Thursday, February 16, 2017

মোহাম্মদপুরে বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাজধানী মোহাম্মদপুর এলাকার বাঁশবাড়ি বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই বস্তিতে আগুন লাগে। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডে ওই বস্তির শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন,
বস্তির আগুন পাশের একটি ভবনে ছড়িয়ে পড়েছিল। সকাল ছয়টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক পলাশ চন্দ্র মোদক বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। বস্তিটি মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের কাছে বলে তিনি জানান।

মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি বস্তিতে আগুন

রাজধানী মোহাম্মদপুর এলাকার বাঁশবাড়ি বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। বস্তিটি মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদের কাছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক পলাশ চন্দ্র মোদক রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস অফিস বাঁশবাড়ি বস্তিতে আগুন লাগার খবর পেয়েছে আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটায়।
এর পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেছে। তবে কীভাবে আগুনের এই সূত্রপাত, তা জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর প্রথম আলোকে বলেন, বাঁশবাড়ি বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

বিদ্যালয়ের গাছ কাটছেন আওয়ামী লীগ নেতা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের চন্দ্রহার কে আর শিক্ষায়তনের মাঠের ১৭টি গাছ কেটে ফেলছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই নেতার নাম বীরেন চন্দ্র ঘরামী। তিনি বাটাজোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্থানীয় ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯১৬ সালে স্থানীয় জমিদার কৈলাস চন্দ্র ও রমেশ চন্দ্র পৌনে ছয় একর জমিতে চন্দ্রহার কে আর শিক্ষায়তন (মাধ্যমিক বিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। এলাকার প্রভাবশালী দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে সাত-আট বছর ধরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। এই সুযোগে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দেড় একর সম্পত্তি দখলে নিয়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বীরেন চন্দ্র ঘরামী বিদ্যালয়ের জমিতে থাকা রেইনট্রি, চাম্বল, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১৭টি গাছ বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ের জমি দখল ও গাছ কেটে নেওয়ার পাঁয়তারা চালায়। বিষয়টি আমি লিখিতভাবে ইউএনও মো. মাহবুব আলম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদারকে জানাই। তবে তাঁরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দুপুরে আমি এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন শেষে স্কুলে ফিরে দেখি ৮-১০ জন শ্রমিক স্কুলের গাছ কাটছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আবদুর রব হাওলাদারকে জানাই। তিনি এ বিষয়ে বীরেন চন্দ্র ঘরামীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।’ গতকাল বেলা দুইটায় সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকসর্দার শামীম হাওলাদারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন বিদ্যালয়ের গাছ কাটছেন। জানতে চাইলে শামীম বলেন, ইউপি সদস্য বীরেন চন্দ্র ঘরামীর কাছ থেকে ব্যবসায়ী ডায়মন্ড শেখ গাছগুলো কিনেছেন। ডায়মন্ড শেখের ভাড়া করা শ্রমিক হিসেবে তাঁরা গাছ কাটছেন। ডায়মন্ড শেখ বলেন, ‘কত টাকায় গাছগুলো কিনেছি তা বীরেনের কাছ থেকে জানতে পারবেন।’ বীরেন চন্দ্র ঘরামী বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করতে চেয়ারম্যানের নির্দেশে গাছ কাটা হচ্ছে। সাড়ে তিন লাখ নয়, মাত্র ৫০ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদার বলেন, গাছ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। তাই গাছ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে টাকা মসজিদে দেওয়া হয়েছে। ইউএনও মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘বিষয়টি কখনোই আমাকে অবহিত করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ব্যবহারিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাকে যুক্ত করার পরামর্শ

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ও ভাষার বিকৃতি রুখতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া বক্তারা। একই সঙ্গে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ব্যবহারিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে শিক্ষাসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাকে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে ‘সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগ’ শীর্ষক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আলো ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ যৌথভাবে এটি আয়োজন করে। সূচনা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। বৈঠকের সঞ্চালক প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ আলোচনার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ১৩তম এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগ শুরু হবে। এ বৈঠকের ভেতর দিয়ে সেটার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো।
এটা এবারের ভাষা প্রতিযোগের উদ্বোধনী পর্ব। শুরুর আলোচনায় নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাষা সম্পর্কে সমাজ যদি সচেতন না হয়, তাহলে সরকার কিংবা রাষ্ট্র সচেতন হবে না। এখন আমাদের দেশে বিয়ে, জন্মদিন, বউভাত, গায়েহলুদসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণপত্র লেখা হয় ইংরেজিতে। এর জন্য আমরা কাকে দোষ দেব?’ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাকিস্তান আমলেও রোমান হরফে বাংলা লেখার বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আর আজকাল ছেলেমেয়েরা রোমান হরফে বাংলা লিখছে। ভাষার এমন দুর্গতি কখনো দেখিনি। ভাষার আঞ্চলিক রূপ থাকবে, প্রমিত রূপও থাকবে। সমস্যাটা হচ্ছে মিশ্রণে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্মানিত ব্যক্তিরা যেসব ভাষা ব্যবহার করেন, সেখান থেকে সাধারণ মানুষ কী শিক্ষা নেবে?’ রফিকুল ইসলামের মতে, বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে এমন একটা হীনম্মন্যতাবোধ কাজ করছে, যেখানে মাতৃভাষার প্রতি যে শ্রদ্ধা থাকা উচিত, তা নেই। এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে না পারলে এর থেকে উত্তরণের কোনো উপায় থাকবে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আ ফ ম দানীউল হক বলেন, ‘ভাষা পরিকল্পনায় সাধারণত দুটি দিক থাকে। একটি হচ্ছে অবয়বগত পরিকল্পনা ও মর্যাদার পরিকল্পনা। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে মর্যাদার দিকটা এখনো আমরা তৈরি করতে পারিনি।’
এ ক্ষেত্রে শিক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য অন্তত একটা নীতিমালা অথবা একটা নিয়ন্ত্রণ কমিটি তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরীর ভাষ্য, বাংলা ভাষার এই দুরবস্থা আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে। এফ এম রেডিওগুলোতে বাংলা, ইংরেজি মিলিয়ে বিকৃত উচ্চারণে কথা বলা হচ্ছে। বাংলা লেখার ক্ষেত্রে জগাখিচুড়ি হচ্ছে। বাংলাদেশে লাখ লাখ কৃষক। অথচ সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের ব্যবহারবিধি বেশির ভাগই ইংরেজি অথবা কঠিন বাংলায় লেখা। সঠিক বাংলা শিক্ষার জন্য প্রথমেই নির্ভুল পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দাবি জানান তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষের (বাবাকো) অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা মো. মোস্তফা বলেন, ‘সরকারি পর্যায়ে বাংলা ভাষার প্রচলনের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। গত বছরের মার্চ থেকে ফেসবুকে বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ নামে একটি গ্রুপ খোলা আছে। সেখানে বাংলা ভাষা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের যেকোনো পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দাপ্তরিক টেলিফোনেও অফিস সময়ে বাংলা ভাষা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।’ এইচএসবিসি, বাংলাদেশের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব-উর-রহমানের মতে, ভাষা কেবল শব্দচয়নের বিষয় নয়। এর ব্যাপ্তিটা আরও বড়। প্রথমেই জানার বিষয়টি পোক্ত করতে না পারলে এর যথার্থ প্রয়োগও সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, বাংলা না জানাটা কোনো স্মার্টনেস নয়, বরং বাংলা ভালো জানলে ইংরেজিটাও উন্নত হয়। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন মনে করেন, বাংলা ভাষার ব্যবহারে সামাজিক সচেতনতার যে বিপর্যয়, তা কেবল আইন করে রক্ষা করা যাবে না। তিনি সাইনবোর্ডে নির্ভুল বানানের জন্য বাংলা একাডেমির উদ্যোগে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। এ ক্ষেত্রে বানান ভুল হলে শাস্তির বিধান রাখার পরামর্শ দেন।
প্রথম আলোকে সারা বছর ভাষা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া সেলিনা হোসেন রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ উদ্ধৃত করেন। যে ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমার দল ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকেই সকল সরকারি অফিস-আদালত ও জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলা চালু করবে। এ ব্যাপারে আমরা পরিভাষা সৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করব না। তাহলে সর্বক্ষেত্রে কোনো দিনই বাংলা চালু করা সম্ভবপর হবে না।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলার কোনো স্থান নেই। কোনোভাবে ক্ষমতা আছে এমন একজনও বাংলায় পড়াশোনা করতে চায় না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমরা সম্পূর্ণভাবে ইংরেজির দিকে ঠেলে দিয়েছি।’ উচ্চশিক্ষায় বাংলা প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলা ভাষার মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হবে না মন্তব্য করে মোহাম্মদ আজম আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলা ভাষার ব্যবহার যুক্ত করতে হবে। বিষয়টির সঙ্গে সহমত পোষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার বলেন, গত বছর ঈদে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ২২০টি নাটকের মধ্যে ১৭০টির নামই ছিল ইংরেজিতে। আর মুক্তিপ্রাপ্ত ১৭টি চলচ্চিত্রের মধ্যে এই সংখ্যা ১২। শাসকশ্রেণি বাংলাকে নিজের ভাষা মনে করে না। শিক্ষানীতির মতো সরকারের একটা ভাষানীতি থাকাও প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই এখন পর্যন্ত সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষা যে শুধু সাম্রাজ্যবাদের শিকার তা নয়, যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তাঁদেরও অবহেলার শিকার। ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলে চিকিৎসাশাস্ত্র বাংলায় পড়ানো হয়েছে। ২০০ বছর আগে ইংরেজরা বাংলায় আইন তৈরি করেছে। তাহলে আমরা এখন কেন পারছি না?’ বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের কথা বলছি; সর্বস্তর বলতে প্রশাসন, শিক্ষাক্ষেত্র, আইন-আদালত, চিকিৎসাক্ষেত্র, কৃষিক্ষেত্র, সভা-সমিতি বোঝায়। যদি তা-ই হয়, তাহলে সরকারের এক মাসের সিদ্ধান্তে এটা হয়ে যেতে পারে, যদি কোনো সরকার সুস্পষ্টভাবে তা চায়।’ শামসুজ্জামান খান বলেন, বাংলা ভাষা বিভিন্ন কালে বহু সময়ই আক্রমণের মুখে পড়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। সেসব সত্ত্বেও এ ভাষা টিকে আছে। নিজ ঐশ্বর্যের গুণেই বাংলা ভাষা টিকে থাকবে।

খুনের সাড়ে আট মাস পর মাহমুদার সিম ভোলা থেকে উদ্ধার

হত্যাকাণ্ডের সাড়ে আট মাস পর মাহমুদা খানমের মুঠোফোনের সিমটি উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন এলাকার এক রিকশাচালকের কাছ থেকে সিমটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে মাহমুদার মুঠোফোন সেটটি পাওয়া যায়নি। গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদাকে। সেদিন মুঠোফোন সেটটি তাঁর সঙ্গে ছিল। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সময় মুঠোফোনটি খুঁজে পায়নি পুলিশ। গত ২৬ জানুয়ারি মাহমুদার মা শাহেদা মোশাররফ ও বাবা মোশাররফ হোসেনকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ডেকে নিয়ে কথা বলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। সেদিন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মুঠোফোন সেটটি উদ্ধার করতে অনুরোধ করেন তাঁরা। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে শাহেদা মোশাররফ সাংবাদিকদের বলেন, সপ্তাহখানেক আগে মাহমুদার মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁদের বাসার একটি নম্বরে কল আসে। তখন বুঝতে পারেন মাহমুদার ফোনটি সচল রয়েছে। পরে ওই নম্বরে কল করলে এক অটোরিকশাচালক ফোন ধরেন। রাজধানীর হাতিরঝিলে তিনি সিমটি পেয়েছেন বলে তাঁদের জানান। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় রাস্তায় সিমটি কুড়িয়ে পান অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান। তাঁর বাড়ি ভোলার লালমোহনে। সিমটি তিনি নিজের মুঠোফোনে ব্যবহার করতে থাকেন। কিছুদিন আগে মান্নান চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে লালমোহন চলে যান। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আসামিরা কিংবা ঘটনার পর রাস্তা থেকে কেউ মুঠোফোনটি চুরি করে নিয়ে যেতে পারে। পরে হয়তো সিমটি রাস্তায় ফেলে দিয়ে মুঠোফোনটি কোথাও বিক্রি করে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। হাতিরঝিল এলাকা থেকে মান্নান সিমটি কুড়িয়ে পেয়েছেন, এ কথা মাহমুদার বাবাকে বললেও পুলিশকে কেন বাকলিয়ার কথা বলেছেন, তা জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘মান্নান ওনাদের এটা কেন বলেছে, জানি না। সে বাকলিয়ার কালামিয়া বাজার এলাকায় থাকত, এটা আমরা নিশ্চিত।’ মাহমুদা হত্যার মূল সন্দেহভাজন আসামি ‘নিখোঁজ’ কামরুল শিকদার ওরফে মুছা বাকলিয়ার রাজাখালী এলাকায় থাকতেন। তাঁকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ পাঁচ লাখ পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মাহমুদা হত্যায় অস্ত্র সরবরাহ করেন আরেক আসামি এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা (এখন কারাগারে)। ভোলার সহযোগী মনির হোসেনের কাছ থেকে মাহমুদা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি বাকলিয়ার রাজাখালী এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ভোলাও বাকলিয়া এলাকায় থাকতেন। মাহমুদা হত্যার তিন সপ্তাহ পর গত বছরের ২৪ জুন মধ্যরাতে ঢাকার বনশ্রীর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। ৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘বাবুলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হলো।’

২৫ বছর কারাবাসের পর খালাস পেলেন বাবুল

যে অপরােধর অভিযোগে িতনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, সেই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড। অথচ তাঁকে কারাগারেই থাকতে হলো ২৫ বছর। অবশেষে গতকাল বুধবার ঢাকার একটি আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তাঁর নাম মো. বাবুল। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ডাকাতির মামলায় ১৯৯২ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। খালাস আদেশের পর বাবুল প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯২ সালে ডেমরা থেকে সিআইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তখন তিনি ছিেলন কিশোর। এরপর থেকে বারবারই পুলিশ, আইনজীবী ও আদালতকে বলেছেন, তিনি নির্দোষ। তাঁর কথা কেউ শোনেননি। বাবুল যখন তাঁর জীবনের কাহিনি শোনাচ্ছিলেন, তখন তাঁর চোখ ভিজে যাচ্ছিল পানিতে। গতকাল বুধবার বাবুলসহ পাঁচজনকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। মামলার নথিতে দেখা গেছে, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলিস্তান থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাস ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড়ে পৌঁছালে তিন সদস্যের অজ্ঞাত ডাকাতদল বাসে ডাকাতি করে। যাত্রীদের কাছ থেকে নয় হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় ওই বাসের কর্মচারী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত করে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাবুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলী সিকদার। আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে বাবুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালের ৪ জুলাই বিচারকাজ শুরু করেন। বিচার শুরুর ২৪ বছরে মামলার ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র চারজন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তবে মামলার বাদী নজরুল কিংবা তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফ কখনো আদালতে হাজির হননি। আদালত বাবুলের খালাসের রায়ে বলেছেন, ‘মামলার বাদী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী বিচারকসহ অন্য সাক্ষীদের আদালতে হাজির করানোর জন্য আদেশের কপি পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো পক্ষই মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা ও জবানবন্দি রেকর্ডকারী বিচারককে আদালতে হাজির করানোর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।’ বাবুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি বলে আদালত তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন। বাবুল তাঁকে গ্রেপ্তারের কাহিনি তুলে ধরে বলেন, মা-বাবার সঙ্গে তিনি থাকতেন ডেমরার দোলাইরপাড় (এখন যাত্রাবাড়ী থানার মধ্যে) এলাকায়।
সেদিন তিনি ফতুল্লায় যাচ্ছিলেন বন্ধুর কাছে। ডেমরা সেতুর ওপর ট্যাক্সির ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ পুলিশ তাঁকে ধরে। পরে রিমান্ডেও নেয়। গ্রেপ্তারের পর প্রথম প্রথম মা-বাবা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে আসতেন। এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তাঁরা। বাবুলের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের বাহারনগর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। মা নিলুফা বেগম। তাঁরা সাত ভাই ও দুই বোন। বাবুলের ভাষ্য, তাঁর বাবা বিমানবাহিনীতে চাকরি করতেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাবা। ১৯৯৫ সালে মারা যান মা। এরপর থেকে আর কোনো দিন ভাই কিংবা বোনকে দেখেননি তিনি। বাবুল ঘুরেফিরে তাঁর মা-বাবার গল্পই বলছিলেন। বিনা বিচারে বাবুলের ২৫ বছর কারাগারে থাকার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত বছর ধরে একজন আসামি জেলে আছেন, এটা কি কারও নজরে পড়ল না? ২৫ বছর জেলে থাকার জন্য যে কর্তব্যে অবহেলা হয়েছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের কর্তব্য হবে বাবুলের প্রতিটি নষ্ট বছরের জন্য অন্তত ২ লাখ টাকা করে অবিলম্বে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকও বাবুলের এই ঘটনাকে চরম অন্যায় বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাবুলের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। এ ছাড়া বাবুলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা উচিত।’

বিশ্বে বায়ুদূষণে দ্বিতীয় ঢাকা

বিশ্বে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা। শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। ঢাকার পরেই রয়েছে পাকিস্তানের করাচি ও চীনের বেইজিং। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বে বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারত ও বাংলাদেশে। আর এই দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। গত মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে একযোগে প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি-২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন বলছে, বায়ুতে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক উপাদান হচ্ছে পিএম ২.৫। এত দিন এই উপাদান সবচেয়ে বেশি নির্গত করত চীন। গত দুই বছরে চীনকে টপকে ওই দূষণকারী স্থানটি দখল করে নিয়েছে ভারত। চীন ও ভারতের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে জাপানের টোকিও শহর। প্রতিবেদনটিতে মূলত কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বায়ুদূষণের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে বলা হয়েছে। আর বায়ুদূষণের কারণে শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।
পিএম ২.৫ ছাড়াও বায়ুর অন্যান্য দূষণকারী পদার্থের উপস্থিতির দিক থেকে সামগ্রিক দূষণের একটি চিত্র ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তাতে শীর্ষ বায়ুদূষণকারী দেশ হিসেবে চীন, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। তবে বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি মানতে নারাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মনজুরুল হান্নান খান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটাগুলো চালু থাকায় এবং ব্যাপকভাবে উন্নয়নকাজ হওয়ায় বাংলাদেশের শহর এলাকায়, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দূষণের মাত্রা বেশি থাকে। বর্ষা শুরু হলে আমাদের বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক কমে যায়। যা ভারত ও চীনের চেয়ে অনেক কম থাকে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মোট পরিমাণ চীন ও ভারতের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তবে বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে দ্রুত বায়ুদূষণ বাড়ছে, তার মধ্যে অবশ্যই বাংলাদেশ প্রথম সারিতে থাকবে।

আগামী নির্বাচনে ই–ভোটিং চালু করা যেতে পারে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব বিধিবিধানের সঙ্গে সংগতি রেখে মানুষের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী নির্বাচনে ই-ভোটিং প্রবর্তন করার পরিকল্পনা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এ টি এম শামসুল হুদা সিইসি থাকার সময় পরীক্ষামূলকভাবে একাধিক জায়গায় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি বিদায় নেওয়া কমিশন তা বাতিল করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চাই পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হোক। সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার যে প্রথা চালু হয়েছে, তা আমাদের গণতন্ত্রকে মজবুত ও সমুন্নত করেছে।’ প্রশ্নোত্তরের আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
অনির্ধারিত আলোচনা
সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা এবং এ জন্য সংসদে প্রস্তাব আনা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে জানাব যে পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল। এ বিষয়ে সারা বিশ্বে প্রচার চালাব, যাতে দিনটি আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে। নতুন প্রজন্মকে আমাদের ইতিহাস জানানো উচিত।’ পাকিস্তানের করাচি থেকে প্রকাশিত জনৈক জুনায়েদ আহমেদের লেখা ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ, মিথস এক্সপ্লোডেড বইয়ের বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আলোচনার সূত্রপাত ঘটান এবং ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানান। বইটিতে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে তারা গণহত্যা শুরু করেছিল। সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার, পুলিশ বাহিনীকে হত্যা করল। পিলখানায় ইপিআর, আনসার বাহিনী, সাধারণ জনগণকে হত্যা করেছে। আমি মনে করি, আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘২৫ মার্চ আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর কিছুদিন পরে আমার মা, আমার ভাই জামাল, রাসেল, রেহানা ও আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। বন্দীখানায় থেকে অনেক কিছুই দেখেছি। স্যাঁতসেঁতে বাড়িতে রেখেছিল।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের চোখে দেখেছি,
ঢাকা শহরে বিভিন্ন রাস্তায় লাশ পড়ে আছে। যে বাড়িতে আমাদের বন্দী করে রেখেছিল, ঠিক তার সামনের বাড়িটায় মেয়েদের নিয়ে এসে ধর্ষণ করত। তাদের চিৎকার কান পাতলে শোনা যেত। ১৩-১৪ বছরের মেয়ে। পাকিস্তান এখন বই লিখে নিজেদের অপকর্ম মুক্তিবাহিনীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এটা পাকিস্তানের জন্য লজ্জার। এই বই লেখার দুঃসাহস তারা কোথা থেকে পেল? গণহত্যার জন্য তাদের মাফ চাইতে বলা হয়েছিল। তা তো করেইনি। উল্টো দোষ চাপায়। তাদের ধিক্কার জানাই। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানো হবে।’ গতকাল ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির একটি অনুষ্ঠানে বইটি দেখেছেন জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বইটিতে দেখলাম আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, ৩০ লাখ শহীদ—সবকিছুর বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে মিথ্যা তথ্য উত্থাপন করেছে। বইটি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল আমাদের হাইকমিশনে পাঠিয়েছে।’ পরে সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস পালনের দাবিসংবলিত একটি নোটিশ ইতিমধ্যে পেয়েছি। অগ্নিঝরা মার্চের যেকোনো দিন সংসদের বৈঠকে নোটিশটি নিয়ে আলোচনা হবে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সব সদস্য টেবিলে চাপড়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।
সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে আবদুল মতিন খসরুকে সভাপতি করা হয়েছে। আবদুল মতিন এর আগে অনুমিত হিসাব কমিটির সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে অনুমিত হিসাব কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নূর ই আলম চৌধুরীকে।
সংসদের অধিবেশন আজ বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

স্বর্ণালংকারের লোভেই শিশু দুটিকে হত্যা করেন লাকী!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছোট্ট শিশু সুমাইয়া খাতুন (৭) ও মেহজাবিন আক্তারের (৬) কান ও গলায় থাকা সামান্য স্বর্ণালংকারের লোভে তাদের খুন করার কথা স্বীকার করেছেন লাকী আক্তার। তাদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা লাকী চাঁপাইনবাবগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে গতকাল বুধবার বিকেলে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেন। ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গত রোববার গ্রেপ্তার করা পাশের মহল্লা ঘোষপাড়ার গীতা রানি ঘোষের বাবা শম্ভু ঘোষের বাড়ির একটি ঘরে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ সময় আরেক ঘরের আসবাব ভাঙচুর করা হয়। ওই মহল্লাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় দুই শিশুর খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। আদালত সূত্র বলেছে, জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জুয়েল অধিকারীর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে লাকী আক্তার বলেন, শিশু দুটির কানে সোনার দুল এবং সুমাইয়ার গলায় সোনার চেইন ছিল। তাদের হত্যার পর তিনি সেগুলো ২১ হাজার টাকায় এলাকার এক স্বর্ণালংকারের দোকানে বিক্রি করেছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত লাকীকে কারাগারে পাঠান। নিহত মেহজাবিনের দাদার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী ঝাপাইপাড়া মহল্লায়। গতকাল বিকেলে সেখানে ছিল অনেক নারী-পুরুষের ভিড়। কিছুক্ষণ আগে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। তার মা তাজরিন বেগম বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘কেমন কইর্যাড় আমার দিন কাটবে। কোন প্রাণে হামার ধনকে (মেয়েকে) মারল, তার ফাঁসি না দেখা পর্যন্ত হামার কইলজ্যা ঠান্ডা হোইবে না।’ নামোশংকরবাটীর ভবানীপুর-ফতেপুর মহল্লায় নিহত সুমাইয়ার বাড়িতেও একই দৃশ্য। তার মা কুলসুম বেগমের (২৬) ভাবলেশহীন চেহারা, কথা বলছেন না। দাদি লুৎফন নেসা বললেন, কেঁদে কেঁদে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। শোকে পাথর হয়ে গেছে। সুমাইয়া মিলন রানার মেয়ে ও পৌর এলাকার ছোটমণি বিদ্যানিকেতনের প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। সহপাঠী মেহজাবিন আবদুল মালেকের মেয়ে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বাইরে খেলতে গিয়ে তারা দুজন নিখোঁজ হয়। ওই দিনই মেহজাবিনের বাবা সদর থানায় মামলা করেন। মঙ্গলবার প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজা শুরু করেন সুমাইয়ার স্বজনেরা। তাঁরা বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রতিবেশী ভ্যানচালক মো. ইয়াসিনের বাড়িতে যান। ইয়াসিনের প্রবাসী ছেলে মো. ইব্রাহীমের স্ত্রী লাকী আক্তারের (২৪) অসংলগ্ন কথাবার্তায় সুমাইয়ার স্বজনদের সন্দেহ হয়। তাঁরা জোর করে লাকীর শোয়ার ঘরে ঢুকে খাটের নিচ থেকে সুমাইয়া ও মেহজাবিনের বস্তাবন্দী লাশ পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। লাকীর মেয়ে ইমন ছিল সুমাইয়া ও মেহজাবিনের সহপাঠী, একসঙ্গে খেলত। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার লাকীর শ্বশুর ইয়াসিন (৬৫) ও শাশুড়ি তানজিলা খাতুন (৫০) পুলিশের হেফাজতে আছেন। শিশু দুটির লাশের ময়নাতদন্তের সঙ্গে যুক্ত সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু দুটিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা তিনটার মধ্যে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মেহজাবিনের লাশ গতকাল বিকেলে নামোশংকরবাটী ডিহিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। সুমাইয়ার বাবা দুবাইয়ে থাকায় তার লাশ সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। দেশে ফেরার জন্য গতকাল দুপুরে তিনি রওনা দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম সন্ধ্যায় তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, লাকী আক্তার ঋণগ্রস্ত ছিলেন। পাওনাদারেরা তাঁকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এ জন্য তিনি শিশু দুটিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন এবং তাদের স্বর্ণালংকারগুলো খুলে নিয়ে বিক্রি করেন।সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাযহারুল ইসলাম বলেন, লাকী শিশু দুটির স্বর্ণালংকার যে দোকানে বিক্রি করেছেন, তা শনাক্ত করা হয়েছে। দোকানিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আরেক শিশুর বস্তাবন্দী লাশ নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বিলকরিল্যা গ্রাম থেকে গতকাল বিকেলে মুরাদ হোসেন (১২) নামের একটি শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে ওই গ্রামের আবদুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। তাকে হত্যায় জড়িত অভিযোগে রাজ্জাকের দ্বিতীয় স্ত্রী অঞ্জনা বেগমকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অঞ্জনাকে আসামি করে মান্দা থানায় হত্যা মামলা করেছেন শিশুটির চাচা আতাউর রহমান। মান্দা থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, মনে হচ্ছে মুরাদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে লাশ পাটের বস্তায় ভরে প্রতিবেশী এনামুলের বাড়ির পাশে এক গলিতে ফেলে রাখা হয়। অঞ্জনার ছয় বছর বয়সী ছেলে অনিকও পুলিশকে বলেছে, তার মা মুরাদকে গলা টিপে মেরেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মুরাদের পারিবারিক সূত্র বলেছে, মুরাদ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি ফেরে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। বেলা দুইটার পর গলিতে পড়ে থাকা একটি বস্তা খুলে স্থানীয় লোকজন মুরাদের লাশ দেখেন।

বিনোদনকেন্দ্রের জায়গা বেদখল

২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ডিএসসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আবদুল বাসিত খান। এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে গতকাল তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। আবদুল বাসিত বলেন, কমলাপুর স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশে প্রায় আড়াই একর আয়তনের একটি খালি জায়গা রয়েছে। কয়েক বছর আগে সেখানে মাঠ, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণে ডিএসসিসিকে জায়গাটি বরাদ্দ দিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ। সে অনুযায়ী ডিএসসিসি কাজ করছে৷ তবে বর্তমানে জায়গাটি বেদখলে রয়েছে। কাঁচাবাজার বিষয়ে কাউন্সিলর বলেন, ১৯৯৮ সালে ওয়ার্ড-সংলগ্ন সিটি করপোরেশন স্টাফ কোয়ার্টারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কাঁচাবাজার নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ।
কিন্তু কিছুদিন পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এভাবেই পড়ে রয়েছে। নতুন করে এই বাজারের নির্মাণকাজ শুরু করতে ডিএসসিসির মেয়রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলর বলেন, গত দেড় বছরে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়ার্ডের সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। শিগগিরই আরও দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হবে। সড়কের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করেন না৷ বালুর মাঠ এলাকায় পয়োনিষ্কাশন সংযোগ নির্মাণ করতে ডিএসসিসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।