Tuesday, March 2, 2010

ম্যাচ পাতানোয় আকমলের সঙ্গী নাভেদ

একজনের নাম জানা গিয়েছিল আগেই, কামরান আকমল। এবার ম্যাচ গড়াপেটায় সন্দেহভাজন আরেকজনের নামও জানা গেল। পিসিবির খুব ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের উল্লেখ করে ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে, আকমলের সঙ্গীর নাম রানা নাভেদ-উল হাসান। এ জন্যই নাকি দুবাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে রাখা হয়নি এই দুজনকে। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ৩০ জনের দলে আছেন তাঁরা, তবে ওই সূত্রই জানিয়েছে, ১৫ জনের চূড়ান্ত দলে তাঁদের না থাকা এক প্রকার নিশ্চিত।
এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানোর এই নতুন অভিযোগ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। দুজন ক্রিকেটারের ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার প্রমাণ আইসিসি তাদের দিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে একথা জানানোর পরপরই হঠাত্ করে নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন ইজাজ বাট। একটা পর্যায়ে দুজনের নামও প্রায় বলেই ফেলছিলেন, কিন্তু থেমে যান। পরে দাবি করেন, আইসিসি নাকি পুরোনো ইস্যু এবং সাবেক দুজন ক্রিকেটারের কথা জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, তুলেছেন এই অভিযোগও। বাটকে সমর্থন জানিয়েছেন পিসিবি জেনারেল ম্যানেজার (মিডিয়া) নাদিম সারওয়ারও, ‘চেয়ারম্যান (বাট) পুরোনো ঘটনার কথা বলছিলেন, বলছিলেন যে আইসিসি তাদের জানিয়েছে একসময় ম্যাচ পাতানোয় জড়িত ছিলেন বলে সাবেক দুজন ক্রিকেটারকে সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু মিডিয়া বর্তমান ক্রিকেটারদের নাম বলে চালিয়ে দিয়েছে।’
তবে ঘটনা যাই হোক, আপাতত মনে হচ্ছে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে এনেছেন বাট। ক্রিকেটে অযথা হস্তক্ষেপের জন্য এত দিন যে জামসেদ খান দাস্তিকে তুলোধুনো করেছেন বাটসহ অন্যরা, সেই দাস্তি এবার সরব হয়েছেন মূল ঘটনা প্রকাশের দাবিতে। না হলে বাটের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন পাকিস্তানের ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান, ‘সাবেক ক্রিকেটার হোক আর বর্তমান, জাতির অধিকার আছে তাদের নাম জানার। বাট বিতর্ক সৃষ্টি করছেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তিরও ক্ষতি করছেন। যথেষ্ট হয়েছে, হয় তাঁকে দুজনের নাম বলতে হবে, অথবা স্বীকার করতে হবে তিনি চিন্তাভাবনা না করে অযৌক্তিক ও ফালতু দাবি তুলেছেন। বাটসহ পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের শুনানিতে ডেকেছে দাস্তির কমিটি।

কালিং কাপের শিরোপা ম্যানইউর

দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, বলতে গেলে এ মৌসুমে একাই টানেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। ম্যাচের পর ম্যাচ খেলছেন বলেই হয়তো এ ম্যাচে ওয়েইন রুনিকে বিশ্রামে দিতে চেয়েছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। কিন্তু এ মৌসুমে রুনি আর রেড ডেভিলদের জয় যে একসূত্রে গাঁথা। এভারটনকে হারিয়ে কালিং কাপের শিরোপা জিতল ম্যানইউ রুনির গোলেই। ৫ মিনিটে দিমিতার বারবেতভের ভুলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে এভারটনকে এগিয়ে দেন জেমস মিলনার। তবে ১৩ মিনিটেই গোলটি শোধ করে দেন মাইকেল ওয়েন। এই ওয়েনের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগাতেই বেঞ্চ থেকে মাঠে নামতে হয় রুনিকে। ৭৪ মিনিটে ১০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ব্রাড ফ্রিডেলকে পরাস্ত করেন রুনি।
চেলসির সঙ্গে হারলেন টেরিও: জন টেরির ওপর প্রতিশোধ নিলেন ওয়েইন ব্রিজ! না, মারামারি কাটাকাটি কিছু নয়। পরশু চেলসি-ম্যানচেস্টার সিটির লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন এই দুই ইংলিশ ডিফেন্ডার। আর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের সে লড়াইয়ে টেরির চেলসিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রতিশোধের আনন্দেই যেন ভাসলেন ম্যান সিটির ব্রিজ।
ভেনেসা পেরনসেল ব্রিজের সাবেক প্রেমিকা। এই পেরনসেলের সঙ্গে টেরির গোপন প্রণয়ের খবর ফাঁস হওয়ার পর থেকেই টেরি-ব্রিজের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। সেই জের ধরেই পরশুর ম্যাচটিতে ছিল উত্তেজনার বারুদ। ম্যাচ শুরুর আগে ব্রিজ টেরির সঙ্গে হাত না মেলানোয় সেই উত্তেজনা বেড়ে যায় আরও।
চেলসি-ম্যান সিটি লড়াইয়ে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ৪২ মিনিটে এগিয়ে দিয়েছিলেন চেলসিকে। ৪৫ মিনিটে সিটিকে সমতায় ফেরান তেভেজ। বেলামি দলকে এগিয়ে দেন ৫১ মিনিটে। এরপর ব্যবধান বাড়ানো গোল দুটির একটি তেভেজ ৭৬ মিনিটে করেন পেনাল্টি থেকে এবং অন্যটি বেলামি করেন ৮৭ মিনিটে। ৯০ মিনিটে ল্যাম্পার্ড চেলসির পরাজয়ের ব্যবধানটাই শুধু কমাতে পারেন। তবে ৩৮ ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম চেলসির নিজেদের মাঠে হেরে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি।
২৮ ম্যাচে চেলসির ৬১ পয়েন্ট। সমান ম্যাচ খেলে এক পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ম্যানইউ। স্টোক সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে আর্সেনাল (৫৮)। আর এক ম্যাচ কম খেলে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে ম্যান সিটি।

রোনালদো নন মেসি

তাঁর চোখে সেরা তিন খেলোয়াড়ের তালিকায় ঠাঁই পাননি লিওনেল মেসি! করিয়েরে দেল্লো স্পোর্তকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাঁর পছন্দের সেরা তিন হিসেবে বেছে দিয়েছেন কাকা-রুনি-দ্রগবাদের। মেসির প্রতি ঈর্ষা থেকেই রোনালদো এমনটা করেছেন বলে অনেকেরই ধারণা। এবার পাল্টা জবাব দিলেন ‘আর্জেন্টাইন জাদুকর’। না, মুখে পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো মানুষ মেসি নন। বার্সা-স্ট্রাইকারের হয়ে জবাবটা দিল স্পেনের নাভারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। গবেষণা করে তাঁরা বের করেছেন, ‘তারকা’ হিসেবে রোনালদো আর ওয়েইন রুনির চেয়ে এগিয়ে আছেন মেসি।
সংবাদমাধ্যমে কী রকম গুরুত্ব পান সেটির ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা করা হয়েছে। তাতে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে দামি তারকা নির্বাচিত হয়েছেন মেসি। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার রোনালদো হয়েছেন দ্বিতীয়। তৃতীয় হয়েছেন রুনি। সেরা দশে এর পরের জায়গাগুলো কাকা, ফার্নান্দো তোরেস, স্টিভেন জেরার্ড, দিদিয়ের দ্রগবা, রোনালদিনহো, জাভি এবং জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের।
ক্লাব হিসেবে মেসির বার্সেলোনাই মিডিয়ার কাছে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় বলে জানিয়েছে এই গবেষণা। বার্সেলোনার পর আছে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, এসি মিলান এবং লিভারপুল। সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে আকর্ষক কোচ হিসেবে রাফায়েল বেনিতেজ আর হোসে মরিনহোকে পেছনে ফেলে সেরা হয়েছেন অ্যালেক্স ফার্গুসন।

পাকিস্তানকে হারাল স্বাগতিক ভারত

একসময় দুই দেশই ছিল হকির বিশ্বসেরাদের কাতারে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ তারা মাঝারি শক্তির দেশ। তার পরও হকি বিশ্বকাপের এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলে কথা! হকি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের এই লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক ভারত। ভারতের সন্দীপ সিং দুটি, শিবেন্দ্র সিং ও প্রভজোত সিং একটি করে গোল করেন। পাকিস্তানের একমাত্র গোলদাতা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সোহেল আব্বাস। দিনের অন্য ম্যাচে স্পেন ৪-২ গোলে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে, আর ইংল্যান্ড ৪-১ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টুর্নামেন্টকে উপহার দিয়েছে প্রথম অঘটন।

পারা না পারাতেই ব্যবধান -আরিফুল ইসলাম

ম্যাচের শুরুতে দুদলই খুশি। টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় ইচ্ছাপূরণ হয়েছে দুদলেরই। ইংল্যান্ড চেয়েছিল প্রথমে ফিল্ডিং করতে, বাংলাদেশ ব্যাটিং। সমস্যাটা এর পরই। অ্যালিস্টার কুকদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ২৩০-২৪০ এর মধ্যে বেঁধে ফেলা, সে কাজটা তাঁরা ভালোভাবেই করেছেন। আর তামিম ইকবালদের লক্ষ্য ছিল অন্তত ২৬০ করা, সেটা তাঁরা পারেননি। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত এই পারা না পারাতেই।
তামিমরা পারেননি না বলে বলা ভালো তামিম ছাড়া বাকিরা পারেননি। আউটটা দৃষ্টিকটুভাবেই হয়েছেন, আরও কয়েকটা ওভার থাকলে হয়তো দলের রানটাও আড়াই শর আশপাশে থাকত, কিন্তু যে ব্যাটসম্যান দলের একাই বাকি সবার মোট রানের চেয়ে ৩২ রান বেশি করেছেন, তাঁর কাছে আর কিইবা চাওয়ার থাকতে পারে! এমন একটা ইনিংস খেলার পরও তামিমের মুখে হাসি নেই, কারণ ওভাবে আউট হওয়া আর দলের হার, ‘আসলে ওই সময় টেলএন্ডার ছাড়া আর কেউ নেই, রান করলে আমাকেই করতে হতো। কিন্তু যে শটটা খেললাম আমি, সাধারণত এই শট খেলি না, তাই হয়তো পারিনি। আরও কিছুক্ষণ থাকতে পারলে তো ভালোই হতো। সেঞ্চুরি পেলাম কিন্তু দল তো পারেনি।’
একজন ব্যাটসম্যান ১২৫ করার পরও দল কেন ২৫০ পেরোতে পারল না, কেন অলআউট ২৬ বল আগেই? ‘আমাদের ৬০ রানের মতো দুটো জুটি হয়েছে, কিন্তু দরকার ছিল একটা বড় জুটির, দেড় শ রানের মতো। শুরুতে ভালোভাবেই সবকিছু হচ্ছিল, কিন্তু দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেললাম। রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ), সাকিব, মুশফিকরা যারা ফর্মে আছে, ওরা যদি এভাবে আউট না হতো তাহলে হয়তো হয়ে যেত’—তামিমের উত্তরটা সবার জানাই, যা হয়েছে সবাই দেখেছেন। কিন্তু তাঁরা কেন পারলেন না, প্রশ্ন সেখানেই। এ বছর আটটা ওয়ানডে খেলা হয়ে গেল, পারফরম্যান্স খারাপও নয়, কিন্তু জয়ের দেখা পাওয়া গেল না। প্রতিটি ম্যাচ শেষেই ‘অল্পের জন্য হলো না’ এই আফসোস আর কত দিন? দল হারার পরও ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়া এই বাঁহাতির কাছে সাফল্য মানে শুধু জয় নয়, ‘হার গণনার সময় আসেনি। আমরা এখনো শিখছি। দেখুন, আমাদের দলে এক শ ম্যাচ খেলছে এমন কয়জন আছে? এসব নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, এখন থেকে এক-দু বছর পর আমরা অন্য ধরনের দল হয়ে উঠব। পাঁচ বছর আগের কথা চিন্তা করেন, পার্থক্যটা ধরতে পারবেন। আগে হয়তো পাঁচ-ছয় সিরিজ পরপর একটা সেঞ্চুরি দেখা যেত, এখন প্রতি সিরিজেই একজন-দুজন সেঞ্চুরি করছে। ম্যাচ জেতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু উন্নতি করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।’
আগে কালে-ভদ্রে দেখা যেত, এখন নিয়মিতই সেঞ্চুরি হচ্ছে, তামিমের দাবি সত্য। কিন্তু নতুন এই ধারাই আবার নতুন যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের নতুন উপসর্গ—ইনিংসটা হয়ে থাকছে একজনের গল্প। এই ধারাও তাহলে চলতেই থাকবে? ‘তাই তো মনে হচ্ছে!’...একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে এটা বলার পরই অবশ্য তামিম হয়ে উঠলেন অদৃষ্টবাদী, ‘সবাই ভালো খেলতে চায়, রুবেল ১১ নম্বরে ব্যাটিং করেও ৫০ করতে চায়। কিন্তু সব সময় তো আর হয় না।’
দল এগিয়ে যাচ্ছে, সঙ্গে তিনি নিজেও। এর প্রমাণ এই প্রথম বড় দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সেঞ্চুরি করার পরও তামিম বললেন, ‘এটি সেরা ইনিংসগুলোর একটি, কিন্তু সেরা নয়। সেরা এখনো আসেনি!’ তবে ইংলিশরাও কিন্তু বসে নেই, কুক জানিয়ে দিলেন, ‘তামিমকে এই প্রথম দেখলাম। খুব জোরে আর খুব ক্লিন হিট করে। ওকে আটকানোর একটা উপায় বের করে ফেলব!’