Saturday, April 13, 2019

গোলানে ইসরাইলের কোনো অধিকার নেই: লেবাননের প্রেসিডেন্ট

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, গোলান মালভূমির ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের কথিত সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেবে না তার দেশ। শুক্রবার লেবানন সফররত একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল রাজধানী বৈরুতে প্রেসিডেন্ট আউনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি গোলান মালভূমি সম্পর্কে তার দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, গোলানের ব্যাপারে বৈরুতের সুস্পষ্ট অবস্থান ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব প্রত্যাখ্যান বিশেষ করে শেবা কৃষিখামার ও কাফরশুবা পাহাড়কে গোলানের অন্তর্গত করার ঘোর বিরোধিতা করছে লেবানন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার কাছ থেকে দখলীকৃত গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের কথিত সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়ার পর ওই মার্কিন প্রতিনিধিদল বৈরুত সফর করল। লেবাননের প্রেসিডেন্ট এর আগে ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ওই ঘোষণার ঘোর বিরোধিতা করে একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক নীতি এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ২৫ মার্চ গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুসলিম ও আরব বিশ্বকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় তেল আবিব সিরিয়ার কাছ থেকে কৌশলগত এই এলাকাটি দখল করে নেয়। একই সময়ে লেবাননের শেবা কৃষিখামার ও কাফরশুবা পাহাড়কেও জবরদখল করে নিয়েছিল তেল আবিব। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল কখনই এই দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি। দশকের পর দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বে অন্যান্য দেশগুলোও ইসরাইলের এই জবরদখল প্রত্যাখ্যান করে এসেছিল।

ভুয়া প্রশ্নপত্রের কারবারি ওরা by শুভ্র দেব

হ্যালো, এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক বৃন্দ। আমরাই নিশ্চয়তা দিচ্ছি- এবারের এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ, তার সমাধান এমনকি পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনের। পাশাপাশি আমরা ফেল করা বিষয়ে এ প্লাসের গ্যারান্টি দিচ্ছি। আগ্রহীরা   ইনবক্সে যোগাযোগ করুন। সামাজিক     যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি দিয়ে গ্রুপ/পেজ খুলে এভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছে একটি চক্র। এর আগে চক্রের মুল হোতারা শিক্ষার্থী অভিভাবকদের গ্রুপে এড করে নেয়। এসব গ্রুপেই পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করে এমন প্রচারণা চালানো হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য গ্রুপে বিভিন্ন প্রশ্নের সমাধান দেয়া হয়।
প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ের আপডেট দেয়া হয়। যারা প্রশ্নপত্র নিতে আগ্রহী তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে কথা হয় তাদের। মেসেঞ্জারের মাধ্যমেই প্রশ্নপত্রের দর কষাকষি হয়। দর দাম ঠিক হলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা প্রাপ্তির পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে তারা প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে। পরে দেখা যায়, এ প্রশ্নপত্র ভূয়া।
গোয়েন্দাসূত্র বলছে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি চলছে। এতে চক্রটি বেকায়দায় রয়েছে। তারা এখন ভুয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। বিগত এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে সেটাতে নতুন কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করে তারা নিজেরাই ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষার একদিন আগে তারা সেই প্রশ্ন প্রাপ্তি ও সরবরাহ করতে পারবে বলে নিশ্চয়তা দেয়। তাৎক্ষনিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রতারক চক্রের কাছে বিকাশে টাকা পাঠায়। এক্ষেত্রে প্রতি প্রশ্নপত্রের জন্য ৫০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। ফল পরিবর্তন বা ফেল করা বিষয়ে এপ্লাস পাইয়ে দেয়ার জন্য লাখ টাকাও নেয়া হয়। টাকা আদায়ের পর ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তাদের গ্রুপ থেকে বাদ দেয় প্রতারক চক্র। যাতে করে প্রতারণার বিষয়টি পরে বুঝার পর যেন তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা না যায়।
ভুয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে রমরমা বানিজ্য করা এসব চক্রের সদস্যদের আটকের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন টিম, র‌্যাপিড অ্যাকশন বাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট। এসব সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসএসসি, এইচএসসি ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেনীর প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের লোভনীয় কথা বলে প্রতারণা করছে। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। সারা দেশে নামে-বেনামে এ ধরনের অন্তত শতাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসব চক্রের মুলহোতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বের হয়ে ফের একই কাজ শুরু করে। এছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা গ্রেপ্তার হয় তাদের অনেকেই প্রান্তিক পর্যায়ের। যেসকল গ্রুপ বা পেজ থেকে প্রশ্নপত্র সরবরাহের প্রচারণা চালানো হয় সংশ্লিষ্ট এডমিনরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এসব গ্রুপের এডমিনরা গ্রুপে যাকে সন্দেহজনক মনে করেন তাদের গ্রুপে ব্লক করে দেন।
শনিবার ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও ক্রাইম বিভাগ। তারা হলো, ইমরান খসরু (২৪), আহসান হাবীব (২৪) ও ইমরান হোসেন রাকিব (২৪)। সাইবার ক্রাইম সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা ছদ্মনামে ফেসবুকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির প্রচার করত। পরীক্ষার পাস করানো, ফলাফল পরিবর্তন ও ফেল করা বিষয়ে ভালো রেজাল্ট এনে দেয়ার ঘোষণা দিতো। আগ্রহীদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করতো। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই এলাকার লীলাম্বর শাহ রোডের একটি বিকাশের দোকানের সামনে থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য কাজী কেওয়ান (২৪) ও নাজেল হোসেন (২১) কে আটক করে র‌্যাব। র‌্যাবের-২ মিডিয়া শাখার সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল মালিক জানিয়েছেন, তারা ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। তারা মেসেঞ্জারে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করত।
এদিকে ডিএমপির সাইবার টিম প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সম্পর্কে তথ্য প্রদান ও তাদের লোভনীয় মিথ্যা টোপ থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুরে থাকার কথা বলছেন। সাইবার ক্রাইমের অতিরিক্ত উপ কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোন সুযোগ নাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেভাবেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে প্রশপত্র প্রণয়নের কাজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা জনপ্রিয় চ্যাট ইঞ্জিনগুলোর পাবলিক বা ক্লোজড গ্রুপে যারা প্রশ্ন সরবরাহ করবে বলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে সেগুলো ভূয়া। এসব ভূয়া এন্টিটি / কন্টেন্ট গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি বলেছেন, এসব গ্রুপের তৎপরতা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে। তাই কোন অভিভাবক বা শিক্ষার্থী যদি এসব গ্রুপে ঢুকে ফুটপ্রিন্ট রাখে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া পরীক্ষার হল গুলোতে ম্যাগনেট, অপ্টিক ও ফ্রিকুয়েঞ্চি ডিটেকটর বসানো হচ্ছে। যাতে করে পরীক্ষার হলে গিয়ে কেউ যেন কোন ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতি করতে না পারে।

লোককথার চাঁদ ফকিরের নামে ‘চাঁদপুর’

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল আয়তনের বাংলাদেশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, দৃষ্টিনন্দন জীবনাচার মন কাড়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক মসজিদ ও মিনার, নদী, পাহাড়, অরণ্যসহ হাজারও সুন্দরের রেশ ছড়িয়ে আছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত।
দেশের আট বিভাগে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ) ৬৪ জেলা। পণ্য, খাবার, পর্যটন আকর্ষণ কিংবা সাংস্কৃতিক বা লোকজ ঐতিহ্যে বাংলাদেশের জেলাগুলো স্বতন্ত্রমণ্ডিত। প্রতিটি জেলার নামকরণের সঙ্গে রয়েছে ঐতিহ্যপূর্ণ ইতিহাস। প্রতিটি স্থানের নামকরণের ক্ষেত্রে কিছু জনশ্রুতি রয়েছে। এসব ঘটনা ভ্রমণপিপাসু উৎসুক মনকে আকর্ষণ করে। বাংলা ট্রিবিউন জার্নির ধারাবাহিক প্রতিবেদন থেকে জানানো হচ্ছে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
চাঁদপুর জেলা
হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির বহমান ধারায় সিক্ত নদীমাতৃক বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর রূপ-বৈচিত্র্য আর পাহাড়-সমতলের সবুজ শ্যামলিমার মায়া ছাপিয়ে রূপের অনন্ত বিভায় নিরন্তর আনন্দে উচ্ছ্বল করে রেখেছে তেরশত নদীর অমৃত জলধারা। পদ্মা ও মেঘনা এই নদীমাতৃক বাংলাদেশের বৃহৎ দুটি ধারা। এর সঙ্গে দুরন্ত ডাকাতিয়া দলবেঁধে গড়ে তুলেছে ত্রিনদীর মোহনা। মনজুড়ানো এই ত্রি-ধারার মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’।
১৭৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ জরিপকারী মেজর জেমস রেনেল তৎকালীন বাংলার যে মানচিত্র এঁকেছিলেন তাতে চাঁদপুর নামে একটি জনপদ ছিল। তখন চাঁদপুরের দক্ষিণে নরসিংহপুর নামক (বর্তমানে যা নদীগর্ভে বিলীন) স্থানে অফিস-আদালত ছিল। পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল ছিল বর্তমান স্থান থেকে পাওয়া প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে। মেঘনা নদীর ভাঙাগড়ার খেলায় এই এলাকা বর্তমানে বিলীন।
লোককথার প্রসিদ্ধ চাঁদ সওদাগরের নাম কিংবা পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম হয়েছে ‘চাঁদপুর’। বার ভূঁইয়াদের আমলে অঞ্চলটি বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলে ছিল। ইতিহাসবিদ জে.এম সেনগুপ্তের মতে, চাঁদরায়ের নামানুসারে ‘চাঁদপুর’ নামটি এসেছে।
কথিত আছে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাসক দিল্লি থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদীবন্দর স্থাপন করেছিলেন। তার নামানুসারে ‘চাঁদপুর’ নামটির উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। তিনি থাকতেন পুরিন্দপুর এলাকায়। ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে চাঁদপুর।
ইতিহাসের গরবিনী নদী-বিধৌত চাঁদপুর ভ্রমণপিপাসু মানুষের মনের জানালায় ইলিশের জন্য বেশি চেনা। ইলিশ এক অনন্য রূপালি সম্পদ, অনিন্দ্য জলজ সম্ভার। ইলিশ গভীর সমুদ্রের মাছ হলেও চাঁদপুরের মেঘনার জলে তারা বেশকিছু সময় কাটায়। অনেকটা সন্তানবতী মেয়ে যেমন বাবার বাড়ি আসে, তেমনই ডিম ছাড়ার সময় মা ইলিশ চলে আসে মেঘনায়, চলে আসে চাঁদপুরে। ডিম ছাড়ে মেঘনার মিঠা পানিতে। বাচ্চা ইলিশগুলো বড় হয় এখানে। তাই চাঁদপুর যেন ইলিশের বাড়ি।
মেঘনায় নৌ-বিহার ও জোছনা আস্বাদন কিংবা মেঘনার চরে যান্ত্রিক জীবনের ক্লেশ এড়িয়ে নির্মল অবকাশযাপনের জন্য চাঁদপুর অতুলনীয়। বিশ্বে অনন্য তিন নদীর মিলনস্থল ও চাঁদপুর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীতে রাতের আলোয় ঝলমলে রূপ-মাধুর্য এককথায় চোখধাঁধানো। চাঁদপুরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ইতিহাস-নন্দিত স্থাপনা।
জেলায় দর্শনীয় চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড (ত্রিনদীর মোহনা), রক্তধারা, ইলিশ চত্বর, অঙ্গীকার, শপথ চত্বর, হরিণা ফেরিঘাট, চাঁদপুর স্টেডিয়াম, রাজরাজেশ্বর চর, অরুণ নন্দী সুইমিং পুল, জেলা প্রশাসকের বাংলোয় দুর্লভ জাতের নাগলিঙ্গম গাছ, চৌধুরী বাড়ি, নুনিয়া দত্তের বাড়ি ও পূজা মন্দির, ডাকাতিয়ায় বেদেপল্লী, পুরান বাজার বড় মসজিদ, চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, চাঁদপুর নৌবন্দর, শাহরাস্তিতে রাস্তি শাহের (র.) মাজার ও দীঘি, সাধক সর্বানন্দ ঠাকুরবাড়ি, নাওড়া মঠ ও মেহের কালীবাড়ি, মতলব উত্তরে ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, মতলব দক্ষিণে কাশিমপুর রাজবাড়ি বারদুয়ারি ও জগন্নাথ দেবের মন্দির।
হাইমচরে পান-সুপারি বাগান, ঈশানবালা চর ও মধ্যচর। কচুয়ায় উজানী বখতিয়ার খাঁ মসজিদ, পালগিরি মসজিদ, মনসা মুড়া। ফরিদগঞ্জে রূপসা জমিদার বাড়ি, কড়ৈতলী জমিদার বাড়ি, লোহাগড়া মঠ, সাধু যোসেফের গির্জা, সাহেবগঞ্জ দুর্গ। হাজীগঞ্জে অলিপুর শাহী মসজিদ, বিজয় স্তম্ভ, হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ, নাসিরকোট স্মৃতিসৌধ, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ। কচুয়ায় সাচারের প্যারা সন্দেশ ও ফরিদগঞ্জের মিষ্টি বেশ মুখরোচক খাবার।
জেলার উল্লেখযোগ্য মেলাগুলো হলো চাঁদপুর সদরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, বড় স্টেশন মোলহেড চত্বরের পহেলা বৈশাখের মেলা, বাবুর হাটের বৈশাখী মেলা, কচুয়ায় সাচারের রথের মেলা, ফরিদগঞ্জে পহেলা বৈশাখের মেলা ও আষ্টার মহামায়ার বৈশাখী মেলা, শাহরাস্তিতে মেহের কালীবাড়ির কালীপূজার মেলা ও বৈশাখী মেলা, হাজীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, মতলব দক্ষিণে মেহেরনের রথের মেলা, মতলব উত্তরে ঐতিহ্যবাহী লেংটার মেলা, হাইমচরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা।
সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

সবচেয়ে উঁচু গাছ!

যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীরা এমন এক গাছ আবিষ্কার করেছেন, যা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গাছ বলে দাবি করছেন তাঁরা। গাছটির উচ্চতা ৩২৮ ফুটের বেশি।
গত বছর নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল বোর্নিও দ্বীপের বৃষ্টি অরণ্যে হলদে মেরানটি বলে পরিচিত গাছটি খুঁজে বের করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা গাছটি ভালোভাবে শনাক্ত করতে থ্রিডি স্ক্যান ও ড্রোন নিয়ে যান।
গত শনিবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, মালয়েশিয়ার সাবাহ এলাকার সংরক্ষিত ডানাম ভ্যালিতে গাছটি খুঁজে পাওয়া যায়। গাছটির নাম দেওয়া হয়েছে মিনারা। ওই এলাকার বাসিন্দা আন্ডিং জামি। নিয়মিত গাছে চড়েন তিনি। বিশেষ ফিতা দিয়ে জামি গাছটি মেপেছেন। বলেন, ‘গাছটি কিছুটা ভয়ংকর। তবে মগডাল থেকে বাইরের দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা খুব চমৎকার। জানি না ব্যাপারটা কীভাবে বর্ণনা করব। এটা খুবই বিস্ময়কর।’
নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডোরিন বোয়েড বলেন, ‘বোঝা যাচ্ছে, এ ধরনের গাছগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে। গাছগুলো অনেক উঁচু হয়। এমন আরও উঁচু গাছ নিশ্চয়ই রয়েছে। তবে আমরা সেগুলো খুঁজে বের করতে পারিনি। আমাদের এই গাছগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আলেক্সান্ডার শেঙ্কিন বলেন, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আবিষ্কার শোনার পর তাঁরা মিনারা এলাকায় যান। শেঙ্কিন বলেন, তিনি উঁচু গাছ সম্পর্কে অনেক শুনেছেন। কিন্তু এ রকম উঁচু গাছ আর দেখেননি।

শিক্ষিকা থেকে ব্যবসায়ী নেত্রী by এম এম মাসুদ

ড. রুবানা হক। শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করেছিলেন কর্মজীবন। স্বামীর ব্যবসার সূত্রে পা দেন বাণিজ্যের জগতে। স্বামীর অবর্তমানে দায়িত্ব নিয়েছেন পুরো একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের। ২০ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন বলে খ্যাত তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। শ্রমিক অধিকার, নারীর উদ্যোগ ও তৈরি পোশাক খাতসহ নানা বিষয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলতে অভ্যস্ত একজন সদালাপী রুবানা এবার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সর্বোচ্চ পদে। আর এ দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে প্রথম বারের মতো একজন নারী এই সংগঠনের সভাপতি হচ্ছেন। বিজিএমইএতে আগামী দুই বছর নেতৃত্ব   দেবেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সহধর্মিনী রুবানা মোহাম্মদী গ্রুপের কর্ণধার। এ ব্যবসায়ী গ্রুপের ২১টি ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি কর্মরত।
ড. রুবানা হকের জন্ম ১৯৬৪ সালে ৯ই ফেব্রুয়ারি। পড়াশুনা করেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল, হলিক্রস কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরুষোত্তম লালের প্রকাশনা সংস্থা ও রাইটারস ওয়ার্কশপের ওপর ‘রাইটারস ওয়ার্কশপ: এজেন্ট অব চেঞ্জ’ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেল নিয়ে এমএ করেন। মেধাবী এই নারী এসএসসি, এইচএসসিতে বোর্ড সেরা হয়েছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য চর্চার সঙ্গেও জড়িত।
রুবানা হকের প্রয়াত স্বামী ও ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র আনিসুল হক ব্যক্তি জীবনে একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৯৮৬ সালে আনিসুল হক তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদী গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুলের তৈরি পোশাক ছাড়াও বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন, কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা রয়েছে। ডিজি জাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেড এবং নাগরিক টেলিভিশনের মালিকানাও এই গ্রুপের।
রুবানা হকের তিন সন্তানের মধ্যে, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে নাভিদুল হক এবং মেয়ে ওয়ামিক উমাইরা ও তানিশা ফারিয়ামান হক মোহাম্মদী গ্রুপের পরিচালক। এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘দেশ এনার্জি লিমিটেডের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন নাভিদুল। নাভিদুল হক বোস্টনের বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ওয়ামিক উমাইরা স্নাতক শেষ করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের সিমন্স কলেজ থেকে স্নাতক করেছেন তানিশা ফারিয়ামান।
ড. রুবানা হক ৫৫ বছর বয়সে অনেক কিছু অর্জন করেছেন। এক সময় টিভিতে উপস্থাপনা করেছেন। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সাউথ এশিয়া টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এর ট্রাস্টি মেম্বার। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিবিসির করা বিশ্বের ১০০ নারী নিবন্ধে তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্যবসার পাশাপাশি রুবানা হক সাহিত্যচর্চাও করেন। ‘টাইম অফ মাই লাইফ’ তার লেখা কবিতার বই। ২০০৬ সালে তিনি কবিতার জন্য সার্ক সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। সমপ্রতি তিনি ইংরেজি সাহিত্যেও পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন।
মানবজমিন এর সঙ্গে একান্ত আলাপে ড. রুবানা হক জানান, পড়ালেখার দিকেই বেশি আগ্রহ তার। ব্যবসার প্রতি কখনোই আগ্রহ ছিলো না। স্বামী আনিসুল হকও কখনো চাইতেন না তিনি ব্যবসায় আসেন। ব্যবসায় আসার আগে রুবানা হক একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। এটি তিনি উপভোগ করতেন। আনিসুল হকের ব্যবসাও ভালোই চলছিল। হঠাৎ অতিরিক্ত কাজের চাপে আনিসুল হকের উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায়। দুজনে একদিন চিকিৎসকের কাছে গেলেন। চিকিৎসক পরামর্শ দিলেন কাজের চাপ কমাতে।
বাড়ি ফিরেই রুবানার সাহায্য চাইলেন আনিসুল হক। সে সময় আনিসুল হকের ব্যবসায়ীক অংশীদার হিসেবে স্ত্রী ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন না। কখনো অফিসেও আসতেন না। ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পর রুবানা হক শুরুতে মতিঝিলের অফিসে গিয়ে বসতেন। ধীরে ধীরে ব্যবসার কাজে যুক্ত হন। বর্তমানে ২১টি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি।
কিন্তু এই ব্যবসায়ী হওয়ার আগে স্বামীকে শর্ত দিয়েছিলেন, যতই ব্যবসা দেখি না কেন, আমি কিন্তু পিএইচডি করবই। অবশ্য রুবানা হক ব্যবসা সামলানোর সঙ্গেই সঙ্গেই পিএইচডি করেছিলেন। তাকে কেউ ড. রুবানা বললে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হন। তবে তার সবচেয়ে বড় যে গুন, ব্যবসায়িক বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমনকি আনিসুল হকও অবাক হয়ে বলতেন, ‘এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নাও কী করে?’ প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীদের কাছে তিনি মায়ের মতো। কার কী প্রয়োজন, কার কোথায় সমস্যা, সেগুলো তার চেয়ে বেশি কেউ জানে না। এমনকি পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যাতে তারা সময়মতো বেতন পান, সেটাও গুরুত্ব দিয়ে তিনি নিজে বিবেচনা করেন।
রুবানা হক একজন সৃজনশীল মানুষও। কবিতা লেখেন, প্রবন্ধ লেখেন, কবিতা লিখে পেয়েছেন সার্ক সাহিত্য পুরস্কার। সময় পেলে মোমবাতি তৈরি করেন। এটা তার বিশেষ শখ সেই ছোটবেলা থেকেই। নিজের বাড়িতেই তার পরিচয় পাওয়া যায়। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় মোমবাতি সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। এছাড়া রাতে মোমের আলোতেই নানা কাজ করেন।
সম্প্রতি বিজিএমইএ নতুন কমিটির প্রধান ও প্রথম নারী সভাপতি হতে যাওয়া রুবানা হক বলেন, দেশের পোশাক খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বাজারে ভাবমূর্তি সঙ্কট কাটিয়ে উঠা, পণ্যের দাম বাড়াতে দরকষাকষি, কারখানা পূর্ণসংস্কার শতভাগ করা, পেশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তি নির্ভর বাড়িয়ে দেয়া ও মালিক-শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রধিকার দেবেন তিনি।
রুবানা হক বলেন, বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম কাজ হবে পোশাক খাতের ভাবমূর্তির ঘাটতি কাটিয়ে উঠা। বাংলাদেশ সস্তায় পণ্য দিচ্ছে বলে যে কথা প্রচলিত আছে সেটা বদলাতে হবে। সস্তায় কখনও ভালো জিনিস হয় না। শব্দটি হবে ‘কম্পারেটিভলি গুড প্রাইস’, সেই ট্রেন্ড চালু করতে আমাদের কাজ করতে হবে। দামের ব্যাপারে দর কষাকষিতে কখনই ছাড় দেয়া যাবে না। বিজিএমইএ থেকে আমি এবং আমার প্যানেল সেই লক্ষ্যে কাজ করার উদ্যোগ নিতে পারি। যদি কারখানাগুলো মনে করে, দর কষাকষির ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য লাগবে আমরা তাহলে অবশ্যই নেগোসিয়েট করে দেব। সেটার জন্য আমরা আলাদা একটা সেল করব।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্পর্কে নিজের ভাবনা তুলে ধরে রুবানা হক বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অনেকগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাদের সবার কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত তাদের পক্ষে আমাদের দাঁড়াতে হবে।
গার্মেন্ট মালিকদের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, নিজেরা যেন একজন অন্যের বিরুদ্ধে অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হই সেটাই হবে চ্যালেঞ্জ। সঠিক দামে পৌঁছাতে না পারলেও ফ্যাক্টরির চাকা চলতে হবে বলে অল্প দামে অর্ডার নিয়ে নেয়া ঠিক হবে না। এই জায়গাটায় আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ ক্রেতারা যতই বলুক উনারা চলে যাবেন, আসলে উনারা যেতে পারবেন না। কারণ বাংলাদেশের মতো এমন দাম অন্য কোনো দেশ অফার করতে পারবে না।
পোশাক খাতে অগ্রগতি নিয়ে রুবানা হক বলেন, রানা প্লাজার মতো বিব্রতকর ঘটনার পরও পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে কমপ্ল্যায়েন্ট হিসেবে আমরা নিজেদের দাবি করতে পারি। মুশকিলটা হলো- আমরা কম রেটে কাজ করি, তাই আমাদের মূল্য সংযোজন নাই ও এই ভ্যালু এডিশনের জন্য গবেষণাও ঠিকমতো করতে পারছি না। ভালো পণ্য তৈরি করতে পারছি না। আমাদের ভালো ফ্যাশন ইন্সটিটিউট নেই। একটি আছে- ওটিও এত ভালো না। এছাড়া নতুন অনেক কারখানা হয়েছে- গ্যাস নাই, বিদ্যুত নাই। এই জায়গাগুলোতে আমরা ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের গার্মেন্টে ৮০ শতাংশই নারী শ্রমিক। কিন্তু নারী উদ্যোক্তা তিনজনও নেই। এছাড়া আমরা নারী অধিকার নিয়ে কথা বলি, কিন্তু যখন ট্রেড ইউনিয়নে যাই সেখানে একজনও নারী নেত্রী নাই, নারী সুপারভাইজার নাই। তিনি বলেন, সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি, আমরা দুই বছরে বহু কিছু পাল্টে দিতে পারব।

উত্তর কোরিয়ার সরকারে বড় রদবদল

উত্তর কোরিয়ার সরকারে অপ্রত্যাশিতভাবে বড় ধরণের রদবদল এসেছে। ঘোষণা করা হয়েছে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের নাম। একই সঙ্গে কিম জং উন নিজেও নতুন পদবী গ্রহণ করেছেন। তা হলো, ‘কোরিয়ান জনগণের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি’ (সুপ্রিম রিপ্রেজেন্টেটিভ অব অল দ্য কোরিয়ান পিপল)। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ মনে হলেও মূলত এর মধ্য দিয়ে কিম জং উন তার ক্ষমতা আরো সুসংহত করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে প্রত্যাশিতভাবে আবারো রাষ্ট্র পরিচালনা পরিষদ স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কিম জং উন। তবে প্রথমবারের মতো তার পদবী হিসেবে ‘কোরিয়ান জনগণের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি’ ব্যবহার করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক ডিক্রির মাধ্যমে এই পদবী কার্যকর করা হলেও এবারই প্রথম তা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যবহার করা হলো।
তবে সরকারে আনা এসব পরিবর্তন সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা তা পরিস্কার না।
পিপলস অ্যাসেম্বলি অব নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন চো রিয়ং হায়। তিনি কিম জং উনের ঘনিষ্ঠ সহচর কিম ইয়ং ন্যামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এখন থেকে চো রিয়ং হায় সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে বিবেচিত হবেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন কূটনৈতিক কার্যক্রমে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপ্রধানের এই দায়িত্ব আলঙ্কারিক মাত্র। মূল ক্ষমতা কিম জং উনের হাতেই থাকবে। পূর্বের প্রেসিডেন্ট কিম ইয়ং ন্যাম উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন পরিবারের দীর্ঘদিনের সহচর। ১৯৯৮ সালে তার জন্যই এই প্রেসিডেন্টের পদ তৈরি করা হয়েছিল।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চো সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যপটে এসেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাকে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষমতাধর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে পদোন্নতি দেয়া হয়। এর পরেই মূলত উত্তর কোরিয়ার সরকারের ওপর তার প্রভাব বাড়তে থাকে। ক্রমেই খুবই ঘনিষ্ট হয়ে ওঠেন কিম জং উনের। তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া তিন উত্তর কোরীয় কর্মকর্তার একজন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে কিম জং উন তার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ক্ষমতা আরো সুসংহত করলেন। ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের উত্তর কোরিয়ার বিশ্লেষক মাইকেল ম্যাডেন বলেন, সরকারের পালাবদল ও কিম জং উনের ক্ষমতা সুসংহত করার কাজ এখন পুরোপুরি সম্পন্ন হলো। কয়েক বছরের মধ্যে এটা সম্ভবত সবচেয়ে বড় সংস্কার কার্যক্রম।
গত বছরের শুরু থেকে কিম জং উন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। দফায় দফায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া কিম জং উনের সেই প্রচেষ্টারই অংশ।
এদিকে, চেয়ারম্যান হিসেবে পুন:নির্বাচিত হওয়ায় কিম জং উনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বকে মূল্যায়ন করে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে চায়।

কারফিউ ভেঙে সুদানের রাজপথে লাখো জনতা

অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সুদানের রাজধানী খার্তুমে জড়ো হয়েছে লাখো বিক্ষোভকারী। সামরিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলেও তারা বলছেন এটা আগের শাসনেরই ধারাবাহিকতা মাত্র। তাই নতুন করে বেসামরিক সরকারের দাবি তুলেছেন তারা।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে সরিয়ে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেয় সেনাবাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের অনুগত প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ ইবনে আওফ সামরিক সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন।
সুদানে দীর্ঘদিন ধরেই  প্রেসিডেন্ট বিরোধী আন্দোলন চলছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করে তারই অনুগত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক সরকারের প্রধানের পদে বসায় আন্দোলনকারীরা নতুন সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না।
তারা বলছেন, নতুন সামরিক শাসক পূর্বের সরকারেরই অংশ। এমন পরিস্থিতিতে তারা বেসামরিক সরকারের দাবিতে খার্তুমের রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া সুদানিজ প্রফেশনাল এসোসিয়েশনের সারা আব্দেল আজিজ বলেন, এটা পূর্বের সরকারের ধারাবাহিকতা। তাই আমাদের যুদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া দরকার।
এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আরো আশঙ্কা রয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী পরস্পরের বিরুদ্ধে বন্দুক তাক করতে পারে। এমনটি ঘটলে তা সুদানকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তি বজায় রাখতে, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্ব পালন করবে।
এতে নাগরিকদের নিরাপদে অবস্থান নিতে বলা হয়। এর পরেও খার্তুমের রাজপথে লাখো জনতা অবস্থান নিয়ে সরকার বিরোধী স্লোগান দেয়া অব্যাহত রাখেন। বশিরের পতনের আগে তারা ‘পতন চাই’ স্লোগান দিতেন। সামরিক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর এবার তারা ‘আবারো পতন’ স্লোগানে রাজপথ মাতিয়ে রেখেছেন। সুদানের সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন।
বৃহস্পতিবারের অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ২৪ ঘণ্টার জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। শুক্রবার তা বিমান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা। তবে নৌ-সীমানা এখনো বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে মিলিটারি সরকার।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বর্তমানে সুদানের সামরিক সরকার তাকে কাস্টডিতে রেখেছে। এখন তার ভাগ্যে কি ঘটতে চলেছে তা পরিষ্কার না।

‘ভোট না দিলে সাড়া দেব না’

সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিজেপি সরকারের আচরণ বরাবরই বিমাতাসুলভ। আর সেই অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধী নির্বাচনী প্রচারে ভোট চাইতে গিয়ে বলেন, মুসলিম ভোটাররা তাঁকে ভোট যদি না দেন, তবে তাঁদের কোনো কাজ করার আগে তিনি ভেবে দেখবেন।
এ বক্তব্যর জন্য কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়েছেন তিনি। তবে মন্ত্রী মানেকা গান্ধী বলেছেন, তাঁর বক্তব্য নাকি টুইস্ট করা হয়েছে।
এবারে নিজের আসন উত্তর প্রদেশের পিলভিট থেকে লড়ছেন না মানেকা। তিনি লড়ছেন ছেলে বরুণ গান্ধীর সুলতানপুর থেকে। এবার মা ও ছেলের আসন অদল-বদল হয়েছে। এই আসনে লড়াইটা পিলভিটের থেকে অনেক কঠিন। এ আসনে মুসলিম ভোটার বেশি, তাই তাঁদের সমর্থনও প্রয়োজন হবে তাঁর। সংখ্যালঘু ভোটারদের আকৃষ্ট করতে গিয়েই বিপাকে পড়লেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার সুলতানপুরে এক জনসভায় মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিচ্ছেন মানেকা। তিনি বলেন, ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমি জিততে চলেছি। কারণ, জনগণ আমাকে ভালোবাসেন ও সমর্থন করেন। মানুষের ভালোবাসায় আমি জিতব। কিন্তু আমার জয় যদি মুসলমানদের সমর্থন ছাড়া হয়, তাহলে আমার খুব একটা ভালো লাগবে না। মন তেতো হয়ে যাবে। কারণ, আপনাদের ভোটটা না পেলে মনটা খারাপ হয়ে যাবে। এরপর যখন আপনারা কাজে আসবেন, আমাকেও ভাবতে হবে আপনাদের কাজ দেওয়ার আগে। আসলে চাকরিটাও তো একটা ব্যবসা। আমরা তো সবাই মাহাত্মা গান্ধীর সন্তান নই যে আপনাদের দিয়েই যাব আর আপনারা ভোটটা আমাদের বিরুদ্ধেই দেবেন, তা তো হয় না। এই জয় আপনাদের ছাড়াও হবে। আর এটা সবাইকে বুঝিয়ে দেবেন।’ মন্ত্রীর মিনিট তিনেকের বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে।
মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশে মানেকা বলেন, ‘আপনাদের ভোট না পেলেও আমরা জিতব। আমি এখন থেকেই নির্বাচনে জিতে গিয়েছি। আমাকে আপনাদের প্রয়োজন হবে। আর তাই এটাই আপনাদের সুযোগ। ভোটের পর যদি দেখা যায়, এই বুথ থেকে আমি ৫০-১০০টা ভোট পেয়েছি, তাহলে আলাদা কথা। তখন আমার কাছে কাজের জন্য আসবেন। আমি আমার দায়িত্ব এড়িয়ে যাই না। বিভাজনও করি না। আমি মানুষের দুঃখ ও কষ্টের কথা ভাবি।’
মানেকার এই বক্তব্যকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁরা বলছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও একবার প্রমাণ করলেন, বিজেপি সংখ্যালঘুদের বিরোধী। কেউ কেউ আবার তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছেন। মানেকা তাঁর বক্তব্যের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন। মানেকার ভাষ্য, তাঁর বক্তব্য টুইস্ট করা হয়েছে।
অতিরিক্তি নির্বাচন কমিশনার বি আর তিওয়ারি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে মন্ত্রীর কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার মানেকা গান্ধী বলেন, ‘আমার বক্তব্য টুইস্ট করা হয়েছে, আমি মুসলমানদের ভালোবাসি।’
এর আগেও বিতর্ক সৃষ্টি করে এমন বক্তব্য দিয়েছেন মানেকা গান্ধী। তিনি বলেছেন, বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতী অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী ঠিক করেন। নির্বাচনে প্রার্থী করতে ১৫ থেকে ২০ কোটি করে অর্থ নেন মায়া। মানেকা বলেন, সবাই জানে মায়া টিকিট বিলি করতে পয়সা নেন। তাঁর দলের লোকেরা সেটা গর্ব করে বলেন। তাঁর ৭৭টি বাড়ি আছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও বিবিসি

নববর্ষে বিদেশি অতিথি

বাংলাদেশকে খুব কাছ থেকে দেখা লোটে শেরিংয়ের। এ দেশের মাটির গন্ধ, চাঁদ-সুরুজ আকাশ-বাতাস তার খুব পরিচিত। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের নানা উৎসব, পার্বণ তাকে টানে সবসময়। তাইতো তিনি চিরচেনা সেই বৈশাখী উৎসবে যোগ দিতে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। তিনি আর কেউ নন। বাংলাদেশের বন্ধু ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। ঢাকার খুব কাছের শহর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ডাক্তার লোটে শেরিং বাংলাদেশকে তখনই ভালোবেসে গেছেন। মেডিকেল কলেজের পুরোটা সময় বাংলাদেশকে দেখেছেন অন্যরকমভাবে।
তার অনেক বন্ধু বান্ধবও রয়েছেন এখানে।
রয়েছেন শিক্ষকও। ছাত্রাবস্থায় ভুটান-বাংলাদেশে অহরহ আসা-যাওয়া করলেও এবারের আসা এক ভিন্নরুপে। রাষ্ট্রীয় সফরে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে। আর চারদিনের এ সফরে বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষে অতিথি হিসাবে থাকছেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদাতা ভূটানের প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের আয়োজনে অংশ নেয়া ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ডা. শেরিং ১৯৯৮ সালে এমবিবিএস পাস করেন। অবশ্য তিনি বাংলাদেশ কাটিয়েছেন ২০০৩ সাল পর্যন্ত। তিনি উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডাক্তারি পড়া শেষে ভুটানে ফিরে রাজনীতিতে যোগ দেন। মাত্র ১৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নিজের যোগ্যতাবলে গত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।
বাংলাদেশী ওই এলামনাই এখানকার কৃষ্টি-কালচারের সঙ্গে পরিচিত। পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উপযাপনের আয়োজন তার বেশ পছন্দের। আর এ জন্যই নববর্ষকে সামনে রেখে দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বাংলাদেশে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শুক্রবার সকালে রয়্যাল ভুটান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ডা. শেরিং সস্ত্রীক ঢাকা পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় একটি ছোট্ট শিশু ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ডা. লোটের আগমন উপলক্ষ্যে ১৯ বার তোপধ্বনি করা হয়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে সুসজ্জিত চৌকষ দল ভুটানিজ প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীও তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরিচয় করান। মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রি পরিষদ সচিব, সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ তিনবহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের ডীন এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পর্ব শেষে একটি সুশোভিত মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই ডা. শেরিংয়ের প্রথম বাংলাদেশ সফর। তার সঙ্গে এসেছেন ২০ সদস্যের সরকারি ডেলিগেশন। তারা আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ নদীপথ, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে সহযোগিত বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করবেন দু’দেশের সরকার প্রধান।
অন্যান্য কর্মসূচী: সফরের প্রথম দিনে ডা. লোটে সাভারে বীর মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। দুপুরে কূটনৈতিক জোনে একাধিক কর্মসূিচতে অংশ নেয়া ছাড়াও বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আবদুল মোমেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে সাক্ষাৎ করেন। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) বৈঠক করবেন। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অভ্যন্তরীন কার্গো চলাচল, স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাত সংক্রান্ত ৫টি সমঝোতা হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তার হোটেল স্যুটে স্বাস্থ্য এবং পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ মালিক এবং নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় ভূটানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এরপরে তার সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৈশভোজে তিনি যোগদান করবেন। আগামীকাল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে তিনি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুরের ধারা আয়োজিত বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করবেন। একই দিনে তার প্রাক্তন শিক্ষালয় ময়মনসিংহ  মেডিকেল কলেজে যাবেন। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ছাড়াও এক পুনর্মিলনীতে যোগ দেবেন তিনি। বিকেলে ঢাকায় ফেরার পর বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফর শেষে ১৫ এপ্রিল সকালে তিনি ঢাকা ছেড়ে যাবেন।

মরা গাছ কাটার নির্দেশ ছিল, কাটা হলো ভালো গাছও by নজরুল ইসলাম

কোনও নিলাম ছাড়াই বান্দরবানের লামার সরই ইউনিয়‌নে সড়‌কের দু’পা‌শে থাকা চার শতা‌ধিক গাছ কেটে ফেলার অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে ইউ‌পি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরু‌দ্ধে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানকে মরা গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ভালো গাছগুলো কেন কেটেছেন তা প্রশাসনের জানা নেই।
স্থানীয়রা জানায়, গত এক  মাস ধরে লামা-সুয়ালক সড়কের কম্পনিয়া, আন্ধারী হিমছড়ি, কেয়াজুপাড়া বাজার ও আমতলী পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ চার শতা‌ধিক গাছ কাটা হ‌য়ে গে‌ছে।
সরকারি অনুমতি আছে-এমন কথা বলে সরই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম ও সচিব মো. মুসা পরিষদের দফাদার মোবারক হোসেনকে দিয়ে ভালো গাছগুলো কেটে বিভিন্ন ব্রিকফিল্ড ও তামাকচুল্লিতে বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া কিছুদিন আগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস কোম্পানি কম্পনিয়া এলাকা হতে কয়েক গাড়ি এবং আব্দুল আজিজ না‌মের আ‌রেক গাছ ব্যবসায়ী আমতলী হতে বেশকিছু গাছ কে‌টে ফে‌লেছেন।
কেটে ফেলা গাছের গোড়া
কেটে ফেলা গাছের গোড়া
স‌রেজ‌মিন ঘু‌রে দেখা গে‌ছে,  লামা-সুয়ালক সড়কের দু’পাশে গা‌ছের কাটা অংশ পড়ে রয়েছে। সড়কের আন্ধারী হিমছড়ি এলাকায় বড় বড় দুইটি একাশি গাছ আধাকাটা অবস্থায় দেখা গে‌ছে।
স্থানীরা জানি‌য়ে‌ছেন, গাছগুলো চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম গাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা সওদাগরকে বিক্রি করেছে এবং তি‌নি গাছগু‌লো পাচার করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মোস্তফা সওদাগর বলেন, ‘আমি ১৫ হাজার টাকা দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছ থে‌কে রাস্তার পাশের পাঁচটি গাছ কিনেছি।’
কেটে ফেলা গাছ
কেটে ফেলা গাছ
দোকানদার আসমা বেগম বলেন, ‘সচিব মুসা লোকজন দিয়ে গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। গাছ কেটে নেওয়ার পরে অ‌নেকগু‌লো গা‌ছের গোড়ায় মাটি চাপা দিয়েছে। যাতে কাটা গা‌ছের গোড়াগু‌লো দেখা না যায়।’
আমতলী পাড়ার মনসুর আলম বলেন, ‘রাস্তার পাশের বড় বড় গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে চেয়ারম্যান ও সচিব।’
এ বিষ‌য়ে দফাদার মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমাকে চেয়ারম্যান ও সচিব গাছগুলো কাটতে বলেছেন। তা‌দের সঙ্গে কথা ব‌লেন।’
কেটে ফেলা গাছ
কেটে ফেলা গাছ
ইউপি সচিব মো. মুসা বলেন, ‘আমি কোনও গাছ কাটিনি। এ বিষ‌য়ে আ‌মি কিছু জা‌নি না।’
চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, ‘আমাকে লামা উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা সড়কের দু’পাশের মরা গাছগুলো কাটতে অনুমতি দিয়েছেন।’ 
কেটে ফেলা গাছ
কেটে ফেলা গাছ
প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরই ইউপি চেয়ারম্যানকে রাস্তার পাশের কয়েকটি মরা গাছ কাটার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি ভালো গাছ কেন কাটলেন এবং কেন বিক্রি করেছেন তা আমি জানি না।’
এ বিষ‌য়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, ‘খবর পে‌য়ে চেয়ারম্যানকে গাছ কাটা বন্ধ করতে বলেছি। এই বিষয়ে লামা উপজেলা প্রকৌশলীকে খোঁজ নি‌য়ে আমাকে জানাতে বলেছি।’

দুই আসামি গ্রেপ্তার: নুসরাত হত্যার কিলিং মিশনে ছিল কারা? by জিয়া চৌধুরী

নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছিল কারা? কারা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছিল? পরীক্ষা কেন্দ্র সংরক্ষিত এলাকা, সেখানে অপরিচিত কারও যাওয়া কি সম্ভব? এলাকাবাসীর মুখে মুখে এখন এসব প্রশ্ন। তাদের কথা পরিচিত বিধায় বোরকার ছদ্মবেশে মাদরাসার ভেতরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসীরা। আর নিরাপদে তাদের মিশন শেষে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়। এ সময় কেন্দ্রে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী কী করছিল? এসব বিষয় এলাকাবাসীকে যেমন ভাবিয়ে তুলেছে তেমন রহস্যেরও জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর কথা- যৌন হয়রানির ঘটনায়  প্রতিবাদ ও মামলা করায় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় নুসরাতের সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও একই কথা।  স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার আগে পুরো বিষয়টি রেকি করা হয়েছে। আগ থেকে সতর্ক প্রস্তুতির কারণে এমন নির্মম ঘটনা ঘটিয়ে সহজেই পালিয়ে গেছে অপরাধীরা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ও জেলা পুলিশও বিষয়গুলো মাথায় রেখে ঘটনার মূল হোতাদের ধরতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অপরাধীদের পালিয়ে যেতে মাদরাসার ভেতরের কারো সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা সে বিষয়টিও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দোলাহসহ আটজন ও আরো অজ্ঞাতনামা চার জনকে। এদের মধ্যে এজাহারভূক্ত কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও এখনো স্পষ্ট হয়নি নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছিল কারা?  এমনকি দগ্ধ হবার পর নুসরাতের ডাইং ডিক্লারেশনে উল্লেখ করা আলোচিত শম্পা চরিত্রেরও কোন কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। কোন চার জন নুসরাতকে ডেকে মাদরাসার ছাদে নিয়ে গেছে এবং তারপর আগুন লাগিয়ে পালিয়ে গেছে তাদের নিয়ে জোর গুঞ্জণ আছে এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের মধ্যে। অনেকে ধারণা করছেন এজাহারভূক্ত আসামিদের কয়েকজন নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় যুক্ত রয়েছে। তবে রিমাণ্ডে আসামিরা কতটুকু কী বলেছে তাও ক্ষতিয়ে দেখছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার দিন ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যান নুসরাত জাহান রাফি।
এসময় শুধু প্রবেশপত্র ও কলমসহ একটি ফাইল নিয়ে সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয় তাকে। তার ভাইকে কেন্দ্রের গেটে আটকে দেয়া হয়। পরীক্ষায় অংশ নিতে কাগজপত্র নিয়ে নিজের আট নম্বর কক্ষে চলে যান নুসরাত। পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল সাতটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত দাখিল বিভাগের ক্লাস চলে মাদরাসাটিতে। সাড়ে নয়টার দিকে একদিকে আলীম পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে  ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরাও গেট দিয়ে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়দের ধারণা এ সুযোগটি কাজে লাগায় সন্ত্রাসীরা। তারা  বোরকার ছদ্মবেশ কাজে লাগিয়ে নিমিষেই মিশে যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মিশনে অংশ নেয়া বোরকা, হাতমোজা ও চশমা পরা চারজনের কথা উল্লেখ করা আছে মামলার এজাহারে। এদের মধ্যে দুইজনকে নারী হিসেবে উল্লেখ করলেও আরো দু’জন পুরুষ নারীর ছদ্মবেশে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে নারী একজন নুসরাতকে ডেকে ভবনের ছাদে নিয়ে যান।
মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বাক্ষী ও নুসরাতের বান্ধবী নিশাতকে ছাদে মারধর করা হচ্ছে বলে জানান ওই নারী। এ খবর পেয়ে নিজের কাগজপত্র রেখে বান্ধবীকে বাঁচাতে তিনতলার ছাদে চলে যান নুসরাত। সেখানে গিয়ে বোরকা পরা চারজনকে দেখতে পান। এদের মধ্যে দুইজন নুসরাতের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। এই দু’জন নারী ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে নুসরাতের দুই হাত দড়ি দিয়ে পেছনে বেঁধে ফেলে চারজন। পরে কেরোসিন দিয়ে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। আগুন লাগানোর পর সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে অপরাধীরা। বোরকা পরেই মূল ফটক দিয়ে বের হয়ে যান বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। ঘটনার পরে নুসরাত হত্যা মামলার আসামি উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে নূর উদ্দিন(২০) বাইরে বের হয়ে এসে ছাদে কেরোসিন ও ম্যাচ দেখতে পেয়েছেন বলে জানান।
পাশাপাশি আগুনের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। ঘটনার পর তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অসংলগ্ন উত্তরও দেন স্থানীয় অনেককে। এরপর থেকে গা ঢাকা দেন নুর উদ্দিন। ঘটনার দিন সকালে ও আগের দিন রাতে মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকবার সন্দেহজনক ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে নুর উদ্দিনকে। মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দোলাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন আগুনের ঘটনায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। যৌন হয়রানির মামলায় সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তির দাবিতে সংগ্রাম পরিষদও গড়ে তুলেছিলো নুর উদ্দিন। এছাড়া, ঘটনার আগের রাতে কেরোসিন ও ম্যাচ ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে বৈঠকও করা হয়েছে। মূলত পুরুষ অপরাধীরা ছদ্মবেশ নিতে বোরকা পরলেও পুরুষ হিসেবে শনাক্ত হয়ে যাওয়ার ভয়ে হাতমোজা ও চশমা পরেন। নুর উদ্দিন উচ্চতায় খুব লম্বা না হওয়ায় নারী হিসেবে ছদ্মবেশ নেয়ার সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাকি অজ্ঞাত তিনজনের বিষয়েও বিশদ জানা যেতে পারে বলে দাবি নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান সোহাগের। ২০১৭ সালে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় নুসরাতকে চুনের পানি দিয়ে ঝলসে দেন শ্রমিক থেকে অধ্যক্ষের কাছের বনে যাওয়া নুর উদ্দিন। এছাড়া, মামলার আরেক আসামি শাহাদাত হোসেনও এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে দাবি করেছেন নুসরাতের পরিবার। সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অনুমোদিত কোন কমিটি না থাকলেও শাহাদাত ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ ঘোষিত ছাত্রলীগ সভাপতি।
ঘটনার পর থেকে শাহাদাত হোসেনও পলাতক রয়েছে। ঘটনার দিন পরীক্ষার কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা থাকলেও এ দুজনের প্রবেশে বাধা ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন মাদরাসার পিয়ন নুরুল আমিন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, বোরকাপরা চারজনের সঙ্গে নুর উদ্দিন ও শাহাদাতের যোগসাজশ থাকতে পারে। তারা যখন-তখন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার কক্ষে অবাধে যাতায়াত করতেন। কয়েকজন জানিয়েছেন, ৫ই এপ্রিল রাতে ও পরদিন সকালে নুর উদ্দিন ও শাহাদাতকে মাদরাসার মূল ফটকে দেখা গেছে। তবে ঘটনার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত একজন উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কেন্দ্রের মূল ফটক ছেড়ে সোনাগাজী জিরো পয়েন্ট এলাকায় সকালের নাশতা করতে যান বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন পুলিশ ঘটনার সময় সতর্ক অবস্থানে থাকলে কেউ এমন অপরাধ করে পালাতে পারতো না। দায়িত্বে অনেকটা গাফিলতি করায় আগুন লাগানোর পরও অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পেরেছে। একইভাবে ২৭ মার্চের ঘটনার পরে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল। তড়িৎ ব্যবস্থা নিলে নুসরাতকে এমনভাবে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হতো না বলেও মন্তব্য ছিল প্রতিনিধি দলের। তবে ঘটনার পর বোরকা পরে সন্দেহজনকভাবে কাউকে বের হতে দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সদস্যরা।  সেক্ষেত্রে অপরাধীরা আগুন লাগানোর পর মাদরাসার ভেতরের কারো সহায়তা নিয়ে পোষাক বদল করে উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর পেরিয়ে সহজে পালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
এদিকে, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান গতকাল মানবজমিনকে বলেন, মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এজাহারভুক্ত চার জনসহ মোট দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান  তিনি। এদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মূল কিলিংয়ে অংশ নেয়াদের বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরো দুইজন গ্রেপ্তার: নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিনকে গতকাল ময়মনসিংহ থেকে ও মকসুদ আলম কাউন্সিলরকে বৃহস্পতিবার ঢাকার ফকিরাপুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তবে মামলার অপর আসামি শাহাদাতকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নুসরাত অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম গা ঢাকা দেয়। শুরুর দিকে স্থানীয় পুলিশ এদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে উদ্যোগ না নিয়ে বরং এটি আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বক্তব্য দিয়েছিল। সে সুযোগে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশ-প্রশাসনের গাফিলতি ছিল: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিষয়ক পরিচালক আল মাহমুদ ফয়েজুল কবির বলেছেন, আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার মাস্টারমাইন্ড হলো সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. সিরাজ উদ দৌলা। তার শুভাকাঙ্খী, সহযোগী ও দোসররা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় বেশ কয়েকজনের সাক্ষ্য নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ২৭ মার্চের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হলে ৬ এপ্রিলের ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হতো। সেদিনের ঘটনার জেরেই ৬ এগ্রিলের ঘটনাটি ঘটেছে। আল মাহমুদ ফয়েজুল কবির বলেন, নুসরাতের হত্যাকান্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
২৭ মার্চ ঘটনার পর যদি কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন সক্রিয় থাকতো তাহলে ৬ এপ্রিলের ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সোহেল পারভেজ। নুসরাতের চাচা শামীম অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অনেক আগ থেকে যৌন হয়রানী, চেক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে মানবধিকার কমিশনের কাছে জানান।

তিন মণ ধানে এক কেজি ইলিশ! by তৈয়ব আলী সরকার

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নীলফামারীর বাজারে ইলিশের দাম বেশ চড়া। বাজারগুলোতে এক কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। যেখানে একজন দিনমজুরের আয় দিনে তিনশ টাকা, এক কেজি ইলিশ কিনতে হলে ছয়দিনের মজুরির টাকা খরচ করতে হবে তাকে। আবার প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা দরে। ফলে এক কেজি ইলিশ কিনতে হলে একজন কৃষককে তিন মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই কৃষক ও দিনমজুরদের পক্ষে নববর্ষের দিনে ইলিশ খাওয়াটা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বড় খামাতপাড়ার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘কাজ করে দিনে একবেলা নাশতা ও ৩০০ টাকা হাজিরা পাই। বাজারে জাট্কা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। আর এক কেজির ওপরের সাইজের ইলিশগুলো বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ১০০ টাকায়। আমার আয়ের তিন শত টাকা দিয়ে সাত সদস্যের পরিবার চালায়। ইলিশ মাছ কেনার উপায় নেই। আমাদের আবার বৈশাখ আছে নাকি?’
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ধুম পড়ে যায় কেনাকাটার। সর্বজনীন এই উৎসবে পরিবারের ছোট মেয়েরা বাবা মায়ের কাছে বায়না ধরে নতুন কাপড়ের। পাশাপাশি, খাবার তালিকায় থাকতে হবে ইলিশ মাছ। বৈশাখ উদযাপনের আগ দিয়ে নীলফামারীর গ্রামগঞ্জে মাছের বাজারগুলোতে জমজমাট ব্যবসা চলছে। বিশেষ করে ইলিশের। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই বিত্তবানরা এই মাছ কিনতে পারলেও দিনমজুর, কৃষক ও পেশাজীবীরা তা কিনতে পারছে না। বর্তমানে এক কেজি ইলিশ কেনার জন্য দুই-তিন মণ ধান বিক্রি করতে হয় কৃষককে।
সরেজমিন কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়; আর প্রতি বস্তা (৮০ কেজি) এক হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। ফলে একজন কৃষককে এক কেজি ইলিশ কিনতে দরকার হচ্ছে তিন মণ ধান। আর দিনমজুরকে লাগে ৫-৬ দিনের টাকা।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। বাজারে নতুন নতুন শাকসবজি আসার পরেও কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। দাম বেড়েছে মাংসেরও। দেশি মুরগি ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০, পাকিস্তানি মুরগি ২৮০ টাকা থেকে ৩০০, ব্রয়লার ১৬০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা এবং গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ।
নীলফামারী কিচেন মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদার ছাইদুল ইসলাম সঙ্গে বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘মাছের চালান আসছে কম। তাই মোকামে দামটা একটু বেশি। যে কারণে আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়াও মাছ আড়তে আসা পর্যন্ত অনেক খরচ হয়। বিক্রি না হলে ফ্রিজে রাখতে অথবা বরফ দিয়ে রাখতে হয়। সব মিলিয়ে দেখা যায় কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা বেশি দাম পড়ে যায়।
মাছের বাজারে কথা হয় জেলা শহরের রিকশাচালক রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো লোকের বৈশাখ নেই। কারণ, সারা দিন যা আয় হয়, তা থেকে রিকশার মালিককে জমার টাকা দিতে হয় ১৫০ টাকা, আমার বাড়ির খরচ ২৫০ টাকা। কোনও কোনও দিন কাজ থাকে না। এই পরিস্থিতিতে ইলিশ কিনবো কোথা থেকে?’
জেলা শহরের কিচেন মার্কেটে ইলিশ মাছের খুচরা ব্যবসায়ী তপন কুমার রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন আড়তদাররা। চারবার হাতবদল হয়ে আমাদের কাছে আসে মাছ। শেষে আড়তদাররা আমাদের যে দাম বলে দেয়, সেটাতেই বিক্রি করি। বাজার নিয়ন্ত্রণে খুচরা ব্যবসায়ীদের কোনও হাত থাকে না।’
জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এটিএম এরশাদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতি বছরই পহেলা বৈশাখে ইলিশের দাম একটু বেশি হয়। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাড়তি মুনাফার আশায় সাধারণ ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে ইলিশ বিক্রি করছে। আমরা বৈশাখ উপলক্ষে বাজার মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি।’
উল্লেখ্য, প্রজাদের খাজনা আদায়ের নতুন প্রথা প্রণয়নের লক্ষ্যে মোগল সম্রাট আকবর নতুন সনের প্রবর্তন করেন। আকবরের আদেশ মোতাবেক জ্যোতির বিজ্ঞানী ফতেহউল্যা সিরাজী সৌর সন এবং আরবি হিজরি সনের ওপর ভিত্তি করে নতুন সনের নিয়ম চালু করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ কিংবা ১১ মার্চ থেকে নতুন সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসনে বসার সময় (৫ নভেম্বর ১৫৫৬ সালে)। প্রথমে এই সনের নাম ছিল এলাহি সন বা ফসলি সনের বঙ্গাব্দ। পরে বাংলা বর্ষ নামে পরিচিতি পায়।

বৈশাখে কুমিল্লার খাদি by এমদাদুল হক

বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাদি বস্ত্রবিতানগুলোয় ভিড় করছেন খাদিপ্রেমীরা। প্রতিবছরের এ সময় খাদি কাপড়ের বেশ চাহিদা বেড়ে যায়। কাপড়ে নতুন নতুন নকশা করতে ব্যস্ত কারিগরেরা। দেশের নানা স্থানে এর বেশ কদর রয়েছে। কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চলে খাদি কাপড়ে বিভিন্ন নকশা তৈরির কারখানাগুলোর বেশি দেখা মেলে।
কাপড়ে নকশা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরকাপড়ে ব্লক করার সময় অনেক সাবধানতা অবলম্বন করেন শ্রমিকেরাকুমিল্লার খাদি কাপড়ে ব্লকের চাহিদা একটু বেশি। শেষ সময়ে চাদর বানাতে ব্যস্ত সময় পর করছেন খাদির কারিগরেরাক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখেই করা হয় নকশা আঁকা কাপড়নকশা বসানোর পর সেলাই করা হচ্ছেখাদি বস্ত্রবিতানগুলোয় ভিড় করছেন খাদিপ্রেমীরা। প্রতিবছরের এ সময়ে খাদি কাপড়ের বেশ চাহিদা বেড়ে যায়।ক্রেতারা কাপড় দেখছেন

ব্যাংকগুলো ‘ডাকাতি’ করছে-বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের সুদের পার্থক্য ৫ শতাংশের বেশি হওয়াকে ‘ডাকাতি’ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, যে টাকা তারা সুদ দেয় জনগণকে এবং যে টাকা তারা সুদ নেয় এই ডিফারেন্সটা পৃথিবীর কোথাও ২ শতাংশ বা ৩ শতাংশের বেশি না। বাংলাদেশেই একমাত্র যেখানে ৫ শতাংশের ওপরে। এটা রীতিমতো ডাকাতি। রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘ভোক্তা অধিকার শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহম্মদ একরামূল্লাহ। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিজুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম লস্কর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন।
টিপু মুনশি বলেন, সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও ব্যাংকগুলো তা মানছে না।
তিনি বলেন, মানুষের ডিপোজিটের এগেইনেস্টে কত টাকা তারা পে করছে, আর কত টাকা তারা নিচ্ছে, এটা একটা সিস্টেমে আনার দরকার। এই ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার নির্দেশনা দিচ্ছেন, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হোক। সুদের হার কমলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হলে তাতে সাধারণ মানুষই উপকৃত হবে।
পণ্য কেনার আগে মানুষকে সচেতন করার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমি যা কিনছি, সেই বিষয়ে আমার জানতে হবে, আমি যা কিনছি সেই পণ্যের দাম কত এবং তা মেনটেইন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসার দিকে যেমন লক্ষ্য রাখতে হবে, তেমনি ভোক্তাদের অধিকারও সংরক্ষণ করতে হবে।
টিপু মুনশি বলেন, ভোক্তা অধিকারের বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হলে সচেতনতা বাড়বে। এতে জাতি উপকৃত হবে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রজীবন থেকেই ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানতে পারবে। বাস্তব জীবনে এসে তা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালানো হবে। মন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে প্রতারিত না হন, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনার কারণে ঋণ খেলাপির পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে ব্যাংকে যারা টাকা জমা করে, তারা সুফল পাচ্ছে না। আবার ব্যাংকগুলো বেশি হারে ভোক্তাদের কাছ থেকে সুদ আদায় করে। এই বৈষম্য দূর করতে হবে।