Saturday, September 24, 2011

ক্রিকেট কোচ নিয়ে ইমরান

কথাগুলো অনেক দিন থেকেই বলে আসছেন। বললেন আবারও। পাকিস্তানের একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষা ৎকারে ইমরান খান বলেছেন, বোর্ডে গণতন্ত্রের অভাবই পাকিস্তান ক্রিকেটের মূল সমস্যা। প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু গলদ আছে পদ্ধতিতেই। ওয়াকার ইউনুস দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন কোচের জন্য পিসিবির ত ৎপরতা দেখেও বিরক্ত সাবেক অধিনায়ক।
ইমরানের মতে, পিসিবির চেয়ারম্যান নির্বাচিত নয় বলেই এত সমস্যা, ‘লক্ষ্য হওয়া উচিত পাকিস্তানের ক্রিকেটকে একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া। কিন্তু পাকিস্তানে ক্রিকেট চলে অস্থায়ী ভিত্তিতে। অস্থায়ী ভিত্তিতে চলার কারণ পিসিবির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। আর চেয়ারম্যান হওয়ার একমাত্র যোগ্যতা প্রেসিডেন্ট তাঁকে পছন্দ করেন। দল জিততে থাকলে কৃতিত্ব চেয়ারম্যানের আর হারলে সরিয়ে দেওয়া হয় অধিনায়ককে। এ জন্যই অধিনায়কত্বে এত ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা যায়।’
পরিচর্যার অভাবে পাকিস্তানের অনেক প্রতিভা ঝরে যাচ্ছে বলে ধারণা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের. ‘সম্ভবত বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি প্রতিভা আছে পাকিস্তানে। প্রতিনিয়তই বের হয়ে আসছে প্রতিভাবান সব ক্রিকেটার। প্রতিভার অভাব কখনোই পাকিস্তানের সমস্যা নয়, সমস্যা হলো সেই প্রতিভাকে ঘষামাজা করে ধারালো করার কোনো পদ্ধতি নেই।’
ক্রিকেটে কোচকে কখনোই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি ইমরান। কোচ নিয়ে তাঁর দর্শনটা জানিয়েছেন আরেকবার, ‘কোচ একটা দলকে খুব কমই সাহায্য করতে পারে। কোচ নিয়ে এত মাতামাতিও আমার মাথায় ঢুকে না। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সেরা দল ছিল কোচের কারণে নয়। ওদের সেরা হওয়ার কারণ, ওদের দল ছিল দুর্দান্ত, ঘরোয়া ক্রিকেট এমন যে নিয়মিত ভালো ক্রিকেটার বেরিয়ে আসে, এর সঙ্গে ছিল ভালো অধিনায়ক। কোচ এত গুরুত্বপূর্ণ হলে তো জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ বা অন্য যেকোনো দুর্বল দল ভালো কোচ নিয়ে ভালো দল হয়ে যেত।’
ইমরানের মুখে এসব কথা যেমন অনেক পুরোনো, তেমনি তিনি নিজে ক্রিকেট প্রশাসনে আসতে চান কি না—এই প্রশ্নেও দিয়েছেন পুরোনো উত্তর—‘না।

রোনালদিনহো-তেভেজের দুই কপাল

রোনালদিনহোর সুযোগের মেয়াদ বাড়িয়েছেন মানো মেনেজেস। আরও দুটি প্রীতি ম্যাচের দলে তাঁকে রেখেছেন ব্রাজিল কোচ। এ মাসের ২৮ তারিখ আর্জেন্টিনার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের দলে রোনালদিনহোকে আগেই নিয়েছিলেন মেনেজেস। এবার ফ্ল্যামেঙ্গো প্লে-মেকারকে রাখলেন আগামী মাসে মেক্সিকো ও কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দলেও। কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি ৭ অক্টোবর, চার দিন পর মেক্সিকো ম্যাচটি।
২০১৪ বিশ্বকাপ ব্রাজিলে। নিজের দেশে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অনেক দিন ধরেই দেখছেন রোনালদিনহো। কার্লোস দুঙ্গার দলে উপেক্ষিত রোনালদিনহো অপেক্ষায় ছিলেন সুযোগের। এখনো ব্রাজিলের ফুটবলকে তাঁর অনেক কিছু দেওয়ার আছে, ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য দেখাতে চেয়েছেন সেটাই।
অনেক প্রত্যাশার সেই সুযোগ মেনেজেস রোনালদিনহোকে দিয়েছিলেন ঘানা আর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গত ম্যাচ দুটোয়। ঘানা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা রোনালদিনহো আর্জেন্টিনার সঙ্গেও তাঁর পুরোনো কিছু ঝলক দেখিয়ে কোচের মন জিতেছেন। এ কারণেই আরও সুযোগ পাচ্ছেন বার্সেলোনা ও এসি মিলানের এই সাবেক তারকা। কোস্টারিকা ও মেক্সিকোর বিপক্ষে দলে আছেন সান্তোস স্ট্রাইকার নেইমার, ডাক পেয়েছেন পোর্তোর স্ট্রাইকার ক্লেবার। তবে এ দুটি ম্যাচের জন্য মেনেজেস পাচ্ছেন না রবিনহো, পাতো ও গানসোকে।
কার্লোস তেভেজের ভাগ্যটা যেন রোনালদিনহোর ঠিক উল্টো। আলেসান্দ্রো সাবেলার আর্জেন্টিনা দলে ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার উপেক্ষিতই থেকে গেলেন। আগামী ৭ অক্টোবর আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে চিলির বিপক্ষে। এর চার দিন পর ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে খেলবে তারা। দুই ম্যাচেরই দল ঘোষণা করেছেন সাবেলা, তাতে নেই তেভেজ।

ভাগ্য ফিরবে রিয়াল-বার্সার?

শুরুতেই একটা কুইজ। বলুন তো, স্প্যানিশ লিগে এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে কোন দল? গত দু-এক দিন যদি লা লিগার হালনাগাদ তথ্যের খোঁজ না নিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে চমকে যাওয়ার মতো একটা উত্তর: রিয়াল বেটিস! সেই বেটিসই, যে বেটিস এই মৌসুমেই দ্বিতীয় বিভাগ থেকে আবার ফিরেছে লা লিগায়। যে বেটিস লা লিগা জিতেছিল একবারই, সেটাও প্রাগৈতিহাসিক যুগে—১৯৩৫ সালে। পরশু ১০ জনের দল নিয়েও রিয়াল জারাগোজাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। ম্যান সিটি থেকে ‘বিতাড়িত’ সান্তা ক্রুজ করেছেন জোড়া গোল। সব দলের চারটি করে ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পর শতভাগ সাফল্য শুধুই রিয়াল বেটিসের।
অবশ্য এতে খুব বিচলিত বোধ করার কারণ নেই বার্সেলোনার। গতবারও প্রথম চার ম্যাচে চার-ছয়-আট নম্বরে ঘোরাঘুরি করে ঠিকই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পেপ গার্দিওলার দল। তবে তার পরও পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হয়ে মাঠে নামতে পারছে না বার্সা-রিয়ালের কেউই। গত ম্যাচেই ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পর আজ আবার বড় ম্যাচ আছে বার্সার। প্রতিপক্ষ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। অবশ্য বার্সেলোনার জন্য স্বস্তির ব্যাপার হলো, খেলাটা নিজেদের মাঠে। গতবার ন্যু ক্যাম্পে অ্যাটলেটিকোকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বার্সা।
নিজেদের মাঠে ফেরার স্বস্তি আছে হোসে মরিনহোর দলেরও। তা ছাড়া প্রতিপক্ষ তাদের এবারই দ্বিতীয় বিভাগ থেকে উঠে আসা রায়ো ভ্যালেকানো। তবে প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজের দল নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা মরিনহোর, ‘দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচে ৫ পয়েন্ট হারানো উদ্বেগের। তার চেয়ে বড় উদ্বেগের, গত তিন ম্যাচে আমরা মাত্র একটি গোল করেছি। শনিবার (আজ) আমাদের গোল করা এবং জেতা—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।’
রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র। এর আগের ম্যাচে পুঁচকে লেভান্তের কাছে হার। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে ডায়নামো জাগরেবকে ন্যূনতম ব্যবধানে হারানো। এটাই হলো মরিনহোর দেওয়া হিসাবের তিন ম্যাচ। দুশ্চিন্তা আরও বাড়ার কারণ, চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটিতে জারকো লেকোর মারাত্মক ট্যাকলের শিকার হয়ে অ্যাঙ্কেলে চোট পাওয়ার পর তিনটা সেলাই নিতে হয়েছে রোনালদোকে। এর পর থেকে এই পর্তুগিজ সেরা রূপে দেখা দিতে পারছেন না।
বার্সার জন্য দুশ্চিন্তাটা আবার আক্রমণভাগের চেয়ে রক্ষণ নিয়েই বেশি। এমনিতে ‘বিকল্প’ দুই ডিফেন্ডার দিয়ে বেশ কিছুদিন কাজ চালিয়েছে বার্সা। দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হাভিয়ের মাচেরানো ও সার্জিও বুসকেটস মোটামুটি রক্ষণ সামাল দিলেও মাঝেমধ্যেই ফাঁকফোকর বেরিয়ে পড়ছে বার্সার রক্ষণে। এরই মধ্যে গত ম্যাচে আবার আত্মঘাতী গোলও করেছেন এরিক আবিদাল। গার্দিওলার কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ কমিয়ে কদিন আগেই অবশ্য দলে ফিরেছেন নিয়মিত অধিনায়ক কার্লোস পুয়োল। এই ম্যাচে ফিরতে পারেন আরেক সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকেও।
পুয়োল-পিকের ফেরাটা তো মনেপ্রাণেই চাইছিলেন গার্দিওলা। আজ থাকবে আরেকটা চাওয়াও—বার্সা ফিরুক ‘বার্সা’র রূপে।

স্বপ্নের সলিলসমাধি

নাদিমুজ্জামান প্রায়ই বলতেন, তিনি দেশে ফিরবেন। স্বপ্ন দেখতেন দেশের জন্য কাজ করবেন। কিন্তু তাঁর সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। দিন কয়েক আগে মেক্সিকো উপসাগরে আঘাত হানল হারিকেন ন্যাট (hurrican nate)। আর সে আঘাত চিরস্থায়ী যবনিকা টেনে দিল নাদিমের জীবনে।
নাদিম এই বছর খানেক আগের এক উজ্জ্বল বিকেলে শুনেছিলেন ততোধিক উজ্জ্বল এক সংবাদ। তিনি কানাডার দুর্লভ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী কোম্পানি জিওকাইনেটিকসের চাকরিটা পাকাপোক্ত হয়েছে বেশ আগেই; এবার পরিবার-পরিজন নিয়ে থিতু হওয়ার বিষয়টাও পোক্ত হলো সরকারিভাবে। চোখের সামনে এখন শুধুই বিলাসী জীবনের হাতছানি। কিন্তু নাদিমের মুখ হাসিহীন। তাঁর ছোট ভাই মামুন জানালেন, কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তিনি নাকি ম্লান মুখে স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘আমি আমার শেখা বিদ্যা কি সারা জীবন এই বিদেশের মাটিতেই বিলি করব? না, সুলতানা, আমাকে আর কয়েকটা বছর সময় দাও। নিজেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেই তবে দেশে ফিরব। আর বিশ্বকে জানাব, আমার দেশের মাটির গভীরে রয়েছে কী অমূল্য রত্নভান্ডার!’
সেই মোতাবেকই চলছিল সময়যাপন। জিওকাইনেটিকসের সাইসমিক (seismic) বিশেষজ্ঞ হয়ে লিবিয়া, মরক্কো, ওমান, সিরিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশের মাটির গভীরে খোঁজ করে বেড়াচ্ছিলেন তেল ও গ্যাস। বাড়াচ্ছিলেন অভিজ্ঞতার ঝুলি। বাড়াচ্ছিলেন অধিক বিদ্যার বহর। আর আড্ডায়-অবসরে নিত্যই বন্ধুদের স্মরণ করে দিচ্ছিলেন, ‘প্রস্তুত হও, এবার দেশে ফিরতে হবে। নিজের দেশের মাটির তলায় কত তেল-গ্যাস-কয়লা-হীরা থাকাও অসম্ভব কিছু না—সেসব খুঁজে বের করতে হবে না!’ স্মৃতি থেকে জানালেন তাঁর কাছের এক বন্ধু শামীম। তিনি আরও জানালেন, বন্ধুরা তাঁর কথায় তখন মাথা নেড়ে সম্মতি জানাতেন। বুকের ভেতর এক টুকরো বাংলাদেশ পুষে রেখে তাঁরা দিবস-রজনী কাজ করতেন বিভুঁইয়ের মাটিতে।
অতঃপর একদিন। ৮ সেপ্টেম্বর ২০১১। ১০ সদস্যের এক দলকে জিওকাইটেনিকস পাঠিয়েছে মেক্সিকোর ভূমধ্যসাগরে সাইসমিক সার্ভে কাজের জন্য। সেই দলে একমাত্র বাংলাদেশি ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে আছেন নাদিমুজ্জামান খানও।
সেদিন সকাল থেকেই প্রকৃতি ছিল বৈরী। চারজন মার্কিন, চারজন মেক্সিকান আর একজন অস্ট্রেলিয়ান গবেষকের সঙ্গে নাদিম তখন বে অব ক্যাম্পেচে থেকে ৮২ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে কর্তব্যরত। এদিকে বারবার রেডিও-টেলিভিশনে জানানো হচ্ছিল, ধেয়ে আসছে হারিকেন ন্যাট। নাদিম ও তাঁর সঙ্গীরা ভাবলেন, জিওকাইনেটিকসের পক্ষ থেকে নিশ্চয় তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, অথবা তাঁদের করণীয় কোনো নির্দেশনা নিশ্চয় আসবে। কিন্তু সময়মতো কিছুই এল না তাঁদের কাছে। না নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাওয়ার বার্তা, না ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস। তাঁদের জাহাজ পড়ল প্রলয়ংকরী ঝড়ের মুখে। ৫০-৬০ ফুট উঁচু উঁচু ঢেউয়ের তোড়ে সবাই হারিয়ে গেলেন মুহূর্তের মধ্যেই।
তার পরের গল্প নাদিমুজ্জামানের স্বজনদের মুখ থেকে: ‘তিন দিন পর ১২ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে চারটায় জিওকাইনেটিকস ই-মেইলে আমাদের জানাল, নাদিমকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি মেক্সিকোর একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। সেদিনই সকাল সাড়ে আটটায় জিওকাইনেটিকস আরও একটি মেইল করল, নাদিম খান আর নেই...।’ বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলছিলেন নাদিমের বড় ভাই মনিরুজ্জামান খান।
সত্যিই কি নাদিম নেই? তাঁরা বিশ্বাস করতে চান না। ছবির অ্যালবাম বের করে দেখান নাদিমের ছবি। এই তো নাদিম! চার ভাই এক বোনের মাঝে মধ্যমণি হয়ে বসে আছেন। মুঠোফোনে ভিডিও ক্লিপিং বের করে দেখান। সেখানে নাদিম তাঁর সহকর্মীদের প্রকল্প বুঝিয়ে দিচ্ছেন। নাদিম আছেন ছবিতে, ভিডিওতে, মনের রোদজ্বলা উঠোনে, স্মৃতির বারান্দায়। নাদিম কেবল নেই সশরীরে। নাদিম আর কখনো গাইবেন না রবি ঠাকুরের গান। প্রিয় গিটারের তারে বোলাবেন না আঙুলের পরশ। মাত্র ৪০ বছর বয়সেই জীবন থেকে ‘নেই’ হয়ে গেলেন বাংলাদেশের এক সম্ভাবনাময় ভূতত্ত্ববিদ নাদিমুজ্জামান খান।
এখন নাদিমের মৃতদেহ বুঝে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন নাদিমের স্বজনেরা। ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছাবে তাঁর শবদেহ। স্ত্রী সুলতানা খান বয়ে আনবেন এত দিনের জীবনসঙ্গীর লাশ। তারপর চিরতরে ঠাঁই নেবেন মাটির ঘরে।
তার পরও নাদিম খান স্মৃতি হয়েই বেঁচে থাকবেন স্ত্রী, দুই শিশুসন্তান মাঈশা ও নেহার জীবনে। নাদিম তবু বেঁচে থাকবেন বৃদ্ধা মায়ের প্রতিটি অশ্রুবিন্দুতে। আর নাদিমের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন বুনে যাবেন তাঁর ভূতত্ত্ববিদ বন্ধুরা, যাঁরা একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠ নিয়েছিলেন ভূতত্ত্বের। তারপর ছড়িয়ে পড়েছেন কর্মের প্রয়োজনে বিশ্বের নানা প্রান্তরে। তাঁদের কানে যে এখনো বাজছে নাদিমের এই দরাজ আহ্বান: ‘চলো বন্ধু, দেশে ফিরে যাই; দেশের জন্য কিছু করি।’
মারুফ ইসলাম

হরতাল নয়, উন্নয়ন অনুকূল কর্মসূচি চাই by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

বেশ কিছুদিন আগে একটি জরিপের ফলাফল জেনে বুক এক বিঘত বেড়ে গিয়েছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী নাকি বাংলাদেশের মানুষ। যে দেশের মানুষকে রাজধানীতে কিংবা যেকোনো রাজপথে যানজটে সেদ্ধ হতে হয় সময়ে-অসময়ে, সড়কপথে কিংবা নৌপথের দুর্ঘটনা যেখানে নিয়মিত অতিথি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে কথা বলতে পরম আশাবাদী মানুষও যেখানে ঢেকুর গিলবেন, ভেজালবিহীন খাদ্য যে দেশে সোনার হরিণ, তার নাগরিকেরা সারা বিশ্বে সবচেয়ে সুখী! তাহলে কি সাধারণ মানুষ ধরেই নিয়েছে যে তাদের কপালে তো আরও খারাপ কিছুই থাকার কথা ছিল?
আমরা আশাবাদী, আমাদের রাজনীতিবিদেরা আরও আশাবাদী। যে সংসারে আয় থেকে ব্যয় বেশি, সেই সংসার কি কোনো বুদ্ধিমান মানুষ চালাতে চায়? অনেক চাহিদার অল্প আয়ের সংসার কেউ চালাতে না চাইলেও পৃথিবীর গড়ের ২৪ গুণ বেশি জনঘনত্বের দেশে, সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের দেশে, নিয়মিত অতিথি ঝড়-বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের দেশে যেকোনো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় যেতে চায়, দেশ চালাতে চায়। একটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সীমিত সম্পদ নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ের প্রকাশকে প্রশংসা না করে পারা যায় না। শুধু তাই-ই নয়, ধ্বংসাত্মক জবরদস্তি হরতালের মাধ্যমে দেশকে অধিকতর দরিদ্র করেও তার নেতৃত্বে আসতে সদা প্রস্তুত আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। সেনাশাসন, স্বৈরশাসন শেষে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক শাসন পরমতসহিষ্ণুতার অভাবে একটি সরু রাস্তায় চলছে। সামান্য বিচ্যুতিতেই যেকোনো মুহূর্তে আমাদের গণতন্ত্রের পথচলা শেষ হয়ে যেতে পারে।
আমরা যত আশাবাদীই হই না কেন, মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার ঢাক যত জোরেই বাজাই না কেন, সম্প্রতি প্রকাশিত অধিকাংশ অর্থনৈতিক সূচকে বিশ্বসভায় আমাদের অবস্থান যারপরনাই দুর্বল। এমনকি সূচকের হর ও লব পরস্পরের স্থানে প্রতিস্থাপিত হলেও আমাদের অবস্থান সম্মানজনক হয় না। বেশ কয়েক বছর আগে একটি ইংরেজি ম্যাগাজিনে লেখা দেখেছিলাম, নেপাল বাংলাদেশের চেয়েও দরিদ্রতর। তাহলে কি আমরা দারিদ্র্যের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছি?
গণ-আন্দোলনের সাফল্যের পর দুই দশক ধরে গণতন্ত্রের পতাকাবাহী রাজনৈতিক দলগুলো থেকে ধ্বংসাত্মক হরতাল দেখছি। প্রতিটি সরকারই হিসাব দিচ্ছে প্রতিটি হরতালে দেশের ৩০০ কি ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। বিগত দুই দশকের অভিজ্ঞতা হলো, সাধারণ জনগণ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। নিশ্চয়ই প্রতিটি ক্ষমতাপ্রত্যাশী রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি এড়ায়নি এই নির্মম সত্যটি! গণতন্ত্রকামী জনগণ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোকে পরের বার ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আজ যারা হরতাল করছে, আগামী দিনে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে। শুধু তাই-ই নয়, তাদের ডাকা প্রতিটি হরতালের জন্য ৫০০ কোটি টাকার সমান অধিকতর দরিদ্র বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সৌভাগ্য তাদের হবে। তাহলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের আগে যদি ৫০টি হরতাল ডাকতে হয়, তাহলে শুধু হরতালের কারণে প্রত্যেক নাগরিকের গড় আয় আড়াই হাজার টাকা কমে আসবে, অর্থাৎ গড়ে দুই মাস খাদ্যবঞ্চিত থাকায় অর্থনৈতিক যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিকদের ভাগ্য পরিবর্তনের দুরূহ দায়িত্ব তাদের পালন করতে হবে।
এ ছাড়া বিগত দুই দশকে একইভাবে হরতাল পালন করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও একঘেয়েমি চলে এসেছে। নতুন সংস্কৃতির প্রয়োজন, নতুন ধারার প্রয়োজন, যা সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারে। তা ছাড়া হরতাল পালনকারী দলই যখন পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে, হরতালের মাধ্যমে দুর্বল অর্থনীতির দেশকে পরিচালিত করাও একটি কঠিন দায়িত্ব হবে। সুতরাং, নিজের কাজটি কঠিনতর করার মতো বোকামি করাটাও ঠিক হবে না। এ অবস্থায় নতুন সংস্কৃতির সূচনা দরকার, যার দু-একটি প্রস্তাব নিচে দেওয়া হলো—
১. হরতালে গাড়ি কিংবা সরকারি সম্পত্তি অথবা বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করলে হরতালকারীদেরও একটি দরিদ্রতর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে বলে এই ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিগুলো পরিহার করা।
২. হরতালের দিন সাধারণ মানুষ যদি কাজ করতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশ ৫০০-৬০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ দরিদ্র হবে। তাই সাধারণ মানুষকে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে, যাতে দরিদ্রতর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে না হয়।
৩. তবে হরতাল পালনকারী ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর নিবেদিতপ্রাণ নেতা ও কর্মীরা মাতৃভাষা দিবসের ন্যায়, তবে শান্তিপূর্ণভাবে যানবাহন ও যাত্রীদের গমনাগমনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে জাতীয় সংসদ ভবনের মতো উল্লেখযোগ্য স্থানে সারা দিন অনশন পালনসহ অন্যান্য উন্নয়ন অনুকূল কর্মকাণ্ড করে তাদের ক্ষোভের মাত্রা প্রকাশ করতে পারে, যা আমাদের দেশের নানা চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচারিত হয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে হরতাল পালনকারী দলগুলোর নির্লোভ, নির্মোহ, নিবেদিতপ্রাণ মানুষের ভাবমূর্তি তৈরি করবে।
৪. জনশ্রুতি আছে, লেনিনের শাসনামলে কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা লেনিনের জন্মদিন পালন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। লেনিন শুধু তাঁর সম্মতিই দেননি, সঙ্গে বলেছেন, তাঁর জন্মদিনের কাছাকাছি ছুটির দিন শনিবার এলাকায় পার্ক ও রাস্তা পরিষ্কার করে তাঁর জন্মদিন পালন করতে। শাসকগোষ্ঠীর অনাচারে ক্ষুব্ধ হরতালকারী দলগুলোর নেতা ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাও অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। শুধু তাই-ই নয়, সরকারি দলও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করে সাধারণ জনগণের প্রশংসা ও আস্থা অর্জন করতে পারে।
৫. অন্যের সম্পদ অনিষ্ট করে কোনো বিবেকবান মানুষেরই ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা হতে পারে না। ছোটবেলায় ছেলেমেয়েরা না খেয়ে মা-বাবা কিংবা মুরব্বিদের তাদের ক্ষোভের কথা জানায়, অথবা কোনো সুযোগ-সুবিধা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে তার ক্ষোভের যোগ্য বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন নির্লোভ, নিষ্পাপ কর্মকাণ্ডের সূচনা হওয়া প্রয়োজন।
৬. এ ছাড়া নানা উপলক্ষে যেমন নেতাদের জন্মদিনে কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীতে রাস্তাঘাট পরিষ্কার, মেরামত, বনায়ন কর্মসূচিসহ নানা সামাজিক তৎপরতার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব কিংবা নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বাহিনী এ রকম উন্নয়ন অনুকূল সংস্কৃতি চালু করলে সাধারণ মানুষ নিঃসন্দেহে দ্রুতই এমন উদ্যোগে শামিল হবে।
মোটের ওপর যে রাজনৈতিক দলই এমন উন্নয়ন অনুকূল সংস্কৃতির সূচনা করবে, সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ রায় তাদেরই পক্ষে যাবে। কী অসাধারণই না হবে, যখন সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়েই সাধারণ মানুষকে উন্নয়ন অনুকূল সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাদের সব উদ্ভাবনীশক্তি ব্যবহার করবে।
প্রতিটি সরকারের শাসনকালের পর অনিশ্চয়তায় নিজেদের না ভাসিয়ে, অধিকতর সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে যদি নানা রাজনৈতিক দলের মধ্যে উন্নয়ন অনুকূল সংস্কৃতির সূচনার প্রতিযোগিতা হয়, তাহলে নিশ্চয়ই পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম জনবহুল দেশের পক্ষে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়াটা শুধু সময়ের ব্যাপার। সেই প্রত্যাশায় আমরা সাধারণ জনগণ বুক বেঁধে রইলাম।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন

গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবির সঙ্গে কেউ দ্বিমত করবে না। এ ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি জরুরি তা হলো, দুটি বিষয়ই আইনশৃঙ্খলার জন্য সার্বক্ষণিক হুমকি। কেবল নির্বাচনের আগে নয়, সব সময়ই অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় কথা, নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজটি কে করবে? পুলিশ প্রশাসন এত দিন কী করেছে? সরিষায় ভূত থাকার যে আপ্তবাক্যটি প্রচলিত, সেটি নারায়ণগঞ্জের জন্য একটু বেশি মাত্রায় প্রযোজ্য বললে অত্যুক্তি হবে না। স্থানীয় আওয়ামী লীগের গৃহবিবাদের নানা কেচ্ছাকাহিনি সম্পর্কে দেশবাসী অবগত আছে। বৃহস্পতিবার নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে অনতিবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন ঢেলে সাজানো।
আমরা যদি নারায়ণগঞ্জের শান্তির জন্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করতে সচেষ্ট হই, তাহলে দেখা যাবে যে এর মূলে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। অধুনা বিলুপ্ত পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সেলিনা হায়াত আইভী কদিন আগে টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ডিসি ওসমান পরিবারের ভ্রাতৃত্রয়ের কথায় ওঠেন-বসেন।’ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে তিনি সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি নবগঠিত করপোরেশনভুক্ত তিন থানার ওসির বদলি চেয়েছেন। এর আগে ক্ষমতাসীন দলীয় সাংসদ সারাহ হোসেন কবরী জেলা ডিসির উপস্থিতিতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অনাস্থাও জ্ঞাপন করেছেন। ওই আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলীয় বিবেচনায় পার পেয়ে যান। এটি দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ সুপার বুধবারের সভায় বলেছেন, ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা পুলিশের নজরদারিতে আছে। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় তৈরি করা হবে নিরাপত্তাবলয়।’ এই উক্তি দৃশ্যত পরিহাসমূলক। কারণ পুলিশ সুপারের কাছে যদি সন্ত্রাসীদের তালিকাই থেকে থাকে, তিনি এত দিন তাদের গ্রেপ্তার করেননি কেন?
আমরা মনে করি, নারায়ণগঞ্জের আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—প্রশাসনসংশ্লিষ্ট এমন কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি। ৩০ অক্টোবরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসনকে পক্ষপাতমুক্ত থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন কীভাবে এবং কত দ্রুত সেটা করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

গল্প- শত রূপে শত বার by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

রানু সোম
ঢাকা শহর। নজরুলের বয়স ত্রিশ-বত্রিশ। যৌবন তাঁর চোখ-মুখে, সমস্ত শরীরে নদীর স্রোতের মতো বহমান ও বেগবান, দুই কুল প্লাবী আনন্দধারা দিয়ে গড়া তাঁর চরিত্র। মস্ত বড় টানা টানা কালো চোখ, এলোমেলো ঘন চুলের বাবরি, তীক্ষ নাসিকা, ঘষা তামার মতো রং, লাবণ্য সহজ-সরল, অদাম্ভিক ব্যবহার, উদ্দাম হাসি, উচ্ছ্বাস প্রবণতা—সব মিলিয়ে একটা ব্যক্তিত্ব বটে। ধুলায় লুটিয়ে পড়ছে গেরুয়া চাদর।
ফুলবাড়িয়ায় নেমে ঘোড়ার গাড়িতে চেপে হাজির রানুর বাসায়। রানু দেখল, নজরুল নেমে আসছেন তারই বাসার দিকে। বনগ্রামে রানুদের একতলা বাড়ি।
‘এই তো, তুমি রানু? ঠিক তো। মন্টুর ছাত্রী।’

মানুষ যেন সীমা লঙ্ঘন না করে by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মহাবিশ্বের সবকিছুই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। তিনি মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে ধরণিতে প্রেরণ করেছেন। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্ট জীব মানুষ বাক্শক্তিসম্পন্ন। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক-বিবেচনা, আত্মমর্যাদাবোধ, সজাগ-সচেতনতা রয়েছে। তাদের মস্তিষ্কে নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চিন্তা-ভাবনা, মেধা-মননশীলতা ও উন্নত গবেষণা রয়েছে, যা অন্য কোনো সৃষ্টিকুলের নেই। সৃষ্টিজগতের সবকিছু মানুষের উপকারার্থে রয়েছে। মহাকাশ ও পৃথিবীর সর্বত্র মহান আল্লাহর অনুগ্রহ পরিবেষ্টিত। আর এসবই মানুষের কল্যাণের নিমিত্ত। সুতরাং আল্লাহর কোনো অবদানকে অস্বীকার করার ক্ষমতা কোনো সৃষ্ট জীবের নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহের কথা নানাভাবে বিধৃত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘পরম করুণাময় আল্লাহ, তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন। তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনিই তাকে ভাব প্রকাশ করতে (ভাষা) শিখিয়েছেন। সূর্য ও চন্দ্র নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তিত হয়। তৃণলতা ও বৃক্ষাদি তাঁরই বিধান মেনে চলে। তিনি আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং ভারসাম্য স্থাপন করেছেন, যাতে তোমরা সীমা লঙ্ঘন না করো। ন্যায্য পরিমাপ প্রতিষ্ঠিত করো এবং ওজনে কম দিয়ো না। তিনি পৃথিবীকে সৃষ্ট জীবের জন্য স্থাপন করেছেন, এতে রয়েছে ফলমূল এবং নতুন ফলবিশিষ্ট খেজুরগাছ, খোসাবিশিষ্ট দানা ও সুগন্ধ গুল্ম। সুতরাং তোমরা উভয়ে (মানুষ ও জিন) তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?’ (সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ১-১৪)
আল্লাহ তাআলা মানুষকে এই অভিপ্রায়ে সৃষ্টি করেছেন, যেন এরা একে অপরের কল্যাণকামী বন্ধু এবং পরোপকারী হয়। মানবসেবা ও সৃষ্টিকুলের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। জগতে মানুষ মানুষের জন্য। মানুষ যখন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও পুণ্যের বাঁধনে আবদ্ধ থাকে, তখন দুনিয়াটা শান্তির পরশে আলোকিত ও উজ্জ্বলতর হতে থাকে। আবার এ মানুষই যখন জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক-বিবেচনা রহিত করে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও আত্মঘাতী অসৎ কাজে নিয়োজিত হয় এবং মানুষের উপকার ব্যতীত অপকার ও ক্ষতিতে এবং দেশ ও জাতির মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস করে, লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনে লিপ্ত হয়, তখন পৃথিবীটা শান্তিতে বসবাস করার অযোগ্য ও বিষময় হয়ে পড়ে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্কবাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে মানুষের উপকার করে।’
মানুষের মধ্যে যারা কাজকর্মে সৎ হবে, তাদের জন্য রয়েছে অঢেল পুরস্কার এবং যারা কাজকর্মে অসৎ হবে, তাদের জন্য থাকছে তিরস্কার। সৎকর্মের পরিচয় ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সংসারজীবনের সব কাজকর্মে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়া। যেমন—লেনদেন বা ব্যবসা-বাণিজ্যে মিথ্যা কথা না বলা, খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল না দেওয়া, প্রতারণা না করা, চাকরিজীবনে ঘুষ-দুর্নীতি তথা উৎকোচ গ্রহণ না করা, সব দায়িত্ব ও কর্তব্য ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে যথাযথভাবে পালন করা এবং দেশ-জাতির কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন না করা। আধ্যাত্মিক জীবনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সর্বপ্রকার নির্দেশ সফলভাবে পালন করে যাওয়া। যাদের সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘পারস্পরিক স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার দিক থেকে ঈমানদারদের উদাহরণ হলো একটি দেহের মতো। এর একটি অঙ্গ যদি ব্যথাপ্রাপ্ত হয়, তাহলে সারা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে কাতর হয়ে পড়ে।’ (মুসলিম)
যারা আল্লাহর বিধান অমান্য ও সীমা লঙ্ঘন করে, মানুষের উপকারী উপাদান ও আল্লাহর বৃহৎ সৃষ্টি, যা মানুষকে ঝড়-তুফান, ভূমিধস, দুর্ভিক্ষ, খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ুর পরিবর্তনে পৃথিবীর উষ্ণায়ন এর অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করে, সেই সব পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল ও নদীনালা ধ্বংস করে যারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে, তারাই হলো প্রকৃতপক্ষে জালিম বা অত্যাচারী; দেশ, জাতি ও মানবতার দুশমন এবং বিশ্বের সব প্রাণীর শত্রু। ভূপৃষ্ঠে দুর্যোগ, বিপর্যয় ও বিপদ-আপদ মানুষের অপকর্মের দ্বারাই অর্জিত হয়ে থাকে। তবে আল্লাহ সব অপকর্মের শাস্তি দেন না বরং জঘন্যতম অন্যায় ও অপরাধের শাস্তিই দিয়ে থাকেন, যাতে মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পেরে, নিজেকে সংশোধন করে সৎপথে আল্লাহর রাস্তায় প্রত্যাবর্তন করে। এদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে; ফলে তাদের তাদের কোনো কোনো কৃতকর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা আর রূম, আয়াত: ৪১)
যাদের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক ও অশান্তি-বিশৃঙ্খলা, অসহায় লোকের মৃত্যুর কারণ এবং দেশ ও জনগণের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, এরা সবাই জালিম। দেশের জনগণ হলো মজলুম বা অত্যাচারিত। জালিমের জুলুম আল্লাহ সহ্য করেন না। তাই যে ব্যক্তি কোনো বড় ধরনের অন্যায় বা কবিরা গুনাহ করে, সে সারা বিশ্বের মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু ও পশুপাখির প্রতি অবিচার করে। ফলে কিয়ামতের দিন তারা সবাই গুনাহগার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে। আল্লাহ পাক এদের শাস্তি সম্পর্কে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘কেবল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হবে, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহাচরণ করে বেড়ায়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সূরা আল-শুরা, আয়াত: ৪২)
সারা বিশ্বই অন্যায়-অপরাধ ও দুর্নীতিতে কমবেশি নিমজ্জিত, যার কারণে জগতের সর্বত্রই কোনো না কোনো ধরনের বিপর্যয় ও দুর্যোগ সমাগত। কোথাও যুদ্ধবিগ্রহ, কোথাও বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, পাহাড় বা ভূমিধস ও মঙ্গা-খরাপীড়িত। কোথাও দুর্নীতি ও দুষ্কর্মের কারণে দেশের মানুষ অকল্পনীয়ভাবে বিপর্যয়ের মাধ্যমে দুর্দশাগ্রস্ত। আল্লাহ তাআলার বর্ণিত বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার জন্য যেসব কারণ আছে, তার সবই সমাজে বিদ্যমান। অসৎ লোকেরা দেশকে সর্বনাশের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে কেউ পাহাড় কেটেছে, কেউ বনজ সম্পদ বা গাছপালা নষ্ট করেছে, কেউ দেশের অর্থকড়ি লুটপাট করেছে, কেউ প্রতারক ব্যবসায়ী হয়ে জনগণকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পৌঁছিয়েছে, কেউ পেশাজীবী হয়েও দুর্নীতির চরমে পৌঁছেছে।
এদের কারণে দেশের মানুষ হতাশাগ্রস্ত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি নিরাশাগ্রস্ত। তাই মানুষ যেন আর সীমা লঙ্ঘন না করে, তাহলে দুষ্কর্ম থেকে আল্লাহর মেহেরবানিতে মুক্তি পেতে পারে। যার জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষ কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে এবং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পরম করুণাময়ের দরবারে দেশ ও জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতি, নিরাপত্তা ও শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করছে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

কবির সান্নিধ্যে by ফিরোজা বেগম

মার বয়স তখন এগারো-বারো হবে। আমরা থাকতাম ফরিদপুরে। বিভিন্ন ছুটিতে কলকাতা বেড়তে যেতাম। একবার গ্রীষ্মে এক মাস ছুটি পেলাম। ছোট মামা তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমএ করছেন। আমার দুই কাজিন (ইমদাদুল হক ও এম এ হক) ওদের সঙ্গে অল ইন্ডিয়া বেতারের সুনীল বোসের সুসম্পর্ক ছিল। একবার এক অনুষ্ঠানে সুনীল বোস আমার গান শুনে বললেন, ‘ওকে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে একদিন নিয়ে এসো তো। ওর অডিশন নেব। এইচএমভিতেও একদিন নিয়ে এসো। দেখো, ওরা কী বলে।’

জ্বালানির মূল্যে ছাড় চেয়েছে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন

ক্যাপটিভ জেনারেটর ও বয়লার-চালিত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানির মূল্যের ওপর বিশেষ ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)।
সংগঠনের পক্ষে আবদুস সালাম মুর্শেদী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। কেরোসিন, পেট্রল, অকটেন লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা, ফার্নেস অয়েল প্রতি লিটার আট টাকা এবং সিএনজি প্রতি ঘনমিটার পাঁচ টাকা বাড়িয়েছে।
এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তা ছাড়া এই মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় রপ্তানিমুখী শিল্পকে ক্যাপটিভ জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কারখানার পণ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হয়।
আর ক্যাপটিভ জেনারেটর পরিচালনা করতে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ডিজেলের মূল্য বাড়ানোয় রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অধিকাংশ রপ্তানিপণ্যের দর কমেছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির মূল্য বাড়ায় রপ্তানিপণ্যের উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাবে। যার কারণে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা কমে যাবে। ফলে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না, বরং অনেক রপ্তানিপণ্যের রপ্তানি আয়ও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রপ্তানি বাণিজ্য দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলার বা এক লাখ ৮০ হাজার টাকা রপ্তানি খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় আয় হয়েছে। দেশের পোশাক রপ্তানি খাতেই ৪০ লাখের অধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার ৮৫ ভাগ মহিলা। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শ্রমঘন পোশাকশিল্প খাতকে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য।
বৈদেশিক মুদ্রায় রপ্তানি খাতের দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলার আয় এবং এক বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ক্যাপটিভ জেনারেটর ও বয়লার-চালিত রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে জ্বালানি মূল্যে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে।

নজরুলকে আমরা কীভাবে চাই by শান্তনু কায়সার

তাঁর জন্মশতবর্ষের পর আরও এক দশক পার হয়ে এসে এখনো খুব স্বচ্ছভাবে ঠিক করতে পারিনি, নজরুলকে আমরা কীভাবে চাই। কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথায় মুজফ্ফর আহমদ যথার্থই বলেছেন, ‘নজরুলের রচনা পড়লেই চলবে না। আমার মতে, নজরুলকেও অধ্যয়ন করা আবশ্যক।’ কিন্তু সেখানেও সমস্যা। নজরুলের স্মৃতিচিহ্নিত জায়গাগুলো নিয়ে যাঁদের অসম্ভব গর্ব, তাঁরা কবিকে ওই সব জায়গায় আটকে রাখতে চান। ওই আবেগে কবি মাত্র ৩০ বছর বয়সে বাংলার সারস্বত সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনালাভের উত্তরে যে বলেছিলেন ‘যে কুলে, যে সমাজে, যে ধর্মে জন্মগ্রহণ করি, সে আমার দৈব। তাকে ছাড়িয়ে উঠতে পেরেছি বলেই কবি’—তা ভুলে গিয়ে তাঁকে আমরা আরও সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে রাখতে চেয়েছি।

নিজ কোম্পানির শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলেন তিন পরিচালক

শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোক্তারা নিজ নিজ কোম্পানির শেয়ার কিনবেন—এ ঘোষণা দেওয়ার পরের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির তিনজন উদ্যোক্তা পরিচালক পৃথকভাবে শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাঁরা বাজারমূল্যে শেয়ার কিনবেন বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি সালমান এফ রহমান গত বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তাদের শেয়ার কেনার কথা জানান।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো লিমিটেডের পাঁচ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া নিজ কোম্পানির শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন সিটি ব্যাংক ও ইউনাইটেড লিজিংয়ের দুই পরিচালক। ইউনাইটেড লিজিংয়ের পরিচালক সৈয়দ এহসান কাদির নিজ কোম্পানির ২০০টি এবং সিটি ব্যাংকের পরিচালক ইভানা ফাহমিদা মোহাম্মদ ব্যাংকটির ৪০ হাজার শেয়ার কিনবেন।
কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার কেনার আইনগত বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাজারমূল্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যেহেতু বিশেষ এক পরিস্থিতিতে বাজারকে সহায়তা দিতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকেরা শেয়ার কিনতে চাইছেন, তাই এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত একটি মূল্যসীমার (লিমিট অর্ডার) ব্যবস্থা করার আইনগত বৈধতা দাবি করা হয়েছে।
আহসানুল ইসলাম আরও বলেন, যদি কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক বাজারমূল্যে নির্ধারিতসংখ্যক শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন, তাহলে দাম বেড়ে গেলেও তা কিনতে হবে। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে শেয়ারের দাম একটি পর্যায়ে ধরে রাখতেই কোম্পানির পরিচালকেরা তাঁদের নিজেদের কোম্পানির শেয়ার একটি নির্দিষ্ট দামে কিনতে চান। সে জন্যই আইনি বাধা দূর করা প্রয়োজন।

নানা উদ্যোগে ডিএসইর মূল্যসূচক ইতিবাচক

নানামুখী উদ্যোগে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় তিন পয়েন্ট বেড়েছে।
আগের দিন বুধবার বড় ধরনের দরপতনের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বিক্রির চাপ কমাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে সাধারণ শেয়ারধারীদের হাতে যদি কোনো কোম্পানির ৫ শতাংশ বা এর বেশি শেয়ার থাকে, তাও বিক্রি নিষিদ্ধ করে এসইসি।
এ ছাড়া বাজারকে সহায়তা দিতে বুধবার তালিকাভুক্ত নিজ কোম্পানির শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি সালমান এফ রহমান।
এসব উদ্যোগের কারণে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গতকাল লেনদেনের শুরুতেই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর শুরু হয় পতন। বেলা দেড়টা পর্যন্ত মূল্যসূচকের একটানা পতন ঘটে। এই সময়ের মধ্যে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭০ পয়েন্ট নিচে নেমে আসে। এরপর আবারও সূচক বাড়তে থাকে। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় তিন পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬৫২ পয়েন্টে।
এদিকে বিএনপির ডাকা হরতাল শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক লেনদেনে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
ডিএসইর নিয়ম অনুযায়ী, হরতালে লেনদেন চালু রাখতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রোকারেজ হাউসের কোরাম পূর্ণ করতে হয়। ডিএসইতে স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখতে হলে সর্বনিম্ন ৭২টি ব্রোকারেজ হাউসের অংশগ্রহণেই কোরাম পূর্ণ হয়। কিন্তু গতকাল বেলা ১১টায় লেনদেন শুরুর আগেই ২১৩টি ব্রোকারেজ হাউস ডিএসইর ট্রেড সার্ভারে লগইনের মাধ্যমে লেনদেনে অংশ নেওয়ার সম্মতি জানায়। ফলে হরতালের দিনেও লেনদেন চালু রাখতে সংস্থাটিকে কোনো ধরনের বেগ পেতে হয়নি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কোরাম পূর্ণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ ক্ষেত্রে ঢাকার বাজারে লেনদেন সচল থাকলে চট্টগ্রামের বাজারে সেটিকে অনুসরণ করা হয়।
ঢাকার বাজারে বৃহস্পতিবার ২৫৮ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৪২টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ১০৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১০টি কোম্পানির দাম। দিনশেষে ডিএসইতে প্রায় ২৯৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৫ কোটি টাকা কম।
সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক প্রায় ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৬৯ পয়েন্টে। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হওয়া ১৭৪ কোম্পানির মধ্যে ১০০টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৬৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ছয়টি কোম্পানির দাম। দিনশেষে সিএসইতে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের প্রায় সমান।

শিক্ষা চিন্তা বন্ধুত্ব by জাফরিন গুলশান

শিক্ষা-চিন্তা-বন্ধুতা বিনিময় চমৎকারভাবে দেশকালভেদে মানুষকে আরও অসীম উৎকর্ষের দিকে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার উৎস জোগান দিয়েছে ঐতিহাসিকভাবে। গত জানুয়ারিতে হয়ে যাওয়া চারুকলা অনুষদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), কলাভবন শান্তিনিকেতন (ভারত) শিক্ষা বিনিময় কার্যক্রম দূরবর্তী উদ্দেশ্য সাধনের সফলতা দেখার বিষয় হলেও দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আর্ট ক্যাম্পের চিত্রকর্ম নিয়ে বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টসে ১৬ মে থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ এক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী, যা শিল্পরসিক বোদ্ধা সাধারণ দর্শকের জন্য দারুণ সুযোগ। ভারতীয় ও বাংলাদেশের সমকালীন চিত্রকলা চর্চায় নিয়োজিত বিভিন্ন শিল্পীর মতাদর্শগত ভাষা নিজ নিজ দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক চর্চার প্রেক্ষাপটে চর্চিত হচ্ছে।

নিউট্রিনোর গতি আলোর চেয়েও বেশি?

মহাবিশ্বে আলোর গতিই সবচেয়ে দ্রুত—পদার্থবিজ্ঞানের এ প্রতিষ্ঠিত সত্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে সার্নের এক গবেষণায়। সুইজারল্যান্ডের সার্ন গবেষণাগার থেকে ৭৩২ কিলোমিটার
দূরে পাঠানো অতিপারমাণবিক কণা নিউট্রিনো প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে সামান্য আগে গন্তব্যে পৌঁছানোয় বেশ বিভ্রান্তিতে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার
জন্য তাঁরা অন্য বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অপেরা কোলাবোরেশনের গবেষক অ্যান্টোনিও ইরেডিটাটো ও তাঁর সহযোগীরা তিন বছর ধরে এ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছিলেন। তাঁরা সার্ন গবেষণাগার থেকে নিউট্রিনো
কণা ভূ-অভ্যন্তর দিয়ে ৭৩২ কিলোমিটার দূরে ইতালির গ্রান স্যাসো গবেষণাগারের উদ্দেশে পাঠান। বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, একই দূরত্ব আলো যে সময়ে অতিক্রম করতে
সক্ষম, ওই অতিপারমাণবিক কণাগুলো তার চেয়ে এক সেকেন্ডের ৬০ বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ আগে অতিক্রম করেছে।
বিশ্বের সৃষ্টিরহস্যসহ গুরুত্বপূূর্ণ গবেষণার জন্য স্থাপিত সুবিশাল যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার এই সার্নেই অবস্থিত।
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান এই ধারণার ওপর নির্ভরশীল যে মহাবিশ্বের কোনো কিছুই আলোর গতিকে অতিক্রম করতে পারে না। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হাজার হাজার পরীক্ষা-নিরীক্ষা
হয়েছে। তবে কোনো ধরনের কণার গতি আলোর চেয়ে বেশি হতে পারে—এ রকম ফলাফল এর আগে পাওয়া যায়নি।

প্রথম পুরস্কার একে ৪৭ রাইফেল!

শিশুদের কোনো প্রতিযোগিতার পুরস্কার কী হতে পারে? খেলনা, জামা-জুতা বা চকলেটের প্যাকেট। কিন্তু সোমালিয়ায় বিষয়টি ভিন্ন। এখানে শিশুদের নিয়ে আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ছিল একে ৪৭ রাইফেল।
সোমালিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব শিশুদের জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল আল-শাবাবের বিভিন্ন বিষয় জানা ও কোরআন তিলাওয়াত। গত রমজান মাসে প্রতিযোগিতা শেষ হয়। গত রোববার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে একে ৪৭ রাইফেল, বেশ কিছু অর্থ ও ইসলামি বই পুরস্কার দেওয়া হয়। তৃতীয় স্থান অধিকারীকে দেওয়া হয় বেশ কিছু গ্রেনেড।
আল-শাবাব সোমালিয়ায় বেশ কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই এলাকার শিশুরাই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আল-শাবাবনিয়ন্ত্রিত বেতারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটি সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।

ফ্রান্সে বোরকা পরা এক নারী প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চান

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফান্সে বোরকা পরা এক মুসলিম নারী দেশটির আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। কেনজা দ্রিদার নামে ওই নারী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে দ্রিদার বলেন, তিনি ফরাসি নারীদের অধিকার রক্ষা করতে চান। গত এপ্রিলে ফ্রান্সের রাস্তায় বোরকা নিষিদ্ধ করে আইন পাসের পর থেকে একদল নারী এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। এই নারীদের মধ্যে দ্রিদার একজন। এই নারীরা প্রমাণ করতে চান, ওই পদক্ষেপ মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টসহ ওই আইনের সমর্থনকারীরা বলছেন, বোরকা নারীদের বন্দী করে ফেলে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মো শহর থেকে দ্রিদারের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করার কথা। মো শহর প্যারিসের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। শীর্ষস্থানীয় রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা জ্যাঁ ফ্রাঁসোয়া কোপ শহরটির মেয়র।
দুই নারীকে জরিমানা: এদিকে ফ্রান্সে আইন অমান্য করে বোরকা পরা অব্যাহত রাখা দুই নারীকে জরিমানা করেছেন দেশটির আদালত। গত মে মাসে মো শহরে আইন অমান্য করে বোরকা পরার জন্য হিন্দ আমাস ও নাজাতে নাইত আলী নামে ওই দুই নারীকে আটক করা হয়। দেশটিতে বোরকা পরার ঘটনায় এটাই প্রথম জরিমানা। দণ্ডপ্রাপ্তরা বলেছেন, ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসে তাঁরা আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

বৃষ্টির রূপকার by শাশ্বতী মজুমদার

শিল্পী হওয়ার জন্য সারাক্ষণ স্টুডিওতে বসে ছবি আঁকতে হবে—এমনটা মোটেও মনে করেন না মাহমুদুল হক। বাংলাদেশের চিত্রশিল্পে সুপ্রতিষ্ঠিত ষাটোর্ধ্ব এই শিল্পী তাঁর কাজের প্রয়োজনে ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশের বহু প্রান্তে। একই সঙ্গে তিনি আড্ডাপ্রিয় ও বন্ধুবৎসল। কিন্তু এ জন্য তাঁর কাজের কখনো ক্ষতি হয়নি, বরং দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা, আড্ডা, চারপাশের প্রকৃতি ও পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে চিত্রিত করেছেন তাঁর ক্যানভাস।

গ্রিসে ব্যয় হ্রাসের নীতির প্রতিবাদে ধর্মঘট পালিত

ঋণে জর্জরিত গ্রিস সরকারের ব্যয় হ্রাসের নীতির প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন খাতের কর্মীরা রাজধানী এথেন্সে গণবিক্ষোভের আয়োজন করেন।
গত বুধবার গ্রিস সরকার পেনশন ও সরকারি পদ কমানোর ঘোষণা দেয়। এতে বর্তমান মাসিক পেনশন এক হাজার ২০০ ইউরো থেকে ২০ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়। আর এই বছরের শেষ নাগাদ সরকারি পদ কমানোর কথা জানানো হয়। এর প্রতিবাদেই পরিবহন ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।
ঋণের বোঝা কমাতে ইউরোজোনের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সহায়তা প্যাকেজ হিসেবে ১৫ হাজার কোটি ডলার পাওয়ার কথা গ্রিসের। আর এ জন্য সরকারি ব্যয় সংকোচনসহ বিভিন্ন শর্ত মানতে হচ্ছে দেশটিকে, যা দেশটির জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
১৫ হাজার কোটি ডলার সহায়তা প্যাকেজের আওতায় এই দফায় ৬৯০ কোটি ডলার পাওয়ার কথা গ্রিসের। দেশটির সরকার বলছে, সহায়তার এবারের অংশটুকু খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক দাতাদের সমর্থন অব্যাহতভাবে পেতে এবং ঋণ শোধের চেষ্টার অংশ হিসেবে নানা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
গ্রিসে গতকাল রেল, বাস, ট্যাক্সিসহ সব ধরনের পরিবহন বন্ধ ছিল। অনেক শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী ধর্মঘটের সমর্থনে কাজ বন্ধ রাখেন। বিমানকর্মীদেরও গতকালই তিন-চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করার কথা। এতে ফ্লাইট বাতিল ও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বৃহস্পতিবারের ধমর্ঘটের পর আগামী মাসে আরও প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বেসরকারি খাতের কর্মীদের প্রধান সংগঠন জিএসইই। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ইয়ান্নিস পানাগোপোলস বলেন, ‘সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এটা চাই না। এর প্রতিবাদে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।

ক্ষুধার্ত মানুষের চেয়ে মোটা মানুষের সংখ্যা বেশি

সারা বিশ্বে এখন ক্ষুধার্ত মানুষের চেয়ে অতিরিক্ত মোটা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য রেডক্রস (আইএফআরসি) গতকাল বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, খাদ্যসংকট বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা।
জেনেভাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএফআরসি গতকাল তার বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ডিজাস্টার শীর্ষক প্রতিবেদনটি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আইএফআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর সারা বিশ্বে অন্তত দেড় শ কোটি মানুষ স্থূলতাজনিত সমস্যায় ভুগছে। অন্যদিকে পুষ্টিহীনতার শিকার অন্তত ৯২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ।
এক বিবৃতিতে আইএফআরসির মহাসচিব বেকেল গেলেতা বলেন, ‘যেখানে ১৫ শতাংশ মানুষ খেতে পারছে না, সেখানে ২০ শতাংশ মানুষ অতিরিক্ত মোটা—বুঝতে হবে কোথাও গলদ আছে।’
সংস্থার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের পরিচালক জাগান চাপাগেন নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখন না খেতে পেয়ে, অপুষ্টিতে ভুগে যত মানুষের মৃত্যু হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হয় অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের কারণে সৃষ্ট জটিলতায়। তিনি বলেন, মানুষ যে ক্ষুধার্তথাকছে তার কারণ খাদ্যের দুর্বলবণ্টন ব্যবস্থা।

গোঁড়ামি ও কুসংস্কার ভাঙার বই by আখতার হুসেন

সাপ: রেজাউর রহমান \ প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন \ প্রকাশকাল: পৌষ ১৪১৭, জানুয়ারি ২০১১
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: কাইয়ুম চৌধুরী \ মূল্য: এক শ বিশ টাকা।

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অর্থ নেই মিয়ানমারের: দূত উইন

মিয়ানমারের এমন অর্থনৈতিক শক্তি নেই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে। গত বুধবার আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মিয়ানমারের দূত তিন উইন সংস্থার সদস্য দেশগুলোর বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিমা দেশগুলো সন্দেহ করে আসছে, গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে মিয়ানমার।
গত বছর জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়, উত্তর কোরিয়া মিয়ানমার, ইরান ও সিরিয়ায় নিষিদ্ধ পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারে।
২০০৯ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া থেকে মিয়ানমারে এ ধরনের পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্ভাব্য হস্তান্তরের ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন। উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র বিস্তার নিয়ন্ত্রণ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যে তারা দুটি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে।
সম্মেলনে তিন উইন বলেন, মিয়ানমারকে আবার বলতে হচ্ছে, তারা এমন কোনো অবস্থানে নেই যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করবে। এমন অস্ত্র বানানোর মতো আর্থিক সংগতিও নেই তাদের।
মিয়ানমারের দূত বলেন, অতীতে রাশিয়ার সহযোগিতায় পরমাণু নিয়ে গবেষণা চালানোর আয়োজন করেছিল মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ব্যাপারে ভুল বুঝতে পারে—এ আশঙ্কায় পরে গবেষণা স্থগিত করা হয়। তিনি বলেন, এই গবেষণার লক্ষ ছিল অন্যান্য দেশের তুলনায় এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের পিছিয়ে না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আরেকটি লক্ষ ছিল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পারমাণবিক প্রযুক্তির আবেদনকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
তিন উইন বলেন, মিয়ানমার পরমাণু অস্ত্র বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যেমন সমর্থন করে, তেমনি শান্তিপূর্ণ লক্ষ পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের সব বৈধ বিষয়েও সমর্থন জানায়।
এর আগে আণবিক বোমা বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে দেশটির নির্বাসিত একটি দল। মিয়ানমার এ অভিযোগ অস্বীকার করে। বেশির ভাগ বিশ্লেষক মনে করেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে দেশটি।

তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ৫৮৫ কোটি ডলারের অস্ত্র ও সহায়ক সরঞ্জাম বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।
পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেল গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, এই অস্ত্র পেলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা শক্তি অনেক বেড়ে যাবে। এই অস্ত্র মূলত তাইওয়ানের বিমানবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করবে। তিনি আরও বলেন, এই প্যাকেজের আওতায় তাইওয়ানের ১৪৫টি এফ ১৬ এ/বি যুদ্ধবিমানে উন্নত প্রযুক্তি সংযোজন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাডার স্থাপন এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের বিনিময়ে ৫৩০ কোটি ডলার দেবে তাইওয়ান। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের লিউক বিমানঘাঁটিতে এফ ১৬ যুদ্ধবিমানের পাইলটদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য বিষয়ের জন্য বাকি অর্থ পরিশোধ করা হবে।
কার্ট ক্যাম্পবেল বলেন, এর ফলে তাইওয়ানের যুদ্ধবিমানসহ সংশ্লিষ্ট সবকিছুর স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যা নিজের আকাশসীমা নিরাপদ রাখতে তাইওয়ানকে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, এই অস্ত্র বিক্রি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে মার্কিন প্রশাসনের করা অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড মনে করে চীন। তাই তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটি। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণায় চীনের সামরিক বাহিনী ক্ষুব্ধ। একই সঙ্গে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, এ কারণে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝাং ঝিজুন তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির চুক্তিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এই ‘মারাত্মক ভুলের’ প্রতিবাদ জানাতে বেইজিংয়ে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গ্যারি লককে ডেকে পাঠানো হয়। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র বলে পরিচিত পিপলস ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদেরা যদি ভাবেন, তাঁরা দায়িত্বহীন কাজ করে করে চীনের স্বার্থবিরোধী কাজ করবেন এবং এ জন্য তাঁদের কোনো মূল্য দিতে হবে না, তাহলে তা হবে মারাত্মক ভুল।
হংকংয়ের ব্যাপটিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেন পিয়েরে ক্যাবেস্টান বলেন, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ভেঙে চীন শিক্ষা পেয়েছিল। এবার তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছে। কিন্তু সামরিক সম্পর্ক ভাঙছে না।

হাক্কানিকে আইএসআইয়ের সহায়তা করার তথ্য-প্রমাণ মিলছে

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) একটি গেরিলা নেটওয়ার্ককে যে উৎসাহ দিয়েছে, এ ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ ক্রমেই মিলছে।
এদিকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শর্তের ভিত্তিতে ইসলামাবাদকে সহায়তা করার বিষয়ে মার্কিন সিনেট কমিটিতে ভোটাভুটি হয়েছে। এতে ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা অনুমোদিত হয়েছে।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং পাকিস্তান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগ সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্রে জানা গেছে, কিছু মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের কাবুলে মার্কিন দূতাবাস ও ন্যাটোর সদর দপ্তরে হামলা চালানোর ঘটনায় হাক্কানি নেটওয়ার্ককে আইএসআই বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে বা অনুরোধ করেছে। আফগানিস্তানে তালেবানের ছত্রচ্ছায়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে—এমন তিনটি জঙ্গিগোষ্ঠীর একটি হচ্ছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক। আর তারাই সম্ভবত সবচেয়ে ভয়ংকর জঙ্গিগোষ্ঠী। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জঙ্গিদের সহায়তা করার খবরের সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করেননি।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন বলেন, জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে চাপ দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘হাক্কানি নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যে প্রয়োজন, এ ব্যাপারে আমরা তথ্য পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে হাক্কানির সঙ্গে আইএসআইয়ের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করাটা বেশি দরকার।’
সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটি সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়তে পাকিস্তানি সেনাদের ১০০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। তবে এ অর্থ হাক্কানিসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যয় করার ব্যাপারে শর্ত আরোপে ভোটাভুটি হয়েছে।

কপিল-সৌরভের ভিন্নমত

দুজনই ভারতের সাবেক অধিনায়ক। তবে সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবসর নিয়ে দুজনের ভাবনা দুই রকম। সৌরভ গাঙ্গুলীর অভিমত, সিদ্ধান্তটা ক্রিকেটারদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। আর কপিল দেব মনে করেন, এটা নির্বাচকদেরই দায়িত্ব।
সৌরভের ধারণা, সময় হলে সিনিয়ররা নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন, ‘পারফরম্যান্স পড়ে গেলে ওরা নিজেরাই চলে যাবে। দ্রাবিড় ও লক্ষ্মণ যেমন ওয়ানডে থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। শচীনও খুব কম খেলে। তরুণেরা সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ভালোই করছে। কিন্তু আমি টেস্ট নিয়ে চিন্তিত। সিনিয়রদের চ্যালেঞ্জ করার মতো কাউকে এখনো চোখে পড়েনি। টেস্ট থেকে সিনিয়রদের সরিয়ে দেওয়ার সময় নিশ্চিতভাবেই আসেনি। কপিলের যুক্তি, ‘একজন খেলোয়াড় কখনোই অবসর নিতে চায় না। বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে নির্বাচকদের তাই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

টেন্ডুলকারের প্রস্তাব ও দ্রাবিড়

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে চার ইনিংসের ওয়ানডের শচীন টেন্ডুলকারের প্রস্তাব মনে ধরেছে রাহুল দ্রাবিড়ের। টেন্ডুলকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণগুলো জানতেও আগ্রহী সদ্য ওয়ানডেকে বিদায় জানানো ব্যাটসম্যান।
ওয়ানডেকে আরও আকর্ষণীয় করতে প্রতি দলের ২৫ ওভার করে দুই ইনিংসের প্রস্তাব দিয়ে আইসিসিকে চিঠি লিখেছিলেন টেন্ডুলকার। পরশু আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত জানান, আপাতত ওয়ানডেতে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তবে দ্রাবিড় মনে করেন প্রস্তাবটা আইসিসি আরেকটু খতিয়ে খেতে পারে, ‘প্রস্তাবটা ইন্টারেস্টিং। আইসিসি কেন প্রস্তাবটা প্রত্যাখ্যান করেছে, জানতে আমি কৌতূহলী। প্রস্তাবটা নিশ্চয়ই শচীন অনেক ভেবেচিন্তেই দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় (ঘরোয়া ক্রিকেটে) চার ইনিংসের ওয়ানডে চালু করা হয়েছে। আমার মনে হয়, সেটার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো খতিয়ে দেখা যেতে পারে।’
অস্ট্রেলিয়ায় চার ইনিংসের ওয়ানডে চালু হয়েছে ঠিকই, তবে ম্যাচ হয় ৪৫ ওভারের। ২০ ও ২৫ ওভারের দুটি ইনিংস থাকে দুই দলের। অস্ট্রেলিয়ায় খুব একটা জনপ্রিয়তাও পায়নি চার ইনিংসের ওয়ানডে। লরগাতের দাবি, টেন্ডুলকার আইসিসিকে চিঠিটা লিখেছেন অনেক আগেই। এ নিয়ে টেন্ডুলকারের সঙ্গে নাকি অনেকবার কথাও হয়েছে লরগাতের। তবে ৫০ ওভারের গত বিশ্বকাপ খুব জমজমাট হয়েছে বলেই ওয়ানডেতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখছে না আইসিসি।

নান্দনিক ঐক্য by জাহিদ মুস্তাফা

ঢাকা আর্ট সেন্টারে ১২ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত চলেছে একটি যৌথ চিত্রপ্রদর্শনী। প্রাণের উৎসবে শিরোনামে এ প্রদর্শনীতে নানা বয়সী ১৭ জন চিত্রশিল্পী অংশ নিয়েছেন। বিশ শতকের সত্তরের দশক থেকে চলমান সময়ে শিল্পচর্চায় নিয়োজিত শিল্পী দলের এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ছাপচিত্র, ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিকে আঁকা, কাগজে তেলরঙে আঁকা ও মিশ্রমাধ্যমের ৩৬টি কাজ।

ইন্টারকে উদ্ধারের দায়িত্ব নিলেন রানিয়েরি

জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনিকে বরখাস্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন কোচ নিয়োগ দিল ইন্টার মিলান। দুই বছর আগে লিগে বাজে শুরুর পর দায়িত্ব নিয়ে রোমাকে ২৩ ম্যাচ অপরাজিত রেখেছিলেন যিনি, সেই ক্লদিও রানিয়েরিকে দেওয়া হয়েছে ইন্টারকে উদ্ধারের দায়িত্ব। ৩ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে সিরি ‘আ’তে শেষের দিক থেকে তিন নম্বরে আছে ১৮ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
গত ১৫ মাসে ইন্টারের পঞ্চম কোচ রানিয়েরি। ইন্টারের দায়িত্ব নিয়ে নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো রানিয়েরির ক্যারিয়ারেও। ২৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে ইন্টার তাঁর ১২তম ক্লাব! অ্যাটলেটিকো পুতেওলানাকে দিয়ে শুরুর পর কোচিং করিয়েছেন ইতালির ক্যালিয়ারি, নাপোলি, ফিওরেন্টিনা, পারমা, জুভেন্টাস ও রোমাকে, স্পেনে ভ্যালেন্সিয়া ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং ইংল্যান্ডে চেলসিকে। টানা বাজে ফলাফলের পর গত ফেব্রুয়ারিতেই ছেড়েছিলেন রোমার দায়িত্ব। ইন্টারের সঙ্গে রানিয়েরির চুক্তি দুই বছরের।
৫৯ বছর বয়সী কোচ ঠিক করেছেন, সবার আগে কথা বলবেন তাঁর নতুন শিষ্যদের সঙ্গে, ‘ইন্টার অসাধারণ এক দল, শুরুটা শুধু বাজে হয়েছে। কারণ জানতে দলের সবার সঙ্গে কথা বলতে হবে। ঘুরে দাঁড়ানোর সব রসদই এই দলের আছে, আমার শুধু গতিপথ একটু বদলাতে হবে এবং উৎসাহ দিতে হবে। এটা জিতব, সেটা জিতব—এমন প্রতিশ্রুতি দিতে আমি পছন্দ করি না, তবে আমি বিশ্বাস করি, ছেলেদের এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে এবং সেটা তাদের প্রমাণ করতে হবে।

অধিনায়ক ক্লার্কের চাওয়া

দল নির্বাচনে ভূমিকা রাখার দায়িত্ব তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবেই দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এবার কোচ নির্বাচনেও ভূমিকা রাখতে চান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। শ্রীলঙ্কায় দারুণ সফল এক সিরিজ শেষে দেশে ফিরে ক্লার্ক জানিয়েছেন তাঁর ইচ্ছার কথা, ‘অধিনায়ক ও কোচের বন্ধনটা দৃঢ় হওয়া খুব জরুরি। প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। আমার ধারণা, কোচ নির্বাচনে আমার কিছু ভূমিকা থাকবে। জেমসের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করব কত দ্রুত ও কীভাবে সম্ভাব্য সেরা ব্যক্তিটিকে বেছে নেওয়া যায়।’
শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ জয়ের পর কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান টিম নিলসেন। নতুন কোচ হিসেবে শোনা যাচ্ছে জাস্টিন ল্যাঙ্গার, স্টিভ রিক্সন ও মিকি আর্থারের নাম।

টি-টোয়েন্টি ছাড়লেন হাডিন

রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্কের পথেই হাঁটলেন ব্র্যাড হাডিন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বর্তমান অধিনায়কের মতোই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন এই উইকেটরক্ষক। ওয়ানডে ও টেস্টে আরও মনোযোগ দিতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। গতকালই ঘোষণাটি দিয়েছেন আগামী মাসে চৌত্রিশে পা দিতে যাওয়া হাডিন।
২৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা হাডিন ক্রিকেটের এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক খেলা ছাড়লেও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা ‘বিগ ব্যাশ’ ঠিকই খেলে যাবেন সিডনি সিক্সার্সের অধিনায়ক হাডিন। খেলবেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএলেও।
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় হাডিন বলেছেন, ‘আমি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা উপভোগ করি এবং অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন ধরনের ক্রিকেটেই খেলতে পেরে গর্বিত। তবে আমার মনে হয়েছে, টেস্ট ও ওয়ানডেতে মনোযোগ দেওয়ার এটাই ঠিক সময়। ওই ফরম্যাট দুটিতে আরও দীর্ঘ সময় ধরে খেলার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।

রাজশাহীকে চ্যালেঞ্জ জানাবে রংপুর?

দিন পাঁচেক আগের ঘটনা। জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চাইলেন, ‘জাতীয় লিগে কি এবার রংপুর বিভাগের আলাদা দল হবে?’
শুধু সোহরাওয়ার্দী নন, রংপুর নতুন বিভাগ হয়ে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে অপেক্ষাটা অনেক ক্রিকেটারেরই ছিল। রংপুর অঞ্চলের খেলোয়াড়েরা এত দিন রাজশাহীর হয়ে জাতীয় লিগে খেলতেন। রংপুর বিভাগ হয়ে যাওয়ার পর আলাদা দলের স্বপ্ন তাঁরা দেখতেই পারেন।
১৯ সেপ্টেম্বর বিসিবির ৩৩তম সভায় স্বপ্ন পূরণ হয়েছে রংপুরের খেলোয়াড়দের। আসন্ন জাতীয় লিগে নতুন দল হিসেবে নাম লেখাচ্ছে রংপুর বিভাগ ও ঢাকা মহানগর। সোহরাওয়ার্দী যেন এর চেয়ে বেশি আনন্দিত আর কোনো কিছুতেই নন, ‘আমরা সবাই অনেক দিন ধরে এমন একটা কিছুরই আশায় ছিলাম। রংপুরে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে, অথচ তারা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলতে পারে না।’ এ রকম কয়েকটা উদাহরণও দিলেন জাতীয় দলের এই অলরাউন্ডার, ‘সাজিদ ভাই (পেসার সাজিদুল ইসলাম) জাতীয় দলে খেলেছেন, অথচ গত জাতীয় লিগে খেলতে পারেননি। নাসিরের মতো খেলোয়াড়কে রাজশাহী বসিয়ে রেখেছিল। এসব তো আমাদের ক্রিকেটের জন্যই লজ্জার।’ বঞ্চনার এই ক্ষোভ জাতীয় লিগে রংপুরের বড় শক্তি হবে বলেও বিশ্বাস তাঁর।
সোহরাওয়ার্দী, সাজিদ, নাসিরদের মতো দেশের ক্রিকেটের আরও অনেক পরিচিত মুখ রংপুর থেকেই আসা। নাঈম ইসলাম, ধীমান ঘোষ, শুভাশিস রায়, মাহমুদুল হাসান, আলাউদ্দিন বাবু তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
নাঈম ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধায়। এত দিন রাজশাহী দলে খেললেও ২০১১-১২ মৌসুমের জাতীয় লিগে তাঁকেও দেখা যাবে রংপুর বিভাগীয় দলে। নাঈমের কথায় আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার আনন্দ, ‘নিজের এলাকার দলের হয়ে খেলতে পারব, এর চেয়ে ভালো আর কি আছে? আমার বিশ্বাস, রংপুর দলটা খুবই ভালো হবে। ঢাকা লিগের বড় বড় দলে আমাদের ছেলেরা খেলে।’ আনন্দের আতিশয্যে রংপুর বিভাগীয় দলের জন্য একজন কোচের নামও প্রস্তাব করে ফেললেন নাঈম, ‘আমাদের হাসানুজ্জামান রুশো স্যার বিকেএসপির কোচ। কোচ হিসেবে ওনার আরও অভিজ্ঞতা আছে। ওনাকে রংপুরের কোচ করা যেতে পারে।’
১৯ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত হলেও রংপুরের জাতীয় লিগে অন্তর্ভুক্তির খবর নাসির হোসেন পেয়েছেন কাল। তিনি এবং রংপুরের আরও অনেকেই নাকি জানতেন রংপুরকে আলাদা দল ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়নি। মাঝে একটা দিন তাই খুবই মন খারাপ ছিল তাঁদের। ‘বলে বোঝাতে পারব না কেমন লাগছে। আমরা তো শুনেছিলাম, রংপুর আলাদা দল হচ্ছে না! সবার খুব মন খারাপ ছিল। এখন তো মনে হয় অনেকে প্র্যাকটিসও শুরু করে দিয়েছে।’ নাসিরই জানালেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এখন রংপুর অঞ্চলের ১১-১২ জন ক্রিকেটার খেলছে। গত জাতীয় লিগে রাজশাহী দলের ৮-৯ জন ছিল রংপুর থেকেই।
রাজশাহীর হয়ে খেলে গত জাতীয় লিগের সেরা উইকেটরক্ষক ধীমান ঘোষও আরও অনেকের মতো রংপুর বিভাগের ক্রিকেটার হয়ে যাবেন এখন। তাতে অবশ্য রাজশাহীর খুব একটা সমস্যা হবে বলে মনে হচ্ছে না তাঁর, ‘রংপুর আলাদা দল হওয়ায় আমাদের ভালো হয়েছে, তবে এতে রাজশাহীর শক্তি কমবে না। রাজশাহী চাইলে গত বছর জাতীয় লিগে দুটি দল করতে পারত। রাজশাহীতে অনেক ভালো ভালো ক্রিকেটার মাঠের বাইরে বসে থাকে। তারা এখন সুযোগ পাবে।’
আঞ্চলিকতার টান জাতীয় লিগে রাজশাহীর আধিপত্যের একটা বড় কারণ। ব্যাপারটা রংপুরের ক্রিকেটারদের মধ্যেও আছে বলে বিশ্বাস সোহরাওয়ার্দী-নাঈমদের। দলছুট হয়ে যাওয়ারা কি তাহলে চ্যালেঞ্জই জানাচ্ছেন জাতীয় লিগে গত তিনবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীকে? নাসির-ধীমানরা কিন্তু বিশ্বাস করেন, রাজশাহীর আধিপত্য কেড়ে নেওয়া সম্ভব।
রাজশাহীর হয়ে এই ক্রিকেটাররা দীর্ঘদিন খেলেছেন খালেদ মাসুদের অধীনে। রংপুরের খেলোয়াড়দের সামর্থ্যে বিশ্বাস করেন জাতীয় দল ও রাজশাহীর সাবেক এই অধিনায়কও, ‘তারা আমাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, এটাই হওয়া উচিত। রংপুরের ক্রিকেটাররাও অনেক ভালো, অনেক পরিশ্রমী।’ তবে সোহরাওয়ার্দী-ধীমানরা চলে যাওয়ায় রাজশাহীর ক্ষতি হবে না বলে মনে করছেন মাসুদও, ‘এতে রংপুরের যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি রাজশাহীরও। যারা থাকবে না, তাদের মধ্যে এক নাঈম ছাড়া সবারই বিকল্প আছে। রাজশাহীতে অন্তত ২৫ জন সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার আছে, যারা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলতে পারে। রংপুর আলাদা দল হওয়ায় তাদের জন্য দুয়ার খুলে গেল। এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিসিবিকে ধন্যবাদ।’

ওয়ানডে দলে নেই গেইল-সারওয়ান-ব্রাভো

বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর, সফরের প্রথম ভাগে অন্তত বাংলাদেশে থাকছেন না ক্রিস গেইল, রামনরেশ সারওয়ান ও ডোয়াইন ব্রাভো। বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে নেই এই তিন তারকা। ১৫ সদস্যের দলে একমাত্র নতুন মুখ কার্লোস ব্রাফেট। ২৩ বছর বয়সী বার্বাডিয়ান অলরাউন্ডার ঘরোয়া ক্রিকেটেও এখনো কোনো ওয়ানডে খেলেননি, টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মাত্র একটি। তবে এ বছরই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকে ৮ ম্যাচে করেছেন ২৬৫ রান, মিডিয়াম ফাস্ট বোলিংয়ে নিয়েছেন ২৬ উইকেট।
আজ ও আগামী পরশু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিতে খেলতে গেইল এখন ভারতে। গত এপ্রিলে একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (ডব্লুআইসিবি) ও জাতীয় দলের কোচ ওটিস গিবসনকে তুলাধোনা করেছিলেন গেইল। বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলার শুরু সেই সূত্রেই। জুনে সমস্যা সমাধানের সভায় আরও জটিল হয় সমস্যা। গত ২৫ জুন গেইল একা গিয়ে দেখা করেছেন ডব্লুআইসিবির প্রধান আর্নেস্ট হিলাইরের সঙ্গে। কিন্তু এতেও যে অগ্রগতি খুব বেশি হয়নি, প্রমাণ বাংলাদেশ সফরের দলই।
সারওয়ানের অবশ্য দলে থাকার কথা ছিল। কিন্তু পিঠের পুরোনো চোট মাথাচাড়া দেওয়ায় তাঁর জায়গায় নেওয়া হয়েছে ওপেনার কাইরান পাওয়েলকে। এই পিঠের চোটই বছর খানেক মাঠের বাইরে রেখেছিল সারওয়ানকে। ক্রিকেটে মনোযোগ ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সিরিজের মাঝখানে ‘সাময়িক বিরতি’ নিয়েছিলেন ‘বড়’ ব্রাভো। এ জন্যই বিবেচনা করা হয়নি তাঁকে। তবে প্রায় দেড় বছর পর দলে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক দিনেশ রামদিন।
গেইল-ব্রাভোরা না থাকায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি হয়তো কিছুটা থাকছে। তাই বলে বাংলাদেশের জন্য খুব সহজ হবে না সিরিজটা। স্যামুয়েলস-স্যামি-পোলার্ড-রাসেল-হায়াত—সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কার্যকর অনেক অলরাউন্ডার আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে। আছেন দুজন লেগ স্পিনার—আইসিসির বর্ষসেরা উঠতি ক্রিকেটার দেবেন্দ্র বিশু ও ‘কিপটে’ অ্যান্থনি মার্টিন।
বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়া শিবনারায়ণ চন্দরপল উপেক্ষিতই থেকে গেছেন। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ১৯ উইকেট নেওয়া ফিদেল এডওয়ার্ডসকে ওয়ানডে দলে রাখা হয়নি চোট থেকে বাঁচাতে। তবে টেস্ট দলে নিশ্চিতভাবেই থাকবেন দুজন। গেইল-সারওয়ানরাও কি থাকবেন? উত্তর মিলবে সময়েই।

‘টাইগার’ পতৌদি আর নেই

অনেকের চোখেই তিনি ভারতের সেরা অধিনায়ক। একসময় ছিলেন ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট অধিনায়কও। একটা সময় তিনিই ভারতীয় ক্রিকেটারদের মনে ঢুকিয়েছিলেন আত্মবিশ্বাসের বীজ। ভারতীয় ক্রিকেটের সেই অগ্রপথিক মনসুর আলী খান পতৌদি আর নেই। ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে দিল্লিতে কাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০।
১৯৬১ থেকে ১৯৭৫—১৪ বছরে ভারতের হয়ে ৪৬টি টেস্ট খেলে ৩৪.৯১ গড়ে ২৭৯৩ রান করেছেন। ৩১০টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে করেছেন ১৫৪২৫ রান, গড় ৩৩.৬৭। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়েই ‘টাইগার’ পতৌদিকে বোঝানো যাবে না, পতৌদি ভারতীয় ক্রিকেটেরই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। অসুস্থ অবস্থায় গত ২৯ আগস্ট দিল্লির এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে।
১৯৬২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ক্যারিবীয় পেসার চার্লি গ্রিফিথের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে যেতে হয় ভারতের অধিনায়ক নরি কনট্রাক্টরকে। নেতৃত্বভার তুলে দেওয়া হয় ২১ বছর বয়সী পতৌদিকে। মনসুর আলী খান পতৌদি হয়ে যান টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের টাটেন্ডা টাইবু ভেঙে দেওয়ার আগ পর্যন্ত রেকর্ডটি তাঁরই ছিল।
টেস্ট অভিষেকের কয়েক মাস আগে ইংল্যান্ডে এক সড়ক দুর্ঘটনায় এক চোখ হারিয়েছিলেন। এই প্রতিকূলতা জয় করেও খেলে গেছেন টেস্ট ক্রিকেট। ৪০টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করে ভারতকে জিতিয়েছেন ৯টিতে। তবে টেস্ট জয়ের সংখ্যা নয়, অধিনায়ক পতৌদি আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন দল পরিচালনা এবং দূরদর্শী ক্রিকেটীয় চিন্তার কারণে। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৬৮ মালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট জেতে ভারত।
পতৌদির মতো বিখ্যাত তাঁর পরিবারও। তবে সফেদ ক্রিকেটে নয়, তাঁদের খ্যাতি রুপালি জগতে। বলিউড অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর তাঁর স্ত্রী। ছেলে সাইফ আলী খান ও মেয়ে সোহা আলী খানও চলচ্চিত্র তারকা। আরেক মেয়ের নাম সাবা আলী খান।
পতৌদির সন্তানেরা কেউ ক্রিকেটার নন, তবে তিনি নিজে কিন্তু ক্রিকেটারেরই সন্তান। বাবা ইফতিখার আলী খান পতৌদি টেস্ট খেলেছেন ইংল্যান্ড ও ভারত দুই দেশের হয়েই।

মিলান, জুভেরও ড্রয়ের রাত

পরশু অদ্ভুত একটা দিন গেল মিরকো ভুচিনিচের। তিনিই নায়ক, আবার খলনায়কও তিনিই! রোমায় পাঁচ মৌসুম কাটিয়ে এবারই জুভেন্টাসে নাম লিখিয়েছেন মন্টেনেগ্রোর এই ফরোয়ার্ড। পরশু ইতালিয়ান লিগে নিজের প্রথম গোলটিও করেছেন। কিন্তু ৩০ মিনিটে করা ওই গোলের ১৫ মিনিটের মাথায় আবার দেখেছেন লাল কার্ডও। ১০ জনের দল হয়ে পড়া তুরিনের ‘ওল্ড লেডি’ ১-১ ড্র করেছে এই মৌসুমে ধুঁকতে থাকা বোলোনিয়ার সঙ্গে। প্রথম দুই ম্যাচে জেতা জুভেন্টাস এই প্রথম পয়েন্ট হারাল।
ইউরোপিয়ান লিগগুলোয় বড় দলগুলোর পেছনে বোধহয় ড্রয়ের ভূত লেগেছিল। স্প্যানিশ লিগে রিয়ালের পর বার্সাও ড্র করেছে। ইতালিয়ান লিগেও জুভেন্টাসের পাশাপাশি এসি মিলান। সান সিরোতে পিছিয়েই পড়েছিল মিলান। ২৯ মিনিটে আন্তোনিও ডি নাতালের গোলে এগিয়ে যায় উদিনেসে। সেই গোল ৬৬ মিনিটে শোধ করেন পাতোর বদলি হিসেবে নামা স্টেফান এল শারাউই। ১৮ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এই মৌসুমে জেনোয়া থেকে নাম লিখিয়েছেন মিলানে।
পড়শি ইন্টারের মতো মিলানও এখন পর্যন্ত লিগে জয়ের দেখা পায়নি। তিন ম্যাচে ২ ড্র আর এক পরাজয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৪ নম্বরে তারা। মৌসুমে দুঃস্বপ্নের মতো শুরুর পর কোচকে বরখাস্ত করা ইন্টার আছে ১৮তম স্থানে। জুভেন্টাস অবশ্য ৭ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।
গত দুই মৌসুম থেকে নিজেদের নতুন করে চেনানো ম্যারাডোনার সাবেক ক্লাব নাপোলিই থাকতে পারত শীর্ষে। কিন্তু পরশু শিয়েভো ভেরোনার কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে তারা।

রোনালদোর বিয়ে!

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখন পর্যন্ত কতজনের সঙ্গে মনের লেনাদেনা করেছেন? সংখ্যাটি নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ বলে ২০, কেউ বা বলে ২৮। মানুষ যেভাবে মোবাইল ফোনসেট পাল্টায়, রোনালদো নাকি তারও চেয়ে বেশি পাল্টান প্রেমিকা। সম্ভবত তিনিই বিশ্বের একমাত্র প্রেমিক, যাঁর প্রেমিকার তালিকা হালনাগাদ রাখার জন্য একটা ওয়েবসাইটই আছে: ক্রিস্টিয়ানোরোনালদোগার্লফ্রেন্ড ডট কম। রোনালদো হয়তো বিশ্বের একমাত্র বাবাও, যাঁর সন্তানের জন্মদাত্রীর পরিচয়ও কেউ জানে না!
তবে রোনালদো নাকি আগের সেই ‘প্লে বয়’ নেই। বাবা হওয়ার পর থেকে অনেক দায়িত্বশীল হয়েছেন। এবার নাকি বিয়েথা করে থিতুও হতে যাচ্ছেন। আগামী বছর ১২ জুলাই পোর্তো সান্তো দ্বীপে বিয়ে করবেন প্রেমিকা ইরিনা শায়াককে। এই খবর দিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াল মাদ্রিদ তারকার এক পারিবারিক বন্ধু। রোনালদোর কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরিনার হাতে শোভা পাওয়া বাদগানের আংটি এই গুঞ্জনটাকে উসকেই দিচ্ছে। ওয়েবসাইট।
১ জুলাই ২০১২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হওয়ার পর এবং ক্লাব মৌসুম শুরুর আগে লম্বা ছুটি পাবেন তিনি। সেই সময়ই বিয়ের কাজটা সেরে ফেলতে চান। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার, বিয়েটা তাই সে রকম ধুমধামের সঙ্গেই হওয়ার কথা। বিয়ের ‘ভেন্যু’ হিসেবে পোর্তো সান্তো দ্বীপ বেছে নেওয়ার কারণ, রোনালদোর জন্মস্থান থেকে এটি মাত্র ২৫ মাইল দূরে।

একই বৃত্তে রিয়াল-বার্সা

হোসে মরিনহো বলেছিলেন, ‘মোটেও না।’ বার্সেলোনার হয়ে কদিন আগে বলেছেন থিয়াগো আলকানতারাও, ‘সেটা বলা হলে মিথ্যা বলা হবে।’ প্রসঙ্গ ছিল একটাই—স্প্যানিশ লিগ শুধুই রিয়াল-বার্সা দুই দলের লড়াই কি না।
শুধু মুখের কথায় হয়তো মানুষ মানবে না। রিয়াল-বার্সেলোনা কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। পরশু লিগে দুই দলই ড্র করল। প্রথমে রিয়াল গোলশূন্য ড্র করেছে পয়েন্ট টেবিলে ১৭ নম্বরে থাকা রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে। পরের ম্যাচে বার্সা দু-দুবার পিছিয়ে পড়ে ২-২ গোলে ড্র করেছে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে। গত ১১ বছরের মধ্যে বার্সা-রিয়াল বাদে লিগ শিরোপা জিতেছে শুধুই ভ্যালেন্সিয়া। ৪ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সেই ভ্যালেন্সিয়াই এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। ৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে বার্সা, ১ পয়েন্ট কম নিয়ে সাতে রিয়াল।
আগের ম্যাচে পুঁচকে লেভান্তের বিপক্ষে হেরে যাওয়ার পর মনে করা হয়েছিল, এই ম্যাচে হয়তো ফুঁসে উঠবে রিয়াল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষের দিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দারুণ একটা হেড আর দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া নামার পর কিছু গতিশীল আক্রমণ ছাড়া কার্যত ধারহীন লেগেছে রিয়ালকে। পুরো ম্যাচে রক্ষণাত্মক খেলে পাল্টা আক্রমণে মাঝেমধ্যে উঠে যাওয়া রেসিং দু-তিনটি সুযোগ নষ্ট করেছে। না হলে লেভান্তের মতো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারত তারাও।
বার্সার সামনে সুযোগ ছিল রিয়ালের পা হড়কানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। আগের দুই মৌসুমের শিক্ষা বলছে, শেষ পর্যন্ত এবারও শিরোপা নির্ধারিত হতে পারে মাত্র কয়েক পয়েন্টের ব্যবধানে। কিন্তু আগের ম্যাচে ওসাসুনাকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া বার্সা ড্র করেছে কপালগুণে। এই মৌসুমের শুরু থেকেই রক্ষণভাগের সমস্যায় আক্রান্ত বার্সা প্রথম গোলটি খেয়েছে এরিক আবিদালের আত্মঘাতী গোলে। অবশ্য ১২ মিনিটে এই গোল হজম করার দুই মিনিটের মধ্যেই সেটি শোধ করে দিয়েছিলেন পেদ্রো। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলতে থাকা ভ্যালেন্সিয়া আবার এগিয়ে যায় ২২ মিনিটে পাবলো হার্নান্দেজের গোলে।
প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ পেয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া। এর মধ্যে আগের তিন ম্যাচে ৫ গোল করা রবার্তো সলদাদো সহজতম সুযোগ পেয়েও সেটি নষ্ট করেছেন। একদম ফাঁকা পোস্ট পেয়েও মাত্র এক গজ দূর থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বল মেরে দিয়েছেন বাইরে। শেষ পর্যন্ত মেসির বাড়িয়ে দেওয়া বলে ৭৭ মিনিটে গোল শোধ করে দেন সেস ফ্যাব্রিগাস। বার্সায় নাম লেখানোর পর লিগে ফ্যাব্রিগাসের এটি চতুর্থ গোল। দুই অর্ধে দুবার মেসির দুটি পেনাল্টির দাবি অবশ্য রেফারি নাকচ করে দিয়েছেন। স্বভাববিরুদ্ধভাবে মাঠেই নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন টানা দুবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়।
বার্সা-রিয়ালের ড্রয়ের দিনে স্পোর্টিং গিজনকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। জোড়া গোল করেছেন এই মৌসুমে পোর্তো থেকে অ্যাটলেটিকোতে আসা রাদামেল ফ্যালকাও। লিগে ফ্যালকাওয়েরও গোল হয়ে গেল পাঁচটি, পোর্তোর হয়ে গত মৌসুমে ৪২ ম্যাচে ৩৯ গোলের কথাই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছেন এই কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার।
স্বাভাবিকভাবেই বার্সা-রিয়াল দুই শিবিরেই হতাশা। তবে রিয়ালের হতাশাটা যেন একটু বেশিই। অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসের কথাতেই সেটা পরিষ্কার, ‘টানা দুই ম্যাচে আমরা এমন দুই প্রতিপক্ষের সঙ্গে জিততে পারলাম না, যারা সত্যি বলতে আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করারই চেষ্টা করেনি। এটা হতাশার, তবে আমাদের হাল ছাড়লে চলবে না। যদিও আমরা ভালো করেই বুঝছি, যেভাবে খেলছি সেটা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে যায় না।’ আর মরিনহো বলছেন, ‘দুই ম্যাচে ৫ পয়েন্ট হাতছাড়া করা আমাদের জন্য খুব দুশ্চিন্তার।’