Wednesday, June 24, 2026
‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ স্বপ্ন যেভাবে ট্রাম্প–নেতানিয়াহুর জন্য বুমেরাং হলো by জেফ্রি ডি স্যাক্স ও সিবিল ফারেস
শত দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও রয়েছেন। বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া এই সংঘাতের পর এমন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিও যেন অন্ধকার শেষে ভোরের প্রথম আলো।
এই পরিস্থিতিকে স্বাগত জানানো জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে বোঝাও জরুরি—এই যুদ্ধ কেন হলো, এবং এর আগের একের পর এক যুদ্ধের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে। এই সব সংঘাতের মূল উৎস হলো একটি ধারণা। সেই ধারণাটি হলো—‘গ্রেটার ইসরায়েল’।
এটি ইসরায়েল রাষ্ট্র নয়, বরং তার এক ভয়ংকর সম্প্রসারণবাদী কল্পনা। এই ধারণাই ইরাক, গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং ইরানে সংঘটিত যুদ্ধগুলোর পেছনে কাজ করেছে।
এই ধারণা অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিস্তার হওয়া উচিত ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের পুরো ভূখণ্ড জুড়ে। অর্থাৎ জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত এবং তার বাইরেও প্রতিবেশী দেশগুলোর অংশবিশেষ পর্যন্ত।
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির (যাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বহু শতাব্দীপুরোনো ধর্মীয় গ্রন্থ দ্বারা প্রভাবিত) বক্তব্য অনুযায়ী, এই ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ‘গ্রেটার ইসরায়েল’-এর প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর স্বপ্নের বৃহত্তর ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডসহ পার্শ্ববর্তী আরব অঞ্চলকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
এই বিপজ্জনক ধারণার দুটি প্রধান উৎস রয়েছে। প্রথমত, নেতানিয়াহুর মতো ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ কট্টরপন্থীরা মনে করেন, নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলের জর্ডান নদী থেকে সাগর পর্যন্ত পুরো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি; তাতে সেখানে বসবাসকারী প্রায় ৮০ লাখ ফিলিস্তিনির ভবিষ্যৎ যাই হোক না কেন।
দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মতো নেতাদের একধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদী বিশ্বাস রয়েছে। সেই বিশ্বাস অনুযায়ী বলা হয়—এই ভূমি কেবল ইহুদিদের জন্যই ঈশ্বরপ্রদত্ত। স্মোৎরিচ তো সরাসরি বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনি বলে কিছু নেই।’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমাবনতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পশ্চিম তীর, গাজা, লেবানন বা সিরিয়ার কোনো অংশ থেকে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইসরায়েল। তিনি বলেন—‘অন্যদের খুশি করতে আমরা আত্মহত্যা করব না।’
এই ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণা আসলে ভয়, অহংকার এবং ধর্মীয় উন্মাদনার মিশ্রণ। বহু আগেই এই মতবাদ প্রত্যাখ্যান করা উচিত ছিল। কিন্তু তিন দশক ধরে এটি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতিকে প্রভাবিত করেছে—এবং এটি টিকে আছে মূলত নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার কৌশলের কারণে।
এই প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু দুটি শক্তিশালী মার্কিন গোষ্ঠীকে ব্যবহার করেছেন। একদিকে রয়েছেন ইহুদি জায়নবাদীরা, যাঁরা ইসরায়েলকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করেন। অন্যদিকে রয়েছেন খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা, যাঁরা শেষ যুগের ভবিষ্যদ্বাণী ও যিশুর পুনরাগমনের বিশ্বাসকে বাস্তব মানুষের জীবন থেকেও বেশি গুরুত্ব দেন; অর্থাৎ ফিলিস্তিনি বা এমনকি ইসরায়েলি জীবনের চেয়েও।
এখানে একটি বিভ্রম আরেকটি বিভ্রমের জন্ম দিয়েছে। আর এই পথ ধরে একের পর এক যুদ্ধ হয়েছে। ৩০ বছর ধরে এই সংকট চলছেই।
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ছিল এই ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ভাবনারই আরেকটি রূপ। এক দিনেই ৯ কোটি মানুষের একটি রাষ্ট্রের পতন ঘটানো যাবে—এমন কল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নেতৃত্ব নিহত হলেও কাঙ্ক্ষিত পতন ঘটেনি। তার বদলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে।
এই দৃশ্য নতুন নয়। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনাও দ্রুত সফল হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা ১২ বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরিণত হয়। সেই যুদ্ধে গোপন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং ইসরায়েল তা সমর্থন করেছে। এর ফল হিসেবে সেখানকার একটি প্রাচীন সভ্যতা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দ্রুত বিজয়ের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ে গড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ভাবনায় জড়িয়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তিনি তা বুঝতে পেরেছেন। তিনি বুঝতে পারছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি তাঁর জন্য একধরনের বেরিয়ে আসার পথ এবং একটি অর্থহীন যুদ্ধ থেকে মুক্তির সুযোগ।
এই কারণেই ইসরায়েলের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ সমর্থক নেতারা এই চুক্তিকে নস্যাৎ করতে চাইছেন। কারণ, ইরানের সঙ্গে শান্তি মানেই এই ধারণাটির পরাজয়। চুক্তির পরেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়েছে। তারা এক দিনে ৪৭ জন এবং পরদিন আরও ৩২ জনকে হত্যা করেছে; অথচ সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
বাস্তবতা হলো, ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ইসরায়েলকে রক্ষা করছে না, বরং ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে যে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ওপরের স্তর। ভেতরে-ভেতরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত কমছে। একটি সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রবল। এমনকি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্রেও প্রতি ১০ জনে ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক এখন ইসরায়েলকে অপছন্দ করেন।
একটি রাষ্ট্র যদি নিজেকে বিশ্ববাসীর কাছে ঘৃণিত করে তোলে, এমনকি নিজের সবচেয়ে বড় সমর্থকের কাছেও, তবে তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং নিজের অস্তিত্বকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
তাই পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথ একটাই—‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণার অবসান। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, গাজায় গণহত্যা থামাতে হবে এবং পশ্চিম তীরে দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতিসংঘের ১৯৪তম সদস্য হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই রাষ্ট্র হতে হবে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলকে লেবানন ও সিরিয়া থেকেও সরে আসতে হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি দেখিয়েছে—শান্তি যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, আলোচনার টেবিলে অর্জিত হয়। এটি সম্ভব হয়েছে তখনই, যখন ওয়াশিংটন যুদ্ধের চেয়ে শান্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
ইসরায়েল টিকে থাকতে পারে, কিন্তু ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ হয়ে নয়। ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণাই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে একের পর এক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে।
আজ যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, তা বাস্তব। কিন্তু সেটি পূর্ণ ভোর হবে কি না, তা নির্ভর করছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ যুক্তরাষ্ট্র খুলে দেবে কি না তার ওপর। আরব বিশ্ব ও ইরানকে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে হবে—‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ত্যাগ করাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ।
* জেফ্রি ডি স্যাক্স, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও * সিবিল ফারেস, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্কের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা–বিষয়ক উপদেষ্টা।
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| কথিত গ্রেটার ইসরায়েলের মানচিত্র হাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রামমন্দিরের দানের ৩৫০০ কোটি রুপির হিসাব নেই, নিরীক্ষায় উঠে এল আত্মসাতের কথা
ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য সেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ‘কাজের সুনির্দিষ্ট নিয়ম’ (এসওপি) তৈরির সুপারিশটি এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। আর এরই মধ্যে রামমন্দির কমিটির বিরুদ্ধে দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে তাদের প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
২০২০ সালের নভেম্বরে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ট্রাস্টের দায়িত্ব ও জবাবদিহি ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছিল। তারা বলেছিল, ‘অর্থের লেনদেন, তথ্যের হিসাব, কর্মী ও অন্যান্য জিনিসপত্র সঠিকভাবে চালানোর জন্য প্রতিটি স্তরে একটি সুনির্দিষ্ট কাজের নিয়ম (এসওপি) তৈরি করা দরকার।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আর্থিক হিসাবের জন্য কোনো ‘সঠিক রেকর্ড’ নেই। তারা বলেছিল, কাজকর্ম চালানোর জন্য কোন কর্মকর্তার কী দায়িত্ব, তা স্পষ্ট নয় এবং পুরো বিষয়টি খুবই অপেশাদার। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেতরের তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ট্রাস্টের অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের কাছেও প্রশ্ন পাঠিয়েছিল, কিন্তু তাঁরা কোনো উত্তর দেননি।
ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো নিয়মকানুনের (এসওপি) উল্লেখ নেই। ভেতরের কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদনও সেখানে দেওয়া নেই।
অযোধ্যায় বিতর্কিত রামমন্দির নির্মাণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত এই ট্রাস্ট কেবল নগদ টাকা হিসাবেই আনুমানিক ৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি দান পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে গয়নাগাটির মতো অন্যান্য দান তো রয়েছেই।
ট্রাস্টের ভেতরের কিছু সূত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে, ২০২০ সালের নভেম্বরে ট্রাস্টের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ভেতরের হিসাব পরীক্ষা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলেছিলেন।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মন্দিরের তহবিল বা অর্থ-কড়ির হিসাব এবং তথ্য রাখার পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা করে বেশ কিছু ত্রুটি খুঁজে পায়। তারা সম্ভাব্য বিপদের কথা তুলে ধরে তা সংশোধনের উপায় বাতলে দেয়।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম (এসওপি) থাকলে ‘সব স্তরে একটি গোছানো পরিবেশ তৈরি হবে, যা সব কর্মকর্তা মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।’ একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছিল, অপেশাদার কর্মী ও তথ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে ভুলভাল প্রতিবেদন তৈরি হবে, যা বাকি কর্মী ও পরিচালকদের বিভ্রান্ত করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, কাজকর্ম চালানোর জন্য কোন কর্মকর্তার কী দায়িত্ব, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা খুবই অপেশাদার। আর্থিক প্রতিবেদনের জন্য (দানের) কোনো সঠিক রেকর্ড বা খাতা নেই। অর্থ লেনদেন বা কম্পিউটারে তথ্য তোলার পর তা দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা নেই। নির্দিষ্ট একটি কাঠামোর মাধ্যমে কার কী জবাবদিহি, তা ঠিক করতে হবে। কাজের সঠিক হিসাব ও ভালো ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকা খুবই জরুরি।
সম্প্রতি রামমন্দিরে দান করা গয়না এবং নগদ অর্থের হিসাব না মেলার অভিযোগ ওঠায় ট্রাস্টের কর্তারা বেশ চাপে পড়েছেন। ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বলেন, ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ যদি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সতর্কবার্তা আগেভাগে শুনত, তবে আজকের এই বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত।
প্রকৃতপক্ষে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গয়নার মতো অন্যান্য দানের অব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তারা পরামর্শ দিয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট খাতা বা রেজিস্টার মেইনটেইন করে জিনিসপত্রের দানের হিসাব রাখা উচিত।
‘তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের’ অধীন হাজার হাজার কর্মী কাজ করা সত্ত্বেও সেখানে কোনো সঠিক মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ বা কর্মী উন্নয়ন শাখা না থাকায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বিস্ময় প্রকাশ করেছিল। সেই সঙ্গে ‘ব্যাংকের হিসাব মেলানো, হিসাবের তথ্য কম্পিউটারে তোলা এবং নিয়মিত প্রতিবেদনের জন্য যোগ্য কর্মী নিয়োগের’ তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।
কম্পিউটারের তথ্য ব্যবস্থাপনা (ডেটা ম্যানেজমেন্ট) নিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ‘যে আইটি কোম্পানি এই কাজ করছে, তাদের তথ্য সুরক্ষা, সার্ভার কিংবা তথ্য চুরির ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা কেমন, তার কোনো সঠিক রেকর্ড পাওয়া যায়নি...আইটি কোম্পানির ডেটা এন্ট্রি ও ডেটাবেজ এবং তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা তদারক করার মতো ট্রাস্টের নিজস্ব কোনো অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই নেই।’
আইটি প্রতিষ্ঠান ও ট্রাস্টের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে ‘একজন যোগ্যকর্মী’ রাখার পরামর্শ দিয়ে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বলেছিল, এতে সব স্তরে তথ্যের আদান-প্রদান নিয়মের মধ্যে থাকবে। তারা সতর্ক করে বলেছিল, কম্পিউটার ও তথ্য সুরক্ষার এই নিয়ম বা নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এবং তথ্য চুরি বা ভুল তথ্য এন্ট্রির বড় ঝুঁকি থেকে যায়।
![]() |
| উদ্বোধনের জন্য সাজানো হয়েছে রাম মন্দির। ২১ জানুয়ারি, ২০২৪ ছবি: এএনআই |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হামলা-ভাঙচুর-উচ্ছেদ: ভারতের মুসলিমরা আন্দোলনে নামতে চায়
সম্প্রতি বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র এস কিউ আর ইলিয়াস বলেন, ভারতে মুসলিমদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এ পরিস্থিতি তুলে ধরতে বোর্ড একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন বা নথি প্রকাশ করবে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ করে বিজেপি–শাসিত রাজ্যগুলোয় মুসলিমদের নিশানা করে গণপিটুনি, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুরের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুলে নির্দিষ্ট স্লোগান বাধ্যতামূলক করা, মাদ্রাসাগুলোর ওপর আক্রমণ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর চেষ্টার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বোর্ড আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আন্দোলন পরিচালনার জন্য ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হবে বলে জানান মুখপাত্র ইলিয়াস। এরপর রাজ্য স্তরের কমিটি এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন তৈরি করা হবে।
বাড়ছে নিয়মিত আক্রমণ
ভারতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধ ও নাবালকদের ওপর শারীরিক হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক ধর্মীয় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং সে দৃশ্য ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙচুরের পাশাপাশি উন্নয়নের নামে মুসলিমপ্রধান এলাকাগুলোয় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি যোগী আদিত্যনাথের সরকার উত্তর প্রদেশের বেনারসের একটি প্রাচীন মসজিদ উচ্ছেদ করার নোটিশ দিয়েছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বাজেট কমানোর অভিযোগও উঠেছে। গত মঙ্গলবার এক খবরে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে এই খাতের বাজেট প্রায় অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। পার্সোনাল ল বোর্ডের মতে, মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি, সম্মান ও ধর্মীয় বিশ্বাস এখন চরম হুমকির মুখে।
সব রাজনৈতিক দলের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখপাত্র ইলিয়াস বলেন, ‘কংগ্রেসসহ সব দলের ওপরই আমরা অসন্তুষ্ট। মুসলিমদের সমস্যাগুলো নিয়ে এখন কেউই আর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলছে না।’
তবে এসব খবর মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং কেবল মুসলিমদের পরিচালিত কিছু সংবাদমাধ্যমেই তা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কামাল মাওলা মসজিদের প্রসঙ্গ
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদের প্রসঙ্গ নিয়েও ল বোর্ডের বিশেষ অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পঞ্চম শতকের প্রাচীন মসজিদটি নিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি রায় দিয়েছেন।
রায়ে বলা হয়েছে, মসজিদটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে ওই মসজিদের নিচে দেবী সরস্বতীর মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে। সে আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত মসজিদটির জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণ করে তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ রায়ের বিষয়ে ল বোর্ডের মুখপাত্র এসকিউআর ইলিয়াস বলেন, ‘এ মামলায় ঐতিহাসিক প্রমাণ, রাজস্ব নথি ও ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি দলিলপত্র দাখিল করা হয়েছিল। এরপরও মসজিদটি সরাতে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে।’
বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর এখন আসাম, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও ইউসিসি চালুর তোড়জোড় চলছে। এ বিধি চালু হলে ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনগুলো বাতিল হয়ে যাবে এবং সব নাগরিকের জন্য একটি একক আইনব্যবস্থা কার্যকর হবে।
মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এর ফলে বহুবিবাহের মতো ধর্মীয় রীতিগুলো নিষিদ্ধ বা সীমিত হয়ে যাবে। তবে ভারতের তফসিলি উপজাতিদের এ আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড মনে করে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংবিধানে কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি ও ধর্মপালনের অধিকার রক্ষায় বোর্ড একটি ‘অ্যাকশন কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরুর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
![]() |
| ভারতে মুসলিমদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে সম্প্রতি বৈঠকে বসেন মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্যরা। ছবি: মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে মেয়র মামদানি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয়জয়কার
নিউইয়র্কের টেনথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে গোল্ডম্যানকে হারিয়েছেন প্রগতিশীল প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার।
ইসরায়েল–গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তৈরি হওয়া গভীর বিভাজনকে স্পষ্ট করে তুলেছে এই নির্বাচন।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করে আসছিলেন ল্যান্ডার। অন্যদিকে দুবার নির্বাচিত বর্তমান কংগ্রেস সদস্য গোল্ডম্যান ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচনে ল্যান্ডার ছাড়া মামদানি–সমর্থিত আরও দুই প্রার্থী নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির বামঘেঁষা নেতাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর মধ্যে সেভেনথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজ ব্রুকলিন বরোর প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও রেইনোসোকে পরাজিত করেছেন।
নিউইয়র্কের থার্টিনথ ডিস্ট্রিক্টে ডক্টরাল শিক্ষার্থী দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ের প্রাথমিক বাছাইপর্বে জয়ী হয়েছেন। ফিলিস্তিন আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি সুপরিচিত। শেভালিয়ের দীর্ঘদিন ধরে এই আসন ধরে রাখা আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে পরাজিত করেছেন।
এসপাইলাত টানা পাঁচ মেয়াদ ধরে কংগ্রেসে থার্টিনথ ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তিনি কংগ্রেসনাল হিস্পানিক ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ সংগঠনটি হিস্পানিক আমেরিকানদের জন্য আইন ও সম্পদ–সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে।
নির্বাচনে জয়ের পর শেভালিয়েরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মামদানি।
ব্র্যাড ল্যান্ডারও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড্যান গোল্ডম্যানের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। আর গোল্ডম্যান পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। এ জয়ের পর ল্যান্ডার জানান, তাঁর এলাকার (লোয়ার ম্যানহাটান ও ব্রুকলিনের অংশ) ভোটাররা এমন নেতৃত্ব চান, যাঁরা ‘ভয় না পেয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত, যাঁরা স্বৈরাচারের সামনে নত হন না’।
ল্যান্ডারের ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন মামদানি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী ডেমোক্র্যাট নেতা বার্নি স্যান্ডার্সও ল্যান্ডারকে সমর্থন দিয়েছেন।
বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্যান গোল্ডম্যান বলেছেন, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে ফোন করে তাঁর জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গোল্ডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ রাতে টেনথ ডিস্ট্রিক্টের ভোটাররা তাঁদের রায় দিয়েছেন। এটি সেই ফল নয়, যার জন্য আমি এত কঠোর পরিশ্রম করেছি। কিন্তু আমি তাঁদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোল্ডম্যানকে ‘দুর্বল’ উল্লেখ করে কটাক্ষ করেছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ওই কংগ্রেস সদস্য ‘বড় ব্যবধানে হেরে গেছেন।’
![]() |
| বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করা প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারের সঙ্গে জোহরান মামদানি। ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঘরের রান্না, সম্পর্কের উনুন ও বদলে যাওয়া নগরজীবন by প্রশান্ত কুমার শীল
তার হাতে রান্না ছিল শিল্প, সংসার ছিল দায়িত্ব, আর মানুষকে খাওয়ানো ছিল এক ধরনের মানবিক সাধনা। আজকের শহুরে জীবনে দাঁড়িয়ে ধনঞ্জয়কে মনে পড়া অকারণ নয়। কারণ, আমাদের চারপাশে এখন রমরমা ফুড ডেলিভারি অ্যাপ, ক্লাউড কিচেন, ইনস্ট্যান্ট ফুড সার্ভিস। অথচ ঘরের রান্না, পারিবারিক খাবার ও একসঙ্গে বসে খাওয়ার সংস্কৃতি যেন ক্রমেই সরে যাচ্ছে জীবনের প্রান্তে।
শহুরে জীবনের ব্যস্ততা এখন নতুন এক খাদ্যসংস্কৃতি তৈরি করেছে। অফিসের সময় বদলেছে, কাজের ধরন বদলেছে, পরিবারের কাঠামো বদলেছে। একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘর ছিল সংসারের কেন্দ্রবিন্দু। সকালে বাজার, দুপুরে রান্না, বিকালে নাস্তা, রাতে সবাই মিলে খাওয়ার মধ্যে একটি পারিবারিক ছন্দ ছিল। এখন সেই জায়গা দখল করেছে মোবাইল স্ক্রিন। ক্ষুধা লাগলে কেউ আর রান্নাঘরের দিকে তাকায় না, বরং ফোনের অ্যাপে আঙুল চালিয়ে অর্ডার দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে খাবার হাজির।
এই পরিবর্তনকে একেবারে নেতিবাচক বলা যাবে না। কারণ প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। নগরের যানজট, কর্মব্যস্ততা, একক পরিবার, নারী-পুরুষ উভয়ের চাকরি—সব মিলিয়ে অনেক পরিবারেই প্রতিদিন রান্না করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফুড ডেলিভারি অ্যাপ তাই প্রয়োজনের জায়গা থেকে জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি সুবিধাজনক, দ্রুত ও বৈচিত্র্যময় এক ব্যবস্থা। এখন কেউ চাইলেই একই দিনে বিরিয়ানি, সুশি, পাস্তা, কাচ্চি, থাই স্যুপ কিংবা ডেজার্ট
অর্ডার করতে পারে। খাবার এখন কেবল পুষ্টি নয়, বিনোদনও বটে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই সুবিধার ভিড়ে আমরা কি যেন হারাচ্ছি?
ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় সেলিব্রিটি শেফ, রন্ধনশিল্পী এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সঞ্জীব কাপুর। তিনি তাঁর সুস্বাদু রান্নার কৌশল এবং জনপ্রিয় টিভি শো 'খানা খাজানা'র মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি বলেছেন “ফুড ডেলিভারি অ্যাপ জীবনযাত্রার পরিবর্তনের প্রতিফলন, কিন্তু শিশুদের ঘরের রান্নার মূল্য বোঝা উচিত।” কথাটি নিছক আবেগের নয়; বরং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। কারণ, ঘরের রান্না শুধু খাবার নয়, এটি স্মৃতি, সম্পর্ক ও পরিচয়ের অংশ। মায়ের হাতের ডাল, দাদির পাটিসাপটা, ঈদের সেমাই, পূজার সন্দেশ কিংবা বৃষ্টির দিনের খিচুড়ি-ইলিশ—এসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, পারিবারিক ইতিহাস ও সামাজিক বন্ধন।
ধনঞ্জয় চরিত্রটির সাফল্য এখানেই। সে রান্নাকে কেবল দায়িত্ব মনে করেনি; বরং সৃজনশীলতা ও যত্নের জায়গা থেকে দেখেছে। তার রান্নায় ছিল কল্পনা, আন্তরিকতা ও শিল্পবোধ। কাঁচকলার কোপ্তাকে মাংসের স্বাদে নিয়ে যাওয়া কিংবা চালতা দিয়ে ডাল রান্না। এসব কেবল রন্ধন দক্ষতা নয়, এটি জীবনকে উপভোগ করার এক নান্দনিকতা। আজকের দ্রুতগতির শহুরে সমাজে সেই নান্দনিকতা ক্রমেই বিরল হয়ে যাচ্ছে।
এখনকার শিশুরা হয়তো জানেই না, রান্নাঘরের গন্ধ কীভাবে পরিবারের আবহ তৈরি করে। অনেক শিশুর কাছে খাবার মানেই ব্র্যান্ডেড প্যাকেট, রেস্টুরেন্ট বা অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি। ফলে খাবারের সঙ্গে তাদের আবেগগত সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে না। তারা জানছে না একটি রান্না তৈরি হতে কত সময়, শ্রম ও মমতা লাগে। খাবার তাই তাদের কাছে ভোগের বস্তু, জীবনের অংশ নয়।
ফুড ডেলিভারি অ্যাপের আরেকটি সামাজিক দিকও রয়েছে। এই অ্যাপভিত্তিক অর্থনীতি নগরে নতুন ধরনের শ্রমবাজার তৈরি করেছে। হাজার হাজার তরুণ এখন ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু এই শ্রমের পেছনে রয়েছে অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপ।
একদিকে মানুষ দ্রুত খাবার পাচ্ছে, অপরদিকে সেই দ্রুততার জন্য কেউ রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটে চলেছে। প্রযুক্তির এই সুবিধাবাদী কাঠামোর মধ্যে মানবিক শ্রমের মূল্য কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও ভাবার বিষয়।
অন্যদিকে, ঘরের রান্না কমে যাওয়ার ফলে পারিবারিক যোগাযোগও কমছে। আগে খাওয়ার টেবিল ছিল আলাপের জায়গা। সেখানে পরিবারের সদস্যরা দিনের গল্প বলতো, মতবিনিময় করতো, সম্পর্ক দৃঢ় হতো।
এখন অনেকেই একা একা মোবাইল হাতে খাবার খায়। কেউ সিরিজ দেখে, কেউ স্ক্রল করে, কেউ অফিসের মেইল দেখে। ফলে খাওয়ার সামাজিকতা হারিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে অর্থনৈতিক বাস্তবতাও আছে। শহরের জীবন ব্যয়বহুল, সময় সংকুচিত, মানুষের ধৈর্য কমে গেছে। তাই অনেকের কাছে রান্না একটি ঝামেলার কাজ। কিন্তু রান্নাকে যদি শুধুই শ্রম হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তার মানবিক ও সাংস্কৃতিক দিকটি হারিয়ে যায়। ধনঞ্জয় আমাদের সেই হারিয়ে যাওয়া দিকটির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বাঙালি সংস্কৃতিতে খাবার সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। সাহিত্য, সিনেমা, লোকজ সংস্কৃতি—সর্বত্র খাবারের উপস্থিতি লক্ষণীয়। বিভূতিভূষণের উপন্যাসে, সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে কিংবা রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্রে খাবারের প্রসঙ্গ বারবার এসেছে। কারণ, খাবার মানুষের জীবনযাত্রা, শ্রেণি, সংস্কৃতি ও আবেগের প্রতিফলন। আজকের নগরসভ্যতায় সেই সাংস্কৃতিক গভীরতা ক্রমশ পণ্যে রূপ নিচ্ছে।
তবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করাও সমাধান নয়। আধুনিক জীবনে ফুড ডেলিভারি অ্যাপ থাকবে, প্রযুক্তিও থাকবে। কিন্তু তার মধ্যেও ঘরের রান্না ও পারিবারিক খাবারের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা জরুরি। সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন পরিবার একসঙ্গে বসে খেতে পারে। শিশুকে রান্নাঘরের সঙ্গে
পরিচিত করা যেতে পারে। রান্নাকে নারীর একক দায়িত্ব না ভেবে পারিবারিক অংশগ্রহণে রূপ দেওয়া প্রয়োজন। বাবা-মা একসঙ্গে রান্না করলে শিশুরাও খাবারের মূল্য বুঝবে।
একটি সমাজের পরিবর্তন বোঝার জন্য তার খাবারের সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আজ আমরা দ্রুততার সমাজে বাস করছি। সব কিছু এখন ‘ইনস্ট্যান্ট’। কিন্তু জীবনের সব অনুভূতি কি ইনস্ট্যান্ট হয়? মায়ের হাতের রান্না, পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়া, কারও জন্য যত্ন করে রান্না করা—এসবের কোনও অ্যাপভিত্তিক বিকল্প নেই।
ধনঞ্জয় তাই কেবল সিনেমার চরিত্র নয়; সে এক সাংস্কৃতিক স্মৃতি। সে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রান্নাঘর শুধু চুলা-পাতিলের জায়গা নয়, এটি সম্পর্কের উনুন। সেখানে যত্ন, সৃজনশীলতা ও ভালোবাসা একসঙ্গে সেদ্ধ হয়। আধুনিক শহর হয়তো আমাদের দ্রুত করেছে, কিন্তু মানবিক করেছে কী?
সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজও ধনঞ্জয় ফিরে আসে। কখনও সিনেমার পর্দায়, কখনও স্মৃতির ভেতর, কখনও সঞ্জীব কাপুরের মন্তব্যে। আর তখন মনে হয়, প্রযুক্তির যুগেও ঘরের রান্নার ধোঁয়া আসলে এক ধরনের সভ্যতার গন্ধ।
* প্রশান্ত কুমার শীল, শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আম খেলে যে কারণে ঘুম পায়
বিশেষ করে রাতে আম খেলে শরীর এলিয়ে পড়ার প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়। কেন এমন হয়, এ নিয়ে কৌতূহলও কম নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা আমে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক উপাদান শরীরে প্রাকৃতিকভাবে নিদ্রার অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে আমে থাকা কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়।
এই ইনসুলিন ট্রিপটোফ্যানকে সহজে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সহায়তা করে। এরপর মস্তিষ্কে ট্রিপটোফ্যান থেকে সেরোটোনিনসহ বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি হয়।
সেরোটোনিন মূলত মস্তিষ্ককে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখে, যার ফলে ধীরে ধীরে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয় এবং শরীর শিথিল হয়ে আসে।
আমে থাকা ট্রিপটোফ্যান, কার্বোহাইড্রেট ও ইনসুলিনের পারস্পরিক প্রভাবে সেরোটোনিন বৃদ্ধি পায়, যা ঘুমের অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে পাকা আম খেলে এই প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রিন টি ছাড়াও এমন কিছু ঘরোয়া পানীয় রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি এই পানীয়গুলো খেলে হৃদ্যন্ত্র বা হার্ট ভালো থাকে। চলুন, জেনে নিই পানীয়গুলো কী কী।
তবে মনে রাখা জরুরি, কোনো পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের মূল ওষুধের বিকল্প নয়।
উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ দীর্ঘ সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি শরীরের বড় ক্ষতি করে দেয়। তাই ওষুধের পাশাপাশি এগুলোকে স্বাস্থ্যকর জীবনের অংশ করে নেওয়া যেতে পারে।
জবা ফুলের চা (হিবিস্কাস টি)
যাদের ক্যাফেইনে সমস্যা আছে, তারা গ্রিন টি-র বদলে জবা ফুলের চা বেছে নিতে পারেন। এই চা ঠাণ্ডা বা গরম— দুইভাবেই খাওয়া যায়।
জবা ফুলে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই চা রক্তচাপের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) কমাতে সাহায্য করে। বেদানার রস রক্তনালি সচল রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস না খেয়ে, বাড়িতে তৈরি করা খাঁটি বেদানার রস খাওয়া বেশি কার্যকরী।
বিটের রস
বিট হলো ‘ডায়েটারি নাইট্রেট’-এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এই রস শরীরে যাওয়ার পর নাইট্রেট উপাদানটি ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ পরিণত হয়। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই রস যেমন উপকারি, তেমনই এটি শারীরিক কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রেশার মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন করা জরুরি।
সূত্র : আনন্দবাজার

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চুলের যত্নে নারকেল তেলের সঙ্গে মেশাতে পারেন যে ৫ উপাদান
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারকেল তেলে থাকা লরিক অ্যাসিড চুলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, যা চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। ফলে চুল থাকে আরো স্বাস্থ্যকর, মজবুত এবং প্রাণবন্ত। তবে নারকেল তেলের সঙ্গে কিছু উপকারী উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। জেনে নিন এমন ৫টি কার্যকর সংমিশ্রণের কথা।
নারকেল তেল ও মেথি
মেথি বীজে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও নিকোটিনিক অ্যাসিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এছাড়া মেথিতে থাকা লেসিথিন মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা কমায়।
ব্যবহার পদ্ধতি
২ টেবিল চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পেস্ট তৈরি করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে লাগান।
নারকেল তেল ও ভৃঙ্গরাজ
আয়ুর্বেদে ভৃঙ্গরাজকে ‘ভেষজের রাজা’ বলা হয়। এটি চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এবং অকালেই চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধে সহায়ক বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।
ব্যবহার পদ্ধতি
আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ শুকনো ভৃঙ্গরাজ গুঁড়ো মিশিয়ে ১৫ মিনিট হালকা আঁচে গরম করুন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন এবং নিয়মিত ব্যবহার করুন।
নারকেল তেল ও কালোজিরা
কালোজিরায় থাকা থাইমোকুইনোন শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান হিসেবে পরিচিত।
এটি মাথার ত্বকের প্রদাহ ও জ্বালাভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি চুলের গোড়াকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও সুরক্ষা দেয় বলে মনে করা হয়।
ব্যবহার পদ্ধতি
গুঁড়ো করা কালোজিরা নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে ব্যবহার করতে পারেন।
নারকেল তেল ও লবঙ্গ
চুলের যত্নে লবঙ্গের ব্যবহার খুব বেশি পরিচিত না হলেও এটি বেশ উপকারী হতে পারে। লবঙ্গে থাকা ইউজেনল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণে সমৃদ্ধ, যা মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি রক্তসঞ্চালন বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যবহার পদ্ধতি
৪ থেকে ৫টি লবঙ্গ নারকেল তেলে হালকা গরম করুন। ঠান্ডা হলে সেই তেল মাথার ত্বকে মালিশ করুন।
নারকেল তেল ও রোজমেরি অয়েল
বর্তমানে চুলের বৃদ্ধির জন্য রোজমেরি অয়েল বেশ জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ব্যবহার পদ্ধতি
২ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ৫ ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। সারা রাত রেখে পরদিন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
যদিও এসব প্রাকৃতিক উপাদান চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে, তবে সবার ত্বক ও চুলের ধরন এক নয়। তাই নতুন কোনো উপাদান ব্যবহার করার আগে অল্প পরিমাণে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। কোনো ধরনের অ্যালার্জি বা সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে এই উপাদানগুলোর সংমিশ্রণ হতে পারে একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান।
সূত্র : এই সময়

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী হতে পারে যে ফল
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় একে অনেকেই ‘সুপারফুড’ বলে থাকেন। সম্প্রতি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অ্যাভোকাডোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা বেড়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (গুড ফ্যাট) । অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় এতে কার্বোহাইড্রেট কম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অ্যাভোকাডো উপকারী হতে পারে কারণ এর উচ্চ ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাভোকাডো সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস খাদ্যের গ্লাইসেমিক লোড কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সকালের নাস্তায় ব্রাউন ব্রেডের সঙ্গে অ্যাভোকাডোর শাঁস মেখে খাওয়া যেতে পারে।
সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে খেলে তা আরো পুষ্টিকর হতে পারে। ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেয় এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, অ্যাভোকাডো কোনোভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধ নয়। এটি কেবল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাভোকাডো উপকারী হলেও আপেল, পেয়ারা বা অন্যান্য পুষ্টিকর ফলের বিকল্প হিসেবে নয়; বরং সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবেই এটি খাওয়া উচিত।
সূত্র : আনন্দবাজার

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘সম্পর্ক ছিন্ন’ করার হুমকি, ট্রাম্প বলেছেন—‘বিবি, সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত’
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা নতুন একটি বইয়ে এ দাবি করা হয়েছে। বইটির নাম ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বইটির কিছু অংশ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নেতার মধ্যে এ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ওই সময় ট্রাম্প গাজা নিয়ে তাঁর তৈরি করা একটি শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে ইসরায়েলের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওই ফোনালাপ করেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম), সবাই তোমার ওপর বিরক্ত। সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত। এমনকি এ ফোনে থাকা দুই ইহুদিও (কুশনার ও উইটকফ) তোমার ওপর বিরক্ত।’
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, আর আমি তোমার পাশে দাঁড়িয়েছি।’ তিনি সতর্ক করে বলেন যে ইসরায়েল এই চুক্তি (গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা) মেনে না নিলে দুই দেশের মধ্যে ‘বিচ্ছেদ’ ঘটবে।
অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বেশ প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু ইরানকে কাবু করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া এবং শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর ট্রাম্প ক্রমে ইসরায়েলের প্রতি সমালোচনামুখর হয়ে ওঠেন। ইরান আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার পর লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান ট্রাম্প। একপর্যায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে নেতানিয়াহুর ‘কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই’ এবং তিনি নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলেও আখ্যা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্প্রতি ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে যে ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারেন।
অবশ্য দুই নেতাই নিজ দেশে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিরোধীদের দাবি, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হয়েছে, তা ট্রাম্পের যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই উত্তপ্ত ফোনালাপের দুই দিন পর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘গাজা শান্তি পরিকল্পনা’র ঘোষণা দেন। পরে নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও এটি অনুমোদন করে।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের লেখা বইটিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মতো আরও বেশ কিছু তুমুল বিতর্কের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসনের ভেতরের নানা গোপন ও ঘনিষ্ঠ বিবরণ উঠে আসায় বইটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বইটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যকার বেশ কিছু সংবেদনশীল আলোচনার বিবরণ রয়েছে। বিশেষ করে কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ফাইল কেলেঙ্কারির ধাক্কা ট্রাম্পের সামলানো ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সময়কার ভেতরের নানা তথ্য এতে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ বইয়ের যেসব অংশ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘সিচুয়েশন রুম’-এর ভেতরে হওয়া কথোপকথনের কোনো রেকর্ডিং হয়তো বাইরে ফাঁস হয়ে গেছে।
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোলাজ ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি টিকবে না বলে মনে করেন বেশির ভাগ মার্কিন
রয়টার্স/ইপসোস–এর করা নতুন এক জনমত জরিপে এমন মনোভাব জানা গেছে।
পাঁচ দিন ধরে চালানো এ জরিপের কাজ শেষ হয় গত সোমবার। ফলাফলে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বনিম্ন। এর আগে গত এপ্রিলে পরিচালিত একটি জরিপেও তাঁর জনপ্রিয়তা একই স্তরে নেমে এসেছিল।
মাত্র ২৩ শতাংশ মার্কিন মনে করেন, যুদ্ধের আগে ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থানে ছিল, সে তুলনায় এখন দেশটি শক্তিশালী অবস্থানে আছে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এ মতের পক্ষে খুব একটা জোরালো অবস্থান দেখা যায়নি। মাত্র ৫০ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তপোক্ত হয়েছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়ে দুর্বল অবস্থানে আছে। বাকি অংশের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, তাঁরা নিশ্চিত নন। কেউ বলেছেন, যুদ্ধের আগে ও পরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৭ জুন একটি প্রাথমিক চুক্তিতে (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তির আওতায় যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক চাপও শিথিল করার বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত আছে।
চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তবে বেশির ভাগ মার্কিনের জন্য পেট্রলের দাম এখনো ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি রয়েছে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা হওয়ার পরপরই ইরান পাল্টা আঘাত হানে। তারা হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্বব্যাপী তেল–বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোতে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক মানুষ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান যুদ্ধ মোটেও সার্থক ছিল না। মাত্র ২৪ শতাংশ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য যে মূল্য দিতে হয়েছে, তা লাভজনক ছিল। অন্য উত্তরদাতারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে পারেননি।
জরিপ অনুযায়ী, ৬৩ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। রিপাবলিকানদের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং প্রতি ১০ জন ডেমোক্র্যাটের ৮ জনই মনে করেন, এ চুক্তি শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে।
মাত্র ১৮ শতাংশ মার্কিন বিশ্বাস করেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আছে। এ গোষ্ঠীর মধ্যে আছেন ১০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৩৪ শতাংশ রিপাবলিকান।
ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি কমানো ও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বড় অংশ গড়ে উঠেছে একজন সফল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, চুক্তি-সম্পাদনকারী ও রিয়েলিটি টিভি তারকা হিসেবে।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার খরচ সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকাকে সমর্থন করেন মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ, যা তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে অন্যতম সর্বনিম্ন।
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমাবেশে সেনাসদস্যকে হত্যার ঘটনায় বেলুচিস্তানের অধিকারকর্মীর যাবজ্জীবন, রায় নিয়ে সমালোচনা
বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটির (বিওয়াইসি) নেত্রী মাহরাং বেলুচকে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের দায়ে তাঁর সহকর্মী সমাজকর্মী সিবগাতুল্লাহর সঙ্গে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউটররা (সরকারি আইনজীবী) এই দুজনের বিরুদ্ধে জনতাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। সমাবেশ থেকে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য শাব্বির আহমেদের ওপর মারাত্মক হামলা চালানো হয়েছিল।
আইনজীবী দলসহ এই বিচারপ্রক্রিয়া বর্জন করা ওই দুই অধিকারকর্মী তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বেলুচের বিরুদ্ধে উপকূলীয় শহর গোয়াদরের ওই সমাবেশে ‘অত্যন্ত উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন। যার ফলে ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষ লাঠিসোঁটা ও পাথর নিয়ে তাঁর এক দলের এক সদস্যের গাড়িতে হামলা চালায়।
নিরাপত্তা বাহিনীর ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, শাব্বির আহমেদ বাকিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী একটি আদালত বলেছেন, বেলুচ ও সিবগাতুল্লাহ ‘বেলুচ ইউনিটি কমিটির অবৈধ সমাবেশে সক্রিয় ছিলেন এবং ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডে তাঁদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল।’
আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারদের ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি (৭১৯ ডলার) জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেলুচ ও সিবগাতুল্লাহ বিভিন্ন অভিযোগে দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) এই রায় অবিলম্বে পর্যালোচনা করার দাবি জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে চরমপন্থার মতোই বিবেচনা করার নীতি বজায় রেখেছে। এতে প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট হচ্ছে।
বেলুচের বোন ও আইনজীবী নাদিয়া বেলুচ এবং ওই অধিকার কর্মীদের আইনি দল জানিয়েছে, তাঁদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং তাঁরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মাহরাং বেলুচের বোন ও আইনজীবীরা বলেন, একটি গোপন ও অজ্ঞাত আদালত এই রায় দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের সঠিকভাবে জেরা করার সুযোগ পাননি।
সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এই বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি এই বিচারকে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ এবং ‘সম্পূর্ণ গোপনে’ পরিচালিত বলে বর্ণনা করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য পাকিস্তান সরকারকে দোষারোপ করেন।
বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, প্রসিকিউটরদের কাছে ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে। এই মামলাটি কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়।
মাহরাং বেলুচ ২০২৪ সালে বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। তিনি ২০০৯ সালে তাঁর বাবাকে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আন্দোলন শুরু করেন। এর দুই বছর পর তাঁর বাবার মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।
২০২৩ সালের শেষের দিকে মাহরাং নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের বিচারের দাবিতে শত শত নারীকে নিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ১ হাজার মাইল (১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার) দীর্ঘ পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন।
মাহরাংয়ের সংগঠন বিওয়াইসি বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। কয়েক দশক ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এই প্রদেশে আন্দোলন–সংগ্রাম চলছে।
বিওয়াইসি অবশ্য পাকিস্তান সরকারের আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, বেলুচ বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। -বিবিসি
![]() |
| পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের নারী মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচ। ছবি: তাঁর এক্স হ্যান্ডল থেকে নেওয়া |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিভিন্ন দেশের মধ্যে কেন সব সময় যুদ্ধ লেগে থাকে by শিউলী সুলতানা
এর পেছনে মূলত তিনটা কারণ দায়ী। স্বল্পতা, অসম বণ্টন ও ভুল বোঝাবুঝি।
প্রথমেই আসা যাক স্বল্পতার কথায়। পৃথিবীতে সবার জন্য যথেষ্ট জিনিস খাবার, তেল বা পানি নেই। এই অভাবের কারণেই দেশগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তারা ঠিক করে নেয়, কোন জিনিসটা তাদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি। মিসরের নীল নদের কথাই ধরা যাক। এই একটা নদের পানির ওপর ভরসা করে আফ্রিকার ১১টা দেশের ৩০ কোটি মানুষ! সব দেশই চায় সেই নদের পানি। কেউ হয়তো নীল নদের পানি দিয়ে চাষাবাদ করবে, কেউ পান করবে আবার কেউ হয়তো বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পানি যেহেতু কম, তাই মিসর আর ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো প্রায়ই এই পানি নিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে ফেলে। একই কথা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্যও খাটে। তিস্তার পানি নিয়ে প্রায়শই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিবাদ লাগে।
এরপর আসা যাক দ্বিতীয় কারণে। সেটা হলো অসম বণ্টন। মানে সবার হাতে সমান ক্ষমতা বা সম্পদ নেই। কিছু দেশ খুব শক্তিশালী, আবার কিছু দেশ ততটা নয়। এই বৈষম্য দেশগুলোর একে অপরের প্রতি আচরণ বা ঝুঁকি নেওয়ার হিসাবটাই বদলে দেয়। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। এই একচেটিয়া ক্ষমতা দেখে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত বা চীনের মতো দেশগুলো একটু চিন্তায় পড়ে গেছে। কিন্তু এভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না। তাই এসব দেশ মিলে ২০০৯ সালে নিজেদের একটা জোট তৈরি করল। সেই জোটের নাম BRICS+। ক্ষমতা যাতে ভারসাম্যে থাকে, তাই এই জোট বানানো।
তৃতীয়ত, দৃষ্টিভঙ্গি বা ভুল বোঝাবুঝি। বিবাদ লাগার সবচেয়ে মজার কারণটা হলো এই ভুল বোঝাবুঝি। ধরো, ‘ক’ নামে একটি দেশ ভাবল, ‘আমার নিরাপত্তা দরকার’। এই ভেবে দেশটি কিছু অস্ত্র বানাল। কিন্তু তার প্রতিবেশী ‘খ’ দেশ ভাবল, ‘ও তো আমাকে আক্রমণ করার জন্য অস্ত্র বানাচ্ছে! তাহলে আমাকেও অস্ত্র বানাতে হবে।’ ব্যস, ‘খ’ দেশও ভয়ে ভয়ে আরও বেশি অস্ত্র বানানো শুরু করল।
ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছিল ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে। ১৯৭০-এর দশকে ভারত যখন নিজের সুরক্ষার জন্য পারমাণবিক বোমা বানাল, পাকিস্তান ভাবল এটা তাদের জন্য হুমকি। ফলে পাকিস্তানও পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলল। আর সেই থেকে দুটো দেশের মধ্যে রেষারেষি লেগেই আছে।
এবার সম্পূর্ণ বিষয়টা বোঝার জন্য একটা গল্প বলি। ধরো, রনি ও জনি খুব ভালো বন্ধু। ক্লাসের টিচার তাদের দুজনকে দুটো আলাদা দলের নেতা বানিয়ে দিলেন। ক্লাসের বাকিরাও অন্য দলের নেতা হলো। খেলাটা হলো, কার হাতে কত পয়েন্ট আছে, কে কত শিল্প বানাতে পারে এবং কে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারে।
খেলাটায় একটা সমস্যা ছিল। খেলার পয়েন্ট সীমিত। সবাইকে তাদের দরকারি জিনিস সেই পয়েন্ট দিয়ে বেছে নিতে হবে। খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই দেখা গেল, দুই ভালো বন্ধু রনি ও জনি আর একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছে না! অথচ তারা কিন্তু ভালো বন্ধু ছিল। এখন একজন অন্যজনকে টেক্কা দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।
এই ক্লাসরুমের খেলাটাই হলো পুরো পৃথিবীর চিত্র। দেশগুলো সবাই হয়তো শান্তিই চায়। কিন্তু ওই যে অভাব, বৈষম্য আর ভুল বোঝাবুঝি আছে; এ জন্য সবার পক্ষে সব সময় মিলেমিশে থাকা সম্ভব হয় না।
তবে হ্যাঁ, এই সত্যিটা যদি সবাই বুঝতে পারে, এই কারণগুলো যদি জানতে পারে, তাহলে হয়তো দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বাস বাড়ানো সহজ হবে। আর তখনই শান্তি আসলেও আসতে পারে!
সূত্র: কিউরিয়াস কিডস
![]() |
| ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে গিয়ে যে ৫ অভিজ্ঞতা হলো by আবুল হাসনাত
কদিন আগে পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম সেন্ট মার্টিনে। ভালো–মন্দ মিলিয়ে মিশ্র এক অভিজ্ঞতা। সেটাই শেয়ার করলাম আজ। যাঁরা যাওয়ার কথা ভাবছেন একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।
১. তবু অনিয়ন্ত্রিত পর্যটক
দ্বীপটায় মানুষ যায় ‘পঙ্গপালের’ মতো। ডিসেম্বর, জানুয়ারি—এবার এই দুই মাস ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে আমাদের কারও যেন হুঁশ নেই (আমি নিজেও বেহুঁশ হয়েছিলাম)। প্রতিদিন দুই হাজার মানুষ যাওয়ার কথা। সেখানে কমসে কম ৭–৮ হাজার মানুষ যাচ্ছে হররোজ। জাহাজে, জেটিঘাটে, সৈকতে, রিসোর্টে, খাবারের দোকানে সর্বত্র গাদাগাদি। তিলধারণের ঠাঁই নেই কোথাও।
এর থেকেও বিরক্তিকর দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজে ভ্রমণের ক্লান্তি। নতুন এই হুজ্জত এবারই শুরু হয়েছে। আগে টেকনাফ থেকে আড়াই–তিন ঘণ্টায় যাওয়া যেত। এখন কক্সবাজার থেকে জাহাজ ছাড়ে। পৌঁছাতে কম করে হলেও সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লেগে যায়। জাহাজে ওঠানামার কথা ভাবলেই তো গায়ে জ্বর আসে।
২. ছেড়া দ্বীপ
প্রতিবেশ সংকটাপন্ন ছেড়া দ্বীপে যাওয়া নাকি নিষেধ। সকাল ৭টা থেকে কোস্টগার্ড দাঁড়িয়ে যায় সেন্ট মার্টিনের একেবারে দক্ষিণপ্রান্তে, যেখান থেকে টুকরা ছোট ছোট তিনটি দ্বীপে যাওয়ার সরু রাস্তাটার শুরু। ভাটার সময় রাস্তাটা জেগে উঠে, জোয়ারে তলায়। জোয়ারের সময় খুদে দ্বীপগুলোতে যাওয়া যায় না। সেই ভোরবিহানে অন্ধকার থাকতে লোকজন মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে ছেড়া দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দেয়। কারণ, বেলা হলেই আটকে দেবে কোস্টগার্ড। শত শত, হাজারে হাজার মানুষ, লাইন ধরে ছুটছে সবাই। নিঝুম দ্বীপ ডিঙিয়ে ছেড়া দ্বীপ, সবশেষে প্রবাল দ্বীপ। সেখানে পাথরের ওপর বসে–শুয়ে–দাঁড়িয়ে চলে সূর্যোদয় দেখার মচ্ছব। পথে যেতে যেতে চোখ আটকে পড়ে প্লাস্টিকের বোতলের স্তূপে। জোয়ারে এনে রেখে গেছে মানুষের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট।
একদল যা তা সাগরের পানিতে ছুঁড়ে ফেলছে। আরেকদল নিজের টাকায় দ্বীপটিতে গিয়ে সেসব কুড়িয়ে মূল ভূখণ্ড নিয়ে আসছে। এই হচ্ছে মানুষে মানুষে ফাঁরাক।
৩. সারমেয় বৃত্তান্ত
সেন্ট মার্টিনের যেখানেই যাবেন, চোখে পড়বে দলে দলে কুকুর। সংখ্যাটা চোখে পড়ার মতো। পর্যটকেরা অনেকে ভয় পান। খাবারের লোভে প্রায়ই পর্যটকদের ছেঁকে ধরে কুকুরগুলো। এদের অন্যত্র স্থানান্তরের কি কোনো উপায় নেই? এটা তো বাস্তুসংস্থানের জন্যও প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করবে। কোনো কিছুর সংখ্যাধিক্য মানেই অন্য অনেক কিছুর ওপর বাড়তি চাপ।
৪. বামুন নারকেল
একসময় সেন্ট মার্টিনকে মানুষ নারকেল জিঞ্জিরা নামে ডাকত। প্রমাণসাইজের ডাবও পাওয়া যেত দেশের সর্বদক্ষিণের এই দ্বীপটিতে। বছর দশেক আগে দ্বীপে বসে তেমনি একটি ডাব খাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার নিজেরই আছে। কিন্তু এবার গিয়ে অবাক হলাম! ছোট ছোট ডাব ঝুলছে। একেকটার দাম হাঁকছে এক–দেড় শ টাকা।
—বিষয় কী ভাই? এট্টুকু ডাবের এত দাম কেন? জানতে চাইলাম।
—জবাবে দোকানি ছেলেটা বলল, দ্বীপে এখন ডাব হয় না।
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম পাশে বসা বয়োবৃদ্ধ মানুষটির দিকে। বললেন, বছর তিনেক আগে একটা ঝড় হয়েছিল। তারপর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ডাব আর তেমন হয় না। এখন টেকনাফ থেকে ডাব আনা হয়।
৫. অত্যাচার
একদল আছে সকাল নাই, বিকাল নাই সৈকতে মোটরবাইক চালাবে। রাতের আঁধার চিড়ে বিকট আওয়াজ তুলে ছুটে চলে মোটরবাইকগুলো। সৈকতের কাছে চেয়ারে এদের যন্ত্রণায় বসা দায়। এসব বাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মরে কাকড়াসহ নানা জলজ প্রাণীর ডিম, বাচ্চা। একই কথা সৈকতজুড়ে চালানো বাইসাইকেলের ক্ষেত্রেও খাটে। সাগরের পানিঘেঁষেই কেন সাইকেলগুলো চালাতে হবে?
সরকার খুলে দিয়েছে বলে আমরাও কী খুল্লামখোল্লা হয়ে নেমে পড়ব? নিজেদের এতটুকু বিচার–বিবেচনা নাই? আর সরকারই বা নজর দিচ্ছে না কেন!? এত হুজ্জত, এত দিকদারি জানলে পরিবার নিয়ে আমি কস্মিনকালেও যাওয়ার কথা ভাবতাম না। এর চেয়ে মেরিন ড্রাইভ ধরে মাইলের পর মাইল ঘুরলে দিব্যি চারটা দিন কাটিয়ে দেওয়া যেত।
![]() |
| সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। ছবি: লেখক |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1298)
-
▼
June
(267)
-
▼
Jun 24
(14)
- ‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ স্বপ্ন যেভাবে ট্রাম্প–নেতানিয়া...
- রামমন্দিরের দানের ৩৫০০ কোটি রুপির হিসাব নেই, নিরীক...
- হামলা-ভাঙচুর-উচ্ছেদ: ভারতের মুসলিমরা আন্দোলনে নামত...
- নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে মেয়...
- ঘরের রান্না, সম্পর্কের উনুন ও বদলে যাওয়া নগরজীবন b...
- আম খেলে যে কারণে ঘুম পায়
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়
- চুলের যত্নে নারকেল তেলের সঙ্গে মেশাতে পারেন যে ৫ উ...
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী হতে পারে যে ফল
- নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘সম্পর্ক ছিন্ন’ করার হুমকি, ট্রা...
- ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি টিকবে না বল...
- সমাবেশে সেনাসদস্যকে হত্যার ঘটনায় বেলুচিস্তানের অধি...
- বিভিন্ন দেশের মধ্যে কেন সব সময় যুদ্ধ লেগে থাকে by ...
- সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে গিয়ে যে ৫ অভিজ্ঞতা হলো by আব...
-
▼
Jun 24
(14)
-
▼
June
(267)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








