Tuesday, August 2, 2016

রিসা হত্যার আসামি গ্রেপ্তার

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিসা হত্যার আসামি ওবায়দুল খানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় যেকোনো অসাধ্য–সাধন করা যায়। গত বুধবার নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় বাজার থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও এর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাংস ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন ও ইজিবাইকচালক ইসমাইল হোসেন আসামিকে কৌশলে সোনারায় বাজারে নিয়ে এসে পুলিশকে খবর দিলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সহজ হয়। যাঁরা রিসা হত্যার আসামিকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জানাই উইলস লিটল ফ্লাওয়ার বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও, যাঁরা অপরাধীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নজিরবিহীন না হলেও ব্যতিক্রমী। অভিভাবকেরা যথার্থই প্রশ্ন রেখেছেন, যদি একজন ছাত্রী এভাবে রাজপথে ঘাতকের হাতে খুন হয়,
তাহলে মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? বাবা-মা কোন সাহসে সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন? গত ২৪ আগস্ট রিসা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এই হত্যাকাণ্ড কেবল ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরই কাঁদিয়েছে, তা নয়। বিচলিত ও উদ্বিগ্ন করেছে দেশের প্রতিটি শান্তিকামী ও বিবেকবান মানুষকে। আমরা মনে করি, রিসা হত্যার আসামির গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব শেষ হয়নি, শুরু হলো মাত্র। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে তদন্তকাজেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুরূপ দক্ষতা ও আন্তরিকতা প্রত্যাশিত। রিসা হত্যার বিচারের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে যে খুনির ক্ষমা নেই। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। রিসার ঘটনা আমাদের সামনে এই সত্যই তুলে ধরেছে যে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে সাধারণ মানুষও অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এই সাধারণ মানুষকে সাহস জোগানো সমাজের এবং পুরস্কৃত করা সরকারের দায়িত্ব।

নিহত মুসলিম সেনার মা বাবাকে ট্রাম্পের বিদ্রূপ

ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া নিহত মুসলিম মার্কিন সেনার বাবার পাশে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকা তার মাকে বিদ্রূপ করলেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার আবেগঘন এ বক্তব্য দেয়ার সময় ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খানের বাবা খিজির খানের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন গাজালা খান। পরে এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খিজির খানের দেয়া বক্তব্যের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প বলেন, খিজির খানের বক্তব্য কার লেখা? হিলারির বক্তব্য যারা লেখেন তারাই কি? এর জবাবে খিজির খান বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী গাজালা মিলে বক্তব্যটি লেখেন। উপহাস করে ট্রাম্প আরও বলেন, তার (খিজির) স্ত্রী পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। কিন্তু তিনি কিছুই বলেননি। সম্ভবত তাকে কিছু বলার সুযোগই দেয়া হয়নি। ট্রাম্পের এ কথার জবাবে গাজালা এবিসি নিউজকে বলেন, গভীর শোকের কারণে ডেমোক্রেটিক দলের কনভেনশনে কিছু বলার ইচ্ছে তার হয়নি। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের এমন মনোভাবে আমি মর্মাহত হয়েছি। আমি মনে করি না যে ত্যাগের অর্থ ট্রাম্প বোঝেন। কারণ আমি যখন ওখানে দাঁড়ানো ছিলাম সব আমেরিকাই আমার কষ্ট অনুধাবন করেছে। একটি কথা না বললেও তারা আমার এ ব্যথা বুঝতে পেরেছে।
খিজির খান বলেন, আমি তাকে কিছু বলতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি রাজি হননি। কারণ গাজালা জানতেন তিনি কিছু বলতে গেলে খুব আবেগতাড়িত হয়ে পড়তেন। খিজির খান ক্ষুব্ধ কণ্ঠে আরও বলেন, আমাদের বক্তব্য বোঝার ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই। তার কোনো ভদ্রতা জ্ঞান নেই। তিনি ভদ্রতা জ্ঞানশূন্য। তার হৃদয় কলুষিত। এর আগে কনভেনশনের বক্তব্যে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে খিজির খান বলেন, সমাধিক্ষেত্রগুলোর দিকে তাকান, যেখানে শুয়ে আছেন সাহসী দেশপ্রেমিকরা। যারা আমেরিকাকে রক্ষায় প্রাণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানে আপনি পাবেন সব ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতি নির্বিশেষে দেশপ্রেমিকদের, যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের দেশের জন্য কোন অবদান নেই। খিজির খান আরও বলেন, ট্রাম্পের মুসলিম-বিদ্বেষী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার ছেলের আত্মাহুতিকে অপমানিত করা হয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, দেশের জন্য আমার অনেক ত্যাগ আছে। আমি হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান করেছি। আমার রয়েছে ব্যাপক সাফল্য। আমি মনে করি, আমি অনেক করেছি।
এছাড়া ট্রাম্প কখনোই মার্কিন সংবিধান পড়েননি বেলে খিজির খানের অভিযোগও নাকচ করেন রিপাবলিকান এ প্রার্থী। খিজির খান তার বক্তব্যে বলেছিলেন, ট্রাম্প আদৌ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সন্নিবেশিত ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন কিনা, তা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে। এরপর তিনি ট্রাম্পকে আমেরিকার সংবিধানের একটি কপি ধার দিতে চান এবং সংবিধানে উল্লিখিত ‘স্বাধীনতা’ ও ‘সবার জন্য সমান আইন’ অধ্যায়টি ভালোভাবে পড়তে বলেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি কখনও সংবিধান পড়িনি, লাখ লাখ লোকের সামনে দাঁড়িয়ে এ কথা বলার কোনো অধিকার খিজির খানের নেই। যদিও তার অভিযোগটি মিথ্যা। এদিকে খিজির খান, তার স্ত্রী ও গোটা পরিবারকে ‘দ্য বেস্ট অব আমেরিকা’ বলে সমর্থন করেছেন ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, এটাই উপযুক্ত সময় হুমায়ন খানের মতো সেনাদের সম্মান জানানো। ‘সেলুট ফর দেম’- অভিনন্দন তাদের জন্য। আমরা তাদের সম্মান জানাই। ২০০৪ সালের ইরাক যুদ্ধে গাড়ি বোমা হামলায় নিহত হন ২৭ বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনা হুমায়ন খান।

সৌদিতে ১০ হাজার ভারতীয় অভুক্ত

গত তিন দিনে সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় কাজ হারিয়ে অসহায় দিনযাপন শুরু করেছেন। আপাতত অভুক্ত ও কর্মহীন ভারতীয়দের খাবার দেয়ার ব্যবস্থা করছে সৌদির ভারতীয় দূতাবাস। এনডিটিভি জানায়, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আরবের কর্মহীন ভারতীয়দের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক কাজ খুইয়ে প্রচণ্ড অর্থ কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। তাদের জন্য সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ওপরই তিনি কড়া নজর রাখছেন। সুষমা স্বরাজ তার টুইট বার্তায় আরও জানান, সৌদি আরবে গত তিন দিনে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক কর্মচ্যুত হয়ে চরম দারিদ্র্যের সম্মুখীন হয়েছে জানিয়ে এক ব্যক্তি তাকে টুইট করে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বলেন। এর পরেই তিনি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। সুষমা আরও বলেন, ‘সৌদি আরব এবং কুয়েতে কাজের জন্য যাওয়া বহু ভারতীয় কাজ হারিয়েছেন।
সেখানে বিভিন্ন কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্মীদের প্রাপ্য মাইনেও দেয়া হয়নি। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন তারা।’ এনডিটিভি আরও জানায়, কর্মসূত্রে বহু ভারতীয়ই সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কিন্তু হঠাৎ করে নিজের দেশ থেকে বহু দূরে বসে কাজ খোয়ানোতে প্রচণ্ড অর্থাভাবের মধ্যে পড়েছেন তারা। এই খবর এ দেশে পৌঁছানোর পর সৌদি আরবে গিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী ভিকে সিংহ। ২০১৩ সালের মে মাস নাগাদ সৌদি আরব প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, সে দেশের কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে বিদেশী কর্মী নিয়োগে বড় রকমের রদবদল করা হবে। সৌদি আরবের নাগরিকদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করতে না পেরে সে দেশে কর্মরত ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল রিয়াদ। এ জন্য বিভিন্ন কোম্পানিতে বেআইনিভাবে নিযুক্ত বিদেশী কর্মীদের দেশ ত্যাগের নোটিসও ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

পায়রা বন্দরে পণ্য খালাস শুরু আজ

দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে আজ সোমবার (১ আগস্ট) পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে এ বন্দরের কার্যক্রম শুরুর খবরে দক্ষিণ উপকূলে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ফরচুন বার্ড ৫৩ হাজার টন পণ্য নিয়ে রোববার রামনাবাদ চ্যানেলের বহির্নোঙরে পৌঁছবে। এবং সোমবার থেকেই লাইটারেজ অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে। আর এর ফলে বন্দরটি চালুর মধ্য দিয়ে নিরাপদ বাল্কপণ্যাদি নদীপথে পরিবহনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের। দক্ষিণ উপকূলীয় সাগরপারের জনপদের অর্থনৈতিক জীবনকে যেন পাল্টে দিয়েছে এ বন্দর। বন্দরকে ঘিরে প্রকল্প এলাকায় এখনও চলছে বিরামহীন উন্নয়ন কার্যক্রম। ইতিমধ্যে পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত ইটবিছানো সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা সদর কলাপাড়া থেকে সড়ক পথে রয়েছে দ্বিমুখী যোগাযোগ সুবিধা। জেলা সদর পটুয়াখালী থেকে পর্যটন শহর কলাপাড়া উপজেলা সদর হয়ে সোজা গাড়িতে মানুষ যেতে পারছে পায়রা বন্দর প্রকল্প এলাকায়। প্রতিদিন বিকালে দর্শনার্র্থীর ভিড় লেগে থাকে পায়রা বন্দরে। প্রকল্প এলাকায় টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম চালু করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপদ পানির সরবরাহে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান জানান, রামনাবাদ মোহনা থেকে কাজল, তেঁতুলিয়া নদী হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত সমুদ্রের (নৌ-পথের) গভীরতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অধিকাংশ রুটের গভীরতা সাত থেকে ১৫ মিটার। তবে মাত্র চালিতাবুনিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় খনন কাজ করতে হবে। এ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, অন্য বন্দরে জাহাজ চলাচলে যেমন জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করতে হয়। পায়রা বন্দরের সঙ্গে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে এ ধরনের সমস্যা নেই। গভীরতা বেশি থাকায় এ রুটে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচলের সুযোগ রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কাউয়ারচরে বাতিঘর স্থাপনের কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। সাগর মোহনা থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত নদীতে সিগন্যালিং বয়া এবং কিনারে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়েছে। পায়রা বন্দর থেকে কুয়াকাটাগামী মহাসড়কের রজপাড়া পর্যন্ত চার লেনের মূল সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ বছর লালুয়ার চারিপাড়াসহ আশপাশ এলাকার প্রায় সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্তের পথে। এ জন্য এ প্রকল্পের জন্য ৩শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। চারিপাড়ায় মূলবন্দরের কাজ শুরু করতে বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বন্দর চেয়ারম্যান সূত্রে জানা গেছে, এই বন্দর এলাকা এক্সক্লুসিভ জোনে পরিণত হবে। এছাড়া নৌবাহিনীকে আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে খুব শিগগিরই সাবমেরিন সংযোজিত হতে যাচ্ছে। দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দরের পাশে স্থাপিত এই স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক নৌঘাঁটিতে নৌ কমান্ডো, এভিয়েশন, জাহাজ ও সাবমেরিন বার্থিং সুবিধা থাকবে। এই ঘাঁটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যবর্তী হওয়ায় এখান থেকে নেভাল এভিয়েশান কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় নজরদারি রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাছাড়া সমুদ্রে মোতায়েনকৃত জাহাজে লজিস্টিকস সুবিধা প্রদান সহজতর হবে। এই ঘাঁটির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অপরাধ দমনে নৌবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে সাধারণ জনগণের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া নৌবাহিনী তার নিজস্ব বিভিন্ন অপারেশনাল ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের জনগণের জন্য সরকারের গৃহীত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতেও সক্ষম হবে। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের নামানুসারে প্রায় ৫০০ একর জমির ওপর স্থাপিত এই ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বানৌজা শের-ই-বাংলা’। বর্তমানে পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় এখন বিরামহীনভাবে চলছে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।

‘ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না’

আজ পহেলা আগস্ট। একটি বেদনাবিধুর মাসের শুরু। এই মাসের পনেরো তারিখে বাংলাদেশের মাটিতে একটি কারবালা-কাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। দেড় হাজার বছর আগে আরবি মহররম মাসে কারবালার মাঠে ইমাম হোসেনকে তার পরিবারের অনেক সদস্যসহ হত্যা করেছিল ক্ষমতালোলুপ এজিদের দল। আর এখন থেকে একচল্লিশ বছর আগে ইংরেজি আগস্ট মাসে বাংলাদেশের নব্য এজিদের দল সপরিবারে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার দুই কন্যা মাত্র বেঁচে গিয়েছিলেন। মহররমের মতোই আগস্ট মাস বাংলার মানুষের কাছে একটি শোকের মাস। মহররম নিয়ে নজরুল কবিতা লিখেছিলেন, ‘মহররমের চাঁদ এলো ওই কাঁদাতে ফের দুনিয়ায়।’ বঙ্গবন্ধ হত্যাকাণ্ডের সময় নজরুল ছিলেন জীবন্মৃত, স্মৃতিশক্তিহীন। তিনি যদি সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতেন, তাহলে তার কলম হয়তো আবার শোকের তরবারিতে রূপান্তরিত হতো।
মহররম যেমন বিশ্ব মুসলমানের কাছে একটি শোকের মাস, ইংরেজি আগস্ট মাস তেমনি বাংলার মানুষের কাছে একটি শোকের মাস। পশ্চিমা বিশ্বে কোনো মাস বা দিন শোকের মাস বা দিন হিসেবে চিহ্নিত হয় না। কারও মৃত্যু হলে তারা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক প্রকাশ করে। তারপর আর শোক নয়, মৃত ব্যক্তি, তিনি বিখ্যাত লোক হলেও জন্ম বা মৃত্যুদিবসে ভাবগম্ভীর পরিবেশে তাকে স্মরণ করে। তার বা তাদের জীবন ও কর্ম পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে যেসব ব্রিটিশ সৈন্য ও নাগরিক আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের জন্য এখন আর শোক প্রকাশ করা হয় না। তাদের জন্য সরকারিভাবে Rememberence day বা স্মরণ দিবস পালন করা হয়। এই স্মরণ দিবসে ঘটে ব্রিটিশ জাতির মধ্যে অভাবনীয় ঐক্যের প্রকাশ। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতা ফুলের মালা হাতে মৃত সৈনিকদের স্মৃতিস্তম্ভে এসে দাঁড়ান এবং যুক্তভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিন ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে দলমতের কোনো পার্থক্য থাকে না। তাদের এক ও অভিন্ন চরিত্রের প্রকাশ ঘটে।
এ ব্যাপারে আমাদের দেশের চরিত্র ও চেহারাটা ভিন্ন। জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন- স্বাধীনতা লাভের যুদ্ধে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, বাংলাদেশের Founding father বা স্থপতি পিতা হিসেবে যিনি বিশ্বময় স্বীকৃত, তার শোকাবহ মৃত্যু দিবসে জাতি শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরণ করলেও নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন না। এই পরম শোকের দিনটিতেও বাংলাদেশের নব্য এজিদের দলের নেত্রী তার বানোয়াট জন্মদিবসে কয়েক মণ ওজনের কেক কেটে উৎসব করেন। ভক্তদের স্তুতি শোনেন এবং রঙিন বেলুন ওড়ান। ভারতে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যাকারী নাথুরাম গডসের সমর্থক দলটি গান্ধীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আহমেদাবাদে মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব পালন করেছিল। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি তখন গান্ধী-রাজনীতির চরম বিরোধী হলেও এক বিবৃতি প্রকাশ করে গড্সের সমর্থকদের নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, ‘এর চাইতে বড় অশ্লীলতা আর কিছু হতে পারে না।’ চার্চিল-রাজনীতির ঘোরবিরোধী ব্রিটিশ লেবার পার্টির ভূতপূর্ব নেতা ক্লেমেন্ট এটলি চার্চিলের জন্মদিনে তাকে ফুল উপহার দিয়ে বলেছিলেন, ‘সিজারকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি, হত্যা করতে আসিনি।’ আর বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটির নেত্রী জাতির পিতার মৃত্যু দিবসকেও উৎসবের দিবসে পরিণত করতে চান। জাতীয় শোকের যে মাস অথবা দিবসটি যুক্তভাবে পালন দ্বারা জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তোলা যেত, সেই ভিত্তিটিকেও একটি দল ও গোষ্ঠী প্রতি বছর ভাঙতে চান আর মুখে বলেন জাতীয় ঐক্য চাই।
প্রতি বছর আগস্ট মাস এলে আমরা জাতির পিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করি। কিন্তু তাকে অন্তর থেকে স্মরণ এবং তার আদর্শে নতুন করে ব্রতী হওয়ার শপথ গ্রহণ করি কি? মহররম মাস উপলক্ষে নজরুলই আবার লিখেছিলেন, ‘ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না।’ অর্থাৎ মহররম মাসে শহীদ ইমাম হোসেন ও তার পরিবার-পরিজনের জন্য কান্না ও মর্সিয়া গীত (শোকের গীত) চাই না। চাই ইমাম হোসেনের ত্যাগের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হওয়ার শপথ। এই যুগে বাংলাদেশেও আগস্ট মাস এলেই কেবল শোকের মাতম তুললেই চলবে না, শোককে শপথে পরিণত করতে হবে। এই শপথ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষা করার। তা না করে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর মাসটিকে আনুষ্ঠানিকতার মাসে পরিণত করলে তাকে জাতীয় জীবনে ধরে রাখা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শটি কী ছিল? কেবল বারবার নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় বসা? গণবিরোধী শক্তির সঙ্গে আপস করে ক্ষমতায় থাকা? তা যদি হতো তাহলে তো তিনি সত্তরের নির্বাচনে জিতে সামরিক জান্তার সঙ্গে আপস করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। তিনি তা না করে সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন কেন? আর সেই সংগ্রামে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসে দেশের নব্যধনী এবং তাদের সামন্তবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে আপস করে ওই ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হওয়ার ব্যবস্থা না করে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের পথ ধরেছিলেন কেন এবং সেই বিপ্লবেই আত্মাহুতি দিলেন কেন? এই সত্যটি অনুধাবন করার চেষ্টা আজকাল বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই করেন কি?
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা উঠলেই আপ্তবাক্য হল, তিনি গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু সেটা কোন্ গণতন্ত্র? পশ্চিমা গণতন্ত্র? বুর্জোয়া গণতন্ত্র? না চীন ও সাবেক পূর্ব ইউরোপীয় জনগণতন্ত্র (People's democracy)? বঙ্গবন্ধু তার অভীষ্ট লক্ষ্যের নাম দিয়েছিলেন শোষিতের গণতন্ত্র। আমি বঙ্গবন্ধুকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি শোষিতের গণতন্ত্র বলতে কী বোঝাতে চান? বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি কমিউনিস্ট নই। তাই প্রোলেতারিয়েত ডিকটেটরশিপ কথাটা ব্যবহার করতে চাই না। তাছাড়া কোনো ধরনের ডিকটেটরশিপেই আমি বিশ্বাস করি না। আমি চাই সর্বহারা বা শোষিতের শাসন। কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠনও করেছিলেন এই লক্ষ্যে। দেশের নব্যধনীরা তা চাননি। তারা চেয়েছেন পশ্চিমা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের আদলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। যে ব্যবস্থায় তাদের শাসন ও শোষণ অব্যাহত থাকবে। তাই বাকশাল পদ্ধতিকে ‘একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন’ আখ্যা দিয়ে তারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। তারপর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নামে বাংলাদেশে যে ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে তা পার্লামেন্টে বিরোধী দলবিহীন একদলীয় ব্যবস্থাই। তাতে নব্যধনী ও দুর্নীতিবাজ শোষক শ্রেণীর আধিপত্য দিন দিন বাড়ছে। বাড়ছে সাম্প্রদায়িকতা ও হিংস্র মৌলবাদী তৎপরতা। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ আজ আর নেই। তার কন্যা শেখ হাসিনা প্রবল প্রতিকূলতার মুখে সেই স্বপ্নের রেশটুকু মাত্র ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার সঙ্গে আদর্শনিষ্ঠ সহযোদ্ধা কই?
আবার বছর ঘুরে আগস্ট মাস এসেছে। জাতীয় শোকের মাসে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান হবে। সুধীজন বক্তৃতা দেবেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলবেন এবং লিখবেন। তার অনুসারী দলটির নেতা ও কর্মীরা দাবি করবেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শ কী ছিল? বর্তমান পশ্চিমা বুর্জোয়া গণতন্ত্র কী? ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার হয়ে ধর্মীয় পলিটিক্যাল কালচারের অনুসরণ করা কী? বাংলাদেশী জাতীয়তার নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চর্চা করা কী? উদার অর্থনীতির নামে অবাধ লুটপাট ও শোষণের অর্থনীতি কী? পশ্চিমা গণতন্ত্রের খোলসটুকু বজায় রেখে সন্ত্রাস ও স্বেচ্ছাচারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা কী? প্রতি বছর আগস্ট মাস এলে কেবল অনুষ্ঠানসর্বস্বতা দ্বারা বঙ্গবন্ধুর জন্য শোক প্রকাশ করা নয়, ওপরের এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়া এবং তার জবাব খুঁজে দেখা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু একবার বলেছিলেন, ‘আমি মূর্তি পূজায় বিশ্বাস করি না এর একটা বড় কারণ এই যে, মূর্তি পূজায় মূর্তিটাই বড় হয়ে ওঠে। তার আত্মা ও আদর্শের সন্ধান কেউ রাখে না। তা হারিয়ে যায়।’ এই কথাটা বঙ্গবন্ধুর বেলাতেও যেন সত্য না হয়। বঙ্গবন্ধু যেন প্রতি বছর শোকের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে হারিয়ে না যান। শোক স্থায়ী নয়। কিন্তু স্মরণ স্থায়ী। বঙ্গবন্ধুকে, তার আদর্শ ও লক্ষ্যকে প্রতিনিয়ত- বিশেষ করে এই আগস্ট মাসে স্মরণ করা দরকার। নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা দরকার। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটেছে। কিন্তু তার গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে।
এই দুই মূল্যবোধ ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুনরুজ্জীবন প্রয়োজন। যেমন আন্দোলন গড়ে উঠেছিল ভাষার জন্য সংগ্রামকে কেন্দ্র করে বাঙালির লোকায়ত ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে। বঙ্গবন্ধুকে স্মরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবার সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন। বর্তমানের ভয়াবহ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র সাংস্কৃতিক আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু যখন ছয় দফার আন্দোলন শুরু করেন, তখন পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি অস্ত্রের ভাষায় ((language of weapon) এই আন্দোলন দমন করব’, বঙ্গবন্ধু জবাবে বলেছিলেন, আমি আন্দোলনের ভাষায় (language of movement) সেই দমননীতি প্রতিহত করব।’ বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথে বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভাষাই হোক বাংলাদেশের মানুষের হাতে বড় অস্ত্র। একটি সুষ্ঠু প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনই পারে আমাদের বিভ্রান্ত তরুণ সমাজকে সুস্থ করে তুলতে, ঘরে ফেরাতে। এই আগস্ট মাসে নজরুলের ভাষায় বলি, ‘মর্সিয়া, ক্রন্দন চাহি না।’ চাই বঙ্গবন্ধুকে সত্যিকারভাবে স্মরণ, তার আদর্শের পুনরুজ্জীবন। সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিরোধ। আগস্ট হোক শোকের নয়, স্মরণের মাস, শপথ গ্রহণের মাস। সংকট ও সমস্যা উত্তরণের পথ খোঁজার মাস।
লন্ডন, ৩১ আগস্ট রোববার, ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যতিক্রমী নির্বাচন এটি

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব কাঠামোতে একক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। অনেকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও যে কোনো রাষ্ট্রের তুলনায় বৈশ্বিক প্রভাব ও প্রতিপত্তিতে এগিয়ে আছে, যদিও তার রাজনৈতিক শক্তি ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, যিনি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক- বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। এসব দিক বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বরাবরই একটি আলোচিত ঘটনা যার প্রভাব বিশ্বজুড়েই দৃশ্যমান। গোটা বিশ্বের চোখ এখন ৮ নভেম্বর ২০১৬-এর দিকে, সেদিন যুক্তরাষ্ট্রবাসী আগামী ৪ বছরের জন্য বেছে নেবে তাদের ৪৫তম প্রেসিডেন্টকে। ২০১৬-এর নির্বাচনকে বেশকিছু কারণে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দেয়া যায়, যা এই লেখার প্রথম অংশে আমি তুলে ধরব। লেখার দ্বিতীয় অংশে আমি আলোকপাত করেছি এই নির্বাচন ঘিরে ভবিষ্যৎ বিশ্বকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনার প্রচলিত পুরাকথা (myth)। শেষ অংশটিতে মূলত বাস্তবতার নিরিখে আমি আলোচনা করেছি এই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্বকে প্রকৃত অর্থে কী পরিণামের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
দুই প্রেসিডেন্ট প্রদপ্রার্থী রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেট দলের হিলারি ক্লিনটনের কারণে এই নির্বাচনকে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা যায়। ১৯৩৩ সাল থেকে অদ্যাবধি যারাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তারা হয় ছিলেন সাবেক গভর্নর, সিনেটের কিংবা উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে তিনি হবেন এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম, যার এ ধরনের কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। শুধু তাই নয়, তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রবীণতম প্রেসিডেন্ট। অপরদিকে হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী এবং দ্বিতীয় প্রবীণতম প্রেসিডেন্ট, যিনি ইতিমধ্যে প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ট্রাম্পের জন্য এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে আরেকটি ইতিহাস গড়ার হাতছানি রয়েছে। ৪.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা) সমমূল্যের সম্পদের মালিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয় প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার যার তিন-চতুর্থাংশই এসেছে তার নিজস্ব অর্থ থেকে। গত চারটি নির্বাচনের প্রার্থীদের মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনায় এটি সর্বনিু। আর এ পর্যন্ত হিলারির নির্বাচনী ব্যয়ের তুলনায় এটি কেবল এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি। তাই নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রাম্পের দক্ষতার আরেকটি নজির তৈরি হবে। কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট তা নিয়ে বিভিন্ন জনমত জরিপে যেমন- গ্যালাপ ও নিউইয়র্ক টাইম নির্বাচনী জরিপে হিলারিকে এখনও কিছুটা এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার জনপ্রিয়তার ব্যবধান দিন দিনই কমছে। তা ছাড়া কে প্রেসিডেন্ট হলে বিশ্বরাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হিলারী নির্বাচিত হলে ওবামার গৃহীত অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই হিলারির নির্বাচিত হওয়াকে এক ধরনের ওবামানীতির স্থিতাবস্থা (status quo) হিসেবে উল্লেখ করা যায়।
অপরদিকে ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়াকে অনেকেই আখ্যায়িত করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির এক কালো অধ্যায় হিসেবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রচলিত পুরাকথার একটি হল- ট্রাম্পের অভিবাসী বিদ্বেষীনীতি, যার আওতায় রয়েছে অভিবাসী আইন সংশোধন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমানায় দেয়াল তৈরি করার মতো পরিকল্পনা। তাই অনেকের ধারণা, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে অভিবাসী প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহির্বিশ্বের টানাপোড়েন শুরু হবে। বিশেষ করে ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যে মুসলিম বিদ্বেষী যেসব উপকরণ লক্ষ করা যায়, তার ফলে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কেও বড় পরিবর্তনের ব্যাপারে ট্রাম্প বদ্ধপরিকর। এছাড়া অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারে ওবামার গৃহীত পদক্ষেপের পরিবর্তন, প্রচলিত আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার সংরক্ষণ এবং কর সংশোধন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো পরিকল্পনাও আছে ট্রাম্পের ওয়েবসাইটে ঘোষিত তার মূল সাতটি অবস্থানের মধ্যে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্প নির্বাচিত হলে ওবামার নির্বাহী ক্ষমতাবলে গৃহীত পদক্ষেপগুলো, যেমন- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার লক্ষ্যে পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের পরিকল্পনা, এমনকি প্যারিস চুক্তিও হুমকির সম্মুখীন হবে। ট্রাম্পবিরোধীদের মতে এটি প্রায় নিশ্চিত যে, তিনি নির্বাচিত হলে ইরান ও কিউবার মতো দেশের সঙ্গে অগ্রসরমান সম্পর্কের ক্রম অবনতি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে, যা হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
এবারের বাস্তবতার নিরিখে দেখা যাক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আমাদের কোন পথে নিয়ে যাবে। প্রথমে বলতে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রেসিডেন্টকে এমন কিছু ক্ষমতা প্রদান করেছে যার ভিত্তিতে যে কোনো বিলকে আইনে পরিণত করা, পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যুদ্ধ ঘোষণা, আইনের প্রয়োগ, বিচারপতি মনোনয়ন, রাষ্ট্রদূত এবং মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এটা মনে রাখতে হবে, এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেরও নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় সাধনের সুযোগ থাকে। তাই বলা যায়, আপাতদৃষ্টিতে প্রেসিডেন্টকে যতটা স্বাধীন মনে হয় বাস্তবে তিনি ততটা নন। তবে বর্তমানে উভয় পক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্প নির্বাচিত হলে তার পক্ষে অনেক আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন যতটা সহজ হবে হিলারির জন্য তা ততটা সহজ হবে না। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, সিনেটর বা রিপ্রেজেন্টেটিভগণ সব সময় প্রেসিডেন্টের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে বাধ্য নন। তাদের নিজস্ব মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে। উপরন্তু, সিনেটররা ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় তারা অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব ব্যক্তিসত্তার বলে দলীয় সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে থেকে মত দিয়ে থাকেন। পরিশেষে বলা যায়, ৮ নভেম্বরের সিনেট নির্বাচন যার মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ সিনেটর আগামী ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন এবং রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচন, যার মাধ্যমে মোট ৪৩৫ জন প্রতিনিধি আগামী ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন- অনেক গুরুত্ব বহন করে, যা বলে দেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচলিত পুরাকথার কতটুকু বাস্তবে রূপলাভ করবে।
শেখ সামস মোরসালিন : সহকারী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম আবাহনীর একটাই লক্ষ্য...

প্রথম ম্যাচ ড্র করে দ্বিতীয়টিতে ঘুরে দাঁড়ায় শেখ জামাল। বারিধারাকে ৫-৩ গোলে উড়িয়ে দেয় গত দু’বারের চ্যাম্পিয়নরা। আজ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেও রহমতগঞ্জকে উড়িয়ে দিতে চায় শিরোপাধারীরা। রহমতগঞ্জের মতো বারিধারার বিপক্ষেও বড় জয় পাওয়া না গেলে শিরোপার পথে প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে- এমনটাই মনে করেন শেখ জামাল কোচ। অন্যদিকে রহমতগঞ্জও কম যায় না, তারা শেখ রাসেলকে হারিয়েছে। এবার শেখ জামালকেও হারাতে চায় তারা। ক্লাবের সেক্রেটারি ইমতিয়াজ সবুজ বলেন, ‘আমাদের ‘পুঁচকে’ ভাবাটা ভুল। শেখ রাসেলের বিপক্ষে জয় দিয়ে এবং ঢাকা মোহামেডানের সঙ্গে ড্র করে দেখিয়ে দিয়েছি যে আমরাও পারি। প্রতিপক্ষের সমান পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নামব আমরা।’ আজ চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বিপিএলের তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ও রহমতগঞ্জ এমএফএস। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লড়বে।
ফেভারিট চট্টগ্রাম আবাহনীর অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম বড় জয়ে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করবেন বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার মতে, ‘চেনা মাঠ, চেনা দর্শক আর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আবারও আমাদের জয় এনে দেবে।’ প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য বড় ব্যবধানে জয় পায় বর্তমান শিরোপাধারীরা। ওই ম্যাচে ৫-৩ গোলে উত্তর বারিধারা ক্লাবকে উড়িয়ে দেয় তারা। দুই ম্যাচে এক ড্র এবং এক জয়ে শেখ জামালের পয়েন্ট চার। রহমতগঞ্জ প্রথম ম্যাচে ঢাকা মোহামেডানকে রুখে দেয় ১-১ গোলে। দ্বিতীয় ম্যাচে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে ২-০ গোলে হারায় তারা। প্রতিপক্ষের সমান পয়েন্ট রহমতগঞ্জের। এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট চট্টগ্রাম আবাহনী প্রথম ম্যাচে ঢাকা আবাহনীর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বরূপে ফেরে চট্টগ্রামের দলটি। ওই ম্যাচে ঢাকা মোহামেডানকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেন মামুনুলরা। তদেরও পয়েন্ট চার। শেখ রাসেল বারিধারা ও রহমগঞ্জের কাছে যথাক্রমে ১-০ ও ২-০ গোলে হেরেছে।

শ্যামলী দিয়ে শুরু বাংলাদেশের অলিম্পিক

৫ আগস্ট ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনিরোতে বসবে অলিম্পিক গেমসের ৩১তম আসর। ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসে প্রথম অংশ নেন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা। এবার নিজেদের নবম আসরে পাঁচটি ডিসিপ্লিনে লড়বেন বাংলাদেশের সাত ক্রীড়াবিদ। তারা হলেন সিদ্দিকুর রহমান (গলফ), মেজবাহ আহমেদ ও শিরিন আক্তার (অ্যাথলেটিকস), মাহফিজুর রহমান ও সোনিয়া আক্তার টুম্পা (সাঁতার), শ্যামলী রায় (আরচার) এবং আবদুল্লা হেল বাকি (শুটিং)। রিও অলিম্পিকে লাল-সবুজের সাত ক্রীড়াবিদের লড়াই কবে ও কোথায়, তা জেনে নেয়া যাক। ৫ আগস্ট গেমসের উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবেন বাংলাদেশের তীরন্দাজ শ্যামলী রায়। সাম্বাড্রাম স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় রিকার্ভ বো ইভেন্টের ব্যক্তিগত র‌্যাংকিং রাউন্ডে খেলবেন তিনি। সেই বাধা পেরোতে পারলে খেলবেন ১/৩২ এলিমিনেশন রাউন্ডে। ৬১৮ পয়েন্ট ছিল শ্যামলী রায়ের সেরা স্কোর। আর চার বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কি কোবে ৬৭১ পয়েন্ট অর্জন করে জিতে নিয়েছিলেন স্বর্ণ। ৮ আগস্ট অলিম্পিক গেমসের তৃতীয় দিনে শুটিং রেঞ্জে দাঁড়াবেন বাংলাদেশের আবদুল্লা হেল বাকি। অলিম্পিক শুটিং রেঞ্জে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে খেলবেন গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে রুপাজয়ী এই শুটার।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ছয়টায় তার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এই রাউন্ড পেরোতে পারলে তিনি খেলবেন ফাইনাল রাউন্ডে। বাকির ক্যারিয়ারসেরা স্কোর ৬২৭/৬২৮ পয়েন্ট। কিছুদিন আগে ব্রাজিলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ৬২২.৮ স্কোর করে তিনি ৩০তম স্থান অর্জন করেছিলেন। বাকি যদি তার এ স্কোর অব্যাহত রাখতে পারেন, তাহলে তিনি হয়তো বাছাই রাউন্ড পেরিয়ে ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছতে পারবেন। তবে পদক জয় অনেক দূরে। কারণ গত অলিম্পিকে রুমানিয়ার অ্যালিন মোলদিভিয়ানু ৭০২.১ স্কোর করে জিতেছিলেন স্বর্ণ। আর র‌্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে থাকা ড্যানিশ শুটার মাগনুস বাকেনের স্কোর ছিল ৬৯১.৫। ১১ আগস্ট রিও অলিম্পিক গলফ কোর্সে ব্যক্তিগত স্ট্রোক প্লে’তে খেলতে নামবেন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি অলিম্পিকে যাওয়া সিদ্দিকুর রহমান। বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে চারটায় লড়াইয়ে নামবেন তিনি। অলিম্পিক র‌্যাংকিংয়ে ৫৬তম হয়ে সর্বপ্রথম বাংলাদেশী খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করা সিদ্দিকুরের বর্তমান বিশ্ব র‌্যাংকিং ৩১০। তার চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা বহু গলফারই খেলবেন ১১২ বছর পর অলিম্পিক গেমসে ফেরা গলফে। তবুও যেহেতু গলফ হবে ব্যক্তিগত ইভেন্টে, তাই কিছুটা হলেও আশাবাদী সিদ্দিকুর।
রিও’র উদ্বোধনী ভেন্যু অলিম্পিক স্টেডিয়াম। মাদার ইভেন্ট অব গেমসখ্যাত অ্যাথলেটিকসের বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে। ১২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে ট্র্যাকে নামবেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। ২২ সেকেন্ডের এই প্রিলিমিনারি রাউন্ড টপকাতে পারলে তার জায়গা হবে রাউন্ড-১-এ। তার ক্যারিয়ারসেরা টাইমিং ১১.৯৯ সেকেন্ড। অন্যদিকে পরদিন ট্র্যাকে নামবেন দেশের দ্রুততম মানব মেজবাহ আহমেদ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় প্রিলিমিনারি রাউন্ডে খেলতে নামবেন তিনি। পুরুষদের ইভেন্টে ৭১ ও মহিলাদের ইভেন্টে ৫৬ জন অ্যাথলেটের নাম নিবন্ধন হয়েছে বলে জানা গেছে। লন্ডনে উসাইন বোল্ট ৯.৬৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জিতেছিলেন আর অষ্টম স্থান অধিকারী আসাফা পাওয়েল নিয়েছিলেন ১১:৯৯ সেকেন্ড। মেজবাহর সেরা টাইমিং ১০.৪৩ সেকেন্ড। তবে এটা হ্যান্ডটাইমিং, যা ইলেকট্রনিক্স টাইমিংয়ে আরও আধা থেকে এক সেকেন্ড বেড়ে যাবে। অলিম্পিক হিটের নিবন্ধন মান পুরুষদের ক্ষেত্রে ১০.১৬ সেকেন্ড এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১১.৩২ সেকেন্ড। ফলে এক্ষেত্রে বলাই যায়,
বাংলাদেশের এই দুই অ্যাথলেট অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। সাঁতারে গেমসের ষষ্ঠ দিনে ১১ আগস্ট অলিম্পিক অ্যাকোয়াটিকস স্টেডিয়ামে পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল হিটে বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় পুলে নামবেন মাহফিজুর রহমান সাগর। ২০১২ সালে সাগর লন্ডনে ২৪.৬৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৫৮ জন সাঁতারুর মধ্যে ৩৯তম হয়েছিলেন তিনি। আর নিজ হিটে হয়েছিলেন চতুর্থ। বর্তমানে তার সেরা টাইমিং ২৪.০২ সেকেন্ড। এ ইভেন্টে ফ্রান্সের ফ্লোরেন্স মানডাউ ২১.৩৪ সেকেন্ড নিয়ে অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতেছিলেন। আর লন্ডনে যিনি অষ্টম হয়েছিলেন সেই অস্ট্রেলিয়ান ইমন সুলিভান সময় নিয়েছিলেন ২১.৯৮ সেকেন্ড। বর্তমানে বিশ্বচ্যাম্পয়নশিপে এটি ২১ সেকেন্ডের কাছাকাছি চলে এসেছে। সাগরের পরীক্ষার পরদিনই মহিলাদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল হিটে সোনিয়া আক্তার টুম্পা একই সময়ে পুলে লড়বেন সেই হিটে। টুম্পার সেরা টাইমিং ৩০.৮৫ সেকেন্ড, যা দিয়ে প্রাথমিক পর্ব পার হওয়ার আশাও করা যায় না। কারণ লন্ডন অলিম্পিকে মহিলাদের সর্বনিু টাইমিং ছিল ২৪.৬৯ সেকেন্ড। তাই অলিম্পিকে এখন পর্যন্ত হিট পেরোনোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের সাঁতারুদের জন্য।

অনিশ্চিত ছবির কাজে পূর্ণিমা

‘টু বি কন্টিনিউ’। একটি অনিশ্চিত যাত্রার ছবির নাম। পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমি। প্রায় চার বছর আগে এ ছবির কাজ শুরু হয়েছিল। বেশির ভাগ অংশের শুটিং শেষ করেছিলেন পরিচালক। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে ছবিটির কাজ শেষ পথে এসে বন্ধ হয়ে যায়। এ ছবিতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করছেন পূর্ণিমা। আশার কথা হল, তিন বছর পর আবারও এ ছবির কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এ ছবিতে ডাবিং করেছেন পূর্ণিমা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছবিটি আদৌ মুক্তি পাবে কী না সেটা জানি না। তবে পরিচালক আবার ডেকেছেন ডাবিং করার জন্য। তাই সেটা করলাম।’ যদিও মাঝপথে কাজ থেমে যাওয়ার পেছনে পূর্ণিমার সাংসারিক ব্যস্ততাও দায়ী। ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পর সন্তানসম্ভবা হন এ নায়িকা।
তাই কিছুটা সময় নেন বাকি কাজ শেষ করার। গেল দুই বছর পূর্ণিমা পুরোপুরি ফ্রি থাকলেও পরিচালক থেকে কোনো ডাক না পেয়ে নিজেও চুপ ছিলেন। অন্যদিকে মুক্তি পেলেও এ ছবির ব্যবসা সফলতা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। কারণ সিনেমা শিল্পের ধরন বদলে গেছে। অন্যদিকে এ ছবির নায়ক সঙ্গীতশিল্পী তাহসান। পূর্ণিমাও অনেকদিন সিনেমা থেকে দূরে। তাই সময়ের পরিক্রমায় তাহসান-পূর্ণিমাকে দর্শক কতটা গ্রহণ করবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রসঙ্গত, বিয়ের পর প্রায় দুই বছর অভিনয় থেকে দুরে ছিলেন পূর্ণিমা। গেল ঈদে নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ছোট পর্দায় প্রত্যাবর্তন করলেও সিনেমায় এখনও দেখা যায়নি। যদিও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের একটি ছবিতে তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। গেল ঈদে প্রায় হাফ ডজনের মতো নাটকে অভিনয় পূর্ণিমা। আসছে ঈদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সব ধরনের ছবির জন্যই প্রস্তুত আমি

*নতুন ছবি ‘প্রেমী ও প্রেমী’র কী খবর?
**জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘প্রেমী ও প্রেমী’ সিনেমায় আমার অভিনীত চরিত্রটি খুবই স্বাভাবিক। আমার ব্যক্তি জীবনের সঙ্গে এ সিনেমায় অভিনীত চরিত্র সীমান্তের সঙ্গে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ছবিটির কাজ সম্পূর্ণ শেষ। এখন শুধু মুক্তির অপেক্ষায়।
*ঢাকাই ছবিতে নিজের অবস্থান কতটা তৈরি করতে পেরেছেন বলে মনে করেন?
**আসলে ইন্ডাস্ট্রিতে আমি কতটা কী করতে পেরেছি জানি না। তবে দর্শকদের ভালোবাসায় বেশ সিক্ত হতে পেরেছি। যেখানেই যাচ্ছি দর্শকদের প্রাণভরা ভালোবাসা পাচ্ছি। এছাড়া আগের চেয়ে হাতে ছবির ব্যস্ততাও বাড়ছে। মনে বিশ্বাস জন্মেছে, নায়ক হিসেবে দর্শকদের মনে ঠিকই জায়গা পেয়েছি।
*যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণের ধারণাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
**যৌথ প্রযোজনা যদি ব্যালেন্সড হয় তাহলে পজেটিভ। আর যৌথ প্রযোজনা যদি ইমব্যালেন্সড হয় তাহলে নেগেটিভ। বর্তমানে অনেক ইমব্যালেন্সড যৌথ প্রযোজনার প্রজেক্টও আছে। কিন্তু সেই ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। এ ধরনের অনেক ছবিই আছে যেগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই সেখানে বাংলাদেশের কোনো অস্তিত্ব আছে। এটাকে আমি যৌথ প্রযোজনার ছবি বলতে চাই না। একটি প্রজেক্ট মনে হতে হবে যে এটা আমাদের প্রোডাক্ট। ছবি দেখে যদি তাতে বাংলাদেশ আছে বোঝা না যায় সেটাকে কীভাবে বাংলাদেশের ছবি বলব।
*নিজেকে কোন ধরনের সিনেমার জন্য যোগ্য মনে করেন আপনি?
**আমি প্রথমত একজন শিল্পী, তারপর নায়ক। আর একজন শিল্পীকে সব ধরনের কাজের জন্যই তৈরি হতে হয়। আসলে নিজেকে সব ছবির জন্যই প্রস্তুত মনে করি। যখনই দেখব কোনো ছবিতে আমার কাজ করার মতো জায়গা রয়েছে সেক্ষেত্রে ইংরেজি কিংবা চাইনিজ সিনেমা হলেও সেখানে আমি অভিনয় করতে পারব বলে বিশ্বাস রাখি।
*যৌথ প্রযোজনার ছবি নাকি দেশীয় একক প্রযোজনা- কোনটাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন?
**আসলে কলকাতা এবং আমরা একই ভাষায় প্রেম নিবেদন করি। একই ভাষায় মাকে ডাকি। কিন্তু ভাষা এক রকম হলেও মাঝে রয়েছে একটি বেড়া। আমি তার দর্শক, সেও আমার দর্শক। পুরো পৃথিবীর কাছে আলাদা হতে পারে কিন্তু আমার কাছে আমরা সবাই বাংলাভাষী। আমি বাংলাভাষায় কাজ করি। আমার ভাষা যার বোধগম্য হবে আমি তার জন্য কাজ করব। আমি আমার সময় সিনেমার প্রযোজকের কাছে বিক্রি করি। এখানে যৌথ প্রযোজনা নাকি দেশীয় প্রযোজনা কোনোটাকে বেশি প্রাধান্য দেয়ার কিছু নেই। দেশের প্রতি ভালোবাসা রেখে ভালো কাজের প্রস্তাব এলেই আমি অভিনয় করি। অনিন্দ্য মামুন