Thursday, April 3, 2014

কী পেল আওয়ামী লীগ? by আলী রীয়াজ

পাঁচ পর্বে দেশের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পরিসমাপ্তি হয়েছে। সাকল্যে ৪০ দিনের ব্যবধানে সম্পন্ন এই নির্বাচনের প্রায় পুরো ফলই এখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কোনো কোনো গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। অঙ্কের হিসাবে এই শিরোনাম নির্ভুল। কিন্তু আওয়ামী লীগের এই বিজয় কীভাবে অর্জিত হলো এবং এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লাই ভারী হলো কি না, সেটা বিবেচনার দাবি রাখে। উপরন্তু বিএনপির ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটাও দেখার বিষয়। নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যতের জন্যই বা এই নির্বাচন কতটা ইতিবাচক হবে?

সপ্তম প্রেসিডেন্টের অপেক্ষায় মিসর by কামাল গাবালা

ফিল্ড মার্শাল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর যে রকম জনপ্রিয়তা রয়েছে তাতে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ১৯৫২ সালের ২৩ জুলাইয়ের ক্যুর পর আরব প্রজাতন্ত্রী মিসরের সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

ইতিহাস নিয়ে কংগ্রেসের লুকাছাপা by কুলদীপ নায়ার

নেভিল ম্যাক্সওয়েল যখন লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য টাইমস-এর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি হিসেবে নয়াদিল্লি থাকতেন, তখন আমি ওই পত্রিকার একজন সংবাদদাতা। আমরা প্রায়ই ভারত ও অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে চীন নিয়ে আলোচনা করতাম। ম্যাক্সওয়েল ভীষণ ভারতবিরোধী ছিলেন। নয়াদিল্লি থেকে তিনি যেসব সংবাদ পাঠাতেন সেগুলোতে তাঁর সহজাত ভারত-বিদ্বেষ ধরা পড়ত।

বিনিয়োগে ভারতের পিছিয়ে থাকা by আসজাদুল কিবরিয়া

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশের একটা বড় আকুতির জায়গা। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য নানা ধরনের নীতি-সমর্থন দেওয়ার পরও তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উপনীত হয়নি। বছরে এখনো আমরা ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সক্ষম হইনি। ২০০৮ সালে প্রথম শতকোটি ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আসে। তারপর দুই বছর তা ছিল শতকোটি ডলারের নিচে। এরপর প্রতিবছরই শতকোটি (এক বিলিয়ন) ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। আর এই বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিকটতম প্রতিবেশী ভারত অনেক পিছিয়ে আছে। বলা যায়, বাংলাদেশে মোট বিদেশি বিনিয়োগের ৫ শতাংশও ভারত থেকে আসে না। কিংবা ভারতীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারছে না বাংলাদেশ।

এখনও নরকের ছায়ায় ডা. নন্দিতা

সন্ধ্যা হলে নীড়ে ফেরে পাখিরা। তিনি পাখি নন, ঘরে কেউ অপেক্ষাও করে নেই। তবু সন্ধ্যার আগে ঘরে ফিরতেই হয় তাকে। ভয় ঢুকে গেছে মনে। বিশ্বাস উঠে গেছে পুরো পৃথিবীর মানুষের প্রতি। পরম বিশ্বাসের জায়গা থেকে আঘাত পেয়ে কাউকে আর ভরসা করতে পারেন না তিনি। যাকে ভালবেসে ঘর, সমাজ, ধর্ম- সব ছেড়েছিলেন সেই ভালবাসার মানুষটিই তাকে রেখে অন্য আরেকজনের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন।

রেলের ৬ হাজার একর জমি বেদখলে by শিপন হাবীব

যুগের পর যুগ বেদখলে থাকা রেলওয়ের প্রায় ছয় হাজার একর জমি উদ্ধারে তেমন কোন ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেয়নি বিগত কোনো সরকারই। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে থাকা এসব জমিতে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, বাসাবাড়িসহ বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। রেলওয়ের একশ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এবং প্রায় সব ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্টদের আশীর্বাদে নির্বিঘ্নে জমিতে উঠেছে এসব অবকাঠামো। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জমিগুলো স্থায়ীভাবে হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য। জানতে চাইলে, রেলপথমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক এমপি বুধবার যুগান্তরকে বলেন, রেলের সাড়ে ৪ হাজার একর জমি বেদখলে রয়েছে। আদালতে মামলাসহ নানা জটিলতায় অধিকাংশ বেদখল জমি উদ্ধার করা যাচ্ছে না। তবে অচিরেই দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেলওয়েতে সবচেয়ে বড় লুটপাট হয়েছে সম্পত্তি দখল আর ‘রেলের বাড়ি’ (কোয়ার্টার) ভাগাভাগিতে। রেলওয়ের জায়গা অবৈধ দখলকে ঘিরেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সুযোগে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও কামিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। এক তথ্যে জানা যায়, সারা দেশে রেলওয়ের মোট ৬১ হাজার ৬০৫ দশমিক ৮৪৯ একর জায়গা আছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ২৪ হাজার ৪০১ দশমিক ৬২ একর ও পশ্চিমাঞ্চলে ৩৭ হাজার ২০৪ দশমিক ২২৯ একর। এ সম্পত্তির মধ্যে উভয় অঞ্চল মিলে প্রায় ছয় হাজার একর জমি বেদখলে রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুরান ঢাকার ফুলবাড়িয়ার আনন্দবাজার এলাকায় রেলওয়ের ২.৮৭ একর জয়গা বেদখলে নিয়ে বহুতল ভবনসহ শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে এ জায়গাটি উদ্ধারে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তৎপরতা চালিয়ে গেলেও শুধু রাজনৈতিক কারণ ও সংশ্লিষ্ট রেল মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থান না থাকায় তা উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য মতে, ২০০৯ সাল থেকে রেলওয়েতে পর পর ৪ জন মন্ত্রী আসা-যাওয়া করলেও, এ জায়গাটি উদ্ধারে তাদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এলএ কেস নং ৭-১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে সরকার ৩.৯৭ একর জায়গা গণপূর্ত বিভাগ/ মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করে। যা সিএস রেকর্ডমূলে গণপূর্ত বিভাগ/মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ড হয়। যার খতিয়ান নং ১৬৮৫৫ এবং দাগ নং ১৩৬, ১৩৮ ও ১৩৯। ১৯২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ/মন্ত্রণালয় রেলওয়েকে এই জায়গা হস্তান্তর করে। পরে ওই স্থানে ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, স্টাফ কোয়ার্টার, স্টেশন ইয়ার্ডসহ প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৬৮ সালে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনকে কমলাপুরে স্থানান্তর করার পর ওই জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। ১৯৬৯ সালের শেষের দিকে সিরাজুল ইসলাম, গ্রাম-বাপটা, থানা শ্রীপুর, জেলা গাজীপুর নামের এক ব্যক্তি জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে পরিত্যক্ত ওই জায়গাটি দখলে নেয়। সিরাজুল ইসলাম ওই সময় একটি ব্যাংকের চতুর্থ শ্রেণীর চাকরিজীবী ছিলেন। পরে জাল দলিলকারী সিরাজুল ইসলামসহ ১৮ জন ১৯৭৪ সালে এ জমি নিয়ে ৩৫৩/৭৪ নং স্বত্বের মোকদ্দমায় ঢাকা প্রথম মুনসেফ আদালতে একটি মামলা করেন। কিন্তু আদালতে প্রমাণ হয়, মির্জা আশরাফসহ ১৮ জনের নামে বিরোধী আরএস ১২৭৬/১২৭৬/১২৭৯ ও ১২১৩ দাগে ৩.৭৮৮৫ একর ভূমি রেকর্ড সম্পূর্ণ জালিয়াতি করা। জাল দলিলের মাধ্যমে এ জমিটি দখল করা হয়। যেটি এখনও তাদের দখলে আছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা নূরুন্নবী কবীর বুধবার যুগান্তরকে জানান, রেলওয়ের এ জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী গ্র“প দখল করে রেখেছে। যতবারই উচ্ছেদ করতে যাওয়া হয়েছে ততবারই রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের ওপর তারা হামলা চালিয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলেই যত দ্রুত সম্ভব জায়গাটি দখলমুক্ত করা যাবে। তবে এ বিষয়ে দখলকারী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মমতাজ ইসলাম দাবি করেন, এ জয়গা মির্জা মোঃ আশরাফের কাছ থেকে তার স্বামী ক্রয় করেছেন। ওই জায়গায় কখনও রেলওয়ে স্টেশন কিংবা কোয়ার্টার ছিল না। রেল ভুল করে এ জায়গাটি পর্চায় তুলে নেয়। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বললেন, এ জায়গা দখলকৃত নয়, ক্রয়সূত্রে এ জায়গার তারাই মালিক। রেল তাদের এ জায়গা কৌশলে দখল করতে চাচ্ছে। এ মুহূর্তে জায়গাটি নিয়ে হাইকোর্ট ও জজকোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৪ জুলাই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন গোপীবাগ এলাকায় বেদখলে থাকা ১৫ একর রেলের জায়গা উদ্ধার করা হলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে উঠা ‘শরীফ বাড়ি’ ১৪/২/এ গোপীবাগ ৩য় লেনের বাড়িটি উচ্ছেদ করা হয়নি। প্রায় ৩০ কোটি টাকার জায়গা দখল করে এ বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ বাড়িটি কখনও মেজর বাড়ি অথবা কখনও রেলওয়ে বড়কর্তার বাড়ি হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে তৎকালীন রেলওয়ে বিভাগীয় ভূসম্পদ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আহমাদুল হক যুগান্তরকে জানান, এ বাড়িটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এ বাড়িটি রেলওয়ের জায়গায় করা হয়েছে।
‘শরীফ বাড়ি’র মালিকানা দাবিদার আবদুল আজিজ শরীফ তার কাছে থাকা একটি ম্যাপ দেখিয়ে বুধবার যুগান্তরকে বলেন, তিনি ১৯৭৪ সালে নুরউদ্দিন, সালাউদ্দিন নামক দু’ভাইয়ের কাছ থেকে ৮ কাঠা জায়গা ক্রয় করেন। যা সিএস মৌজা শহর ঢাকার অন্তর্ভুক্ত। বাড়িটি রেলওয়ের বাউন্ডারির ভেতরে কেন এমন প্রশ্নে আজিজ শরীফ চ্যালেঞ্জ করে বলেন, রেল ভুল করে এ বাউন্ডারী ওয়াল দিয়েছে। এ জায়গার মালিক তিনিই যে, তার দলিল ও সব কাগজপত্র রয়েছে তার কাছে।
ভূসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, রেলে প্রায় ৭ হাজার ২শ’ বাড়ি (সরকারি কোয়ার্টার) অবৈধ দখলে রয়েছে। দখলমুক্ত না হওয়ায় এসব বাড়ির বিদ্যুৎ পরিশোধ বাবদ গত ৭ বছরে প্রায় ২১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। শুধু রাজধানীতে কমলাপুর-টঙ্গী ও কমলাপুর-শনিরআখড়া পর্যন্ত রেললাইনের দু’পাশে থাকা প্রায় ৩৯ একর জায়গা বেদখলে রয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, এসব জায়গার কিছু উচ্ছেদ করা হলেও পরক্ষণেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তা আবার দখলে নেয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চট্টগ্রাম ষোলশহর স্টেশনের পাশে বিবিরহাট এলাকায় ৩২ শতাংশ একটি পুকুর ভূমিদস্যুরা রাতের আঁধারে ভরাট করে প্রায় অর্ধশত দোকানপাট নির্মাণ করে।
জানা যায়, ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর মাছ চাষের জন্য একসঙ্গে ২৫টি পুকুর ইজারা দিতে দরপত্র আহবান করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ৮ হাজার ৪শ’ টাকা লিজ দরে পুকুরটি মাছ চাষের জন্য নিয়ে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে দোকান নির্মাণ করে। সংশ্লিষ্ট ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা কামরুল আমিনের ভাষ্য, ইজারাদারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নোটিশ করা হলেও পুলিশের অসহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা যাচ্ছে না।
রেলওয়ে মহাপরিচালক তফাজ্জল হোসেন বলেন, রেল মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে বিভাগ দ্রুত সময়ের মধ্যে বেদখলে থাকা রেলের সম্পত্তি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মাঠে নামবে। ইতিমধ্যে অবৈধ স্থাপনা নিজ নিজ দায়িত্বে সরিয়ে ফেলার নোটিশও দেয়া হয়েছে।
রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, আনন্দবাজার ফুলবাড়িয়াস্থ ৩.৯৭ একর জায়গাটির মালিক সম্পূর্ণ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অবৈধ দলখদাররা সন্ত্রাসী কায়দায় তা ভোগ করছে। বহুবার চেষ্টা করেও উচ্ছেদ কার্যক্রমে সফল হওয়া যায়নি। উপরের নির্দেশে অচিরেই এ জায়গাটি উদ্ধার করা হবে। যে কোনো মূলে বেদখলে থাকা রেলওয়ের জমি উদ্ধার করা হবে।

মোদি ভালো বক্তা নন : উমা দেবী

অটলজির মতো ভালো বক্তা নন নরেন্দ্র মোদি। অন্তত এমনটাই মনে করেন ঝাঁসির বিজেপি প্রার্থী উমা ভারতী। তার মন্তব্য, মানুষ মোদির কথা শুনতে যায় না। মানুষ যায় তাকে সমর্থন জানাতে। উমার দাবি- অটল বিহারী বাজপেয়ি হলেন তাদের দলের সবচেয়ে ভালো বক্তা। ঝাঁসিতে এক কর্মী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উমা ভারতী বলেন, ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে ভালো বক্তা ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ি।
মোদির বক্তব্য শোনার থেকে তাকে সমর্থন জানানোর জন্যই বেশি লোক যায় তার সভায়। ইন্ডিয়া টুডে। রাজনাথের বিরুদ্ধে অভিনেতা জাভেদ জাফরি : ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে লক্ষেèৗতে বিজেপি প্রার্থী রাজনাথ সিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী তালিকায় যোগ হল নতুন নাম। মঙ্গলবার এএপির তরফ থেকে এই বিখ্যাত কমেডিয়ান, ডান্সার এবং রিয়েলিটিশোর বিচারকের নাম ঘোষণা করা হল।

অপেক্ষায় অমৃতা by মাহমুদ মানজুর

এখনও মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি অমিত সম্ভাবনাময় চিত্রনায়িকা অমৃতা খান। শুরুটা ‘গেইম’ দিয়ে হলেও এর ফলাফল এখনও শূন্য। নীরবের বিপরীতে এ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে নৃত্যশিল্পী-মডেল অমৃতার।

প্রথম পাঠেই যাকে চিনি by কাজল ঘোষ

প্রথম পরিচয় আদর্শলিপি বইতে। ঋষিঠাকুর যখন উঠোনে শক্ত লাঠি হাতে নিয়ে জোরে সুর করে পড়াতেন, অ-তে অজগর ঐ আসছে তেড়ে। আ-তে আমটি আমি খাবো পেড়ে। সাদাকালো ছাপায় ব্লকে আঁকা থাকতো আমের ছবি। তারও পরে ছড়ায় ছড়ায় পরিচয়। আম পাতা জোড়া জোড়া, মারবো চাবুক চড়বো ঘোড়া। বাড়ির উঠোন ছেড়ে এক সময় বাইরে আসি।

মেডিকেল শিক্ষার্থীর লিভ টুগেদার অতঃপর...

মেডিকেলে পড়ুয়া মেয়ে কলেজ হোস্টেলে থাকতেন বলেই জানতেন তার মফস্বল শহরে থাকা বাবা-মা। প্রতি মাসে হোস্টেল খরচসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে আসছিলেন নিয়মিতই। কিন্তু গতকাল ভোরে হঠাৎ জানতে পারেন মেয়ে মারা গেছে।
শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু হোস্টেলে নয়, রায়েরবাজারের সচিবের গলির এক বাসায়। মেয়ে সেখানে আরিফুল ইসলাম নামে এক যুবকের সঙ্গে লিভ টুগেদার করছিল। এই মেডিকেল ছাত্রীর নাম সাউদিয়া আক্তার মিথি (২৩)। সে জেডএইচ শিকদার উইমেন মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) মর্গে পাঠায়। মিথির পিতা আবদুস সালাম বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। হাজারীবাগ থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। প্রধান ও একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে কিভাবে মিথিকে হত্যা করা হয়েছে তা বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত দুই মাস আগে মিথি ও আরিফ হাজারীবাগের সুলতানগঞ্জের ৩/৫ নম্বর সচিবের গলির বাসার ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষ সাবলেট হিসেবে ভাড়া নেয়। ওই বাসার ভাড়াটিয়া নুসরাত সাথী জানান, মিথি ও আরিফ নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল। গত সোমবার থেকে মিথির সহপাঠী একই মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া রোমানা নাজনীন তার প্রেমিক আকিভ জাভেদ অনিকে স্বামী পরিচয় দিয়ে ওই বাসায় রাত কাটায়। মঙ্গলবার রাতে তারা চারজন একসঙ্গে আড্ডাবাজি করে। একপর্যায়ে মিথি ও আরিফের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হলে তারা নিজেদের রুমে চলে যায়। এসময় আরিফ কক্ষে উচ্চ সাউন্ডে গান বাজাতে থাকে। রাত ২টার দিকে আরিফ তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জানায় মিথি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে তারা মিথির কক্ষে গিয়ে মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় তার মৃতদেহ দেখতে পান। এ সময় আরিফ বিভিন্ন রকম অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। এর আগে পাশের কক্ষ থেকে অনি ও রোমানা উঠেও মিথির মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে ভোরে মিথির মোবাইল থেকে বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানানো হয়।
আবদুস সালাম জানান, ভোর চারটার দিকে সাথী পরিচয় দিয়ে মিথির মোবাইল থেকে এক মহিলা তার স্ত্রীকে ফোন দেন। ফোনে প্রথমে তাদের দ্রুত ঢাকায় আসতে বলা হয়। পরে আবার ফোন করে মিথির মৃত্যুর খবর দেয়া হয়। এ সময় তিনি মিথি হোস্টেল বাদ দিয়ে তার বাসায় কেন জিজ্ঞাসা করলে ওই মহিলা ফোনটি কেটে দেন। মিথি মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ২১২ নম্বর কক্ষে থাকতো। পরে তারা সকালে ঢাকায় এসে সাথীর বাসায় গিয়ে মিথির মৃতদেহ দেখতে পান। আবদুস সালাম বলেন, তার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মিথির শরীরেও একাধিক জখমের চিহ্ন ছিল। তিনি মেয়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
আবুল হাশেম নামে এক স্বজন জানান, মিথির মতো মেয়ে স্বেচ্ছায় কারও সঙ্গে লিভ টুগেদার করতে পারে না। তাকে প্রেমের প্রলোভনে লিভ টুগেদারে বাধ্য করা হয়েছে। এজন্য মিথি বিষয়টি পরিবারের সঙ্গেও শেয়ার করতে পারেনি। তিনি বলেন, তিনিও মাঝেমধ্যে শিকদার মেডিকেলের হোস্টেলে গিয়ে মিথিকে টাকা-পয়সা দিয়ে আসতেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি মিথি হোস্টেলে না থেকে কারও সঙ্গে লিভ টুগেদার করছে। মিথির পিতার বন্ধু পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, মিথির বাবা-মা দু’জনই সাঁথিয়া থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করেন। সাঁথিয়া পৌরসভাতেই তাদের বাড়ি। তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ের মধ্যে মিথি সেজো। মিথির স্বজন ও সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, বছরখানেক আগে আরিফ নামে ওই যুবকের সঙ্গে মিথির মোবাইলে পরিচয় হয়। এরপর দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আরিফ নিজেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা পরিচয় দিলেও সে আসলে এসএসসি পাস। মিথিকে তার পিতা প্রতি মাসে টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচের জন্য প্রচুর টাকা দিতেন। এসব টাকার একটি অংশ মিথির কাছ থেকে কৌশলে আরিফ নিয়ে নিজের খরচ চালাতো। দুই মাস আগে তারা হাজারীবাগের ওই বাসায় একসঙ্গে থাকতে শুরু করে। আরিফের গ্রামের বাড়ি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দক্ষিণ থানা পাড়া এলাকায়। তার পিতার নাম শওকত আলম।

মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে কূটনৈতিক দায়মুক্তি পাবেন!

নরেন্দ্র মোদি
ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তাঁর ওপর থেকে নয় বছরের মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। পূর্ণ কূটনৈতিক দায়মুক্তি পাবেন তিনি। গত সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদি এ সময়ের মধ্যে পরিচালিত প্রায় সব কটি জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন। মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর ভিসার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে তিনি এ-ওয়ান (কূটনৈতিক) ভিসা পেতে পারেন; তাঁর সফরের উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন। ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে মোদিকে ২০০৫ সালে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখনো ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।
এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে মোদির ভিসার মর্যাদা কী হবে—এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরির জন্য বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা সিআরএসকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে কংগ্রেস কিংবা মার্কিন সরকার এই প্রতিবেদনের পরামর্শ মেনে চলতে বাধ্য নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটে দাঙ্গায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোদি জড়িত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ মেলেনি বলে ২০১০ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ তদন্ত কমিটি জানিয়েছিল। পিটিআই।

রাহুলের জন্য লড়াই এবার কঠিন হবে

রাহুল গান্ধী ও স্মৃতি ইরানি
শাশুড়ি-বউয়ের টক-ঝাল-তেতো-মিষ্টি সম্পর্ককে টেলিভিশনের পর্দায় এনে যিনি বিখ্যাত, সেই শাস ভি কাভি বহু থি সিরিয়ালের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানিকে বিজেপি আমেথিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিপক্ষে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত সোমবার গভীর রাতে বিজেপি এই ঘোষণা দিলেও রায়বেরিলিতে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে জুতসই কাউকে পায়নি দলটি। এই আসনে কংগ্রেস নেত্রীর বিপক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অজয় আগরওয়ালকে বিজেপি মনোনয়ন দিচ্ছে। অজয় কংগ্রেসবিরোধীই শুধু নন, বোফর্স ও স্ট্যাম্প কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে তিনি জনস্বার্থ মামলা করেও খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। কংগ্রেসের বড় প্রার্থীদের বিপক্ষে বিজেপি প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করলেও বারানসিতে নরেন্দ্র মোদির বিপক্ষে কংগ্রেস কাকে প্রার্থী দেয়, তা স্পষ্ট নয়। স্মৃতি ইরানি অভিনেত্রী হলেও কয়েক বছর ধরে রাজনীতিটা তিনি খুব নিষ্ঠার সঙ্গেই করছেন। ফলে বিজেপিও তাঁকে রাজ্যসভায় প্রার্থী করেছে। রাজ্যসভায় তিনি দলের প্রতিদিনের মুখ। তা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি দলের পক্ষে টিভি বিতর্কেও অংশ নেন। স্মৃতি নিজেই আমেথিতে কংগ্রেসের সহসভাপতিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। দলে মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্মৃতিকে টিকিট দিতে বিজেপির তাই অসুবিধা হয়নি। তা ছাড়া রাজ্যসভার সদস্য বলে স্মৃতিকে রাহুলের বিপক্ষে দেওয়ায় ঝুঁকিও নেই। আমেথিতে রাহুলকে অবশ্য প্রথম চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন আম আদমি পার্টির কবি কাম রাজনীতিক কুমার বিশ্বাস। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অনেক আগেই তিনি রাহুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন। পরে দল তাঁর সেই ইচ্ছার মর্যাদা দেয়। সেই থেকে কুমার আমেথিতে এমনই ঘাঁটি গেড়েছেন, দিল্লি আসাই ছেড়ে দিয়েছেন। এবার স্মৃতি ইরানিও রাহুলকে চ্যালেঞ্জ জানানোয় আমেথির লড়াইটা জমে গেল।
কংগ্রেসের এক নম্বর পরিবারের বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে প্রার্থী দেয় না। বহুজন সমাজ পার্টিও দিতে হয় বলেই প্রার্থী দেয়। আম আদমি পার্টি ও বিজেপির সেই দায় নেই। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে কে জেতে, কে হারে, সেই আগ্রহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ২০০৪ ও ২০০৯ সালে জেতা রাহুলের কাছে এবারের লড়াইটা সেই অর্থে বেশ কঠিন। সোনিয়ার আসনে বিজেপি ভালো কোনো প্রার্থী খুঁজে পায়নি। ফলে তাঁর জন্য লড়াইটা রাহুলের মতো ততটা কঠিন নয়। বিজেপি এই আসনে যাঁকে বেছে নিল, সেই অজয় আগরওয়াল একসময় সমালোচনা করছিলেন, বিজেপি ইচ্ছা করেই সোনিয়ার বিরুদ্ধে কাউকে মনোনয়ন দিচ্ছে না। তাঁর সমালোচনার মুখে বিজেপি সাবেক সন্ন্যাসিনী মুখ্যমন্ত্রী (মধ্যপ্রদেশ) উমা ভারতীকে রায়বেরিলির জন্য ভেবেছিল। কিন্তু তত দিনে উমা ঝাঁসিতে নির্বাচনী কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তার ওপর সোনিয়ার সঙ্গে টক্কর দিতেও তিনি নিমরাজি। শেষ পর্যন্ত বিজেপি তাঁকে ঝাঁসির পাশাপাশি রায়বেরিলি থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেয়। উমা রাজি না হওয়ায় শিকে ছিঁড়ল অজয়ের ভাগ্যে। বড় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শেষ চমকটা কংগ্রেস এখনো তুলে রেখেছে। বারানসিতে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কাকে দাঁড় করাবে, কংগ্রেস এখনো তা ঠিক করতে পারেনি। সেই অর্থে মোদির চ্যালেঞ্জার এখনো আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শহরের মুসলিম সম্প্রদায় এখনো ঠিক করতে পারেননি, মোদিকে ঠেকাতে কাকে তাঁরা বেছে নেবেন। কারাবন্দী রাজনীতিক মুখতার আনসারির ভাই সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি ও কংগ্রেসের কাছে একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। সবাই মিলে একজন প্রার্থী দিক। কংগ্রেস তাতে রাজি নয়।

নয়াদিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

ন্যান্সি পাওয়েল
ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরুর ঠিক আগেই পদত্যাগ করলেন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি পাওয়েল। ভারতে তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউইয়র্কে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়েকে গত ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনার জের ধরে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দুই দেশ এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাওয়েলের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী মুখপাত্র মেরি হার্ফ। ওয়াশিংটনে সোমবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি ন্যান্সির পদত্যাগকে ‘অবসর’ বলে উল্লেখ করেন। ভিসা ফরমে মিথ্যা তথ্যের উল্লেখ এবং গৃহপরিচারিকাকে নির্ধারিত হারের চেয়ে কম মজুরি দেওয়ার অভিযোগে দেবযানী খোবরাগাড়ের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে মামলা হয়।
তিনি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন কূটনীতিকদের বিভিন্ন সুবিধা প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়। পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে ২০১২ সালে ভারতে নিয়োগ পান পাওয়েল। তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। গত সোমবার পাঠানো পদত্যাগপত্রে ন্যান্সি পাওয়েল কোনো কারণ উল্লেখ না করে লিখেছেন, তিনি কিছুদিন ধরেই এ ধরনের পরিকল্পনা করছিলেন। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মনোনীত প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে সাক্ষাৎ করেছিলেন ন্যান্সি। দেবযানীকে নিয়ে বিতর্কের জেরে মোদি-ন্যান্সির ওই বৈঠক পিছিয়ে যায় বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। গুজরাটে ২০০২ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে মোদিকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভিসার ওপর নয় বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পথে তাঁর জোরালো সম্ভাবনার কারণে তাঁর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনডিটিভি।

একদিকে পঙ্গুত্ব অন্যদিকে গ্রেপ্তার-বাণিজ্য

শিরোনামটি দুটো বাংলা দৈনিকের ইদানীং পৃথক খবর থেকে নেওয়া। আলোচনার অপেক্ষা রাখে না, ২০১৩ সালটি আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চ্যালেঞ্জস্বরূপ ছিল। রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকত প্রায় প্রতিনিয়ত। আর এসব কর্মসূচি সহিংস হয়ে যেত অনেক ক্ষেত্রেই। বলা বাহুল্য, কর্মসূচির মোকাবিলায় মূল দায়িত্বে ছিল পুলিশ। আবার কর্মসূচি ছাড়াই টহলরত পুলিশের ওপর হামলার নিন্দনীয় রেওয়াজও চালু হয়ে পড়েছিল। সংবাদপত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ওই বছর এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ১৫ জন পুলিশ সদস্য। আহত প্রায় আড়াই হাজার। তার মধ্যে গুরুতর আহত তিন শ; যাদের মধ্যেও হাত, পা, চোখ হারিয়ে পঙ্গুত্বের পথে আছেন দেড় শতাধিক। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুসারে, এঁদের মধ্যে একজন ছাড়া কাউকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানো হয়নি। লাগানো হয়নি কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। এই অবস্থায় তাঁরা হতাশ। দিশেহারা স্বজনেরা। এগুলো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। আরও জানা যায়, তাঁদের স্বজনেরা সুচিকিৎসার দাবিতে দ্বারে দ্বারে ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ধরনের পঙ্গুত্বের আশঙ্কায় যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল থেকে উচ্চশিক্ষিত সাব-ইন্সপেক্টরও রয়েছেন। পাশাপাশি এক দিনের ব্যবধানেই অন্য দৈনিকে আরেকটি খবর শতাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ হচ্ছে, আটকের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার। জানা যায়, এ ধরনের অভিযোগসংবলিত একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এসপি থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত। এমনকি রাষ্ট্রপতি পদক পাওয়া পুলিশ সদস্যের নামও আছে এ তালিকায়। জানা যায়, অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, টাকা লেনদেন কখনো সরাসরি আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে হয়েছে; হয়েছে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও অসাধু সাংবাদিকদের মাধ্যমেও। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্যসংবলিত অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। আশা করা যৌক্তিক হবে যে পক্ষপাতহীন জরুরি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুটো বিষয়ই একইভাবে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো। প্রথমত দেড় শ গুরুতর আহত পুলিশ সদস্যের সুচিকিৎসায় অবজ্ঞার বিষয়টি আলোচনা করা যাক। এসব পুলিশ সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ বিপন্ন। কারও বা হাতের কবজি উড়ে গেছে, কেটে ফেলতে হয়েছে কারও পা আর চোখ নষ্ট হয়ে গেছে কারও। দৈনিকটির প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশের এ ধরনের সদস্যের সংখ্যা দেড় শ। এঁদের উপযুক্ত চিকিৎসা না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক বললেও কম বলা হবে। তাঁদের শারীরিক বিকলাঙ্গতাকে ঠিক পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা কতটা সম্ভব আর ব্যয়ই বা কত, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। আমাদের সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তা সত্ত্বেও এ ধরনের ভাগ্যহত জনসেবকেরা রাষ্ট্রের সম্ভাব্য সর্বাধিক সহায়তা আশা করতে পারেন। তাঁদের প্রতি যথোপযুক্ত দায়িত্ব পালন না করলে জাতি হিসেবে আমরা দায়ী থাকব। তাই উদারতার সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নেওয়া আবশ্যক। তাঁদের প্রতি উপযুক্ত মনোযোগের অভাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যতজনের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের সবার বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার দরকার নাও হতে পারে। কারও চিকিৎসা হয়তোবা দেশেই করা যায়। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের যথোপযুক্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার আবশ্যকতা রয়েছে। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, গেছে অমূল্য সময়। তবু বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আবশ্যকতা রয়েছে। গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের যে চিত্রটি আলোচ্য প্রতিবেদনে এসেছে, তা বাস্তবে খুবই ক্ষুদ্র একটি নজির। কোথাও একটি দাঙ্গা-হাঙ্গামা হলো। এজাহারে নাম থাকে ১০-১৫ জনের। আর অজ্ঞাত দেখানো হয় দুই-তিন হাজার। এজাহারে এরূপ হতেও পারে। অভিযোগ রয়েছে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের আগে ঘটনার সঙ্গে তাদের প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা তলিয়ে না দেখে কোনো কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যাকে ইচ্ছা তাকেই গ্রেপ্তার করে থাকেন। ক্ষেত্রবিশেষে বাণিজ্যের অভিযোগও থাকে। এজাতীয় অভিযোগ সম্পর্কে দ্রুত বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। এরূপ চলতে থাকলে প্রকৃত অপরাধী রয়ে যেতে পারে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এজাতীয় ক্ষেত্রে সরকারি দলের পরিচয় ও আনুকূল্য নিয়ে কিছু লোকও নেমে পড়েন। তাঁদেরও উদ্দেশ্য বাণিজ্যের ভাগ।
আর এঁদের পাশে পেয়ে পুলিশের সদস্যরাও অনুপ্রাণিত হন। প্রসার ঘটে বাণিজ্যের। এটা সত্যি আর বাস্তব যে এজাহারে নাম থাকলেই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকবে, এমনটা নাও হতে পারে। আর নাম না থাকলেও সংশ্লিষ্ট থাকতে পারেন কেউ কেউ। তাই পুলিশের পক্ষে ছকবাঁধা পথে চলার সুযোগ নেই। কোনো কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সাময়িকভাবে তাদের হেফাজতে নিতে পারে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিরপরাধ মনে হলে ছেড়ে দেওয়াই সংগত। আর অপরাধ করেছে মনে হলে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। এগুলো সবই আইন আর প্রবিধানের কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এসব ভালো ভালো কথা এখন বেশ কিছু ক্ষেত্রে কেতাবেই সীমাবদ্ধ থাকছে। কিছু পুলিশ সদস্যের বাণিজ্যের দুর্নিবার স্পৃহায় অপরাধী সমাজে বুক উঁচিয়ে চলে। নিরপরাধ ব্যক্তি সাময়িকভাবে হলেও করে হাজতবাস। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। আইনের জ্ঞান, নৈতিকতা আর মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন পুলিশও সদস্যও অনেক রয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের ছাপ এ বাহিনীর সদস্যদের ওপরও পড়েছে। তদুপরি দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ আর বদলি থেকে পদোন্নতি চেইন অব কমান্ডকে করে ফেলেছে বিপন্ন। এতে ক্ষেত্রবিশেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি বা নির্দেশনাও উপেক্ষিত হয়। আর তাঁদের নজরদারিতে ক্ষেত্রবিশেষে সময়ে সময়ে শৈথিল্যের অভিযোগও আসে। যে প্রতিবেদনটির বিষয় ওপরে আলোচিত হলো, সেখানে মূলত জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিই মুখ্য। এসব সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মী ধর্তব্য অপরাধ করে থাকলে তাঁদের গ্রেপ্তার করাই যৌক্তিক। একইভাবে অন্য কোনো দলের নেতা-কর্মী বা নির্দলীয় কেউ তা করলেও আইনের একই বিধান প্রযোজ্য হওয়ার কথা।
আর এ ধরনের কোনো অপরাধ না করলে নিছক কোনো দল করার জন্য কাউকে গ্রেপ্তারের কোনো কারণ থাকতে পারে না। তবে একটি বিষয় সাম্প্রতিক কালে নজরে এসেছে। গত বছরটিতে সহিংস আন্দোলন-সংগ্রামে পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে। পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে কোথাও কোথাও। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হয়েছে বিনা প্ররোচনায়। এ ধরনের ঘটনায় এজাহারভুক্ত বা সন্দেহভাজন আসামিদের কারও প্রতি পুলিশের কোনো সদস্যের অতি নমনীয় নীতির বিবরণ সংবাদপত্রে এসেছে। এসেছে ভূমি ক্রয়ের আড়ালে বাণিজ্যের অভিযোগ। এজাতীয় ঘটনা কিন্তু ঘটে চলছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আর দেশের সর্বত্র। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংকলিত প্রতিবেদনটি এর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ মাত্র। এজাতীয় সংবাদ বেদনাদায়ক। যাঁরা কোনো পুলিশ সদস্যের হত্যা কিংবা জখম সংক্রান্ত মামলার আসামি, তাঁদের অপরাধ প্রমাণে উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে পুলিশের বরং তৎপর হওয়াই স্বাভাবিক। শুধু গ্রেপ্তার নয়, প্রকৃত অপরাধীকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করাতে হলে বাদীপক্ষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দরকার। নচেৎ গ্রেপ্তার করা হলেও প্রমাণের অভাবে তাঁদের খালাস পাওয়ার সম্ভাবনাই থেকে যায়। কিন্তু যেখানে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অনীহা কিংবা ছাড় দেওয়া, সেখানে মামলা প্রমাণে সে কর্মকর্তারা সচেষ্ট হবেন, এমনটি আশা করার কোনো কারণ দেখা যায় না। তাঁদের চোখ থেকে হয়তোবা অপসৃত নিহত কিংবা পঙ্গুত্বের পথগামী তাঁদের সহকর্মীরা। যাঁরা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থেকে পঙ্গুত্বের পথে, তাঁদের দ্রুত সুচিকিৎসা করানো রাষ্ট্রের দায়। তেমনি এসব ঘটনার জন্য যারা দায়ী কিংবা এ দেশের বায়ু যারা বিষাক্ত করছে আর নেভাতে চাইছে আলো, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে শৈথিল্য অগ্রহণযোগ্য।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

দুই দলকে কেন লন্ডনে যেতে হয়?

ব্রিটিশদের আমরা সমীহ করে চলি। তারা দুই শ বছর শাসন করে ভারত এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশকেও মানুষ করে দিয়ে গেছে। কিন্তু তার পরও বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি, সুশাসন, নির্বাচন নিয়ে তাদের মনের দুশ্চিন্তা কাটে না। তাই তাদের সংসদের নিম্নকক্ষ অর্থাৎ কমনস ও উচ্চকক্ষ লর্ডস সভার এমপিদের যে যৌথ কমিটি রয়েছে, তারা সভা ডাকে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ রকম আরেকটি আলোচনা হলো সোমবার, ৩১ মার্চ। সেখানে ঢাকা থেকে সরকারের প্রতিনিধি ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা যোগ দিয়েছেন। মানবাধিকার পরিস্থিতির পাশাপাশি আরও কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষভাবে ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচনের পর সংসদ ও রাজনীতিতে যে ‘বিরোধী দলশূন্য’ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তা কীভাবে দূর করা যায়, সে প্রশ্নটি প্রাধান্য পেয়েছে। এ বিষয়ে রোববার সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলা রেডিওতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে কি না, কবে হবে, ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তরে তিনি মূলত দুটি কথা বলেছেন। প্রথমত, মধ্যবর্তী নির্বাচন, তাঁর ভাষায়, গণদাবি নয়, তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ রকম নির্বাচন হবে কেন?
দ্বিতীয়ত, নির্বাচন পাঁচ বছর পরে হবে, নাকি তার আগে হবে; তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কীভাবে হবে। সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হবে, এটা তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। পুরোনো কথা। এটা জানানোর জন্য কি লন্ডনে যেতে হয়? বিএনপিও যায়। ওরাও কি সেই পুরোনো কথাবার্তা বলতেই যাচ্ছে? যদি সমঝোতা করতে হয় এবং সেটা করাই উচিত, তাহলে খোলা মনে ঢাকাতেই তো আলোচনা চলতে পারে। কিন্তু ঢাকায় যে দুই পক্ষের মধ্যে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক। লন্ডনে তারেক রহমান তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করায় সংসদে ঝড় বয়ে গেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও একই দাবি করে রাজনীতির মাঠ আরও গরম করেছেন। এর মধ্যে আবার খালেদা জিয়া ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাচন শেষে জোরালো আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শতকোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় সংগীত করে কোনো লাভ হবে না, এ কথা বলে তিনি রীতিমতো হুমকির সুরে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যখন এ সরকার বিদায় হবে,...সেটাই আসবে গিনেস বুকে।’ ‘গণ-অভ্যুত্থান’, ‘সরকারের বিদায়’—এসব কথা গত পাঁচ বছর ধরেই শুনে আসছি। শুধু কথায় বিষয়টি মিটে গেলে আপত্তি ছিল না। কিন্তু মুশকিল হলো হরতাল-অবরোধ চলতে থাকে। মানুষের জীবনে নেমে আসে অভিশাপ।
গত কয়েক মাস শান্তিতে আছি। শান্তিতে থাকতে চাই। সরকার ও দেশের প্রধান বিরোধী জোট, যার নেতৃত্বে রয়েছে বিএনপি, তাদের উভয়ের দায়িত্ব মানুষকে বিরক্ত না করা। যারা গণ-অভ্যুত্থানের কথা ভাবছেন, তাঁদের বুঝতে হবে, আগের দিন আর নেই। সরকার যদি মানুষের রুটি-রুজির ওপর হাত চালায়, তাহলে নিশ্চয়ই মানুষই রাস্তায় নামবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতির হার নিচের দিকেই আছে। আর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অনেক কথা থাকলেও এবং গুম, ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ প্রভৃতি থেমে থেমে চলতে থাকলেও, যতক্ষণ পর্যন্ত না সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর আঘাত না আসছে, ততক্ষণ মানুষ ঘরেই থাকতে চাইবে। শুধু বক্তৃতায় ওদের মাঠে নামানো যাবে না। দেশে অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু ‘পেটে খেলে পিঠে সয়, এ তো কভু মিছে নয়’ কথাটা যে বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে বেশ খাটে, তা বুঝতে কারও বাকি আছে কি? কিন্তু কত দিন এই সয়ে যাওয়ার মতো ‘পেটে খাওয়া’ জুটবে, সেটাই প্রশ্ন। সরকার ভাবছে, বেশ ভালোই তো চলছে। কিন্তু প্রতিদিন পত্রিকায় যেসব খবর বেরোয়, তা সরকারের জন্য সুখকর নয়। উপজেলা নির্বাচনে প্রাণহানি ঘটেছে। এর চেয়ে ভীতিকর আর কী হতে পারে। আমরা যখন ভাবছিলাম নির্বাচন নিয়ে খুনোখুনি, ভোটের বাক্স ছিনতাই প্রভৃতির দিন শেষ, তখন আবার ভোট নিয়ে হত্যা-আতঙ্কের দিন শুরু হয়ে গেল। এ অবস্থায় সরকার কত দিন মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে বলে আশা করে?
প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ যেমন গণতন্ত্রের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তেমনি কোনো না কোনো ফাঁকফোকর বের করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ গ্রহণ না করে বিএনপিও দেশের জন্য এক সংকটজনক অবস্থা ডেকে এনেছে। বিএনপি যদি নির্বাচন করত, তাহলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। অন্তত সংসদ নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল বিজয় যে অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, বিএনপি কৌশলে তার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে রাজনীতির পথটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মতো সরল সড়কের মতো নয়। আঁকাবাঁকা পথে, সময় বুঝে দ্রুত বাঁক নিতে না পারলে খেসারত দিতে হয়। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান-উত্তরকালে এখন আমাদের দেশ যে পর্যায়ে এসেছে, তাতে নির্বাচন বর্জন কোনো রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে না। গণ-অভ্যুত্থানের চিন্তার চিরবিদায়ের দিন এসেছে। আমাদের পাশের দেশ ভারতে তো কত সমস্যা। দুর্নীতির অভিযোগ তো কম নয়। কত মন্ত্রীর জেল হয়ে গেল শুধু দুর্নীতির অভিযোগে। সম্প্রতি নারী নির্যাতনের ঘটনায় সারা দেশে ঝড় বয়ে গেছে। তেলেঙ্গানায় পৃথক রাজ্য গঠনের বিল নিয়ে ভারতের লোকসভায় একজন সাংসদ মরিচের গুঁড়া পর্যন্ত ছিটিয়ে দিয়ে নতুন রেকর্ড করলেন। কিন্তু সেখানে কি কেউ আসন্ন লোকসভা নির্বাচন বর্জনের কথা ভাবতে পারে?
নির্বাচন বর্জন একুশ শতকের এই আধুনিক যুগের সঙ্গে বেমানান রাজনীতি। বিএনপি নিজেকে আধুনিক দল বলে দাবি করে, কিন্তু রাজনীতি করে সেকেলে। একদিকে বলছে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে, অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থানের হুমকিও দিচ্ছে। আলোচনায় সমাধান করতে হলে তো গণ-অভ্যুত্থান হয় না। একটা গন্ডগোল চাই। সে জন্যই হয়তো এই সময়ে হঠাৎ করে জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ বিএনপির ওয়েবসাইটে এত দিন জিয়াউর রহমানকে দেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি বলে উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে তাঁকে প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করার পর থেকে সেই ওয়েবসাইট আর দেখা যাচ্ছে না। ওদিকে জিয়াউর রহমান যে ১৯৭১ সালে রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, পরে হয়েছেন, সে কথাটা স্বয়ং তারেক রহমানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এখনো পাওয়া যাবে (দেখুন, প্রথম আলো, ৩০ মার্চ)। দেশে আলোচনার মনমানসিকতা বা পরিবেশ কোনোটাই নেই বলেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য দুই প্রধান দলের নেতারা লন্ডনে ছুটেছেন। এ রকম আলোচনা আগেও হয়েছে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ও গত বছর মে মাসে একই ফোরামে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক মীমাংসার জন্য লন্ডনে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে দুই পক্ষই অন্তত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপর কী হয়েছে আমরা জানি।
একতরফা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট অংশ না নিলেও ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ মূলত ওদের বিরুদ্ধেই উঠেছে। লন্ডনে দুই দলের নেতারা গেছেন। ব্রিটিশরা তাঁদের মাথায়-পিঠে হাত বুলিয়ে যদি সমঝোতায় আনতে পারে, ভালো। কিন্তু গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, সে রকম সম্ভাবনা খুব কম। আমরা ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপের অনেক দেশকে ছাড়িয়ে যাব, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হব, ইতিমধ্যেই আমরা দারিদ্র্য হ্রাস, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, স্বাস্থ্য-পুষ্টি, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি বা করতে যাচ্ছি। সবই ঠিক। কিন্তু হায়, রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য আমাদের লন্ডনে যেতে হয়। ওরা ডাকে, আমরা যাই। কিন্তু ওদের কোনো পরামর্শ কানে নিই না। দেশে ফিরে আবার ‘পতন আন্দোলন’ ও ‘দমন অভিযান’ চলতে থাকে। এই ‘পতন’ ও ‘দমন’ যদি একসঙ্গে বন্ধ হয়, তাহলে হয়তো দুই দলকে আর লন্ডনে দৌড়াতে হবে না। দেশেই মিলেমিশে একটা সমাধান বের করা যাবে।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক
quayum@gmail.com

প্রতিদিনই সচেতন থাকতে হবে

অটিস্টিক শিশুর মা-বাবার কাছে প্রতিটি দিনই যেন সচেতনতা দিন বা দিবস। তাদের জন্য হয়তো ২ এপ্রিল বিশেষ কোনো তাৎপর্য বহন করে না। তবে একদিন নিশ্চয়ই করবে, যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রায় সব সচেতন ব্যক্তি দায়িত্বশীল হয়ে এগিয়ে আসবেন তাদের পাশে, উপলব্ধির ছায়া ছড়াবে বিভিন্নভাবে। আজ সেই বিশেষ দিনটি ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ সারা বিশ্বে একই সঙ্গে পালিত হচ্ছে। এটি সপ্তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। একটু খেয়াল করলে দেখবেন, যেন আপনার চারপাশের কেউ না কেউ অটিস্টিক শিশুর মা-বাবা। আপনার বলয়ের কোনো না কোনো বৃত্তে তার অবস্থান। বছরের এই একটি দিনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যদি তাদের কথা মনে করে কোনো আশা বা অঙ্গীকার করা হয়, সে-ই বা কম কী! এই একটা দিন তাদের সম্পর্কে জানবেন, পড়বেন, একটু-আধটু সাংগঠনিক সহায়তার হাত বাড়াবেন—এভাবেই শুরু হোক সচেতনতা। আর এই হাত যদি হয় বিশেষ বা বিশিষ্ট কোনো হাত যেমন সরকারের হাত, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের হাত, তাহলে তাদের মধ্য থেকেও কোনো একদিন বেরিয়ে আসতে পারে পৃথিবীকে দেওয়ার মতো বিশেষ কোনো মানুষ। হোক না সে অটিস্টিক মানুষ, সাধারণ প্রবাহ থেকে একটু আলাদা। অটিজমধারার মধ্যে ছিলেন এবং আছেন অনেক নামীদামি বিজ্ঞানী ও শিল্পী।
অটিস্টিক মানুষগুলো চলন-বলনে একটু আলাদা, কোথাও বিশেষ ভিন্নতা থাকে। অটিজম কোনো অসুখ নয়। তাদের মস্তিষ্কের কোথাও একটু আলাদা করে বানিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। সে আমাদের মতো গুছিয়ে, বুঝিয়ে কথা বলতে পারে না। তার অর্থ এই নয় যে সে আমাদের কথা বোঝে না। বলার আগেই সে হয়তো আমাদের বুঝতে পারে, আমরা হয়তো তা বুঝি না। অনেক অটিস্টিক শিশুকে দেখেছি, যারা যেকোনো সালের যেকোনো তারিখ অর্থাৎ কী বার ছিল বা হবে, বলে দিতে পারে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। আপনি অনেক চেষ্টা করে দেখুন তো পারেন কি না? এমনকি দু-চার মাস সামনের বা পেছনের কোনো দিনের?  অটিস্টিক শিশুরা কম কথা বলে, সবার মধ্যে থেকেও সে যেন নিজের মধ্যে থাকে। সব কথার উত্তর সে দেয় না বা দিতে চায় না আবার আমাদের মতো গুছিয়ে উত্তর দিতে পারেও না। একাকিত্ব পছন্দ করে। সবকিছুতে তার মেনে নেওয়া রুটিন মেনে চলতে চায়। তাদের সুনির্দিষ্ট পছন্দ থাকে। হতে পারে সেটা কোনো নির্দিষ্ট খেলনা, খেলা, মিউজিক; আর খাবারের বেলায় তো আছেই। তাদের মধ্যে একটি শিশুকে দেখেছি, সে খেলনা কি-বোর্ড দিয়ে গানের ও ছড়াগানের মিউজিক বাজাচ্ছে। কারও কাছ থেকে সে শেখেনি কোনো দিন। বলুন তো, ওই শিশুটিকে সামাজিক প্রতিষ্ঠা দেওয়ার মতো কোনো প্রতিষ্ঠান কি আমরা দিতে পারব? কে দায়িত্ব নেবে তার?
তাদের দিয়ে ক্লাসের স্বাভাবিক কারিকুলাম পড়িয়ে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রেণী উত্তরণ না-ও হতে পারে। নিয়মিত অঙ্ক বা সমাজবিজ্ঞান সে না-ও করতে চাইতে পারে বা না-ও পারতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের জন্য তো এখনো তেমন কোনো সরকারি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হয়নি, যেখানে তাদের অবস্থা অনুযায়ী পারদর্শিতামতো পড়াশোনা এবং পারঙ্গমতার ব্যবস্থা করা যাবে। আগেই বলেছি, অটিজম কোনো রোগ নয় বা মানসিক ব্যাধি নয়। মস্তিষ্কের গঠনমূলক সমস্যা। এতটাই সূক্ষ্ম যে কোথায় কেমন সমস্যা, যা এখনো সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি। আমরা যেমন একসঙ্গে দু-তিনটি কাজের সমন্বয় ঘটাতে পারি, তারা পারে না। তারা সিঙ্গেল ট্র্যাকের হয়ে থাকে। তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ দেখিয়ে একটু সময় নিয়ে গুছিয়ে-বুঝিয়ে অনেক কিছু করানো সম্ভব। একা একা নিজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে বলে তাদের সবার কাছ থেকে আলাদা করে রাখলে আরও ক্ষতি হবে তাদের। অনেক বাবা-মা তাদের সবার মধ্যে নিয়ে যেতে বা পরিচয় করিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন। তাতে তাদের আরও ক্ষতি হলো। তাদের সামাজিক নিয়মাবলির সঙ্গে আরও পরিচয় করিয়ে দিতে হবে প্রতিনিয়ত।
এই অটিজম সচেতনতা দিবসে আমরা সব অভিভাবক, শিক্ষক একটা মননশীল কাজ করতে পারি। প্রতিটি স্বাভাবিক শিশুকে ঘরে ও স্কুলে-ক্লাসে অটিজম সম্পর্কে জানাতে পারি। প্রত্যেক মা জানবেন এবং জানাবেন, আপনার স্বাভাবিক শিশুটিকে যেন অটিস্টিক শিশুটির সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করে, বরং অন্য সব স্বাভাবিক শিশুর চেয়ে একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে মেশে। কখনো যেন তাকে আলাদা প্রমাণ করে ভর্ৎসনা না করে। এই ছোট্ট সচেতনতাটুকু শিশুদের অর্থাৎ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে যাবে, দেশ এগোবে। আপনার অটিস্টিক শিশুকে বেশি বেশি সময় দিন। একই শব্দ অনেক অর্থ বহন করে, এমন শব্দ ব্যবহারে তাদের সঙ্গে সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন, গুছিয়ে ভাষার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করা তাদের জন্য কঠিন। ব্যবহারিক ভাষা তাদের জন্য সহজ এবং সহজে সেগুলো গ্রহণ করে।  মনে রাখবেন, তাদের মধ্য থেকেই এসেছেন বিশিষ্ট মনীষীরা—আলবার্ট আইনস্টাইন, আইজ্যাক নিউটন, মোজার্ট, চার্লস ডারউইন, হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন, মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর মতো অনেকে।
শামসুদ্দোহা সেলিম: চিকিৎসক ও কবি।

কে শোনে কার কথা...

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, ‘যেও না, একটু দাঁড়াও।’ বক্তব্য দিতে দিতে প্রধানমন্ত্রী আবারও একই কথা বললেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! শিশুটি নিজের মনে প্রধানমন্ত্রীর পাশ থেকে সরে গেল। মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হাঁটা শুরু করল। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই আবার প্রধানমন্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়াল। প্রধানমন্ত্রী নিজের মাইক্রোফোন ছেড়ে দিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে বললেন, ‘ও একটু কথা বলবে।’ শিশুটি মাইক্রোফোন হাতে নিল। পাশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেই যাচ্ছেন, ‘তুমি না বললে কথা বলবে, বলো।’ শিশুটি জানিয়ে দিল, সে তার নাম ভুলে গেছে। এখন সে আর কথাও বলতে চায় না। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই শিশুটি প্রধানমন্ত্রীর পাশের চেয়ারে বসে। পুরো অনুষ্ঠানেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে।