Sunday, July 29, 2018

নাগরিক তালিকাকে ঘিরে শঙ্কায় আসামের বাংলাভাষী মুসলিমরা by ফাহমিদা উর্ণি

চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশকে ঘিরে আসামে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। সোমবার দুপুর বারোটা থেকে সেখানে দ্বিতীয় ধাপের জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন তালিকা উন্মুক্ত করা হবে। প্রথম ধাপে ১ কোটি ৯০ লাখ অধিবাসীকে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হলেও বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার  সেখান থেকে দেড় লাখ অধিবাসীকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তাদের পাশাপাশি প্রথম ধাপে তালিকায় স্থান না পাওয়া ১ কোটি ৩৯ লাখ অধিবাসীর ভাগ্যও নির্ধারিত হতে যাচ্ছে চূড়ান্ত ওই তালিকা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে। ২২ লাখ পৃষ্ঠার এই নাগরিক তালিকাকে ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুঙ্গে। প্রধম ধাপে প্রণীত তালিকার অভিজ্ঞতায় নাম বাদ পড়ার শঙ্কায় ভুগছেন বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী মুসলিম অধিবাসী।
মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে আসামের অবস্থান ভারতে দ্বিতীয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০১৬ সালে আসামে সরকার গঠন করে। বিজেপি সরকার আসার পরেই বাংলাদেশি শরণার্থী উৎখাতে উদ্যোগী হয় আসাম সরকার। কে বাংলাদেশ থেকে এসেছে আর কে অসমের বাসিন্দা এই নিয়ে চলছে টানাপড়েন। অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় হিন্দুদের কর্মসংস্থান নষ্ট করছে দাবি করে ‘অবৈধ’ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার শপথ নিয়েছিল তারা। এরই ধারাবাহিকতায় একটি আদমশুমারি চালানো হয়। ১৯৫১ সালের পর এটিই আসামে পরিচালিত প্রথম আদমশুমারি। ওই আদমশুমারির ভিত্তিতে গত ৩১ ডিসেম্বর আসামে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকার প্রথম খসড়াটি প্রকাশ হয়। প্রকাশিত খসড়া তালিকায় স্থান পায়নি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ বাসিন্দা। যাচাই বাছাই শেষে তাদের নাম পরবর্তী ধাপের তালিকায় যুক্ত করা হবে বলে জানায় রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। বলা হয়, পূর্ণাঙ্গ নাগরিক তালিকায় যাদের নাম থাকবে না তাদেরকে ‘অবৈধ’ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সে পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি প্রকাশিত হচ্ছে সোমবার (৩০ জুলাই)।
তালিকা প্রকাশকে সামনে রেখে আগামি ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের যাবতীয় ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মোতায়েন হয়েছে আধা সামরিক কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তে। আসামের সঙ্গে মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, মনিপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি হিন্দুত্ববাদী প্রচারণায় জোর দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসামে নাগরিকত্বের পরীক্ষাসহ বিভাজনমূলক কর্মসূচি এরইমধ্যে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সোমবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ হতে যাওয়া এনসিআর-এর খসড়া তালিকাটি নতুন করে সহিংসতা উসকে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরে বাঙালি ভাষাভাষীদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। যার ফলে ‘বাঙালি বনাম অসমীয়’র মতো বিভাজনমূলক ধারণা আসামের রাজনীতিতে গেড়ে বসেছে। অনেক বছর ধরেই আসামে ‘বহিরাগতদের’ বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন চলছে। প্রাথমিকভাবে ওই আন্দলোনের লক্ষ্য ছিল নৃতাত্ত্বিকভাবে যারা অসমীয় নয় তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন ‘বহিরাগত’ বলতে ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসী’ বোঝানো হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই ‘বহিরাগতবিরোধী’ প্রচারণাকে ব্যবহার করেই ২০০৬ সালে রাজ্যটিতে ক্ষমতাসীন হয়। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ‘বহিরাগতদের’ কারণে আসামের পরিচয় ‘বিনষ্ট’ হওয়া রুখতে তারা জাতীয় নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগাদ করবে। আর হয়েছেও তাই।  প্রথম ধাপে হালনাগাদ করা তালিকায় নাম নেই অনেক বাংলাভাষী মানুষের। কয়েক প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাসকারীদেরও নাগরিকত্বের তালিকায় নাম ওঠেনি। দেখা গেছেয়, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বাংলাভাষী তিনটি প্রশাসনিক এলাকার বেশিরভাগ আবেদনকারী তালিকাভুক্ত হননি। তালিকা থেকে সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রীসহ কয়েকজন পরিচিত মুসলিম নেতা বাদ পড়েছেন। কয়েকজন হিন্দু নেতাও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বাইরে থাকা উলফাসহ কয়েকটি বিদ্রোহী সংগঠনের সদস্যরা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়াদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলা ভাষাভাষী। রাজ্য সরকারের দাবি, বাদপড়া আবেদনকারীদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত তথ্যে ‘অসামঞ্জস্যতা’ পেয়েছেন তারা। তবে আসামের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের আশঙ্কা ১৯৮২ সালে মিয়ানমারে প্রণীত নাগরিকত্বের আইন যেভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করেছে, আসামেও তাই ঘটতে যাচ্ছে।
ভারতে ‘ইলিগ্যাল মাইগ্রেন্টস ডিটারমিনেশন বাই ল’ বা আইএমডিটি নামের অবৈধ অভিবাসী সংক্রান্ত আগের যে আইনটি ছিল তাতে বলা হয়েছিল, যতক্ষণ না পর্যন্ত অবৈধ হিসেবে প্রমাণিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নাগরিকত্ব বহাল থাকবে। তবে ২০০৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই আইনের সেই ধারাটি  উল্টে দিয়েছে, যার ভিত্তিতে চালু থাকা জাতীয় নাগরিকত্ব হালনাগাদ প্রকল্প এখন লাখ লাখ মানুষের ঘর ছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবৈধ অভিবাসী সংক্রান্ত নতুন আইনে বলা হয়েছে, যাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সরকার নিশ্চিত নয়, তাদের নিজেদেরই নাগরিকত্বের প্রমাণ হাজির করতে হবে।  ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে আসামের সকল বাসিন্দাকে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে যে তারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকে সেখানে আছে। তবে বাংলাদেশি মুসলিমদের কেউ কেউ বলছেন, তাদের পূর্বসূরীরা এসব প্রমাণ বা নথি সংরক্ষণ করার কথা বুঝতে পারেননি। এই অবস্থায় নাগরিক প্রমাণের মতো যথেষ্ট কাগজপত্র অনেকের নেই। সুবহান জানান, তিনি ও তার বাবা দুইজনই আসামে জন্মগ্রহণ করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মাটি মাখানো একটি হলুদ রংয়ের নথি দেখান তিনি। সেখানে দেখা যায়, আসামের ১৯৬৫ সালের ভোটার তালিকায় তার বাবার নাম রয়েছে। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির ঘটনাকে নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে স্থানীয় সীমান্ত পুলিশ। তবে তাদের দাবি, সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থাপনকৃত সব কাগজপত্র বৈধ নয়। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহজনক নাগরিকের সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার। ইতোমধ্যেই বিদেশি ঘোষিত হয়েছেন প্রায় ৯০ হাজার। এদের ৬টি শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আসামে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর আইনবিষয়ক উপদেষ্টা শান্তনু ভারালি দাবি করেন, আসামের জনগণ যেন নিজেদেরকে সুরক্ষিত ভাবতে পারে তা নিশ্চিত করতেই এ এনআরসি তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটি নৈতিক জয়। জাতিগত আসামিজরা সবসময় অভিযোগ করে আসছে এখানে বিদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। এ তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ পাবে।’ তবে বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টি ও মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বিজেপি ছাড়া অন্য দলগুলোকে ভোট দেওয়ার কারণে বৈধ ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদেরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। কংগ্রেস পার্টির আইন প্রণেতা রিপুন বোরা অভিযোগ করেন, ‘এনআরসির মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করাই হলো বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য।’ অবশ্য, বিজেপি ও এনআরসি কর্তৃপক্ষ বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

‘দুই বছর আগেই ইমরানকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা করে সেনাবাহিনী’

ইমরান খান হবেন সেনাবাহিনীর হাতের পুতুল। সেনাবাহিনী যা বলবে তাকে তাই অনুসরণ করতে হবে। তাকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা সাজানো হয় দুই বা তিন বছর আগে। এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী ও সাংবাদিক রেহাম খান। তিনি ভারতের অনলাইন দ্য হিন্দুকে লন্ডন থেকে টেলিফোনে একটি দীর্ঘ সাক্ষাতকার দিয়েছেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন সুহাসিনি হায়দার। এতে রেহাম খান অভিযোগ করেছেন জালিয়াতির নির্বাচনের সুবিধা পেয়েছে পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)। এ ছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে ভারত ইস্যুতে, ইমরান খানের নীতি হবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইচ্ছা অনুযায়ী। এখানে সংক্ষেপে ওই সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: নির্বাচনে পিটিআইয়ের পারফরমেন্সে আপনার প্রতিক্রিয়া কি, বিশেষ করে পাঁচটি আসনে নির্বাচিত করে ইমরান খান বিজয়ী হওয়ায়?
উত্তর: ফল কি হবে তা আমি জানতাম। কিন্তু আমি এটাও জানি, নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হতো তাহলে ইমরানের জেতার কোনো সুযোগই থাকতো না। খাইবার পখতুনখাওয়া প্রদেশ সহ এতসব স্থানে এ দলটির এত ভাল করা অসম্ভব। কারণ, ওইসব স্থানে পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সরকার ভীষণ অজনপ্রিয়। লাহোর ও করাচির মতো অন্য স্থানগুলোতে যা ঘটেছে তা অবিশ্বাস্য। কারণ, সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা পিটিআইয়ের আনকোরা মুখের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
প্রশ্ন: আপনি তো ইমরানকে সেনাবাহিনীর প্রার্থী বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষমতায় যারা আসছেন তারা সবাই কি সেনাবাহিনীর আশীর্বাদ পেয়েছেন?
উত্তর: অবশ্যই। আপনি যদি ২০১৩ সালের কথা স্মরণ করতে পারেন তাহলে আপনার মনে থাকার কথা যে, তখন ইমরান খান বলেছিলেন নওয়াজ শরীফ হলেন সেনাবাহিনীর প্রডাক্ট। তাই তিনি বুঝতে পেরেছেন এটা কি জিনিস। আমার মনে হয়, এবার সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতা দেখাতে চেয়েছে। আর সেটা করেছে ইমরান খানকে খুব বেশি সমর্থন দিয়ে। কারণ, নওয়াজ শরীফ যখন নিজেকে ভারতের দিকে এবং চীন পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের দিকে পরিচালিত করেছেন তখন সেনাবাহিনী হতাশ হয়েছে। তখনই তারা তার বিদায়ের পথ তৈরি করতে থাকে। আর ইমরান হয়ে ওঠেন হাতের আদর্শ পুতুল। জটিল অনেক ইস্যু সম্পর্কে তার কোনো জানাশোনা নেই। তাকে সেনাবাহিনীর ইচ্ছাকে অনুসরণ করতে হবে।
প্রশ্ন: আপনার লেখা বই ‘রেহাম খান’-এ আপনি বলেছেন, ইমরান খানকে সৃষ্টি করেছে সেনাবাহিনী। কিন্তু তিনি তো ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর অধীনে নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। তাহলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ককে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
উত্তর: একজন স্ত্রী হিসেবে তাকে দেখেছি। তার কথা শুনেছি। ইমরান সব সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকা নিয়ে কথা বলতেন। ২০০৮ সালে তিনি নির্বাচন বর্জন করেছিলেন বিরূপ পরিস্থিতিতে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তারা তাকে সমর্থন দেবে না। কিন্তু যখন আমি তাকে জানতে পারি তখন তিনি সব সময়ই তাদের সমর্থনের কথা বলতেন। তিনি সব সময়ই এতটাই নিশ্চিত থাকতেন যে, তিনি একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন। আমি মনে করি তাকে ক্ষমতায় আনার এই পরিকল্পনা হয়েছিল দুই থেকে তিন বছর আগে।
প্রশ্ন: যখন ভারত এসেছিলেন তখন ইমরান খান বলেছিলেন, পাকিস্তানিদের সঙ্গে যতটা সম্পর্ক আছে তার চেয়ে ভারতীয়দের সঙ্গে তার যোগাযোগ বেশি আছে। তাহলে ইমরান খান ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিষয়ে কি নীতি গ্রহণ করবেন বলে আপনার মনে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ। তিনি ভারতে প্রচুর সময় কাটিয়েছেন। তার অনেক বন্ধু আছে। এ জন্যই আমি মনে করি নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ভারতের সমালোচনা করেন নি। এটা অত্যন্ত ভন্ডামি। ভারতের সঙ্গে তিনি সুস্থ সম্পর্ক চান আসুন আমরা সেটা কল্পনা করি। কিন্তু নওয়াজ শরীফ যখন ভারতের সঙ্গে ব্যবসায় সম্পর্ক বৃদ্ধি করছিলেন তখন তার বিষয়ে তিনি কি বলেছিলেন? তিনি নওয়াজ শরীফকে গাদ্দার বা বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করেছিলেন। আসলে তার কাছে কোনো আদর্শ নেই। তাই তাকে যা করতে বলা হবে তিনি তাই করবেন। হোক সেটা ভারত বা পাকিস্তান ইস্যুতে।
প্রশ্ন: অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, আপনার বইয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এজেন্ডা আছে। আপনি কি নূন্যতন আশা করেন এটা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে?
উত্তর: হ্যাঁ, অনেক মানুষই বলেছেন, আমি বইটি লিখেছি পিএমএলএনের পক্ষে। কিন্তু এই কথাটি সত্য নয়। সাংবাদিক হিসেবে আমি নওয়াজ শরীকে প্রথমবার চিনতে পারি, যখন আমি তাদের সাক্ষাতকার নিয়েছি। আমি জেমিমা হতে চাই নি। নির্বাচনে যখন বিজয়ী হন নি তখন আমি ইমরান খানকে বিয়ে করেছিলাম। আমি একজন পাকিস্তানি। একজন আত্মনির্ভরশীল নারী। আমি জেমিমার মতো না। ইমরান যখন ব্লাসফেমি আইন নিয়ে হঠকারিতা করেন তখন তার পাশে আমি থাকতে চাই নি।
প্রশ্ন: আপনি কি পাকিস্তানে ফিরবেন? রাজনীতিতে যোগ দেবেন?
উত্তর: পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে আমি বাঁচতে পারি না। হ্যাঁ, আমি ফিরবো। এ জন্য আমার বাচ্চারা আমাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও ক্রেজি বলে। কিন্তু আমি ফিরে আসবো পাকিস্তানে। আর রাজনীতি? এখনও এ নিয়ে ভাবি নি।

কাশ্মিরি তরুণরা আগের চেয়ে বেশি সন্ত্রাসবাদে ঝুঁকছে: ওমর আবদুল্লাহ

‘থিঙ্ক ফেডারেল’ আলোচনায় ওমর আবদুল্লাহ
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, কাশ্মিরি তরুণরা আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায় সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। গতকাল (শনিবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় ‘থিঙ্ক ফেডারেল’ নামে এক আলোচনা সভায় তিনি ওই মন্তব্য করেন।
জম্মু-কাশ্মিরে নিহত গেরিলাদের সংখ্যা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের দাবির নিন্দা করে ওমর বলেন, 'কেবল ওই সংখ্যাকে গোনা হয়েছে কিন্তু কত যুবক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তা গোনা হয়নি।’
২০১৫ সাল থেকে গত মাস পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মিরে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি-পিডিপি জোট সরকারের সমালোচনা করে ওমর বলেন, ‘২০১৫ সালে যখনই ওই জোট ক্ষমতায় এসেছে, তখন থেকে সন্ত্রাসবাদ নতুনভাবে সৃষ্টি হয়েছে। আমার আমলে (২০০৯/২০১৫) সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল ২০ জন কিন্তু গতবছর ওই সংখ্যা দুইশ’র উপরে চলে গেছে।’
কাশ্মিরে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি প্রসঙ্গে ওমর বলেন, ‘বলা হচ্ছে, প্রচুর সংখ্যক সন্ত্রাসী নাকি মারা হচ্ছে। কিন্তু আমি বলব, আরো সন্ত্রাসবাদী তৈরি করা হচ্ছে। যতদিন যাচ্ছে যুব সমাজের একাংশ উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকছেন ও বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী দলে নাম লেখাচ্ছেন। এরপর তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। এতে কৃতিত্বের কী আছে?’
তিনি বলেন, ‘গত বছরও দুইশ’র বেশি কাশ্মিরি তরুণ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে  যোগ দিয়েছে। এ বছর এখনও পর্যন্ত ওই সংখ্যা একশ’ ছাড়িয়ে গেছে।’
কাশ্মিরের ‘আজাদি’ প্রসঙ্গে ওমর বলেন, ‘কাশ্মিরের বিভিন্ন ধরনের মানুষের কাছে ‘আজাদি’র সংজ্ঞা আলাদা আলাদা। ‘আজাদি’ মানেই কিন্তু সকলের কাছে কাশ্মিরের স্বাধীনতা নয়। কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর শাসন থেকে ‘আজাদি’ বা মুক্তি চান। কেউ নিশ্চিন্তে চলাফেরার অধিকার চান।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা, নাতি-নাতনিরা যেন শান্তির পরিবেশে হেসেখেলে বেড়ে উঠতে পারে, আমার কাছে সেটাই ‘আজাদি’।’
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের সময় কাশ্মিরের উপরে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়নি বলে এদিন ওমর আবদুল্লাহ আক্ষেপ করেন।
কোলকাতায় ‘থিঙ্ক ফেডারেল’ নামে এক আলোচনা সভায় ওমর আবদুল্লাহ

বৃষ্টির ঘ্রাণ কেন ভালো লাগে আমাদের?

সম্প্রতি জানা গেছে, দীর্ঘ সময় শুষ্ক আবহাওয়ার পর বৃষ্টির পরমুহুর্তে সৃষ্ট ঘ্রাণ বিভিন্ন কারণে মানুষের স্নায়ুতে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরী করে।
এই ভালো লাগার পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াঘটিত বেশকিছু কারণ রয়েছে।
ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুত চমকানো - সবকিছুই বৃষ্টির সময়কার ভেজা মাটি ও নির্মল বাতাসের মনোরম সৌরভের অনুভূতি তৈরী করার পেছনে ভূমিকা রাখে।
ইংরেজিতে 'পেট্রিকোর' নামের এই সুঘ্রাণের উৎসের সন্ধানে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন বৈজ্ঞানিকরা। ভেজা মাটি
১৯৬০ সালে দু'জন অস্ট্রেলিয় গবেষক প্রথম এই নামকরণ করেন। বৃষ্টি যখন প্রথম শুষ্ক মাটি স্পর্শ করে তখন আমরা যে উষ্ণ, সোঁদা গন্ধ পাই তা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয় বলে জানান তারা।
যুক্তরাজ্যের জন ইনস সেন্টারের আণবিক জীবাণুবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক মার্ক বাটনার বলেন, "মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে আছে।"
বিবিসিকে তিনি বলেন, "আপনি যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পান তখন আসলে বিশেষ একধরণের ব্যাকটেরিয়ার তৈরী করা অণু গন্ধ পান আপন।"
জিওসমিন নামের ঐ অণু স্ট্রেপটোমাইস দিয়ে তৈরী হয়, যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে। বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করলে মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
অধ্যাপক বাটনার বলেন, "অনেক প্রাণীই এই গন্ধের বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও মানুষ এ সম্পর্কে অতিরিক্ত অনুভূতিশীল।"
এই গন্ধকে 'পেট্রিকোর' নাম দেয়া দু'জন গবেষক ইসাবেল বেয়ার আর আর.জি. থমাস ১৯৬০ সালে জানতে পারেন যে সেসময় ভারতের উত্তর প্রদেশে এই ঘ্রাণ আহরণ করে সুগন্ধি হিসেবে বিক্রি করা হতো 'মাটি কা আত্তর' নামে।
বর্তমানে সুগন্ধি তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে জিওসমিনের গন্ধ ভালবাসলেও, অনেকেই কিন্তু এর স্বাদ অপছন্দ করেন।
মানুষের জন্য এটি ক্ষতিকর না হলেও পানিতে বা ওয়াইনে সামান্য পরিমাণ জিওসমিনের উপস্থিতিও সহ্য করতে পারেন না অনেকেই। ডেনমার্কের আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেপ্পে নিয়েলসেন বলেন, "স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে যে মাত্রায় পাওয়া যায়, সেই পরিমাণ জিওসমিন মানুষের জন্য ক্ষতিকর না হলেও মানুষ কেন এর স্বাদ পছন্দ করে না সেসম্পর্কে এখনো কিছু জানি না আমরা।"
পেট্রিকোর:পরিভাষা
নেচার জার্নালে প্রকাশিত হওয়া বৈজ্ঞানিক ইসাবেল জয় বেয়ার ও রিচার্ড থমাসের ১৯৬৪ সালের প্রবন্ধ "ন্যাচার অব আর্গিলেশাস ওডর"এ প্রথমবার এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
গ্রীক শব্দ 'পেত্রোস' ও 'ইকোর' থেকে উদ্ভূত হয়েছে এই শব্দ। পেত্রোস অর্থ 'পাথর' আর ইকোর অর্থ 'ঈশ্বরের শিরায় প্রবাহিত তরল।'
গাছ
বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে অধ্যাপক নিয়েলসেন বলেন জিওসমিন তারপিনের সাথেও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গাছে উদ্ধৃত সুঘ্রাণের উৎস তারপিন।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানি গার্ডেনসের গবেষণা প্রধান ফিলিপ স্টিভেনসনের মতে বৃষ্টির কারণে এসব সুবাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। গাছে উপস্থিত যেসব রাসায়নিক সুগন্ধ তৈরী করে সেগুলো অনেকসময় পাতার মধ্যে তৈরী হয় এবং বৃষ্টির কারণে এগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে বায়ুতে নির্গত হয়।"
মি. নিয়েলসেন বিবিসিকে বলেন, "শুকনা ভেষজ গুড়া করলে যেমন তার ঘ্রাণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের পর বৃষ্টি হলে গাছের শুকিয়ে যাওয়া অংশগুলো থেকে নতুনভাবে সুবাস তৈরী হয়।"
অতিরিক্ত শুষ্কতার ফলে গাছের অভ্যন্তরীন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় গাছ নতুন সজীবতা পায় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সুঘ্রাণ ছড়ায়। বজ্রপাত
বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা রয়েছে।
বিদ্যুত চমকানোর কারণে বায়ুমন্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরী হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের একধরণের গন্ধ প্রতীয়মান হয়।
মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যারিবেথ স্টোলযেনবার্গ বলেন, "বিদ্যুৎ চমকানোর পাশাপাশি ঝড় এবং বিশেষত বৃষ্টির কারণে বাতাস পরিষ্কার হয়। যার ফলে বৃষ্টি পরবর্তী সুঘ্রাণও সহজে ছড়িয়ে পড়ে।"
সূত্রঃ বিবিসি

পাঠ্যবই ছাপার শুরুতেই গলদ ২০০ টন কাগজ বাতিল by নূর মোহাম্মদ

চলতি বছর পাঠ্যবই ছাপার শুরুতেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। বই ছাপার প্রাথমিক ধাপেই নিম্নমানের কাগজ দেয়ায় বাতিল করা হয়েছে ২০০ টন কাগজ। কাগজের জিএসএম ৬০ শতাংশের জায়গা ৫২ থেকে ৫৪ ডিএসএম দেয়ায় এ কাগজ বাতিল করা হয়। এদিকে নিম্নমানের কাগজ ও বইয়ের মান বাছাইয়ের জন্য পরিদর্শন এজেন্ট নিয়োগে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাক্রম বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তরের বইয়ে মান মনিটরিং করার জন্য প্রতি বছর পরিদর্শন এজেন্ট নিয়োগ দেয় এনসিটিবি। প্রাথমিক বই মনিটরিং-এর জন্য পরিদর্শন টিম স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হলেও মাধ্যমিক স্তরের পরিদর্শন টিম নিয়োগে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর  (ডিপিই) ও এনসিটিবিতে নিম্নমানের কাজের একাধিকবার কালো তালিকাভুক্ত ‘ব্যুুরু বাইডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আগামী দুই বছরের জন্য এ প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর ড. মিয়া ইনামুল হক রতন সিদ্দিকী মানবজমিনকে বলেন, নিম্নমানের কাজ ধরার জন্য পরিদর্শন এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়। ৭ হাজার টন কাগজের পরিদর্শন শুরু হয়েছে। কিছু কাগজ বাতিল হয়েছে। তাই পরিদর্শন এজেন্ট নিয়োগের বিষয়টি সব সময় গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
এনিসিটিবির বিতরণ শাখার তথ্যমতে, মাধ্যমিক স্তরের বই দুইভাগে ছাপানো হয়। প্রথম ভাগে কাগজ কিনে সিট মেশিনে বই ছাপানো হয়। ছোট প্রেসগুলো এ কাজ পেয়ে থাকে। এজন্য ৭ হাজার টন কাগজ ও আর্ট পেপার মিলিয়ে সর্বমোট ৮৩০০ টন কাগজের পরিদর্শনের কাজ পেয়েছে বসুন্ধরা পেপার মিল, আল নূর পেপার মিলসহ ৯টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শনের কাজ পেয়েছে কন্টিনেন্টাল বিডি। সবাই নির্ধারিত সময়ে কাগজ পরিদর্শনের চিঠি দিলেও ৩ হাজার টন কাগজের কাজ পাওয়া আল নূর পেপার মিলস কাগজ পরিদর্শনের চিঠি দেয় ১ মাস পর। ৩ হাজার টন কাগজের মধ্যে প্রথম ধাপে ২০০ টন কাগজ পরিদর্শন করতে গিয়ে পুরোটাই বাতিল করা হয়েছে। জিসিএম ৬০ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও তা মানেনি এ পেপার মিল। তারা ‘রি সাইক্লিং’ করে অত্যন্ত নিম্নমানের কাগজ দিয়েছে। জিএসএম ৬০ জায়গায় তারা ৫৫ থেকে ৫৬ জিএসএমের কাগজ দিয়েছে। এজন্য এসব কাগজ বাতিল করে এনসিটিবিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে এনসিটিবি সদস্য রতন সিদ্দিকী বলেন, কাগজ বাতিল হয়েছে এটা জানি। তবে কত সেটা দেখে বলতে হবে।
জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের জন্য চলতি বছর প্রায় ১৯ কোটি বই ছাপানো হবে। এসব বই ও কাগজ মনিটরিংয়ের জন্য প্রতি বছর পরিদর্শন এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়। এবারো গত ১২ জুন টেন্ডার দেয়া হয়। এতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকায় প্রথম হয় ‘হাই এইচ এস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকায় দ্বিতীয় হয় বালটিক বিডি লিমেটেড, ৮১ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় তৃতীয় হয় কন্টিনেন্টাল বিডি, ৮৭ লাখ ৬১ হাজার চতুর্থ হয় ব্যুরু বাইডার্স। আর ১ কোটি ৫ লাখ টাকা দিয়ে পঞ্চম হয় ‘সো বল্ড’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। গত বৃহস্পতিবার প্রথম তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে চতুর্থ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছে এনসিটিবি। চতুর্থ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ায় আইন ভঙ্গ ছাড়াও সরকারের ২২ লাখ টাকা অতিরিক্ত গচ্ছা যাচ্ছে।  
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজ পাওয়া ‘ব্যুরু বাইডার্স’ ২০১৬ সালে প্রাথমিকের বই পরিদর্শনের দায়িত্ব পায়। দায়িত্ব অবহেলা ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আঁতাত করে খারাপ কাগজের অনুমোদন দেয়া বই ছাপায় অনুমতি দেয়ায় পারফরমেন্স সিকিউরিটি ২০ শতাংশ প্রায় ৫৭ লাখ টাকা জরিমানা করে ডিপিই। তার আগে এনসিটিবিতে দুইবার কালো তালিকাভুক্ত ও আর্থিক অঙ্কের বড় জরিমানা করা হয় এ প্রতিষ্ঠানকে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছর কাগজের দায়িত্ব দেয়ার পেছনে কয়েকজন মুদ্রণ ব্যবসীয়া কলকাঠি নেড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরো কাজটি করেছে এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) শাহজাহান আলী, সচিব প্রফেসর ড. মো. নিজামুল করিম ও আনু হেনা নামের একজন কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) রতন সিদ্দিকী বলেন, প্রথমটি অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা নেই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের দরপত্রের চাহিদা অনুযায়ী মেশিন নাই। যেটি চতুর্থ প্রতিষ্ঠানের সে ধরনের মেশিন থাকায় তাদের কাজ দেয়া হয়েছে  এর বেশি তিনি জানেন না বলে জানান।
এ ব্যাপারে বিতরণ নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক মানবজমিনকে জানান, দরপত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি এতটুকু নিশ্চিয়তা দিতে পারি। তিনি বলেন, পরিদর্শন এজেন্ট নিয়োগের জন্য এনসিটিবি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করেছে। তাদের সবার সিদ্ধান্তে চতুর্থ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে।  
কর্মকর্তারা বলছেন, বালটিক বিডি গত দুই বছর ধরে মাধ্যমিক বইয়ের পরিদর্শন এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়। গত মাসের এ দুই বছরের ভালো পারফরমেন্সের জন্য সনদ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি গত এক যুগ ধরে এনসিটিবিতে নিয়মিত কাজ করছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালক আবদুল কাইয়ুম মানবজমিনকে বলেন, আমি ৩৫ বছর ধরে পরিদর্শন শাখায় কাজ করছি। আর এনসিটিবিতে এক যুগের বেশি। এবার কেন আমার প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হলো না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। একই মেশিন ও জনবল নিয়ে গত বছর কাজ করতে পারলে এবার কেন পারবো না তা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এবার যে প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে তা অনেকটা বিতর্কিত। আর কন্টিনেন্টাল বিডি গত বছরে সরকারের প্রায় এক কোটি টাকা সাশ্রয় করে প্রাথমিকের বইয়ের পরিদর্শনের কাজ পায়। আর চলতি বছর মাধ্যমিকের ৭ হাজার টন কাগজের পরিদর্শন করছে।

পুলিশ এখন ভোটারও খোঁজে by শান্তনা রহমান

ভোটের আয়োজন সম্পন্ন। সব ঠিকঠাক থাকলে তিন সিটিতে কাল ভোট। কেমন হবে এ ভোট। ভোট কি আদৌ হবে? নাকি ভোটের নামে হবে এক ধরনের মশকরা। এ প্রশ্ন এখন তিন সিটিতে। ভোটারদের প্রস্তুতি তিন রকমের।
এক. কী দরকার ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার। অযথা বিপদ ডেকে এনে লাভ কী? পুলিশ তো এখন ভোটারও খুঁজে বেড়ায়। মামলা, মোকদ্দমা, জেল! কেন এসব। তাই বাড়িতেই থাকি। আবার যদি কেউ দেখে ফেলে ভোটের দিন আমি দরজা বন্ধ করে ছিলাম তখনতো বিপদ হতে পারে। তাহলে কী করব? দেখি না কী হয়!
দুই. ভোটের দিন কেন্দ্রে যাব। ভোট দিতে পারলে দেব। না হয় ফিরে আসব। জানাজানি হয়ে গেছে সকালেই ভোট হয়ে যাবে। গায়েবি ভোটে নাকি বাক্সও ভরে যেতে পারে। তাতে কী? ভোট কেন্দ্র দেখতেও তো মজা। আরে ভাই এখন আর মজা নেই। এখন সমূহ বিপদ। যাব তাহলে কই? বাড়িতেও থাকতে পারব না। কেন্দ্রেও না। বৃন্দাবন যাই তাহলে।
তিন. জেল জুলুম ভয় ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে যাব। ভোট দেয়ার চেষ্টা করব। না পারলে মাথার চুল ছিড়ব। নেতাদের বলব, দেখুন আমি ঠিকই কেন্দ্রে এসেছিলাম। ভোট দিতে পারিনি। আমার কী দোষ! নেতা বলবেন, এটাইতো কমিটমেন্ট। এবার পারোনি তাতে কী? ভবিষ্যতে পারবে? ভোটের এই হাল হলো কেন? জবাব খুঁজে কোন লাভ নেই। একদা ভোট ছিল উৎসবের। এখন আতঙ্কের। এক সময় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিত। এখন লাইনে যায় ঠিকই, কিন্তু ভোট দিতে পারে না। পেশী শক্তির হাতে চলে গেছে ভোটের নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচন কমিশন ঠুটো জগন্নাথ। অনেকে বলেন, ঠিক নয়। কোন ক্ষেত্রে তারাও নেপথ্যের কারিগর। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ভোট এসেছিল দেশে। গায়েবি ভোট বিদায় নিয়েছিল। এখন আবার সেটা ফিরে এসেছে। সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম, উৎসবের নগরীতে ভোট আয়োজন। আম জনতার কথা, কোথায় উৎসব? আতঙ্কের নগরী। কী দরকার এই ভোটের?
এখন আবার নয়া ট্রেন্ড। রক্ত ঝরে কম। কবরের শান্তি থাকে। কিন্তু বাম হাতের কাজটা শান্তিপূর্ণভাবেই সেরে নেয়া হয়। আর এজেন্ট! তাদের কথা বলে কী লাভ? যতসব বিপদ তাদের জন্য। দলীয় নির্দেশ মানতে গিয়ে জেলে যেতে হয়। কিল ঘুষি খেতে হয়। মামলার জালে পড়তে হয়। ইদানিং সকালেই তাদের উঠিয়ে দূরের কোন জেলায় নিয়ে ফেলে আসা হয়। এজেন্ট ছাড়া সাচ্চা ভোট হয় কীভাবে? যেখানে অবিশ্বাসের পাল্লা ভারি। এটাতো পশ্চিমা দুনিয়া নয়। এজেন্টের কোন দরকার পড়ে না। পুলিশেরই বা কী প্রয়োজন? কেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন। কেউ কোন প্রশ্ন করবে না। এখানে রক্তের গ্রুপ দেখা হয় এ না বি। পুলিশকে ভোটের নেশায় পেয়ে গেছে। ওরা শিখে গেছে কীভাবে ভোট দিতে হয়। ভোটের এলাকা দখলে নিতে হয়। এই যখন অবস্থা তখন খালি খালি ভোটের আয়োজন করে কী লাভ? নির্বাচন বাদ দিয়ে সিলেকশনে গেলেই হয়। যে দল ক্ষমতায় থাকবে সারা দেশই হবে তার। এই ভোট তো আর ক্ষমতার পালাবদল ঘটায় না। তাই কোটি কোটি টাকা খরচের কী প্রয়োজন? শান্তির বদলে কেন এই হিংসা হানাহানি। আর যদি স্থানীয় স্তরে নির্বাচন করতে হয় তাহলে দলীয় প্রতীক বাদ দিন। তাহলে কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন। তখন মানুষ ভোটে আগ্রহী হবে। বেছে নেবে তাদের পছন্দের লোক। এখন তো কলাগাছেও ভোট দিতে হয়। না দিলেও পাশ করে যায়। কেন যে এই নিয়মের ব্যতয় ঘটানো হলো? মানুষ এমনিতেই ভোটের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। তরুণরা দেশের শক্তি। তারা এখন হতাশ। ভোট কেন্দ্রে যেতে মোটেই আগ্রহী নয়। একটি বিদেশী সংস্থা জরিপ করে দেখিয়েছে ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে যাদের বয়স তারা আর ভোট কেন্দ্রে যেতে চায় না। রাজনীতির প্রতি তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এটা দেশের জন্য ভাল নয়। রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি বিদায় নেবে এটাই কি স্বাভাবিক! এটাই কি নিয়তি!
২৯শে জুলাই, ২০১৮

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের একের পর এক মিথ্যাচারের স্বরূপ: পর্ব-এক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮মে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর চুক্তিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুবার পরমাণু সমঝোতাকে এক ধরনের মিথ্যাচার ও সবচেয়ে খারাপ চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি শুধু যে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছেন তাই নয় একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার একদিন পর এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "ট্রাম্পের বক্তব্য খুবই হাল্কা ও অপরিপক্ক এবং তিনি অন্তত ১০টি মিথ্যা বলেছেন। ট্রাম্প ইরানকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেছেন, "ট্রাম্পের এ মুর্খতাপূর্ণ আচরণ আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত নয় এবং আমেরিকার আগের প্রেসিডেন্টদের মধ্যেও এ ধরণের আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।"
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অজুহাতে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে ট্রাম্পের এই মিথ্যাচারের স্বরূপ উন্মোচিত হওয়া দরকার। খোদ পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো পরমাণু ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মিথ্যাচারিতার প্রতিবাদ জানিয়েছে। মার্কিন স্কাই নিউজ টিভি চ্যানেলের ওয়েব সাইটে লেখা হয়েছে, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো এ জন্য গর্ববোধ করেন যে, কোনো কিছু যেভাবে আছে সেভাবেই তিনি বলেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, প্রায় প্রতিদিনই তিনি এমনসব কথাবার্তা বলছেন যার সাথে বাস্তবতার মিল নেই।" 
নানা বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে মিথ্যাবাদী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন এবং একের পর এক তার মিথ্যাচারিতা ও আক্রমণাত্মক কথাবার্তা সবাইকে চিন্তিত করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যকে মিথ্যাচারিতা, বাড়াবাড়ি কিংবা ভুল যাই বলা হোক না কেন আমেরিকার মতো বৃহৎ ও প্রভাবশালী একটি দেশের প্রেসিডেন্টের এমন আচরণ কাঙ্ক্ষিত নয় এবং তা সবার জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ দানিয়েল দালি তার টুইটার বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি পরিমাণ মিথ্যা কথা বলেছেন তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, "ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৪৮৬টি মিথ্যা কথা বলেছেন।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ইরানের সক্ষমতা বজায় থাকার দাবি করে বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিয়েছে এবং দেশটি মারণাস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে তিনি দাবি করেছেন।" এটা ঠিক যে, পরমাণু সমঝোতার কারণে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখতে পারছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এবং ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরান মারণাস্ত্র তৈরির কাছাকাছি চলে যাবে বলে দাবি করেছেন। অথচ ইরান পরমাণু সমঝোতায় উল্লেখিত সীমাবদ্ধতাগুলো মেনে নিয়েছে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য যেসব চুল্লি বা অবকাঠামো দরকার তা ইরান তৈরি করেনি। আমেরিকার সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী ও পরমাণু আলোচক আর্নেস্ট মিউনিজ বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের কারণে ইরানের মারণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা দুই মাস, তিন মাস কিংবা অন্তত এক বছর পিছিয়ে গেছে।"
অথচ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ বহুবার ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে ঘোষণা দিয়েছে। পরমাণু সমঝোতার আগে থেকেই আন্তর্জাতিক পরিদর্শক দল নিয়মিত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর নজরদারি করত। কিন্তু তারা কখনই পরমাণু ক্ষেত্রে ইরানের বিচ্যুতির কোনো প্রমাণ পায়নি। এ কারণে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করছেন তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা বহুবার বলেছেন, ধর্মীয় বিধি-নিষেধ এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ফতোয়া অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার হারাম বলে যে ফতোয়া দিয়েছেন ২০১১ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তার পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, "পরমাণুসহ জীবাণু ও রাসায়নিকের মতো যে কোনো মারণাস্ত্র যা কিনা মানবতার জন্য মারাত্মক হুমকি তা ব্যবহার করা হারাম বলে আমরা বিশ্বাস করি।"
পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরেকটি যে বড় ধরণের মিথ্যাচার করেছেন তা হচ্ছে, তিনি দাবি করেছেন, "ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে তা যথেষ্ট নয়।" অথচ পরমাণু সমঝোতার নীতিমালার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ট্রাম্পের এ সংক্রান্ত দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেননা ইরানের সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা ২০ হাজার থেকে পাঁচ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন দশমিক ৬৭ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া, পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরান বহুসংখ্যক সেন্ট্রিফিউজের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি আরাক হেভিওয়াটার প্রকল্পের নক্সায়ও পরিবর্তন আনার বিষয়টি ইরান মেনে নিয়েছে। এ ধরণের আরো বহু সীমাবদ্ধতা ইরান মেনে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেছেন, "ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের অতি ক্ষুদ্র তৎপরতাও তাদের কঠিন নজরদারির মধ্যে রয়েছে।"  আমেরিকা দাবি করছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর আইএইএ'র নজরদারি ব্যর্থ হয়েছে অথচ আইএইএ এ পর্যন্ত  তিন হাজার দিবস পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মিথ্যাচারিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে, তিনি দাবি করেছেন, "পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা থেকে ইরানকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল।" তিনি এও বলেছেন, "পরমাণু সমঝোতার মতো একটি অকার্যকর চুক্তি দিয়ে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা ঠেকানো সম্ভব হবে না এবং এ ক্ষেত্রে ইরানকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি যোগ্যতাও আইএইএ'র নেই।" এমনকি ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করার সুযোগ চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন।
অথচ পাশ্চাত্যের শীর্ষ নেতারা ও কূটনীতিকরা ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজরদারি করার জন্য পরমাণু সমঝোতাকে সবচেয়ে উপযুক্ত ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা বলে মনে করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার অভিযোগগুলো প্রমাণের জন্য দখলদার ইসরাইলের দাবিকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পরমাণু সমঝোতা থেকে ট্রাম্পের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার কয়েক দিন আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কিছু ছবি ও সিডি দেখিয়ে ইরানকে মিথ্যাবাদী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য তিনি দাবি করেছিলেন দেশটি মারণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছ।
আইএইএ'র প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেছেন, ২০০৯ সালের পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে বিচ্যুতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে আমেরিকা ও ইসরাইল যে দাবি করে আসছে তেহরান বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।

মমতাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য দলও প্রচার শুরু করেছে

পশ্চিমবঙ্গর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখে এখনও বলেন নি, তিনি প্রধানমন্ত্রীর দাবিদার। তবে তার মনের ইচ্ছের কথা জানতে পেরেছে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আর তাই তারাই মমতাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য প্রচার শুরু করে দিযেছেন। মাত্র দুদিন আগে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা কলকাতায় এসে মমতার সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়ে গিয়েছেন, দিদিকে রাজ্যে আটকে রাখলে হবে না, দিদিকে দিল্লি নিয়ে যেতেই হবে। আর এবার তৃণমূর কংগ্রেসের নেতারা সমস্বরে জানিয়েছেন দিদিকে তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দেখতে চান। মাত্র দশ দিন আগে মেদিনিপুরের যে কলেজিয়েট মাঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মমতার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন সেই মাঠেই শুক্রবার সভা করে মমতাকে প্রধানমন্ত্রী করার ডাক দিয়ে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, দিদির বিকল্প নেই। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই দেশে বিরোধী জোট হবে। তবে সবচেয়ে জোরোলোভাবে পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু বাংলার নেত্রী নন, বিশ্ববন্দিত নেত্রী। আমরা বাঙালি প্রধানমন্ত্রী চাই। দিদিকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। সম্প্রতি কলকাতায় এক সভা থেকে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতাই। জানুয়ারিতে সব বিরোধীদলকে নিয়ে ব্রিগেড সমাবেশের দিনও ঘোষণা করেছেন তিনি। সেই সুর আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে গিয়ে মমতাকে প্রধানমন্ত্রী করার যে ঘোষণা এ দিনের সভা থেকে করা হয়েছে তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর প্রতিজ্ঞা নিযে মমতা বেশ কিছুৃদিন ধরেই ফেডারেল ফ্রন্ট গঠনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। কয়েকদিনের মধ্যে দিল্লি গিয়ে ফের বিরোধী জোট নিয়ে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিতে চাইছেন মমতা। বিজেপিকে হারাতে নির্বাচনে একের বিরুদ্ধে এক ফর্মুলাও দিয়েছেন। তাই মমতাই দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী জোটের অন্যতম কারিগর হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি কংগ্রেস থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে মমতা প্রধানমন্ত্রী হলে কংগ্রেস তা মেনে নিতে রাজি। নিজের ওজন বাড়াতে তাই মমতা পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ৪২টিই পাওয়ার জন্য দলের নেতা কর্মীদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দল যেভাবে মমতাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য প্রচার শুরু করেছে তা মমতার অনুমোদন নিয়েই হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারনা। কেননা, তৃণমূল কংগ্রেসে মমতার সবুজ সঙ্কেত ছাড়া কোনও নেতাই আগ বাড়িয়ে কোন কথা বলেন না।

কী বার্তা দেয় পাকিস্তানের নির্বাচন by মিসবাহুল হক

২৫শে জুলাই বুধবার পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ন্যাশনাল এসেম্বলির ২৭২টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৬৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ প্রথমবারের মতো একক দল হিসেবে সর্বাধিক আসনে জয় পেয়েছে। এ দিক দিয়ে বুধবারের নির্বাচনকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করা যায়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই দু’দলের মধ্যে আধিপত্যের পালাবদল হয়েছে। কখনো ভুট্টো পরিবারের পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) আবার কখনো নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) পিটিআই দেশটিতে শাসন করেছে। এবার ইমরান খানের দল পাকিস্তানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা দুই দলের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছেন। প্রথমবারের মতো পিপিপি ও পিএমএল-এন এর বাইরে কোনো দল দেশটির শাসন ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর সিংহভাগ সময়ই দেশটি সামরিক বাহিনী দ্বারা শাসিত হয়েছে।
বুধবারের নির্বাচনে পিটিআই নতুন দল হিসেবে দেশ পরিচালনা করার ম্যান্ডেট পেয়েছে। ন্যাশনাল এসেম্বলিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলেও ইমরান খান পরবর্তী সরকার গঠন করবেন তা প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। কেননা অন্য ছোট দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নতুন সরকার গঠন তার জন্য কঠিন কিছু হবে না। দু’টি বিষয় পিটিআইয়ের ঐতিহাসিক বিজয়কে সম্ভব করেছে। প্রথমত, পিটিআই দক্ষিণ ও উত্তর পাঞ্জাবে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ এ অঞ্চলটি পিএমএল-এন এর রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। সেখানে তারা নওয়াজ শরীফের দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে। দ্বিতীয়ত, পিটিআই খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়েছিল পিটিআই। এবারের নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এদিকে, করাচিতে ৩৫ বছর ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছিল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম)। এই অঞ্চলটি তারা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতো। কিন্তু ২০১৩ সালে দলটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে সেখানে অভিযান চালানো হয়। দলটির শীর্ষ স্থানীয় কয়েক ডজন নেতা-কর্মীকে জেলে ঢুকানো হয়। চূড়ান্তভাবে দলটির মধ্যে বিভক্তি ঘটানো হয়। লন্ডনে নির্বাসনে থাকা দলটির প্রধান আলতাফ হোসেইন নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। ফলে এবারের নির্বাচনে সেখানে প্রথমবারের মতো অন্য দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। সেখানকার ২১টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয় পেয়েছে পিটিআই। এমনকি করাচিতে পিপিপি প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকেও পরাজিত করেছে পিটিআই। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সুন্নী মুসলিমদের প্রভাবশালী দল হিসেবে নিজেদের ভিত আরো মজবুত করেছে পাকিস্তানের ডানপন্থী দল তেহরিক-ই লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)। দলটি সিন্ধুর প্রাদেশিক পরিষদে ২টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে ন্যাশনাল এসেম্বলি নির্বাচনে বেশিরভাগ আসনেই বেশ ভালো ভোট পেয়েছে দলটি। অপ্রত্যাশিতভাবে ন্যাশনাল এসেম্বলিতে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দলের তালিকায় টিএলপি বেশ এগিয়ে রয়েছে।
যদিও পিএমএল-এন ও অন্য বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে। তবে দেশটির নির্বাচন মিশন ইসিপি এসব অভিযোগে তেমন কর্ণপাত করেনি। ইসিপি অভিযোগকারীদের প্রমাণ হাজির করতে বলেছে। বিরোধীদের অভিযোগ মূলত ভোট গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্তত ছয়টি রাজনৈতিক দল দাবি করেছে, ভোট গণনার সময় তাদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত ভোট গণনার সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। পাকিস্তানের বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা ফাফিন বলেছে, অন্তত ৩৫টি আসনে বিজয়ী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দ্বারা বাতিলকৃত ভোটের তুলনায় কম ছিল। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, নির্বাচনে আইন মেনে চলার বিষয়ে পাকিস্তানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু মোটের ওপর নির্বাচনে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সবাই সমানভাবে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে পিটিআই প্রধান ইমরান খান বলেছেন, তার দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির বিষয়ে যেকোনো তদন্তে পূর্ণ সহায়তা করবে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনী। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী দেশজুড়ে তাদের ৩ লাখ ৭১ হাজার সদস্য মোতায়েন করে। এত বেশি পরিমাণে সেনা মোতায়েন আগের নির্বাচনগুলোতে দেখা যায়নি। বুধবারের নির্বাচনে দেশের ৮৫ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেনা সদস্যরা। পাশাপাশি সেখানে বেসামরিক নিরাপত্তাকর্মী ও নির্বাচনী কর্মকর্তারাও নিয়োজিত ছিলেন। সব ভোট কেন্দ্রেই জনসাধারণের প্রবেশ ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এমনকি কয়েক জায়গায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকার পরেও গণমাধ্যমকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা নির্বাচনে সরাসরি কোনো প্রভাব বিস্তার করেনি। সেনা সদস্যরা শুধুমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তবে পিটিআই ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ তুলেছে, সেনাবাহিনী সরাসরি ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষরা এই বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন করেননি। তারা বলেছেন, ভোট গণনার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তথ্য সংরক্ষণ করেছেন ও পরে ফল প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন যারা-
যেভাবেই বলা হোক না কেন, দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন দল পিপিপি এখন অবস্থানগতভাবে পাকিস্তানের তৃতীয় দলে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, জমিয়তক উলেমা ইসলাম ফজল (জেইউআই-এফ), জামাতে ইসলামি ও অন্য কট্টরপন্থী দলগুলোর শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। সারা দেশে এসব দল মাত্র ১৩টি আসনে জয় পেয়েছে। করাচিতে আধিপত্য হারানো এমকিউএমের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি। অন্যদিকে, পশতুন জাতীয়তাবাদীদের দল আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টিও নির্বাচনে বেশ খারাপ অবস্থানে রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচন পাকিস্তানে রাজনৈতিক স্থীতিশীলতা আনতে পারে কিনা সেটিই দেখার বিষয়। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে শুধু জেইউআই-এফ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তারা পিএমএল-এন এর সঙ্গে মিলে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করছে। আর নীরব থেকে পিপিপি ভোটের ফলাফল অনেকটাই মেনে নিয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনে জয় পাওয়া পিটিআই তাদের নতুন সরকারে কোন দলকে রাখা হবে তা নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছে। সিন্ধুতে বিএপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে পিটিআইর প্রাদেশিক সরকার গঠনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আর জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় প্রদেশ পাঞ্জাবে পিএমএল-এন এর সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করেছে পিটিআই। সেখানে পিএমএল-এনও প্রাদেশিক সরকার গঠন করতে পারে। বাস্তবেই যদি পিএমএল-এন একটি প্রদেশের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে কেন্দ্র সরকারেও তারা পিটিআইয়ের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হবে।

বাড্ডা ইউলুপ-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর উন্নয়নে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমগ্র ঢাকাকে ঘিরে একটি এলিভেটেড রিং রোড  নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যানবাহন রাস্তা দিয়ে নয়, উপর দিয়েই যাবে- এইভাবে একটা এলিভেটেড রিং রোড আমরা নির্মাণ করে মানুষের যোগাযোগটা যাতে আরো সহজ হয় সেই ব্যবস্থাও আমরা করে  দেবো। গতকাল বিকালে রাজধানীর রামপুরা-বাড্ডা-প্রগতি সরণি এলাকায় হাতির ঝিল প্রকল্পের নর্থ ইউ লুপ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ইউ লুপটি উদ্বোধনের পর পুরো এলাকাটি ঘুরে দেখেন এবং এটি উদ্বোধনের পর পরই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এটি নির্মাণ করে। ৫৫৮ দশমিক ৫০ মিটার  দৈর্ঘ্যের এই ইউ লুপটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ  হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম রহমত উল্লাহ এবং সেনাবাহিনী প্রধান  জেনারেল আজিজ আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। হাতির ঝিল প্রকল্পের প্রকল্প মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাইদ মোহম্মদ মাসুদ অনুষ্ঠানে ইউ লুপ প্রকল্পটির ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম ৮ লেনের মহাসড়ক চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। যেটা শিগগিরই ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। ঢাকা-সিলেট রোডও ছয় লেন করা হবে।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দেশের প্রথম মেট্রো রেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো রেল চালু হবে। অবশিষ্ট অংশ ২০২০ সালের মধ্যে চালু হবে ইনশাআল্লাহ্‌।
তিনি বলেন, গাজীপুর-বিমানবন্দর বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৪০ কি.মি. পাতাল রেল এবং পূর্বাচল হতে কুড়িল পর্যন্ত ১০ দশমিক ২০ কি.মি. মেট্রো রেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, রেল এখন মাটির নিচ দিয়েও যাবে আবার উপর দিয়ে যাবে। দুইদিকেই আমরা করছি। হেমায়েতপুর হতে গাবতলী, মিরপুর, গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৬০ কি.মি. এমআরটি লাইন-৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই লাইনেও শহর এলাকায় ১৩ দশমিক ৬০ কি.মি. পাতাল রেল নির্মাণ করা হবে।
হাতির ঝিল প্রকল্প রাজধানীর যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঢাকার শহরের অভ্যন্তরে এই হাতির ঝিল প্রকল্প বাস্তায়নের ফলে এই এলাকার বর্জ্য মিশ্রিত পানিতে নিমজ্জিত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং এই বিষাক্ত পরিবেশকে সবুজের সমারোহ দিয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে গড়ে তোলা হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানীতে মানুষের আগমন বাড়ার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে ঘিরে যেমন রিং রোড করবো পাশাপাশি ঢাকার আশেপাশে ছোট ছোট শহর গড়ে তুলবো। যে শহরগুলো হবে বহুতল ভবন বিশিষ্ট। যে সব ভবনে সব ধরনের সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা থাকবে। সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁর সরকার রেল যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে যাতে চট্টগ্রামে পৌঁছানো যায় সে জন্য আমরা বুলেট ট্রেন (দ্রুতগামী ট্রেন) চালু করবো। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকা থেকে সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল একেবারে পায়রা বন্দর পর্যন্ত এবং ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত এই ট্রেন চালু করা হবে, যার ভেতর খুলনা ও কভার হবে। ঢাকার নৌযোগাযোগকে সমপ্রসারণে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা যেই চারটি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত সেই নদীগুলোকে ড্রেজিং করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। ছোট ছোট ব্রিজগুলো পুনঃনির্মাণ করে নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের উপযোগী করা হবে। তিনি বলেন, সেই সঙ্গে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরো উন্নত করে হাতির ঝিলের এই খাল এবং গুলশান, বনানীর খালগুলোর সঙ্গে সংযোগ খাল খনন করে নদীর সঙ্গে সংযোগ করে দেয়া হবে। যাতে এসব খালগুলোর পানি প্রবাহটা ভালো থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই আমরা তাঁদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। একটানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আছি বলেই উন্নয়নের কাজগুলো করতে পেরেছি। আর আমাদের লক্ষ্য দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যেন দেশটা আরো উন্নত-সমৃদ্ধ হয়। নৌকা মার্কায় ভোট দিলে কেউ বঞ্চিত হয় না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে হাতির ঝিল, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভওয়ে নির্মাণ, পদ্মা সেতু নির্মাণসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সুচারুরূপে সম্পাদনে সহযোগিতা করায় সেনবাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

কানে মোবাইল ফোন ডেকে আনছে বিপদ by শুভ্র দেব

মোবাইল ফোন এখন প্রায় সব মানুষের নিত্যসঙ্গী। এক মুহূর্তের জন্য ফোনটি না হলে যেন চলেই না। অতি প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনটি আবার অনেকের জন্য ডেকে আনছে বড় বিপদ। কানে ফোন নিয়ে রেললাইন বা রাস্তা পার হতে গিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। কানে ফোন নিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে অন্যের জীবন কেড়ে নিচ্ছে কেউ কেউ। অতি মাত্রায় ফোন ব্যবহারে নিজের অজান্তেই ক্ষতি ডেকে আনছেন এর ব্যবহারকারী। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সক্রিয় সংযোগ বা সিমের সংখ্যা এখন ১৫ কোটির কাছাকাছি। আর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ৯ কোটি ছাড়িয়েছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোবাইল ফোনে কথা বলে বা কানে হেড ফোন লাগিয়ে গান অথবা কথা বলার জন্য যতগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশই রেললাইনে। অসচেতনভাবে রেললাইন দিয়ে চলাফেরার জন্য এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মোট ১৪২ কিমি রেলপথে ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সালের ১৫ই মে পর্যন্ত কানে মোবাইল ফোন ও হেডফোন দিয়ে রেললাইন ধরে চলাচলের জন্য মৃত্যু হয়েছে ৪৮৪ জনের। মোবাইল ফোন ও কানে হেডফোন দিয়ে চলাচলে মৃত্যুতে নারী-পুরুষসহ সব বয়সের মানুষ ছিল। এর মধ্যে ২০১০ সালে কানে মোবাইল ফোন ও হেডফোনের কারণে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। ২০১১ সালে ২১, ২০১২ সালে ৫২, ২০১৩ সালে ৬৭, ২০১৪ সালে ১০৯, ২০১৫ সালে ১২০, ২০১৬ সালে ৩২, ২০১৭ সালে ৫৪ ও ২০১৮ সালের ১৫ই মে পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।
গত সপ্তাহের সোমবারের ঘটনা। ঢাকার খিলক্ষেতের লা মেরিডিয়ানের সামনের রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে কথা বলছিলেন জুয়েল আখন্দ (২৫) নামের এক যুবক। তখন কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন জুয়েলের কাছাকাছি চলে আসে। কিন্তু সেদিকে তার কোনো লক্ষ্য ছিল না। আশেপাশের লোকজনের ডাকাডাকিতে সে সরে দাঁড়ায় ওই রেললাইন থেকে। গভীর কথা বলায় মগ্ন থাকায় সে পাশে থাকা আরেকটি রেললাইনে গিয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তখনই বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা আরেকটি ট্রেন জুয়েলকে ধাক্কা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়। জুয়েল স্যানেটারি কাজের জন্য কিছুদিন আগে ঢাকায় এসেছিল। তার বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন মাইন হাসান (১৬)। ঠিক তখনই ঢাকা-ঈশ্বরদী রেললাইন দিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর ট্রেনটি মাইনকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ২রা জুলাই গাইবান্ধা উপজেলায় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের হাজীরঘাট রেললাইন দিয়ে মোবাইলে কথা বলে যাচ্ছিলেন এক শিক্ষার্থী। কথা বলায় মনযোগ থাকায় পেছন থেকে আসা একটি ট্রেন মনিরা আক্তারকে কেটে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সে লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের উপ- মহাপরিদর্শক মো. শামসুু উদ্দিন বলেন, রেললাইনে শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার নয় আরো নানা কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছে মানুষ। আমরা এসব দুর্ঘটনা এড়াতে মানুষকে সচেতন করে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিং, রেললাইনের আশেপাশের এলাকায় সচেতনতামূলক সভা নিয়মিত করে থাকি। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু মূল বিষয়টা হচ্ছে যারা রেললাইন দিয়ে চলাচল করে থাকেন তাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। তা না হলে এধরনের ঘটনা বন্ধ করা যাবে না।
ইদানীং বাসার ছাদে উঠে মোবাইল ব্যবহার করায় বেশ কিছু দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অসচেতনভাবে ছাদে উঠে কথা বলায় মগ্ন থাকায় ছাদ থেকে পড়ে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। চলতি বছরের ২৫শে এপ্রিল মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় একটি বাসার ছাদে মোবাইলে কথা বলতে বলতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। তার নাম স্বপন সরদার (২৫)। ওই দিন সে ছাদের কিনারায় মোবাইলে কথা বলছিল। কথা বলার একপর্যায়ে সে তিন তলার উপরের ছাদ থেকে পড়ে যায়। ২রা জুলাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী হলের দোতলার ছাদ থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম বায়োজিদ বোস্তামি (২২)। সে টাঙ্গাইলের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বায়োজিদ ওই দিন ছাদের রেলিং এ বসে কথা বলছিল। কথা বলতে বলতে অন্যমনস্ক হয়ে সে দোতলার ছাদ থেকে পড়ে যায়। মারাত্মকভাবে আহত হলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আর বিভিন্ন যানবাহনের চালক চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করায় অহরহ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চালকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন। অনেক সময় মোবাইলে কথা বলায় মনযোগ থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। গত বছরের ২৬শে সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের নাগরকান্দা উপজেলায় এক হাতে মোবাইল ফোন কানে আরেক হাতে স্টিয়ারিং ধরে বাস চালাচ্ছিলেন এক চালক। এ সময় ওপর দিক থেকে আসা একটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে তোনারতরী নামের ওই বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তখন বাসটির ধাক্কায় তিনজন পথচারীর মৃত্যু হয়। বাসের অন্যান্য যাত্রীরা জানিয়েছেন, বাস স্টার্ট করার পর থেকেই চালক মোবাইলে কথা বলছিলেন। যাত্রীরা একাধিকবার বাধা দিলেও চালক শুনেননি।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ছে আশঙ্কাজনক ভাবে। ডিজিটাল দুনিয়ার মানুষ মোবাইল ছাড়া নিজেকে অচল ভাবে। রিকশাচালক, দিনমজুর থেকে শুরু করে অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সর্বত্রই মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ছে। ইদানীং কম বয়সী ছেলে মেয়েদের মাঝেও মোবাইল ফোনের আসক্তি বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম বয়সে মোবাইল ব্যবহার শিশুদের মানস গঠনের পাশাপাশি লেখাপড়া ও তার চিন্তা চেতনায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে শারীরিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
মোবাইল ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যে নানা জরিপ করেছে দেশি-বিদেশি নানা সংগঠন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস রিভিউ সাময়িকী থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে ৩৯ শতাংশ তরুণদের মোবাইল ফোনে আসক্তি ছিল। যা ২০১৪ সালে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। আর ২০১৮ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে তরুণ পেশাজীবীরা সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় করেন। যা কর্মক্ষেত্রে অনেক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে আরো ১০ ঘণ্টা বেশি ডুবে থাকেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে জানা যায়, ৪৬ শতাংশ মুঠোফোন ব্যবহারকারী ‘ফোন ছাড়া বাঁচবোই না’ বলে মনে করেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, তরুণেরা এখন মোবাইল ফোনকে তাদের শরীরের অঙ্গই মনে করেন।
ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখেছেন, মুঠোফোনে আসক্ত ব্যক্তিদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। শতকরা ৬৩ শতাংশ মানুষ ঘুম থেকে উঠেই স্মার্টফোনে আগে চোখ রাখেন। মুঠোফোনে আসক্তিকে পিসিম্যাগ প্লেগ রোগের সঙ্গে তুলনা করা হয়। বেশ কয়েক বছর আগে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৯ জন মা-বাবা এবং তাদের ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানদের মধ্যে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেন। এতে দেখা গেছে, নানান প্রযুক্তি সন্তান ও অভিভাবকদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করছে। জরিপে দেখা যায়, শুধু খাবার টেবিল নয়, গাড়ি চালানোর সময় স্মার্টফোন ব্যবহারেও বিরক্ত হয় সন্তান। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিভাবকদের অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং শেয়ারিংয়ের অভ্যাসগুলো একদমই পছন্দ করে না সন্তানেরা।
সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, স্মাট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোন হাতে নেন। ওই ব্যবহারকারীরাই আবার দিনে ১১০ বার মোবাইল চেক করেন। ৫৬ শতাংশ মানুষ ঘুমানোর আগেও চেক করেন। ৬১ শতাংশ মানুষ বালিশের নিচে বা পাশে রেখে রাতে ঘুমান। ভুল করে বাড়িতে ফোন রেখে বের হলে ৫০ শতাংশ ব্যবহারকারী বেশ অস্বস্তিবোধ করেন। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে ৫৬ শতাংশ চালক যানবাহন চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার করেন। আর ৭৫ শতাংশ ব্যবহারকারী চলন্ত অবস্থায় এসএমএস আদান-প্রদান করেন। যার কারণে ২৬ শতাংশ গাড়ি দুর্ঘটনার জন্য মোবাইল ফোনই দায়ী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, মোবাইল ফোনে কথা বলা গানশুনে যতগুলো মৃত্যু হচ্ছে তার অধিকাংশ টিনএজার। জীবনের প্রতি যাদের মায়া নাই শুধুই ফ্যান্টাসিতে ভোগে। কারণ এখনকার ছেলে মেয়েরা তাদের পরিবারের কাছে কোনো কিছুই শেয়ার করে না। সব কিছুই নিজের মধ্যে চেপে রাখে। এর কারণ হিসেবে এই মনোবিদ বলেন, এখনতো সেই পরিবেশ নাই। বাসা, স্কুল, কলেজে আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে পারি নাই। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি ‘ভয়াবহভাবে’ চুমু দিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস’র শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান লেস মুনভিসের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী ইলিয়ানা ডগলাসসহ কমপক্ষে ৬ জন নারী। তাদের অভিযোগ তিনি তাদেরকে ‘ভয়াবহভাবে’ চুমু দিয়েছেন। ইলিয়ানা বলেছেন, তার শারীরিক এ নিপীড়ন ছিল ভয়ঙ্কর। তিনি এতটাই চুমু দিয়ে লেগে থাকতেন যে তাকে আমি সরাতে পারতাম না। ওই ৬ জন নারীই বলেছেন, তারা তখন কথা বলতে পারেননি। কারণ তারা মনে করেছিলেন তাদের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্য নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনে খবর প্রকাশ করার পর সিবিএস কর্তৃপক্ষ অভিযোগের তদন্ত করার কথা বলেছে। লেস মুনভিসের পক্ষে একটি বিবৃতি দিয়েছে সিবিএস।
তাতে বলা হয়েছে, ইলিয়ানা ডগলাসকে চুমু দেয়ার চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মুনভিস। তবে তাকে যৌন হয়রানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিবিএস বলেছে, তারা অভিযোগের তদন্ত করছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ অ্যাকশন নেবে। ওদিকে লেস মুনভিস (৬৮) নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনকে বলেছেন, অতীতে তিনি হয়তো কোনো কোনো নারীকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছিলেন। এটা ছিল ভুল। এ জন্য তাদের কাছে তিনি ভীষণ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি সব সময় জানতাম এবং শ্রদ্ধা করতাম যে ‘না’ মানে ‘না’। অর্থাৎ কোনো নারী না বললে তার দিকে তিনি অগ্রসর হতেন না। তিনি আরো বলেছেন, কারো ক্যারিয়ার ক্ষতি করা বা তাকে হয়রানি করতে কখনোই আমি আমার পদের অপব্যবহার করিনি।
ওদিকে এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর সিবিএস নেটওয়ার্কের শেয়ারের দাম শুক্রবার পড়ে গেছে শতকরা ৬ ভাগ। লেস মুনভিসের বিরুদ্ধে এই ৬ নারীর অভিযোগ প্রকাশ করেছেন রোনান ফারো। তিনি হলিউড প্রযোজক হারভে উইনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ করে এ বছর জিতেছেন পুলিৎজার পুরস্কার। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিবিএস বস যে ৬ জন নারীর সঙ্গে যৌন হয়রানি করেছেন তা ঘটেছিল ২০ বছরেরও বেশি আগে। এ বিষয়ে তদন্ত করছে সিবিএসের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টরস। যেহেতু অভিযোগটি কয়েক দশক আগের তাই এ বিষয়ে তদন্ত শেষে যে সিদ্ধান্ত আসবে পরিচালনা পরিষদ তা পর্যালোচনা করবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন

কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের লড়াই শেষে বিজয়ী হয়েছেন চারজন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ১২ জন সাধারণ কাউন্সিলর। এর মধ্যে ১০ জন ক্ষমতাসীন দল, সংরক্ষিত এক নারী কাউন্সিলরসহ ৩ জন বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল মতে, আর সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডে ৫৯৬১ ভোটে শাহিনা আকতার পাখি জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতেমা পেয়েছেন ৩৮৪৩ ভোট। ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডে ৭০৮৯ ভোটে ইয়াসমিন আক্তার জয় পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫৬২৮ ভোট। ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডে ৫৯১৭ ভোটে জাহেদা আক্তার জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বীপ্তি শর্মা পেয়েছেন ২৯৩২ ভোট এবং ১০, ১১, ১২ নং ওয়ার্ডে ৩৮৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নাসিমা আকতার বকুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান কাউন্সিলর কোহিনুর পেয়েছেন ৩৩১২ ভোট।
সাধারণ- ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ হাজার ১৭৭ ভোট নিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন বর্তমান কাউন্সিলর আকতার কামাল, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আতিক কোম্পানি পেয়েছেন ১৭১৫ ভোট। ২ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমান এক হাজার ৬৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ১৪৯৭ ভোট। ৩ নম্বরে বর্তমান কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান মাবু ২৯১৬ ভোট আর অপর প্রার্থী আমিনুল হক মুকুল পেয়েছেন ১২৬৩ ভোট।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিগত চারবারের কাউন্সিলর সিরাজুল হককে পরাজিত করে ১৮৩৭ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন দিদারুল আলম রুবেল। ৫ নম্বরে ১৮১৩ ভোটে জয় পেয়েছেন তরুণ প্রার্থী শাহাব উদ্দীন সিকদার। এখানে গোলাম আরিফ লিটন পেয়েছেন ১১৯২ ভোট। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২২০৮ ভোট পেয়ে পুনরায় জয় পেয়েছেন ওমর ছিদ্দিকী লালু, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফেরদৌস চৌধুরী পেয়েছেন ৯১৯ ভোট।
৭ নম্বরে ২৩৪৬ ভোট পেয়ে জয় ধরে রেখেছেন আশরাফুল হুদা জামশেদ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাফর আলম পেয়েছেন ২৩৩২ ভোট। ৮ নম্বরে ২২০২ ভোটে পুনরায় জয় পান রাজবিহারী দাশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বেলাল হোসেন পেয়েছেন ১২৮৫ ভোট। ৯ নম্বরে ২১২৯ ভোটে আবারও জয় পান হেলাল উদ্দীন কবির, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু ওবায়েদ্দীন নাছের পান ৯৫১ ভোট।
১০ নম্বরে ২৩৩১ ভোট পেয়ে নতুন নির্বাচিত হন সালাউদ্দীন সেতু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কফিল উদ্দিন পান ২০৬৪ ভোট। ১১ নম্বরে ১০৭৩ ভোটে নতুন জয় পেয়েছেন নুর মোহাম্মদ মাঝু, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম রেজা পান ৭০৯ ভোট ও ১২ নম্বরে ৩৪৮৬ ভোটে নতুন জয় পান কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবু, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১৪১৫ ভোট।
নির্বাচনে পাঁচ মেয়র, ১৭ সংরক্ষিত ও ৬৪ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ৮৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন পুরুষ ও ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন নারী ভোটার মিলে পৌরসভায় ৮৩ হাজার ৭২৮ জন ভোটার রয়েছেন। তাদের মাঝে ৫৬ হাজার ৬২৩ জন ভোটার নতুন পৌর পরিষদ গঠনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে কে কত ভোট পেলো
মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ৪ প্রার্থীর নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে ২৫ জুলাই সম্পন্ন হয়েছে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন। এতে মেয়র পদে ৫ জনসহ মোট ৮৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪১ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। বিএনপির মনোনীত রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১০ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। নাগরিক কমিটির মনোনীত জামায়াত সমর্থিত সরওয়ার কামাল নারিকেল প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ১৪৬ ভোট, জাতীয় পার্টির মনোনীত রুহুল আমিন সিকদার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৪৮০ ভোট ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত মাওলানা জাহেদুর রহমান হাতপাখা নিয়ে ৫৯৫ ভোট পেয়েছেন।
১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে শাহেনা আক্তার পাখি আনারস প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৯৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একই ওয়ার্ড থেকে ফাতেমা বেগম জবা ফুল প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৮৪৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।
হুমায়রা বেগম অটোরিক্সা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ২৩০, আয়েশা সিরাজ টেলিফোন প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৯৬৩, টিপু সুলতানা চশমা প্রতীক নিয়ে ৫৭০ ভোট পেয়েছেন।
৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড থেকে ইয়াছমিন আক্তার চশমা প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একই ওয়ার্ড থেকে চম্পা উদ্দীন টেলিফোন প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৬২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন এবং রেবেকা সুলতানা আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ২১৫ ভোট।
৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড থেকে জাহেদা আক্তার চশমা প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একই ওয়ার্ড থেকে দীপ্তি শর্মা জবা ফুল নিয়ে ২ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। আয়েশা ইসলাম বলপেন প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ২২৬ ভোট, জোৎস্না আক্তার টেলিফোন প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ২৭০ ও সুমা দাশ আনারস প্রতীক নিয়ে ৫২০ ভোট পেয়েছেন।
১০, ১১ ও ১২ ওয়ার্ড থেকে নাছিমা আক্তার টেলিফোন প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৮৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একই ওয়ার্ড থেকে কোহিনুর আক্তার আনারস প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৩১২ দ্বিতীয় হয়েছেন। পারভিন আক্তার জবা ফুল প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৫৯১ ও হোসেন আরা চশমা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়েছেন।
সাধারণ কাউন্সিলর ১নং ওয়ার্ড থেকে এস আই এম আক্তার কামাল আজাদ পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মো. আতিক উল্লাহ ডালিম প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৭১৫ ভোট দ্বিতীয় হয়েছেন। সিকান্দর আবু জাফর ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীক নিয়ে ২৫৮ ভোট, রাহামত উল্লাহ উট পাখি প্রতীক নিয়ে ২৪৭ ও মোস্তাক আহমদ টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ০ ভোট পেয়েছেন।
২ ওয়ার্ড থেকে মিজানুর রহমান পানির বোতল প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৬৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জসিম উদ্দীন টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৪৯৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। মনির উদ্দীন ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৪১৬, হোসাইন ইসলাম বাহাদুর পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ৪৮০, এম জাফর আলম হেলালী উট পাখি প্রতীক নিয়ে ৩৮৬ ও আবু তাহের ডালিম প্রতীক নিয়ে ২২ ভোট পেয়েছেন।
৩ নং ওয়ার্ড থেকে মো. মাহাবুবুর রহমান পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৯১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি মো. আমিনুল ইসলাম উট পাখি নিয়ে ১ হাজার ২৬৩ ভোট পেয়েছেন।
৪ নং ওয়ার্ড থেকে মো. দিদারুল ইসলাম উট পাখি প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৮৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মিজানুল কবির ডালিম প্রতীক নিয়ে ৭৮৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। জুনায়েদ আহমদ ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীক নিয়ে ৫৯৩ , সিরাজুল হক পানির বোতল প্রতীক নিয়ে ৫১৮, আব্দুল গফফার টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ৬৩৪ আবু খালিদ পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ৮৬, নুরুল আবছার টিউব লাইট প্রতীক নিয়ে ২২ ভোট ও এরশাদ জামান ফাইল কেবিনেট প্রতীক নিয়ে ১ ভোট পেয়েছেন।
৫নং ওয়ার্ড থেকে শাহাব উদ্দীন উট পাখি নিয়ে ১ হাজার ৮১৩ ভোট নির্বাচিত হয়েছেন। গোলাম আরিফ লিটন টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। সাইফুল ইসলাম চৌধুরী পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৭৭ ভোট ও ছালামত উল্লাহ বাবুল ডালিম প্রতীক নিয়ে ৬০১ ভোট পেয়েছেন।
৬নং ওয়ার্ড থেকে ওমর ছিদ্দিক লালু টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ২০৮ ভোট নির্বাচিত হয়েছেন। মো. ফেরদৌস চৌধুরী ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীক নিয়ে ৯১৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। সুবদত্ত বড়–য়া পানির বোতল প্রতীক নিয়ে ৯০৮ ভোট, ফাহাদ আলী গাজর প্রতীক নিয়ে ৪৪৩, নাছির উদ্দীন উট পাখি ৭৩ , মনিরুল হক টিউব লাইট প্রতীক নিয়ে ২ ভোট, মো. শহীদুল্লাহ ডালিম প্রতীক নিয়ে ২১৫, মোশারফ আজাদ মনছুর পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ১৩৫, শফিউল আলম ফাইল কেবিনেট প্রতীক নিয়ে ২৩৭ ও শাহ আলম ঢেঁড়শ প্রতীক নিয়ে ১৭৭ ভোট পেয়েছেন।
৭নং ওয়ার্ড থেকে আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামশেদ টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জাফর আলম পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৩৩২ ভোট দ্বিতীয় হয়েছেন। ফোরকান আহমদ ডালিম প্রতীক নিয়ে ৪৭৪ ভোট ও মো. রশিদ উট পাখি প্রতীক নিয়ে ৯২ ভোট পেয়েছেন।
৮ নং ওয়ার্ড থেকে রাজ বিহারী দাশ উট পাখি প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বেলাল হোসেন পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ২৮৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। মো. রফিকুল ইসলাম টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ৩০৭ ভোট , রাজিব পাল ডালিম প্রতীক নিয়ে ১১৩ ভোট ও ডালিম কুমার বডুয়া ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীক নিয়ে ১ ভোট পেয়েছেন।
৯নং ওয়ার্ড থেকে মো. হেলাল উদ্দীন উট পাখি প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ১২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আবু ওবায়েদ্দীন নাছির ডালিম প্রতীক নিয়ে ৯৫১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। মো. শহীদুল্লাহ টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ৮৬২ ভোট পেয়েছেন।
১০ নং ওয়ার্ড থেকে সালাহ উদ্দীন উট পাখি প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কফিল উদ্দীন টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। জাবেদ মো, নোবেল পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ৪১৫ ভোট পেয়েছেন।
১১নং ওয়াড থেকে নুর মোহাম্মদ ডালিম প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মো. সেলিম রেজা ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীক নিয়ে ৭০৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। আবু সাহাদাৎ মো. সায়েম গাজর প্রতীক নিয়ে ৪৬৮ ভোট, মো. জরিপ আলী পানির বোতল প্রতীক নিয়ে ৩৬২ ভোট, আহমদ হোসন পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ১১৭ ভোট, শফিউল আলম টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ১১৩ ভোট, মো. হেলাল উদ্দীন ব্রীজ প্রতীক নিয়ে ৬২ ভোট ও আমীর হোসেন উট পাখি নিয়ে ৭২ ভোট পেয়েছেন।
১২নং ওয়ার্ড থেকে কাজী মোরশেদ আহাম্মদ বাবু টেবিল ল্যাম্প প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নুরুল ইসলাম ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। আবুল মনছুর ডালিম প্রতীক নিয়ে ৯ ভোট, কাজী রাশেল আহমদ পাঞ্জাবী প্রতীক নিয়ে ৫ ভোট ও মো. জসিম উদ্দীন উট পাখি প্রতীক নিয়ে ২ ভোট পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, পৌরসভার ১২ টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন ও মহিলা ভোটার ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন। ১২ ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ৩৯ টি।
শীর্ষ খবর ডটকম