Friday, February 19, 2016

অপরিপক্ব রসবোধের কারণে যৌন হয়রানি, তাই আসামী মুক্ত!

নিজের একাধিক নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত এক ইতালিয়ান ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। আদালতের যুক্তি, ওই ব্যক্তির আচরণ যৌন তুষ্টি লাভের জন্য ছিল না, বরং অপরিপক্ব ‘সেন্স অব হিউম্যার’ বা রসবোধের কারণেই অমনটা হয়েছিল। ইতালির আদালতের এ রায় ব্যাপক নিন্দা কুড়িয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, দেশের ১৬-৭০ বছর বয়সী নারীদের এক তৃতীয়াংশই শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কামুক ¯পর্শের অভিযোগ আনেন তারই কনিষ্ঠ এক নারী সহকর্মী। তবে দ্বিতীয় আরেক নারী সহকর্মী বলেছেন, ‘লোকটি আমাকেও ¯পর্শ করতো, যেন আমি ছোট্ট একটা খুকী। সে যেন আমার পেছনে মৃদু চাপড় দিচ্ছিল।’ আদালত দ্বিতীয় এ নারীর বক্তব্যকে আমলে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দেয়ার কারণ ব্যখ্যা করে।
পালেরমোর ওই আদালত বলেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিটি সত্যিকার অর্থেই এমন ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তবুও তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। কারণ, ওই ব্যক্তির আচরণ কামার্ত ছিল না। অফিসের বস্ এই ব্যক্তিই। আদালতের পর্যবেক্ষন, নিজের কর্মীদের যৌন তৃপ্তির জন্য ¯পর্শ করতো না এই আসামী। আদালত বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে, অপরিপক্ব ও বেঠিক রসিকতাবোধের কারণে এমনটি ঘটেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অফিসের বস্ হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহারের এক ধরণের প্রবণতাও।’
তবে আদালতের এ রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেক বিশ্লেষক ও শ্রমিক ইউনিয়ন। লা স্টা¤পা পত্রিকার প্রথম পাতায় এক মতামত কলামে বিখ্যাত বিশ্লেষক ম্যাসিমো গ্রামেলিনি লিখেছেন, ‘পালেরমোর আদালতের এই রায় সৌদি আরবের আইনপ্রণেতাদের মতোই। গত আগস্টে আইন পরিষদে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যেসব নারীকে স্পর্শ করা হলে, অপরাধটা তাদেরই, স্পর্শকারীদের নয়।’ ইউআইএল শ্রমিক ইউনিয়নের সিচিলিয়ান শাখা স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ রায়ে কর্মজীবী নারীদের সংবেদনশীলতা ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এবং যৌন সহিংসতাকে একপ্রকার অনুমোদন করেছে, যা ছোট আকারে হলেও ঘটে।’

‘মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা গণমাধ্যমের উপর আঘাত নয়’ -সজীব ওয়াজেদ জয়

গণমাধ্যমের উপর আঘাত নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। শুক্রবার সকালে জয় তার নিজের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের ‘সুশীল সমাজ’ এর কিছু অংশ এবং কিছু সংবাদপত্রের সম্পাদক আমার মায়ের বিরুদ্ধে মাহফুজ আনাম কর্তৃক চালানো মিথ্যা সাজানো প্রচারণার স্বীকারোক্তির পর তার বিরুদ্ধে হওয়া  দেওয়ানি মানহানির মামলাগুলোর সমালোচনা করছেন। আমাদের সরকার তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেনি। মামলাগুলো সবই দেওয়ানি প্রকৃতির, যা খেসারত এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবীতে দায়ের করা। তাই আমি জানতে চাই, যা কিছু ঘটেছে তাতে গণমাধ্যমকে দায়মুক্তি দেয়া যায় কিনা? মাহফুজ আনাম স্বীকার করেছেন কেবল একটিই নয়, এসব মিথ্যা কাহিনী ধারাবাহিকভাবে তিনি আমার মায়ের বিরুদ্ধে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা এবং একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চালিয়েছেন। তার কর্মকা-ের ফলে আমার মা তার এই বয়সে ১১ মাস জেলে কাটিয়েছেন। এত সবকিছুর পর তিনি বলেন, ‘ওহহো, আমার ভুল হয়েছে!’ এবং আমাদের সেসব ভুলে যেয়ে এগুতে হবে? আমার মা, আমার পরিবার এবং আমাদের দল আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনই বিচার থাকবে না? সেখানে কোনই জবাবদিহিতা থাকা উচিৎ না? রাজনীতিকদের আইন মেনে চলতে হবে নয়তো জেলে যেতে হবে, পুলিশকে আইন মেনে চলতে হবে নতুবা জেলে যেতে হবে, কিন্তু মিথ্যা কাহিনী লেখার জন্য কোন আইন থাকবে না। দেওয়ানি আইনে রাজনীতিক এবং বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের একমাত্র আশ্রয় হচ্ছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া। অন্য কিছু যদি নাও হয়, শুধুমাত্র উকিল খরচ এবং আদালতে যাওয়ার সময় বিবেচনায় একজন সাংবাদিককে মিথ্যা ছাপানো এবং অন্যের সুনাম ক্ষুণেœর আগে ২য় বার ভাবানো উচিৎ। যদিও, এই গোত্রের লোকেরা এটুকু স্বল্পমাত্রার জবাবদিহিতাও চায় না। তার বদলে তারা একে গণমাধ্যমের উপর আঘাত আখ্যা দিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করতে চায়। এটা গণমাধ্যমের উপর আঘাত নয়। এটা ফৌজদারি মামলাও নয়। এটা হলো দেওয়ানি মামলা। আধুনিক আইনি ব্যবস্থাসম্পন্ন সবদেশেই এটা ঘটে। আপনি যদি কারও ক্ষতি করেন, সংক্ষুব্ধ পক্ষের আপনার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করার সবধরনের অধিকার রয়েছে। মাহফুজ আনাম যদি হয়রানি বোধ করেন, মিথ্যা অভিযোগে ১১ মাস জেলে কাটানোর অনুভূতি কেমন সম্ভবত তা তার জানা উচিৎ। এর আগে ডেইলি স্টারের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বেসরকারি টিভিতে এক প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন, ২০০৭-০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দেওয়া বিভিন্ন দুর্নীতির খবর যাচাই না করেই তারা ছেপেছিলেন। তিনি বলেন, যাচাই না করে এ ধরণের খবর ছাপা তার সাংবাদিকতা জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল কাজ ছিল। মাহফুজ আনামের এ মন্তব্যের পরে তার গ্রেপ্তার চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় মামলা করতে শুরু করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এদিকে মাহফুজ আনামের গ্রেপ্তার চেয়ে এসব মামলাকে গণমাধ্যমের ওপর আঘাত আখ্যায়িত করে সাংবাদিক, সম্পাদক ও বিশিষ্টজনেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পৌরাণিক কাহিনির পুনরাবৃত্তি যেন না হয় by এম সাখাওয়াত হোসেন

খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৭০০ বছর আগে গ্রিক পৌরাণিক কাহিনির অনেকগুলোর লেখক হেসিওড তাঁর লেখায় প্যান্ডোরার কাহিনি লিখেছিলেন। ওই পৌরাণিক কাহিনিমতে, প্যান্ডোরাই প্রথম নারী, যাঁকে দেবতাদের দেবতা জিউস তৈরি করেছিলেন। হেসিওডের বর্ণনায় পাওয়া যায়, দ্বিতীয় স্তরের দেবতা প্রমিথিউস স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করেন। জিউস, সর্বশক্তিমান গ্রিক দেবতা, ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে প্যান্ডোরাকে প্রমিথিউসের ভাই ইপিসেথিসকে প্রদান করেন। সঙ্গে উপহার দেন একটি পাত্র, যা প্যান্ডোরার বাক্স বা ‘প্যান্ডোরার বক্স’ নামে পরিচিত। প্যান্ডোরা জানতেন না ওই বাক্স বা পাত্রে কী আছে! প্যান্ডোরা পাত্রের মুখটি খুললেন। বের হয়ে এল সব ধরনের রোগ, মৃত্যু আর সব ধরনের পৃথিবী বিনষ্টকারী শয়তান। খালি পাত্রের তলানিতে পড়ে রইল আশা, যদি কোনো দিন ওই শয়তান আর ধ্বংসকারীগুলো ফিরে আসে আর মুখ পুনরায় বন্ধ করা যায়।
এই পৌরাণিক কাহিনির সেই ঘটনা আজও উপমা হিসেবে আমরা ব্যবহার করি। এর মানে হলো দেখতে সহজ-সরল বিষয়, কিন্তু যা নাড়া দিলে সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষতি হতে পারে বা অনেককেই বিব্রত করতে পারে, এমনকি সমাজের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। আমরা ব্যক্তি হিসেবে অথবা রাষ্ট্রের কোনো পক্ষ হিসেবে অজান্তে সহজ-সরল বিষয় মনে করে এমন বিষয়ে নাড়া দিই, যা রাষ্ট্রের, তথা সমাজে নানা ধরনের বিব্রতকর, এমনকি জটিল সমস্যায় ফেলে দিতে পারে।
প্যান্ডোরার বাক্স খোলার মতো নানা ঘটনা আমাদের চারপাশে ঘটে থাকে, তবে তা যদি সরকারি, আধা সরকারি অথবা সরকার-সমর্থিত কোনো সংগঠন দ্বারা হয়, তা হিতে বিপরীত হতে পারে। ইদানীং বাংলাদেশের প্রধান ও অন্যতম দৈনিক ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার যে মামলার পর মামলা হচ্ছে এবং যে কারণে হচ্ছে, তাতে সরকার ও সরকারের মূল দলের কতখানি উপকার হবে, আমার মতো ক্ষুদ্র বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে ধারণা করা সম্ভব নয়। তবে যে প্রেক্ষাপটে এসব মামলা হচ্ছে, সে প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণে বলা যায়, আমাদের দেশে ভুল করার পর অথবা কোনো অন্যায় আচরণ করার পর ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ক্ষমা বা দুঃখ প্রকাশ করে ভুল স্বীকার করার জন্য মানসিক ও নৈতিক সাহসের প্রয়োজন। এমন ঘটনা আমাদের দেশের ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কমই শোনা বা দেখা গিয়েছে। যেভাবেই হোক, মাহ্ফুজ আনাম অকপটে স্বীকার করে সেই সৎ সাহস দেখিয়েছেন।
আমাদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সমাজের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের অনেকের কর্মময় জীবনের জানা-অজানা অনেক ভুলের জন্য প্রতিষ্ঠান এবং দেশের বহু আইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে যথেষ্ট ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন। এ উপমহাদেশেরই বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদ দুঃখ প্রকাশ করে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, এমন নজির রয়েছে এবং জনগণও যে তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছেন, তারও নজির রয়েছে।
এমন ঘটনার নজির ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসেও রয়েছে। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, যিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিজয় এনে দিয়েছিলেন, তাঁর দল এবং তাঁর ভরাডুবি হয়েছিল। এর প্রেক্ষাপট ছিল ভারতে লম্বা সময়ের জন্য জরুরি অবস্থায় শাসন আর নিপীড়ন, ব্যাপক দুর্নীতি ও অপশাসন। ইন্দিরা গান্ধী বুঝতে পেরেছিলেন, জনগণের কাছে তাঁর কৃতকর্ম ও ভুল পদক্ষেপের জন্য ক্ষমা না চাইলে তাঁর ও তাঁর দল কংগ্রেসের রাজনীতি নির্বাসিত হতে পারে। তিনি পাঁচটি বছর তাঁর অপশাসনের জন্য জনগণের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ১৯৮২ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাঁকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। এখান থেকেও আমাদের রাজনৈতিক দল, নেতা ও প্রভাবশালীরা শিক্ষা গ্রহণ করেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে জনগণ আশা করেছিলেন, দল হিসেবে বিএনপি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যা আজ পর্যন্ত করেনি। শুধু বিএনপিই কেন, কেউই করেনি।
আমাদের দেশে ভুল করার পর অথবা কোনো অন্যায় আচরণ করার পর ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ক্ষমা বা দুঃখ প্রকাশ করে ভুল স্বীকার করার জন্য মানসিক ও নৈতিক সাহসের প্রয়োজন এক-এগারো বলে পরিচিত জরুরি অবস্থার সময়ের সেই ঘটনা এখন এত দূর গড়িয়েছে এবং শুধু একটিই নয়, দু-একটি বাদে সব পত্রিকাতেই একই ধরনের খবর ছাপা হয়েছিল। মাহ্ফুজ আনামের বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে খবর জোগান দেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোনো বিষয়ে তথ্য প্রদান করলে বা প্রতিবেদন তৈরি করলে, তার কিছু তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন হয়। এসব তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করার পদ্ধতিও রয়েছে। এগুলো বেশির ভাগই জোগাড় করা হয় নিজস্ব পদ্ধতিতে এবং যার বিরুদ্ধে বা কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে মূল তথ্য বেশির ভাগ সময়ই গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক নিয়োজিত অথবা অনেকে অনেক ধরনের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো কারণে প্রদান করে থাকে। এর বিনিময়ে নানা ধরনের সুবিধা বা প্রলোভন অথবা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে থাকে। এসবই বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা তৎপরতার স্বীকৃত পদ্ধতি।
এসব পদ্ধতি অনেকের কাছে অনৈতিক মনে হলেও বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সংগ্রহের প্রধান ও কার্যকর পদ্ধতিই হলো হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স। বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অন্যতম সোর্স হলো ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’। এক-এগারোতেও এ দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর ব্যতিক্রমে তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে মনে হয় না। এ কারণেই প্রারম্ভে প্যান্ডোরার বাক্সের প্রসঙ্গ টেনেছিলাম।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, যাঁকে কেন্দ্র করে ওই সময়ে এ ধরনের খবর পরিবেশন করা হয়েছিল, ওই সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বা তাঁর তরফ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থার কথাও শোনা যায়নি। তা ছাড়া, তিনি আগেও ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর কাছে এসব তথ্য অজানা থাকার কথা নয়, তথাপি তিনি উদারতা দেখিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ওই সময়ের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত, তিনি জানেন কারা, তাঁর বিরুদ্ধে কী করেছেন। তথাপি তিনি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখেছেন। ক্ষমা করায় তাঁর উচ্চতা আরও বেড়েছে বৈ কমেনি।
ডেইলি স্টার-এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা নিয়ে দেশে-বিদেশে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে, যা গণতন্ত্রের অন্যতম অঙ্গ গণমাধ্যমকে কতখানি প্রভাবিত করবে, তা দেখার বিষয় হবে। যেহেতু মামলাগুলো বিজ্ঞ আদালত গ্রহণ করেছেন, কোথাও কোথাও সমনও জারি করা হয়েছে, কাজেই দেশের সাধারণ মানুষও অপেক্ষা করবে বিচারের এবং বিচারের পরিণতির। আমরা আশা করি, দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের বিকাশ হোক এবং এর ভিত মজবুত হোক, যাতে আমাদের অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মধ্যে কখনোই পড়তে না হয়। অগণতান্ত্রিক পরিবেশে সমাজ, রাষ্ট্র ও সুস্থধারার রাজনীতি বিকশিত হতে পারে না।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com

নতুন রাজনৈতিক যুগে ঢুকছে আমেরিকা by থমাস পিকেটি

সাউথ ক্যারোলাইনার বিতর্কে হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারিতে ‘সমাজতন্ত্রী’ প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সের অবিশ্বাস্য সাফল্যকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি? ভারমন্টের এই সিনেটর এখন ৫০-এর নিচের বয়সী ডেমোক্রেটিক ভাবাপন্ন ভোটারদের মধ্যে হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে জনপ্রিয়। আর হিলারি সার্বিকভাবে এগিয়ে আছেন প্রবীণ প্রজন্মের ভোটারদের সমর্থনের জোরে।
ক্লিনটন মেশিন আর মূলধারার রক্ষণশীল গণমাধ্যমের চাপেতাপে স্যান্ডার্স হয়তো শেষ পর্যন্ত এই দৌড়ে জিততে পারবেন না। কিন্তু ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে অন্য কোনো স্যান্ডার্স—যিনি হয়তো হবেন আরেকটু তরুণ ও কম শ্বেতাঙ্গ—হয়তো একদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হবেন এবং দেশটাকে বদলে দেবেন। অনেক বিচারেই বলা যায়, ১৯৮০ সালের নির্বাচনে রোনাল্ড রিগ্যানের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে যে রাজনৈতিক-আদর্শিক চক্র বাড়তে শুরু করেছিল, আমরা এখন তার অবসান চাক্ষুষ করছি।
একটু পেছনে ফেরা যাক। ১৯৩০-এর দশক থেকে ১৯৭৯-এর দশক পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একগুচ্ছ উচ্চাভিলাষী নীতি বাস্তবায়নে আগুয়ান ছিল। বৈষম্য কমিয়ে আনাই ছিল এসবের লক্ষ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশটি খুবই প্রগতিশীল আয় ও সম্পদ করের ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছিল এবং এমন এক অগ্রসর রাজস্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা আটলান্টিকের এপারে, ইউরোপে, কখনোই প্রয়োগ করা হয়নি। ১৯৩০ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত এই ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ আয়ের ওপর (বছরে এক মিলিয়ন ডলারের বেশি) কর ছিল গড়ে ৮২ শতাংশ এবং ১৯৪০ থেকে ১৯৬০-এর দশকে (রুজভেল্ট থেকে কেনেডির আমলে) তা সর্বোচ্চ ৯১ শতাংশে উঠেছিল। এমনকি ১৯৮০-তে রিগ্যানের নির্বাচিত হওয়ার বছরেও তা ছিল বেশিই—৭০ শতাংশ।
এই নীতি কোনোভাবেই যুদ্ধ–পরবর্তী মার্কিন অর্থনীতির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করেনি। সন্দেহ নেই, কারণ সুপার-ম্যানেজারদের যেখানে ১ মিলিয়ন ডলার দিলেই চলে, সেখানে ১০ মিলিয়ন দেওয়ার যুক্তি ছিল না। বড় ধনীদের বেলায় সম্পদ কর দশকের পর দশকজুড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। (জার্মানি ও ফ্রান্সে কখনোই তা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের বেশি ওঠেনি।) এতে করে মার্কিন পুঁজির পুঞ্জীভবন দারুণভাবে কমে গিয়েছিল।
এক কাল্পনিক পুঁজিবাদ: ১৯৩০-এর দশকে ইউরোপীয় দেশগুলোর অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রও ফেডারেল পর্যায়ে নিম্নতম মজুরি ধার্য করেছিল। ১৯৬০ দশকের শেষাশেষি তা ছিল ঘণ্টায় ১০ ডলারের সমান (২০১৬ সালের ডলারের মূল্যে)। সে সময়ের মানে এটাই ছিল সর্বোচ্চ। আর এর সবই করা গিয়েছিল প্রায় বিনা বেকারত্বে। যেহেতু উৎপাদনশীলতা ও শিক্ষাব্যবস্থার স্তর এর পক্ষেই ছিল। এটা ছিল সেই সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে তখন পর্যন্ত আইনত চালু থাকা অগণতান্ত্রিক বর্ণবাদী বৈষম্যের অবসান ঘটে এবং নতুন সামাজিক কর্মসূচি চালু হয়।
এসব পরিবর্তন শক্তিশালী বিরোধীদের ক্ষিপ্ত করে। বিশেষ করে মুদ্রারাক্ষস ও শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যেকার প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীকে। ১৯৭০-এর দশকে ভিয়েতনামে পরাস্ত আমেরিকা দেখল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাজিতরাও (জার্মানি ও জার্মানি ছিল যাদের সামনের সারিতে) তুমুল গতিতে আমেরিকাকে ধরে ফেলতে চাইছে। এ ছাড়া তেল-সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও করের হারের হ্রাসকরণের জন্যও ভুগতে হলো যুক্তরাষ্ট্রকে। এসব হতাশার ঢেউয়ে ভেসে অতীতকালের কোনো এক কাল্পনিক পুঁজিবাদ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচিত হলেন রোনাল্ড রিগ্যান। সেটা ১৯৮০ সাল। এই নতুন কর্মসূচির পরিণতি ১৯৮৬-এর কর-সংস্কার। ইতি ঘটল অর্ধশতকের প্রগতিশীল করব্যবস্থার। সর্বোচ্চ আয়ের ওপর কর ধরা হলো মাত্র ২৮ শতাংশ।
ডেমোক্র্যাটরা সত্যিকারভাবে ক্লিনটন ও ওবামার সময়ের এই বদলকে চ্যালেঞ্জ না করায় আগের ৫০ বছরের করের হারের অর্ধেক অবনতিই স্থায়িত্ব পেল। এতে করে সূচিত হলো বৈষম্যের বিস্ফোরণ। উচ্চ পদধারীদের জন্য যতটা সম্ভব ততটা বেশি বেতনও চালু হলো। পাশাপাশি আমেরিকার বেশির ভাগ অঞ্চলে দেখা গেল রাজস্ব আয়ের স্থবিরতা। এগুলোর সঙ্গী হলো নিম্ন প্রবৃদ্ধি।
একটি প্রগতিশীল কর্মসূচি: একই সঙ্গে রিগ্যান ফেডারেল নিম্নতম মজুরির মাত্রাকেও আটকে দিলেন (যা আসলে তত দিনে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গে উবে গিয়ে ২০১৬ সালের মানে ঘণ্টায় ৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, ১৯৬৯ সালে যা ছিল ঘণ্টায় ১১ ডলার)। ক্লিনটন ও ওবামার আমলে এসবেরও কোনো প্রতিকার করা হলো না।
স্যান্ডার্সের সাফল্য এখানেই যে তিনি দেখাতে পারলেন, বাড়তে থাকা বৈষম্য এবং তথাকথিত রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আমেরিকা দারুণ ক্লান্ত। পাশাপাশি তিনি আমেরিকার প্রগতিশীল কর্মসূচি ও কল্যাণমূলক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার অভিপ্রায়েরও পুনর্জীবন দিলেন। হিলারি ক্লিনটনও যেভাবে স্থিতাবস্থার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, তা আসলে রিগ্যান-ক্লিনটন-ওবামার ধারাবাহিকতা বজায় রাখারই চেষ্টা।
স্যান্ডার্স পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তিনি করব্যবস্থাকে প্রগতিশীল করবেন এবং নিম্নতম মজুরি আরও বাড়াবেন (ঘণ্টায় ১৫ ডলার)। এর সঙ্গে তিনি এমন এক দেশে নিখরচায় স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষা দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে উচ্চশিক্ষায় চলছে অভূতপূর্ব বৈষম্য। বেশির ভাগ মার্কিন ও সিস্টেমের সুবিধাভোগীদের মাঝখানে বিরাট ব্যবধান তিনি দেখিয়ে দিলেন।
এর মধ্যে রিপাবলিকান পার্টি উগ্র জাতীয়তাবাদী, অভিবাসী ও ইসলামবিরোধী চিন্তাভাবনা আর ধনী শ্বেতাঙ্গদের প্রতি অঢেল প্রশংসার খাদে ডুবছে। রিগ্যান ও বুশের আমলে নিযুক্ত বিচারকেরা ইতিমধ্যে রাজনীতিতে ব্যক্তিগত টাকা ব্যবহারের সমস্ত সীমা তুলে দিয়েছেন। এসবের কারণে স্যান্ডার্সের মতো প্রার্থীদের লড়াই হয়ে গেছে আরও কঠিন।
তাহলেও নতুন ধরনের রাজনৈতিক আলোড়ন ও গণচাঁদার শক্তি আমেরিকাকে নতুন রাজনৈতিক বৃত্তের দিকে নিয়ে যাবে। ইতিহাসের অবসান ঘোষণার অশুভ ভবিষ্যদ্বাণী থেকে আমরা এখনো অনেক দূরে।
দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ ফারুক ওয়াসিফ
থমাস পিকেটি: ফরাসি অর্থনীতিবিদ। তাঁর সাড়া জাগানো গ্রন্থ ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘খ্রিষ্টানত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পোপ

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প আদৌ কতটুকু খ্রিষ্টান, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ পোপ ফ্রান্সিস। বিশ্বজুড়ে সংখ্যাগুরু রোমান ক্যাথলিক ধারার খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মীয় নেতা পোপ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কেবল দেয়াল বানানোর কথা ভাবে, সেতুবন্ধনের কথা নয়, সে খ্রিষ্টান নয়।’ মেক্সিকো সফররত পোপের এ মন্তব্য স্পষ্টতই ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে। নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিকবার ট্রাম্প আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন স্রোত ঠেকাতে দেয়াল নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন! এ খবর দিয়েছে বিবিসি। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ১ কোটি ১০ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোকে সমর্থন করেন।
তবে পোপের মন্তব্যের জবাবও দিয়েছেন ট্রাম্প। অবশ্য তিনি পোপকে সরাসরি কিছু না বলে, তার মন্তব্যের জন্য মেক্সিকোকে দায়ী করেছেন! এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষক ও অপরাধীদের পাঠায় মেক্সিকো।
মেক্সিকোতে ছয়দিনের সফরের শেষদিনে পোপ মন্তব্য করেন, ‘যে ব্যক্তি কেবল দেয়াল নির্মানের চিন্তা করেন, তিনি যে-ই হোন না কেন, তিনি যদি সেতু নির্মানের চিন্তা না করেন, তবে তিনি খ্রিষ্টান নন।’ তবে ট্রাম্পকে আমেরিকানদের ভোট দেয়া উচিৎ কিনা, এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বলছি, এ মানুষটি যদি এ ধরণের কথা বলে থাকে, তবে তিনি খ্রিষ্টান নন। আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে, তিনি এ ধরণের কথা এ ভাবে বলেছেন কিনা।’
পোপের মন্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কোন ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কোন ধর্মীয় নেতার প্রশ্ন উঠানো লজ্জাজনক। আমি একজন গর্বিত খ্রিষ্টান।’ তিনি বলেন, ‘কোন নেতা, বিশেষ করে কোন ধর্মীয় নেতার কারও ধর্ম বা বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠানোর অধিকার থাকা উচিৎ নয়। পোপ আমার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেছেন। কারণ, মেক্সিকোর সরকার তাকে বুঝিয়েছে যে ট্রাম্প ভালো লোক নয়।’
পোপ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীষণ প্রভাবশালী। ফলে পোপের এ ধরণের মন্তব্য ট্রাম্পের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। বিবিসির উত্তর আমেরিকা সম্পাদক জন সোপেল বলেন, আসছে সাউথ ক্যারোলাইনা প্রাইমারিতে এর দারুণ প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, সেখানকার লোকজন ঈশ্বরভীরু। এর আগেও, ট্রাম্পের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশী মার্কো রুবিও ও জেব বুশও রোমান ক্যাথলিক ধারার খ্রিষ্টান। মার্কো রুবিও অবশ্য বলেছেন, তিনি পোপের আধ্যাত্মিক পথনির্দেশনা চান, রাজনৈতিক নির্দেশনা নয়। তিনি বলেন, নিজেদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। অপরদিকে ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক জেব বুশ পোপের সমালোচনা না করলেও, তিনি বলেন, কারও খ্রিষ্টানত্ব নিয়ে তিনি নিজে প্রশ্ন তুলতেন না। আরেক প্রার্থী জন কাশিচ এ বিষয়ে কেবল বলেন, তিনি পোপ-পন্থী।

‘আনবিটেবল’ মাহমুদুর রহমান by ডক্টর তুহিন মালিক

লড়াই অব্যাহত রেখেছেন নির্ভীক সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান
এক. ৭০ মামলায় জামিনের পরও মুক্তি পাননি আমার দেশ পত্রিকার অকুতভয় সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সুপ্রিম কোর্টের জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছাবার পরও ১২ দিন ধরে সুকৌশলে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয় পিডব্লিউ। ১২ দিন পর যখন পিডব্লিউ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়, তখন ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ককটেল মারার এক অদ্ভুত মামলায় নতুন করে তাকে  ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
এই মামলায় ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪৪ জনের নাম রয়েছে আসামির লিস্টে। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের তিন বছর পর দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে সর্বশেষ মামলায় জামিন পাওয়া মাহমুদুর রহমানকে জামিনে মুক্তি দেয়ার বদলে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারেই রেখে দেয়া হলো। অথচ পুরো দেশবাসী সাক্ষী যে, তিনি সেই সময় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা অফিসেই অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কোনো অপরাধে দায়ের হওয়া মামলায় জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহে কাউকে শ্যোন অ্যারেস্ট করা যাবে না।’
অথচ তার এই নির্দেশের পাঁচ দিনের মাথায় শ্যোন অ্যারেস্ট করে গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাহমুদুর রহমানকে। তার অপরাধ তার সত্য-বলিষ্ঠ লেখনী, তার সাহসী সংবাদ, তার সততা ও বলিষ্ঠতা। আর এ কারণেই পুরো সরকার তার মসনদসহ ভীত পর্যুদস্ত হয়ে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচ- দমননীতি চালিয়ে যাচ্ছে।
আর এ কারণেই ঈমানী শক্তিতে বলিয়ান এই মানুষটিই আজ এ দেশে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার। দুদকের মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো একটা অভিযোগই প্রমাণ করা গেলো না আদালতে। অথচ নোটিশ গ্রহণ না করার তুচ্ছ অভিযোগে তিন বছরের জেল দেয়া হলো তাকে।
হাস্যকর সব যুক্তি দেখিয়ে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় তাকে পরাজিত করেও যেন শান্তি পাচ্ছে না সরকার। মামলায় পরাজিত করতে পারলেও, তার আদর্শকে পরাজিত করতে পারছে না। আর এই না পারাটাই যে তাদের সবচাইতে বড় পরাজয় সেটা নতুন করে আবার এই ককটেল মামলা দিয়ে প্রমাণ করা হলো।
দুই. ক্ষমতাসীনের কাছে মাহমুদুর রহমান যে কতটা আতঙ্কের নাম সেটার প্রমাণ হচ্ছে, দীর্ঘ ১২০ দিন ধরে নিজ পত্রিকার অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় যখন এই মানুষটির বিরুদ্ধে ককটেল মারার অভিযোগ আনা হয়। স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর ২০১২ সালের ১২ই ডিসেম্বর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা করা হয়। কিন্তু মামলার পর থেকেই মন্ত্রীদের ক্রমাগত হুমকিতে তিনি বুঝে যান তাকে হয়তো গুম করা হতে পারে।
সে কারণেই তিনি দীর্ঘ চার মাস ধরে তার পত্রিকার অফিসে স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ ছিলেন। আর এই অবরুদ্ধ অবস্থাতেই ডিবি পুলিশ ২০১৩ সালের ১১ই এপ্রিল কারওয়ান বাজার অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। অথচ এখন নতুন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ককটেল মামলার রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, ঘটনার সময় ২৮শে জানুয়ারি ২০১৩ সকাল আনুমানিক ৮:৩০, ঘটনাস্থল- শাহবাগ, মামলা নং ৫০(১) ২০১৩।
এজাহারভুক্ত সর্বমোট আসামির সংখ্যা ৪৪ জন। যেখানে মাহমুদুর রহমানের কোনো নাম নেই। তার মানে সরকার কতটা দুর্বল, ভীত ও হতাশাগ্রস্ত হলে পুরো দেশবাসীর সামনে নিজ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ একজন মানুষকে এহেন হাস্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত করা যেতে পারে! মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারের একের পর এক মামলা দেয়া হয়তো একদিন শেষ হবে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সরকারের আক্রোশের সীমা কি শেষ হবে কখনও?
তিন.  মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আক্রোশের কারণ কী? তিনি ফাঁসকৃত স্কাইপ কথপোকথন পত্রিকায় ছাপিয়েছেন। ২০১৩ সালের ১১ই এপ্রিল তার পত্রিকায় শিরোনাম করে ছাপিয়েছেন ‘উইকিলিকসে শেখ মুজিবের শাসনকাল’। ১৮ই ফেব্রুয়ারির আমার দেশের শিরোনাম ‘ভয়ঙ্কর ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগারচক্র।’ আর তার অপরাধ কি এজন্য যে, তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে কলম ধরেছেন।
অথচ সেদিন পুরো পত্রিকা অফিস ঘেরাও-ভাঙচুর-মারধর করে স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা ছাড়াও আরও অন্য দুটি মামলায় ভাঙচুর, পুলিশকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু এর আগেই বিশ্বখ্যাত ইকোনমিস্ট পত্রিকায় ছাপা হয় স্কাইপ কেলেঙ্কারির সব কথপোকথন। আর মাহমুদুর রহমান ইকোনমিস্টের লেখাগুলোই তার পত্রিকায় ছাপিয়েছেন।
চার. দৃঢ়চেতা সাহসী এই মানুষটি রিমান্ডে অসুস্থ হয়ে পড়লে অসুস্থ অবস্থাতেই আমরণ অনশন শুরু করে বলেন ‘রাষ্ট্রের নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে আমার এই অনশন গণতান্ত্রিক লড়াই। জুলুমের বিরুদ্ধে আদর্শিক ও যার যার ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে লড়াই-সংগ্রাম চালানো ন্যায়সঙ্গত।
যেহেতু আমি বন্দি এবং রিমান্ডে রয়েছি, সেহেতু আমার প্রতিবাদের সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে অনশন করছি।’ ১০৫৫ দিন ধরে নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে শৃঙ্খলিত মাহমুদুর রহমান শরীরের ওজন হারিয়ে জীর্ণসার দেহে আজো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বহুবার অসুস্থ হয়েছেন কারাগারে। সুচিকিৎসা মেলেনি কখনও।
শারীরিক দুর্বলতাকে মনের শক্তি দিয়ে জয় করেই তিনি ইস্পাতের মতো শক্ত। বহু যাতনার পরও আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুৎ হননি। আসলে আদর্শের লড়াই কখনও থামে না। আদর্শের যেমন পরাজয় হয় না, তেমনি আদর্শের কোনো মৃত্যুও নাই। প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ গত পরশু দিন প্রচ- ক্ষোভ নিয়ে বললেন, মাহমুদুর রহমানকে এভাবে আর নির্যাতন না করে বরং ফাঁসি দিয়ে দিন। কিন্তু মাহমুদুর রহমানদের ফাঁসি দিলে কিংবা তারা কারাগারে মারা গেলেও কি ফ্যাসিবাদ জয়ী হবে?
মিথ্যা মামলায় পরাজিত করতে পারলেও কি মাহমুদুর রহমানদের আদর্শকে পরাজিত করতে পারবে? যুগে যুগে মাহমুদুর রহমানদের মতো অকুতভয় যোদ্ধারা অপরাজিতই থাকবেন। চিরকালই তারা ‘আনবিটেবল।’
লেখক : সুপ্রিমকোর্টের আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
ই-মেইল : drtuhinmalik@hotmail.com

‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবেন না’

রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন না। এমনটা বিশ্বাস করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বার্তা সংস্থা পিটিআই এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, ওবামা মনে করেন আমেরিকানরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে হবেন খুবই সচেতন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সানিল্যান্ডে আয়োজিত প্রথমবারের ইউএস-আসিয়ান সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, আমি অব্যাহতভাবে বিশ্বাস করি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবেন না। এর কারণ, আমেরিকার মানুষদের প্রতি আমার রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। আমি মনে করি তারা স্বীকার করবেন প্রেসিডেন্ট হওয়া একটি অত্যন্ত গুরু দায়িত্ব। এটা কোন টক শো বা রিয়েলিটি শোতে  হোস্টিং করা নয়। এটা কোন উৎসাহদান বিষয়ক বিষয় নয়। এটা মার্কের্টি নয়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন লাভের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ৬৯ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলিয়নিয়ার এই ব্যবসায়ী নানা কারণে এরই মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি চরম মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বৃটিশ পার্লামেন্টে বিতর্ক হয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে বৃটেনে তাকে নিষিদ্ধ করার জন্য। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে তিনি হাস্যরসাত্মক নানা মন্তব্য করে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ওবামার কপাল ভালো যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নি। সাউথ ক্যারোলাইনাতে এক নির্বাচনী প্রচারণা সভায় ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার কপাল ভালো গত নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি নি। ওই সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মিট রমনি। যদি আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম তাহলে আপনি হতেন এক মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রেসিডেন্ট।  বারাক ওবামা যে মন্তব্য করলেন তা ধরে নেয়া যায় এই বক্তব্যের প্রত্যুত্তর। তিনি রিপাবলিকান দলের অন্য প্রার্থীদেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশী পর্যবেক্ষকরা তাদের মধ্যকার বাগাড়ম্বর বক্তব্যে বিরক্ত। এমন সব বক্তব্য রাখছেন তারা রিপাবলিকান প্রাইমারি ও বিতর্ক অনুষ্ঠানে। ওবামা বলেন, আমি মনে সবার মনোযোগ ট্রাম্পের দিকে। এর কারণ, তিনি কৌতুক করে কথা বলেন। অন্যরাও একই রকম কথা বলেন। তিনি মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলতে পারেন। আপনি যদি রিপাবলিকান দলের অন্যদের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন তারাও বিরক্তিকর। ট্রাম্প একাই শুধু উদ্বেগের সৃষ্টি করেন নি।