Friday, March 18, 2011

জাপানের অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা

ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে জাপানে পারমাণবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আর এসবের সমন্বিত প্রভাবে দেশটির অর্থনীতি এখন টালমাটাল হয়ে পড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের নিক্কি-২২৫ সূচক সাড়ে ১০ শতাংশ পড়ে গেছে। এটি ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসের বিশ্ব আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে বেশি হারে পতন। অবশ্য দিনের একপর্যায়ে সাড়ে ১৪ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল।
ফলে শুক্রবারের পর দুই কার্যদিবসে বাজার থেকে ৬২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার হাওয়া হয়ে গেছে।
শেয়ারবাজারসহ গোটা আর্থিক খাতে আতঙ্ক রোধে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপান গতকাল দেশের ব্যাংক-ব্যবস্থায় নয় হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিয়েছে। আর সোমবার দিয়েছে ১৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
অর্থনীতিবিদদের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুসারে, ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে শুধু পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য জাপানকে এক লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির প্রায় ৩ শতাংশ। তবে অনেকেই মনে করেন, এই ব্যয় ৫ শতাংশ হতে পারে।
জাপানের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী কোরু ইয়োসানো জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য গতকাল বলেছেন, ‘জাপানের উৎপাদনশক্তি ও অর্থনীতির পতন ঘটেনি। আমি মনে করি, বাজারের বিভ্রান্তি দ্রুত কেটে যাবে।’
টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কারণ ঘটেনি উল্লেখ করে ইয়োসানো বলেন, অর্থনীতি ভালো অবস্থায় আছে।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নাডো বলেছেন, শেয়ারবাজারের ঘটনা ‘সাময়িক প্রতিক্রিয়া’।
জাপানের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখায় বিশ্বজুড়ে মোটরগাড়ি, জাহাজ নির্মাণ ও প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানিগুলো আগামী দিনের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
জাপান বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের এক-পঞ্চমাংশ জোগান দিয়ে থাকে। এর মধ্যে শুধু মেমোরি চিপসের ৪০ শতাংশ আসে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, ইলেকট্রনিক পণ্যসামগ্রীর সরবরাহে যতটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে, এর চেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা দেবে পরিবহন ও জ্বালানি খাতের পণ্যে। ভূমিকম্প ও সুনামিতে সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পণ্য ও গাড়ি জাহাজীকরণে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে এসব পণ্যসামগ্রীর দাম দ্রুত অনেক বেড়ে যেতে পারে।
জাপানের সংকট এশিয়াসহ বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোকেও প্রভাবিত করছে। গতকাল এশিয়ার প্রায় সব কটি প্রধান শেয়ারবাজারেই পতন হয়েছে। তাইপে ও হংকং শেয়ারবাজারে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ হারে দরপতন ঘটেছে। সাংহাই ও সিউল স্টক এক্সচেঞ্জে যথাক্রমে ১ দশমিক ৪১ শতাংশ ও ২ দশমিক ৪০ শতাংশ হারে পতন ঘটেছে।
এ ছাড়া দরপতন ঘটেছে সিঙ্গাপুর, সিডনি, জাকার্তা, কুয়ালালামপুর ও ব্যাংককেও।
জাপানের শিল্প উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে, এই আশঙ্কায় গতকাল ইউরোপের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। মোটরগাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার অধিক হারে পড়ে গেছে।
সোমবার জাপানি নয়, এমন মোটরগাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর বেড়েছিল এই প্রত্যাশায় যে তারা জাপানি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ-ঘাটতির সুযোগে বাজারে ভালো ব্যবসা করবে।
কিন্তু মঙ্গলবারই পরিষ্কার হয়ে যায় যে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই গাড়ির যন্ত্রাংশের জন্য জাপানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মঙ্গলবার আর এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়েনি।
এদিকে গতকাল ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েন শক্তিশালী হয়েছে। দিনের একপর্যায়ে প্রতি ডলারের বিনিময় দর ৮১ দশমিক ৪০ ইয়েনে উন্নীত হয়, যা দিনের শেষে ৮১ দশমিক ৬৫ ইয়েনে স্থির হয়।
বিপর্যস্ত দেশের পুনর্গঠন কার্যক্রমের অর্থায়নে বিমা ও নির্মাণপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জাপানি প্রতিষ্ঠান পুনরায় ইয়েন কিনে নিতে আরম্ভ করায় ইয়েন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এতে নতুন আরেক শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, শক্তিশালী ইয়েন এক দিকে জাপানের রপ্তানি-আয়কে তুলনামূলকভাবে কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ভিন দেশ থেকে মুনাফা স্বদেশে প্রত্যাবাসন করবে, তখন তাদের প্রকৃত মুনাফা কমে যাবে।

আজ ডিএসইর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বার্ষিক সাধারণ সভা এবং প্রেসিডেন্টসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় হোটেল ওয়েস্টিনে এ ব্যাপারে সভা অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভা হবে। এরপর নতুন প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। নির্বাচনে মোট ১২ জন পরিচালক তাঁদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে শাকিল রিজভী ডিএসইর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ারবাজারে দরপতন

এক দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল মঙ্গলবার নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। এর ফলে কমেছে মূল্যসূচক। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে দেখছেন বাজারের স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, শেয়ারবাজারে ওঠানামা থাকবে এটাই স্বাভাবিক এবং বাজারের জন্য ইতিবাচক। তবে অতিরিক্ত ওঠানামাটা অস্বাভাবিকতার লক্ষণ।
ডিএসই গতকাল দিনভর সূচকের ওঠানামা ছিল চোখে পড়ার মতো। লেনদেনের শুরুতে স্টক এক্সচেঞ্জটির সাধারণ মূল্যসূচক ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যে সূচক সাত পয়েন্ট নেমে যায়। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটের পর থেকে সূচক আবার বাড়তে থাকে। এরপর কয়েকবার ওঠানামা করে সূচক। কিন্তু দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক ১৪০ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৩১৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক ৪০৮ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট কমে ১৭ হাজার ৭৮২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল মোট ২০১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ১৩৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। আর মোট আর্থিক লেনদেন হয়েছে ১৩৮ কোটি টাকার।
ডিএসইতে ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৩টির, কমেছে ১৮৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে নয় কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল—বেক্সিমকো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আফতাব অটোমোবাইল, বেক্সটেক্স, ম্যাকসন স্পিনিং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, কনফিডেন্স সিমেন্ট, শাইনপুকুর সিরামিক এবং আর এন স্পিনিং।
সবচেয়ে বেশি কমেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া ইনটেক অনলাইন, এইচআর টেক্সটাইল, সমতা লেদার, গ্রামীণ মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম-১, ইস্টার্ণ ব্যাংক, অলটেক্স, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও রহিমা ফুড দাম কমে যাওয়ার শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
নিম্নমুখী বাজারে গতকাল দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানি সিএমসি কামাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বা ছয় টাকা ৮০ পয়সা বৃদ্ধি পায়। সারা দিন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ৭১ থেকে ৭৫ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়। এ ছাড়া অ্যাকটিভ ফাইন, সিনোবাংলা, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স, রূপালি ইনস্যুরেন্স, কাশেম ড্রাইসেল, মেঘনা সিমেন্ট, কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স ও তাক্কাফুল ইনস্যুরেন্স দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
৪০০ কোটি টাকা দিচ্ছে সোনালি ও জনতা: পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য তারল্য বাড়াতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড’-এ পৃথকভাবে ৪০০ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকারি মালিকানাধীন দেশের বৃহত্তম দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক লিমিটেড। তহবিলটিতে সোনালী ব্যাংক ২০০ ও জনতা ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে। গত সোমবার ব্যাংক দুটির পরিচালনা পর্ষদ ওই ফান্ডে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীরসহ অন্যান্য পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, তহবিল গঠনের জন্য যখন প্রয়োজন হবে, তখনই এ অর্থ ছাড় করা হবে। একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

এসআইবিএলের ১৪ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য ১৪ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৮ এপ্রিল সকাল ১০টায় গলফ গার্ডেন, আর্মি গলফ ক্লাব, এয়ারপোর্ট রোড, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ৩১ মার্চ।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২ দশমিক ১৫ টাকা, প্রতি শেয়ারের প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) ১৪ দশমিক শূন্য ৫ টাকা এবং প্রতি শেয়ারে নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৭ দশমিক ২১ টাকা।

দুদক আইনের সংশোধন: সোনার পাথরবাটি by শাহ্দীন মালিক

মহামান্য সরকার বাহাদুর চাইলে সবই পারেন। অল্প কিছুদিন আগে দুদকের চেয়ারম্যান দুদক আইনের প্রস্তাবিত সংশোধন সম্পর্কে টিআইবির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্তব্য করেছিলেন যে আইনের সংশোধনগুলো গৃহীত হলে দুদক সোনার পাথরবাটি হয়ে যাবে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে যখন এ আলোচনা হচ্ছিল, তখন সংশোধনী আইনে কোন কোন ধারার কী কী সংশোধন হচ্ছে, সেটা দুদকের চেয়ারম্যানসহ আমরা কেউই সঠিক জানতাম না। এটা ছিল সরকারের অতি গোপনীয় কাজের অংশ। অবশ্য পত্রপত্রিকা কিছু কিছু সংশোধনী প্রস্তাব ফাঁস করে দিয়েছিল। খোদ চেয়ারম্যান সাহেব বলেছিলেন, যা পরে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল—তিনিও সংশোধনী সম্পর্কে কিছু জানেন না। অর্থাৎ মহামান্য সরকার বাহাদুর তাঁর সঙ্গে দুদক আইনের সংশোধন নিয়ে কোনো সলাপরামর্শ করেননি। আমজনতার মতো তিনিও সংবাদমাধ্যমের মারফত জানতে পেরেছেন, যা জানতে পেরেছেন, তাতে তাঁর মনে হয়েছিল যে ওসব সংশোধনী প্রস্তাব গৃহীত হলে সংশোধিত আইনের আওতায় দুদক সোনার পাথরবাটি হয়ে যাবে।
আমাদের মান-অভিমান, শঙ্কা, সংকোচ-সন্দেহ সব দূরীভূত করে দুর্নীতি দমন কমিশন [সংশোধনী] আইন, ২০১১-এ বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।
স্পষ্টত সরকার বাহাদুর অনেকগুলো সোনার পাথরবাটি তৈরিতে বদ্ধপরিকর।

২.
যেমন, দেশে আইনের শাসনের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সরকার বাহাদুর। রাজনৈতিক বিবেচনায় শত শত বা হাজার হাজার (হিসাব আজকাল আর রাখি না—জোয়ারে ভেসে যাচ্ছি তাই) মামলা প্রত্যাহার করছেন রাজনৈতিক বিবেচনায়। নাকি রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা হয়েছিল, তাই সেগুলো প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
অর্থাৎ রাজনীতির সঙ্গে মামলা সরাসরি প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে গেছে। আগেও জড়িত ছিল কিন্তু সেটার কিছুটা হলেও রাখঢাক ছিল। এখন সব খোলামেলাভাবে হয়। অর্থাৎ স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আইনের শাসন পোক্ত হয়েছে।
যেমন সন্তু লারমা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়া উচিত ছিল। জনৈক মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কারটা পেয়ে গেলেন। এদিক-ওদিক তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলো। ভাগ্যিস, অভিযোগগুলো এখনো তেমন গুরুতর নয়। তাই জামিন পাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় যেহেতু ফৌজদারি মামলা দায়ের সর্বজনস্বীকৃত, সেহেতু গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত করে রাজনৈতিক মামলা হবেই। কত তাড়াতাড়ি হবে, সেটাই দেখার ব্যাপার। তদুপরি তাঁকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অপসারণ করার জন্য প্রফেসর ইউনূস কোর্ট-কাচারি করছেন। কোর্ট-কাচারি যখন তাঁর এত পছন্দ, তাই যাতে আরও বেশি বেশি বার তাঁকে কোর্টে যেতে হয়, তা সুনিশ্চিত করা মহামান্য সরকার বাহাদুরের অবশ্য করণীয়। এবং সেটা হওয়া উচিত রাজনৈতিক বিবেচনায়।
বর্তমান নিয়মের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্ঘাত মামলাগুলো প্রত্যাহার করবে। রাজনৈতিক বিবেচনাই এখন আমাদের আইনের শাসনের মূল কথা।
শুক্রবার (১১ মার্চ) সকালে প্রথম আলোয় খবর দেখলাম সংসদীয় উপকমিটির বাংলাদেশ বিমানে দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্তের ব্যাপারে। ১৯৯১ থেকে আজতক বিমানের সব দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত তাঁরা করেছেন। পত্রিকার খবর অনুযায়ী মন্ত্রী-এমডি-কর্মকর্তাদের বিমানের দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ততা-সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছেন। তবে কমিটিটি ১৯৯৬-২০০১ সালের সময়কার কোনো লেনদেন, কেনাবেচা, দেনা-পাওনার ব্যাপারে নাক গলায়নি।
তামাম দুনিয়ায় প্রায় সব ধরনের বিশাল স্বীকৃতি-পুরস্কার অধ্যাপক ইউনূস পেয়েছেন। আমাদের সরকার বাহাদুর প্রশংসা-পুরস্কার-সম্মান-স্বীকৃতি নাও পেতে পারেন। তবে একটা বিশেষ ধরনের অর্থাৎ আইনের শাসন মানে সবকিছুই রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত—নতুন তত্ত্ব উদ্ভাবন ও প্রয়োগের জন্য অতি শিগগিরই বিশ্বব্যাপী যে স্বীকৃতি মিলবে, সে ব্যাপারে অধমের সন্দেহ বা আশঙ্কা অতি ক্ষীণ।

৩.
দুর্নীতি দমন কমিশনও যাতে সবকিছু রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে করে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য দুদক আইনের এই সংশোধনীগুলো আনা হচ্ছে।
আশা করছি, পাঠক, মহামান্য সরকার বাহাদুরকে ভুল বুঝবেন না। সব কাজে নিয়মনীতি ভালো হোক, মন্দ হোক—একটাই থাকা উচিত। খুন, জখম, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি মামলা দায়ের ও মামলা প্রত্যাহার রাজনৈতিক বিবেচনায় হবে আর দুর্নীতি মামলায় কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না—এটা তো হতে পারে না। এক দেশে দুই আইন কেমনে গ্রহণযোগ্য হবে।
ইদানীং মহামান্য সরকার বাহাদুরের মামলা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত কমিটি অনেকগুলো দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ পাঠিয়েছে দুদকের কাছে। দুদক সেগুলো আমলে নিচ্ছে না। সরকারের নিজের লোকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিবেচনায় গত সরকার-আমলে দায়ের করা কোনো মামলাই দুদক এখনো প্রত্যাহার করেনি।
দেশের এখন আইন হলো, মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের হবে, প্রত্যাহারও হবে রাজনৈতিক বিবেচনায়। দুদককেও আইন মানতে হবে। দুদক তো আর আইনের ঊর্ধ্বে নয় বা থাকতে পারে না। অতএব, দুদককে এই নতুন আইনের শাসনের আওতায় আনতে এখন দুদক আইনে সংশোধনী এনে বিধান করা হচ্ছে যে, সরকারের লোকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা দায়ের করতে হলে মহামান্য সরকার বাহাদুরের পূর্বানুমোদন লাগবে। সরকার বাহাদুরের অনুমতি ব্যতিরেকে দুদক দুর্নীতি মামলা দায়ের করতে পারবে না।
অর্থাৎ এবং অতএব দুদক দুর্নীতির মামলা দায়ের করতে হলে রাজনীতিকে বিবেচনায় আনতে হবে। বুঝতে হবে, রাজনৈতিক বিবেচনায় কার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি পাওয়া যাবে, কার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি পাওয়া যাবে না।
‘কইনচাইন দেখি’ গোছের একটা চুটকি প্রশ্ন—বলেন দেখি কার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আগেই আগাম অনুমতি পাওয়া যাবে?
শতকরা ৯৬ ভাগ উত্তরদাতার উত্তর সঠিক হয়েছে।
আজকাল আইন নিয়ে সিরিয়াসলি কিছু লেখার ক্ষমতা লোপ পাচ্ছে। কারণ, আমাদের আইনগুলো ক্রমশ হাস্যরস বা কৌতুকের কেতুকুতি দেয়। আইনগুলো কমেডি শোর বিষয়বস্তু হলে তার কিছুটা হয়তো যৌক্তিকতা থাকত।
জানি, আইন অনেক সিরিয়াস ব্যাপার। পাঠক, আমার কথা বিশ্বাস করবেন না। তবু একটু চেষ্টা করতে, অর্থাৎ অধমের কথায় বিশ্বাস করার চেষ্টা করতে দোষ কী? দুদক সংশোধনী আইনে একটা নতুন ধারা যোগ করা হয়েছে এবং তাতে বলা হয়েছে, কারও দুর্নীতি সম্পর্কে ‘তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত না হইয়া’ যদি কোনো তথ্য দেন এবং সে তথ্যের কারণে তদন্ত পরিচালনা ‘হইবার সম্ভাবনা থাকে’ তাহলে ওই সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত না হয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ন্যূনতম দুই আর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হবে।
তথ্যদাতাই যদি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হয়ে যায়, তাহলে দুদকের কী দরকার, সেটা বোঝার ক্ষমতা এই অধমের নেই; তবে মহামান্য সরকার বাহাদুরের নিশ্চয় আছে।
দুদক তদন্তই করল না, অর্থাৎ তথ্য প্রদানকারী সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হয়েছিল কি না, সেটা যাচাই-বাছাইয়েরও দরকার নেই। প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে যেহেতু তদন্ত পরিচালনা একটা ‘সম্ভাবনা’ জাগ্রত হয়েছে, সেই সম্ভাবনা জাগ্রত করার কারণেই তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়ে যেতে পারে। আর তথ্য প্রদানকারী যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হন, তাহলে তার জন্য শুধু কারাদণ্ডই যথেষ্ট নয়, আইন বলেছে, তাদের রিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তথ্য দেওয়ার ঠেলা সামলাও। আরও আছে। বর্তমান আইনানুযায়ী তদন্তের জন্য দুদক কোনো ব্যক্তিকে তলব করতে পারত। বর্তমান আইনের ক্ষমতাবলে, দুদক আপনাকে ডেকে পাঠালে আপনি যেতে বাধ্য। এখন যাতে সরকারের পেয়ারা ব্যক্তিদের এসব ডাকাডাকি করতে না পারে—অর্থাৎ ডাকাডাকি করার আগে রাজনৈতিক বিবেচনা যদি মাথায় না নেয়, সে জন্য ডাকাডাকির ক্ষমতাই প্রায় বাতিল করা হয়েছে।
সংশোধনের ফলে দুদকের ক্ষমতা হবে ‘আমন্ত্রণ’ জানানো। ‘নেমন্তন্নপত্র’ কেউ যদি গ্রহণ না করে, তাহলে নেমন্তন্নদাতা ভদ্রলোকের সাধারণত করার কিছুই থাকে না মনে মনে গোস্সা করা ছাড়া। দুদকেরও এর পর থেকে নিতান্ত ভদ্দরলোক হয়ে গিয়ে গোস্সা করা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।

৪.
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেই, অথচ দেশের উন্নতি হচ্ছে—এমন কোনো দেশের কথা আমাদের জানা নেই। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে শীর্ষস্থানের জন্য যারা বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবল প্রতিযোগিতা করে তাদের দেশের জনগণের আর্থসামাজিক, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান সবই আমাদের মতো। অর্থাৎ দুর্নীতি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে দেশের লোকের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে—এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি।
যারা দুর্নীতি করে তারাই দুর্নীতির বিচার চাইবে না—এর থেকে স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার আর কী হতে পারে?
দুদক দন্তহীন বাঘ। অর্থাৎ আইন সংশোধনের পক্ষে যুক্তি উঠছে যে দুদক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। সরকারি কর্মকর্তা, আমলা, মন্ত্রী—সবাই দুদকের ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হতে পারে।
কথাটা সত্যি হলেও তার সমাধান এই নয় যে দুদকের হাত-পা ভেঙে তাকে পঙ্গু করে দিতে হবে। সরকারের ভূরি ভূরি গোয়েন্দা আছে। যদি সরষেতে ভূত থাকে, তাহলে তার প্রতিকার অবশ্যই করা সম্ভব। দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্মূল্যায়ন করতে দোষ কী?
যাহোক, দুর্নীতি থাকলে দেশের উন্নতি হবে না। আর বিদেশি মেহমান পেলেই সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রী-সচিব, বৈদেশিক বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যানসহ সবাই আমাদের দেশে বিনিয়োগের জন্য এসব বিদেশি মেহমানের যতই তোষামোদি করি না, বিনিয়োগ হবে না। বিনিয়োগ করে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান করতে যদি পদে পদে ঘুষ দিতে হয়, তাহলে কেউই আসবে না। আসবে, তবে শুধু তারা যাদের ব্যাপারে ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’ কথাটা প্রযোজ্য।
আর দেশের ভাবমূর্তি। থাক, আর নাই-বা বললাম। শুধু এতটুকু—এটা সোনার পাথরবাটির দেশ।
শাহ্দীন মালিক: জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

ইয়েমেনে বিরোধী দলের কর্মী নিহত সাংবাদিক বিতাড়ন

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে গতকাল মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রধান বিরোধী দলের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।
এ দিকে গত সোমবার নিরাপত্তা বাহিনী একটি ভবন থেকে চারজন পশ্চিমা সাংবাদিককে তাড়িয়ে দিয়েছে। সে দেশে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করায় ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ভারতে ৩৬ মাওবাদী নিহত

ভারতে মাওবাদী-অধ্যুষিত ছত্তিশগড় ও বিহার রাজ্যে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে গত সোমবার ৩৬ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ছত্তিশগড়ে ৩০ জন এবং বিহারে ছয়জন। এ ছাড়া পুলিশসহ চার নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন। বিহারে ধরা পড়েছে আটজন সশস্ত্র মাওবাদী। দুই রাজ্যের মাওবাদীদের ঘাঁটি থেকে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
ছত্তিশগড় পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (নকশাল দমন) রামবিলাস বলেন, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর যৌথ বাহিনীর ১৪৫ জনের একটি দল দান্তেওয়াড়া জেলার চিন্তলনা জঙ্গলে অভিযান চালায়। এ সময় ৩০ জন মাওবাদী নিহত হয়।
এদিকে বিহার পুলিশের মহাপরিচালক নীলমণি জানান, রাজ্যের পূর্ব চম্পারণ জেলার ধর্মাহা গ্রামে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর এক লড়াইয়ে ছয় মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। ধরা পড়েছে আট সশস্ত্র মাওবাদী। পুলিশ গোপন সূত্রে খবা পেয়ে বিহারে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু করে।

বাহরাইনে সামরিক আইন জারি

বাহরাইনের বাদশাহ শেখ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা গতকাল মঙ্গলবার সে দেশে সামরিক আইন জারি করেছেন। তিন মাসের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে নিরাপত্তার সার্বিক দায়দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার বাহরাইনে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারকে সামরিক আইন জারি করার আহ্বান জানায় আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এই ঘোষণা দেওয়া হলো।
দেশটিতে এক মাস ধরে বিক্ষোভ চলে আসছে। সুন্নি-শাসিত বাহরাইনে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়ারা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ বিক্ষোভ করছে।
এদিকে বাহরাইনে সৌদি আরবের সেনা পাঠানোর ঘটনাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়ারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার শামিল বলে মন্তব্য করেছে। গত রোববার দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ দমনে বাহরাইন সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সহস্রাধিক সেনা পাঠায় সৌদি আরব।
সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জেসিসি) বাহিনীর একটি অংশ হিসেবে বাহরাইনের সরকারি স্থাপনা রক্ষায় ওই সেনা পাঠানো হয়েছে। এর আগে বাহরাইন সরকার জেসিসির কাছে প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঠানোর আবেদন জানায়। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত বলছে, তারা বাহরাইনে ৫০০ পুলিশ পাঠিয়েছে।
শিয়াদের রাজনৈতিক দল ওয়েফাকসহ বিরোধী দল বলছে, সৌদি আরবসহ আরব উপদ্বীপের অন্য দেশগুলো থেকে বাহরাইনে বাহিনী পাঠানোর অর্থ হলো নিরস্ত্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধের ঘোষণা।
এদিকে গতকাল ইরান বাহরাইনে সৌদি আরবের সেনা পাঠানোর ঘটনাকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে।
গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাহরাইনে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়নি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৪ মার্চ শুরু হবে। চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। ইতিমধ্যে বামফ্রন্ট ও বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। অথচ মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেস জোট এখনো তাদের আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে সমাঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
২৯৪ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেস ৯৮টি আসনে নির্বাচন করার জন্য দাবি জানিয়েছে। তবে মমতা কংগ্রেসের জন্য ৬৮টি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছেন। এদিকে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় মমতার সঙ্গে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
আসামে সতর্কতা জারি: ভারতের আসাম রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সোমবার উলফা ও বোরো বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিরা দুটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এ হামলার পর গতকাল মঙ্গলবার আসামজুড়ে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অ্যাসাঞ্জের অভিযোগ অস্বীকার করলেন জুলিয়া গিলার্ড

উইকিলিকসের অস্ট্রেলীয় কর্মীদের ব্যাপারে বিদেশে তথ্য পাচারের অভিযোগ অস্ট্রেলিয়া সরকার গতকাল মঙ্গলবার অস্বীকার করেছে। উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ সম্প্রতি ওই অভিযোগ করেন।
গতকাল এবিসি টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিড রাডকে ওই-সংক্রান্ত অভিযাগের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন রাড বলেন, তিনি নিজে এ-সংক্রান্ত কোনো কাজ করেছেন বলে মনে হয় না।
প্রধানমন্ত্রী গিলার্ড বলেন, তাঁর সরকারের কেউ উইকিলিকসের অস্ট্রেলীয় কর্মীদের ব্যাপারে বিদেশে তথ্য পাচার করেছেন—এমন কোনো কিছু তাঁর জানা নেই।
গিলার্ড দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, আমি সত্যিই বলছি , তাঁর (অ্যাসাঞ্জ) অভিযোগের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। উইকিলিকসের হয়ে যাঁরা অস্ট্রেলিয়াতে কাজ করছেন, তাঁদের ব্যাপারে কারা বিদেশে তথ্য সরবরাহ করেছে, তা আমি আসলেই জানি না। আমার জ্ঞাতসারে বিষয়টি ঘটেনি।
যৌন হয়রানির অভিযোগে বর্তমানে লন্ডনে ৩৯ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জের বিচার চলছে। গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তার বার্তায় নথিপত্র ফাঁস করে দিয়ে অ্যাসাঞ্জ প্রতিষ্ঠিত উইকিলিকস সম্প্রতি বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছে

নিরাপদ স্থানে যেতে তোড়জোড়

পরিবারের সবাইকে নিয়ে তৈরি হয়ে যান। চট করে সেরে ফেলুন গোছগাছ। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্মৃতিময় জিনিসগুলো সঙ্গে নিন। তারপর চলে যান নিরাপদ স্থানে।’
সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট টুইটারে এসব কথা লিখেছেন একজন ব্যবহারকারী। ভূমিকম্প-পরবর্তী সুনামির আঘাত সামলে যারা জীবিত আছে, জাপানের সেই সব দুর্গত মানুষের উদ্দেশে তাঁর এই সতর্কবাণী।
জাপানে পরমাণু চুল্লিবিষয়ক দুর্ঘটনা গতকাল সে দেশে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে। ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিলে ঘটা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর জাপানের এই দুর্ঘটনাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সতর্কবাণীর পর পরমাণুর তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা পেতে মরিয়া জাপানের অগণিত মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শুরু হয় ব্যাপক তোড়জোড়। প্রত্যেকেই নিজে যেমন এ ব্যাপারে সতর্ক হয়, তেমনি অন্যদেরও পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে তাদের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়।
ওই টুইটার ব্যবহারকারী আরও লেখেন, ‘দক্ষিণে তাইওয়ানে চলে যান আপনারা। পারলে অস্ট্রেলিয়ায় যান। আর যদি জাপান ছেড়ে যেতে না-ই পারেন, তাহলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যত দূর যাওয়া যায়, চলে যান। দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা থেকে যতটা দূরে থাকা যায়, থাকুন।’
গতকাল দিনভর ইন্টারনেটে এ ধরনের বার্তা জাপানজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। নিরাপদ স্থানে যেতে তাৎক্ষণিক প্রস্তুতির ধুম পড়ে যায়। দোকানগুলোতে দ্রুত ফুরিয়ে যায় ফ্ল্যাশলাইট, বেতারযন্ত্র, মোম ও ঘুমানোর জন্য স্লিপিংব্যাগের মতো দরকারি জিনিস। একজন টুইটার ব্যবহারকারী লেখেন, ‘আমি তিনটি বড় ট্যাংকিতে পানি ভরে রেখেছি। আছে এক ট্যাংকি গ্যাস। একটি স্নানাধারও (বাথটাব) পানিভর্তি করেছি। পানি ও গ্যাসের সংকট দেখা দিলে কাজে লাগবে এই সঞ্চয়।’
এদিকে জাপান ছাড়তে বিমানবন্দরগুলোতে সে দেশের নাগরিক ও বিদেশিরা ক্রমে ভিড় করছে। নারিতায় টোকিওর প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভিড় বেড়েই চলেছে।

জাপানে ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে

জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামিতে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া যেকোনো দুর্যোগের আর্থিক ক্ষতির রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, এ দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে।
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে হারিকেন ক্যাটরিনা আঘাত করার পর সেখানে সাত হাজার ৭০০ কোটি পাউন্ডের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইস বলেছে, জাপানের এ ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ হবে কমপক্ষে ১০ হাজার ৬০০ কোটি পাউন্ড।
বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, এ দুর্যোগের কারণে তাদের তিন হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। ফলে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।
বিমা সংস্থা এয়ার ওয়ার্ল্ডওয়াইড বলেছে, গ্রাহকদের বিমার দাবি পূরণ করতে গিয়ে কোম্পানিগুলোর ৯ থেকে ২২ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
দুর্যোগের কারণে গতকাল মঙ্গলবার জাপানের পুঁজিবাজার নিক্কেই সূচকে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পতন হয়। এতে নিক্কেই প্রায় ৯০ বিলিয়ন পাউন্ড পুঁজি হারায়। জাপানের শেয়ারবাজারের এ ধসের প্রভাব পড়ে ব্রিটেনসহ বড় বড় দেশের শেয়ারবাজারেও।

উপকূলজুড়ে এখনো লাশের স্তূপ প্রিয়জনকে খুঁজে ফিরছে মানুষ

জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলজুড়ে এখনো লাশের স্তূপ। প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও সুনামির পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল পর্যন্ত উপকূলের এখানে-সেখানে ছড়িয়ে ছিল মানুষের মৃতদেহ। এর মধ্যে অনেকে খুঁজে ফিরছে প্রিয়জনের মরদেহটি।
আসাহি শিম্বুন পত্রিকা গতকাল জানায়, হিগাসি-মাতসুশিমার নোবিরু জেলায় পাওয়া গেছে প্রায় ২০০ লাশ। সেখান থেকে স্বেচ্ছাসেবক জানান, কেউ প্রিয়জনের লাশ খুঁজে পেতে চাইলে তাঁকে একটার পর একটা লাশ ঘাঁটতে হবে।
সম্ভবত একজন মধ্যবয়সী পুরুষের লাশ ঝুলে ছিল পাঁচ মিটার উঁচুতে পাইনগাছের ডালে। ধূসর রঙের একটি জ্যাকেটে তাঁর মুখ ঢাকা ছিল।
৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, তিনি বৃদ্ধ মাকে খুঁজছেন। ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার পর সুনামি তাঁকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
৪১ বছর বয়সী কেনিচি ওগাতা খুঁজে ফিরছেন তাঁর স্ত্রী মিহোকে। ওগাতা জানান, শুক্রবার ভূমিকম্পের পরপরই তিনি বাড়ি ফিরে দেখেন, খোসা ছাড়ানো অবস্থায় একটি আপেল টেবিলে রাখা আছে। তিনি তা খেয়ে স্ত্রীর সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। লোকজনের কাছে জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী একটি গাড়িয়ে নিয়ে নিরাপদ স্থানের উদ্দেশে চলে গেছেন। এ কথা শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন। খুঁজতে খুঁজতে গত সোমবার তিনি দেখেন, এক জায়গায় গাড়িটা উল্টে পড়ে আছে, ভেতরে কেউ নেই।
ওগাতা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, সুনামি তাঁকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, কোনো আশা নেই।
এক বাড়িতে একটি ভগ্নাবশেষের মধ্যে পড়ে ছিল কয়েকটি লাশ। একজন পুরুষ পড়ে আছেন একটি সোফার ওপর। অন্য এক বয়সী নারীর দেহের অর্ধেকটা ঢেকে আছে ভাঙাচোরা জিনিসে। পাশে ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লম্বা লাঠি দিয়ে লাশগুলো উল্টিয়ে দেখতে থাকে সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সের (এসডিএফ) সদস্যরা। গত সোমবার তাঁদের একটি দল জীবিত উদ্ধার করে দুজন বয়সী ব্যক্তিকে। অন্য একটি দল একই দিন উদ্ধার করে ১৫ থেকে ২০টি লাশ।
এসডিএফ সদস্যরা লাশগুলো উদ্ধার করে কম্বল বা সাদা কাপড়ে জড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে হিগাসি-মাতসুশিমার একটি ব্যায়ামাগারে। সেটি এখন ব্যবহূত হচ্ছে অস্থায়ী শবাগার হিসেবে।
৫৫ বছর বয়সী নোবুও আতসুমি তাঁর ৭৯ বছর বয়সী মায়ের লাশ খুঁজে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম মা হয়তো বেঁচে গেছে। কিন্তু...’
তবে এর মধ্যেও উদ্ধারকারীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যদি কাউকে জীবিত উদ্ধার করা যায়। ভূমিকম্পের চার দিন পর গতকাল মঙ্গলবার ওতসুচি শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৭০ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা।

দীর্ঘশ্বাসে ভারী যেখানে বাতাস

বেদনাসিক্ত দীর্ঘশ্বাসে ভারী এখন জাপানের বাতাস। কয়েক দিন আগেও যারা পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে সুখশান্তিতে বাস করছিল, এখন তাদের অনেকের নাম-নিশানাও নেই। সর্বনাশা সুনামিতে ভেসে গেছে কারও বাবা, কারও মা, কারও বা পরিবারের সবাই। যারা বেঁচে আছে তাদের চোখ থেকে মৃত্যুর ছায়া এখনো কাটেনি। খাবার, পানি ও ওষুধের জন্য কাতরাচ্ছে তারা।
উল্টে থাকা ফ্রিজ খুলে কোনোমতে হয়তো বের করা গেছে কিছু ‘ফ্রোজেন নুডুলস’। তাও গরম করার ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। যারা আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে, তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ।
রেডক্রসের হাসপাতালে এক চিলতে জায়গাও ফাঁকা নেই। কাঁদায় মাখামাখি ওষুধের প্যাকেট। হাতে নগদ টাকাকড়ি থাকলেও মিলছে না ওষুধ কিংবা খাবার পানি। বুকের ওপর চেপে থাকা স্বজন হারানোর শোক সরিয়ে দিতে প্রাণভরে যে একটু কাঁদবে, অনেকের সেই সুযোগটুকুও জুটছে না।
নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা ইয়ুমি তাকানোর বাড়ি সেন্দাই প্রদেশের আগাহারা শহরে। তাকানো বললেন, ‘ভূমিকম্পে বাড়িটা এমনভাবে ঝাঁকাচ্ছিল যে, ভেবেছিলাম বাড়িটা ভেঙেই পড়বে। ঝাঁকানো থামতেই আমি প্রতিবেশীকে নিয়ে লাফিয়ে গাড়িতে উঠলাম। সুনামি হতে পারে—এ আশঙ্কায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আমরা শহর থেকে বেরিয়ে এলাম। যারা সেখান থেকে আসতে দেরি করেছে, প্রায় সবাই ভেসে গেছে।

মনমোহন সিং সরকারের মধ্যেই একঘরে!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে নিজ সরকারের মধ্যেই ‘একঘরে’ হয়ে পড়েছিলেন বলে উইকিলিকসের ফাঁস করা নথিতে দাবি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের দি হিন্দু পত্রিকা ওই নথির উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের আগস্টে ভারতের তৎকালীন জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর) এম কে নারায়ণনের সঙ্গে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথি রোয়েমারের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় উল্লেখ করে রোয়েমার ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি তারবার্তা পাঠান। দি হিন্দু বলেছে, উইকিলিকসের হস্তগত হওয়া ওই তারবার্তার একটি কপি তাদের হাতেও এসেছে।
ওই প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ব্যাপারে মনমোহনের আগ্রহ এবং এ বিষয়ে তাঁর সরকারের কর্মকর্তাদের বিরোধী মনোভাব তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।
তারবার্তায় বলা হয়েছে, মনমোহন সিং পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে আগ্রহী। অন্যদিকে এম কে নারায়ণন বরাবরই এর ঘোর বিরোধী ছিলেন।
ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় মার্কিন কূটনীতিক টিমোথি রোয়েমার বলেন, তাঁর সঙ্গে আলাপকালে নারায়ণন পাকিস্তানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেন। নারায়ণন প্রধানমন্ত্রীকে একজন ‘অ্যাকসিডেন্টাল পলিটিশিয়ান’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের অংশীদারিমূলক লক্ষ্য থাকতে পারে, কিন্তু তাঁদের তা নেই।
টিমোথি রোয়েমার তারবার্তায় বলেন, মনমোহনকে তাঁরা আগে নিজ দলের মধ্যে যতটা কোণঠাসা বলে মনে করতেন, নারায়ণনের সঙ্গে বৈঠকের পর তার চেয়ে অনেক বেশি কোণঠাসা মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, তাঁর মনে হয়েছে মনমোহন নিজ দলের মধ্যে একেবারে ‘একঘরে’ হয়ে পড়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃস্বপ্ন!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ দেখেছে জাপান, দেখেছে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞ। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন অনেক মানুষ। গত শুক্রবার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প-সুনামি আর এর পর থেকে ফুকুশিমায় ঘনিয়ে উঠতে থাকা পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই দুঃস্বপ্ন ফিরিয়ে এনেছে প্রবীণদের চোখে।
উত্তর-পূর্ব উপকূলে জেলেদের ছোট গ্রাম ইয়ুরিয়াগেতে বাস করেন ৭৫ বছর বয়সী হিরোসাতো ওয়াকোর। একটি ভূমিকম্প ও সুনামিতে উপকূলের আর পাঁচটি গ্রামের মতো ওই গ্রামেও ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে গেছে। বাড়িঘর এখন ন্যাড়া লোহার কঙ্কাল। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া শিকের সঙ্গে ঝুলে আছে মরদেহ। এই দৃশ্য দেখে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃস্বপ্নই বারবার ফিরে আসছে ওয়াকোর মনে।
উত্তর-পূর্ব উপকূলের সবচেয়ে বড় শহর সেন্দাইয়ে মিত্রবাহিনীর বোমা বর্ষণের কথা উল্লেখ করে ওয়াকো বলেন, ‘সেন্দাইয়ে বোমা বর্ষণের সময় আমি এই শহরেই ছিলাম। কিন্তু ভূমিকম্প-সুনামির পর যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখছি, তা আরও ভয়ংকর।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় প্রথম পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে ফেলা হয় আরেকটি পারমাণবিক বোমা। হিরোশিমায় ৭০ হাজার এবং নাগাসাকিতে ৭৫ হাজার মানুষ মারা যায় তাৎক্ষণিকভাবে।
এবার ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বায়ুমণ্ডলে, যা হয়তো দীর্ঘদিন ধরে ভোগাবে মানুষকে, যেমনটা হয়েছে হিরোশিমা-নাগাসাকির পর।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, সতর্কতা

জাপানে প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপের পারমাণবিক প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। জাপানে ভ্রমণ পরিহার করতে মার্কিন নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চীন বলেছে, তাদের আকাশে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জার্মান ও সুইস সরকার পরমাণু প্রকল্প-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে।
এদিকে এরই মধ্যে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিককেন্দ্রে গত চার দিনে তৃতীয়বারের মতো বিস্ফোরণ ঘটেছে। সর্বশেষ বিস্ফোরণ হয় কেন্দ্রের দুই নম্বর চুল্লিতে। কেন্দ্রটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সেখানকার প্রকৌশলীরা।
ব্রাসেলস থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, ইউরোপে এখন যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জার্মানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ বাড়াতে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি স্থগিত ঘোষণা করেছেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল।
পারমাণবিক চুল্লির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি জার্মানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল। পারমাণবিক চুল্লির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহান্তে জার্মানিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার পারমাণবিক কর্মসূচিবিরোধী কর্মী।
সুইস সরকার নতুন পারমাণবিককেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করেছে। অস্ট্রিয়ার একজন মন্ত্রী ইউরোপের পারমাণবিক চুল্লিগুলোতে নতুন করে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পরমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য ইউরোপীয় কমিশন গতকাল মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি মন্ত্রী ও পরমাণু বিশেষজ্ঞদের বৈঠক ডেকেছে।
এদিকে ফুকুশিমা পারমাণবিক চুল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জাপানে ভ্রমণ পরিহার করার জন্য মার্কিন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় বলা হয়, অপরিহার্য নয় এমন সরকারি কর্মকর্তাদের জাপান ভ্রমণ স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বেড়ানোর উদ্দেশে জাপান না যাওয়ার জন্য নিজ দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানায় পররাষ্ট্র দপ্তর।
রুশ কর্মকর্তারা জানান, জাপানের ফুকোশিমা পারমাণবিককেন্দ্রের ৮০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা সামান্য বেড়েছে। তবে তা স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে রয়েছে।
চীনের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেছেন, জাপানের পারমাণবিককেন্দ্রে দুর্ঘটনা থেকে চীনকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। দেশটির ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান লিউ তিয়েনান জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে দুর্ঘটনার বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করার জন্য গত সোমবার নির্দেশ দিয়েছেন। জাপানে ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বিপর্যয় দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সতর্কতামূলক এ পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।

রিয়ালের জেগে ওঠার অপেক্ষায় মরিনহো

দুটি বাধা এবং একজনের জাদু-স্পর্শ। কোনটির জয় হবে? আজ চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ খেলতে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠে এই ম্যাচে দুটি বাধা রিয়াল মাদ্রিদের—পরিসংখ্যান আর অলিম্পিক লিওঁ।
পরিসংখ্যান বলছে, নয়বারের ইউরোপ-সেরা রিয়াল গত ছয় মৌসুমে শেষ ষোলোর কড়িকাঠই পেরোতে পারেনি। এই বৃত্তে কি এবারও আটকে থাকবে দলটি? দ্বিতীয় বাধা ফরাসি ক্লাব লিওঁই আজ রিয়ালের প্রতিপক্ষ। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফরাসি ক্লাবগুলোর বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ ১১ ম্যাচের ৭টিতে জিতেছে ঠিক, কিন্তু এর একটি জয়ও লিওঁর বিপক্ষে নয়।
এবার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লিওঁর মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে এসেছে রিয়াল। এর আগে কখনো লিওঁর মাঠে ড্রও করতে পারেনি তারা। আজ কি ঘরের মাঠে লিওঁ বাধা টপকাতে পারবে হোসে মরিনহোর দল?
‘পারবে, রিয়াল মাদ্রিদ অবশ্যই পারবে’—মরিনহো আত্মবিশ্বাসী। রিয়াল কোচের এই আত্মবিশ্বাস পুরো বার্নাব্যুতেই। আসলে এই মরিনহোরই স্পর্শে জেগে উঠেছে রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগে মরিনহো সত্যিই জাদুর কাঠি। পোর্তোকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন, গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে এনে দিয়েছেন শিরোপা। এবার এই স্পর্শে সোনা ফলাতে চান বার্নাব্যুতে। ‘আমার দল সাম্প্রতিক ইতিহাসে ভীত নয়। পরিসংখ্যান আছে, তবে আমরা এগুলো উল্টে দিতে পারি।’
নিজের দলকে হাতির সঙ্গে তুলনা করে মরিনহো বলছেন, ‘রিয়াল হচ্ছে বিশ্বের সেরা দল, তবে ঘুমোচ্ছে। এটা আসলে ঘুমন্ত হাতির মতো। জেগে উঠলেই শক্তিটা টের পাবে সবাই।’ সেই শক্তি দেখিয়েই লিওঁ-বাধার অর্ধেক শেষ করেছে রিয়াল।
আজ ম্যাচ আছে ইংলিশ পরাশক্তি চেলসিরও। তবে এফসি কোপেনহেগেনের বিপক্ষে প্রথম লেগটা ২-০ গোলে জিতে থাকায় ‘ব্লু’দের সামনে শেষ আটে ওঠার রাস্তাটাও পরিষ্কারই বলা যায়।

ট্রটের বিশ্বাস ইংল্যান্ড পারবে

সূচি নিয়ে সমালোচনা, উইকেট নিয়ে অসন্তোষ—ইংল্যান্ড যেন বিশ্বকাপে এসেছিল সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলতে। ইংলিশদের এই প্রশ্নের ঝড় থেমে গেছে। এখন তো সূচি, উইকেট, ভারতের গরম—সবকিছুর ঊর্ধ্বে চলে গেছে তারা। এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলার আর সময় নেই। তাদের শিরে সংক্রান্তি। আগামীকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিততে না পারলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়ে যাবে।
আগামীকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাই হারাতেই হবে। দিন-রাত, অনুশীলনে কি অবসরে, এই একই কথা জপে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা—ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে হবে, যেতে হবে শেষ আটে। পল কলিংউড বলেছেন, এর পর বলেছেন সোয়ান। আর এখন ‘মি. ধারাবাহিক’ জোনাথন ট্রটও বললেন সেই একই কথা, ‘সূচি নিয়ে কথা বলাটা এখন বোকামি। আমরা সতেজ না থাকতে পারি, কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে আমাদের অবস্থা এখন কী এবং এই বিশ্বকাপে আমরা কী চাচ্ছি। দেশের লাখ লাখ মানুষ এই আশা করে আছে, এখন যে অবস্থায় আছি, এখান থেকেই কিছু একটা করে ফেলব আমরা।’
সেই কিছু একটা করতে দুটি বাধা অবশ্যই অতিক্রম করতে হবে ইংল্যান্ডকে। একটি চেন্নাইয়ের গরম, অন্য বাধা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ড। ম্যাচটি হবে চেন্নাইয়ে এবং এই সময়ে চেন্নাইয়ের তাপমাত্রা বেশির ভাগ সময়েই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। আর এই বিশ্বকাপে পোলার্ড-ঝড় তো অপ্রতিরোধ্য।
বিশ্বকাপে এই প্রথম খেলছেন পোলার্ড। ৪ ইনিংসে ৪১ গড়ে ১৬৪ রান করেছেন। ইংল্যান্ডের পোলার্ডকে নিয়ে সবচেয়ে বড় ভয় তাঁর স্ট্রাইক রেট—১৬৪.০০। ৪ ইনিংসে দুটি হাফ সেঞ্চুরি। হল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭ বলে করেছেন ৬০ রান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ রান করেছেন ৫৫ বলে। পোলার্ডকে ইংল্যান্ড থামাবে কী করে? দলের প্রধান পেসার জেমস অ্যান্ডারসন একেবারেই ফর্মে নেই। টিম ব্রেসনান ছাড়া সুবিধা করতে পারছেন না তেমন কেউই। তবে ট্রটের বিশ্বাস, পোলার্ডকে থামাতে পারবেন তাঁরা।
তা না হয় পারলেন। কিন্তু চেন্নাইয়ের গরম? এর মধ্যেই জ্বরে পড়েছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও গ্রায়েম সোয়ান। জ্বরের সঙ্গে পরশু যোগ হয়েছে সোয়ানের পেটের পীড়া। দুই দিন অনুশীলন করতে পারেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও দলের সেরা স্পিনার। তবে ট্রটের বিশ্বাস, ম্যাচের আগে তাঁরা ঠিকই সেরে উঠবেন, ‘তারা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ফিট হয়ে যাবে। দুই দিনের জ্বর সেরে তারা এখন আগের চেয়ে ভালো অনুভব করছে। তবে চেন্নাইয়ের আর্দ্রতা খুব বেশি।’
প্রকৃতিও যেন বাগড়া দিতে চায় ইংল্যান্ডের এগিয়ে চলায়! তাহলে কি এই বিশ্বকাপে নিজেদের সবগুলো ম্যাচে নাটকীয়তার জন্ম দেওয়া ইংল্যান্ডের ভবিতব্য বাড়ি ফিরে যাওয়া? আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল?
ট্রট সে রকম কিছু দেখছেন না। বিশ্বকাপের ৫ ম্যাচে ৪টি ফিফটি করা ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস। কলিংউড আর সোয়ানের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে তিনিও বলেছেন, ‘আমরা জানি, যেকোনো দলকেই হারাতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আমরা এটা দেখিয়েছি। ভারতের বিপক্ষেও অনেক ভালো খেলেছি। শুধু আমাদের ব্যাটিং-বোলিং একসঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে।’

গিলির পর জেপি

বল চলে গিয়েছিল আকাশের ঠিকানায়। কিন্তু মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব মেনে বল ফিরে এল নিচে। কিন্তু মাটির স্পর্শ পেল না। এর আগেই দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নিলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। ৯৯ রানে আউট জেপি ডুমিনি!
ক্যামেরা এক ফাঁকে ধরল গ্রায়েম স্মিথকে। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক মাথা নাড়ছেন অবিশ্বাসে। নিয়তির এই পরিহাসে প্রবল আপত্তি তাঁর। ডুমিনি যেভাবে খেলছিলেন, সেঞ্চুরিটা তাঁর অবশ্যই প্রাপ্য ছিল। পেলেন না। কিন্তু একটা রেকর্ডের পাতায় অন্তত ঠাঁই হয়ে গেল। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পর তিনিই বিশ্বকাপে ৯৯ রানে আউট হওয়া প্রথম ব্যাটসম্যান।
স্মিথের মাথা নাড়ানোর পেছনে আরেকটি কারণ খুঁজে পেতে পারেন। ওয়ানডেতে এর আগে ৯৯ রানে আউট হওয়া সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনিই। ২০০২ সালে সেঞ্চুরিয়নে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্মিথ সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থাকতে আউট হয়েছিলেন। আরেক দক্ষিণ আফ্রিকানেরই আছে এই যাতনা—ল্যান্স ক্লুজনার। সব মিলে ওয়ানডে ইতিহাসে ৩২ বার ১ রানের হতাশায় পুড়েছেন ব্যাটসম্যানরা।
এর মধ্যে শচীন টেন্ডুলকার একাই ৯৯ রানে আউট হয়েছেন তিনবার। এটিও একটি রেকর্ড। ৯৯ রানে দুবার আউট হয়েছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। বাকি ২৭ ব্যাটসম্যানের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে একবার করে। এর মধ্যে ১০ ব্যাটসম্যান ছিলেন ৯৯ রানে অপরাজিত!
খেলোয়াড়দের সেঞ্চুরিবঞ্চিত করতে সবচেয়ে বেশি ‘মজা’ বোধ হয় পায় ওভাল। লন্ডনের এই মাঠেই সর্বোচ্চ পাঁচবার ব্যাটসম্যানরা ৯৯ রান করে ফিরেছে সাজঘরে। অ্যাডিলেড ওভালেও দেখা যাচ্ছে দুই ব্যাটসম্যান এক রানের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হয়েছেন। সেঞ্চুরিয়নের নামও আছে এ তালিকায়।
সেঞ্চুরিয়নে গ্রায়েম স্মিথের ৯৯ রানে আউট হওয়ার কথা ওপরেই পড়েছেন। এ মাঠেই অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন ২০০৩ বিশ্বকাপে। স্মিথের মতোই তাঁকে এই যাতনা উপহার দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

ডেভিসনের বিদায়ী ম্যাচ

জন ডেভিসন চাইবেন, শুরুর সঙ্গে যেন মিলে যায় শেষটা। ২০০৩ সালে অভিষেকের দিনই পেয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয়। আজ বেঙ্গালুরুতে খেলতে নামছেন ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। কানাডা কি পারবে তার সবচেয়ে প্রতিভাবান ‘বর্ণাঢ্য’ ক্যারিয়ারের ক্রিকেটারটিকে বিদায় উপহার হিসেবে স্মরণীয় এক জয় এনে দিতে? কল্পনার জাল বুনতে শুরু করার আগে জেনে নিন, কানাডার প্রতিপক্ষের নাম অস্ট্রেলিয়া!
বিশ্বকাপে আজ কানাডার শেষ ম্যাচ। শুধু এই বিশ্বকাপেই নয়; আইসিসি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে হয়তো আর কখনো বিশ্বকাপে দেখা যাবে না কানাডাকে। যে কানাডা প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৭৯ সালে। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলেছে ২০০৩-এ। সেবারই বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই জয়।
অভিষেক ওই ম্যাচে জয় পেলেও ডেভিসন নিজে অবশ্য কিছু করে দেখাতে পারেননি। পেরেছিলেন তিন ম্যাচ পরে, যেদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়নে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাত্র ৬৭ বলে। বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল সেটি।
৩১ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ওই একটাই সেঞ্চুরি। পাশাপাশি ৫টি ফিফটিসহ ২৭.০৬ গড়ে করেছেন ৭৮৫ রান। কানাডায় জন্ম নেওয়া, বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়। সেই সূত্রেই ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার সম্পর্ক। আগামী মে মাসে ৪২-এ পা দিতে চলা ডেভিসন ভিক্টোরিয়া আর সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৫১টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচও খেলেছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১১১টি উইকেটও আছে তাঁর।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর অবশ্য নিয়ে ফেলেছেন আগেই। এখন কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির একজন কোচ হিসেবে। ভবিষ্যতে সেটাই করতে চান। তার আগে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন আজ। স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন বিদায়ের দিনটি।
ডেভিসনের বিদায়ের দিনটা আবার অস্ট্রেলিয়ার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মঞ্চ। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের দুই ম্যাচ হাতে রেখেই। ১৯ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ। ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে চায় বলে অস্ট্রেলিয়া ওই ম্যাচে পুরো শক্তির দলই হয়তো খেলাবে। আজ তাই তাদের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ সুযোগ।
দল নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা অস্ট্রেলিয়ার নেই। রিকি পন্টিং ছাড়া বাকি সবাই ভালো রানে আছেন। পন্টিং অবশ্য গত ম্যাচে ৩৬ রানের ইনিংসটায় বড় কিছুর পূর্বাভাস দিয়েছেন। পেসাররাও ভালো করছে। দুশ্চিন্তা কেবল স্পিনারদের নিয়ে। অপ্রত্যাশিতভাবে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া দলের মূল স্পিনার জেসন ক্রেজা ৩২.৫ ওভার বোলিং করে উইকেট নিয়েছেন মাত্র দুটি। গড় ৭২.৫০। আরেক স্পিনার স্টিভেন স্টিথ নিয়েছেন একটি মাত্র উইকেট। ডেভিড হাসি এক ম্যাচে মাত্র ৪ ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। তাঁরও এক উইকেট।
এই বিশ্বকাপ স্পিনারদের বিশ্বকাপ হবে বলা হয়েছিল। অথচ অস্ট্রেলীয় স্পিনাররা সব মিলে নিয়েছেন মাত্র ৪ উইকেট! পন্টিং অবশ্য দাবি করেছেন, স্পিনারদের এই পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন। পেসাররা যে ভালো করছেন। তবে আজ স্পিনারদের গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠারও দিন।

সহজ জয় চায় অস্ট্রেলিয়া

ছোট দলগুলোকে বাদ দিয়ে পরবর্তী বিশ্বকাপ আয়োজনের আইসিসির সিদ্ধান্তকে বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই সমর্থন দিয়ে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টিং। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের মহাকাব্যিক জয়, হল্যান্ডের বিপক্ষেও ইংল্যান্ডের ঘাম ঝরানো—এগুলোর কোনোটাই খুব বেশি দাগ কাটতে পারেনি পন্টিংয়ের মনে। তিনি খুব সোজাসুজিই বলেছেন, ‘ছোট দলগুলো যেভাবে একতরফাভাবে হেরে যাচ্ছে তাতে তারা এই বিশ্বকাপ থেকে কতটুকু শিখছে, সে সম্পর্কে আমার সন্দেহ আছে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের পরিসরটা যদি ছোট করে আনা হয়, তাহলেই সম্ভবত ভালো হবে।’
আজ নিজের কথার যথার্থতা প্রমাণের জন্য হলেও কানাডার বিপক্ষে একেবারেই সহজ জয় চান রিকি পন্টিং। কোনো ধরনের অঘটন, বিস্ময়ের সম্ভাবনা তিনি একেবারেই মনে আনছেন না। গতকাল তিনি খুব নিষ্ঠুরভাবেই বলেছেন, ‘আমি কোনো অঘটনের আশঙ্কা দেখছি না। আমরা খুবই অভিজ্ঞ ও দক্ষ একটা দল। আমরা কানাডার বিপক্ষে খুব অনায়াসেই জয় পাব।’
গ্রুপ পর্বের চারটা ম্যাচ পরেই কোয়ার্টার ফাইনালটা নিশ্চিতই করে ফেলেছে টানা তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। তার পরও আজ কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অসি ক্রিকেটারদের অনুশীলনটা ছিল চোখে পড়ার মতো। টানা তিনটা ঘণ্টা গনগনে সূর্যের নিচে আক্ষরিক অর্থেই ঘাম ঝরিয়েছেন পন্টিং-ক্লার্করা। পন্টিং ব্যাপারটার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘আমরা প্রতিটা ম্যাচের জন্যই সমানভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করি। কানাডার বিপক্ষেও আমরা অন্য সব ম্যাচের মতোই মাঠে নামব। আমরা প্রতিটা ম্যাচই সহজভাবে জিততে চাই।
কানাডা কি এখন রিকি পন্টিংয়ের এ নির্দয় মন্তব্যগুলোর পাল্টা কোনো জবাব দিতে পারবে? কানাডার অধিনায়ক আশিস বাগাই অবশ্য শুধু পন্টিংকে কোনো জবাব দেওয়ার কথাই ভাবছেন না। তিনি বলেছেন, ‘আমরা শুধু পন্টিংয়ের কাছেই আমাদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চাই না। এটা আমাদের নিজেদের জন্যও দরকার। আর চেষ্টা করব এমন কিছু করার, যেন আইসিসি তাদের সিদ্ধান্তটা নিয়ে আবার ভাবতে বাধ্য হয়।’ আশিষ বাগাই নিশ্চিতভাবেই তাঁর পেছনে অনেক সমর্থন পাবেন। এখন মাঠে এটা তারা কতখানি প্রমাণ করতে পারবেন, সেটাই দেখার বিষয়।

আত্মবিশ্বাসী গ্রায়েম স্মিথ

বি’ গ্রুপের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবে করতে না পারলেও মিডল অর্ডারের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে ‘জায়ান্ট কিলার’ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত তারা পেয়েছে ১৩১ রানের সহজ জয়। ১১৭ রানেই পাঁচ উইকেট হারানোর পর আরও একটি অঘটনের আশঙ্কা পেয়ে বসেছিল প্রোটিয়া সমর্থকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জে পি ডুমিনির ৯৯ রানের চমত্কার এক ইনিংসের ওপর ভর করে ২৭২ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। বোলিংয়েও তারা দেখিয়েছে অসাধারণ দৃঢ়তা। যে আয়ারল্যান্ড ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩৪ রান তাড়া করেও জয় ছিনিয়ে এনেছিল গতকাল তারাই মরকেল, পিটারসেনদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়ল। মাত্র ৩৪ ওভারেই গুটিয়ে গেল ১৪১ রানে।
‘বি’ গ্রুপে পাঁচ ম্যাচ শেষে এখন ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ রানের হারের পর অনেকেই তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছিলেন। বারবার উচ্চারিত হওয়া শুরু হয়েছিল তাদের ‘চোকার্স’ উপাধিটা। কিন্তু শেষ আট নিশ্চিত করার পর এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির। অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ বলেছেন, ‘আমরা নির্বিঘ্নে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম। সেটা আমরা করে ফেলেছি। এখনো অবশ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের আরেকটা খেলা বাকি আছে। আশা করছি নকআউট পর্বের তিনটা খেলাতেও আমরা ভালো করতে পারব। প্রথম ধাপটা আমরা ভালো মতোই পার করতে পেরেছি। আর এতে আমরা খুবই খুশি।’
গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা অনেক দিক দিয়েই ইতিবাচক ছিল বলে উল্লেখ করেছেন স্মিথ। জে পি ডুমিনি ও বোলারদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘বাজে কিছু রান আউট ছাড়া আমাদের সামগ্রিক পারফরমেন্স খুবই ভালো ছিল। বোলিংয়েও আমরা খুব ভালো করেছি। অবশ্যই আমরা আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলব। কিন্তু সব মিলিয়ে আমাদের জন্য এটা ছিল খুবই ইতিবাচক একটা দিন।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়েই ভাবছি: ওয়াকার

১৯৯৯ সালে শেষবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল পাকিস্তান। এরপর দুটি বিশ্বকাপ গেছে পাকিস্তানের সে দুটোতে গ্রুপ পর্বের বৈতরণীই পার হওয়া হয়নি। এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাটা তাই পাকিস্তান দলের জন্য একপ্রকার সাফল্যই। কিন্তু কোচ ওয়াকার ইউনুস এখনই কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে ভাবতে চাচ্ছেন না। তাঁর সব চিন্তা-ভাবনা এখন ১৯ মার্চের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে। কারণ, ওই ম্যাচটির ওপরই নির্ভর করছে পাকিস্তান গ্রুপ ‘এ’র কোনো স্থানে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। আর স্থানের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তানের কোয়ার্টার ফাইনাল প্রতিপক্ষও।
‘এ মুহূর্তে আমি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া আর কোনো কিছু নিয়েই ভাবছি না।’ ওয়াকারের বক্তব্য। তাঁর মতে, ‘আমরা যদি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি জিততে পারি, তাহলে আমারা অনেক বেশি উজ্জীবিত থেকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারব। উজ্জীবিত থাকলে আপনি কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলছেন, তা আপনার মাথায় খেলবে না।’
কানাডা যদি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো অঘটন না ঘটায়, তাহলে অসিরা বিশ্বকাপে ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার এক অনন্য রেকর্ড নিয়ে গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। এক যুগ আগে, ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া শেষবারের মতো বিশ্বকাপে হারের মুখ দেখেছিল। সেবার অস্ট্রেলিয়াকে হারের স্বাদ দিয়েছিল কিন্তু এই পাকিস্তানই। এবারের বিশ্বকাপেও রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ওয়াকার বলেন, ‘আমাদের এখনো সম্ভাবনা রয়েছে, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে অন্য গ্রুপের চতুর্থ দলের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার। যদি আমরা অন্য গ্রুপের চতুর্থ দলের সঙ্গে খেলতে পারি, তাহলে আমরা মানসিকভাবে নিচে থাকা একটি দলের সঙ্গে খেলতে পারব। তবে, তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের জিততে হবে। অস্ট্রেলিয়ার দারুণ একটি দল। গত এক যুগ ধরে তারা বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ হারেনি। ওদের হারিয়ে দিলে কোয়ার্টার ফাইনালে অন্য ধরনের এক শক্তি নিয়েই খেলা সম্ভব। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিই পাকিস্তানের জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচে শ্রীলঙ্কা স্পিন-নির্ভর কম্বিনেশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। পাকিস্তানও একই পথের পথিক হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াকার বলেন, ‘আমাদের স্ট্র্যাটেজিও তেমনই হবে।’ ওয়াকার আরও বলেন, ‘আমাদের স্ট্র্যাটেজি খুবই সাধারণ। প্রথমে ব্যাট করে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে একটা ভালো সংগ্রহ স্কোর বোর্ডে তুলে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলা। বোলিং শক্তির বিচারে পাকিস্তান অনেক দলের চেয়ে একটু এগিয়েই রয়েছে। তাই সবচেয়ে আগে আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভালো করতে হবে।’
পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি নিয়ে ওয়াকার যথেষ্টই চিন্তিত। তিনি মনে করেন, ‘ইনিংসের গোড়াপত্তনটা ভালো হচ্ছে না বলেই আমাদের মিডল অর্ডার প্রতিনিয়ত চাপে থাকছে।’ সর্বশেষ ম্যাচে আহমেদ শেহজাদের আউট নিয়ে কিছুটা বিরক্ত প্রকাশ করলেও সমর্থনটা এ তরুণের দিকেই রাখছেন ওয়াকার। তিনি বলেন, ‘গত ম্যাচে শেহজাদ যে শটটি খেলে আউট হয়েছে, তা ম্যাচের ঠিক ওই সময় দরকার ছিল না। ও ওই শটটা না খেললেই পারত। তবে, শেহজাদকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। বয়স মাত্র ২১, এই অঙ্গনে একেবারেই নতুন। অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে সে নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারবে বলেই আমার বিশ্বাস।

তবুও আয়ারল্যান্ডের প্রাপ্তিটা কম নয়!

গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৩১ রানে হারার পরই শেষ হয়ে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা। ১৮ মার্চ হল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটা হবে শুধুই সৌজন্য রক্ষার। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ না হলেও এবারের বিশ্বকাপের অর্জনটাকে একেবারেই ছোট করে দেখছেন না আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। অনেক ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ঝুলিতে নিয়েই দেশে ফিরবেন তাঁরা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে না পারলেও তাদের লড়াইটা একেবারে। নিজেদের মাঠে ২৭ রানের জয় পেতে রীতিমতো গলদঘর্মই হতে হয়েছিল সাকিব-তামিমদের। দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তো ইতিহাসই গড়ে ফেলল আইরিশ ক্রিকেটাররা। ৩২৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে পেল ৩ উইকেটের মহাকাব্যিক এক জয়। কেভিন ও’ব্রায়েন গড়লেন বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড। এই একটা ম্যাচ দিয়েই আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান পুরোপুরি সফল বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন আইরিশ সমর্থকেরা। এর পরে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আর জয় পাওয়া হয় নি। তবে টেস্ট পরিবারের বাইরের দেশ হিসেবে লড়াইটা একেবারেই খারাপ করে নি আয়ারল্যান্ড। সব মিলিয়ে অনেক অনেক সুখস্মৃতি নিয়ে, মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে পারবেন পোর্টারফিল্ড, ও’ব্রায়েনরা। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের পর আইরিশ অধিনায়ক পোর্টারফিল্ড বলেছেন, ‘বিশ্বকাপটা সব মিলিয়ে আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক ছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বোলিং, ফিল্ডিংটাও অনেক ভালো করেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ভারতের বিপক্ষেও আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছিলাম।’
এখন শেষ ম্যাচে হল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারলে বিশ্বকাপের সমাপ্তিটাও স্বপ্নের মতো হবে আয়ারল্যান্ডের।’