Monday, January 20, 2020

গিবত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক পাপ by জুবায়ের রশীদ

ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ সর্বত্র আজ গিবতের ছড়াছড়ি। কোরআন ও হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী, জঘন্যতম এ পাপ মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। জেনে-বুঝে কখনও নিজের অজান্তে গিবতে জড়িয়ে পড়ছে মানুষ। বাজার, হাট, দোকান, মার্কেট থেকে শুরু করে পবিত্র মসজিদ, সাধারণত চাষাভুষা, অজ্ঞ-মূর্খ থেকে আলেম বিদ্বান কেউ মুক্ত নয়। এটি নিত্যনৈমিত্তিক একটি ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। তা যে মহা অন্যায়, কবিরা গোনাহ সে বোধটুকুও হারিয়ে গেছে। যেসব কারণে সমাজের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বিনষ্ট হয়, সমাজ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়, সামাজিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়, পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়, তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো গিবত, যা মানুষকে নিকৃষ্টতম প্রাণীতে পরিণত করে। মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) মানুষকে এ নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে বিরত থাকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘আর তোমরা কেউ কারও গিবত করো না, তোমরা কি কেউ আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? একে তোমরা অবশ্যই ঘৃণা করবে।’ (সূরা হুজুরাত : ১২)।
গিবতের পরিচয় : গিবত শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দোষ বর্ণনা করা, পরচর্চা করা, পরনিন্দা করা, কুৎসা রটনা করা, পিছে সমালোচনা করা ইত্যাদি। পরিভাষায় গিবত বলা হয় ‘কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ বর্ণনা উল্লেখ করা, যা সে গোপন রেখেছে অথবা যা জনসম্মুখে বলাকে সে অপছন্দ করে। গিবতের বাস্তবসম্মত পরিচয় দিয়েছেন স্বয়ং রাসুল (সা.), যা নিম্নের এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুসুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে একদা জিজ্ঞেস করেছেন, গিবত কাকে বলে, তোমরা জান কি? জবাবে সাহাবায়ে কেরাম বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। অতঃপর নবীজি বলেন, তোমার কোনো ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তা-ই গিবত। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি যে দোষের কথা বলি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলেও কি গিবত হবে? উত্তরে তিনি বললেন, তুমি যে দোষের কথা বল, তা যদি তোমার ভাইয়ের থাকে; তবে তুমি অবশ্যই তার গিবত করলে আর তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে না থাকে; তবে তুমি তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছ।’ (মুসলিম : ৬২৬৫)।
গিবতের ভয়াবহ পরিণাম : গিবত ইসলামি শরিয়তে হারাম ও কবিরা গোনাহ। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা অগ্র-পশ্চাতে দোষ বলে বেড়ায়।’ (সূরা হুমাজাহ : ১)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মিরাজের সময় আমাকে এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, যাদের নখ ছিল তামার। তারা তাদের মুখম-ল ও দেহ আঁচড়াচ্ছিল। আমি জিবরাইল (আ.) কে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তিনি বললেন, এরা নিজ ভাইদের গিবত করত ও ইজ্জতহানি করত।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/২২৪)। হজরত কায়স বলেন, ‘আমর ইবনুল আস (রা.) তার কতিপয় সঙ্গী-সাথিসহ ভ্রমণ করছিলেন। তিনি একটি মৃত খচ্চরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যা ফুলে উঠেছিল। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! কোনো ব্যক্তি যদি পেট পুরেও এটা খায়; তবু তা কোনো মুসলমানের গোশত খাওয়ার চেয়ে উত্তম।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ : ৭৩৬)। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার রাসুল (সা.) কে সাফিয়্যাহ (রা.) এর উচ্চতা সম্পর্কে কিছু বলেছিলেন। রাসুল (সা.) প্রত্যুত্তরে বলেন, ‘তুমি এমন এক কথা বলেছ, তা যদি সাগরের পানির সঙ্গে মেশানো হতো; তবে সাগরের পানি কালিমাযুক্ত হয়ে যেত।’ (আবু দাউদ : ৪৮৭৫)। গিবতের ক্ষতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, যে ব্যক্তির গিবত করা হয় তার আমলনামায় গিবতকারীর গিবত পরিমাণ নেকি চলে যায় এবং গিবতকারীর আমলনামায় যার গিবত করা হয় তার সে পরিমাণ গোনাহ চলে আসে। এজন্যই হজরত হাসান বসরি (রহ.) যখন শুনতে পেতেন তার সম্পর্কে কেউ গিবত করেছে, তখন তিনি সেই ব্যক্তির জন্য অনেক ফল ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন দ্রব্য হাদিয়া হিসেবে পাঠিয়ে দিতেন এবং বলতেন, মাশাআল্লাহ তিনি আমার অনেক উপকার করেছেন। গিবত হচ্ছে গোনাহে কবিরা বা বড় গোনাহ।
ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত করা যেমন নিষেধ, তেমনি গিবত শোনাও নিষেধ। যে গিবত শোনে, সে-ও পাপের অংশীদার হয়ে যায়। হাদিসে আছে, যখন কেউ তোমার সঙ্গে বসে অন্যের গিবত করে তখন তাকে থামতে বলো। আল্লাহর হুকুমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবধান করো। আর যদি তাতেও কাজ না হয় সেখান থেকে উঠে চলে আসো। কোনোভাবেই গিবত শোনা যাবে না।
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যদি কারও গিবত করে ফেলা হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার তথা ক্ষমা চাইবে। কাফফারা তথা ক্ষতিপূরণস্বরূপ যার গিবত করা হয়েছে তার জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করে দোয়া করবে। হাদিসে এসেছে, তুমি যার গিবত করেছ তার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফেরাতের দোয়া করবে। এভাবে বলবে, হে আল্লাহ! আপনি আমার ও তার গোনাহগুলো মাফ করে দিন।
যাদের গিবত করা জায়েজ : সাধারণত গিবত হারাম ও কবিরা গোনাহ। তবে কয়েকটি ক্ষেত্র এমন রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনবোধে গিবত করা জায়েজ। তার মধ্যে মজলুম ব্যক্তি জালেমের বিরুদ্ধে শাসক, বিচারক অথবা এমন কারও কাছে অভিযোগ করতে পারে, যে তাকে জালেম ব্যক্তির বিরুদ্ধে ন্যায় পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কোনো খারাপ কাজ বন্ধের উদ্দেশ্যে এবং ত্রুটি সংশোধনের জন্য কোনো ব্যক্তির দোষ এমন ব্যক্তির কাছে বলা, যে তা সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে। মুফতির কাছে মাসআলা জানতে গিয়ে প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তির দোষত্রুটি বলা যাবে।
যেমন- ‘আমার ভাই’, ‘আমার স্বামী’ অথবা ‘অমুক’ আমার সঙ্গে ‘এই’ অন্যায় করেছে; তার কি এমন করার অধিকার আছে? বিয়ে, ব্যবসায় ইত্যাদি বিষয়ে কারও কাছে পরামর্শ চাইলে তার দোষ-গুণ স্পষ্টভাবে বলে দেবে, যা সে জানে। সমাজে প্রকাশ্যে পাপ কাজ, বেদাত বা গোমরাহির প্রসার ঘটাচ্ছে যারা, তাদের দোষত্রুটির সমালোচনা করা জায়েজ। কেউ যদি নির্দিষ্ট উপনামে অথবা ছদ্মনামে সমাজে পরিচিত হয়; তবে তাকে চেনার উদ্দেশ্যে ছদ্মনাম বা খারাপ উপনামে ডাকতে পারবে।

সারপোলে জাহাব শহরের সুন্দর দর্শনীয় নিদর্শন

বিশাল একটি দেশ ইরান। এ দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাস-ঐতিহ্য, পুরাতত্ত্ব আর সংস্কৃতির বিচিত্র সমৃদ্ধ উপাদান।
গত আসরে আমরা গিয়েছিলাম ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দর প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ শহর কেরমানশাহে। কেরমানশাহ প্রদেশের দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনার সঙ্গেও আমরা খানিকটা পরিচিত হয়েছিলাম। একটি ঐতিহাসিক শাফেয়ী জামে মসজিদ। তুর্কিদের মসজিদের ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে এই মসজিদটি। এই মসজিদের বিশাল বিশাল মিনার পুরো শহরের সৌন্দর্য ব্যাপক বৃদ্ধি করেছে।
আরেকটি হলো কেরমানশাহ বাজার। এই বাজারের ভেতরে আবার শাখা বাজারও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সোনার বাজার, ইসলামি বাজার এবং তোপখানা বাজারের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বাজারটির কাঠামো বেশ দৃষ্টিনন্দন। প্রাচীন কাঠামোর সঙ্গে আধুনিকতার সংমিশ্রণে গড়ে তোলা হয়েছে এর স্থাপত্যশৈলী। যার ফলে যে কোনো পর্যটকই প্রথম দেখাতেই বাজারের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে পারেন না। যাই হোক এরকম আরো একটি স্থাপনা হলো সারপোলে জাহাব শহর। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে এই শহরটিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বলাবাহুল্য এই শহরটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও সারপোল জাহাব শহরের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক অনাবিল দৃশ্য নান্দনিক মনের লোকদেরকে এখনও আকৃষ্ট করে। পর্যটকদের ভিড় তাই এই শহরে একটুও কমে নি। কেরমানশাহ প্রদেশ সফরে গিয়ে কেউ যদি সারপোলে জাহাব শহরে বেড়াতে না যায় সেটা হবে খুবই দু:খজনক। কেননা এই শহর এবং শহরের আশেপাশে যেসব সুন্দর সুন্দর এবং দর্শনীয় নিদর্শন রয়েছে সেগুলো না দেখাটা ঠিক হবে না। সারপোলে জাহাব শহরটি গড়ে উঠেছে প্রাচীন হালাভন শহরের ধ্বংসাবশেষের কাছে। এরই পাশে রয়েছে শাসানীয় শাসনামলের ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গটি। সারপোলে জাহাব ছিল সীমান্ত ঘাঁটি এবং কেল্লা। এর অবস্থান ছিল পাকিস্তান-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায়। আরবরা যখন ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল তখন কেল্লাটি ধ্বংস হয়ে যায়। এই শহরটি এখন তেহরান-বাগদাদ মহাসড়কের কাছে পড়েছে। সারপোলে জাহাব শহরের আরেক প্রান্ত মিলেছে পার্বত্য এলাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমির সঙ্গে। এখানেই রয়েছে বিখ্যাত দালাহু পর্বতগুলো এবং রিজাব নামক সুন্দর এলাকা।
সারপোলে জাহাব শহরের উপকণ্ঠেই রয়েছে 'পিরন' নামে একটি গ্রাম। এই গ্রামটি দালাহু পর্বতগুচ্ছের সবুজের সমারোহপূর্ণ উপত্যকার ওপরে গড়ে উঠেছে। গ্রামটি এতোই সুন্দর যে যে-কোনো ইরান-পর্যটককেই আকর্ষণ না করে পারে না। এই গ্রামের পাশেই রয়েছে সবুজ উদ্ভিদময় জঙ্গল। এইসব জঙ্গলে রয়েছে সুন্দর সুন্দর এবং বড় বড় চেনর গাছ, তাব্রিজি বৃক্ষ, আখরোট ও ডুমুর এবং অন্যান্য গাছের সমাহার। চমৎকার উপভোগ্য এই পরিবেশে অবকাশ যাপন করতে আপনি খুবই প্রশান্তি উপলব্ধি করবেন নি:সন্দেহে। এই গ্রামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসটি হলো ঝরনা। অনেক উপর থেকে এই ঝরনার জলপতনের দৃশ্য বেশ দূর থেকেও দেখা যায়। ওই ঝরনার কাছে যেতে হলে সারপোলে জাহাব শহর থেকে আনুমানিক নয় কিলোমিটার গেলে শলন নামে একটি গ্রাম পড়বে। ওই গ্রাম থেকে পণেরো মিনিট হেঁটে গেলে ঝরনা সমৃদ্ধ গ্রামের দেখা মিলবে।
পিরন ঝরনার কথা বলছিলাম আমরা। সম্ভবত বিদেশি পর্যটক তো বটেই এমনকি ইরানি ভ্রমণবিদরাও হয়তো ভাবতেও পারেন না যে ইরানের ভেতর এক শ মিটার লম্বা কোনো ঝরনা থাকতে পারে। তাদের জন্য আশার কথা হলো এই যে, এই ঝরনাটি সত্যিই শতাধিক মিটার লম্বা। বেশ দ্রুত গতিতেই এই ঝরনার পানি নীচে পড়ে। এখানে গেলে আরও দেখা যাবে পর্বতারোহীদের ডিগবাজি খেলা। সেই উঁচু চূড়া থেকে পর্বতারোহীদের নীচে নেমে আসার দৃশ্য যে কাউকেই আকর্ষণ না করে পারে না। কেবল এই ঝরনাই নয়, মূলত সারপোলে জাহাবের আশেপাশের এলাকা দর্শনীয় বহু নিদর্শনে পূর্ণ বলা যায়। এখানে রয়েছে অবকাশ যাপনের জন্য উপযোগী জঙ্গল বা বনাঞ্চল। পতক নামক গ্রামের ভেতরে বিদ্যমান এই বনের নাম হলো ইমাম আব্বাস। এই পতক গ্রামটিকে পবিত্র গ্রাম নামেও অভিহিত করা হয়।
এর কারণ হলো এই গ্রামের প্রাকৃতিক সকল উৎসকে খুব যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই গ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে গ্রামের সকল পরিবারের ঘরে ঘরে। তাই এরকম নাম। এখানে রয়েছে 'জিয মানিযেহ' নামক একটি প্রাচীন দূর্গ। হাজার বছর আগের এই দূর্গটি পাথর দিয়ে বানানো হয়েছে। এটি একটি শাহী দূর্গ। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও মন কেড়ে নেয়া সুন্দর। সব মিলিয়ে পতক গ্রামটি পরিণত হয়েছে একটি পর্যটক আকর্ষণীয় স্পটে। পুরো কেরমানশাহ প্রদেশের মধ্যে এই গ্রামটি অনন্য সাধারণ একটি স্থান। যেখানে গেলে কেরমানশান প্রদেশ বেড়াতে যাওয়াটা সার্থক বলে মনে হবে যে-কোনো পর্যটকের কাছে।
সারপোলে জাহাব শহরের কথা বলছিলাম আমরা। এই শহরের পাশ্ববর্তী মহাসড়কগুলোও আমাদেরকে অসম্ভব সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকে নিয়ে যাবে খুব সহজেই। উদাহরণ হিসেবে রিজব মহাসড়কের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এই রিজব মহাসড়ক ধরে যেতে যেতে পথেই পড়বে চমৎকার আবহাওয়াময় সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো গোছানো সবুজ গ্রামের পর গ্রাম। এই গুচ্ছগ্রামই রিজব নামে পরিচিত। এই রিজব মহাসড়কের শেষ প্রান্তে রয়েছে একটি কবর। বাবা ইয়দেগারের কবর এটি। বিখ্যাত এই কবরে যেতে হলে কিংবা এখানকার বিনোদন কেন্দ্রে যেতে হলে একটু হাঁটতে হবে। বর্ণনা থেকে নিশ্চয়ই আঁচ করা যায় যে বাবা ইয়দেগার হলো একটি পবিত্র কবরস্থান এবং এর পাশেই রয়েছে একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্র। কবরটি আকাশচুম্বী পাথুরে পাহাড়ের উচ্চতায় অবস্থিত। চারদিকে রয়েছে অনেক বড় বড় প্রাচীন গাছ গাছালি। সব মিলিয়ে পুরো দৃশ্য বেশ আকর্ষণীয়। এখানকার হিম শীতল হাওয়া অতিথি পর্যটকদের জন্য সর্বোত্তম উপহার।

ট্রাভেল এজেন্সি ছাড়াই অল্প খরচে সিকিম! by ওয়ালিউল বিশ্বাস

গ্যাংটক
সিকিমের রাতগুলো একটু বেশি গভীর। রাজধানী গ্যাংটকে রাত ৯টার সময় মনে হলো মধ্যরাত। নিজেদের পায়ের শব্দে নিজেরাই আঁতকে উঠছি। পাহাড়ের ওপর শহর। তাই হোটেল খুঁজতে কখনও পাহাড়ের গাঁ বেয়ে নামতে হচ্ছে, কখনও উঠতে হচ্ছে। যে হোটেলেই যাই, দামে ঠিক পড়ে না বা পছন্দ হয় না।
শেষ অবধি ভাগ্য সহায় হলো। হোটেল মিললো। ভাড়া প্রতি রাত ১৮০০ রুপি। দোতলার রুমে গিয়ে তো আমাদের চক্ষু চড়কগাছ! ১৮০০ রুপিতে এমন রুম পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের বিষয়। লাক্সারি রুম। চোখ বন্ধ করে এই রুমের ভাড়া ৩ হাজার রুপি হওয়ার কথা!
ভাড়া কম হওয়ার বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারিনি। ঠিক পরের দিন বোঝা গেলো। সকালে নাশতা সেরে হোটেলে ফেরার পর রুমে এলো বেয়ারা। সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিলো, রুম ছাড়তে হবে! এটা একদিনের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তার দিকে তাকিয়ে মনে হলো– সে হয়তো বজ্রদেবতা, মুখ দিয়ে বজ্রপাত ঘটাচ্ছেন।
আকস্মিক এমন নির্দেশনার ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। নিজেদের সামলে রিসিপশনে ম্যানেজার বাবুর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। তিনি মুখে অমায়িক সুন্দর হাসি রেখে কথা দিয়ে মোটামুটি বুকে ছুরি চালিয়ে দিলো! তার কথায়, ‘রুম ভাড়া নেওয়ার সময় গতকাল রাতে আপনাদের বলেছিলাম, এটা একদিনের জন্য। লাচুং থেকে আমাদের অতিথি আসবে। রুমটা ছেড়ে দিতে হবে।’
আমার নিশ্চিত মনে আছে, আমাদের মধ্যে এমন কোনও কথা হয়নি। হোটেলে ঢুকে রুমের ভাড়া জেনেছি, তারপর রুম দেখে আর নিচে নামিনি। রাতে খাবার খাওয়ার সময় বুকিং মানি ও নাম-ঠিকানার কাগজ পূরণ করেছি। আমার ভ্রমণসঙ্গী সাহিত্যিক আশিক মুস্তাফার কাছে জানতে চাইলাম, আসলেই ভদ্রলোক এমন কথা বলেছিলেন? সেও ‘না’ সূচক মাথা ঝোঁকালো। এমন কোনও কথাই সে শোনেনি। ম্যানেজার বাবুকে কিছুক্ষণ যুক্তি দিলাম। কিন্তু ভদ্রলোক ‘তালগাছটা আমার’ ভাব ধরে আছেন। কোনও লাভ হলো না। অগত্যা রুম ছেড়ে নতুন হোটেলের সন্ধানে বের হলাম। কোথায় বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির কাছে গিয়ে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর দরদাম করবো, তা আর হলো না!
একবার ভাবলাম পাশের পুলিশ হেডকোয়ার্টারে একটা নালিশ ঠুকে দিই। কিন্তু নিরিবিলি একটু ঘুরতে গেলে মন খারাপের কাজ না করাই ভালো। তাই আর ঝামেলায় যাইনি।
গ্যাংটক শহর
গ্যাংটক শহর
সিকিমে ঢোকার মুখ থেকেই যেন নানাবিধ নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়েছি। গাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে বাংলাদেশি, নেপালি আর বিদেশিদের জন্য ভিন্ন নিয়ম ও তরিকায় হাঁফ ধরে যায়। এরপর তো আছে গ্যাংটক থেকে সিকিমের বিভিন্ন গ্রামে যাওয়ার ট্যুরিস্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ ও নিয়ম। এতোশত নিয়ম মনে রাখাও বিশেষ দক্ষতা। এখানকার মানুষগুলো যেন সেগুলোতে খুব দক্ষ! সেই সঙ্গে আছে অনুমতি নেওয়ার মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
বিষয়টি একটু খোলাসা করে বলি। পুরো সিকিম ঘোরার জন্য প্রথমে যেতে হবে রাজধানী গ্যাংটকে। সড়কপথ বেছে নিলে বাংলাবান্ধা বা চ্যাংড়াবান্ধা থেকে আসতে হবে শিলিগুড়ি। এরপর সেখান থেকেই শুরু হবে ধকল। বাংলাদেশি বা নেপালিদের এমনকি অন্য বিদেশিদের আলাদা জিপ নিতে হয়। জোট বেঁধে নিতে চাইলেও তারা নেবে না। এরপর গ্যাংটকে ঢোকার আগে লাগবে অনুমতি। যেমন, পাসপোর্টে অ্যারাইভাল (আগমন) ও ডিপারচার (বহির্গমন) তারিখ বসাতে হয়।
গ্যাংটকে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা বা রাত। সেখানে থাকতেই হবে। সারারাত ভেবে ঠিক করবেন কোন স্পট বা গ্রামে যাবেন। গ্যাংটক থেকে এগুলোর প্রায় প্রতিটির দূরত্ব ৫-৬ ঘণ্টার। একটি রুটে যেতে পারবেন সারাবছর, তা হলো বরফঘেরা জিরো পয়েন্ট। এ পথে মিলবে ইয়ামথাং ভ্যালি ও লাচাং।
কাটাও বা সাঙু লেক গেলে আলাদা রুট। এসব স্পটে যাওয়া ও সেখানে থাকার জন্য ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করে। এগুলোতে যেতে, থাকতে ও খেতে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার প্যাকেজ আছে।
ইয়ামথাং ভ্যালি
ইয়ামথাং ভ্যালি
তবে মজার বিষয় হলো, একটু সাহসী ও বুদ্ধিমান হলে এই রুটগুলো প্রায় অর্ধেক খরচে শেষ করা যাবে। জিরো পয়েন্ট যাওয়ার সময় ড্রাইভারের কথায় তা বোঝা গেছে। একটা ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানকে আমরা ছয়জন মিলে দিয়েছি ১৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ড্রাইভারকে তারা দিয়েছে ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ ১১ হাজার টাকার মধ্যে আমাদের এক রাত থাকা এবং রাত, সকাল ও দুপুরের খাবার। যে মানের খাবার পেয়েছি তাতে জনপ্রতি তিনবেলা ৩০০ রুপি খরচ। সেই হিসাবে ছয়জনের ১৮০০ রুপি লেগেছে। অর্থাৎ একরাতের দুটি রুমের খরচ রাখা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ রুপি! অথচ মাত্র ২ হাজার রুপিতে এগুলো ব্যবস্থা করা সম্ভব!
তাই নিজেই যদি কোনও সহযোগিতা ছাড়া কম খরচে সিকিম ভ্রমণ করতে চান, তাহলে তিনটি কাজ করতে হবে।
১. ৮-৯ সদস্যের বড় দল নিয়ে বেড়াতে যাওয়া।
২. গাড়িচালকদের সহযোগিতা নেওয়া।
৩. হোটেলগুলোতে ফোন করে আগেই দরদাম করে ফেলা।
লাচাং গ্রামের একটি কটেজ
লাচাং গ্রামের একটি কটেজ
দল বড় থাকলে একটা জিপ নিজেরাই ভাড়া করে নেওয়া সম্ভব। এতে বাংলাদেশি বা বিদেশি বলে আলাদা করে দেওয়ার সুযোগ থাকে না। কারণ আটজনের জন্যও যত ভাড়া, দুই জনের জন্যও একই।
আগে থেকে হোটেলগুলোতে যোগাযোগ রেখে বা বুকিং দিয়ে গেলে হুট করে বের করে দেওয়ার মতো বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে না। সিকিম সরকার তাদের ওয়েবসাইট অসাধারণ সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে। রেজিস্টার্ড ৪০০টি হোটেল-মোটেলের তথ্য রয়েছে এতে। এছাড়া প্রদেশগুলোর গ্রামে আবাসিকে থাকার জন্য আরও ৯০০ কটেজের ঠিকানা আছে।
* নিবন্ধিত ৪০০টি হোটেল-মোটেলের তথ্য জানতে ক্লিক করুন:

* প্রদেশগুলোর গ্রামে থাকার তথ্য জানতে ক্লিক করুন:
গ্যাংটকের পৌঁছার পর ভালো একজন ড্রাইভার খুঁজে নিলে সুবিধা হয়। তিনিই স্পটগুলোতে নিয়ে যাবেন। চাইলে সেসব স্পটের হোটেলে কম খরচে থাকার ব্যবস্থা করে দেবেন। ওয়েবসাইট থেকে হোটেল বেছে নেওয়ার সুযোগ তো আছেই।
জিরো পয়েন্টের রাস্তায়
জিরো পয়েন্টের রাস্তায়
সিকিমের বিভিন্ন প্রদেশে ঢুকতে অনুমতি লাগে। এক্ষেত্রে ড্রাইভারের সহযোগিতা চাইলে তিনিই সব ব্যবস্থা করবেন। চাইলে নিজেও ব্যবস্থা করা যায়।
সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর ফোন নম্বরের জন্য ক্লিক করুন:

সব মিলিয়ে সিকিম ট্যুরের জন্য ৮-৯ জনের দল জরুরি। আর সহায়িকা হিসেবে খুব গোছানো ওয়েবসাইট দেখে নিতে ক্লিক করুন:
ভালো কথা, ভাষা একই হলেও কলকাতা বা বিহারের লোকজনের চেয়ে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতা বেশি নেবেন। তাদের হৃদয় অনেক বড়!
>>>ছবি: লেখক

কখনোই ফ্রিজারে রাখবেন না এই খাবারগুলো

অনেকেই ফ্রিজ আর ফ্রিজারের তফাৎটা বোঝেন না। তারা ভাবেন, যে খাবার ফ্রিজে রাখা যায় তা হয়তো ফ্রিজারেও রাখা যাবে। আসলে কিন্তু তা নয়! মূলত কাঁচা মাছ, মাংসই ফ্রিজারে রাখা ভালো। ভুল খাবারটি ফ্রিজারে রাখলে যেমন খাবারটা নষ্ট হবে তেমনি আপনি অসুস্থও হতে পারেন! দেখে নিন কী কী খাবার ফ্রিজারে রাখা একেবারেই উচিত নয়-
১) দুধ
দুধ সংরক্ষণ করার জন্য ফ্রিজারে রাখলে পানি কেটে যেতে পারে। তা খাওয়াটা বিপজ্জনক নয়। কিন্তু এই দুধ দিয়ে কোনো খাবার আসলে তৈরি করা যায় না।
২) আলু
আলুতে পানির পরিমাণ বেশি। তাই ফ্রিজারে রাখলে কাঁচা আলু পরে নরম হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে রান্না করা আলু ফ্রিজারে রেখে দিতে পারেন, তার স্বাদে তেমন তারতম্য হবে না।
৩) ভাজা খাবার
ফ্রিজে রাখলে ভাজা খাবারের মুচমচে ভাবটা চলে যায়। আপনি যদি ভাজা কোনো খাবার ফ্রিজারে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চান, তাহলে তেলে না ভেজে একে বেক করে নিতে পারেন।
৪) কাঁচা ডিম
কাঁচা ডিম জমাট বাঁধলে এর খোসায় ফাটল ধরতে পারে। ফলে এর ভেতরে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে পড়তে পারে। আপনি যদি কাঁচা ডিম ফ্রিজারে রাখতে চান, তাহলে ডিম ভেঙে ভালো করে বিট করুন। এরপর তা একটি এয়ারটাইট কন্টেইনারে রেখে দিন।
৫) নরম পনির
দুধ যেমন ফ্রিজারে রাখা উচিত নয়, তেমনি নরম পনিরও রাখা উচিত নয়। ফ্রিজার থেকে বের করার পর তা পানি পানি হয়ে যাবে। ফলে ক্রিম চীজ, সাওয়ার ক্রিম বা রিকোটা ধরণের পনির ফ্রিজারে না রাখাই ভালো। একইভাবে দইও ফ্রিজারে না রেখে ফ্রিজে রাখুন।
এসব খাবার ফ্রিজারে রাখলে নষ্ট হয় স্বাদ-গন্ধ। ছবি: সংগৃহীত
৬) কাঁচা ফল ও সবজি
ফল ও সবজিতে সাধারণত পানির পরিমাণ বেশি থাকে। ফ্রিজারে রাখলে ফল ও সবজির ভেতরে থাকা পানি জমে বরফ হয়ে যায় এবং এসব খাবারের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। ফলে এগুলোকে ফ্রিজারে না রেখে সাধারণ ফ্রিজে রাখাই ভালো।
৭) কিছু মশলা
রসুন ফ্রিজারে রাখলে অতিরিক্ত তেতো এবং দুর্গন্ধযুক্ত মনে হতে পারে। এছাড়া পিঁয়াজ ও পাপরিকার ফ্লেভার পাল্টে যায়, গরম মশলার সুগন্ধ কমে যায়। রসুনের মতোই মরিচ, লবঙ্গ এবং ভ্যানিলা এসেন্সের স্বাদ পাল্টে যায়।
৮) মেয়নেজ
ভাজাভুজির সাথে মেয়নেজ খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। তারা যদি ভাবেন কমদামে মেয়োনেজ পেয়ে ফ্রিজারে রেখে দেবেন আর কয়েক মাস ধরে খাবেন, তা সম্ভব নয়। অনেকটা দুধের মতোই মেয়নেজ পানি ছেড়ে দেয় এবং দলা পাকিয়ে যায় ফ্রিজে রাখলে।
৯) ভাত ও পাস্তা
শর্করা জাতীয় এ দুইটি খাবার রান্না করে ফ্রিজারে রাখলে নরম ও আঠা আঠা হয়ে যেতে পারে। তা খাওয়াটা বিপজ্জনক নয়, কিন্তু খুবই বিস্বাদ লাগবে।
১০) একবার বের করা মাংস
ফ্রিজারে মাংস রেখে দিয়েছেন। একে বের করে গলিয়ে নিলেন। কিছুটা মাংস রান্নার জন্য রেখে বাকিটুকু আবার ফ্রিজারে ঢুকিয়ে দিলেন। এটা কিন্তু করা যাবে না! কারণ একবার মাংসের বরফ গলানোর সময়ে এতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে খুব দ্রুত। এ কারণে একবার খাওয়ার মতো কম পরিমাণে ভাগ ভাগ করে মাংস ফ্রিজারে রাখুন। খুব বেশি পরিমাণে মাংস বের করে ফেললে তা রান্না করে তারপর আবার ফ্রিজ বা ফ্রিজারে রাখতে পারেন, কাঁচা নয়।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
>>>রূপকেয়ার

হৃদরোগকে কিভাবে প্রতিরোধ ও বিপরীতমুখী করা যায়? by ডা: গোবিন্দ চন্দ্র দাস

ধমনিগত হৃদরোগের সব থেকে যুক্তিসঙ্গত সমাধান পাওয়া যায় একটি স্থায়ী পদ্ধতি বা প্রণালীতে, যা কেবল ধমনির অবরোধকে আয়ত্তে আনে না... উপরন্তু একে বিপরীতমুখীও করে তোলে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে এই অবরোধ তৈরি হয়েছে কোলেস্টেরল রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ড বেষ্টনকারী ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এবং ধমনির অভ্যন্তরের দেয়ালে সঞ্চিত হয়। এই পদার্থগুলোর বেশির ভাগ নরম চর্বিপিণ্ড প্রথিত (সূক্ষ্মভাবে বোনা) কোষ দ্বারা সংযুক্ত এবং বিপরীতমুখী অবস্থায় থাকে। অধুনা প্রমাণিত হয়েছে যে, কোলেস্টেরল এবং চর্বি সহজে রক্তে দ্রবীভূত করা যায় এবং এগুলোকে বেছে অবরোধ অবস্থা থেকে সরিয়ে নেয়া যায়, যদি এই পদ্ধতিকে কার্যকর করার জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ বা অবস্থা সৃষ্টি করা যায়।
এই আদর্শ পরিবেশ বা অবস্থা সৃষ্টি অত্যন্ত আবশ্যক। করোনারি আর্টারি ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড রিগ্রেশন (সিএডিপিআর) হৃদরোগ নিরাময় কর্মসূচি সাহায্য করে এবং রোগীকে প্রশিক্ষণ দেয় কিভাবে এক সাথে সব বিপদসৃষ্টিকারী উপাদানগুলোকে নির্মূল করা যায়। যতœসহকারে কিছু যোগ ব্যায়াম নির্বাচন করে, ধ্যানের অভ্যাস এনে এবং একই সাথে বাস্তবিক সম্ভব উপায়ে মানসিক চাপ প্রশমন করে একটা আদর্শ অবস্থা কিভাবে সৃষ্টি করা যায়। ধমনিগত হৃদরোগ সম্পর্কে পরিপূর্ণ শিক্ষা ও বোধ তৈরি করা, তামাক সেবন ও ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং খাদ্য সচেতনতা আনা হচ্ছে এই প্রশিক্ষণের অঙ্গ। এই প্রশিক্ষণ নির্দেশ দেয় কিভাবে একটা যথাযথ জীবন ধারণ প্রণালী অনুসরণ করা যায়, যার দ্বারা ধমনির অন্তঃস্থ অবরোধকে বিপরীতমুখী করে তোলা যায় এবং রোগীকে আগের সুস্থ অবস্থায় আনা যায়। এসব করতে হয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের, চিকিৎসকদের, পথ্য বিশেষজ্ঞদের এবং যোগ ব্যায়ামের শিক্ষকদের নির্দেশনায়। যার দ্বারা হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে উদ্ভূত জটিলতা এড়ানো যায়।
সব হৃদরোগী রোগ প্রতিরোধের কিছু কিছু উপায় সম্পর্কে অল্প বিস্তর বা সামান্য জানেন এবং এগুলো অভ্যাস করেন যথেষ্ট নির্ভুলভাবে নয় এবং সঙ্গতিপূর্ণ নিয়মিত নয়। ফলে সব প্রচেষ্টাই বিফল হয় এবং শেষ পর্যন্ত শল্যচিকিৎসার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। এ ধরনের ঘটনা না ঘটলে রোগীরা কখনো হাসপাতালে যেতেন না।
‘সিএডিপিআর প্রোগ্রাম’ গত ৫-৬ মাস ধরে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রচেষ্টার দ্বারা এই বিশেষ জ্ঞান তৈরি করেছে। প্রত্যেক রোগী, যারা এই কর্মসূচির প্রারম্ভিক অধ্যায়ে যোগদান করেছেন, তারা এই কর্মসূচিকে ধীরে ধীরে উন্নত করে তুলতে সাহায্য করেছেন। হৃদক্রিয়ার অচলাবস্থা বা অন্য সব জটিলতা বহুল পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।
‘সিএডিপিআর প্রোগ্রাম’ কোনো জাদু নয়- এটা কোনো জাদুকরের মতো বা দেবতার মতো কাজ করে না- যারা এক মুহূর্তে অবরোধ দূর করতে পারেন। অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হয় প্রাথমিক উন্নতির লক্ষণ দেখার জন্য। উন্নতি নির্ভর করে রোগীর প্রচেষ্টার ওপর, তার বয়স, তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা এবং অনুরূপ বিষয়গুলোর ওপর। সিএডিপিআর প্রোগ্রামে যোগদানের পর আমাদের রোগীদের পূর্বাপেক্ষা উন্নতির যে লক্ষণ আমরা পেয়েছি, যেগুলো প্রমাণ করে যে, ব্লকেজ বা অবরোধকে বিপরীতমুখী করা যায় অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে সারানো যায়।
কোনো কিছু শেখার ব্যাপারে বই পড়া একটা ভালো পথ... কিন্তু সেটাকে হাতে-কলমে প্রয়োগগত প্রশিক্ষণের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায় না।
তৎসত্ত্বেও যা নিশ্চিতভাবে সাহায্য করে, তা হচ্ছে একটা ঘটনা- যখন আপনি এমন একজনকে পেয়েছেন, যিনি আপনার প্রয়োজন মতো সব জ্ঞাতব্য বিষয় আপনাকে জানাতে পারেন- ‘সিএডিপিআর সেন্টারে হৃদরোগ কর্মসূচি তৈরি হয় যোগ ব্যায়াম, ধ্যান, হৃৎপিণ্ডের পুনর্নবীকরণ ব্যায়াম এবং খাদ্য তালিকার সমন্বয়ে।
লেখক : অধ্যাপক, ইমুনোলজি বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।
চেম্বার : হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার, ৫৭/১৫ পান্থপথ, ঢাকা। ফোন : ০১৭১১৫৯৪২২৮