Tuesday, August 31, 2010

মাহে রমজানে মসজিদে ইতিকাফ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে অবস্থান করা বা ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। আরবি ইতিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ ১০ দিন অথবা অন্য কোনো দিন জাগতিক কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদতের নিয়তে মসজিদে বা ঘরে নামাজের স্থানে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে। ইতিকাফ করার মূল উদ্দেশ্য হলো—মসজিদে বসে আল্লাহর আনুগত্য করা, সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভের আশা করা, সওয়াব অর্জনের আশা করা এবং লাইলাতুল কদর লাভ করার আশা করা। আর এ জন্য প্রত্যেক ইতিকাফকারীর আল্লাহর জিকির, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ-রোজা, জিকির-আজকার, দোয়া-দরুদ, মোরাকাবা-মোশাহেদা ও অন্যান্য ইবাদতে ব্যস্ত থাকা এবং পার্থিব বিষয়ে কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামও ইতিকাফ করতেন। নবী করিম (সা.) ইতিকাফের এত বেশি গুরুত্ব দিতেন যে কখনো তা ছুটে গেলে ঈদের মাসে আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-এর হাদিস সূত্রে জানা যায়, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ ১০ দিন (মসজিদে) ইতিকাফ করতেন। এ আমল তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত কায়েম ছিল। নবী করিম (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর বিবিগণও এ নিয়ম পালন করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
ইতিকাফের বিধিসম্মত সময় মাহে রমজানের ২০ তারিখ সূর্য অস্ত যাওয়ার কিছু আগে থেকে শুরু হয় এবং ঈদের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তা শেষ হয়ে যায়। ইতিকাফকারী পুরুষ রমজান মাসের ২০ তারিখ আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগে মসজিদে পৌঁছাবেন এবং মসজিদের কোণে একটি ঘরের মতো পর্দা দিয়ে ঘেরাও করে অবস্থান নেবেন। ঘেরাওকৃত কক্ষে পর্দা এমনভাবে স্থাপন করবেন, যেন প্রয়োজনে জামাতের সময় তা খুলে মুসল্লিদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা যায়। এ স্থানে পানাহার ও শয়ন করবেন এবং নিষ্প্রয়োজনে এখান থেকে বের হবেন না। তবে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে অথবা ফরজ গোসল প্রভৃতি কাজে অথবা শরিয়তের প্রয়োজনে যেমন জুমার নামাজ প্রভৃতির জন্য বের হওয়া জায়েজ। কিন্তু প্রয়োজন পূরণের সঙ্গে সঙ্গেই ইতিকাফের স্থানে ফিরে যেতে হবে। ঈদের চাঁদ দেখা গেলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসবেন।
পার্থিব কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে মহান আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগের জন্য পুরুষদের মসজিদে এবং নারীদের জন্য গৃহে অবস্থ্থান করাই ইতিকাফ। স্ত্রীলোকের মসজিদে ইতিকাফ করা মাকরূহ। ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে, যেখানে তিনি নামাজ আদায় করেন, সেখানেই ইতিকাফ করবেন। বাড়ির নির্দিষ্ট স্থান না থাকলে যেকোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে ইতিকাফ করবেন এবং ঈদের চাঁদ উদয় না হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করবেন না। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া ও ফরজ গোসল ব্যতীত অন্য কোনো কারণে মসজিদের বাইরে গেলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে কেউ ইতিকাফ করলে সুন্নতে কিফায়া আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু গ্রামের বা পাড়া-মহল্লার কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহগার হবে।
ইতিকাফকারীকে অবশ্যই রোজাদার হতে হবে। এ সময় জাগতিক কাজকর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হতে হয়। ফলে ইতিকাফকারী বেহুদা কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকেন। একাগ্রচিত্তে কয়েক দিনের ইবাদত-বন্দেগির ফলে তার অন্তরে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া গভীরভাবে রেখাপাত করে। এ সময় দুনিয়ার চাকচিক্য তাকে আল্লাহর জিকর থেকে দূরে সরাতে পারে না। ইবাদতে তার মনে প্রশান্তি আসে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হইও না, যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফে থাকবে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৭)
ইতিকাফ পালনকালে যেকোনো ধরনের পার্থিব বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ইতিকাফকারী রোগী দেখতে যাবে না, জানাজায় উপস্থিত হবে না, স্ত্রী স্পর্শ করবে না। বিশেষ জরুরি কাজ ব্যতীত বাইরে যাবে না।’ (বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ) হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ইতিকাফ করতেন, মসজিদে বসে আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন এবং আমি তাঁর কেশবিন্যাস করে দিতাম।’ অপর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘নবী করিম (সা.) ইতিকাফের সময় পীড়িতকে দেখতে যেতেন এবং নিজ ইচ্ছামতো চলতেন, কিন্তু কারও সঙ্গে কথা বলতেন না।’
বস্তুত, শুধু প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ও অজু ব্যতীত ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করে বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। অবশ্য এসব কারণ ছাড়াও প্রয়োজনের তাগিদে কারও জীবন রক্ষার্থে বাইরে যাওয়া যেতে পারে। তবে এ জন্য ইতিকাফের কাজা আদায় করতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বছর ইতিকাফ করতে পারেননি, পরবর্তী বছর তিনি ২০ রাত ইতিকাফ করেন।’ (তিরমিজি) হজরত্রআবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, ‘নবী করিম (সা.) প্রতি রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিফাক করতেন। তারপর যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন সে বছর ২০ দিন ইতিফাক করেন।’ (বুখারি)
নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করবে, তার জন্য দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রয়েছে।’ (বায়হাকি) ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিনের ইতিকাফ করল, আল্লাহ পাক তার ও দোজখের মধ্যখানে এমন তিনটি পরিখা তৈরি করে দেবেন, যার একটি থেকে অপরটির দূরত্ব হবে পূর্ব ও পশ্চিমেরও বেশি।’ (তিরমিজি ও বায়হাকি)
যে ব্যক্তি ইবাদত মনে করে সওয়াবের নিয়তে ইতিকাফ করে, তার সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.) ফরমান, ‘ইতিকাফকারী ব্যক্তি যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থাকে আর ইতিকাফে লিপ্ত থাকার জন্য কোনো ব্যক্তি বাইরের কোনো নেক কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকলেও ওই নেক কাজসমূহের পূর্ণ নেকি সে লাভ করবে।’ (ইবনে মাজা) হজরত্রইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘ইতিকাফকারী মূলত গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং তাকে ইতিকাফের বিনিময়ে এত বেশি নেকি দেওয়া হবে যেন সে সব নেকি অর্জনকারী।’ (ইবনে মাজা)
লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান ও এর ফজিলত লাভের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) মাহে রমজানে ইতিকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা মতে, ‘মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন এলে তিনি স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাকতেন এবং ইবাদতে মশগুল হতেন। সারা রাত নিজেও জাগতেন এবং পরিজনকেও জাগিয়ে রাখতেন।’ ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা এক রাত বলে হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে। তবে ইতিকাফ দীর্ঘ সময় ধরে করা উত্তম, বিশেষত মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ অবস্থায় থাকায় ‘লাইলাতুল কদর’ বা ভাগ্যের রজনী লাভের সৌভাগ্য হতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানে মসজিদে ইতিকাফ করার মাধ্যমে গুনাহর পাপরাশি থেকে বেঁচে থেকে অশেষ নেকি লাভের মোক্ষম সুযোগ দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

ডিএসই: আজ সাধারণ সূচক কমেছে ৪৯.৮৩ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ সোমবার সাপ্তাহিক লেনদেনের দ্বিতীয় দিনে সাধারণ সূচক কমেছে। তবে আর্থিক লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ৪৯.৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬২০.৮৩ পয়েন্টে।
আজ মোট এক হাজার ৫১৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে ৩৬৩ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেন হওয়া মোট ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, আফতাব অটোমোবাইলস, স্কয়ার টেক্সটাইল ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—দেশ গার্মেন্টস, সোনালি আঁশ, দুলামিয়া কটন, সায়হাম টেক্সটাইল ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বাংলাদেশ লিফ টোব্যাকো, থেরাপেটিকস বাংলাদেশ, ফিনিক্স ফিন্যান্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস।
এ ছাড়া আজ ডিএসইর বাজার মূলধন ২,৯৬,৪৫৩ কোটি টাকা।

ঢাকা ইনস্যুরেন্স ও কাশেম সিল্কের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

ঢাকা ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও কাশেম সিল্ক মিলস লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে।
এর আগে, ডিএসই প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটি সেই কারণ দর্শানো নোটিশের উত্তর দিতে দেরি করায় আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ওই কোম্পানি দুটিতে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঋণ বিতরণের কঠোর বিধান বাতিলের দাবি

শেয়ারের বিপরীতে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সম্প্রতি যে বিধান আরোপ করেছে, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের যুক্তি হলো, ঋণ বিতরণের এ বিধানটি অত্যন্ত জটিল এবং এ পদ্ধতিতে একজন গ্রাহক কী পরিমাণ ঋণ প্রাপ্য হবেন, তা গণনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নেই। তা ছাড়া পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে গেলে গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ শেয়ার বাধ্যতামূলক বিক্রির চাপে পড়বে। এতে বাজারে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন তাঁরা।
তবে স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের এ দাবির সঙ্গে একমত হননি এসইসির নীতিনির্ধারকেরা। তাঁরা বলেছেন, এসইসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিধানটি পরিপালন করতে হবে। এতে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়লে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এ জন্য তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দেওয়া ঋণের তথ্য চেয়েছে এসইসি। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণের নতুন বিধানটি কার্যকর হলে কী পরিমাণ শেয়ার বাধ্যতামূলক বিক্রির আওতায় পড়বে, তারও তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আগামী রোববার আবার বৈঠক ডাকা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে ঋণের নতুন বিধান বাস্তবায়নে সমস্যা ও সমাধানসহ বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে গতকাল রোববার দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে এসইসির পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল। এ বৈঠকেই এসব বিষয়ে আলোচনা উঠে আসে।
এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এসইসি তার আগের অবস্থানেই রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ক নির্দেশনা পরিপালনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।
আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, কমিশন মনে করে ঋণ অনুপাত নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার না থাকার বিষয়টি বড় কোনো সমস্যা নয়। ডিজিটাল যুগে এসব সমস্যা দূর করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
প্রতিদিনের বাজারদরের ভিত্তিতে ঋণের অনুপাত নির্ণয়ের জটিলতা প্রসঙ্গে আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, প্রতিদিনের বাজারদরের ভিত্তিতে নয়, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট দিনের বাজারদরের ভিত্তিতে ঋণ অনুপাত হিসাব করতে পারবে।
বাজারে ঝুঁকি কমানো ও তারল্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য গত ২৪ আগস্ট এসইসি ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় ২০০৬ সালে প্রণীত একটি বিধান পরিপালনে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিধানে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে তাদের গ্রাহকদের ঋণ দিতে গেলে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করতে হবে। এ সূত্র অনুযায়ী গ্রাহকদের শেয়ারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করে যে ফলাফল পাওয়া যাবে, তার সমানুপাতিক হারে ঋণ দিতে হবে।
একই সঙ্গে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো গ্রাহকের ঋণসীমা অতিক্রম করলে তা সমন্বয় করতে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়।
প্রায় চার বছর আগে প্রণীত এ বিধানটি প্রয়োগযোগ্য নয় বলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। গত মাসে এসইসির পরামর্শক কমিটির সভাও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বিধানটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল। এসইসির একজন সদস্যের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই কমিটির বৈঠকে বিষয়টি বিবেচনার ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিধানটি বাতিলের দাবি জানানো হলে এসইসির একজন সদস্য এর ঘোর আপত্তি জানান। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এ বিধানটি পরিপালন করতে হবে। ওই সদস্যের বক্তব্যের জবাবে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান জানতে চান, এর ফলে বাজারে দরপতনের দায়িত্ব এসইসি নেবে কি না। এ বক্তব্যের পরপরই এসইসি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা বলে।

রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তিতে দুটি আলাদা বেঞ্চ হবে

রাজস্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঈদের পরপরই হাইকোর্টে দুটি আলাদা বেঞ্চ গঠন করা হবে। বেঞ্চ দুটিতে শুধু আয়কর, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) আইনের খসড়ার ওপর অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে সভায় আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এডিআর আইনের খসড়ার ওপর মতামত ও সুপারিশ পাঠাতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রশীদ, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, মেট্রো চেম্বারের পরিচালক নিহাদ কবীর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, আমিনুর রহমান প্রমুখ যোগদান করেন।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জানান, শুধু রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানানো হলে তিনি এতে রাজি হয়েছেন। ঈদের পরই বেঞ্চ গঠনের কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, রাজস্ব নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানেও হাইকোর্টে দুটি বেঞ্চ রয়েছে। কিন্তু এগুলোতে রাজস্বসংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি অন্য বিরোধও নিষ্পত্তি হয়। তবে নতুন দুই বেঞ্চে শুধুই রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তি হবে।
ইউএনবি জানায়: বৈঠকে রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমানে রাজস্বসংক্রান্ত ১৮ হাজার ৪৩৮টি বিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরের বিভাগীয় মামলা রয়েছে ১২ হাজার ৩৩২টি, আপিল আদালতে পাঁচ হাজার ৫০০টি, হাইকোর্ট বিভাগে ৬০৫টি এবং আপিল বিভাগে একটি।
সভায় এডিআর আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনায় বলা হয়েছে, শুল্ক ও মূসক বিষয়ে ভালো জানাশোনা আছে এমন একজনকে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। ভাইস চেয়ারম্যানও থাকবেন একজন।
এ ছাড়া থাকবেন দুজন জুডিশিয়াল সদস্য। প্রত্যেক বেঞ্চে একজন করে কমিশনার থাকবেন কমিশনে।
জেলা জজ হিসেবে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং হাইকোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা হবে জুডিশিয়াল সদস্য হওয়ার পূর্বশর্ত। আর কমিশনারের কাজ হবে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করা।
বৈঠকে আইনমন্ত্রী বলেন, এডিআর যদি বাধ্যতামূলক করা না যায়, তাহলে এটা থেকে সুফল পাওয়া যাবে না।
নিহাদ কবির উচ্চ আদালতের বিচারকের তত্ত্বাবধানে এডিআরের মামলাগুলো নিস্পত্তি করার পরামর্শ দেন।

ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে

ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানকারীদের উচিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কোনো যন্ত্রের ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া। ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানকারীদের সংগঠন সার্চ ফর এক্সট্রা টেরিস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (সেটি) সদস্য জ্যোতির্বিদ সেথ শোস্টাক এই পরামর্শ দিয়েছেন। সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী অ্যাকটা অ্যাস্ট্রোনটিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই পরামর্শ দেন তিনি।
সেটির বিজ্ঞানীরা এত দিন পর্যন্ত মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো কোনো গ্রহ থেকে বেতারসংকেত শনাক্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানী শোস্টাকের ধারণা, বেতারসংকেত ব্যবহারের প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি আয়ত্তে আনতে খুব বেশি সময় লাগেনি ভিনগ্রহের প্রাণীদের। শোস্টাক লিখেছেন, এমনটি ঘটে থাকলে ভিনগ্রহের কোনো জৈবপ্রাণ শনাক্ত করার চেয়ে ভিনগ্রহের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র শনাক্ত করা সহজ।
সেটির সঙ্গে যুক্ত অনেক বিজ্ঞানী দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, ‘প্রকৃতি সম্ভবত বেশ আগেই ভিন্ন ভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও আকৃতিতে জীবন সৃষ্টির সমস্যা সমাধান করে ফেলেছে। সুতরাং ভিনগ্রহের প্রাণীরা দেখতে আমাদের মতো না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা জৈবিক পর্যায়ে আমাদের মতো কার্মকাণ্ড পরিচালনা না-ও করতে পারে।’
সেটির বিজ্ঞানীরা এখনো ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানের ক্ষেত্রে এমন প্রাণী শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, যারা আমাদের ধারণা অনুযায়ী জীবিত। অর্থাৎ যারা কোনো একপর্যায় পর্যন্ত প্রাণরসায়নের নিয়ম অনুসরণ করে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জীবন ধারণ করে এবং বিবর্তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়।
কিন্তু শোস্টকের মতে, কোনো প্রাণী প্রযুক্তির বিবর্তনের ধারায় নিজগ্রহের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের প্রযুক্তি অর্জন করলে প্রযুক্তিও অতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে ওই প্রজাতিকে ছাপিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রগতির সময় পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, একটি পর্যায়ে আপনি বেতার আবিষ্কার করলেন, এরপর আপনি বেতার সম্প্রচার শুরু করলেন এবং এরপর দেখা গেল, আমরা আপনার সংকেত শনাক্ত করতে পেরেছি। কিন্তু বেতার আবিষ্কারের কয়েক শ বছরের মধ্যে চিন্তা করতে পারে এমন যন্ত্র আবিষ্কার করে ফেলবেন আপনি। মানুষ সম্ভবত চলতি শতকেই এ ধরনের যন্ত্র তৈরি করে ফেলবে। সুতরাং আপনি আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরি করে ফেললেন এবং ভাবুন তাহলে কয়েক শ বছর পর আপনি কী জৈব বুদ্ধিমত্তা হিসেবে সংকেত পাঠাবেন। সম্ভাবনার নিরিখে বলা যায়, এ ধরনের চিন্তাশীল যন্ত্রের উদ্ভব হলে তাদের কাছ থেকে আসা সংকেতই আমাদের কাছে পৌঁছার সম্ভাবনা বেশি।’

লাদেন সিআইয়ের এজেন্ট: কাস্ত্রো

কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের বেতনভুক্ত এজেন্ট। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের যখনই বিশ্বকে আতঙ্কিত করার প্রয়োজন হতো, তখনই তিনি ওসামাকে নিয়ে কথা বলতেন।
কাস্ত্রো বলেন, বুশ প্রতিবারই লাদেনের কথা বলে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেন ও বড় বড় বক্তব্য দিতেন। বুশ লাদেনকে নিয়ে একটি গল্প হাজির করে তিনি কী করতে যাচ্ছেন, তা তুলে ধরতেন। লিথুয়ানিয়ার এক বিশিষ্ট লেখকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে কাস্ত্রো এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বুশের কখনই লাদেনের সমর্থনের অভাব হয়নি। লাদেন বুশের অধীন ছিলেন।
দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা গ্রানমায় গত শুক্রবার কাস্ত্রোর এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে কাস্ত্রো বিশ্ব পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে—এমন মন্তব্য করে সবাইকে সতর্ক করে দেন।
ফিদেল কাস্ত্রো আরও বলেন, উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রকাশিত আফগান যুদ্ধ বিষয়ে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার তথ্য-উপাত্তে এটা নিংসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে, লাদেন সিআইয়ের এজেন্ট।

ক্যাটরিনার আঘাত হানার পঞ্চম বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি

ভয়াবহ হ্যারিকেন ক্যাটরিনার আঘাত হানার পঞ্চমবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। প্রলয়ংকরী এই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এক হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ উপলক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি নিউ অর্লিন্স শহর সফর করবেন। তিনি জেভিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেবেন। নিউ অর্লিন্সের পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর ভাষণে এই আশ্বাস দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রলয়ংকরী এই ঝড়ে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। তাদের অনেকে এখনো বাড়িঘরে ফিরতে পারেনি।
ক্যাটরিনার আঘাতে লুইজিয়ানা থেকে ফ্লোরিডা উপকূল পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পুরোনো বাঁধ ভেঙে নিউ অর্লিন্সের ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে ভেসে যায়। ক্যাটরিনার আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি ডলারের।

কেনিয়াকে আইসিসির কাছে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কেনিয়াকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে।
এক বিবৃতিতে কফি আনান বলেন, ‘কেনিয়ার নতুন সংবিধান ঘোষণা উপলক্ষে নাইরোবিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বশিরকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনায় অন্য অনেকের মতো আমিও বিস্মিত হয়েছি।’ আফ্রিকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এ বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে কফি আনান আরও জানান, রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এবং ২০০৭-০৮ সালের নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি কেনিয়ার অবশ্যই সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা আছে। সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই পরিস্থিতে কেনিয়ার উচিত আইসিসির কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা।

নেপালে ফের রাজতন্ত্র চাইছে মাওবাদীরা

ক দশকের সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নেপালের ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রকে যে মাওবাদীরা বিদায় করেছিল, তারাই এখন সেই রাজতন্ত্রকে পুনর্বহাল করতে চাইছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল গতকাল রোববার এ অভিযোগ করেছেন।
রাজধানী কাঠমান্ডুতে গতকাল এক অনুষ্ঠানে মাধব কুমার নেপাল বলেন, মাওবাদীরা নিজেদের বিপ্লবী বলে দাবি করে। তাদের এ দাবি নিতান্তই হাস্যকর। কারণ মাওবাদীরাই এখন দেশে আবার রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, মাওবাদীরা তাদের ক্যাডারদের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজকীয় সেনাবাহিনীর কারণে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির সভাপতি কামাল থাপার এক মন্তব্যের দুই দিনের মাথায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওই অভিযোগ করলেন।
কামাল থাপা সম্প্রতি বলেন, কিছুদিন আগে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের চেয়ারম্যান প্রচণ্ডের সঙ্গে তার এক বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে এই মাওবাদী নেতা দেশে আবার রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
কামাল থাপা জানান, প্রচণ্ড তাঁকে বলেছেন, রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর নেপালে বিদেশি হস্তক্ষেপ অনেক বেড়ে গেছে। তাই নেপালকে বিদেশি হস্তক্ষেপের হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশে ফের রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি। প্রচণ্ড কোন দেশের হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন, সে ব্যাপারে অবশ্য মুখ খোলেননি কামাল থাপা।
এদিকে নেপালের পার্লামেন্ট পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

‘আমাদের ও সন্তানের জন্য শান্তি স্থাপন করতে পারব’

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের ‘ঐকান্তিকতার’ ওপর। গতকাল রোববার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন।
ওয়াশিংটনে আসন্ন শান্তি আলোচনার আগে গতকাল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যেভাবে আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি, ফিলিস্তিনি নেতারাও যদি সেভাবে নেন, তাহলে আমরা একটি সুদৃঢ় মতৈক্যে পৌঁছাতে পারব বলে আমি আশাবাদী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ও সন্তানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপন করতে পারব। এটাই আমার লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বৈঠকে বলেন, বসতি স্থাপন নিয়ে গোয়েন্দা ও পরমাণু জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী ডান মেরিডরের প্রস্তাব একান্তই তাঁর নিজস্ব মতামত। তাঁর এই মতামত বসতি স্থাপন ইস্যুতে সরকারি অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না।
উল্লেখ্য, মেরিডর বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে যেসব বসতি ব্লক ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে, শুধু সেসব ব্লকেই বসতি নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা উচিত।
এদিকে সরাসরি শান্তি আলোচনা আবারও শুরু করার লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। পরদিন বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বসার কথা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার সফলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েল ও মিসরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেনিয়েল কার্টজার বলেন, অতীত ও সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা গেছে যে দুই পক্ষকে যদি একাকী ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের মতপার্থক্য দূর করার কোনো পথ থাকবে না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমিয়ে আনা সম্ভব।

আফগানিস্তানে ৭ মার্কিন সেনা নিহত

আফগানিস্তানে গত দুই দিনে একাধিক হামলায় সাত মার্কিন সেনা ও এক রাজনীতিক নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফোর্স (ইসাফ) জানায়, গত শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কাউন্টিতে পৃথক দুটি সংঘর্ষে তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই দিন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া গতকাল রোববার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।
একজন কর্মকর্তা জানান, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে গুলিতে স্থানীয় এক রাজনীতিক নিহত হন। আগামী সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল।
এদিকে যৌথবাহিনী জানায়, দেশটির গোলযোগপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে আফগান ও ন্যাটো সেনাদের সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ১৫ জঙ্গিও নিহত হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম আদিবাসী এমপি নির্বাচিত

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো একজন আদিবাসী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নাম কেন ওয়েট (৫৭)। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার হাসলাক আসনে লিবারেল পার্টি থেকে নির্বাচন করে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। ২১ আগস্ট এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়েট গতকাল শনিবার বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার এখন এগিয়ে যাওয়ার সময়। হাসলাকের বাসিন্দারা এমন একজন ব্যক্তিকে পছন্দ করেছেন, যিনি তাঁদের সবার স্বার্থেরই প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি আরও বলেন, জাতিগত বিদ্বেষ থেকে উত্তরণের সময় এসেছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অস্ট্রেলিয়াকে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
হাসলাক আসনে ভোট গণনার শেষের দিকে এসে দেখা গেছে, লেবার পার্টির প্রার্থীর চেয়ে ওয়েট অন্তত এক হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন। অবশ্য এখনো কিছু ভোট গণনা বাকি আছে। তবে তাঁকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এবারের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টি ও বিরোধী দল লিবারেল পার্টি কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক আসন পায়নি। লিবারেল পার্টি পেয়েছে ৭৩টি ও লেবার পার্টি পেয়েছে ৭২টি আসন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন চারটি আসনে। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৭৬টি আসন দরকার।

৩৩ শ্রমিককে উদ্ধারে বিকল্প সুড়ঙ্গ খনন শুরু হচ্ছে আজ

চিলিতে দুর্ঘটনাকবলিত খনিকূপে আটকেপড়া ৩৩ জন শ্রমিককে উদ্ধারে আজ সোমবার থেকে বিকল্প সুড়ঙ্গপথ খননের কাজ শুরু হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা দিবসের আগে আটকেপড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
খনিসম্পদমন্ত্রী লরেন্স গোলবোর্ন বলেছেন, শ্রমিকদের উদ্ধারে বিকল্প সুড়ঙ্গ তৈরিসহ বিকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ২৩ দিন আগে খনি দুর্ঘটনায় আটকে পড়া ৩৩ শ্রমিককে পৃথিবীর আলো দেখতে আরও তিন থেকে চার মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে।
কর্মকর্তারা গতকাল রোববার দুই ফুট ব্যাসের একটি সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করেন। এতে সময় লাগবে তিন মাস। এই সুড়ঙ্গ দিয়ে একে একে শ্রমিকদের তুলে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
৫ আগস্ট চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর প্রায় ৭২৫ কিলোমিটার উত্তরে কোপিয়াপো শহরের কাছে সান জোসে খনিতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ২৪ দিন আগে দুর্ঘটনা ঘটলেও খনিশ্রমিকদের পাঠানো ৪৫ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পর ২২ আগস্ট খবরটি প্রথম জানাজানি হয়। উদ্ধারকারীদের পাঠানো ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা ফুটেজে তাঁদের বিজয় চিহ্ন প্রদর্শন ও জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যায়।

নিলামে লেননের কমোড

একটি পুরোনো কমোডের দাম আর কত হতে পারে! যদি বলি, সাড়ে নয় হাজার পাউন্ড! বিশ্বাস হচ্ছে না? বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন; এটাই সত্য। বিখ্যাত পপসংগীত দল বিটলসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জন লেননের ব্যবহূত একটি কমোড গত শনিবার ইংল্যান্ডের লিভারপুলে নিলামে এই অবিশ্বাস্য দামে বিক্রি হয়েছে।
জন লেনন ১৯৪০ সালে লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি নিউইয়র্কে খুন হন। ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বার্কশায়ারের টিটেনহার্স্ট পার্ক এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করেছেন।
বাড়িটির সংস্কারকাজ করার সময় একজন নির্মাণশ্রমিক তাঁর পুরোনো কমোডটি বদলে সেখানে একটি নতুন কমোড বসান।
লেনন তাঁকে পুরোনো কমোডটি দেন এবংএকে ফুলের টব হিসেবে ব্যবহার করতে বলেন।
জন হ্যানকক নামের ওই নির্মাণশ্রমিক সাদা ও নীল রঙের চীনামাটির তৈরি কমোডটি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং ৪০ বছর ধরে তা সংরক্ষণ করেন। সম্প্রতি তিনি মারা যান। তাঁর জামাতা এই কমোডটি নিলামে বিক্রির জন্য তোলেন।
লিভারপুলে অনুষ্ঠিত ৩৩তম বার্ষিক বিটলস কনভেনশন উপলক্ষে আয়োজিত নিলামে বিটলসের বিভিন্ন স্মারকের সঙ্গে কমোডটি বিক্রি হয়। নিলামের আগে এটির সম্ভাব্য দাম হিসাব করা হয়েছিল ৭৫০ থেকে ১ হাজার পাউন্ড।
নিলামের আয়োজক স্টিফেন বেইলি বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত বিটলসের যত পণ্য নিলামে তুলেছি তার মধ্যে এটা একেবারেই অপ্রচলিত। কমোডটি এত দামে বিক্রি হবে তা আমরা ভাবিনি।

পীতসাগরে সামরিক মহড়ার ঘোষণা চীনের

পীতসাগরে সামরিক মহড়া চালাবে চীনের নৌবাহিনী। গতকাল রোববার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। সম্প্রতি পীতসাগরে যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। বেইজিং পরিকল্পিত এই মহড়ার বিরোধিতা করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চীন ও কোরীয় উপদ্বীপের মধ্যবর্তী এই সাগরে আগামী বুধবার এই মহড়া শুরু হয়ে শেষ হবে শনিবারে। এতে নৌবাহিনীর নৌবহর অংশ নেবে।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুইংডাও শহরের উপকূলে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মহড়া চালাবে পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌবাহিনীর একটি নৌবহর। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বার্ষিক নিয়মিত অনুশীলনের অংশ হিসেবে এ মহড়া চালানো হবে।
এদিকে সেপ্টেম্বরে পীতসাগরে নতুন দফায় যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। পেন্টাগন বলেছে, মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষায় ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—উত্তর কোরিয়ার প্রতি এই সতর্কবার্তা পাঠানো এ মহড়ার উদ্দেশ্য।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বিতর্কিত সমুদ্রসীমাসহ বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে পীতসাগরে যেকোনো ধরনের সামরিক মহড়া স্পর্শকাতর বিষয়।
পীতসাগরে ওয়াশিংটন ও সিউলের যৌথ সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করছে চীন। এই মহড়ার সময় চীনের উপকূলের কাছে মার্কিন রণতরী টহল দেবে, এই খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পরিকল্পিত এন্টি-সাবমেরিন অনুশীলনে কোনো রণতরী থাকবে না। চীনের রিয়ার এডমিরাল ইয়াং ই সম্প্রতি চায়না ডেইলি পত্রিকায় এক নিবন্ধে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের পর এটা হবে নতুন উসকানি।

সৌদি আরবে শিক্ষিত বেকারদেও নজিরবিহীন বিক্ষোভ

সৌদি আরবে প্রায় ২০০ স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার যুবক চাকরির দাবিতে রাজধানী রিয়াদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। গত শনিবার তাঁরা সে দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। রাজতন্ত্রের শাসনাধীন সৌদি আরবে কোনো ধরনের বিক্ষোভ সাধারণত বরদাশত করা হয় না। এ কারণে তাঁদের এ বিক্ষোভকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, গত বছর সে দেশে বেকারত্বের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। এ অবস্থায় সে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল এক কোটি ৮০ লাখ সৌদি নাগরিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সে দেশের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
গতকাল রোববার সৌদি পত্রপত্রিকায় বিক্ষোভকারীদের যে ছবি ছাপা হয়েছে, তাতে তাঁদের বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্লাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে। এগুলোর মধ্যে একটি স্লোগান ছিল, ‘যথেষ্ট অবিচার হয়েছে! আর না!’
বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, সৌদি আরবে স্থানীয় ও বিদেশি মিলে বর্তমানে দুই কোটি ৭১ লাখ লোক রয়েছে। সে দেশের সরকার সেখানকার বাসিন্দাদের যে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে, তার মান পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েত ও কাতার থেকে অনেক নিম্নস্তরের। সেখানে বহু শিক্ষিত লোককে বর্তমানে চাকরি না পেয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভার ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীর মতো ছোট ছোট কাজ করতে হচ্ছে।
তবে বিশ্বে ধনী দেশগুলোর একটি বলে পরিচিত সৌদি আরব কখনোই তার বেকারত্বের হিসাব প্রকাশ করে না। সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব তার স্থানীয় সব শিক্ষিত ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত করতে না পারার মূল কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা তাদের পশ্চাৎপদ শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সেখানকার শিক্ষাক্রমে ব্যবহারিক দক্ষতার চেয়ে ধর্মীয় বিষয়াবলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে একটি বিশাল তেল উৎপাদক দেশের জন্য যে দক্ষতাসম্পন্ন লোক দরকার, সেখানকার প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সে অনুযায়ী মানসম্পন্ন মানবসম্পদ সরবরাহ করতে পারছে না।
সৌদি দৈনিক আল হায়াতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গত শনিবারের বিক্ষোভকারীদের মুখপাত্র নাঈফ আল তামিমি বলেছেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পরও কাজ পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন হলেও মন্ত্রণালয় তাঁদের চাকরি দিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাঁরা অবিলম্বে তাঁদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি তোলেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে। কিন্তু নিয়োগদানের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই।
২০০৫ সাল থেকেই সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শরিয়া আইনে সংস্কার আনার চেষ্টা করছেন। তবে ধর্মীয় নেতারা তাঁর সেসব উদ্যোগে সমর্থন দিতে চাইছেন না। সৌদি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে শিক্ষিত বেকারেরা সংঘাতমূলক পথ বেছে নিতে পারেন।

ইন্টারপোলের তালিকায় সাড়ে ৬০০ ভারতীয়

পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের তালিকায় ফেরারি ভারতীয়দের সংখ্যা সাড়ে ৬০০ শর বেশি ছাড়িয়ে গেছে। গত পাঁচ বছরে ৬৫৬ জন ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে সংস্থাটি।
ইন্টারপোল কারও বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করলে সংস্থার সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশের পুলিশ বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এরপর তাঁকে তাঁর নিজের দেশ বা তিনি যে দেশে অপরাধ করেছেন সে দেশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের মে থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট ৬৫৬ জন ভারতীয়র বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইন্টারপোল। এর মধ্যে গত বছর সবচেয়ে বেশি ১৫০ জনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। এ ছাড়া ২০০৭ সালে ১৩৩ এবং ২০০৬ সালে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় ১১৯ জনের বিরুদ্ধে।
সাধারণত নিজ দেশের বাইরে কোনো দেশে অপরাধের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করে ইন্টারপোল। এ ক্ষেত্রে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ অপরাধের অভিযোগ এসেছে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, রাশিয়া, বেলারুশ, মিসর, অস্ট্রেলিয়া ও বেলজিয়াম থেকে। আর তাদের অপরাধের মধ্যে আছে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, যৌন হয়রানি, যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি, ই-মেইলের মাধ্যমে জালিয়াতি ও যৌতুক দাবি। এর মধ্যে শুধু ২৫ শতাংশ আছে রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনা।

বার্সা-লিভারপুলের জয় হেরেছে জুভেন্টাস

স্প্যানিশ লিগে শুভসূচনা করেছে বার্সেলোনা। মেসি, ইনিয়েস্তা ও ভিয়ার গোলে রেসিং সান্তান্দারের মাঠ থেকে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে তারা। ওদিকে চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা ফার্নান্দো তোরেসের একমাত্র গোলে ওয়েস্টব্রমকে হারিয়েছে ‘অল রেড’রা। তবে ইতালিয়ান লিগে জুভরা তাদের প্রথম ম্যাচে ০-১ গোলে হেরেছে বারির কাছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সিটির ১-০ গোলের পরাজয়টি সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে।

মিলানেই গেলেন ইব্রাহিমোভিচ

সব গুঞ্জন, আলোচনার অবসান। বার্সেলোনায় মেসি-জাভিদের সতীর্থ হয়ে খেলা ৪২ ম্যাচে ২২ গোল করার উজ্জ্বল স্মৃতি নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। এসি মিলানই তাঁর নতুন ঠিকানা।
আজ সোমবারই মিলানে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর চুক্তি হবে। ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে চুক্তিটি চার বছরের হলেও এই মৌসুম খেলবেন ধারে। পাকা চুক্তি হবে এই মৌসুমের শেষে।
এক মৌসুম আগে ছিলেন সান সিরো স্টেডিয়ামের শরিক ইন্টার মিলানে, কিন্তু এবার চুক্তির আগেই যেন হয়ে গেলেন মিলানের, ‘মিলান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব। আমাদের রয়েছে চমৎকার আক্রমণভাগ। আমি মিলানের খেলোয়াড়।’
কোচ কথা বলতেন না। বার্সেলোনায় দিনগুলো কাটছিল দমবন্ধ করা মানসিক যন্ত্রণায়। মিলান সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ায় তিনিও প্রতিদান দিতে চান, ‘এখানে আসাটা আমার হূদয়ের স্পন্দন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি এসেছি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে, ডাবল জিততে।

পদত্যাগ করবেন না বাট

মাঠের বাইরের লজ্জার সঙ্গে কাল যোগ হলো মাঠের ভেতরের লজ্জাও। ইনিংস ও ২২৫ রানে হেরেছে পাকিস্তান, দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়। ম্যাচের ভাগ্য আগের দিনই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। আনুষ্ঠানিকতা সারতে ইংল্যান্ড কাল সময় নিল ঘণ্টা দেড়েক। মোহাম্মদ আসিফকে নিয়ে শেষ উইকেটে কামরান আকমল ৫০ রানের জুটিটা না গড়লে আরও অনেক আগেই গুটিয়ে যেত পাকিস্তান। অবশ্য মাঠের বাইরের যে ঘটনাপ্রবাহ, তাতে কাল সবকিছুই যেন মনে হচ্ছিল মেকি! ইংলিশদের উচ্ছ্বাসেও ছিল না প্রাণ।
ম্যাচের চেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলন নিয়েই। থমথমে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই সালমান বাটকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘সিডনি টেস্টটা (এ বছরের শুরুতে) কি ইচ্ছে করেই হেরেছিল পাকিস্তান?’ কোনো উত্তর দেননি বাট, পাশে বসা ম্যানেজার ইয়াওয়ার সাঈদও এড়িয়ে যান প্রসঙ্গ। আবারও বাটের দিকে তীর, ‘পদত্যাগের কথা ভাবছেন?’ এবার যেন আঁতে ঘা লাগল বাটের, ‘কেন? ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জিতেছি, জিতেছি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও।’
এবার একটু ঘুরিয়ে বাটের কাছে আবার প্রশ্ন, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা কি মাঠে সেরাটা দিয়েছেন? বাট আশ্রয় নিয়েছেন কন্ডিশনের আড়ালে, ‘অবশ্যই আমাদের সেরাটা দিয়েছি। কন্ডিশনের জন্য ব্যাটসম্যানদের কাজটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সবাই শতভাগ দিয়েছে।’ এতসব ঘটনার পর ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। পাকিস্তান ম্যানেজার অবশ্য শঙ্কার কিছু দেখছেন না। আশা করছেন সিরিজটা হবে সময়মতোই, ‘সিরিজটা হবে। সবকিছুই এখনো কেবল অভিযোগের পর্যায়ে, যে কেউ যেকোনো কিছুই বলতে পারে।’
হতাশার সিরিজে পাকিস্তানের একমাত্র উজ্জ্বল অধ্যায় ছিলেন মোহাম্মদ আমির। কিন্তু শেষ দিকে গায়ে লাগল কলঙ্কের ছোপ। পাকিস্তানের সিরিজ-সেরা হয়েছেন, কিন্তু ম্যানেজার জানালেন এমন অভিযোগে দারুণ বিষণ্ন আমির।

উদ্বিগ্ন পাকিস্তান সরকার

ইংল্যান্ডে ক্রিকেটারদের ‘স্পট ফিক্সিং’ বিতর্কে নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তান সরকারও। অভিযোগের ব্যাপারে পিসিবি চেয়ারম্যান ইজাজ বাটের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি।
এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফরহাতুল্লাহ বাবর বলেছেন, ‘বিষয়টি প্রেসিডেন্টের নজরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁকে যেন পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়। ইংল্যান্ডে হওয়া যেকোনো তদন্ত সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ঘটনা সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব একটা প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে পিসিবি প্রধানকে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী ইজাজ হুসেইন জাখরানি জানিয়েছেন, পিসিবি প্রধান ইজাজ বাটের গতকালই লন্ডনে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসার কথা।

অপরাধী ক্রিকেটারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইলেন ইমরান

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান বলেছেন, লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের ন্যক্কারজনক ঘটনায় যদি কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার জড়িত থাকে, তাহলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
ক্রিকেটের এই জীবন্ত কিংবদন্তির মতে, এ অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। তিনি আরও বলেন, এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত খেলোয়াড়দের কঠোর শাস্তি দিয়ে তরুণ প্রজন্মের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করতে হবে। তিনি গতকাল রোববার পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
‘আমি আজ সকালেই (রোববার) বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর দেখেছি। মনে-প্রাণেই চাই, সব কথা, সব অভিযোগ যেন মিথ্যা হয়। তবে অপরাধ প্রমাণ হলে অপরাধীদের কঠোর শাস্তিই আমার কাম্য।’ বলছিলেন ইমরান।

আবার কলঙ্কিত পাকিস্তান-ক্রিকেট

ক্রিকইনফোর সরাসরি ধারাবিবরণিতে লেখা হয়েছিল ‘বিশাল নো-বল।’ বিবিসি অনলাইন লিখেছে, ‘ডার্টি গ্রেট নো-বল। দাগের প্রায় ২ ফিট সামনে পা।’ লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে মোহাম্মদ আমিরের ডেলিভারিটি নিয়ে তবুও সন্দেহ করার মতো কিছু ছিল না। একজন বোলার, বিশেষ করে ফাস্ট বোলারের নো-বল হতেই পারে। সন্দেহ ছিল না তাই, সেদিনই দশম ওভারে করা মোহাম্মদ আসিফের ও পরদিন সকালে করা আমিরের আরেকটি নো-বল নিয়েও।
কিন্তু যদি বলা হয়, নো-বল তিনটি ‘হয়ে যায়নি, ইচ্ছে করে করা হয়েছে’, তাহলে? কিংবা বোলার আগে থেকেই জানতেন, এই বলটি হবে নো-বল, জানতেন অধিনায়ক-উইকেটকিপারও! চোখ কপালে উঠতে পারে, কিন্তু লর্ডসে হয়েছে এটাই। বোমাটা ফাটিয়েছে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ‘স্পট ফিক্সিংয়ে’ জড়িত থাকার খবর ফাঁস করেছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডটি। তুলে এনেছে ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটার আরেকটি কালো অধ্যায়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মাজহার মাজিদ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সালমান বাট, আমির, আসিফ ও কামরান আকমলকে। সন্দেহের তালিকায় থাকা আরও তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের নাম জানা যায়নি।
‘প্রপার্টি টাইকুন’ মাজিদ খেলাধুলার সঙ্গে বেশ আগে থেকেই জড়িত। তাঁর কোম্পানি ‘ব্লু স্কাই ডেভেলপমেন্টস’ ইংল্যান্ডে বিভিন্ন খেলার বেশ কিছু প্রথম সারির টুর্নামেন্ট পৃষ্ঠপোষণা করেছে। মাজিদের সঙ্গে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের যোগাযোগ অনেক দিন থেকেই। বেশ কিছু ক্রিকেটারের স্পনসর এজেন্ট তিনি। কিছুদিন আগে বুকির ছদ্মবেশে মাজিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর প্রতিবেদক।
মাজিদকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগ ও স্পট ফিক্সিংয়ের প্রমাণ দিতে বলেন ওই প্রতিবেদক। ১০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে মাজিদ জানিয়ে দেন নির্দিষ্ট তিনটি নো-বলের কথা। মাজিদ যেভাবে বলেছিলেন, ঠিক ওই সময়েই নো-বল করেন আমির ও আসিফ। প্রমাণ পাওয়ার পর ইংল্যান্ডেই ও দুবাইয়ে আরও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য মাজিদকে আরও দেড় লাখ পাউন্ড দেন প্রতিবেদক। পুরো ঘটনাই ধারণ করা হয় গোপন ভিডিও ক্যামেরায়। ওই প্রতিবেদক, মাজিদ ও বাটের ছবিসহ আরও বেশ কটি ছবিও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। ভিডিওটি দেখানো হয়েছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র বলেছেন, ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর তথ্যের ভিত্তিতে জুয়াড়ি সন্দেহে আমরা ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছি।’ পাকিস্তানের ম্যানেজার ইয়াওয়ার সাঈদ পরশু রাতে বলেছেন, ‘খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর দু-একজন ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। তারা এখন ব্যাপারটা তদন্ত করছে এবং আমরা সর্বতোভাবে তাদের সহায়তা করব। এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের কক্ষ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধারের কথাও শোনা গেছে। তবে তা জুুয়াড়িদের দেওয়া নাকি বৈধ টাকা, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। পুলিশি তদন্ত চলছে বলে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আইসিসি, ইসিবি ও পিসিবি।
অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ আসিফ পরশু রাতে হোটেলে বার্তা সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে বলেছিলেন, ‘ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তারা বলেছে কিছু একটা হয়েছে, তবে কী হয়েছে তা জানায়নি। ম্যানেজমেন্ট পরে আমাদের জানাবে। আমাদের শতভাগ মনোযোগ ম্যাচের দিকে।’ আসিফ পরে জেনেছেন, ‘অজানা’ সেই ঘটনার অন্যতম মুখ্য চরিত্রে ছিলেন তিনি, সতীর্থদের নিয়ে আরও একবার কলঙ্কিত করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেটকে।

ক্ষোভ-হতাশা-নিন্দা

নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর ফাটানো বোমায় কেঁপে উঠেছে ক্রিকেট-বিশ্বই। ঘটনা ইংল্যান্ডে, ইংলিশ ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়াই তাই বেশি জানা যাচ্ছে। সেই প্রতিক্রিয়ায় হতাশা-ক্ষোভ মিলেমিশে একাকার।
ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান অ্যালান ল্যাম্ব বলেছেন, ‘কোনো খেলোয়াড় যদি ধরা পড়ে, তাদের আজীবন নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে প্রকৃত অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। ক্রিকেটকে এসব লোকের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। তাদের আজীবন নিষিদ্ধ করে খেলাটাকে এগিয়ে নিতে হবে।’
কাল সকালে পত্রিকায় খবরটা দেখার পর মনটাই খারাপ হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের। ‘প্রতারিত’ মনে হচ্ছে নিজেকে, ‘স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ সেঞ্চুরির পর আমি উঠে হাততালি দিয়েছিলাম। মাঠের দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় একটা অন্যরকম মুহূর্ত হিসেবে ধরা দিয়েছিল মুহূর্তটা। কিন্তু যখন জানবেন চারপাশে আসলে কী হচ্ছে, মাথার পেছনে চুল দাঁড়িয়ে যাবে। আপনি জানবেন, আপনার আবেগটা কীভাবে প্রতারিত হচ্ছে।’
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে ফ্রেজার বলেছেন, ‘ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে এক দিনে অনেক ঘটনা ঘটে। চাইলে দিনের খেলার ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা খুবই সহজ। এমনিতে একটা নো-বল হয়তো তেমন কিছুই না, তবে এতে শুধু হিমবাহের মাথাটাই দেখতে পাচ্ছি আমরা।’
সাবেক দুই ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন আর নাসের হুসেইনও সর্বশেষ এই কেলেঙ্কারিতে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন। টুইটারে ভন লিখেছেন, ‘এ মুহূর্তে একটাই অনুভূতি হচ্ছে—প্রচণ্ড রাগ। জানি না কীভাবে এ থেকে বেরিয়ে আসা যাবে...এটা অনেক বড় লজ্জা। আমি খুব মর্মাহত।’ আর স্কাই স্পোর্টস নিউজকে নাসের হুসেইন বলেছেন, ‘একবার মনে হচ্ছে, এটা প্রমাণিত হলে একদিক দিয়ে ভালোই হয়। কারণ এমন অভিযোগ অনেক দিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল। এখনই হয়তো সময় কিছু একটা করার। উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে খেলাটাকে পরিচ্ছন্ন করার এই-ই হয়তো সুযোগ।’
যে লর্ডস টেস্ট নিয়ে এই বিতর্ক, সেটিতে বড় ব্যবধানে জয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘এমন প্রেক্ষাপটে কেউ টেস্ট সিরিজের শেষ দেখতে চায় না। এটা আমাদের সিরিজ জয় থেকে ঔজ্জ্বল্যটা কেড়ে নিয়েছে।’ স্ট্রাউস তাই স্বাভাবিকভাবেই খুব ক্ষুব্ধ, ‘কেউ যদি নিশ্চিতভাবেই দোষী প্রমাণিত হয়, আমার সোজা কথা—তাকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেওয়া যাবে না।’

ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তান

লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কুকর্মের খবর শুনে ফুঁসে উঠেছেন সে দেশের সাবেক ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেক দিন ধরেই ক্রিকেটারদের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। এবার তা আরও জোরালো হলো। দোষী ক্রিকেটারদের আজীবন নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠছে জোরেশোরে।
পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার ও নির্বাচক ইকবাল কাসিম বলেছেন, ‘এটা বড় একটা ধাক্কা। একটা বড় বিপর্যয়ও।’ অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি, ‘যতটুকু শুনেছি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে “নো” বল করার মতো ফেন্সি ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভালোভাবে তদন্ত করতে হবে এবং যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমির ও কামরান আকমল ঘরোয়া ক্রিকেটে যে দলের হয়ে খেলেন, ইকবাল কাসিম আছেন সেই ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে। তবে কাসিম বলছেন, ‘প্রথমে ব্যাপারটা পাকিস্তানের, এরপর আসবে ওরা কোথায় কাজ করে সেই প্রসঙ্গ। কাজেই অপরাধী প্রমাণিত হলে আগে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, ওরা কোথায় কাজ করে এটি আসবে এর পরে।’ এএফপি, ওয়েবসাইট।
পাকিস্তান ক্রিকেট আর ম্যাচ পাতানো প্রায় সমার্থক হয়ে গেছে অনেক দিন ধরেই। সর্বশেষ এই ঘটনাও অনেককেই বিস্মিত করেনি। এঁদেরই একজন সাবেক পেসার সরফরাজ নওয়াজ বললেন, ‘পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে সব সময়ই বলে আসছি আমি। এবার আবারও বলছি, এর সঙ্গে জড়িত খেলোয়াড়দের আজীবন নিষিদ্ধ করতে হবে। ওরা দেশের সম্মান ভূলুণ্ঠিত করেছে।’
সাবেক আইসিসি সভাপতি এহসান মানি, সাবেক পিসিবি প্রধান তৌকির জিয়া, পাকিস্তান জাতীয় সংসদের ক্রীড়া কমিটির প্রধান জালাল মোহাম্মদ আলী যেমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তেমনই পাকিস্তানের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরাও। এহসান মানি বলেছেন, ‘ক্রিকেটের জন্য এটা কলঙ্কিত এক দিন। নব্বইয়ের দশকের ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির পর বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে অনেক দিন লেগেছে ক্রিকেটের। আমি শুধু একটা জিনিসই কামনা করি, যে খবরটা বেরিয়েছে সেটা যেন সত্যি না হয়।’

Monday, August 30, 2010

মাহে রমজানে সম্পদের জাকাত -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের রোজাকে দেহের জাকাতস্বরূপ বলা হয়েছে। জাকাত আদায় করলে যেমন মানুষের উপার্জিত সব ধনসম্পদ পবিত্র হয়, তেমনি রমজান মাসে রোজা পালন করলে সারা শরীর পবিত্র হয়ে যায়। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি তার সম্পদের জাকাত প্রদান করে, তার সম্পদের দোষ দূর হয়।’ বস্তুর পবিত্রতা হাসিলের জন্য যেমন জাকাত প্রদান করতে হয়, তেমনি মানুষের শরীর তথা আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য সত্যিকারের সিয়াম পালন করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি বস্তুরই একটি জাকাত রয়েছে, আর মানুষের দেহের জাকাত হলো রোজা।’ (ইবনে মাজা)
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ও বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত জাকাত সমাজে ধনী ও গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরণের একটি বিরাট উপকরণ। ইসলামে কোনো ব্যক্তির উপার্জিত অর্থের পুরোটাই এককভাবে তাকে ভোগ করার অধিকার দেওয়া হয়নি, বরং বছরান্তে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ ধন-সম্পদ হলে এর দ্বারা তার গরিব আত্মীয়স্বজন এবং নিঃস্ব, হতদরিদ্র লোকজনকে সাহায্য করতে হয়, যাতে তারাও উপার্জনক্ষম হতে পারে। সম্পদের জাকাত প্রদান করলে জাকাতদাতার সম্পত্তি কিছু কমে না, বরং আল্লাহ এতে অনেক বরকত দান করেন এবং তা বহু গুণ বেড়ে যায়। ইসলামে সর্বপ্রকার ধন-সম্পদ বণ্টনের মূলনীতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘ধন-সম্পদ যেন শুধু তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সূরা আল-হাশর, আয়াত-৭)
সম্পদের জাকাত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রমজান মাসই জাকাত আদায়ের সর্বোত্তম সময়। রমজান মাসে যেকোনো ধরনের দান-সাদকা করলে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি নেকি হাসিল হয়। তাই রমজান মাসে রোজাদার মুমিন বান্দারা একসঙ্গে জাকাত ও ফিতরা আদায়—এ দুটি আর্থিক ইবাদত করে থাকেন।
দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে রমজান মাসেই অধিক সওয়াবপ্রাপ্তির জন্য ধন-সম্পদের জাকাত দেওয়ার উপযুক্ত ও শ্রেষ্ঠ সময়। রমজান মাস ও অন্যান্য সময় রোজাদার ধনী লোকেরা গরিবদের জাকাত প্রদান করার ফলে সমাজের গরিব-নিঃস্ব ব্যক্তিরা দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে অনেকটা রেহাই পান এবং সমাজের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। ধনী মুসলমানদের অর্থ-সম্পদের মধ্যে আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী অপরের নির্দিষ্ট পরিমাণ আংশিক অধিকার রয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জাকাত ইসলামের সেতু।’ (মুসলিম)
মাহে রমজানসহ সারা বছর নিজের ও পরিবারের যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে যদি কোনো মুসলমানের কাছে নিসাব পরিমাণ অর্থাৎ বছরের আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে যদি কমপক্ষে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য অথবা সমমূল্যের ধন-সম্পদ থাকে, তবে তার উদ্বৃত্ত সম্পদের শতকরা আড়াই টাকা হিসেবে আল্লাহর নির্ধারিত খাতে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়, আর এটাই হলো জাকাত। যার ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, তাকে অবশ্যই জাকাত আদায় করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং জাকাত প্রদান করো।’ (সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত-২০)
আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ধন-সম্পদের ৪০ ভাগের এক ভাগ অসহায় গরিব-দুঃখীদের জাকাত প্রদান করে রোজাদার আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে থাকেন। জাকাত গরিবের প্রতি ধনীর অনুগ্রহ নয়, বরং তা গরিবের ন্যায্য অধিকার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর তাদের (সম্পদশালীদের) ধন-সম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আল-যারিআত, আয়াত-১৯)
ইসলামি বিধান অনুসারে জাকাত প্রদানের ফলে সমাজের অসহায় গরিব-দুঃখী, অনাথ, বিধবা, বৃদ্ধ, রুগ্ণ, পঙ্গু, অক্ষম ও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অভাব মোচন করতে পারে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা জাকাত আদায় করে তখন ফেরেশতাগণ তার জন্য এই দোয়া করে—হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি তোমার পথে খরচ করছে, তাকে তুমি আরও দান করো; আর যে ব্যক্তি সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখে, তোমার পথে খরচ করে না তুমি তার সম্পদকে ধ্বংস করে দাও!’ (বুখারি)
মাহে রমজানে যে জাকাত-ফিতরা প্রদান করা হয়, কতিপয় ধনী লোক গরিবদের প্রতি তা দয়া বা অনুগ্রহ বলে মনে করেন। আর গরিব-দুঃখীদের মনে করা হয় করুণার পাত্র। কিন্তু ধনীর অর্থ-সম্পদে দরিদ্র-অসহায়দের অধিকার রয়েছে। রমজান মাসে ধনী লোকেরা জাকাত-ফিতরা দিয়ে সেই দায়িত্বমুক্ত হচ্ছেন মাত্র। আর জাকাত-ফিতরা আদায় না করলে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেননি বলে দোষী সাব্যস্ত হবেন। জাকাত-ফিতরা বা দান-খয়রাত করুণার বিষয় নয়, এগুলো হলো হক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর সাদকা (জাকাত) অপরিহার্য করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রোজা পালনকারী প্রত্যেক ধনী ব্যক্তিরই আল্লাহকে ভয় করে কড়ায়-গণ্ডায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের জাকাত আদায় করা উচিত। জাকাতের প্রকৃত হকদার হচ্ছে তারা, যারা কর্মক্ষমতাহীন এবং যারা কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উপার্জনহীন অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণে উপার্জন করতে পারছে না। এমতাবস্থায় ধনী লোকেরা যদি রমজান মাসে অগ্রিমও জাকাত আদায় করেন, তাহলে সব ধরনের অভাবী, দুর্দশাগ্রস্ত, দুর্গত মানুষের অভাব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান ও পুনর্বাসন করা সহজ হতে পারে। মাহে রমজানে জাকাতকে সঠিক খাতে এবং সহায়-সম্বলহীন গরিব-মিসকিন ও দুস্থ লোকদের পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহার করতে পারলে সমাজ থেকে সহজেই অভাব-অনটন ও দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

পুলিশের সহায়তায় মাদক পাচার -জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রাপ্য

পুলিশই যদি মাদক পাচারকারীর নিরাপত্তা দেয়, তাহলে মানুষ ভরসা রাখবে কার ওপর? অথচ তেমনটাই ঘটে চলেছে। গত বৃহস্পতিবারের প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, মাদক পাচারকারীদের রক্ষাকবচ টোকেন প্রদান করে তাদের মাদকের নিরাপত্তা দিচ্ছে স্বয়ং পুলিশ। সাংকেতিক চিহ্নসংবলিত কাগজের টুকরার টোকেন সঙ্গে থাকলে মাদক পাচারকারীকে আর পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে হয় না। নিরাপদে তারা মাদকের চালান গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে। যেখানে পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য কাজ করার কথা, সেখানে তারা জীবন ধ্বংসকারী মাদকের চালান নিরাপদ করার কাজে সহায়তা করে চলেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে একটি সুশৃঙ্খল সরকারি বাহিনীর এরূপ সখ্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি অশনিসংকেত।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতার কাজ চালিয়ে আসছি এবং মাদকের বিস্তার রোধে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার ওপর আমরা গুরুত্বারোপ করেছি। আমরা জানি, পুলিশ আন্তরিক হলে মাদকের পাচার ও ব্যবসা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব। পক্ষান্তরে, পুলিশ-সদস্যরা যদি মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অবাধে মাদক পাচারের নিশ্চয়তা দেন, তবে সমাজের জন্য এর চেয়ে গুরুতর অনিষ্টের আর কী হতে পারে?
টোকেনের মাধ্যমে মাদকের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এটি ঠিকমতো কাজ করার জন্য এর সঙ্গে বহু পুলিশ জড়িত থাকা প্রয়োজন। নিচ থেকে উচ্চপর্যায়ের পুলিশের সহায়তা ছাড়া এটি ঠিকমতো চলার কথা নয়। যাঁরা এ ধরনের অপকীর্তির সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যে পুলিশ-সদস্যরা এ কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা তাঁদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন এবং তাঁরা আর পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অধিকার রাখেন না।

নুরুন্নবীকে রক্ষার তৎপরতা -আইনকে নিজস্ব পথে চলতে দিন

আওয়ামী লীগের ভোলা-৩ আসনের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরীর পিস্তলের গুলিতে তাঁরই দলের কর্মী ইব্রাহিম নিহত হয়েছেন। নুরুন্নবী চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের যেসব অভিযোগের খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা একটি গণতান্ত্রিক ও আইনভিত্তিক রাষ্ট্রে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইব্রাহিম হত্যা মামলায় নুরুন্নবী চৌধুরীকে যেন কোনো বাড়তি সুবিধা দেওয়া না হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নুরুন্নবীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা দলের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া উচিত।
কিন্তু নুরুন্নবী চৌধুরীকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার সত্যিকারের কোনো উদ্যোগ নেই; উল্টো বরং তাঁকে এ অভিযোগ থেকে পার পাইয়ে দেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের একটি শক্তিশালী মহল প্রবল প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নানা অন্যায়-অপরাধে অভিযুক্ত সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের আইনের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টার যেসব দৃষ্টান্ত লক্ষ করা গেছে, ইব্রাহিম হত্যার ঘটনাটি সেগুলোর একটি মাত্র। ২০০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মালিবাগে হরতালবিরোধী মিছিল থেকে গুলি করে বিরোধী দলের চারজনকে হত্যা করার মামলায়ও নুরুন্নবী চৌধুরী আসামি ছিলেন। যেমন ছিলেন আওয়ামী লীগের সে সময়ের সাংসদ এইচ বি এম ইকবাল। ওই মিছিলের কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছবিও ছাপা হয়েছিল সে সময়ের পত্রপত্রিকায়। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ইকবাল ও নুরুন্নবীসহ ১৪ জন আসামিকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডসহ নানা গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা শত শত মামলা থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের তরফে এই প্রক্রিয়াটির অন্তর্নিহিত দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে আইনের শাসনের নীতিতে বিশ্বাস না করা, আইনকে শুধু নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা, নিজেদের স্বার্থেই আইনকে অকেজো করে রাখা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ক্ষমতাসীন দলের যেসব নেতা ইব্রাহিম হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত চাইছেন বলে বলছেন, তাঁরা এটা বলছেন যতটা আইনের শাসনের নীতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে, তার চেয়ে বেশি দলের ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা দলের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কিন্তু প্রকৃত সমস্যা হলো, আইনের শাসনের প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকার না থাকলে দলীয় নেতা-কর্মীদের অন্যায়-অপরাধ ঠেকানোর কোনো কার্যকর পন্থা আসলে পাওয়া সম্ভব নয়। নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, এটা দলের ভাবমূর্তি বা অগ্রগতির জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। কিন্তু এটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয় নয়, মূল বিবেচ্য হচ্ছে ন্যায়বিচার। অপরাধের অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা প্রমাণের জন্য আদালত রয়েছেন; অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুন। কিন্তু তা না করে অপরাধীকে যদি আদালতের দোরগোড়া পর্যন্তই নেওয়া না হয়, আইনকে যদি তাঁদের স্পর্শই করতে না দেওয়া হয়, তাহলে ন্যায়বিচার হয় না; তাতে দলের বা সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতিপূরণও ঘটে না।
সরকারকে এটা বিশ্বাস করতে হবে যে দেশ পরিচালনায় সফল হতে হলে, সুশাসন দিয়ে জনসাধারণের আস্থা ও ভালোবাসা পেতে চাইলে অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। আমরা দেখতে চাই, নুরুন্নবী চৌধুরী, এইচ বি এম ইকবালসহ ক্ষমতাসীন দলের যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে মামলা রয়েছে, তাঁরা কেউ আইন প্রয়োগ থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছেন না, বরং আইনানুগভাবে মামলায় লড়ে আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করছেন।

পেশোয়ারে নিরাপত্তা রক্ষীদের জিম্মি করেছে আটক জঙ্গিরা

পাকিস্তানের পেশোয়ারে গতকাল শনিবার সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনায় ওই জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তারাই নিরাপত্তারক্ষীদের কাবু করে ফেলে মার্কিন কনস্যুলেটের পাশে সেনাবাহিনীর একটি ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিবিনিময় হয়। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
পরে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস বলেন, ‘ওই কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটকে রাখা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তারাই দুই নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে।

পুতিন বললেন সংকট কাটেনি

রাশিয়া এখনো অর্থনৈতিক সংকট উতরাতে পারেনি। সংকট মোচনে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে তারা।
গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এ কথা বলেন। সরকারি বার্তা সংস্থা আরআইএ পুতিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতির মতো রাশিয়ার অর্থনীতিও ধীরে ধীরে সংকট থেকে বের হয়ে আসছে।
পুতিন বলেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, সংকট মোকাবিলায় নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে হবে।

কিউবার বিপ্লবী নেতার ভিন্নমতাবলম্বী ছেলে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন

কিউবার বিপ্লবী এক নেতার ভিন্নমতাবলম্বী ছেলে অবশেষে দেশত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র যেতে পেরেছেন। ভ্রমণের সাত বছরের নিষেধাজ্ঞা থাকার পর কিউবা কর্তৃপক্ষ দেশত্যাগের অনুমতি দিলে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন তিনি। গত শুক্রবার মিয়ামিভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
হুয়ান হুয়ান আলমেইদা (৪৩) নামের ওই আইনজীবী কিউবার মরহুম বিপ্লবী হুয়ান আলমেইদা বস্কের ছেলে। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর বস্কের মৃত্যু হয়।
২০০৯ সালে অবৈধভাবে কিউবা ত্যাগের চেষ্টা করলে আলমেইদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দেশত্যাগের অনুমতি পেতে কারাগারে অনশন শুরু করেন তিনি। কমিউনিস্ট-শাসিত কিউবার রোমান ক্যাথলিক প্রধান হেইম ওর্তেগার মধ্যস্থতায় অবশেষে দেশত্যাগের অনুমতি পান আলমেইদা। এই সপ্তাহে কিউবা ত্যাগের পর মেক্সিকো থেকে একটি বিমানে করে গত বৃহস্পতিবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হন।

কোকেনসহ গ্রেপ্তার প্যারিস হিলটন

শোবিজ তারকা প্যারিস হিলটনকে অবৈধভাবে কোকেন রাখার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের পুলিশ গত শুক্রবার রাতে একটি গাড়ি থামিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় ওই গাড়িতে সন্দেহজনক পাউডার পাওয়া যায়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, এগুলো কোকেন। প্যারিস হিলটনের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে অভিযোগ আনা হবে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেতে পারেন।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ গত জুলাইয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে কোনো ধরনের সাজা না দিয়েই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাইজেরিয়ায় সিসার বিষক্রিয়ায় ৩০ শিশুর মৃত্যু

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের জামফারা রাজ্যের একটি গ্রামে গত এক সপ্তাহে সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩০ জন শিশু মারা গেছে। চিকিৎসকেরা এ কথা জানান।
এদিকে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তারা মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খনি থেকে সোনা আহরণের কারণে এই সিসার বিষক্রিয়া হচ্ছে। জামফারা রাজ্যে গত এক বছরে সিসার বিষক্রিয়ায় বহু লোকের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃতের বেশির ভাগই শিশু। মৃত্যুর সর্বশেষ ঘটনা ঘটে আনকা শহরের কাছে একটি গ্রামে।
রাজ্যটিতে গত জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত সিসার বিষক্রিয়ায় মোট ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এলাকাটি সফরকালে চিকিৎসকেরা বলেছেন, অঞ্চলটিতে অস্বাভাবিকভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা এ ঘটনার জন্য সিসামিশ্রিত দূষিত পানিকে দায়ী করছেন। নিয়মনীতি না মেনে অবৈধভাবে খনি থেকে সোনা আহরণের চেষ্টা করার কারণে পানির উৎসে এ বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।
জামফারা রাজ্যে স্বর্ণখনি এলাকায় সম্প্রতি একটি চীনা কোম্পানিকে খনি খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিবিসি অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছেন ওবামা

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই দেশকেই ছাড় দিতে রাজি করাতে আগামী মাসগুলোয় জেরুজালেম ও রামাল্লা সফর করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই হবে ওই অঞ্চলে তাঁর প্রথম সফর।
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা ওবামার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল। এ জন্য তিনি সম্মেলন আয়োজন করেছেন এবং বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে অনেক বৈঠক করেছেন। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই পক্ষের সরাসরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ওবামা। ইসরায়েলের একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এক বছরের মধ্যেই একটি সমন্বিত শান্তিচুক্তি করতে চাইছে। আগামী ১০ বছর ধরে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন ইহুদি নেতাদের বৈঠকের ফাঁস হওয়া কিছু নথিপত্র থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে সীমান্ত ও শরণার্থী সমস্যা এবং আগামীতে জেরুজালেমের অবস্থান কী হবে, এমন কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে। কোনো বিষয়ে কোনো পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে মার্কিন কর্মকর্তারা সেখানে হস্তক্ষেপ করবেন এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রস্তাবও দেওয়া হবে।
ফাঁস হওয়া নথিপত্র থেকে আরও জানা গেছে, দুই পক্ষের ধারাবাহিক আলোচনা ছাড়াও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিজেদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক করবেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কৌশলে নেতানিয়াহু খুশি হবেন। কেননা তিনি বারবার দুই পক্ষের সরাসরি বৈঠক দাবি করে আসছিলেন। নেতানিয়াহু গত শনিবার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে প্রকৃত আলোচনা হতে পারে কেবল বিভিন্ন মৌলিক বিষয়গুলোয় দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যে সরাসরি ও ধারাবাহিক বৈঠকে।’

কানাডায় সন্দেহভাজন আল-কায়েদার চার সদস্য গ্রেপ্তার

কানাডার আরসিএসপি পুলিশ অটোয়া ও লন্ডন অন্টারিও থেকে চারজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। এঁরা আল-কায়েদার সদস্য বলে পুলিশ দাবি করছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পৃথক অভিযান চালিয়ে এঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন হিবা মোহাম্মদ আলজাদেহ (৩০), মিসবাহউদ্দিন আহমেদ (২৬), খুররুম সাইয়েদ শের (২৮)। অন্যজনের নাম জানা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এঁরা দেড় বছর ধরে অটোয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। এরা কানাডা, ইরান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও দুবাইয়ের আল-কায়েদা সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। দীর্ঘদিন নজরদারির পর প্রমাণ সাপেক্ষে এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
‘অপারেশন সামোসা’ নাম দিয়ে আরসিএসপি পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোয়ার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার টাউন হাউজ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমকে কিছু জানায়নি। তবে তাঁরা দাবি করেছে, কানাডায় বড় ধরনের একটি সন্ত্রাসী হামলা তাঁরা ঠেকিয়ে দিয়েছেন।
পরে শুক্রবার সকালে লন্ডন অন্টারিওতে আরেক সন্দেহভাজন আল-কায়েদা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনই কানাডায় নাগরিক। তাঁদের কাছ থেকে ৫০টি বোমা তৈরির ইলেকট্রনিক সার্কিটবোর্ড, উন্নতমানের জেনারেটর, বিস্ফোরক দ্রব্য, আল-কায়েদার প্রকাশিত বেশ কিছু বই উদ্ধার করা হয়।
২৮ বছর বয়সী রোগতত্ত্ববিদ খুররম সাইয়েদ শেরকে আল-কায়েদার গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলে ধারণা করছে কানাডার পুলিশ। মজার বিষয় হলো, দুই বছর আগে মন্ট্রিয়ালে ‘কানাডিয়ান আইডল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল এই খুররম। এখন অনেকে মনে করছেন, তাঁর এ সব কিছুই ছিল সাজানো এবং নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা। আলজাদেহের বিরুদ্ধে বোমা তৈরীর অর্থ সংগ্রহ ও অস্ত্র চোরাচালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কানাডায় সক্রিয় এই গোষ্ঠী অর্থ সংগ্রহ করে আফগানিস্তানে যৌথবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আল কায়েদার জন্য পাঠাতো। আলজাদেহ ঘন ঘন আফগানিস্তান যেতেন।

আফগানিস্তানে মার্কিন ঘাঁটিতে তালেবান জঙ্গিদের হামলা

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে গতকাল শনিবার একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ৩০ জনেরও বেশি তালেবান জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান। তবে সম্ভাব্য হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনো জানা যায়নি।
তবে ন্যাটো বলেছে, তারা আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে দুটি ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর পোশাক পরে আসা তালেবান জঙ্গিদের পরিকল্পিত হামলা নস্যাৎ করে দিয়েছে। স্থানীয় খবরে বলা হয়, ৫০ জনেরও বেশি তালেবান যোদ্ধা ওই হামলায় অংশ নেয়। ন্যাটো বলেছে, একটি ঘাঁটিতে কমপক্ষে ১৫ জন ও আরেকটিতে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী খোস্ট প্রদেশে সুরক্ষিত মার্কিন ঘাঁটি ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস চ্যাপম্যানে জঙ্গিরা এ হামলা চালায়। সেখানে মার্কিন ও অন্য বিদেশি বাহিনী তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর আগে এই মার্কিন ঘাঁটিতে গত ডিসেম্বরে তালেবান জঙ্গিদের এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইয়ের সাত গোয়েন্দা নিহত হন।
ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ক্যাটি কেনড্রিক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অজ্ঞাত স্থান থেকে রয়টার্সকে টেলিফোনে জানান, ওই মার্কিন ঘাঁটিতে ৩০ জন যোদ্ধা হামলা করেছেন। এ হামলায় আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ রকেট ও মেশিনগান নিয়ে অন্য হামলাকারীরা অংশ নেয়। এক লাখ ৫০ হাজার বিদেশি সেনার উপস্থিতি সত্ত্বেও বর্তমানে আফগানিস্তানে সহিংসতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

গমের জিন-নকশা উন্মোচন খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে

বন্যা ও খরার কারণে অনেক দেশে গমের উৎপাদন কমে গেছে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা গমের জিন-নকশা (জিনমসিকোয়েন্সস) উন্মোচন করতে সক্ষম হওয়ায় সম্ভাব্য খাদ্যঘাটতি মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের আশাবাদ গমের জিন নকশা উন্মোচন বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে গমের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের নিল হলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নিল হল বলেন, মানুষের জিন নকশা উন্মোচনে সময় লেগেছে ১৫ বছর। কিন্তু ডিএনএ প্রযুক্তির বিপুল উৎকর্ষের কারণে গমের জিন নকশা উন্মোচনে মাত্র এক বছর সময় লেগেছে। গবেষণার ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার ফলে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা জিনের অণুক্রম বিশ্লেষণ করতে পারবেন ও গবেষণার ফলাফলকে গমের উৎপাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
সম্প্রতি গমের অন্যতম বড় উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া গম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মারাত্মক খরা ও দাবানলে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর দেশটি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপের কারণে বিশ্বজুড়ে গম ঘাটতির আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। এতে গমের দাম বেড়ে যায়। পাকিস্তানে বড় ধরনের বন্যা ও চীনে ভূমি ধসও গমের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কানাডাসহ কয়েকটি দেশে গত বছরের তুলনায় গমের উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টারের গম শারীরবৃত্তবিদ ম্যাথু রেনল্ড বলেন, গমের জিন নকশা উন্মোচনের কারণে এখন গমের আরও উৎপাদনশীল জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৪০০ অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন দিনে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে চার শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৪৭ জনই নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ রয়েছে।
ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, উইসকনসিন, ক্যানসাস, মিসৌরি, মিশিগান, ওহাইও, মিনেসোটা ও নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে প্রথমে এই তল্লাশি শুরু হয়। পরে আরো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও তল্লাশি চালানো হয়।
মার্কিন কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন দপ্তরের শিকাগো কার্যালয়ের মুখপাত্র গেইল মনটেনেগ্রো বলেন, নতুন করে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যে ধরপাকড় বাড়ানো হয়েছে। ব্যাপকসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর অপরাধমূলক তৎপরতায় জননিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন বলেও অভিবাসন বিভাগের ওই মুখপাত্র উল্লেখ করেন। অভিবাসন বিভাগ থেকে বলা হয়, যেসব অবৈধ অভিবাসী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগ জানায়, সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শতাধিক ব্যক্তি মাদক চোরাচালান ও সহিংসতার দায়ে ইতিপূর্বেই আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অপরাধ চক্রের সদস্য।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মার্কিন কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডিটেনশন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ইতিপূর্বেই দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের নতুন অভিযোগ আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের পরিচালক জন মরটন বলেছেন, আইন লঙ্ঘন করে যারা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

বরিশালে বাংলালায়ন ওয়াইম্যাক্স

ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক বরিশালে নিয়ে এসেছে বাংলালায়ন। আনুষ্ঠানিকভাবে বরিশালে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
গতকাল শনিবার সকালে নগরের বিডিএস মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলালায়ন তাদের এ যাত্রা শুরু করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরের পর বরিশালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু হলো।
সংবাদ সম্মেলনে বরিশালকে একটি তারবিহীন ডিজিটাল শহরে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন বাংলালায়নের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. শফিউল হক চৌধুরী এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান জি এম ফারুক খান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্ট্যাটেজিক সেলস প্রধান তামিম এইচ চৌধুরী, নিউ বিজনেস প্রধান আমানুল ইসলাম, প্লাজা প্রধান মো. নজরুল ইসলাম, আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক জাহির উদ্দিন খান, করপোরেট বিক্রয় ব্যবস্থাপক রেজওয়ান উর রহমান, মিডিয়া ইনচার্জ সৈয়দ নাসিম, সহকারী ব্যবস্থাপক (ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউশন) আরিফুর রহমান, ঊর্ধ্বতন নির্বাহী শওকত পারভেজ প্রমুখ।
বাংলালায়নের প্যাকেজ রয়েছে ১২৮ কেবিপিএস, ২৫৬ কেবিপিএস, ৫১২ কেবিপিএস, ১ এমবিপিএস, ২ এমবিপিএস ও ৫ এমবিপিএস।

১৩ দিন বন্ধ থাকার পর চাতলাপুর দিয়ে ত্রিপুরায় রপ্তানি শুরু

বিএসএফের বাধায় কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তে চাতলাপুর চেকপোস্ট এলাকার উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকার ১৩ দিন পর চাতলাপুর স্থলবন্দর দিয়ে উত্তর ত্রিপুরায় বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি আবার শুরু হয়েছে।
গতকাল শনিবার চাতলাপুর স্থলবন্দর এলাকায় সিমেন্ট, চিপ পাথর ও ইটবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
চাতলাপুর স্থলবন্দর সড়ক উন্নয়নে বিএসএফের বাধা সম্পর্কে এবং ভারতীয় অংশে শ্মশানঘাট উন্নয়নে বিডিআরের বাধার বিষয়ে ১০ আগস্ট থেকে বিডিআর ও বিএসএফের মধ্যে প্রায় সাতটি বৈঠক হয়েছে।
এসব বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও বিএসএফের বাধায় চাতলাপুর স্থলবন্দর সড়কের উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে ১৫ আগস্ট থেকে চাতলাপুর দিয়ে সিমেন্ট, চিপ পাথর, ইট ও মাছ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়।
চাতলাপুর স্থলবন্দর কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট ও রপ্তানিকারক খন্দকার আতিক সেলিম এবং চাতলাপুর শুল্ক কর্মকর্তা সঞ্জীৎ আচার্য প্রথম আলোকে জানান, ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ও চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে সিমেন্ট, চিপ পাথর ও ইট রপ্তানি করা শুরু হয়।
ঠিকাদার মোসাদ্দেক আহমদ মানিক জানান, চাতলাপুর চেকপোস্ট থেকে দেড় শ গজ এলাকার সড়কের উন্নয়নকাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে বাকি পুরো সড়কে পর্যায়ক্রমে কাজ চলছে।

কেঅ্যান্ডকিউর শেয়ার লেনদেন ৫২ মিনিট স্থগিত

কেঅ্যান্ডকিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের শেয়ারের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ আজ রোববার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন ৫২ মিনিট স্থগিত করে।
এর আগে ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ ইস্যু করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেই কারণ দর্শানো নোটিশের উত্তর দিতে দেরি করায় আজ সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেনের শুরুতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ডিএসইর নোটিশের উত্তরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য না থাকার কথা জানালে বেলা ১১টা ২২ মিনিটে শেয়ার লেনদেন আবারও শুরু হয়। এদিকে ডিএসই কেঅ্যান্ডকিউয়ে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছে।

গরম মসলার বাজার বেজায় গরম

কেরালার ভান্দানমিডু ও তামিলনাড়ুর বদিন্যকানু আড়তে আসা এলাচি চাষিরা অনেক মাস ধরেই বেজায় খুশি। সেখানে সাপ্তাহিক নিলামে মসলাটির দাম বাড়ছে আর বাড়ছে। ঢাকার শেয়ারবাজারের মতো রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙছে এলাচির দর। জুনের শেষে এক হাজার ৯৫০ রুপি ছুঁয়েছিল কেরালার বিখ্যাত অ্যালেপ্পি গ্রিন জাতের এলাচির কেজি। এমন দর কখনো দেখেনি কেউ।
লাগাতার দাম বাড়ছে। আগেও জোগান কমে গেলে দাম বাড়ত। তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানির কারণে সরবরাহ বাড়লে দু-চার মাসের মধ্যেই আবার কমে যেত। কিন্তু এবার হচ্ছে না। কারণ দুই বছর ধরে গুয়াতেমালায় এলাচি উৎপাদন মার খাচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে কখনো অনাবৃষ্টি, কখনো অতিবৃষ্টি ও বন্যায় গুয়াতেমালার এলাচি চাষ বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতীয় এলাচির এখন পোয়াবারো।
আগের কয়েক বছরে গুয়াতেমালা থেকে কম দামে রপ্তানি করা এলাচি বিশ্ববাজারে ভারতীয় এলাচির বারোটা বাজিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবের মানুষ এলাচি দিয়ে লাল চায় খায়, তাই সেটি এলাচির বড় বাজার। সেখানেও ভারতীয় এলাচি গুয়াতেমালার কাছে মার খেয়েছিল। এবার গুয়াতেমালার রপ্তানি কমায় ভারতীয় এলাচির চাহিদা সব বাজারেই বেড়েছে। তাই পর্যাপ্ত জোগানের অভাবে দামও চড়েছে।
ভারতে চলতি মৌসুমে এলাচি উৎপাদন নয় হাজার টনের বেশি। নিজেরা খেয়ে রপ্তানি করেছে এক হাজার ৭৫০ টনেরও বেশি। এর অনেকটা অবশ্যই এসেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা এক দশক ধরে গুয়াতেমালা যেতে শিখেছিলেন এলাচি আনতে। এবার সেখানে জোগান কমে যাওয়ায় বেশি দামে আনতে হচ্ছে ভারতসহ অন্য সূত্র থেকে। তাই এলাচির দর এত চড়া।
রমজান মাসের দুই সপ্তাহ পার হয়েছে, অনেকেই আগাম ঈদের বাজার শুরু করেছেন আর হতবাক হচ্ছেন এলাচির কেজি দুই হাজার ৯০০ টাকা দেখে। গত ঈদের আগে এলাচি ছিল এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে।
শুধু এলাচি নয়, লবঙ্গসহ অন্যান্য গরম মসলার বাজারও এবার বেজায় গরম। লবঙ্গ এবার ৮০০ টাকা কেজি, যা গতবারের প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি।
এখানেও বৈরী প্রকৃতি। বিশ্বের অন্যতম লবঙ্গ উৎপাদক মাদাগাস্কারের চাষ লন্ডভন্ড হয়েছে পোকার আক্রমণে। দুই সপ্তাহ আগে খোদ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, লুকাস্ট পোকার আক্রমণে লবঙ্গের ফলন বিপন্ন হয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে সাড়ে চার লাখ গ্রামীণ মালাগাছি চাষি পরিবার; যারা ধান, কফি ও লবঙ্গ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
লবঙ্গের বাজারে অবশ্য ভারতের প্রভার নেই। কারণ সে নিজেই আমদানি করে বেশির ভাগ চাহিদা মেটায়। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী জানুয়ারিতে মাদাগাস্কার, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলের ফলন বাজারে না আসা পর্যন্ত বলা যাবে না লবঙ্গের কী হবে। বিশ্ববাজারে প্রতি টন লবঙ্গ জাতভেদে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে এখন। এই দর আর শুল্ক দিয়ে বর্তমান বাজারদর থেকে কম দামে লবঙ্গ বেচা সত্যিই কষ্টকর। তবে মসলার আমদানিতে ‘আন্ডার-ইনভয়েসিং ও মিস-ডিক্লারেশন’ করে আমদানি খরচ কমানো হয় অহরহ। তবে তার সুফল ক্রেতারা পাচ্ছেন না এবার।
মৌলভীবাজার ও খাতুনগঞ্জভিত্তিক গুটিকয়েক আমদানিকারক নিয়ন্ত্রণ করেন মসলার সরবরাহ ও মূল্য। তাদের অনেকেই আবার মসলা আনেন চীন ও দুবাইভিত্তিক মধ্যস্বত্বভোগী রপ্তানিকারকদের থেকে, যারা কিনা ভিয়েতনামের গোলমরিচ কিংবা ব্রাজিলের লবঙ্গের মজুদদার। তাদের মুনাফাও বাংলাদেশের ভোক্তাদের পকেট থেকে যায়।
শুধু ঈদ নয়, বাজার বলছে আমাদের গরম মসলার ভোগ বাড়ছে। এর কারণ হচ্ছে, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ, মাংস, মিষ্টান্ন ভোগ বাড়ছে সারা বছর ধরে। ফলে বাজারও বাড়ছে। এই বাজারটি প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর। তাই গুয়াতেমালায় এল নিনো বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে, মালাগাছির পোকা এ দেশের ক্রেতার পকেট কাটবে।
তবে সব পণ্যেরই বিকল্প সূত্র থাকে। তার সঙ্গে আমদানিকারকদের যোগাযোগে ভূমিকা রাখতে পারে সরকার আর নজরদারি করতে পারে যাতে আমদানিমূল্যের চেয়ে বেশি দরে বিক্রি না হয় গরম মসলা।

কেঅ্যান্ডকিউর শেয়ার লেনদেন ৫২ মিনিট স্থগিত

কেঅ্যান্ডকিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের শেয়ারের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ আজ রোববার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন ৫২ মিনিট স্থগিত করে।
এর আগে ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ ইস্যু করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেই কারণ দর্শানো নোটিশের উত্তর দিতে দেরি করায় আজ সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেনের শুরুতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ডিএসইর নোটিশের উত্তরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য না থাকার কথা জানালে বেলা ১১টা ২২ মিনিটে শেয়ার লেনদেন আবারও শুরু হয়। এদিকে ডিএসই কেঅ্যান্ডকিউয়ে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছে।

সাধারণ সূচক বেড়েছে ১৬.৮৭ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ রোববার সাধারণ সূচক বাড়লেও কমেছে আর্থিক লেনদেন। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১৬.৮৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৭০.১৬ পয়েন্টে।
আজ মোট এক হাজার ১৫৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে ৯৪ কোটি টাকা কম। আজ লেনদেন হওয়া মোট ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১১২টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, আফতাব অটোমোবাইলস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিএসআরএম স্টিল।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—দেশ গার্মেন্টস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, রহিমা ফুডস, লিগেসি ফুটওয়্যার ও ঢাকা ইনস্যুরেন্স।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—ড্যাফোডিল কম্পিউটার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, আলফা টোবাকো, ঢাকা ডাইং ও শ্যামপুর সুগার।
এ ছাড়া আজ ডিএসইর বাজার মূলধন ২,৯৮,২০৫ কোটি টাকা।

সেই পাকিস্তানই লজ্জার মুখে

একগুচ্ছ কীর্তি গড়া হয়ে গেছে। আরও একটি গড়ার উপলক্ষ তৈরি করে ফেলেছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। ৯২৭ রান আর ৯৪ উইকেট নিয়ে লর্ডস টেস্ট শুরু করেছিলেন। অসাধারণ সেঞ্চুরিটির পথে হাজার রান ছোঁয়া হয়ে গেছে। এরপর বোলিংয়ে এসে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট (প্রথম ইনিংসে ২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১)। আর তিন উইকেট পেলেই প্রথম ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে গড়বেন একই টেস্টে হাজার রান ও ১০০ উইকেট ছোঁয়ার কীর্তি। টেস্ট ইতিহাসেই এই কীর্তি আছে আর কেবল জন ব্রেসওয়েল, কপিল দেব ও শন পোলকের।
ট্রট ও ব্রডের দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছে ৪৪৬ রান। দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের পরপরই ১০২ রানে ইংল্যান্ডের ৭ উইকেট ফেলে দিয়েছিল যে পাকিস্তান, তারাই এখন বিব্রতকর অবস্থায়। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৭৪ রানে গুঁড়িয়ে যাওয়ায় ফলোঅনের লজ্জা তো জুটেছেই, দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান এখন ইনিংস হারের দোরগোড়ায়। ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন আরও ৩৩২ রান। হাতে ৬ উইকেট।
ব্যাটিংয়ে যা সর্বনাশ করার তো করেছেনই, বল হাতেও পাকিস্তানের ভরাডুবির সূচনা করেন ব্রড। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দিয়েছেন ইয়াসির হামিদকে, পরের ওভারেই রিক্ত হাতে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফকে। ব্রডের এই দুই উইকেটের মাঝে অ্যান্ডারসন আউট করেছেন ফারহাতকে। এরপর স্টিভেন ফিন ৩ ও গ্রায়েম সোয়ান ৪টি উইকেট নিয়ে ফলোঅনে ফেলে দেন পাকিস্তানকে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ফারহাতকে দিয়ে পাকিস্তানের পতন শুরু ওই ব্রডের হাতেই। পরে অ্যান্ডারসন, ফিন ও সোয়ান তুলে নেন একটি করে উইকেট।
ট্রট-ব্রড জুটি দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল অষ্টম উইকেটে ইংল্যান্ডের রেকর্ড গড়া থেকে ৩ রান দূরে। কাল দ্বিতীয় ওভারেই রেকর্ডটি গড়ে নেন তাঁরা। পরে গড়েন বিশ্ব রেকর্ডও। ১৬৯ রান করে ব্রডের বিদায়ে ভেঙেছে ৩৩২ রানের জুটি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে লর্ডসে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিটি পাননি ট্রট।

কোচের সঙ্গী
লর্ডসে ১৮৩-এর বেশি রানের দুটি ইনিংস খেলা দ্বিতীয় ক্রিকেটার ট্রট। বাংলাদেশের বিপক্ষে গত মে মাসে করেছিলেন ২২৬। আগের কীর্তিটি ছিল দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ গ্রাহাম গুচের।

চুক্তিপত্র পাঠানো হয়েছে নতুন ফুটবল কোচকে

বাংলাদেশে আসার আগেই রবার্ট রুবচিচের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলছে বাফুফে। ই-মেইলে এই ক্রোয়েশিয়ান কোচের কাছে চুক্তিপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দু-একদিনেই তিনি সেটিতে স্বাক্ষর করে পাঠাবেন। আপাতত এক মাসের ছুটিসহ চুক্তিটি এক বছরের। তারপর নতুন ফুটবল কোচকে ঢাকায় আসার বিমানের টিকিট পাঠানো হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ১০-১২ দিনের মধ্যে বাফুফের ‘প্রধান কোচ’ চলে আসছেন তাঁর নতুন কর্মস্থলে, যেখানে টেকনিক্যাল ডাইরেক্টরের অলিখিত দায়িত্বও থাকবে এই কোচের ওপর।
ক্রুসিয়ানি, ডিডো, জর্জেভিচদের উত্তরসূরি মনোনয়নের কাজটা বেশ কয়েক দিন আগেই সম্পন্ন করেছে বাফুফে। কাল বাফুফে জরুরি কমিটির সভায় তা অনুমোদিত হয়েছে। নতুন কোচের সঙ্গে পারিশ্রমিক নিয়ে দর-কষাকষি চলছিল, শেষ পর্যন্ত বছরে ৫০ হাজার ডলারে তাঁকে রাজি করানো গেছে।

চেলসি ম্যানইউ আর্সেনালের জয়

প্রথম দুই ম্যাচে ছয় ছয় ১২ গোল। তৃতীয় ম্যাচে গোলসংখ্যায় ছয়ের ধারা বজায় না থাকলেও জয়ের ধারা ধরে রেখেছে চেলসি। গতকাল তারা স্টোক সিটিকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। জয় পেয়েছে আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও। গার্নাররা ২-১ গোলে ব্লাকবার্ন রোভার্সকে এবং ম্যানইউ ওয়েস্ট হামকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

বায়ার্নের হার দ্বিতীয় ম্যাচেই

বুন্দেসলিগার সবচেয়ে সফল দল তারা। গত মৌসুমে ‘ডাবল’ জয়ের কীর্তি গড়েছে। কিন্তু এ মৌসুমে লিগের দ্বিতীয় সপ্তাহেই হোঁচট খেল বায়ার্ন মিউনিখ। বায়ার্ন তাদের দ্বিতীয় লিগ ম্যাচে কাইজারস্লটার্নের কাছে ০-২ গোলে হেরে গেছে।
এ বছরই দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বুন্দেসলিগায় জায়গা পাওয়া একটি দলের কাছে বায়ার্নের হেরে যাওয়াটা বিস্ময়ের। এটা আবার বুন্দেসলিগার পয়েন্ট তালিকায়ও একটা বিস্ময় উপহার দিয়েছে। পরশু বুন্দেসলিগার পয়েন্ট তালিকার ওপরের অংশের চেহারাটা একটু হয়তো অচেনাই লেগেছে সবার কাছে। এদিন পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে ছিল কাইজারস্লটার্ন।
কাইজারস্লটার্নের পরাশক্তি-বধের আনন্দে কিছুটা দুঃখ মিশেছে ম্যাচের ইনজুরি সময়ে। দুই হলুদ কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার ইলিসেভিচকে। এই ইলিসেভিচই ৩৬ মিনিটে করেছেন প্রথম গোল, কয়েক সেকেন্ড পর তাঁরই ফাইনাল পাসে দ্বিতীয় গোল করেছেন সারদিয়ান লাকিচ। তবে কাইজারস্লটার্নের ম্যাচ-পরবর্তী উৎসবকে এটা খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারেনি। ‘আমরা বায়ার্নের মতো একটা দলকে হারিয়েছি। কোনো কিছুই এর উৎসবে প্রভাব ফেলতে পারে না’—বলেছেন লাল কার্ড দেখা ইলিসেভিচ।
বায়ার্ন অবশ্য পরাজয়টা মানতেই পারছে না। পুরো ম্যাচে ভালো খেলে হেরে যাওয়াটা কেই-বা মানতে পারে? জার্মান ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক ফিলিপ লাম বলেছেন, ‘পুরো ৯০ মিনিট আমরা ভালো খেলেছি। গোলের সুযোগও তৈরি করেছি। কিন্তু হেরে গেলাম। যে হারটা আমাদের প্রাপ্য নয়।’ কোচ লুই ফন গল দায়ী করেছেন স্ট্রাইকারদের বাজে ফিনিশিংকে। বিশ্বকাপের সোনার জুতাজয়ী টমাস মুলার নষ্ট করেছেন সহজতম সুযোগ। সুযোগ অপচয় করেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসাও। পুরোনো দলের বিপক্ষে নিজেকে ফিরে পেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো স্নায়ুর পরীক্ষায় উতরাতে পারেননি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা!
বায়ার্ন যেমন বুন্দেসলিগার, লিভারপুল তেমনই ইংলিশ লিগের সর্বোচ্চ শিরোপা জেতা দল (রেকর্ডটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যৌথভাবে)। বায়ার্নের মতো লিভারপুলের শুরুটাও খুব একটা ভালো হয়নি লিগে। প্রথম ম্যাচেই নিজেদের মাঠে জয়ের অবস্থানে থেকেও আর্সেনালের সঙ্গে ড্র করেছে তারা। পরের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরেছে। আজ ওয়েস্টব্রমের সঙ্গে ম্যাচ তাদের। এই ম্যাচ দিয়েই বাজে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় লিভারপুল।
এদিকে কাল শুরু হয়েছে পৃথিবী জোড়া ফুটবল-অনুরাগীদের প্রতীক্ষিত স্প্যানিশ লিগ। শুরুর দিনে গতবারের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপদের কেউ মাঠে নামেনি। তারা মাঠে নামছে আজ। রিয়াল মাদ্রিদ যাচ্ছে রিয়াল মায়োর্কার মাঠে। আর বার্সেলোনা খেলবে রেসিং সান্তান্দারের মাঠে।

ব্রাসেলসেও গে-রাজত্ব

১০০ মিটারে আবারও জিতলেন টাইসন গে। আগের দুটি মিটের মতো উসাইন বোল্টের অনুপস্থিতিতে ডায়মন্ড লিগ অ্যাথলেটিকসের ব্রাসেলস মিটে জিতলেন ৯.৭৯ সেকেন্ড সময় করে। ট্র্যাকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে গে এই দাবিটা প্রতিষ্ঠা করলেন, ১০০ মিটারে তিনিই মৌসুম-সেরা (২০১০)।
তবে ব্রাসেলসের ট্র্যাকে তাঁর শুরুটা ভালো হয়নি। সবাই ভেবেছিল ফলস স্টার্ট করেছেন; যা থেকে ডিসকোয়ালিফাইডও হতে পারতেন। দ্রুতগতির ট্র্যাক, বাতাসও ছিল অনুকূলে। শুরুর বিভীষিকায় না পড়লে হয়তো নিজের সেরা ৯.৬৯ টাইমিংকেও ছাপিয়ে যেতে পারতেন। এই না পারার জন্য আক্ষেপ নেই গের, তবে মেনে নিচ্ছেন দৌড়টা আশানুরূপ ভালো হয়নি, ‘সময় নিয়ে আমি একরকম খুশিই, কিন্তু দৌড়টা নিয়ে নয়। কারণ শুরুটা আমি কাজে লাগাতে পারিনি। ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছিলাম। ট্র্যাক দ্রুতগতিরও ছিল কিন্তু সুবিধাটা নিতে পারিনি।’
ফলস স্টার্ট করেননি, এমনটা দাবি করে গে বলছেন, ‘আমার মনে হয়, অন্য কারও বক্স ফসকেছিল, কিন্তু ক্যামেরা ফোকাস করতে লাগল কেবল আমাকেই। এটা আমার মনে কিছুটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল, মনোযোগও কিছুটা সরিয়ে দিয়েছিল।’ তবে শেষটা ভালো হওয়ায় সন্তুষ্ট গে, ‘শেষ ৩০ মিটার যেভাবে দৌড়েছি তাতে আমি খুশিই।’
১৪ মিটের ডায়মন্ড লিগ অ্যাথলেটিকসের শেষের তিনটিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ বোল্টকে না পাওয়ায় হতাশ নন গে। স্টকহোমে বোল্টকে হারিয়ে শিরোপা জেতা গে বলছেন, ‘আবহাওয়া, সময় ও ইনজুরির কারণে কে কে ট্র্যাকে থাকবে, সেটা আপনি আগে থেকেই বলতে পারেন না।’ বোল্ট ও আরেক জ্যামাইকান আসাফা পাওয়েল না থাকলেও ট্র্যাকে গের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দুই জ্যামাইকান। ৯.৮৫ সেকেন্ড টাইমিং করে দ্বিতীয় হয়েছেন নেস্টার কার্টার, তৃতীয় ইয়োহান ব্লেক (৯.৯১)।
গের সাফল্যের দিনে ব্যর্থ কাস্টার সেমেনিয়া। লিঙ্গ-বিতর্কের ঝড় শেষে গত মাসে ট্র্যাকে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকান এই অ্যাথলেট ডায়মন্ড লিগে নিজের অভিষেকে মহিলাদের ৮ মিটারে তৃতীয় হয়েছেন ১ মিনিট ৫৯.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে। প্রথম হয়েছেন কেনিয়ার জানেথ জেপকসগেই, টাইমিং ১: ৫৮.৮২।

জিমিকে ছাড়াই হকি দলের জার্মানি-যাত্রা



জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের সুবাদে গতবছর প্রথম বাংলাদেশের হকি খেলোয়াড়রা ইউরোপের ক্লাবে খেলার সুযোগ পায়। উদ্দেশ্য, ইউরোপীয় হকির সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নিজেদের হকির মান বাড়ানো। সেই উদ্দেশ্য কতটা সার্থক হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে আজ আবার জার্মানি রওনা হচ্ছেন বাংলাদেশের ১৭ জন হকি খেলোয়াড়।
যদিও শুরুতে ১৮ জন খেলোয়াড়ের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবার অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন রাসেল মাহমুদ জিমি। হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন জানিয়েছেন, জিমির বদলি কাউকে জার্মানি পাঠানো হচ্ছে না। কারণ তাঁদের আশা, সাত-আট দিনের মধ্যে জিমিও দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন।
যেতে চান জিমিও। কিন্তু ঘরে তাঁর অসুস্থ বাবা, সাবেক হকি তারকা ও কোচ আব্দুর রাজ্জাককে (সোনা মিয়া) রেখে যেতে মন সায় দিচ্ছে না, ‘বাবার শরীরটা আরও খারাপ হয়েছে। ডাক্তাররা কী বলেন, সেটা দেখি। ভারতেও নিয়ে যেতে হতে পারে। এই অবস্থার একটু উন্নতি না হলে বাবাকে ফেলে কীভাবে যাই!’
খেলোয়াড়দের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া—সব দায়িত্বই আমন্ত্রণকারী ক্লাবের বহন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ সময়ে গেরহার্ড নাকি জানিয়েছেন, যাতায়াতের টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময়ে ফেডারেশনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে গুলশান ক্লাব।
গুলশান ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রুবেল আজিজ ক্লাবের পক্ষ থেকে ফেডারেশনকে ১৮টি ফিরতি টিকিট দিয়েছেন।

পাঁচে পাঁচ হলো না ইন্টারের

বন্ধু সার্জিও আগুয়েরোকে একটা লম্বা ধন্যবাদ দিতেই পারেন লিওনেল মেসি। আগুয়েরো আর তাঁর দল যে মেসির বার্সেলোনার একটা কীর্তি অটুট রাখার নিশ্চয়তা এনে দিল পরশু। মোনাকোয় উয়েফা সুপার কাপে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ২-০ গোলে হারাল ইন্টার মিলানকে। নিশ্চিত হলো, এক বছরে ছয়টি শিরোপা জেতা হচ্ছে না ইতালির ক্লাবটির, ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা যে কীর্তি গড়েছিল ২০০৯ সালে।
চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ইউরোপা লিগের দুই চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হয় এই সুপার কাপে। তাতে ‘বড় চ্যাম্পিয়ন’ ইন্টার পাত্তা পেল না ‘ছোট চ্যাম্পিয়ন’ অ্যাটলেটিকোর কাছে। ৬২ মিনিটে হোসে রেইয়েস এগিয়ে দেন মাদ্রিদের ক্লাবটিকে। ২০ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আগুয়েরো। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটা পেনাল্টি পেয়েছিল ইন্টার। কিন্তু সদ্যই উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার পাওয়া ডিয়েগো মিলিতোর শট অ্যাটলেটিকোর গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। ফলে সান্ত্বনার গোলটিও পায়নি রাফা বেনিতেজের দল। হোসে মরিনহোর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কোনো ম্যাচ হারলেন বেনিতেজ।
ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা অবশ্য ইন্টারই দাপট দেখিয়েছে। এর মধ্যে সহজ একটা সুযোগও নষ্ট করেছে তারা। ওয়েসলি স্নাইডারের কর্নার জায়গামতো খুঁজে নিয়েছিল একদম অরক্ষিত দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াল্টার স্যামুয়েলকে। কিন্তু ইন্টার ডিফেন্ডার সুযোগটা অপচয় করেছেন। নিষ্প্রভ ছিলেন আরেক আর্জেন্টাইন মিলিতোও। কিন্তু অ্যাটলেটিকোর আগুয়েরো বেশ কিছু ঝলক দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, খামোখা তাঁর পিছে ছোটেনি চেলসি। ম্যারাডোনার জামাইও অবশ্য শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়াতে পারছিলেন না। ইউরোপের দুই পর্যায়ের টুর্নামেন্টের দুই চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি লড়াইটা প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল নিষ্প্রাণ গোলশূন্য ড্রয়ে।
ম্যাচের লাগামটা আর মুঠোয় পুরে নিতে না পারার মূল্য হিসেবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাই হেরে বসল এ বছর চারটি শিরোপা জেতা ইন্টার। এই ম্যাচ কি সতর্কবার্তাও দিয়ে গেল লিভারপুল ছেড়ে এই মৌসুমেই ইন্টারে আসা বেনিতেজকে? স্প্যানিশ এই কোচ জানালেন, মরিনহোর ছায়া থেকে দলটাকে বের করে নিতে সময় লাগবে। পরাজয়ের কারণ হিসেবে দায়ী করলেন ক্লান্তিকেও।
ছয়টি না হোক, এক বছরে প্রধান পাঁচটি শিরোপা জেতার সুযোগ কিন্তু ইন্টারের সামনে থেকে যাচ্ছে। এ বছর ডিসেম্বরে আরব আমিরাতে বসবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সপ্তম আসর।

ভারতকে গুঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কাই চ্যাম্পিয়ন

কদিন আগে টেস্ট সিরিজের সেরা হয়ে একটা গাড়ি পেয়েছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। কাল ওয়ানডে সিরিজের সেরা হয়েও আরেকটি পেলেন। নিজের গ্যারেজটাকে মোটরগাড়ি দিয়েই হয়তো ভরিয়ে ফেলবেন ভারতের বিস্ফোরক ওপেনার। কিন্তু একই সঙ্গে মনের মধ্যে একটা শূন্যতারও মালা গাঁথতে থাকবেন। আরেকটা টুর্নামেন্টের ফাইনালেও ভারতকে জেতাতে পারলেন না।
গত জুনে ডাম্বুলার এই রনগিরি স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল ভারত। ‘ফাইনালে ওঠার দল’-এর পরিচয় ঘুচিয়ে তাদের চ্যাম্পিয়ন দলে পরিণত হওয়ার চেষ্টাটা হয়তো গতি পেতে পারত এখান থেকেই। জয় যেমন একটা অভ্যাসের ব্যাপার, চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাও তা-ই। কিন্তু শ্রীলঙ্কা এবার তাদের চ্যাম্পিয়ন হতে দিল না। কাল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সব বিভাগে ভারতকে নাস্তানাবুদ করে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাই হলো চ্যাম্পিয়ন। এ টুর্নামেন্টে আগের দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২০০ ও শ্রীলঙ্কার কাছে ৮ উইকেটে হারা ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে সেটি হতো অঘটন। শ্রীলঙ্কা অঘটন ঘটতে দেয়নি। ওপেনার তিলকরত্নে দিলশানের সেঞ্চুরি (১১০), অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারার ৭১ রান ও মাহেলা জয়াবর্ধনের ৩৯ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ২৯৯ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। এই মাঠের তৃতীয় সর্বোচ্চ এ ইনিংসেই জয়ের গ্যারান্টি পেয়ে যায় সাঙ্গাকারার দল। এত বড় রান টপকে জেতাটা সহজসাধ্য নয়। ফর্মে থাকা একমাত্র ব্যাটসম্যান শেবাগের আরেকটা সেঞ্চুরি হলে সম্ভব ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানের মালিকের বারকয়েক রানআউট হওয়ার চেষ্টাটা ‘সফল’ হয় ৩৮ রানের মাথায়, যখন তাঁর রান ২৮। তখনই আসলে ম্যাচটা তার ভাগ্য লিখে ফেলেছে। কিন্তু তার পরও তা ‘কী হয় কী হয়’ উত্তেজনা কিছুক্ষণ ছড়াল বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না ও মহেন্দ্র সিং ধোনির কল্যাণে। ভারত ৪৬.৫ ওভারে ২২৫ রানে অলআউট হয়ে ৭৪ রানে হারের পর অবশ্য বলতে হচ্ছে, ম্যাচটা উত্তেজনা ছড়াতে চেয়েছিল আরকি! জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ৭৪ রান হলে তো আদতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। আসলেও তা-ই। প্রথমে ব্যাটিং, তারপর বোলিং ও ফিল্ডিং দিয়ে পুরোটা ম্যাচে ছড়ি ঘুরিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। মাপা লাইন-লেন্থে বল করে শেবাগ, কোহলি, যুবরাজ, রায়নাদের জায়গাই দেননি মালিঙ্গা, কুলাসেকারা, থিসারা পেরেরা, সুরাজ রণদিভরা। শেষের দুজন নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। অফস্পিনার রণদিভ শেষ লড়াইয়ের শিখা ধোনিকে (৬৭) বোল্ড করে গুটিয়ে দিয়েছেন ভারতের ইনিংস। একেবারে আদর্শ সমাপ্তি। এই রণদিভের একটা নো বলকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কাকে যতটা মনঃকষ্ট সইতে হয়েছে, তার যেন একটা প্রতীকী জবাব এই মুহূর্তটি।
ম্যাচের আগে ভারত থেকে দলের জন্য শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন খোদ শচীন টেন্ডুলকার। কিন্তু এই সিরিজে এর আগে ৮৮, ১০৩ আর ২২৩ রানে অলআউট হওয়া ভারত কতদূর আর যেতে পারত! গেল সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সীমা ২২৫ রান পর্যন্ত। টেন্ডুলকারের শুভেচ্ছা রাতারাতি বদলে দিতে পারল না ধোনির ওয়ানডে দলকে।

প্রথম
এটি দিলশানের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। কিন্তু দেশের মাটিতে এই প্রথম।

সূচি অনুযায়ী চতুর্থ দিনের খেলা চলবে: আইসিসি

নতুন লজ্জায় পাকিস্তান ক্রিকেট। জুয়াড়িদের হয়ে খেলার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার এ ঘটনা ফাঁস হওয়ায় আজ রোববার ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে চলতি টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়ে দিয়েছে, সূচি অনুযায়ী চতুর্থ দিনের খেলা চলবে।
আইসিসির এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ম্যাচ পাতানোর সন্দেহে একজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দলের কোনো ক্রিকেটার বা কর্মকর্তাকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়নি। রোববার সূচি অনুযায়ী চতুর্থ দিনের খেলা চলবে। বিষয়টি এখন পুলিশের হাতে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি এখন পুলিশি তদন্তের বিষয়। আইসিসি, ইসিবি, পিসিবি বা গ্রাউন্ড কর্তৃপক্ষ এমসিসি—এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবে না।

Sunday, August 29, 2010

জীবনের জয়গান, যৌবনের জয়গান by দীপংকর চন্দ

আগের রাতে প্রকৃতির আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। প্রবল বাতাসের প্রশ্রয়ে তা বেড়েছিল উত্তরোত্তর। বৃষ্টি-বাতাসের এই যূথবদ্ধ প্রয়াস সীমাহীন সমুদ্রের বিপুল জলরাশিকেও প্রলুব্ধ করেছিল আদিম উল্লাসে মেতে উঠতে। প্রকৃতির এই অস্বাভাবিক আচরণে আমরা বাধ্য হয়েছিলাম এলজিইডি বাংলোর নিরাপদ আশ্রয়ে উঠে আসতে। তীব্র উত্কণ্ঠা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে অসময়োচিত নিদ্রার কোলে সমর্পিত করেছিলাম নিজেদের।
পরদিন সকাল হতেই প্রকৃতি অপাপবিদ্ধ শিশুর মতোই উজ্জ্বল, উচ্ছল, প্রাণবন্ত। বাতাসের আচরণ শান্ত, সমাহিত। সুতরাং আরও কিছুক্ষণ ঘুমানোর ইচ্ছে পরিত্যাগ করে বাংলো থেকে নেমে এলাম আমরা। সৈকতের স্নিগ্ধ বালুকাবেলায় পা রাখতে না রাখতেই দেখা হলো আব্বাস হাওলাদারের সঙ্গে। গঙ্গামতীর দ্বীপে বাস করা এই শীর্ণ মানুষটি মাছভর্তি হাঁড়ি কাঁধে নিয়ে ছুটে চলেছেন কুয়াকাটা মত্স্য আড়তে। কী ধরনের মাছ আছে তাঁর হাঁড়িতে? আলস্য জড়ানো কণ্ঠে জানতে চাইলাম আমরা। ‘পোয়া, চান্দাগুঁড়া, ব্যোম মাইট্টা...’ বলতে বলতে আমাদের পাশ কাটিয়ে দূরে চলে গেলেন আব্বাস হাওলাদার। আমরা তাঁর গমনপথের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে সমুদ্রের দিকে চোখ ফেরালাম। সুবিশাল আকাশের সঙ্গে সমুদ্রের অন্তর্লীন সম্পর্কের যোগসূত্রটি অনুধাবনের চেষ্টা করলাম একাগ্র চিত্তে। সামান্য সময় অতিক্রান্ত হলো এভাবেই। তারপর বিরক্তিকর এক যান্ত্রিক শব্দের অনুপ্রবেশে বাধাগ্রস্ত হলো একাগ্রতার বুনন। জাকির হোসেন নামের একজন পঁচিশোর্ধ্ব যুবকের মোটরসাইকেল অনেকটা আকস্মিকভাবেই গা ঘেঁষে দাঁড়াল আমাদের। আমরা চমকে উঠলাম। কারণ নগরে এই বাহনটির অপব্যহারের হার অধিক। কর্মহীন যুবসমাজের একটি বিশেষ অংশ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে যান্ত্রিক এই বাহনটিকে। প্রজাতন্ত্রের নিরীহ নাগরিকেরা তাই এই বাহন এবং বাহনের চালক সম্পর্কে পোষণ করেন এক ধরনের আশঙ্কিত মনোভাব। কিন্তু বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জেলাগুলোয় প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাহন হিসেবে পরিচিত এই মোটরসাইকেল নিয়ে শঙ্কার সুযোগ তুলনামূলক কম। পটুয়াখালী, বরগুনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কর্মহীন অসংখ্য যুবকের কাছে সত্ভাবে অর্থ উপার্জনের অন্যতম অবলম্বন এই মোটরসাইকেল।
সে যা-ই হোক, মোটরসাইকেল থামিয়ে জাকির হোসেন বেশ বিনীতভাবেই কাছে এলেন আমাদের। স্বল্প ভাড়ায় সৈকত ঘুরিয়ে দেখার প্রস্তাব জানালেন। একটু ভেবে সম্মত হলাম আমরা, তবে সৈকতে নয়, সবিনয়ে জ্ঞাপন করলাম সাগরবিধৌত কুয়াকাটার লোকালয় পরিভ্রমণের ইচ্ছে। জাকির হোসেনের আপত্তি নেই তাতে। তিনি তাঁর যন্ত্রযানে বসালেন আমাদের। তারপর শুরু করলেন যাত্রা। কেরানীপাড়া, রসুলপুর, মিশ্রিপাড়া, লক্ষ্মীর বাজার, আলীপুর বাজার ঘুরে আবার আমরা ফিরে এলাম কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন বাজারে। বাজারে পৌঁছেই ভাড়া মিটিয়ে জাকির হোসেনের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া যেত, কিন্তু ব্যতিক্রমী এই পেশায় জড়িত থাকা সুদর্শন যুবকটির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর ইচ্ছে হলো আমাদের। জাকির হোসেনের হাতে যেহেতু কাজ ছিল না তেমন, তাই তিনি আমাদের এই ইচ্ছেপূরণে রাজি হলেন সানন্দে। বেড়িবাঁধের ওপর মো. ইউসুফের চায়ের দোকানে বসলাম আমরা। গরুর খাঁটি দুধে তৈরি গরম চায়ে গলা ভেজাতে ভেজাতে শুরু করলাম কথোপকথন।
জাকির হোসেনের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা গ্রামেই। লতাচাপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনেই থাকেন তাঁরা। বাবা মো. ইউনুস মুন্সি কৃষিজীবী। যে জমিটুকু চাষ করেন তাঁর বাবা, নির্ভাবনায় সাংবাত্সরিক খোরাক চলে তাতে। কিন্তু সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য নগদ অর্থও যে চাই প্রতিদিনই! সেই অর্থের জোগান দেওয়ার জন্য কিছু জমি বিক্রি করে কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিমাংশের শুঁটকি বাজারে আড়ত নিয়েছিলেন জাকির হোসেন। বেশ ভালো অঙ্কের টাকাও বিনিয়োগ করেছিলেন ব্যবসায়। কিন্তু সিডর ও আইলার মতো দু-দুটো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সমস্ত পুঁজি বিনষ্ট হওয়ায় তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডের ক্ষয় চরমে পৌঁছায়। সেই ক্ষয় পূরণের লক্ষ্যে আরও কিছু ফসলি জমি বিক্রি করে মালয়েশিয়া পাঠানো হয় জাকির হোসেনের ছোট দুই ভাইকে। কিন্তু ফণা উঁচিয়ে থাকা ব্যর্থতা এবারও দংশন করে সেই উদ্যোগের ভিত্তিমূলে। স্বভাবতই ভীষণ দুর্দিন নেমে আসে জাকির হোসেনের পরিবারে। ঠিক সে সময় এক বন্ধুর পরামর্শে বরিশাল সদরে যান জাকির হোসেন। স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে এনে কুয়াকাটায় ভাড়ায় চালানো শুরু করেন। সেই মোটরসাইকেল চালিয়েই আজ তাঁর দৈনিক উপার্জন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। আর কিস্তির টাকা? চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিতে দিতে জানতে চাই আমরা। ‘হ্যাঁ, কিস্তির টাকাও প্রায় শোধের পথে। আর মাত্র কয়েকটা মাস, ব্যস!’ তারপর এই মোটরসাইকেলের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হবে তাঁর নিজের নামটি। নিকট ভবিষ্যতের সোনালি স্বপ্নজাল বুনতে বুনতে এবার উঠে দাঁড়ান জাকির হোসেন। উঠে দাঁড়ানোর কারণ আর কিছুই নয়, নতুন একজন যাত্রী তখন অপেক্ষমাণ তাঁর মোটরসাইকেলের সামনে!

সবার আগে এনবিআরকে ডিজিটাল করুন by জাকারিয়া স্বপন

দেড় বছরের বেশি সময় এই সরকার ক্ষমতায়। এই পুরো সময়টাজুড়ে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যানারের অধীনে যা করেছে, সবই বিক্ষিপ্ত। একটি লক্ষ্য নিয়ে সুন্দর পরিকল্পনা করে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা মোটেই মনে হয় না। তারা স্কুলে কম্পিউটার দিচ্ছে, ওয়েবসাইট বানাচ্ছে, টেন্ডার অটোমেট করছে, ভিডিও কনফারেন্স করছে, আবার অন্যদিকে ফেসবুক বা ইউটিউব বন্ধ করে দিচ্ছে, দেশীয় টেলিফোন কোম্পানি বন্ধ করে দিচ্ছে, ডিজিটাল বাজেটের মতো হাস্যকর জিনিসও জাতিকে উপহার দিচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই কৌতুকে পরিণত হয়েছে। সরকারে যাঁরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন, তাঁরা আসলেই জানেন না, ঠিক কী করতে হবে। তাঁরা কোনোভাবে শব্দটা প্রচলন করে দিয়েছেন। কিন্তু তারপর ঠিক কী করতে হবে, সেই জায়গাটির পুরোটাই অস্পষ্টতায় ভরা। সেটা তাঁদের কার্যক্রম দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য সরকারের সমালোচনা করা নয়। তাদের উদ্দেশ্য যে ভালো, সেটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তবে আগামী দিনগুলোতে ঠিক কোন জিনিসগুলো করলে সেই উদ্দেশ্য সফল হতে পারে, তা বুঝে দেখাই উদ্দেশ্য।
বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার বিতরণ রুটিন কাজের আওতায়ই পড়ে। সেটা নিয়ে ঘটা করে বলার কিছু নেই। সরকার যেহেতু এই রুটিন কাজের বাইরে আরও কিছু করতে চাইছে, তাহলে তাকে আরেকটু ঠান্ডা মাথায় কিছু জিনিস ঠিক করে নিয়ে সামনে এগোতে হবে। সবকিছুতে হাত দিয়ে কোনোটাই ঠিকভাবে করতে না পারলে অর্ধেক সেতু বানিয়ে কোনো লাভ নেই। ওটা দিয়ে গাড়ি বা মানুষ কোনোটাই যাতায়াত করতে পারে না। আগামী তিন বছরের জন্য তিনটি প্রধান কাজ করে যাওয়া দরকার। এগুলো হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি। এর মধ্যে প্রথম কাজ হলো এনবিআরসহ দেশের করব্যবস্থাকে পুরোপুরি কম্পিউটারাইজ করা।
এক লাইনে কথাটি খুব ছোট কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১. বাংলাদেশের কতজন লোক ঠিকঠাক কর দেন তা এক বিরাট রহস্য। ১০ লাখের মতো লোকের টিন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) আছে। আবার একই লোকের একাধিক টিন আছে। ঘুষ দিয়ে একটা টিন বের করা যে কত সহজ, সেটা বোধ করি এনবিআরের চেয়ারম্যান সাহেব এবং স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও জানেন। এটা কোনো পদ্ধতি হতে পারে না। যদি ১৬ কোটি দেশের মানুষের ভেতর ১০ লাখ লোক ট্যাক্স দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তাহলে সেটাই আমরা মেনে নেব। কিন্তু সংখ্যাটি যা-ই হোক, সেটা নির্ভুল করব। এখানে সমঝোতা করলে চলবে না।
২. সরকার কর দেওয়ার যে নিয়ম বেঁধে দিয়েছে, তার আওতায় পড়ার পরও যাঁরা টিন নম্বর নেননি, তাঁদের একটি দিন-তারিখ বেঁধে দিন। এরপর যদি আবিষ্কার হয় যে তাঁরা তা দেননি, তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁদের আবেদন করতে বলুন। ঘরে বসেই তাঁরা তাঁদের আবেদন করতে পারবেন। এনবিআরের কর্মকর্তারা সেটা পরীক্ষা করে তাঁকে টিন নম্বরের চিঠি পাঠিয়ে দেবেন। এটা নিশ্চিত করতে পারলে একটা সঠিক সংখ্যায় উপনীত হওয়া যাবে। তবে প্রথম বছরেই সব হবে না। পদ্ধতিটি এ বছরই শুরু করতে হবে।
৩. প্রত্যেক ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও এর আওতায় আসতে হবে।
৪. যেকোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা এবং পরিচালনা করতে হলে তার একটি আইডি লাগবে। সেটা হতে পারে এই টিন নম্বর। আর যদি হয় সেটা ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’, তাহলে টিন নম্বর খোলার সময় এই জাতীয় পরিচয় নম্বরটিও রাখতে হবে। সোজা কথা হলো, টিন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে একটি প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটাকে ফ্রিজ করা যেতে পারে। আর ব্যাংকগুলোকেও সেটা মেনে চলতে হবে।
৫. পাঁচ লাখ টাকার ওপর কোনো লেনদেন হলেই ব্যাংক সেটা এনবিআরকে জানাতে বাধ্য থাকবে। ব্যাংকগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটা এনবিআরে চলে যাবে। এনবিআরের কম্পিউটার সিস্টেম সেভাবেই উন্নত করতে হবে।
৬. ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই ট্যাক্স ফাইল করা যাবে। যাঁরা কাগজের মাধ্যমে ট্যাক্স ফাইল করবেন, সেগুলো এনবিআর অফিসে ডেটা এন্ট্রির মাধ্যমে কম্পিউটারে ঢুকিয়ে ফেলতে হবে। মোট কথা, পুরো সিস্টেমটাই হবে আগাগোড়া কম্পিউটার দ্বারা পরিচালিত।
৭. রাষ্ট্রের যতগুলো জায়গায় কাস্টমস অফিস আছে সেগুলো এবং ভ্যাটের কাঠামো এই নেটওয়ার্কের আওতায় থাকবে। আমদানি-রপ্তানির প্রতিটি তথ্য এখানে লিপিবদ্ধ থাকবে।
৮. দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন টেলিফোন সেবার আওতায় রয়েছে। দেশের সবচেয়ে সুন্দর ডিজিটাল সিস্টেম হলো এই টেলিকম কোম্পানিগুলো। তারা প্রতিটি পদে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। তারা সবকিছুই ভালো করে, কিন্তু একটি কাজ ঠিকমতো করে না। প্রত্যেক গ্রাহককে তাঁদের জাতীয় পরিচয় নম্বরটি এন্ট্রি করতে বলা হলেও তাঁরা সেটা করেন না। আবার কিছু ক্ষেত্রে করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুয়া এন্ট্রি দিয়ে থাকেন। ছবির কথা আর না-ই বা বললাম। এনবিআরের এই ডেটাবেইসের সঙ্গে টেলিফোন কোম্পানির গ্রাহকদের একটা যোগ থাকতে হবে। টেলিফোন কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের সবকিছু ডেটাবেইসে রাখে। ওটার সঙ্গে এনবিআরের সিস্টেমের যোগাযোগ তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়।
৯. এই পুরো সিস্টেম মনিটর করার জন্য সরকারের বিভিন্ন শাখাকে সুযোগ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগ সেই তথ্যভান্ডার থেকে প্রয়োজনমতো নিজের মতোই রিপোর্ট বের করে নিতে পারবে। এর জন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না। তবে সবার সব তথ্য জেনে ফেলার অধিকার দেওয়া ঠিক হবে না। আবার একজনের কাছে সব তথ্য থাকবে, সেটাও সঠিক নয়। এটা হলো চেক অ্যান্ড ব্যালান্স।
আগামী এক বছরে এই একটি কাজের অধীনে অনেক ছোট ছোট কাজ রয়েছে। এবং এই কাজগুলো মোটেও সহজ নয়। অন্তত স্কুলে কম্পিউটার বিতরণ কিংবা সভা-সমিতিতে গলা ফাটানোর চেয়ে অনেক কঠিন কাজ। এর জন্য সরকারের মেরুদণ্ড অনেক শক্ত হতে হবে। হাজারো বাধা বিভিন্ন দিক থেকে আসতে শুরু করবে। কিন্তু আমাদের কাউকে না কাউকে এই কঠিন কাজ করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন এই জিনিস করতে গেছে, তারাও বিভিন্ন বাধার মুখোমুখি পড়েছে; তবে কাজটি করেছে।
তবে সরকার যখনই এ ধরনের প্রকল্পের কথা ভাববে, তখনই তারা বিদেশি সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বসে থাকে। বিদেশি উপদেষ্টারা এসে সেই টাকা লুটেপুটে খেয়ে চলে যান। নিজের দেশের সম্পদ দিয়েই যে এ কাজগুলো করা যায়, সেটা সরকার ভেবে দেখে না কিংবা সাহস করে না। এ কাজটি দেশীয় সম্পদ দিয়েই করা সম্ভব। সরকারের নিজের লোকবলে না কুলালে প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় খুব সহজেই এটা করা সম্ভব। এই সিস্টেমের ফলে সরকারের যে বাড়তি টাকা উপার্জন হবে, সেটার খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে শেয়ার করলেই এটা হয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই পার্টনারশিপ হতে পারে। একেকটি প্রতিষ্ঠানকে একেকটি বিভাগীয় এলাকা কিংবা জোনে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে। ইচ্ছে থাকলে বাস্তবসম্মত কত উপায়ই না বের করা যায়।
ডিজিটাল বাংলাদেশের নামে নানা স্লোগানমুখী সস্তা কার্যক্রম বাদ দিয়ে পুরো বছরটিতে দেখুন এই একটি কাজ করতে পারেন কি না।
জাকারিয়া স্বপন: তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।
zakariaswapan@hotmail.com

মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মাহে রমজান -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামের নীতি-আদর্শ দ্বারা পরিচালিত জীবনব্যবস্থা নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এ মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালোমন্দ বিচার করা হয়। তাই সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সত্যবাদিতা, ন্যায়নীতি, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, সদাচরণ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা মানবীয় গুণাবলির সমষ্টি। ইসলাম মানবজাতিকে এসব মহৎ গুণ অর্জনের জন্য আজীবন প্রয়াস চালাতে বিশেষভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের ভিত্তি। সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ এবং কর্মকাণ্ড যেসব ইসলামি নীতিমালার আলোকে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাদের সমষ্টিই সামাজিক মূল্যবোধ। জীবনে কোনো প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন থাকবে না, মানুষ স্বার্থপরতা-সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত থাকবে—এটি ইসলামের শিক্ষা। যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত ব্যবহারের সমন্বয়ে মানুষের মধ্যে স্নেহ, মায়া-মমতা, সততা, সম্প্রীতি প্রভৃতি সৃষ্টি হয়। এমন হলে সেখানে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিদ্যমান আছে বলে মনে হয়। নৈতিক আদর্শসংবলিত সমাজে কোনো অনাচার থাকবে না। ঘুষ, দুর্নীতি, বঞ্চনা, শোষণ, স্বার্থপরতা এসব কুপ্রবৃত্তি থেকে সমাজ মুক্ত থাকলেই তাতে নৈতিকতার আদর্শ প্রতিফলিত হয়। সব ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত জীবনই আদর্শ জীবন। নীতি থেকে বিচ্যুত জীবন কখনোই আদর্শরূপে গণ্য হতে পারে না। নবী করিম (সা.) মানবজাতিকে অন্যায় প্রতিরোধের শিক্ষা দিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কাউকে অন্যায় কাজ করতে দেখে তাহলে সে যেন তার শক্তি দ্বারা তা প্রতিহত করে, যদি সে তাতে অক্ষম হয়, তবে মুখ দ্বারা নিষেধ করবে, যদি সে তাতেও অপারগ হয় তবে সে অন্তর দ্বারা ঘৃণা পোষণ করবে।’ (মুসলিম)
বর্তমান সমাজে নানা রকম দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটায় নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটছে। জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে দুর্নীতির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কোনো প্রকার অন্যায়ই যেন অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না। নীতিভ্রষ্ট মানুষ নিজেকে অপরাধী বা হীন বলে গণ্য করে না। দুর্নীতির মাধ্যমে বিত্তশালী হয়েও সংকোচবোধ করে না বরং অর্থের অহংবোধে গৌরবান্বিত হয়। সমাজে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন ও আত্মসাতের প্রতিযোগিতা চলছে। সীমাহীন দুর্নীতি সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে সমাজ জীবনকে কলুষিত করে ফেলছে। অথচ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের ধন-সম্পদ গ্রাস করো না।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-২৯)
বর্তমান সমাজে মানুষ দারুণভাবে নৈতিকতার অভাব অনুভব করছে। নৈতিক মূল্যবোধ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি খুন-খারাবি, অপরাধ, দুর্নীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সুদ, ঘুষ, কালোবাজারি, মুনাফাখোরি, লোভ, লালসা, নারী নির্যাতন, অধিকার আদায়ের নামে নারী জাতিকে ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যবহার প্রভৃতি অনৈতিক কার‌্যাবলি আজকের সমাজকে সম্পূর্ণরূপে কলুষিত করে ফেলেছে। এমতাবস্থায় ইসলামে যে আদর্শ নৈতিকতা রয়েছে তা গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন সুন্দর ও মধুময় হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। সামাজিক ঐক্য ও নিরাপত্তা বিধানে এবং একটি সংঘাতমুক্ত গঠনমূলক আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে মাহে রমজান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। রমজান মাসে কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তিরা অপরের বদনাম ও কুটনামি থেকে বিরত থাকেন। তারা সকল প্রকার ঝগড়া-বিবাদ, ফিতনা-ফ্যাসাদ, অযথা বাগিবতণ্ডা ও যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকেন। তাদের মুখ থেকে কোনো প্রকার অশ্লীল কথা বের হয় না। যদি কোনো রোজাদার লোককে কেউ গালিগালাজ ও ঝগড়া-বিবাদে প্ররোচিত করতে চায়, তখন সেই রোজাদার যদি উত্তেজিত না হয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও গালিগালাজ থেকে দূরে সরে যান, তাহলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় না এবং একটি আদর্শ নৈতিকতাপূর্ণ সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠে। নবী করিম (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো দিন রোজা রাখে তখন তার মুখ থেকে যেন কোনো রকম খারাপ কথা ও শোরগোল বের না হয়। যদি কেউ তাকে গালিগালাজ করে বা ঝগড়া-বিবাদে প্ররোচিত করতে চায় তখন সে যেন বলে, ‘আমি রোজাদার ব্যক্তি।’ (বুখারি)
সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের প্রতি সাহায্য ও সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করে। ফলে সমাজের মধ্যে মানববন্ধন গভীর হয়, মানুষের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব স্থাপিত হয়। দেশের জন্য ভালোবাসা জন্মে। সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের প্রতি সদাচরণ করতে শেখায়, জীবনে শৃঙ্খলা আনে এবং মানুষকে পরিপূর্ণ হতে সাহায্য করে। মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতির অভাব, কর্তব্যে আন্তরিকতার বদলে দায়সারাভাব, স্বীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যাপক তত্পরতা, জনকল্যাণের প্রতি অনীহা—এসব মূল্যবোধহীনতা মানুষের জীবনকে অশান্তিময় করে তোলে। সুশৃঙ্খল পরিবেশ সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের অভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা বা অসংগতি বৃদ্ধি পায়। পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার অভাবে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ প্রভৃতি অনাচারের ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চরিত্রের অন্যতম ভূষণ ছিল ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘সহনশীলতা অপেক্ষা অধিক উত্তম ও অত্যধিক কল্যাণকর বস্তু আর কিছুই কাউকে দান করা হয়নি।’ (বুখারি)
রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, উদারতা, সততা, ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এ মাসটি ধৈর্য অবলম্বনের মাস। ধৈর্যধারণের বিনিময়ে নির্ধারিত রয়েছে অতুলনীয় শান্তির আবাস বেহেশত। তাই এ মাসটির পরিচয় তুলে ধরে ধৈর্য ও সবরের গুরুত্ব প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এটা ধৈর্যের মাস, আর সবরের বিনিময় হচ্ছে জান্নাত।’ (মিশকাত) মাহে রমজানে কঠোরভাবে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ধৈর্য ও সহনশীলতার যে মানবিক গুণটি অর্জিত হয়, তা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের গুণই নয় বরং এ মহৎ গুণটি কারও মধ্যে সৃষ্টি হলে ঈমানদারের সমষ্টিগত জীবনে অপরের জন্য তা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে, মানুষকে কঠিন ও দুর্গম পথ পরিক্রমায় চলতে শক্তি জোগায়। রোজা পালনের মাধ্যমে অর্জিত ধৈর্য ও সহনশীলতা ঈমান ও তার ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সাধনায় প্রচুর নিয়ামক শক্তি সঞ্চার করে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত সহনশীলতা তাই শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই বয়ে আনে না বরং মুসলমান সমাজের জন্য একটি দলগত কল্যাণ বয়ে আনে। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘অবশ্যই ধৈর্যশীলদের তাদের (ধৈর্যের) প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে প্রদান করা হবে।’ (সূরা আল-জুুমার, আয়াত-১০)
নবী করিম (সা.) নিজেকে ইসলামি নীতিবোধ অনুযায়ী পরিচালনা করেছেন এবং সাহাবীগণ সে অনুযায়ী নিজেদের চরিত্রকে গঠন করতে উপদেশ দিয়েছেন। ইসলামি রীতিনীতি ও নৈতিকতাবোধ জীবনে বাস্তবায়ন করলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল খুশি হন এবং ইহকাল ও পরকালে চরম সুখ ও পরম শান্তি লাভ করা যায়। দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণের জন্য জাতীয় জীবন থেকে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সমাজের সর্বস্তর থেকে সর্বপ্রকার দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হবে। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষকে জান-মাল ও জীবিকার পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন সুদক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম-দেশাত্মবোধ জাগ্রত করতে হবে। সুতরাং আজকের সমাজও যদি ইসলামের সর্বজনীনতাকে মেনে নিয়ে ইসলামি বিধি-বিধান ও অনুশাসনকে রোজাদারদের জীবন ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে, তবেই সমাজ থেকে যাবতীয় অনৈতিকতা দূর হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।