Sunday, November 24, 2024

জ্বালানি না পৌঁছালে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজার সব হাসপাতাল পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে হাসপাতালগুলোতে মাত্র দুই দিনের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে। অবিলম্বে গাজায় জ্বালানির ট্রাক ঢুকতে না দেয়া হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এখানকার সব হাসপাতালকে হয় পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে, না হলে পরিষেবার পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে তারপরেই এই সতর্কবার্তা সামনে এলো। জাতিসংঘ এবং অন্যান্যরা বারবার গাজায় মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নিন্দায় সরব হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই গাজার বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে উত্তর গাজায় লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। খাবার, ওষুধ, জ্বালানি-সহ যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের গাজায় প্রবেশের রাস্তাও বন্ধ করে রেখেছে তারা। হামাস-পরিচালিত গাজায় প্রশাসন বারবার অভিযোগ করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি, গাজার সাধারণ মানুষকে না খেতে দিয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনাও করছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের চিকিৎসকরা বলেছেন যে, বেইট লাহিয়া এবং নিকটবর্তী জাবালিয়ায় রাতারাতি ইসরায়েলি অভিযানের ফলে ডজন ডজন মানুষ নিহত বা নিখোঁজ। গাজার  হাসপাতালগুলোর পরিচালক মারওয়ান আল-হামস বলেছেন- ‘আমরা একটি জরুরি সতর্কতা উত্থাপন করছি কারণ গাজা স্ট্রিপের সমস্ত হাসপাতাল ৪৮-ঘন্টার  মধ্যে কাজ করা বন্ধ করে দেবে বা তাদের পরিষেবা কমিয়ে দেবে। জ্বালানি প্রবেশে (ইসরায়েলের) বাধা দেয়ার কারণে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে আংশিকভাবে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উত্তর গাজায় হামাসকে পুনঃসংগঠিত করা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে  ইসরাইল ৬ অক্টোবর তাদের আকাশ ও স্থল অভিযান শুরু করে। জাতিসংঘ বলেছে যে এলাকা থেকে ১ লক্ষেরও এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন সেখানকার মানুষ ‘ভীষণভাবে ক্ষুধার্ত’।

সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

mzamin

স্পেস স্টেশনে রিসাইকেল করা প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খাচ্ছেন সুনীতারা

মহাকাশে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন সুনীতা উইলিয়ামস ( ৫৯) এবং বুচ উইলমোর ( ৬১)। তার মধ্যে অন্যতম খাদ্যের সঙ্কট। জানা গেছে, এমনই অবস্থা বুচ এবং সুনীতারা সেখানে প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খেতে বাধ্য হচ্ছেন! গত জুন মাসে মাত্র ৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস এবং তার সঙ্গী ব্যারি বুচ উইলমোর। কিন্তু সময়মতো পৃথিবীতে ফিরতে পারেননি তারা। কবে ফিরবেন তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মহাকাশচারীদের কাছে দু ধরনের খাবার থাকে। শুকনো খাবারের মধ্যে থাকে গুঁড়ো দুধ, প্রাতরাশের শস্যজাতীয় খাবার, পিৎজা, চিকেন রোস্ট, টুনা ইত্যাদি। তারা এখন বেশিরভাগই ডিহাইড্রেটেড ক্যাসারোল, স্পেস স্টেশনের ৫৩০-গ্যালন ট্যাঙ্কের পানি দিয়ে তৈরি ফ্রিজের  শুকনো স্যুপ এবং গুঁড়ো দুধের সাথে প্রাতঃরাশে সিরিয়াল খাচ্ছেন। নভোচারীদের ঘাম এবং প্রস্রাবকে তাজা পানিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। নাসার  চিকিৎসকরা গোটা মিশন জুড়ে সুনীতা ও বুচদের ডায়েট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞের মতে, সুনীতাদের কাছে এই ধরনের খাবার থাকলেও তাজা ফল, আনাজের ভান্ডার কমছে। পৃথিবী থেকে ৩ মাস অন্তর আইএসএস-এ খাবার পাঠানো হয়। তাই  রিসাইকেল করা প্রস্রাব মেশানো স্যুপ খাচ্ছেন সুনীতারা।সপ্তাহখানেক আগে সুনীতা এবং বুচের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই ছবিতে সুনীতাকে দেখে দাবি করেছিলেন যে তার শরীর খারাপ। কারণ, তাকে অবিশ্বাস্য রকমের রোগা লাগছে। মহাকাশে যাওয়ার আগে বুচের যে ছবি দেখা গিয়েছিল এখন তারও বদল ঘটেছে। তাই অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সুনীতা পরে ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেছিলেন, তাকে নিয়ে চিন্তা করার কিছুই হয়নি। তিনি একদম সুস্থ-স্বাভাবিক আছেন। নভোচারীর বক্তব্য ছিল, ‘স্পেস স্টেশনে আসার সময়ে আমার যা ওজন ছিল, এখনও তাই আছে। কিন্তু এখানে থাকতে গেলে প্রতিদিন যে ব্যায়াম করতে হয়, তার কারণে শরীরের গঠনে বদল আসে। ছবি দেখে আপনাদের তাই মনে হচ্ছে আমি ভাল নেই।' সুনীতার এই বার্তা শুনে স্বস্তি পেয়েছেন সকলেই। নাসা বলছে সুনীতা এবং বুচ  ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফিরতে পারেন।

সূত্র :  ইকোনোমিক টাইমস

mzamin

‘আমরা কি মানুষ না’—ইসরায়েলের তাণ্ডবে বৈরুতবাসীর ক্ষোভ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একেবারে কেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার নামে লেবাননে যে তাণ্ডব ইসরায়েল চালাচ্ছে, বৈরুতে এ হামলা তারই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ।

কোনো রকমের পূর্বসতর্কতা দেওয়া ছাড়াই গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাত চারটার দিকে বৈরুতে এ হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, এটি ছিল লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা।

বিস্ফোরণ এত শক্তিশালী ছিল যে এর প্রভাব বৈরুত শহরজুড়ে অনুভূত হয়। বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ বাসতা এলাকায় এ হামলায় অন্তত আটতলা একটি আবাসিক ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে।

লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা বলেছে, হামলায় বাংকার বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হত্যায় এর আগে ইসরায়েল যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, এটি তার অনুরূপ।

গতকালের হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ২০–এ দাঁড়িয়েছে। ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই ঘটনায় ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়তে পারে।

বিধ্বস্ত ভবনের কাছের একটি ভবনের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী আলী নাসের। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল এক ভয়ানক বিস্ফোরণ। এর প্রচণ্ডতায় আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর জানালাগুলো ও সব কাচ ভেঙে এসে পড়ে। আমার বাসা এখন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো।’

ইসরায়েলের হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আলী নাসের বলেন, ‘যদি একজনও এখানে লুকিয়ে থাকেন, তবে আপনার কি উচিত লোকজন যেখানে ঘুমিয়ে আছেন, সেখানে এভাবে বোমা হামলা চালানো? এক ব্যক্তির জন্য সবাইকে মেরে ফেলা কি জরুরি? নাকি আমরা মানুষ না। আমি এটা জানতে চাই।’

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কানের দাবি, হিজবুল্লাহর অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ হায়দারকে হত্যার চেষ্টায় এ হামলা চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা আমিন শেরি বলেছেন, তাঁদের সংগঠনের নেতারা ওই ভবনে ছিলেন না। অবশ্য মোহাম্মদ হায়দারের বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট।

এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কোনো মন্তব্য করেনি।

আইডিএফ গতকাল দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায়ও বিমান হামলা চালিয়েছে। বাহিনী বলেছে, যেসব ভবনে হামলা চালানো হয়েছে, সেসব হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

লেবাননের দক্ষিণেও এদিন বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এ অঞ্চলে ইসরায়েলির স্থলবাহিনীও অভিযান চালাচ্ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকে ইসরায়েলি বাহিনীর আরেকটি বিমান হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহ ধরে অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। ইতিমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় চলছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা।

এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর লড়াই অবসানের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে এর মধ্যেই গতকাল এসব চালাল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়া অ্যামোস হসটেইন শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন খসড়া চুক্তিকে এগিয়ে নিতে চলতি সপ্তাহে লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত অবসানে হিজবুল্লাহ ও ইরান উভয়েই একটি চুক্তি সইয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

গত বুধবার হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল নাঈম কাসেম বলেছেন, শান্তিচুক্তি সইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পেয়েছেন তাঁরা। তবে চুক্তির সইয়ের শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, ইসরায়েলের তরফে পুরোপুরি বৈরিতার অবসান ঘটাতে ও লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘ মেয়াদে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন তাঁরা।

গত বছরের অক্টোবর থেকে লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ৩ হাজার ৬৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ হাজার ৪০০ জন। এ তথ্য জানিয়ে লেবাননের কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েলি হামলার কারণে এ সময়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

বৈরুতে আবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
বৈরুতে আবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রয়টার্স

অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই জাতিকে একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব।’

আজ রোববার শপথ গ্রহণ শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় মূল ভবনের প্রবেশপথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। এ সময় নির্বাচন কমিশনাররা সঙ্গে ছিলেন।

নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ফার্স্ট অব অল শপথ নিয়েছি। শপথের সম্মানটা রাখতে চাই। শপথ সমুন্নত রাখতে চাই। আমি এটাকে নিজের জীবনের বড় অপরচুনিটি হিসেবে দেখছি, এই দায়িত্বটাকে। অপরচুনিটি টু সার্ভ দ্য নেশন। দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবাধ ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচনের জন্য অনেক সংগ্রাম করেছে। অনেক আন্দোলন করেছে বিগত বছরগুলোয় এবং অনেকে রক্ত দিয়েছে। আমি তাদের একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য সর্বোচ্চটুকু করব।’

সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবাই মিলে, আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়েই কিন্তু (নির্বাচন) করতে হবে। আমরা একা পারব না। আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। দেশবাসীর সহযোগিতা লাগবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা লাগবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই জাতিকে একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেব।’
ভোটার তালিকা করতে হবে

এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একটা নির্বাচন করতে গেলে কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কার তো লাগবেই। উদাহরণ—এখন নানা রকম কথা হচ্ছে। কেউ প্রোপরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন, আবার কেউ বলে আগের সিস্টেমে ইলেকশন। সংবিধানে যদি এটা ফয়সালা না হয়, আমরা নির্বাচনটা করব কীভাবে? নির্বাচন করতে গেলে নতুন প্রজন্ম, যারা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে বছরের পর বছর, তাদের তো ভোটার তালিকায় আনতে হবে। ভোটার তালিকা করতে হবে।...কোথায় কোথায় সংস্কার দরকার হবে, ইন্টারভেনশন দরকার হবে, সেটি পাব, যেহেতু নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটা কমিশন কাজ করছে। পরামর্শ আসুক, আমরা দেখি কোনটা কোনটা গ্রহণযোগ্য হয়। যেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের।’
সংবিধান ঠিক না হলে যাত্রা এলোপাতাড়ি হয়ে যাবে

সংবিধান সংস্কার কমিশন কাজ করছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘তাঁরাও সংবিধানের বিষয়ে সাজেশন দেবেন। ...আমি ও আমার টিম সংবিধানের প্রোডাক্ট। সংবিধান যদি ঠিক না হয়, তাহলে আমাদের যাত্রা এলোপাতাড়ি হয়ে যাবে। সুতরাং এ কার্যক্রমও শেষ হোক। সব সুপারিশ আসুক। বেশিদিন তো নেই। উনারা তো বলছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। অতি অল্প সময়, আপনারা আশ্বস্ত থাকুন।’

এবারের মতো সুযোগ আগে ছিল না বলে উল্লেখ করেন নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমরা নই, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করবে। তারা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে বলে আসছে তারা ভোটের অধিকার চায়, অবাধে ভোট দিতে চায়। সুতরাং তাদের সঙ্গে পাব। তাদের ডিমান্ডটা বাস্তবায়নে আমরা সহযোগিতা করব। সুতরাং আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তারাও জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ।’

কবে নির্বাচন দেবেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘দিনক্ষণ দিয়ে তো এখন বলা যাবে না। কিছু সংস্কার, যেগুলো দরকার আছে, সেগুলো করে...আগে আমি দায়িত্বটা নিই, একটু বুঝে নিই, কাজকর্মটা বুঝে নিই। আমাকে একটু বুঝতে তো দেবেন, ভাই।’

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ রোববার শপথ গ্রহণ শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময়
নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ রোববার শপথ গ্রহণ শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময়। ছবি: প্রথম আলো

কিছু মানুষের ব্রেইন সিটিস্ক্যান করে দেখার ইচ্ছা, কীভাবে এত ক্রিমিনাল হতে পারে?

বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দীন বলেছেন, গ্যাসের জন্য সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর (নসরুল হামিদ) বাসার সামনে আমাকে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তার কাছ থেকে অনেক লেকচার শুনতে হয়েছে। ন্যূনতম ইজ্জত পর্যন্ত পাইনি। তারপরও জ্বি স্যার, জ্বি স্যার বলতে হয়েছে। কিছু কিছু মানুষের সিটিস্ক্যান করে তাদের ব্রেইন দেখার ইচ্ছা হচ্ছে আমার। মানুষ কীভাবে এত ক্রিমিনাল হতে পারে?

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে শিল্পকারখানায় গ্যাস–সংযোগের জন্য রাস্তা কাটার অনুমতি পেতে তাকে ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল। এই ঘুষের টাকা পৌঁছে দিতেও এক ব্যক্তিকে ঘুষ দিতে হয়েছিল তাকে।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) ‘দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি–সংকট সমাধানের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সেখানে শিল্প কারখানায় বিনিয়োগের পর গ্যাস পেতে নিজের টাকায় ৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন প্রসঙ্গে এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

ঘুষ দেওয়ার সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেখ বশির উদ্দিন বলেন, গ্যাসের জন্য জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বাসার সামনে আমাকে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তার কাছ থেকে অনেক লেকচার শুনতে হয়েছে। মিনিমাম ইজ্জত পর্যন্ত পাইনি। তারপরও জ্বি স্যার, জ্বি স্যার বলতে হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে দেশ নৈরাজ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছিল। সে সময় ব্যবসায়ীদের কোনো মর্যাদা না থাকলেও পরিস্থিতি এখন বদলেছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের মতো এখন আর কাউকে চাঁদা কিংবা ঘুষ দিতে হবে না। এখন সুযোগ এসেছে, এ সুযোগ ব্যবহার করুন। সৎ উদ্যোক্তাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখার বিরাট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পরে কিছু আর্থিক অপরাধী সম্পর্কে জানতে পারছি। এসব জেনে কিছু কিছু মানুষের সিটিস্ক্যান করে তাদের ব্রেইন দেখার ইচ্ছা হচ্ছে আমার। মানুষ কীভাবে এত ক্রিমিনাল হতে পারে?

ফাওজুল কবির বলেন, ভোলায় ৭০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া গেলেও পাইপলাইন না থাকায় ওই গ্যাস ঢাকায় বা শিল্প এলাকায় আনা যাচ্ছে না। ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনার জন্য আমরা ডিসেম্বরেই ওপেন টেন্ডার দিচ্ছি। আগ্রহী ব্যবসায়ীরা দরপত্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলএনজি বা সিএনজি ফরম্যাটে এই গ্যাস ঢাকায় আনতে পারবেন। ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা গেলে শিল্পে গ্যাসের সংকট কিছুটা হলেও কমবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দীন। ছবি : সংগৃহীত

ওয়েনাড়ে নতুন তারকা প্রিয়াংকা গান্ধী

রেকর্ড গড়লেন প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র। মহারাষ্ট্রে দল যখন বাজে ফল করেছে, ঝাড়খণ্ডে পিছলে পড়ছিল তখন কেরালার ওয়েনাড়ে আসনে জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠেছেন গান্ধী পরিবারের তারকা। তিনি প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র। এই আসনে এ বছর লোকসভা নির্বাচনে তার ভাই, লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা প্রিয়াংকার ভাই রাহুল গান্ধী যে ভোট পেয়েছিলেন, তাকেও অতিক্রম করে গেছেন প্রিয়াংকা। তাকে অনেক মানুষ তার দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেন। চেহারা, বেশভূষা, বাচনভঙ্গি সবই এক রকম। ভারতের রাজনীতিতে প্রিয়াংকার অংশগ্রহণ এতদিন কংগ্রেস নেতাদের প্রাণের দাবি ছিল। সেই দাবি পূরণে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। ওয়েনাড়ে আসনে চোখ বন্ধ করে জিতে এসেছেন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধী ওয়েনাড়ে আসনে পেয়েছিলেন তিন লাখ ৬৫ হাজার ভোট। কিন্তু তার প্রায় দ্বিগুণ ভোটে নির্বাচিত হলেন প্রিয়াংকা। তিনি কমপক্ষে ৬ লাখ ১০ হাজার ভোটে জিতেছেন। ফলে তার ধারাকাছেও ঘেঁষতে পারেননি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএরে সত্যায়ন মোকেরি। তিনি পেয়েছে দুই লাখ ৬ হাজার ভোট। এই আসনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তারই ভাই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু তিনি একইসঙ্গে কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী আসন রায়বেরেলিতেও জয় পান। এই আসন রেখে ওয়েনাড়ে আসন ছেড়ে দেন রাহুল। এই আসনে প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্রসহ মোট ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। উল্লেখ্য, এই আসন থেকে প্রথমবার ২০১৯ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। একই সময়ে তিনি আমেথি আসনে পরাজিত হয়েছিলেন। ফলে তখন তাকে এ আসনটি ধরে রাখতে হয়। কিন্তু এ বছর তিনি ওয়েনাড়ে এবং রায় বেরেলি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর আগে রায় বেরেলি আসনে নির্বাচন করেছিলেন তার মা সোনিয়া গান্ধী। তিনি এবার এ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে রাহুল রায় বেরেলি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জয়ী হন দুটি আসনেই। এরমধ্যে রায়বেরেলি নিজের কাছে রেখে ওয়েনাড়ে আসন ছেড়ে দেন। সেখানেই প্রিয়াংকা গান্ধী সরাসরি উপনির্বাচনে প্রথম পা রাখেন। গত এক মাস ধরে তার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রিয়াংকাকে বিজয়ী করতে প্রচারণা চালিয়েছেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাবেক প্রধান সোনিয়া গান্ধী। তারা লক্ষ্য স্থির করেছেন এখানে কমপক্ষে ৫ লাখের বেশি ভোটে জয়ী হবেন প্রিয়াংকা। তাকে সমর্থন দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী ওয়েনাড়েকে উত্তম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যখনই লোকজন কেরালার কথা ভাবেন তখনই ওয়েনাড়ের কথা মাথায় আসতে হবে আগে। এটা হবে ওয়েনাড়ের জনগণের জন্য সুবিধার এবং এর অর্থনীতির জন্য মঙ্গল। বিশ্ব জানবে ওয়েনাড়ের সৌন্দর্য্য।
ওয়েনাড়ে আসনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা কমপক্ষে ১৪ লাখ। তার মধ্যে শতকরা কমপক্ষে ৬৫ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছেন। তবে এ বছর এপ্রিলে লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে ভোট দিয়েছিলেন কমপক্ষে ৭৪ ভাগ ভোটার। ২০১৯ সালে ভোট দিয়েছিলেন শতকরা ৮০ ভাগ ভোটার। শুধু ওয়েনাড়ে আসনে প্রিয়াংকা চমৎকার পারফরমেন্স করলেও তার কংগ্রেস দল মহারাষ্ট্রে পরাজিত হয়েছে। সেখানে একচেটিয়া জয়ের পথে বিজেপি। ২০১৯ সালে এখানে কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৪ আসন। কিন্তু এবার তা কমে এসেছে ২২। তারা মোট ১০১ আসনের মধ্যে ২২টিতে এগিয়ে আছে।

mzamin
mzamin

বৈরুতে আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলা ইসরাইলের

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে এবার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আবাসিক ভবনগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এই হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০জন। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) মতে, কমপক্ষে ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এর আগে ওই এলাকায় কোনো সতর্কতা দেয়নি ইসরাইল। এতে একটি আটতলা বিশিষ্ট ভবন পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। জনবহুল বাস্তা অঞ্চলে অবস্থিত ওই ভবনটি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাত চারটার দিকে এই হামলা হয়। এতে ওই অঞ্চলসহ পুরো রাজধানী কেঁপে ওঠে। বাস্তা এলাকায় এই হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ভয়াবহ এই হামলার মাত্রা এবং সতর্কতা ছাড়া তা চালানো এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কোনো সিনিয়র কর্মকর্তাকে টার্গেট করা হতে পারে। তবে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি সেনাবাহিনী কোনো পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা সেখানে ছুটে যান। তারা দেখতে পান বিশাল গর্ত হয়ে গেছে। সেখান থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সেখানে অব্যাহতভাবে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছিলেন উদ্ধারকর্মীরা। ধারণা করা হচ্ছে, আরও মৃতদেহ পাওয়া যেতে পারে। এতে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে করা হচ্ছে ডিএনএ পরীক্ষা। স্থানীয় অধিবাসী নেমির জরারিয়া বলেছেন, তখন খুব ভোরবেলা। তিনি ও তার পরিবারের সবাই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এমন সময় হামলা হয়। দ্বিতীয় আরেকটি হামলা। কী হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চারদিকে শুধু ধুলোবালি। ধ্বংসস্তূপ। তার ভিতর দিয়ে লোকজন দৌড়াচ্ছিল। তারা আর্তনাদ করছিলেন। তারা চিৎকার করে বলছিলেন- আমার স্ত্রী হাসপাতালে। আমার মেয়ে হাসপাতালে। কেউ বলছেন, আমার আন্টি হাসপাতালে।

এ নিয়ে এক সপ্তাহে বৈরুতে চতুর্থ দফা হামলা চালালো ইসরাইল। সোমবার ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহ বলেছে, তাদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আফিফ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। অন্য শহরগুলোতে হামলার পর শনিবার খুব ভোরে বাস্তা এলাকায় হামলা হয়। দক্ষিণ বৈরুত থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। হিজবুল্লাহর অবকাঠামো বা তাদের ইন্টারেস্ট আছে এমন স্থানগুলোর কাছাকাছি থাকা লোকজনকে সরে যেতে বলেছে তারা। আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলার একঘণ্টা পরে বেশকিছু স্থাপনায় হামলা করেছে তাদের যুদ্ধবিমান। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৈরুতে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এর মধ্যে আছেন শীর্ষ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ। সেপ্টেম্বরে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে বড় রকমের অভিযান শুরু করে আইডিএফ। তারা লেবাননের দক্ষিণে আকাশ পথে হামলা করে। ভিতরে পাঠিয়ে দেয় সেনাবাহিনীকে। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর গাজার যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ করে। তাতে এক হাজারের মতো ইসরাইলি নিহত হয়। এরপর থেকেই হামাস ও হিজবুল্লাহকে টার্গেট করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

mzamin

তাজরীন ট্র্যাজেডি’র এক যুগ: হতাহতদের পুনর্বাসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে তাকিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা

আজ তাজরীন ট্র্যাজেডি’র একযুগ পূর্তি হলো। ২০১২ সালের ২৪শে নভেম্বর এই দিনে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশন কারখানায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে কারখানাটির ১১৭ জন শ্রমিক নিহত হন। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে কারখানা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০০ জন শ্রমিক। এক যুগ পার হলেও এখনো সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি হৃদয় থেকে মুছতে পারেনি অগ্নিকাণ্ডে হতাহত শ্রমিক ও তাদের পরিবার। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পুনর্বাসনসহ আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ একযুগে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হতাহতের পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ এবং আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন বলে আশাবাদী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।
তাজরীন ট্র্যাজেডির ১২ বছর উপলক্ষে নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা কারখানার ফটকের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার নিয়ে হতাহত শ্রমিক পরিবারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। প্রতি বছর এ দিনটিতে এমন কার্যক্রম চললেও এসব অসহায় ক্ষতিগ্রস্তদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এখনো। ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৪শে নভেম্বর মনে করিয়ে দেয় স্বজন হারানোর বেদনা। এইদিনে কেউ হারিয়েছে মাকে, বোনকে, বাবাকে কেউ বা আবার হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। এইদিন ডুকরে কেঁদে ওঠে স্বজন হারানো মানুষগুলো। উপার্জনক্ষম মানুষগুলোই এখন তাদের পরিবারের বোঝা, কেউবা কোনোমতে দোকান দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের জীবনযুদ্ধ। কেউবা চিকিৎসা করাতেই নামমাত্র ক্ষতিপূরণসহ শেষ করেছেন তাদের সর্বস্ব। আবার অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন ক্ষতিপূরণ থেকেও। তারা আজ ১২ বছর ধরে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশায় আছেন।

আহত নারী শ্রমিক শিল্পী বেগম জানান, ঘটনার দিন আগুনের লেলিহান শিখা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সিঁড়ি দিয়ে তড়িঘড়ি করে নামার সময় হঠাৎ নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার দুই হাত-পা ও মাজায় প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে দীর্ঘদিন সাভারের পক্ষাঘাততগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এখনো জীবনযুদ্ধে থেমে নেই। জীবিকার তাগিদে বর্তমানে চায়ের দোকানে চলছে তার সংসার। সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাময়িক কিছু সহায়তা পেলেও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাননি তিনি। বহু পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করছেন। আহত সবিতা রাণী জানান, কারখানাটির ৩য় তলায় তিনি সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে সামান্য সহায়তা পেয়েছেন তা চিকিৎসা করাতেই শেষ হয়ে গেছে। বারবার আশ্বাস দিলেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা হয়নি। ক্ষতিপূরণ পেলে তিনি গ্রামে গিয়ে কিছু একটা করে সংসার চালাবেন বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

আহত শ্রমিক নাজমা ও রেহেনা আক্তার বলেন, আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। আগে কাজ করে আয় করে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে পারলেও এখন অন্যের ওপর ভরসা করতে হয়। এটা কোনো জীবন হলো? এদিকে, বিভিন্ন শ্রমিক নেতারা বলেন, তাজরীনে আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে শতাধিক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার ১২ বছর পার হলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মালিকপক্ষের অবহেলায় পোশাক শিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতসহ হাসপাতাল বানিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের দাবি জানান। শ্রমিক নেতা মো. ইব্রাহিম জানান, তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি সুপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় শতাধিক শ্রমিক মারা যায় এবং আহত হয় আরও অনেকে। বিগত সরকারের আমলে আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু পূরণ করতে পারেনি। তাই বর্তমান নিরপেক্ষ সরকারের কাছে আহত ও নিহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে যখন শ্রমিকরা চিৎকার করছিলেন। তখনও মালিক দেলোয়ার হোসেন কারখানা থেকে বের হওয়ার সব গেটে তালা লাগিয়ে রাখেন। প্রাণে বাঁচতে অনেক শ্রমিক ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, সেদিন সন্ধ্যার দিকে তাজরীন ফ্যাশনস পোশাক কারখানাটির নিচতলার তুলার গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো আটতলা কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ১২ বছর পরও আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনটি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। শারীরিক যন্ত্রণা, সংসারের অভাব অনটনের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে দিন পার করছেন। আজও সে রাতের কথা মনে পড়লে আঁতকে ওঠেন তারা। এলাকাবাসী জানায়, একসময় সকাল হলেই যে কারখানাটি শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত থাকতো সেখানে আজ সুনসান নীরবতা বিরাজ করে। এত বড় ভবনটি এখন ভূতের বাড়ির মতো হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভবনটির বেশ কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছে। ভেতরে মালিকের লোকজনও থাকে। মাঝে মধ্যে দুই-একটি বড় কাভার্ডভ্যানও ভেতরে দেখা যায়। সাংবাদিকরা যেন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে তাই প্রধান ফটক আটকে রাখা হয়। প্রসঙ্গত, তাজরীন ফ্যাশন কারখানাটিতে এক হাজার ১৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন। দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। মরদেহ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে পরিবার ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদের মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
mzamin

এবার মারা গেলেন পরীমণির প্রথম সিনেমার পরিচালক

এবার মারা গেলেন পরীমণির প্রথম সিনেমার পরিচালক পরিচালক শাহ আলম মণ্ডল। শনিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে খবরটি জানিয়েছেন পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক।

মানিক নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। প্রিয় শাহ আলম মণ্ডল ভাই আর নেই। খুব কাছের মানুষ ছিলেন। দেখা হলেই দারুণ আড্ডা জমত আমাদের। আর আড্ডা হবে না, আর কথা হবে না। ভাবতেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। বড় অসময়ে চলে গেলেন শাহ আলম ভাই। চলে গেলেও আপনি থেকে যাবেন আপনার সৃষ্টিতে, আমাদের অন্তরে। মহান মালিক আপনার আত্মাকে শান্তি প্রদান করুন।’

জানা গেছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহ আলম। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে। এরপর অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পরে ৫ হাসপাতাল ঘুরে শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভর্তি করা হয় গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আজ শনিবার ভোরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। তবুও শেষ রক্ষা হলো না।

পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের সহকারী ছিলেন শাহ আলম মণ্ডল। এরপর সহকারী হিসেবে কাজ করেন বদিউল আলম এবং এফআই মানিকের সঙ্গেও।

শাহ আলমের হাত ধরে সিনেমায় আসেন পরীমণি। এই পরিচালক তাকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘ভালোবাসা সীমাহীন’। তার নির্মিত অন্য ছবিগুলো হচ্ছে ‘আপন মানুষ’, ‘ডনগিরি’ এবং ‘লকডাউন লাভ স্টোরি’।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়কের শিবচরের পাচ্চর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পরীমণির প্রথম স্বামী ইসমাইল হোসেন জমাদ্দার।

এক পোস্টে পরীমণি লেখেন, ‘নিয়তির ডাকে দিলে যে সাড়া ফেলে গেলে শুধু নীরবতা। যার চলে যায় সেই বোঝে হায় বিচ্ছেদের কী যন্ত্রণা!’

হঠাৎ পরীমণির এমন স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় ভক্তরা এর কারণ খুঁজে পাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন প্রথম স্বামীর মৃত্যুর খবরে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন পরী।

আবার অনেকেই পরীমণির নানা শামসুল হক গাজীর মৃত্যুর সঙ্গে এই স্ট্যাটাসের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন। কারণ এক বছর আগে ঠিক এইদিনেই নানা শামসুল হক গাজীকে হারিয়েছেন তিনি।

আর এরই মধ্যে পরীমণির প্রথম পরিচালক চলে গেলেন। 

শাহ আলম মণ্ডলের হাত ধরে চলচ্চিত্রে পা রাখেন সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি : সংগৃহীত
শাহ আলম মণ্ডলের হাত ধরে চলচ্চিত্রে পা রাখেন সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি : সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং দেউলিয়ার নেপথ্যে এনআই খান by এম এম মাসুদ

মো. নজরুল ইসলাম খান। এনআই খান নামে পরিচিত সবমহলে। সাবেক শিক্ষা সচিব। তিনি পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত, একান্ত সচিব ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটরও ছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং স্বাধীন পরিচালক। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে এন আই খানের নেতৃত্বাধীন ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) দেউলিয়া হওয়ার নেপথ্যে এই এনআই খানের বড় ভূমিকা রয়েছে। নজিরবিহীন ঋণ কেলেঙ্কারি আর গ্রাহকের আমানতের টাকা লোপাটের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি। আমানতের অর্থ ফেরতের আশা দেয়া হলেও বিপুলসংখ্যক আমানতকারী ফিরছেন শূন্য হাতে। সম্প্রতি নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারী ফোরাম।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং একসময় ভালো প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি ছিল। দেশের ভালো কয়েকটি গ্রুপও পরিচালনা পর্ষদে ছিল। কিন্তু আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) মিলে আরও ডজনখানেক প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নেয় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা, যা আর ফেরত দিচ্ছেন না। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে আইএলএফএসএলে নিরপেক্ষ পর্ষদ বসানো হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আমানতকারীরা টাকা না পেয়ে আদালতে গেলে প্রয়াত সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি এক মাসের মাথায় পদ ছেড়ে দেন। জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সক্রিয় না হলে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। আইএলএফএসএল আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে না পারার পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের ১লা জুন আদালত  সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম (এনআই) খানকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন।

এনআই খান যোগ দিয়ে জানিয়েছিলেন, উন্নতির চেষ্টা করে যাবেন। তবে উন্নতির বদলে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হওয়ার পথে আরও বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। অবশ্য এনআই খান যোগ দেয়ার পর কয়েকজন আমানতকারী টাকা ফেরত পেয়েছেন, সেটা খুবই সামান্য।

অভিযোগ আছে, এনআই খান, পিকে হালদার গংদের আত্মসাৎ করা ২৫০০ কোটি টাকা জায়েজ করার ব্যবস্থা করেছিলেন। এ ছাড়া ১০৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির মামলায় উদ্দীপন এনজিওর সাবেক চেয়ারম্যান পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ড. মিহির কান্তি মজুমদারকে অব্যাহতি দেয়ার কাজটিও তিনি করেছিলেন।

২০১৪ সালে এনআই খানে বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই সময় রিটকারীর আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ বলেছিলন, রিটে এনআই খানের দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পরে পিকে হালদার কাণ্ডে সাবেক সচিব এনআই খানসহ ২৫ জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। ২০২১ সালে এনআই খানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ননী এই আদেশ দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এজিএম হাসান মোহাম্মদ তারেক বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগে (এফআইসিএসডি) লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি তার অভিযোগে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জসিম উদ্দিন বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে রেপটাইল ফার্ম লিমিটেড এবং আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের নামে বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণের অর্থ ছাড় করেছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ব্যতীত মো. মশিউর রহমান এবং জসিম উদ্দিন ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বড় অঙ্কের অর্থ সিটি ব্যাংকে তাদের বেতন হিসেবে স্থানান্তর করেন। মো. মশিউর রহমান এবং জসিম উদ্দিন আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের পরিবর্তে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন নতুন প্রকল্পে ঋণ প্রদানে বেশি উৎসাহিত ছিলেন।

২০১৫ সালের দিকে নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনে মালিক বনে যান পিকে হালদার। এরপর নামে বেনামে ঋণ বের করেন। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের বিপরীতে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৭৬ পয়সা, যা ২০২২ সালের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ১১ পয়সা। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ৬৫ পয়সা। ২০২২ সালের তুলনায় ১৪ কোটি ৪১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫৯ টাকা লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫৬ টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে লোকসান ছিল ৪৬ কোটি ৮০ লাখ ১৯ হাজার ৬১৯ টাকা। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়া প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সংখ্যা ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৬টি।

পিকে হালদার গংদের আত্মসাৎ করা ২৫০০ কোটি টাকার মধ্যে অর্থ আদায়ের পরিমাণ একেবারেই শূন্য। শুধুমাত্র পিকে হালদারের ১১০ কোটি টাকার কুমিরের খামার পাতানো নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি বাবদ মাত্র ৩৮.২০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। খামারে ৪০০০ কুমিরের স্থলে ২৫০০ কুমির আছে বলে সংখ্যা কমিয়ে খামারের প্রকৃত মূল্য গোপন করে পাতানো নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এনআই খান কে কম মূল্যে ক্রয় করতে সহযোগিতা করেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান। সম্প্রতি প্রতারণার শিকার বিনিয়োগকারীরা আত্মসাৎ করা টাকা ফিরিয়ে দিতে আদালতের এসব তথ্য জানান।

এই বিষয়ে ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, বিক্রেতা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং ক্রেতা উদ্দীপন এনজিও উভয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এন আই খান, যেখানে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট জড়িত। অর্থাৎ রক্ষকই যখন ভক্ষক। এ ছাড়া ১০৫ কোটি টাকার ঋণখেলাপির মামলায় উদ্দীপন এনজিওর সাবেক চেয়ারম্যান পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ড. মিহির কান্তি মজুমদারকে অব্যাহতি দেয়া, পিকে হালদারের ৮০০০ মুরগি বিক্রি বাবদ ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দিয়ে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, ঋণ পরিশোধের আগেই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং জাহাঙ্গীর আলম নামক খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে দায়মুক্তি, আনান কেমিক্যাল লি. নামক প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের অপচেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট টিমকে অডিট কার্যক্রমে বাধা প্রদান ও ভীতিপ্রদর্শন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, বিধি বহির্ভূতভাবে এনআই খানের সহযোগীদের পদোন্নতি ও উত্তরায় ১০ তলা বাড়িসহ শতকোটি টাকা তুরস্কে পাচারের অভিযোগ করা হয়।

আবেদনে মহামান্য হাইকোর্টে যাবতীয় তথ্য পেশ করে এনআই খানের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ বিলুপ্ত করে আর্থিক খাতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নতুন পর্ষদ গঠন করে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জরুরিভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত এমডি মশিউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, এখনো এনআই খান চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে আইএলএফএসএল’র আরেক কর্মকর্তা বলেন, এনআই খান অফিসে আসেন না। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ ছাড়া তো পর্ষদ ভেঙে দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে এনআই খানের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারী ফোরামের সমন্বয়ক তাসদিক আহমেদ বলেন, পিকে হালদার গোষ্ঠীর লুটপাটের পর ২০২০ সালে অবসরপ্রাপ্ত আমলা নজরুল ইসলাম খানকে (এনআই) চেয়ারম্যান করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। কিন্তু আমানতকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ এই চার বছরেও এ পরিচালনা পর্ষদ তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি। এনআই খানকে অবিলম্বে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে স্বল্প সময়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা।

mzamin

পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি by নাজমুল হুদা

মেট্রোরেল কোম্পানিতে পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে ফেলা হয়েছিল নিয়োগবিধি। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সাবেক এমডি এম এ এন ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগবিধি পরিবর্তন করার অভিযোগ। নিজে এমডি থাকার বৈধতা পাওয়ার জন্য সুবিধামতো নিয়ম পরিবর্তন করেন তিনি। এজন্য কোম্পানির মেমোরান্ডাম এবং আর্টিকেলস অফ এসোসিয়েশন (এওএ)-এর সংশোধন করেন তিনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আবার আগের নিয়োগের নিয়মে ফিরে গেছে। আর সেই অনুযায়ী এমডি পদে দেয়া হয়েছে নতুন বিজ্ঞপ্তি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিএমটিসিএলের প্রতিষ্ঠাকালে জাপানি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এমডি পদের জন্য যোগ্যতা হিসেবে সিভিল বা মেকানিক্যাল প্রকৌশলীতে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ ছিল। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব পদ থেকে ছিদ্দিক অবসর নেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৬শে অক্টোবর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ছিদ্দিককে এমডি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনুমোদিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে উচ্চ বেতনের এই পদে নিয়োগ পান তিনি। তবে এমডি পদে তার কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ছিদ্দিক কোম্পানির মেমোরান্ডাম এবং আর্টিকেলস অফ এসোসিয়েশন (এওএ)-এর সংশোধন করেন। এওএ-র ধারা ৩৩ (২)-এ পরিবর্তন এনে তিনি এমডি পদের যোগ্যতা হিসেবে ‘সড়ক পরিবহন খাতে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত সচিব’ উল্লেখ করেন। ফলে তার নিয়োগের বিষয়টিকে বৈধতা দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি এমডি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ছিদ্দিকের বিধি অনুযায়ী সেই আমলাকেন্দ্রিক নির্ভররতা রাখা হয়নি। গত ৯ই অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এমডি পদের জন্য সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এমডি পদের জন্য প্রার্থীদের সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা প্রশাসন বা পরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বড় মাপের গণপরিবহন প্রকল্পে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা, যার মধ্যে তিন বছর শীর্ষ নেতৃত্বে থাকতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের জটিল প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতা প্রার্থীদের জন্য আবশ্যক।
বর্তমান নিয়োগের জন্য গত ১০ই নভেম্বর একটি সুপারিশ কমিটি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম বদরুজ্জামান। সদস্য হিসেবে আছেন অধ্যাপক মো. শামসুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাকিলা হুদা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আক্তার ও ডিএমটিসিএল-এর কোম্পানি সচিব খোন্দকার এহতেশামুল কবীর। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে এমডি নিয়োগ হবে।

তবে নতুন এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে মেট্রোরেলের কিছু কর্মকর্তার। তারা বলছেন, কোম্পানি পরিচালনা করার জন্য প্রকৌশলী হওয়ার বিধান দেয়ায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমটিসিএল-এর এক কর্মকর্তা বলেন, এমডি পদ সম্পূর্ণভাবে ম্যানেজারিয়াল ও এডমিনিস্ট্রিটিভ পদ হওয়া সত্ত্বেও বৈষম্য করে শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ার গ্র্যাজুয়েট এবং নন রেডিডেন্ট বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে করে মেট্রোরেলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আবেদন করা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

নিয়োগ কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. শামসুল হক বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্প ইঞ্জিনিয়াররা পরিচালনা করে। জাপান লিখে দিয়েছিল এখানে ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ার থাকতে হবে। কিন্তু এটা কেটে দিয়েছেন তিনি (ছিদ্দিক)। আগের এমডি যে দুর্নীতি করেছে তার বিচার হওয়া দরকার। আগের সরকারকে ডুবানোর পেছনে কয়েকটা সচিবের মধ্যে এই ছিদ্দিক একজন। এখন অন্য সচিবরাও স্বপ্ন দেখে মেট্রোরেলের এমডি হওয়ার। তিনি বলেন, নতুন সরকার আবার আগের নিয়োগের নিয়মে ফিরে গেছে। আর সেই অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, তারা আগে যে নিয়ম ছিল সেটিকে বাতিল করে দিয়েছেন। এখন এই বিষয়ে (মেট্রোরেল) অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হবে। 

mzamin

‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে!’

ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষমতার শেষের দিকে এসে তা জটিল থেকে আরও জটিল হয়েছে। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে ইউক্রেন এবং রাশিয়া। তার চেয়েও ভয়ের বিষয় পুতিন হুঙ্কার দিয়েছেন। যদি পরিস্থিতি বাধ্য করে তাহলে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। এমনটা হলেই শুরু হয়ে যাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ইউরোপ। সম্প্রতি রাশিয়ার ভিতরে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। এই হামলায় প্রথমবার ইউক্রেন ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের দেয়া ক্ষেপণাস্ত্র। এতে উত্তেজিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনিও পাল্টা হামলা করেছেন। এখানেই সব থেমে থাকবে বলে মনে হয় না। পরিস্থিতির যেমন অবনতি ঘটছে তাতে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিশেষ করে গত সপ্তাহে রাশিয়ার হামলা চালানোর আশঙ্কায় কিয়েভে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাস বন্ধ করা হয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভয়ে কাঁপছে ইউরোপ। কারণ যদি পুতিন তার পারমাণবিক অস্ত্রের রেড বাটন চাপেন তাহলে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে চারপাশ। তবে ইউক্রেনের সাবেক কমান্ডার ইন চিফ ভ্যালেরি জালুঝনি তো বলেই দিয়েছেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। এই যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া, ইরান, চীনসহ আরও কিছু দেশ। সেখানে বিদেশি সেনা ও অস্ত্রের উপস্থিতির জোরালো এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র এই দুই সুপারপাওয়ার ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে যে উত্তেজনা তা সীমান্ত অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মহল। এরমধ্যে আছে উত্তর কোরিয়া, ইরান ও চীন। পলিটিকোর মতো, জালুঝনি বলেন, ২০২৪ সালে আমি বিশ্বাস করি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এই যুদ্ধ যে আন্তর্জাতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছে তার পরিষ্কার ইঙ্গিত হিসেবে তিনি বলেন- এতে যুক্ত হয়েছে উত্তর কোরিয়ার সেনা। বেসামরিক ব্যক্তিদের টার্গেট করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইরানের ড্রোন। উত্তর কোরিয়া এবং চীন থেকে যাচ্ছে অস্ত্র। ওদিকে ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে নতুন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরদিনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত এমন শক্তিশালী নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আছে রাশিয়ার কাছে। অনির্ধারিত এক টিভি ভাষণে তিনি বলেন, ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশে ভূপাতিত করা যাবে না। তা আরও সফল টেস্ট চালাতে পারবে। বিশেষ করে যুদ্ধাবস্থায় তা ব্যবহার করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের সরবরাহ দেয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবার রাশিয়ার ভিতরে হামলায় ব্যবহারের পরে রাশিয়া এই ধরনের নতুন অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং তাদের কাছে এর যথেষ্ট মজুত আছে বলে জানিয়ে দিলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এমন অবস্থায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গুরুতর প্রতিক্রিয়া দাবি করেছেন বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে, যাতে পুতিন মনে করেন তার কর্মকাণ্ডের জন্য বাস্তব পরিণতি অপেক্ষা করছে।  তিনি আরও বলেন, তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সহায়তা দাবি করছে তার দেশ। ইন্টারফ্যাক্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স পাওয়ার দাবি করছে কিয়েভ অথবা তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট আধুনিকায়নের দাবি করছে। শুক্রবার টিভিতে দেয়া ভাষণে পুতিন বলেন, ওরেশনিক হলো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। শব্দের গতির চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে এটি। এর আগে স্টর্ম শ্যাডো এবং অ্যাটাকমস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জবাবে তিনি এই অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন।  এমন অবস্থায় ভ্যালেরি জালুঝনি বলেন, ২০২৪ সালে এসে ইউক্রেন এখন আর রাশিয়াকে মোকাবিলা করছে না। তাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে উত্তর কোরিয়ার সেনারা। কোনো রকম হীনমন্যতা ছাড়াই প্রকাশ্যে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করছে ইরানিরা। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মতবিরোধের জেরে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সামরিক পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় ভ্যালেরি জালুঝনিকে। যুদ্ধকৌশল নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। জালুঝনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। জালুঝনি বলেন, কোনো কোনো কারণে এ বিষয়টি বুঝতে পারেনি আমাদের অংশীদাররা। তিনি আরও বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই যুদ্ধে ইউক্রেন হয়তো টিকে থাকবে। কিন্তু বৃহত্তর সমর্থন ছাড়া যুদ্ধে জয় অনিশ্চিত।
mzamin

জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি বাড়াচ্ছে সতর্ক বিএনপি by কিরণ শেখ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি সামনে রেখে মাঠ দখলে রাখতে চায় বিএনপি। এ জন্য জনসম্পৃক্তমূলক কর্মসূচি বাড়াচ্ছে দলটি। নির্বাচন পর্যন্ত এসব কর্মসূচি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে চায় দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। একইসঙ্গে সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি নেতাকর্মীদেরও গণমুখী কাজে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়া হয়েছে। দেয়া হচ্ছে নানা সতর্ক বাণী। এ ছাড়া রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব নিয়েও তৃণমূলে যাচ্ছে বিএনপি। শুরু হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা। ১৯শে নভেম্বর ঢাকা বিভাগ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শেষ হবে আগামী ২১শে ডিসেম্বর।

বিএনপি’র পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলও সারা দেশে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তার ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সামনে যাতে কেউ দলের কোনো ধরনের অপকর্মে জড়াতে না পারে সেজন্য কঠোর বার্তা দেয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিরোধ বা বিতর্কে জড়াতে চান না দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এজন্য সিনিয়র নেতাদের বার্তাও দেয়া হয়েছে। সরকারের সঙ্গে সরাসরি কোনো বিরোধে না জড়ানো, অন্যান্য দলের সঙ্গে কোনো ধরনের দূরত্ব  তৈরি না করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন নেতারা।

৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিএনপি বলছে, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি চায় না। তারা এখন নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে চাচ্ছে। এই বার্তা সাধারণ মানুষকে দেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জনদুর্ভোগ এড়াতে সাংগঠনিক কাজের উদ্দেশ্যে সফরকালে কোনো ধরনের মোটরসাইকেল বহর ও কারসহ অন্য কোনো যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের রং-বেরংয়ের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। দলের এই নির্দেশনায় দেয়াল থেকে ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করছেন নেতাকর্মীরা।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান মানবজমিনকে বলেন, ১৫ বছর দেশে দুঃশাসন চলেছে। ওই দুঃশাসনের কারণে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারি নাই। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। জনগণ বিএনপির মূলশক্তি। তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেই বিএনপি রাজনীতি করে। সেই সম্পৃক্ততা জনগণের মাঝে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতেই এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মানবজমিনকে বলেন, ৩১ দফা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমরা যাচ্ছি এবং তাদের বোঝাচ্ছি। এটা সাংগঠনিক তৎপরতা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম। পাশাপাশি প্রশাসনে এবং চাঁদাবাজিতে নেতাকর্মীরা যাতে প্রলুব্ধ হয়ে অন্ধকার পথে যাতে হাতছানি না দেয়, সে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।   

জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজির অভিযোগ ওঠে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের শেল্টার দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায় বিএনপির হাই-কমান্ড। বহিষ্কার, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং পদ স্থগিতসহ নানা শাস্তি দেয়া হয় নেতাকর্মীদের। বিভিন্ন সেমিনার এবং সমাবেশেও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন।

ওদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হোক তা চায় না বিএনপি। তাদের সঙ্গে দূরত্বও সৃষ্টি করতে চায় না; বরং দলটি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা সমর্থন দিচ্ছে। তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে না। কিন্তু যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছে। এটা না হলে রাজপথে কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সরকারের ওপর চাপও তৈরি করা হবে। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি’র দূরত্ব সৃষ্টির আলোচনার বিষয়টি সামনে আসে। যদিও সম্প্রতি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, তারা সরকার এবং জামায়াতের সঙ্গে বিরোধে জড়াবে না।

সেলিমা রহমান বলেন, আমরা কোনো দলের সঙ্গে দূরত রাখি নাই। রাখতেও চাই না এবং অদূর ভবিষ্যতেও রাখবো না। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মানবজমিনকে বলেন, আমরা সাংগঠনিক কর্মসূচি করছি। এখানে অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ সৃষ্টি করছি না। আর সরকারকে চাপ সৃষ্টির প্রশ্নই আসে না।  

এ ছাড়া সরকার যেসব সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে তাতে বিএনপি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে যাবে। তবে এসব সংস্কারের কারণে যাতে নির্বাচন দীর্ঘায়িত না হয় সেজন্যও চাপ তৈরি করবে। দলটির নেতারা মনে করেন, অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন থাকলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। এতে দেশ এবং মানুষের ক্ষতি হতে পারে। ইতিমধ্যে কিছু সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি সরকারকে মতামত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলীয় ফোরামে এই প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশনে জমা দেয়া হবে। 

mzamin

সিলেটে পিপি’র দরজায় ঝুলছে নতুন সাইনবোর্ড by ওয়েছ খছরু

সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর-পিপি আশিক উদ্দিন। পিপি হয়েই আলোচনায় তিনি। আর এই আলোচনার অন্যতম কারণ হচ্ছে দরজায় ঝুলানো একটি সাইনবোর্ড। এই সাইনবোর্ডে  লেখা রয়েছে- ‘পিপিকে টাকা দিতে হয় না।’ সিলেটের আদালতে এটি একটি ব্যতিক্রমী সাইনবোর্ড। কারণ; সেবা পেতে সাধারণ মানুষ ছুটে আসেন সরকার নিযুক্ত আইনজীবীদের কাছে। কিন্তু পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতেন। টাকাও দিতে হতো তাদের। এই অবস্থার ইতি ঘটাতে যাচ্ছেন পিপি আশিক উদ্দিন। সেবা পেতে যারাই আসছেন তাদের কাছ থেকে তিনি টাকা নিচ্ছেন না। কেন এই সাইনবোর্ড এ প্রশ্নের জবাবে পিপি আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন- ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর আশপাশের মানুষের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছি। এতে কিছুটা সন্দেহ হওয়ার কারণে এই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছি। সরকার পিপিকে মানুষের সেবা করার জন্য টাকা দিচ্ছে। সেখানে পিপি’র পক্ষ থেকে টাকা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।’ এডভোকেট আশিক উদ্দিন। জেলা বারে এক নামেই পরিচিত। বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে তাকে সিনিয়র ধরা হয়। বিগত ১৫ বছর নিরলসভাবে মামলায় আক্রান্ত হওয়া নেতাকর্মীদের সেবা দিয়ে গেছেন। এর আগে তিনি ৯২ সাল থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত এডিএম কোর্টে অতিরিক্ত পিপি ছিলেন। ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন নারী নির্যাতন দমন আদালতের পিপি। সিনিয়র আইনজীবী হওয়ার কারণে এবার পিপি হওয়ার তালিকায় শীর্ষে ছিল এডভোকেট আশিক উদ্দিনের নাম। কিন্তু প্রথম দিকে সিলেটে ১০৩ জন পিপি, এডিশনাল পিপি ও এপিপিদের যে তালিকা এসেছিলো সেখানে পিপি হিসেবে আশিক উদ্দিনের নাম ছিল না। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি হিসেবে তালিকায় ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির দুইবারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট এটিএম ফয়েজ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হন সিলেটের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা। তারা এ নিয়ে আন্দোলনেও নামেন।

সিলেটের দুই পিপি’র কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। তাদের এই আন্দোলনের মুখে গত ৩রা নভেম্বর সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে আশিক উদ্দিন নিযুক্ত হন। তিনি নিয়োগ পাওয়ার পরপরই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারাও সন্তুষ্ট হন। আন্দোলন থেকে সরে আসেন। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা জানিয়েছেন; বিগত সরকারের সময় প্রথম দিকে সিলেটে পিপি পদকে কলুষিত করা হয়েছে। ওই সময় সেবা নিতে আসা মানুষজনকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। বাদী, বিবাদী উভয়পক্ষের কাছ থেকে টাকা গ্রহণের রীতি চালু ছিল। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে নানা ধরনের কথাবার্তা ছিল। ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ পুষলেও আইনজীবীদের স্বার্থ বিবেচনা করে কেউ প্রতিবাদ করেননি। তারা জানিয়েছেন- আগে কোনো মামলার আসামির জামিন আবেদনে পিপিকে টাকা দিতে হতো। মামলার সাক্ষী হাজির হবে, পিপিকে টাকা দিতে হয়েছে। মামলা সংক্রান্ত যেকোনো কাজেই বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষের কাছ থেকে টাকা নেন পিপি। এতে করে প্রতিটি মানুষই জানতেন পিপিকে টাকা দেয়ার নিয়ম। অথচ বাদী-বিবাদী কোনো পক্ষ থেকেই পিপিকে টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। এ ছাড়া পিপি কার্যালয়কে ঘিরে একটি সিন্ডিকেটও গড়ে উঠেছিল। ফলে সেবা নিতে আসা লোকজনের ভোগান্তির অন্ত ছিল না। পিপি কার্যালয় সূত্র জানা গেছে- বর্তমানে প্রতিদিনই ১৫ থেকে ২০ জন সাধারণ মানুষ পিপি’র কাছে সেবা নিতে আসেন।

সরকারি আইনজীবী হিসেবে পিপি’র পক্ষ থেকে যে সেবা দেয়ার কথা সেই সেবা পিপি’র পক্ষ থেকে বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। অনেকেই টাকা দিতে চান। তাদের সাফ জানিয়ে দেয়া হয়; পিপিকে টাকা দিতে হয় না। বৃহস্পতিবার সেবা নিতে আসা কয়েকজন ব্যক্তি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পিপি কার্যালয়ে এসে টাকা দেয়ার রীতি পুরনো। এ কারণে এ প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু এবার নতুন পিপি ব্যতিক্রম। তারা বলেন- সেবাপ্রত্যাশীরা এ ধরনের সেবা পেলে বিচারাঙ্গনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও এডিশনাল পিপি এডভোকেট আল-আসলাম মুমিন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পিপি’র এই উদ্যোগ ইতিবাচক। বর্তমানে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিচারাঙ্গনে কোনো প্রভাব বিস্তার নেই। আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পিপিসহ আমরা সবাই কাজ করছি। অতীতে কী হয়েছে জানি না, বর্তমানকে আমরা সুন্দর করতে চাই। পিপি আশিক উদ্দিন জানিয়েছেন- হাজারো মানুষের জীবন বিসর্জন ও প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এ কারণে পূর্বের সব অন্যায়কে সরিয়ে আমরা নতুন করে যাত্রা শুরু করেছি। এখানে মানুষের সেবা নিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা যায় না। এ কারণে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন- অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করা হয়েছে। জনগণের আস্থা ফেরাতে এখন আমরা কাজ করতে গিয়ে পূর্বের অনেক অসঙ্গতির মুখোমুখি হচ্ছি। কিন্তু চব্বিশের রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা মনে রেখে আমরা সবকিছুকে নতুন করে সাজাচ্ছি। এই সাজানোর অংশ হিসেবে অন্তত আদালত পাড়ায় আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সবাই কাজ করছেন বলে জানান তিনি।  

mzamin

সরকারের তিন মাসে জ্বালানি খাতে সাশ্রয় হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৩ মাসে জ্বালানি খাতে ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। গতকাল ‘দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট সমাধানের পথ’- শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সেমিনারটি আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। এতে বিভিন্ন শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। ফাওজুল কবির খান বলেন, জ্বালানি তেলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের স্পেসিফিকেশন ছিল, যিনি জ্বালানি তেল সরবরাহ করবেন তাকে রিফাইনারির মালিক হতে হবে। আমি এটাকে ক্ষাণিকটা পরিবর্তন করে দিলাম যে, রিফাইনারির মালিক হলে ভালো, যদি আপনি বড় সরবরাহকারী হন তাহলেও হবে। এর ফলে ৩ মাসে যে জ্বালানি আমদানি করেছি, তাতে ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। যেটার বার্ষিক ভ্যালু প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা। এজন্য আমাদের সরকারি জ্বালানি ক্রয় প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে এবং এটাই সবথেকে বড় সুযোগ। আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির দুইটা সমস্যা হলো- একটা প্রতিযোগিতার অভাব, আরেকটি অপচয়। এখানে ব্যবসা করতে হলে মন্ত্রী, সচিবকে চিনতে হয়। আমাদের ভোলাতে যে গ্যাস আছে, সেটা আমরা পাইপলাইনের কারণে আনতে পারছি না। ওখান থেকে আপনারা গ্যাস এলএনজি অথবা সিএনজি ফর্মে আনেন এবং ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের সহজ সমাধানের কথা না ভেবে প্রকৃত সমাধানের কথা ভাবতে হবে। প্রকৃত সমাধান হলো- আমাদের রিনিউয়েবল এনার্জিতে যেতে হবে। অনেকে বলে জায়গার অভাব, এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। অপ্রয়োজনীয় জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি বিদ্যুৎ ছাড়াও সেতু ও রেলওয়ে দেখি- যেখানে বিনিয়োগ দরকার ছিল সেখানে হয়নি, আর যেখানে বিনিয়োগ অপ্রয়োজনীয় ছিল সেখানে করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সবার পার ক্যাপিটা জিডিপি বাড়ছে। যখন এগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি, এখন গ্রোথ রেট কমে যাচ্ছে। অনেকে বলছে, এই উপদেষ্টারা তো কিছুই পারে না। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা কি অপচয়ের গ্রোথ রেট চান নাকি প্রকৃত গ্রোথ রেট চান? আমরা উন্নয়নটা মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত করতে চাচ্ছি।

দেশের অর্থনীতিকে ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ মুক্ত করার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনারা এটাতে অংশ নেবেন। আরেকটা জিনিস, ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ বা অন্যের পরিচয়ে ব্যবসা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আমাদের দেশে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ের কোনো ভিত্তি হতে পারে না।

ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সরকারের সখ্যতার ভিত্তিতে না ব্যবসা করে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা করেন। আমাদের অর্থনীতি উন্মুক্ত করার যে প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি, সেটার সঙ্গে আপনারা যুক্ত হবেন। আমাদের ভালো ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসবেন। এতে অর্থনৈতিক সংকট থেকে আমরা পরিত্রাণ পাবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে দেশ নৈরাজ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছিল। সে সময় ব্যবসায়ীদেরও কোনো মর্যাদা ছিল না। তবে এখন সে পরিস্থিতি বদলেছে। বিগত সরকারের সময়ে গ্যাস সংযোগ পাওয়া নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাবেক জ্বালানি মন্ত্রীর কাছে আমি গিয়েছিলাম। ওই সময় ওনার বাসার সামনে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়েছিলাম, যেন আমি কোনো চাকরি চাইতে গিয়েছি। এর কারণ, এত টাকা বিনিয়োগ করেছি, কিন্তু গ্যাস সংযোগ পাচ্ছিলাম না। তখন গ্যাস সংযোগ পাওয়া আমার কাছে মনে হতো ব্যাংকের নিবন্ধন পাওয়ার মতো।

জ্বালানি খাত দুর্নীতির অন্যতম জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পরে কিছু আর্থিক অপরাধী সম্পর্কে জানতে পারছি। এসব জেনে আমার কিছু কিছু মানুষের ব্রেন স্ক্যান করে দেখতে ইচ্ছা করে, যে এরা এতটা ক্রিমিনাল কী করে হতে পারে! শেখ বশিরউদ্দিন আরও বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমানে যে দুর্বলতা রয়েছে তা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা নেই। আমরা বিদ্যমান সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানের দিকেও যেতে পারবো বলে আশা করছি।
সেমিনারে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. ইজাজ হোসেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার প্রমুখ।

mzamin

আওয়ামী লীগের নৈতিকভাবে রাজনীতি করার অধিকার নেই -আন্দালিব রহমান পার্থ

আওয়ামী লীগের নৈতিকভাবে রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, একটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকার জন্য কতো হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। যে পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অনুশোচনা না করে, ক্ষমা না চায় এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নির্বাচনের কোনো অধিকার নাই। গতকাল রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ‘সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য সংবিধানে বিধান সংযোজন করার প্রস্তাবও দেন পার্থ।

বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে ঘর থেকে বের হতে দেবে না। বিএনপি হয়তো আওয়ামী লীগকে ছাড় দিতে চায় যে নির্বাচনে আসুক। কিন্তু নৈতিকভাবে আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের নির্বাচন করার কোনো সুযোগ আছে। যারা গণহত্যায় বিশ্বাস করে, যাদের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব নেই, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সব কিছু করতে রাজি সে ধরনের দলকে নিষিদ্ধ করার জন্য সংবিধানের বিধান থাকা উচিত। না হলে আবারো এ ধরনের রাজনৈতিক দল সামনে চলে আসবে।

আন্দালিব পার্থ বলেন, বর্তমান সংবিধান ফ্যাসিস্ট বানানোর সবচেয়ে বড় কারখানায় পরিণত হয়েছে। বিগত সরকার এই সংবিধানকে ব্যবহার করে মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। ভোটের অধিকারসহ গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যা করেছে। যেকোনো সরকার এই সংবিধান দ্বারা পরিচালিত হলে তাদের ফ্যাসিস্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমাদের এই সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। কিন্তু এই সংবিধানকে ব্যবহার করে বার বার মানুষের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। সুতরাং যেই সংবিধানে মানুষকে রক্ষা করে না তা মানুষ ছুড়ে ফেলে দেবে। এটা প্রাসঙ্গিক হওয়া জরুরি। সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণের সরকার প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারই কেবল সংবিধান সংশোধন করতে পারে। এ সময় সংবিধানে সংশোধনের কয়েকটি প্রস্তাব রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, বিপ্লব যখন হয় তখন সংবিধান চলে না। বিগত সরকারের এমপি, মন্ত্রীদের দুর্নীতির বর্ণনা দিয়ে বিজেপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, অর্থনৈতিক রাষ্ট্রদ্রোহিতার আইন সংবিধানে থাকা উচিত। যাদের দুর্নীতি কর্মকাণ্ডের জন্য বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সম্মান হেয় হয়, তাদের জন্য বিশেষ আইন থাকা উচিত। অর্থনৈতিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে শাস্তি দেয়া উচিত।

রাজনৈতিক বৈষম্যের সমালোচনা করে পার্থ বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য হয় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে। গত ১৭ বছর অনেক মানুষ চাকরি পায়নি পরিবারের বাবা, চাচা বিএনপি করে এই জন্য। সংবিধানে এই আইন করা উচিত যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। কোনো সংবিধানই গুম খুনকে সমর্থন করে না। তারপরেও এই বিষয়ে আইন থাকবে হবে। ভবিষ্যতে যারাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসুক তাদেরকে আওয়ামী লীগের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বানও জানান ব্যারিস্টার পার্থ। তিনি বলেন, আধুনিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমরা বাংলাদেশে চাই না।
বিজেপির মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাউদ্দিন মতিন প্রকাশ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস মাতব্বর, যুব সংহতির আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ হারুন। 

mzamin

ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন -আলোচনা সভায় বক্তারা

জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। জাতীয় রাষ্ট্রচিন্তা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক চর্চারও আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. আবদুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন: কার্যকর ও টেকসই সংস্কার’- শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম। প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলে দেয় যে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর যথাক্রমে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন তার প্রমাণ।

তিনি বলেন, মূলত দলীয় সরকারের অধীনে সরকার এমনকি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাইলেও এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার পরও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। কারণ, পুরো নির্বাচনটি পরিচালনা করে সরকারের নির্বাহী বিভাগের লোকেরা-আমলাতান্ত্রিক প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সরকারি/বেসরকারি কর্মচারীবৃন্দ। নির্বাচন কমিশন সেখানে কেবল লজিস্টিক সাপোর্টস এবং গাইডিং প্রিন্সিপালস সরবরাহ করে মাত্র। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি প্রশাসনের সদস্যবৃন্দই এ সংক্রান্ত নির্বাহী কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আরও বলে যে, ক্ষমতাসীন সরকার ও দল ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে পরাজয়বরণ করতে একদম নারাজ। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারা পরাজয় মেনে নিতে অনিচ্ছুক। নিকট ভবিষ্যতেও এর কোনো ব্যত্যয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। কাজেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দলীয় সরকার নয়, বরং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার/অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, এর বিকল্প নেই। অতএব, নির্বাচনী সংস্কারের প্রধান ক্ষেত্র নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো দূর করতে এবং বাংলাদেশে নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে সংস্কারে বেশকিছু ক্ষেত্র বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, আইনি সংস্কার এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য পদ্ধতিগত পরিবর্তন।

জাতীয় রাষ্ট্রচিন্তা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮  ও  ২০২৪ সালের মতো পাতানো নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার এই বিপ্লবে রক্তের নদী বইয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর ফ্যাসিস্ট নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে এ পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, ভোটের অধিকারের জন্য এত লোকের আত্মত্যাগ-প্রাণ দিলো, আহত হলো, নিহত হলো, রক্ত দিলো, শহীদ হলো। জুলাই-আগস্টে কতো লোক প্রাণ দিলো। অনেক দাবির মধ্যে একটি দাবি ছিল ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেই দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়েই নতুন নির্বাচন কমিশনকে আগাতে হবে। এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে যে পরিবেশে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট যাকে ইচ্ছে দিতে চান, তাকে যেন দিতে পারেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন কমিটমেন্ট দিয়েছেন, আমরা তার ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। অতীতের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়েই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এগুতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চেয়ারম্যান মেজবাহ উল-আজম সওদাগর বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মিশে গেছে। জনগণের মধ্যে এ ধারণা শক্তিশালী যে কখনোই দলীয় সরকারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্দলীয় সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের সমাধান। গণঅভ্যুত্থানের চেতনাও সেটা। সে কারণে এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে কোনোদিন কোনো দল ক্ষমতায় থেকে আর ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে। এটি এজন্যই নিশ্চিত করতে হবে কারণ একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন হচ্ছে অন্যতম প্রধান জবাবদিহিতার মেকানিজম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কাজী মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর  অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, সাবেক সচিব শেখ মোতাহার হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক স ম আলী রেজা, শাহ আবদুল হালিম প্রমুখ।

mzamin

মর্মান্তিক!

গাজীপুরের শ্রীপুরে পিকনিকের বাসে বিদ্যুৎস্পর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও দু’জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের উদয়খালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, মীর মোজাম্মেল নাঈম, মুস্তাসিন নাহিন ও জুবায়ের আলম শাকিব। তারা সবাই গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (আইইউটি)’র শিক্ষার্থী। জানা গেছে, সকালে গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার এলাকার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রায় ৪৬০ জন শিক্ষার্থী বিআরটিসি’র ডাবল ডেকার বাসে করে উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের উত্তর পেলাইদ গ্রামের মাটির মায়া ইকো রিসোর্টে যান। তারা বিআরটিসি’র ডাবল ডেকার ৬টি, তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে আসেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে বাসগুলো গ্রামীণ আঞ্চলিক সড়ক ধরে রিসোর্টের উদ্দেশ্যে উত্তর পেলাইদ গ্রামের যেতে থাকে। বাসগুলো গ্রামীণ সড়কের উদয়খালী বাজার পৌঁছালে বিআরটিসি’র ডাবল ডেকার বাসটি বাজারের উপরে পল্লী বিদ্যুতের তারে স্পর্শ হয়। বাসে ৬০/৭০ জন যাত্রী ছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বাকি দু’জনকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এবং বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

গাজীপুর কালিয়াকৈর সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখানে কারও অবহেলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিন জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে গেছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে তিন দিনের ভিতরে রিপোর্ট প্রদান করবেন।

mzamin

কলকাতায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মন্দা, বইমেলা ও চলচ্চিত্র উৎসব থেকে বাদ by পরিতোষ পাল

ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কলকাতায় বাংলাদেশের নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হয়ে এসেছে এতদিন। সেই কর্মকাণ্ড ঘিরে দুই বাংলা মিলনমঞ্চে পরিণত হতো। সাহিত্য, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের গুণীজনদের আনাগোনায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠতো সংস্কৃতির শহর কলকাতা। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাতেও বাংলাদেশের সগৌরব উপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহের জোয়ার দেখা যেতো। কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থাপত্যের অনুকরণে তৈরি  সুবিশাল প্যাভিলিয়ন থাকতো সকলের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ও নাট্যকার অভিনেতা ব্রাত্য বসু গত বছর বইয়ের স্বর্গ কলেজ স্ট্রিটে আয়োজিত বাংলাদেশ বইমেলার উদ্বোধন মঞ্চে দাঁড়িয়ে গর্বের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, দুই বাংলাকে জুড়ে রেখেছে আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি এবং অবশ্যই বই। যা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে রাখা যাবে না।

কিন্তু এ বছর একটা মন্দার ছবি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর একটা পরিবর্তন এসেছে ঠিকই। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও শীতলতা দেখা দিয়েছে। দূতাবাস ও উপদূতাবাসগুলোতেও একটা আপাত স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফলে বাংলাদেশের তরফে সাংস্কৃতিক কোনো কর্মকাণ্ডের চঞ্চলতা এখন পর্যন্ত চোখে পড়ছে না। ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে যে ‘বাংলাদেশ বইমেলা’ ও ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবে'র আয়োজন করা হতো তার ইঙ্গিত কোনও সূত্র থেকেই মেলেনি। অবশ্য নিরাপত্তার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বলে একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। আর কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণও এক প্রকার অনিশ্চিত। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকেও বাদ রাখা হয়েছে বাংলাদেশকে।

ইতিমধ্যেই এই সব খবর মিডিয়ার কল্যাণে জানাজানি হওয়ার পর থেকে কলকাতার বাংলাদেশ অনুরাগীদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের সাহিত্যের এক নিবিষ্ট পাঠক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের স্নাতকোত্তর ছাত্র নীলাঞ্জন সেন তার হতাশার কথা কোনওরকম গোপন না রেখেই বলছিলেন, সাহিত্য -সংস্কৃতির অঙ্গনে রাজনীতির প্রবেশ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি প্রতিবছর বাংলাদেশের নতুন নতুন লেখকদের সাহিত্য পড়ার জন্য বইমেলায় বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নের দিকে তাকিয়ে থাকতেন জানিয়ে বলেন, আমার মতো বহু সাহিত্য অনুরাগীই এ বছর বঞ্চিত হতে চলেছেন। অবশ্য শেষ মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা আলাদা কথা।

কলকাতা বইমেলার বয়স ৪৮ বছর হলেও গত ২৮ বছর ধরে এই বইমেলায় বাংলাদেশ অন্যতম অতিথি দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়ে এসেছে। বাংলাদেশ থিম কান্ট্রি হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে একাধিকবার। বইমেলার ১২ দিনের মধ্যে একটি দিন পালন করা হতো বাংলাদেশ দিবস হিসেবে। সারাদিন ধরে মেলা প্রাঙ্গনে বাজতো বাংলাদেশের নানা সঙ্গীত। আর সেমিনার হতো বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা অভিমুখ নিয়ে।
সম্প্রতি কলকাতা বইমেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের তরফে বইমেলায় অংশগ্রহণের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স থেকে লাতিন আমেরিকার দেশের নাম থাকলেও নাম নেই প্রতিবেশী বাংলাদেশের।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত। গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় সব দায়ভার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশের সরকারি সংস্থা জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের ডিরেক্টার আফসানা বেগম অবশ্য সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ প্রবলভাবে আগ্রহী ছিল। আগ্রহী ছিলেন বাংলাদেশের প্রকাশকরাও। সরকারিভাবে কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে তারা আয়োজক সংস্থার কাছে ই-মেইল এবং একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে কথা বললেও কোনও উত্তর পান নি। আর তাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে কলকাতা বইমেলা। গত বছর এই বইমেলায় ২৬ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল। বই বিক্রি হয়েছিল ২০ কোটি রুপির বেশি। বইমেলার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে প্রবশের জন্য বইপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতো হতো।  
তবে এবারের পরিস্থিতি নিয়ে  আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের ভিসা কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধ থাকার কারণে গিল্ডের পক্ষে নিজের থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের পরামর্শ চেয়েছি। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ভারত সরকারের নীরব থাকার নীতি নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও একই পথ নিয়েছে। আর তাই রাজ্য সরকার আয়োজিত আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশকে এ বছর বাদ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উৎসব কমিটির প্রধান চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ।

চলচ্চিত্র সংক্রান্ত কোনও আলোচনাতেও বাংলাদেশের কাউকে রাখা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই সহজ অজুহাত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, বাংলাদেশে পট পরিবর্তন ও ভারত বিরোধীতার দিকে লক্ষ্য রেখেই সম্ভবত ভারতের প্রশাসনিক মহল একরকম নীরব থাকার পথ নিয়েছে। ফলে ভারতের কোনও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে দূরে রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, কলকাতা বইমেলা বা চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের  হিন্দু মৌলবাদীরা ইতিমধ্যেই বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই তারা কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের অদূরে বিক্ষোভ করেছে। বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন ও উপাসনালয় ভাঙার প্রতিবাদে দূতাবাসে স্মারকলিপিও দিয়েছে। তাই বইমেলা বা চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কোনওরকম বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ হলে নতুন করে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অবশ্য বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের মতে, কোনও আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ঘেরাটোপের মধ্যে রাখা ঠিক নয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য পবিত্র সরকার কলকাতা বইমেলা ও চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশকে যোগ দিতে না দেয়াকে অন্যায় সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেন, বাংলাদেশে পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই।  কিন্তু সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এইভাবে অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে বাধা তৈরির নীতি মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়।

তবে সাফটা চুক্তি অনুযায়ী দুদেশের মধ্যে চলচ্চিত্র বিনিময় হতে চলেছে। ভারতের দুটি ছবি বহুরূপি ও পুষ্পা ২ বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে ডিসেম্বরেই। তেমনি ভারতে মুক্তি পেতে চলেছে বাংলাদেশের ছবি রায়হান রাফির দামাল। রহুরূপির পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই খবর জানিয়ে বলেছেন, প্রক্রিয়াকরণের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। শুধু সরকারি স্তরে চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষা। প্রশ্ন থেকেই যায়, অনুমতি আসবে তো?

mzamin

জাতীয় সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তাব: নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে সংলাপ

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সঙ্গে নাগরিক সমাজের সংলাপে জাতীয় সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন ড. তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা নাগরিক সমাজের সঙ্গে যে মতবিনিময় করেছি, সেখানে সকলের অভিমত হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হওয়া উচিত। কারণ স্থানীয় নির্বাচন করার কারণে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়বে। তাদের টেস্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে যে সাপোর্ট দরকার হবে, তা নিশ্চিত হয়ে যাবে। গতকাল নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন।

ড. তোফায়েল আহমেদ ওই কমিশনের একজন সদস্য। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিত নির্বাচন ব্যবস্থায় আনার এখন মোক্ষম সময় বলে মন্তব্য করেন ড. তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা যদি সিস্টেম করতে পারি যে, একটা কমিপ্রহেন্সিভ আইন হবে। সেই আইনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান চলে আসবে। এতে একটা তফসিল দিয়ে স্থানীয় সরকারের সবগুলো নির্বাচন করতে পারবো। তাহলে নির্বাচন অনেক ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ী হবে। তিনি বলেন, হিসাব করে আমি দেখেছি, গত কমিশন যে স্থানীয় নির্বাচন করেছে এতে ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই নির্বাচন আয়োজনে ১৯ থেকে ২০ লাখ লোক লেগেছে। ভোটগ্রহণ করতে ২২৫ দিনের মতো সময় লেগেছে। তাই স্থানীয় নির্বাচনে যদি পার্লামেন্টারি সিস্টেম নিয়ে আসি। তাহলে ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে যদি একই সিস্টেমে ভোট করতে পারি, তাহলে খরচ চলে আসবে ৬০০ কোটি টাকার মধ্যে। লোকবল লাগবে আট লাখ। সময় লাগবে ৪৫ দিন। ওই সিস্টেমে যেতে অধ্যাদেশ করার প্রয়োজন হবে। তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের পাঁচ প্রতিষ্ঠান- সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করতে পৃথক পাঁচটি আইন আছে। এসব আইন দিয়ে পৃথক পৃথক নির্বাচন করতে গেলে তা জাতীয় সংসদের আগে আয়োজন করা সম্ভব হবে কিনা- তা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।

জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পার্লামেন্টারি সিস্টেম আনার কথা চিন্তা করা হচ্ছে জানিয়ে ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা যেমন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন, তেমনি নির্বাচিত স্থানীয় সরকার সদস্যরা তাদের সভায় প্রধান নির্বাচন করবেন। আর সব স্থানীয় সরকার গঠন হবে এক আইনে, এক নির্বাচনে। সংস্কারের পর নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে প্রেসিডেন্ট পদে পরোক্ষ নয়, প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচন হতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ হওয়া উচিত। প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই, অনলাইন ভোট পদ্ধতির প্রবর্তন এবং ‘না’ ভোট ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

mzamin