Tuesday, August 19, 2014

১৪ বছর ধরে অনশনরত শর্মিলাকে মুক্তির নির্দেশ by অমিতাভ ভট্টশালী

উত্তর পূর্ব ভারতের মনিপুর রাজ্য থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রত্যাহারের জন্য গত চোদ্দো বছর ধরে অনশন করছেন যিনি, সেই ইরম শর্মিলাকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছে সেখানকার একটি আদালত। আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই গৃহবন্দী। দু হাজার সালের নভেম্বর মাসে রাজধানী ইম্ফলে সেনাসদস্যরা ৬২ বছরের এক মহিলা সহ ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করে, তার পর থেকেই শর্মিলা অনশন করছেন।
ইম্ফলের আদালত আজ তাদের নির্দেশে জানিয়েছে যে ইরম শর্মিলার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টার যে অভিযোগ এনেছিল পুলিশ, তা তারা প্রমাণ করতে পারে নি। তাই অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে ১৪ বছর ধরে অনশনরত ইরম শর্মিলাকে। মনিপুরের লৌহ মানবী বা আয়রণ লেডি বলে খ্যাত ইরম শর্মিলা বর্তমানে একটি সরকারী হাসপাতালে নজরবন্দী রয়েছেন ও তাঁকে নিয়মিত নাকে ঢোকানো নল দিয়ে তরল খাবার খাওয়ানো হয়।
আদালতের নির্দেশের পরে মিজ. শর্মিলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মানবাধিকার আন্দোলনের সহকর্মী বাবলু লইতাংবাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন একটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক দাবী।“
তবে মি. লইতাংবামের আশংকা পুলিশী নজরদারী থেকে ছাড়া পেলে ইরম শর্মিলাকে নাক দিয়ে যে তরল খাবার দেওয়া হত, সেটা হয়ত বন্ধ হয়ে যাবে, আর তাতে এই লৌহ মানবীর জীবনের আশঙ্কা দেখা দেবে। তবে এ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয় নি মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
যে সামরিক বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা আফ্সপার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন ইরম শর্মিলা, সেটা সেনাবাহিনীর কাজের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য ভারতের প্রাক্তন সেনা প্রধান জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরীর।
জেনারেল রায়চৌধুরী বলছিলেন, “ কোনও রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকার যে অঞ্চলটাকে অশান্ত এলাকা বলে চিহ্নিত করে সেখানে সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই এই আইন বলবৎ করা হয়। সেনাবাহিনী নিজের থেকে কোনও জায়গায় যায় না, তাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু তাদের কাজ করার জন্য বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োজন আছে।“
জেনারেল রায়চৌধুরীর আরও মন্তব্য, “এই বিশেষ আইন প্রত্যাহার যদি করতে হয় – যেটা শর্মিলা দীর্ঘদিন ধরে দাবী করে আসছেন, তার সবথেকে সহজ উপায় হল ওই রাজ্য সরকার সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দিক। তাহলেই আর আইনের প্রয়োজন থাকবে না।“
শুধু মনিপুর বা উত্তরপূর্ব ভারত নয়, ভারত শাসিত কাশ্মিরেও এই আইন বলবৎ রয়েছে আর বিভিন্ন সময়েই এই আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। অনেক সময়েই সেনা সদস্যদের অনেক অন্যায় বা কুকীর্তি এই আইনবলে চাপা দেওয়া হয়। প্রাক্তন সেনা প্রধান স্বীকারও করলেন যে এই আইনের অপপ্রয়োগ হয়।
জেনারেল রায়চৌধুরীর কথায়, “বেশ কিছু ক্ষেত্রে যে এই অভিযোগ সঙ্গত। তবে এটাও ঘটনা, যখনই অভিযোগ উঠেছে, তখনই তদন্ত হয় – অনেককে কোর্ট মার্শালও করা হয়। সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারব না, কিন্তু দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যকে জেলে পাঠানো হয়েছে।“
ইরম শর্মিলা সম্প্রতি ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন। মানবাধিকার কর্মী বাবলু লইতাংবাম বলছিলেন তাঁরা আশা করেন সুদিন নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তিনি হয়ত উত্তরপূর্ব ভারতের সুদিন আনার জন্য এই কথিত কালাকানুন প্রত্যাহার করবেন।
বাবলু লইতাংবামের কথায়, “ভারতে এখন দুটো দেশ রয়েছে – একটা সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে আর অন্যটা তার বাইরে। যে নরেন্দ্র মোদী সারা দেশে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের কথা বলেন, তাঁর তো এখন উচিত উত্তরপূর্বাঞ্চলের প্রতি এই বৈষম্য দূর করার। এই অঞ্চলের মানুষের যে সমান অধিকার রয়েছে, সেটা সরকার প্রমাণ করুক। একটা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছন উচিত ভারত সরকারের।“
বিশেষ আইন প্রত্যাহার করার ঘোষণা করে মি. মোদীই ইম্ফলে এসে শর্মিলার অনশন যদি ভাঙ্গেন, তাহলে তা উত্তরপূর্ব ভারতের মানুষের কাছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে থাকবে বলে মনে করেন বাবলু লইতাংবাম।
নিজের বাড়ীর কাছে ১০ জনকে আসাম রাইফেলসের গুলিতে মারা যেতে দেখে ২০০০ সালের নভেম্বরে অনশন আন্দোলন শুরু করেছিলেন ইরম শর্মিলা। গত ১৪ বছরে একাধিকবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, চলেছে জোর করে নল দিয়ে খাবার দেওয়া। এর আগেও একাধিকবার পুলিশ তাঁকে মুক্তি দিয়েও পরমুহুর্তেই আবার গ্রেপ্তার করেছে এমনকি জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে তিনি যখন প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিরুদ্ধে, সেখানেও তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।
রাজনৈতিক দলগুলো বা সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরও এই আইনে পরিবর্তন আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে আগে, তবে আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বাধা এসেছে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে।

আজমেরী ওসমানের ‘১৮ খুনের’ কথা ফাঁস করবেন আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের ভাই নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান ১৮টি খুন করেছেন। আজমেরীর এসব খুনের কথা তিনি সবার সামনে তুলে ধরবেন। এ জন্য তিনি মৃত্যুকে বরণ করতেও প্রস্তুত।

আজ সোমবার দুপুরে বন্দরের দড়িসোনাকান্দা এলাকায় মদনগঞ্জ থেকে নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করার সময় আইভী এসব কথা বলেন। গত মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের লাইভ টক শো ‘একাত্তর সংযোগে’ সেলিনা হায়াত্ আইভীর সঙ্গে সাংসদ শামীম ওসমানের বাগবিতণ্ডা হয়। সেখানে আইভীর ব্যক্তিজীবন এবং পরিবারকেও আক্রমণ করেন শামীম। অনুষ্ঠানের মাঝবিরতি এবং শেষে উত্তেজনা আরও বাড়ে। বিরতির সময়ের দৃশ্য সরাসরি দর্শকেরা দেখতে না পেলেও পরে তা  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আমি তথাকথিত নারী নই
আজকের সড়ক নির্মাণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইভী টক শোতে শামীম ওসমানের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
আইভী বলেন, তিনি যাতে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা না বলেন সে জন্য শামীম ওসমান তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সুযোগ পেলেই অপমান করছেন। তবে তিনি কোনো হুমকি ধমকিতে মাথা নোয়াবেন না বলে সাংবাদিকদের জানান।
মেয়র বলেন, ‘আমি তথাকথিত নারী নই যে তার (শামীম ওসমান) কথা শুনে দল ছেড়ে চলে যাব বা ইনঅ্যাকটিভ হয়ে যাব। আমি নাজমা রহমান নই যে তার কথা শুনে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যাব। আমি এস এম আকরাম নই যে তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দল ছেড়ে চলে যাব। আমি গিয়াস উদ্দিন না যাকে বাধ্য করা হয়েছে অন্য দলে চলে যেতে। কামাল মৃধাকে মারা হয়েছে, মামলা দেওয়া হয়েছে, দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। আমি আরাফাত নই। আমি আনোয়ার সাহেব নই যে আমাকে নানান ধরনের কথা বলা হবে, লোভ দেখানো হবে আর আমি অন্য দলে চলে যাব। আমি আওয়ামী লীগে আছি, আওয়ামী লীগে থাকব। আওয়ামী লীগে থেকেই চাঁদাবাজির, সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করব।’
আজমেরী ওসমান ১৮টি খুন করেছেন
আজমেরী ওসমান ১৮টি খুন করেছেন উল্লেখ করে আইভী বলেন, ‘আজমেরী ওসমান যে এই অল্প বয়সে ১৮টা খুন করেছে তার হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা আমি অবশ্যই তুলে ধরব। এতে যদি আমার মৃত্যু হয়, তবে আমি মৃত্যুকেই বরণ করে নেব। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আমার মৃত্যুর পর আমার জানাজায় অংশ নিয়ে আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার মৃত্যুর পর আমার লাশটা যাতে আমার বাবার পাশে দাফন করা হয়, সেটাও আমি বলে গেলাম।’
খুন-চাঁদাবাজির কথা না বলার জন্য অপমান করা হচ্ছে
আইভী বলেন, ‘এলজিইডি, ড্রেজার, ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট, পিডব্লিউডি সব সরকারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নারায়ণগঞ্জের গডফাদারের দখলে। সেখানে টেন্ডার শিডিউল কেনা তো দূরের কথা, তার লোকের বাইরে কাউকে সেখানে যেতেও দেওয়া হয় না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ে এসব কখনো হয় না। কারণ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে স্বচ্ছ টেন্ডারের মাধ্যমে যে কাজ পায়, সে-ই কাজ নেয়। যদি কোনো কাজের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে আমি এলাকাবাসীর জুতা নেওয়ার জন্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকব। আমার কাউন্সিলরদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার জন্য, আমি যাতে খুন-চাঁদাবাজির কথা না বলি, এ কারণে আমাকে এভাবে অপমান করা হচ্ছে।’
তার মা লজ্জায় মুখ লুকাত
টক শোতে শামীম ওসমানের আচরণ উল্লেখ করে আইভী বলেন, ‘আমি জানতে চাই, যে গডফাদার একজন নারীকে এভাবে লাঞ্ছিত করছে সে কি কোনো মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়নি ? তার কি কোনো মেয়ে নাই? তার কি কোনো বউ নাই, বোন নাই? তাহলে কীভাবে একজন নারীকে সে বেইজ্জতি করছে এইভাবে? তাকে যে মা জন্ম দিয়েছে, সেই মা যদি সেদিন সামনে থাকত তাহলে সে লজ্জায় মুখ লুকাত।’
গডফাদারের কাছ থেকে চরিত্রের সার্টিফিকেট নিতে হবে না
মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে যতই বলেন না কেন আমি দুশ্চরিত্রের নারী, আমি দুশ্চরিত্রের নারী হয়েই নারায়ণগঞ্জ শহরে কাজ করব, আপনার মতো গডফাদারের কাছ থেকে আমার চরিত্রের সার্টিফিকেট নিতে হবে না। যতটা খারাপ কথা আপনি আমাকে বলবেন, ততটা খারাপ কথা আপনার মেয়ের ওপরে ফলবে। আমারও সন্তান আছে। তাই আমি আপনার মেয়েকে কিছু বলব না। আমার বাপকে নিয়ে আপনি যেসব কথা বলেছেন, আমি আপনার বাপকে নিয়ে সে কথা বলব না। আপনি আমার দাদাকে নিয়ে যেসব কথা বলেছেন, আমি আপনার দাদাকে নিয়ে সেসব কথা বলব না। তিনি বলেছেন আমার রক্ত খারাপ। মানলাম আমার রক্ত খারাপ। আর আপনার রক্ত রাজকীয়। আপনি রাজকীয় রক্ত নিয়ে এই শহরের মানুষের টাকা শোষণ করে, নারায়ণগঞ্জের শত শত ছেলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে, চাঁদাবাজ বানিয়ে সন্ত্রাসী বানিয়ে আবার তাদের ক্রসফায়ারে হত্যা করে সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, নিজেকে রাজকীয় রক্তের লোক দাবি করেন, তাহলে এমন রাজকীয় রক্ত আমার দরকার নেই। দাউদকান্দি থেকে তারা কীভাবে এসেছিল, কীভাবে শত কোটি টাকার মালিক হলো, তা নারায়ণগঞ্জবাসী জানে। আমি এটা বলতে চাই না।’

পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করছে পিটিআই

ইমরান খান
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ এবং একটি বাদে সব কটি প্রাদেশিক পরিষদের আসন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচনের দাবিতে কয়েক দিনের টানা আন্দোলনের পর গতকাল সোমবার এ ঘোষণা দিল দলটি। এর আগে গত রোববার রাতে সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডান দিয়েছেন ইমরান খান। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, ডন ও জিয়ো টিভির। পিটিআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মেহমুদ কুরেশি গতকাল বলেন, ‘জাতীয় পরিষদ এবং পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান ও সিন্ধু প্রাদেশিক পরিষদ থেকে আমরা পদত্যাগ করছি।’ খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ক্ষমতায় রয়েছে পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। আজ মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্ট পরিষদের স্পিকারের কাছে পিটিআই সাংসদেরা তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, রাজধানী ইসলামাবাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষিত এলাকায় (রেড জোন) বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন ইমরান খান। রাজধানীতে গতকাল এক বিক্ষোভ সমাবেশে ভাষণে তিনি বলেন,
‘রেড জোনে মিছিলে আমি নেতৃত্ব দেব, আর অনুসারীরা আমার সঙ্গে থাকবে।’ এর আগে ইসলামাবাদের আবপারা চকে অবস্থান নেওয়া হাজারো নেতা-কর্মীর উদ্দেশে গত রোববার রাতে দেওয়া বক্তৃতায় অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন ইমরান খান। সেখানেই তিনি রাত কাটান। ইমরান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আজ থেকে অবৈধ এই সরকারকে কোনো ধরনের কর দেব না। বিদ্যুৎ বিল দেব না, গ্যাস বিল দেব না। ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা কর দেওয়া বন্ধ করুন।’ ইমরানের বক্তৃতার পর খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তথ্যমন্ত্রী মুশতাক গনি বলেন, তাঁদের প্রদেশ থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে কোনো ধরনের কর দেওয়া হবে না। এ জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এই সেবাগুলো বন্ধ করে দিলে টারবেলা কেন্দ্র থেকে পাঞ্জাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইনও বন্ধ করে দেওয়া হবে। নওয়াজের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর খায়াবান-ই-সোহরাওয়ার্দীতে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিকের (পিএটি) নেতা-কর্মীরা। আধ্যাত্মিক নেতা তাহির-উল কাদরি তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নওয়াজের পদত্যাগের দাবিকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ ও অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার। আর এই দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী পারভেজ রশিদ। গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন নওয়াজ। ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে পৃথকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান ও কাদরি।

আনুগত্যের পরীক্ষায় ফেল করেছেন বরুণ

বরুণ গান্ধী
ভারতে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহর দলে তারুণ্যের প্রাধান্য, অথচ সেখানে জায়গা হলো না বরুণ গান্ধীর। এ নিয়ে দলের বাইরে কিছু টিপ্পনী শোনা গেলেও দল সেই অর্থে নিস্তরঙ্গ। দল ও সংগঠনের ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর যোগ্য শিষ্য অমিত শাহর কবজা এখন কতখানি—এই একটি ঘটনাই তার প্রমাণ। একজন ব্যক্তির উপেক্ষিত হওয়ার চেয়েও তাই এ মুহূর্তে বেশি আলোচিত হচ্ছে মোদি-শাহর টিমের ‘কম্পোজিশন’, যেখানে সংগঠনের অনেক ভাবনা-চিন্তার ছাপ ফুটে উঠেছে। গত শনিবার দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন অমিত শাহ। তাঁর ‘টিমে’ যাঁরা জায়গা পেলেন তাঁদের মধ্যে ১১ জন সহসভাপতি, আটজন সাধারণ সম্পাদক, চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১৪ জন সম্পাদক ও ১০ জন মুখপাত্র। শাহর রাজনৈতিক গুরু মোদি যখন তাঁর মন্ত্রিসভা গড়লেন, পঁচাত্তরোর্ধ্ব কাউকে সেখানে রাখেননি। বার্তাটা ছিল, অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়ে সরকার পরিচালনা। শিষ্যের ‘টিমের’ ৬০ শতাংশের বয়সও পঞ্চাশের নিচে। গুরু-শিষ্যের চিন্তাধারার সাযুজ্যটা এতেই প্রমাণিত।
এই ভাবনা অবশ্যই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের মস্তিষ্কপ্রসূত। ফুটবলের পরিভাষায় সেই ভাবনার মূল কথা হলো ‘সাপ্লাই লাইন’ ঠিকঠাক রাখা। বাজপেয়ি-আদভানিদের আমলে সংঘ পরিবার এই সাপ্লাই লাইন ঠিক রেখেছিল। সে সময় ‘টিম আদভানির’ সদস্য ছিলেন নরেন্দ্র মোদি, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি, ভেঙ্কাইয়া নাইডু, রাজনাথ সিং এবং প্রয়াত প্রমোদ মহাজন ও গোপীনাথ মুন্ডে। সেই ‘টিমটাই’ এখন মোদির নেতৃত্বে দেশের ক্ষমতায়। এঁরা প্রত্যেকেই ষাটোর্ধ্ব। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব সঁপে দেওয়ার কাজটা তাই সংঘ পরিবার আবার শুরু করল। বরুণ অবশ্যই সেই দলে শামিল হতে পারতেন। যোগ্যতাও তাঁর আছে। কিন্তু মোদি-শাহ জুটির কাছে এক শ ভাগ আনুগত্যের পরীক্ষায় বরুণ পাস করতে পারলেন না। নির্বাচনের সময় মোদির ওপর ভরসা না রেখে নিজের ক্ষমতার ওপরেই বিশ্বাস রেখেছিলেন বরুণ। রাজনাথ সিংয়ের ‘টিমে’ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জায়গা পেলেও তাঁকে ছেঁটে ফেলতে শাহর হাত কাঁপেনি। তাঁর কাছে দল মানে আনুগত্যের নিরঙ্কুশ অধিকার।

পোপের আহ্বান

পোপ ফ্রান্সিস
দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বিরাজমান সব দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রোমান ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। দক্ষিণ কোরিয়া সফরের শেষ দিনে গতকাল সোমবার রাজধানী সিউলের প্রধান গির্জায় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন,
‘সন্দেহ ও সাংঘর্ষিক’ মনোভাব মুছে ফেলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন পথের সন্ধান করতে হবে। তাঁর এই ভাষণের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাই ও উত্তর কোরিয়ার ভিন্নমতাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন। বিবিসি

ন্যান্সিকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হাবিব

এ সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সির আত্মহত্যা চেষ্টার খবরে বেশ উদ্বিগ্ন হাবিব ওয়াহিদ। তার হাত ধরেই ন্যান্সির মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয়েছিল। অডিও ও চলচ্চিত্রে হাবিব-ন্যান্সি জুটির অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে। ন্যান্সির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাবিব ওয়াহিদ বলেন, ‘ন্যান্সি আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের অনেক বড় সম্পদ। সে কেন এ ধরনের পাগলামি করল আমি বুঝতে পারছি না। মানুষকে জীবনে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। তাই বলে আত্মহত্যার চেষ্টা করার কোনো মানে হয় না। আশা করছি ন্যান্সি শিগগিরই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।
আবার গান-বাজনা নিয়ে দর্শক মাতাবে।’ গত ১৬ আগস্ট রাতে নেত্রকোনায় পিত্রালয়ে ন্যান্সি অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। ১৭ আগস্ট রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ন্যান্সিকে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে রাজধানীর বিশেষায়িত ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি ওখানে ডাক্তারদের গভীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।