Monday, April 2, 2018

দলিতদের ডাকা ভারত বনধে অশান্তি, মৃত ৪

ভারত বনধে বিভিন্ন রাজ্যে অশান্তি চরম আকার ধারন করেছে। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশে মোরেনা ও গোয়ালিয়রে মোট চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সোমবার দেশব্যাপী এই বনধের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন দলিত সংগঠন। এতে সমর্থন দিয়েছে বামপন্থি ট্রেড ইউনিয়নগুলি। তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের নিরাপত্তায় সিডিউল কাস্ট-সিডিউল ট্রাইব (প্রিভেনশন অব অ্যাট্রসিটিস) আইন লঘু করে দেওয়ার অভিযোগে ডাকা বনধে রাজস্থান, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশায় প্রবল অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। জায়গায় জায়গায় অবরোধ করা হয়েছে রেল। মধ্যপ্রদেশের মোরেনাতে বিক্ষোভ চলাকালীন প্রকাশ্যে গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে এক ব্যক্তিকে। গুলিতে জখম এক যুবকের মৃত্যুও হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে কারফিউ জারি করা হয়েছে। গোলমালের আশঙ্কায় পাঞ্জাব সরকার আজ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে। মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবে সিবিএসই দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবে গোলমাল বৃদ্ধির আশঙ্কায় সেনাবাহিনীকেও তৈরি রাখা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা, ধস্তাধস্তি হয়েছে। মেরঠ ও বারমেরে বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। বিহারের পাটনা সহ আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন ভীম আর্মির সদস্যরা। তারা জোর করে বহু দোকানও বন্ধ করে দেয়। গত ২০ শে মার্চ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের উপর অত্যাচার বন্ধের আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এখন থেকে আর নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই আইনে কোনও সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সরকারি কর্মী ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে সিনিয়র পুলিশ সুপার মনে করলে গ্রেপ্তারের অনুমতি দিতে পারেন। এই রায়ের বিরোধিতা করেই ভারত বনধের ডাক দিয়েছে পিস্যান্টস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স পার্টি, ভারিপ বহুজন মহাসঙ্ঘ, জাতি অন্ত সংঘর্ষ সমিতি, রাষ্ট্রীয় সেবা দল, ন্যাশনাল দলিত মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সহ বিভিন্ন সংগঠন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য আন্দোলনের চাপে পড়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিধান ও ক্ষমতায়ন বিভাগের মন্ত্রী থবর চন্দ গেহলট ভারত বনধ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে বলেছেন, ভারত বনধের প্রয়োজন নেই। সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাচ্ছে। অপর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানও ভারত বনধের বিরোধিতা করেছেন।

নেতানিয়াহু ‘সন্ত্রাসী’, ইসরাইল ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’: এরদোগান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ইসরাইলকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান। সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল আফরিনে তুরস্কের চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে নেতানিয়াহুর মন্তব্যের জবাবে রোববার এসব বলেন তিনি। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা। খবরে বলা হয়, গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যাকা- নিয়ে আংকারার ‘নৈতিকতার জ্ঞান’ প্রত্যাখ্যান করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এরদোগান ‘এমন একজন, যিনি কুর্দি গ্রামে বোমা হামলা চালিয়েছেন।’
এই কথার জবাবে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় আদানা প্রদেশে শাসক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে এরদোগান বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) বললেন, আমাদের সেনারা নাকি আফরিনের জনগণকে নির্যাতন করছে। নেতানিয়াহু, আপনি খুব দুর্বল, খুবই শোচনীয়।’ নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে এরদোগান আরও বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করছি, কিন্তু আপনি তা করছেন না। কারণ, আপনাদের রাষ্ট্র হলো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।’
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ফিলিস্তিনের ‘দখলদার’ আখ্যা দিয়ে এরদোগান আরও বলেন, ‘আপনি নিজেও একজন সন্ত্রাসী। নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আপনারা যা করেছেন, তা ইতিহাস মনে রাখবে। আমরা দখলদারিত্বের অপরাধে অপরাধী নই।’
শুক্রবার গাজা তীরের নিকটে ‘ভূমি দিবস’ উপলক্ষ্যে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনী গুলিবর্ষণ করে। এতে নিহত হয় ১৭ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয় ১৫০০ জনেরও বেশি।
১৯৭৬ সালের ৩০শে মার্চ ইসরাইল সরকারের বিপুল পরিমাণ ফিলিস্তিনি ভূখ- অধিগ্রহণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে ইসরাইলের আরব-ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা। এ সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় ৬ জন ফিলিস্তিনি। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই এরপর থেকে পালন করা হয় ‘ভূমি দিবস।’
শনিবার গাজায় ‘অমানবিক হামলা চালানোর’ দায়ে ইসরাইলি সরকারের কড়া নিন্দা জানিয়েছিলেন এরদোগান। এরপর তুরস্কের আফরিন অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে নেতানিয়াহু দেশটিকে নৈতিক জ্ঞান না দেওয়ার আহবান জানান। এর জবাবে নেতানিয়াহুকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করেন এরদোগান।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এবার পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মার্চ থেকে বিদেশী স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্কহার বৃদ্ধি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয় এমন ১২৮টি পণ্যের ওপর শতকরা ২৫ ভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে চীন। এর মধ্যে রয়েছে শূকরের মাংস ও মদ। আজ সোমবার থেকেই এ নির্দেশ কার্যকর হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে আমদানি হয় এমন ৩০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়বে। বেইজিং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে চীনা স্বার্থের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে ও চীনা স্বার্থ রক্ষা, সমতা আনতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বেইজিং। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এর আগে চীন বলেছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে যাবে না। তবে যদি এমন কোনো কর্মকান্ড নেয়া হয় যার জন্য অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে চীন বসে থাকবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বাণিজ্যিক যুদ্ধ ভাল জিনিস। এ যুদ্ধে জয়ী হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হওয়া উচিত। ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির সাংবাদিক ক্রিস বাকলার বলছেন, চীনা আরো কয়েক শত কোটি ডলারের আমদানির ওপর শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষের। তারা এমন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে এরই মধ্যে। তাদের মতে, চীনে অসুস্থ বাণিজ্যিক চর্চা চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো।

পশ্চিমা চাপ একাই সামাল দিচ্ছেন পুতিন

নানা জটিল হিসাবের এক সমীকরণ। তা এক রাশিয়াকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, সিরিয়া ইস্যু, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, সর্বশেষ বৃটেনে গুপ্তচরের ওপর নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ। প্রতিটি বিষয়ই এই সমীকরণকে আরো জটিল করে তুলেছে। রাশিয়ান গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার ওপর নার্ভ গ্যাস প্রয়োগ করা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার দা-কুমড়ো সম্পর্ক। পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার থেকে শুরু করে নানা উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রতিদিনই ছড়িয়ে পড়ছে মিডিয়ায়। পশ্চিমা ওইসব হুমকি ধামকিতে কুচপরোয়া করছেন না নতুন করে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দ্বিতীয় আরেক শীতল যুদ্ধ। বিভিন্ন মহল থেকে এমন ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে। আদতে ঘটছেও তাই। দৃশ্যত পশ্চিমা বিশ্ব একদিকে। আর তাদেরকে সামাল দিচ্ছেন একা পুতিন। সাবেক কেজিবির এই বস তার চৌকষ বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রেখেছেন। টেক্কা দিচ্ছেন তাবড় তাবড় সব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে। ময়দানে যুদ্ধ নেই। যুদ্ধ চলছে স্নায়ুতে  স্নায়ুতে। তাই তো এ যুদ্ধ  স্নায়ুযুদ্ধ। এটা অনুভব করা যায়, বাস্তবে দেখা যায় না। বিবিসিকে এ বিষয়ে অনেক বোদ্ধা তাদের বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য জানিয়েছেন। তাদের অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা উইলসন সেন্টারের গবেষক মাইকেল কফম্যান। তিনি বলেছেন, এর আগে শীতল যুদ্ধ ছিল বিশ্বের দুই পৃথক রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে রেষারেষি, প্রতিযোগিতা। সে সময় দুই পরাশক্তি তাদের অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তির বলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলো। বিশ্বজুড়ে আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের কারণে ওই প্রতিযোগিতা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিলো তখন। আরেকটি কারণ ছিল সামরিক শক্তির ভারসাম্য। কফম্যান বলছেন, সে তুলনায় এখনকার বিরোধের পেছনে সামরিক সেই ভারসাম্য নেই অথবা আদর্শের কোনো লড়াই নেই। এখনকার বিরোধের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে কিছু নেতার কিছু সিদ্ধান্ত, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে মতবিরোধ। কফম্যান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে বেশ কিছু আঘাত আসবে। কিন্তু তার মাত্রা কখনই শীতল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো দাঁড়াবে না। তাছাড়া রাশিয়ার সেই ক্ষমতা এখন নেই যে, তারা শক্তির ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে পারবে অথবা বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারবে। শীতল যুদ্ধের সময় ইউরোপে কোনো সামরিক সংঘাত হয়নি। কিন্তু অ্যাঙ্গোলা বা কিউবা থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের আরো নানা জায়গায় সংঘাত চলেছে। বিবিসি আরো লিখেছে, এখনকার সংঘাতের জায়গা প্রধানত রাশিয়ার সীমান্তে - জর্জিয়া, ইউক্রেন। এছাড়া শক্তির ভারসাম্যও এখন অনেকটাই আলাদা। রাশিয়ার হাতে এখন আর তেমন কোনো ‘সফট পাওয়ার’ নেই, যেটা দিয়ে আদর্শিকভাবে তারা বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে। শীতল যুদ্ধ প্রধানত ছিল কমিউনিজম এবং ক্যাপিটালিজমের যুদ্ধ। এখন তাহলে রাশিয়া এবং আমেরিকার প্রতিযোগিতা কি নিয়ে? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কফম্যান। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার এখন চিন্তা হচ্ছে কিভাবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একটি শক্তিধর দেশ হিসাবে টিকে থাকা যায়, এবং এখনও অবশিষ্ট যে জায়গাগুলোতে তাদের প্রভাব রয়েছে, সেটিকে ধরে রাখা যায়। অন্যদিকে আমেরিকার সমস্যা - তাদের প্রভাব এতটাই প্রসারিত হয়েছে যে তা সামাল দেওয়া অনেক সময় কষ্ট হয়ে পড়েছে। গত দু’ দশক ধরে কোনো চ্যালেঞ্জ না থাকায় আমেরিকা তার সুযোগ নিয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারের একটা স্বাভাবিক পরিণতি রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দিন দিন পরিষ্কার হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী উদার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে একদিনেও চীন বা রাশিয়া মেনে নেয় নি এবং তাদের ওপর সেটা চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও এখন পশ্চিমা বিশ্বের নেই। ফলে রাজনীতিতে ক্ষমতার রেষারেষি ফিরে আসছে। এর দায় থেকে কি পশ্চিমা বিশ্ব মুক্ত? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়Ñ না। তারা এর অনেকটার জন্য দায়ী। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ তা এখনও তদন্তাধীন। কিন্তু যদি সে অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে (গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে) তাহলে স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লদের মাথার ওপর দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে রাশিয়া। তারা দেখিয়ে দিতে চায় যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশের গণতন্ত্রকে তারা নস্যাৎ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। একই রকম অভিযোগ উঠেছিল ফ্রান্স সহ আরো ইউরোপীয় কিছু দেশে। অভিযোগ আছে, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করতে ট্রাম্প টিমের অনেকে গোপনে বৈঠক করেছেন। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে তাতে মার্কিন রাজনীতির দেউলিয়াত্ব ফুটে ওঠে। তারা পুতিনের মতো একজন ব্যক্তিকে তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য ডাকেন (যদি অভিযোগ সত্য হয়)। এর জন্য দায়ী কে পুতিন নাকি পশ্চিমা বিশ্ব, নাকি মার্কিন মুলুকের কেউ। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, বর্তমান এই পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমা বিশ্বেরও কিছুটা দায় রয়েছে, এবং নতুন এক শীতল যুদ্ধের যে ধারণা পশ্চিমাদের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের গবেষক লাইল গোল্ডস্টোইন বিবিসিকে বলেছেন, শীতল যুদ্ধের পর অনেক পশ্চিমা দেশ যেন শত্রুর অভাব বোধ করতে শুরু করেছে। অনেক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা যেন সহজবোধ্য হুমকির অপেক্ষায় অস্থির হয়ে পড়েছেন। গোল্ডস্টেইন বলছেন- পশ্চিমারা ইউক্রেন এবং জর্জিয়ার ঘটনায় শীতল যুদ্ধের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল। এই দুই দেশের পরিস্থিতির সাথে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে পড়ার এবং জাতীয়তা এবং সীমান্তের অনেক যোগাযোগ রয়েছে।
রাশিয়া কতটা শক্তিধর?
কফম্যান বলেছেন, রাশিয়া এখন দুর্বল একটি শক্তি। ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমের তুলনায় তারা প্রযুক্তি এবং আধুনিক পরিশীলিত রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে পিছিয়ে। কিন্তু অর্থনৈতিক শক্তি তাদের দিন দিন বাড়ছে। রাশিয়ার শক্তি এখন আর কমছে না, উল্টোটা বরঞ্চ সত্যি। কফম্যান মনে করেন, সামরিক খাতে সংস্কার এবং আধুনিকায়নের পথে গেলে এবং অভ্যন্তরীণ ঝামেলা মেটাতে পারলে, নিজের প্রভাব বলয় অক্ষত রাখার ক্ষমতা রাশিয়া অর্জন করতে পারবে। এবং অনেক সময় দূরে গিয়েও শত্রুকে শিক্ষা দিতে হয়তো পারবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোটের শক্তি এক করলে তার তুলনায় রাশিয়ার শক্তি অনেক কম। কিন্তু রাশিয়া গত ১৫ বছরে খুব চিন্তা করে সামরিক খাতে বিনিয়োগ করেছে। তাদের ইস্কান্দার পারমাণবিক অস্ত্র-সম্ভার ন্যাটো কম্যান্ডারদের ভাবিয়ে তুলছে। ইলেকট্রনিক যুদ্ধে এবং কামান বা ট্যাংকের শক্তিতেও রাশিয়া খুবই পারদর্শিতা অর্জন করেছে। গোল্ডস্টেইনের মতে পশ্চিমা বিশ্বের অন্য সমস্যাটি হলো - রাশিয়াকে প্রভাবিত করতে উপযুক্ত কৌশল নিতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। পশ্চিমারা বুঝতে পারছে না তারা রাশিয়ার কাছ থেকে ঠিক কী চায়?

‘ওয়েলকাম টু চায়না’

অরুণাচল প্রদেশ। চীনের সঙ্গে সীমান্ত তার। ওই সীমান্তে এতদিন কোনো মোবাইল সিগন্যাল ছিল না। অচল কোনো মোবাইল সেখানে নিয়ে গেলেও তার স্ক্রিনে অকস্মাৎ ভেসে উঠলে ‘ওয়েলকাম টু চায়না’। স্ক্রিনে যে লেখাগুলো উঠছে তা চীনের মান্দারিন ভাষায় লেখা। ভারতের ভিতরেই এমন মোবাইল সঙ্কেত নিয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে ভারতে। অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, সীমান্তের সংকীর্ণ পথ, ভাঙাচোরা রাস্তা, নির্জন এলাকায় এমন সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে। এমন কি সেখানে ফোনে দেখাচ্ছে বেইজিংয়ের সময়, যা ভারতের সময়ের চেয়ে আড়াই ঘন্টা বেশি। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর দেখতে পাবেন চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) তাতু সামরিক কমপ্লেক্স ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন তলাবিশিষ্ট ভবনও। মসৃণ সড়কের সাহায্যে সেগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি যুক্ত। এ বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ওই এলাকায় আমাদের কোনো কানেকটিভিটি নেই। সেটা হোক সড়ক বা মোবাইল যোগাযোগ। এর ফলে সেখানে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠছে। একজন সেনা আহত হলে তাকে উদ্ধার করা কষ্টকর। এক্ষেত্রে একটিই সড়ক আছে। তা হলো তেজু থেকে কিবিতু পর্যন্ত। কিন্তু এ পথটি বেশির ভাগ সময়ই ভূমিধসে বন্ধ হয়ে থাকে। ফলে চ্যালেঞ্জ অনেক। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে এই শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কের সময়ে যদি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে তাহলে আমরা সেনা সদস্য ও সরঞ্জাম স্থানান্তর করতে সক্ষম হবো না। এখানে আমাদের কাজের জন্য সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো সড়ক, ব্রিজ ও এক উপত্যকার সঙ্গে অন্য উপত্যকার কানেকটিভিটি। এটা সামরিক সরঞ্জাম বা মানবসম্পদের সমস্যা নয়। পুরো লোহিত উপত্যকায় এই মুহূর্তে কোনো কনক্রিটের সেতু নেই। এক্ষেত্রে লোহিত নদীর ওপর পায়ে হাঁটা ব্রিজ, যেটার নাম নগি চু তার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে যেতে হয়। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এলএসির ৪০৫৭ কিলোমিটার এলাকার সীমান্তের এই একই ব্যবস্থা। অন্যদিকে চীন তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। তারা তিব্বতের শায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চলে গড়ে তুলছে সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি বিমান ঘাঁটি। একটি বিলাসবহুল রেল নেটওয়ার্ক। ৫৮ হাজার কিলোমিটার সড়ক পথ। এর ফলে তারা দ্রুততায় ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে।

'এক পর্যায়ে মনে হতো, আমি যৌনদাসী'

বৃটেনে আশ্রয়প্রার্থী নারীদের অনেকে যৌন হয়রানির শিকার হলে তা প্রকাশ করেন না। তারা ভয়ে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেন না।
তারা মনে করেন, যেহেতু তারা বৃটেনে আশ্রয়প্রার্থী, ফলে তারা পুলিশের সাহায্য চাইলে বা তাদের হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করলে তাদেরকেই বৃটেন থেকে বের করে দেয়া হতে পারে।
তবে, এই ভয় থেকে এখন অনেকে বেরিয়ে আসছেন। অনেকে মুখ খুলছেন।
৩৭ বছর বয়স্ক গ্রেস বেশ কয়েকবার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, বৃটেনে তার মতো বহু আশ্রয়প্রার্থী নারী প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হন। এ কারণে তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
তিনি যে আশ্রয়প্রার্থী, এই সুযোগ নিয়ে অনেকে প্রতারণা করেও যৌন হয়রানি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গ্রেস ১৭ বছর বয়সে লন্ডনে এসেছেন ১৯৯৮ সালে।সেই থেকে দুই দশক লন্ডনে তাঁর আশ্রয়প্রার্থীর জীবন সুখের নয়।
তাঁর জন্ম পশ্চিম আফ্রিকায় এক দরিদ্র পরিবারে। কিন্তু আত্নীয় স্বজনের নির্যাতনের কারণে দেশ ছেড়ে লন্ডনে আসেন।
গ্রেস এর পরিবার এতটাই দরিদ্র ছিল যে, তাঁকে পনেরো বছর বয়সে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়েছিল।
গ্রেস ও তার ই বছরের বড় বোনকে একই ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেয়া হয়েছিল।সেই ব্যক্তির বয়স গ্রেসের বাবার বয়সের চাইতেও বেশি।
বিয়ের পর দুই বোনকে তাদের বৃদ্ধ স্বামী যখন তার বাড়িতে নিয়ে গেলো, তখন তারা দেখলেন, লোকটির আরও পাঁচজন স্ত্রী আছে।
তবে ঐ বাড়িতে গিয়ে তাদের দুই বোন প্রথমবারের মতো একটা চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলেন।সেটা হলো, একবেলা খাওয়ার পর পরের বেলার খাবারের জন্য চিন্তা করতে হতো না।
দুই বোনই বৃদ্ধ স্বামীর কাছে দিনের পর দিন যৌন হয়রানি শিকার হতে লাগলেন।
সেই ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে বেশ ক্ষমতাধর।হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নেয়াও কঠিন ছিল।
তাঁরা লন্ডনে কিভাবে এলেন?
বিয়ের দু'বছর পর গ্রেসের চাচা সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি দুই বোনকে পালিয়ে পর্যটক ভিসায় লন্ডনে পাঠিয়ে দেন।
তার সেই চাচার এক বন্ধু লন্ডনে হিথরো বিমানবন্দর থেকে তাদের স্বাগত জানান এবং দুই বোনকে একটি গীর্জায় নিয়ে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
তারা দুই বোনই লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী একটি পরিবারের সাথে উঠেছিলেন।
লন্ডনে কিভাবে প্রথম যৌন হয়রানি শিকার হন গ্রেস?
গ্রেস তার বোনকে নিয়ে লন্ডনে যে পরিবারটির বাড়িতে উঠেছিলেন। সেই বাড়িতে ড্রয়িংরুমে গ্রেসকে থাকতে হতো।
কয়েকদিন এভাবে থাকার পর গ্রেস ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। যখন সবাই ঘুমিয়ে যায়, তখন গভির রাতে বাড়ির কর্তা উপর তলা থেকে নেমে আসেন ড্রয়িংরুমে।
তিনি গ্রেসকে যৌন নির্যাতন শুরু করেন। বাড়ি থেকে বের করে দিলে গ্রেস কোথায় যাবেন, সেই ভয়ে গ্রেস তা প্রকাশ করতে পারেননি।
বিশ বছরে লন্ডনে তিনি আরও অনেক বাড়িতে থেকেছেন এবং প্রায় সব জায়গাতেই তিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
তাঁর মতোই লন্ডনে অনেক আশ্রয়প্রার্থী নারীর এমন অনেক গল্প আছে, যা এখন অনেকেই প্রকাশ করছেন।
- বিবিসি বাংলা

'গভীর প্রেম থেকে যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ নয়'

যদি একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে গভীর ভালবাসা থাকে এবং তারা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন তাহলে তাকে ধর্ষণ বলা যাবে না। সম্প্রতি একটি ধর্ষণ মামলায় এমন রায় দিয়েছে মুম্বই হাইকোর্টের গোয়া শাখা। আদালত বলেছেন, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় ধর্ষিতা ও ধর্ষকের মধ্যে গভীর প্রেম ছিল তাহলে এক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমাণিত হয় না। ফলে ধর্ষককে তখন ধর্ষক হিসেবে গণ্য কর যায় না। এ ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক রসালো আলোচনা চলছে ভারতে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি ধর্ষণ মামলা হয় আদালতে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক যুবতীকে ধর্ষণ করেছে এক ধর্ষক। এ অভিযোগে বিচারিক আদালত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের কারণে সাত বছরের জেল দেন এবং একই সঙ্গে ১০ হাজার রুপি জরিমানা করেন। তবে আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন ওই ‘ধর্ষক’। আপিল তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই ‘ধর্ষক’ ও ‘ধর্ষিতা’ একটি ক্যাসিনোতে কাজ করতেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ২০১৩ সালে। এর মধ্যে প্রেমিক পুরুষটি হলেন সেখানকার শেফ যোগেশ পালেকার। তিনি তার ওই প্রেমিকাকে তার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য তার বাড়িতেও নিয়ে যান। ওই সময় তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। ফলে তাদেরকে ওই দিন রাতে ওই বাড়িতেই কাটাতে হয়। এ সময় দু’জনের মধ্যে যৌন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমন সম্পর্ক গড়ার পরের দিন সকালে ওই নারীকে তার বাড়িতে গাড়িতে করে নিয়ে নামিয়ে দিয়ে আসেন যোগেশ। এরপরেও যোগেশের বাড়িতে তিন থেকে চারবার তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। এক পর্যায়ে ওই নারী যোগেশের ওপর বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু নারীটি নি¤œ জাতের হওয়ার কারণে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান যোগেশ। এর ফলে ওই নারী যোগেশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। তিনি অভিযোগে বলেন, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেয়া হয়েছিল। তাই তিনি যোগেশের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। বিচার চলাকালে দেখা যায়, যোগেশকে আর্থিক সহায়তাও দিতেন ওই নারী। আপিলের এ পর্যায়ে বিচারপতি সি ভি ভাদাং রায় দেন। তিনি বলেন, সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে, যোগেশ যে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তা বলা যায় না। তবে তাদের দু’জনের মধ্যে ছিল গভীর প্রেমের সম্পর্ক। তাদের মধ্যে এই সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। ‘ধর্ষিতা’ দাবি করা নারী যোগেশকে আর্থিক সহায়তা পর্যন্ত করেছিলেন। এর পর তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার যোগেশের বাড়িতেই ওই সম্পর্ক হয়েছে। এতে সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে যে, তাদের উভয়ের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। ওদিকে গোয়াতে ইন্সটিটিউট অব সাইক্রিয়াট্রি অ্যান্ড হিউম্যান বিহ্যাভিয়ারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন যোগেশ। এ সময় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহার করার চেষ্টা করেছিলেন ওই নারী। এক্ষেত্রে তিনি আবেগতাড়িত হয়েছিলেন। নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এতেও প্রমাণ হয় যে, তাদের মধ্যে গভীর প্রেম ছিল।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে ফ্রান্সের ১৫৩ সংসদ সদস্যের খোলাচিঠি

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের কাছে লেখা খোলা চিঠিতে এ পর্যন্ত দেশটির ১৫৩ সংসদ সদস্য সই করেছেন। এতে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে ফরাসি সংসদের উভয় কক্ষের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য সই করেছেন। চিঠিতে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, "কেবলমাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনাই সফল হতে পারে বলে আপনি মন্তব্য করেছেন। তাই কেবলমাত্র সমান সমান অবস্থানে থেকে অর্থাৎ রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের আলোচনা চলতে পারে।" এতে আরো বলা হয়, দুই রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্স কথা বলবে এবং একটি মাত্র রাষ্ট্র মেনে নেবে তা হতে পারে না। ফ্রান্স যে কথা বলে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
গত মাসে ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল ফ্রান্স। এতে প্রায় ৭০টি দেশ অংশ নেয়। অবশ্য ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় আমেরিকা এ সম্মেলন বর্জন করে। এছাড়া, ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রধান মাহমুদ আব্বাসও এতে অংশ নেন নি।

‘কাশ্মিরি জনগণের স্বার্থের আন্দোলনকে ইরান সমর্থন করে’

রোববার ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় কাশ্মিরের পরিস্থিতি
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের চলমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। একইসঙ্গে কাশ্মিরের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে তেহরান।
আজ (সোমবার) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, “কাশ্মিরি জনগণের স্বার্থের যেকোনো আন্দোলনকে ইরান সমর্থন করবে।” তিনি আরো বলেন, অনুরোধ জানানো হলে কাশ্মিরের উত্তেজনা কমানোর জন্য তেহরান কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
গতকাল ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন স্বাধীনতাকামী, তিনজন পুলিশ ও চারজন বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে কাশ্মিরে বিক্ষোভ করলে তাদের ওপর গুলি চালায় ভারতীয় সেনারা। তখন মারা গেছে এসব বেসামরিক নাগরিক।
গতকালের এই হত্যাকাণ্ডের পর কাশ্মিরে আজ সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে। এতে রাজ্যটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কাশ্মিরের কয়েকটি জায়গায় ভারত কারফিউ জারি করে রেখেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি

রোহিঙ্গাদের ভূমি দখলে বাংলাদেশী বৌদ্ধদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফেলে আসা ভূমি দখলের জন্য বাংলাদেশের কিছু উপজাতি সম্প্রদায় বিশেষ করে বৌদ্ধদের সুবিধা দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কিছু বৌদ্ধ পরিবারকে বিনামূল্যে জমি, নাগরিকত্ব ও খাদ্য দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এরইমধ্যে মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পরিবারগুলোকে মিয়ানমার সরকার বিনামূল্যে পাঁচ বছর খাদ্য দেয়ার কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর মুইং সুই থুইয়ি জানিয়েছেন, “বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনকে টেনে নিয়ে মিয়ারমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামগুলো পূর্ণ করতে চায়। খুবই গরিব বৌদ্ধদেরকে নিচ্ছে মিয়ানমার সরকার।”
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকা থেকে ৫০টি পরিবার সীমান্ত পেরিয়ে রাখাইন রাজ্যে চলে গেছে। এর মধ্যে গত মাসে ২২টি পরিবার সাঙ্গু জঙ্গল এলাকা থেকে মিয়ানমার গেছে। ওই এলাকার বাংলাদেশী কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ৫৫টি উপজাতি পরিবার এ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে মিয়ানমারে গেছে।
রাখাইন রাজ্য থেকে উদ্বাস্তু হওয়া মুসলামানদের রাখা হয়েছে কাঁটাতারে ঘেরা মংদুর একটি শিবিরে

‘নরকের অস্তিত্ব নেই’: পোপের মন্তব্যের পর বিপাকে ভ্যাটিক্যান

নরকের অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তার এই মন্তব্যের পর বিপাকে পড়েছে সর্বোচ্চ ক্যাথলিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভ্যাটিক্যান। প্রখ্যাত এক ইতালিয়ান সাংবাদিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ নরকের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। পরে পোপের মন্তব্য নিয়ে ভ্যাটিক্যানের বক্তব্য জানতে চাইলে হিমশিম খেয়েছে ভ্যাটিক্যান। সংখ্যাগুরু খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ এই ধর্মীয় সংস্থাটি বলছে, পোপের বক্তব্য ওই সাক্ষাৎকারে যথাযথভাবে উদ্ধৃত করা হয়নি। এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান।
খবরে বলা হয়, বুধবার লা রিপাবলিকা পত্রিকায় ইউজেনিও স্ক্যালফারি নামে ওই পত্রিকার ৯৩ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতার এক দীর্ঘ প্রবন্ধে পোপকে উদ্ধৃত করা হয়।
স্ক্যালফারি নিজে অবশ্য নাস্তিক। তবে ২০১৩ সালে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। ভ্যাটিক্যান স্বীকার করেছে যে, ইস্টারের সপ্তাহান্তে পোপের সঙ্গে তার একান্ত বৈঠক হয়েছে। তবে পোপের সাক্ষাৎকার নেওয়ার অনুমতি ছিল না তার।
পত্রিকায় প্রকাশিত কথোপকথনের বিবরণ অনুযায়ী, ওই বৈঠকে স্ক্যালফারি পোপ ফ্রান্সিসকে জিজ্ঞেস করেন, ‘খারাপ আত্মা’রা কোথায় যাবে। এ সময় পোপ বলেন, ‘তাদেরকে সাজা দেওয়া হবে না। যারা অনুতপ্ত হন তারা সৃষ্টিকর্তার মার্জনা লাভ করেন। তারা এভাবে নিজেদেরকে সৃষ্টিকর্তার আরাধনাকারীদের কাতারে নিয়ে যান। কিন্তু যারা কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হন না ও সৃষ্টিকর্তার মার্জনা লাভ করতে পারেন না, তারা অদৃশ্য হয়ে যান। নরকের অস্তিত্ব নেই। পাপী আত্মারা অদৃশ্য হয়ে যায়।’
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভ্যাটিক্যান বলেছে, ‘পোপের বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করা হয় নি। এই নিবন্ধকে ‘হলি ফাদারে’র বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিলিপি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না।’
সাংবাদিক স্ক্যালফারি অবশ্য হাই প্রোফাইল সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তা রেকর্ড করেন না ও নোট নেন না বলে কথিত আছে। এর আগেও পোপের বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছিল। ২০১৪ সালে তিনি এক নিবন্ধে লিখেছেন যে, পোপ ফ্রান্সিস ‘পাপ’ বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। তখনও ওই বক্তব্য সঠিক নয় বলে নিন্দা জানিয়েছিল ভ্যাটিক্যান।
স্ক্যালফারি ও পোপের মধ্যকার বন্ধুত্ব নিয়েও সমালোচনা আছে। স্ক্যালফারি একবার বলেছেন, পোপই বৈঠকের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান। কারণ, তিনি অবিশ্বাসীদের সঙ্গে ধ্যানধারণা ও অনুভূতি আদানপ্রদান করতে চান।
ক্যাথলিক চার্চের দীক্ষায় নরকের অস্তিত্বের বিষয়টি স্বীকৃত। ২০০৭ সালে তৎকালীন পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট বলেছিলেন, ‘নরকের অস্তিত্ব সত্যিই আছে। এটি চিরস্থায়ী। যদিও কেউই এখন এটা নিয়ে কথা বলে না।’ ১৯৯৯ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল ঘোষণা দেন, ‘পাপের চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে নরক। এটি কোনো স্থান নয়। নরক হলো একটি অবস্থা, যখন পাপিষ্ঠরা নিজেদেরকে ঈশ্বর থেকে চূড়ান্তভাবে পৃথক করে ফেলে।’
তবে বর্তমান পোপ ফ্রান্সিসকে উদারমনা বলেই ভাবা হয়। রোমের রেজাইনা কোলি কারাকারের ১২ বন্দীর পা পোপ ফ্রান্সিস নিজে পানি দিয়ে ধুয়ে দেন। তখন থেকেই বিতর্কের শুরু। ওই ১২ বন্দীর মধ্যে দুই মুসলিম ছিলেন। ছিলেন একজন রক্ষণশীল খ্রিস্টান, একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীও। তিনি ওই বন্দীদের বলেন, ‘সবারই নিজের জীবন পরিবর্তনের সুযোগ আছে।’
সেবার ছিল পোপ হওয়ার পর ইতালির কোনো কারাগারে তার চতুর্থ প্রার্থণার আয়োজন। তিনি ওই বন্দীদের আরও বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো একজন পাপিষ্ঠ। কিন্তু আজ আমি যিশুর প্রতিনিধিত্ব করি। সৃষ্টিকর্তা কাউকেই পরিত্যাগ করেন না। তিনি আমাদের ক্ষমা করতে কখনও ক্লান্তিবোধ করেন না।’

দুই শিশুর রিকশার প্যাডেলে অসুস্থ মায়ের জীবন by আমিনুল ইসলাম লিটন

তিন মাস মায়ের পেটে থাকতে বাবা শাহাদত হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। শোকে মুহ্যমান সদ্য বিধবা মা হাসিনা খাতুন স্বামীর ভিটে ত্যাগ করেন কিছুদিন পরই। ওঠেন নানা বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ায়। হাসিনার কোলজুড়ে আসে দুই যমজ ভাই হাসান ও খায়রুল। বাবা মায়ের নতুন বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরের বাড়ি ঝির কাজ করে দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাতেন হাসিনা। কিন্তু বিধি বাম! মাত্র ৩২ বছর বয়সে কিডনি, হার্ট ও অ্যাজমায় আক্রান্ত হন হাসিনা। মায়ের জীবন বাঁচাতে ১০ বছর বয়সে রিকশার প্যাডেলে পা রাখে দুই ভাই হাসান ও খায়রুল। তিন বছর ধরে তারা দু’ভাই ঝিনাইদহ শহরে ভাড়া করা রিকশা চালিয়ে মায়ের হাতে যৎসামান্য টাকা তুলে দিচ্ছে। তাই দিয়ে মায়ের চিকিৎসা ও সংসার চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। হাসান ও খায়রুল রোববার বেলা তিনটা পর্যন্ত দুই রিকশার ভাড়া হিসেবে চারশ’ টাকা তুলতে পারেনি। এইচএসএস সড়কে তারা ভাবছিল কিভাবে আজকে মালিককে ভাড়ার টাকা দিবে। এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হলে হাসান ও খায়রুল তাদের কলাবাগানপাড়ার বস্তিতে নিয়ে যান। তারা ভাড়া থাকেন বাসন্তি নামে এক হিন্দু মহিলার বাড়িতে। ঘিঞ্জি পরিবেশে মা হাসিনা তখন দুপরের খাবার তৈরি করছিলেন। সাংবাদিক পরিচয় জেনে হাসিনা বেগম তার অসহায়ত্বের কথা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫ বছর তিনি কিডনি, হার্ট ও অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। দুই ছেলের শিশু বয়স হলেও তারাই সংসারের হাল ধরেছে। আমি আর পরের বাড়িতে কাজ করতে পারি না। ওদের পড়ালেখা করানোর শখ থাকলেও বেঁচে থাকার তাগিদে আর তা হয়ে উঠছে না। ডাক্তাররা যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন তাতে প্রতি সপ্তায় হাসিনা খাতুনের এক হাজার টাকার ওষুধ লাগে। মায়ের এই চিকিৎসা খরচ উঠাতেই কাকডাকা ভোর থেকে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে হাসান ও খায়রুল। যে বয়সে বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সহপাঠীদের সঙ্গে হৈ-হুল্লোড় করে খেলা করার সময়, সেই বয়সে জীবনযুদ্ধের এক কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত শিশু হাসান ও খায়রুল। সমাজের কোনো বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তি ০১৭৭৯-৬১৭০১১ হাসিনা খাতুনের এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

ডাকাতিয়া নদী দখল করে ভবন by কামরুল ইসলাম

লাকসাম-মনোহরগঞ্জ এলাকার ডাকাতিয়া নদী দখল করে নদীর ভেতর বিল্ডিং ও মার্কেট তৈরি করছে। দিন দিন দখল হওয়ার কারণে ১৬০ ফুট চওড়া নদী বর্তমানে এখন ৬০ ফুটে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন এসব দেখেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন দখল করে নিচ্ছে ডাকাতিয়ার নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা।
দখল হয়ে যাচ্ছে ডাকাতিয়া সংকীর্ণ হচ্ছে নদী। দীর্ঘদিন ডাকাতিয়া নদী খনন না করায় পলি মাটির কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাই শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে ডাকাতিয়া নদী পানিশূন্য। পানিশূন্য হওয়ায় ইরি-বোরোচাষিরা বিপাকে পড়ছেন। ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন অংশে যে পরিমাণ পানি আছে, তা এক সপ্তাহে শেষ হয়ে যাবে।
এক সময় ডাকাতিয়া নদীতে পাল তুলে নৌকা চলতো। চলতো বড় বড় স্টিমার ও নৌকা। কালের বিবর্তনে পলি মাটি ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সেই নৌকা ও স্টিমার আর চলে না। ডাকাতিয়া নদীকে কেন্দ্র করে লাকসামের দৌলতগঞ্জ বাজার বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এ বাজার থেকে ধান-চাল নিয়ে বড় বড় নৌকা দেশের বিভিন্ন স্থানে আসা-যাওয়া করত। বর্তমানে পানি কমে যাওয়ায় ডাকাতিয়া নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা দখল করে নিচ্ছে। অপর দিকে ডাকাতিয়া নদীর পাশে অবস্থিত রাইস মিলের মালিকরা ধানের ছাই ফেলার কারণে নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ডাকাতিয়া নদীর শাখা খালগুলো দখল করে নিচ্ছে। শাখা খালগুলো উদ্ধার করা না হলে একসময় খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
প্রশাসনের নাকের ডোগায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল ফতেপুর অংশে এলাহী রাইস মিলের পাশে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ সড়কের পাশে টিন দিয়ে ঘেরাও করে রাইস মিলের ছাই ফেলে দিনে দিনে ভরাট করে নিচ্ছে। নদী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাগমারা, লালমাই, লাকসাম-মনোহরগঞ্জে ডাকাতিয়া নদী দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছে। এতে নদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করলে তিনি জানান, ডাকাতিয়া নদীর কিছু অংশ দখলের অভিযোগ পেয়েছি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বাঘিনীর মৃত্যু

সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের ফাঁদে পড়েছিল বাঘিনীটি। পরে একটি পা হারায় সে। সেখান থেকে বন বিভাগের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজারের ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠান। পরে ২০১৩ সালে ২৪শে মে তিন পায়ের বাঘিনীর ঠাঁই হয় গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা আরো নয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথে। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশে সুন্দর বনের এ বাঘিনী নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি আফ্রিকান বাঘের সাথে। সবসময় একা একাই বসে থাকতো সে, মাঝে মধ্যে তাঁর গর্জনে আফ্রিকার রয়েল বেঙ্গল টাইগারও চুপসে যেতো। এরই মধ্যে প্রজননে পূর্ণাঙ্গ বয়স অতিক্রম করায় সাফারী পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রজননের চেষ্টা শুরু করে বাঘিনীটির। গত বুধবার আফ্রিকার পুরুষ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথেই তাকে মিলিত করার উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ ট্রাঙ্কুলাইজার গানে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে অচেতন করেন। তবে অচেতন হওয়ার পরই আফ্রিকান কয়েকটি বাঘ এসে আক্রমণ করে আহত করে তাকে। পরে সেবা ও শশ্রুষা দিলেও সে আর সুস্থ হয়ে উঠেনি। রোববার সকালে সে মারা যায়।
বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, বাঘিনীকে আমরা বংশবিস্তারের লক্ষ্যে প্রজননের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বার্ধক্যজনিত সমস্যা থাকায় সে গর্ভধারণ করেনি। বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
ময়নাতদন্তকারী দলের সদস্য শ্রীপুর উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জলিল জানান, প্রাথমিক ভাবে বন্যপ্রাণী বাঘের মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। তবে বাঘটির গায়ে বিচ্ছিন্ন কিছু আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমরা প্রাথমিক স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকার কেন্দ্রীয় পশু রোগ গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছি। রিপোর্টটি হাতে আসলেই মৃত্যু সঠিক কারণ বলা যাবে।

মন্ত্রিসভায় আজ উঠছে পাঁচ এজেন্ডা:সীমান্ত সমান্তরালে বসবে বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস by দীন ইসলাম

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত সমান্তরালে বসবে বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস (বিএলও)। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমার এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আজ বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর এবং দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ সারসংক্ষেপে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাবসহ পাঁচটি এজেন্ডা আলোচনার জন্য উঠবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ১লা মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস ঘোষণা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদযাপন করা দিবসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তারা। এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উঠবে। মন্ত্রিসভার জন্য পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে ভারতে ২৫শে জানুয়ারি, পাকিস্তানে ৭ই ডিসেম্বর, শ্রীলঙ্কায় ১লা জুন, ভুটানে ১৫ই সেপ্টেম্বর, নেপালে ১৯শে ফেব্রুয়ারি এবং আফগানিস্তানে ২৬শে সেপ্টেম্বর ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ পালন করা হয়। ২০১৩ সালে ভুটানে অনুষ্ঠিত ফোরাম অফ ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অফ সাউথ এশিয়ার চতুর্থ সভায় সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাই ওই কমিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশকেও জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালন করতে হবে। এমন চিন্তায় জাতীয় ভোটার দিবস পালনের সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, এ দিবস পালনের মাধ্যমে তরুণরা ভোটার হওয়ার পদ্ধতি, ভোটদান পদ্ধতি এবং ভোটার অধিকার সম্পর্কে জানতে পারবে। এদিন তরুণদের মধ্যে বিপুল উৎসাহের সৃষ্টি হবে। এমন চিন্তায় ১লা মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস ঘোষণা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদযাপন করা দিবসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ থেকে ২৫শে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফর করে। এরপর মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের টিম ১৫ থেকে ১৭ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। মিয়ানমারের টিমটি প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ঊর্ধ্বতন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় আটটি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে সর্বনাশা ড্রাগ ইয়াবা বাংলাদেশে পাচার বন্ধে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় কারখানা ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমার সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও অঙ্গীকার পাওয়া যায়। এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৮ নীতিগত অনুমোদনের জন্য উঠবে।

সিলেটে মা-ছেলেকে নির্মমভাবে খুন, ৫ বছরের রাইসা উদ্ধার by ওয়েছ খছরু

সিলেট মিরাবাজারের মিতালি আবাসিক এলাকায় তিন তলা ভবনের নিচ তলার ফ্ল্যাটে মা ও ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মা রোকেয়া বেগমকে গলা কেটে ও ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। ঘটনার সময় ওই বাসাতেই ছিল পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসা বেগম। গতকাল দুপুরে আত্মীয়স্বজন এবং পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রাইসাকে জীবিত উদ্ধার করে। এ সময় তারা দুটি কক্ষে মা ও ছেলের লাশ দেখতে পায়। সিলেটের আলোচিত এ জোড়া খুনের ঘটনায় কারা জড়িত পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি। তবে, পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চালাচ্ছে। রোকেয়া বেগমের বয়স ৪২ বছর, ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমের বয়স ১৬ বছর। রোকেয়া বেগম নগরীর মিরাবাজার এলাকায় একটি বিউটি পার্লার চালু করার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। আর রূপম চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। রোকেয়া বেগমের স্বামী হেলাল আহমদের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলি এলাকায়। প্রায় দুই বছর ধরে রোকেয়া বেগমের সঙ্গে বসবাস করছেন না হেলাল আহমদ। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী তান্নার সঙ্গে নগরীর বারুদখানা এলাকায় বসবাস করছিলেন। প্যারালাইজড রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বর্তমানে প্রায় শয্যাশায়ী। রোকেয়া বেগমের স্বামী হেলাল আহমদ বছরখানেক তাদের মিরাবাজারের খাঁপাড়া এলাকার মিতালী আবাসিক এলাকায় ১৫ নম্বর বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী, সন্তানদের তুলে দেন। এরপর থেকে রোকেয়া বেগম ছেলে রূপম ও মেয়ে রাইসাকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। তাদের বাসায় একটি কাজের মেয়ে ছিল। মাসখানেক আগে ওই কাজের মেয়েকে মারধরের ঘটনায় বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকার মানুষ বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তাদের মূল বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিলেটেই বসবাস করছেন। ১৭ বছর আগে হেলাল আহমদের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। ভালোবেসে তারা একে অপরকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তারা সিলেট নগরীতেই বসবাস করছিলেন। বছরখানেক আগে স্ট্রোক করার পর শারীরিক অক্ষমতার কারণে আর ওই বাসাতে আসতে পারেননি। শুক্রবার থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা রোকেয়া বেগমের মোবাইল ফোনে কল দিচ্ছিলেন। কিন্তু মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার ব্যস্ততার কারণে তিনি বোনের খোঁজ নিতে পারেননি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে তিনি আসেন বোনের বাসায়। এসে দেখেন দরজা ভেতর থেকে লক করা। ডাকাডাকি করেও তাদের কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর তিনি বাসার মালিককে বিষয়টি জানান। বাসার মালিক এসে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া মিলেনি। পেছনের দিকে গিয়ে বেডরুমের দরজার ফাঁক দিয়ে ডাক দিলে সাড়া দেয় তার পাঁচ বছরের ভাগ্নি রাইসা। এ সময় বাসার ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ আসছিল। তার উপস্থিতি টের পেয়ে রাইসা ভেতর থেকে কান্না শুরু করে। জাকির জানান- ঘটনার পর তিনি ও বাসার মালিক দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন তার বোনের ক্ষতবিক্ষত লাশ খাটের উপরে পড়ে আছে। অপর কক্ষে গিয়ে দেখেন ভাগিনা রূপমের লাশও পড়ে আছে। এ সময় তিনি দৌড়ে গিয়ে রাইসাকে ধরেন। জাকির জানান, প্রায় মাসখানেক আগে তার বোন বলেছিল ওই এলাকায় থাকা যাবে না। ওখানের লোকজন ঝামেলা করে। বাসা পাল্টানোর তাগিদ দেন তিনি। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ছুটে আসেন এলাকার মানুষ। সিলেট সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিনার খান হাসু মানবজমিনকে জানান, কয়েক দিন আগে কাজের মেয়ের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। সেটি এলাকার মানুষ বসে মিটমাট করে দিয়েছেন। তিনি ধারণা করেন, পাঁচ বছরের শিশু রাইসার গলায়ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাইসাকেও খুনিরা গলাটিপে ধরেছিল। পরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় হয়তো তাকে মৃত ভেবে খুনিরা চলে গেছে। বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, ব্যবসায়ীক কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করছে। তিনি বলেন, মা রোকেয়া বেগমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রূপমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, লাশ দেখে মনে হচ্ছে শুক্রবার বিকালে কিংবা সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। কিছুটা দুর্গন্ধও ছড়িয়েছে। তবে, তদন্তের পর সব জানা যাবে বলে জানান তিনি। দুপুরে পুলিশ রাইসাকে তার এক আত্মীয়সহ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। রাইসা খুনের ঘটনা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, একজন পুরুষ ও একজন মহিলা তার মা ও ভাইকে মেরেছে। তাকেও মেরেছে। এর বেশি সে কিছু জানাতে পারেনি। এদিকে, সিআইডির ক্রাইমসিন সদস্যরা গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছেন। রোকেয়ার ঘরের ভেতরে রক্ত পাওয়া গেছে। এ সময় রোকেয়ার শরীরের কাপড়ও অনেকখানি সরানো ছিল। ধস্তাধস্তি করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করে পুলিশ। বিকালে পুলিশ মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এদিকে, রোকেয়ার স্বামী হেলাল আহমদ এগারো বছর আগে পারিবারিকভাবে বালাগঞ্জের মোহাম্মদপুর গ্রামের সুলতানা জাহান তান্নাকে বিয়ে করেন। ওই স্ত্রী ও ১০ বছরের সন্তানকে নিয়ে তারা বসবাস করতো নগরীর বারুদখানার উত্তরণ আবাসিক এলাকায়। গতকাল বিকালে কথা হয় তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুলতানা জাহান তান্নার সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে জানান, প্রথম বিয়ে সম্পর্কে হেলালের পরিবারের কেউ অবগত ছিলেন না। তিনিও জানতেন না। তার ভাইরা লন্ডনে থাকেন। গতকালই তিনি প্রথম জেনেছেন হেলালের আরো একটি সংসার রয়েছে। তিনি বলেন, তার স্বামী হেলালকে ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি স্ট্রোক করে নিজ বাসাতেই শয্যাশায়ী রয়েছেন। এই খবর শুনলে হয়তো তিনি আবার স্ট্রোক করতে পারেন। এ কারণে তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি।
মা ও ভাইয়ের লাশের পাশে দুইদিন রাইসা
মা ও ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে বিছানায়। একা ঘরের ভেতরে রাইসা। বয়স আর কত হবে তার। সাড়ে ৪ কিংবা ৫। কী বুঝে ফুটফুটে এই মেয়েটি! হয়তো মায়ের মৃতদেহের পাশে বসে মা-মা বলে ডেকেছিল। সাড়া মিলেনি। দুই লাশের পাশে অবুঝ এই শিশুটি টানা দুইদিন কাটালো ঘরের ভেতরে। গতকাল দুপুরে যখন মামা জাকির হোসেন ডাকছিল তখন রাইসা ভেতরে অঝোরে কাঁদছিলো। মামার গলা শুনে আরো জোরে জোরে কাঁদছিলো। মামা জাকির তখন রাইসার কান্না শুনে পাগলপ্রায়। কীভাবে যে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছেন জানেন না। বুকে ঝাপটে ধরেন রাইসাকে। পরক্ষণে চোখ পড়ে বোন রোকেয়া ও ভাগ্নে রূপমের লাশের দিকে। গতকাল দুপুরে সিলেটের মিরাবাজারে ঘটে হৃদয় বিদারক দৃশ্যটি। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ ধারণা করলেন- লাশে কিছুটা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটতে পারে ঘটনাটি। এ ধারণা গতকাল তিনি জোড়াখুনের বাসা পরিদর্শন করে এসে সাংবাদিকদের জানালেন। তাহলে শুক্রবার রাত থেকে দুই রাত এক দিন মা ও ভাইয়ের লাশের পাশে কেটেছে অবুঝ শিশু রাইসার। কিভাবে কাটলো এই সময় সেটি অবশ্য বলার বয়স হয়নি তার। এখনো ভালোভাবে কথাও বলতে পারছে না। তবে- স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিনার খান হাসু বললেন- রাইসাও এ ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি ধারণা করেন- রাইসাকে খুন করতে গলায় ঝাপটে ধরেছিল খুনিরা। এতে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল রাইসা। কিন্তু মারা যায়নি। পরে রাইসার জ্ঞান ফিরে। রাইসাকে নিয়ে আপসোসের অন্ত ছিল না গতকাল মিরাবাজারে। দুপুরে যখন রাইসাকে কোলে করে বাসার সামনে দিয়ে গাড়িতে তোলা হয় তখন হাজারো চোখ তার দিকে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা ঘিরে ধরেছে তাকে। রাইসা নির্বাক। মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। কিছু বুঝতে পারছে না। মুখ ফুটেও কিছু বলছে না। যখন তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য গাড়িতে তোলা হয় তখন সে মা-মা বলে ডাক দেয়। তার মা-যে আর বেঁচে নেই সেটি তাকে কে বোঝাবে। রাইসার মামা জাকির বিকালে জানিয়েছেন- ঘটনাকালীন সময়ের কথা রাইসাকে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন। সে বলেছে- এক আন্টি ও আঙ্কেল ছিলেন। তারা মা ও ভাইকে মেরেছে। এর বেশি সে কিছু বলতে পারেনি। পুলিশ হেফাজতে রাইসাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছেন আত্মীয়রাও। তবে- হাসপাতালে ভর্তি থাকা রাইসা খুঁজে ফিরছে মাকে।

গরমের শুরুতেই ডায়রিয়ার প্রকোপ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ৭০৮ জন। আর সাত দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ জন রোগী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন চৈত্র মাস। বেড়েছে গরমের তীব্রতা। আর এ গরমের সঙ্গে বাড়ছে রাজধানীতে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতাগুলোতে দিন দিন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীও আসছে বেশি। মার্চ মাসে সারা দেশে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র’ জানায়, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআর,বি) মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ৪শ’র উপরে রোগী ভর্তি হচ্ছে। এসব রোগীর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। আইসিডিডিআর,বি’র তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ৪শ’ থেকে সোয়া ৪শ’ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে এ সংখ্যা সাড়ে ৪শ’ ছাড়িয়েছে। মার্চের শুরতে আক্রান্ত রোগীদের শিশু রোগী বেশি ছিল এবং সকলেই ভাইরাল ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। রাজধানীতে হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও এটাকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন আইসিডিডিআর,বি’র চিকিৎসকরা। বলেন, ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। বর্তমানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। তারা আরও বলেন, তীব্র গরমে ঘন ঘন পিপাসা পাওয়ায় রাস্তাঘাটে আইসক্রিম বা বিভিন্ন ধরনের শরবত পান করা হয়। এসব খাদ্যে যে খাবার পানি বা বরফ ব্যবহৃত হয় তা বিশুদ্ধ না হলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া বেশি গরমে বিভিন্ন ধরনের নষ্ট খাবার খেলেও ডায়রিয়া হয়। প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাসে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া রোগীর আক্রান্তের সংখ্যা ৭০৮ জন। আর সাত দিনের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ জন। ৩০ দিনে ১২ হাজার ৮শ’ ৪৩ জন। এই তথ্য আইসিডিডিআর,বিসহ প্রধান প্রধান ৭/৮টি জেলার সংখ্যা। তবে সারা দেশের পুরো মার্চ মাসে আড়াই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ৩০শে মার্চ ৬৭১ জন, ২৯শে মার্চ ৮৬৮ জন, ২৮শে মার্চ ৭৭৫ জন, ২৭শে মার্চ ৭৮৯ জন, ২৬শে মার্চ ৮৪২ জন, ২৫শে মার্চ ৬৪৯ জন, ২৪শে মার্চ ৫৪৯ জন, ২৩শে মার্চ ৭৭৩ জন, ২২শে মার্চ ৮০২ জন, ২১শে মার্চ ৭০৯ জন এবং ২০শে মার্চ ৭৮১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। জানুয়ারি মাসে সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭ জন, ফেব্রুযারি মাসে ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩১ জন। কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আকতার মানবজমিনকে গতকাল জানান, গরমের কারণে ডায়রিয়া একটু বাড়ছে। কারণ এটি পানি বাহিত রোগ। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস পর্যন্ত ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তারপর কমে আসে। তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। রাস্তার খাবার ও পানির শরবত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। চিকিৎসকরা জানান, মূলত বিশুদ্ধ পানির অভাব বা ভালোভাবে হাত না ধৌত করে খাবার গ্রহণই ডায়রিয়ার মূল কারণ। ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে বিশুদ্ধ পানি পান ও সকলকে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন তারা। একই সঙ্গে কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে স্যালাইন খাওয়ান। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। এই বিষয়ে ডায়রিয়ার আইসিডিডিআর,বি’র বিশেষজ্ঞ এবং সংস্থাটির হাসপাতালের প্রধান ডা. আজহারুল ইসলাম খান মানবজমিনকে বলেন, এই সময় ডায়রিয়ার প্রকোপ অন্য সময়ের চেয়ে বেশি থাকে। গরম পড়ছে। এটি পানিবাহিত রোগ। মূলত পানিবাহিত জীবাণু থেকেই ডায়রিয়া ও কলেরা দেখা দেয়। পাশাপাশি পচা-বাসি ও খোলা খাবারের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তৃতি ঘটে। তাই অবশ্যই নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পানি পানের ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাস্তা-ঘাটে পানি শরবত ও খাবার খাওয়ার গ্রহণের পূর্বে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আত্মহত্যার নেপথ্যে সরকারি চাকরি না পাওয়ার হতাশা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকোর্সের শিক্ষার্থী তানভীর রহমান সরকারি চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এমবিএ ভবনের পেছন থেকে তানভীর রহমান (৩০) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয় শনিবার রাত ৯টার দিকে। ঘটনাস্থল থেকে তানভীর রহমানের ব্যবহৃত একটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। ব্যাগের মধ্যে ৫টি ঘুমের ওষুধ ও একটি প্রেসক্রিপশনসহ তার প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। তিনি অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্সের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তানভীর দ্বিতীয়। তার ছোট বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারণা এমবিএ ভবনের ১০তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। আর পরিবারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাস থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা ছিল। গতকাল দুপুরে পরিবার এসে নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ওই শিক্ষার্থী সম্ভবত আত্মহত্যা করেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
নিহতের স্বজনদের দাবি- তানভীর তিনদিন আগে একটা কোম্পানিতে যোগদান করে। সরকারি চাকরি না পাওয়ায় তার মধ্যে হতাশা ছিল। এ থেকেই আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। ঘটনার পর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গের সামনে তানভীরের খালা পরিচয় দেয়া মেহেরুন নেসা নামে একজন বলেন, তানভীর কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছে এবং আমার বাসায় থাকতো। প্রত্যেক দিন ভোরে বের হয়ে রাতে বাসায় ফিরতো। দু’দিন আগে সে আমাকে বলে- ‘খালা, আমি বেসরকারি চাকরি চাইনি, আমি সরকারি চাকরির জীবন চেয়েছি। চাকরির বয়সও প্রায় শেষ। এখন কি করবো?’ তখন আমি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি। এছাড়াও হায়দার আলী পিন্টু নামে তানভীরের মামা পরিচয় দেয়া এক ব্যক্তি বলেন, তানভীর প্রায়ই বলতো, মামা সবখানে এতো ভাল পরীক্ষা দিচ্ছি। কিন্তু, কী কারণে যেন চাকরি পাচ্ছি না। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি না পেয়ে তানভীর হতাশ ছিল। আমরা তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বলেছি, তোর আব্বুর বাড়ি আছে, ঢাকাতেও বাড়ি আছে। এত চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু, কোনো বুঝেই আমাদের শেষরক্ষা হলো না।

গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি: সারা দেশে লিফলেট বিতরণ

খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে লিফলেট বিতরণ  কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। কর্মসূচি পালনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা প্রদানসহ কয়েকজনকে আটক করেছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি মহাসচিব এ কর্মসূচির সূচনা করেন। এসময় তিনি বলেন, আন্দোলনের মধ্য দয়েই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। গণতন্ত্র ধ্বংস করতে এই অবৈধ সরকারের যে নীলনকশা এবং নীল প্রচেষ্টা করছে, সেটাও পরাস্ত করতে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যে শপথ নিয়েছি, তারই অংশ হিসেবে আজকের এই লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি।
সিনিয়র নেতারা দল ছাড়তে পারেন কিন্তু মাঠের নেতারা দল ছাড়বে না- তার এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, পুরনো কথার জবাব দেয়ার দরকার নেই। আমরা যারা রাজনীতিবিদ তারা রাজনীতির মাঠে অনেক কথা বলি। মূল বিষয়টা আপনারাই (সাংবাদিকরা) বের করে নেন। সুতরাং বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যের বিষয় মিডিয়াতে একটা প্রবণতা রয়েছে, মূল জায়গাতে না গিয়ে আমরা ওইসব জায়গা খুঁজে বেড়াই।
ফখরুল বলেন, এটাই সমস্যা, আজকের মূল বিষয়টা কী? দেশে গণতন্ত্র নেই। আমাদের অধিকার নেই। আপনাদের (মিডিয়ার) সবকিছু লেখার এবং বলার অধিকার নেই। সুতরাং সেই জায়গাগুলোয় আমাদের যাওয়া উচিত। আমাদের সেই চেষ্টা করা উচিত। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য সরকার হীন প্রচেষ্টা করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আন্দোলনের মধ্যদিয়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ এবং এই অবৈধ সরকারের যে হীন প্রচেষ্টা ও নীলনকশা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার, তাকেও আমরা পরাস্ত করতে সক্ষম হব। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিহিংসার কারণে সরকার একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নেতা, যাকে মানুষ গণতন্ত্রের মাতা বলে শ্রদ্ধাভরে সম্বোধন করেছে সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এ অবৈধ সরকার অন্যায়ভাবে, বেআইনিভাবে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা সাজিয়ে এবং বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে কারারুদ্ধ করেছে। তার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী দলসহ ২০ দলীয় জোট ও গণতন্ত্রকামী মানুষ সংগ্রাম করছে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছি, কর্মসূচি পালন করছি। তিনি বলেন, বিরোধী দলের মতকে স্তব্ধ করে দেয়ার ও সরকারের একদলীয় শাসন প্রবর্তন করার যে নীল নকশা তা রুখে দেয়ার জন্য এ লিফলেটের মাধ্যমে আমরা জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের এ লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সারা দেশে শুরু হয়েছে; যা আগামী কয়েক দিন চলবে। তারপর আমাদের ঘোষিত অন্য কর্মসূচি পালন করা হবে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলনে, রোববার আমাদের সিনিয়র নেতাদের যৌথসভা আছে, সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে আমরা বক্তব্য দিয়েছি। জাতি জেনেছে কী হচ্ছে। এ বিষয়ে মিডিয়ার আরও বেশি জানা দরকার। ‘নৌকায় ভোট চাওয়া রাজনৈতিক অধিকার’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন আরপিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ সব রাজনৈতিক দলের জন্য। কিন্তু বিষয়টা তো হচ্ছে তারা (আওয়ামী লীগ) সরকারি টাকা খরচ করে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আর কেউ করতে পারবে না, কাউকে কোনো সুযোগ দেয়া হবে না এটা কখনও মেনে নেয়া যেতে পারে না।
পরে মির্জা ফখরুল নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে ফুটপাতের দোকানদার, রিকশা চালক, পথচারীসহ সাধারণ মানুষের হাতে ‘গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার  নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ করেন।
সকাল ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মহাখালীতে লিফলেট বিতরণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। লিফলেট বিতরণের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে কয়েক দফা বাধা প্রদান করে। এসময়ে সেখান থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ আরো কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তারা যখন মহাখালীতে লিফলেট বিতরণ শুরু করেন, সেই সময় কয়েক দফা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ওই সময় বেশ কয়েক জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আর সেখান থেকে চলে আসার পরে ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকে পুলিশ আটক করে।
বিশিষ্ট ক্যানসার চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকে আটক করার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স  অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব)-এর ৬২৫ জন শিক্ষক। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।
এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান রাজধানীর উত্তরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে কল্যাণপুরের মিজান টাওয়ারসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান ও দোকানপাটে মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় মিরপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দুলু, এসএ সিদ্দিক সাজুসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের সামনে লিফলেট বিতরণ করেন। এসময়ে সেখানেও পুলিশ বাধা প্রদান করে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক। ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন মিরপুর কাজীপাড়া এলাকায়, পল্লবী এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। একইভাবে দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও মহানগরের বিভিন্ন জায়গায় পৃথকভাবে লিফলেট বিতরণ করেন।
যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে মহাখালী এলকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। তারা সন্ধ্যার পরও মহাখালী কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এই লিফলেট বিতরণ করেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের মতো করে এই কর্মসূচি পালন করে। এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম ও বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়ার নেতৃত্বে রাজধানীর তোপখানা রোড, পল্টন এলাকায় এই কর্মসহৃচি পালন করা হয়।
সারা দেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও থানাপর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা।
গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপিবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা ও জামিন এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইস্যুতে জরুরি বৈঠক করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। গতকাল সন্ধ্যার পর বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা বৈঠকে অংশ নেন। যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকরাও বৈঠকে ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, শুরুতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নেতাদের উদ্দেশে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বৈঠক চলাকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনের পরিবেশ না থাকলেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।

ভারত-চীন আবারো উত্তেজনা

লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ। চীনের সঙ্গে এই সীমান্তে আবারো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ভারতের। তাই ধীরে ধীরে সেখানে সেনা শক্তি বৃদ্ধি করছে ভারত। প্রায় সাত মাস আগে সিকিম-ভুটান-তিব্বত ত্রি-জংশনের কাছে দোকলাম নিয়ে দু’দেশ যুদ্ধংদেহী অবস্থান নেয়। সে অবস্থা অব্যাহত থাকে ৭৩ দিন। তার দৃশ্যত অবসান হলেও নতুন করে আবার শুরু হয়েছে উত্তেজনা। বলা হচ্ছে, এই শীতে দোকলামের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। এর ফলে ভারত সচকিত হয়ে উঠেছে। চীনের সঙ্গে লাইন অব একটুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত সীমান্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনারা। এসব এলাকায় চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য কঠিন। কারণ, এসব অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ, ব্রিজ, একটি উপত্যকার সঙ্গে আরেকটি উপত্যকার সংযুক্তির ক্ষেত্রে রয়েছে সমস্যা। রয়েছে সমরাস্ত্রের ঘাটতি। হেলিকপ্টার, ড্রোনের অভাব রয়েছে। বিশেষায়িত সমরাস্ত্রের মজুত নেই। তারপরও নৈতিক দিক থেকে ভারতীয় সেনারা রয়েছে উচ্চ মানসিক প্রস্তুতিতে। ধীরে তবে অব্যাহত গতিতে তারা এলএসি বরাবর ৪০৫৭ কিলোমিটার সীমান্তে তাদের পেশিশক্তি বাড়াচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শুধু অরুণাচল প্রদেশের প্রতিরক্ষার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চারটি ইনফ্যান্ট্রি পাহাড়ি ডিভিশনকে। এর প্রতিটি ডিভিশনে সেনা সদস্য রয়েছেন ১২ হাজারের উপরে। তারা থাকবে ৩ কোর (দিমাপুর) ও ৪ কোর (তেজপুর)-এর অধীনে। সঙ্গে থাকবে অতিরিক্ত দুই ডিভিশন
রিজার্ভ সেনা। তিব্বতের দক্ষিণে যে অংশকে চীন তাদের বলে দাবি করছে সেখানকার তেওয়াংয়ে সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিবিথু-ওয়ালং সেক্টরে তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে আছেন এমন একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের প্রাথমিক কাজ হলো এলএসি’কে নিরাপদ রাখা। শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমরা তা করতে চাই। যদি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবো। এবার আমরা তাদেরকে (চীনা) সামনে এগিয়ে আসতে দেবো না।

ইমাম রশিদী আপনাকে স্যালুট

সহিংসতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে রীতিমতো জাতীয়  তারকায় পরিণত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের ইমাম মাওলানা ইমদাদুল রশিদী। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিজের পুত্র নিহত হওয়ার পরও শান্তির আহ্বান জানিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা বন্যায় ভাসছেন তিনি। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীসহ দেশের গুণীজনরা। রাহুল গান্ধীর প্রশংসা পেয়েছেন দিল্লির আরেক সন্তানহারা পিতা যশপাল সাকসেনা।
এক টুইটার বার্তায় কংগ্রেস সভাপতি বলেন, বিদ্বেষমূলক সাম্প্রদায়িকতার কারণে পুত্র হারানোর পরও ইমাম রশিদী ও যশপাল সাকসেনা সহিংসতার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাদের অবস্থানই বুঝিয়ে দেয় যে, ভারতে এভাবেই চিরদিন ভালোবাসার কাছে ঘৃণা পরাজিত হবে। এছাড়া হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও ক্ষমতাসীন বিজেপির বিদ্বেষমূলক আদর্শ বাস্তবায়ন করতে না দেয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহানুভূতির ভিত্তিতে কংগ্রেস গড়ে উঠেছে। আমরা ভারতে বিজেপি ও আরএসএসবিদ্বেষী মতাদর্শ বাস্তবায়ন করতে দেব না।’
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে রাম নবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার আসানসোলের ইমাম মাওলানা ইমদাদুল রশিদীর পুত্র সিবতুল্লা রশিদীকে তুলে নেয়া হয়। একদিন পরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। এতে হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। আসানসোলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সম্ভাবনা দেখা দেয়। বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে নিহত হয় ৪ জন। কিন্তু ইমাম রশিদীর বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের কারণে সে উত্তেজনা অনেকাংশেই প্রশমিত হয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন, ‘কোনো প্রতিহিংসা নয়। প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আর কারো মৃত্যু হলে আমি শহর ছেড়ে চলে যাব। ৩০ বছর ধরে একসঙ্গে রয়েছি আমরা। আমাকে ভালোবেসে থাকলে আর কাউকে যেন এভাবে না মরতে হয়।’
আর মুসলিম ধর্মাবলম্বী তরুণীকে বিয়ে করার অপরাধে ১লা ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে অঙ্কিত সাকসেনা নামে এক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়। ওই বিয়ে ছেলেপক্ষ মেনে নিলেও বেঁকে বসে মেয়েপক্ষ। তারা এই বিচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। পরে এ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে অঙ্কিতকে হত্যা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মেয়েপক্ষের হাত রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি জানার পরও অঙ্কিতের পিতা যশপাল সাকসেনা পুত্র হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার পরিবর্তে শান্তির বার্তা শোনান। মানবতাবাদী এই দুই পিতার মহানুভব সিদ্ধান্তে ভারত ভয়ঙ্কর দাঙ্গার হাত থেকে রক্ষা পায়। রশিদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শান্তি ফিরেছে বর্ধমানের আসানসোলে। টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে শহরের দোকানগুলো খুলতে শুরু করেছে। তবে শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে আধা সামরিক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দেয়া হলেও রাজ্য সরকার সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।
এদিকে, দাঙ্গার শিকার আসানসোল শহর পরিদর্শন করেছেন চার সদস্যের বিজেপি প্রতিনিধি দল। এই দলে রয়েছেন বিজেপি’র কেন্দ্রীয় মুখপাত্র বিহারের শাহনেওয়াজ  হোসেন, দলের সহ-সভাপতি ও রাজস্থানের সংসদ সদস্য ওম প্রকাশ মাথুর, ঝাড়খণ্ডের সংসদ সদস্য ভি ডি রাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা রুপা গঙ্গোপাধ্যায়।

সীমানা পুনর্বিন্যাস: ইসিতে আবেদনের পাহাড় by সিরাজুস সালেকিন

সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনে আবেদনের স্তূপ জমেছে নির্বাচন কমিশনে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়ার ওপর প্রায় ছয় শতাধিক আবেদন এসেছে ইসিতে। খসড়ার ওপর অভিযোগ-আপত্তি জানানোর সময় শেষ হয়েছে গতকাল। এসব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আগামী ৩০শে এপ্রিল একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত সীমানার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। ইসি সূত্র জানায়, সীমানা পুনর্বিন্যাসে এ পর্যন্ত প্রায় ৬১০টি আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার শতাধিক আবেদন পড়েছে রোববার। গত ১৪ই মার্চ ৩৮টি আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রকাশ করে ইসি। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ইসির প্রস্তাবে পক্ষে-বিপক্ষে আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনে ইসির প্রস্তাবিত সীমানায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারের  মন্ত্রী-এমপিরাও। ইসি সূত্র জানায়, অভিযোগ আপত্তির ওপর শুনানি হবে। আগামী ৩০শে এপ্রিল ৩০০ আসনের চূড়ান্ত সীমানা তালিকা প্রকাশ করবে ইসি। গত ১৪ই মার্চ প্রকাশিত সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়ায় ৩৮টি আসনের সীমানায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়। খসড়া তালিকায় যে ১৬ জেলার সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলো হলো- নীলফামারী ৩, ৪; রংপুর ১, ৩, ৪; কুড়িগ্রাম ৩, ৪; পাবনা ১, ২; মাগুরা ১, ২; খুলনা ৩, ৪; খুলনা ৩, ৪; সাতক্ষীরা ৩, ৪; জামালপুর ৪, ৫; ঢাকা ২, ৩, ৭, ১৪, ১৯; নারায়ণগঞ্জ ৪, ৫; শরীয়তপুর ২, ৩; মৌলভীবাজার ২, ৪; ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫, ৬; কুমিল্লা ১, ২, ৬, ১০; নোয়াখালী ৪, ৫ এবং চট্টগ্রাম ৭, ৮। ইসি সূত্র আরো জানায়, প্রশাসনিক ইউনিট বিশেষ করে উপজেলা এবং সিটি করপোরেশন ওয়ার্ডের যথাসম্ভব অখণ্ডতা বজায় রাখা হয়েছে সীমানা পুনর্বিন্যাসে। ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌর এলাকার ওয়ার্ড একাধিক সংসদীয় আসনে বিভাজন রোধ করা হয়েছে নতুন সীমানায়। যেসব প্রশাসনিক এলাকা সৃষ্টি হয়েছে বা সম্প্রসারণ হয়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে তা নতুন সীমানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ছিটমহল বিনিময়ের কারণে নতুন করে কিছু এলাকা কয়েকটি আসনে যুক্ত হয়েছে। সীমানা পুনর্গঠন পদ্ধতিতে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থ যথাযথ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ফলে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই একাদশ সংসদে বহাল থাকছে আগের সীমানা। গত বছর নির্বাচন কমিশনের সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দশম সংসদের সীমানা বহাল রাখা দাবি করে। অন্যদিকে বিএনপি ২০০৮ সালের আগেই সীমানায় ফিরে যাওয়ার দাবি করে আসছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে ১৩ই মার্চ আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পরদিনই প্রস্তাবিত পুনর্গঠিত এলাকার খসড়া প্রকাশ করে ইসি। প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য দাবি করেছেন, বৈঠকে সীমানার বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ দাবি অস্বীকার করে জানান, আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ১৪ই মার্চ নির্বাচন কমিশনের ২১তম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সীমানা পুনর্নির্ধারণের অগ্রগতি প্রতিবেদন বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত ছিল। ১৯শে মার্চ কমিশনের ২২তম সভারও একই বিষয়ে এজেন্ডা ছিল। কিন্তু খুব দ্রুততার সঙ্গে ১৪ই মার্চ খসড়া প্রকাশ করে ইসি। গেল বছর ১৬ই জুলাই ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সীমানা চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি। পরিকল্পনার আড়াই মাস পর খসড়া প্রকাশ করে ইসি। রোডম্যাপে সিইসি বলেছিলেন, সীমানা নির্ধারণ নিয়ে নতুন আইন করার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তবে সবার সঙ্গে আলোচনা করেও নতুন আইন প্রণীত হয়নি। সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য পরামর্শকও নিয়োগ দিয়েছিল ইসি। কিন্তু ছোটখাটো পরিবর্তন করেই খসড়া করে প্রকাশ করে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২০১১ সালে সর্বশেষ পঞ্চম আদমশুমারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী জনসংখ্যার যথাসম্ভব সমতা রেখে দশম সংসদ নির্বাচনে আদমশুমারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করা হয়। পরবর্তী আদমশুমারির প্রতিবেদন হবে ২০২১ সালে। ইসি কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, প্রস্তাবিত আইন পাস হলে একাদশ সংসদ নির্বাচন বিদ্যমান সীমানাতেই হতে পারবে। শুধু বিলুপ্ত ছিটমহল ও নতুন উপজেলা বা প্রশাসনিক কিছু এলাকা সংসদীয় আসনের সঙ্গে যুক্ত করলেই চলবে। সেক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনার দরকার পড়বে না। ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় ১৯৯৫ সালের সীমানার গেজেট বহাল রাখা হয়েছিল। তবে ১৯৮৪, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালে ১৩৩ সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। দশম সংসদে ছয়টি নীতিমালা অনুসরণ করে ৫০টি আসনে ছোটখাটো পরিবর্তন করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে: ‘নেতিবাচক’ খবরে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আবদার

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে। এতে করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটি বাড়বে। মুহিত বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের আমানতের ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে হতো, সেটি আমরা বাড়ানোর চিন্তা করেছি। শনিবার সিদ্ধান্ত দিয়েছি এবং সেটি অতি দ্রুত কার্যকর হচ্ছে। বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের এই   বাধ্যবাধকতা ৫০ শতাংশ করা হবে। সরকারি আমানতের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে দাবি জানিয়ে আসছিল বেসরকারি ব্যাংকাররা। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে (এজিএম) তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বছরটি নির্বাচনের বছর। নির্বাচনী বছরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়। কিন্তু এবার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতা রয়েছে, সেক্ষেত্রে অন্যরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে এবং প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে ২-৩ শতাংশ। মুহিত বলেন, আমরা এ বছর দেখলাম হঠাৎ ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়তে লাগল। এই সুদের হার বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ যথেষ্ট লিকুইডিটি রয়েছে। অনেকে বলেছেন, তাদের হাতে লিকুইডিটি রয়েছে, পয়সা রয়েছে তারা সেটা ব্যবহার করে না। তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ব্যাংকের সুদহার দুই অঙ্ক থেকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনবেন ব্যাঙ্কাররা। প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইনভেস্টমেন্ট ফাইন্যান্স করে। নিয়মানুযায়ী এটা স্বাস্থ্যকর অবস্থা নয়। এর কারণ হলো, আমরা ক্যাপিটাল মার্কেট তৈরি করতে পারিনি। ব্যাংক খাতে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্যাপিটাল মার্কেট সৃষ্টি করা। এই ক্যাপিটাল মার্কেট সৃষ্টি করতে আগামী দুই মাসের মধ্যে একটা ছোট্ট গ্রুপকে দায়িত্ব দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চাকরিজীবীদের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের সরকারি কর্মকর্তার মনোভাব থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি হুকুম দেয়ার জন্য নয়, এটা জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য। সরকারি চাকরিজীবীদের সেবা দেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ২৫ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে হয় আর ৭৫ শতাংশ আমানত রাখতে হয় সরকারি ব্যাংকে। গতাকাল (শনিবার) একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে ৫০ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে যাবে। এতে করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটি বাড়বে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদে অর্থ নিয়ে দীর্ঘমিয়াদে ঋণ দিচ্ছে, এটা ভালো নয়। এ ব্যাপারে তিনি ক্ষুদ্র ঋণের ওপর জোর দেন। এতে ঝুঁকি কম থাকে বলেও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, শ্রেণিকৃত মূলধন এবং খেলাফি ঋণ জনতা ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ। ব্যাংকটির লোকসানি শাখা রয়েছে ৫৭টি। ঋণ জালিয়াতি নিয়েও গণমাধ্যমে নানা খবর বেরিয়েছে। এগুলোও বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ঋণ দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী না হলেও চলবে। তাদের কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে ঋণ দিতে আগ্রহী হতে হবে। এতে একদিকে যেমন দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে তেমনি কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ওপর জোর দিতে হবে। খেলাফি ঋণ আদায় জোরদার করতে হবে। গভর্নর বলেন, খেলাফি ঋণের মামলা করার আগে ঋণদাতার সঙ্গে আলাপ করতে হবে। তাদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কারণ ঋণখেলাফির মামলা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ফজলে কবির বলেন, যেকোনো ব্যাংকের জন্য গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন এবং জনতা ব্যাংকের জন্য সেটা অবশ্যই প্রয়োজন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান, অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা, সিইও ও এমডি মো. আবদুছ ছালাম আজাদসহ অন্য কর্মকর্তারা।
বেসরকারি ব্যাংকের সিআরআর কমছে এক শতাংশ: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর (নগদ জমা সংরক্ষণ) এক শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। খুব দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে আগামী জুনে এর ফলাফল সম্পর্কে একটি পর্যালোচনা আগামী জুন মাসে দেয়া হবে। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক মালিকদের সংগঠন (বিএবি) এক যৌথ বৈঠকে এ এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী, বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে অনেকগুলো বিষয় আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে একটি সিআরআর কমানো। বর্তমান সিআরআর সাড়ে ৬ শতাংশ। তারা এটা ৩ শতাংশ করার দাবি করেছিলো। আমরা সার্বিক বিবেচনা করে এক শতাংশ কমিয়েছি। অর্থ্যাৎ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জমা রাখা সিআরআর এর ১ শতাংশ টাকা ব্যাংকগুলো ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে ১০ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাতে চলে আসবে। এতে তারল্য সংকট কমে গেলে সুদের হারও কমে যাবে। এত পরিমাণ টাকা  বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে দেয়া হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, কোনোভাবেই বাড়বে না। পরে বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারও সিআরআর-এর টাকা পেলে তারল্য সংকট কিছুটা কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন। এ সময় অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী এক মাসের মধ্যেই সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, অতি দ্রুত সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে টোটাল যে ইনভেস্টমেন্ট তার ৭০ শতাংশ করছে বেসরকারি ব্যাংক। আমরা যদি সবচেয়ে বেশি ইনভেস্ট করি তাহলে সরকারি টাকা কেনো চাইতে পারবো না? তিনি বলেন, দু’একটা ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা হতেই পারে, তার মানে এই নয় যে, অর্থনীতির বিপর্যয় ঘটে গেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকা বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে এটা সুষম বণ্টন করতে হবে।
ব্যাংক নিয়ে ‘নেতিবাচক’ খবরে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আবদার
ব্যাংক খাত নিয়ে ‘নেতিবাচক’ খবর প্রকাশে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আবদার জানিয়েছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। ফাইন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করে ব্যাংক সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার বন্ধের দাবি করছে সংগঠনটি। ব্যাংকিং খাতের অর্থ সংকট ও উচ্চসুদ সমস্যা সমাধানে করণীয় নিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানিয়েছে বিএবি। চিঠিতে ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকটের জন্য ৯টি সমস্যার কথা উল্লেখ করে সেগুলো সমাধানের জন্য অর্থমন্ত্রীর সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রোববার অর্থমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এখন এটি বলার সময় নয়; আগামী বাজেট ঘোষণার সময় বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।
বিএবি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হলে গ্রাহক ও জনসাধারণের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়। তারা ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। ব্যাংকিং খাতে আমানত বৃদ্ধি করতে হলে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে গ্রাহকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যাংক সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে আর্থিক তথ্য আইন (ফাইন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন অ্যাক্ট) প্রণয়ন করতে হবে। এই আইন প্রয়োগের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকিং খাত নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণার কারণে জনজনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। ওই উদ্যোগ জনমনে আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বেসরকারি ব্যাংক যাতে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পায় তার সুযোগ; বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) থেকে ৩ শতাংশ ফেরতসহ সুনির্দিষ্ট ৯টি প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের তথ্য গণমাধ্যমের কল্যাণেই জানা গেছে। রিজার্ভের অর্থ চুরি ছাড়াও বেশ কয়েকটি বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রথম জানা যায় গণমাধ্যমের কল্যাণে। হল-মার্ক গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির তথ্য মিডিয়াই প্রথম প্রকাশ করে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় ঋণে অনিয়ম এবং কেলেঙ্কারির ঘটনাও গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশের মানুষ জানতে পারছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে অনিয়ম বন্ধ না করে গণমাধ্যম বন্ধ করার উদ্যোগ মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। তিনি বলেন, ব্যাংকের নেতিবাচক সংবাদ বন্ধে ফাইন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন আইনের আওতায় আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান গঠনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। সংবাদমাধ্যমে অপপ্রচার হলে তার জন্য আইন রয়েছে, প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট রয়েছে এবং প্রতিবাদের ব্যবস্থা রয়েছে।
বিএবির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ব্যাংকিং খাত মূলত টিকে থাকে আস্থার ওপর। এই খাত নিয়ে অব্যাহতভাবে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হলে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। নেতিবাচক সংবাদ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। ব্যাংক নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ বন্ধে ফাইন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন আইনের আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের লিখিত প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি এখনও প্রাথমিক আলোচনা। আরও আলোচনার পর এটি নিয়ে বলা যাবে।
বেসরকারি ব্যাংকের তারল্য সংকট, ঋণের সুদহার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি ও ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি। বৈঠকে ৩৮টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রায় ২৫টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠির প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়।
এদিকে চিঠিতে ব্যাংক মালিকদের প্রধান দাবি ছিল, ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট সমাধানে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ যাতে বেসরকারি ব্যাংকে আসে। ব্যাংক মালিকদের এই দাবি মেনে নেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংক মালিকদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে বলে রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী নিজেই জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সিআরআর ১ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। এছাড়া, বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত ৫০ শতাংশ রাখা হবে। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যন ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে যেটি এসেছে সেটি মিস কোট করা হয়েছে। এসব বিষয় আলোচনা করা হয়নি। আমরা আলোচনা করেছি মিডিয়া যেন ইতিবাচক রোল প্লে করে। এগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকায় ভোট দিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,’৭৫-এর পর থেকে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা তো বাংলাদেশের  উন্নতি করতে পারেনি। তাদের একটাই উন্নতি ছিল, তা হলো দুর্নীতির উন্নতি। বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে হেট করেছে। পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারা সিঙ্গাপুরে টাকা পাচার করেছে। এতিমখানা বানানোর কথা বলে তা করা হয়নি। সেই টাকা লুটপাট, চুরি করে খেয়েছে। উন্নয়ন এর ধারাবাহিকতা চাইলে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। নৌকা আপনাদের মার্কা। রোববার বিকালে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জেলায় ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে ২৫টি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ২৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যাতে উন্নয়ন করতে পারি, সেজন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। আওয়ামী লীগ সরকার এর আগে দেয়া প্রত্যেকটি ওয়াদা রক্ষা করেছে। ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। আমরা আলো’র ব্যবস্থা করবো, ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-খালেদা জিয়াকে ধিক্কার জানাই। যুদ্ধাপরাধীরা হিসেবে যারা অভিযুক্ত তাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে। ওদের লজ্জা-শরম কম। ওরা তো বাংলাদেশ সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দুস্থ মানুষের সেবা করেছে। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কল্যাণ করে। এটাই আওয়ামী লীগের জন্য নীতি। এটিই আওয়ামী লীগের আদর্শ। দেশে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট যখনই ক্ষমতা এসেছে তখনই অত্যাচার-নির্যাতন, দেশের সম্পদ পাচার করেছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলায় তারা পারদর্শী। এটাই তাদের আন্দোলন। আন্দোলনের নামে তারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য, দারিদ্র্যবিমোচন করা। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা; এমনকি দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলেমেয়ে, নাতি-পুতিদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের স্বাধীনতা এনেছেন। অনেকে পঙ্গু হয়েছেন।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া), সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।
চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুরের উন্নয়নে কোনো দাবি করা লাগবে না। ইনশাআল্লাহ, চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ করে দিবো। স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজেই একজন ডাক্তার। তার জন্য মেডিকেল কলেজ করবো। চাঁদপুরের হাইমচরে গিয়েছিলাম। চাঁদপুরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিবো। সেখানে বিনিয়োগ হবে, শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এখানে পর্যটনের ব্যবস্থা করবো। নৌ-ভ্রমণের জন্য এখানকার জায়গা সুন্দর।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ পালন করবো। আমরা চাই, ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই।
তিনি আরো বলেন, ইতিহাসকে যারা বিকৃত করেছিল, জাতির পিতার ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল। সেই ভাষণকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে কখনো চাপা দেয়া যায় না। এটি বিএনপি-জামায়াতকে শিক্ষা নেয়া উচিত। আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ।
এর আগে হাইমচরে ষষ্ঠ জাতীয় স্কাউট সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে স্কাউটদের ভূমিকা রাখতে হবে। স্কাউট সদস্যদের প্রতি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ হবে শান্তিপূর্ণ দেশ। আমরা বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আগামী দিনে রোভার স্কাউট সদস্যরা দেশের নেতৃত্ব দিবে। তোমরাই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে এবং সেই গতিধারা যেন অব্যাহত থাকে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখবে। এজন্য তোমাদের দেশের জন্য যোগ্য হয়ে গড়ে উঠতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে দেশ এখন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি অভিভাবক ও স্কাউটদের উদ্দেশে বলেন, ছেলেমেয়েরা যাতে সুশিক্ষা পায়, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, তাদের মনমানসিকতা যেন আরো উন্নত হয় এবং সেগুলো যেন সৃষ্টিধর্মী হয়, সেদিকে দৃষ্টি রেখেই আমরা শিক্ষা দিতে চাই। চাঁদপুরের হাইমচরে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এই অঞ্চলের উন্নতি হতে পারে। তাছাড়া খুব ভালো পর্যটন কেন্দ্র হবে এবং নৌ-ভ্রমণের জন্যও চমৎকার জায়গা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি এমপি, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটওয়ারী।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িবহরে হামলা: চাঁদপুরে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান, চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ মো. গোলাম হোসেনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ নেতাকর্মী। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোলাম হোসেন চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় যোগদানের পথে কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর কাঁঠাল বাগান, রাজাপুর সকিনার দালান ও  রাজাপুর তুলা গাছতলা এলাকায় তার গাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত ও ১০টি গাড়ি ভাঙচুর ও কয়েকটি গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন গোলাম হোসেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে তাৎক্ষণিক হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কচুয়ার হাসিমপুরস্থ ফয়েজুন নেছা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মো. জোবায়ের হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় সময় আলহাজ মো. গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যাওয়ার সময়  পথিমধ্যে কাঁঠাল বাগান, সকিনার দালান ও রাজাপুর এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীরা আমাদের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের মারধর করে। কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানের নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা ও আটকের বিষয়ে শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং তাদের পুলিশি পাহাড়ায় কচুয়ার সীমানা পার করে দিয়েছি।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আসছেন ৮ই এপ্রিল

শুভেচ্ছা সফরে আগামী ৮ই এপ্রিল ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখালে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত দিল্লির বিদেশ সচিব গোখালের এটাই হবে প্রথম বাংলাদেশ সফর। সফরটি পরিচিতিমূলক হলেও তাতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। নির্বাচনী বছরে     প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী ওই কূটনীতিক ঢাকা সফরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে মোদি সরকারের মনোভাবের বিষয়টিও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে। সফর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৯-২০শে এপ্রিল লন্ডনে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ সামিটের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের কথাবার্তা চলছে। সেই বৈঠকের প্রেক্ষাপটেও পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখালের ঢাকা সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকা সফরকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে তার বৈঠক এবং সরকারের শীর্ষপর্যায়ে তার সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচ্যসূচি ঠিক হবে। কূটনীতিকরা বলছেন, বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির জন্য মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ। হাসিনা-মোদি সরকারের আমলেই চুক্তিটি সম্পাদনে দিল্লির দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। যদিও এ নিয়ে এখনও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে রাজি করাতে পারেননি ভারতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তিস্তা ইস্যুতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলেও ভারতীয় মিডিয়ার তরফে এরই মধ্যে খবর চাউর হয়েছে চলতি বছরের শেষার্ধে বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা সফর করবেন মোদি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ নিয়ে আগেভাগে কোনো মন্তব্য না করার নীতি নিয়েছেন। তারা সময় ও পরিস্থিতির ওপর পুরো বিষয়টি ঠেলে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব আগামী ৯ই এপ্রিল ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা এবং আগামীর পথ চলা বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন। তার বক্তৃতায় ঢাকা-দিল্লি আগামী দিনের সম্পর্কের বিস্তারিত থাকছে বলে আভাস মিলেছে।

চোখ হারানো ২০ জনকে কেন ক্ষতিপূরণ নয়: হাইকোর্ট

চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরে অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণে চোখ হারানো ২০ জনকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রুল জারি করেন। দায়সারাভাবে অস্ত্রোপচার করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্‌থ সেন্টার, ডা. মোহাম্মদ শাহীনসহ ১০ বিবাদীকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ২৯শে মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত এই রিট আবেদন করেন। রিটকারী অমিত আদালতে নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান। গত ৪ঠা মার্চ থেকে চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিনে ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি (ফ্যাকো) কাটা হয়। ওই অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পরদিন বাসায় ফেরার পর ওই রোগীদের চোখে সংক্রমণ দেখা দেয়। চোখে জ্বালা-পোড়া নিয়ে তারা যোগাযোগ করেন ইমপ্যাক্ট হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে কয়েকজন রোগীকে স্থানীয় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ওই চক্ষু বিশেষজ্ঞ তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। এদের মধ্যে চারজন রোগী নিজেদের উদ্যোগে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আসেন। পরে ইমপ্যাক্ট থেকে ১২ই মার্চ একসঙ্গে ১৬ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু ততদিনে দেরি হয়ে যাওয়ায় ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়। আরেক নারীর অপারেশন করা বাম চোখের অবস্থাও ভালো নয়। ঢাকায় দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করলেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসেনি তার।