Tuesday, February 16, 2016

এবার পর্ন ছবিতে রাখি সাওয়ান্ত!

বলিউডে পা রাখার পর থেকেই সানি লিওনের উপর বেজায় নাখোশ ছিলেন রাখি সাওয়ান্ত। কারণ রাখি মনে করেন সানির আগমনে দর্শকদের মাঝে তার আবেদন অনেকটাই ক্ষীণ হয়েছে।

তাই সুযোগ খুঁজছিলেন সানিকে টেক্কা দেওয়ার। আর সে কারণে রাখি এবার নিজেও ঘোষণা দিলেন শিগগিরই পর্ন ছবিতে অভিনয় করবেন বলে!

সম্প্রতি সানির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন বলিউডের মি. পারফেকশনিষ্ট খ্যাত আমির খান। তারপর আমির নিজে সানির সাথে নাকি সাক্ষাতও করে ফেলেছেন। বিষয়টি নিয়ে রাখির যেন গা জ্বলছে!

তাই রাগের মাথায় রাখি বলেই দিয়েছেন, ‘সানি তোমার সাথে দেখা করতে আমিরও ছুটে আসে, শোনা যাচ্ছে সে নাকি তোমার সাথে কাজ করতেও আগ্রহী। তবে আরেকটা ভালো খবর আছে। সেটা হচ্ছে আমিও শিগগিরই পর্ন ছবিতে নামছি।’

রাগের বশে এমন কথা বললেও সত্যিই তিনি নীল জগতে পা বাড়াবেন কিনা সেটা নিয়ে মুখ খোলেননি। একজন পর্নস্টার হিসেবে তবে কি রাখি সত্যিই পর্ন জগতে পা বাড়াচ্ছেন? বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে রাখি ভক্তদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

শোক -মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন আহম্মদ

পঞ্চগড় পেৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, শ্রমিক নেতা নাজিমউদ্দিন আহম্মদ (৬৮) গত বুধবার গভীর রাতে ঢাকায় ইনে্তকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি হূদরোগে ভুগছিলেন এবং উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তঁার মৃতু্যতে পঞ্চগড় পেৌরসভায় গতকাল বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং পেৌরসভা মিলনায়তনে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ শুক্রবার জানাজা শেষে বেলা ১১টায় পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তঁাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। তঁার মৃতু্যতে স্থানীয় সাংসদ নুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

দয়া করে সার্টিফিকেট থেকে মুক্তি দিন! by মলয় ভৌমিক

মধ্যবয়সী এক ভদ্রমহিলা আমার রবীন্দ্র কলাভবনের কক্ষে এলেন। চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। সঙ্গে তাঁর এইচএসসি পাস ছেলে। এসেছেন মেহেরপুর থেকে। সময়টা গেল বছরের আগস্ট মাস। প্রথম বর্ষ সম্মান ভর্তি পরীক্ষার মাস দুই আগের ঘটনা। কথায় কথায় জানতে পারি, ভদ্রমহিলা আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠীর স্ত্রী। এসেছেন সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে একটা সুপরামর্শ পেতে। আগের বছর চেষ্টা করেও ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়নি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় যথেষ্ট ভালো ফল করেছে। নানা কোচিং সেন্টার, নামকরা সব প্রাইভেট টিউটরের কাছ থেকে প্রশ্ন দাগিয়ে নেওয়া, ছেলেকে নিয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে বেড়ানো, বিপুল অর্থ ব্যয়েও কোনো কার্পণ্য করেননি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের বছরের প্রার্থীর আবেদনের সুযোগ নেই। কাজেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ই শেষ ভরসা।
আমি কী পরামর্শ দেব? আমার বন্ধুর সন্তানকে আরও ‘ভালো’ কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি করে দিতে বলব? অস্বস্তিকর একটা অবস্থা। একপর্যায়ে হঠাৎ করেই আমি আমার সহপাঠীর স্ত্রীকে বলে ফেলি: ভর্তি পরীক্ষার এখনো কিছুদিন বাকি, আপনি দয়া করে আপনার ছেলেটিকে একা চলতে দিন! এরপর ছেলেটিকে জানাই, আমাদের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় দূরে থাক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম দিনেও বাবা অথবা মায়ের সন্তানের সঙ্গে যাওয়ার চল ছিল না। অভিভাবক আর কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করে তুমি তো একবার ব্যর্থ হয়েছ, সবকিছু দূরে ঠেলে এবার অন্তত নিজের ওপর ভরসা রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে পার কি? আমার কথায় ছেলেটি সম্মতিসূচক মাথা নাড়ালেও মা খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেন না। বলা বাহুল্য, মা এবং সন্তান কেউই আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
মাস ছয়েক আগের ওই ঘটনাটি আমার নতুন করে মনে পড়ল গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি খবর দেখে। প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবরটির শিরোনাম ছিল ‘স্কুল-কলেজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোচিং সেন্টার’। বগুড়া সদর উপজেলার খবর। সেখানে স্কুল ও কলেজের সংখ্যা ১৯৮টি। আর কেবল লাইসেন্স পাওয়া কোচিং সেন্টারের সংখ্যাই ৩৬০। এ ছাড়া রয়েছে ‘প্রাইভেট হোম’ বা ব্যক্তি শিক্ষকের বাড়ি, যেখানে একসঙ্গে একদল (ব্যাচ) শিক্ষার্থী গিয়ে পড়তে পারে। সন্দেহ নেই, বগুড়া সদরের ওই খবরটি সারা দেশকেই প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থাৎ সব স্থানের চিত্র একই।
শিক্ষার্থীরা কেবল তাদের অভিভাবকদের ওপর নয়, নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কোচিং সেন্টারগুলোর ওপরও। স্কুলের পাঠদান যথেষ্ট কি না অথবা স্কুলগুলোতে কী পড়ানো হয়—এসব নিয়ে কেউ আর প্রশ্ন তুলছেন না। কোচিং সেন্টারের অপরিহার্যতা এখন সমাজ স্বীকার করেই নিয়েছে। নির্ভরশীলতার শেষটা অবশ্য এখানেই নয়, এরপর রয়েছে বিষয়ভিত্তিক প্রাইভেট টিউটর, নোট বা গাইড বই এবং সর্বোপরি নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক লেখাপড়া। ক্রমাগত পরনির্ভর করে ফেলার এই মোক্ষম উপাদানগুলো একজন শিক্ষার্থীর ওপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করছে, তার বর্ণনাও পাওয়া যায় বগুড়ার ওই খবরটিতে।
আমার নিকট আত্মীয়ের এক সন্তানের কথা জানি। ওই সন্তানটিকে প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগে ঘুম থেকে জাগানো হয়। একের পর এক শিক্ষকের বাড়ি ঘুরিয়ে তাকে পাঠানো হয় স্কুলে। সেখান থেকে কোচিং সেন্টার হয়ে অন্য শিক্ষকদের বাড়ি। দুপুরের পর থেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে সন্তানটি। সন্ধ্যার আগে ঘুমে চোখের পাতা ভারী হয়ে ওঠে। আধা ঘুমের মধ্যে রাত ১১টা নাগাদ যখন ঘরে ফিরে আসে, তখন স্কুল-পোশাক না খুলেই বিছানায় এলিয়ে পড়ে সে। তাকে খাওয়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায়ও মা তাকে পরদিনের প্রস্তুতির কথা শুনিয়ে চলেন। পড়ার আতঙ্কে সন্তানটি ঘুমের ঘোরেও কোনো একজন শিক্ষকের দেওয়া প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করতে শুরু করে। সূর্য ওঠার আগে ঘুম ভাঙলেও এই সন্তানটি সূর্যোদয় দেখার সুযোগ পায় না। বিকেলে খেলার মাঠ তাকে ডাক দিয়ে যায়, কিন্তু সে ডাকে সাড়া দেওয়ার উপায় নেই তার। এভাবে প্রকৃতি-গাছপালা-প্রাণিজগৎ, সমাজ-বন্ধু-স্বজন থেকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন করে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার উত্তর কিন্তু মা-বাবারও জানা নেই। এসব ঘটনা সহ্যের অতীত। কিন্তু সন্তানটিকে তা সহ্য করতেই হয়। কেননা, তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে তারই মা-বাবার চাপিয়ে দেওয়া ‘গোল্ডেন এ প্লাস’-এর স্বপ্ন।
এত দিন এই চাপটা বেশি ছিল কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীর ওপর। ইদানীং পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা চালুর কল্যাণে এখন তা শিশুদের ওপরও আছর করেছে। হাতেনাতে এ ধরনের আছরের ফল পেতে অবশ্য বিলম্ব হয়নি। ফলাফল জানান দেওয়া হয়েছে খোদ সরকারের সর্বশেষ ‘একাডেমিক তদারকি প্রতিবেদনে’। প্রতিবেদনটির চুম্বক অংশ গত মাসের শেষ সপ্তাহে দেশের প্রায় সব জাতীয় দৈনিকে ছাপাও হয়েছে। এর মূল কথা হলো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫৪ শতাংশ শিক্ষক এখনো সৃজনশীল পদ্ধতি আয়ত্ত করতে পারেননি। ‘সৃজনশীল’ বোঝার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অবস্থা যখন এ রকম, তখন শিক্ষার্থীরা কতটা সৃজনশীল হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবকে সৃজনশীল পদ্ধতি না বোঝার জন্য দায়ী করা হয়। কিন্তু নিজে সৃজনশীল না হলে কি সৃজনশীল পদ্ধতি বোঝা সম্ভব? নির্ভরশীলতা আর সৃজনশীলতার অবস্থান তো বিপরীতমুখী। বিরাজমান সমাজবাস্তবতায় সৃজনশীল হয়ে ওঠার সুযোগ কোথায়? নতুন প্রজন্মের শিক্ষকেরা এই বাস্তবতা থেকেই উঠে আসা।
আজকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার কাজটা করে দিচ্ছেন অভিভাবক, প্রাইভেট টিউটর, কোচিং সেন্টার আর গাইড বই। শিক্ষার চাহিদার বাইরে অন্যান্য চাহিদা পূরণের জন্যও শিক্ষার্থীকে প্রায় কিছুই করতে হচ্ছে না। প্রায় সব সমাধানই সে পেয়ে যাচ্ছে প্যাকেজ আকারে। প্রকৃতি-সমাজ-মানুষের মুখোমুখি হওয়ারও তার বালাই নেই। অর্থাৎ সে কোনো কিছুই তার চারপাশের বাস্তবতাকে মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা থেকে শিখছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুবাদে ৩৪ বছর ধরে প্রতিবছর এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চ বিদ্যাপীঠে আগমন লক্ষ করছি। এই বিদ্যার্থীদের নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটার চর্চায় যুক্ত আছি গত ৩৮ বছর। থিয়েটারের স্থানটি অনেক বেশি সৃজনশীল। কিন্তু বছর যত পেরোচ্ছে হতাশার পাল্লা তত ভারী হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, তারা নিজে থেকে প্রায় কিছুই করতে পারে না। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে প্রায় সবাই ভীষণভাবে নির্ভরশীল। তারা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো ঠিকঠাক দেখতে পায় না। ইতিহাস, ঐতিহ্য-সমাজ-দেশ-মানুষ সম্পর্কেও তাদের ধারণা খুব স্বচ্ছ নয়। অথচ সার্টিফিকেট বলছে তারা ‘মেধাবী’।
মেধার সার্টিফিকেট-সংক্রান্ত একটি গল্প দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। গল্পটি একটি নাটকের। মুখে খোঁচা দাঁড়ি আর মলিন পোশাকে এক ভদ্রলোক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকলেন। বললেন: স্যার আপনি হয়তো আমাকে চিনতে পারেননি। ১৫ বছর আগে আমি এই বিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরিয়ে যাই। ওই সময়ে আমি ছিলাম বিদ্যালয়ের সব থেকে মেধাবী ছাত্র।
মেধাবী কথাটি শুনে প্রধান শিক্ষক তাঁর ছাত্রটিকে চিনতে পারেন। চা-বিস্কুট খাওয়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁকে বাধা দিয়ে ভদ্রলোক পুনরায় বলতে থাকেন: না স্যার, আমি চা খেতে আসিনি। এই বিদ্যালয় থেকে পাস করার পর আমি উচ্চশিক্ষা লাভ করি। এরপর গত সাত-আট বছর বিভিন্ন স্থানে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খাপ খাওয়াতে পারিনি কোথাও। বুঝেছি, এমন কিছু আমি শিখিনি, যা দিয়ে বাস্তবকে মোকাবিলা করা যায়। আমি ব্যর্থ হয়েছি স্যার। আমার জীবনে আপনাদের দেওয়া সার্টিফিকেটের আর কোনো মূল্য নেই। তাই আমি এসেছি সার্টিফিকেট ফেরত দিতে। দয়া করে এই সার্টিফিকেটটি গ্রহণ করে আমাকে মুক্তি দিন!
মলয় ভৌমিক: অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; নাট্যকার।

তদবিরের জন্য জিয়ার আত্মীয়স্বজনদের কেউ বঙ্গভবনে আসার সাহস পায়নি

কাফি খান ছিলেন, ‘ভয়েস অব আমেরিকার’ সংবাদ পাঠক। ১৯৭৭ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব পদে নিয়োগ পান। খুব কাছ থেকে জিয়াকে দেখেছেন তিনি। তার বর্ণনা অনুযায়ী, আত্মীয়স্বজনদের কেউ কোনো তদবিরের জন্য বঙ্গভবনে বা তার বাসায় আসার সাহস পায়নি। তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অফিসের ধারেকাছেও আসতেন না বা আসতে পারতেন না। তাকে একমাত্র দেখা যেত রাষ্ট্রপতি জিয়া কোনো রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে গেলে সেখানে তার সফরসঙ্গী হিসেবে। তা-ও সব সফরে নয়। এছাড়া কোন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান বাংলাদেশ সফরে এলে প্রটোকলের স্বার্থে বেগম জিয়া রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নিতেন। তিন-চার হাজার টাকার মতো বেতন পেতেন। সেখান থেকে ১৫০ টাকা রাষ্ট্রপতির রিলিফ ফান্ডে জমা দিতেন। বাকি টাকাটা দিয়ে সংসার চালাতেন।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার সদ্য প্রকাশিত ‘বিএনপি সময়-অসময়’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লিখেছেন। মহিউদ্দিন আহমদ আরও লিখেছেন, জিয়ার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন তার একজন কড়া সমালোচক, জাসদের ঢাকা নগর কমিটির সাবেক কমান্ডার আনোয়ার হোসেন। তার মতে: প্রথমত জিয়াকে সেনাবাহিনীতে একজন জাতীয়তাবাদী হিসেবে মনে করা হতো। দ্বিতীয়ত, বেতারে আপতিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের সুবাদে মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে পরিচিত সেনানায়কে পরিণত হন তিনি। তৃতীয়ত, সে সময়কার অধিকাংশ সেনা অফিসারের বিপরীতে জিয়া ছিলেন তুলনামূলকভাবে সৎ।
জিয়ার বিরোধিতা হয়েছিল সামরিক বাহিনীর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি। তাকে ১৭-১৮টি অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টা সামাল দিতে হয়েছিল। অভ্যুত্থান দমনে জিয়া ছিলেন সুকঠোর, ক্ষমাহীন ও নির্দয়। জিয়ার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানত দুটো উদাহরণ দেয়া হয়। একটি হলো লে. কর্নেল আবু তাহেরের ফাঁসি এবং অন্যটি হলো ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের অভ্যুত্থান দমনের নামে হাজারের বেশি সৈন্যকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া। ২ অক্টোবর-পরবর্তী ঘটনাটি ছিল মর্মান্তিক। অনেকেই জানতেন না, তাদের অপরাধ কী। তাদের অনেকের লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এঁদের অন্যতম ছিলেন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সংগঠন করপোরাল আলতাফ হোসেন। হত্যা করে তার লাশ গুম করে ফেলা হয়েছিল।
তাহেরের ফাঁসি ছিল একটা ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’। তবে এটা জিয়ার একক সিদ্ধান্ত ছিল না। এর পেছনে সামরিক বাহিনীর সব কর্মকর্তারই সায় ছিল। মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারতো দাবিই করেছিলেন, ফাঁসি না দিলে তিনি কোমরের বেল্ট খুলে ফেলবেন, অর্থাৎ সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেবেন। ওই সময় সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তা তাহেরের পক্ষ নিয়েছিলেন বলে জানা যায় না।

আতঙ্কে ৯০ লাখ এটিএম গ্রাহক

তিনটি ব্যাংকের ৬টি এটিএম বুথে চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় ৯০ লাখ গ্রাহকের মাঝে। চুরির ঘটনার পর সন্দেহভাজন তিন শতাধিক এটিএম কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে আগামী এক মাসের মধ্যে সব এটিএম বুথে এন্টি স্কিমিং ডিভাইস লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুরির ঘটনার পর গ্রাহকদের এটিএম কার্ড ব্যবহারে অনীহাও দেখা দিয়েছে। কার্ড সারেন্ডারের মতো ঘটনাও ঘটেছে। একটি  বেসরকারি ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার জানিয়েছেন, গতকাল কয়েকজন গ্রাহক এটিএম কার্ড সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করেছেন। বলেছেন, তারা আর কার্ড ব্যবহার করবেন না। তারা কার্ড ব্যবহারে অনিরাপদবোধ করছেন। এ সময় তারা চেকের মাধ্যমে লেনদেনের আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে ওই ব্যাংকার জানান। যোগাযোগ করা হলে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, এক ধরনের শঙ্কা সবার মাঝে বিরাজ করছে। তবে শঙ্কায় শঙ্কিত না হয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে মনোনিবেশ করতে হবে। মুশকিলের বিষয় হলো এ ধরনের ঘটনা সাধারণ গ্রাহককে বোঝানো সম্ভব নয়। এটা বিশ্বে অহরহ ঘটে। একবার এ ধরনের এক বৈশ্বিক খবর পেয়ে আমি নিজেও এটিএম কার্ড বন্ধ করে দেই। পরে অবশ্য ভীতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। অপর একটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভীষণ চিন্তায় রয়েছি। এটিএম বুথ ব্যাংকের সবচেয়ে লাভজনক একটি প্রকল্প। এটি কোনো কারণে গ্রাহকের আস্থা হারালে ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি শাখা খোলায় যে খরচ তা দিয়ে ২০টি এটিএম বুথ দেয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। বেসরকারি একটি ব্যাংকের গ্রাহক মারুফ জানান, পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে এটিএম কার্ড বন্ধ করে দেব। সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে তিন শতাধিক এটিএম কার্ড নিষ্ক্রিয় বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এসব কার্ডের বিপরীতে নতুন কার্ড দেয়া হবে। চুরির ঘটনার সময় তিন ব্যাংকে যে সব কার্ড শো করা হয়েছে আপাতত সে সব কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনটি টিম কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই একটি সমাধান খুঁজে পাবো। এ বিষয়ে আগামী ১৮ই ফেব্রুয়ারি বৈঠক ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে এক মাসের মধ্যে দেশে কার্যরত সব ব্যাংকের বুথে ‘অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস’ লাগানোর নির্দেশ দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত জালিয়াতি রোধ ও লেনদেন ঝুঁকিমুক্ত করতে ব্যাংকের এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথে ‘অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস’ স্থাপন বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইস্কান্দার মিয়া স্বাক্ষরিত ওই সার্কুলারে বলা হয়, এখন থেকে নতুন বুথ স্থাপনের সময় এ ‘অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস’ লাগাতে হবে। বর্তমানে যেসব বুথ আছে এক মাসের মধ্যে সেগুলোতে এটি স্থাপন করতে হবে। এতে বলা হয়, প্রতিদিন এটিএম বুথে লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে সব ব্যাংককে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সন্দেহজনক বিষয় থাকলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সার্কুলারে বলা হয়, জালিয়াতি প্রতিরোধে এটিএম বুথে নিয়োজিত প্রহরীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এটিএম বুথে টুপি ও সানগ্লাস পরিধানকারী এবং ব্যাগ বহনকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। টাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনে এসএমএস দিয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তথ্য দিতে হবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের টাকা ফেরত প্রদান করার জন্য ব্যাংকের দায় চিহ্নিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করছে।
এর আগে গত শুক্রবার ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে ২০ জনের বেশি গ্রাহকের এটিএম কার্ড থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে ইউসিবিএল ও সিটি ব্যাংকের নামও বেরিয়ে আসে। তবে দুই ব্যাংকের কোনো ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রের সঙ্গে বিদেশিদেরও হাত রয়েছে। এ ঘটনায় দেশের বেশির ভাগ ব্যাংকই এটিএম বুথগুলো থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের সেবা দেয়া বন্ধ রাখে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়াকড়ি নির্দেশনায় সেবাটি খুলে দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কড়া বার্তায় বলা হয়, এটিএম বুথগুলোতে আন্তঃব্যাংকিং বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। গ্রাহকদের স্বার্থই সবার আগে। ব্যাংকগুলো যদি এমনটি করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশেষত কেউ যদি স্বেচ্ছায় বন্ধ করে তবে তা খতিয়ে দেখা হবে। এরপর ব্যাংকগুলো সেবাটি আবার চালু করে। বর্তমানে ৮৫ লাখের মতো এটিএম কার্ড ব্যবহারকারী রয়েছেন। ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক রয়েছে আরও ৫ লাখ। বিপরীতে সব ব্যাংকের ৭ হাজারের মতো এটিএম বুথ রয়েছে।
মামলা ডিবিতে: বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ‘স্কিমিং ডিভাইসে’র মাধ্যমে টাকা চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলাটি নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির একজন পরিদর্শক মামলার নথিপত্র বুঝে নেন। মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, এটিএম বুথ থেকে স্কিমিং ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকের ডেবিট কার্ডের তথ্য ও পাসওয়ার্ড চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরি করে টাকা তুলে নিয়েছে একটি চক্র। এই চক্রের সঙ্গে একাধিক বিদেশি নাগরিক জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে জড়িত বিদেশি নাগরিকরা যাতে দেশ ছেড়ে যেতে না পারে সেজন্য তাদের ছবি স্থল ও আকাশপথের ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বুথ থেকে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য বিষয় বিশ্লেষণ চলছে। একই সঙ্গে এই  জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)-এর পক্ষ থেকে বনানী থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইন ও পেনালকোডের ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরেই তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ। তদন্ত সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন এটিএম বুথের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আফ্রিকান কোনো একটি দেশের নাগরিক ক্লোন কার্ড দিয়ে টাকা তুলছে। তার সঙ্গে দেশীয় নাগরিকও রয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, দেশি এজেন্টদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক কোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড  জালিয়াতি চক্র স্কিমিং ডিভাইসের মাধ্যমে বুথ থেকে টাকা চুরি করছে। এই চক্রটিকে শনাক্তের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করার জন্য সম্ভাব্য দেশের নাগরিক হিসেবে ছবির সঙ্গে তার নথিপত্র মিলিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ শাখা এসবি’র ইমিগ্রেশন শাখার সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে গতকাল পর্যন্ত জড়িত বিদেশি নাগরিকদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা যায়নি।

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকার মামলা

রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় দিনে ৩১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এগার হাজার ৫৫২ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার আদালতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি মানহানির মামলা হয়। গত ৯ ও ১১ই ফেব্রুয়ারি ৫টি, রবি ও সোমবার ১৩টি করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও প্রজন্ম লীগের নেতারা মোট ৩১টি মামলা করেন। অপর একটি মামলা করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর একজন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি। রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে সোমবার বরগুনা, লক্ষ্মীপুর, মৌলভীবাজার, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, সিলেট, কুড়িগ্রাম, নাটোর, পঞ্চগড়, রংপুর, টাঙ্গাইল ও রাজশাহীতে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাই নবাবগঞ্জের একটি মামলায় মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।
সিলেট অফিস জানায়: মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে সিলেটে আরও একটি মামলা হয়েছে। গতকাল সিলেটের জৈন্তাপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত-ই-খোদার আদালতে দেড় শ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের এ মামলা করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আফসার আজিজ। আফসার আজিজের পক্ষে জেলা জজকোর্টের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে ডিজিএফআই-এর দেয়া তথ্য প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশ করায় এ মামলা করা হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি তদন্ত করে প্রতিদেন দাখিল করার জন্য অধীনস্থ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে জানান, কুড়িগ্রামে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানি মামলা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন দুলাল এই মামলা করেন। কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মাকসুদুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে সরকারের অনুমোদন নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয় ১৫ই মার্চ।
নাটোর  প্রতিনিধি জানান: নাটোরে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় সমন জারি করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলেক শেখ বাদী হয়ে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল-আল-আমিনের আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটির শুনানি শেষে আগামী ৩০শে মার্চের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেন।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান: মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়েও একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। গতকাল দুুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম তারিকুল ইসলামের আদালতে দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মামলাটি করেন। আদালত সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান: মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা হয়েছে। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলা গতকাল এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১লা মার্চ মাহফুজ আনামকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল থেকে জানান: টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম বাদী হয়ে  গতকাল সোমবার এ মামলা করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান: রাজশাহীতে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর বিজ্ঞ আদালতে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৫০০/৫০১ ধারায় মামলাটি করেন।
বরগুনা প্রতিনিধি জানান: রোববার বিকালে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট এম মজিবুল হক কিসলু। এ মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো.  বেল্লাল হোসেন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ  শেষে ২২শে ফেব্রুয়ারি মামলার আদেশের দিন ধার্য করেছেন। 
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান: লক্ষ্মীপুরে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনির হোসাইনের আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। পরে বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আদেশের জন্য রাখেন। এর আগে গত ৯ই ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তারের আদালতে ৫০ কোটি টাকার অপর আরও একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান: ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আমলি আদালতে  ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আমলে নেয়া হয়েছে। আদালত  ফৌজদারি কার্যবিধি ১৯৬ ধারা আইনে সদর থানার ওসি মশিউর রহমানকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাদেক কুরাইশী আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে জানান: ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের হয়েছে মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ১নং আমলি আদালতে। সোমবার মামলাটি দায়ের করেন মৌলভীবাজার স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক তারেক আহমদ চৌধুরী সোহেল। পিটিশন মামলা নং ৬৩/১৬। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী  ২২শে মার্চের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান: মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে নীলফামারীর আমলি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ মামলা দায়ের করেন, ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আব্দুল হামিদ। বিচারক মো. সামিউল ইসলাম মামলাটি গ্রহণ করে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী ৪ঠা এপ্রিলের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানহানির অভিযোগে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে চাঁপাই নবাবগঞ্জে মামলা দায়ের হয়েছে।  সোমবার দুপুরে চাঁপাই নবাবগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ‘ক’ অঞ্চলে মামলাটি দায়ের করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলি। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে রাণীহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মফিজউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ভিকারুল ইসলামকে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ২৮শে এপ্রিল হাজিরের জন্য সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।