Tuesday, September 9, 2014

উপেক্ষিত পেশাজীবী বুদ্ধিজীবীগণ by অনন্ত হক

বিএনপিতে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত, অবহেলিত ও অসম্মানজনক স্থানে রয়েছেন পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীরা। দলের বিভিন্ন অফিসে ও সভা-সমাবেশে চেয়ার দখলের এত উগ্র প্রতিযোগিতা যে, সেখানে নিরীহ পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবীরা টিকতেও পারছেন না। এত বড় ও পুরাতন দলের কোন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আছে বলে মনে হয় না। দলের এত এত পদে ও উপদেষ্টা আসনে সাবেক সামরিক-বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ী বসে থাকলেও প্রকৃত পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবীর স্থান নেই। অথচ বিগত আন্দোলনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের সর্বত্র মাঠে-ময়দানে সরব ছিলেন পেশাজীবী-শিক্ষাবিদ-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীরা। এখনও বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতা পেশাজীবীদের নানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজেদেরকে রাজনৈতিকভাবে জীবিত রাখছেন।
বিএনপির মধ্যে পেশাজীবীভিত্তিক রাজনীতির জোয়ার এনেছিলেন আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। জেলে নিদারুণ অবস্থায় দল তাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিচ্ছে না বলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে, মাহমুদুর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান ও জনপ্রিয়তা বিএনপি রাজনীতির বহু নেতাই মেনে নেন নি। সে সব নেতা মাহমুদুর রহমান ও আমার দেশ-এর যাবতীয় সাহায্য-সহযোগিতা নিলেও তাকে যোগ্য স্থান দিতে নারাজ।
একজন প্রবীণ সাংবাদিক ক্ষোভের সঙ্গে এ প্রতিবেদককে জানান, বহু বছর ধরে বিএনপির পক্ষে লিখলেও তারা একটি ইফতার পার্টিতে দাওয়াত পর্যন্ত দেন নি। তারা জানারও প্রয়োজন বোধ করে না যে, কে বিএনপিপন্থি আর কে বিএনপি বিরোধী। এর কারণ হলো, একদল কোটারি বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ঘিরে রেখেছে। তারা সকলের সঙ্গে দলের সংযোগ হোক, সেটা চায় না। এক বা দুইজন মাত্র ব্যক্তি সাংবাদিক সমাজ বা পেশাজীবী সমাজের নেতৃত্বের সোল-এজেন্সি নিয়ে বিএনপিতে বসে আছেন। এ কোটারির কবল থেকে বের হতে পারছে না বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব।
প্রকৃত অর্থেই বিএনপিতে পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবীদের কাজ করা দুরূহ। ত্যাগী বা একনিষ্ঠ বিএনপিপন্থি হলেই হবে না, বিশেষ কোন সাংবাদিক বা চিকিৎসক নেতার লোক তাকে হতে হবে। নইলে বিএনপিতে তার দরজা বন্ধ। এছাড়া সম্মানজনক মনোভাবও নেই দলের অফিস কর্মচারীদের মধ্যে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক উপাচার্যকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা গুলশান অফিসে বসিয়ে রাখা হয়েছে। অর্থ বা অন্যান্য সুবিধা দিয়ে ব্যবসায়ীরা যত দ্রুত গুলশান অফিসে বেগম জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, পেশাজীবী-শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবীরা সেটা পারেন না। বেশির ভাগ সময়েই তাদেরকে গুলশান অফিসের ফটক থেকেই ফিরে আসতে হয়।
ক্ষমতায় থাকাকালেও বিএনপির অনুসারী পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবীদের যোগ্য সম্মান দেয়া হয় নি। আওয়ামী লীগ যেখানে হাজারখানেক দলীয়পন্থি শিক্ষক-সাংবাদিককে বিভিন্ন সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত করেছে, বিএনপি সেখানে মুষ্টিমেয়কে সুযোগ দিয়েছিল। তার মধ্যে অনেককেই টাকা খরচও করতে হয়। বিএনপি দেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন শিক্ষাবিদকে মাঝারি মর্যাদাসম্পন্ন একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে। বিরক্ত ও অসম্মানিক শিক্ষাবিদ যখন রাগে-দুঃখে-অপমানে পদত্যাগ পত্র জমা দিতে যান, তখন কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বদলে পিয়ন দিয়ে সেটা রিসিভ করানো হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল হুদা মুসা দলের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। তার পিতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ইনাম-উল-হক বিএনপি রাজনীতির একজন প্রবীণ, বিশ্বস্ত ও নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি পূর্ণকালীনভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। কিন্তু অল্প দিন পরেই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং তারপক্ষে বিএনপির রাজনীতি করাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। দলের জন্য প্রিয় সন্তান হারিয়েও দলে তার যোগ্য স্থান হয় নি।
এখন বিএনপির পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবীরা আশাহত। অনেকেই ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, দলের জন্য সভা-সমাবেশ, সেমিনার, মানববন্ধনসহ প্রতিনিয়ত কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু দল সেটা জানে বলেও মনে হয় না। দল আমাদেরকে চিনেও না।
এমন অবস্থায় এক বা একাধিক ব্যক্তিই পুরো দেশের পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবী রাজনীতির সোল-এজেন্সি নিয়ে বসে আছেন। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিগত বিএনপি আমলে সুবিধাভোগী কিছু বিতর্কিত বুদ্ধিজীবী, যারা দল আবার ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন লাভজনক সরকারি পদের জন্য ঝাঁপ দেবেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ ও মাঝবয়সী যেসব পেশাজীবী-শিক্ষাবিদ ত্যাগী ও পরিশ্রমী ভূমিকা পালন করছেন, তাদেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। সুযোগ না পেয়ে অনেকেই হতোদ্যম। এমন কি, হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের সঙ্গে দল গঠনে, দলের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে এবং লেখালেখির মাধ্যমে নিয়োজিতদেরকে দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এখন যারা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সরকারের বিরুদ্ধে ও বিএনপির পক্ষে লেখালেখি করছেন বা নানা রকমের বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, তাদেরকেও বিএনপি স্বীকৃতি দেয় বলে মনে হয় না। কেন্দ্রীয় নেতারা সে সব লেখা পড়েন বা লেখকদের চিনেন বলেও মনে হয় না। অথচ আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- দলপ্রধান শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে তার পক্ষের লেখক-কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবীদের চেনেন এবং খোঁজখবর নেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও তার পক্ষের লেখক-গবেষকদের সম্পর্কে স্পষ্ট খোঁজখবর রাখতেন। বিএনপি এখন নিজের লোকদের খবর নেয়ার সংস্কৃতি থেকে বহুদূরে সরে গেছে।

আইএসের ভেতর-বাহির

বেশি দিন আগের কথা নয়। এই সেদিনও ওসামা বিন লাদেনের জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকে নিয়ে বিশ্ববাসীর দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। সেই দুর্ধর্ষ আল-কায়েদার নাম-ডাক এখন আক্ষরিক অর্থেই চাপা পড়েছে সুন্নি আরব জঙ্গিদের সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিস্ময়কর উত্থানে। এই নৃশংস গোষ্ঠীটির ভেতর-বাহির অনুসন্ধান করেছে বিবিসি।

>>>আইএসের প্রায় ৮০ হাজার প্রশিক্ষিত যোদ্ধা আছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে সিরিয়ায় ৫০ ও ইরাকে ৩০ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। আইএসের যোদ্ধারা হালকা থেকে ভারী—সব ধরনের অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। ছবি: এএফপি
জন্ম: জর্ডানের নাগরিক আবু মুসাব আল জারকাবি ২০০২ সালে তাওহিদ ওয়া আল-জিহাদ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আগ্রাসনের পরের বছর ওসামা বিন লাদেনের আনুগত্য গ্রহণ করেন জারকাবি। একই সঙ্গে তিনি আল-কায়েদা ইন ইরাক (একিউআই) গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে জঙ্গি তৎপরতায় একটি বড় শক্তিতে পরিণত হয় একিউআই।
২০০৬ সালে মারা যান জারকাবি। তাঁর মৃত্যুর পর একিউআই একটি সমন্বিত সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। নাম দেওয়া হয় ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক (আইএসআই)। একপর্যায়ে আইএসআই দুর্বল হয়ে পড়ে।
২০০২ সালে আইএসআইয়ের নেতৃত্ব নেন আবু বকর আল-বাগদাদি। তিনি সংগঠনটিকে পুনর্গঠন করেন। ২০১৩ সালনাগাদ সংগঠনটি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারা ইরাকে একাধিক হামলা চালায়। একই সঙ্গে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে যোগ দেয় গোষ্ঠীটি। সেখানে তারা আল নুসরা ফ্রন্ট গঠন করে।
২০১৩ সালের এপ্রিলে সিরিয়া ও ইরাকে নিজের বাহিনীকে অঙ্গীভূত করার ঘোষণা দেন বাগদাদি। এর মধ্য দিয়ে গঠিত হয় ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভেন্ট (আইএসআইএল) বা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস)।
আল নুসরা ও আল-কায়েদার নেতারা বাগদাদির এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেন। বাগদাদির অনুগত যোদ্ধারা আল নুসরা ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আইএসআইএস নামে সিরিয়ায় তাদের অবস্থান বজায় রাখে।
২০১৩ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে আইএসআইএস তাদের দৃষ্টি ইরাকে ফিরিয়ে আনে। দেশটির শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সংখ্যালঘু সুন্নি আরব সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক বিরোধের সুযোগ নেয় আইএসআইএস। আদিবাসীদের সহযোগিতায় ইরাকের ফালুজা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় এই জঙ্গিগোষ্ঠী। চলতি বছরের জুনে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল দখল করে নেয় তারা। এরপর ইরাকের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে একের পর শহর-অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় আইএসআইএস। ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের দখলে থাকা অঞ্চল নিয়ে ২৯ জুন ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় তারা। একই সঙ্গে সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সংগঠনের প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি তাদের খলিফা। তাদের রাজধানী সিরিয়ার আল-রাকাহ শহর।

লক্ষ্য
: ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান ও লেবাননের অংশবিশেষ নিয়ে একটি অঞ্চলজুড়ে ‘খিলাফত’ পদ্ধতির ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আইএস। তাদের সেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে শরিয়া আইনের ভিত্তিতে। লক্ষ্য অর্জনে সংগঠনটির নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইএস। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে তাদের মিত্রও তৈরি হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ
: ইরাক ও সিরিয়ার প্রায় ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা আইএসের দখলে আছে বলে কেউ কেউ ধারণা করেন।
কারও কারও মতে, সংগঠনটি প্রায় ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই এলাকায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষের বাস। দখলকৃত এলাকায় কঠোর শরিয়া আইন কার্যকর করেছে আইএস। ইরাক ও সিরিয়ার বাইরে লেবাননেও তৎপর গোষ্ঠীটি।

যোদ্ধা
: আইএসে প্রায় ১৫ হাজার সক্রিয় যোদ্ধা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা। তবে ইরাকি বিশেষজ্ঞ হিসহাম আল হাসহিমির ধারণা, আগস্টের শুরুর দিকে আইএসে প্রায় ৩০-৫০ হাজার যোদ্ধা ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মতাদর্শগত যোদ্ধা। অন্যরা ভয়ে বা বাধ্য হয়ে আইএসে যোগ দিয়েছে। তবে কারও কারও মতে, আইএসের প্রায় ৮০ হাজার প্রশিক্ষিত যোদ্ধা আছে। এর মধ্যে সিরিয়ায় আছে ৫০ হাজার এবং ইরাকে ৩০ হাজার।
আইএস যোদ্ধাদের একটা বড় অংশ ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তে যুদ্ধ করছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠীটিতে ৮১টি দেশের ১২ হাজারেরও বেশি বিদেশি যোদ্ধা রয়েছে। এর মধ্যে আড়াই হাজার যোদ্ধা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে এসেছে।

অস্ত্র: আইএসের যোদ্ধারা হালকা থেকে ভারী সব ধরনের অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। তারা ট্রাকে স্থাপিত মেশিনগান, রকেট লঞ্চার, বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সক্ষম। তাদের কাছে জঙ্গি হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও অত্যাধুনিক সব সমরাস্ত্র আছে। সিরিয়া ও ইরাকি বাহিনীর কাছ থেকে দখল করা ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ব্যবহার করছে আইএস।

অর্থ: আইএসের প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ রয়েছে। এই সুবাদে তারা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী জঙ্গি গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
আইএসের আয়ের একটা বড় অংশ আরব গালফ রাষ্ট্রগুলোর নাগরিকদের কাছ থেকে আসে। তা ছাড়া এখন তারা নিজেরাই আয় করে। ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার তেল ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে লাখ লাখ ডলার আয় করে গোষ্ঠীটি। এর বাইরে শুল্ক, টোল, চোরাচালান, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং দখলকৃত এলাকার ব্যাংকগুলো থেকে তারা বিপুল অর্থ আয় করে। আটলান্টিক কাউন্সিলের ফেলো ফয়সাল ইতানির ধারণা, আইএসের তহবিল ও আয়ের সিংহভাগ আসে অভ্যন্তরীণভাবে।

নৃশংসতা: সম্প্রতি ইরাক ও সিরিয়ায় গণহত্যা চালিয়ে ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জন করেছে আইএস। এসব গণহত্যার চিত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফলি ও স্টিভেন সটলফকে শিরশ্ছেদে হত্যার মধ্য দিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আঘাত হেনেছে আইএস। এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেছে ওয়াশিংটন। আইএসের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একমত হয়েছে।

রিতুর আত্মহনন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার নন্দীপাড়ার স্কুলছাত্রী রিতুর আত্মহননের ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি শিমুল চন্দ্র মণ্ডলসহ চারজনকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে গতকাল জিহাদ নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে সে জড়িত। রিতুর আত্মহননের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, রিতুকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বখাটে ওই চার যুবককের শাস্তি দাবি করে গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে রিতুর সহপাঠী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা অবিলম্বে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিমুলের বাড়িতে যে    কোন সময় হামলা চালাতে পারে এই আশঙ্কায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় রিতুর মা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, জড়িতদের গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় খিলগাঁও থানাধীন মধ্য নন্দীপাড়ার এক নম্বর স্কুল রোডের ১৪৬৮, বরিশাল হাউসের বাড়ি থেকে বখাটে শিমুলসহ তার চার বন্ধু মিলে স্থানীয় নবব শ্রেণীর ছাত্রী উম্মে কুলসুম রিতুকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে কীটনাশক পান করে রিতু আত্মহত্যা করে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন মাস ধরে শিমুল তাকে উত্যক্ত করে আসছিল। এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে রিতু আত্মহনন করেছে। সরজমিনে গতকাল দুপুরে মধ্য ও পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রিতুর আত্মহননের ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ। এর আগেও শিমুল এলাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীছাত্রীদের উত্যক্ত করেছে। রিতুর আত্মহননের পরেই পশ্চিম নন্দীপাড়ার ছোট বটতলা ১১২৬ নম্বর বাড়িটি ছেড়ে শিমুলসহ তার পরিবার সেখান থেকে উধাও হয়ে গেছে। এলাকাবাসী ওই বাড়িটির সামনে রিতু হত্যার বিচারের দাবি করে একটি কালো ব্যানার টাঙিয়েছে। বাড়িটির সামনে স্থানীয় এলাকাবাসীর ভিড়। মনের ক্ষোভে যে যা পারছেন তা বলে শিমুল ও তার পরিবারকে ধিক্কার দিচ্ছেন। পুলিশের হয়রানির ভয়ে শিমুলের বাড়ির ভাড়াটিয়ারাও সেখান থেকে চলে গেছে। ওই ভাড়াটিয়ারা সেখান থেকে যাওয়ার সময় শিমুলের বাড়ির কিছু মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিমুলের বাড়ির পাশের ঘেরে স্থানীয় লোকজন মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। খিলগাঁও থানার এএসআই বশিরের নেতৃত্বে ১০ জন পুলিশের সদস্য বাড়িটি পাহারা দিচ্ছেন। এদিকে, নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের পর রিতুকে গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ভিকনি এলাকায় দাফন করা হয়েছে। রিতুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইস্ট পয়েন্ট এডুকেশন হোমের সাবেক শিক্ষার্থী ও বনশ্রীর পিস ফুল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হোসেন জানান, রিতু সন্ধ্যার সময় আত্মহনন করে। তখন শিমুলসহ তার চার বন্ধু নিজ বাসায় ছিল। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিলও করেছে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এলাকাবাসী তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। পুলিশও শিমুলদের বাসায় যায়। কিন্তু, তারা দু’টি মোটর সাইকেল দিয়ে চলে যায়। এদিকে, গতকাল দুপুরে মধ্য নন্দীপাড়ার ১ নম্বর স্কুল রোডের ১৪৬৮, বরিশাল হাউসের রিতুদের টিনশেডের বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িটিতে ভিড় করছেন। পরিবারের লোকজন রিতুকে গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য নিয়ে গেছেন। রিতুর নানী ফাতেমা বেগম অসুস্থ হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সহপাঠী ও এলাকাবাসী মানবন্ধন করেছে। ওই মানববন্ধনে রিতুর অনেক সহপাঠী কান্নায় ভেঙে পড়েন। মানববন্ধনে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম অবিলম্বে রিতুর মৃত্যুর জন্য দায়ী বখাটে শিমুল, রফিকসহ যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন। যোগাযোগ করা হলে খিলগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রিতুর মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। জড়িত শিমুলসহ তার অন্য সহপাঠীদের পালাতে পুলিশ সহযোগিতা করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশ্নই আসে না। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

জাপা’র ভেল্কিবাজি by লুৎফর রহমান


কথা ও কাজে রীতিমতো ভেল্কি দেখাচ্ছে জাতীয় পার্টি। সেনাশাসকের হাত ধরে গড়া দলটি এখন পরিণত হয়েছে সার্কাস পার্টিতে। চেয়ারম্যান  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দিনে-রাতে অবস্থান পরিবর্তন ও চটকদার বক্তব্যে বিভ্রান্ত, ব্যতিব্যস্ত খোদ পার্টির নেতাকর্মীরাই। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হওয়া দলীয় মেরুকরণে বিপর্যস্ত জাপায় এখন শেষ কথা বলতে কিছু নেই। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে খোদ কেন্দ্রীয় নেতারাই একেক সময় একেক কথা বলছেন। ৫ই জানুয়ারির আলোচিত নির্বাচন ঘিরে দলটির চেয়ারম্যান নিজেই নানা হাস্যরসাত্মক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। জীবন থাকতে নির্বাচনে অংশ নেবেন না- এমন কথা বলে, গ্রেপ্তার করতে এলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে তখন তিনি ছিলেন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে। গণমাধ্যমের চোখে থাকা এরশাদ যখন নাটকীয়তায় সরকারি সংস্থার গাড়িতে হাসপাতালে যান তখনও তাকে ঘিরেই ছিল আলোচনা। হাসপাতাল থেকে ফিরে বঙ্গভবনে যখন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তখনও ক্যামেরার চোখ তার দিকে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে বাসায় ফেরা এরশাদ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার অবস্থান বদলাচ্ছেন। কখনও সরকারের আবার কখনও রাজপথের বিরোধী দলের সমালোচনায় মুখর হচ্ছেন তিনি। রাতারাতি অবস্থান পরিবর্তন করে নিজ দলেই নিজের অবস্থান হারিয়েছেন সাবেক এ সেনাশাসক। তাকে নিয়ে ঘরে-বাইরে চলা সমালোচনায় নিজেই রসদ যোগান বারবার। এক সময়ে জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে খ্যাত রংপুর অঞ্চলেই এখন দুর্দিন চলছে দলটির। শুধু কি রংপুর, সারা দেশেই বেহাল ৯ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটি। নির্বাচনের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বে যে বিভক্তি দেখা দিয়েছিল তা ক্রমে প্রকট হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিরোধ এখন অনেকটাই প্রকাশ্য। বিরোধী দলের উপনেতা নিয়োগ নিয়ে দুই নেতার টানাপড়েনের কারণে বিষয়টি মীমাংসাই করা যাচ্ছে না। সরকারে থেকে সরকারের সমালোচনা করায় এখন সরকারি দলেরও নেতারা ক্ষুব্ধ এরশাদের প্রতি। সমালোচকরা বলছেন, এরশাদ বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব জায়েজ করতেই একেক সময় একেক রকম কথা বলছেন। একই সঙ্গে তিনি দলের অবস্থান অস্পষ্ট রেখে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছেন। এরশাদের দ্বৈত ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রোববার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তিনি (এরশাদ) সরকারে থেকে সরকারের সমালোচনা করতে পারেন না। কোন দল চাইলে জোট থেকে বের হয়ে যেতে পারে। সেটি তাদের বিষয়। তবে সরকারে থেকে সমালোচনা ঠিক নয়।

এদিকে রোববার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিলের বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এই বিলটি উত্থাপন হলে তারা এর বিরোধিতা করবেন। কারণ এ বিল পাস হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। যদিও রোববার আইনমন্ত্রী যখন বিলটি উত্থাপন করেন তখন জাতীয় পার্টির সদস্যরা টেবিল চাপড়ে বিলে সম্মতি প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে পরে দলটির পক্ষ থেকে অবস্থান পরিষ্কার করে আর কিছু জানানো হয়নি।
একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে থাকা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। সে বিতর্কে উতরে যেতে বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনা হচ্ছে মন্ত্রিসভা থেকে জাপার সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টি। দলটির সংসদীয় দলের সর্বশেষ বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের বরাতে এমপিরা জানিয়েছিলেন, মন্ত্রিসভা থেকে দলের সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান এরশাদ ও বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ একমত হয়েছেন। রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক অনুষ্ঠানে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, মন্ত্রিসভা থেকে দলের সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এরশাদ দুপুরে এ কথা বললেও বিকালে তার নেতৃত্বাধীন দলের সমর্থন নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপন হয় বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধন বিল। এ বিলের মাধ্যমে বিচারপতি অভিশংসনের ক্ষমতা ফিরে পাবে জাতীয় সংসদ। রাজপথের বিরোধী দলসহ সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন মহল এর বিরোধিতা করছে। সূত্র জানায়, এরশাদ যখন মন্ত্রীদের পদত্যাগের কথা বলছেন তখন তিনি নিজেও সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন। দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগের আগে তাকে প্রথম এ পদ ছাড়তে হবে। তবে তিনি সহসা এ পদটি ছাড়ছেন না। তারপরও মন্ত্রীদের পদত্যাগের কথা বলাটা নিছক স্টান্টবাজি বলেই মনে করছেন অনেকে। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি যখন সমালোচনার কেন্দ্রে তখন নানা সময়ে দলটির নেতারা তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এ সমালোচনাকে উস্কে দিচ্ছেন। বিদেশীদের চোখেও বিরোধী দল হিসেবে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না দলটি। তাই প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকায় যেতে কসরত করার কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু ফল দৃশ্যত দেখা যাচ্ছে উল্টো। দলের ভেতরে দলাদলি আর সরকারে প্রতি কুঁজো হয়ে থাকা জাপার ভাবমূর্তি ফেরানোটা যে কঠিন তা স্বীকার করছেন দলটির নেতাকর্মীরাই। জাতীয় পার্টি কার্যত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করলেও এরশাদ এখন উপহাস করছেন দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নিয়ে। তিনি প্রায়ই বিএনপির নেতাকর্মীদের তার দলে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। বাস্তবতা উল্টো স্রোতে ভেসে এরশাদ নিজ দলের কর্মীদের স্বপ্ন দেখান ক্ষমতায় যাওয়ার। তিনি দাবি করছেন, এখন দেশে একমাত্র জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তি হলো জাতীয় পার্টি। গত মাসে ফেনীতে এক অনুষ্ঠানে এরশাদ বিএনপির উদ্দেশে টিপ্পনি কেটে বলেন, একটি দল প্রতিনিয়ত আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তাদের ঘরে-বাইরে কোথাও আন্দোলন করতে দেখি না। তাদের আন্দোলন করার শক্তি নেই, মাজায় জোর নেই। হাওয়া ভবন করে টাকা আদায় করে তারা বিদেশ পাঠিয়েছে। যারা হাওয়া ভবন করেছে তাদের খাওয়া নেই। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জামায়াত ছাড়েন, আমাদের দলে আসেন। আমরাই প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দল। রোববার হবিগঞ্জের এক অনুষ্ঠানে এরশাদ বিএনপিকে নিয়ে কথা বলেন, দলটির অবস্থান নড়বড়ে। ভবিষ্যতে দলটি ঠিকে থাকবে কিনা- এ নিয়ে সন্দেহ আছে।
সম্প্রতি দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন এরশাদ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন দেশে কিসের গণতন্ত্র চলছে? গণতন্ত্র  কোথাও দেখি না। গণতন্ত্র মানে সুশাসন। দেশে কি সুশাসন আছে? আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল থেকে ফিরে আসতে পারে না। এ কেমন গণতন্ত্র? অন্য একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাবে- এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুই দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতায়  দেশবাসী আবার জাতীয় পার্টিকেই ক্ষমতায় দেখতে চায়। সামনে আমাদের সুদিন অপেক্ষা করছে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, আগামী নির্বাচনে যে কোন মূল্যে ১৫১ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন। এরশাদ নিজের দল নিয়ে এমন কথা বলে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে চাইলেও তিনিই আবার তার দলের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বলছেন, মানুষ জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল হিসেবে বিশ্বাস করে না। এ নিয়ে হাসাহাসি করে। পত্রিকায় তাকে নিয়ে কার্টুনও ছাপা হয়। এসব দলের জন্য লজ্জার।

বিয়ের আগে যৌন সক্ষমতা পরীক্ষার প্রস্তাব

দক্ষিণ ভারতের একটি আদালত বিয়ের আগে নারী ও পুরুষের যৌন সক্ষমতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে।

মাদ্রাজ হাই কোর্টের একজন বিচারক এন. কিরুবাকারন বলেছেন, বর্তমানে এই পরীক্ষা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে, কারণ যৌন অক্ষমতা বা শীতলতার কারণে ভারতে প্রচুর বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে।

বিচারক বলেন, বিশেষ করে পুরুষরা অনেক সময়েই তাদের যৌন সমস্যার কথা গোপন করে বিয়ে করছে। আর এর মধ্য দিয়ে লঙ্ঘিত হচ্ছে নারীর সুস্থ জীবন যাপনের অধিকার।

তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টের একজন বিচারকের এই প্রস্তাবের পর দক্ষিণ ভারতে স্বাস্থ্য ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা এর সমালোচনা করেছেন।

সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যৌন সক্ষমতা যাচাইয়ের এই পরীক্ষা যথাযথ হবে না, বরং এটা হবে পরাধিকার চর্চা। কারণ যৌন সমস্যা প্রায়শই অল্প সময়ের জন্যে স্থায়ী হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এর পেছনে বহু ও নানাবিধ নানা কারণ থাকতে পারে।

শুধু যৌন অক্ষমতা নয়, যৌনবাহিত রোগ শনাক্ত করতেও মাদ্রাজ হাইকোর্ট বিয়ের আগেই এই পরীক্ষা চালানোর কথা বলছে।

বিচারক বলেন, ডাক্তাররা যদি আগে থেকেই পরীক্ষা করে এই সমস্যা ধরতে পারেন তাহলে যৌন সমস্যা গোপন করে অক্ষম পুরুষদের বিয়ে করার ঘটনাও ঠেকানো যাবে।

যেসব পুরুষ তাদের যৌন দুর্বলতার কথা গোপন করে বিয়ে করছে ও হবু স্ত্রীদের প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যেও সরকারের কাছে এই বিচারক প্রস্তাব করেছেন।

এমন ভুল যেন কেউ না করে by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

প্রথমে ভেবেছিলেন পা দুটি উড়ে গেছে। পরে খেয়াল করে দেখেন, উড়ে যায়নি, ঝুলে আছে চামড়ায়। ঘুরে গেছে উল্টো দিকে। একজন যাত্রী পা দুটো ঘুরিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে দেন। এভাবে উপেন রবি দাসের দুর্বিষহ প্রতিবন্ধী জীবনের শুরু।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপেন ট্রেনের সিঁড়িতে পা ঝুলিয়ে বসেছিলেন। রেললাইনের পাশে দাঁড়ানো ছিল একটি ট্রাক। চোখের পলকে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এরপর আড়াই মাস ধরে তিনি পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। এখন নিজের ভুলের জন্য নিজেকেই অভিশাপ করছেন।

উপেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়েছেন। বাড়ি রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর এলাকার বাকির মোড়ে। বাবা নেই। ভাই দীপেন রবি দাস কাকার জুতার দোকানে কাজ করেন। সেলাই, পালিস, নতুন করে বানানো—সবই করেন। তিনি ছোট ভাই উপেনের পড়ালেখার খরচ টানেন। মাঝেমধ্যে কাকারাও সহযোগিতা করেন।

গত ১৪ জুন উপেন গিয়েছিলেন দিনাজপুরে। বন্ধুর বোনের বিয়েতে। একসঙ্গে ১৫ জন বন্ধু। ফিরতে ফিরতে রাত। সেদিন খুব ভিড় ছিল ট্রেনে। দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কেটেছিলেন। তবে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। কী মনে করে সব বন্ধুকে ছেড়ে একসময় উপেন ট্রেনের গেটে পা ঝুলিয়ে বসেন। দুই হাতে ধরা ছিল হাতল। রাত প্রায় নয়টা। নাটোরের বাসুদেবপুর স্টেশনের কাছে চলে এসেছে ট্রেন। সেখানে রেললাইনের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো ছিল একটি ট্রাক। উপেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কী যেন ঘটে যায়, মনে হয় তাঁর পা দুটি উড়ে গেল। শরীরটা খানিকটা নিচে নিমে গেল। তিনি হাতল ধরে এক ঝাঁকি দিয়ে আবার ওপরে ওঠেন। ওপরে উঠে দেখেন পা দুটি আছে কিন্তু অন্যদিকে ঘুরে গেছে।

আড়াই মাস ধরে উপেন পড়ে রয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে। পা দুটি বিচ্ছিন্ন হয়নি বটে, তবে জ্বালাযন্ত্রণার শেষ নেই।

গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চিকিত্সকেরা তাঁর ওঠাবসা করার জন্য বিছানার ওপরে দুটি আংটা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর একাধিকবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। শরীরের অন্য জায়গা থেকে চামড়া কেটে নিয়ে এসে বাম হাঁটুর ক্ষত ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আর ডান পায়ের পুরোটাতেই ব্যান্ডেজ জড়ানো রয়েছে। পাশে বসে মা মীরা রবি দাস তাঁকে খাওয়াচ্ছিলেন। বললেন, ‘ছেলের শরীরের রক্ত শেষ হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে যেতে আরেকটু দেরি হলে রক্তশূন্যতায় সে মারা যেত।’

উপেন বলেন, দুর্ঘটনার পরে বন্ধুরা বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের চালককে জানান। চালক একটি স্টেশনে ইঞ্জিন ঘোরানো ছাড়া আর কোথাও যাত্রাবিরতি দেননি। এক টানে রাজশাহীতে চলে আসেন। পুরো রাস্তায় তাঁর জ্ঞান ছিল, কিন্তু হাসপাতালে আসার পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে থাকার কারণে একটি সেমিস্টার পার হয়ে গেল। তিনি পরীক্ষা দিতে পারলেন না। চিকিত্সকেরা শেষ পর্যন্ত আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। উপেন বলেন, তিনি ভুল করেছেন। ট্রেনের গেট বসার জায়গা নয়। তাঁর মতো ভুল যেন কেউ না করেন।

‘হঠাৎ সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন’

৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের অনুমতি থেকে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো পর্যন্ত লেগেছে এ সময়। আর সংসদীয় কমিটিকে সময় দেয়া হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ। তড়িঘড়ি করে সংবিধানের কেন এই সংশোধনী- সে প্রশ্ন আলোচিত হচ্ছে আদালত পাড়ায়ও। মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদনের পর থেকেই প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিরোধিতা করে আসছিলেন শীর্ষ আইনবিদরা। দলমত নির্বিশেষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন তারা। সর্বশেষ রোববার দেশের শীর্ষস্থানীয় চার আইনজীবী এক যৌথ বিবৃতিতে সংশোধনীর ব্যাপারে এগিয়ে না যেতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে নেয়া হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি।  আমাদের সুপ্রিম কোর্ট অষ্টম সংশোধনী মামলার যুগান্তকারী রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ বলে ঘোষণা দিয়েছে। কোন আলোচনা, বিতর্ক বা যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও ভারতের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন ছাড়াই হঠাৎ কেন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের সাবেক এটর্নি জেনারেল এইচ এম সিরভাই অভিশংসন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি তাঁর দ্য পজিশন অব দ্য জুডিশিয়ারি আন্ডার দ্য কনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়া’ বইয়ে লিখেছেন, ‘একজন বিচারপতিকে অপসারণের ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের ওপর ন্যস্ত হলে রাজনৈতিক দল ও রাজ্যের বিষয়ে তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ১৮৩০ সালের পর বৃটেনে কোন বিচারপতি অপসারণ করা হয়নি। দেশটিতে বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে একজন বিচারককে অভিশংসন করার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। একজন বিচারকের আচরণ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার পর্যাপ্ত সময় সিনেট পায় না। এ ধরনের তদন্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনা কাজ করে। বিবৃতিতে চার আইনজীবী আরও বলেন, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য দলের নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে সংসদে বিচারপতিদের অভিশংসন করা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। বিচারপতিদের অভিশংসন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনের আগে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, একমাত্র সঠিক আলোচনার পরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে দেয়ার উদ্দেশ্য অসৎ: মওদুদ
উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে দেয়ার উদ্দেশ্য অসৎ ও দুরভিসন্ধিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাত থেকে প্রেসিডেন্টের কাছে দিয়েছিলেন। ওই সময় বেশির ভাগ পত্রিকাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচার করে এবং এটা তারা স্বীকার করতেও লজ্জাবোধ করে। কিন্তু জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেছিলেন। সভায় অন্যদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অভিশংসন বিষয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আজ এক আলোচনা সভা আহ্বান করেছে। দলমত নির্বিশেষে সিনিয়র আইনজীবীদের এ সভায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

অভিবাসন সংস্কার বিলম্বিত সমালোচিত ওবামা

বারাক ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি পরিবর্তনের ব্যাপারে দীর্ঘদিন আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখলেও নির্বাহী পদক্ষেপ গ্রহণ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বিলম্বিত করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তখন দেশটিতে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওবামার এ ধীরে চলো নীতিকে অভিবাসী স্প্যানিশভাষী (হিস্পানিক) সম্প্রদায়ের ওপর ‘চপেটাঘাত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তাঁর সমালোচক ও অভিবাসন বিষয়ে সংস্কার আন্দোলনের পক্ষের কর্মীরা। খবর গার্ডিয়ানের। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা গত শনিবার প্রেসিডেন্টের উদ্যোগ বিলম্বিত করার এ কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এনবিসি টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ওবামা দাবি করেন, নির্বাচনী বর্ষের রাজনীতির কারণে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেননি; বরং একটি নির্বাহী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তা টেকসই হবে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চান। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অভিবাসন সংস্কারনীতির ব্যাপারে ওবামা কবে নির্বাহী পদক্ষেপ নেবেন, সে ব্যাপারে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তিনি এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে পারেন।
ইউনাইটেড উই ড্রিম নামে সংস্কারের পক্ষের একটি সংগঠনের নেতা ক্রিস্টিনা জিমেনেজ বলেন, ‘অভিবাসন সংস্কার বাস্তবায়নে ওবামার বিলম্বের সিদ্ধান্তটি হিস্পানিক ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর আরেকটি চপেটাঘাত। আমরা ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছ থেকে নেতৃত্ব ও উৎসাহ প্রত্যাশা করলেও পেয়েছি কেবল প্রতিশ্রুতিভঙ্গ এবং রাজনৈতিক মেরুদণ্ডহীনতার প্রমাণ।’ প্রেসিডেন্ট ওবামা গত শুক্রবার বলেন, অভিবাসননীতি সংস্কারের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে তিনি দ্ব্যর্থহীন। আর তিনি এ ব্যাপারে কংগ্রেসের বর্তমান আইন সম্পর্কে খতিয়ে দেখার বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন। কংগ্রেস এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নিলেই তিনি উদ্যোগী হবেন। বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি অভিবাসন সংস্কারের বিষয়কে অতিরিক্ত রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন আইন পরিষদের উচ্চকক্ষ সিনেটে বর্তমানে ডেমোক্রেটিক এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের প্রাধান্য রয়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের মাধ্যমে রিপাবলিকানরা সিনেটেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশা করছেন।

কাশ্মীরে ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা

ভারতে জম্মুর মান্দাল এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে
গেছে তাউয়ি নদীর ওপর নির্মিত সেতুর একাংশ। সড়ক
যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীরে দাঁড়িয়ে নিরুপায়
স্থানীয় মানুষ। গত শনিবার তোলা ছবি. এএফপি
উত্তর-পশ্চিম ভারতের কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষের জীবন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া ব্যাপক সম্পদহানিও ঘটছে। বলা হচ্ছে, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে বন্যা পরিস্থিতি গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। খবর এনডিটিভি ও ডনের। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্যায় ১০টি শহরের কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে সেনানিবাসসহ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী সেনাসদস্যরা বলছেন, এবারের বন্যা পরিস্থিতি গত বছর উত্তরাখন্ডের অতিবর্ষণজনিত বন্যার মতোই ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল জম্মুর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে ঝিলম নদীর বাঁধ ভেঙে পানি শ্রীনগরে ঢুকে পড়েছে। এ জন্য শহরের কিছু অংশ তলিয়ে গেছে। অনেক বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইন অচল হয়ে পড়ে। শহরের অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া লোকজন সাহায্য পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৫০-এ উঠেছে। কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ গতকাল রোববার জানান, জম্মুতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কাশ্মীরে, বিশেষ করে শ্রীনগরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তবে আতঙ্ক সৃষ্টি না করতে তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রীনগরে ৪০-৫০টি নৌকা পাঠানো হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। হেলিকপ্টার ও বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’ এদিকে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের অবস্থান ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের খুব বেশি দূরে নয়। অভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধিই দুই দেশের বন্যার কারণ। পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, প্রদেশ দুটিতে বন্যার অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় এ পর্যন্ত দেশটিতে ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, শুকুরে সিন্ধু নদ ও গুড্ডু ব্যারাজে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। সেই হিসাবে ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর ব্যাপক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে সরকারকে বলা হয়েছে।

রায়ে আমার প্রতি বেশি নজর দেওয়া হয়েছে: ভি কে সিং

ভি কে সিং
ভারতে আর্মড ফোর্সেস ট্রাইব্যুনালের (এএফটি) রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং। গতকাল রোববার তিনি বলেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপিল করা উচিত। আর রায়ে এক ব্যক্তির ওপরে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। সেটা তিনি (ভি কে সিং) নিজেই। বিষয়টি ‘একেবারেই বেমানান’।
খবর এনডিটিভির। এএফটি গত শুক্রবার দার্জিলিংয়ের ‘সুকনা ল্যান্ড কেলেঙ্কারি’ প্রসঙ্গে এক পর্যবেক্ষণে বলেন, ভি কে সিং সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনের সময় নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং সামরিক আদালতে প্রভাব খাটিয়েছেন। এভাবে তিনি জ্যেষ্ঠ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে হয়রানি করেছেন।

জঙ্গি আতঙ্কে সীমান্তে ঘিরছে সৌদি আরব

আল কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের হাত থেকে রক্ষা পেতে অত্যাধুনিক বেড়া নির্মাণ করছে রাজতান্ত্রিক সৌদি সরকার। ইরাক সীমান্তে ৯০০ কিলোমিটারজুড়ে এ বেড়া নির্মাণ করা হবে। রোববার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) বলছে, ‘অনুপ্রবেশকারী ও পাচারকারী’ থেকে বাঁচতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ইরাকে ইসলামিক স্টেট নামের সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানে শংকিত হয়ে পড়েছে সৌদি আরব। এই জঙ্গি সংগঠনটি সৌদি রাজতন্ত্র উৎখাত করতে চায়। বেড়ার প্রথম ধাপ শুক্রবার উদ্বোধন করেছেন সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ। প্রথম ধাপে দেশটির উত্তর সীমান্তে ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) দীর্ঘ বেড়া দেয়া হবে।
এসপিএ জানায়, প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৫ স্তরবিশিষ্ট বেড়া, ওয়াচ টাওয়ার, নাইট ভিশন ক্যামেরা ও রাডার স্থাপন। এছাড়া হাফর-আর বাতিন থেকে শুরু করে জর্ডান সীমান্তের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তুরাইফ পর্যন্ত কন্ট্রোল কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। নতুন করে চালু করা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আটটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, ৩২টি র‌্যাপিড রেসপন্স সেন্টার, তিনটি র‌্যাপিড ইন্টারভেনশন স্কয়াড, ৩৮টি পেছন ও সম্মুখ দরজা, ৭৮টি মনিটরিং টাওয়ার, ১০টি মনিটরিং অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স ভেহিকল, ১৪ লাখ ৫০ হাজার মিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক এবং ৫০টি রাডার স্থাপন। আল কায়দা ও সরকারবিরোধী সশস্ত্র যোদ্ধাদের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচি সারা দেশের সীমান্তে সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেয়। আলজাজিরা।