Friday, January 1, 2010

তিনি কি ব্যর্থ মানুষ -শ্রদ্ধাঞ্জলি by জাহীদ রেজা নূর

কেমন ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান? এত দিন পর কেনই বা তাঁকে নিয়ে বলতে হবে কথা?
১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ দেখেছিলাম তাঁকে। পাজামা-পাঞ্জাবি আর চাদর গায়ে এসেছিলেন তিনি। আব্বার সঙ্গে (শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন) তাঁর সখ্যের স্মৃতিচারণা করেছিলেন। সে দৃশ্য গাঢ় হয়ে আছে মনে। আমার মেজো ভাইয়ের বিয়েতে উপহার দিয়েছিলেন একটি কলমের সেট। তারই একটি বহুদিন ব্যবহার করেছিলাম আমি।
ভাষা আন্দোলনের কথা পরে বলি। আগে বলি, জীবনে তাঁর কী অর্জন ছিল, তা নিয়ে। নিঃস্বার্থভাবে রাজনীতি, পুস্তক ব্যবসা করতে গিয়ে যখন একদিন দেখলেন, শেষ হয়ে আসছে আয়ু, তখন বুঝতে পারলেন, জীবনের সবচেয়ে বেশি যেটা অর্জন হয়েছে, তার নাম নিরাপত্তাহীনতা। নিশ্চয় তিনি ভেবেছিলেন, এই যে চারটি সন্তান রেখে এ জগেক বিদায় জানাচ্ছেন, ওরা বাঁচবে কী করে? কে দেখাবে পথ? কে নেবে ওদের দায়িত্ব? ১৯৮৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর চলে যাওয়ার আগে কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে তিনি কি নিজেকে ভেবেছিলেন একজন ব্যর্থ মানুষ?
সারা জীবনের যোগফল শূন্য হতে দেখলে কার ভালো লাগে? আসলেই কি শূন্য হয়ে গেল সব?
জাগতিক খ্যাতি আর বৈষয়িক দৃষ্টিতে তিনি তো সত্যিই একজন ব্যর্থ মানুষ। ভাষা আন্দোলনে সামনের সারির সুযোগ্য নেতা ছিলেন বটে; কিন্তু কত মানুষ একুশে পদক পেয়ে গেলেন, তাঁর ভাগ্যে সেটা জুটল না। এ নিয়ে আক্ষেপও অবশ্য ছিল না তাঁর। আসলে জাগতিক উন্নতির সোপান তাঁর সামনে কখনোই উন্মুক্ত হয়নি। আরও স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়, তিনি জানতেনই না, সমাজে টিকে থাকতে হলে বিষয়-বুদ্ধির রয়েছে অমোঘ তাত্পর্য। আর তাই, সমাজের একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনের মাপে তাঁর উচ্চতা নির্ণয় করতে হলে ভুগতে হবে। এই পথে মিলবে না তাঁর হদিস।
সেই যে বামপন্থী রাজনীতি করতে গিয়ে জীবনের সবটুকু ঢেলে কর্ষণ করলেন রাজনীতির জমি, তাতে কোন ফসল উঠল তাহলে? সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নটা কি তাহলে শুধুই মরীচিকা? পিরিস্ত্রোইকা আর গ্লাসনস্তের প্রবল হাওয়ায় সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ভেসে গেল সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে। সে নব্বইয়ের দশকের শুরুর কথা। তাহলে কি সাম্য, শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা ইত্যাদির আর কোনোই মূল্য থাকল না? এই যে মোহাম্মদ সুলতানের মতো মানুষেরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজটি করে গেলেন সারা জীবন, তাহলে কি তা ছিল আদতেই পণ্ডশ্রম?
শঙ্খ ঘোষের একটি কবিতায় আছে, ‘সুখের সংজ্ঞা তো আঙুলে গোনা যায়, বসতি নির্মাণ, বংশরক্ষা’। এই দুটি কিংবা মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো হয়ে গেলেই জীবনে সুখ এসে গেছে বলে যাঁরা ভাবেন, মোহাম্মদ সুলতান সেই দলে ছিলেন না। তাঁর কাছে, অন্য অনেক বামপন্থী রাজনীতিবিদের মতোই, জীবনের ভূমি কর্ষণ করে সোনা ফলানোটাই ছিল জীবনের উদ্দেশ্য। আজ যখন লাতিন আমেরিকার কিউবা, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশের মানুষ সাহস করে পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, তখন মনে হয়, স্বপ্নেরা মরে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি ওয়ার্ডের বাইরে অপ্রশস্ত করিডরে যখন শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করছিলেন মোহাম্মদ সুলতান, তখন কি তিনি জানতেন, তাঁরা যে স্বপ্ন দেখেছেন, যে অথই জলে ভাসিয়েছেন মানবিক জীবনের নৌকা, তাঁরই হাল ধরবেন উগো শাভেজ, লুলা, কাস্ত্রোরা? আবার বলতে হয়, স্বপ্নেরা মরে না।
তাঁর কথা বলি। যে বছর ভাষা আন্দোলন হলো, সেই ১৯৫২ সালেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করলেন। ঢাকার ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন। তাঁর স্কুলের ছাত্ররাও যোগ দিয়েছিল ভাষা আন্দোলনে। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনেও রাজশাহী সরকারি কলেজের ছাত্র হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। ছিলেন বামপন্থী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সভাপতি। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিকেও সংগঠিত করে তুলতে রেখেছেন অবদান। ১৯৭০ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে প্রকাশনার কাজে যুক্ত হন।
মোহাম্মদ সুলতানকে নিয়ে কিছু বলতে গেলেই একুশে ফেব্রুয়ারী সংকলনটির কথা মনে পড়ে সবার আগে। ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত এই সংকলনটি ভাষা আন্দোলনের অনবদ্য সাহিত্য-দলিল। বন্ধু হাসান হাফিজুর রহমানের অক্লান্ত পরিশ্রমে জোগাড় হয়েছিল লেখাগুলো। বইটির প্রকাশক হয়েছিলেন মোহাম্মদ সুলতান। তাঁরই পুঁথিপত্র প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছিল বইটি। সেদিন বইটি প্রকাশ করতে সাহসী হয়েছিলেন মোহাম্মদ সুলতান। এ কথা এখন সবাই জানে, সংকলনটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে এবং মোহাম্মদ সুলতানের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আত্মগোপনে চলে যান এই ভাষাসৈনিক। আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী দশকটিতে বারবার আত্মগোপন করে থাকতে হয় তাঁকে। এ সময় শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদ আবু তালেব ও রাজনীতিবিদ আবদুল মান্নান পুরান ঢাকার নর্থব্রুক হল রোডের যে বাড়িটিতে থাকতেন, তা ছিল মোহাম্মদ সুলতানের জন্য বড় আশ্রয়। যাঁদের কথা বলা হলো, তাঁদের কেউই বামপন্থী ছিলেন না, কিন্তু তখন বন্ধুত্বকে রাজনীতির ওপরেই দেখা হতো, তাই আদর্শের বিভাজন মনকে বিভাজিত করেনি।
সব মানুষের প্রাপ্তির তৃষ্ণা থাকে না। মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন সে রকমই একজন মানুষ। চলতে চলতে সংগ্রাম করেছেন, বলিষ্ঠ ভাষায় অধিকার আদায়ের কথা বলেছেন, আশপাশের সবার জীবন রাঙিয়ে দিতে চেয়েছেন, কিন্তু তাতে তাঁর সংসারজীবন সুখের হয়নি। যে সামাজিক সুখের প্রত্যাশায় অধিকাংশ মানুষের জীবন কাটে, সেই সুখ তিনি দিতে পারেননি পরিবারের মানুষদের। যাওয়ার বেলায় গেছেন শূন্য হাতেই। জুরাইন কবরস্থানে তাঁর কবরের জায়গাটি কেনার মতো অর্থও ছিল না বাড়িতে। তাঁরই এক ছাত্র সে অর্থ জোগাড় করে দিয়েছিল।
খুব কম মানুষই মনে রেখেছে তাঁকে। কিন্তু এ কথা তো ঠিক, ভাষা আন্দোলনের কথা উঠলেই মোহাম্মদ সুলতানের নামটিকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। সেই একুশের সংকলনটির কথা এলেই উঠে আসবে তাঁর মুখ। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর এ ধরনের মানুষের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। প্রগতিশীল স্বপ্ন দেখতে দেখতে তাঁরা কাটিয়ে দিয়েছেন পুরোটা জীবন; ঘরের হাঁড়ির খবর রাখেননি। এ ধরনের মানুষকে যে অভিধায়ই অভিষিক্ত করা হোক না কেন, আমরা তাঁদের ব্যর্থ মানুষ বলে মনে করি না। নিজেকে নিয়ে নয়, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার স্বপ্ন দেখেন যাঁরা, তারা কি ব্যর্থ হতে পারেন?
মোহাম্মদ সুলতান তাই ব্যর্থ মানুষ নন।

মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও সংখ্যা by আবিদ আনোয়ার

১৭ ডিসেম্বর ২০০৯ প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত!’ শিরোনামের প্রতিবেদনটির সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের আগে প্রয়োজন ছিল মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নিরূপণ। যাঁরা অস্ত্র হাতে সরাসরি পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন, শুধু তাঁদেরই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করলে এ কাজটি খুবই সহজ হতো। কিন্তু এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদসহ অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের কোনো মন্ত্রী, আমলা বা কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পাবেন না। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পরিচালকমণ্ডলী, সাংবাদিক, ভাষ্যকার ও শিল্পীরাও বাদ পড়বেন। ভারতের শরণার্থীশিবিরগুলোতে ত্রাণ বিতরণসহ যাঁরা বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশ নিয়েছেন, বাদ পড়বেন তাঁরাও।
যুদ্ধের মাঠে অস্ত্রধারী মুক্তিসেনাদের মধ্যে ছিলেন চার ধরনের লোক: (১) অখণ্ড পাকিস্তান রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য, যাঁরা আগে থেকেই প্রশিক্ষিত ছিলেন এবং পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধকালীন আমাদের ‘নিয়মিত বাহিনী’র সদস্য ছিলেন; (২) ছাত্র-শ্রমিক-কৃষকসহ জনসাধারণের একাংশ, যাঁরা ভারতের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অস্ত্রচালনা, বিস্ফোরকদ্রব্যের ব্যবহার ও গেরিলাযুদ্ধের কলাকৌশল শেখার পর হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পেয়েছিলেন এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সেগুলো ব্যবহার করেছিলেন। তাঁদের সংখ্যাই ছিল বেশি এবং নাম দেওয়া হয়েছিল ‘গণবাহিনী’; (৩) টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর লোক, যাঁদের অধিকাংশই প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে যাননি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ল্যান্স নায়েক কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে দেশের ভেতরই প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেছেন; এবং (৪) ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী, যাঁরা নতুনভাবে ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, কিন্তু দেশে না ফিরে ভারতের সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধ করেছেন, সেই বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মুজিব বাহিনী’।
মুক্তিযুদ্ধের পর পর কেবল গণবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নেওয়ার জন্যই মহকুমাভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে সেসব ক্যাম্পে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের নিয়মিত সেনাবাহিনীর কোনো মেজর, ক্যাপ্টেন বা লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় মিত্রবাহিনীর একজন করে কাউন্টারপার্ট। কিছুদিন পর মিত্রবাহিনী বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেলে ভারতীয় কাউন্টারপার্টের পদ বিলুপ্ত হয়। প্রায় একই সঙ্গে ক্যাম্পগুলোর প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেনা কর্মকর্তাদের ক্যান্টনমেন্টে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। প্রতি মহকুমায় অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় সে এলাকার গণবাহিনীর কোনো কমান্ডারকে।
এ প্রক্রিয়ায় একপর্যায়ে কিশোরগঞ্জ মহকুমা (এখন জেলা) মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের দায়িত্ব পেয়েছিলাম আমি নিজে। এ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ফলেই আমি ভেতর থেকে জানতে পেরেছি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম তালিকাটি কোন প্রক্রিয়ায় প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং পরে বেশ কয়েকবার কী প্রক্রিয়ায় তা পরিবর্তিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিহারের চাকুলিয়া ক্যাম্প থেকে বিশেষ কমান্ডো হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৩ নম্বর সেক্টরের অধীনে কিশোরগঞ্জ এলাকায় ধূলদিয়া রেলসেতু অপারেশন এবং ভাঙা সেতুর পাড়ে পরবর্তী যুদ্ধ পরিচালনায় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই সম্ভবত আমাকে যুদ্ধের পর সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমার আগে অল্প কিছুদিনের জন্য কিশোরগঞ্জ মহকুমা ক্যাম্পের অধিনায়ক ছিলেন পর্যায়ক্রমে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান ও লেফটেন্যান্ট সাদেক। তখন আমি কাজ করেছি দুজনেরই সহ-অধিনায়ক হিসেবে। ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের ভারতীয় কাউন্টারপার্ট ছিলেন ক্যাপ্টেন চৌহান। তাঁর সঙ্গে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের অনেক বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় তাঁকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর বদলে লেফটেন্যান্ট সাদেককে পাঠানো হয় ক্যাম্পের অধিনায়ক হিসেবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মহকুমাভিত্তিক ক্যাম্পগুলোর প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হলে যোগদানের মাত্র আট দিন পর তাঁকেও ক্যান্টনমেন্টে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ক্যাম্প পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব বর্তায় আমার ওপর। ইতিমধ্যে গুরুদয়াল কলেজ থেকে ক্যাম্পের সদর দপ্তর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মহকুমা প্রশাসক জি আকবর, ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াহিয়া, লোয়ার ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম বহুদিন কাজ করেছেন আমার অফিসে বসেই। কারণ তখনো সিভিল প্রশাসন পুরোপুরি চালু হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নিয়ে তাঁদের রসিদ ও প্রভিশনাল সার্টিফিকেট প্রদান এবং কারও অবৈধভাবে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রের জন্য গোয়েন্দাগিরি—এসবই আমাদের প্রধান কাজ ছিল।
১৯৭২ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আমি দপ্তরের ঠিকানায় ডাকযোগে দুটি মোড়ক পাই। খুলে দেখলাম, জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর মুদ্রিত স্বাক্ষর দেওয়া কয়েক হাজার সার্টিফিকেট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র শ দুয়েক সার্টিফিকেটে আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে মেজর এজাজ আহমদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। বাকিগুলোতে আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে কারও স্বাক্ষর নেই। অধিকন্তু কোনো সার্টিফিকেটেই কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম লেখা নেই; নিজ হাতে নাম-ঠিকানা লিখে নিতে হবে বা অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নিতে হবে। প্যাকেটের ভেতর একটি চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: যেসব মুক্তিযোদ্ধা ইতিমধ্যে অস্ত্র জমা দিয়ে আমাদের কাছ থেকে রসিদ ও প্রভিশনাল সার্টিফিকেট পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে যেন এসব চূড়ান্ত সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। আমাদের ক্যাম্পে এমন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা তখনই ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাঁরা সবাই ৩ নম্বর সেক্টরের নন। মেজর এজাজ আহমদ চৌধুরী তখন মেজর সফিউল্লাহর স্থলে শুধু ৩ নম্বর সেক্টরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর স্বাক্ষর দেওয়া সার্টিফিকেট অন্য সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া যাবে কি না এবং যেসব সার্টিফিকেটে আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে কারও স্বাক্ষর নেই, সেগুলো বিতরণ করা যাবে কি না—এই দ্বন্দ্বে বিক্ষত হয়ে আমি বিষয়টি নিয়ে চিঠি ও সার্টিফিকেটের প্রেরক ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি জানালেন: মেজর এজাজ আহমদ চৌধুরীর স্বাক্ষর দেওয়া সার্টিফিকেটগুলো ৩ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিতরণ করার পর যদি আরও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আমি যেন আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে স্বাক্ষর দিয়ে বিতরণ পর্ব শেষ করি, গ্রহীতা মুক্তিযোদ্ধা যে সেক্টরেরই হোন না কেন। তিনি আরও বললেন, বিভিন্ন সেক্টরে পাঠিয়ে আঞ্চলিক অধিনায়কের স্বাক্ষরসহ সার্টিফিকেটগুলো আবার পাঠানো এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। কারণ শিগগিরই মহকুমাভিত্তিক ক্যাম্পগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ আসছে। ডিসিদের কথামতো আমাকে তা-ই করতে হলো। মে মাসের শেষ সপ্তাহে এক সরকারি নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মহকুমাভিত্তিক সব ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা চলে যান যাঁর যাঁর আগের ঠিকানায়। নির্দেশ মোতাবেক আমি আমার দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দিই এবং দপ্তরের দ্রব্যাদি বুঝিয়ে দিই মহকুমা প্রশাসক জি আকবরের নেজারতে, যার মধ্যে ছিল ওসমানীর মুদ্রিত স্বাক্ষর দেওয়া নাম-ঠিকানাহীন অজস্র সার্টিফিকেটও।
আমার তখনই মনে হয়েছিল, গণবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের এভাবে সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক দিক থেকে গোলমেলে। মহকুমাভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ করার মানসে এভাবে সার্টিফিকেট বিতরণের কাজটিতে যে প্রশাসনিক দুর্বলতা ছিল, তার ফলেই পরে এসব সার্টিফিকেটের অপব্যবহার হয়েছে। এ নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন, লিখেছেন বটে, কিন্তু সমাধানের যথাযথ পথ নিয়ে কেউ ভাবেননি। একটি নাম-ঠিকানাহীন সার্টিফিকেট কোনোভাবে হস্তগত করে নিজের নাম-ঠিকানা লিখে নিয়ে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন বলে ব্যঙ্গার্থে অনেকে বলতেন ‘ষোড়শ বাহিনী’র মুক্তিযোদ্ধা। এমন অনৈতিক কাজটি যাঁরা করতে পেরেছেন, তাঁরা আরও অনেক অনৈতিক কাজে জড়িত হতে পারেন—এ কথা কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। অনেক দিন পর্যন্ত তাঁরা সেসব সার্টিফিকেটের বদৌলতে পাকিস্তানি নাগরিক ও বিহারিদের বাড়ি-গাড়ি-কল-কারখানা দখল করে নিজের করে নিয়েছেন। অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা রিকশা চালিয়ে, ঠেলাগাড়ি ঠেলে, ভিক্ষা করে জীবন যাপন করেছেন এবং এখনো করছেন। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি: গণবাহিনীর কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কোনো কিছু পাওয়ার আশায় মুক্তিযুদ্ধে যাননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই মনে করেছেন তাঁদের খুব বড় এক প্রাপ্তি। আমার মনে হয়, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দিয়ে একদল স্বার্থান্বেষীকে যেভাবেই হোক মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি অর্জনের জন্য প্রলুব্ধ করেছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পন্থাটি বেছে নেওয়া হয় বিগত আওয়ামী লীগের আমলে সংসদের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল আহাদের উদ্যোগে। এর কারণ, এই সংসদে উপজেলা, এমনকি ইউনিয়নভিত্তিক অফিস স্থাপনের পর তাঁদের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা হয় এবং মুক্তিবার্তা নামের একটি গেজেটে উপজেলার ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে ‘ষোড়শ বাহিনী’র লোকজন বাদ পড়ে। কারণ কে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন আর কে ছিলেন না, তা কোনো এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা এমনকি জনগণও ভালো করেই জানে। স্থানীয় দপ্তরগুলো থেকে পাঠানো তালিকা তাই নির্ভরযোগ্য হতে বাধ্য।
বিএনপির সর্বশেষ শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আবারও নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হয়। তখনো মুক্তিযোদ্ধাদের স্থানীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো তথ্যকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আবারও ঘোষণা দিয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এটি কী করে সম্ভব হলো তা আমার বোধগম্য নয়। তবে কি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লোকজন স্থানীয় দপ্তর থেকে পাঠানো তথ্যের তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী কারও তদবিরে তালিকায় নতুন নাম যোজনা করেছেন? কিন্তু আমি তো চেষ্টা করেও আমার কলমি নামটি আসল নামের সঙ্গে বন্ধনী দিয়েও ঢোকাতে পারিনি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, নামে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ পিতার নাম ও ঠিকানা এক হলেও এমনও তো হতে পারে, আপনি তাঁর ভাই, মুক্তিযুদ্ধ করেননি!
আমার কাছে মনে হয়, সব সরকারই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এক ধরনের তামাশা করছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে যাঁরা কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পেতে চান না, এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা ‘যাচাই-বাছাই’ শব্দটি শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে গেছেন। নিজ এলাকার বাইরে কিংবা বিদেশে থাকেন, এমন মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে সম্ভব হয় না বারবার ফরম পূরণ অথবা যাচাই-বাছাইকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
তাই আমার মনে হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের এভাবে হেনস্তা না করে পঙ্গু এবং অতিদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া অন্য সবাইকে কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিধান বাতিল করে প্রকৃত রাজাকারদের তালিকা প্রণয়নে হাত দেওয়া উচিত। যাঁরা এই তালিকায় থাকবেন না, তাঁরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা বলে গণ্য হওয়ার যোগ্য। আমরা অস্ত্রধারী হওয়ায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধকালে যেসব পরিবার আমাদের এক বেলা খাবার দিয়ে বা এক-দুই দিনের জন্য আশ্রয় দিয়ে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের হাতে সবকিছু খুইয়েছে, পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যকে হারিয়েছে—তাদের আত্মত্যাগকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। তাঁরা ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ না নেওয়ার কারণে ওসমানীর সার্টিফিকেট যেমন পাননি, তেমনি পরবর্তীকালেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় স্থান পাননি।
আবিদ আনোয়ার: কবি, প্রাবন্ধিক।

আমাদের কৃষিপণ্য ও কৃষকের পরিণতি কী হবে by রানা ভিক্ষু

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিনই কৃষকের জন্য নতুন নতুন দুঃসংবাদ উপস্থিত হচ্ছে। আমাদের কৃষির ইতিহাস ও ঐতিহ্য পর্যালোচনা করলে বিগত আড়াই শ বছরে কিষান-কিষানির প্রতি শোষণ ও বঞ্চনার দিকটাই প্রকটভাবে চোখে পড়ে। এ দেশের কৃষকের ঘাম ও শ্রমের মুনাফা ঘরে তুলতে শুরু করে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। শুরুর দিকে উত্পাদিত ফসল পাচারসহ সার, কীটনাশক ও আধুনিকায়নের নামে পরিবেশবিধ্বংসী প্রযুক্তিই ছিল কৃষি ও কৃষককে মারার হাতিয়ার। দিনে দিনে বীজের বাজার দখল করে নিয়ে কৃষককে তারা নিধিরাম সর্দার বানিয়ে ছেড়েছে।
কৃষকের নাভিশ্বাস দিনে দিনে আরও দীর্ঘ হতে থাকে, যখন কৃষিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কোম্পানি কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে, তখন থেকেই। এসব কোম্পানি ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সময়মতো কৃষকের হাতে বীজ, সার ও কীটনাশক পৌঁছাতে দেয় না। অবাক হওয়ার মতো ঘটনা হলো, এখনো সরকারি বীজ (বিএডিসির বীজ) কৃষকদের কিনতে হয় বেসরকারি ব্যক্তির কাছ থেকে! যার মূল্যের কোনো সীমা-পরিসীমা থাকে না। লালমনিরহাটের মোগলহাট বাজারে বিএডিসির ১০ কেজি ধানের বীজের প্যাকেট ২২০ টাকার স্থলে বিক্রি হয় ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। দিনাজপুরের শতগ্রামে ওই একই বীজ বিক্রি হয় ৬০০ টাকায়। ফলে বিজ্ঞাপনের ধাঁধায় পড়ে অনেক কৃষক অধিক ফলনের আশায় হাইব্রিডসহ বেসরকারি বীজ কোম্পানির বীজ কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। প্যাকেটের বীজে ভেজাল থাকায় উত্পাদনে মার খাচ্ছেন অনেক কৃষক, সেটা জেনেও নিরুপায় কৃষক ভাগ্যকে সঁপে দিচ্ছেন অনিশ্চয়তার ফাঁদে। সরকারি বীজ কেন এবং কীভাবে খোলা বাজারে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি হচ্ছে, তার সদুত্তর দেওয়ার কেউ নেই।
আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠে কী করছে তা বোঝা যায়, যখন মোগলহাটের একজন কৃষক অভিযোগ করেন, ১৩০ প্রকারের কীটনাশক ব্যবহার করেও তাঁর সবজি খেতকে পোকার কবল থেকে বাঁচাতে পারেননি। ঊর্ধ্বতন কর্তারা মাঠপর্যায়ে জনবলসংকটের অজুহাত দিলেও কৃষকেরা জানান অন্য কথা। তাঁরা বলেন, গরিব কৃষকের খেত তো দূরের কথা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কেবল গ্রামের দু-একজন ধনী কৃষকের বাড়ি পর্যন্ত আসেন, ধনী কৃষকের খেত পর্যন্ত যান না।
উত্তরবঙ্গ তথা বৃহত্তর রংপুরের কৃষকদের আছে আরও এক হাস্যকর অভিজ্ঞতা। দেশ-বিদেশের কৃষিবিদ, গবেষকেরা কৃষিশ্রমিকদের মৌসুমি বেকারত্ব এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের আগাম ফসল বিক্রিকে উত্তরবঙ্গের মৌসুমি দারিদ্র্যের (মঙ্গা) ধ্রুব কারণ হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। একের পর এক তাঁরা নানা নামের আগাম ফলনশীল ফসল উদ্ভাবন করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেসব ফসল নিয়ে ব্যাপক আশার কথাও শোনানো হচ্ছে কৃষকদের। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে এসব ফসল চাষের সম্প্রসারণ থমকে থাকছে গবেষণা প্লট পর্যন্ত। উদ্ভাবন-উত্তর এসব ফসলের সম্প্রসারণ এতই কম যে উদ্ভাবক, গবেষক ও পদস্থ কর্তারাই তা রোপণ ও কর্তন করেন। কৃষক ও চাষিদের খেতের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দর্শক হিসেবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে সরকার অনেক কাজেই তার প্রমাণ রেখেছে। যেমন ই-মেইলের মাধ্যমে দরপত্র পেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকেও কৃষকের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ফসলের বীজের মজুদ ও মূল্য তালিকার হালনাগাদ সাপ্তাহিক প্রতিবেদন যেটি রাখা ছিল, সেটি ২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ। আমাদের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, এ দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অর্থাত্ মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষিনির্ভর।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, কৃষক তাঁর জমিতে কী চাষ করবেন, সেটা এখন আর কৃষকের বিষয় নয়। এটা নির্ভর করে বীজ, সার ও কীটনাশক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ওপর। অন্যদিকে বীজ, সার ও কীটনাশক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মর্জিনির্ভর কৃষক যে ফসল উত্পাদন করেন, তার বড় মুনাফাটা ঘরে তুলে নেয় বীজ, সার ও কীটনাশক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অন্য গ্রুপ। এরা কেউ কেউ চাল, ডাল, মাছ, মাংস তো বটেই, মসলা থেকে দাঁতের খিলাল প্যাকেটজাত করে ছড়িয়ে দিয়েছে সারা দেশে। কৃষিপণ্যের লাভ যাতে শহর বা গ্রামের স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঘরে কোনোভাবে না ঢোকে, সে জন্য রাজধানী, জেলা শহর, উপজেলা শহর এমনকি বড় হাটবাজারগুলোয় সুন্দর সুন্দর নাম দিয়ে রংবেরঙের সাজসজ্জিত দোকান খুলে বসেছে তাদেরই অন্য গ্রুপ। কৃষকের ভূমিকা ও মর্যাদাকে খাটো করার জন্য এরা লাখো কোটি টাকা ব্যয় করে। চটকা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে জানিয়ে দেয়, কৃষক যে ফসল উত্পাদন করেন, সেটা স্বাস্থ্যহানিকর, ব্যবহারের উপযোগী নয়। সেটাকে পরিশোধন করে মানবজাতির সুস্থতার মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে এই অকৃষক ব্যবসায়ী গ্রুপ। ফলে কৃষিপণ্যের বিজ্ঞাপনি সংস্থার সংখ্যাও দিনে দিনে বেড়েই চলেছে, অদূর ভবিষ্যতে যা কৃষির সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কৃষিকে করপোরেট বাণিজ্যে পরিণত করতে ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধানত দায়ী সরকারের উদাসীনতা। কৃষিকেন্দ্রিক মুনাফালোভী কোম্পানিগুলোর প্রতারণার কবল থেকে কৃষকদের রক্ষার জন্য কৃষি আদালত গঠন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এই উপলব্ধি জাগ্রত হওয়া দরকার যে শুধু ঐতিহ্য, ইতিহাস ও কৃষকের জন্য নয়, দেশ ও দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর স্বার্থেই কৃষিকে রক্ষা করা দরকার।
রানা ভিক্ষু: লেখক ও উন্নয়নকর্মী, পিএইচডি গবেষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

চিরভাস্বর মণি সিংহ -স্মরণ by মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

আজ কমরেড মণি সিংহের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯০১ সালের ২৮ জুুুলাই। প্রায় ৯০ বছরের জীবনে তিনি একজন অবিচল বিপ্লবী হিসেবে দেশবাসীকে পথ দেখিয়েছেন। এ দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃত্ হিসেবে তাঁর অবদান সমুজ্জ্বল চিরভাস্বর। লাল সালাম কমরেড মণি সিংহ!
কমরেড মণি সিংহ ছিলেন এই উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম স্থপতি। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ—এ দেশের তরুণ বিপ্লবীদের আদর্শ, অনুপ্রেরণা ও উজ্জীবনের অনন্ত উত্স। তাঁর জীবনাদর্শ ও মুক্তিসংগ্রামের অক্ষয় কর্মকাণ্ড থেকে আলাদাভাবে তাঁর পরিচয় খোঁজার চেষ্টা বৃথা এবং তাঁর মার্ক্সবাদী জীবনাদর্শই তাঁকে পথ দেখিয়েছে একজন বড় মাপের মানুষ হিসেবে তাঁর পরিচয় ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করে যেতে। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘বিপ্লবী মানবতাবাদ’ হচ্ছে কমিউনিস্ট আদর্শের মর্মকথা। আমরা লড়াই করছি কেবল একটি শ্রেণীর মুক্তির জন্য নয়। এর মাধ্যমে আসলে সার্বিকভাবে মানবমুক্তির জন্যই আমাদের সংগ্রাম। ঐতিহাসিক বিচারে তাই মানুষই আমাদের সাধনার কেন্দ্রবিন্দু। সেই মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবপ্রেমকেই বিপ্লবী ধারায় সমাজে সর্বজনীন করে তুলতে হবে।
কমরেড মণি সিংহকে অনেকেই কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন, অনেকে শুধু দূর থেকে। অনেকের সুযোগ হয়নি তাঁর সান্নিধ্য পাওয়ার। আমার চেয়ে অনেক ঘনিষ্ঠভাবে তাঁকে কাছে পেয়েছেন বহুজনই। কিন্তু সভা, বৈঠক, মিছিল, অনুষ্ঠান, জেলা সফর, আন্ডারগ্রাউন্ডে সভা, বিদেশে একসঙ্গে সফরে যাওয়া—এসব ছাড়াও আমার দুর্লভ সুযোগ হয়েছিল কমরেড মণি সিংহের সঙ্গে অনেক মাস একসঙ্গে জেলখানায় একই ওয়ার্ডে পাশাপাশি আসনে থাকার। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা একসঙ্গে থাকার মধ্য দিয়ে মানুষকে দেখার ও জানার যে সুযোগ হয় তা অনন্য। ১৯৭৭ সালে আমার সে সুযোগ হয়েছিল। বিপ্লবী রাজনৈতিক জীবনবোধের নিখুঁত প্রতিফলন মণিদার মধ্যে আমি তখন দেখেছি। শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রাত্যহিক জীবনাভ্যাস, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, বিনোদন, সহবন্দীদের প্রতি মমত্ববোধ, সাধারণ কয়েদিদের প্রতি প্রীতিময় আচরণ, অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লড়াই, কত কী! আমার জন্য তাই কারাগার এবং কারাগারে মণি সিংহ হয়ে উঠেছিল পাঠশালা ও পাঠশালার আচার্য। বন্দী করে জেলে এনে রেখেছে। তাতে কী! এখানেই কাজ চলবে। সময়কে কাজে লাগাও। বই পড়ো। আলোচনা করো। জেলখানায় উন্নত পরিবেশের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লড়াই করো। রেশন কেন খারাপ এল? পত্রিকা আসতে কেন বিলম্ব হয়? ডাক্তার কেন রাউন্ডে এল না? চিঠি লেখো, পিটিশন দাও। অর্থাত্ যেখানেই থাকো, সেখানেই আরও ভালো থাকার জন্য সংগ্রাম করো। এটাই একজন বিপ্লবীর অন্তরের সংগীতমূর্ছনা, যা বিদ্যমান তাকেই ধ্রুব ধরে নিয়ে ‘বাস্তবতা’ বলে অজুহাত দিয়ে চলতি অবস্থা চলতি হাওয়ায় অন্তসমর্পণ কোরো না।
কমরেড মণি সিংহ কোনো বড় মাপের মার্ক্সবাদী পণ্ডিত ছিলেন না। কিন্তু তিনি মার্ক্সবাদকে গভীরতা দিয়ে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাঁর জীবন পর্যালোচনা করে দেখতে পাই যে বড় বড় মৌলিক ক্ষেত্রে তিনি প্রায় সব সময়ই সঠিক অবস্থান নিয়েছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। ব্রিটিশবিরোধী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের ধারা থেকে প্রথম সুযোগেই মার্ক্সবাদী জীবনাদর্শ গ্রহণ করা, শ্রমিক আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, নিজ জেলায় রাজপারিবারিক আভিজাত্য ও স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক টঙ্ক আন্দোলন পরিচালনা, সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তানে সাহসের সঙ্গে তিলে তিলে গণতন্ত্র, স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তিভূমি রচনা করা, ‘মাওবাদের’ বিষয়ে সঠিক অবস্থান নিয়ে বামপন্থী বিচ্যুতির বিরুদ্ধে দৃঢ় সংগ্রাম পরিচালনা, দক্ষিণপন্থী পদস্খলনের বিপদ সম্পর্কে সর্বদা সতর্ক হুঁশিয়ারি দেওয়া, পার্টিতে বিভেদের বিরুদ্ধে সব সময় অবস্থান নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা কঠোরভাবে অনুশীলন করা—এসবই কমরেড মণি সিংহকে পার্টির স্বাভাবিক শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে দিয়েছিল।
তিনি সংকীর্ণ ছিলেন না। মূল শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যের বিষয়টিকে বিপ্লবী কর্শকৌশল বলে জানতেন। রণনীতি ও রণকৌশলের আন্তসম্পর্ক সম্পর্কে কখনো বিস্মৃত হতেন না এবং সব সময়ই পার্টির স্বাধীন রাজনৈতিক ভূমিকাকে গুরুত্ব দিতেন। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভার ধারাবিবরণী পাঠ করলে পরিষ্কার দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে তিনি ঐক্য ও সংগ্রামের নীতির সপক্ষে ছিলেন; কিন্তু সংগ্রামের বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে সমালোচনামুখর ছিলেন, ‘বাকশাল’প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি সন্দিহান ও সংশয়াপন্ন ছিলেন, জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে ঐক্য করার পক্ষে থাকলেও তাদের অনুষঙ্গ হয়ে থাকতে হবে আপাতত এই তত্ত্বের বিরোধী ছিলেন। জিয়ার খালকাটা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিরোধী ছিলেন, জিয়ার ‘হ্যাঁ-না’ ভোটে অংশ নেওয়ার বিরোধী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার শাসনামলে মণি সিংহের রাজনৈতিক মতামত ও অবস্থান পরিষ্কার করেই ইঙ্গিত দেয় যে আজ বেঁচে থাকলে তিনি বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে কী করণীয় নির্দেশ করতেন।
আজ যখন ‘বাজার অর্থনীতি’ ও সাধারণভাবে দক্ষিণপন্থী ধারার অনুসারী পরস্পর দ্বন্দ্বমান দুটি মেরুকরণ দেশে বিরাজ করছে, তখন মন্দের ভালো বলে এদেরই একটাকে বেছে নিয়ে তাকে যথাসাধ্য ‘মানুষ’ করার প্রয়াস হবে নিষ্ফল। এ অবস্থায় সঠিক কৌশল হতে পারে একটাই। বিদ্যমান দুই মেরুকরণের বাইরে একটি বিকল্প গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলে গণসংগ্রামের ধারায় তাকে জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য, কার্যকর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্য হবে উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর বিপদ মোকাবিলায় নিজ নিজ অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে বৃহত্তম শক্তিকে নিয়ে একসঙ্গে সংগ্রাম করা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সেই কাজটিই এখন এগিয়ে নিচ্ছে মণি সিংহের পথ ধরে।
প্রয়াত নেতা কমরেড মণি সিংহ প্রয়াত হলেও তাঁর আদর্শ ও দৃষ্টান্ত দ্বারা পার্টিকে সজীব নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। তাঁর হাতে গড়া পার্টি প্রবল প্রতিকূলতা ও দূষিত হাওয়ার বহমান ঝাপটা সত্ত্বেও উজ্জীবিত হয়ে বহমান। আদর্শ তাঁর অক্ষয়, অম্লান। ভয় নেই তাই। আদর্শের রাজনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য ডাক এসেছে। এ আজ মাতৃভূমির ডাক। কান্ডারি হয়ে পথ দেখাচ্ছেন চিরঞ্জীব কমরেড মণি সিংহ। সালাম তোমাকে সালাম, কমরেড মণি সিংহ!
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হয় না, গুঞ্জরিত হয় - সময়ের প্রতিবিম্ব by এবিএম মূসা

রাজনীতিবিদ মানেই সব দুর্নীতিবাজ। তদুপরি যদি তিনি মন্ত্রী হন অথবা অতীতে কোনো সময়ে মন্ত্রী হয়ে থাকেন, তাহলে তো কথাই নেই। তাঁর দুর্নীতি নিয়ে গুজব ও রটনা ছড়িয়ে পড়ে, সত্য ও মিথ্যা অভিযোগ আলোচিত হয়। রাজনীতিতে দুর্নীতি নিয়ে জনমনে এমন ধারণা সৃষ্টির জন্য বিশেষ মহলের প্রচারণা শুরু হয় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানিদের দোসর মোসলেম লীগের পরাজয়ের পর। প্রথমে দুর্নীতির সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ সংযুক্ত করে যুক্তফ্রন্টকে তথা পূর্ববঙ্গবাসীকে দ্বিধাবিভক্ত করা হলো। অতঃপর রাজনীতিবিদ প্রধানত মন্ত্রীদের জেলে পুরে তত্কালীন পূর্ব বাংলায় পশ্চিমা গভর্নর জেনারেলের শাসন চাপিয়ে দেওয়া হলো। কয়েক বছরের মধ্যেই অবশ্য জনগণের রাজনীতি—যার ভাবার্থ হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা—পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তারপর ১৯৫৮ সালে এল সামরিক স্বৈরতন্ত্র। গণতান্ত্রিক শাসনকে স্থানচ্যুত করে সামরিক শাসন কায়েম করলেন রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা, নেপথ্যে জেনারেল আইয়ুব খান। ক্ষমতায় এসেই জেনারেল আইয়ুব খান বুঝলেন, সেনাশাসন কায়েম করতে হলে জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে উচ্ছেদ করতে হবে। এরই প্রথম পদক্ষেপ হবে, রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন, তাঁদের প্রতি জনগণের বিদ্বেষ সৃষ্টি। সেই ইচ্ছার প্রতিফলনে তিনি রাজনীতিবিদদের ঢালাওভাবে দুর্নীতিবাজ অভিহিত করে রাজনীতির সামনের কাতারের ব্যক্তি-মন্ত্রীদের ও গড়পড়তা সব রাজনীতিবিদকে নির্বাসনে পাঠানোর জন্য একটি ফরমান জারি করলেন—পাবলিক রিপ্রেজেনটেটিভ অফিসারস ডিসকোয়ালিফিকেশনস অ্যাক্ট। জনপ্রতিনিধিত্ব করার অধিকার হরণ করার জন্য এ আইনে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলো। অধিকাংশকে সামরিক আদালত জেলে পাঠালেন। বিস্ময়কর হলেও সত্য, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের অনেকেই সামরিক শাসকের দাবড়ানিতে তথাকথিত সব দুর্নীতির অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে অবসরে গেলেন। অল্প কয়েকজন আদালতে লড়াই করে অভিযোগ খণ্ডনের সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, হামিদুল হক চৌধুরী, মিয়া মমতাজ দোলতানা, শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ। অবশ্য সামরিক ক্যাঙারু কোর্ট তাঁদের বক্তব্য আমলে নেননি। আইয়ুবি স্বৈরশাসনের অবসানের পর স্বৈরশাসকের দেওয়া ‘দুর্নীতির লেবাস’টি জনগণই ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল।
রাজনীতিবিদ, বিশেষ করে মন্ত্রী, নেতা-নেত্রীপর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের গায়ে দুর্নীতির কলঙ্ক লেপনের আইয়ুবি পন্থা অনুসরণ করলেন স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে জেনারেল এরশাদ সেই প্রয়াস অধিকতর সুসম্পন্ন করলেন। তবে পাকিস্তান আমলের চেয়েও দুর্নীতিবাজের ছাপটি পুরো গায়ে সেঁটে দেওয়ার ক্ষেত্রে জিয়া-এরশাদ কতিপয় রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী-জননেতাকে শুধু একটি লেবাস পরালেন না, অনেককে দুর্নীতিবাজ বানানোর ব্যবস্থাটিও পাকাপোক্ত করলেন। জিয়া বলেই দিলেন, ‘আই শ্যাল মেইক পলিটিকস ডিফিকাল্ট।’ রাজনীতি কঠিন করার প্রথম পদক্ষেপে রাজনীতিবিদদের কলঙ্কিত করার জন্য দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে জেলে পাঠালেন। বস্তুত তাঁর কথিত বাক্যের অনুচ্চারিত অংশটি ছিল ‘বাই মেকিং পলিটিশিয়ানস করাপ্ট তাদের মনে অর্থবিত্তের লোভ সঞ্চারিত করব’, যাতে গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি জনগণ বীতশ্রদ্ধ হয়ে সামরিক শাসনকে পূতঃপবিত্র মনে করবে।
সাম্প্রতিক দুই বছরের প্রচ্ছন্ন সামরিক শাসকগোষ্ঠী ও তাদের আজ্ঞাবহ উপদেষ্টা পরিষদ অতীতের শাসকদের কূটনীতিই পুরোপুরি প্রয়োগ করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সব স্বৈরশাসকের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার এবংবিধ অপচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তাঁরা গণতন্ত্র ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনপদ্ধতির কতিপয় অপূরণীয় ক্ষতি করে গেলেন, যার দায় জাতিকে এখনো বহন করতে হচ্ছে। প্রথমত, কতিপয় রাজনীতিবিদকে সত্যি দুর্নীতিবাজ বানিয়ে সমাজ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকিয়ে দিয়ে গেলেন। দ্বিতীয়ত, রাজনীতিবিদ, বিশেষ করে যাঁরা কোনো না কোনো সময়ে সরকারে বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে জনমনে সন্দেহের বীজ বপন করে গেলেন। মন্ত্রী তথা জনপ্রতিনিধি হলেই দুর্নীতি করে অথবা দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেয়, এমন গুজব ও গুঞ্জন ছড়িয়ে দিলেন। জেনারেল জিয়া ‘পলিটিকস মেইড ডিফিকাল্ট’ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য ‘মানি আর মাসল’, অর্থ ও পেশিশক্তিকে রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে ঢুকিয়ে দিলেন। তাঁর সময়ই তরুণ ও ছাত্রসমাজ দুর্নীতির প্রথম দীক্ষাটি পেয়েছিল। সেই দীক্ষা কালক্রমে মোক্ষলাভ করেছে। সরকারের উচ্চপদে আসীন আমলারাও সেই দুর্নীতির ঘূর্ণাবর্তে পুরোপুরি ডুবে গেলেন। তৃতীয়ত, রাজনীতিবিদেরা দুর্নীতিগ্রস্ত হলেন শুধু তা নয়, অর্থ আর পেশিশক্তির অধিকারীরা জনগণের রাজনীতি কবজা করে ‘দুর্নীতির’ ফাঁক ডোবালেন।
ক্ষমতার রাজনীতি ও দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দীর্ঘ ভূমিকাটি দিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি সাম্প্রতিক বক্তব্য আলোচনার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক দিন আগে সামরিক স্টাফ কলেজের অনুষ্ঠানে বলেছেন, গত এক বছরে তাঁর কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে বাহ্যত দ্বিমতের অবকাশ নেই। তবে তাঁর বক্তব্য ব্যাখ্যাসাপেক্ষ, মানে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আলোচিত হওয়া প্রয়োজন। ভাবতে হচ্ছে, কেন অভিযোগ শোনা যায়নি বললেন, সরাসরি দুর্নীতি ‘করেননি’ বলতে পারতেন। দুর্নীতির অভিযোগ মন্ত্রীবিশেষ নয়, সরকারের বিরুদ্ধে শোনা যায়, এই প্রেক্ষাপটে প্রথমে আরও জানতে হবে, দুর্নীতির সংজ্ঞা কী। এক. শব্দটি কোনো না কোনো সময় কি শুধু আক্ষরিক অর্থে অথবা বিশেষ তথ্য প্রদানে ব্যবহূত হয়? অথবা দুর্নীতির ব্যাপক পরিচয় রয়েছে। বিভিন্ন পন্থায় অনেক কর্ম সাধিত হয়, যা সরাসরি সাধারণ অর্থে মন্ত্রীর দুর্নীতি বলা যায় না, কারণ কালের পরিক্রমায়ও দুর্নীতির সংজ্ঞা রূপ ও জনমনের ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। একসময়, মানে আমাদের কিশোর ও যৌবনকালে, চার-পাঁচ দশক আগে সরকারে ও সমাজে দুর্নীতি বলতে শুধু ‘ঘুষ নেওয়া’ তথা অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেন বোঝাত। অমুক দুর্নীতিবাজ, শুনলে বুঝতাম লোকটি ঘুষ খায়। কৌতুকি ভাষায় বলা হতো, ‘বাঁ হাতের লেনদেন করে। বেতন ছাড়াও তার উপরি আছে।’ ঘুষ না বলে বকশিশ বলতেন সরকারি দপ্তরে ফাইল হাতে নিয়ে পিয়ন-চাপরাশির মন্থর গতিকে দ্রুতগতি করার জন্য। সেই ফাইলটি ওপরে উঠতে থাকলে বকশিশ হয়ে যেত ঘুষ।
এসব সামান্য অর্থের লেনদেন ‘দুর্নীতি’ হলেও স্বল্পমাত্রায় হতো, তাই স্বাভাবিক বলে আমজনতা মেনে নিত। কিন্তু সর্বোচ্চ স্তরে যখন এই লেনদেনের অঙ্ক বিশাল থেকে বিশালতর হতে থাকল, তখন বলা হতো ‘দুর্নীতি’। রাষ্ট্রীয় ও সরকারের কর্মকাণ্ডে যখন বিভিন্ন পন্থায় সরকার ও মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডের নিয়ামক হলো, তখনই দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিল। উপরিউক্ত পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শতভাগ মেনে নিয়ে বলব, আমাদের বর্তমান মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ নেই, তবে একটি কিন্তু আছে। উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাধর ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কেউ সরাসরি অভিযোগ করছেন না বটে, তাঁদের নিজেদের অথবা মন্ত্রণালয়ের কোনো কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে গুজব ও গুঞ্জরণ আছে। সব গুজব ও গুঞ্জরণের উত্পত্তিস্থল তাঁদের অদক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচ্ছন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে রহস্যজনক অনিচ্ছা বা ব্যর্থতা। যেমন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থা নিতে অপারগতাকে ভোক্তারা ‘দুর্নীতি-প্রভাবিত’ বলে মনে করে। টেন্ডারবাজ-চাঁদাবাজ, বৃক্ষনিধনকারী, নদী-জমি দখলকারীদের উচ্ছেদে গড়িমসি দেখে জনগণ বলে, ‘ডালমে কুছ কালা।’ এই কালো ডালের ভেতরই লুক্কায়িত আছে ‘দুর্নীতির’ গুজব। এসব গুজব-গুঞ্জরণ অভিযোগ আকারে উত্থাপন বা প্রকাশ করা যায় না বলেই দুর্নীতি ‘নাই’ বলা যায়।
দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা মন্ত্রিসভার বৈঠক করে হয় না, অথবা নির্দিষ্ট কোনো মন্ত্রীর দুর্নীতি উচ্চপর্যায়ে আলোচিত হয় না। সেসব নিয়ে সচিবালয়ের করিডরে অথবা হাট-বাজারের চায়ের দোকানে রসাল আলাপ হয়। অপরদিকে জনগণ দুর্নীতির অভিযোগে যখন সোচ্চার হয়, তখন শুধু কোনো মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় আনে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) দুর্নীতিবাজ ছাপ মারতে কয়েকজন বিশেষ মন্ত্রী নয়, সরকারের সব পদক্ষেপ, নীতিনির্ধারণ, সার্বিক কর্মকাণ্ডকে বিবেচনায় আনে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিবিশেষের দুর্নীতির সঙ্গে যখন প্রভাবশালী অথবা সরকারের কর্মকাণ্ডের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রকের দুর্নীতির বিষয়টির সংশ্লিষ্টতা ঘটে, তখন দুর্নীতির দায় এককভাবে সরকারপ্রধান ও সামগ্রিকভাবে সরকারকে নিতে হয়। জটিল বক্তব্যটি সহজ করার জন্য তারেক রহমান প্রসঙ্গটি আলোচনা করব। বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালে তারেক রহমান প্রকৃত অর্থে কী দুর্নীতি করেছেন অথবা করেছেন কি না, তা জানার জন্য সর্বমহল তথ্যপ্রমাণ অথবা ‘অভিযোগ’ প্রকাশের অপেক্ষা করেননি। সর্বত্র মুখে মুখে আলোচিত হয়েছে, সর্বত্র ও সর্বক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রচারিত হয়েছে। তারেক রহমান আর হাওয়া ভবন সমার্থক হয়ে যে বিগত নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি ঘটিয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। সাধারণভাবে বিএনপির মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এক-এগারোর আগে কেউ ‘অভিযোগ প্রকাশ’ করেননি। অথচ এখন বিএনপির শীর্ষ মহলও এত দিনে এই সত্যটি অনুধাবন করেছেন। তাই দুই দিন আগে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘বিএনপির নতুন কার্যালয় “হাওয়া ভবন” হবে না।’ অর্থাত্ তাঁরাও মেনে নিয়েছেন, দুর্নীতি এবং হাওয়া ভবন ও এর অধিবাসী ছিল সমার্থক।
বিএনপি সরকারের মন্ত্রীদের কেউ কেউ যে দুর্নীতিবাজ ছিলেন না তা নয়। গণমাধ্যমেও তাঁদের দুর্নীতির অনেক কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। তবে দলের নজিরবিহীন নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য সরকারের চেয়ে, মন্ত্রীদের দুর্নীতির কাহিনির চেয়েও দলীয় পাতিনেতা ও মাস্তানদের কীর্তিকলাপকেই অধিকতর দায়ী করা হতো। এই উদাহরণের ভিত্তিতেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনার মন্ত্রীদের কারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির সরাসরি অভিযোগ আছে কি না, সে বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্ব বহন করে না। দলীয় নেতা-পাতিনেতা ও মাস্তানদের দুর্বৃত্তায়নও দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে এবং এর দায়ভার মন্ত্রী ও সরকারকে বহন করতে হয়।
পূর্বোক্ত একটি বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে আলোচনার ইতি টানছি। দ্রব্যমূল্য রোধে ব্যর্থতা, এক বছরেও বিদ্যুত্ পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থবিরতা, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, নদী-জমি দখল, বনায়ন ধ্বংস রোধে আন্তরিক প্রচেষ্টার অভাব, ইত্যাকার দৃশ্যমান ঘটনাবলির কারণ খুঁজতে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের মতো অনুসন্ধানী হয় না। তারা সরকারের মন্ত্রীদের ব্যর্থতা, এমনকি রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার জন্য সরকার তথা মন্ত্রীদের কারও না কারও কোনো না কোনো ধরনের ‘দুর্নীতি’ খুঁজে বেড়ায়। এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা গুঞ্জরিত হয়, ‘অভিযোগ’ প্রকাশ পায় না।
এবিএম মূসা: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার অধিকার -যথাযথ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুরক্ষা চাই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, সাধারণ স্কুলগুলো প্রতিবন্ধিতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি না করে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবন্ধীদের যথাযথ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সব শিশুর একসঙ্গে শিক্ষালাভের সুযোগ থাকা উচিত। বাংলাদেশ সরকার নৈতিকভাবে এ অবস্থানকে স্বীকার করে। ২০১৫ সালের মধ্যে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর অন্যতম। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারে ২০১১ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে ১০০ ভাগ ভর্তি নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে যে শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে আছে, তাদের বিপুল অংশের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত না করতে পারলে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করা যাবে না।
তবে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার বিষয়ে শুধু প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার ওপর দৃষ্টি দিলেই চলবে না, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। শুধু একপ্রকারের শিক্ষা পাওয়ার অধিকারই শেষ কথা নয়, মূলধারার শিক্ষার অংশ হওয়ার অধিকারও তাদের আছে।
প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার জন্য সমাজের সম্পৃক্ততা জরুরি। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই মা-বাবাদেরও শিশুর কর্মকাণ্ড, তার স্বাস্থ্যের ওপর বিদ্যালয়ের কী প্রভাব পড়ছে—এসবের ওপর নজর রাখা দরকার। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বাধা এখনো যথাযথ শিক্ষা থেকে অনেক মানুষকে বঞ্চিত করে। ফলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তারা বঞ্চিত হয়। সর্বোপরি বড় প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধিতাকে দেখতে পারার সামর্থ্য সমাজের সবার অর্জন করা প্রয়োজন, যেন দৃশ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো শুধু না দেখে মানসিক স্বাস্থ্যের মতো অপেক্ষাকৃত কম দৃশ্যমানগুলোও দেখতে পারা যায়।

দুদকের মামলা সচলের উদ্যোগ -দ্রুত বিশেষ বেঞ্চ গঠন দরকার

দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কয়েকটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান গত ২৯ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে একটি সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলাপের পর দুদক চেয়ারম্যান সরকারের মনোভাবকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। দুদকের মামলা সচল করতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া দরকার, তাতে সরকার ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টকেও আন্তরিক হতে হবে।
আওয়ামী লীগের সাংসদ হাবিবুর রহমানের মামলায় হাইকোর্ট দুদকের পক্ষে যে রায় দেন, তা আমরা সঠিক মনে করি। এর বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণের সময় রাষ্ট্রপক্ষের অভিযুক্ত মোল্লার পক্ষে সহানুভূতিসূচক অবস্থান নেওয়ার কথা আমরা জানি। এটা খুবই পীড়াদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক। আগামী ৭ জানুয়ারি মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মামলার শুনানি আপিল বিভাগে শুরু হবে। হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দুদকের সঙ্গে রীতিমতো বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি, একজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আসামিপক্ষের বক্তব্য অত্যন্ত জোরালোভাবে সমর্থন করেন এবং দুদকের বক্তব্য ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেন। এর ভিত্তিতেই রায় লেখা হয়। সরষেয় ভূত যে আছে, তার প্রমাণ এই ঘটনা। সুতরাং অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলাপ করার ফলকে দুদক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্যের বশে ইতিবাচক বললেও তাতে আমরা সন্তুষ্ট বা আশ্বস্ত হতে পারি না। রাষ্ট্র যদি সত্যিই মনে করে যে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মামলায় দুদকের বড় ধরনের গলদ ছিল, তবে তা নিয়ে শুনানির আগেই উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে হবে। রাষ্ট্রকে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। আমাদের সুচিন্তিত মত হচ্ছে, এই মামলায় দুদকের অবস্থান অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। কোনো কোনো মহলের প্রচারণা অনুযায়ী দুদক হাওয়ার ওপর ভর করে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করেনি।
সুতরাং ওই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আপিলে রাষ্ট্র ও দুদককে আমরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে দেখতে চাই। সরকারপক্ষের জন্য এটা একটা কঠিন পরীক্ষা। অন্যদিকে দুর্নীতির মামলার শুনানি যাতে নানা ঠুনকো কারণে মাসের পর মাস মুলতবি না থাকে, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এটা প্রতিরোধের সঙ্গে বিচারিক সিদ্ধান্ত যেমন, তেমনি প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক এখতিয়ারের তদারকির প্রশ্নও নিবিড়ভাবে জড়িত। মনে রাখতে হবে, বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো আমলের বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে রিট অনিষ্পন্ন থাকার যে দায়, তার আনুপাতিক হিস্যা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকেও নিতে হবে। আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত যে দুর্নীতির মামলার শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করতে হবে। বেঞ্চ গঠনের দায়িত্ব সংবিধানমতে একান্তভাবে প্রধান বিচারপতির। সুতরাং প্রধান বিচারপতিকে অবিলম্বে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। পেপারবুক প্রস্তুতির দায়দায়িত্ব হাইকোর্ট রুলস নির্দিষ্টভাবে রেজিস্ট্রারকে দিয়েছেন। কিন্তু রেজিস্ট্রাররা এ ক্ষেত্রের দায়িত্বটুকু বছরের পর বছর ধরে পালন না করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ অনিয়ম চলতে পারে না। দুর্নীতির মামলায় জামিনপ্রাপ্ত দণ্ডিতরা আপিলের শুনানিতে অনাগ্রহী। তাই সুপ্রিম কোর্ট এই অচলায়তন না ভাঙলে তা দুর্নীতি দমন অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করে যাবে।

নাইজেরিয়ায় চরমপন্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ, নিহত ৭০

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর বাউচিতে একটি মুসলিম চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। চরমপন্থী ওই গোষ্ঠীর নিহত সদস্যদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ। তা ছাড়া নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে।

বেনজির হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা জারদারির

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিলেন পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। গত সোমবার পবিত্র আশুরার মিছিলে আত্মঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। গত মঙ্গলবার লাহোরের খায়েরপুর এলাকায় একটি সেতুর উদ্বোধন শেষে এক জনসমাবেশে প্রেসিডেন্ট জারদারি এ নিন্দা জানান। তিনি ওই আত্মঘাতী হামলার হোতাসহ বেনজির ভুট্টোর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
আসিফ আলী জারদারির বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি টাইমস পত্রিকা গতকাল বুধবার জানায়, ‘যারা বেনজির ভুট্টোকে হত্যা করেছে, যারা করাচি জ্বালিয়েছে এবং আমাদের সেনাদের হত্যা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই শুরু করব।’
করাচিতে সহিংসতার কথা উল্লেখ করে জারদারি বলেন, ওই হামলা ছিল দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। উল্লেখ্য, গত সোমবার আশুরার মিছিলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪৩ জন নিহত হয়। তালেবান গতকাল এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
জারদারি বলেন, ‘করাচির প্রাণহানিতে আমার হূদয় কাঁদছে।’ ওই সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিন্ধু সরকারের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে লেবাননের সেনাদের গুলিবর্ষণ

ইসরায়েলের চারটি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গতকাল মঙ্গলবার গুলি ছুড়েছে লেবাননের সেনারা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানগুলো লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে সেগুলোকে লক্ষ্য করে বিমানবিধ্বংসী কামান থেকে ওই গুলি ছোড়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সেনা মুখপাত্র জানান, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হাসবায়া এলাকার আকাশে গতকাল সকাল থেকে ইসরায়েলের ‘প্যানথম-টাইপ’ বিমানগুলো চক্কর দিচ্ছিল। দুপুরেও ওই চারটি বিমান মহড়া দেওয়া অব্যাহত রাখলে সেগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।
লেবাননের সেনারা প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ করে আসছিল, ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে মহড়া দেয়। কিন্তু এই প্রথম সেনাবাহিনী সেগুলোর দিকে গুলি ছুড়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলে আসছিল, লেবাননের হিজবুল্লাহ গ্রুপের অস্ত্র পাচার রোধ করতে এ ধরনের মহড়া দেওয়া প্রয়োজন। তবে গতকালের ঘটনার ব্যাপারে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

মিয়ানমার ১৩০ বিদেশি জেলেকে মুক্তি দিয়েছে

১৩০ জন বিদেশি জেলেকে মুক্তি দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য দিয়েছে।
সাগরসীমা লঙ্ঘন করে মাছ ধরার অভিযোগে গত মাসে একদল বিদেশি জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের অভিবাসন আইন ভঙ্গের দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের রাখা হয় ইয়াঙ্গনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, একজন সরকারি মুখপাত্র জানান, সাজাপ্রাপ্তদের অধিকাংশই ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তা ছাড়া ফিলিপাইনের ১৪ জন, চারজন তাইওয়ানের ও চীনের একজন নাগরিক ছিলেন ওই দলটিতে। তিনি আরও বলেন, ‘ওই দলটির সঙ্গে গ্রেপ্তার করা মিয়ানমারের সাত জেলেকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস তাঁদের দেশের জেলেদের জন্য বিমানের টিকেট সংগ্রহ করতে না পারায় সে দেশের জেলেরা এখনো ইনসেইন কারাগারেই রয়েছেন।’ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের ১১১ জেলেকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সোমবার নিশ্চিত করে, বিপুল অঙ্কের জরিমানা দিয়ে তাদের দেশের জেলেদের মুক্ত করা হয়েছে।

ব্ল্যাকওয়াটার পাকিস্তানের গোয়েন্দা ও সেনা কর্মকর্তাদের ভাড়া করেছিল

যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকওয়াটার পাকিস্তানের সাবেক গোয়েন্দা ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া খাটিয়েছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদ খাজা এমনটি দাবি করেছেন।
খাজা আরও বলেন, ‘ব্ল্যাকওয়াটারের নির্দেশে খোদ পাকিস্তানেরই বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও সেনা কর্মকর্তারা নিরপরাধ অনেক মানুষকে আটক করে নিয়ে যান। ওই সব কর্মকর্তারা তাঁদের বিরুদ্ধে আল-কায়েদা ও তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার খোঁড়া অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযান পরিচালনা করা হয় ব্ল্যাকওয়াটারের পরিকল্পনা অনুযায়ী।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট অন্তত এক হাজার নিখোঁজ মানুষকে খুঁজে বের করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির গোয়েন্দা বাহিনী ওই নির্দেশ পালনে অপারগতা প্রকাশ করে বলেছে, নিখোঁজ ওই মানুষদের সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
খাজা আরও বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছি।’
এর আগে পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মির্জা আসলাম বেগ অভিযোগ করেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্ল্যাকওয়াটারের হাত ছিল।’

১০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে প্রতিনিধিদল প্রেরণ

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ১০ জন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গতকাল মঙ্গলবার ওই অঞ্চলে একটি সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনি ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। গত রোববার আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের নারাং জেলার একটি গ্রামে জোট বাহিনীর সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ওই ১০ জন আফগান নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন স্কুলছাত্র বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে গত ছয় মাসের মধ্যে বিদেশি সেনাদের হাতে সবচেয়ে বেশি সাধারণ আফগানের মৃত্যুর ঘটনা হবে এটি। আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের হাতে স্থানীয় নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এসব ঘটনায় জোট বাহিনীর সেনাদের ওপর স্থানীয় লোকজনের আস্থা কমেছে এবং এতে তালেবান জঙ্গিদের দমন করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটো বাহিনীর কর্মকর্তারা গতকাল জানান, আফগান নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনার ব্যাপারে তাঁরাও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে খোঁজখবর করছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ওই ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে বিদেশি সেনাদের কোনো অভিযান চলছিল না।
স্থানীয় সীমান্ত পুলিশের কমান্ডার জেনারেল জামান মামোজাই জানিয়েছেন, রোববার যারা নিহত হয়েছে, তারা বিদ্রোহী। তিনি জানান, লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী বিদেশি সেনাদের পাঠানো আলোকচিত্র থেকে তিনি দেখেছেন নিহত ব্যক্তিরা সবাই তরুণ ও সশস্ত্র ছিল। তারা আন্তর্জাতিক বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।
মামোজাই আরও জানান, যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখান থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে জোট বাহিনীর সেনারা। তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময়ই এ ধরনের অভিযানে সাধারণ নাগরিকদেরও মৃত্যু হয়।

জন্মদিনে ৮৫ বছরের নারীর গ্লাইডিং

গ্লাইডিং করে (ইঞ্জিনবিহীন বিমানে চড়ে আকাশ ভ্রমণ) জন্মদিন উদ্যাপন করলেন পেরুর ৮৫ বছর বয়সী রোমাঞ্চপ্রিয় এক নারী। আবিগেইল ভালদেজ নামের ওই নারী গত সোমবার একজন প্রশিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে রাজধানী লিমার উপকূলে প্রায় ১৫ মিনিট গ্লাইডিং করেন। এ সময় মাটিতে দাঁড়িয়ে তা দেখে ভালদেজের পাঁচ সন্তান, ১০ জন নাতি-নাতনি ও নাতি-নাতনিদের দুই সন্তান।
ভ্রমণের পর মাটিতে নেমে সাংবাদিকদের ভালদেজ বলেন, অভিজ্ঞতাটি চমকপ্রদ ও আনন্দদায়ক। চ্যালেঞ্জটি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য জন্মদিনের উপহার ছিল। এর আগে তিনি ছোট বিমান ও হেলিকপ্টারে চড়েছেন। তাঁর পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ‘বানজি জাম্প’ (পায়ে বিশেষ দড়ি বেঁধে অনেক উঁচু থেকে লাফিয়ে পড়া)।

ওবামাকে ঘিরে মোহ ভেঙে গেছে: শাভেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ঘিরে সৃষ্ট মোহ ভেঙে গেছে। তিনি আরও বলেন, ধনী দেশগুলো বিশ্বের প্রতিবেশ-পরিবেশকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে।’ নববর্ষের বার্তায় এসব কথা বলেন শাভেজ। ভেনেজুয়েলার সরকারি গণমাধ্যম গত সোমবার তাঁর এই বার্তা প্রচার ও প্রকাশ করে।
পুঁজিবাদের কট্টর সমালোচক শাভেজ কার্ল মার্কস ও ভার্জিন ম্যারির রচনা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে শাভেজ বলেন, ‘শুধু সমাজতন্ত্র ও খ্রিষ্টান ধর্মের নীতিই পুঁজিবাদের ভুল শুধরে দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানতেই হবে এ কাজ মোটেও সহজসাধ্য নয়।’
শাভেজ প্রথমদিকে ওবামা সম্পর্কে নমনীয় ভাব দেখান। আঞ্চলিক এক সম্মেলনে ওবামার সঙ্গে তিনি করমর্দন করেন এবং তাঁকে একটি বই উপহার দেন। পরে ক্রমেই ওবামার কড়া সমালোচক হয়ে উঠেন তিনি। শাভেজ তাঁর লিখিত বার্তায় বলেন, ‘আসুন আমরা নিজেদের বোকা বানানো বন্ধ করি: আমাদের ওবামা-মোহ টুটে গেছে।’
শাভেজ কোপেনহেগেন জলবায়ু চুক্তির সমালোচনা করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ধনী দেশগুলো পৃথিবীকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের নাটের গুরু, দুর্যোগে তারা আমাদের ছেড়ে গেছে। ধনী দেশগুলোর দায় গ্রহণের জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

তেলেঙ্গানার জন্য শিগগিরই সুখবর আসছে: প্রণব

ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, শিগগিরই অন্ধ্র প্রদেশের তেলেঙ্গানা অঞ্চলের জন্য কিছু সুখবর আসছে। ওই অঞ্চলের নয়জন মন্ত্রীর একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করলে তিনি তাঁদের এ কথা বলেন।
গত রোববার প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার পর প্রতিনিধিদলের নেতা ও রাজ্যের তথ্য ও পর্যটনমন্ত্রী গীতা রেড্ডি সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে (পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ) আলোচনা করব। আমাদের উদ্দেশ্য ক্ষমতায় থাকা নয়, আমরা ওই অঞ্চলের জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই।’
এর আগে প্রতিনিধিদলটি দলের অন্য সিনিয়র নেতার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং তাঁদের তেলেঙ্গানা রাজ্য প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বকে অনুরোধ করার আহ্বান জানান। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে এ খবর প্রচার করা হয়। এর আগে এ অঞ্চলের ১৩ জন মন্ত্রী ফ্যাক্স বার্তায় তাঁদের পদত্যাগপত্র পাঠান। তাঁরা একটি যৌথ পত্রে কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে এ পদত্যাগপত্র পাঠান। প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়নমন্ত্রী এস জয়পাল রেড্ডি ও কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য কে কেশব রাওয়ের (উভয়েই তেলঙ্গানার অধিবাসী) সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। রেড্ডিকে তাঁরা পদত্যাগ করতে বলেননি বরং তাঁরা চান, সরকারে থেকে তিনি তেলেঙ্গানার জন্য সংগ্রাম করে যাবেন।

চীনে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর -গর্ডন ব্রাউনের তীব্র নিন্দা

মাদক চোরাচালানের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ নাগরিক আকমল শেখের (৫৩) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
আকমল শেখকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য পরিবার ও ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। পরিবারের দাবি, আকমল শেখ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় তিনি ‘মর্মাহত ও হতাশ’। যাঁরা আকমল শেখকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের আকমল শেখের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
৫০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে চীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের কোনো নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। ব্রিটিশ কূটনীতিকেরা বলেছেন, সম্ভবত বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
আকমল শেখের মৃতদেহ যুক্তরাজ্যে পাঠানো হবে না। মুসলিম ধর্মাবলম্বী হিসেবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে দাফন করা হবে।
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে চার কেজি হেরোইনসহ চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উরুমচিতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আকমল শেখ। তাঁর পরিবারের দাবি, যে স্যুটকেসসহ তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, সেই স্যুটকেস তাঁর ছিল না। তিনি প্রবঞ্চনার শিকার হয়ে মাদক চোরাচালানিদের স্যুটকেস বহন করেছিলেন।
আকমল শেখের মেয়ে লায়লা হর্নসেল বলেন, পোল্যান্ডে মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে তাঁর বাবার দেখা হয়েছিল। সেখানে তারা তাঁর বাবাকে বুঝিয়ে দিলেন যে তারা তাঁকে চীনে পপস্টারে পরিণত করবে।
হর্নসেল বলেন, তাঁর বাবার মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা না করেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বুঝতে পারছেন না যে এটা কোন ধরনের ন্যায়বিচার।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি আকমল শেখের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য আমাদের অনুরোধ গ্রহণ না করায় আমরা হতাশ।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন এই কারণে যে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি।’

বিক্ষোভকারীদের ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ চাইলেন সাংসদেরা -ইরানে বিরোধীদের ধরপাকড়

ইরানে সর্বশেষ সহিংসতায় কমপক্ষে আটজন নিহত হওয়ার পর গত সোমবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সাবেক এক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কমপক্ষে ১০ জন সুপরিচিত ভিন্ন মতাবলম্বীকে গ্রেপ্তার করেছে। বিরোধী ওয়েবসাইটগুলোতে এ কথা বলা হয়েছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা।
ওয়েবসাইট দ্য নওরোজ-এ বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংস্কারপন্থী বিরোধী নেতা মির হোসেন মৌসাভির তিনজন উপদেষ্টা রয়েছেন। বাকি সাতজন সংস্কারপন্থী রাজনীতিক।
গত রোববার হাজার হাজার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য বড় শহরের রাস্তায় নেমে এলে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এতে আটজন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে বিরোধী নেতা মির হোসেন মৌসাভির এক ভাগ্নেও রয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন প্রেস টিভি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, সহিংসতায় আটজন নিহত হয়েছে। তবে তারা ঠিক কোথায় নিহত হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট সদস্যরা। গতকাল তাঁরা এ আহ্বান জানান।
গত রোববারের সহিংসতা সম্পর্কে পশ্চিমা সরকারগুলোর মন্তব্যকে ‘নিদারুণ বিরক্তিকর’ হিসেবে অভিহিত করে ওই সব মন্তব্যের নিন্দা করেছে রক্ষণশীল নিয়ন্ত্রিত ইরানের পার্লামেন্ট। বিক্ষোভকারীদের ধর্মবিরোধী হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন সাংসদেরা।
পার্লামেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পার্লামেন্ট চায় যারা ধর্মের অবমাননা করেছে, বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগ তাদের গ্রেপ্তার করবে এবং কোনো আপত্তি ছাড়াই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।’ স্পিকার আলী লারিজানি টেলিভিশনে বিবৃতিটি পড়ে শোনান।
তবে পার্লামেন্ট সদস্যরা বিরোধী নেতাদের ওপর কিছুটা নরম বলেই মনে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পুনর্নির্বাচনকে প্রতারণাপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে ওই পুনর্নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধী নেতারা। বিক্ষোভ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার জন্য বিরোধী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাংসদেরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, আশা করা হচ্ছে, যাঁরা নির্বাচন সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন, তাঁরা জেগে উঠবেন। ভ্রান্ত ওই আন্দোলন থেকে নিজেদের পথকে পরিষ্কারভাবে আলাদা করে নেবেন।
আশুরায় যাঁরা ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন তাঁদের পক্ষে বিবৃতি দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানি সাংসদেরা। তাঁরা বলেছেন, ওই বিবৃতি ওবামার পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার আটক বিরোধী কর্মীদের মুক্তি দাবি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিহাস তাদের পক্ষে রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করে ওবামা বলেন, ‘নিরপরাধ ইরানি নাগরিকদের ওপর সরকারের দমন-নিপীড়নের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি যাদের বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইডো ভেস্টারভেলে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়নকে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘নিষ্ঠুর কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করে এর নিন্দা করেছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও দমন-পীড়নের নিন্দা করেছেন।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা মির হোসেন মৌসাভির ভাগ্নেসহ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত পাঁচজনের মৃতদেহ সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাফন অনুষ্ঠানকে যাতে আরও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, সে জন্য সরকার এ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আলী মৌসাভির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী অথবা সরকার সমর্থিত মিলিশিয়ারা তার ওপর গুলি চালিয়েছে। আলীর ভাই রেজা মৌসাভি বলেন, রাতে তেহরানের হাসপাতাল থেকে তাঁর ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক খুঁজেও মরদেহ পাওয়া যায়নি।

আদমজী ইপিজেডে ৫১ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে দেশীয় কোম্পানি

বাংলাদেশি কোম্পানি মেসার্স হানজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেড আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় পেপার-বেইজড গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপন করবে।
সম্পূর্ণ দেশি এই কোম্পানি ৫০ লাখ ৯৭ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে পেপার-বেইজড গার্মেন্টস পণ্য উত্পাদন ও রপ্তানি করবে। হানজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানিতে ৪২২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি ঢাকায় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও হানজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির মধ্যে একটি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. মোয়াজ্জদ্দীন আহমদ এবং হানজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাবউদ্দিন খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ খান, সদস্য (অর্থ) এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সচিব মো. শওকত নবী, মহাব্যবস্থাপক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) এ জেড এম আজিজুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ২৫তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইয়াছিন আলী প্রধান অতিথি হিসেবে কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংকের প্রশিক্ষণ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এইচ এম জহুরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
মো. ইয়াছিন আলী বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও শিক্ষা প্রশিক্ষণার্থীদের সঠিকভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সহায়তা করবে।

বছরের শেষ প্রান্তে চাঙা হয়ে উঠেছে বিশ্ব শেয়ারবাজার by এ টি এম ইসহাক

বছরের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে বিশ্বের বড় শেয়ারবাজারগুলোর অধিকাংশই বেশ চাঙা হয়ে উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার ইউরোপে লন্ডন ও ফ্রাঙ্কফুর্ট, এশিয়ায় টোকিওর শেয়ারবাজারের দর বাড়ার সুবাদে সার্বিক মূল্যসূচকগুলো বেড়েছে।
এদিন যুক্তরাজ্যে লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক বেড়ে প্রায় পাঁচ হাজার ৪৪২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। জার্মানিতেও ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্যাক্স ৩০ সূচক বেড়ে গতকাল ছয় হাজার ১৯ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে ওঠে। এফটিএসই ১০০ ও ড্যাক্স ৩০ সূচক দুটি এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে এ দুটি সূচক এমন অবস্থানে ছিল।
ফ্রান্সের প্যারিসের সিএসি ৪০ সূচক এদিন বেড়ে প্রায় তিন হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে ওঠে।
তবে এসব শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে কম। লন্ডনে আইজি ইনডেক্সের বিশ্লেষক ক্যামেরুন পিকক এ প্রসঙ্গে বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী নতুন বছরে শেয়ার কেনার জন্য অপেক্ষা করার কারণে এখন লেনদেন কম।
অন্যদিকে আটলান্টিক অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার শেয়ারের সূচক বাড়ে। সেই দেশের ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে ডাউ জোন্স শিল্পসূচক বেড়ে ১০ হাজার ৫৪৭ পয়েন্টে ওঠে। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পরে এটিই হচ্ছে ডাউ জোন্সের সর্বোচ্চ অবস্থান। একই দিনে আমেরিকায় স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর (এসঅ্যান্ডপি) ৫০০ সূচক বেড়ে প্রায় এক হাজার ১২৮ পয়েন্টের কাছাকাছি চলে যায়। এ ছাড়া আমেরিকার নাসডাক সমন্বিত সূচকও বেড়ে দুই হাজার ২৯১ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়।
এদিকে এশিয়ার প্রধান ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের শেয়ারবাজারের মূল্যসূচক বেড়ে গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়। টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের নিক্কি ২২৫ সূচকটি বেড়ে ১০ হাজার ৬৪১ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়।
তবে গতকাল মঙ্গলবার এশিয়ায় হংকংয়ের হেংসেং সূচক ১২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট, দক্ষিণ কোরিয়ায় সিউলের কোস্পি সূচক ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট এবং চীনে সাংহাইয়ের শেয়ারসূচক শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ পড়েছে।
অন্যান্য বড় শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ, ভারতের সেনসেক্স সূচক ও সিঙ্গাপুরের শেয়ারসূচক শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

উত্পাদন বাড়ায় বাংলাদেশকে এবার খাদ্য আমদানি করতে হবে না -জামালপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে এ বছর খাদ্য আমদানি করতে হবে না। কারণ বিশ্বে খাদ্য উত্পাদন কমলেও এ দেশের কৃষকেরা পর্যাপ্ত পরিমাণে উত্পাদন করেছেন।
জামালপুর সদরের দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের মাঠে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আয়োজিত কৃষকদের মধ্যে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ছোনটিয়া বাজার শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোখতার হোসেন, দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিজন কুমার চন্দ প্রমুখ।
ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ছোনটিয়া বাজার শাখার আওতায় দিগপাইত ও রশিদপুর ইউনিয়নের ২৪০ জন কৃষকের মধ্যে এক কোটি ১৫ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়।
আতিউর রহমান বলেন, ‘আগে ঋণ বিতরণ নিয়ে ব্যাংকের অনেক বদনাম ছিল। তখন কৃষকেরা জানত যে ঘুষ ছাড়া ঋণ পাওয়া যায় না। তাই আমরা এবার সারা দেশে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণের ব্যবস্থা করেছি, যাতে কৃষকেরা কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয়েই সময়মতো ঋণ পায়।’
গভর্নর বলেন, ‘কৃষকই বাংলাদেশের মেরুদণ্ড। তাঁরা খাদ্য উত্পাদন করেন বলেই আমরা ভালো আছি। কিন্তু বাংলাদেশে কৃষকেরাই সবচেয়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষ। অথচ মহান মুক্তিযুদ্ধে শতকরা ৮০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধাই ছিল এ দেশের কৃষকের সন্তান। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সেই কৃষকদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাকে এ দেশের কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির যুদ্ধে পরিণত করতে চাই।’
আতিউর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ যখন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে, তখন বাংলাদেশ সেই দুর্যোগের পরিস্থিতিতেও মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) ৬ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আমি মনে করি।’
আতিউর রহমান আরও বলেন, এই সরকারই প্রথমবারের মতো বর্গাচাষিদের কৃষিঋণের আওতায় এনেছে। বর্গাচাষিদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২০০৯ সালের জন্য ৩৯ জন সিআইপি নির্বাচন আগামীকাল পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হবে -শিল্প স্থাপন, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি

s
বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উত্পাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় সরকার ২০০৯ সালের জন্য মোট ৩৯ জনকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (শিল্প) হিসেবে নির্বাচন করেছে। ইতিমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামীকাল বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে সিআইপি পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হবে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এবার বৃহত্ শিল্প খাত থেকে ২২ জন, মাঝারি শিল্প খাত থেকে নয়জন ও ক্ষুদ্র শিল্প খাত থেকে একজন সিআইপি (শিল্প) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতিসহ সাতজনকে পদাধিকারবলে সিআইপি (শিল্প) নির্বাচন করা হয়েছে।
বৃহত্ শিল্প খাতে অবদান রাখার জন্য যাঁরা সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন— মেসার্স ভিয়েলাটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রেজাউল হাসানাত, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, মানতা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী, সালাম সি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঞা মোহাম্মদ আবদুস সালাম, অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (এসআিই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা, ইন্টারফ্যাব শার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান কবির খান, এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ, সুপার রিফাইনারি (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমেদ, আল আমিন বে. ই. লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিবলী মির্জা, সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব জামিল, প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান খান চৌধুরী, ফ্রেশ ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুর রহমান, রয়েল গ্রিন প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হক, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হুসাইন আকবর আলী, আজমত ফ্যাশনসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আতহার উদ্দিন, ল্যান্ডমার্ক ফেব্রিক্সের চেয়ারম্যান দীপক ভৌমিক, বিআরবি পলিমারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান, মীন হার ফিশারিজের চেয়ারম্যান ইয়াসমিন খান, এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরী, ইভিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, এবিএম অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম ও সিটাভেল অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহিদুল ইসলাম খান।
মাঝারি শিল্প খাতে অবদান রাখার জন্য যাঁদের সিআইপি নির্বাচিত করা হয়েছেন—ইউটা গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রাজ্জাক সাত্তার, সিমার্ক (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আহমেদ, জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খতিব আবদুল জাহিদ মুকুল, সোনারগাঁও ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং ও মোশাররফ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন, অনন্ত গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনামুল হক খান, এ জে আই অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জলিল, মিনহার সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উল্লা খান, ইন্টারন্যাশনাল শ্রিম্পস এক্সপোর্ট প্রা. লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহানা সুলতানা ও মডার্ন সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল হক।
ক্ষুদ্রশিল্পে অবদান রাখার জন্য সিআইপি হয়েছেন লোগজ অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হামযা সরকার।
এ ছাড়া পদাধিকারবলে যাঁরা সিআইপি হয়েছেন তাঁরা হলেন—এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আনিসুল হক, ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সাবেক সভাপতি অলিউর রহমান ভুঁঞা, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি শাহেদুল ইসলাম, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের (নাসিব) সাবেক সভাপতি মির্জা নুরুল গণি শোভন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) সভাপতি নাজমুল হক ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান।
২০০৯ সালের জন্য সিআইপি নির্বাচিত ব্যক্তিরা ২০০৮ সালের সিআইপি (শিল্প) নীতিমালায় বর্ণিত সুযোগ-সুবিধা পাবেন, যা এক বছরে প্রযোজ্য হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে সিআইপি পুরস্কারপ্রাপ্তদের একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে মেয়াদকাল উল্লেখ থাকবে। মেয়াদকালে পরিচয়পত্রটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রবেশপত্র হিসেবে গণ্য হবে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচিত সিআইপিরা ব্যবসাসংক্রান্ত ভ্রমণের সময় বিমান, রেলপথ, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে সংরক্ষিত আসনে বসার অগ্রাধিকার পাবেন। ব্যবসাসংক্রান্ত কাজে বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা প্রাপ্তির ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ করে সিআইপিদের পরিচিতিপত্র (লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন) দেবে। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধাও পাবেন সিআইপিরা।

ভারতকেই দুষছে পাকিস্তান

এখনো ঠিক হয়নি আগামী বছর এশিয়া কাপ ক্রিকেট কোথায় হবে। আর এই দেরির জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ওপরই দোষ চাপাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবির চেয়ারম্যান ইজাজ বাট এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেরও চেয়ারম্যান। পিসিবির এক সূত্র বলছে, ‘যখন থেকে বাট এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের দায়িত্বে এসেছেন, তখন থেকেই ভারতীয় বোর্ড অসহযোগিতা করছে। এমনকি কয়েকটা বৈঠকে বিসিসিআইয়ের কোনো প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিল না।’ ভারতীয় বোর্ড সচিব এন শ্রীনিবাসনকে প্রধান করে করা কমিটিরই আগামী বছরের এশিয়া কাপের ভেন্যু ঠিক করার কথা।

ত্রিদেশীয় সিরিজের শ্রীলঙ্কা দল

দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট বোর্ডের (ডিডিসিএ) কর্মকর্তারাই শুধু নন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কর্মকর্তারাও তাকিয়ে ছিলেন অ্যালান হার্স্টের প্রতিবেদনের দিকে। ভারত-শ্রীলঙ্কা সিরিজের ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছিল ফিরোজ শাহ কোটলার ভবিষ্যত্। কিন্তু প্রতিবেদনে হার্স্ট যা লিখেছেন, তাতে দিল্লিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন পড়ে গেছে হুমকির মুখে।
খুব ভালো, ভালো, গড়পড়তা মানের চেয়ে একটু ওপরে, গড়পড়তা মানের চেয়ে খারাপ, খারাপ, অনুপযুক্ত—পিচ নিয়ে ম্যাচ রেফারি এই ছয় রকমের প্রতিবেদন দিতে পারেন। দিল্লির কর্মকর্তারা আশা করছিলেন, হার্স্ট হয়তো ‘খারাপ’ লিখবেন। তাহলে সতর্কবাণী কিংবা ১৫ হাজার ডলার জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যেতেন তাঁরা। কিন্তু হার্স্ট লিখেছেন ‘অনুপযুক্ত’। প্রতিবেদনে ম্যাচ বাতিল করার পেছনে ১৪টি যুক্তি দেখিয়েছেন হার্স্ট। আইসিসির পিচ-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী কোনো উইকেটকে ‘অনুপযুক্ত’ বলা হলে ১২ থেকে ২৪ মাসের জন্য বাতিল হবে ওই ভেন্যুর স্বীকৃতি। শুধু তা-ই নয়, নতুন করে আইসিসির স্বীকৃতি লাভের পরই কেবল আবার ম্যাচ হতে পারবে সেখানে। ২০১১ বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা কোটলায়। ভেন্যু বাতিল হলে ম্যাচগুলো অন্য কোথাও সরানো ছাড়া উপায় থাকবে না। কোটলা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য ১৪ দিন সময় পাবে বিসিসিআই।

কোটলায় অনিশ্চিত বিশ্বকাপের ম্যাচ

দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট বোর্ডের (ডিডিসিএ) কর্মকর্তারাই শুধু নন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কর্মকর্তারাও তাকিয়ে ছিলেন অ্যালান হার্স্টের প্রতিবেদনের দিকে। ভারত-শ্রীলঙ্কা সিরিজের ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছিল ফিরোজ শাহ কোটলার ভবিষ্যত্। কিন্তু প্রতিবেদনে হার্স্ট যা লিখেছেন, তাতে দিল্লিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন পড়ে গেছে হুমকির মুখে।
খুব ভালো, ভালো, গড়পড়তা মানের চেয়ে একটু ওপরে, গড়পড়তা মানের চেয়ে খারাপ, খারাপ, অনুপযুক্ত—পিচ নিয়ে ম্যাচ রেফারি এই ছয় রকমের প্রতিবেদন দিতে পারেন। দিল্লির কর্মকর্তারা আশা করছিলেন, হার্স্ট হয়তো ‘খারাপ’ লিখবেন। তাহলে সতর্কবাণী কিংবা ১৫ হাজার ডলার জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যেতেন তাঁরা। কিন্তু হার্স্ট লিখেছেন ‘অনুপযুক্ত’। প্রতিবেদনে ম্যাচ বাতিল করার পেছনে ১৪টি যুক্তি দেখিয়েছেন হার্স্ট। আইসিসির পিচ-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী কোনো উইকেটকে ‘অনুপযুক্ত’ বলা হলে ১২ থেকে ২৪ মাসের জন্য বাতিল হবে ওই ভেন্যুর স্বীকৃতি। শুধু তা-ই নয়, নতুন করে আইসিসির স্বীকৃতি লাভের পরই কেবল আবার ম্যাচ হতে পারবে সেখানে। ২০১১ বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা কোটলায়। ভেন্যু বাতিল হলে ম্যাচগুলো অন্য কোথাও সরানো ছাড়া উপায় থাকবে না। কোটলা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য ১৪ দিন সময় পাবে বিসিসিআই।

১৮ জনের দলেও আছেন শাহরিয়ার আফতাব অলক

চূড়ান্ত দল ঘোষণা হবে আগামীকাল, সুসংবাদটা তাই এখনো পূর্ণতা পায়নি। তবে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য কাল ঘোষিত ১৮ সদস্যের সংক্ষিপ্ত দল হাসি ছড়িয়ে দিতে পারে তিন আইসিএল ফেরত ক্রিকেটারের মুখে। এই দলে আছেন শাহরিয়ার নাফীস, আফতাব আহমেদ ও অলক কাপালি।
আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় শুরু হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। নতুন বছরের প্রথম দিনেই ঢাকা আসবে শ্রীলঙ্কা দল, পরদিন ভারত। এতদিনে চূড়ান্ত বাংলাদেশ দল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটা না করে ২৬ জনের প্রাথমিক দলটাকে কাল ১৮ জনে নামিয়ে আনল নির্বাচক কমিটি। এই দল থেকেই চূড়ান্ত করা করা হবে ১৪ বা ১৫ সদস্যের দল।
প্রাথমিক আর চূড়ান্ত দলের মাঝখানে সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘মাশরাফি, তামিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ক্রিকেটার এখনো ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ফিট নন। তা ছাড়া সিরিজ কাছে চলে এসেছে, ২৬ জনের দল নিয়ে এখন আর অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সবাইকে আটকে রাখার চেয়ে ক্রিকেটারদের জাতীয় লিগ খেলার জন্য ছেড়ে দেওয়াই ভালো।’
জানা গেছে, ১৮ জনের দলে থাকা তিন আইসিএল ক্রিকেটারের মধ্যে শাহরিয়ার নাফীসের চূড়ান্ত দলে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মিডল অর্ডারে অলক না আফতাব—এই প্রশ্নের সমাধান খুঁজছে নির্বাচক কমিটি। আফতাব প্রিমিয়ার লিগে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও কোচ জেমি সিডন্সের ভোট নাকি অলকের পক্ষে। সূত্র এ-ও জানিয়েছে, তিন আইসিএল ফেরতই শেষ পর্যন্ত থেকে যেতে পারেন চূড়ান্ত দলে।
সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন তরুন পেসার শফিউল ইসলাম। তবে তাঁর মূল দলে থাকা না-থাকা অনেকটাই জড়িয়ে আছে মাশরাফি বিন মুর্তজার ফিটনেসের ওপর। মাশরাফি শেষ পর্যন্ত না খেললে সাকিব যেমন নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশকে, শফিউলের সামনেও এই সিরিজেই চলে আসতে পারে ওয়ানডে অভিষেকের সুযোগ। আর মাশরাফি খেললেই যে শফিউলের সব সম্ভাবনা শেষ, ব্যাপারটা তেমনও নয়। মাশরাফির বিকল্প হিসেবেও দলে থাকতে পারেন তিনি। প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিক, মেহরাব হোসেন জুনিয়র, এনামুল হক জুনিয়র, মাহবুবুল আলম, সগীর হোসেন, ডলার মাহমুদ, ধীমান ঘোষ ও রবিউল ইসলাম।
১৮ সদস্যের দল
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মোহাম্মদ আশরাফুল, আবদুর রাজ্জাক, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সৈয়দ রাসেল, রকিবুল হাসান, মাহমুদ উল্লাহ, নাজমুল হোসেন, নাঈম ইসলাম, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন, শাহরিয়ার নাফীস, আফতাব আহমেদ, অলক কাপালি ও শফিউল ইসলাম।

ক্রিকেটারদের হুমকিতে কঠোর বিসিবি

ক্রিকেটার কল্যাণ সমিতি (কোয়াব) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সম্মুখসমরে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ১১তম জাতীয় লিগের ভবিষ্যত্। ক্রিকেটারদের লিগ বর্জনের হুমকির জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিসিবি। শুধু এ নিয়ে আলোচনা করতেই ৩১ ডিসেম্বর ডাকা হয়েছে জরুরি বোর্ড সভা। আজকের মধ্যে ক্রিকেটাররা নিজ নিজ বিভাগীয় দলের সঙ্গে যোগ না দিলে সে সভায় যে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে বোর্ড সূত্রে।
কাল বিসিবির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও আছে কঠোর অবস্থানের আভাস। ২০০৯ সালকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সফল বছর উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ক্রিকেট লিগ শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে (২৭ ডিসেম্বর ২০০৯) আকস্মিকভাবে কোনো মহলের ইন্ধনে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের লিগ বর্জনের ঘোষণাকে ক্রিকেট উন্নয়নের পথে একটি প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করে ক্রিকেট বোর্ড। ২০১১ বিশ্বকাপের আগে জাতীয় লিগ নিয়ে এ রকম একটা সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘অপচেষ্টা’ বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বোর্ড মনে করে, এতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
জাতীয় লিগের জন্য ছয় বিভাগের নির্বাচিত ক্রিকেটারদের আজকের (৩০ ডিসেম্বর) মধ্যে নিজ নিজ বিভাগের ম্যাচের ভেন্যুতে দলের সঙ্গে যোগ দিতে অনুরোধ করেছে বিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যদি খেলোয়াড়েরা এর ব্যত্যয় ঘটায়, তাহলে ক্রিকেট বোর্ড মনে করবে তারা বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নের অগ্রযাত্রা রহিত করছে।’ সূত্র জানিয়েছে, সিঙ্গাপুর সফররত বোর্ড সভাপতি জাতীয় লিগ নিয়ে খেলোয়াড়দের অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বক্তব্য দেওয়াও সহজভাবে নেয়নি বোর্ড।
বোর্ডের অনুরোধের আগে বিভাগীয় দল থেকে এসএমএস পাঠিয়ে গতকাল থেকে অনুশীলনে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তাতে সাড়া দেননি ক্রিকেটাররা। টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন তার পরও জানিয়েছেন, ১ জানুয়ারি থেকেই লিগ শুরুর সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা অংশ না নিলে লিগে বিকল্প বিভাগীয় দল খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য না করলেও মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস বলেছেন, এ রকম কোনো চিন্তা বোর্ডের নেই।
বিসিবির দেওয়া বার্তার জবাবে কাল সন্ধ্যায় কোয়াব সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল জানিয়েছেন তাদের অনড় অবস্থানের কথা, ‘ক্রিকেটের উন্নয়নই যদি সবাই চায়, তবে আলোচনায় বসতে অসুবিধা কোথায়? অথচ বোর্ডের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বোর্ড আলোচনায় বসার আগ পর্যন্ত ক্রিকেটাররা আগের অবস্থানেই থাকবে।’ রাতে অবশ্য জানা গেছে, টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধানকে নতুন ফরম্যাট মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তবে আর্থিক সুবিধা বাড়ানো এবং লিগ দু-তিন দিন পেছানোর দাবি তখনো ছিল। জবাবে টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান জানিয়ে দিয়েছেন, কোয়াবের সঙ্গে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
গত ২৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে কোয়াব দাবি জানিয়েছিল, জাতীয় লিগ হতে হবে আগের ফরম্যাটে। ম্যাচ ফিসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়াতে হবে আরও এবং লিগ ১ জানুয়ারির পরিবর্তে শুরু করতে হবে ৫ জানুয়ারি থেকে। দাবি মানা না পর্যন্ত ক্রিকেটাররা জাতীয় লিগে খেলা থেকে বিরত থাকবে বলেও জানানো হয়েছিল। কোয়াবের অভিযোগ, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আরও আগে থেকে যোগাযোগ করা হলেও বোর্ড কোনো সাড়া দেয়নি। গত আগস্টে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ ও বোর্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আনামের কাছে জাতীয় লিগের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল কোয়াব। এরপর জাতীয় ক্রিকেট লিগ ও ক্রিকেটারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার জন্য ১৩ ডিসেম্বর বিসিবি সভাপতি বরাবর একটি চিঠি দিলেও সাড়া মেলেনি।

স্ট্যানচার্ট ক্রিকেট

জাওয়াদের হাফ সেঞ্চুরিতে (৬৮) স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটে কাল উইলস ফ্লাওয়ার স্কুল (২৭৭) ২ রানে হারিয়েছে নওয়াবপুর হাইস্কুলকে (২৭৫)। সাদমান নিয়েছেন ৪ উইকেট। হুসাইনের দারুণ বোলিংয়ে যশোর উপশহরে পুলিশ লাইন হাইস্কুল (১২৩/৯) ১ উইকেটে হারিয়েছে বাদশাহ ফয়সাল স্কুলকে (১২২)। হুসাইন ৪৩ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট। শিহাবুজ্জামান করেছেন সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫৪ রান। অন্য ম্যাচে মানিকগঞ্জে মডেল হাইস্কুল (১৭২) ৪৬ রানে জিতেছে বানদুতিয়া হাইস্কুলের বিপক্ষে (১২৬)।