Monday, June 17, 2019

ইরানের চারদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর প্রস্তুতি

ইরানের চতুর্দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর প্রস্তুতি। অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে তারা অবস্থান করছে। ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরে যেকোনো সময় বড় ধরনের যুদ্ধের সূচনা ঘটতে পারে। বৃহস্পতিবার তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলাকে কেন্দ্র করে এমন আশঙ্কা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরান অস্বীকার করেছে অভিযোগ। এরই মধ্যে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আরো জোরালো কণ্ঠে বলেছেন, যেকোনো রকম হুমকি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে তার দেশ মোটেও দ্বিধাবোধ করবে না।
এসব কূটনৈতিক ভাষা। এর অর্থ হলো, এমন কোনো হুমকির প্রেক্ষিতে তারা সরাসরি সামরিক অভিযান চালাতে দ্বিধাবোধ করবে না। ওদিকে বৃহস্পতিবার হামলার বিষয়ে ইরান মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ বৃটেনের। এর জবাবে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানে নিযুক্ত বৃটেনের রাষ্ট্রদূত রব ম্যাকেয়ারকে তলব করে ইরান। বৃটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ওই বিষয়ে আলোচনা করতে বৃটিশ রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎ করেছেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে। তবে ইরানের মিডিয়া বলছে, ট্যাংকারে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলার নিন্দা জানিয়েছে ইরান। আবার পারস্য উপসাগরে বৃটিশ জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিতে রয়েল নেভি বা বৃটেনের নৌবাহিনীর নৌসেনাদের পাঠানো হচ্ছে। সেনাদের ৩০ এলিট সদস্যকে পারস্য উপসাগরে পাঠানো হবে অন্যদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি, ডেইলি মেইল।
প্রায় এক মাস আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে চারটি ট্যাংকারে হামলা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে দুটি ট্যাংকারে একই রকমভাবে হামলা হয়। এ হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। তারা এজন্য ইরানকে দায়ী করে বিবৃতি দেয়ার পর সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দৈনিক আশারক আল আওসাত পত্রিকাকে বলেছেন, আমরা এ অঞ্চলে যুদ্ধ চাই না। কিন্তু যদি আমার জনগণ, আমাদের সার্বভৌমত্ব, আমাদের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের ওপর হামলা আসে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতে কোনোই দ্বিধা করবো না। তিনি আরো বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী তেহরান সফরে থাকা জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রতি সম্মান দেখায় নি। তিনি যখন তেহরানে ছিলেন, তখন দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে তাকে জবাব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার জাপানি।
এ হামলায় ইরানকে দায়ী করে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল ফালিহ দ্রুততার সঙ্গে এবং চূড়ান্ত জবাব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার বিশ্বে শিপিং বিষয়ক সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সংগঠন বিআইএমসিও’র প্রধান জ্যাকব লারসেন বলেছেন, হামলার পর কিছু ফার্ম তাদের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী এবং ওমান সাগরে প্রবেশ না করতে নির্দেশ দিয়েছে। যদি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তাহলে ট্যাংকারগুলো ওই অঞ্চল পার করাতে সামরিক প্রহরার আয়োজন করতে হতে পারে।
ডেইলি মেইল লিখেছে, বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, বৃহস্পতিবারে ট্যাংকারে হামলার জন্য ইরান যে দায়ী তা সুনিশ্চিত হয়েছে লন্ডন। এর জবাবে তেহরানে নিয়োজিত বৃটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা বলছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বৃটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিথ্যা অভিযোগে বিবৃতি দেয়ার প্রতিবাদে বৃটিশ রাষ্ট্রদূতকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। ওদিকে হরমুজ প্রণালী বা ওমান সাগরে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ১৯৮০’র দশকের ‘ট্যাংকার ওয়ার’ বা ট্যাংকার যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ নিয়ে তখন একদিনের নৌ যুদ্ধ হয়েছিল। সেই আতঙ্ক এখন প্রতিদিনই বাড়ছে ওই অঞ্চলে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী একটি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তাদের দাবি, তাতে দেখা যাচ্ছে ইরানের একটি পেট্রোল বোট থেকে একটি অবিস্ফোরিত মাইন অবমুক্ত করা হচ্ছে। এ নিয়ে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তাতে অন্য দেশগুলো সতর্কতা অবলম্বনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। জার্মানি বলেছে, হামলায় ইরানের ভূমিকা আছে তার স্বপক্ষে একটি ভিডিওই যথেষ্ট নয়। এ হামলার জন্য কে বা কারা দায়ী তার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। সব পক্ষকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে চীন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

মোবাইল সেবায় শুল্ক বাড়ানো আত্মঘাতী-এএমটিওবি

বাজেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবকে আত্মঘাতী বলে অভিহিত করেছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এএমটিওবি)। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোবাইল ফোনের সব রকম সেবায় শতকরা ৫ ভাগ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। শনিবার তারা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলে আখ্যায়িত করে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি মোবাইল ফোনের সব রকম সেবার ওপর বিদ্যমান শতকরা ৫ ভাগ শুল্ক বাড়িয়ে ১০ ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এএমটিওবি’র সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেছেন, ইতিমধ্যেই দেশের এক কোটি ৬০ লাখ ৫ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাট দিচ্ছেন। সঙ্গে ফোনকল ও এসএমএস খাতে শতকরা একভাগ সারচার্জ দিচ্ছেন এবং ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহারে শতকরা ৭.৫ ভাগ ভ্যাট দিচ্ছেন। এর ওপর সরকারের ওই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে এসব মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ওপর বোঝা বাড়বে।
নতুন করে শুল্ক আরোপের ব্যাপারে এএমটিওবি বিবৃতিতে বলেছে, এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে আমরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছি এবং আমাদের হৃদয় পুরোপুরি ভেঙে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের দর্শনকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে টেলিকম শিল্প যে উল্লেখযোগ অবদান রেখে চলেছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তাকে খাটো করে দেখা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এতে আমরা গভীরভাবে বেদনাহত। ওদিকে জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনের পর পরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওই রাতেই নতুন সম্পূরক শুল্ক বাস্তবায়নের জন্য সব মোবাইল অপারেটরদের কাছে রেগুলেটরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এএমটিওবি  বলেছে, ব্যাপকভাবে স্বীকৃত বিষয় হলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের টেলিকম সেক্টরে। এই ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দেয়ায় ক্ষতিকর প্রভাব যা হবে তা হলো, বছরের পর বছর চারটি অপারেটরের মধ্যে তিনটি লোকসান দিতে থাকবে।
উপরন্ত প্রস্তাবিত বাজেটে সিম-এর ওপর ট্যাক্স ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে নতুন সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাবে। মোবাইল অপারেটররা সর্বনিম্ন যে আয়কর দিতো তা এখন শতকরা ২ ভাগে দাঁড়াবে, যা শতকরা ০.৭৫ ভাগের চেয়ে অনেক বেশি। এএমটিওবি বলেছে, এমন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাবনায় আমরা ভীষণ হতাশাগ্রস্ত। এটা ব্যাপকভাবে স্বীকার করে নেয়া হয় যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের শিখরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের বড় রকমের বিনিয়োগ আছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং এই শিল্পের পক্ষে সরকার তার প্রস্তাবনা ফিরিয়ে নেবে।  ৫ জি, ইন্টারনেট থিংস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বড় রকমের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে টেলিকম শিল্পকে দেশের স্বার্থের উপযোগী করা প্রয়োজন।

আপিল বিভাগের প্রশ্ন: ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়েও বড়?

দুদক পরিচালককে ঘুষ দিয়ে তা প্রকাশ করার পরও পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এ প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের কথা স্বীকার করার পরও দুদক কেন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না? সে কি দুদকের চেয়েও বেশি শক্তিশালী?
আপিল বেঞ্চ ঋণ কেলেঙ্কারি মামলায় বহুল আলোচিত হলমার্কের চেয়ারপারসন জেসমিন ইসলামের জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানিতে দুদকের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আদালতে এ দিন লিভ টু আপিলের পক্ষে শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং জেসমিন ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আবদুল মতিন খসরু। এ সময় আদালত হলমার্কের চেয়ারপারসন জেসমিন ইসলামকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল করে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
শুনানিকালে আদালত বলেন, আপনাদের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। এটা তো অ্যালার্মিং দেশের জন্য। জবাবে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, এর বিরুদ্ধে পিউনেটিভ অ্যাকশন নেয়া হয়েছে। আদালত তখন বলেন, কিসের পিউনেটিভ অ্যাকশন নিয়েছেন? আপনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর তথ্য পাচারের জন্য অ্যাকশন নিয়েছেন, ঘুষের কোনো অ্যালিগেশন আপনি নেননি, অ্যাকশন নেননি। কোনো কিছু করেননি।
দুদকের আইনজীবী বলেন, ঘুষের জন্য নিতে হলে আমাকে একটু অনুসন্ধান করতে হবে। অনুসন্ধান করে আমাকে এফআইআর দায়ের করতে হবে। আইনের বাইরে তো আমি কোনো কিছু করতে পারব না। আদালত বলেন, ডিআইজি মিজান কি দুদকের চাইতে বড়? তাকে তো আপনি অ্যারেস্ট করতে পারছেন না। হ্যাঁ, তাকে কেন অ্যারেস্ট করছেন না? এই মামলায় তাকে কেন অ্যারেস্ট করছেন না?
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদেরকে বলেন, এ মামলার শুনানিকালে আদালত আমাকে বেশ কিছু প্রশ্ন করেছেন। আদালত  দুদক তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের কথা স্বীকার করার পরও পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে দুদক কেন গ্রেপ্তার করতে পারছে না?  সে কি দুদকের চেয়েও বেশি শক্তিশালী? আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে আমি বলেছি-আমার যে লোক (দুদকের কর্মকর্তা) আমি তাকে সাসপেন্ড করেছি। আর যে মামলায় তার (ডিআইজি মিজানুর রহমান) অ্যারেস্ট হওয়ার কথা সে মামলাতে অলরেডি চার্জশিট মেমো অব অ্যাভিডেন্স দেয়া হয়েছে এবং যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দুদক একটা অ্যাকশন নিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত আইনানুগভাবে গুরুত্বসহকারে দুদক দেখছে। কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।
হলমার্কের জেসমিনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ: এদিকে, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ হলমার্কের চেয়ারপারসন জেসমিন ইসলামকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল করে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এ সময় আদালত বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আবার ওই টাকার বিপরীতে বন্ধকীকৃত সম্পত্তি ছাড়িয়ে নিতে হাইকোর্টে রিট করছেন। এসব নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। শুনানিতে দুদকের আইনজীবী বলেন, জেসমিন ইসলাম হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে থাকাকালে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তদন্ত শেষ না হওয়ায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন, এটা কোনো জামিন মঞ্জুরের কারণ হতে পারে না। এ সময় আপিল বিভাগ জেসমিন ইসলামের জামিন বাতিল করে নিম্ন আদালতে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশে আইসিইউতে ৮০ শতাংশ মৃত্যুর নেপথ্যে ‘সুপারবাগ’

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ৮০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ‘সুপারবাগ’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-তে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ আইসিইউ-তে কর্মরত জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক সায়েদুর রহমানের বরাতে এ খবর দিয়েছে বৃটেনের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা। তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালে হাসপাতালটির আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন ৯০০ জন রোগী। এদের ৪০০ জনই মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত ইনফেকশনকে দায়ী করা হয়েছে। এসব ইনফেকশন ছিল অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এই অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। এসব দেশে চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, গবাদী পশু মোটাতাজা করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিরেকে নিজ থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া এবং দোকান থেকে অবৈধভাবে অ্যান্টিবায়োটিক কেনার সুযোগকে এক্ষেত্রে দায়ী করা হয়েছে।
ডাক্তার সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি প্রয়োজন।
অ্যান্টিবায়োটিক দোকানে কেনাবেচা করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এসব ওষুধ শুধুমাত্র হাসপাতাল থেকে বিতরণ করা যাবে, এমন ব্যবস্থা করা উচিত।’
ইউরোপিয়ান জার্নাল অব সাইয়েন্টিফিক রিসার্চে ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে, একটি জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়, এক তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারীই বলেছেন, তাদেরকে এমন ব্যক্তিবিশেষ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছেন, যাদের এই ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ার ছিল না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ আবু সালেহ ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ‘১০ বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত আইসিইউতে যত মানুষের মৃত্যু হয়, তার ৭০ শতাংশের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াকে দায়ী করা যায়। এসব ব্যাকটেরিয়াকেই ‘সুপারবাগ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
অধ্যাপক আবু সালেহ আরও বলেন, ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য কোনো নতুন অ্যান্টিবায়োটিক নেই। পাশাপাশি, বর্তমানে যেসব অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। এ কারণে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
বিশ্বব্যাপী সুপারবাগ সংক্রান্ত সমস্যা আসছে দশকগুলোতে বিপজ্জনক রূপ ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না হলে, ২০৫০ সাল নাগাদ এই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার কারণে ১ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ২০১৮ সালে ক্যান্সার, ডায়বেটিস ও ডায়রিয়ার কারণেও বিশ্বব্যাপী এত মানুষ মারা যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় এই সুপারবাগের বিস্তারের পেছনে মূল দায়ী করা হচ্ছে, অর্থের লোভে অযোগ্য ডাক্তারদের দেওয়া আ্যান্টিবায়োটিকে ভুল প্রেসক্রিপশন। অনেক দেশে আবার গবাদী পশুর রোগের জন্য প্রেসক্রিপশন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ অনুসরণ করা হয় না। মানুষের জন্য ব্যবহার্য অনেক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় গবাদী পশুকে, যাতে দ্রুত ওজন বাড়ানো সম্ভব হয়।
চট্টগ্রামে করা একটি জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরটির অর্ধেকেরও বেশি পোল্ট্রি মুরগিতে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। তবে শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই সমস্যা কমবেশি দেখা যাচ্ছে। ২০১৭ সালে ল্যান্সেট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ম্যালেরিয়া জীবাণু (প্যারাসিট) এই রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার্য আর্টেমিসিনিন ওষুধ প্রতিরোধ করতে শিখে গেছে।

তিউনিশিয়া উপকূলে আটকা ৬৪ বাংলাদেশি: খাবার নিচ্ছেন না, ইউরোপ যাওয়ার তেল চান by মিজানুর রহমান

তিউনিশিয়া উপকূলে তেলফুরিয়ে যাওয়া নৌকা নিয়ে আটকা ৬৪ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী এখনো গোঁ ধরে আছেন। তাদের ইউরোপ যেতে দিতে হবে, অন্যথায় তারা সাগরেই থাকবেন। তারা খাবার ও আশ্রয় প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, আমরা এগুলো চাই না। আমাদের ইতালি পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা লিবিয়া দূতাবাসের রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশিদের ওই অনড় অবস্থানেও টলছে না তিউনিশিয়া কর্তৃপক্ষ। তারা কোনো অবস্থাতেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের আর একচুলও এগোতে দিতে চাইছে না। লিবিয়াস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলী ঘটনাস্থলে পৌছেছেন দু’দিন আগেই।
তিনি জার্জিস কর্তৃপক্ষ এবং তিউনিশয়ার সেন্ট্রাল গর্ভমেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তাদের রাজী করিয়েছেন ওই নৌকাকে সমতলে ভিড়তে দিতে এবং অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশীদের স্থলসীমান্তে সাময়িক আশ্রয় দিতে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানান, তিউনিশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার কোন অবস্থাতেই অভিবাস প্রত্যাশীদের তাদের মাঠিতে পা ফেলার সূযোগ দিতে নারাজ ছিল। রাষ্ট্রদূত তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ৩ দফা বৈঠক করে অন্তত স্থল সীমান্তে অস্থায়ী আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে রাজী করিয়েছেন । কিন্তু বিপত্তি ঘটেছে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে। তারা এখনও তাদের দাবিতে অনড়। ইতালী যেতে দিলেই তারা ওই এলাকা ছাড়বে, অন্যনাথ নয়। তারা তাদের নৌকার জন্য তেল চায় বলে ঢাকায় রিপোর্ট করেছেন রাষ্ট্রদূত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে তারা পানি, খাবার এমকি ওষুধ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিউনিশয়ার রেড ক্রিসেন্ট তাদের মানবিক সহায়তা দিতে এগিয়ে গেলে তারা তা গ্রহণ করেনি। পরে অবশ্য তাদের কয়েকজন এটি গ্রহণ করেছে এবং তারা তা নিয়ে সাগরে ভাসমান অবস্থায় বেঁচে আছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা বলেন, রাষ্ট্রদূত এবং তার সহকর্মী রেডক্রিসেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
সবাই মিলে চেষ্টা করছেন বাংলাদেশী অভিবাসন প্রত্যাশীদের কোন মতে নিরাপদে আটকা নৌকা থেকে নামিয়ে আনার। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্যান্য দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরা কোন শর্ত ছাড়া নিজ নিজ দেশে ফিরতে রাজী হলেও বাংলাদেশীরা তাদের দাবিতে অনড়। প্রায় ১৫ দিন ধরে তিউনিশিয়া উপকূলে সাগরে ভাসছেন ৬৪ বাংলাদেশি সহ ৭৫ অভিবাসন প্রত্যাশী। নৌকাযোগে ইতালি যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী নৌকার তেল ফুরিয়ে যায়। পরে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ তাদেরকে উদ্ধার করে এবং সাগরেই ভাসমান অবস্থায় কর্ডন করে রাখে। স্থানীয় জার্জিস উপকূল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে তাদের অবস্থান। তিউনিশ রেড ক্রিসেন্ট বলছে, লিবিয়া থেকে একটি গ্রুপে এসব মানুষ ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন সমুদ্রপথে। এর মধ্যে ৬৪ জন বাংলাদেশি। বাকিরা মরক্কো, সুদান ও মিশরের নাগরিক। তিউনিশিয়ার জলসীমায় আটকা এসব অভিবাসীকে গ্রহণে স্থানীয় মেডিনিন শহর এবং জার্জিস কর্তৃপক্ষ শুরুতে অস্বীকৃতি জানায়।
রয়টার্স বলছে, শরণার্থী রাখার জন্য তাদের যেসব সেন্টার রয়েছে তাতে অত্যাধিক মানুষে ঠাসা। স্থান সংকুলান হবে না সেখানে। ফলে তারা ওইসব অভিবাসীকে তীরে ভিড়তে দেয়নি। রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিমকে উদ্বৃত করে রয়টার্স জানায়- সাগরে থাকা অভিবাসীদের চিকিৎসা দিতে ডাক্তাররা গেলে অল্প ক’জন চিকিৎসা নেন। বাকিরা সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এতদিন ধরে সমুদ্রে আটকা থাকা এসব অভিবাসীর অবস্থা খুব শোচনীয় হয়ে উঠছে। উল্লেখ্য, লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল ইউরোপের উদ্দেশ্যে আফ্রিকান অভিবাসীদের পাচারের প্রধান ট্রানজিট হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে ইতালির নেতৃত্বে পাচারবিরোধী প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এতে সহায়তা করছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড। তা সত্ত্বেও থামানো যাচ্ছে না। এই তো গত মাসে কমপক্ষে ৬৫ জন অভিবাসী নিয়ে তিউনিশিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে একটি বোট ডুবে যায়। তাতে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন অভিবাসী ডুবে মারা গেছেন। এ বছরের প্রথম চার মাসে এই রুটে কমপক্ষে ১৬৪ জন মানুষ ডুবে মারা গেছেন।

ভাড়া বাসা খুঁজে দেয়ার নামে ভারতে স্প্যানিশ তরুণীকে ধর্ষণ

ভাড়া বাসা খুঁজে দেওয়ার নাম করে ভারতের গুরুগ্রাম নগরীতে এক বিদেশী তরুণীকে ধর্ষণ করেছে এক যুবক। অভিযুক্ত যুবক চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত। রাজধানী নয়াদিল্লির নিকটবর্তী নগরী গুরুগ্রামের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্পেনের বাসিন্দা ওই তরুণী সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বছর খানেক আগে ভারতের একটি নামী বহুজাতিক সংস্থায় ইন্টার্ন হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন গুরুগ্রামে। তবে সম্প্রতি অন্যত্র বাড়ি খুঁজছিলেন তিনি। সেই সূত্রে একটি ফেসবুক গ্রুপে অভিযুক্তর সঙ্গে আলাপ তার।
বাড়ি খুঁজতে সাহায্য করবে বলে গত ১৪ জুন ডিএলএফ ফেজ ১-এ নিজের বাড়ির পার্টিতে ওই তরুণীকে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত। প্রাথমিক আলাপের পর সেখানে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হয়; কিন্তু যৌনতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন নির্যাতিতা। পরে অভিযুক্তের জোরাজুরিতে সেখানে রাত কাটাতে রাজি হয়ে যান তিনি; কিন্তু ঘুম ভাঙলে দেখেন তার পাশে বসে হস্তমৈথুন করছে যুবক। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে তাকে ধর্ষণ করে সে।
শনিবার সকালে প্রথমে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে কেউ এক জন ধর্ষণের অভিযোগ করে বলে দাবি পুলিশের। কিছুক্ষণ পরে এক বন্ধুর সঙ্গে ওই তরুণী ডিএলএফ-১ থানায় এসে হাজির হন। ডাক্তারি পরীক্ষার পর নগর আদালতে তার বয়ান রেকর্ড করা হয়। তারপর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। ৩৬ বছরের ওই যুবকের নাম আনজানে। রাজধানী দিল্লির আনন্দবিহারের বাসিন্দা সে। বিহারের একটি প্রযোজনা সংস্থায় কর্মরত সে। তার বিরুদ্ধে ৩৭৬ ধারায় (ধর্ষণ) এবং ৩৪২ ধারায় (বন্দি করে রাখা) মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন ডিএলএফ-এর এসিপি কর্ণ গয়াল। আনন্দবাজার

এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি: মূল হোতাসহ পালিয়েছে ৪ জন by শুভ্র দেব

অভিনব পদ্ধতিতে এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় মূল হোতাসহ পালিয়েছে চার বিদেশি নাগরিক। তারা সবাই ইউক্রেনের নাগরিক। এর মধ্যে তিনজন ঘটনার পরপরই দেশ ছেড়েছেন। অন্যজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার নাম ভিটালি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে আটকের চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা ইউক্রেনের ওই পলাতক নাগরিকই এই চক্রের মুলহোতা। খিলগাঁও তালতলার ডাচ বাংলার বুথ থেকে টাকা চুরির সময় তার সহযোগীকে স্থানীয়রা আটক করার সময় সে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে রিমান্ডে চক্রের ছয় সদস্য তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছে বুথ থেকে চুরি হওয়া টাকা পলাতক ওই সদস্যর কাছে আছে। যদিও তাদের কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে তিন দিনের রিমান্ড শেষ করে গতকাল ফের রিমান্ড আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গোয়েন্দাসূত্র জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মিশনে এসে ইউক্রেনের ওই নাগরিকরা ৯টি এটিএম বুথে হানা দিয়েছে। এসব বুথ থেকে তুলে নিয়েছে ১৫/১৬ লাখ টাকা। ৩০ মে তুর্কি এয়ারওয়েজের একটি বিমানে এসে তারা পরের দিন মধ্য বাড্ডার দুটি বুথ থেকে তুলে নেয় চার লাখ টাকা। পহেলা জুন বাকি সাতটি বুথে হানা দেয়। এসব বুথের মধ্য রয়েছে খিলগাঁও তালতলা, রেডিসন হোটেল, কাকরাইল, রামপুরা ডিআইটি ও নিকুঞ্জ এলাকার বুথ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ইউক্রেনের ১০ নাগরিকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এর বাইরে ইউক্রেনের কেউ জড়িত আছে কিনা এ বিষয়ে পরবর্তী রিমান্ডে ওই চক্রের ছয় সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া তার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত লেজারস চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তাদের সঙ্গে দেশের কোন চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কিনা এবং ক্লোন করতে গিয়ে তারা কি ধরনের সফটওয়ার ব্যবহার করেছে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে আরও জানা গেছে, তিন দিনের রিমান্ডে আটক চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে আশানুরুপ তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। চুরি করা টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা প্রত্যেকেই একই কথা বলছে। আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদেও তাদের দাবি চুরি হওয়া টাকা ভিটালির কাছে রয়েছে।
সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, দেশের এটিএম বুথে বিদেশি চক্র হানা দিতে পারে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দারা বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের এমন তথ্য আগেই জানিয়েছিলেন। সিআইডির পক্ষ থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ তথ্য জানানো হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এতটা সতর্ক হয়নি। এছাড়া ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংর্কের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে লেজারস নামের যে চক্রটি জড়িত ছিল সেই চক্রের সঙ্গে এই চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। চক্রটি একটি বিশেষ সফটওয়ার ব্যবহার করে টাকা চুরি করেছে। যার মাধ্যমে বুথের পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে চলে গিয়েছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহিদুর রহমান বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে ফের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি এ চক্রের আরও তিন সদস্য দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। চুরি হওয়া টাকা উদ্ধার করা করা ও কি ধরনের প্রযুক্তি তারা ব্যবহার করেছিল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, চুরি হওয়া টাকা উদ্ধার করা হয়নি। আটককৃতরা বলছে ওই টাকা পলাতক ওই সদস্যদের কাছে আছে। আর কি প্রযুক্তি তারা ব্যবহার করেছে জানার চেষ্টা চলছে। 
গত ৩১শে মে শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকার ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিতে দুইজন বিদেশি নাগরিক কার্ড ব্যবহার করে একাধিকবার টাকা উত্তোলন করেন। এসময় তাদের মুখে মাস্ক, চোখে সানগ্লাস ও মাথায় টুপি পরা ছিল। পরেরদিন শনিবার ওই এটিএম বুথের টাকার হিসাব মেলানোর সময় তিন লাখ টাকা কম হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুইজন বিদেশি কর্তৃক টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংকের সকল এটিএম বুথে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
ওই দিন রাতেই খিলগাঁও তালতলা এলাকার একটি বুথে দুই বিদেশি নাগরিক টাকা তুলতে যান। তখন তাদের মুখে মাস্ক ও মাথায় টুপি পরা ছিল। বুথে ঢুকেও তারা অস্বাভাবিক সময় নিচ্ছিলেন। নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি টের পেয়ে আশেপাশের লোকজনকে জড়ো করেন। তাদের সহযোগিতায় একজন বিদেশিকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম ইন্টারন্যাশনাল থেকে আরও পাঁচ বিদেশিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন দেনিস ভিতোমস্কি (২০), নাজারি ভজনোক (১৯), ভালেনতিন সোকোলোভস্কি (৩৭), সের্গেই উইক্রাইনেৎস (৩৩), শেভচুক আলেগ (৪৬) ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি (৩৭)। তারা ছয়জনই ইউক্রেনের নাগরিক।  এর আগে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একইভাবে টাকা চুরি করে বাংলাদেশে এসেছে। ডাচ বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মানি লন্ডারিং আইনে বাড্ডা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

জামিন নাকচ, কারাগারে ওসি মোয়াজ্জেম

নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস শামস জগলুল হোসেনের আদালতে আজ এ আদেশ দেন।

এর আগে মোয়াজ্জেমের জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী মাসুমা আক্তার। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে মোয়াজ্জেমকে আদালতে হাজির করার পর শুনানী শুরু হয়। এ সময় হাতকড়া পরানো নিয়ে বিতন্ডা হয়। আদালতে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সুমন উপস্থিত ছিলেন।

উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আগামী ৩০ জুন চার্জ গঠনের শুনানির দিন দাজ্জ করা হয় 

এর আগে রোববার শাহবাগ এলাকা থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরোয়ানাভুক্ত আসামি ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেনীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

ওসি মোয়াজ্জেমকে হস্তান্তরের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ফেনীর  সোনাগাজী থানায় তার অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট থাকায় সেই থানার পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল সকালে ঢাকায় আসে।
সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ফেনী পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা তারা পালন করবেন।

জানা গেছে, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন এখনও শাহবাগ থানায় আছেন। দুপুরে তাকে ঢাকার সাইবার ক্রাইম আদালতে নেয়া হবে।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

আমেরিকার নির্লজ্জ লেজুড়বৃত্তিতে ব্রিটিশ সরকার; সমালোচনায় করবিন

জেরেমি হান্ট- জেরেমি করবিন
ব্রিটিশ সরকার একদিকে ইরানের পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানানোর দাবি করছে এবং অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-বিদ্বেষী অভিযোগগুলোর পুনরাবৃত্তি করছে। ব্রিটিশ সরকারের এই দ্বৈত আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন।
বৃহস্পতিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের ইরান সফরের একই সময়ে ওমান সাগরে দু’টি বিদেশি তেল ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলা হয়। ওই হামলার জন্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দায়ী করেন। আর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট পরদিন শুক্রবার ট্রাম্পকে অনুসরণ করে এবং নিজস্ব কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই ওমান সাগরের হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দেন। তিনি আমেরিকার লেজুড়বৃত্তি করে বলেন, ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন বিশ্বাস না করার কোনো কারণ নেই। কারণ তারা আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
হান্টের এই অবস্থান গ্রহণের তীব্র সমালোচনা করে জেরেমি করবিন এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, মার্কিন সরকার ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা উসকে দেয়া লন্ডনের উচিত নয়। তিনি আরো লিখেছেন, দলিল-প্রমাণ ছাড়া ব্রিটিশ সরকারের এ ধরনের বাগাড়ম্বর যুদ্ধের আশঙ্কাই কেবল বাড়িয়ে দেবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এ প্রশ্ন তুলেছেন যে, লন্ডনে বসে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা কীভাবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন যে, ওমান সাগরের ঘটনায় ইরান জড়িত? শুধুমাত্র আন্দাজ-অনুমান কি একটি দেশকে এভাবে দায়ী করার জন্য যথেষ্ট? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন বলেই কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়া ওয়াশিংটনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করতে হবে এমন কোনো কথা আছে কি?
আমেরিকা ও ব্রিটেন এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করল যখন রাশিয়া ও জার্মানির পাশাপাশি নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলেছেন, ওমান সাগরের তেল ট্যাংকারে ইরানের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই।
এদিকে ইরানও কঠোর ভাষায় এ হামলায় নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এ হামলাকে ‘অত্যন্ত রহস্যজনক’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক উপায়ে উত্তেজনা প্রশমনের যে চেষ্টা করছে তা বানচাল করে দেয়ার জন্য ওয়াশিংটন এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করছে।
ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা করবিনের বক্তব্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার উৎস হিসেবে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ২০১৮ সালের ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে বের করে নেন। ওই সমঝোতা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করছে না এবং তার ভাষায় এ সমঝোতার মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজ থেকে বিরত রাখা যাবে না বলে অভিযোগ তুলে ট্রাম্প সমঝোতাটি থেকে বেরিয়ে যান এবং ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। তার এ পদক্ষেপের ফলে সত্যিকার অর্থে মধ্যপ্রাচ্য তথা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা বেড়ে গেছে। লন্ডন প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করছে।
কাজেই দেখা যাচ্ছে ব্রিটেনের রক্ষণশীল সরকার ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার কথা বললেও বাস্তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-বিদ্বেষী নীতিকে অনুসরণ করছে। ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানের সমালোচনা যে শুধু ইরান করেছে তা নয় ব্রিটেনের অন্যতম বড় দল লেবার পার্টির নেতাও তার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।  কাজেই ওমান সাগরের হামলার ব্যাপারে ব্রিটেশ সরকার যে অবস্থান নিয়েছে তা কতটুকু ভিত্তিহীন ও নড়বড়ে তা করবিনের এই প্রতিবাদে ফুটে উঠেছে।

সক্রিয় আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ বিদেশ থেকে by শুভ্র দেব

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে টেলিফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে তার কাছে এই চাঁদা দাবির পর ওই চিকিৎসক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে ছিলেন। সরকারি সংস্থা প্রাথমিক তদন্ত করে নিশ্চিত হয় বিদেশি নম্বর থেকে ওই চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই চিকিৎসকের নিরাপত্তা দিয়েছিল অভিযোগের পর। কিন্তু এতে আশ্বস্ত হতে পারেননি ওই চিকিৎসক। তিনি পুলিশকে না জানিয়েই ওই পক্ষকে মোটা অংকের চাঁদা দিয়ে দেন। শুধু এই চিকিৎসকই নন এমন অনেকের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে। তাদের অনেকে বিদেশে বা কারাগারে রয়েছেন।
তাদের কাউকে কাউকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। তাদের কেউ কেউ এখন কারাগারে। তবে বেশিরভাগ তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সীমান্ত পার হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। আর এখন কারাগার ও বিদেশে থেকে তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড। বিদেশে বসে তারা নির্দেশ দিচ্ছেন বিভিন্ন অপরাধের। তাদের নিজস্ব বাহিনী দিয়ে দেশে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
গোয়েন্দাসূত্র বলছে, পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেই এখন একটি প্রতিবেশী দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ আছেন পাশ্ববর্তী  দেশ ভারত বা পাকিস্তানে। তাদের মাথার ওপর একাধিক মামলা ঝুলছে। ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টও রয়েছে তাদের নামে। কিন্তু আইনি জটিলতা থাকায় তাদের সহজে ফেরানো যাচ্ছে না। ইন্টাপোলের রেড অ্যালার্টে নাম থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছে, কালা জাহাঙ্গির ওরফে ফেরদৌস, সুব্রত বাইন, প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, আমিনুর রসুল, হারিস আহমেদ, জাফর আহমেদ, আবদুল জব্বার, নবী হোসাইন, জিসান, শাহাদাত হোসাইন, মোল্লা মাসুদ। বছরের পর বছর ধরে তারা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে নিয়ন্ত্রণ করছেন দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড। তাদের নামে এখনও কোটি কোটি টাকার নিরব চাঁদাবাজি, খুনখারাবিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়। আবার অনেকে সন্ত্রাসীর নাম ভাঙ্গিয়েও চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায়ই অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর পাশ থেকে ব্যবসায়ীর অবস্থান নিশ্চিত করে চাঁদা দাবি করা হয়। বিশেষ করে রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসীদের হুমকি-ধমকি অনেকটা বেড়ে গেছে। চাহিদা মত চাঁদা না দিলে হত্যাসহ নানা রকম ভয়ভীতি দেখানো হয়। প্রাণের ভয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে অনেকেই চাঁদা তুলে দেন সন্ত্রাসীদের হাতে।
দুই মাস আগে কাফরুলের হাইটেক মাল্টিকেয়ায় হাসপাতালের এক চিকিৎসকের মুঠো ফোনে কল দিয়ে বিদেশ থেকে চাঁদা দাবি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহিন শিকদার। চাঁদা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়। পরে ওই চিকিৎসক হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ তার অভিযোগ আমলে নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার ও নজরদারি বাড়ায়।
কিন্তু ওই চিকিৎসককে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকে ওই সন্ত্রাসী। পরে ওই চিকিৎসক প্রাণের ভয়ে দাবিকৃত চাঁদা তুলে দেন ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীর লোকজনের হাতে।  কাফরুল থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসলাম উদ্দিন গতকাল মানবজমিনকে বলেন, একজন চিকিৎসক হুমকি পেয়ে থানায় জিডি করেছিলেন। আমরা তার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিলাম। যে মোবাইল নম্বর থেকে ওই সন্ত্রাসী ফোন দিয়েছিল সেই নম্বর যাচাই-বাচাই করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি ফোনটা দেশের বাইরে থেকে করা হয়েছে। দেশের ভেতরে থাকলে তাকে আমরা শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতাম। তিনি বলেন, সম্প্রতি কাফরুল থানায় দুটি মার্ডার মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে এসব মার্ডারের সঙ্গে শাহীন শিকদারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু সে  দেশের বাইরে থাকায় তাকে কিছু করা যাচ্ছে না। কাফরুল থানার বর্তমান পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুকুল আলম বলেন, আমি এপ্রিলের শেষ দিকে এ থানায় এসেছি। এখানে আসার পরই শাহিন শিকদারের নাম শুনেছি। কয়েকটি মার্ডারের সঙ্গে সে জড়িত আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাফরুল, পল্লবী এলাকায় পলাতক শাহিন শিকদারের নামে নানা অপকর্ম হচ্ছে। ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক, ডেভেলপার কোম্পানির কাছে চাঁদা দাবি করছে তার লোকজন। গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলছেন শুধু্‌ হাইটেক হাসপাতালের ওই চিকিৎসক নয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে শাহিন শিকদারের লোকজন। তবে ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি।
চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে যাদের নাম আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আছে তাদের মধ্যে রয়েছে মিরপুরে শাহাদাত ও লিটু, খিলগাঁওয়ে জিসান, কাওরান বাজারে আশিক, কল্যাণপুরে বিকাশ-প্রকাশ, বাড্ডার মেহেদী হাসান, রবিন-ডালিম, নাহিদ, আশিক, যাত্রাবাড়িতে ইটালি নাসির, জুরাইনের কচি, মগবাজারের রনি, শাহআলী এলাকায় গাজী সুমন, আদাবরের নবী, মোহাম্মদপুরের কালা মনির, পল্লবীর মোক্তার বাহিনী ও কাফরুলের শাহিন শিকদার।
এসব শীর্ষ সন্ত্রাসী তাদের ছত্রছায়ায়  নিজস্ব বাহিনী তৈরি করেছে। এলাকা ভিত্তিক পলাতক বড় বড় সন্ত্রাসীদের নামে অপরাধ করছে। এদের মধ্যে বাড্ডা এলাকায় রয়েছে সজিব, আলমগীর, আরিফ, মান্নান, ডালিম, রবিন, রমজান, দুলাল, মানিক, শিপলু, রায়হান, রুবেল, রিয়াদ খিলগাঁওয়ে খালেদ ও মানিক, রামপুরায় পলাশ, মুরাদ, গুলশান-বনানী এলাকায় টিপু, যাত্রাবাড়ি-সায়েদাবাদ এলাকায় জাহাঙ্গির, সায়েম আলীম মহাখালী এলাকায় অপু, মিলন মুকুল সাততলা বস্তিতে মনিরম লম্বু সেলিম, হাজারীবাগে বুলু, লিংকন,তপু, জনি, রফিক, বিল্লু, মুন্না, কলাবাগান এলাকায় নাজিম, ইমন, মোহাম্মদপুরে মোশারফ, লম্বা মোশারফ, চিকা জসিম, আহম্মদ, সাজ্জাদ, মোহন, পাভেল, লোটন, তানভীর, রবিন, আদিত্য, মীম, খলিল, হাজী আক্কাস ও শাহ আলীতে বল্টু রাসেল।
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতায় বাড্ডা ও পাশ্ববর্তী এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়াও আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ, অটো রিকশা চলাচলের রুটে চাঁদাবাজি, খাল ভরাট, বালু মহাল দখল, মাছের ঘের দখল, ডিশ ব্যবসা ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিনিয়ত অস্থির হয়ে থাকে। এসব দ্বন্দ্বে গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, দেশের বাইরে বসে ভাড়াটে কিলার দিয়ে পলাতক সন্ত্রাসীরা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন। আলাদা আলাদা এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছে মালয়েশিয়ায় পলাতক রবিন ও ডালিম, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী মেহেদি ও সাখায়াত হোসেন চঞ্চল, সুইডেনে থাকা নাহিদ এবং ভারতে অবস্থান করা আশিক।
তাদের নির্দেশে ওই এলাকায় সকল অপরাধ সংঘটিত হয়। ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও ম্যাসেঞ্জারে চাঁদাবাজি ও খুনের নির্দেশ দিচ্ছে তারা। গত বছর স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের ভাই কামরুজ্জামান দুখু এবং ডিশ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ওরফে ডিশ বাবু হত্যাকান্ডে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো জড়িত বলে স্থানীয়রা বলে আসছেন। এছাড়া আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের হুমকি পেয়ে থানায় জিডি করে রেখেছেন অনেকে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারাগারে থাকা রামপুুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্ল্যা পলাশ তার বাহিনী দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করছেন। তার সঙ্গে রয়েছে তার ভাগিনা তুষার ও আরেক সন্ত্রাসী শাহজাদা।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, মিরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেন অনেক আগেই ভারতে চলে যায়। সেখান থেকে সে ভারতীয় পাসপোর্ট করে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে মধ্যেপ্রাচ্যর দেশ দুবাইতে অবস্থান করছে।
দুবাইয়ে তার অবস্থান থাকলেও মিরপুর এলাকায় এখনও সে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম মানবজমিনকে বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অবস্থা এখন আর আগের মত নেই। তবে বিদেশে পলাতক কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী এখনও নীরবে নানা রকম অপরাধ করছে। কিছুদিন আগেও কাফরুল এলাকায় বড় ধরনের চাঁদাবাজি করেছে পলাতক সন্ত্রাসী শাহিন শিকদার। যদিও ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরও ওই সন্ত্রাসীর লোকজনের কাছে চাঁদা তুলে দিয়েছেন। মোহাম্মদপুর এলাকায়ও বড় অংকের টাকা ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, শীর্ষ এসব সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।
ন্যাশনাল কাউন্সিল ব্যুরো বাংলাদেশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মহিউল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেই এখন বিভিন্ন দেশে পলাতক। ইন্টারপোলের রেডঅ্যালার্টে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকের অবস্থানও আমরা শনাক্ত করেছি। আমরা সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এসব ক্রিমিনালরা দেশের বাইরেও যেকোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে।  কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে তাদের এখনই ফেরানো যাচ্ছে না। তবে আলোচনা চলছে, নিয়মনীতি মেনেই তাদের দেশে ফেরানো হবে।

ছড়িয়ে পড়েছে ‘পলেন’ এলার্জি ভাইরাস: ফ্রান্সজুড়ে রেড এলার্ট জারি by আব্দুল মোমিত রোমেল

ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছে ‘পলেন’ এলার্জি ভাইরাস। ইতিমধ্যে   সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ২৬টি বিভাগে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। অনন্য এলাকায় উচ্চ সতর্কতা নেয়ার নির্দেশ দেয়া  হয়েছে।  এ পর্যন্ত ‘পলেন’ এলার্জি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অনেক  রোগী বিভিন্ন  হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
জানা গেছে, ‘পলেন’ অর্থ ফুলের পরাগ রেণু। ‘পলেন’ এলার্জি হলো এমন এক প্রকার এলার্জি যার উৎপত্তি বিভিন্ন গাছের ফুল থেকে। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশেষজ্ঞের মতামত হলো-  ট্রিপটোফেন- সমৃদ্ধ খাবার যা সেরোটোনিনে পরিবর্তিত হয়, তা এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন গরুর মাংস, চিংড়ি ইত্যাদি। ক্যারোটিনয়েড- ক্যারোটিনয়েড হলো উদ্ভিদের মধ্যস্থিত রঞ্জক বা রঙিন পদার্থ। এসবের মধ্যে ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন, লুটিন, লাইকোপেন, ক্রিপটোজেন্থিন এবং জিজেন্থিন আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
এগুলো এলার্জিক প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে কাজ করে। গাছ-গাছালি, ফুল বা ঘাসের সংস্পর্শ থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকা এবং চোখে সানগ্লাস এবং নাকে রুমাল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত যথাসম্ভব বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা, জানালা বন্ধ করে গাড়ি চালানো, যথাসম্ভব বাড়ির বাইরে কাপড় না শুকানো, তামাক, সুগন্ধি, ধূপ, মোমবাতিসহ সকল রাসায়নিক পরিষ্কারক এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে ।
এ ছাড়া ঘরের বারান্দায় বা আঙিনায় লাগানো গাছপালা বা টবের সংখ্যা সীমিত রাখতে হবে। ঘরের দরজা বা জানালার পাশে ফুলের গাছ থাকলে ঐ সব দরজা জানালা বন্ধ রাখতে হবে। পরাগ রেণু বেশি হয় এমন মৌসুমে শিশুদের ফুলের বাগানে যাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, মনের সাথে অসুস্থতার একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে। তাই মানসিক কারণেও অনেক সময় এলার্জি হতে পারে। টেনশন বা মানসিক চাপ বেড়ে গেলে গায়ে র‌্যাশ বেরোয়, হাঁচি বা কাশি হয় অথবা হাঁপানির টান ওঠে। ডাক্তারি ভাষায় এর নাম কোলিনার্জিক আর্টিকোরিয়া। কোনো মানুষ সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলে তাকে দেখামাত্রই কারও মাঝে এলার্জিক প্রবণতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর ঠিক এ কারণেই স্বামীর সাথে ঠিকমত বনিবনা না থাকলে কোনো মহিলা তার স্বামীকে দেখলেই গায়ে র‌্যাশ বেরোয় বা হাঁচি শুরু হয়। উত্তেজনা কমে গেলে বা বিরক্তিকর মানুষটি সামনে থেকে সরে গেলে এই সমস্ত উপসর্গও কমে যায়। অনেক সময় মানসিক কারণে বাড়াবাড়ি রকমের এলার্জি হতে পারে। কিন্তু  ‘পলেন’ এলার্জি ভাইরাস, অন্য ভাইরাস এর চাইতে একটু ভিন্ন এর জন্য সর্তকতা অবলম্বন ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।

দুই দলের বিতর্কে উত্তপ্ত সংসদ

জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সদস্যরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিএনপির সদস্যরা দাবি করেন, বর্তমান সংসদের কেউ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নন। নির্বাচনে ৩০০ আসন লুট করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে সরকার ও বিরোধী দল জাপার সদস্যরা বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৌশলী ও উদারনীতির কারণে তাদের সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে। সংসদে শপথ নিয়ে, সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে আবার সংসদকে অবৈধ বলা বিএনপির নির্লজ্জতা ও দ্বি-চারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
রোববার সংসদ অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন উত্তপ্ত বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সকল অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেন।
সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী লে. কর্ণেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ, ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, গণফোরামের মোকাব্বির খান এবং বিএনপির হারুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিশ্বনেতৃত্বের গুণেই বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ৩৭ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বৃদ্ধি, ২৫টির হ্রাস। আজ কেউ কেউ উন্নয়ন দেখে না। ওনারা চোখ থাকতেও অন্ধ। তারা পদ্মা সেতু দেখতে পারেন না, শিক্ষার হার, গড় আয়ু, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, দেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে- এসব তারা দেখতে পারেন না। তাই এসব জ্ঞানপাপীরা কী বললো তাতে জনগণের কিছু আসে যায় না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই এটিই বাস্তবতা।
নির্বাচন কমিশনের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৌশলী ও উদারনীতির কারণে তারা সেটা পারেনি।
বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্যে করে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সংসদ অবৈধ হলে সংসদে আসলেন কেন? মুখে অবৈধ বলবেন, শপথ নেবেন, সংসদের সকল সুযোগ-সুবিধা নেবেন- এটা কেমন কথা? সংসদে গণতন্ত্রের চর্চাই ভাল। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলেই সংসদে সকল বিরোধী দলও অংশ নিয়েছেন।
কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে বিএনপি শত শত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সারাদেশে ভয়াল নাশকতা চালিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিএনপি নেতারা নানা হুমকি দিয়েছে। বিএনপি নেত্রী দুর্নীতি করেছেন, আদালতের রায়ে দন্ডিত হয়েছেন। সেখানে সরকারের কী অপরাধ? বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে ও সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় রয়েছে। জনগণ থেকে আপনারা (বিএনপি) প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির অনেকে এখনও জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষণা বলতে চান। কিন্তু কট্টর বিএনপি-জামায়াত যাদের ঘাড়ে এখনও পাকিস্তানের ভূত চেপে বসে আছে, তারাও যদি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েন, তারাও স্বীকার করতে বাধ্য হবেন স্বাধীনতার ঘোষণাসহ প্রতিটি কর্মকান্ডে রয়েছে একটিমাত্র নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
স্বাধীনতা দীর্ঘ আন্দোলন ও ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার আগে দেশের কেউই জিয়াউর রহমানের নামটি পর্যন্ত জানতো না। আমি ছাত্রলীগের একজন সক্রিয়কর্মী হিসেবে স্বাধীকার আন্দোলনের একজন কর্মী হয়েও জিয়ার নাম কখনো শুনিনি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, বাংলাদেশের যেদিকেই তাকাই চারিদিকে শুধু উন্নয়ন ও অগ্রগতি। সারাবিশ্ব প্রতিটি সেক্টরে এই উন্নয়নের কথা স্বীকার করেছেন। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সৎ, কর্মঠ ও পরিশ্রমী ৫ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শেখ হাসিনা অন্যতম। সরকারের পরিকল্পনা তৃণমুলে শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দেয়া বাজেট গোটা দেশের চিত্রকেই পাল্টে দিয়েছে। প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে এখন বিদ্যুতের আলো। জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক সমাজ বিএনপি বিশ্বাস করে না বলেই তারা সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হননি। বিএনপির মুখে সমালোচনা মানায় না। কারণ তাদের সময় দেশে কোনই উন্নয়ন হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সংসদে বিএনপির চরম মিথ্যাচার ও অসংসদীয় উস্কানীমূলক বক্তব্যেই প্রমাণ করে বাজেট নিয়ে তাদের অন্য কোন কথা নেই। তাদের খুন, দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস ও দুঃশাসনের কারণেই গত নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বিরোধী দলের আসনেও বসার সুযোগ পায়নি। বাংলাদেশের মানুষ অস্ত্র চোরাকারবারী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী সন্ত্রাসী তারেক রহমানকেও প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বিএনপির এক নেতা নিজেকে ঈমানদার দাবি করেছেন। যদি তাই হয় তবে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করছেন, মেট্টোরেল করছেন, বড় মহাসড়কগুলো ৪ লেনে উন্নীত হচ্ছে এসব কথা সংসদে বলুন, সত্যকে সত্য বলুন। বিনা ভোটে সংসদে এসে সংসদকে অবৈধ বলা ঠিক হয়নি। আমরা সবাই নির্বাচন করে জনগণের ভোট নিয়ে এসেছি।
জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, ৭৮ ভাগ বাজেট গত বছর বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। প্রতি বছরই বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ব্যাংকে টাকা নেই, সব টাকা ঋণখেলাপীদের কাছে। ২২ হাজার কোটি টাকা মুলধন ঘাটতি। দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণখেলাপী হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকবে কীভাবে? নির্দেশের পরও ব্যাংকের সুদের হার কমে না এতো স্পর্ধা পায় কোথায়? বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও এই খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হলে ঋণখেলাপীরা টাকা ফেরত দিচ্ছেন না কেন?
বিএনপি নেতার বক্তব্যের জবাবে পীর ফজলুর রহমান বলেন, এই সংসদ অবৈধ হলে তারা (বিএনপি) আসেন কিভাবে? সংসদে থাকা আপনারা সবাই তো অবৈধ। সংসদ কখনো অবৈধ হতে পারে না, ব্যর্থতা থাকলে সেটা বিএনপির। সংসদ বৈধ বলেই তারা শপথ নিয়েছেন, কথা বলছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি দিয়েছিলেন। কেননা বঙ্গবন্ধু হত্যার বেনিফিশিয়ারী একমাত্র বিএনপি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, বৃটিশ রাষ্ট্রদূতের ওপর গ্রেনেড হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যা, অগ্নিসন্ত্রাস, পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার কথা কি বিএনপি নেতারা ভুলে গেছেন? আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখে পরে কথা বলুন।
গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, সাধারণ মানুষ নয়, কয়েকটি স্বার্থান্বেসী ও ব্যবসায়ী মহলের দিকে তাকিয়ে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের নানা পর্যায়ে দুর্নীতি হচ্ছে। তাই সরকারের ব্যয় সঠিক ও নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে উচ্চ মূল্যে চুক্তির কারণে বিদ্যুতখাতে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হচ্ছে। স্মার্ট বাজেটের নামে গরিবকে আরো গরিব, ধনীকে আরো ধনী করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এরআগে বিএনপি সংসদ সদস্য ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আজ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানির শিকার। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। উচ্চ ও নিন্ম আদালত কোনটাই স্বাধীন নয়।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরে কত লাখ মেট্রিক টন চাল, গম ও ডাল আমদানী করা হচ্ছে আমরা তার হিসাব চাই। তাই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এটি ঠিক নয়।
তিনি বলেন, আমি সংসদ নেতাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আশা করছি দেশে সুশাসন ফিরে আনার জন্য সংসদ নেতা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে দেশে একটি আবহাওয়া তৈরি করবেন সুবাতাস বয়ে আনবেন।
বক্তৃতার শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডকে জাতীয় ট্রাজেডি আখ্যায়িত করে বিএনপি’র সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, সংসদ নেতা আপনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে বেদনার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড দেশের রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় ট্রাজেডি। আর ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ বিএনপি দেয়নি। দিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় থাকাকালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে হারুনুর রশীদ বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে যে প্রক্রিয়াতেই ক্ষমতায় আসুক না কেনো ক্ষমতায় আসার পর উনি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এনেছিলেন। এখন সেই গণতন্ত্র অনুপস্থিত।
বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে বেশি খরচ করায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, এবার জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ নির্বাচন করেছেন স্বাভাবিকভাবেই খরচ বাড়তে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন করতে যেয়ে কোনো নির্বাচনের বৈধতা অর্জন করতে পেরেছেন? এই নির্বাচন কমিশন অযোগ্য ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন?
কাজেই তারা যে টাকা খরচ করেছে সেটা সম্পূর্ণ অপচয় করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলব এই টাকা অপচয় করা হয়েছে। তাদের দ্রুত পদত্যাগ করা উচিত। আর বর্তমান সংসদে আমরা ৬ জন (বিএনপি) প্রবেশ করলেও এই সংসদ বৈধতা পাবে না। তাই জাতীয় আলোচনার মাধ্যমে দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সুবাতাস আসবে এমন আশা করি।
বিএনপির সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ অধিবেশন। নির্ধারিত দশ মিনিটের বক্তৃতায় তিন দফায় বাধার সন্মুখিন হন বিএনপি এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, এই সংসদের কেউ বলতে পারবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত? কেউ বলতে পারবেন না। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের সদস্যরা হই চই করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্য থামিয়ে বলেন, আপনি বাজেটের বাইরে এমন কোনো কথা বলবেন না যাতে সংসদ উত্তপ্ত হয়।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, এই সংসদে আসার আগে সংসদ নেতা বলেছিলেন আমাদের কথা বলতে দেবেন। কিন্তু আমার প্রথম বক্তৃতার দুই মিনিটের এক মিনিটও শান্তিমত কথা বলতে পারিনি। একই ঘটনা আজকেও। কথা শুরু করার ৩৬ সেকেন্ডের মাথায় তার বক্তৃতা থামিয়ে কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।
তিনি বলেন, এমন কথা বলবেন না যাতে বিরোধী পক্ষ উত্তেজিত হয়। পুনরায় বক্তব্য শুরু করে বলেন আমরা কথা বলতে পারছি না। কোন গণতন্ত্রের কথা বলছি। আমি আমার দলের কথা বলব, তারা তাদের দলের কথা বলবে। আমি দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে পুরো সংসদ যদি উত্তেজিত হয়ে যায়। তাহলে কিভাবে কথা বলব। পুরো দশ মিনিটের বক্তৃতায় কয়েক সেকেন্ড শুধু সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করেন।
তার সেই আলোচনায় বলেন, ২০১০-১১ অর্থ বছর থেকে এ পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৬ শতাংশ। সরকারের সক্ষমতা দিন দিন কমছে।
নির্বাচন কমিশনে ব্যয় বাড়ানোয় সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফারহানা বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কি নির্বাচন তারা করেছে? আমার একটা কথায় পুরো সংসদ উত্তপ্ত। কলামের পর কলাম লেখা হয়। এই সংসদে যারা আছেন তারা আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলুক তারা জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন? তারা নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুক সবাই উত্তর পেয়ে যাবেন। বক্তৃতার ৪ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে আবারও বাধা প্রদান করা হয়। এভাবেই তার ১০ মিনিটের বক্তৃতা শেষ করেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি বাজেটের বাইরে ও সংসদীয় ভাষার বাইরে যে কথাগুলো বলেছেন তার সবকথা সংসদীয় প্রসিডিউর থেকে এক্সপাঞ্জ করা হল। এই কথা বলার পর বিএনপি’র সবাই অধিবেশন থেবে বেরিয়ে যান। পরে অবশ্য আবার অধিবেশনে ফেরেন।

সাইকেলে প্রচারণা চালিয়ে মন্ত্রী হওয়া প্রতাপ সারেঙ্গী আসলে কে?

ভারতের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গী
ভারতের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর উপমহাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যতম আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গী।  পুরনো এক সাইকেলে চড়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা তার সাধাসিধে জীবন যাপনের জন্য পরিচিত। তবে তার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সহিংসতায় জড়িত থাকার ঘটনা। নির্বাচনি হলফ নামায় দেওয়া তথ্যে এই নেতা জানিয়েছেন সহিংসতায় উস্কানি, দাঙ্গা, ধর্মীয় সংঘাতে উস্কানিসহ সাতটি অপরাধের মামলা বিচারাধীন রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে দুই সন্তানকেও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক গ্রাহাম স্টুয়ার্ট স্টাইনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাতেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
ওড়িশ্যার মানুষের কাছে প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গী একজন নিয়মনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শিক সংগঠন আরএসএস সমর্থিত বজরং দলের সাবেক রাজ্য প্রধান এই নেতা অবিবাহিত। ২৮ বছর বয়সে রামকৃষ্ণ মিশনে দীক্ষা নিতে চাইলেও পরিবারে বিধবা মা থাকায় সন্ন্যাস নেওয়া হয়নি তার। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বেশ পুরনো।
প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গী ওড়িশার বালেশ্বর থেকে ১৭তম লোকসভার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিজেডি প্রার্থী রবীন্দ্র কুমার জেনাকে ১২ হাজার ৯৫৬ ভোটে হারিয়েছেন তিনি। এর আগে  ২০০৪ সালে বিজেপি বিধায়ক হিসেবে এবং ২০০৯ সালে নির্দল বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন সারঙ্গী। তবে তারও আগে থেকে সারঙ্গীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ওড়িশ্যায় কেওনঝোড়ের খ্রিষ্টান মিশনারীতে কুষ্ঠ রোগীদের নিয়ে কাজ করতেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক গ্রাহাম স্টুয়ার্ট স্টাইন। তার বিরুদ্ধে জোর করে ধর্মান্তর করানোর অভিযোগ তুলে দুই সন্তানসহ ১৯৯৯ সালে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় তাকে। ওই ঘটনায় ভারতীয় আদালতে বজরং দলের নেতা দারা সিংয়ের শাস্তি হয়। অভিযোগ রয়েছে বজরং দলের তৎকালীন রাজ্য প্রধান হিসেবে এই ঘটনায় সরাসরি ইন্ধন ছিল প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গীর। সারঙ্গীর নেতৃত্বে ওই সময়ে বজরং দল ও আরএসএস খ্রীষ্টান মিশনারীদের বিরুদ্ধে ওড়িশ্যার উপজাতিদের জোর করে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হত্যার পর ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে মিশনারী ও তার দুই সন্তান হত্যায় বজরং দরের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন সারেঙ্গী। তবে ওড়িশ্যায় খ্রিষ্ট ধর্মালম্বীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি ছিল এতে মিশনারীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এছাড়াও ২০০২ সালে ওড়িশ্যা বিধানসভায় ভাঙচুরের ঘটনাতেও প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিধানসভা ভবন থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরের একটি অবস্থান থেকে বজরং দলের একদল কর্মী হামলা চালায় বিধানসভায়। ওই ঘটনায় বজরং দলের ৬৭ সহকর্মীসহ গ্রেফতার হন তিনি। দাঙ্গা, লুটপাট, নিগ্রহ এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে মামলা চলছে তার বিরুদ্ধে।

বাবা ও পা হারানো তানভীরের সামনে শুধুই অন্ধকার by মরিয়ম চম্পা

একটি দুর্ঘটনা পাল্টে দিয়েছে তানভীরের জীবন। বদলে দিয়েছে চলার পথ। পরিবারে নেমে এসেছে কালো ছায়া। যা গোটা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে তাকে। তার পরিবারকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে নেয়া এ ঘটনা দুই বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। তানভীরের কথা, আজীবন তা বয়ে বেড়াতে হবে। দুঃখ আর কষ্টকে আলিঙ্গন করে চলতে হবে বাকিটা জীবন। ২০১৭ সালের ২৫শে জানুয়ারি শিক্ষক পিতা জহিরুল ইসলামের বিদ্যালয় চৌগাছা বহ্নিরামপুর হাই স্কুলের পিকনিক ছিল। দিনাজপুরের স্বপ্নপূরী স্পটের সেই পিকনিকে পিতার সঙ্গে তানভীরও যায়। বাসটি চৌগাছা পুড়াপাড়া রোডে দানবাক্স এলাকায় একটি তাল গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়।
এতে তার পিতা জহিরুল ইসলামসহ ৫ জন নিহত হয়। তানভীর মারাত্মক আহত হয়। পরে তানভীরের একটি পা কেটে ফেলতে হয়। অন্য পাও অবস হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনা তানভীরের পরিবারকে তছনছ করে দেয়। গাঢ় অন্ধকার নেমে আসে সংসারে। একমাত্র উপার্জনক্ষম স্কুল শিক্ষক পিতার মৃত্যুতে সংসারে নেমে আসে অভাবের থাবা। তানভীররা এখন ঢাকায় থাকেন। সে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে। তানভীরের সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরো ৫টি অপারেশন প্রয়োজন। যার জন্য দরকার ১০ লক্ষাধিক টাকা।
তানভীরের মা কুমকুম হাবিবি বলেন, গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের বেদবাড়ীয়া। বর্তমানে পূর্ব কাফরুল আমতলাতে থাকেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে তানভীর সবার ছোট। চাকরির সুবাদে বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা কুমকুম গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। বড় দুই মেয়ে ঢাকায় অনার্সে ভর্তি হলে ছোট ছেলে তানভীরও বোনদের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসে। মিরপুর ১৪নং এ বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি হয়। ২০১৭ সালে বাবার স্কুলের পিকনিকের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারান তানভীর। একই দুর্ঘটনায় তানভীরের ডান পা কেটে বাদ দেয়া হয়। বাম পাও অকেজো হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এপর্যন্ত তার শরীরে একাধীক অস্ত্রপচার করা হয়েছে। এখনো তার কোমড়ে, হাঁটুতে এবং উড়ুতে পাঁচটি অপারেশন করতে হবে। আরেকটি কৃত্রিম পা জুড়ে দেয়ার কথা বলেছেন ডাক্তার। ডাক্তাররা জানিয়েছে তার অপারেশনে প্রায় ১০ লাখ টাকারও বেশি খরচ হতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা যাওয়ার পরে স্কুলের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু আর্থিক সাহায্য করা হয়। এরপর থেকে দুই বোনের টিউশনি আর পার্ট টাইম চাকরির টাকায় চলছে তানভীরের চিকিৎসা। বড় বোনের বিয়ে হওয়াতে ছোট বোনের কাঁধেই এখন পরিবারের ভার।
কখনো হুইল চেয়ারে কখনোবা মায়ের কোলে করে স্কুলে যান তানভীর। দুটি পা হারিয়ে এতোটুকু মনোবল হারাননি তানভীর। দুর্ঘটনার কারনে মাঝে পড়ালেখায় কিছুটা বিরতি থাকলেও নতুন করে স্কুলে নিয়মিত হয়েছে। ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত তানভীরকে নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যেই থাকতে হবে। এমনটিই জানিয়েছেন ঢামেক চিকিৎসকরা। কিন্তু তানভীরের একটাই চাওয়া মরতে হলেও শিক্ষিত হয়ে মরবো।
তানভীরের মা বলেন, একদিকে স্বামীকে হারালাম। অন্যদিকে একমাত্র ছেলের দুটি পা’ই বাদ হয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকে শুরু হয় আমার জীবন সংগ্রাম। তানভীরের বাবা তেমন কোনো যায়গা জমি কিংবা ব্যাংক ব্যালেন্স রেখে যায়নি। গত তিন বছরে নিজেদের সব দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছি। মাঝেমধ্যে আত্মীয়স্বজন ও অপরিচিতদের কাছ থেকে অল্পকিছু আর্থিক সাহায্য পেয়েছি। বর্তমানে ছোট মেয়ের টিউশনি আর ছোট একটি খন্ডকালীন চাকরির টাকায় ছেলের চিকিৎসা খরচ চালাচ্ছি। খেয়ে না খেয়ে আমাদের দিন কাটে। ছেলেকে স্কুলে আনা-নেয়া এবং সংসারের যাবতীয় কাজ নিজেকেই সামলাতে হয়। স্কুলে যাওয়ার পথে মাঝে মধ্যে অনেক পথচারি রাস্তা পারাপারে সাহায্য করে। কিন্তু সবসময়তো আর মানুষজন ডেকে সাহায্য চাওয়া যায় না। এতোকিছুর পরেও মা হিসেবে আমার একটাই চাওয়া ছেলেকে যেন কেউ অশিক্ষিত বলতে না পারে। সড়ক দুর্ঘটনায় আমার পরিবার তছনছ করে দিলেও স্বপ্নটা আমি আজও দেখি। ছেলে বড় হয়ে বাবার মতো স্কুল শিক্ষক হবে এটাই আমার স্বপ্ন।

সাংসদ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই ভাগ্য খুলেছে তাঁর by খোরশেদ আলম

হলফনামায় বলেছেন, তাঁর বার্ষিক আয় ৫ হাজার টাকা। ভোটে দাঁড়ানোর আগে জমা টাকা ছিল ৩০ হাজার। চলাফেরা করতেন একটি পুরোনো মোটরসাইকেলে। তবে সংসদ সদস্য হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই ভাগ্য খুলেছে তাঁর। চড়ছেন ৩৪ লাখ টাকার গাড়িতে।
আলোচিত এই সাংসদ হলেন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের রেজাউল করিম। তাঁর দাবি, গাড়ি কেনার টাকা ‘উপহার’ হিসেবে পেয়েছেন। তবে এলাকায় প্রচার আছে, শাজাহানপুর উপজেলার অবৈধ ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি এই গাড়ি কিনেছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর পেশা লেখা: ব্যবসা ও সাংবাদিকতা। তাঁর ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল বার্ষিক আয় ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ সাংসদ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর মাসিক আয় ছিল ৪১৭ টাকা।
হলফনামায় আয়ের উৎস বলা হয়েছে কৃষি ও ব্যবসা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে বছরে আসে ৩ হাজার টাকা। আর ব্যবসা থেকে বছরে আয় ২ হাজার টাকা। নির্বাচনের আগে তাঁর কাছে নগদ টাকা ছিল ৩০ হাজার। ব্যাংকে জমার পরিমাণও ৩০ হাজার টাকা। তাঁর মোটরসাইকেলের মূল্য ৫০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেন।
তবে এলাকাবাসী জানান, রেজাউল করিমের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসাও নেই। বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলা বুলেটিন-এর শাজাহানপুর উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। বাংলা বুলেটিন-এর সম্পাদক তারেক হাসান শেখ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, পত্রিকার শুরু থেকে রেজাউল করিম উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর মাসিক কোনো বেতন ছিল না। কেবল মাসে ১ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেওয়া হতো। এখন আর সংবাদ পাঠান না, যোগাযোগও নেই। তাই সম্মানী ভাতাও দেওয়া হয় না।
তবে সাংসদ হওয়ার দুই মাসের মাথায় রেজাউল করিম টয়োটা কোম্পানির ‘নোয়াহ হাইব্রিড’ ২০১৫ সালের মডেলের একটি মাইক্রোবাস কিনেছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রমতে, চলতি বছরের ১২ মার্চ বিআরটিএ ঢাকার মিরপুর কার্যালয় থেকে মাইক্রোবাসটি নিবন্ধন করা হয় সাংসদ রেজাউল করিমের নামে। নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-৬৯০৯। ঠিকানা, সংসদ ভবন নম্বর ১, বাড়ি নম্বর ৫০৪, নাখালপাড়া, ঢাকা। রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেছেন, গাড়িটির দাম ৩৪ লাখ টাকা।
  • সাংসদ হওয়ার আগ পর্যন্ত রেজাউলের মাসিক আয় ছিল ৪১৭ টাকা।
  • নির্বাচনের আগে রেজাউলের কাছে নগদ টাকা ছিল ৩০ হাজার।
  • ব্যাংকে রেজাউলের জমার পরিমাণও ছিল ৩০ হাজার টাকা।
  • সাংসদ হওয়ার দুই মাসের মাথায় রেজাউল মাইক্রোবাস কিনেছেন।
এলাকায় প্রচার আছে, শাজাহানপুর এলাকার ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে গাড়ি কেনার টাকা নিয়েছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুনেছি স্থানীয় অবৈধ কিছু ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে তিনি (সাংসদ) টাকা নিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে আমরা জড়িত নই।’
এই বিষয়ে সাংসদ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো ইটভাটার মালিক তো পাগল হয়ে যাননি যে আমাকে টাকা দিবে। এটা প্রপাগান্ডা।’ তিনি দাবি করেন, গাড়ি কেনার পুরো টাকা তাঁর এক বন্ধু উপহার হিসেবে দিয়েছেন।
হঠাৎ কেন এই ‘উপহার’ দিলেন—এই প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি সাংসদ হওয়ার পর খুশি হয়ে উপহার দিয়েছেন।’ তবে ওই বন্ধুর নাম জানতে চাইলে তিনি বলেননি। বন্ধুর ফোন নম্বর চাইলে সেটাও দেননি। বললেন, ‘সবাই তো সবার সঙ্গে কথা বলবে না।’
ভাগ্যের ফেরে সাংসদ
রেজাউল করিম সাংসদও হয়েছেন ভাগ্যের ফেরে। বগুড়া-৭ আসনটি ‘জিয়া পরিবারের আসন’ হিসেবে পরিচিত। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলী ও পাশের উপজেলা শাজাহানপুর নিয়ে এ আসন গঠিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় নির্বাচনেই এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। এখানে বিএনপির মনোনয়ন পান দলের গাবতলী উপজেলা শাখার মোরশেদ মিলটন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। আসনটি বিএনপিশূন্য হয়ে যায়। এখানে আওয়ামী লীগেরও প্রার্থী ছিল না। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা খানের পক্ষে। তিনি গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির আজম খানের স্ত্রী এবং শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফি নেওয়াজ খানের শাশুড়ি।
এই অবস্থায় ভোটের এক দিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিমকে সমর্থন দেয় স্থানীয় বিএনপি। ট্রাক প্রতীক নিয়ে তিনি ১ লাখ ৯০ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর সাংসদ হওয়ার দুই মাসের মাথায় বদলে যায় আর্থিক অবস্থাও।
রেজাউল করিমের বাড়ি শাজাহানপুরের মাঝিড়া এলাকায়, বগুড়া-ঢাকা মহাসড়ক থেকে ১০০ মিটার পশ্চিম দিকে। সাংসদ হওয়ার পর বাড়ির সামনের সড়কের নামকরণ করা হয়েছে, ‘এমপি রোড’।

বিহারে হাইপোগ্লাইসিমাতে ৮৩ শিশুর মৃত্যু, সরকারকে দোষারোপ করছে আরজেডি

ভারতের বিহার রাজ্যে মুজাফফরপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলতি জুন মাসে হাইপোগ্লাইসিমায় মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৮৩ তে পৌঁছেছে। রোববার এনডিটিভি ওই তথ্য জানিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমের একাংশ একে এনসেফেলাইটিস বলে উল্লেখ করলেও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, হাইপোগ্লাইসিমাতে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। হাইপোগ্লাইসিমায় রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায়।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার মৃত শিশুদের প্রত্যেক পরিবারকে চার লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। বিহারের শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও কেজরিওয়াল হাসপাতালে এসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মুজাফফফরপুর জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে গতকাল (শনিবার) চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১ জুন থেকে ১৯৭টি শিশুকে শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৯১ জন শিশুকে কেজরিওয়াল হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদের সবাইকে একিউট এনসেফালাইটিস সিন্ড্রোমের সন্দেহে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু রোগীদের অধিকাংশের মধ্যে হাইপোগ্লাইসিমিয়া পাওয়া যায়।
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই মুজাফফরপুরে শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসকদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি চিকিৎসা সুবিধায় যাতে কোনও ত্রুটি না হয় তার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সহায়তা দেয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ ধরণের রোগ যাতে আর না ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের যাতে বাঁচানো যায় এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত পর্যায়ে সহায়তা করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সচিব সঞ্জয় প্রসাদও মুজাফফরপুরে গেছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ (রোববার) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. হর্ষবর্ধন সেখানে যাবেন।
এদিকে, রাজ্যের বিরোধীদল আরজেডি নেতা রামচন্দ্র পূর্বের অভিযোগ, বিহার সরকার ওই রোগের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা বিধানসভায় সোচ্চার হবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এর নেতৃত্ব যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে ন্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৯ এর সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন নির্বাচনী পর্ষদ পদোন্নতির জন্য এমন সব সেনা কর্মকর্তাদের সুপারিশ করবে যাদের দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস,  নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য রয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। সেই আলোকেই বর্তমান সরকার একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য আর্ম ফোর্সেস  গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করেই এদেশ শাসন করেছেন। এর আগে যারা শাসন করেন তাদের কারোই জন্ম এদেশে নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার জন্যই সরকার নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
যেখানে কেউ আর ক্ষুধার্ত থাকবে না। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হুসেইন ভূইয়া এবং সশস্ত্রবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সেনাবাহিনীর উন্নয়ন, সমপ্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে এখন ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার শাসক হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী না,  দেশের সেবক মনে করি। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়াকে একটি অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৮.১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। আমরা আগামী দিনগুলোতে ডবল ডিজিট জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করব। ‘মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়ে গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, সরকার ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৫ লাখ, ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রণয়ন করেছে। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এছাড়াও সরকার তার দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকার সময় থেকেই খাত-ভিত্তিক উন্নয়নের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। অতীতের বাজেটগুলোতে সব সময়ই ৫ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেছে এবং এটা কখনোই মাত্রা অতিক্রম করেনি। এ পর্যন্ত পাঁচ কোটি মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় মানুষ দরিদ্রসীমার নিচ থেকে উঠে আসছে। নারী ক্ষমতায়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নারী ক্ষমতায়ন অর্জণের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। সমপ্রতি সৌদি আরবের মক্কায় ওআইসি’র ১৪তম সম্মেলনে আমাদের নারী ক্ষমতায়ন পরিস্থিতির প্রশংসা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পেছনে আমার দেশের জনগণের ওপর আস্থাই ছিল মূল চালিকা শক্তি। আমি যখন ফিরে আসি তখন দেশে  বৈরী পরিবেশ বিরাজ করছিল। ১৯৭৫ সালের পর ১৯টি ক্যু প্রচেষ্টা হয়েছিল। যখন আমি দেশে ফিরি মানুষের মধ্যে আস্থার অভাব ছিল। কিন্তু দেশে এখন সেই পরিস্থিতি নেই।

ডিজিটাল আইনে ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার

শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে। গতকাল রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিব্রতকর প্রশ্ন করা ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই প্রথম আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন সদস্য গ্রেপ্তার হলেন।
গত ৬ই এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে গিয়ে অগ্নি সন্ত্রাসের শিকার হন নুসরাত জাহান রাফি। ১০ই এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার কয়েক দিন আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন নুসরাত।
এ ঘটনার অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় গেলে ওসি মোয়াজ্জেম নুসরাতকে বিব্রতকর নানা প্রশ্ন করেন এবং নিজের মোবাইল ফোনে তা ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর ওসির বিরুদ্ধে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠে। নুসরাতের পরিবার ও সহপাঠিরা ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেন। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশব্যাপি চলা তীব্র প্রতিবাদের মধ্যে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সুমন। সাইবার ট্রাইব্যুনাল ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। পিবিআই তদন্ত করে জানতে পারে ওসি নিজের মোবাইল ফোনেই নুসরাতের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
পরোয়ানা জারি হলেও কৌশলে আত্মগোপনে থাকেন মোয়াজ্জেম। এর মধ্যে হাইকোর্টে জামিন আবেদনও করেন। জামিন আবেদন জমা দেয়ার পর থেকেই তার খোঁজ পাচ্ছিল না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা উঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়ে ছিলেন, মোয়াজ্জেম দেশেই আছেন তাকে যে কোন সময় গ্রেপ্তার করা হবে। মোয়াজ্জেম যাতে দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন এজন্য বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়। পুলিশের জারি করা সতর্কতার মধ্যেই গতকাল জামিন আবেদনের জন্য হাইকোর্টে যান মোয়াজ্জেম। আদালত এলাকা থেকে বের হওয়ার পর কদম ফোয়ারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে আজ সাইবার ট্রাইব্যুনালে তাকে হাজির করা হবে। গত রাতে শাহবাগ থানাতেই রাখা হয় মোয়াজ্জেমকে।
ইতিমধ্যে সোনাগাজী মডেল থানার একজন উপপরিদশর্কের নেতৃত্বে চার সদস্যর একটি টিম ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাই আমরা গোপন তথ্যর ভিত্তিতে কদম ফোয়ারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছি। সোনাগাজী থেকে পুলিশের প্রতিনিধি আসলে তাকে হস্তান্তর করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আসবে না ততক্ষণ তাকে শাহবাগ থানায় রাখা হবে। কোন আদালতে তাকে হাজির করা হবে বা তাকে শাহবাগ থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু ওয়ারেন্ট সোনাগাজী পুলিশের কাছে সেহেতু তারাই বুঝবে কোন আদালতে তাকে হাজির করবে। এছাড়া এই থানায় তার নামে কোন মামলা  নেই তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না।
শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে কদম ফোয়ারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের কথা বললেও মোয়াজ্জেমের সঙ্গে থাকা স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন তাকে হাইকোর্ট এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোয়াজ্জেমের সাবেক গাড়ি চালক মোহাম্মদ জাফর বলেন, স্যারের ফোন পেয়ে সকালে আমি কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসি। জামিন আবেদনের জন্য সকাল ১০টার দিকে স্যারের সঙ্গে আইনজীবি সালমা ইসলামের চেম্বারে যাই। সেখানে মামলার জামিন শুনানির জন্য ২৫ নম্বর কোর্টে  আবেদন করা হয়। দুপুরে আবেদনের একটি নম্বর পড়ে যার নম্বর: ৪২৭৭০। পরে আমাদেরকে জানানো হয় শুনানি হবে সোমবার। এসময় আমি স্যারকে রেখে দুপুরে খাবার খেতে যাই। তখন পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। জাফর আরও বলেন, ২৭শে মে তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়। এরপর আর দেখা হয়নি। ভেবেছিলাম তিনি ভারতে চলে গেছেন। কিন্তু সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে ভারতে যেতে পারেননি। মোয়াজ্জেমের খালাত ভাই মিনহাজ বলেন, জামিনের আবেদনের জন্য সালমা ইসলামের কাছে তিনি গিয়েছিলেন। কিন্তু মামলার শুনানির তারিখ পরের দিন পড়ে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবি সালমা ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, তদবিরকারের মাধ্যমে আমরা মামলাটি জামিনের জন্য জমা দিয়েছিলাম। পরে জানলাম তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে তিনি আজকে আসার কোন কথা ছিল না। আমার সঙ্গে দেখাও হয়নি। কারণ বিচারক বলেছিলেন মামলাটি লিস্টে দিয়ে আসার জন্য। সোমবার তিনি শুনবেন। তবে সকালে তার চেম্বারে মোয়াজ্জেম হোসেন গিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবি বলেন, আমি সকালে চেম্বারে ছিলাম না।
এদিকে গতকাল তাকে গ্রেপ্তারের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছে নুসরাত জাহান রাফির পরিবার। মামলা দায়ের করা আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনও ওসিকে গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ওসিকে গ্রেপ্তারের পরই সুপ্রিম কোর্ট চত্ত্বর থেকে ফেসবুক লাইভে এসে সুমন বলেন, পুরো এক সপ্তাহ ধরে জাতি টেনশনে ছিলো। তাকে গ্রেপ্তার নিয়ে এক ধরনের সংশয় ছিলো, পুলিশ কি সত্যিই তাকে গ্রেপ্তার করবে কিনা। তবে ওসিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ মানুষের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত করেছে। আমি নুসরাতের কবরে গিয়ে শপথ নিয়েছিলাম নুসরাত হত্যার ন্যায়বিচারের জন্য লড়বো। ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ আওয়াজ তুলবো। ব্যারিস্টার সুমন আরো বলেন, প্রত্যেকেই এরকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, যে কোন জায়গা থেকে আওয়াজ তুলতে হবে। নুসরাত হত্যায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই মামলায় লড়ে যাবেন বলেও ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার সুমন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিনের বিরোধিতা করা হবে বলেও জানান এই আইনজীবী।

ইসরায়েলকে ভারতের নজিরবিহীন সমর্থন, মোদিকে নেতানিয়াহুর ধন্যবাদ

ফিলিস্তিনি জাতিমুক্তির লড়াইয়ের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার থেকে বের হয়ে এসে ইসরায়েলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।  জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি সংগঠনের বিপক্ষে ভোট দিয়ে ইসরায়েলের ধন্যবাদও পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।  উল্লেখ্য, মোদির গত সরকারের সময় জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল ভারত। তবে এবারই প্রথম ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ভোট দিলো দেশটি।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় ভারতের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং ধারবাহিক। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই তাদের বৈদেশিক নীতি। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফিলিস্তিনের সমর্থন আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে ভারত। মোদির শাসনামলে এসে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো গাজার সহিংসতা প্রশ্নে ইসরায়েলবিরোধী এক ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল ভারত। এবার প্রথমবারের মতো এক ফিলিস্তিনি সংগঠনের পর্যবেক্ষক মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ইসরায়েলি দাবির পক্ষে ভোট দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির দেশ।
৬ জুন জাতিসংঘ ফোরামে লেবাননভিত্তিক ফিলিস্তিনি সংগঠন ‘শাহেদ’ এর পর্যবেক্ষক স্ট্যাটাসের কেড়ে নেওয়া প্রস্তাব দেয় ইসরায়েল।   ‘শাহেদ’ মানবাধিকার নিয়ে কাজ করলেও ইসরায়েলের দাবি এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। ওই ভোটাভুটিতে ভারত ছাড়াও ইসরায়েলকে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডও সহ ২৮টি দেশ। জাতিসংঘের ফোরামের ভোটাভুটিতে ইসরায়েরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সুদান, আজারবাইজান, ইয়েমেন, সৌদি আরব, মিসর, বেলারুস, অ্যাঙ্গোলা, মরক্কো, এবং ভেনেজুয়েলা।  বিলটি পাস হয় ২৮-১৪ ভোটে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়ায় মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলি  প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।  এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, জাতিসংঘে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ নরেন্দ্র মোদি। ধন্যবাদ ভারতকে।  এছাড়া ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মায়া কাদোস এক টুইটে বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন শাহেদের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতিসংঘে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতকে ধন্যবাদ।’
ঐতিহাসিকভাবেই ভারত চায় আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র তৈরি হোক, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপদ ও স্বীকৃতি সীমান্তের পাশাপাশি অবস্থান করবে ফিলিস্তিনিরা।  ২০১৫ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে গাজায় সহিংসতা নিয়ে ইসরায়েলবিরোধী এক ভোটাভুটি থেকে ভারত বিরত থাকার সময়ই একে ‘বিশেষ পদক্ষেপ’ বিবেচনা করা হচ্ছিলো। তখন থেকেই ধারণা করা হচ্ছিলো নেতানিয়াহুর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।
ফাইল ছবি: নরেন্দ্র মোদি (বায়ে) ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ডানে)

পানি আনতে গেলেন মা, মরুভূমিতে তৃষ্ণায় মৃত্যু শিশুর

প্রচণ্ড গরমে পানির অভাবে মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্তে আরিজোনার মরুভূমি এলাকায় মৃত্যু হল একটি শিশুর। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির নাম গুরুপ্রীত কউর। বয়স ৬ বছর। হিট স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির।
মার্কিন বর্ডার পেট্রল পুলিশ জানিয়েছে, শিশুসহ কয়েক জনকে নিয়ে তার মা ভারত থেকে গিয়েছিলেন মেক্সিকোয়। উদ্দেশ্য ছিল, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে ঢুকে আমেরিকায় আশ্রয় নেওয়া। মেক্সিকো থেকে আরও অনেকের সঙ্গে তাদের গাড়িতে চাপিয়ে আরিজোনার মরুভূমির পাশ্ববর্তী একটি এলাকায় মঙ্গলবার সকালে নামিয়ে দিয়ে যায় পাচারকারীরা। আশ্রয় নিতেই তারা মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকেছিলেন আমেরিকায়। প্রচুর অর্থের বিনিময়ে পাচারকারীরা মেক্সিকো সীমান্ত থেকে এভাবেই আমেরিকায় ঢুকিয়ে দিয়ে যায় অনুপ্রবেশকারীদের, মার্কিন বর্ডার পেট্রল পুলিশের নজর এড়িয়ে।
মেক্সিকো সীমান্তে মার্কিন বর্ডার পেট্রল পুলিশ ও পিমা কাউন্টি অফিস অব দ্য মেডিক্যাল এগজামিনার (পিসিওএমই) জানিয়েছে, পাঁচ জনের একটি ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীর দলে ছিল ওই শিশু ও তার মা। আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের এই দলটিকেও মঙ্গলবার সকালে একটি গাড়িতে চাপিয়ে পাচারকারীরা টাকসনের ৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমি লাগোয়া আরিজোনার সীমান্ত শহর লুকভিলেতে নামিয়ে দিয়ে যায়। ওই দিন লুকভিলের তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মরুভূমির পাশ্ববর্তী ওই এলাকায় প্রচণ্ড গরমে হাঁটতে গিয়ে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন সকলেই। ওই সময় শিশুটির মা অন্য এক মহিলাকে নিয়ে পানির খোঁজ করতে যান বেশ কিছুটা দূরে। সন্তানটিকে রেখে যান তাদের দলেরই এক মহিলার ও তার সন্তানের কাছে। ফিরে এসে তার শিশুটি বা যে মহিলার কাছে তার শিশুটিকে রেখে গিয়েছিলেন, কাউকেই দেখতে পাননি মা। মরুভূমিতে শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন তার মা।
দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর বুধবার মার্কিন বর্ডার পুলিশ সীমান্ত থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে শিশুটির লাশ পায়। কিন্তু যাঁর হেফাজতে শিশুটিকে রেখে গিয়েছিলেন তার মা, সেই মহিলার খোঁজ মেলেলি তখনও। পরে তার ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে মার্কিন সীমান্ত পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ওই মহিলা।
মার্কিন পুলিশের বক্তব্য, মেক্সিকো সীমান্তে পাচারকারীদের জন্যই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রচুর অর্থ রোজগারের তাগিদে তারা অনুপ্রবেশকারীদের এভাবেই নামিয়ে দিয়ে যায় মার্কিন সীমান্তের মরুভূমিতে। এ বছরের মে মাস পর্যন্ত এমন ধরনের ঘটনায় হিট স্ট্রোকের শিকার হয়ে ৫৮ জন অনুপ্রবেশকারীর মৃত্যু হয়েছে আরিজোনায়। গত বছর সংখ্যাটা ছিল ১২৭।
অ্যারিজোনার মরু এলাকা, মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্ত - ছবি : সংগৃহীত

ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এখনও অনিরাপদ মনে করছে যুক্তরাজ্য

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ভ্রমণে যুক্তরাজ্য সে দেশের নাগরিকদের প্রতি যে সতর্কতা জারি করেছিল, পর্যালোচনা শেষে তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। শুক্রবার সে দেশের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সুনির্দিষ্ট কোনও ঝুঁকির কথা বলা না হলেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সফলভাবে বেশ কয়েকটি হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সমর্থ হলেও এখনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল সোমবার ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় এক বিস্ফোরণে ট্রাফিক পুলিশের দুই কনস্টেবল ও এক কমিউনিটি পুলিশ সদস্য আহত হয়। হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় আইএস। ওইদিনই যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ভ্রমণে ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা জারি করা হয়। সে সময় দেওয়া যুক্তরাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলায় স্বার্থসংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাজ্য নির্দিষ্ট করে কোনো হুমকির ব্যাপারে অবগত নয়। তবে বিশেষত জনাকীর্ণ স্থানে যাওয়া নিয়ে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে আবশ্যকীয় ভ্রমণ ছাড়া বাংলাদেশের অন্য সবখানে ভ্রমণের বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ অফিস (এফসিও) থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এপ্রিলে জারি করা সেই সতর্কতা পর্যালোচনা করে ১৪ জুন ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের ওয়েবসাইটে মালিবাগে ২৬ মে পুলিশি অবস্থানকে লক্ষ্য করে হামলার তথ্য যুক্ত করা হয়। ভবিষ্যতে ধর্মীয় জমায়েত এবং রাজনৈতিক সমাবেশের মতো জনসমাগমস্থলে হামলার ঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় এতে।
যুক্তরাজ্য বলছে, বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির সম্ভাব্যতা রয়েছে, এমন স্থানগুলো হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব স্থানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার বিষয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলাফেরার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে দাফতরিক কাজ, বিনিয়োগ, পর্যটনের ক্ষেত্রে এক মাসের অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পেয়ে থাকে ব্রিটিশ নাগরিকেরা। তবে সরকারের ভ্রমণ সতর্কতায় নাগরিকদের এই সুবিধা না নিয়ে ভ্রমণের আগেই ভিসা সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের জারিকৃত সতর্কতায় সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাসহ রাজনৈতিক সমাবেশ বা প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রুপ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ধর্মীয় জমায়েত, উৎসব ও রাজনৈতিক সমাবেশের মতো বড় ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এতে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে টেকনাফ ও উখিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ও জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে; এমন স্থানগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকিতে লাখো রোহিঙ্গা by আবদুর রহমান

রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধসের শঙ্কা
কক্সবাজারে বসবাসরত লাখ লাখ রোহিঙ্গা এই বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও বন্যায় ঝুঁকিতে রয়েছে। অবাধে বন কেটে ও পাহাড়ের খাড়া ঢালে ঘর তৈরি না থামায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ভারি বৃষ্টি শুরু হলে জলাবদ্ধতার কারণে বন্যা এবং পাহাড়ি ঢালের মাটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে রোহিঙ্গারা।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য মতে, ১৯৭৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বছরে গড়ে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। জুনে তা বেড়ে ৮০০ এবং জুলাই মাসে তা ১০০০ মিলিমিটার হয়। এপ্রিল ও মে মাস থেকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও থাকে। 
সরেজমিনে দেখা যায়, উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে পাহাড় কেটে কেটে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বছর দেড়েক আগেও যেখানে পর্যটন এলাকা কক্সবাজার ও টেকনাফের আঁকাবাঁকা রাস্তাগুলোর দুই পাশে গাঢ় সবুজ ঘন জঙ্গলসহ পাহাড় ছিল। অবাধে সেসব পাহাড় ও বনের গাছপালা কেটে ঘর তৈরি করে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। যতই দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে ঝুপড়ি ঘরের সংখ্যাও। 
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা
উখিয়া কতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি (রোহিঙ্গা নেতা) মোহাম্মদ সালে আহমদ বলেন, ‘এবার এখনও সেই রকম ভারি ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়নি। মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। অপেক্ষায় আছি ঘরগুলো যদি এর আগেই আরও শক্ত করে বেঁধে দেয়। বর্ষায় দিনের চেয়ে রাতটা বেশি ভয়ে কাটে। ভারি বর্ষণ হলে নির্ঘুম রাত কাটে।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঘরগুলো খুবই দুর্বল। বাতাস হলেই নড়াচড়া করে। তখন ছেলেমেয়েরা খুব ভয় পায়। সামান্য বৃষ্টিতেও আশ্রয় শিবিরে ভয়াবহ দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। আবার রোদেও কষ্ট কম না। গরমে কুঁড়ে ঘরে হাঁসফাঁস করতে হয়।’
রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধসের শঙ্কা
রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধসের শঙ্কা
উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘যারা পাহাড়ের খাড়া ঢালে ঘর তুলেছে তারা বেশি ঝুঁকিতে আছে। ভারি বৃষ্টি হলেই ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। আর যারা নিম্নাঞ্চলে থাকে তাদের বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বর্ষাকাল যত ঘনিয়ে আসবে রোহিঙ্গাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। কারণ মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকে।’ 
জেলা বন বিভাগ সূত্র মতে, উখিয়া রেঞ্জে কুতুপালং, থাইংখালী, বালুখালী-১, বালুখালী-২, মধুরছড়া, তাজমিনার ঘোনা, নকরার বিল, সফিউল্লাহঘাটা, বাঘঘোনা, জামতলী, টেকনাফের চাকমারকুল, পুটিনবনিয়া, শামলাপুর, লেদা, নয়াপাড়া, জাদিমুড়া, শালাবাগানসহ আশপাশের পাহাড় কেটে রোহিঙ্গারা বসতি গড়ে তুলেছে। মোট ৮ হাজার একর জায়গায় পাহাড়ি বন কেটে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। টানা বৃষ্টি হলে এসব জায়গা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হয়।
বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন কক্সবাজারের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস)। এই সংস্থার প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘পাহাড়গুলো কেটে যে হারে ঘর নির্মাণ করেছে, তাতে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আবার বনের গাছপালা কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। এই অবস্থায় সামনের বর্ষা মৌসুমে যে কোনও সময় বড় ধরনের পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।’
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা (ছবি: টেকনাফ প্রতিনিধি)
রোহিঙ্গা শিবিরে বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা (ছবি: টেকনাফ প্রতিনিধি)
কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ৮ হাজার একর জমি দখল করে বসতি গড়ে তুলেছে। যার বেশিরভাগই পাহাড় ও বন কেটে গড়েছে। এসব জায়গায় টানা বৃষ্টিপাত হলে মাটিগুলো সরে যায়। এতে বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড় ও বন কেটে রোহিঙ্গাদের তৈরি করা বসতিগুলোর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে কোনগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তা সার্ভে করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’  
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্ষায় দুর্ঘটনা এড়াতে এপ্রিল থেকেই রোহিঙ্গা শিবিরে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কী পরিমাণ রোহিঙ্গা ঝুঁকিতে রয়েছে এটা তালিকা শেষে বলা যাবে। তবে কোনও মানুষ যাতে ভূমিধস ও বন্যার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ না করে সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বর্ষার আগে প্রায় লাখের কাছাকাছি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরানো হয়েছিল। এবারও রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’
উল্লেখ্য, এই ভূমিধসের আশঙ্কা থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় অবস্থিত ভাসানচরে স্থানাস্তরের পরিকল্পনা করেছিল সরকার। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করে ওই চরে আবাস তৈরি হলেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমালোচনার মুখে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর আপাতত স্থগিত রয়েছে। গত এপ্রিলে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন,  ভূমিধসে রোহিঙ্গারা যদি প্রাণ হারায় তবে বাংলাদেশ দায়ী থাকবে না। তার মতে, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে বিরোধিতাকারীরাই এ জন্য দায়ী থাকবে।