Monday, June 7, 2010

ইরাকে আল-কায়েদার ৮০ শতাংশ নেতাকে আটক বা হত্যা করা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, গত তিন মাসে ইরাকে আল-কায়েদার প্রায় ৮০ শতাংশ নেতাকে হয় আটক অথবা হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইরাকে মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ অধিনায়ক জেনারেল রে অদিয়ের্নো।
জেনারেল অদিয়ের্নো বলেন, ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠীটির ৪২ জন নেতার মধ্যে এখন খুব বেশি হলে আটজন সক্রিয় আছেন। তবে এ জন্য আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এত বড় ধাক্কা সামলেও আল-কায়েদা সেখানে পুনর্গঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে এবং আগামী বছরগুলোতেও বড় ধরনের সমস্যা হয়ে থাকবে তারা।
মার্কিন এই জেনারেল আরও জানান, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর সেখানে মার্কিন সেনাদের এ বছরই সবচেয়ে কম হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ২০১০ সালের প্রথম পাঁচ মাসের পরিসংখ্যান রয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ইরাকে এখন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে হামলা ও তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে আল-কায়েদার পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে জেনারেল অদিয়ের্নো দাবি করেন, শতকরা ৯৯ দশমিক ৯ ভাগ ইরাকি আল-কায়েদাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
অদিয়ের্নো সতর্ক করেন, ‘এখনো ইরাকে আল-কায়েদার বেশ কয়েকজন খুবই বিপজ্জনক ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁরা দলের মাঝারি বা নিচু পর্যায়ের নেতা। আমরা চাই না তাঁরা শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ পান।’
গত মাসে আল-কায়েদার বাগদাদ শাখার সামরিক প্রধান আবু আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী। তারা একই শাখার আততায়ী হামলাকারীদের নেতা মোহাম্মদ নূরি মাতার ইয়াসিন আল-আবাদিকেও গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে আল-কায়েদার রাজনৈতিক শাখার নেতা আবু ওমর আল-বাগদাদি ও আবু আইয়ুব আল-মাসরি যৌথ অভিযানে নিহত হন।
আল-কায়েদার বিরুদ্ধে এই সাফল্যের জন্য জেনারেল অদিয়ের্নো ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘ইরাকিরাই এখন দেশের বেশির ভাগ অংশে নিরাপত্তা রক্ষায় নেতৃত্বে রয়েছে। দেশের নিরাপত্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য তারা আরও বেশি প্রস্তুত হয়ে উঠছে।’
জেনারেল অদিয়ের্নো বলেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী, আগামী তিন মাসের মধ্যে নিরাপদেই ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০ হাজারে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

হেডলিকে জেরা করার সুযোগ পাচ্ছে ভারত

মুম্বাই হামলায় অভিযুক্ত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলিকে জেরা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ভারতীয় তদন্তকারীদের। গতকাল শনিবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেমস জোনস এ কথা জানান। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই যুক্তরাষ্ট্রে হেডলিকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেডলি মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
ওয়াশিংটন থেকে জেমস জোনস ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘হেডলিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমরা কথা রেখেছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে আমার কাছে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই।’
হেডলিকে জেরা করার সুযোগ পেতে চার সদস্যের একটি ভারতীয় তদন্ত দল চার দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অবস্থান করছে। তবে মার্কিন প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করা হয়নি, কী ধরনের অনুমতি ভারতীয় দলকে দেওয়া হয়েছে।
৪ জুন ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা বলেন, মুম্বাই হামলার সঙ্গে হেডলির জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ পেতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। গত শুক্রবার ভারত-মার্কিন কৌশলগত বৈঠকে কৃষ্ণা মার্কিন কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বলেন, এবার হয়তো মুম্বাই হামলায় জড়িতদের ভারতীয় প্রতিনিধিদের সামনে হাজির করাই যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ হতে পারে।
এর আগে গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আশ্বাস দেন, ভারতীয় তদন্তকারীরা হেডলিকে জেরা করার সুযোগ পাবেন। ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাই শহরে সন্ত্রাসী হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করেছে ভারত। মার্কিন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হেডলি স্বীকার করেছেন, তিনি লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে কাজ করেছেন।

৪৫ বার মাধ্যমিক পরীক্ষা!

একবার নয়, দুবার নয়—৪৫ বার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু পাস করতে পারেননি। এ বছরও দিয়েছিলেন। ফল একই। তাই বলে দমে যাননি। পাসের আশায় আগামী বছর ফের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়াও শুরু করেছেন।
জব্বর হুসেন নামে এই ছাত্রের বয়স এখন ৬৬ বছর। বাড়ি উত্তর প্রদেশের ফতেপুর জেলার বিন্দকি গ্রামে। পেশায় ব্যবসায়ী। একটি মুদির দোকান চালান।
এত বছর ধরে পরীক্ষা দিচ্ছেন জব্বর হুসেন কিন্তু কখনো পরীক্ষায় কোনো অসদুপায় অবলম্বন করেননি। বলেছেন, পড়াশোনা করেই পরীক্ষা দিচ্ছি। পাস না করা পর্যন্ত এই পরীক্ষা দেওয়া চলবে। জব্বর হুসেনের এই নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও সততার তারিফ করেছে উত্তর প্রদেশ রাজ্য শিক্ষা পর্ষদও।

রানীকে আগেভাগেই জন্মবার্ষিকীর শুভেচ্ছা

বছরে দুটো জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়। এমন হাতেগোনা মানুষদের একজন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। হয়তো এ কারণেই ভুলটি হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগেই তারা রানীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছে।
১৯২৬ সালের ২১ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ (৮৪)। কিন্তু প্রতিবছর জুন মাসের এক শনিবারে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়। ওই দিন ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। এ বছর রানীর জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের দিন ঠিক করা হয়েছে ১২ জুন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে রয়েছে চমৎকার সম্পর্ক। কাজেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন রানীকে জন্মবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু একটু তাড়াহুড়োই করে ফেলেছে তারা। ১২ জুনের পরিবর্তে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে রানীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছে।
সাংবাদিকেরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রউলি হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহ এগিয়ে আছি। এক সপ্তাহ পরে শুভেচ্ছা জানানোর চেয়ে এক সপ্তাহ আগে জানানো সবসময়ই ভালো।’ রানীকে পাঠানো বার্তায় হিলারি বলেছেন, ‘আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা রানীর জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান চমৎকার সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাচ্ছি।’

বাড়িতে গাছ লাগালে গৃহকর রেয়াত

বাড়ির সামনে অন্তত একটি করে গাছ লাগালেই পাওয়া যাবে গৃহকর রেয়াত। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির গাজিয়াবাদ এলাকার মানুষের জন্য এ সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন স্থানীয় মেয়র। এই গাছ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখা হবে।
একটি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র দময়ন্তি গোয়াল বলেন, এমন একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল বোর্ডসভায় এটি উত্থাপন করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগের অংশ হিসেবে মেয়রের প্রস্তাব হচ্ছে, বাড়ির সামনে কমপক্ষে ১০০ বর্গফুটের মধ্যে যারা অন্তত একটি গাছ লাগাবে, তাদের জন্য প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে গৃহকর রেয়াত দেওয়া হবে।
মেয়র বলেন, বাড়ির বাসিন্দারা যদি গাছ না লাগায়, সে ক্ষেত্রে মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি বাড়িতে একটি করে গাছ লাগানো হবে। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বর্তাবে বাড়ির মালিকের ওপর।

ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা

গত পাঁচ বছরে ভারতজুড়ে ১০টিরও বেশি বড় ধরনের ক্রমিক বোমা হামলার জন্য দায়ী ভয়ংকর সন্ত্রাসী সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনকে (আইএম) গত শুক্রবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে বলা হয়, ‘আইএম নিষিদ্ধঘোষিত স্টুডেন্ট ইসলামিক মুভমেন্ট ইন ইন্ডিয়া (সিমি) ও পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তাইয়েবার ছায়া সংগঠন। পাকিস্তানের আইএসআই গোষ্ঠীটিকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।’ আইএম নিষিদ্ধ করার ফলে দেশটিতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সংখ্যা ৩৫ ছাড়িয়ে গেল। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের তালিকায় আল-কায়েদা, এলটিটিই, জৈশ-ই-মোহাম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিন, সিপিআই-মাওবাদী ও উলফার নাম রয়েছে।
দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, ব্যাঙ্গালুরু ও মুম্বাইয়ে ক্রমিক বোমা হামলার সঙ্গে আইএম জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বেনারস শহরে বোমা হামলার পর সবার দৃষ্টিতে আসে গোষ্ঠীটি। ওই বোমা হামলায় আটজন আহত হন।
২০০৫ সালে রাজধানী দিল্লিতে দেওয়ানি উৎসবের প্রাক্কালে বোমা হামলাকে আইএমের চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। ওই হামলায় ৬৬ জন প্রাণ হারান।
সিমির নেতৃত্বে বিভক্তির পর আইএম গঠিত হয়েছিল বলে বলা হয়ে থাকে। সিমির নেতৃত্বে দুটি ধারা ছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সফদার নাগোরি। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সিমির সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ ইসলাম।
খবরে বলা হয়, ২০০২ সালে গুজরাটে গোধরা কাণ্ডের পর দুই পক্ষ আলাদা হয়ে যায়। সিমির কট্টরপন্থী অংশটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। যা তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সমর্থন লাভ করে।
২০০৫ সালে বেনারসে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে প্রথমবারের মতো নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয় আইএম। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে আইএমের নেতৃত্বে রয়েছে ইকবাল ভাটকাল।

জার্মানির প্রেসিডেন্ট পদে সরকার ও বিরোধী শিবিরের প্রার্থী ঘোষণা

জার্মানির প্রেসিডেন্ট হোর্স্ট কোয়েলার পদত্যাগ করার পর যে সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটাতে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী জোট সরকার ও বিরোধী শিবির প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। ক্ষমতাসীন দল প্রেসিডেন্ট পদে লোয়ার স্যাক্সোনি প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান উলফকে মনোনয়ন দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে এ পদে শ্রমমন্ত্রী উরসুলা ভন ডের লিয়েনের নাম শোনা যাচ্ছিল। বিরোধী শিবির সামাজিক গণতান্ত্রিক দল ও সবুজ দল ইয়াওখিম গাউককে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি সাবেক পূর্ব জার্মানির নাগরিক আন্দোলনের কর্মী ছিলেন।
আফগানিস্তানে জার্মান সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট হোর্স্ট কোয়েলার গত ২২ মে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জার্মানির পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আফগানিস্তান যুদ্ধকে ‘অর্থনীতির লড়াই’ বলে অভিহিত করেন। এ মন্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট কোয়েলারের ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর জের ধরে গত সোমবার তিনি পদত্যাগ করেন।
৩০ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফেডারেল কনভেনশনের প্রতিনিধিদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট ও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্যদের নিয়ে এ ফেডারেশন কনভেনশন গঠিত।
প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ক্রিশ্চিয়ান উল্ফ (৫০) জার্মান রাজনীতিতে বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।

ইরাকে আরও একজন রাজনীতিবিদকে গুলি করে হত্যা

ইরাকে বিগত পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী জোট ইরাকিয়ার আরও একজন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার উত্তরাঞ্চলীয় শহর মসুলে এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ২৪ মে ইরাকিয়ার একজন নির্বাচিত সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের পোশাক পরিহিত একদল বন্দুকধারী গতকাল ইরাকিয়া জোটের সদস্য ফারাস আল-জুবৌরির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। গত মার্চের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তিনি ইরাকিয়া জোটের হয়ে লড়েছিলেন। তবে জয়ী হতে পারেননি।
এর আগে ২৪ মে মসুলেই বাশার মোহাম্মদ হামিদ আল-আকিদি নামের একজন নির্বাচিত সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনিও ইরাকিয়া জোটের হয়ে নির্বাচন করেন।
জোটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইনতিসার আলাবি বলেছেন, নির্বাচনের আগে থেকে তাদের জোট সদস্যদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে। এখনো তা চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না, এরপর কাকে হত্যা করা হবে। সরকারের কাছে আমরা বিজয়ী প্রার্থীদের জন্য নিরাপত্তা চেয়েছি।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন ইরাকিয়া জোট সংখ্যালঘু সুন্নি-সমর্থিত। এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন তারা লাভ করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির নেতৃত্বাধীন শিয়া জোট ও মার্কিনবিরোধী ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সদর এখন জোট সরকার গঠনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সামরিক সম্পর্ক স্থগিত করায় চীনকে তিরস্কার যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক স্থগিত করায় চীনকে তিরস্কার করেছেন। গতকাল শনিবার সিঙ্গাপুরে নিরাপত্তাবিষয়ক এক সম্মেলনে তিনি বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির অজুহাতে চীন এই সম্পর্ক স্থগিত করে স্বল্প বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক জোরদারের পুনরায় আহ্বান জানিয়ে গেটস বলেন, দীর্ঘদিনের এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংলাপকে জিম্মি রাখা সমীচীন হবে না। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টিকে যুক্তিসঙ্গত অভিহিত করে তিনি বলেন, চীনা কর্মকর্তারা দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের মধ্যে মতবিনিময়ের পাট চুকিয়ে দিয়েছেন। অনেক কারণেই এটি স্বল্প বুদ্ধির পরিচয় বহন করে।
গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর সফরের মাধ্যমে গেটসের এশিয়া সফর শুরু হয়েছে। এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে চীন সফরের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু চীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফর প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের একজন শীর্ষ পর্যায়ের জেনারেল বলেন, তাইওয়ানের কাছে চীনের অস্ত্র বিক্রি সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথে একটি বাধা। এ কারণে গেটস সিঙ্গাপুরের সাংগ্রিলা সম্মেলনে চীনা সেনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি।
গেটসের বক্তৃতার পর তাঁর ও একজন চীনা জেনারেলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এক অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার বিষয়টি ফুটে ওঠে।
চীনের সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ঝু চেনগু একটি বিষয়ে গেটসের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। তা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েলের প্রতি তাদের বৈষম্যমূলক আচরণ। সিউলের চিওনান যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ায় উত্তর কোরিয়ার কঠোর সমালোচনা করে তারা। কিন্তু গাজাগামী জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ায় ইসরায়েলের প্রতি তারা তেমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী আরেকটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েল

অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য ত্রাণবাহী জাহাজ র‌্যাচেল কোরির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। গতকাল শনিবার মিসর উপকূল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে ওঠে ইসরায়েলের নৌসেনারা। এই ত্রাণ কর্মকাণ্ডের উদ্যোক্তারা ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দুই পক্ষই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আভিতাল লেইবোভিচ বলেন, ‘জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিতে কয়েক মিনিট সময় লেগেছে এবং তাঁদের কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। এখন সেটি আশদোদ বন্দরের পথে রয়েছে।’ জাহাজে চড়ার আগে সেটিকে গতিপথ পরিবর্তনের আহ্বান জানায় ইসরায়েলিরা।
এর আগে গাজায় জাহাজটিকে স্বাগত জানানোর কমিটির মুখপাত্র আমজাদ আল-শাওয়া বলেন, গাজা থেকে ৩৫ মাইল দূরে র‌্যাচেল কোরিকে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলি নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি নৌযান জাহাজটিকে ঘিরে ফেলেছে। তারা জাহাজটিকে সম্ভবত আশদোদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। জাহাজের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আবার কোনো সহিংস ঘটনা এড়ানোর জন্য সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে তারা। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গেও আলোচনা করছি।’ তবে জাহাজটিকে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ত্রাণবাহী জাহাজ র‌্যাচেল কোরি বৃহস্পতিবার গাজার পথে রওনা দেয়। জাহাজে শিশুদের জন্য লেখাপড়ার উপকরণ, চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও সিমেন্ট রয়েছে। জাহাজের ১১ জন সাহায্যকর্মীর মধ্যে ছয়জন ব্রিটিশ ও আইরিশ এবং পাঁচজন মালয়েশীয়। এদের মধ্যে রয়েছেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক মেইরিড ম্যাগুইর ও জাতিসংঘের সাবেক সহকারী মহাসচিব ডেনিশ হ্যালিডে। জাহাজটিতে নয়জন ক্রুও রয়েছেন। গত সোমবার গাজা অভিমুখী একটি ত্রাণবাহী নৌবহরে হামলা করে ইসরায়েলি সেনারা। এতে কমপক্ষে নয়জনের মৃত্যু হয়। সেনারা নৌবহরের জাহাজ ও সাহায্যকর্মীদের আটক করে। পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে গত সপ্তাহে ত্রাণবাহী নৌবহরে হামলায় নিহত তুর্কি সাহায্যকর্মীদের গত শুক্রবার তুরস্কে দাফন করা হয়েছে। দাফনের আগে মৃতদেহগুলোর ময়নাতদন্ত করে তুরস্ক কর্তৃপক্ষ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাহায্যকর্মীদের খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তুরস্কে ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় পরিচালিত ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রাণবাহী জাহাজে তুরস্কের নয়জন নাগরিককে ৩০টি গুলি করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচজনকে মাথায় গুলি করা হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে কপালে, বুকে, পিঠে ও পশ্চাদ্দেশে চারটি গুলি করা হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে মাত্র ৪৫ সেন্টিমিটার দূর থেকে মুখে, মাথার পেছনে, পায়ে ও পিঠে গুলি করা হয়। ওই কিশোরের মার্কিন নাগরিকত্বও রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ওই ত্রাণবাহী নৌবহরে থাকা সাহায্যকর্মীরাও এখন ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন। একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার চেয়ারম্যান ব্রিটিশ নাগরিক ইসমাইল প্যাটেল বলেন, ‘আমরা খুবই ভয়ংকরভাবে গুলি করতে দেখেছি। ইসরায়েলিরা “হত্যার জন্য গুলি” করার নীতি অবলম্বন করেছিল।’ তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের বক্তব্য থেকে সরে আসেনি। তাদের দাবি, সেনারা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়েছিল।
শুক্রবার ইস্তাম্বুলে ঐতিহাসিক বায়েজিদ মসজিদে নিহত ব্যক্তিদের জানাজা শেষে দাফন করা হয়। প্রায় ১০ হাজার মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। জানাজার পর তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে ওই জনতা ইসরায়েল-বিরোধী স্লোগান দেয়।
এদিকে লেবাননের ইসরায়েল-বিরোধী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ দ্বিতীয় একটি ত্রাণবাহী নৌবহর ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা টু’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ নামের প্রথম নৌবহরে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় তুরস্কের কঠোর অবস্থানেরও প্রশংসা করেন তিনি।

হারার ভয়ে অনেক মন্ত্রী চান না বিধানসভার নির্বাচনে দাঁড়াতে

পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শাসক জোট বামফ্রন্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের অগ্রযাত্রায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রাজ্যের অনেক মন্ত্রী। তাঁরা এতটাই শঙ্কিত যে অনেক মন্ত্রী আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন না।
গত লোকসভা নির্বাচনের সময় বিধানসভার আসনভিত্তিক ফলাফলে দেখা গিয়েছিল বামফ্রন্ট ২৯৪টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে পিছিয়ে। এতে আরও দেখা যায়, বর্তমান বাম মন্ত্রিসভার অন্তত ২২ জন সদস্য লোকসভার ভোটের হিসাবে পিছিয়ে রয়েছেন। এবার আবার ৮১টি পৌরসভার নির্বাচনের পর দেখা গেছে, এসব পৌর এলাকায় অন্তত ১০ জন মন্ত্রী পিছিয়ে রয়েছেন। এই পিছিয়ে পড়ার তালিকায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও। এ ছাড়া রয়েছেন অর্থমন্ত্রী অসীম দাসগুপ্ত, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে, পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী দেবেশ দাস, বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী অনাদি সাহু, কৃষিমন্ত্রী নরেন দে, দমকলমন্ত্রী প্রতীম চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
বামফ্রন্টের শরিকেরা ভোটের এই অঙ্কটি ভালোভাবে পর্যালোচনা করে এটুকু বুঝেছে যে সামনে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে দুঃসময়। ক্ষমতায় টিকে থাকাই কঠিন হবে। তাই এখনই রাজ্য মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই হারের ভয়ে প্রার্থী হতে চাইছেন না। বলছেন, আসুক নতুন মুখ।
রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন হওয়ার কথা ২০১১ সালের মে মাসে। কিন্তু তৃণমূল চাইছে এর আগেই বিধানসভা ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচন করতে। তাতে অবশ্য সায় দিচ্ছে না বামফ্রন্ট।
এদিকে পিছিয়ে পড়া মন্ত্রী ছাড়াও অনেক মন্ত্রী আছেন যাঁরা আর চাইছেন না আগামী বছরের নির্বাচনে অংশ নিতে। তাঁদের মধ্যে আবার অনেকে বলতে শুরু করেছেন, অনেক দিন তো হলো, এবার না হয় ওরা ক্ষমতায় আসুক। এই মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন, ভূমি সংস্কারমন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লা, পরিবেশমন্ত্রী শৈলেন সরকার, বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে, অনুন্নত সম্প্রদায় কল্যাণমন্ত্রী যোগেশ বর্মণ, পৌরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ প্রমুখ।
মন্ত্রিসভার অনেকেই এখন চাইছেন বামফ্রন্ট ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনে এসে মানুষের রায় নিক। রাজ্যের পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী নন্দগোপাল ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘জোর করে ক্ষমতায় থাকা যায় না। একের পর এক নির্বাচনে মানুষ আমাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। আমি মনে করি এই জনাদেশকে আমাদের সম্মান জানানো উচিত।’

নাদালের সামনে সেই সোদারলিং

ফেদেরার বনাম নাদাল, টেনিস সার্কিটে স্বপ্নের ফাইনাল মানে তো এই। কিন্তু গত বছরের ফ্রেঞ্চ ওপেনের কথা যাঁদের মনে আছে, রাফায়েল নাদালের ক্যারিয়ারকে যাঁরা অনুসরণ করেন, নাদাল ও রবিন সোদারলিংয়ের ফাইনালও জিভে জল এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। রোলাঁ গাঁরোর লালদুর্গে নাদালের বিস্ময়যাত্রা গত বছর থামিয়ে দিয়েছিলেন যিনি, সেই সোদারলিংই শিরোপা পুনরুদ্ধারে আজ নাদালের শেষ বাধা।
দুজনই দাঁড়িয়ে মাইলফলকের সামনে। আজ জিতলে মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ৫টি ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতা হয়ে যাবে নাদালের। সামনে থাকবেন কেবল ৬টি জেতা বিয়ন বোর্গ। অন্যদিকে সুইডেনের সোদারলিংয়ের কৃতিত্বটা হবে সংখ্যা নয় দেশ দিয়ে। সর্বশেষ কোনো সুইড ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছিলেন ১৯৮৮ সালে, ২০০২ সালের পর কোনো সুইডের হাতে কোনো গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপাই ওঠেনি।
আরেকটা জায়গাতেও দুজনকে মেলানো যায়, নাদালের মতো সোদারলিংয়েরও শক্তির জায়গা এই লাল মাটি। ক্যারিয়ারে দুটি গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠলেন, দুটিই এখানে। আজ জিতলে একই গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে ফেদেরার ও নাদালকে হারাবেন সোদারলিং, যে কৃতিত্ব আছে একমাত্র হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রোর।
পুরো ফ্রেঞ্চ ওপেনের ক্যারিয়ারে ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচেই হেরেছেন নাদাল। সেটি সোদারলিংয়ের কাছেই। গতবারের সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিশ্চয়ই তাতিয়ে রেখেছে নাদালকে। তা ছাড়া এখানে জিতলে আবারও র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গাটিও ফিরে পাবেন। তবে ‘চিরবিনয়ী’ নাদাল জানালেন, ‘প্রতিশোধে আমার কখনোই বিশ্বাস নেই। আমার বিশ্বাস প্রতি মুহূর্তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করায়। যদি হারি, আমি রবিনকে অভিনন্দন জানাব, কারণ সে আমার চেয়ে ভালো খেলেই জিতবে।’ ফ্রেঞ্চ ওপেনের পর গত বছর লন্ডন এটিপিতেও নাদালকে হারিয়েছিলেন সোদারলিং। সেটাই এই সুইডকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের, ‘আগে হারিয়েছি এমন কারও বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই ভালো। কারণ জানি, আমি তাকে হারাতে পারি এবং সেটা আমি দেখিয়েছি।’

ভারত বাদ, ফাইনালে শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ে

দুই দলেরই শীর্ষ তারকারা নেই, ম্যাচটিকে বলা যায় নতুনদের লড়াই। সে লড়াইয়ে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়েছে ‘ভবিষ্যৎ’ ভারত, আর জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে ‘আগামীর’ শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডেতে মাত্র দ্বিতীয়বার ব্যাট হাতে নেমেই ১১১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্ডিমাল। আর অপরাজিত ৩৫ করে জয় নিয়েই ফিরলেন প্রথমবার ব্যাট হাতে নেওয়া জীবন মেন্ডিস। ক্রিকইনফো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ৫০ ওভারে ২৬৮/৯ (কার্তিক ২৭, নামান ওঝা ১, কোহলি ৬৮, ইউসুফ ৪৪, রোহিত ৩২, রায়না ১৯, জাদেজা ১৯, অশ্বিন ৩৮, পঙ্কজ ৩, দিন্দা ০, প্রজ্ঞান ওঝা ৫; তুষারা ৩/৫৭, রণদিভ ২/৩৮, দিলশান ১/৫, পেরেরা ১/৩৩, কুলাসেকারা ১/৪৭)।
শ্রীলঙ্কা ৪৮.২ ওভারে ২৭০/৪ (থারাঙ্গা ২৭, দিলশান ২১, চান্ডিমাল ১১১, কাপুগেদারা ৪২, জীবন মেন্ডিস ৩৫*, সামারাবীরা ২৮*; অশ্বিন ২/৫০, দিন্দা ১/৪২, প্রজ্ঞান ওঝা ১/৪৩)।

‘বীর’ ইউনুসের আরেক জয়

বীর পাঠানের রক্ত তাঁর শরীরে। শেষ রক্তবিন্দু নিয়ে লড়াই করে তবেই পরাজয় মেনে নেন। তবে এই দৃঢ়তা বেশির ভাগ সময় জয়ই এনে দেয় পাঠানদের। ইউনুস খানের জয় হলো আরও একবার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) করা অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলেন। সেই মামলা জিতলেন সাবেক অধিনায়ক। তাঁর ওপর থেকে নিষিধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ইংল্যান্ড সফরেই দলে ফিরতে পারেন তিনি। অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিও সে রকমই আভাস দিয়েছেন।
গত মার্চে ইউনুসসহ সাত ক্রিকেটারকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ও অর্থদণ্ড দেয় পিসিবি। এর মধ্যে মোহান্মদ ইউসুফ ও ইউনুসকে দেওয়া হয় আজীবন নিষেধাজ্ঞা। অভিযোগ ছিল, অন্তঃকলহের মাধ্যমে এই দুজন দলে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন। ইউসুফ এর পরই অবসর নিয়ে নেন। কিন্তু ‘অন্যায় সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেব না’ ঘোষণা দিয়ে আদালতে যান ইউনুস।
মাঝখানে পিসিবির পক্ষ থেকে সমঝোতা প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ইউনুস মামলা তুলে নিলে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু তখনো অটল ছিলেন ইউনুস। বলেছিলেন, মামলা জিতে তবেই ফিরবেন। এই ‘গোঁয়ার্তুমি’র কারণেই হয়তো প্রাথমিক দলে থেকেও শেষ পর্যন্ত এশিয়া কাপের ১৫ জনের চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত জয় তাঁরই হলো।
আদালতে যাবেন—এমন হুংকার দিয়েছিলেন শাস্তি পাওয়া সাত ক্রিকেটারের প্রায় প্রত্যেকেই। কিন্তু পিসিবির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চাননি বলে অন্যরা সরে এসেছিলেন। সমঝোতার রাস্তাই বেছে নিয়েছেন তাঁরা। এরই মধ্যে পিসিবিও তাঁদের শাস্তির মেয়াদ কমিয়েছে। গত সপ্তাহে শোয়েব মালিকের এক বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কমানো হয় আকমল ভাইদের শাস্তির মেয়াদও। আফ্রিদির অর্থদণ্ড কমানো হয়েছে। আর ইউনুস তো ফিরলেন লড়াই করে।
পিসিবি অবশ্য আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ ইংল্যান্ড সফরে ইউনুসকে বিবেচনা করা হবে।

সাড়ে সাত মাসে শেষ বাংলাদেশ লিগ

সব আকর্ষণ শেষ হয়ে গিয়েছিল আগেই। অবশেষে কাল দাঁড়ি পড়ল বাংলাদেশ লিগে। গত ১০ অক্টোবর শুরু হয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ এই ফুটবল লিগ, বারবার বিরতির কারণে লিগের ১৫৬টি ম্যাচ শেষ হতে লেগেছে রেকর্ড সময়—৭ মাস ১০ দিন।
শিরোপা ধরে রেখে লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। কাগজে-কলমে সেরা দল গড়েও হ্যাটট্রিক রানার্সআপ মোহামেডান। নিচের দুটি দল সিলেট বিয়ানীবাজার ও নারায়ণগঞ্জ বিদায় নিয়েছে লিগ থেকে। সর্বোচ্চ ২১ গোল করে সবার ওপরে আবাহনীর স্ট্রাইকার এনামুল হক। ১৯ গোল করে এর পর আছেন মোহামেডানের জাহিদ হাসান (এমিলি)।
শেষ দিনে সিলেট স্টেডিয়ামে বিয়ানীবাজারকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা। জয়ী দলের গোলদাতা ইউগেনি, রাফায়েল ও কাঞ্চন। বিয়ানীবাজারের গোলদাতা তৌহিদুল ও তৌফিক।

সাবরিনার তৃতীয় সোনা

অবসরের সময় যে এখনো হয়নি ভালকরেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন সাবরিনা সুলতানা। এবারের ২৪তম জাতীয় শ্যুটিংয়ে ৩টি সোনা জিতলেন তিনি। প্রথমে ৫০ মিটার প্রোন, তারপর শারমিন আক্তারকে (রত্মা) হারিয়ে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে, কাল শারমিন শিল্পাকে হারিয়ে ৫০ মিটার থ্রি পজিশনে এল তৃতীয় সোনা।

চীন একটু চিন্তায়ই ফেলল ডমেনেখকে

রেমন্ড ডমেনেখই বলছেন তো, নাকি! প্লে-অফ খেলে বাছাইপর্ব উতরাতে হলো ফ্রান্সকে, একের পর এক ম্যাচে অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স, তার পরও হতাশাজনক কিছু শোনা যায়নি ফ্রান্স কোচের মুখে। সেই ডমেনেখই পরশু চীনের কাছে হারের পর বলছেন, ‘ম্যাচ হারলে তো সব সময়ই চিন্তার কারণ থেকে যায়। কিছুদিন এমন থাকে, যেদিন মনে হয় হয়তো আরও ভালো করা যেত। গোল করতে না পারলে আমাদের সব সময়ই চিন্তা হয়।’
তবে এটুকু বলেই হয়তো নিজের চরিত্রের কথা মনে পড়ল জার্মানি বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ফাইনালে তোলা কোচের। পর মুহূর্তেই তাই বলেছেন, ‘আমরা এমন একটা দলের বিপক্ষে খেলেছি যারা আমাদের হতাশ করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব তার সবটাই করেছে। আমরা স্বতঃস্ফূর্ত ও তরতাজা ছিলাম না। তবে এটা স্রেফ একটা গা গরমের ম্যাচ। আমার ধারণা, আমরা উন্নতি করছি। গত দুটি ম্যাচের চেয়ে আমরা এদিন বেশি সুযোগ তৈরি করেছি।’
আগের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স, তিউনিশিয়ার সঙ্গে ১-১। চীনের বিপক্ষে ৭৪ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল ডমেনেখের দল, গোলে শট নিয়েছিল ১১টি। কিন্তু চীন গোলে দুটি শট নিয়ে কাজে লাগিয়ে ফেলেছে একটি।

‘সমন্বয়কারী কর্মকর্তা’ বেকহাম

ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে রাস্টেনবার্গের বেস ক্যাম্পে পৌঁছে গেছেন। ছবি-টবিও পাওয়া যাচ্ছে—দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন ডেভিড বেকহাম। কিন্তু তাঁর ভূমিকাটা কী?
বিশ্বকাপের জন্য না হলেও সংবাদমাধ্যমের জন্য এটাই এখন ‘কোটি টাকার প্রশ্ন’। তিনি খেলবেন না, কোচিং করাবেন না; সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক দক্ষিণ আফ্রিকায় তাহলে করবেনটা কী? প্রশ্নটার একটা জবাব দিয়েছেন ক্যাপেলো। পরিষ্কার করে বেকহামের পদের কোনো নাম বলেননি। তবে কাজের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে বেকহামকে ‘সমন্বয়কারী কর্মকর্তা’ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।
সাংবাদিকদের দফায় দফায় প্রশ্নের মুখে ক্যাপেলো বেকহামের বিশ্বকাপ ভূমিকা সম্পর্কে বলছেন, ‘ও দলে থাকবে। কিন্তু ও কোচ না, ও খেলোয়াড়ও না। ও হচ্ছে কোচিং-দল ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়কারী। আমাদের জন্য এটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ও এখানে আছে; ছুটি কাটাতে নয়, খেলোয়াড়দের সঙ্গেই আছে। ও আমাদের প্রতি মুহূর্তে উপকার করতে পারবে।’
সেই উপকারটা কী রকম, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে কিছু সংবাদমাধ্যম। তাদের খবর অনুযায়ী, বেকহামের কাজ হবে, প্রতিদিন খেলোয়াড়দের অনুশীলনে ও খেলায় চোখ রেখে তাদের সম্পর্কে কোচকে একটা রিপোর্ট দেওয়া। আবার কোনো খেলোয়াড় ম্যানেজমেন্টকে কোনো কথা বলতে চাইলে, সেটা বেকহামকে বললেই হবে। তিনি সেটা দলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্কো বালদিনিকে পৌঁছে দেবেন।
অবশ্য বেকহামের এই ‘অনির্দিষ্ট’ পরিচয়ে এসি মিলানের হয়ে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়া এই তারকা মানসিক সংকটে পড়তে পারেন বলে অনেকে অনুমান করছেন। সমালোচকেরা বলছেন, পুরো ব্যাপারটিতে বেকহাম নিজেকে অবাঞ্ছিত মনে করতে পারেন।
এক বাক্যে এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ক্যাপেলো, ‘বেকহাম থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, ও ইংল্যান্ডের প্রতীক।’

শিয়াভোনের শিরোপা

রুপালি ট্রফিটা পেয়ে যেমন পরম মমতায় তাতে চুমু এঁকে দিলেন ফ্রান্সেসকা শিয়াভোনে, তাতেই বোঝা যাচ্ছিল এটাই তাঁর প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। কাল ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সামান্থা স্টাসুরকে ৬-৪, ৭-৬ (৭/২) গেমে হারিয়ে প্রথম ইতালিয়ান নারী হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন ২৯ বছর বয়সী।

তাঁরা দুজন

পুরো বিশ্ব অধীর অপেক্ষায়। অপেক্ষায় আছেন তাঁরাও। তবে সম্ভবত বিনিদ্র রজনী সঙ্গী করে!
কারা? কারা আবার, বিশ্বকাপের ৩২ দলের ম্যানেজার। শুধু ‘কোচ’ বললে ব্যাপ্তিটা পুরো বোঝা যায় না বলেই বোধ হয় ফুটবলে কোচের বদলে ম্যানেজার। শুধু তো প্রথাগত কোচিং নয়। দল কীভাবে খেলবে, কার কী ভূমিকা—এসব তো আছেই। মাঠের বাইরেও তো কত কাজ! ফুটবল যতটা খেলোয়াড়দের খেলা, ম্যানেজারেরও বোধ হয় তার চেয়ে কম নয়।
ফুটবলারদের মতো ম্যানেজারদের মোক্ষধামের নামও বিশ্বকাপ। বড় পার্থক্য হলো, বিশ্বকাপ ম্যানেজারদের বধ্যভূমিও। ‘কোচ দুই প্রকার—বরখাস্ত হয়েছে অথবা বরখাস্ত হতে চলেছে’—কথাটার জন্ম বোধ হয় ফুটবলকে মাথায় রেখেই।
মার্সেলো লিপ্পি অনেক বড় কোচ। মনে হচ্ছে, খুব বুদ্ধিমানও। বিশ্বকাপের আগেই বলে দেন, ‘বিশ্বকাপের পর আর আমি নেই।’ ২০০৬ বিশ্বকাপ জেতার পর অনেক সাধ্যসাধনায়ও থাকেননি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের যখন মোটেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মতো লাগছে না, আবার ফিরেছেন আজ্জুরিদের উদ্ধারকর্তা হয়ে। এবারও বলে দিয়েছেন, বিশ্বকাপই শেষ। উত্তরসূরিও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ম্যানেজারদের বিনিদ্র রজনীর কথা বলছিলাম। লিপ্পি বোধ হয় ব্যতিক্রম। তিনি শান্তিতেই ঘুমাচ্ছেন।
কিন্তু দুঙ্গা? ম্যারাডোনা? তাঁদের বোধ হয় ঘুমের বড়িটড়ি লাগছে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই একটা রেকর্ড করে বসে আছে। এই প্রথম দুজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ম্যানেজারের ভূমিকায়। দায়িত্বটা নিয়ে দুজনই বড় ঝুঁকি নিয়েছেন। দুঙ্গার চেয়ে ম্যারাডোনাই বেশি। আর্জেন্টাইনদের হূদয়ে তাঁর আসন। বিশ্বকাপের পরও তা থাকবে তো!
দুঙ্গার সেই ভয় নেই। দুঙ্গাকে পছন্দ করেন, এমন একজন ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকের সঙ্গেও পরিচয় হয়নি ২০০৬ বিশ্বকাপে। ২৪ বছর পর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ-খরা ঘুচল যাঁর নেতৃত্বে, তাঁর প্রায় খলনায়কের ভাবমূর্তি! ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে ও’গ্লোবো টিভির এক সাংবাদিক তো দুঙ্গাকে ‘প্রতারক’ বলে গালিও দিয়েছিলেন। প্রতারণা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের চিরন্তন আদর্শের সঙ্গে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ ছিলেন কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা। কিন্তু দুঙ্গাই সে দলের ‘আগে জিতি, ফুটবল-সৌন্দর্যের চিন্তা পরে’ দর্শনের প্রতীক।
কোচ দুঙ্গা ব্যতিক্রম হবেন কীভাবে! ইংল্যান্ড দলের ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো সেদিন বলছিলেন, ফিওরেন্টিনায় কাটানো চার বছরই দুঙ্গাকে ‘বাস্তববাদী’ বানিয়ে দিয়েছে। দুঙ্গার ব্রাজিল তাই ‘জোগো বনিতো’কে বিসর্জন দিয়ে শুধুই জয়ের জন্য খেলে। এ নিয়ে সমালোচনা হলে বলেন, ‘ব্রাজিলের কাছে সুন্দর ফুটবল দেখতে চাওয়াটা ইউরোপের ষড়যন্ত্র।’
কিন্তু ব্রাজিলিয়ান মিডিয়াও যে দুঙ্গার ব্রাজিলকে পছন্দ করছে না। এরও জবাব আছে দুঙ্গার কাছে। এটা নাকি বিতর্ক তৈরি করে পত্রিকা বিক্রি আর টিভি রেটিং বাড়ানোর কৌশল।
সাফল্য কিন্তু দুঙ্গা ভালোই পেয়েছেন। কোপা আমেরিকায় ফাইনালের আগ পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলল আর্জেন্টিনা, অথচ চ্যাম্পিয়ন ঠিকই ব্রাজিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কনফেডারেশন কাপও। তার পরও দুঙ্গা খলনায়ক! আজকের খেলার পাতায়ই পড়ুন না, ১৯৮২ বিশ্বকাপের অধিনায়ক সক্রেটিস কেমন ধুয়ে দিয়েছেন দুঙ্গাকে।
খেলোয়াড় হিসেবে যেমন দুজন ছিলেন দুই মেরুর, কোচিং-দর্শনেও তাই। একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, আরেকজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ম্যারাডোনার কাজ ছিল সৃষ্টি করা আর দুঙ্গার ধ্বংস করা। ম্যারাডোনা কদিন আগেই তো বললেন, সুন্দর ফুটবল খেলাটাও তাঁর কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
কিন্তু ফুটবল কোচকে তো দলকে শুধু ‘যাও, সুন্দর ফুটবল খেলো’ বললেই হয় না। আরও অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। নিজের দলের শক্তির জায়গা, প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা, সে অনুযায়ী ট্যাকটিকস। পরিস্থিতি বুঝে যা বদলাতেও হয়। এটা ম্যারাডোনার মতো আবেগপ্রবণ মানুষের কাজ কি না—এই প্রশ্ন কিন্তু আর্জেন্টিনাতেই গুরুতরভাবে উঠে আছে।
বড় খেলোয়াড়েরা কখনো বড় কোচ হয় না—কথাটা প্রায় স্বতঃসিদ্ধ। ম্যারাডোনার মতো সহজাত প্রতিভাবানদের জন্য তা হওয়া আরও কঠিন। যে কাজটা তিনি অবলীলায় করতেন, অন্য কেউ কেন সেটি করতে গলদঘর্ম হচ্ছে—এটা বোঝাই তো কঠিন তাঁর জন্য। পেলের সর্বকালের সেরার স্বীকৃতি পাওয়ার মূলে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল, খেলার মাঠে চিন্তার এমন সব অভিনবত্ব দেখাতেন, যা দেখে মানুষ বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যেত। কোনো একটা পরিস্থিতিতে এক কোটি সম্ভাবনা থাকলে পেলে নাকি করতেন এক কোটি এক নম্বরটা! সেই পেলে নিজের ভিডিও ফুটেজ দেখে বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন, ‘কীভাবে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে আমি সিদ্ধান্তটা নিতাম, ভেবে নিজেই অবাক হই।’
বড় খেলোয়াড়দের এটা সহজাত ক্ষমতা। যে কারণে তাঁদের বিশ্লেষণী ক্ষমতাও সাধারণত খুব ভালো হয় না। বিশ্বকাপ নিয়ে পেলের বিফল ভবিষ্যদ্বাণীগুলোই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কোচের ভূমিকায় বড় কোনো খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপ-সাফল্য পাওয়ার একমাত্র উদাহরণ বলতে হবে ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারকে। ১৯৮৪ সালে যখন জার্মানির দায়িত্ব নেন, কোচিংয়ের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাই ছিল না তাঁর। দুই বছর পর ফাইনালে তুললেন জার্মানিকে, ১৯৯০ বিশ্বকাপে তো জেতালেন ট্রফিই। তবে বেকেনবাওয়ার তো খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই চিন্তাশীলতার প্রমাণ রেখে এসেছেন। তাঁর ইতিহাসবোধটাও খুব প্রখর। রসবোধও। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন এক জার্মান সাংবাদিক তাঁর রুমে যান কথা বলতে। হঠাৎ বেকেনবাওয়ার হো হো করে হাসতে শুরু করলেন। হতভম্ব সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘চিন্তা করো, এই পচা দল নিয়ে আমরা ফাইনালে উঠে গেছি!’
অধিনায়ক-কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব আছে শুধুই বেকেনবাওয়ারের। ‘শুধুই’ শব্দটা কি এই বিশ্বকাপের পরও থাকবে? থাকলে কিন্তু দুঙ্গা-ম্যারাডোনার কপালে দুঃখ আছে!

প্রীতি ম্যাচে আহত ১৫!

প্রীতি ম্যাচে গতকাল রোববার উত্তর কোরিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে নাইজেরিয়া। তবে তার চেয়েও বড় খবর, এ ম্যাচে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন সমর্থক আহত হয়েছে। তবে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নয়, খেলা উপভোগ করতে কয়েক হাজার দর্শক জোর করে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়। এতে অবশ্য খেলায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
প্রথমবারের মতো আফ্রিকায় বিশ্বকাপ হচ্ছে বলে কথা। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে দলের প্রীতি ম্যাচ চলছে, আর নাইজেরিয়ার সমর্থকেরা খেলা দেখবে না—এ কি হয়! প্রত্যক্ষদর্শী একজন পুলিশ রয়টার্সকে বলেন, ‘ম্যাচ তখন শুরু হয়ে গেছে। সমর্থকেরা ভুয়া টিকিট নিয়ে জোর করে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার চেষ্টা চালায়। গেটের নিরাপত্তারক্ষীদের তোয়াক্কা না করে ঝড়ের বেগে ভেতরে ঢুকে পড়ে তারা। তাদের বেশির ভাগ নাইজেরিয়ার জার্সি পরিহিত ছিল। ভিড়ের চাপে নিচে পড়ে অন্তত ১৪ জন সমর্থক আহত হয়েছে। সমর্থকদের প্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্যও গুরুতর আহত হন।’
তবে জোহানেসবার্গ পুলিশের একজন মুখপাত্র ফক্সস্পোর্টসকে বলছেন, স্টেডিয়ামের বাইরে সমর্থকদের জন্য ফ্রি টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছি। ফ্রি টিকিট পেতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে নাইজেরিয়ার সমর্থকেরা। টিকিট নিয়ে তারা একযোগে প্রবেশ করার চেষ্টা চালায়। এত লোকের ধাক্কায় দুর্ভাগ্যবশত গেটটি খুলে যায়।
সবুজ জার্সি পরিহিত দক্ষিণ আফ্রিকার একজন সমর্থক বলেন, ‘আমি প্রায় মরেই যাচ্ছিলাম। আমরা ভেতরে প্রবেশ করছিলাম। তখনই অসংখ্য দর্শক আমাদের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। আহত হওয়ার পরও পুলিশ আমাদের সাহায্য করেনি।’

পর্যবেক্ষকের খোঁজ নেই

লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিন স্টেডিয়াম এলাকায় সস্ত্রীক ফিশ অ্যান্ড চিপস খেতে দেখা গেছে তাঁকে। ইংল্যান্ড সফরে দলের সঙ্গে পর্যবেক্ষকের ‘গুরুদায়িত্ব’ পালন করতে আসা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক ইমতিয়াজ শামসুল হুদা (কিসলু) এর পর থেকে একরকম লাপাত্তাই হয়ে আছেন। লর্ডস টেস্টের পঞ্চম দিন তিনি ইংল্যান্ড থেকে কানাডা চলে গেছেন শোনা গেলেও দলের কেউই তা নিশ্চিত করতে পারেননি। কেউই জানেন না, কোথায় আছেন তিনি?
বিদেশ সফরে দলের সঙ্গে পর্যবেক্ষক পাঠানো নিয়ে প্রতিবারই প্রশ্ন ওঠে এবং প্রতিবারই বোর্ড ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে, বিদেশে পর্যবেক্ষক পাঠানো কতটা জরুরি। পূর্বসূরিদের মতো এবার শামসুলও প্রমাণ করলেন, ‘পর্যবেক্ষক’দের বিদেশ পাঠাতে এই বোর্ড হয় জেনেশুনেই মিথ্যে বলছে অথবা কোনটা জরুরি আর কোনটা জরুরি নয়, সেটা বোঝারই সামর্থ্য নেই তাদের।
দলের সঙ্গে পর্যবেক্ষক পাঠানো নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার জবাবে বোর্ড সভাপতি বলেছিলেন, এখন থেকে পর্যবেক্ষকদের কাজও নাকি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তা শামসুল হুদা সাহেব সেই সুযোগ দিলে তো! বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের সঙ্গে পর্যবেক্ষকের বলতে গেলে দেখাই হয়নি, তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন কী? আর দলনেতা জালাল ইউনুস তো পর্যবেক্ষকের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেই নিশ্চিত নন, ‘ম্যানচেস্টার আসার পরে ওনার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। জানি না, উনি কোথায় আছেন। শুনেছি লর্ডস টেস্টের শেষ দিন তিনি লন্ডন থেকেই সস্ত্রীক কানাডা চলে গেছেন। তবে আমাকে জানিয়ে যাননি।’
দলনেতা জানেন না পর্যবেক্ষক হয়ে আসা তাঁর সহযোগী বোর্ড পরিচালক কোথায় আছেন! ‘পর্যবেক্ষকের’ ছদ্মবেশে বিদেশে বেড়াতে এসে বোর্ড পরিচালক সিরিজ শেষ না হতেই চলে গেলেন আরেক মহাদেশে। আর ‘কমিটমেন্ট’ দেখানোর দায়টা পড়ে থাকল শুধু ক্রিকেটারদের জন্য!
ক্রিকেটারদের কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে আয়নায় নিজেদের মুখও কি দেখেন বোর্ড পরিচালকেরা?

বেলের পর সাকিব

তৃপ্তি আর অতৃপ্তি কি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল সাকিব আল হাসানের! তৃপ্তি—টেস্টে সপ্তমবারের মতো ৫ উইকেট পেলেন বলে। আর অতৃপ্তি—এই ৫ উইকেট যদি লর্ডসে পেতেন! অনার্স বোর্ডে তো তাহলে তাঁর নামটাও উঠত!
ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ইংল্যান্ডের জন্য স্পিনের ফাঁদ পাতার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ দলের। প্রথম ইনিংসে পরিকল্পনাটা সফলই বলতে হবে। ইংল্যান্ড ৪১৯ রানে অলআউট, ৭ উইকেট স্পিনারদের। ২ উইকেট নিয়ে সাকিবের যোগ্য সঙ্গী আরেক বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। বলও বেশি করেছেন স্পিনাররাই। দুই পেসার শাহাদাত ও শফিউল করেছেন ২১ ওভার করে, সেখানে সাকিব একাই ৩৭.৩ ওভার। রাজ্জাক আর মাহমুদউল্লাহ মিলে আরও ৪২।
বাংলাদেশের স্পিনের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সফলতম ব্যাটসম্যান ইয়ান বেল, ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে যাঁর ব্যাটিং মনে করিয়ে দিয়েছে পাঁচ বছর আগের একটা ঘটনা। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সম্পর্কে বেলের মন্তব্য ছিল, ‘দলটা কাউন্টি দলের মতো।’ অভিষেক টেস্টেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭০ রানের ইনিংস খেলার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে পর পর দুই টেস্টে অপরাজিত ৬৫ আর অপরাজিত ১৬২—বেলের পা নিশ্চিতভাবেই তখন মাটিতে ছিল না। বেল উড়ছিলেন আকাশে।
সেদিন বেলের কথা শুনে মন খারাপ হয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ দলের। কিন্তু পাঁচ বছর পরও যে তাঁকে জবাব দিতে পারল না বাংলাদেশ! ইংল্যান্ড দলে জায়গা ধরে রাখার লড়াই যাঁদের নিত্য, বেলের নাম সে তালিকায় থাকলেও বাংলাদেশ মানেই তাঁর অন্য রকম হয়ে ওঠা। বাংলাদেশের বিপক্ষে কাল পর্যন্ত সাড়ে পাঁচটা টেস্ট খেলেই ১৫৮.২৫ গড়ে ৬৩৩ রান। সেঞ্চুরি ৩টি, হাফ সেঞ্চুরি ২টি।
বোলারদের সৌজন্যে প্রথম দিনটা মোটামুটি ভালো কাটানোর পর কাল দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডকে ৩৫০ রানের মধ্যে বেঁধে ফেলার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু প্রিয়রকে নিয়ে গড়ে তোলা বেলের প্রতিরোধের দেয়াল টপকাতে টপকাতে অনেক দেরি করে ফেলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বোলাররা ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর বিপক্ষে কতটুকু কী করতে পারবে, সেটা আসলে এখনো ঠিক করে দেয় প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং। বোলাররা যত ভালো বলই করুক, প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা ভুল না করলে সফল হওয়া কঠিন। শফিউল ইসলাম এর জ্বলন্ত উদাহরণ হতে পারেন। আগের দিন দুই উইকেট নিলেন, কালও বাউন্সার-মুভমেন্টে বেল-প্রিয়রকে কম বিব্রত করেননি। গায়ে-টায়েও বল লাগালেন কয়েকবার। কিন্তু কপালে আর কোনো উইকেটই জুটল না।
স্পিনটা ইংল্যান্ডের অন্য অনেকের তুলনায় ভালো খেলেন ইয়ান বেল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে বাংলাদেশি স্পিনারদের সাফল্যের পতাকা ওড়ানোর দিনে বেলও সফল নিজের কাজে। স্পিনের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিংয়ের রহস্যটাও জানিয়েছেন তিনি, ‘স্পিনের বিপক্ষে আমি যতটা সম্ভব ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি। আর ইতিবাচক থাকতে পারলেই ভালো খেলি।’
বেল ব্যতিক্রম, নইলে বাংলাদেশের স্পিনের বিপক্ষে পিটারসেনের মতো কমবেশি বিব্রত ইংল্যান্ডের অন্য ব্যাটসম্যানরাও। দিনের চতুর্থ ওভারেই রাজ্জাককে দিয়ে স্পিন আক্রমণ নিয়ে আসেন সাকিব, এরপর নিজে বল হাতে নিলেন সপ্তম ওভারে। মাঝে যোগ হলেন মাহমুদউল্লাহও। স্পিনের সামনে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের বিব্রত হতে দেখে ৯৮ ওভারের পর পেস বোলারদের আর বোলিংয়েই আনলেন না সাকিব। দিনের প্রথম ও তৃতীয় (ইনিংসের ৮৪ ও ৮৬তম) ওভার বল করেছেন, এরপর ইনিংসের ১০০তম ওভারে এসে টানা করলেন ১১.৩ ওভারের স্পেল, ৩২ রানে ৪ উইকেট এই স্পেলেই। এর মধ্যে শেষ ৩টি উইকেট এসেছে মাত্র ১৩ বলের ব্যবধানে, ওই সময়ে সাকিব রান দিয়েছেন মাত্র ২!
উইকেট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সাকিব সব সময় একটা কথাই বলেন, ‘আমি উইকেট বুঝি না।’ কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডের উইকেটটাকে তো ঠিকই চিনেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক!