশ কেন সীমান্তে,
থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ার জঙ্গলে, মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে, গ্রিক ও
তুরস্কের পর্বত ও বরফের প্রান্তরে আর মহাসমুদ্রের পানিতে? জাতিসংঘের হিসাবে
অভিবাসী শ্রমিক বাদেই গত ৩০ বছরে এ দেশের ১০ লাখের বেশি পুরুষ-নারী-শিশু
পাচার হয়ে গেছে বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশি নারী ও শিশুদের বিপুল সরবরাহ
চলে ভারত–পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে।সোনার বাংলায় মানুষের চেয়ে সরকারের ভাবমূর্তি, আমলাদের বিলাস আর ডলারের বান্ডিল ও সোনার বারের কদর বেশি। তাই মাঝেমধ্যে সোনা আটক হলেও অবাধে মানুষ পাচার হয়। আশ্চর্য নয় মোটেই, প্রথম আলোর সোমবারের প্রথম পাতায় থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবরের খবরের পাশেই চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৪০টি সোনার বার আটকের খবর জ্বলজ্বল করছে।
অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে বহুদিন ধরে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটিং মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান তাসনীম সিদ্দিকী। তাঁর কণ্ঠে আক্ষেপ ও হতাশা, ‘মানব পাচারের জালটা যখন ছোট ছিল, তখনই আমরা সরকারকে বলেছিলাম যে এটাকে ছোট অবস্থায় না
ধরলে পরে আর সামলানো যাবে না। প্রথমে কয়েকটা স্পট থেকে পাচার হতো, করত অল্প কয়েকটা দালাল। আন্তর্জাতিক দস্যু চক্র তখনো জড়িত ছিল না। কিন্তু দিনে দিনে এই জাল বিরাট হয়ে গেছে। জলবায়ু বিপন্ন এলাকা, যেমন যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রাজশাহীর মতো জেলায় দালালেরা সক্রিয়। বছরের পর বছর ধরে আমরা সরকারকে বলেছি, ত্বরিত ব্যবস্থা নেন, কিন্তু তারা নির্বিকার।’
তাসনীম সিরাজগঞ্জ জেলায় রামরুর জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে বলছিলেন, ‘সিরাজগঞ্জের ছয় উপজেলায় গত বছরের প্রথম আট মাসে চার হাজারের বেশি মানুষ পাচার হয়। এদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ, ৭০ জনের মতো থাইল্যান্ডের কারাগারে আটক, নিহত ব্যক্তির সংখ্যাটার কোনো শুমার নেই।’ ডেইলি স্টার পত্রিকা জানাচ্ছে, আট বছরে সমুদ্রপথে কমপক্ষে আড়াই লাখ লোক পাচার হয়ে গেছে। এদের মধ্যে কত শত নির্যাতিত ও নিহত হয়েছে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই।
বেকার বা অভাবী মানুষকে দালালেরা যখন বলেছে, ১০ হাজার টাকায় বিদেশ পাঠাবে, সঙ্গে সঙ্গে এরা রাজি হয়ে গেছে। অনেককেই জোর করে ধরে নিয়ে গেছে। তারপর একদিন ফোন আসে, ‘আমি বন্দী, টাকা পাঠাও, নইলে সমুদ্রে ফেলে দেবে।’ এভাবে কারও কারও খোঁজ মিলেছে, অনেকেই থেকেছে নিখোঁজ। পাচার হওয়া কেউ কেউ দু-তিন বছর দাসত্ব খেটে কিছু টাকা জমিয়ে কাগজপত্র তৈরি করে বৈধ চাকরিও পেয়েছে, বাকিরা হারিয়ে গেছে অন্ধকার মাটির গহ্বরে।
ঝুঁকি তারা নেবে না কেন? কদিন আগেই ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক বেকার বাবা অক্ষমতার জ্বালায় দুই বাচ্চাসহ তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রায়ই অভাবের জ্বালায় আত্মহত্যার খবর আসে। আইলা-সিডর বা খরাদুর্গত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। সোমবারেরই প্রথম আলোর সংবাদ, গত কয়েক বছরের মতো এবারও ধানের বাম্পার ফলন দিয়েও উৎপাদন খরচটাও পাচ্ছেন না কৃষক। এর আগে আমন, আলু ও সবজির দামও মার গেছে। হরতাল-অবরোধের ধাক্কাটা তাঁদের ওপর দিয়েই যায় বেশি। কিংবা জয়পুরহাটে কিডনি–বেচা মানুষের কথাই ধরুন। এ রকম দুর্দশায় পতিত ব্যক্তিদের কারও কাছে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব এলে সে তো ঝুঁকি নেবেই। অভাবের যন্ত্রণায়, গরিব শ্রেণি থেকে সচ্ছল শ্রেণিতে উত্তরণের স্বপ্নে কিংবা ধারদেনা শোধের তাড়নায় অনেকেই দালালদের হাতে দেহ–প্রাণ সঁপে দেন। এ রকম মুফতে প্রাণ পাওয়া যায় যে দেশে, সেখানে তো দাস ব্যবসা হবেই। এসব ঠেকাতে না আছে সরকারের জনসচেতনতা কার্যক্রম, না আছে জোর পুলিশি তৎপরতা। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ডলার আসছে, জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। ভালোই তো!
তাসনীম সিদ্দিকী জানালেন, ‘সারা দেশ থেকেই অপহরণের মাধ্যমেও মানব পাচার চলছে। আমরা সরকারের কাছে কিছু দালালের একটা তালিকাও দিয়েছি। তাতেও সাড়া না পেয়ে ২৮-১২-২০১৪ তারিখে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট (ফাইল নম্বর ১২৩৯৬) করি। এর আদেশ পেয়েছি গত ১৫ মার্চ। এই রিটে আমরা স্বরাষ্ট্র, শ্রম, প্রবাসী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পুলিশপ্রধান, জনশক্তি ব্যুরোর মহাপরিচালকসহ অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছি। উত্তর মেলেনি এখনো। সরকারি কর্তারা মুখে বলছেন, এরা জেনেশুনে গেছে, এদের বিষয়ে এত খবর কেন? আমি বলব, সরকার কোনোভাবেই নজর দেয়নি। কোনো দৃষ্টিপাতই করেনি। তারা এখন ফোনে মেসেজ দিচ্ছে, ‘অবৈধভাবে গেলে জান যাবে, বৈধভাবে গেলে টাকা পাবে’; এতেই কি দায় শেষ? আমরা সিভিল সমাজকেও বলেছি, যার যার এলাকায় খোঁজ করো কে কে হারাল। গত ১৮ ডিসেম্বর অনেকগুলো এনজিওর একসঙ্গে কালো ব্যাজ ধারণ করার কথা বলা হলেও কেউ কিছু করেনি। আমরা সবাই দোষী। সরকারকে দায়বদ্ধ করা দরকার ছিল। সেটা যেহেতু করা হয়নি, সেহেতু সরকার জানে যে কিছু না করলেও তারা পার পাবে।’
এখন এর সহজ সমাধান নেই। এর জন্য আন্তর্জাতিক যৌথ কমিশন গঠন করে জড়িত ব্যক্তিদের একযোগে দমনের দাবি করলেন তাসনীম। যেমন থাইল্যান্ডের মাছ ধরার ট্রলারগুলোয় ১৫ জনের কম শ্রমিক থাকলেই তাঁরা শ্রম আইনের বাইরে পড়ে যান। ওদের এই আইন বদলাতে হবে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। এর জন্য বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে। সবার আগে ধাক্কা দিতে হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দস্যুতন্ত্রকে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের কতিপয় সাংসদ ও গডফাদার অস্ত্র, মাদক ও মানব পাচারের রাজত্ব কায়েম করে বসেছেন। এদের সঙ্গে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ। এদের মানুষ ধরার জাল ছিঁড়ে দিতে যে সদিচ্ছা ও দায়িত্ববোধ প্রয়োজন, তা কি সরকারের আছে? রানা প্লাজার নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও বিচারে আমরা সরকারকে পাইনি, তাজরীনের দায়ী মালিক এখন জামিনে মুক্ত। গত ছয় বছরে প্রবাস থেকে যে ১৪ হাজার অভিবাসী শ্রমিকের লাশ এল (প্রথম আলো, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪), তাদের দায়ও কেউ নেয়নি।
আমাদের বলার কিচ্ছু নেই। কারণ, আমরা নৈ–রাষ্ট্রের নৈ–নাগরিক। দেশে-বিদেশে আমরা পালন করছি অভূতপূর্ব হত্যাজয়ন্তী। আমাদের গরিবেরা মানুষ নয়, ‘দাস’। হাজার বছরের বাংলার ইতিহাসের একটা গৌরব ছিল; এ দেশে কখনো দাসপ্রথা ছিল না। একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের অর্জন, আমরা এখন দেশে ও বিদেশে বৈধ–অবৈধ পথে দাস রপ্তানি করে যাচ্ছি।
এক সহকর্মী সাংবাদিক এক বাবাকে পেয়েছিলেন, যাঁর এক সন্তান সিডরে, আরেক সন্তান আইলায় মারা গিয়েছিল। খুঁজলে হয়তো জানব, থাইল্যান্ডের জঙ্গলে পচা লাশগুলোর কারও ভাইবোন হয়তো রানা প্লাজায় পিষ্ট অথবা তাজরীনে দগ্ধ। আর এদের বাবা–মা? নাহ, তারা আমাদের কেউ নয়!
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঝুলন্ত পার্লামেন্টের পথেই কি বৃটেন?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থাইল্যান্ডের গণকবর, কক্সবাজারে উৎকণ্ঠা-কান্না থেমে নেই পাচার by রাসেল চৌধুরী
জানা গেছে, ঝুঁকি আর অমানবিক নির্যাতন সয়ে স্বপ্নের মালয়েশিয়া যাত্রা নতুন কোন ঘটনা নয়। গত ৩ বছর ধরে চলে আসছে এসব ঘটনা। এ সময়ে সাগরে ট্রলার ডুবিতে পাচ শতাধিক মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি। পাচারকারীর গুলিতে নিহতও হয়েছে অনেকই। উদ্ধার হয়েছে ২৯৪৫ জন যাত্রী। আর একই সময়ে মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে ৩০৬টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৫৩১ জনকে। এদের মধ্যে আটক হয়েছে ৪৭৭ জন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে থাইল্যান্ডে গণকবরে বাংলাদেশী লোকজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনা।
উপকূলের পাঁচ হাজারেরও বেশি শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধের কোন খোঁজ নেই। আবার অনেককে অপহরণ করেই নিয়ে যাওয়া হয় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। সেখানে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ই তাদের উদ্দেশ্য। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের আর মালয়েশিয়ায় পৌঁছা হয় না। হয় দালালদের নির্যাতনে মাঝ দরিয়াতেই মারা পড়ে, নয়তো ঠাঁই হয় থাইল্যান্ডের গহিন জঙ্গলে। পাচারকারীরা মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার বদলে তাদের সেখানে বন্দি করে। তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে মোটা অঙ্কের টাকা। তবে টাকা দিলেও অনেক সময় মুক্তি মেলে না। তাদের হত্যা করে কবর দেয়া হয় গহিন বনেই। আর থাইল্যান্ডের গহিন বনে একের পর এক গণকবরের সন্ধান পাওয়ায় কক্সবাজার উপকূলের নিখোঁজ এই পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০১২ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ১৩২ জন অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়াগামীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটক করে ৮৬ জন পাচারকারীর দলের সদস্যকে। এ ব্যাপারে ১৭৭ জনকে আসামি করে ২৭টি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়।
২০১৩ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ১০২৮ জন অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়াগামীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটক করে ১১৩ জন পাচারকারীর দলের সদস্যকে। এ ব্যাপারে ৪২৭ জনকে আসামি করে ৮১টি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়।
২০১৪ সালের ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ২৩৫ জন অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়াগামীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটক করে ৬৩ জন পাচারকারীর দলের সদস্যকে। এ ব্যাপারে ১৯০ জনকে আসামি করে ৫৮টি মামলা করা হয়।
পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী সূত্র জানায়, গত ২রা এপ্রিল রাতে মালয়েশিয়াগামীদের উদ্ধার করতে গিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের রামু উপজেলার হিমছড়ি পাহাড়ে বন্যহাতির আক্রমণে ১৭ বিজিবির সদস্য ল্যান্স নায়েক হাবিবুর রহমান নিহত হয়।
এ বছরের ২৯শে জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলের খোদাইবাড়ি পয়েন্টে দেড়শ যাত্রী নিয়ে এফভি ইদ্রিস নামে একটি ট্রলার ডুবে যায়। সন্ধ্যা নাগাদ ডুবে যাওয়া ট্রলারসহ ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এক দিন পর শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও স্থানীয়রা যৌথ অভিযান চালিয়ে ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। একইদিন বিকালে ১ জনের মৃতদেহ ও তারপরের দিন আরও ১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে মহেশখালী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ১১ দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করেছে পুলিশ। অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে গত বছরের ১৭ই নভেম্বর ৬২০ জনকে আটক করে নৌবাহিনী।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৫০ নটিক্যাল মাইল অদূরে মিয়ানমারের পতাকাবাহী একটি ট্রলার থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৫৫৫ জন পুরুষ, ৩১ জন নারী, ২৬ শিশুসহ ৬ জন পাচারকারী ও দুজন দালাল চক্রের সদস্য। এদের মধ্যে ২১ জন মিয়ানমারের নাগরিকও ছিল। এ ঘটনায় নৌবাহিনী দুটি মামলা দায়ের করে। ২০১৪ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে চকরিয়া পৌরসভার পালাকাটা এলাকা থেকে ১৯ জনকে আটক করে পুলিশ। দালালরা তাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ১০-১৫ হাজার টাকা করে নিয়ে কক্সবাজার নিয়ে আসে এ সময় আটককৃতরা জানান। পরে রাতে সাগরে নিয়ে তাদের দস্যুদের হাতে তুলে দেয়। দস্যুরা তাদের টাকা-পয়সা লুট করে ছেড়ে দেয়।
২০১৪ সালের ১১ই জুন ৩১৮ জন যাত্রী নিয়ে টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে দালালদের নিযুক্ত বিদেশী সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন আরও ৬৩ যাত্রী। পরে কোস্টগার্ডের সদস্যরা সাগর থেকে হতাহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। গত বছরের ৪ঠা আগস্ট শহরের নাজিরাটেক উপকূলে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার বিধ্বস্ত হয়। এতে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। তার আগে গত বছরের ১১ই ফেব্রুয়ারি কোস্টগার্ড সদস্যরা সেন্টমার্টিন এলাকা থেকে ২১১ যাত্রীবোঝাই দুটি ট্রলার জব্দ করে। এসব যাত্রীর মধ্যে মিয়ানমারের ২০ জন নারী ও ১৭ জন শিশু ছিল।
২০১২ সালের ৭ই নভেম্বর টেকনাফ উপকূলে ১১০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় আরেকটি ট্রলার। পরদিন নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিজিবির সদস্যরা সমুদ্রে তল্লাশি চালিয়ে ২৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করলেও নিখোঁজ হন ৮২ জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দালালরা লোকজন সংগ্রহ করে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ার কথা বলে নিয়ে যায় থাইল্যান্ড উপকূলে। সেখানে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয় জনপ্রতি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। তারপর মুক্তিপণ আদায়ে চলে নির্মম ও অমানবিক নির্যাতন।
জেলা পুলিশের তথ্য মতে, শহরের নুনিয়াছটা, ফিশারিঘাট, নাজিরাটেক, সমিতিপাড়া, মহেশখালীর সোনাদিয়া, গোরকঘাটা, কুতুবজোম, ধলঘাটা, উখিয়ার সোনারপাড়া, রেজুরখাল, ইনানী, ছেপটখালী, মনখালী, টেকনাফের বাহারছড়া, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ, ঘোলারপাড়া, মাঝরপাড়া, পশ্চিমপাড়া, কাটাবনিয়া, খুরেরমুখ, হাদুরছড়া, জাহাজপুরা, কচ্ছপিয়া, শামলাপুর, সদরের ঈদগাঁও, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, পিএমখালী, চকরিয়া, পেকুয়ার ৬০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পাচার করা হচ্ছে।
আর এসব পাচারকারী দেশের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকদের লোভ দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে উদ্বুদ্ধ করে। শুরুতে তাদের কাছ থেকে কোন টাকা-পয়সা নেয়া না হলেও মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে পৌঁছতে পারলে সেখানে থাকা পাচারকারী চক্র টাকা আদায় করে।
কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, উদ্ধার হওয়া মালয়েশিয়াগামীরা দালালদের চেনে না। আবার দালালরা একজন আরেকজনকে চেনে না। এর ফলে তথ্য পেতে সমস্যা হয়। যারা ধরা পড়ে তাদের বাইরে তথ্য পাওয়া যায় না।
কক্সবাজারস্থ বিজিবি-১৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুজ্জামান বলেন, মানব পাচার রোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা জরুরি। এজন্য তিনি জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিত সর্বোপরি সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, মানব পাচার সামাজিক ব্যাধি। এ থেকে রক্ষা পেতে সমাজের সকল স্তরের লোকজনকে এগিয়ে আসতে হবে। কক্সবাজারস্থ বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খালেকুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে পাচার রোধ সম্ভব নয়। এটি রোধ করতে হলে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মানব পাচারের ক্ষতিকর বিষয়গুলো জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে। বিজিবি প্রতি মাসেই এরকম সভা করে সচেতনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে গলা কেটে হত্যা
তবে কি কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে পরিবার থেকে নিশ্চিত করে কিছুই বলা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্র ধারণা করছে, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ তালিকায় পুলিশ নিহত মহিলার স্বামীকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে।
ডাকাতি কিংবা পরকীয়া- এ দুই কারণে ঘটনাটি ঘটেছে কিনা তাও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে কিনা সে বিষয়ে যাচাই-বাছাই করার কথা জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
গতকাল ঘটনার পরপরই সকাল সাড়ে ১০টায় দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকার মোবাস্বের হোসেনের ৬ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। নিহত মায়ের নাম নাসিমা আক্তার (২৮)। আর মেয়ের নাম রিয়া আক্তার। তার বয়স ৮ বছর। সে স্থানীয় পূর্ব মাদারবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
মেয়েটির আরও দুই ভাই রয়েছে। ঘটনার সময় তারা স্কুলে ছিল। তাদের পিতা শাহ আলম ওই এলাকায় মাংস বিক্রি করেন। তার একটি দোকানও রয়েছে বাড়ির পাশের ওই গলিতে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে। তবে সাড়ে ৯টায় হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দুটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রথমে মেয়েটির মাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর নিহত নাসিমার শরীরে এলোপাতাড়ি কোপের দাগ দেখা যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠ, বুক, কোমর থেকে পা পর্যন্ত ইচ্ছেমতো ২৮টির বেশি আঘাত করা হয়েছে।
বাসার খাবারের ঘর থেকে মায়ের লাশ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর মেয়ে রিয়ার লাশ পাওয়া যায় বাথরুমে। তাকে জবাই করা হয়েছে। পৈশাচিক কায়দায় হত্যার পর বাড়ির আলমারি ভেঙে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলার স্বামী শাহ আলম মানবজমিনকে বলেন, আমি সত্যি বলছি কিছুই জানি না। কারা মারলো, কেন মারলো তাও বুঝতে পারছি না। ডাকাতরা আমার সব স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করেছে।
আপনার সঙ্গে স্ত্রীর কোন বিরোধ ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে কান্না জড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, মৃত্যুর কিছু সময় আগে নাসিমার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তখন সে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর কথা বলে। আমি ৯টায় বাসা থেকে বের হয়ে যাই। এর পরপরই ঘটনাটা ঘটলো।
নিহত নাসিমা আক্তারের বাড়িতে খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হয়ে কাজ করেন জামেলা আক্তার। তিনি প্রথম মহিলার ভাই আলালকে খবর দেন। গতকাল এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, প্রতিদিন এসে আমি দরজায় টোকা দিয়ে ঘরে ঢুকি। কিন্তু আজকে (গতকাল) এসে দেখি দরজা খোলা। পরে ভেতরে ঢুকেই দেখি দুজনের লাশ। রক্ত ভেসে যাচ্ছে মেঝেতে।
জামেলা বলেন, ঘটনাটি আমি প্রথমে নাসিমার ভাইকে জানাই। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ আসে। আরেকটু আগে এলে হয়তো সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটাতে পারতো না।
এদিকে নৃশংস ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে নানা মত। কেউ কেউ বলছেন, ওই বাড়িতে প্রায় সময় লোকজনের আনাগোনা লেগেই থাকতো। কিছুদিন আগে এ নিয়ে বাড়ির মালিক মোবাস্বের হোসেন শাহ আলমকে সতর্ক করে দেন বখাটে লোকজনের আনাগোনার অভিযোগে।
মাংস বিক্রেতা শাহ আলমের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক কলহের কথা জানান ওই বাড়ির এক বাসিন্দা। বলেন, শাহ আলমের কথা শুনে বোঝা যেত সে তার স্ত্রীকে সন্দেহ করে। তা ছাড়া মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রায়ই বাড়িতে থাকতো না সে। এ নিয়ে অনেক ঝগড়াঝাঁটির কথা জানেন আশপাশের লোকজন।
তবে পুলিশ ঘটনার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রকি (২২) নামের বাসার টিউটরকে হেফাজতে নিয়েছে। এ ছাড়া ড্রইংরুম থেকে একটি রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গেছে দুটি গামছা। শাহ আলমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পূর্বধুর গ্রামে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আলমের পুত্র নগরীর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র রিয়াদ হোসেন (১০) মানবজমিনকে বলেন, সকালে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় কোন আলামত দেখিনি। পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস করেছে তোমাদের বাসায় কারা বেশি আসতো। আমি স্যার (গৃহশিক্ষক) রকি, কমল দাশ (আরেক মাংস বিক্রেতা) ও আইয়ুব চাচার (পূর্ব পরিচিত, পেশায় গাড়িচালক) নাম বলেছি। তাদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ভাল ছিল।
রিয়াদ আরও বলে, মায়ের জন্য খুব খারাপ লাগছে। সেই সঙ্গে বোনটার জন্যও। ঝগড়াঝাঁটি যা হতো তা আসলে বাবার সঙ্গে মায়ের তেমন কিছু নয়। সব আবার ঠিকঠাক হয়ে যেত।
ঘটনার পরপরই কথা হয় নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদারের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ডাকাতি করার কথা বলছে বাড়ির মালিক। কিন্তু আমরা ভাবছি অন্যকিছু। এত অল্প সময়ে ৩০ মিনিটের মধ্যে কিভাবে দুজনকে জবাই করা হলো নিশ্চয় আগে থেকে প্ল্যান ছিল। খুনিরা পূর্ব পরিচিত।
তিনি আরও বলেন, নিহত মহিলার স্বামী শাহ আলমকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় রেখেছি। তবে খুনটা একজন করেনি। এর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন অংশ নিয়েছে। প্রথমে মাকে, পরে মেয়েকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাসেল ও জাহাঙ্গীর নামের শাহ আলমের পূর্ব পরিচিত দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিটি নির্বাচনের জয়–পরাজয় by রোবায়েত ফেরদৌস
![]() |
| সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বহু অনিয়মের একটি চিত্র |
ক.... এবারের নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বাইরে কোনো তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বিন্দুমাত্র সুযোগ এখন ও নিকট ভবিষ্যতে নেই। এই দুই দলের বাইরে বাকি সব মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও আওয়ামী লীগ ব্যাপকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে।
খ.... নির্বাচনে জাল ভোট, কারচুপি ও গণসিল পড়েছে; ব্যালট বাক্স ভাঙচুর ও ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে; পিটুনি, ছুরিকাঘাত, টাকা বিলির ঘটনা খবরের কাগজে এসেছে। ককটেল বিস্ফোরণসহ বেশ কিছু গোলাগুলি-সংঘর্ষ-সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে; অনেক ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। বিরোধী পক্ষের এজেন্টদের আগের রাত কিংবা কাউকে কাউকে তারও আগে থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থক ও পুলিশের উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁরা ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন। নির্বাচনের দিন তাঁদের অনেককেই কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য এগুলো নিশ্চয়ই ভালো দৃষ্টান্ত হয়ে রইবে না।
গ.... যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ, এএইচআরসি, টিআইবি, ব্রতীসহ বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা নির্বাচনের অনিয়ম, যেমন: ভোট জালিয়াতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষায়, ‘নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ’, ‘নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি’, ‘অনিয়ম, সহিংসতা হয়েছে’। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনী অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছে। বিদেশি গণমাধ্যম রয়টার্স, এএফপি, বিবিসিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম পুনরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে।
ঘ.... ঢাকার প্রার্থীদের নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ছিল এ রকম: ‘খেলতে গেলে ফাউল হয়’, ‘ভোট ডাকাতি’, ‘তামাশার নির্বাচন’, ‘এটি বাতিল করে আবার নির্বাচন দিন’, ‘সাড়ে ১২টার পর নির্বাচন বলা যায় না’, ‘প্রহসন হয়েছে’, ‘ভোটের অধিকার খর্ব হয়েছে’ ইত্যাদি। আর নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর, যিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও বটে, কেবল নির্বাচন বর্জন নয়, রাজনীতি বর্জনেরও ঘোষণা দেন। বিএনপির রাজনীতির জন্য এ ঘোষণা যে ভালো ফল বয়ে আনবে না, তা নিঃসংশয়ে বলা যায়।
ঙ.... তিন সিটিতে বাতিল হয়েছে এক লাখেরও বেশি ভোট! বিস্ময়কর বৈকি! উপস্থিতি কম, তবু ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে—এটাও প্রশ্নের উদ্রেক করে; বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের মাত্র চার ঘণ্টায় এত ভোট প্রাপ্তিও নানা সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। রানার্সআপ হয়েছেন বিএনপির এমন তিন প্রার্থীই নিজেদের ভোট প্রাপ্তির পরিসংখ্যান দেখে অবাক হয়েছেন। আগের সামরিক শাসকদের মতো টেবিল-মেড ফলাফলের চর্চা আবার আমরা শুরু করলাম কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।
চ.... এবারের নির্বাচনে সরকার-সমর্থকেরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছেন, পুলিশের সামনেই এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি-লাথি মেরেছেন; তাঁদের ক্যামেরা-মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্রছাড়া করা হয়েছে; ঢাকা ও চট্টগ্রামে অন্তত আটজন সাংবাদিকের ওপর শারীরিক আক্রমণ হয়েছে; তাঁদের মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে; কোথাও আবার সাংবাদিকদের আটকে রাখা হয়েছে; ভয় দেখিয়ে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিককে; একজন অনলাইন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধও হয়েছেন; পুলিশও কিছু কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে। এভাবে কোনো নির্বাচনে এত সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা বিরল। গণমাধ্যম গণতন্ত্রের সহায়ক, কোনো সরকার একে প্রতিপক্ষ ভাবলে তা হবে গণতন্ত্র, জনগণের তথ্য জানা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি হুমকি।
ছ.... নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোট গ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হয়েছে—এমন দাবি করায় এবং ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি হওয়ায় কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে অনিয়মের অসংখ্য অভিযোগ—ভোটের আগে ও পরে—করা হলেও কমিশন একটি অভিযোগও আমলে নেয়নি এবং তার সুরাহা করেনি। এতে কমিশনের ওপর সরকারের চাপ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রকাশ ও প্রকট হয়ে বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ, প্রশাসন কারও ওপরই কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। অথচ সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন; কিন্তু কমিশনের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা এতটাই প্রকট যে কেবল কমিশনের ওপর নয়, বরং নির্বাচনের ওপরই মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জ.... নির্বাচনে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ, আনসার ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। জাল ভোটের সহযোগী হিসেবে পুলিশ, পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের খবর গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রচারিত হয়েছে; অনেক ক্ষেত্রেই নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অসহায়, নিষ্ক্রিয় ও নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। প্রশাসনের দলীয়করণ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, এটা তার নিকৃষ্ট নমুনা।
ঝ.... বিএনপি দল গোছাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে; তাদের সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত মনে হয়েছে; বহুমাত্রিক চাপ উপেক্ষা করেও যে কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট বা নজরদারির দায়িত্ব পালন করা যায়, সে রকম সাহস তারা দেখাতে পারেনি। ভোট শুরুর চার ঘণ্টা পর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে; তাঁরা বরং আরও বেশি করে তাঁদের মনোবল হারিয়েছেন এবং সামনের নির্বাচনে এই প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী হবে। মাঝপথে বর্জন ভালো সিদ্ধান্ত হয়নি; ভোট গ্রহণ শেষে এটি করা যেত, এতে অনেকের ভোট প্রদানের প্রত্যাশা বঞ্চিত হয়েছে, প্রত্যাখ্যান ও প্রতিবাদের আরও অনেক উপায় আছে, তা ব্যবহার করা যেত।
ঞ.... ভোটের ফলাফল ৩-০ হওয়ায় আওয়ামী লীগেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে; কেউ কেউ বলছেন, ফলাফল ২-১ হলে ভালো হতো; দুটি মহানগরে দলের সঠিক অবস্থান ও দুর্বলতা জানা যেত এবং সে অনুযায়ী দলকে সাজানো যেত। অন্তত একটি মেয়র পদ পেলে বিএনপি ভোটের কারচুপির অভিযোগ জোরালোভাবে তুলতে পারত না। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না—বিএনপির এ প্রচার তুলতে পারত না এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দাবির গ্রহণযোগ্যতা কমে যেত। একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে পারলে সরকারের ইমেজ বাড়ত, এ রকম জোরজবরদস্তির আদৌ দরকার ছিল কি না, সেই আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি ক্ষমতাসীন দলকে হতে হবে।
ট.... বলা হচ্ছে খারাপ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যাঁরা এ প্রক্রিয়ায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা ভালো; যেমন আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন সজ্জন হিসেবে পরিচিত। এখন দেখার অপেক্ষা নির্বাচনের আগে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি তাঁরা কতটা পূরণ করতে পারবেন। তবে অনেক দুষ্ট কাউন্সিলর কিন্তু এই ফাঁকে নির্বাচিত হয়ে পড়েছেন, মেয়রদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এসব কাউন্সিলরের সঙ্গে আলাপ করে; এ জন্য বাড়তি সতর্কতা জরুরি। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের সঙ্গে নির্বাচিত কাউন্সিলর কীভাবে জড়িত হয়েছেন, তা আমরা জানি।
মোটা দাগে বলা যায়, যেমনটি আশা করা হয়েছিল, তিন সিটির নির্বাচন সেই অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ হয়নি; সিটি নির্বাচনে ভোটের খেলায় তাই গণতন্ত্র হেরে গেছে; কেউ কেউ বলছেন, তিন সিটিতেই আওয়ামী লীগ জিতেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের একতরফা জয় এবং বিএনপির একতরফা বর্জনে প্রতারিত হয়েছে জনগণ আর পরাজিত হয়েছে গণতন্ত্র। যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, তাঁদের মহিমাও খাটো হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রোবায়েত ফেরদৌস: সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
robaet.ferdous@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি, লাভ দু’দেশেরই
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে বিশেষজ্ঞ ও মন্ত্রীদের বাদ দেয়ার বিপদ মোদি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এ বিষয়টিকে স্বাগত জানাই। তিনি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট স্বার্থ ও স্থানীয় রাজনৈতিক লাভের ওপরে দেশের সার্থকে স্থান দিয়েছেন। এটিও স্বাগত জানাই। এটি বুদ্ধিমত্তা ও সাহসের পরিচায়ক। ওদিকে ডিএনএ’র সম্পাদকীয়তে বলা হয়, বাংলাদেশে ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে। ভারতে রয়েছে বাংলাদেশের ৭০টি ছিটমহল। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে অবশেষে এ দ্রুত সমস্যাটির সমাধানের কাজ শুরু করে। এ সমস্যা কেবল ভূমি বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেখানকার বাসিন্দাদেরও পুনর্বাসন করতে হবে। প্রতিবেশী দেশসমূহের মধ্যে ভূমির অদলবদল সবসময়ই জটিল বিষয়। বিরোধী দলে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়টিকে জাতীয় গৌরব, অখণ্ডতা ও স্বার্বভৌমত্বের বিষয়ে পরিণত করে ফেলে। অনেক বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ছিটমহলের বিষয়টিকে সমাধানের পথে নিয়ে যায়নি। এ বিষয়টি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছতে অস্বাভাবিক দেরি হবার অন্যতম মূল কারণ এটি। বিজেপি বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধানের পথে এগোয়। এর ফলে ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী দলগুলো নীরব হয়ে যাবে। অন্যথায় সে দলগুলো এ সমাধান চেষ্টাকে নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করতো।
ছিটমহল বিনিময়ের ভেতরেই লুকায়িত রয়েছে সেখানে বসবাসরত হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য। ছিটমহলের বাসিন্দারা নিজ দেশের আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব পাননি, মৌলিক সেবাও তারা পান সীমিত আকারে। উভয় দেশের সকল ছিটমহলে বসবাস করা মোট মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ। ১৯৫০-এর দশকের শুরুর পর ছিটমহলের জনসংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা করা হয়নি। ছিটমহলগুলো সৃষ্টির ৬০ বছর পরও সেগুলোর অব্যাহত অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপরেই আঞ্চলিক অখণ্ডতার স্থান। ছিটমহলের মানুষ যেভাবে বসবাস করে, সে ভয়াবহ অবস্থার কথা চিন্তা করুন। বেশির ভাগ ছিটমহলে সরকারের ছিটেফোঁটাও নেই। কিছু বড় ছিটমহল নিজেদের স্থানীয় পরিষদ গঠন করেছে যাতে করে মৌলিক প্রশাসনিক কাজ সারা যায়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, আগামী জুনে ঢাকা সফরের আগে এ চুক্তি অনুমোদন করতে আগ্রহী মোদি এবং তিনি তা করিয়েছেনও। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমপর্ক জোরদারে তার আগ্রহও এ সমস্যা সমাধানে তার ইচ্ছার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সমপর্ক বৃদ্ধিতে শেখ হাসিনার ভূমিকা সমপর্কেও তিনি সচেতন। হাসিনা সব ক্ষেত্রেই ভারতের সঙ্গে সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করে আসছেন। সুতরাং, ভারত যে সম-প্রতিদানে বিশ্বাসী, সেটি প্রমাণেরও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এ চুক্তির অনুমোদন। ছিটমহলের বাসিন্দাদের সমস্যা দুই দেশের সমপর্কে এক অস্বস্তিকর বিষয়। এ সমস্ত ছিটমহলে বসবাসকারী মোট মানুষজনের সংখ্যা ১ লাখেরও কম।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 08
(13)
- মাঠের অভাবে ঘরবন্দী কৈশোর by সুমনকুমার দাশ
- অনাদরে অবহেলায় রবীন্দ্রস্মৃতি by পার্থ শঙ্কর সাহা ...
- সিইসির কাছে তাবিথের কিছু প্রশ্ন
- চট্টগ্রামে মা-মেয়ে খুন, খুনিরা পূর্বপরিচিত? ‘বাসায়...
- ডাউকী নড়লেই কাঁপে সিলেট, ভূমিকম্প আতঙ্ক by ওয়েছ খছরু
- কনগ্র্যাচুলেশন by পরিতোষ পাল
- ব্রিটিশ এমপি হলেন টিউলিপ ও রূপা, রুশনারা পুনঃনির্ব...
- সোনার দরবারে লাশ আর দাসের কারবার by ফারুক ওয়াসিফ
- ঝুলন্ত পার্লামেন্টের পথেই কি বৃটেন?
- থাইল্যান্ডের গণকবর, কক্সবাজারে উৎকণ্ঠা-কান্না থেমে...
- চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে গলা কেটে হত্যা
- সিটি নির্বাচনের জয়–পরাজয় by রোবায়েত ফেরদৌস
- বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি, লাভ দু’দেশেরই
-
▼
May 08
(13)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...











