Monday, October 29, 2018

যৌনকর্মী বলে আক্রমণ!

টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি রুপোলি পর্দার জনপ্রিয় করিওগ্রাফারও তিনি। ২০১২ সালে হরমিত শেঠিকে বিয়ে করেন শ্বেতা সালভে। হরমিত এবং শ্বেতার আর্য নামে এক সন্তানও রয়েছে। সংসার, সন্তান সামলে কীভাবে কেরিয়ার সামলানো যায়, তা বেশ ভালভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন শ্বেতা। কিন্তু, সেই শ্বেতাকে এবার কীভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হল জানেন?
সম্প্রতি স্বামী হরমিত শেঠির সঙ্গে গোয়ায় ছুটি কাটাতে যান শ্বেতা সালভে। আর সেখানে গিয়ে বেশ কিছু ছবি নিজের সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করেন টেলিভিশনের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। যেখানে কখনও শ্বেতাকে পানীয়ের গ্লাস হাতেনিয়ে ছবি দিতে দেখা যায়, আবার কখনও ধূমপান কর্তেদেখা যায় অভিনেত্রীকে।
আর ওই ছবি সোশ্যাল সাইটে প্রকাশ হতেই জোরদার সমালোচনা করা হয় শ্বেতাকে নিয়ে।
যদিও সমালোচনার মুখে পড়ে বেশ কড়া ভাষাতেই তার পাল্টা জবাব দেন শ্বেতা। তিনি বলেন, হ্যাঁ ধূমপান করেন তিনি। পানীয়র সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অব্যাহত। কিন্তু, তাতে কী হয়েছে?
তিনি তো কখনও সন্তানের উপর তাঁর কর্তব্য অগ্রাহ্য করেন না। সন্তানকে বড় করে তলার পাশাপাশি তিনি যেমন অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন। তেমনি করিওগ্রাফির কাজও করে চলেছেন সমানভাবে। আর যেভাবে তাঁর প্রতিদিনের জীবন চলে, সেই ছবিই এসেছে প্রকাশ্যে। তিনি জীবন নিয়ে অহেতুক অভিনয় করতে পারেন না। তিনি যেমন, সেই ছবিই উঠে এসেছে। তাই তাঁর জীবন এবং ছুটি কাটানো নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাতে তাঁর কিছু এসে যায় না। তিনি তাঁর মত করে সব কাজ করে যাবেন। তাতেও কেউ আপত্তি জানালে তাঁর কিছু করার নেই বলেও স্পষ্ট জানান শ্বেতা সালভে।
শুধু তাই নয়, তাঁকে যেভাবে কখনও 'যৌনকর্মী' আবার কখনও 'বাজে মা' বলে আক্রমণ করা হয়েছে,তাতে তাঁর কিছু এসে যায় না। সমাজের উল্টো স্রোতে গিয়ে কেউ কিছু করলে, যদি তাঁকে নির্দিষ্ট কোনও পেশার মানুষের সঙ্গে তুলনা করা হয়, কিংবা তাঁর গায়ে কোনও অশ্লীল তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়, সেটা সমালোচনাকারীদের চিন্তাভাবনা। আর সেই চিন্তাভাবেনা তিনি কখনও পরিবর্তন করতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট জবাব দেন শ্বেতা সালভে।
তথ্য সূত্র: জিনিউজ ইন্ডিয়া

সংকট সহিংস রক্তপাতে রূপ নিতে পারে: শ্রীলঙ্কার স্পিকারের হুঁশিয়ারি

রাজধানী কলম্বোর সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনা মোতায়েন
শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদের স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সংসদ পুনর্বহাল না করলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সহিংস রক্তপাতে রূপ নিতে পারে এবং লোকজন রাস্তায় নেমে আসতে পারে।  
বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহের অনুগত সংসদ সদস্যরা তাদের সমর্থকদের প্রতি রাজধানী কলম্বোয় সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানোর পর স্পিকার জয়াসুরিয়া এ হুঁশিয়ারি দিলেন। প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপকসেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। এরপর শ্রীলঙ্কায় রজনৈতিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
 
শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংসদের স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া
প্রেসিডেন্টকে হত্যাপ্রচেষ্টা তদন্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে যথেষ্ট তৎপরতা চালান নি বলে অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তাকে বরখাস্ত করেন এবং রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন। তবে বিক্রমাসিংহে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হন নি। এরইমধ্যে এ সংকটকে কন্দ্রে করে দেশটিতে একজন নিহত হয়েছে।
 
মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা
স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া বিক্রমাসিংহেকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সংসদ বাদ দিয়ে যদি সংকটকে রাস্তায় নিয়ে যায় তাহলে ভয়াবহ রক্তপাত শুরু হবে।”
এদিকে, মন্ত্রী অর্জুনা রানাতুঙ্গার দেহরক্ষীর গুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় রানাতুঙ্গাকে আটকের পর আজ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  চীন বলেছে, তারা শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে। আমেরিকা গতকাল এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ ডাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ডলার সংকটের নেপথ্যে-

বৈদেশিক লেনদেনের অন্যতম মুদ্রা ডলারের সংকটে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে দাম। চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে প্রতি ডলার বিক্রি  হয়েছিল ৮০ টাকা ৫০ পয়সায়, যা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮৬ টাকার ওপরে। সেই হিসাবে গত ৯ মাসে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা। এতে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে টাকা। শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। হঠাৎ করে ডলারের বাজারে এই অস্থিরতার পেছনে বড় কারণ হিসেবে পাচারের বিষয়টিকে সামনে আনছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে অনেকে নিরাপত্তার কথা ভেবে বিদেশে অর্থ পাচার করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশীয় মুদ্রা টাকাকে ডলারে রূপান্তর করে পাচার করেন।
তাদের মতে, বেপরোয়া গতিতে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। অথচ দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে। এটিই রহস্যজনক। মূলত এই আমদানির নাম করে দেশ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা পাচার হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সামপ্রতিক সময়ে দেশের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখানে টাকা পাচারের যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী বছরে টাকা পাচার বাড়ে। কারণ, দেশে টাকা রাখাকে নিরাপদ মনে করেন না সম্পদশালীরা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হলে তাদের জন্য সমস্যা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে টাকা পাচার রোধে তৎপরতা বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
মানি এক্সচেঞ্জ হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বছরের শুরু থেকেই ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ডলারের স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় দাম বাড়ছে। এছাড়া বিদেশি ও বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশে আসার পরিমাণ হ্রাস হওয়ায় ডলার সংকটের একটি কারণ বলে জানান তারা। রাজধানীর বেশ কয়েকটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে কথা বলে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি ব্যয়ের চাপ বেড়ে যাওয়া, তুলনামূলক রপ্তানি ও রেমিটেন্স কমে যাওয়া, অসাধু ব্যবসায়ীদের ডলার আটকে রাখা ও যুক্তরাষ্ট্রের ডলার সংগ্রহ বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে দাম বাড়ছে ডলারের।
বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য মতে, ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম বেড়েই চলেছে। দেশের ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ ডলারের মূল্য সর্বোচ্চ ৮৬ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছে। আর আমদানি পর্যায়ে দায় মেটাতে নিয়েছে ৮৩ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে ৮৩ টাকার ৮৫ পয়সা।
বসুন্ধরা শপিং মলে অবস্থিত মিয়া মানি একচেঞ্জ হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. মহসিন আলী বলেন, আমরা এখন ডলার প্রতি ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা করে রাখছি। আর বিক্রি করছি ৮৬ টাকা ৪০ পয়সা। তার মতে, দেশে বিদেশি আসা কমে গেলে বা প্রবাসীরা কম আসলে ডলারের কিছুটা সংকট দেখা দেয়। তবে ডলারের দাম বাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালোভাবে বলতে পারবেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, কেউ পাসপোর্ট নিয়ে আসলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার দিয়ে টাকা নিতে পারেন।
বসুন্ধরা শপিং মলে ডলার বিক্রি করতে আসা নাসিদ কামাল বলেন, বড় ভাই বিদেশ থেকে এসেছেন। ডলার প্রতি ৮৫.৩০ পয়সা করে পেয়েছি। তার মতে, এক হাজার ডলার বিক্রি করে ৬ মাস আগের চেয়ে প্রায় ৩ হাজার টাকা বেশি পেয়েছেন বলে জানালেন।
একই রেটের কয়েক পয়সা বেশি রাখছে পলটনস্থ মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ রুপালি মানি এক্সচেঞ্জ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আরিফিন বলেন, ডলারপ্রতি টাকা বেশি পাওয়া গেলে, হুন্ডির ওপর নির্ভরতা কমে যায়। মানুষ তখন বৈধ পথে টাকা পাঠাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এখন সেটাই হচ্ছে।
মানি এক্সচেঞ্জের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ডলার না ছাড়ায় সংকট বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ ডলার বিক্রি করছে, সেটি চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া যে পরিমাণ আমদানি এলসি খোলা হয়েছে, সে পরিমাণ ডলার আমাদের হাতে নেই। এজন্য প্রতিদিনই ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট দেখা দিচ্ছে। তবে ডলারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বাজারের পরিস্থিতি ও চাহিদার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে।
মানি এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তারা বলেন, টাকার দাম কমে যাচ্ছে মূলত ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ডলারপ্রতি টাকার দাম আশির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এটা ৭৭ টাকার নিচেও ছিল দীর্ঘদিন। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে এটা বাড়তে শুরু করে। তবে ২০১৮ সালের শুরু থেকেই এটা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ৬ মাসে ডলারপ্রতি টাকা বেড়েছে ৩ টাকার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে আমদানি এলসি খোলা হয়েছিল ১ হাজার ১১৭ কোটি ডলারের। কিন্তু চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারের আমদানি এলসি খোলা হয়েছে। একইভাবে এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের পরিমাণ না বাড়ায় ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট তীব্র হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আমদানি এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে, সে পরিমাণ রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে খোলা এলসিগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। ফলে বাজারে ডলার সংকট আরো তীব্র হবে।

ফিলিস্তিনি যুবকের ছবি যেন দেলাক্রোয়ার পেইন্টিং

এটি এমন এক ছবি যা নিয়ে ইন্টারনেটে বহু শব্দ লেখা হয়েছে। তুলেছেন ফটোসাংবাদিক মুস্তাফা হাসোনা।
খালি গায়ে, উদ্যত ভঙ্গিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক, তার এক হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা, আরেক হাতে পাথর ছোঁড়ার স্লিং।
ছবিটি তোলা হয়েছে সোমবার গাজায়, ইসরায়েল সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের সময়। বিক্ষোভকারীরা এসময় টায়ার পোড়ায়, ইসরায়েলি সৈন্যদের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। জবাবে ইসরায়েলি সৈন্যরা গুলি চালায়, টিয়ারগ্যাসও ছোঁড়ে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এসময় ৩২ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়।
ছবিটি ব্যাপকভাবে শেযার হয়েছে অনলাইনে। অনেকেই একে তুলনা করেছেন বিখ্যাত চিত্রকর ইউজিন দেলাক্রোয়ার আঁকা ফরাসী বিপ্লবভিত্তিক ছবি 'লিবার্টি লিডিং দ্য পিপল'-এর সাথে।
এর পর আলজাজিরা টিভি ছবির এ যুবকটিকে খুঁজে বের করেছে। তার নাম আয়েদ আবু আমরো, বয়েস ২০।
ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীর ছবিটি তুলেছেন ফটোসাংবাদিক মুস্তাফা হাসোনা
"আমি খুবই অবাক হয়েছি দেখে যে আমার একটা ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে' - টিভি চ্যানেলটিকে বলেন আবু আমরো।
তিনি বলেন, "আমি প্রতি সপ্তাহেই বিক্ষোভে যোগ দিই, কখনো কখনো তারও বেশি বার। আমি জানতামও না যে আমার কাছে ফটোগ্রাফার ছিল।"
"এই পতাকাটা আমি যত বিক্ষোভে গেছি সবখানেই সাথে নিয়ে গেছি। আমার বন্ধুরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে - বলে, তোমার এক হাতে পতাকা না থাকলে পাথর ছোঁড়া আরো সহজ হবে। কিন্তু আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।"
লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর লালেহ খলিলি ছবিটা ইউটারে শেয়ার করেন মঙ্গলবার। শুধু তার টুইটই ৩০ হাজারের বেশি বার রি-টুইট হয়েছে। 'লাইক' পেয়েছে ৮০ হাজার।
অবশ্য সব প্রতিক্রিয়াই যে ইতিবাচক হয়েছে তা নয়। অনেকে এর সাথে বিরাটকায় দানব গোলায়াথের সাথে ক্ষুদ্রকার ডেভিডের লড়াইয়ে তুলনা করেছেন।
অনেকে আবার বলেছেন এ ছবিতে সহিংসতাকে মহত্ব দেবার চেষ্টা হয়েছে।
গত মার্চ মাস থেকে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে প্রতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনিদের এই বিক্ষোভ হচ্ছে। এতে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে অন্তত ২১৭ জন। আর ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছে ১ জন।
দেলাক্রোয়ার বিখ্যাত ছবি 'লিবার্টি লিডিং দ্য পিপল'

তামাশার নির্বাচনে বামজোট অংশ নেবে না by কাজল ঘোষ

বাম জোটের সমন্বয়কারী সাইফুল হক। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক। আপাদমস্তক একজন রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। ভাবেন দেশ নিয়ে। দেশের মানুষকে নিয়ে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে দেখছেন তিনি? বলেন, ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন হজম করার পরিস্থিতি বা বাস্তবতা দেশের মানুষের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তামাশার নির্বাচনকে বৈধতা দিতে বামজোট নির্বাচনে অংশ নেবে না। সাইফুল হক বলেন, একটি  তদারকি সরকারই পারে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে।
প্রয়োজনে তদারকি সরকারের কেউ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের জবাবদিহিতা থাকতে পারে।
বাম জোটের এ সমন্বয়ক বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও ক্রান্তিকাল সময় আমরা এখন অতিক্রম করছি। সাতচল্লিশ বছরেও আমরা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা বদলের কোনো গ্রহণযোগ্য উপায় কার্যকর করতে পারিনি। সরকার পরিবর্তনের বিধিবদ্ধ কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। কীভাবে নির্বাচন হবে? ক্ষমতা হস্তান্তরে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার কোনো সমাধান হয়নি। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য যে আইন থাকা দরকার তাও আমাদের এখানে হয়নি।
নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে এডহক ভিত্তিতে। কখনও প্রেসিডেন্ট সার্চ কমিটি গঠন করছেন, কখনও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম চেয়ে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। শাসক শ্রেণির অভ্যন্তরীণ যে অবস্থান, আমাদের এখানে যে লুণ্ঠনকেন্দ্রিক, দলীয়কেন্দ্রিক, একচ্ছত্র শাসনকেন্দ্রিক প্রক্রিয়া চলমান নির্বাচন নিয়ে সংকট তারই বহিঃপ্রকাশ। এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে লুণ্ঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার একটি প্রতিযোগিতা অব্যাহত আছে। ফলে বিত্তশালী হওয়ার জন্য দুর্বৃত্তরা রাজনীতিকে তাদের প্রধান অবলম্বন করে নিয়েছে। আগে বড় ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক দলগুলোকে সমর্থন করতেন, চাঁদা দিতেন।
এখন ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ নিজেরাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে না ওঠায় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিও গড়ে ওঠেনি। লক্ষ্য করার বিষয়, আওয়ামী লীগ একসময় মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য রাজনীতি করত। সেই আওয়ামী লীগেরও এখন মৌলিক চরিত্র বদলেছে। আওয়ামী লীগ কার্যত এখন লুণ্ঠনকেন্দ্রিক সুবিধাভোগীদের দল। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সাম্যের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল তা থেকে রাষ্ট্র এখন অনেক দূরে। রাষ্ট্র এখন অনেক বেশি বর্বর, অনেক বেশি সহিংস, অনেক বেশি স্বৈরতান্ত্রিক। বৃটিশ-পাকিস্তানি আমলে রাষ্ট্রের যে বর্বর চেহারা দেখা যায়নি এখন আমরা তাই দেখছি।
বিচারবহির্ভূত হত্যা, সরকারি জিম্মায় মানুষকে যেভাবে হত্যা, গুম করা হচ্ছে এবং রিমান্ডের নামে যে নির্যাতন করা হচ্ছে এই চরিত্র সে আমলেও দেখা যায়নি। এখন এগুলো সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে। রাষ্ট্রের সঙ্গে মানুষের বিচ্ছেদ তৈরি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের আগে বিএনপিও একই ধারায় ছিল। তারা মনে করেছেন তাদের ভোটে যাওয়া দরকার তাকে একটা বৈধ রূপ দেয়ার জন্য। এটা মুক্তিযুদ্ধের উল্টোদিকে যাত্রা। আমরা এরকম রাষ্ট্র, এরকম আমলাতন্ত্র চাইনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি লুণ্ঠনকেন্দ্রিক গোষ্ঠী। সে কারণে এখানে কেউ নির্বাচনে পরাজিত হতে চায় না। এটা করতে তারা যে ধরনের অপরাধ সংগঠিত করেন, আতঙ্কে থাকেন যে বিরোধী শিবিরে বসলে তাদের মামলা, হয়রানির স্বীকার হতে হবে। ফলে শাসক পক্ষ বিরোধী দলে গেলে নিজেরা টিকতে পারবে এমন কোনো সুযোগ রাখে না। বর্তমান শাসকদল আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলে বসতে হতে পারে এমন কোনো চিন্তা তাদের কথাবার্তায় বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও নেই। যদি সেটা থাকতো তাহলে বিরোধী দলে থাকলে সরকারের কাছ থেকে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা তারা করে। এখন সরকারে বসে সে ধরনের আচরণ করত আওয়ামী লীগ। 
- এবারের নির্বাচন নিয়ে কি ধরনের সংকট হতে পারে?
একটি হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। অন্যটি হচ্ছে শাসনতান্ত্রিক। প্রধানমন্ত্রীর হাতে সকল নির্বাহী ক্ষমতাকেন্দ্রিভূত। ফলে যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক দেখা গেছে এককেন্দ্রিক একটি ক্ষমতা কাঠামো গড়ে উঠেছে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে। কিছু ঐতিহাসিক ঘটনাও আমাদের রাজনৈতিক বিভাজনের পেছনে দায়ী। পঁচাত্তরের মর্মান্তিক হত্যার পরবর্তী পর্যায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা রাজনীতির মধ্যে কিছু ঐতিহাসিক বিভাজন, বিরোধ ও বৈরিতার জন্ম দিয়েছে। মনস্তাত্বিক বিরোধ অব্যাহত আছে।
রাজনীতির ভিতরে কিছু ঘৃৃণা, কিছু বিদ্বেষ এবং প্রতিহিংসারও জন্ম দিয়েছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। যেমন, আওয়ামী লীগ যখন জিয়াউর রহমান বা এ ধরনের ব্যক্তিদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে তখন বিএনপির বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটি গভীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম হয়। আবার বিএনপি যখন জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে (তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে একজন ঘোষক) তখন সত্যের অপলাপ হয়ে থাকে।
অন্যদিকে পনেরই আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন হয়ে থাকলেও সেদিন ঘটা করে জন্মদিন করা একটা সাধারণ রীতিনীতি বা সৌজন্যের মধ্যেও পরে না। এ ছাড়া ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা আমাদের রাজনীতিতে চলমান সংকটের পাশাপাশি একটি গভীর মনস্তাত্বিক বিরোধের জন্ম দেয়। সংঘাত সংঘর্ষের জায়গাটিকে উস্কে দেয়। এসব প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা কোনো দূরদর্শিতার পরিচয় দেননি। বিরোধ বৈরিতা আমাদের সমাজে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে একেবারে নিচু পর্যায়ে একধরনের গৃহযুদ্ধের যে আলামত তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এখন বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চল, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পাড়া, প্রতিটি রাস্তার লেন বিভক্ত। গত দশ বছরে বিএনপির ওপর যে পরিমাণ দমনপীড়ন চালানো হয়েছে বা এর আগে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন আওয়ামী লীগ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে পরিমাণ দমনপীড়ন চলেছে এটা এক ধরনের প্রতিশোধাত্মক জায়গা থেকে করা হয়েছে। এই প্রতিহিংসা বিরোধ বৈরিতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে একজনের বিনাশের ওপর আরেকজনের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা বলেছেন, বাংলার মাটি থেকে যদি বিএনপিকে ধ্বংস করা না যায় তাহলে দেশ গড়া যাবে না। চিন্তা করুন আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন, সেখানে একটি বড় দলকে যারা প্রধান বিরোধীদল তাদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে। তাদের সহাবস্থানের কোনো প্রশ্ন নেই, তাকে গণতান্ত্রিক ধারায় আনার কোনো প্রস্তাবনা নেই। অথচ সরাসরি প্রস্তাবনা হচ্ছে এদের উচ্ছেদ করা, ধ্বংস করা। এটা ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনার কথা নয়।
এর মাধ্যমে সংঘাতকেই আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে; বিরোধকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে; একটা মল্লযুদ্ধকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। বিষয়টি এমন যে, শক্তি পরীক্ষায় আছি পারলে আমাকে ঠেকাও। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যদি একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে আমরা না যেতে পারি তাহলে সমাধান আসবে না। যেমন- কীভাবে আমাদের ভোটাধিকার রক্ষা পাবে, কীভাবে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, মানুষ কীভাবে তার ভোট নিরাপদে দিতে পারবে, নির্বাচন কীভাবে সকলের অংশগ্রহণমূলক হবে? আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যেখানে মানুষ প্রয়োজনে দুবেলা ভাত না খেয়ে থাকতে রাজি আছে কিন্তু ভোটের অধিকার ছাড়তে রাজি নয়। ভোট দিতে না পারার যে যন্ত্রণা, রক্তক্ষরণ, অপমানবোধ এটা এখানকার মানুষ মানতে রাজি নয়। সুতরাং এগুলোর সমাধান না হলে লো ইনটেনসিটি সিভিল ওয়ারের যে লক্ষণ তা দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক শাসক শ্রেণির দলগুলো যেভাবে পরস্পরের মধ্যে প্রতিহিংসা আর এক দল আরেক দলকে ধ্বংস করার মরিয়া তাতে সংঘাত কমবে না আরো বাড়বে। এরকম পরিস্থিতিতে আমার দীর্ঘমেয়াদি সংকটে বলা যায় জ্ঞানত বা অজ্ঞানত একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। এতে দেশে গভীর নৈরাজ্যের জন্ম হবে।
এ ধরনের সংকটময় মুহূর্তগুলো পৃথিবীর বহুদেশে কাজে লাগিয়েছেন বিপ্লবী শক্তি। শাসক শ্রেণি যখন ব্যর্থ হয়, তারা যখন দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত থাকে তখন মানুষের কাছে বিকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে বৈষম্যহীন মানবিক সমাজের জন্য এরকম পরিস্থিতিকে বিপ্লবী বামপন্থিরা কাজে লাগিয়েছেন। বাংলাদেশে এ পরিস্থিতিকে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজে লাগাতে না পারলে জঙ্গিবাদী বা চরমপন্থার উত্থান ঘটবে। সমাজের অভ্যন্তরে চিন্তা-মতাদর্শের দিক থেকে এবং দক্ষিণপন্থি মতাদর্শের যে বাড়ন্ত লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সমাজের অভ্যন্তরে দক্ষিণপন্থি মতাদর্শের শর্তগুলো আরো শক্তিশালী হবে। এটা দেশের শাসকশ্রেণির কোনো অংশের জন্য যেমন ভালো নয়, তেমনি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার জন্য হবে আত্মঘাতী। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আগামী নির্বাচনের আগে বিদ্যমান এই সমস্যাগুলো সুরাহা সম্ভব বলে মনে করি।
সাইফুল হক বলেন, জনগণের বড় অংশ বিশ্বাস করে  বর্তমান সরকারকে রেখে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাহলে সমাধান কোথায়? ছিয়ানব্বই সালে আওয়ামী লীগ যে কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছে সে তুলনায় এখন অবিশ্বাস অনাস্থা আরো বহুগুণ বেশি। ফলে তখন যে কারণে দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে অংশ নিইনি, এখন তা না করার যুক্তি অনেক অনেক বেশি। অনাস্থা, বিরোধ, বৈরিতা, সন্দেহ, অবিশ্বাস এখন আগের চেয়েও মারাত্মক পর্যায়ে। সে জায়গা থেকেই বলতে চাই এখানে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনে আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিয়ে আলাপ আলোচনা করে, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য তদারকি সরকার কায়েম করা জরুরি। সেই তদারকি সরকারে আওয়ামী লীগও থাকতে পারে পাশাপাশি প্রধান বিরোধীদলসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও থাকতে পারে। সকলে একমত হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে সেই সরকারে যারা থাকবেন তারা প্রয়োজনে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রত্যক্ষ নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন? আমাদের দলীয় অবস্থান হচ্ছে, তদারকি সরকার গঠিত হলে তারা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। এ ধরনের নিয়ম থাকলে এই তিন মাসে তারা যা খুশি করতে পারবে না। তা ছাড়া বিনা ভোটের নির্বাচনে গঠিত বর্তমান সংসদের কোনো ম্যান্ডেট নেই। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর কথা ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের। অথচ তা করা হয়নি। পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলো সরকার। যদি সংসদ থাকে তাহলে এই সংসদের যারা আছেন তাদের সঙ্গেতো প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা প্রার্থীদের কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো না। প্রশ্নহীন নির্বাচন চাইলে সরকারকে সংসদ বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে। নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য সরকারিদলকে ঘোষণা দিতে হবে।
বর্তমানে যে পরিস্থিতি তা অব্যাহত থাকলে আপনাদের জোট নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা?
বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্বাচনে অংশ নেয়া অসম্ভব। কারণ, নির্বাচনকালীন যে সরকারের কথা আলোচনায় আছে সে সরকার আর এ সরকারের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য হবে না। আগেই বলেছি, সকল নির্বাহী ক্ষমতা সরকার প্রধানের হাতে। সুতরাং নির্বাচনকালীন যে সরকার গঠিত হবে সংবিধান অনুযায়ী সেই সরকারের প্রধান অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর হাতেই সকল ক্ষমতা থাকবে। তিনি ক্ষমতা কতটুকু ব্যবহার করবেন সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু সকল ক্ষমতা তো ওনার হাতেই। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব ও মর্যাদা চূড়ান্তভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছে। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন মিলে যা করেছে এতে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি গণঅনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আরপিওর অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল করা, কীভাবে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ করা যায়, কালো টাকার দৌরাত্ম্য কিভাবে বন্ধ করা যায় এ বিষয়ে সংলাপের সময় দেয়া প্রস্তাবনাগুলোর কোনো একটি বিষয়ও কমিশন আমলে নেয়নি। বরং সরকারি দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে তারা ইভিএম চালুর চিন্তা করছে। যদিও মানুষের মনোভাব বুঝতে পেরে তারা কিছুটা পিছু হটেছে। নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে তারা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। যে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোর অধিকাংশই গ্রহণযোগ্য করতে পারেনি সেখানে এরকম একটি কমিশন দিয়ে একটি প্রশ্নহীন জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করা যাবে মানুষ এটা বিশ্বাস করে না।
সকল পরিস্থিতি বিবেচনায় বল সরকারের কোর্টে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক দাবি। কিন্তু সরকারকেও তো সেই জায়গাটি তৈরি করতে হবে। মানুষকে বুঝতে হবে, তার নিজের ভোট সে নিরাপদে দিতে পারবে, তার ভোট কাউন্ট হবে। ভোট দেয়ার পর সে নিরাপদ থাকবে। রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, আমরা এবার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই, মানুষ যাকে সমর্থন করবে তারাই নির্বাচনে বিজয়ী হবে। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অসম্ভব। শেষমুহূর্তে বামজোট আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা নির্ভর করছে সে সময়ের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর, রাজনৈতিক দল এবং জোটগুলোর যে অবস্থান সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন বয়কটও করতে পারি আবার আন্দোলনের অংশ হিসাবে নির্বাচনে অংশও নিতে পারি। ফলে আমরা বর্তমানে নির্বাচন প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনে আছি। তবে একটি কথা খোলাসা করে বলতে চাই, অংশগ্রহণমূলক না হলে তামাশার নির্বাচন বৈধতা দেয়ার জন্য বামজোট অংশ নেবে না।  
- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে। তারা ইতিমধ্যেই সাত দফা দাবি আদায়ে মাঠে নেমেছেন। আপনারাও একটি জোট গঠন করেছেন? সামনের দিনে আপনারা তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন কিনা?
- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানাই। স্বাগত এজন্য যে, অনেক বিলম্বে হলেও তারাও একই কথা বলছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবন করে তারা অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এগিয়ে এসেছেন। এটি যথেষ্ট ইতিবাচক। আমরা দেখতে চাই রাজপথে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে এ দাবিগুলো মানাতে সরব হবেন। কারণ রাজপথের আন্দোলন ছাড়া সরকারকে এই দাবি মানানোর অন্য কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যা বলছে আমরা এই কথাগুলো বলছি অনেক আগ থেকেই। তাদের দেয়া দফা ও লক্ষ্যসমূহের অধিকাংশই আমরা বছর খানেক আগ থেকে রাজপথে বলে এসেছি। তাদের ঘোষিত অনেকগুলো দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি চাপ দিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, একটি অবাধ নির্বাচনের জন্য তারা যে দাবি উত্থাপন করেছেন তার জন্য মাঠে জোরালো আন্দোলন গড়ে ওঠলে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হবে, আস্থার জায়গা তৈরি হবে। মানুষের মধ্যে জাগরণ তৈরি করা, সে জাগরণ গণঅভ্যুত্থান হবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে, একটি গণজাগরণ তৈরি করা সম্ভব। মানুষের গণজাগরণের মধ্য দিয়ে সরকারকে যদি পিছু হটানো না যায় তাহলে ভিন্ন কৌশলে হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের মানুষকে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন হজম করার মতো শক্তি বাংলাদেশের মানুষের নেই। এই পরিস্থিতিতে সমাজের মধ্যে বিভাজন আরো প্রকট হবে, সহিংসতার জন্ম দেবে, আরো নানা ধরনের অপ্রত্যাশিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দেবে। আবার যদি তারা ২০১৪ সালের মতো একই কায়দায় ক্ষমতায় আসতে চায় তাহলে সে সরকারের তো কোনো ম্যান্ডেট থাকবে না। সুতরাং পরবর্তী পাঁচ বছর তারা একইভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন সেটা প্রায় দুরাশার শামিল। সেসময় পুরো রাষ্ট্রের জন্যই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হবে। যা সুস্থ বিবেকসম্পন্ন কোনো মানুষ চাইবে না।
-সমাধানটা কোথায়?
শেষ পর্যন্ত যারা আমরা সমমনা বা একই রকম দাবি নিয়ে মাঠে আছি তারা আন্দোলনের মাধ্যমে; আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলোর যদি একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে না পারি- বিশেষ করে কীভাবে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা পাবে ও নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু ও অবাধ হবে; মানুষ কীভাবে তার ভোট নিরাপদে দিতে পারবে; নির্বাচন কীভাবে সকলের অংশগ্রহণমূলক হবে? আমাদের বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলো তারা যেভাবে পরস্পর পরস্পরকে ধ্বংসের চিন্তা করছেন এবং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাতে সংঘাত বাড়বে। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে সংকট যেভাবে ঘনীভূত হচ্ছে তাতে জ্ঞাত বা অজ্ঞাত দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এতে দেশের গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং নৈরাজ্যে পরিস্থিতি জন্ম দেবে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে জঙ্গিবাদী বা মৌলবাদী গোষ্ঠীর জন্ম হবে এবং ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত বাড়তে থাকবে। অন্যদিকে সমাজের ভেতর থেকেই দক্ষিণপন্থার একটি উত্থানের সম্ভাবনা বাড়বে। এটা শাসক গোষ্ঠীর জন্য যেমন ভালো নয় তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার জন্য আত্মঘাতী হবে।
সকল পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হয়, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখানোর সুযোগ এখনও আছে। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না বর্তমান সরকারকে রেখে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। তাহলে সমাধানটা কোথায়? ’৯৬ সালে যে প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করেছে এখন সে প্রেক্ষিত অনেক অনেক গুণ বেশি। এখনকার অনাস্থা-অবিশ্বাস আগের চেয়ে আরো অনেকগুণ বেশি। তখন যে কারণে দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন করিনি বর্তমানেও তার যুক্তি অনেক অনেকগুণ বেশি। অনাস্থা বিরোধ সন্দেহ-অবিশ্বাস এখন আগের চেয়েও মারাত্মক পর্যায়ে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারকে বলতে চাই, সদিচ্ছা দেখাতে। আমরা ইতিমধ্যেই প্রস্তাব করেছি নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোকে নিয়ে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা একটি তদারকি সরকার গঠন করা। সেই সরকারে আওয়ামী লীগসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর প্রতিনিধি থাকতে পারে। যারা সরকারে অংশ নেবে তারা হতে পারে নির্বাচনে অংশ নেবে না। আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে এই তদারকি সরকার খেয়াল খুশিমতো যা খুশি না করতে পারেন সেজন্য পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

নতুন আইনে মাদকের জন্য কী সাজা

শনিবার পাস হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১৮। রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করায় তা এখন আইন। আইনে বলা আছে, অ্যালকোহল ব্যতীত অন্যান্য মাদকদ্রব্যের উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার হয় এমন কোনো দ্রব্য বা উদ্ভিদের চাষাবাদ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন বা পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। জাতীয় মাদক সরবরাহ, বিপণন, কেনা-বেচা, হস্তান্তর, গ্রহণ-প্রেরণ, লেনদেন, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ ও প্রদর্শন করা যাবে না। সেবন অথবা ব্যবহারও করা যাবে না।
এবার জেনে নেয়া যাক সাজার বিধান
কোথাও পপি ফল বা পপির অঙ্কুরোদ্গম বীজ পাওয়া গেলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে কোথাও ১০টি বা তার কম পপি গাছ অথবা এই গাছের ফল বা বীজ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। গাছের সংখ্যা ১১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং গাছের সংখ্যা ১০০ এর বেশি হলে কমপক্ষে ১০ বছর ও সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদ- দেয়া যাবে।
কোথাও ১০টি বা তার কম কোক গাছ বা কোক গুল্ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে। গাছের সংখ্যা ১১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং গাছের সংখ্যা ১০০ এর বেশি হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের কারাদ- দেয়া যাবে।
আফিম বা আফিম দ্বারা তৈরি নেশাদ্রব্য ১০০ গ্রাম বা তার বেশি হলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে।
একই নেশাদ্রব্যের পরিমাণ ১০০ থেকে ১ হাজার গ্রামের মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং ১ হাজার গ্রামের বেশি হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
৫ গ্রাম পর্যন্ত কোকেন, হেরোইন, মরফিন ও পেথিডিন পাওয়া গেলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। এই মাদকের পরিমাণ ৫ থেকে ২৫ গ্রামের মধ্য হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং মাদকের পরিমাণ ২৫ গ্রাম বা তার বেশি হলে যাবজ্জীবন কারাদ- বা মৃত্যুদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
ইয়াবা বা অ্যামফিটামিনের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন বা পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে১০০ গ্রাম পর্যন্ত ইয়াবা পাওয়া গেলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ১০০ থেকে ২০০ গ্রামের মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ২০০ গ্রাম বা তার বেশি হলে যাবজ্জীবন কারাদ- বা মৃত্যুদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
ইয়াবা সরবরাহ, বিপণন, কেনা-বেচা, হস্তান্তর, গ্রহণ-প্রেরণ, লেনদেন, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত ইয়াবা পাওয়া গেলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ২০০ থেকে ৪০০ গ্রামের মধ্যে হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। ইয়াবার পরিমাণ ৪০০ গ্রাম বা তার বেশি হলে যাবজ্জীবন কারাদ- বা মৃত্যুদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
ইয়াবা সেবনের শাস্তি ৩ মাস থেকে দুই বছরের কারাদ- ও অর্থদ-।
কোথাও ৫০টি বা তার কম গাঁজা বা ভাং গাছ পাওয়া গেলে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেওয়া যাবে। গাছের সংখ্যা ৫০ থেকে ৫০০ টির মধ্যে হলে ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং গাছের সংখ্যা ৫০০ টির বেশি হলে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।
গাঁজা বা ভাং গাছের শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল ইত্যাদির দ্বারা তৈরি মাদকের পরিমাণ ৫ কেজি বা তার কম হলে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কারাদ- ও অর্থদ-, মাদকের পরিমাণ ৫ কেজি থেকে ১৫ কেজির মধ্যে হলে ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- এবং মাদকের পরিমাণ ১৫ কেজির বেশি হলে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া যাবে।

নারায়ণগঞ্জে কলেজছাত্রীদের গায়ে কালি মেখে দিলো শ্রমিকরা

পরিবহন ধর্মঘটের নামে ‘কালি সন্ত্রাস’ থেকে রক্ষা পায়নি নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীরা। কলেজ বাসে হামলা চালিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা ছাত্রীদের গায়ে কালি (পোড়া মবিল) লেপন করেছে। ভাঙচুর করেছে বাসের গ্লাসও। এসময় ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি পাম্পের কাছে। পরে বাসটি সেখানে থামিয়ে দিয়ে আর যেতে দেয়নি।
ছাত্রীরা জানায়, রোববার দ্বাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষে ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এক সঙ্গে ৩৮ জন ছাত্রীকে কলেজ বাসযোগে পাঠানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রীদের বহনকারী বাসটি সাইনবোর্ড এলাকা পার হওয়ার সময় হঠাৎ শ্রমিকরা থামিয়ে দেয়। এবং বাসের চালক মজিবর ও হেলপার জহিরুলকে বাস থেকে নামিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে পোড়া মবিল মেখে দেয় উচ্ছৃঙ্খল পরিবহন শ্রমিকরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে কয়েকজন ছাত্রীকেও কালি লেপে দেন শ্রমিকরা। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। পরে বাসের কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করে বাস থেকে সবাইকে নামিয়ে দেয়া হয়।
বাসটির চালক মজিবর রহমান বলেন, বাসটিতে ৩৮ জন ছাত্রী ছিল। তারা সবাই সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়নরত। ছাত্রী বহনকারী বাসটি সাইনবোর্ড এলাকায় এলেই হামলা করে বাসের গ্লাস ভাঙচুর করে শ্রমিকরা। পরে ছাত্রীদের গায়েও কালি মাখিয়ে দেয়। নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিবা বলেন, আমাদের বাসের চালক মজিবর আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা বাসের কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করেছে। এবং ছাত্রীদের গায়েও কালি দিয়েছে বলে জানালো। বাসটি ওখানেই রাখা হয়েছে, কলেজে ফিরলে বিস্তারিত জানতে পারবো।
এদিকে মহিলা কলেজের গাড়িতে হামলা ও ছাত্রীদের গায়ে কালি লেপনের ঘটনায় সর্বত্র নিন্দার ঝড় বইছে। এক ছাত্রীর কলেজ ড্রেসে কালির ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার ছবির নিচে নিন্দা আর ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করছে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।
সিদ্ধিরগঞ্জে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শ্রমিকদের: এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল মোড়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় তারা ৮ দফা দাবি আদায়ে বিক্ষোভ করে। তবে কর্মসূচি চলাকালে উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। গাড়ি থামিয়ে গালমন্দ করে চালকের মুখে পোড়া মবিল মেখে দিয়েছে তারা। অনেকে আবার পরিবহন শ্রমিকদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শিমরাইল মোড় পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিপাকে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী। শ্রমিকরা রাস্তায় সব ধরনের পরিবহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
এ থেকে রেহাই পায়নি এম্বুলেন্সও। ছোট যানের মধ্যে রিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকও বাধার মুখে পড়েছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে গণপরিবহন, বিশেষ করে বাসের অপেক্ষায় সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় হাজারো যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা  গেছে। বিভিন্ন এলাকায় অফিসগামী যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অনেকে নিরুপায় হয়ে পায়ে হেটে গন্তব্যে রওনা দিয়েছে। কেউ বেশি ভাড়ায় রিকশা অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাচ্ছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০টি স্পটে অবস্থান নেয় পরিবহন শ্রমিকরা। তারা কোনরকম যানবাহন চলাচল করতে  দেয়নি। অ্যাম্বুলেন্সও চেক করে তারা।
তবে রোগী থাকলে তারা অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু রোগী না থাকলে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। এমনকি মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যানগাড়ি দিয়ে চলাচল করতে  দেয়নি। শ্রমিকরা মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানসহ যেকোন ধরনের পরিবহন দেখলেই ময়লা কাদা বা আলকাতরা ও পোড়া মবিল লাগিয়ে দিচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকদেরও কোনরকম ছবি তুলতে দেয়া হয়নি। এক পর্যায়ে ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
প্রধানমন্ত্রীর পিএসের গাড়িও আটকে দিয়েছে শ্রমিকরা: গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিমরাইল মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর পিএস সাজ্জাদুল হাসানের গাড়ি আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় আধা ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্লা তাসলিম হোসেন শ্রমিকদের  সঙ্গে আলোচনা করে গাড়িটি ছাড়াতে সক্ষম হন।  শুধু তাই নয়, পুলিশের গাড়িও আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা।

সাংবিধানিক সংকটে শ্রীলঙ্কা: বিক্রমাসিংহেকে সমর্থন দিলেন স্পিকার

গভীর এক সাংবিধানিক সংকটে শ্রীলঙ্কা। শনিবার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত করেন। এর আগের দিন তিনি বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে। পুনর্বহাল করেন চীনপন্থি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসেকে। এরপরই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্রীলংকায় নিয়োজিত চীনের দূত চেং সুয়েয়ুন। তবে ঘটনা জট লেগেছে আরো এক জায়গায়। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া রোববার রনিল বিক্রমাসিংহেকে দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বরখাস্ত হওয়ার পর বিক্রমাসিংহেও সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
তাকে বরখাস্তের যে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা দিয়েছেন তা বেআইনি ও অসাংবিধানিক। বিক্রমাসিংহে হলেন শ্রীলঙ্কার ইউএনপি দলের নেতা। তাকে সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার কাছে একটি চিঠি লিখেছেন স্পিকার জয়সুরিয়া। তাতে তিনি আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বলেছেন, এর ফলে দেশকে মারাত্মক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি বিক্রমাসিংহেকে সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমেই পার্লামেন্ট স্থগিত করা উচিত। ওই চিঠিতে বরখাস্ত করা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের নিরাপত্তা প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্পিকার। ফলে এ অবস্থায় ক্ষমতার লড়াইটা শুধু রনিল বিক্রমাসিং ও মাহিন্দ রাজাপাকসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তা এখন পুরো সরকার ব্যবস্থাকে দুটি ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। একপক্ষে চলে গেছেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। অন্যপক্ষে স্পষ্টত অবস্থান করছেন স্পিকার কারু জয়সুরিয়া। রনিল বিক্রমাসিংহেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহাল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে শুক্রবারই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহিন্দ রাজাপাকসেকে শপথ পড়িয়ে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। এর ফলে প্রচণ্ড এক সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
রনিল বিক্রমাসিংহে নিজেকে এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া, আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী রনিল ব্রিকমাসিংহেকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। তার জায়গায় চীনপন্থি হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসেকে বসান তিনি। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে রাজাপাকসের সমর্থকরা। তবে বিক্রমাসিংহের সমর্থকরা এটিকে বিরোধীদের অভ্যুত্থান হিসেবে দেখছে। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত ঘোষণা করেছেন। বলা হচ্ছে, বিক্রমাসিংহে যেন পার্লামেন্টে তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারেন সেজন্যই এ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ক্ষমতাসীন জোট থেকে নিজের দলকে সরিয়ে নেন সিরিসেনা।
এদিকে, বিক্রমাসিংহে বরখাস্ত হওয়ার আগমুহূর্তে তিনি আরো একটি অধিবেশন ডাকার জন্য পার্লামেন্টের স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান। মূলত পার্লামেন্টে নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্যই তিনি এই আহ্বান জানিয়েছিলেন। শনিবার কলম্বোতে বিক্রমাসিংহে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় বলেন, পার্লামেন্টে আমার সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। পার্লামেন্টের অধিবেশন ডেকে এ সংকটের সমাধান করুন। সংবাদ সম্মেলনে সিরিসেনার দল ছাড়া ক্ষমতাসীন জোটের সব দলই উপস্থিত ছিল।
ইতিমধ্যেই বিক্রমাসিংহেকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল সরিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। অস্থায়ীভাবে একজনকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান। এতে বলা হয়, নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের পাশাপাশি মন্ত্রিসভাও ভেঙে দেয়া হয়েছে। বিক্রমাসিংহেকে রোববারের মধ্যে বাসভবন ছাড়তে বলা হয়েছে। তিনি সরকারি ওই বাসভবন ছাড়বেন কিনা তা স্পষ্ট বোঝা যায় নি। বিমল বিরাওয়ানসা নামের একজন পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, স্ব-সম্মানে বাসভবন ত্যাগ করার জন্য বিক্রমাসিংহের হাতে রোববার পর্যন্ত সময় আছে। বিরোধী দলে থেকেও আমরা একটি বড় স্টেডিয়াম মানুষে পরিপূর্ণ করেছি। চিন্তা করেন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে আমরা কি করতে পারি। এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিক্রমাসিংহেকে এক রকম হুমকিই দিয়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিক্রমাসিংহে যদি বাসভবন ত্যাগ না করেন, তাহলে বিক্ষোভকারীরা জোর করে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করবে।
রোববার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার কথা প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার। ধারণা করা হয়, আজ সোমবার মন্ত্রিসভা গঠন করা হতে পারে। শ্রীলঙ্কার সংবিধান অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত নতুন সরকার গঠনের জন্যই প্রেসিডেন্ট এমন ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সংকটের কারণ: সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহের মধ্যকার কলহের জের ধরে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে রাজাপাকসেকে পরাজিত করার জন্য জোট গঠন করেছিল সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহের দল। নির্বাচনে তাদের জোট জয়লাভ করলে সিরিসেনাকে প্রেসিডেণ্ট মনোনীত করা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই অপরিচিত মুখ সিরিসেনা ক্ষমতায় বসে অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দেন। তবে সম্প্রতি বিক্রমাসিংহের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিমত দেখা দেয়। জীবন ধারণের খরচ ও ট্যাক্স বৃদ্ধির কারণে দেশে জন-অসন্তোষ দেখা দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনে রাজাপাকসের দলের কাছে সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহের দল পরাজিত হয়। নিজ দলের বিপুল জনসমর্থন দেখে রাজাপাকসে ঘোষণা দেন, ক্ষমতাসীন জোট দেশ শাসনের ম্যান্ডেট হারিয়েছে। তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি তোলেন। কিন্তু সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এই দাবি প্রত্যাখান করে। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। গণমাধ্যম ও অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সামারাবিরা বলেন, এটা বিশ্বাস করা কষ্ট যে, চার বছর আগে যিনি বিক্রমাসিংয়ের আমন্ত্রণে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসেছেন, তিনি এভাবে উল্টে যাবেন, যে তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তারই বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেবেন। টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। সিরিসেনাকে অভিশংসন করার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে সামারাবিরা বলেন, পার্লামেন্টে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
শনিবার কলোম্বো একই সঙ্গে উদযাপন ও বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের সমর্থকরা আতশবাজি ফুটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে বিক্রমাসিংহের হাজার হাজার সমর্থক তার সরকারি বাসভবনের বাইরে জড়ো হয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, সিরিসেনা বিশ্বাসঘাতক। আমরা তাকে ক্ষমতায় বসানোর পরেও তিনি আমাদেরই নেতাকে সরিয়ে দিয়েছেন। গণমাধ্যম ও অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সামারাবিরা প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার ঘটনাকে গণতন্ত্রবিরোধী অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিক্রমাসিংয়ের দল কলম্বোতে সোমবার সর্বাত্মক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। শুক্রবার সিরিসেনা যখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজাপাকসেকে শপথ পড়াচ্ছিলেন, তখন বিক্রমাসিংহে দেশের দক্ষিণাঞ্চল সফর করছিলেন। শ্রীলঙ্কার সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট পরিচালনা করলেও প্রেসিডেন্টকে নির্বাহী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ: বাসভবন ত্যাগ করার জন্য বিক্রমাসিংহেকে যে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেন নি সিরিসেনা ও রাজাপাকসে। এমন অনিশ্চয়তার মুখে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের সকল ধরনের ছুটি বাতিল করেছেন আইজিপি পুজিত জয়সুন্দরা। কলম্বোর রাজপথে অতিরিক্ত টহল পুলিশ মোতায়েন করেছেন তিনি। এদিকে, শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অভহিত করে নাগরিকদের প্রতি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ শ্রীলঙ্কার সকল দলের প্রতি সংবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সহিংসতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এদিকে, নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।

ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যরা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে by মিজানুর রহমান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার জট খুলতে ফের আলোচনায় বসছে দুই দেশ। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের আওতায়  ঢাকায় হবে সেই আলোচনা। বৈঠকে উভয় দেশের পররাষ্ট্র সচিব নেতৃত্ব দেবেন। সেখানে প্রত্যাবাসনের মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভেরিফাইড বা মিয়ানমারের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানাবে ঢাকা। বৈঠকের পরদিন জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। তারা বাস্তুচ্যুতদের সঙ্গে কথাও বলবেন। এটি হবে গ্রুপের সদস্যদের প্রথম ক্যাম্প পরিদর্শন যাত্রা।
ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠককে সামনে রেখে গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেগুনবাগিচায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
সেই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক। বৈঠক শেষে তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমরা প্রত্যাবাসনের সার্বিক বিষয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঢাকার বৈঠকে মিয়ানমারের কাছে প্রত্যাবাসনের সময়ক্ষণ চাওয়ার যে খবর চাউর হয়েছে তার সত্যতা জানতে চাইলে সচিব বলেন, না, আমার কাছে এমন তথ্য নেই। আমরা আলোচনা করবো- এটুকুই বলতে পারি। এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে আগেই খবর বেরিয়েছে- বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার কারণে সরকারের তরফে ৩০শে অক্টোবরের বৈঠকে মিয়ানমারের কাছ থেকে প্রত্যাবাসনের একটি সুনির্দিষ্ট সময়ক্ষণ আদায়ের চেষ্টা রয়েছে। দোরগোড়ায় থাকা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যাচাইকৃত (ভেরিফায়েড) রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে অন্তত একটি ব্যাচে (প্রথম ব্যাচ) কিছু লোককে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। তবে সরকারের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য বা আগাম প্রতিক্রিয়া না দেয়ার নীতি নিয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্র এ-ও বলছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসন শুরু করা জটিল, তবুও সরকার এটি আদায়েই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার ওই আলোচনায় চীন মধ্যস্থতা করছে বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সূত্র মতে, এ নিয়ে নিউ ইয়র্ক ও বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ফের ত্রিপক্ষীয় ওই আলোচনা হবে। আগামী মাসের শুরুতে তৃতীয় ত্রিপক্ষীয় ওই বৈঠক হওয়ার আভাস মিলেছে। এরইমধ্যে বেইজিংয়ের মুখপাত্র বলেছেন, রাখাইন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গঠনমূলক আচরণ আশা করে চীন। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা এবং পারস্পরিক সহায়তা ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে উৎসাহ যোগাচ্ছে বেইজিং।
মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের জন্য প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সরকার রাখাইনে এক হাজারের বেশি ঘর নির্মাণ করেছে। ভারতও রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে রাখাইনে বাড়িঘর তৈরি করে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, আসেম সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, ভেরিফাইড রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ পুরোপুরি প্রস্তুত। মিয়ানমারের তরফে রাখাইন প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো শুরু করতে চায় ঢাকা।

মন্ত্রীর সংগঠনের ধর্মঘটে জিম্মি দেশ

গণপরিবহন চলাচল বন্ধ। সিএনজি অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলেও শ্রমিকদের বাধা। জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি নিয়ে যারাই রাস্তায় নেমেছে মারমুখী শ্রমিকদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। হয় গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে না হয় চালকের মুখে লাগিয়ে দেয়া   হয়েছে পোড়া মবিল। পরিবহন শ্রমিকদের নগ্ন হেনস্তা থেকে বাদ যায়নি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে মবিল মাখিয়েছে তারা। গতকাল সকাল থেকে দিনভর সারা দেশে ছিল অরাজক অবস্থা। সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সকাল থেকে শুরু হয় ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট।
শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ধর্মঘট হলেও ব্যক্তিগত গাড়ি, রপ্তানিসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার যানবাহন আটকে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে পথে পথে। ধর্মঘটে অচল ছিল পুরো দেশ। লাখ লাখ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের নামে এই ধর্মঘট ডাকে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। মন্ত্রী এ সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি। পুরো দেশকে জিম্মি করে ধর্মঘট ডাকার বিষয়ে কোনো কথা বলেননি শাজাহান খান। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে রাতে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। যদিও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন এই মুহূর্তে আইন পরিবর্তন সম্ভব নয়।
৮ দফা দাবিতে ধর্মঘট চলাকালে সকাল  থেকে সরকারি মালিকানাধীন বিআরটিসি’র কিছু সংখ্যক বাস ছাড়া কোনো গণপরিবহন রাস্তায় দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন রুটে ব্যক্তিগত গাড়ি, ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেলেও চালকরা দাবি করেন পথে পথে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের হেনস্তা করেন। সকালে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, নাবিস্কো থেকে মহাখালী মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বাসের সারি। পার্ক করে রাখা হয়েছে এসব গণপরিবহন। রাস্তায়, চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন শ্রমিকরা। যাত্রীরা আসছেন, হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাদেরই একজন বিলকিস বেগম। দ্বিগুণ টাকায় সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ থেকে মহাখালী পৌঁছেন। সঙ্গে দুই শিশু সন্তান।
উদ্দেশ্য গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বীরগঞ্জে যাবেন। শাশুড়ি অসুস্থ। এতটা পথ গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব। বিলকিস বলেন, ‘গরিব মানুষ। বিপদে পড়ে গেছি। এখন কেমনে কি করি। গাড়ি তো ছাড়বে না।’ কথা বলছিলেন আর অসহায় দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলেন তিনি। তারপর সিএনজি অটোরিকশাতে করেই ফিরে যান তিনি। রিকশা থেকে নেমে দ্রুত এনা পরিবহনের কাউন্টারে ছুটে যান শরণ। বাসের কাউন্টার বন্ধ। ফোনে কল দিলেও রিসিভ করছে না কেউ। শরণ সোমবারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে যাবেন। টিকিট কেটে রেখেছিলেন বেশ আগেই।
শনিবার যখন জানতে পারলেন শ্রমিকরা ধর্মঘট ডেকেছে ঠিক তখনই ওই পরিবহন সার্ভিসের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করেন। শরণ জানান, কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছেন, টিকিট বাতিল করা হয়নি। তাই গাড়ি ছাড়তে পারে। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়েই গতকাল ফার্মগেট থেকে দুপুরে মহাখালী ছুটে যান তিনি। এখন কি করবেন জানতে চাইলে শরণ বলেন, কি করবো বুঝতে পারছি না। ট্রেনে দাঁড়িয়ে যাওয়া যায় কিনা চেষ্টা করবো। এ ছাড়া উপায় নেই। পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবো কিনা বুঝতে পারছি না। কথা বলার সময় তার চোখ ছলছল করছিলো। ধর্মঘট জানার পরও বাসস্ট্যান্ডে গিয়েছিলেন নিকেতনের লুৎফর রহমান। তিনিসহ বেশ কয়েক জন যাবেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে। সোমবারে তার চাচাতো ভাইয়ের বিয়ে। চাচাতো ভাইয়ের অভিভাবক বলতে লুৎফর রহমান। না গিয়ে উপায় নেই। পরিবহন শ্রমিকদের কাছে বারবার জানতে চাচ্ছিলেন, গাড়ি কখন ছাড়বে, ধর্মঘট কী আজ শেষ হবে না? লুৎফরসহ বিভিন্ন যাত্রীদের এরকম নানা প্রশ্নে বিরক্ত হচ্ছিলেন শ্রমিকরা।
বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ অলস সময় কাটাচ্ছিলেন চায়ের দোকানে। বাসস্ট্যান্ডে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে ভিড় করেন তারা। শ্রমিকরা বলেন, আমরা শ্রমিক। জরিমানা দেব, জেল খাটবো। এটা হবে না। এসব আইন মানি না। শ্রমিকদের মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের ইমাম পরিবহনের সুপারভাইজার শামীম শেখ বলেন, দেশের মানুষ কী সব শিক্ষিত হয়ে গেছে, যে অষ্টম শ্রেণি পাস ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। আমরা গরিব মানুষ। লেখাপড়া করতে পারিনি। ভাতা জুটে না ঠিকমতো, লেখাপড়া করবো কীভাবে? এখন যদি গাড়ি চালাতে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হয় তাহলে না খেয়ে মরতে হবে আমাদের। পাঁচ বছরের জেল-জরিমানা থাকলে কেউ গাড়ি চালাবে না।
এই আইন পরিবর্তন করতে হবে বলে দাবি করেন এই শ্রমিক। মহাখালী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কোথাও কোনো গণপরিবহন নেই। বৃদ্ধা মাকে ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। বাংলামোটর এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, তালতলায় দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কোনো গাড়ি পাননি। মা অসুস্থ। তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা। এতদূরে রিকশায় যাওয়া সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়েই ভ্যানে উঠেন। তবে অনেককেই দেখা গেছে, পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে। রাজধানীর রাস্তাগুলো ছিল ফাঁকা। প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও রিকশা-অটোরিকশা ছাড়া কোনো গণপরিবহনের দেখা মিলেনি।
সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ী মোড়ে অবস্থান নেন ওই এলাকার পরিবহন শ্রমিকরা।
সেখান থেকে কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে তারা ডেমরা, পোস্তগোলা, দয়াগঞ্জ, চিটাগাং রোডে অবস্থান নেন। এসময় তারা ওইসব সড়কে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেলের ওপর হামলা করেন। পোড়া মবিল লাগিয়ে দেন গাড়ি ও চালকের শরীরে। এ ছাড়া নানাভাবে করেন হেনস্তাও। কেউ কেউ গাড়িতে লাথি-ঘুষি দিয়ে ভেঙে দেন প্রাইভেট গাড়ির হেডলাইটসহ নানা যন্ত্রাংশ। শ্রমিকদের হাতে-পায়ে ধরেও রেহাই পাননি অনেকে। সারা দিনই বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ধর্মঘট পালন করেন শ্রমিকরা। দুপুরের দিকে যাত্রাবাড়ী থানা থেকে ১০০ গজ দূরে চিটাগাং রোডে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা একের পর এক প্রাইভেট গাড়ির যাত্রী ও চালকদের হেনস্তা করছিলেন।
খিলগাঁও থেকে আসা ঢাকা মেট্রো থ-১৩-১৯৪০ নম্বরের একটি সিএনজিকে আটকে তারা ভাঙচুর করেন। লাথি দিয়ে দুমড়ে মুচড়ে দেন সিএনজিটিকে। এসময় শ্রমিকরা ওই চালকের পুরো শরীর মবিল দিয়ে লেপ্টে দেন। তার কিছুক্ষণ পর ঢাকা মেট্রো গ-১৭-৭৩৭৩ নম্বরের একটি প্রাইভেট কারকে একইভাবে হেনস্তা করতে দেখা গেছে। বিকালের দিকে ডেমরা সড়কে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করা একটি বাসের চালকের ওপর পোড়া মবিল ঢেলে দেয় শ্রমিকরা। এসময় শিক্ষার্থীরা শ্রমিকদের ওপর ক্ষেপে উঠেন। বিক্ষুব্ধ হয়ে তারা সড়কে অবস্থানরত শ্রমিকদের ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে শ্রমিকরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। শ্রমিকরা পালিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা সড়কে আড়াআড়ি বাস দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ছাড়া পরিবহন ধর্মঘট থাকার কারণে সড়কে কোনো ধরনের বাস চলাচল না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। যাত্রাবাড়ী মোড়ে হাজার হাজার যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যেতে চাইলেও কোনো পরিবহনের দেখা পাননি। বিকল্প হিসেবে রিকশা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে। জরুরি কাজে মিরপুর যাওয়ার জন্য যাত্রাবাড়ী মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন আশরাফি সুলতানা। তিনি বলেন, এ কেমন ভোগান্তি শুরু হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি তবুও একটাও বাসের দেখা পেলাম না। এখন এতদূর রিকশা নিয়ে যাওয়ার উপায় নাই। আবার না গেলেও হবে না। অনেক সিএনজিকে সিগন্যাল দিয়েছি। তারা মিরপুর যেতে অনেক ভাড়া চায়। অসুস্থ রোগী দেখতে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে কোনো বাস পাননি যাত্রাবাড়ীর সোহেল হায়দার। পরে ৪০০ টাকা খরচ করে তিনি বিশ্বরোড পর্যন্ত একটি সিএনজি ভাড়া করেন। নারায়ণগঞ্জ যাবার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মানিকনগরের আয়েশা খাতুন ও তার ছোট দুই সন্তান। মানিকনগর থেকে রিকশা করে এসে পৌঁছান যাত্রাবাড়ী। সেখানে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। রিকশা করেও এতদূর যাওয়া সম্ভব নয়। পরে তিনি বাধ্য হয়েই ফিরে যান বাসায়।  
এদিকে গতকাল সকাল থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। টার্মিনাল ও তার আশেপাশের সকল সড়কে সারিবদ্ধভাবে বাস পার্কিং করে রাখা হয়েছিলো। শ্রমিকরা তখন বিভিন্ন সড়কে দলবেঁধে ধর্মঘট পালন করছিলেন। আর বাস টার্মিনালের বাসের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শত শত যাত্রীকে। শাহ আলম নামের এক যাত্রী বলেন, প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে সপরিবারে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি। জরুরি কাজে পরিবার নিয়ে সিলেট যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এখানে একটি বাসের কাউন্টারও খোলা নাই। কি করে সিলেট যাবো জানি না। ভৈরবগামী আরেক যাত্রী সোহেল মিয়া জানান, কয়েক ঘণ্টা ধরেই এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কোনো বাস ছাড়ছে না। শুনেছি সকাল থেকে একটাও বাস ছেড়ে যায়নি।
একই চিত্র দেখা গেছে, রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে। দিনভর সেখান থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা কোনো যানবাহন চলতে দেয়নি। ওই এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও লেগুনা চলাচলেও বাধা দেয় শ্রমিকরা।

ধর্মঘটের নেপথ্যে কারা by শাহেদ শফিক

পরিবহন ধর্মঘটে মহাখালী বাস টার্মিনালের চিত্র
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে দেশজুড়ে শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট চলছে। এই ধর্মঘটে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। সরকারের শেষ মুহূর্তে এমন ধর্মঘট পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সরকারের কেউ কেউ বিশৃঙ্খলাসহ সহিংসতা ঘটালে কঠোর হাতে দমনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে এর নেপথ্যে সরকার ও সরকারবিরোধীদের শ্রমিক নেতারা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেড়ারেশন বলছে, তাদের এই দাবি ন্যায়সংগত। তারা কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান না। সরকারবিরোধী কোনও শক্তিরও হাত নেই এতে।
তবে সরকারপন্থী বেশ কয়েকটি সংগঠনের অভিযোগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেড়ারেশনের অধিকাংশ নেতাই বিএনপি আর জামায়াতের। এদের সঙ্গে সরকারের একজন মন্ত্রীসহ কিছু স্বার্থন্বেষী লোকও জড়িত। তারা দেশকে অচল করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কাজকে বাধা দিতে সরকারের শেষ মুহূর্তে সংসদ নির্বাচনের আগে এমন কর্মবিরতি আহ্বান করে সরকার ও জনগণকে জিম্মি করে ফায়দা লুটতে চায়। যদিও এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরকারের নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি এর কার্যকরী সভাপতি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকনের অভিযোগ, ‘অতীতে শ্রম আইন পরিপন্থী ধর্মঘট ডেকে যারা সরকারকে জিম্মি করতে চেয়েছিল, সেই একই চক্র আজকে পরিবহন খাতে কর্মবিরতি ডেকেছে। এই চক্রটিতে কারা আছে, কাদের নির্দেশে কর্মবিরতি চলছে তা সবাই জানে। পরিবহন শ্রমিকদের এই সংগঠনের বেশিরভাগ নেতাই বিএনপিপন্থী। তাই সংগঠনটি সরকারকে অচল করতে এমন কাজ করছে। এই সংগঠন শ্রম আইন, নীতি কিছুই মানে না। তাছাড়া আন্দোলনের নামে সাধারণ যাত্রী ও প্রাইভেটকার চালকদের মুখে পোড়া মবিল মেখে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এটা ফেডারেশনের নেতাদের ইন্ধনেই ঘটেছে। তারা একজন ক্ষমতাধর মন্ত্রীর ওপর ভর দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়।
শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল 
শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল
জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান, তিনি সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রী। সহসভাপতি-১ আব্দুর রহিম বক্স দুদু, তিনি জাতীয়বাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক এবং খুলনা মহানগর শ্রমিক দলের সেক্রেটারি। সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী। ফেড়ারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করম আলী দোহার থাকা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। কার্যকরী কমিটির সদস্য- ইসমাইল হোসেন ফলিক জামায়াত সমর্থিত বলে জানা গেছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক মুখলেসুর রহমান এক সময় ফ্রিডম পার্টির সদস্য ছিলেন। ফেড়ারেশনের সহ-সভাপতি আব্দুল ওদুদ নয়ন সিপিডির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সহ-সভাপতি আব্বাস উদ্দিন সাভার থাকার বিএনপির সভাপতি বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেড়ারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি ও শাজাহান খান দীর্ঘ ৪০-৪৪ বছর ধরে এই শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। অনেকেই অভিযোগ করতেই পারে। শাজাহান খানকেও বিএনপি বানিয়ে দিতে পারে। কেউ বলতো তো করার কিছু নেই। আমরা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করছি। শ্রমিকের ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে আছি এবং থাকবো। আমাদের কর্মবিরতি শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য।  যে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে আমাদের ৮ দফার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এই আন্দোলনের সঙ্গে ফেড়ারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সম্পৃক্ত আছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কার্যকরী সভাপতি হিসেবে সংগঠনের সিদ্ধান্তগুলো জানেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একার বিরোধিতায় তো আর হবে না। এখানে সংগঠনের অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন এবং সরকারেরও প্রতিনিধিত্ব করছেন।
শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বিপাকে যাত্রীরা 
শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে বিপাকে যাত্রীরা
সরকারপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ফেডারেশনের অধিকাংশ নেতাকে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী বলছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, যারা এই অভিযোগ করছেন তারা বিএনপি জামায়াতের তাণ্ডবের সময় কোথায় ছিলেন? আমরা তো রাস্তায় ছিলাম। এখন বিষয়টা হচ্ছে সংগঠন একটা খুলে একটা সংবাদ সম্মেলন করে অনেক অভিযোগ করা যায়। কিন্তু রাস্তায় তাদেরকে দেখা যায় না। এরাই রিকশা এবং ভ্যানগাড়ির লাইসেন্স বিক্রি করে চলে।
এদিকে রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী অভিযোগ করে বলেন, আগামী নির্বাচন উপলক্ষে যখন দেশে উৎসবমুখর নির্বাচনি প্রচারণা চলছে ঠিক তখনই বিএনপি জামাতের মদদপুষ্ট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কর্মবিরতির নামে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ অশান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। গতকাল (২৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে পরিবহন শ্রমিক সমাবেশের নামে যারা বক্তব্য রেখেছেন তারা অধিকাংশই বিএনপি-জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ওই মিটিংয়ে ফেডারেশনের সভাপতি জনাব ওয়াজ উদ্দিন খানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি।
প্রাইভেট, কার ও রিকশার দখলে রাজপথ 
প্রাইভেট, কার ও রিকশার দখলে রাজপথ
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন যাবত এই তথাকথিত নেতারা পরিবহন শ্রমিকদের ব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। পরিবহন শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কখনও কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করে নাই। যার ফলে কিছুদিন আগে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ফেডারেশনের তথাকথিত নেতাদের পরিত্যাগ করে নিজেরাই আন্দোলন সূচনা করেছিল এবং সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী ধারা-উপধারা শিথিল করার আশ্বাস দেন। যেখানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের তথাকথিত নেতারা সংযুক্ত ছিল না। যার ফলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য আজ থেকে ৪৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির নামে ধর্মঘট ডেকে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার পাঁয়তারা করছে।
এর আগেই প্রায় একই দাবিতে গত ৮ অক্টোবর ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে পণ্যপরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। কিন্তু তখন ওই ধর্মঘটে ফেডারেশনের নেতাদের সমর্থন ছিল না।

অন্তর্জালে উন্মুক্ত হলো জলির ‘ফোন এক্স’

সবার জন্য উন্মুক্ত হলো চিত্রনায়িকা জলির প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘ফোন এক্স’।
সিনেস্পট অ্যাপের মাধ্যমে দর্শকরা এই ওয়েব সিরিজটির প্রথম পর্ব ফ্রি দেখতে পাবেন বলে জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইনোভেট সলিউশন।
অনন্য মামুনের পরিচালনায় বড় বাজেটের এই সিরিজে আরও অভিনয় করেছেন সানজু জন, ইমতু, লামিয়া, কাজী উজ্জ্বল এবং ভারতের সিব ট্রামবাক, মধুমিতা, শ্রাবন্তী ও মুসকান।
এতে দেখা যাবে, সময়ের আলোচিত পরিচালক ও একজন সুপার স্টারের খুন হওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি চাঞ্চল্যকর গল্প।
নির্মাতা অনন্য মামুন বলেন, ‘আমি সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। আশা করি, দর্শকদের ভালো লাগবে।’
এদিকে জলি বলেন, ‘এটা আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ। যদিও পুরো কাজটি ফিল্মিক। শুটিংয়ের সময় মনে হয়নি আমরা সিনেমার বাইরে কিছু করছি। গল্পটা মিডিয়ারই। ফলে দর্শকরা দেখে আরাম পাবেন।’
প্রসঙ্গত, জলি অভিনীত অন্যতম চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘নিয়তি’, ‘অঙ্গার’, ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ প্রভৃতি।