Saturday, February 16, 2019

মোটকু রাজার শুটকো বিড়াল by মাহবুবুল আলম কবীর

রাজার মনে শান্তি নেই। দিনকে দিন তিনি কেবল মোটা হচ্ছেন।

শুয়ে শান্তি নেই, বসে শান্তি নেই। হাঁটাচলা তো করতেই পারেন না।

এভাবে কি চলে?

দুদিন পরপর রাজার গায়ের জামা টাইট হয়ে যায়। রাজার পোশাক বানাতে বানাতে দরজি ব্যাটা হয়রান।

সারাক্ষণ রাজার খিদে থাকে। নানা পদের রান্না করতে করতে পাচক ব্যাটাও বিরক্ত।

এভাবে কি চলে?

ঘোড়ার পিঠে চড়ে যে একটু বেড়াবেন, তারও জো নেই।

তিনি কাছে গেলেই ঘোড়াগুলো চিত্কার আর লাফালাফি জুড়ে দেয়।

এই মোটা রাজাকে তারা পিঠে নিতে চায় না।

শেষমেশ রাজা একদিন মন্ত্রীকে বলেন, রাজবদ্যিকে ডাকো। দেখি মোটা শরীর কমানোর কোনো সুরাহা করতে পারে কি না!

রাজবদ্যি এসে বললেন, মহারাজ, শুকাতে চাইলে আপনাকে খাওয়া কমাতে হবে।

রাজা রেগে বলেন, এত বড় কথা! রাজা থাকবে না খেয়ে! এই কে আছিস! বদ্যিকে কারাগারে ঢোকা।

পরের দিন নতুন বদ্যি নিয়োগ হলো। তিনি বললেন, মহারাজ, আপনাকে খাটাখাটুনি করে মেদ ঝরাতে হবে।

শুনে রাজা তো রেগে আগুনম ‘কী! এত দাস-দাসী থাকতে আমি কেন খেটে মরব? এই ব্যাটাকেও কয়েদখানায় ভরো।’

এখন তো আরেকজন রাজবদ্যি লাগবে। কিন্তু কেউ আর এই পদে চাকরি করতে চায় না।

রাজা বললেন, ‘অতশত বুঝি না। কালই রাজদরবারে আমি বদ্যি দেখতে চাই।’

পরের দিন পেয়াদারা ধরে নিয়ে এল এক নাপিতকে।

নাপিত বললেন, মহারাজ, আপনাকে একটা হাড় জিরজিরে শুটকো বিড়াল পালতে হবে।

ওকে আপনি আদর-যত্ন করে মোটা করবেন। দাস-দাসী দিয়ে করালে হবে না।

কথা শুনে রাজা অবাক! তবু বললেন, ঠিক আছে, এতেই যদি শরীর শুকায়, মন্দ কী?

রাজ্যের সবচেয়ে শুটকো বিড়ালটা ধরে আনা হলো। দুপুরবেলা রাজা খেতে বসেছেন। অমনি পাত থেকে ভাজা মাছটা ছোঁ মেরে নিয়ে গেল বিড়ালটা। কাণ্ড দেখে রাজা হো হো করে হেসে ওঠেন।

তারপর নিজের খাবারের থালাটা গিয়ে রাখেন বিড়ালের সামনে।

আদর করে বলেন, ‘নে ব্যাটা, তুই-ই খা। আমি নাহয় উপোসই থাকলাম।’

সন্ধ্যাবেলায় বিশাল এক পেয়ালা ভরে রাজার জন্য দুধ আনা হলো। ওমা, বিড়ালটা এক লাফে টেবিলে উঠে চুকচুক করে সেই দুধ খাওয়া শুরু করল। এক দাসী লাঠি নিয়ে বিড়ালটাকে মারতে গেল।

রাজা বললেন, ‘খবরদার! আমার বিড়ালের গায়ে যেন আঁচড়টি না লাগে!’

বিড়াল টেবিলের নিচে গেলে রাজা সিংহাসন ছেড়ে দেখতে যান—ওর কোনো কষ্ট হচ্ছে না তো?

বিড়াল যদি জানালা টপকে বাইরে যায়, রাজাও জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে খবর নেন।

বিড়াল বাগানে ইঁদুর খুঁজতে গেলে রাজাও পিছে পিছে ঘোরেন।

এভাবে রাজার ভালোই খাটাখাটুনি হচ্ছে। শরীরের ওজনও কমছে।

কেটে গেল দুই মাস। একদিন সকালে দরবার শুরু হয়েছে। এমন সময় উঁকি দিল এক নেংটি ইঁদুর।

এই দেখে বিড়াল তো মহাখুশি! সে ছুটল ইঁদুর ধরতে। প্রাণের ভয়ে ইঁদুরও দিল দৌড়।

রাজা হঠাৎ দেখলেন, প্রিয় বিড়াল দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। রাজাও ছুটলেন বিড়ালকে ফিরিয়ে আনতে।

ইঁদুরের পেছনে বিড়াল। বিড়ালের পেছনে রাজা। ছুটছে তো ছুটছেই।

রাজবাড়ি ছাড়িয়ে, বন-বাদাড় পেরিয়ে, মাঠ-ঘাট পেছনে ফেলে তারা দৌড়াচ্ছে।

সকাল পেরিয়ে দুপুর। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বিকেল শেষে সন্ধ্যা ঘনায়। তাদের দৌড় আর থামে না।

রাজ্যের শেষ সীমায় এসে ইঁদুরটা একটা গর্ত দেখে থামল। সুড়ুৎ করে গর্তে ঢুকে প্রাণ বাঁচাল।

বিড়াল এসে গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল। ইঁদুরটা বের হলেই ধরে খাবে।

রাজাও এলেন খানিক বাদে। প্রিয় বিড়াল পেয়ে তিনি দুই হাতে কোলে তুলে নিলেন।

রাজা ফিরে আসছেন রাজবাড়ির দিকে। বিড়াল তখনো ইঁদুরটার কথা ভাবছে।

সে কোল থেকে নেমে পড়তে চায়। রাজা আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরেন।

সারা রাত রাজা বিড়াল কোলে নিয়ে হাঁটলেন। খাওয়া নেই। বিশ্রাম নেই। ঘুম নেই।

পরদিন সকালবেলা। বিড়াল কোলে নিয়ে রাজা এলেন। তার গায়ের পোশাক ঢিলেঢালা।

রাজাকে দেখে তো সবাই অবাক। ও কী! মহারাজ তো শুকিয়ে গেছেন!

ক্ষেপণাস্ত্রের বাড়ি, রকেটের ছাদ

ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তৈরি বাড়ি। গ্রামের যেখানে-সেখানে রকেট। কোনো বাড়ির ছাদের বিম তৈরি রকেট দিয়ে। কোনো বাড়িতে আবার দরজা বন্ধ করা হয় রকেট দিয়ে। এমনকি গ্রামের সেতুও রকেট দিয়ে বানানো। একটি বাড়ির ভাঁড়ার ঘর তৈরি সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে।
এ ধরনের ঘরবাড়িতেই লোকজন দিব্যি বাসও করছে। চলছে সংসারের কাজকর্ম। আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়জেলাবাদ গ্রামে এমন ঘরবাড়ি দেখা গেছে।
বিবিসি অনলাইনের এক ভিডিওতে ইজাতুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির বাড়ি দেখা যায়। ইজাতুল্লাহ জানান, বাড়ির ছাদের বিমের জন্য রকেটগুলো আনার সময় তিনি নিতান্তই কিশোর। রকেটগুলো গত শতকের আশির দশকের। রাশিয়ার তৈরি। রাশিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানের বাসিন্দাদের হাতে টাকাপয়সা ছিল না। ঘরবাড়ি তৈরির মতো জিনিসপত্র কেনাও কঠিন ছিল। পরে রুশ বাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র দিয়েই চলে বাড়ি তৈরির কাজ।
রকেট আর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘরে এভাবে থাকা কতটা নিরাপদ? জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি ইজাতুল্লাহ। গ্রামে আসা এক পর্যবেক্ষক বিষয়টি খেয়াল করেন। তিনি গ্রামবাসীকে এ ব্যাপারে সচেতন করেন। গ্রামে বিস্ফোরক ধ্বংসের যন্ত্রও পাঠান। এই পর্যবেক্ষক জানান, এক দিনে গ্রামটিতে তাঁরা ৪০০ রকেট দেখেছেন। এগুলো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। একটি বাড়িতে তাঁরা ২৬টি রকেট খুঁজে পেয়েছেন। এগুলো ছিল ১ হাজার ২০০ কেজির টিএনটি বিস্ফোরক।
ওই পর্যবেক্ষক এই বিপদের কথা জানান স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে। গ্রামের অনেকেই জানতেন না রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হলে পুরো গ্রামটিই উড়ে যাওয়ার কথা। বিশেষ করে নারীদের অনেকেই জানতেন না। তাঁদের এ নিয়ে সচেতন করা হয়। এ সময় এক নারী বলেন, রকেটগুলো তাঁর রান্নাঘরের চিমনির কাছেই। রকেট সরিয়ে ফেলা হবে কি না, জানতে চাইলে সানন্দে রাজি হয়ে যান ওই নারী।
পর্যবেক্ষক দলের উদ্যোগে ঘরবাড়ি থেকে রকেটগুলো সরানো হয়। সরানোর পর রকেটগুলো সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সব ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিপদমুক্ত হয়ে খুশি হন ইজাতুল্লাহ ও অন্যরা।

নির্জন দ্বীপে একলা!

২৮ বছর আগে কিম সিন-ইয়োল ও তাঁর স্বামী অন্য রকম এক সিদ্ধান্ত নেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধপূর্ণ এক নির্জন দ্বীপে জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। ওই সময় থেকে তাঁদের সঙ্গে কত মানুষ আসা-যাওয়া করলেন—পুলিশ, বাতিঘরের অপারেটর, পর্যটক। থেকে গেলেন শুধু কিম সিন-ইয়োল ও তাঁর স্বামী। গত বছর স্বামীর মৃত্যুর পর এখন দ্বীপটির একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে রয়ে গেছেন তিনি।
আজ শুক্রবার সিএনএন অনলাইনে উঠে এসেছে দকদো বা তাকেশিমা দ্বীপের একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা ৮১ বছর বয়সী কিম সিন-ইয়োলের গল্প। দ্বীপটির দুটো নামের কারণ হচ্ছে বিরোধপূর্ণ জায়গায় হওয়ায় দুই পক্ষ এটাকে নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী নামকরণ করেছে। কেউ কারও দেওয়া নামে ডাকে না। দ্বীপটির শাসক হিসেবে দাবিদার দক্ষিণ কোরিয়া ডাকে দকদো নামে। দ্বীপটির আরেক দাবিদার জাপান এর নাম দিয়েছে তাকেশিমা।
খবরে বলা হয়, আবহাওয়া খারাপ হলেই দ্বীপটি সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিশ্ব থেকে। দ্বীপের চারপাশের সাগরের (জাপান সাগর) পানিতে মাছের প্রাচুর্য রয়েছে। কিম সিন পেশায় ছিলেন স্বাধীন ডুবুরি। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের পেশাজীবীকে বলা হয় ‘হায়েনইয়ো’। বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালে তিনি পেশা ছেড়ে দেন। গত বছরের অক্টোবরে স্বামী কিম সুং-দো মারা যাওয়ার পর তিনি একা হয়ে পড়েছেন। এরপরও দ্বীপ ছেড়ে আসতে রাজি নন তিনি।
তাঁর জামাতা কিম কিয়াং-চুল জানিয়েছেন, তাঁর শাশুড়ি বলেন, দকদোর জীবন শান্তির। সেখানে থাকলে মন ভালো থাকে।
দ্বীপটি নিয়ে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ঐতিহাসিক তিক্ততা রয়েছে। জাপানের দাবি, পাহাড়ি দ্বীপটি দক্ষিণ কোরিয়া অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। সতেরো শতক থেকে এটি একটি স্বাধীন অঞ্চল।
১৯৫০ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দ্বীপটি। সেখানে তারা সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষী মজুত রাখত। দেশটির মতে, দ্বীপের সাগরের তলদেশে গ্যাস রিজার্ভ রয়েছে।
তবে দ্বীপটি নিয়ে দুই দেশের বিরোধ থাকলেও সেটির অবস্থান জাপানের চেয়ে কোরিয়ার মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি এবং কোরিয়ার পর্যটকদের যাতায়াতই সেখানে বেশি।
দ্বীপটিতে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। এপ্রিল নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত কিম সিন তাঁর মেয়ে কিম জিন-হিয়ের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় এলাকা পোহাংয়ে থাকবেন।
দকদো দ্বীপে দক্ষিণ কোরিয়ার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেশটির অনেক নাগরিক সেখানে বসবাস করতে যেতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বীপটিতে শুধু একটি বাড়ি থাকার মতো ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে কিম সিনের শরীর এখন বেশির ভাগ সময় খারাপ থাকায় তাঁর মেয়ে ও জামাতা ওই দ্বীপে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স পেয়েছেন মেয়ে কিম জিন। ওই লাইসেন্স ব্যবহার করে পর্যটকদের কাছে তিনি স্ট্যাম্প, সাবান ও সামুদ্রিক খাবার বিক্রির পরিকল্পনা করছেন।
তবে পরিবারটির কাছে দকদো দ্বীপ ব্যবসার সুযোগের চেয়েও বড় কিছু। মেয়ে কিম জিন বললেন, ‘দকদো দ্বীপ একেবারে ছেড়ে চলে আসার কথা আমরা ভাবতেও পারি না।’

৫০ বছরের মধ্যে সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্ত হতে পারে

  • • বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের গবেষণা।
  • • অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় গবেষণাটি করা হয়।
  • • নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শরীফ।
  • • বাংলাদেশের বাঘের নতুন বিপদ জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা।
চোরা শিকারিদের উৎপাত আর শিল্পায়নের দূষণের পর এবার সুন্দরবনের বাঘের জন্য এক নতুন বিপদের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বাঘের নতুন বিপদ হিসেবে এবার জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়াকে চিহ্নিত করেছেন।
বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখতে পেয়েছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে সুন্দরবনের বাঘ বিলুপ্ত হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বাঘের বাসস্থান সুন্দরবনের বড় অংশ ডুবে যেতে পারে। এতে বিশেষত বাংলাদেশ অংশে বাঘ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় ওই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শরীফ মুকুল। গবেষকেরা জাতিসংঘের আন্তসরকার জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্যানেলের (আইপিসিসি) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাসকে আমলে নিয়ে এই গবেষণা করেছেন। একই সঙ্গে এই পূর্বাভাসের প্রভাব বাঘের বসতি এলাকা সুন্দরবনে কতটুকু পড়বে, সেই হিসাবও করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, সুন্দরবনে দুই ধরনের বিপদ বেশি বাড়বে। প্রথমত সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে সুন্দরবনের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যেতে পারে। বাঘ মূলত ওই এলাকাগুলোতেই বেশি বসবাস ও বিচরণ করে থাকে। এতে বাঘ আর সেখানে থাকতে পারবে না। দ্বিতীয়ত সুন্দরবন এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার ফলে গাছের ধরনের বদল হবে। যেমন সুন্দরবনে সুন্দরীগাছ কমে গিয়ে কেওড়া ও গেওয়াগাছের পরিমাণ বেড়ে যাবে, যা বাঘের বসবাসের পরিবেশ নষ্ট করবে।
তবে বাংলাদেশের বাঘ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুন্দরবনের বাঘের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া বড় হুমকি। একই সঙ্গে বর্তমানে চোরা শিকারিদের হাতে বাঘ শিকার ও সুন্দরবনের পাশের শিল্পায়নকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে মনে করেছেন তাঁরা। আর ঐতিহাসিকভাবে সুন্দরবন একটি সক্রিয় বদ্বীপ এলাকা। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে এর সঙ্গে আসা পলির কারণে এই বন আরও উঁচু হতে পারে। তাই সাধারণ একটি ভূখণ্ড যেভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডুবে যাওয়ার হুমকিতে থাকে, সুন্দরবনের জন্য সেই হুমকি ততটা নেই। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে তাঁরা হুমকি হিসেবেই মনে করেন।
গবেষণাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত শরীফ মুকুল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনের চারপাশে শিল্পকারখানার চাপ বাড়ছে। সেখানে সড়ক নির্মাণ হচ্ছে এবং চোরা শিকারিদের দাপট বাড়ছে। এতে বাঘের বসতি এলাকার বিপদও বাড়ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ যোগ হয়ে তা আরও বড় বিপদের দিকে বাঘকে ঢেলে দিচ্ছে। তবে বাঘ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগ বাড়ালে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে বাঘকে টিকে থাকতে সহায়তা করলে তা বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারে।
সুন্দরবনের বাঘের ওপর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মাসে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট-এ প্রকাশিত হয়েছে। ‘কম্বাইন্ড ইফেক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সি-লেভেল রাইজ প্রজেক্ট ড্রামাটিক হেবিটেট লস অব দ্য গ্লোবালি এনডেঞ্জার্ড বেঙ্গল টাইগার ইন দ্য বাংলাদেশ সুন্দরবনস’ শীর্ষক ওই প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সারা পৃথিবীতে মাত্র ৪ হাজার বেঙ্গল টাইগার টিকে আছে। যার মধ্যে বাংলাদেশে মাত্র ১০৬টি (২০১৫ সালের হিসাব) বাঘ আছে, যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। যে কয়টি বাঘ এখনো টিকে আছে, তাকে রক্ষা করতে হলে এর সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা বদলাতে হবে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০। ২০১০ সালে রাশিয়ায় বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। এই লক্ষ্যে গঠিত হয় গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ (জিটিআই)। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশও বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঘ বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, বাঘের জন্য সুন্দরবন এমনিতেই প্রতিকূল পরিবেশ। বেঙ্গল টাইগার এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে। তবে সুন্দরবনের চারপাশে যেভাবে শিল্পকারখানা হচ্ছে ও দূষণ বাড়ছে, তাতে বাঘের জন্য বিপদ তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া খাদ্যসংকটের কারণে বাঘ বসতি এলাকায় চলে আসছে, এতে মানুষের হাতে বাঘ মারা পড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গেলে বাঘের বন থেকে লোকালয়ে আসার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তবে বাঘের আশু বিপদ হিসেবে অবশ্যই চোরা শিকার ও শিল্পদূষণ সবচেয়ে ভয়ংকর। সরকারকে বাঘ রক্ষা করতে হলে এই সব কটি বিপদকে আমলে নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

খোলা আকাশের নিচে ৭ বছর: সরকারি নষ্ট সার যাচ্ছে কৃষকের কাছে by প্রতীক ওমর

দীর্ঘ সাত বছর ধরে গুদামের বাইরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা সরকারি গুদামের সার কৌশলে কৃষকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কৃষক। বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে অবস্থিত বিসিআইসি’র রাসায়নিক সারের বাফার স্টক গুদাম থেকে নওগাঁ এবং বগুড়ার বিভিন্ন ডিলারদের কাছে সার দিয়ে থাকে। ২০১২ সাল থেকে ওই গুদামের দায়িত্বশীলদের অবহেলায় সাত বছর ধরে গুদামের বাইরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে ১১ হাজার টন ইউরিয়া সার। কয়েক বছর আগেই সারগুলো জমাট বেঁধেছে। এ নিয়ে গত বছরের ৪ঠা এপ্রিল মানবজমিনে একটি সংবাদ ছাপা হয়েছিল। তৎকালীন সান্তাহার বাফার গুদাম ইনর্চাজ আব্দুল মালেকের অবহেলায় এই সারগুলো নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয় ডিলাররা অভিযোগ করেছেন। তিনি সারগুলো রক্ষায় কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেননি।
নষ্ট হওয়া এই সারের দাম বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রায় ১৭ কোটি টাকা। গুদাম ইনচার্জ জানান, এই সারগুলো কুয়েত এবং চায়না থেকে আনা হয়েছে।
গুদাম কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার ডিলারদের জোর করে এই নষ্ট সার দেয়ার প্রতিবাদে ৫ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন। পরে  ডিলার এবং গুদাম কর্তৃপক্ষের সমঝোতায় দুপুরের পার সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়।
ডিলার সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার বাফার স্টক গুদাম থেকে নওগাঁ জেলার ১১ উপজেলার ১২৬ ডিলারকে রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এই গুদামে স্থানাভাবে বিপুল পরিমাণ সার খোলা আকাশের নীচে রাখা হয়। গত ৭ বছর ধরে এভাবে সার মজুদ রাখায় রোদ, বৃষ্টি ও কুয়াশায় সারগুলো জমাট বেঁধে পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে। সাম্প্র্রতিক সময়ে ঠিকাদার নিয়োগ করে জমাট বাধা সার হাতুড়ি ও ইট ভাঙা মেশিনে ভেঙে নিয়ে নতুন বস্তায় ভরা হচ্ছে। কিন্তু ঠিকাদার দায়সারা কাজ করায় জমাট সার পুরোপুরি না ভেঙেই রি-প্যাক করা হচ্ছে এবং সেগুলোই সরবরাহ নিতে বাধ্য করা হয়। কৃষক সার কিনে নিয়ে যাওয়ার পর জমাট দেখে ডিলারের কাছে ফেরত দিয়ে যায়। ফলে ডিলাররা এসব জমাট বাধা সার নিয়ে বিপাকে পড়ে। এভাবে প্রতি ডিলারের ঘড়ে হাজার হাজার বস্তা জমাট বাধা সারের মজুদ গড়ে উঠেছে। এতে করে তারা লাখ লাখ টাকার লোকসানে পড়েছেন।
ওলিউর রহমান, মিজানুর রহমান, রনি হোসেন, দিপক কুমারসহ বহু ডিলার অভিযোগ করে বলেন, গত মাস থেকে প্রতি ৪০০ বস্তার ট্রাকে ১১০ বস্তা জমাট বাঁধা সার সরবরাহ নিতে বাধ্য করছে বাফার কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। চলতি মাসের বৃহস্পতিবারও একই পরিমাণে জমাট বাঁধা সার সরবরাহ নেয়া নিয়ে বেঁকে বসেন ডিলাররা। তারা প্রায় শতাধিক ট্রাক নিয়ে এসে বাফার স্টক গুদামে প্রবেশ না করিয়ে রাস্তায় রেখে দেয় এবং গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে নওগাঁ জেলা সার ডিলার সমিতি (বিএফএ)’র সভাপতি রেজাউল করিম, সহ-সভাপতি দীপক কুমার ও মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল বাফার গুদামের ইনচার্জ একেএম হাবিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রতি ট্রাকে ১১০ বস্তার স্থলে ৩৫ বস্তা জমাট বাধা সার সরবরাহ দেয়া-নেয়া হবে। ডিলাররা সে সিদ্ধান্ত মেলে নিলে দুপুর ১টার দিকে কার্যক্রম শুরু হয়।
এ বিষয়ে বাফার গুদামের ইনচার্জ একেএম হাবিবুর রহমান রহমান জানান, সারগুলো জটবাঁধা হলেও গুণগতমান ঠিক আছে। ওই সার ব্যবহার করলে কৃষকের ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না।
অপর দিকে বগুড়া কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্তি পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ কামাল উদ্দিন তালুকদার জানান, ইউরিয়ায় নাইট্রজেনের পরিমাণ বেশি থাকায় এই সার তৈরির পর থেকেই গুণগতমান কমতে থাকে। যত দিন যায় তত গুণগত মান নষ্ট হয়।

ভুল স্বীকার করলেও দলে ফিরবেন না রাজ্জাক

দল থেকে সদ্য পদত্যাগী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বিবিসির ফেসবুক লাইভে বলেছেন, দল ভুল স্বীকার করলেও তিনি আর ফিরবেন না। আর নতুন কোনো দল গঠনও করছেন না। তবে যেখানেই  থাকুন মানুষের জন্য কাজ করবেন।  লন্ডনস্থ বিবিসি বাংলার স্টুডিওতে মাসুদ হাসান খানকে দেয়া প্রায় পঁচিশ মিনিটের সাক্ষাৎকারে তিনি তার পদত্যাগের পূর্বাপর ব্যাখ্যা করেছেন।
শুরুতেই প্রশ্ন ছিল- বাংলাদেশের যে রাজনীতি তাতে জামায়াতে ইসলামী এখন একটা অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে আছে। দলের এই চরম অবস্থার মধ্যে আপনি দল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?
রাজ্জাক: আমি দীর্ঘ ৩০ বছর জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এবং আমি দুটো অঙ্গনে বেশি কাজ করেছি। একটি হচ্ছে আইনের অঙ্গনে আরেকটি হচ্ছে কূটনৈতিক অঙ্গনে। ১৯৯২ সালে গোলাম আজমের যে নাগরিকত্ব মামলা হয়, সেই মামলায় আমি জুনিয়র আইনজীবী ছিলাম।
সাঈদী সাহেবের মামলা লড়েছি। ২০০৭-০৮ সালের ইমার্জেন্সির সময় নিজামী, মুজাহিদ সাহেবের বিরুদ্ধে মামলায় আমি প্রধান কৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছি। ২০১০-১৩ সাল পর্যন্ত ১০ জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে করা মামলায় প্রধান কৌশলী হিসেবে আমি মামলা পরিচালনা করেছি। সুতরাং আমার যেটা কাজ ছিল, জামায়াতকে আইনগতভাবে রক্ষা করা, সেটা আমি সততার সঙ্গে পালন করেছি। আমি কিছু ডিপ্লোম্যাটিক কাজও করেছি। আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাশে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সে আমি বেশ কিছু ডিপ্লোম্যাটিক কাজ করেছি। আমার পদত্যাগপত্রে বলেছি, ৩০ বছর আগে যখন আমি জয়েন করি, জয়েন করার পর আমার একটা উদ্দেশ্য ছিল যে আমি জামায়াতকে পুনর্গঠন করবো। সেই পুনর্গঠনে আমি ব্যর্থ হয়েছি। আরেকটা আমার উদ্দেশ্য ছিল যে, আজকের জামায়াত জনগণ থেকে কেন বিচ্ছিন্ন, আজকে কেন জামায়াতকে একটি গ্লানি বহন করতে হচ্ছে। ’৭১ সালে যে শিশু জন্ম নিয়েছে, সে তো ৭১-এর যুদ্ধ দেখেওনি, সে তো এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত না। কিন্তু আজকে তাকেও এই দায়ভার বহন করতে হচ্ছে।
আমি আমার পদত্যাগপত্রে আইটেমাইজ বলেছি, ২০০১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আমি কী করেছি। জামায়াতকে বোঝামুক্ত করার জন্য, জামায়াতকে যেন ’৭১-এর বোঝা বহন করতে না হয়, সে জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমি যখন দেখলাম, আমি পথের শেষপ্রান্তে পৌঁছে গেছি, আমার এখন আর কিছু করার নেই, জামায়াতকে আমার তেমন আর কিছু দেয়ার নেই, তখনই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিই।
প্রশ্ন: পদত্যাগপত্রে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে যে ভূমিকা রেখেছে, তার জন্য তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এই কথাটা আপনি বুঝছেন, কিন্তু জামায়াতের অন্যান্য নেতারা কেন বুঝছেন না?
রাজ্জাক: আমি চেষ্টা করেছি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, ইতিহাস থেকে উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, স্বাধীনতার বিরোধিতা করে কোনো দেশের কোনো দল সে দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেনি। আমি চেষ্টা করেছি এবং সেখানে মতামতটা বিভক্ত ছিল। সবাই যে বিরোধিতা করেছে, তা নয়। কিছু লোক পক্ষে ছিল, কিছু লোক বিপক্ষে ছিল। আর জামায়াতের একটা সংস্কৃতি আছে। তা হলো, জামায়াত পার্টির ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা করে। ৫০ জনের একটা মিটিং যদি হয় আর ২৬ জন যদি বলে আমরা এটার পক্ষে নই, তাহলে বাধ্য হয়েই তাদের ২৬ জনের মতামত মেনে নিতে হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের কারণেই আমি দেখলাম জামায়াত সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে একটি কথা আমি এখানে বলবো। আমি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে বলেছি যে, দেখুন সংখ্যাগরিষ্ঠের মত যাই হোক না কেন, আপনারা লিডারশিপ দিচ্ছেন, আমরা লিডারশিপ দিচ্ছি, অবশ্য আমি এখন আর লিডারশিপে নেই। আমি নেলসন মেন্ডেলার উদাহরণ দিয়েছিলাম, যে শেতাঙ্গদের সঙ্গে তিনি শেষ পর্যন্ত আপসে গেলেন। যদিও তার দলের লোক বলছিল যে, না আমরা যুদ্ধ করবো। সুতরাং এটা আমি বুঝানোর চেষ্টা করেছি, সবাই যে বোঝেননি তা নয়, তবে এটা করতে তারা অপারগ হয়েছেন এবং এটা তাদের ব্যর্থতা বলেই আমি মনে করি।
প্রশ্ন: এজন্যই আপনি চাইছেন যে, দলটিকেই বিলুপ্ত করে দেয়া হোক, কারণ তাদের একটি ’৭১-এর কালি রয়েছে।
রাজ্জাক: শুধু তাই নয়, তা তো আছেই, দুই নম্বর বিষয় হচ্ছে, ২০১১ সাল থেকে জামায়াতের বাহ্যিক কার্যক্রম সব বন্ধ। বাংলাদেশের ৬৫টা জেলার যতটা অফিস আছে, প্রায় সবই বন্ধ। এছাড়া জামায়াতের নিবন্ধন নেই। জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক নেই। জামায়াত কোনো মিটিং করতে পারে না, মিছিল করতে পারে না, কোনো সম্মেলন করতে পারছে না। এটা সরকার করতে দিচ্ছে না। যেহেতু পারছে না, সেহেতু জামায়াতের নতুন কৌশলে যাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
প্রশ্ন: জামায়াত রাজনৈতিকভাবে মৃত, এ ব্যাপারে আপনি একমত হবেন?
রাজ্জাক: জামায়াতকে সরকার কোনো ফাংশন করতে দিচ্ছে না। যদিও আইনগতভাবে জামায়াত এখনো বেআইনি নয়। কার্যত সরকার জামায়াতকে বেআইনি করেই রেখেছে।
প্রশ্ন: তাহলে কি বলা যায় যে, আপনি এক ধরনের চাপে পড়েই এ ধরনের কথা বলছেন, আপনি দলে থাকবেন না, নতুন দল গড়ে তুলবেন। আপনার ওপর কোনো চাপ আছে কি?
রাজ্জাক: একেবারেই না। ২০০১ সালে আমি কি চাপে ছিলাম? ওই সময় আমি এই প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলাম।
প্রশ্ন: আচ্ছা ধরুন, আপনি এখন জামায়াতে ইসলামী দলে আছেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত আপনার পক্ষে। আপনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইলে কী বলতেন?
রাজ্জাক: আমি স্পষ্ট বলতাম, আমরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার বিরাধিতা করেছি। এটা আমাদের একটা রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।
প্রশ্ন: আপনি যখন বলবেন, ’৭১ সালে আমরা যা করেছি তা ভুলে যান, ক্ষমা করে দিন। এর মধ্য দিয়ে জামায়াতের রাজনীতির একটি বড় অংশকে আপনি মুছে ফেলছেন। জামায়াতের ভেতরের যারা আপনার পক্ষে না তারা তো এভাবেই দেখতে পারেন, যে একটি বড় অংশকে আপনি উড়িয়ে দিচ্ছেন।
রাজ্জাক: মাসুদ, আমরা একটি পরিবর্তনশীল বিশে^ বাস করছি। ১৯৪০ সালের জামায়াত, ১৯৪৭-এর জামায়াত, ১৯৭১-এর জামায়াত এবং একবিংশ শতাব্দীর জামায়াত এক হতে পারে না। আপনাকে স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করতে হবে। আমরা তুরস্কে দেখেছি, তিউনিশিয়াতে দেখেছি স্ট্র্যাটেজির পরিবর্তন এনেছে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি পেছনে তাকিয়ে দেখে আমরা ভুল করেছি, তাহলে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে কোনো সংকোচ থাকা উচিত নয়।
প্রশ্ন: আপনি অন্য কোনো দলে যোগদান করবেন?
রাজ্জাক: আমি বলেছি, আমি আমার পেশায় ফিরে যাব এবং একজন নাগরিক হিসেবে আমার যে অবদান রাখা দরকার সেটাই আমি করবো। অন্য কোনো দলের যোগ দেয়া আবশ্যক নয়।
প্রশ্ন: জামায়াতে ইসলামীকে যদি বিলুপ্ত করা হয়, তাহলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যারা দলে কাজ করেছে তাদের কী হবে?
রাজ্জাক: যুবকদের আমি বলবো, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে ধারণা ছিল, সেটা নিয়ে একটু চিন্তাভাবনা করতে হবে। ইসলামী কনসেপ্ট অবশ্যই একটি কনসেপ্ট। তবে নতুনভাবে এই কনসেপ্ট নিয়ে তরুণদের চিন্তা করা উচিত। বাংলাদেশে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান রয়েছে। এর অধীনে সাম্য ন্যায়ের ভিত্তিতে কীভাবে একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠন করা যায়, সেটা ভাবতে হবে।
প্রশ্ন: আপনি জামায়াত বিলুপ্তির প্রস্তাব করেছেন। জামায়াতের বিরোধী যারা জামায়াত নিয়ে এতদিন রাজনীতি করেছে, জামায়াত বিলুপ্ত হলে তারা কি একটি সংকটের মধ্যে পড়তে পারে?
রাজ্জাক: সময় এসেছে জামায়াতকে বিলুপ্ত করার। এটা দেশের জন্য কল্যাণকর, জামায়াতের জন্য কল্যাণকর, জাতির জন্য কল্যাণকর।
প্রশ্ন: জামায়াত ভুল স্বীকার করলে আপনি দলে ফিরে যাবেন?
রাজ্জাক: এ ধরনের কোনো সম্ভাবনাই দেখছি না।
প্রশ্ন: আপনি বললেন, কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনও করছেন না, দেশেও হয়তো আপাতত ফিরছেন না, তাহলে আপনি করবেন কী?
রাজ্জাক: আমি একজন আইনজীবী, আমি প্র্যাকটিস করছি। দেশের সেবা করার জন্য অনেক ক্ষেত্র আছে। অবশ্যই আমি সেই ক্ষেত্রগুলোতে অবদান রাখবো।

চলে গেলেন সোনালী কাবিন-এর কবি

চলে গেলেন সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদ (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৮২)। গত রাত ১১টা ৫ মিনিটে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরনিদ্রার পথে যাত্রা করেছেন। দীর্ঘদিন থেকেই নানা রোগে ভুগছিলেন আল মাহমুদ। পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডিস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আল মাহমুদকে। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন একই হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিউরোলোজিস্ট প্রফেসর আব্দুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবির মৃত্যুতে সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ত্রিশোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম কবি আল মাহমুদ কবিতার পাশাপশি গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।
নানান জীবন অভিজ্ঞতা সঙ্গী করে শেষদিন পর্যন্ত আল মাহমুদ লড়ে গেছেন তার নিজস্বতা নিয়ে।
ব্যক্তি জীবনে লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং যুদ্ধের পরে দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। সম্পাদক থাকাকালীন সময় সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এক বছরের জন্য কারাবরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখায় মনোযোগী হন। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমীর গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
৫০-এর দশকের তার সমসাময়িক কবি-বন্ধুরা যখন একে একে মৃত্যুবরণ করছেন তখন কবি আল মাহমুদ বার্ধক্যজনিত নানান অসুখে থেকেছেন গৃহবন্দি। মাঝে মাঝে গিয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। দীর্ঘদিন ধরে চোখে ভালো দেখতেন না, কানেও কম শুনতেন।
কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড হাই স্কুলে পড়ালেখা করেন। সেই সময় থেকেই তার লেখালেখির শুরু। সেসময় তিনি মধ্যযুগীয় প্রণয়েপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল প্রমুখের সাহিত্য পাঠ করেন।
১৮ বছর বয়সে তার কবিতা প্রকাশিত হয়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকা এবং কলকাতার নতুন সাহিত্য, চতুষ্কোণ, ময়ূখ, কৃত্তিবাস ও বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা-কলকাতার পাঠকদের কাছে তিনি সুপরিচিত হন।
তার কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থগুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯৩ সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল।
১৯৬৮ সালে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’-এর জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে পান একুশে পদক।
১৯৫৪ সালে আল মাহমুদ ঢাকা আসেন। তখন তিনি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৫৫ সাল আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে আল মাহমুদ সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
আল মাহমুদ ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দা নাদিরা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

সেক্স রোবট বিপ্লব, সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের

যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই ‘সেক্স রোবট’ তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। সেক্স রোবট দিন দিন জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। সৃষ্টি হয়েছে তর্কের, বলা হচ্ছে ধ্বংস হয়ে যাবে স্বাভাবিক যৌনতা ও সম্পর্কগুলো। কিন্তু তাতে থেমে নেই এর বিক্রি ও উৎপাদন। রয়েছে বিশ্বজুরে বিশাল বাজারের হাতছানি। মানুষকে সাহচার্য ও যৌন পরিতোষের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত এগুলোকে উন্নত করে তোলা হচ্ছে। ফলে সেক্সটয় ও ডলের মত এগুলো মানুষ আর লুকিয়ে ব্যবহার করবে না একসময়, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রমাগত স্বাভাবিক হয়ে উঠছে বিষয়টি।
ধারণা করা হচ্ছে এভাবেই মূলধারায় যুক্ত হয়ে যাবে সেক্স রোবট বা সেক্সবট। তবে এ নিয়ে বিতর্কও থেমে নেই। সমালোচকদের কেউ এর থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছেন। কেউ বলছেন আইনের কথা আবার কেউ জানাচ্ছেন মানুষের মস্তিস্কের প্রভাব যাচাইয়ের কথাও। আর নৈতিকতার প্রশ্নতো থাকছেই।
সেক্সবট কাকে বলা হবে তা নিয়ে রয়েছে নানা দ্বিধা। এর কোনো ধরাবাধা সংজ্ঞাও নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা সহজ করে বলেন, সেক্সবট হচ্ছে একটি সেক্সডল। কিন্তু এটি কথা বলতে পারে। এর রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফলে এটি সব ধরণের কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারবে। একইসঙ্গে নিজে থেকেই সিদ্ধান্তও নিতে পারবে। তবে এই সংজ্ঞায় এখনি ফেললে তা পুরোনো হতে সময় লাগবে না। কারণ প্রতিনিয়ত সেক্সবটকে উন্নত করে তোলা হচ্ছে, যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন ফিচারও। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে মাইক্রোচিপ। এর ফলে তারা তার সঙ্গীর আবেগ বুঝতে পারবে এবং শিখতে পারবে।
‘মার্ক ওয়ান’ নামের এক রোবটকে তৈরি করা হয়েছে হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসনের আদলে। এটি একটি সেক্স রোবট। কিন্তু এরে নির্মাতা রিকি মা জানিয়েছেন যে তার তৈরি রোবটটি সেক্স রোবট হিসেবে কাজ করতে চায় না। একইসঙ্গে এই রোবটগুলো অন্যান্য কাজ যেমন রান্না করার মত কাজগুলো করতে সক্ষম।
কিন্তু সেক্সবট কি নিরাপদ? একদিন হয়ত সেক্সবট সংবেদি হয়ে উঠবে কিন্তু এখনো এটি একটি পণ্যের মতই। মার্কিন সরকারের প্রতি ইতিমধ্যে দাবি উঠেছে যাতে সেক্স রোবটকে ঠিকভাবে পর্যবেক্ষন করা হয়। ধরা যাক একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তার সদ্য কেনা সেক্সবটকে চুমু খাচ্ছে। কিন্তু সেক্সবটের লাল ঠোটে যে টক্সিন নেই তার কি নিশ্চয়তা রয়েছে? এ ছাড়া রয়েছে ক্রাশ করার ঝুকিও। শুধু এ ধরণের ক্ষতিই নয় রয়েছে ব্যাক্তিগত তথ্য চুরির ঝুকিও। সেক্স রোবট এখন তার পার্টনার থেকে শিখে সে শব্দগুলোকে ব্যবহার করছে। তার আবেগের উপর ভিত্তি করে কথা বলছে, তথ্য নিচ্ছে। কিন্তু এর গোপনীয়তা কে রক্ষা করবে? এমন দাবিও উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
আমরা ইতিমধ্যে সেক্সডলের পতিতালয়ের কথা জেনেছি। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রের হাউসটন শহরে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম রোবট পতিতালয়। তবে এর বিরুদ্ধেও রয়েছে অনেকে। এখনো কেউ জানে না সেক্সটয়ের মত বিশাল পরিসরে যখন সেক্সবট ব্যবহার শুরু হবে তখন তার সামাজিক প্রভাব কি হবে।
ইতিমধ্যে আমরা আমাদের প্রজন্মকে সাহসী হয়ে উঠতে দেখেছি। খুব বেশীদিন আগে নয়, যখন মানুষ তার সম্পর্কের কথা প্রকাশ করতে লজ্জা পেত। লুকিয়ে লুকিয়ে একেকটি সম্পর্ক গড়ে উঠত। এখন সেসব দিন চলে গেছে। কিন্তু মানুষকি পারবে একটি মেশিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা সাহসীভাবে প্রকাশ করতে? এখনো কেউ তার উত্তর জানে না। তবে এটি নিশ্চিত সেক্স রোবট শিগগিরই সারা বিশ্বের বাজারে জায়গা করে নেবে। তাই বাস্তবতাকে মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকাও গুরুত্বপুর্ন। এটি এমন একটি চ্যালেঞ্জ সমগ্র বিশ্ব প্রথমবারের মত যার মুখোমুখি হচ্ছে।








বদলে যাচ্ছেন মমতা

মোদি সরকারকে হটাতে চান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ কারণে যতটা সম্ভব বদলে যেতে হচ্ছে তাঁকে। তিনি মোদিবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন। কংগ্রেস ও বাম দলের ওপর ক্ষোভ ভুলে এক সুরে সুর মেলাচ্ছেন তিনি। এত দিন রাজনৈতিক স্বার্থে এ দুটি দলকে কিছুটা এড়িয়ে চলেছেন তিনি। রাজনীতিতে এত দিন এনডিএ, ইউপিএ ও তৃতীয় প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্টের রাজনীতি নিয়েই চলেছে আলোচনা।
বেশ কিছুদিন ধরে মোদিবিরোধী একটি মহাজোট গড়ে তুলছিলেন মমতা। এক ছাতার তলে ২৩টি রাজনৈতিক দলকে এনেছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় ব্রিগেড সমাবেশ করে মোদিকে হটানোর ডাক দিয়েছিলেন তিনি। তৃতীয় ফেডারেল জোট গড়ার সে ডাকে অবশ্য বাম দল বা কংগ্রেসকে যুক্ত করেননি তিনি। কিন্তু মমতার ব্রিগেড সমাবেশের পর নেতারা কংগ্রেসকে যুক্ত করার কথা বলেন। তখন থেকেই বদলে গেছেন মমতা।
গতকাল বুধবার দিল্লিতে মোদিকে হটানোর লক্ষ্যে দিল্লির আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ডাকে দিল্লির যন্তরমন্তরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোদিবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।
সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধীসহ মোদিবিরোধী দলের নেতা চন্দ্র বাবু নাইডু, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, শারদ পাওয়ার, ফারুক আবদুল্লাহ, শারদ যাদবরা উপস্থিত থেকে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। রাতে দিল্লির শারদ পাওয়ারের বাসভবনে মোদিবিরোধী নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেও যান মমতা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় জাতীয় স্তরে কংগ্রেস ও বাম দলকে নিয়ে জোট গঠন করার। জোটের একটি অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচিও ঘোষণা করার কথা বলা হয়। বলা হয়, এই জোটের নেতৃবৃন্দ নিয়মিত বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে মমতা ও রাহুল গান্ধী জানিয়ে দেন, কংগ্রেস ও বাম দলকে নিয়েই নির্বাচনের আগে জোট হচ্ছে।
মমতা বলেছেন, কংগ্রেস ও বাম দলকে নিয়ে এবার জোট হচ্ছে। কংগ্রেস ও বাম দলকে নিয়ে তাঁরা লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদিকে হটানোর লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় স্তরে জোট গড়তে সম্মত হয়েছেন।
রাহুল গান্ধী অবশ্য বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
অবশ্য মোদীবিরোধী ওই জোট একটা ধাক্কাও খেয়েছে। উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির নেতা ছিলেন মুলায়ম সিং যাদব লোকসভায় বলেছেন, মোদিকে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তিনি। বিগত পাঁচ বছর মোদি যেভাবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলেছেন, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।