Tuesday, March 26, 2019

ডিম ভাঙার বুদ্ধিটি যেভাবে এল ওই তরুণের মাথায়!

মুসলমানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারী অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে আলোচিত সেই তরুণ জানালেন তার দুঃসাহসী কাজের কথা।
উইল কনোলি জানায়, সিনেটরের ওই বক্তব্য পড়েই ডিম ভাঙার আইডিয়াটা এসেছিল তার মাথায়।
অস্ট্রেলিয়ার একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আলোচিত সেই তরুণ জানান, ফ্রেজার অ্যানিংয়ের বিবৃতিটি আমি পড়েছিলাম। তার ওই বক্তব্য সঠিক ছিল না।
বিষয়টি আমার কাছে অপমানজনক মনে হয়। তাই যখনই আমি তাকে দেখলাম, সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে গেল। যদিও বিষয়টি ঠিক ছিল না।
মসজিদে হামলার ঘটনায় মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করা অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ফাটিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ১৭ বছরের অস্ট্রেলিয়ান তরুণ উইল কনোলি। হামলার পরদিন মেলবোর্নের মোরাবিনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় কট্টর এ অস্ট্রেলিয়ান সিনেটরের মাথায় ডিম ফাটিয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি।
এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যানিং কথা বলার সময় তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল উইল কনোলি । হঠাৎ করেই তার বাঁ-হাতে মোবাইল ধরে ডান হাতে অ্যানিংয়ের মাথায় একটি ডিম ফাটিয়ে দেন। এর একটু আগে সে তার মোবাইলে ভিডিও করা শুরু করে। ডিম ছোড়ার পরও নির্বিকার ভঙ্গিতে ভিডিও করে যাচ্ছিল উইল কনোলি।
হতবাক অ্যানিং পেছনে ঘুরে তরুণের মুখে চড় মারতে শুরু করলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় পাশে থাকা লোকজন ওই তরুণকে মাটিতে চেপে ধরে, অন্য একজন অ্যানিংকে সরিয়ে নেয়।
মুক্তির পর টুইটারে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় উইল বলেছেন, ‘রাজনীতিকদের ডিম মারবেন না। এতে আপনাকে ৩০ জন নিম্ন শ্রেণির লোককে মোকাবেলা করতে হবে। আমার কঠিন শিক্ষা হয়ে গেছে।’
গ্রেফতারের পর তার মুক্তি ও আইনি সহায়তার জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাত্র দুই হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তার জন্য জমা পড়ে প্রায় ৪২ হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৩৫ লাখ টাকার মতো।
নিজের জন্য সংগৃহীত অর্থ ক্রাইস্টচার্চের নিহত মুসল্লিদের জন্য ব্যয় করার ঘোষণা দিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেন ১৭ বছরের তরুণ উইল কনোলি। এ ঘটনায় সে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ডিম বালককে নিয়ে সারা বিশ্বে হইচইয়ের মধ্যেই ডিম বালককে বিয়ে করতে অস্ট্রেলিয়ার রাজপথে নেমেছিল তরুণীরা।

সিনেমা হলের সূচনার গল্প (পর্ব-১) by কামরুজ্জামান মিলু

বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। আর এই সিনেমা দেখার জন্য চাই প্রেক্ষাগৃহ বা হল। দেশে কেমন ছিল সিনেমা হলের সূচনাকাল? আর তারপর ক্রমে উন্নয়ন, আধুনিকায়নের পথ পেরিয়ে সিনেমা হলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাজানো হয়েছে ধারাবাহিক আয়োজন বাংলাদেশের সিনেমা হল। লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু। আজ প্রকাশ হচ্ছে এর প্রথম পর্ব ‘সিনেমা হলের সূচনার গল্প
সিনেমা হলে বসে এখন আমরা রঙিন বা থ্রিডি ছবি দেখার সুযোগ পেলেও আগের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাক সিনেমা দিয়ে এর শুরু। সেটাও ছিল সাদাকালো। এরপর দীর্ঘ সময় পর আসে অর্ধেক রঙিন।
এরপর সম্পূর্ণ রঙিন ছবি। বর্তমানে আগের মতো সিনেমার ব্যবসা না হওয়ায় সিনেমা হলের সংখ্যা সারা দেশে ক্রমশ কমছে। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের সিনেমা হলগুলো। এরইমধ্যে দেশীয় ছবি ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা না করাসহ নানা কারণে দেশের সব সিনেমা হল আগামী ১২ই এপ্রিল থেকে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। এ সমস্যার সমাধান হবে কি-না তা নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে সিনেমা হল নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই সিনেমাপ্রেমীদের। দেশে সিনেমা হলের শুরুর সময়ের অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, একটা সময় বায়োস্কোপে ছবির মানুষ আর জন্তু-জানোয়ারের ভিডিও সকলে মিলে দেখা শুরু করে। সেটা ছিল চলন্ত ছবি। বায়োস্কোপের পর ঢাকার আহসান মঞ্জিলের কাছে ক্রাউন থিয়েটারে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল। ঢাকার প্রথম সিনেমা হল ছিল ‘কমলা টকিজ’।
১৯২৭ সালে পুরনো ঢাকার রাজার দেউড়িতে প্রথম নির্মাণ হয় এটি, পরে যা ‘প্যারাডাইস সিনেমা’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর পল্টন ময়দানের স্টেডিয়ামের পাশে ‘ব্রিটানিয়া সিনেমা হল’ নির্মাণ হয়। এখানে ইংরেজি ছবি প্রদর্শিত হতো। সেই সময় শিক্ষিত দর্শক শ্রেণির ভিড় ছিল বেশি। পল্টনের খোলা প্রান্তরে এ প্রেক্ষাগৃহটি ছিল বেশ বড়। তবে ছাদ ছিল টিনের। এরপর ‘পিকচার প্যালেস’ নির্মাণ হয় আরমানিটোলায়। পরে এই একতলা প্রেক্ষাগৃহটি ‘শাবিস্তান’ নামে পরিচিতি পায়। হারিকেন এবং লণ্ঠন দিয়ে সিনেমা প্রদর্শন করা হতো প্রথমদিকে। প্রতিদিন দুটি করে ছবি দেখানো হতো। এরপর ১৯৩০ সালের দিকে ঢাকার মির্জা আবদুল কাদের সরদার ডায়মন্ড জুবিলী থিয়েটারের কর্তৃত্ব নেন। তিনি সেসময় প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন। যা ১৯৩২ সালে ‘লায়ন সিনেমা হল’ নামে পরিচিতি পায়।
এই ভবনটি ইংরেজি এল অক্ষরের আকৃতির ছিল। এই প্রেক্ষাগৃহে প্রথম উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ‘আলম আরা’ মুক্তি পায়। দেশে সিনেমা হলের বিস্তার সম্পর্কে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ঢাকায় ‘রূপমহল’, ‘লায়ন’, ‘আজাদ’, ‘মধুমিতা’, ‘সনি’, চট্টগ্রামে ‘রঙ্গম’, ‘উজালা’ প্রভৃতি সিনেমা হল পরে গড়ে ওঠে। নারায়ণগঞ্জে ‘হংশ’, ‘ডায়মন্ড’সহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরেও সিনেমা হল গড়ে ওঠে। এসবই ছিল ইংরেজ শাসনামলের কথা এবং তখনও একচেটিয়া রাজত্ব চলছিল নির্বাক চলচ্চিত্রের। সে সময় ছবির মানুষ যে চলে-ফিরে বেড়ায়- সেটাই ছিল মহাআশ্চর্য ঘটনা। পঞ্চাশ-ষাটের দশক তো বটেই, আশির দশক পর্যন্ত বাংলাদেশে সিনেমা হলকে আকর্ষণীয় করে সাজানোর প্রবণতা ছিল। ঢাকার মধুমিতা-গুলিস্তান শুধু নয়, এ দেশের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল হিসেবে পরিচিত যশোরের মণিহারও ছিল ভাস্কর্য-চিত্রশোভিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনশ’র বেশি সিনেমা হল ছিল।
এরপর এ সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে  ১২০০-তে দাড়ায়। কিন্তু একসময় তা কমতে থাকে নানা কারণে। মিয়া আলাউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে সিনেমা হল কমতে শুরু করে। ‘গুলিস্তান’ ও ‘নাজ’ ভেঙে ফেলা হয়। ‘নাজ’ সিনেমা হলে আমি ও বঙ্গবন্ধু একসঙ্গে বসে একই ছবি দেখার সুযোগ হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে ‘রুপবান’ ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। সেসময় আমি জগন্নাথ কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়তাম। ছবি দেখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা হয় আমার। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, লেখাপড়া রেখে সিনেমা দেখতে এসেছো নাকি? লেখাপড়া ঠিকমতো করো। তখন আমি উত্তরে বলেছিলাম, লিডার, আমি সব সিনেমা দেখি না। ‘রুপবান’ বলেই দেখতে এলাম এবং আমি লেখাপড়া ঠিকমতো করছি। তখন তিনি পিঠে থাপ্পড় দিয়ে বললেন, ঠিক আছে। তাহলে দেখ। এই কথাগুলো আমার আজও মনে আছে।
ঢাকার ‘সনি’ সিনেমা হলের মালিক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ১৯৮৬ সালের ১৬ই আগস্ট ‘সনি’ সিনেমা হলটি নির্মাণ করি। এ হলের ভেতরে দর্শকদের জন্য ছিল পর্যাপ্ত জায়গা এবং সিট সংখ্যা ছিল মোট ১২০০। দারুণ ব্যবসা করতে শুরু করেছিল এ সিনেমা হলটি। আমার সিনেমা হল ছাড়াও ঢাকার ‘আজাদ’, ‘চিত্রামহল’, ‘মানসী’, ‘অভিসার’, ‘নেপচুন’, ‘গীত’, ‘সংগীত’, ‘জোনাকী’, ‘রাজমণি’, ‘রাজিয়া’, ‘পদ্মা’, ‘সুরমা’, ‘গ্যারিসন’, ‘শাহীন’, ‘পুরবী’, ‘এশিয়া’, ‘পর্বত’, ‘মুক্তি’, ‘শ্যামলী’, ‘বিজিবি অডিটোরিয়াম’, ‘বলাকা’, ‘আনন্দ’, ‘ছন্দ’, ‘পুনম’, ‘মধুমিতা’সহ সারা দেশে ক্রমশ ১২০০ সিনেমা হল তৈরি হয়। আর এখন ১৭৪টি সিনেমা হল চালু আছে। কারণটা সকলের জানা।

সূর্যের কাছাকাছি সরে এসেছে বৃহস্পতি

প্রথম আলো, ২৫ মার্চ ২০১৯: এত দিন বলা হতো, সৌরজগতের গ্রহগুলো সূর্য থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ও নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে। তবে বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, বৃহস্পতি গ্রহ তার আগের অবস্থান থেকে সূর্যের দিকে চার গুণ কাছে সরে এসেছে। মহাকাশ বিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যা–বিষয়ক ইউরোপের খ্যাতনামা গবেষণা সাময়িকী অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস–এ সম্প্রতি এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি করেছেন সুইডেনের লুন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়টির জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের পিএইডি গবেষক সিমোনা পিরানি এই গবেষণা নিবন্ধের মূল লেখক।
সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। গবেষকেরা বলছেন, উৎপত্তির সময় গ্রহটি এখনকার মতো বড় ছিল না। এটি ছিল পৃথিবীর চেয়ে ছোট বা পৃথিবীর সমান। ক্রমে এটি মহাজাগতিক ধূলিকণা সঞ্চয় করে আকারে বড় হয়। সূর্যের মধ্যে ঘূর্ণমান গ্যাসমণ্ডলের মহাকর্ষ বলের কারণে গ্রহটি তার কক্ষপথের দূরত্ব এবং কক্ষপথের ব্যাসার্ধ কমিয়েছে। গবেষকদের দাবি, উৎপত্তিস্থলের চেয়ে সূর্যের চার গুণ কাছে সরে এসেছে বৃহস্পতি।
সৌরজগতের উৎপত্তি হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে বের করেছেন, উৎপত্তির ২০ থেকে ৩০ লাখ বছর পর বৃহস্পতির স্থানান্তর শুরু হয়। এই স্থানান্তর প্রায় ৭ লাখ বছর ধরে চলে। বিজ্ঞানীরা এই দাবির সপক্ষে একটি প্রমাণও হাজির করেছেন।
সৌরজগতে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যে থাকা অসংখ্য গ্রহাণুকে বলা হয় গ্রহাণুপুঞ্জ। গ্রহাণু রয়েছে বৃহস্পতির কক্ষপথেও, এদের ট্রোজান গ্রহাণু বলা হয়। ট্রোজান গ্রহাণুগুলো দুই অংশে বিভক্ত। এর একটি বৃহস্পতির সামনে দিয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, অপরটি পেছন থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পেছনের গ্রহাণু সংখ্যার চেয়ে সামনের অংশে ৫০ শতাংশ বেশি গ্রহাণু রয়েছে। সৌরজগতে প্রতিসমতা লক্ষ করা যায়। ফলে বিজ্ঞানীদের দাবি, ট্রোজানের দুই অংশেই সমান গ্রহাণু ছিল। ক্রমে বৃহস্পতি সূর্যের কাছে সরে আসায় গ্রহাণুপুঞ্জের গ্রহাণু বৃহস্পতির মহাকর্ষ বল টেনে নিয়ে সামনের অংশে ট্রোজানের গ্রহাণু বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থক ভারতীয়রা: কাশ্মীরের স্বাধীনতায় নারাজ কেন? -অরুন্ধতী রায়

বিশ্বখ্যাত লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট অরুন্ধতী রায় প্রশ্ন তুলেছেন, গণহত্যার প্রশ্নে ভারতবাসী যদি পাকিস্তানের অখন্ডতার বিরুদ্ধে নিজ দেশের হস্তক্ষেপকে সমর্থন করে এবং তখনকার পূর্ব বাংলার মানুষের বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথক রাষ্ট্র গড়ার পক্ষে দাঁড়ায়, তাহলে কাশ্মির প্রশ্নে তাদের অবস্থান ভিন্ন কেন। কাশ্মির সঙ্কট নিয়ে গত শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ সামনে এনে তিনি ওই কথা বলেন।
এ বছর ১৪ ফেব্রুয়ারির কাশ্মিরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলাকে কেন্দ্র করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত বাড়তে থাকে। এখনও সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার এই সংঘাতময় বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করতেই আল-জাজিরার সাংবাদিক মেহেদি হাসানের সঞ্চালনায় আপফ্রন্ট অনুষ্ঠানে অংশ নেন অরুন্ধতী।
সাংবাদিক মেহেদি কাশ্মির নিয়ে অরুন্ধতীর অবস্থান জানতে চাইলে বুকারজয়ী এই লেখক বলেন, কাশ্মির সেভাবেই পরিচালিত হওয়া উচিত, যেভাবে সেখানকার মানুষ চায়। এরপর আবার তাকে প্রশ্ন করা হয়, একটি গণভোটের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরবাসী যদি ভারত-পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রের থেকে পৃথক হয়ে সার্বভৌম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে অরুন্ধতী তা সমর্থন করতেন কিনা। জবাবে অরুন্ধতী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালিন ভারতীয় মিত্র বাহিনীর ভ‚মিকার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের জাতি-মুক্তির লড়াইয়ে সামিল হয়। তার বহু আগেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার কবল থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ ভারতে পালিয়ে গেলে সে দেশের মানুষ তাদের সামর্থের সবটুকু দিয়ে বিপুল সংখ্যায় শরণার্থীর সহায়তায় বাড়িয়ে দিয়েছিল বন্ধুত্বের হাত। তবে একই সেই ভারতীয়তাই কাশ্মিরে সংঘটিত নিজ দেশের সেনাবাহিনীর নৃশংস ভ‚মিকা নিয়ে সোচ্চার নয়।
সাক্ষাৎকারে কাশ্মিরবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে অরুন্ধতী জানান, অঞ্চলগত অখন্ডতা রক্ষার প্রশ্নকে ‘বৈজ্ঞানিক সত্য’র মতো করে দেখেন না তিনি। ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ভারতীয়রা যদি বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের প্রশ্নে ভারতের হস্তক্ষেপ, অর্থাৎ তখনকার পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া সমর্থনযোগ্য। কারণ যেখানে ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে সেখানে ওই হস্তক্ষেপ একেবারেই যথাযথ। তাহলে কাশ্মিরেও গণহত্যা হচ্ছে, একই প্রশ্নে ভারতীয়দের অবস্থানের ন্যয্যতা কী?’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের আজ সবচেয়ে ভালো দিন

প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত দুই বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনে হয়তো এমন ভালো দিন আর আসেনি। ঘাড়ের ওপর যে মেঘ চেপে বসেছিল, তা অনেকটাই হালকা হয়ে গেছে—এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের প্রতিবেদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটা বড় বিজয় এনে দিয়েছে। এ প্রতিবেদনের কারণে এখন ডেমোক্র্যাটদের নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্টকে সরাতে চাইলে এখন তা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমেই করতে হবে; যা ২০২০ সালের নভেম্বর মাসের আগে সম্ভব নয়।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের ভাষায়, আজ তাঁদের জন্য খারাপ দিন, যাঁরা আশা করেছিলেন মুলার তদন্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নামিয়ে আনা হবে।
শপথ গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচনী প্রচারের সময় রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ ট্রাম্পের মাথার ওপর কালো মেঘ হয়ে বিরাজ করেছে। এখন সেই মেঘ দূর হলো। যে আঁতাতের অভিযোগকে অস্ত্র করে ডেমোক্র্যাটরা তাঁর পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চলাবেন ভেবেছিলেন, সেই রণকৌশল এখন তাঁদের পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অভিশংসনের বিষয়টিও আর তাঁদের প্রধান রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না। ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য এই মুহূর্তে তাঁদের একমাত্র যে অস্ত্রটি রইল, তা হলো ২০২০ সালের নির্বাচনে তাঁকে পরাস্ত করা।
প্রায় দুই বছর একটানা তদন্তের পর বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প বা তাঁর নির্বাচনী প্রচার দল রাশিয়ার সঙ্গে কোনো আঁতাতে লিপ্ত ছিল, তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিচারপ্রক্রিয়ায় ট্রাম্প কোনো বাধা দেননি, মুলার তাঁর প্রতিবেদনে এমন কোনো সিদ্ধান্তও দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা উইলিয়াম বার গতকাল রোববার কংগ্রেসে রবার্ট মুলারের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ পেশ করেছেন। পুরো তদন্তটি প্রকাশের বদলে তিনি শুধু মুলার তদন্তের সারসংক্ষেপ এই চিঠিতে লিপিবদ্ধ করেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের বিষয়টি ছিল মুলারের তদন্তের প্রধান বিষয়।
এদিকে এই তদন্ত নিয়ে অসংখ্যবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেও গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পিছপা হননি। তিনি মুলারের প্রতিবেদনে তাঁকে ‘সম্পূর্ণ দোষমুক্ত’ বলে দাবি করেছেন। বিচারপ্রক্রিয়ার বাধাদানের বিষয়টি তিনি পুরোপুরি এড়িয়ে এক টুইটে ঘোষণা করেছেন, ‘কোনো আঁতাত নেই। কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়নি। চূড়ান্ত ও সম্পূর্ণ দোষমুক্তি। আমেরিকাকে মহান রাখুন।’
যাঁরা ট্রাম্পকে দোষী দেখতে ও মুলারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে অবিলম্বে অভিশংসিত করতে আগ্রহী ছিলেন, তাঁদের জন্য এ সিদ্ধান্ত প্রচণ্ড হতাশার সৃষ্টি করেছে। তাঁদের জন্য একমাত্র আশার সলতে হলো, এ প্রতিবেদন বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধাদান প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে মুলারের অনাগ্রহ প্রকাশ। উইলিয়াম বারের পাঠানো চিঠিতে এ কথা স্বীকার করা হয়েছে, ট্রাম্প কোনো অপরাধ করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ মুলার খুঁজে পাননি, তবে তাঁকে তিনি পুরোপুরি দোষমুক্ত বলেও ঘোষণা করেননি। উইলিয়াম বার ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেনস্টাইন মুলারের ‘গোপনীয়’ প্রতিবেদনটি সমীক্ষার পরে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা প্রদানের চেষ্টা করেছেন, সে কথা প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁরা বিষয়টি নিয়ে তদন্তে আর সময় ব্যয় করবেন না।
প্রধান আইন কর্মকর্তার এ কথা যথেষ্ট নয়, এই যুক্তিতে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা অবিলম্বে পুরো প্রতিবেদন ও তদন্তকালে সংগৃহীত প্রমাণপত্র অবিকৃত অবস্থায় তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেছেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিবেদনটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ারও দাবি করেছেন। উইলিয়াম বার অবশ্য বলেছেন, তিনি যতটা সম্ভব স্বচ্ছ থাকতে চান, কিন্তু প্রতিবেদনে অনেক অতি গোপনীয় বিষয় থাকায় চলতি আইন অনুসারে তা অবিকৃত অবস্থায় উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।
তাঁর এই ব্যাখ্যা অবশ্য বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের খুশি করতে পারেনি। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটে ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মুলার তাঁর তদন্তে কোথাও বলেননি, ট্রাম্প বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা প্রদানের মাধ্যমে কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। বস্তুত, এ ব্যাপারে তিনি কোনো সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেননি। তাঁরা দাবি করেছেন, উইলিয়াম বারের চিঠিতে যত প্রশ্নের উত্তর মিলেছে, তার চেয়ে অধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রধান জেরি ন্যাডলার ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ প্রতিবেদনটির যে ব্যাখ্যা হাজির করেছে, তা সন্তোষজনক নয়, এতে বিস্তর ফাঁকফোকর রয়েছে। তিনি প্রধান আইন কর্মকর্তাকে তাঁর চিঠির বক্তব্য ব্যাখ্যার জন্য শুনানিতে ডেকে পাঠাবেন। মুলারকে শুনানিতে ডেকে পাঠানোর কথাও কোনো কোনো ডেমোক্র্যাট বলেছেন।

সরকার ছদ্মবেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর জনগণকে নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যদিয়ে সরকার ছদ্মবেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে বলে অভিযোগ বিএনপির। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাকে পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আর এখন স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে এসে তারা আবার জনগণকে নির্যাতন ও নিপিড়নের মধ্য দিয়ে ছদ্মবেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। গতকাল বিকালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। মির্জা আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালে যে চেতনা, যে আদর্শকে সামনে নিয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ আজ ভুলুন্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতা মানে কি শুধু ভূ-খণ্ডের স্বাধীনতা? স্বাধীনতা মানে কি শুধু একটা পতাকা? না।
স্বাধীনতা মানে হলো এই ভূ-খণ্ডে যেসব মানুষ বাস করে তাদের স্বাধীনতা।
সার্বিক স্বাধীনতা। তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মুক্তির স্বাধীনতা। তিনি বলেন, আজকে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে বিপন্ন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আজকে যারা সরকারে আছে তারা মানুষের অধিকার হরণ করে, জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। তারা বারবার বলতে চায়- এখন বাংলাদেশে এমন উন্নয়ন হয়েছে যা অতীতে কখনো হয়নি। গোটা পৃথিবীর কাছে রোল মডেল হয়েছে। কিন্তু এই উন্নয়নের ভেতরটা ফাঁকা। এই উন্নয়ন হচ্ছে দুর্নীতির উন্নয়ন। এই উন্নয়নের ফলে কিছু সংখ্যক মানুষ ধনী থেকে ধনী হয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, দুর্ভাগ্যজনভাবে বাংলাদেশে এখন ধনীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এটা আন্তর্জাতিক রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের এই দখলদার সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। সুতরাং এই সরকারকে সরানো ছাড়া জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া শুধু আমাদের নেত্রী নয়। তিনি বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের নেতা। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি তার সারা জীবন এই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। খালেদা জিয়ার মতো এতো ত্যাগ এদেশের আর কোন নেতা স্বীকার করেননি। সেই নেত্রী আজকে কারগারে। শুধু কারাগারে নয়, পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে। প্রতিদিন তার শরীর খারাপ হচ্ছে। কি ভয়ঙ্কর দুর্ভাগ্য তার। বর্তমান সরকার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা পর্যন্ত করছে না। এই অবস্থায় আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে- এই স্বাধীনতা দিবসে শপথ গ্রহণ করতে হবে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্যদিয়েই আমাদের নেত্রীকে, গণতন্ত্রের নেত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করব। কারণ তাকে মুক্ত করলেই গণতন্ত্রকে মুক্ত করা হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্ষমতাসীনরা স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা বলে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নয়- ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাহলে ২৬শে মার্চ কেন স্বাধীনতা দিবস পালন করে? ৭ই মার্চই তো স্বাধীনতা দিবস পালন করতে পারতো। তিনি বলেন, এই সরকার যা করছে তার সবকিছুই অস্বাভাবিক ঘটনা। তারা ভোটের আগের রাতে ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে রেখে অস্বাভাবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
যা এদেশে আগে কখনো ঘটেনি। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তাদের নেতাকর্মী ও আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল ১/১১ এর সরকার। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তারা নিজেদের মামলাগুলো তুলে নিয়ে আমাদের নেত্রীসহ নেতাকর্মীদের মামলাগুলো রেখে দিলো। এটা কেমন নিয়ম? আজকে সেই মামলারই একটি অংশে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। আমাদের অন্য নেতাদের জামিন দেয়া হচ্ছে না। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ২২ পাকিস্তানি ধনীর সমালোচনা করতাম। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগে ধনীর সংখ্যা দেখুন। কত ধনী আছে তার কোন হিসাব নেই। বিশ্বে অল্প সময়ে বড় ধনী সবচেয়ে বাংলাদেশে বেশি।  স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজকে আমরা স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় এসেছি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কোন স্বাধীনতা নেই। কেউ কোন কথা বলতে পারেনা। বাক্‌ স্বাধীনতা হরণ করেছে বর্তমান সরকার। আজ দেশে এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করা হয়েছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে যতোদিন সেনাবাহিনীতে ছিলাম অনেক নির্বাচনে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু কোনোদিন কেউ আমাদের বলেনি- ওমুক দলকে জেতাতে হবে। আজ সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য যতো বাহিনী আছে সবগুলোর একই অবস্থা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য হলো- দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে করাগারের ভেতরে তিলে তিলে হত্যা করা। যে কারণে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোষামোদির রাজনীতি আপাতত বন্ধ করেন। এখন অনেক দুঃসময়। দলের ভেতর আগে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। নেতাকর্মীদের কথা শোনেন। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তা না হলে আমাদের কারোরই মুক্তি হবে না।
খালেদা জিয়াকেও মুক্ত করা যাবে না। ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমরা আজ মানুষের কাছে যেতে পারছি না। কিন্তু দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফেরাতে হলে, দেশনেত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে হলে আমাদের মানুষের কাছে যেতে হবে। আমি বলবো- সারা দেশে জনে জনে জনতা গড়ে তুলুন। সবাই উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন- জেলের তালা ভাঙবো, খালেদা জিয়াকে আনবো। যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দায়িত্ব পালন করতে না পারলে পদ ছেড়ে দেন। নেতাদের বলবো, এক বছরের মধ্যে কোন কমিটি দেয়ার কথা বলবেন না।
কারণ কমিটি দেয়ার সময় নেতাকর্মীদের ভিড় জমে। এরপর ৫ জন পুলিশ দেখলেই পালিয়ে যায়। আর তারাই যখন বড় বড় কথা বলেন তখন আমার লজ্জা হয়। এদের মধ্য আমিও একজন। সুতরাং আমরা যদি না পারি তাহলে নিজে থেকেই সরে যাওয়া উচিত। তা না হলে কিছুদিন পর কর্মীরা আমাদেরকে ঘিরে ধরে বলবে আপনারা ব্যর্থ। দলের নীতি নির্ধারকদের কাছে প্রশ্ন রেখে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, আমাদের সমস্যাটা কোথায়? কেনো আমরা পারছি না। সরকার পতনের মধ্যে দিয়েই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বলেন, আমরা আন্দোলনে সফল হতে পারিনি। আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতার কারণে যদি অন্তর্দহনে জ্বলি তাহলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবো না। তাই আমাদেরকে রাজপথে জীবন দেয়ার মতো আন্দোলন দিতে হবে। কেবল মাত্র স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাকে মুক্ত করতে পারবো না।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে- দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এদিকে সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের বক্তব্য শেষে দর্শকসারি থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভুয়া, ভুয়া বলে স্লোগান দিয়ে উঠেন। এছাড়া আলোচনা সভা চলাকালে কয়েকবার আন্দোলন কর্মসূচি চেয়ে স্লোগান দেন তৃনমূল নেতাকর্মীর।

রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ধর্মের অপব্যবহার করছে

সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে এমন মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে কোনো দেশ এগোতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে এদেশে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যবহার করছে। বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বে যখন ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতির উত্থান ঘটছে, তখন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী  জেসিন্ডা আহডার্ন এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাই তারা ঘৃণা, বিদ্বেষ, বিভাজনের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর শান্তি ও সমপ্রীতির অনন্য নজির স্থাপনের জন্য জেসিন্ডাকে শান্তিতে নোবেল দেয়ার দাবি জানান বক্তারা। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহতদের প্রতি শোক ও সংহতি শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনেরা এ আহ্বান জানান। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সলিডারিটি এগেইনস্ট ইনটলারেন্স, হেইট্রেট অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম’ এ শোক ও সংহতি সভার আয়োজন করে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে ক্ষমতালোভীরা ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করার জন্য হিংসা করা উচিত নয়। রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার করা যাবে না। মানুষের মধ্যে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যায় না। এটা সারা দেশের মানুষ বিশ্বাস করে। বৈষম্য হলো নীতি, ঐতিহ্য ও ধর্মের পরিপন্থী। ড. কামাল বলেন, স্বাধীনতার অর্জনগুলো ধরে রাখতে সমপ্রীতির মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিতে হবে। সংবিধানেও ধর্মের অপব্যবহার না করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, আমাদের দায়িত্ব সবধর্মের সঙ্গে সমপ্রীতি গড়ে তোলা। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, মানুষের সব অধিকারকে রক্ষা করতে হবে।
মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে রক্ষা করার জন্য আমাদের কথা বলতে হবে। মানবাধিকার হত্যা করার জন্য নয়, সবার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তুমি মুসলমান না বাঙালি এই পরিচয় আমাদের বড় পরিচয় নয়। সবধর্মের মধ্যে সমপ্রীতি গড়ে তোলা ও ধর্মের অপব্যবহার না করার এ মূল্যবোধ জাগ্রত করেই এবারের স্বাধীনতা দিবস পালন করুন। তিনি বলেন, আজকে যারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এটি খুবই সময় উপযোগী অনুষ্ঠান। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর থেকে অনেক কিছু শেখার আছে জানিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নিউজিল্যান্ড আজ দৃষ্টান্ত হলো। তাঁদের ধর্মের নয়, অন্য ধর্মের লোকদের নৃশংসভাবে হত্যার পর তাদের পাশে দাঁড়ানোয়।
মানবিক দৃষ্টান্ত থেকে তাঁরা এ ভূমিকা পালন করেছেন। আমরা দেখেছি রাষ্ট্রের নির্দেশে রেডিও-টিভিতে আজান প্রচার হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিজাব পরে জুমার নামাজ পাহারা দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, দেশেও অনেক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম খুনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কাউকে লজ্জিত হতে দেখা যায়নি। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ধর্ম যখন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তখনই তা মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঠিক একটা বিপরীত জগতে আমরা বসবাস করছি। আমরা মানবতার চাষ করি না, হিংসার চাষ করি। আমাদের মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র ও রাজনীতির মধ্যে ধর্ম আনা যাবে না। মান্না বলেন, নিউজিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বিশ্বব্যাপী মানবতাবাদীর পরিচয় পাচ্ছেন। আর আমাদের রাষ্ট্র কিসের চর্চা করছে আমরা কি দেখছি না! এই দেশে আজ মানবতা নেই, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলা হচ্ছে, গুম-খুনের কোনো বিচার নেই। মানুষ ভোট দিতে পারে না। তাহলে এ দেশে কি মানবতা আছে? নিউজিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেনি। এজন্য তিনি মডেল। আর আমাদের দেশে এই ধর্মকে ব্যবহার করে ধর্ষণের পর দায়ভার অন্যের কাধে তুলে দেয়া হচ্ছে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে হলি আর্টিজানের পর একজনকেও জীবিত ধরতে পারেনি। আর নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় দেখেছি জীবিত ধরেছে। বাংলাদেশে এভাবে মানুষ মারার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স আসতে হবে। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডে কোনো প্রোগ্রাম করতে অনুমতি লাগে না। পুলিশকে জানালেই হয়। আর আজ পুরো বাংলাদেশ বসে আছে আগুনের উপর। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, বাংলাদেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই ঘৃণা ও বিভাজন ছড়িয়ে দেয়া হয়। মতবিরোধ ও সমালোচনা থাকবে কিন্তু বিভাজন দূর করে রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করতে জেসিন্ডা নতুন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন। আলোচনা সভায় জেসিন্ডাকে ‘প্রকৃত মানবতার মা’ উপাধি দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে হামলাকারী যে অন্ধকার ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন, তা প্রতিরোধ করে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া শোক ও সংহতি সভাটি সঞ্চালন করেন জামায়াতের বহিষ্কৃৃত নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু। বিভেদ, বিদ্বেষ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রফেসর দিলারা চৌধুরী, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিজন কান্তি সরকার, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, মাওলানা সাইয়েদ কামাল উদ্দিন জাফরী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও যায়যায়দিনের সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নূরুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ই মার্চ ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে জুমার নামাজের সময় হামলা চালিয়ে অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত উগ্রপন্থী ব্রেনটন টারান্ট পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৫০ মুসলিমকে হত্যা করে। এতে আহত হন অন্তত ৫০ জন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদার মুক্তিই অঙ্গীকার: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিই তাদের অঙ্গীকার।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যে চেতনা ও আদর্শ সামনে নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, আজকে তা সম্পূর্ণভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।’
মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একটা চক্রান্ত প্রায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চলেছে। জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে। ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এটা চরম দুর্ভাগ্যজনক।
বিএনপির মহাসচিবের ভাষ্য, দেশের মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। সাধারণ মানুষের চলাফেরার নিরাপত্তা পর্যন্ত নেই।
মহান স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতার লক্ষ্য, আদর্শ ও চেতনা পুনরুদ্ধার করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। এ ছাড়াও তিনি বলেন, আজকে এই দিনে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে শপথ নিতে হবে ৷ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আসেন দলটির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, খায়রুল কবির, শামা ওবায়েদ প্রমুখ।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে স্বাধীনতার ৪৯ বছর উপলক্ষে প্রথমে প্রেসিডেন্ট ও পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ঢাকাসহ সারা দেশে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ফুল দেয়ার পর প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। গার্ড অব অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল।
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, কেবিনেট সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানেরা।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, মেয়র সাঈদ খোকন ও আতিকুল ইসলাম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

কুলাউড়ায় একই পরিবারের ৫ জনের ইসলাম গ্রহণ

কুলাউড়ায় ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৫ জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তারা হলেন- কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা নিতাই মালাকার (৬০), স্ত্রী রত্না মালাকার (৫০), কন্যা শিল্পী মালাকার (১৮), পুত্র রিপন মালাকার (১৩) ও আরেক কন্যা শিখা মালাকার (১০)। রোববার রাত ১০টায় ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদে স্বেচ্ছায় উপস্থিত হয়ে তারা ধর্মান্তরিত হন। ভাটেরা বাজার মসজিদের ইমাম হাফেজ হিফজুর রহমানের কাছে পবিত্র চার কালিমা পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তারা। ভাটেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এম সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের পাঁচজন স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাটেরা ইউনিয়নের মাইজগাঁও  রেলওয়ে কলোনিতে বসবাসরত নিতাই দাস (৫০) ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আগ্রহী হন। বিষয়টি তিনি ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানালে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেন। রোববার রাতে ইউনিয়ন পরিষদেই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র কালিমা পড়ে নিতাই দাসের পরিবারের পাঁচ সদস্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
ধর্ম গ্রহণ করার পর নিতাই দাসের নাম পরিবর্তন করে ইব্রাহিম, স্ত্রীর নাম রহিমা,  ছেলের নাম ইসমাইল এবং মেয়ের নাম কুলছুমা ও ফাতেমা রাখা হয়। এ ব্যাপারে ভাটেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী পরিবারটি বর্তমানে মুসলমানদের সাহায্য ও সহযোগিতায় নিরাপদে আছে। ইব্রাহীম আলী জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণকালে তাদের কাপড়-চোপড়সহ তাৎক্ষণিক খরচের যোগান পেয়েছি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমরা অনেক খুশি এবং আনন্দিত।

এরপরও মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট পেলাম না by মতিউর রহমান চৌধুরী

শুরুটা কীভাবে করবো জানি না। কারণ সবকিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে। বিশেষ করে ২৬শে মার্চ এলে সবই যেন উলটপালট হয়ে যায়। শুধু ভাবি আর ভাবি। এখনো বেঁচে আছি সে তো বিস্ময়কর। বাঁচার কোনো কথাও নয়। অনেকেই বাঁচেনি। পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে কয়জনই-বা বাঁচতে পেরেছিল।
১৯৭১-এর ২৬শে মার্চ সকাল। সাত বন্ধু মিলে মৌলভীবাজারের সদর রাস্তায় ব্যারিকেড দিতে গেলাম। উদ্দেশ্য পাকবাহিনীর গতি রোধ করা। সারা বাংলা তখন প্রতিরোধে জ্বলছে বারুদের মতো। বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব কায়েম হয়ে গেছে পূর্ব বাংলায়। আলোচিত স্বাধীনতা যুদ্ধও শুরু হয়ে গেছে। প্রস্তুতি চারদিকে। মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। সমঝোতার  সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
একমাত্র অপশন তখন সরাসরি যুদ্ধ। যেটাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বলছি। কারো ডাকের অপেক্ষায় নয়। ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় পাকবাহিনী নারকীয় হত্যাযজ্ঞের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লো সারাদেশে। রাত থেকেই প্রতিরোধের প্রস্তুতি। খালি হাতে কি প্রতিরোধ করবো? কে তখন বাধা দেয়। সাত বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম পাকবাহিনীকে মৌলভীবাজারে রুখতে হবে। কি পাগলামি দেখুন। মৌলভীবাজার গভর্নমেন্ট স্কুলের সামনে গাছপালা, ইট ফেলে রাস্তায় ব্যারিকেড দিচ্ছি। এমন সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক এসে থামলো। আচমকা, জাস্ট হল্ট। পাকসেনারা একে একে ট্রাক থেকে নামলো। সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম। পালাবার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাকে তুলে নিল সবাইকে। ভয়ে রীতিমতো কাঁপছি। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ওরা আমাদেরকে? পরের গন্তব্যই বা কি হবে? শুধু ভাবছি বাড়ির কেউ তো জানতে পারবে না। আমার ভাগ্যে কি ঘটেছে। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে অল্প দূরে সার্কিট হাউসের সামনে গিয়ে থামলো ট্রাক। পাশেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। পাকবাহিনী সেখানেই ঘাঁটি গেড়েছে। চোখ বাঁধা অবস্থায় আমাদেরকে নিয়ে গেল এক অন্ধকার ঘরে।
হাত বাঁধার পর দাঁড়িয়ে থাকতে বললো। সকাল গড়িয়ে দুপুর। কিছু খেতেও দেয় না। বরং হাত বাঁধা আছে কি না একজন দেখে গেল। বিকাল ৩টা। হাত খুলতে এলো এক সেপাই। উর্দুতে কি যেন বললো। এরপর দুখানা রুটি দিল। সঙ্গে কিছু হালুয়া। প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। খেতে ইচ্ছে হয়। আবার হয় না। রাগে ক্ষোভে তখনো জ্বলছি। কি করবো? রুটি খেলাম একখানা। কখন যে রাত হয়ে গেছে। বেত নিয়ে এলো এক অফিসার। পায়ে এবং পিঠে আঘাত করতে থাকলো। বাইরে তখন কার্ফু জারি হয়ে গেছে। রাতটা কাটলো এভাবেই। ভোর হতেই শুনলাম আমাদের চার বন্ধুকে ওরা আলাদা করে রেখেছে। এর বেশি কিছুই জানি না। নিজের কথা ভাবছি। ব্রাশফায়ার কি আমার জন্য অপেক্ষা করছে। নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকলো। দাঁড়াতেই পারছি না। ঘুমানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম। কারণ পাশের রুম থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছি।
সে কি কান্না! আর কাদের ধরে আনলো। চার বন্ধুর খবরই বা কি? শহরে কি হচ্ছে তাও জানিনা। সহযোদ্ধারা কি করছে তাও জানার উপায় নেই। তিনদিন এভাবেই কেটে গেল। চারদিন পর হাত খুলে দিল ওরা। এখন কি করবে? ছেড়ে দেবে নাকি ব্রাশফায়ারের জন্য নিয়ে যাবে। এই ভাবনার মধ্যেই একটি বাঙালি কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছি। চোখ এমনভাবে বাঁধা কিছুই বোঝার উপায় নেই। দেখতেও পাচ্ছি না। অন্ধকার ঘরে আরো কয়েকজনের কথাবার্তা শুনতে পাচ্ছি। এক বাঙালি ক্যাপ্টেন এলেন। বাতি জ্বলে উঠলো। বললেন, প্রস্তুতি নাও। কিসের প্রস্তুতি। আমরা তিন বন্ধুকে জড়ো করলো। বাকি চারজনের খবর নেই। রাত বাজে তখন চারটা। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে আমাদেরকে নিয়ে চললো। বেশ খানিক পথ হাঁটার পর বললো- ওধার যাও।
এখনই বুঝি শেষ। ভয়ে ভয়ে হাঁটছি। কিছুদূর যেতেই টের পেলাম ওরা পেছনে নেই। এরপর হাঁটতে থাকলাম। চৌমুহনায় গিয়ে শুনলাম আমাদের চার সহযোদ্ধাকে মৌলভীবাজার শহরের লাগোয়া মনু ব্রিজের ওপর দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করেছে। শহীদ হয়ে গেছে ওরা চারজন। আর আমি বেঁচে আছি! সে তো বিস্ময়কর। বাড়িতে খবর গেছে পাকবাহিনী আমাকে হত্যা করেছে। বাড়িতে তখন কুলখানিও হয়ে গেছে। কি করে যে বেঁচে গেলাম এই প্রশ্নের জবাব কখনো পাইনি। পাবার কথাও নয়। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। হেঁটে যখন বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালাম, তখন বড্ড ক্লান্ত। শরীর আর চলছে না। ভয়ে শরীর হিমশীতল হয়ে যাচ্ছে বার বার। এই বুুঝি পাকবাহিনী আসলো। সন্ধ্যায় যখন গ্রামে পা বাড়ালাম তখন শোরগোল পড়ে গেল। অবাক বিস্ময়ে একজন অন্যজনের দিকে তাকাচ্ছে। আমি তখনো বুঝতে পারিনি। কি হয়েছে আসলে। একজন এসে সরাসরি প্রশ্ন করলো, আপনি বেঁচে আছেন? আমরা তো এই বিকালেই আপনার বাড়িতে কুলখানি করে এলাম। কে একজন দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে খবর দিয়েছে- আমি বাড়িতে আসছি। বাড়ির সবাই ছুটে এলো আমাকে দেখতে।
সেটা আমার জীবনে এক ইতিহাস হয়ে রইলো। একা একা বসে যখন ভাবি তখন হিসাব মেলাতে পারি না। একই প্রশ্ন সামনে আসে বার বার। দেশের ডাকে এগিয়ে গিয়েছিলাম কিছু প্রাপ্তির জন্য নয়। যদিও দেশ আমাকে অনেক দিয়েছে। অনেকেই বলেন, কি ব্যাপার আপানার সার্টিফিকেট কই? বিনীতভাবে তাদের বলি, কারো সার্টিফিকেট পাবার জন্য প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশ নেইনি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও সেদিন পাকিবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলাম। গ্রামের বাড়িতেও শান্তি ছিল না। পাকবাহিনীর নজরে ছিল বাড়িটি। আরো একবার তো গ্রেপ্তারই হয়ে গিয়েছিলাম। সেবার বাহুবলে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যখন বাড়ি ফিরছি তখন পথিমধ্যে পাকবাহিনীর এ্যাম্বুশে পড়েছিলাম। জীবন সায়াহ্নে এসে প্রশ্ন জাগে- আসলেই তো একখানা মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট পেলাম না কেন? যারা যুদ্ধে অংশ নিল না তারা তো সার্টিফিকেট পেয়ে গেল। সুযোগ-সুবিধা নিল। অদ্ভুত এক দেশের বাসিন্দা আমরা। এখানে সরকার বদলায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকাও বদলে যায়। আর এই অশুভ প্রক্রিয়াকে রাষ্ট্র মদদ দেয়। স্বাধীনতার পর পর স্বচক্ষে দেখেছি দশ টাকায় মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট বিক্রি হতে। দল বেঁধে আমরা পল্টন ময়দানে এসব ভুয়া সার্টিফিকেট পুড়িয়েছি। তৎকালীন পত্রপত্রিকায় আমাদের ছবিও ছাপা হয়েছিল। এ নিয়ে ঝামেলা যে হয়নি তা নয়। এসবি আমাদের পিছু নিয়েছিল। যুদ্ধ শেষে কি করবো? কিছু একটা তো করতে হবে।
৭০ সন থেকেই লেখালেখির অভ্যাস। মফস্বল সাংবাদিকতার সঙ্গেও জড়িয়ে গিয়েছিলাম। সাপ্তাহিক বাংলার বাণীতেও লিখতে শুরু করলাম। শেখ ফজলুল হক মনি যিনি আমার সাংবাদিকতার গুরু। তার নির্দেশেই পুরোদস্তুর সাংবাদিক হয়ে গেলাম। তিনি বলতেন অস্ত্রের যুদ্ধ শেষ। এখন কলমের যুদ্ধ করতে হবে। তার কথায়, পাকিস্তানিরা সাংবাদিকতাকে কব্‌জা করে রেখেছে। ওদের কাছ থেকে সাংবাদিকতাকে মুক্ত করতে হবে। যোগ দিলাম সাংবাদিকতায়। এখনো আছি। দেখতে দেখতে প্রায় ৫০ বছর হয়ে গেল। কত কিছুই যে দেখলাম। বার কয়েক জেলেও গেলাম এই পেশাকে ভালোবাসতে গিয়ে। চাকরি হারালাম অন্তত তিনবার। বিদেশেও কাটাতে হলো বেশ কিছু সময়। দেশে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার রূপে স্বীকৃত। বাংলাদেশের সংবিধানেও তা সন্নিবেশিত রয়েছে। কিন্তু কোথায় যেন বাধা! কে যেন পেছন থেকে ডাকছে।

বাংলাদেশকে এখন সবাই সম্মানের চোখে দেখে -স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের এক দশকের চেষ্টায়  দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। মাথাপিছু আয় এ অর্থবছরে  বেড়ে ১৯০৯ ডলার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আজকে বাংলাদেশের কথা শুনলে সবাই সম্মানের চোখে দেখে, এটুকুই আমার তৃপ্তি। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুফলটা যেন বাংলার জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারি, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি এবং আর্থ-সামাজিকভাবে যেন আমরা উন্নত হতে পারি, উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে যেন একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারি- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যার সুফল দেশবাসী পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে দেশের ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে গৌরবময় ও অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ এ ভূষিত করেন। গত ১০ই মার্চ এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে সরকার। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (মরণোত্তর), শহীদ এটিএম জাফর আলম (মরণোত্তর), একেএম মোজাম্মেল হক, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. কাজী মিসবাহুন নাহার, আবদুল খালেক (মরণোত্তর) ও অধ্যাপক মোহাম্মাদ খালেদ (মরণোত্তর), শওকত আলী খান (মরণোত্তর), চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম, সমাজ সেবায় ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, সংস্কৃতিতে মুর্তজা বশীর, সাহিত্যে হাসান আজিজুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অধ্যাপক ড. হাসিনা খান।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারকে (বিআইএনএ) এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে ৩ লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি পদক এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের পরিচিতি তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিচারপতিগণ, সংসদ সদসগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিদেশি কূটনিতিকবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এক দশকের প্রচেষ্টার ফলে এই অর্থবছরের শেষ নাগাদ জাতীয় প্রবৃদ্ধি আমরা ৮ ভাগে নিয়ে যেতে সক্ষম হব। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭শ’ ৫১ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ নয় মার্কিন ডলার হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ, তারা আমাদেরকে আস্থায় নিয়েছেন, বিশ্বাস রেখেছেন, আমাদের ভোট দিয়ে আবার তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন এবং সামনে আরো কিছুদিন আমরা সময় পাচ্ছি, এদেশটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। তার এবং দলের চলার পথ সবসময়ই কণ্টকাকীর্ণ ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের চলার পথ কখনই সহজ ছিল না। একটা দৃষ্টান্ত দিতে পারি যখন পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে আমার বা আমার পরিবারের ওপর দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলো তখন আমরা সেটাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম যে, দুর্নীতি কোথায় হয়েছে সেটা প্রমাণ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংক সেটা প্রমাণ করতে পারেনি। তারা ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি সততার সঙ্গে, নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা না করতাম তাহলে কখনই এই চ্যালেঞ্জ নিতে পরতাম না। তিনি বলেন, সততাই হলো সব থেকে বড় শক্তি। আর সেই শক্তি ছিল বলেই সকল ষড়যন্ত্র আমরা মোকাবিলা করতে পেরেছিলাম। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণর সিদ্ধান্তে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আজকে আমাদের সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আমরা স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে পেরেছি, সেজন্য আমরা নিজেদেরকে ধন্য মনে করি।
আমরা গুণীজনকে সম্মান জানাতে পেরেছি। তবে, আমাদের দেশ ও সমাজের আনাচে-কানাচে আরো এমনি বহু গুণীজন ছড়িয়ে রয়েছেন। ’৭৫-এর পরে নির্বাচন ব্যবস্থা ধসে পড়া এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও অপরাজনীতির অনুপ্রবেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এর প্রেক্ষিতে জাতির পিতার কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ তথা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য আলোচনায় তুলে ধরেন। ’৭৩-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে থাকা দলগুলো ৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা কখনও নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না সেসব রাজনৈতিক দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতির পিতা বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ গড়েছিলেন। এটি একটি জাতীয় ঐক্যভিত্তিক প্লাটফর্ম ছিল। যেখানে ঐক্যের মধ্য দিয়ে সকলেই দেশের কাজ করবে এবং সেখানে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে তিনি উন্নয়নের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যেই ব্যবস্থাটা নিয়েছিলেন সেটা কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশে জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে আর কেউ খেলতে পারতো না। নিজের মনের মতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনগণ নির্বাচিত করতে পারতো। সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতা সে সময় নির্বাচনের যে পদ্ধতি করেছিলেন সে অনুযায়ী যার যার নির্বাচন সে সে করতে পারবে। নির্বাচনের খরচ প্রতিটি প্রার্থীকে দিয়ে দেয়া হবে রাষ্ট্রের তরফ থেকে। প্রতি আসনের জন্য পৃথক একটি করে পোস্টারে সকল প্রার্থীর নাম ছাপিয়ে দেয়া হবে কাজেই জনগণের সঙ্গে যার যোগাযোগ আছে, সম্পৃক্ততা আছে তারা নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ ভোটের অধিকার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে যাতে পৌঁছায়, তারা যেন স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে সেই সুযোগ তিনি করে দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু’টি নির্বাচন হয়েছিল সে সময়। এর একটি কিশোরগঞ্জে অপরটি পটুয়াখালীতে। সেখানে বড় কোনো দলের কেউ নয়, সাধারণ একজন স্কুল মাস্টার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ অর্থ-বিত্ত দিয়ে কেউ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার একটা কথা ছিল একটা বিপ্লবের পর সমাজে একটা বিবর্তন আসে। যেসব দেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে সেসব দেশেই এমনটি হয়, পরিবর্তন বা বিবর্তনের পরে কিছু লোক আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে যায়। সেটা যেন সমাজে স্থান না পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তিনি এই বাকশাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে আমাদের জনসংখ্যা বেশি এবং চাষের জমি কম থাকায় সেখানে তিনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন সমবায়ের মাধ্যমে আমাদের দেশে উৎপাদন হবে।

ভেনেজুয়েলায় দুটি সামরিক বিমান পাঠিয়েছে রাশিয়া

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছে রাশিয়ার দুটি সামরিক বিমান। গত শনিবার কয়েক ডজন সেনা ও বিপুলসংখ্যক সরঞ্জাম নিয়ে বিমান দুটি কারাকাসে অবতরণ করে। রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা স্পুটনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তিগত সামরিক চুক্তি পূরণে এই সামরিক বিমান পাঠানো হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক হাভিয়ার মায়রকা এক টুইটার বার্তায় বলেন, তিনি উড়োজাহাজগুলো থেকে প্রায় ১০০ জন সেনা এবং ৩৫ টনের মতো সরঞ্জাম নামাতে দেখেছেন। মায়রকা ওই টুইটে আরও বলেন, রাশিয়ার বিমানবাহিনীর অ্যান্তনভ-১২৪ বিমান ও একটি ছোট জেট কারাকাসে অবতরণ করে। রাশিয়ার জেনারেল ভাসিলি তনকুশকরাভ সৈন্যবাহিনীকে বিমান থেকে নামানোর কাজ পরিচালনা করেন।
তিন মাস আগে যৌথ সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সম্মত হয় দুই দেশ। আর এর পরেই এই উড়োজাহাজ পাঠাল রাশিয়া।
ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশকে কোটি কোটি ডলার ঋণ ও দেশটির তেলশিল্প ও সামরিক শক্তিকে সব সময় সমর্থন দিচ্ছে তারা।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে আসছে রাশিয়া।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর মস্কো ও ভেনেজুয়েলার মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলায় দুটি পরমাণু বোমারু টিইউ-১৬০ বিমান পাঠায় রাশিয়া। মাদুরোর প্রতি সমর্থন ও একই সঙ্গে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রকাশের জন্য এ বিমান পাঠায় তারা। ওই বিমান দুটি ব্ল্যাকজ্যাক নামে পরিচিত। এর সঙ্গে রয়েছে একটি এএন-১২৪ পরিবহন বিমান এবং আইএল-৬২ যাত্রীবাহী বিমান।
বেশ কিছুদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। খাবার ও ওষুধের মতো মৌলিক পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানকার জনগণ। অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ২০১৫ সাল থেকে কমপক্ষে ২৭ লাখ মানুষ ভেনেজুয়েলা ছেড়ে পালিয়েছেন। এর মধ্যে গত ১০ জানুয়ারি মাদুরো দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত বছর এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে জয়ী হন মাদুরো। বিরোধীরা প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন দাবি করছে। পরে গত ২৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও পার্লামেন্টের স্পিকার গুয়াইদো নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন; যদিও দেশটির অঙ্গরাজ্য ও সেনাবাহিনীর ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ২০টির বেশি দেশ হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে মিত্র হিসেবে রাশিয়াকে সব সময় পাশে পাচ্ছেন মাদুরো।

উঁচু পর্যায়ের তদন্ত হবে: নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে উগ্র শ্বেতাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী সন্ত্রাসীর হামলায় ৫০ মুসল্লি নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্ত করবে দেশটির সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা ‘রয়্যাল কমিশন’। আজ (সোমবার) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।
তিনি বলেন, “হামলার ঘটনাটি আমাদের ইতিহাসের কালো অধ্যায়। তাই সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা রয়্যাল কমিশন এর তদন্ত করবে।” মন্ত্রিসভার বৈঠকে সদস্যরা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে তিনি জানান। ওই হামলা প্রতিরোধে করণীয় কী ছিল তাও খাতিয়ে দেখবে রয়্যাল কমিশন।
এর আগে, হামলার বিষয়টি তদন্তে একমত হয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ তবে কী ধরনের তদন্ত হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি তখন।
গত ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৪৮ জন আহত হন। হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী ব্রেনটন টেরেন্টকে পরে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। তবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের মানবিক ভূমিকায় মুগ্ধ হয়েছে পুরো বিশ্ব।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ। স্বাধীনতার ৪৮তম বার্ষিকী। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল সূচনার দিন। স্বাধীনতার বাঁধনহারা আনন্দে, উৎসবে উদ্বেলিত হওয়ার দিন। যাদের ত্যাগ আর রক্তে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখণ্ড সেই বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। মুক্তির আনন্দে সমৃদ্ধির শপথে মুষ্টিবদ্ধ হওয়ার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্দীপ্ত হয়ে মুক্তির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল মুক্তিকামী জনতা। ঘোষণা হয়েছিল বাংলার স্বাধীনতা।
নানা আয়োজনে এবার পালিত হচ্ছে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পুরো জাতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের। উৎসবের আনন্দে পালিত হবে স্বাধীনতার বার্ষিকী। শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতি স্মরণ করবে স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। দিবসটি  উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যুষে একত্রিশ বার  তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে  প্রেসিডেন্ট  মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
এদিকে, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। এসময় সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হবে। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে সম্ভব হলে বাংলাদেশের সঙ্গে একই সময়ে এবং অন্যরা একই দিনে সুবিধাজনক সময়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন কর্মসূচি পালন করবে।
আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও  বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও রঙিন পতাকায় সজ্জিত করা হবে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত নাট্যমঞ্চ (অ্যাম্পিথিয়েটার) থেকে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এবং সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নৌপথে বিশিষ্ট শিল্পীগণের অংশগ্রহণে  দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশিত হবে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ  ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। দেশের সকল হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সকল শিশুপার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রাবন্দর এবং ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, বরিশাল ও চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও  কোস্টগার্ডের জাহাজসমূহ বিকাল ২টা থেকে ঐদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয়  স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সকল বিভাগ,  জেলা ও উপজেলা সদরে সকালে কুচকাওয়াজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ দু’দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ ভোরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ও সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। এ ছাড়াও আগামীকাল ২৭শে মার্চ বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। এদিকে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পালিত হবে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালোরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল-দীর্ঘ নয় মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে দামাল বাঙালি এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ  ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্ত ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক  নেতাকর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে।  গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা  ঘোষণা করেন। শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতার যুদ্ধ। এর আগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মূলত স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সর্বকালের সেরা এই ভাষণ এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ দেশবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন  দেখতেন। তাই তো তিনি স্বাধীনতার পর পরই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক চড়াই উৎরাই  পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা  সেতু, মেট্রোরেলসহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আজ বাংলাদেশ মহাকাশেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। জাতি ২০৪১ সালে একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্যের ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত।
পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২৬শে মার্চ বাঙালির আত্মপরিচয় অর্জনের দিন। পরাধীনতার শিকল ভাঙার দিন। তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিপুলভাবে বিজয়ী করেছে। বর্তমান সরকারের ওপর দেশের মানুষ যে দৃঢ় আস্থা রেখেছে, সরকার তার পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করবে। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ  দেশে পরিণত করবে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের এই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। গড়ে তুলি জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ  সোনার বাংলাদেশ। আজকের এ ঐতিহাসিক দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা তেরেসা মে’র

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র পদ। তিনি ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বৃটিশ বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, তার মন্ত্রীপরিষদের ভিতরেই ‘ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে। তারা তাকে সরিয়ে দিয়ে নতুন কাউকে ক্ষমতায় আনতে চাইছেন। এক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন তেরেসা মের ডেপুটি ডিভিড লিডিংটন এবং পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গভ। তবে এ দু’জন এমন আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তেরেসা মের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন মাইকেল গভ ও লিডিংটন। মাইকেল গভ বলেছেন, ‘জাহাজের ক্যাপ্টেনকে পরিবর্তনের সময় নেই’।
অন্যদিকে ডেভিড লিডিংটন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের প্রতি তার শতভাগ আস্থা রয়েছে। কিন্তু মিডিয়া যেসব খবর দিচ্ছে তাতে তেরেসা মের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ পড়ারই কথা।
অনলাইন স্কাই নিউজ লিখেছে, ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এমপিরা চাইছেন ব্রেক্সিট ইস্যুতে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিতে। এমন এক উত্তেজনাকর অবস্থায় কঠিন একটি সপ্তাহে যাত্রা শুরু করছে বৃটেন। রোববার বিকেলে তাই প্রধানমন্ত্রী উদ্ভুত সমস্যার বিষয়ে তার কান্ট্রি হাউজ বলে পরিচিত চেকারস-এ নিজ দল কনজার্ভেটিভের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন, যেন তারা তার ব্রেক্সিট চুক্তিকে স্বাগত জানান, সমর্থন দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্রেক্সিটপন্থি ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে পরিচিত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন, জ্যাকব রিস-মগ ও ডেভিড ডেভিস।
এই বৈঠকের সফলতা কতটুকু অর্থাৎ তিনি সদস্যদের কতটুকু আস্থায় আনতে পেরেছেন সে বিষয়ে তার অফিস থেকে কোনো ইঙ্গিত মেলে নি। তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমপিরা আলোচনা করেছেন, ব্রেক্সিট ইস্যুতে তেরেসা মে পার্লামেন্টে যে পরিকল্পনা তৃতীয়বার ভোটে আনবেন তাতে পর্যাপ্ত সমর্থন আছে কিনা তা নিয়ে। এর আগে তেরেসা মে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি তিনি দেখেন তার তৃতীয় দফা পরিকল্পনায়ও পর্যাপ্ত সমর্থন পাবেন না তাহলে হয়তো তিনি তা পার্লামেন্টের সামনে উপস্থাপন নাও করতে পারেন।
ওদিকে রোববার পত্রিকাগুলো খবর প্রকাশ করে যে, মন্ত্রীপরিষদে একটি অভ্যুত্থান চেষ্টা চলমান। তাতে প্রধানমন্ত্রী কবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিচ্ছেন সে বিষয়ে চাপ প্রয়োগকারী এমপিদের সংখ্যা বাড়ছে বলে রিপোর্টে বলা হয়। এমন অবস্থায় তার ব্রেক্সিট চুক্তি যদি অনুমোদন না পায় পার্লামেন্টে, তাহলে তেরেসা মে আরো অবমাননার মুখে পড়বেন এবং তার ওপর চাপ আরো বৃদ্ধি পাবে।
এ সপ্তাহে ব্রেক্সিট চুক্তির বেশ কিছু সংশোধনীর ওপর ভোট দেয়ার কথা রয়েছে এমপিদের। এসব সংশোধনী অনুমোদন পেলে ব্রেক্সিট সম্পাদন সহজ হয়ে উঠতে পারে। তবে কনজার্ভেটিভ পার্টির সাবেক মন্ত্রী স্যার অলিভার লেটউইন ও ডোনিক গ্রিয়েভ, বিরোধী লেবার দলের হিলারি বেন মিলে একটি প্রস্তাব সামনে আনছেন। তার অধীনে সরকারের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হতে পারে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ। এর ফলে ব্রেক্সিট সম্পাদনের কর্তৃত্বও সরকারের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ বারক্লে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন উদ্যোগ নেয়া হলে তাতে সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দিতে পারে এবং একটি জাতীয় নির্বাচনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।  ইতিমধ্যে বরিস জনসন বলেছেন, তেরেসা মেকে সমর্থন দেয়ার আগে তাকে প্রমাণ দেখাতে হবে যে ব্রেক্সিট নিয়ে দর কষাকষির পরবর্তী ধাপগুলো হবে ভিন্ন। এ বিষয়ে বরিস জনসন টেলিগ্রাফ পত্রিকায় লিখেছেন, ‘যদি তিনি (তেরেসা মে) এমন পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে না পারেন, তাহলে তার উচিত হবে এই চুক্তি থেকে সরে আসা এবং ব্রাসেলস ফিরে যাওয়া। তার আরো উচিত এমন কিছু শর্ত যোগ করা, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে থাকার পক্ষে যারা তাদের ও যারা বিপক্ষে সেই রিমেইনারস ও লিভারস, তারা উভয়েই বিশ্বাস করে।
তিনি আরো লিখেছেন, প্রয়োজন হলে বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত বর্ধিত করুন। ব্যবহার করুন মুক্ত বাণিজ্য বিষয়ক সমঝোতা, ফি প্রদানের বিষয় দর কষাকষিতে।
ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ বারক্লে বলেছেন, যদি সরকার চায় না, এমন কোনো বিষয়ে ব্রেক্সিট ইস্যুতে এই সপ্তাহে এমপিরা ভোট দেন তাহলে নতুন নির্বাচন আসবে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে গত সপ্তাহে লিসবন চুক্তির ৫০ অনুচ্ছেদের অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সময়সীমা বৃদ্ধির আহ্বান জানাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে তিনি ব্রেক্সিট সম্পাদন বিলম্বের জন্য এমপিদের দায়ী করে তার সমলোচনা করেন।
এর আগে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট নিয়ে দর কষাকষি করে দু’দফা এই প্রস্তাব বৃটিশ পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ হাউস অব কমন্সে উত্থাপন করেন। কিন্তু প্রতিবারই ভয়াবহভাবে পরাজিত হয়েছেন তেরেসা মে। নতুন করে তিনি এই বিলটি আবার পার্লামেন্টে তুলতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি এমপিদের কাছে লিখেছেন। তাতে বলেছেন, যদি তাকে পর্যাপ্ত সমর্থন দেয়া হয় তাহলেই তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করবেন পার্লামেন্টে।  এখন উত্তাল একটি সপ্তাহ তেরেসা মের সামনে। এখানে ব্রেক্সিট পক্রিয়ায় তিনি আরো পরাজিত হতে পারেন পার্লামেন্টে। এমন অবস্থায় তার সামনে ৬টি ভিন্ন পথ খোলা থাকতে পারে। তা হলোÑ ১. অনুচ্ছেত ৫০ বাতিল করা এবং ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়া। ২. আরেকটি গণভোটের ডাক দিতে পারেন। ৩. কানাডার স্টাইলে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ৪. কোনো চুক্তি ছাড়াই  ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া। ৫. প্রধানমন্ত্রীর চুক্তিতে যুক্ত হতে পারে একটি কাস্টমস ইউনিয়ন। ৬. যুক্ত হতে পারে কাস্টমস ইউনিয়ন ও একক বাজার সুবিধা।
কি ঘটছে এ সপ্তাহে?
সোমবার: এদিন সরকারের পরিকল্পিত ব্রেক্সিটের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তা নিয়ে বিতর্ক করবেন এমপিরা। বিতর্ক হবে বেশ কিছু সংশোধনী ও তার বিকল্প নিয়ে।
মঙ্গলবার: তেরেসা মে তৃতীয় দফা অর্থপূর্ণ ভোটের জন্য পার্লামেন্টে তুলতে পারেন ব্রেক্সিট চুক্তি। তবে যতক্ষণ  জয় নিশ্চিত হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এমন ভোট দেয়া হবে না।
বুধবার: এদিন ইন্ডিকেটেড ভোট হবে।
বৃহস্পতিবার: অর্থপূর্ণ ভোটের জন্য আবার তোলা হতে পারে চুক্তি।
শুক্রবার: এদিনই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বৃটেনের। তবে তা এখন ১২ই এপ্রিল হওয়ার কথা।

বিমানবাহিনী, ১৫ ব্যক্তি পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার

এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে স্বাধীনতা পদক ২০১৭তে ভূষিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭’ প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং উন্নয়নসহ জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করা হয়।
পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের একটি পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন - গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব:) শামসুল আলম বীরউত্তম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, শহীদ মো. নাজমুল হক, প্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী (মরণোত্তর), শহীদ এন. এম. নাজমুল আহসান (মরণোত্তর), শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ (মরনোত্তর), চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. এএইচএম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন ও মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শী (মরণোত্তর), সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রফেসর ড. এনামুল হক ও নৃত্যকলায় ওস্তাদ বজলুর রহমান বাদল, সমাজকল্যাণে খলিল কাজী (ওবিই), গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং প্রয়াত অধ্যাপক ড. ললিত মোহন নাথ (মরণোত্তর) এবং জনপ্রশাসনে প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং স্বাধীনতা পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের পক্ষে অধ্যাপক ড. এনামুল হক নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃব্য রাখেন।
পদকপ্রাপ্তরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক ও সনদ গ্রহণ করেন।
বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পদক প্রহণ করেন।
মরনোত্তর পদকের ক্ষেত্রে শহীদ মো. নাজমুল হকের পক্ষে ছেলে ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল ইসলাম হক, সৈয়দ মহসিন আলীর পক্ষে স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন এমপি, শহীদ এন.এম. নাজমুল আহসানের পক্ষে ছোট ভাই এম এন সদরুল আহসান, শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদের পক্ষে কন্যা মিসেস সুফিয়া খাতুন, মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শীর পক্ষে পুত্র গোলাম ইয়াজদানী কোরায়শী এবং প্রয়াত অধ্যাপক ড. ললিত মোহন নাথের পক্ষে স্ত্রী আরতি নাথ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক প্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদক বিজয়ীদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।