Tuesday, October 2, 2018

‘আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেলেও কোন আপত্তি নাই’ -আল্লামা শাহ আহমদ শফী

হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, কেউ কেউ বলেন, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি। তারা কমবখত (নির্বোধ), তারা মিথ্যা কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এমনি মহব্বত করে কওমী সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগ হই নাই। সেটা আপনাদের ভুল ধারণা। কী করে বলতেছেন, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি? আমি আওয়ামী লীগ হয়ে  গেলেও কোন আপত্তি নাই। কারণ, আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন এমন মানুষ আছেন, যারা দ্বীনকে ভালবাসেন। তারা আমাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মাদরাসায় সাহায্য করেন।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় বেফাকুল মাদারিসিল আরবিয়া বাংলাদেশ ও আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের ২০১৮ সালের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আহমদ শফী উপস্থিত ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ভাল করে লেখাপড়া করেন, শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেন। শেখ হাসিনা বোধ হয় আমেরিকা থেকে এসে গেছেন। আমরা তার জন্য দোয়া করছি। কারণ, তিনি আমাদের বড় একটা উপকার করেছেন। অনেকে অনেক কিছু বলেছেন, কিন্তু সেদিকে লক্ষ্য না করে তিনি আমাকে কওমী সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলে ওয়াদা করেছেন। এবং তিনি তা দিয়েছেন। সেজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুকরিয়া আদায় করতেছি।
তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজের জন্য, নিজের মাতা-পিতার জন্য, আর বিশেষ করে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করবেন। কারণ, শেখ হাসিনা কোন সন্দেহ ছাড়া আমি যেভাবে লিখেছি তার মধ্যে কোন রকমের ভেজাল করে নাই। যেভাবে বলছে ঠিক সেভাবেই সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা কওমী মাদ্রাসার জন্য বড় নেয়ামত। অথচ এটার জন্য আমাদের কওমী মাদ্রাসার মুরব্বিরা বহু আগে থেকে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পারেননি। এমনকি কোন সরকারও দেইনি। এখন আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা একমাত্র আমাকে ডেকে এই সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন।

অভিবাসী ইস্যুতে বাংলাদেশীদেরকেই অসম্মান করেছেন অমিত শাহ -দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়

কথিত বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিয়ে মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বাংলাদেশীদেরকেই অসম্মান করেছেন (হি হ্যাজ ইনসালটেড দ্য বাংলাদেশীজ)। তিনি ভারতে অবস্থানরত কথিত অবৈধ বাংলাদেশীদেরকে উইপোকা বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইউরোপে আছেন বহু সংখ্যক উত্তর আফ্রিকা ও আরব অঞ্চলের অবৈধ অভিবাসী। তাদেরকে উদ্দেশ্য করেও এমন অপমানজনক মন্তব্য করা হয় না। অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে এসব কথা বলা হয়েছে ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি পত্রিকা দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়তে। ‘ইগনোবল ডিপ্লোম্যাসি’ বা হীন কূটনীতি শিরোনামে ওই সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে সোমবার। এতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রেসিডেন্ট একটি মতামত দিয়েছেন। এটা হলো অবিবেচক।
এমনকি যখন পরিস্থিতি শান্ত বলে মনে হচ্ছে তখন তিনি এই মন্তব্য করেছেন। ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিক থেকে ভারত ও বাংলাদেশ দু’দেশই এ বিষয়ে সচেতন বা জানে যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ অভিবাসী। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মার্চের পরবর্তী প্রজন্মের অভিবাসীরা। ওই সময়েই অনুপ্রবেশটা বেশি হয়।
এতে আরো বলা হয়, ইউরোপ হোক বা এই উপমহাদেশ হোক সব খানেই শরণার্থীর অনুপ্রবেশ হয়ে উঠেছে মানবিক ইস্যু। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধান অমিত শাহ যেভাবে কথা বলেছেন তাতে এর খুব সামান্য অথবা বিন্দুমাত্র প্রতিফলন নেই। তিনি অনুপ্রবেশকে বুঝাতে রসকষহীনভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদেরকে উইপোকা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, তারা ভারতের জাতীয় সম্পদকে খেয়ে ফেলছেন।
এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশীদেরকে অপমান করেছেন। এমন আক্রমণাত্মক কথার দু’রকম অর্থ আছে অভিবাসী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে। অমিত শাহ কথিত ওইসব বাংলাদেশীদেরকে ফেরত পাঠানোর একটিমাত্র মনোবাসনার কথা প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, যদি ২০১৯ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসে তাহলে তারা এটা করবেন। অভিবাসীদের প্রতি তার এমন মন্তব্যে ভারতবিরোধী সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে। সীমান্তজুড়ে হাসিনাবিরোধী লবি জোরালো হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মৌন সমর্থন রয়েছে এই পক্ষটির।
ওই সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, ভারত তিস্তার পানি বন্টনে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টিকে ব্যবহার করছে এই পক্ষটি। বিশেষ করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জামায়াতে ইসলামী। এমন অবস্থায় অভিবাসীদের আঘাত করার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের প্রেসিডেন্ট অনিচ্ছাকৃতভাবে ভারতের বিরুদ্ধ শক্তির পক্ষে কথা বলেছেন।
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাসের মতো সময় বাকি। অপেক্ষাকৃত ধর্মনিরপেক্ষ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে এসব শক্তি চেষ্টা করছে বলে বলা হয়। ২০১৩ সালের শেষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে শেখ হাসিনার সরকার। সুনিশ্চিতভাবে বলা যায়, অমিত শাহ যে মন্তব্য করেছেন তাতে এই ডিসেম্বরে ক্ষতি হতে পারে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের। কূটনৈতিক ভাষায়, এটা হলো নিজের পায়ে নিজে গুলি করার মতো ঘটনা।
দুঃখজনক হলো যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যখন ব্যতিক্রমভাবে উন্নত, বিশেষ করে সম্প্রতি রেল সংযোগ ও অবকাঠামো খাত নিয়ে প্রকল্প উদ্বোধনের পর সেই সম্পর্ক আরো বেড়েছে, ঠিক তখনই এমন মন্তব্য করে বিতর্ককে উস্কে দিয়েছেন অমিত শাহ। নির্বাচনের প্রাক্কালে, এতে নিজের দেশের বিষয় বাদ দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সহজ হবে না।
সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, এটা জোরালোভাবে বলা যায় ইস্যুটি খুব আবেগঘন। যে দেশটি তার নিজের দলকে দেশে সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করছে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে অমিত শাহের এমন মন্তব্য বন্ধ করার মতো কোনো আহ্বানও আসে নি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শালিনতাবোধ প্রত্যাশা করাটা খুব বেশি চাওয়া হতে পারে, তবে নিশ্চয় শুভবুদ্ধির উদয় হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ পরিস্থিতি শান্ত করতে ভাল কিছু করবেন।

নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন আমাদের রুখতেই হবে by আব্দুল আলীম

বিকল্প ধারা বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নিয়ন্ত্রিত কোনো নির্বাচনে যেতে চাই না বলেই জাতীয় ঐক্য করেছি। এই ধরনের নির্বাচন আমাদেরকে রুখতেই হবে। সরকার নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান পরিবর্তন করে এখন বলছে সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা যাবে না। কিন্তু এই সংবিধান সংশোধন করতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগবে। শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের চলমান রাজনীতি, আগামী জাতীয় নির্বাচন, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। বি. চৌধুরী বলেন, সামনে একটি জাতীয় নির্বাচন। এমন অবস্থায় দেশে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই।
সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম তো করতেই হবে। তাই এই বয়সেও দিন-রাত কর্মসূচিতে যোগ দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে ঘোষণা দিয়েছি। বলেছি- নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। শুধু ভেঙে দিলেই হবে না। নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনো দলীয় লোক দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গ্রহণযোগ্য হবে না। অতএব নিরপেক্ষ একটি সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। বর্তমান সরকার সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করতে চাইছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ আসনে যারা সংসদ সদস্য তারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। অনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংশোধন করেছেন। তাই এই সংবিধান তাদেরকেই সংশোধন করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার সংবিধানে পুনর্বহাল করতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগবে। সংসদ অধিবেশন ডেকে এটা পাস করলেই হবে। অতীতে এমন নজির রয়েছে।
জাতীয় ঐক্য গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন যেন না হয়, সে জন্য আমরা ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য করেছি। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমাদের এই জাতীয় ঐক্য। এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে কর্মসূচি দেবো। সেটা নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন, আমরা ভোট ছাড়া কোনো নির্বাচনে যাবো না। যেভাবে এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কয়েকদিন আগে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও গাজীপুরে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের আগের রাত থেকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচনে যারা এজেন্ট তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমন কারসাজির কোনো নির্বাচন জনগণ আর দেখতে চায় না। আমরাও এমন কোনো নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে যেতে চাই না। এই ধরনের নির্বাচন আমাদেরকে রুখতেই হবে। দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান রেখে বি. চৌধুরী বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন চাই। বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের আগে সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। আমাদের আহ্বান থাকবে এসব দাবিতে দেশবাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
উপমহাদেশের খ্যাতিমান চিকিৎসক ও প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন। ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। এর কিছুদিন পর ২০০১ সালের নভেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। এ ছাড়া তিনি একজন লেখক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, উপস্থাপক এবং সুবক্তা। তিনি ২০০২ সালে এক বিতর্কিত ঘটনার জের ধরে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে তিনি নিজে বিকল্প ধারা বাংলাদেশ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট আর মাত্র কয়েকদিন পরই ৮৯ বছর বয়সে পা রাখবেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী বি. চৌধুরী ১৯৩০ সালের ১১ই অক্টোবর কুমিল্লা শহরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেনি by হাফিজ মাহমুদ

পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের দৌরাত্ম ও সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটেছে একের এক সড়ক দুর্ঘটনা। রীতিমতো হ-য-ব-র-ল অবস্থা তৈরি হয়েছিল সড়ক ব্যবস্থাপনায়। চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজপথে নেমে এসেছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা দেশব্যাপী শুরু করেছিল টানা আন্দোলন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। হঠাৎ করেই রাজধানীতে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেয় পুলিশ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসে ১৭টি নির্দেশনা। সংসদে পাস হয় সড়ক পরিবহন আইন। সর্বশেষ সেপ্টেস্বর মাসব্যাপী ডিএমপির ট্রাফিক সচেতনতা দিবস পালন।
সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্কাউটস, বিএনসিসি সদস্যদের পুলিশের কাজে সহযোগিতা। এরই মধ্যে ডিএমপির ট্রাফিক সচেতনতা দিবসও শেষ হতে চলছে। এরপরেও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় ফিটনেসবিহীন বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কর্মকর্তা। একই সময়ে ফার্মগেটে চলন্ত বাসে উঠতে গেলে পা পিছলে বাসের নিচে চলে যান এক নারী। যাত্রীদের চিৎকারে চালক ব্রেক কষে বাস থামালে প্রাণে রক্ষা পায় ওই নারী। গতকাল সরজমিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এবং সাধারণ মানুষ, পথচারী, চালক-চালকের সহকারী, পরিবহন মালিকদের ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে রাজধানীর সড়কের নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। কিছু পয়েন্টে পরিবহনকে আইন মানতে দেখা গেলেও অধিকাংশ স্থানে দেখা গেছে তাদের বিশৃঙ্খলার চিত্র।
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে লক্ষ্য করা গেছে সড়কে ভিন্ন চিত্র। পূর্বের থেকে এখানে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। নির্দিষ্ট সিগন্যাল ছাড়া গাড়ি থামছে না। পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছে। কেউ সড়ক থেকে যেতে চাইলে তাদের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা বাধা দিয়ে ফুটপাথ-ওভারব্রিজ দিয়ে চলতে বাধ্য করাচ্ছে। এখানে ট্রাফিক পুলিশের চারজন সদস্য একজন সার্জেন্ট ও একজন ইন্সপেক্টর কাজ করছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী রয়েছেন ৪০ জন। এত কিছুর পরও এখানে অনেক গাড়ি চলছে বেপরোয়া। পুলিশ দেখলেই দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে। তাছাড়া যাত্রী তুলছে-নামাচ্ছে যত্রতত্র। এখানে কথা হয় স্কাউট সদস্য আল-আমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন-কানুন মেনে চলতে সচেতন করি। ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারের আহ্বান জানাই। অনেকেই আমাদের কথা শুনে সড়কে চলেন না। তবে কিছু মানুষ আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। তারপরও আমরা মনে করি মানুষ আগের থেকে এখন অনেক সতর্ক। তারা আইন মানছেন।
১০ নম্বর গোলচত্বরে ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন মো. নিজামুদ্দিন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ট্রাফিকের জনবল কম। সড়কের অবস্থাও খারাপ। এ কারণে আমরা সফল হচ্ছি না। যেখানে একটা ক্রসিং দিয়ে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বাস যেতে পারে, সেখানে ২০ থেকে ২৫টি বাস একসঙ্গে চলে আসে। এ কারণে শৃঙ্খলা পুরোপুরি ফিরছে না। তবে এখন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ঠিক হয়েছে। এছাড়া গাড়ির চালক-তার সহকারীরাও দিন দিন সতর্ক হচ্ছে। কারণ পুলিশ কোনভাবেই ছাড় দিচ্ছে না। পুলিশের কঠোর মনোভাবের কারণে তারা সড়কে আগের থেকে বেশি নিয়ম মানছে। তিনি আরো বলেন, বৈধ কাগজ থাকার পরও প্রায় প্রতিটি গাড়ির ও তার চালকের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেই।
তবে মিরপুর ১০ নম্বরের চিত্র সড়কের অন্য কোথাও তেমন চোখে পড়েনি। যেসব জায়গায় পুলিশ রয়েছে শুধু সেখানেই চালক এবং তার সহকারীরা কিছুটা সতর্ক রয়েছে। বাকি সড়কে আগের অবস্থাই তারা যাত্রী উঠাচ্ছে-নামাচ্ছে। তারপরে নির্দিষ্ট স্টপেজেও গাড়ি থামছে না। যেখানে স্টপেজ তার থেকে এক দুইশ গজ আগে-পরে গাড়ি থামছে। লোকজনও দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখানে। আর নির্দিষ্ট স্টপেজে দেখা যায় রিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহন থামাতে। রাজধানীর কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড। এখানে ডিএমপির নির্দিষ্ট বাস স্টপেজের সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে ইবনেসিনা মেডিকেল কলেজের সামনে। অথচ বাস থামছে তার অনেক সামনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে। কোনো বাসই থামছে না নির্দিষ্ট স্টপেজে। এখানে পুলিশ থাকলে তারা দেখেও দেখছে না। একই চিত্র দেখা গেছে শ্যামলী, শিশুমেলা, কলেজগেটসহ রাজধানীর অধিকাংশ বাস স্টপেজে। ডিএমপির ঠিক করে দেয়া নির্দিষ্ট স্টপেজে কেউ গাড়ি থামাচ্ছে না। এখানে প্রজাপতি পরিবহনের চালক মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমরা আইন মানতে চেষ্টা করি। যাত্রীরা নির্দিষ্ট স্টপেজে দাঁড়ায় না। যে কারণে আমরা নিয়ম মানতে পারি না। এছাড়া নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী নামাতে গেলেই তারা চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। বলেন, এত দূরে নিচ্ছেন কেন? আবার যেখানে স্টপেজ দেয়া সেখান থেকে যাত্রীও পাই না। একই কথা বলেন, নিউ ভিশন বাসের চালকের সহকারী নান্টু মিয়া। তিনি বলেন, আমরা যাত্রী তুলে দরজা বন্ধ করে দিতে চাই। যাত্রীরা অনেক সময় ঝগড়া করে দরজা খোলা রাখে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী পাই না বলেও দরজা খোলা রাখতে হয়। এরপরে আমাদের তো পুলিশ ছাড়েই না। একটু ভুল করলেই মামলা দেয়। তারা দেখে না ওইদিন আর কোন মামলা দিয়েছে কিনা। একই দিনে পুলিশ একটি গাড়িকে একাধিক মামলা দিলে আমরা কই যাবো।
তবে বাস মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করলে বাকিটা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিক হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাতে হলে সবার সহযোগিতা দরকার। কোনো এক পক্ষ যদি সহযোগিতা না করে তাহলে সম্পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরানো সম্ভব না। তারপরও তারা পরিবহন শ্রমিক, গাড়ি চালক ও সহকারীদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একটা অনিয়ম যাতে দীর্ঘদিন না চলতে পারে সে চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাতে মাঠে আমাদের চারটি টিম নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। অধিকাংশ পরিবহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরাতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ইতিমধ্যে ঢাকায় যেসব বাস চুক্তিভিত্তিক চালাতো তা বাতিল হয়েছে। তিনি জানান, চুক্তিভিত্তিক বাস চালানো বন্ধ না করায় পাঁচটি কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল করেছেন। আর ঢাকায় বাসগুলো কাউন্টার পদ্ধতিতে চলাচলের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের কাছে এজন্য চিঠিও দিয়েছেন। এ পরিবহন মালিক নেতা আরো বলেন, দুর্ঘটনার জন্য কেবলমাত্র পরিবহন চালকরা দায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সাধারণ মানুষও দায়ী। তারা ঠিকভাবে সড়কে ব্যবহার করেন না।
এছাড়া সেপ্টেম্বরের শুরুতে ডিএমপি কমিশনার এ মাসকে ট্রাফিক সচেতনতার মাস ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি ঢাকার সড়কে ১২১টি বাস স্টপেজ, ৪০টি চেক পোস্ট এবং নিরাপদ সড়কের জন্য জেব্রা ক্রসিংসহ বিভিন্ন বিষয় সাধারণ মানুষকে অবহিত করেন। এ সময় তিনি হেলমেটবিহীন কেউ মোটরসাইকেল চালাতে পারবে না বলেও ঘোষণা দেন। এছাড়া লেগুনা, হিউম্যান হলারসহ সব অবৈধ যানবাহনও বন্ধের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে কিছু সড়কে লেগুনা চলতেও দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে জেব্রা ক্রসিং চিহ্ন এবং সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। ঘোষিত ট্রাফিক সচেতনতা মাসের শেষদিকে এসে সড়কে শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিরাপদের সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরে ঢাকার ট্রাফিকের অনেকটা কাজ হয়েছে। আমরা বেশিরভাগ ঠিক করতে পেরেছি। ঢাকা শহরে ভালো বাস সার্ভিস চালু করতে পারলে শৃঙ্খলাটা আরো দ্রুত ফিরতো। আমরা বাস স্টপেজ নিয়ে কাজ করছি। যদিও এটা এখনো তারা মানছে না। আশা করি এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি বলেন, লক্কড়ঝক্কর বাসগুলো তুলে দেয়া হবে। আমরা আগের অবস্থায় কঠোর আছি। সড়কে আইনশৃঙ্খলার জন্য আমরা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখছি। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন দুই থেকে তিনি হাজার মামলা হয়। আর বিশেষ অভিযানের সময় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মামলা হয়। শুধু মামলা দিয়ে নয়, অন্যান্য সমস্যাও রয়েছে সেগুলো সমাধানের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাতে হবে।

কোটা বাতিলের রিপোর্টে যা বলা হয়েছে: মন্ত্রিসভায় উঠছে কাল by দীন ইসলাম

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা অনুযায়ী পদ পূরণের বিষয়টি জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা থাকলে প্রার্থী নির্বাচন ও ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়। কোটা পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে জটিলতার উদ্ভব হয়ে থাকে। এ জটিলতার সমাধান করতে অপ্রত্যাশিত সময় ব্যয় হয়। এ কারণে বর্তমানে প্রচলিত কোটা প্রয়োগ পদ্ধতির সহজীকরণ অপরিহার্য। বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার ও বাতিল করার জন্য গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগে কোটা পদ্ধতি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
কাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোটা সংস্কার পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্টটি আলোচনার জন্য উঠবে। এ রিপোর্টের ওপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার ও বাতিলের জন্য গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদনের একটি কপি মানবজমিনের হাতে এসেছে।
১৫ পৃষ্ঠার এ রিপোর্টটিতে ভূমিকা, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির পূর্বাপর পর্যালোচনা, কোটা সংস্কার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গঠিত কমিশন বা কমিটির রিপোর্টের পর্যালোচনা, বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ ও পর্যালোচনা এবং কোটা সংস্কার বিষয়ে কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। কোটা সংস্কার নিয়ে পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালের ১৭ই মার্চ সর্বশেষ কোটার হার নির্ধারণ করা হয়। এটা বর্তমানে বহাল রয়েছে।
পরে মুক্তিযোদ্ধার জন্য নির্ধারিত ৩০% কোটায় মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে পুত্র-কন্যার পুত্র- কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটাগুলোর মধ্যে যেকোনো কোটায় পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই কোটা থেকে ১% যোগ্য প্রতিবন্ধী প্রার্থী দিয়ে পূরণ করা হবে। কোটা পদ্ধতি সংস্কার রিপোর্টের শুরুতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রে কর্মচারী নিয়োগে সমতাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে সংবিধান প্রবর্তনের আগেই ১৯৭২ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর এক অফিস স্মারক জারি করা হয়। ওই স্মারকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের প্রজাতন্ত্রের কাজে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সমতাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কোটা পদ্ধতির সূচনা করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে কোটার হারের হ্রাস-বৃদ্ধি এবং নতুন কোটার সংযোজন এবং বিদ্যমান কোটার বিয়োজন করা হয়েছে। কোটা সংস্কার কমিটির আলোচনা সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ম ও ২য় শ্রেণির এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য কোটার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে এবং কোটার হারও ভিন্ন। কোটা সংস্কার রিপোর্টে বিভিন্ন সময়ে যেভাবে কোটা পদ্ধতি বাড়ানো বা কমানো হয়েছে তার উল্লেখ করা হয়েছে। কোটা সংস্কার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে যেসব কমিশন বা কমিটি গঠিত হয়েছে ওই সব কমিশন বা কমিটির রিপোর্ট বা প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা কমিটির সভায় আলোচিত হয়। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, রেগুলেটরি রিফরমস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকবর আলি খান এবং সাবেক সচিব কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ কর্তৃক পরিচালিত একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে মেধা কোটা ৪৫% থেকে ৫০% এ উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি প্রতি তিন বছর পর পর কোটা পদ্ধতি রিভিউ করার কথা বলা হয়। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কোটা পদ্ধতি সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং সাবেক সচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের মতামত নেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে কোটা সংস্কার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা হ্রাস বা বৃদ্ধি করা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। তাই লিভ টু আপিলের রায় এ বিষয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। এসব নানা রেফারেন্স উল্লেখের পর সরকারি চাকরিতে প্রবেশ নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা পদ্ধতি না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোটা পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানোর পর সেটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ প্রতিবেদনটিই কাল মন্ত্রিসভায় উঠবে। এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে চাকরি প্রার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ২রা জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরবর্তীতে আরো ৯০ কার্যদিবস সময় পায় এ কমিটি। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ওই দিন তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ওই দিন বলেন, আমাদের ফাইন্ডিংস হলো নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ আগে যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি বলা হতো, সেগুলো নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকবে না। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলোতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ হবে।

আত্মতুষ্টিতে থাকা যাবে না আত্মতুষ্টি মানেই পতন

আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আগামী নির্বাচনে প্রত্যেকটি আসনে বিজয় নিশ্চিতে একযোগে কাজ করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আত্মতুষ্টিতে না ভুগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, আত্মতুষ্টিতে থাকা যাবে না, আত্মতুষ্টিতে থাকা মানেই পতন। গতকাল গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিয়ে দেশে ফেরায় সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ সরকার এবং দলের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আগেও ছিল এবং এখনও এ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর পর থেকেই একটা বৈরী পরিবেশে আওয়ামী লীগ সংগ্রাম করে করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালে দলের ভেতরে ও বাইরে থাকা ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করে বলেন, একটি অংশ তাকে বাদ দিয়েই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল। আর এটা করতে গিয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ভুল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি বলেন, এদেশে একটা ষড়যন্ত্র সবসময়ই চলে আসছে যাতে আওয়ামী লীগ অথবা বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসতে পারে।
তাদের একটাই ভয়- তাহলো জনগণ সেই নেতৃত্বের ওপর ভর দিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটা সময়ে আমি দেশে ফিরেছিলাম যখন দেশে খুনিদের রাজত্ব চলছিল, যুদ্ধাপরাধীরাই দেশ চালাচ্ছিল। তারা আমার উপর হামলা চালিয়েও বেশ কয়েকবার প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আমাকে বাঁচিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই আমরা তিন তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছি এবং সুশাসনের মাধ্যমে দেশকে পরিচালনা করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন দেশের বর্তমান উন্নয়নের পেছনে দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে তাঁর সরকারের সুচিন্তিত এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক হয়েছে। আওয়ামী লীগ বিরোধীরা এখনও ভীষণভাবে সক্রিয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসক শ্রেণির উচ্ছিষ্টভোগী ও সুবিধাভোগীরা এখনও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছে। যদিও জনগণের মধ্যে তাদের কোন ভিত্তি নেই, কিন্তু তারা ক্ষমতা লিপ্সু। ক্ষমতার লোভে তারা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এবং খুনি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা এক শ্রেণির সংবাদপত্রের সমালোচনা করে বলেন, তার দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য নিয়ে কয়েকটি পত্রিকা বসেই আছে, জনগণকে তার সরকার সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার জন্য নির্বাচনের সময় তারা একটার পর একটা ছেড়ে দেবে।
দলের সফল নেতা ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে লেগেই থাকে অভিযোগ করে তিনি এদের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তারা শেখ হাসিনাকে তার ৭২তম জন্মদিনেরও শুভেচ্ছা জানান। ২৮শে সেপ্টেম্বর ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। সেদিন তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং এ সময়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্‌্ব নেতৃবৃন্দ এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখছে। জাতির পিতা নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, বাংলাদেশকে অধিষ্ঠিত করেছিলেন বিশ্বে মর্যাদার আসনে। যে কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে তিনি যেতেন সেখানেই তিনি থাকতেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু ’৭৫-এর ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর বাঙালি জাতি বিশ্বে সেই মর্যাদার আসনটি হারিয়ে ফেলে। আমরা সেই হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সবসময়ই সচেষ্ট ছিলাম তাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছি এবং দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে গেছি। আজ আমরা দাবি করতেই পারি যার অনেকটাতেই আমরা সফল হয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতার খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করে জাতির ললাটে লেপ্টে থাকা কালিমা দূর করেছি।
জাতির পিতা যেমনটি বলেছিলেন, ‘বাঙালিদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না, সেটা আজ বিশ্বে প্রমাণিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলকে পুনরায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে অনেক খুনি এবং বিশ্বসঘাতকের জন্মও এদেশে হয়েছে যারা এ মাটির সন্তান হয়েও বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে কখনও মেনে নিতে পারেনি। তারা একসময় পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিল এবং পাকিস্তানি প্রভুদেরই তারা দাসত্ব করতে চায়, তাদের বংশধররাও রয়ে গেছে, যারা এই ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ভোটের রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই এখন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের কথা বলেন, কিন্তু তারা জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোটের কথা ভুলে গেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। গত সাড়ে নয় বছরে উপ-নির্বাচন, পৌরসভা, মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ দেশে ছয় হাজারের বেশি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেউ এসব নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, নিউ ইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়া জাতির পিতার খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদান এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষে শান্তিপূর্ণ কূটনীতি পরিচালনায় অবদানের জন্য ইন্টারপ্রেস সার্ভিসেস নিউজ এজেন্সি এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন-এর কাছ থেকে পাওয়া দু’টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও এ সময় দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেন।

মাঠে গড়াচ্ছে রাজনীতি by লুৎফর রহমান

দ্রুত বদলাচ্ছে রাজনীতির হাওয়া। অনেকটা চার দেয়ালে বন্দি রাজনীতি ক্রমে মাঠে গড়াচ্ছে। সরব হচ্ছে ভোট আর জোটের রাজনীতি। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে বড় দলগুলো। বড় দলের সহযোগী হতে চায় এমন দলগুলোও তৎপর নিজেদের অবস্থান জানান দিতে। গত কয়েক বছর ধরে মাঠের রাজনীতিতে চলা ভাটা কাটছে অক্টোবর থেকেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ইতিমধ্যে মাঠের কর্মসূচি শুরু করেছে। বাম দলগুলোর জোটের কর্মসূচি শুরু হয়েছে আরো আগেই।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ও যুক্তফ্রন্ট বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার কর্মসূচি দিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন দাবি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবিও প্রায় অভিন্ন। এসব দাবি আর ইস্যুতে বৃহত্তর কর্মসূচির চিন্তা করছে দলগুলো। ঐক্য প্রক্রিয়া ঠিকঠাকমতো এগোলে চলতি মাস থেকে এক মঞ্চ থেকে কর্মসূচি আসতে পারে। টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিগত সময়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে ছুটছেন নেতারা। লক্ষ্য একটাই, মানুষের মন জয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন সতর্ক থাকতে।
আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকলে পতন অনিবার্য এমন বার্তাও দিয়েছেন নেতাকর্মীদের। জনগণের সামনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে তিনি নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর আরো আগে থেকে। গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিক গণসংযোগে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে তৃণমূল পর্যন্ত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে এই গণসংযোগ কর্মসূচির লক্ষ্য সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের সামনে তুলে ধরা। বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির বিপরীতে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার লক্ষ্যও রয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি মাঠের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে ১৪ দল। ঐক্য প্রক্রিয়ার নামে যেকোনো ষড়যন্ত্র মাঠেই মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছেন ১৪ দলের নেতারা। যদিও ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বলছেন, ১৪ দলের এমন বক্তব্য গণতন্ত্রের ভাষা নয়। ১৪ দলের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতিও রয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের।
৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেয়াসহ ৫ দফা দাবি মানতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। গত ২২শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের নাগরিক সমাবেশ থেকে দেয়া আল্টিমেটামের সময় শেষ হয়েছে রোববার। গতকাল জোটের পক্ষ থেকে একই দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৭ই অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হবে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়ায় যুক্ত যুক্তফ্রন্টের তিন দলও আলাদা কর্মসূচি পালন করছে। দলগুলোর কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সরকার ও বিরোধী জোটের বাইরে স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে কর্মসূচি পালন করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আট দলের এ জোট ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করছে। বিরোধী জোটের সঙ্গে একমঞ্চে না এলেও এ জোটের লক্ষ্য এবং দাবি অভিন্ন। বাম জোটও তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, সরকারের পদত্যাগ এবং আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারের ফায়সালা চায়। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিও রয়েছে এ জোটের। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি নিয়ে সম্প্রতি ইসি ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড হয়েছে পুলিশের বাধায়।
সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি রয়েছে সিদ্ধান্তহীনতায়। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচনে সরকারের পক্ষে থাকবেন নাকি বিরোধী জোটের দিকে ঝুঁকবেন এই প্রশ্ন দলের নেতাকর্মীদের মুখেই। তারাও জানেন না নির্বাচন নিয়ে জাপার অবস্থান কি। দুটানায় থাকলেও নানা কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে তৎপর রয়েছে জাপা। অসুস্থতা নিয়েও জাপা চেয়ারম্যান অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন কর্মসূচিতে। যাচ্ছেন জেলা সফরে। দলটির সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরে দলীয় কর্মসূচি আরো জোরদার করা হবে। আপাতত একক কর্মসূচি নিয়েই মাঠে থাকবে জাপা। তবে জোটগত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হলে কর্মসূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে অক্টোবর থেকেই সরগরম হচ্ছে রাজনীতির মাঠ। উত্তপ্ত হচ্ছে মাঠের রাজনীতি।
গণসংযোগে আওয়ামী লীগ: জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল থেকে গণসংযোগ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল চারটি পৃথক টিম রাজধানীর পৃথক এলাকায় গণসংযোগ করে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কর্মসূচি বিস্তৃত হবে। ঢাকায় কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ ছাড়াও বিরোধী জোটের কর্মসূচি থেকে নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। গণসংযোগ কর্মসূচিতে মূলত সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারও এগিয়ে রাখতে চান নেতারা। দলীয় সূত্র জানায়, বিরোধী জোট যাতে এককভাবে মাঠ দখলে না রাখতে পারে সেজন্য ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দলের কর্মিসভা থেকে বিভাগীয় কর্মিসভা করার ঘোষণা দেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯ই অক্টোবর রাজশাহী, ১০ই অক্টোবর নাটোর ও ১৩ই অক্টোবর খুলনা সমাবেশ করা হবে। এ ছাড়া ঢাকায় মহাসমাবেশ করারও ঘোষণা দেয়া হয়।
বিএনপির কর্মসূচি: দীর্ঘ দিন পর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করে উজ্জীবিত বিএনপি। রোববারের এ সমাবেশ থেকে দলের সাত দফা কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। এ সাত দফা দাবি আদায়ে দুই দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে অক্টোবরে ধাপে ধাপে কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল সব জেলা শহরে সমাবেশ ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে। পরের দিন বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে আপাতত দলগত কর্মসূচি দেয়া হলেও সামনে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য হলে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি আসতে পারে। গত ১লা সেপ্টেম্বর নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ করে বিএনপি। এ সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম হয়। রোববারের জনসভায়ও দলের নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন সভা, সমাবেশ থেকে বিএনপির নেতারা মাঠের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের বলে আসছেন।
ঐক্য প্রক্রিয়ার নতুন কর্মসূচি: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঐক্য প্রক্রিয়া। এ দাবিতে আগামী রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিকাল চারটায় এ মানববন্ধন হবে। গত ২২শে সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশ থেকে সরকারের দাবি মানতে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে পাঁচ দফা দাবি না মানলে ১লা অক্টোবর থেকে কর্মসূচি দেয়ার কথা বলা হয় ওই সমাবেশের ঘোষণায়। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক আ ব ম মোস্তফা আমীন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে যুক্তফ্রন্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্না নেত্বাধীন নাগরিক ঐক্য পৃথক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে রয়েছে। এ দলগুলোর কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিচ্ছেন। ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার যে চেষ্টা চলছে চলতি মাসেই এর সফলতা আসতে পারে বলে নেতারা মনে করছেন। এজন্য বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বৃহত্তর ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। এ কমিটির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের দাবি ও লক্ষ্য চূড়ান্ত করে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা জানিয়েছেন, অভিন্ন দাবিতে এক মঞ্চ থেকেই সামনে কর্মসূচি পালন করা হবে।

কঙ্কাল শারপিন টিলায়, থেমে নেই পাথর লুট, ফের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

কোম্পানীগঞ্জের শারপিন টিলা এখন কঙ্কাল। বলতে গেলে শূন্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে কেবল দৃশ্যমান টিলা। এরপরও পাথরখেকো সিন্ডিকেটের লুটপাট থেমে নেই। এখনো দিন-রাতে চলছে বোমা মেশিন দিয়ে তাণ্ডব। আর এই তাণ্ডবে ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়েছে শারপিন টিলা। শ্রমিক মৃত্যুর মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সবাই। তবে- নীরব প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে- পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন শারপিন টিলা থেকে কোটি কোটি টাকার পাথর লুটপাট করা হচ্ছে।
বোমা মেশিন ব্যবহার করে অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে বিগত দিনে শাহ আরফিন টিলায় দুই দফা টিলা ধসের ঘটনা ঘটে।
ওই সময় টিলা ধসের ঘটনায় মারা যান হতদরিদ্র ৬ শ্রমিক। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টির পর ওই টিলায় পাথর উত্তোলন বন্ধে নজরদারি বৃদ্ধি করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে উক্ত থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ বায়েছ আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এমনকি বদলি করা হয় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম বিল্লাহকেও। অকল্পনীয় হলেও সত্য এত কিছুর পরও এখনো শাহ আরফিন টিলায় বোমা মেশিন দিয়ে ও টিলা কেটে পাথর উত্তোলন চলছে অবাধে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পাথরখেকোরা পাথর উত্তোলনে হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। এ অবস্থায় কিছুদিন পরপর ওই টিলায় টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করে কয়েকটি বোমা মেশিন আটকের পর ধ্বংসও করা হয়েছে। আবার প্রকৃত আসামিদের আড়ালে রেখে মামলা দেয়া হয়েছে অনেক নিরপরাধী ব্যক্তির নামে।
যা নিয়ে উপজেলায় সংশয় ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভের সঙ্গে জানান- উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের নীরবতাকে পুঁজি করে পাথরখেকোরা প্রতিদিন বোমামেশিন নামক দানবযন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সরকার হারাচ্ছে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব। বিগত কয়েকদিন শাহ আরফিন টিলায় পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও গত এক সপ্তাহ যাবৎ শাহ আরফিন টিলা ধ্বংসের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়া মূলহোতাদের নেতৃত্বে আবারো লুটপাট করা হচ্ছে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার পাথর। দীর্ঘদিন যাবৎ অপরিকল্পিতভাবে ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথরখেকো সিন্ডিকেট প্রধান ও সিন্ডিকেট সর্দারদের নেতৃত্বে চলছে বেপরোয়াভাবে বোমামেশিনে পাথর উত্তোলন। শাহ আরফিন টিলার মাটি মিশ্রিত পানি ও লাল মাটি পাথরখেকোরা যত্রতত্র ফেলার কারণে আশপাশের শতশত একর ফসলি জমি আজ পতিত ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বছরে একবারও সেখানে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না কৃষকদের পক্ষে। যে কারণে সাধারণ কৃষকরা পড়েছেন ব্যাপক বিপাকে।
হাসির বদলে মুখে যেন বিষাদের ছাপ নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন কৃষকরা। রীতিমতো অজানা দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে। শুধু তাই নয় বর্ষা মৌসুমে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে শাহ আরফিন টিলার কাদামাটির জন্য। হাজার হাজার জনসাধারণ পড়েন ব্যাপক ভোগান্তিতে। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত পাঠদান করতে পারে না। যে কারণে চরম দুশ্চিন্তায় ভোগেন তাদের অভিভাবকরা। সবকিছুর জন্য দায়ী পাথরখেকোদের প্রধান ও সর্দাররা। আর তাদেরকে বর্তমানে আশ্রয় দিচ্ছেন খোদ স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোয় সব ধরনের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন আদালত। এ ছাড়া ইতিপূর্বে শাহ আরফিন টিলাসহ তিনটি কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই শাহ আরফিন টিলা কেটে ও বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনে চলছে মহোৎসব।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে জয়ের স্ট্যাটাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি লিখেছেন, কিছু মহল থেকে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করা হচ্ছে। তাঁদের মূল আপত্তির জায়গা আইনটির বিশেষ কিছু ধারা। আইসিটি ডিভিশন যখন আইনটির খসড়াগুলো তৈরী করে তখন সেগুলো দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। সকলের সুবিধার্থে এই বিষয়ে আমার মতামত তুলে ধরছি:-
সরকারি অফিসের কম্পিউটারে হ্যাকিং এবং গোপনে নজরদারির ক্ষেত্রে আইনের দরকার জনগনের তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই। এই আইনের আগে হ্যাকিং ও তথ্য চুরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো আইনি ভিত্তি দেশে ছিল না। তাহলে এই আইনের সাহায্য ছাড়া কিভাবে হ্যাকিং ও তথ্য চুরির বিচার হবে? সরকারি কম্পিউটারে জনগণের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নাগরিকদের অনেক রকম তথ্য সংগৃহীত থাকে। ব্যাংক হিসাব, স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য, জমির রেকর্ড সবকিছুই আজকাল ডিজিটাইজ করে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এগুলো যদি হ্যাক করা হয়, তার দায়ভার কে নেবেন? দায় কিন্তু তখন সরকারের উপরই আসবে। তাই, তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে আমি এই আইন প্রণয়নের সুপারিশ করি হ্যাকিং ঠেকানোর জন্য।
শুধু তাই নয়, সরকারি অফিসে ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে জনগণের তথ্য সম্বলিত বিভিন্ন দলিল বা নথির ছবি বা ভিডিও তোলাও সম্ভব। গোপনে অডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমেও নাগরিকদের অনেক সংবেদনশীল তথ্যের আলোচনা শুনে ফেলা সম্ভব, এমনকি ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডও।
এর মাধ্যমে হয়তো একজন সাংবাদিকের কাজ কঠিন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কারো দুর্নীতি ফাঁস করার জন্য একজন সাংবাদিকের কি সরকারি অফিসের কম্পিউটার হ্যাক করে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য চুরির অধিকার থাকা উচিত ? পৃথিবীর কোনো দেশই কিন্তু বেআইনিভাবে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করার সুযোগ দেয় না, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও না। সরকারি অফিসে গোপনে নজরদারি করা সবদেশেই আইনবহির্ভূত, সাংবাদিকদের জন্যও। সাংবাদিকদের তাদের তথ্য অন্যান্য সূত্র থেকে জোগাড় করতে হয়। যেইসব কূটনৈতিক মিশন এই আইনটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তাদেরকে আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই: সাংবাদিকরা কি আপনাদের দূতাবাসের ভেতরে গোপনে নজরদারি করার যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে পারবেন? আরেকটি আপত্তির জায়গা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ নিয়ে যে ধারাটি, সেটি নিয়ে। আমরা দেখেছি কিভাবে ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ এর পর বিএনপি জামাত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ঘটনাবলিকে বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। এই বিকৃতিকরণের পেছনে কারণ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানানো ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতিষ্ঠিত করা। এইসবের বিরুদ্ধে কি কোনো আইন থাকা উচিৎ নয় ? আমরা কি ভবিষ্যতে আবারও এই অপরাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই ? আইনটির এই ধারার বিরুদ্ধে যারা বলছেন তারা আসলে বাঙালি নন। তারা গোপনে জামাত সমর্থক রাজাকার।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হলোকাস্ট ডিনায়াল আইনের উপর ভিত্তি করেই এই ধারাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৬টি ইউরোপিয়ান দেশে হলোকাষ্টে “স্বীকৃত সংখ্যা” থেকে কম মানুষ মারা গিয়েছে এই কথা বললেও কারাদ- দেয়া হয়। এর মধ্যে অনেক দেশ আছে যাদের দূতাবাসগুলো বাংলাদেশে আমাদের এই আইন নিয়ে আপত্তি তুলেছে।
যেইসব ইউরোপিয়ান দূতাবাসগুলো আমাদের এই আইন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন: আপনাদের হলোকাস্ট ডিনায়াল আইন থাকতে পারলে আমাদের কেন একইরকম আইন থাকতে পারবে না ? আমাদের আইন যদি জাতিসংঘ সহ অন্যান্য মানবাধিকারের মানদন্ডের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে আপনাদেরগুলো কিভাবে হয় ? এই ধারাটিতে কোনো ধরণের সংশোধন সম্ভব না।
এই আইনের কিছু অংশ অনলাইনে মিথ্যা বা গুজবের মাধ্যমে সহিংসতা বা ধর্মীয় উন্মাদনা উস্কে দেয়ার বিরুদ্ধে। আপনাদের মনে আছে, রামুতে, ফেসবুকে পবিত্র কোরানের পুড়িয়ে দেয়ার মিথ্যা পোস্টের মাধ্যমে পুরো একটি বৌদ্ধ অধ্যুষিত গ্রামে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা আমাদের দেশে একাধিকবার ঘটেছে। অতিসম্প্রতি ছাত্রদের আন্দোলনের সময়ও আমরা দেখেছি কিভাবে অনলাইনে গুজব রটানোর মাধ্যমে সহিংসতা উস্কে দেয়া হচ্ছিলো। এই আইন ছাড়া আমরা এই ধরণের সহিংসতা উস্কে দেয়ার ঘটনাগুলো কিভাবে প্রতিহত করবো?
আমাদের প্রচলিত ফৌজদারি আইনে এই বিষয়ে কিছুটা বিধান আছে। সেই আইনের আওতায় আপনি যদি এমন কিছু বলেন বা লিখেন যার কারণে কেউ অন্য কাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করে, তখন আপনার বিরুদ্ধে সেই আইনে ব্যবস্থা নেয়া যায়। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না থাকলে আপনাকে আসলেই কেউ হতাহত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের কি হতাহতের ঘটনা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ ? নাকি এই ধরণের ঘটনা যাতে ঘটতেই না পারে সেই দিকে মনোযোগ দেয়া উচিৎ? এই ধরণের আইন পৃথিবীর সব দেশেই বিদ্যমান, যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। অনেক ইউরোপিয়ান দেশে, বিদ্বেষ ছড়ানো ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার বিরুদ্ধে আইন আছে, আমাদের এই আইনও সেইরকমই।
আরেকটি আপত্তির বিষয় যা শোনা যাচ্ছে তাহলে এই আইনের আওতায় অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য যে কাউকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে ও তল্লাশি চালানো যাবে। ওয়ারেন্ট এর প্রয়োজন তখনই পরে যখন অপরাধ ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। কোনো অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় ঘটনাস্থল থেকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার ও তল্লাশি চালানো যায়। এটা ফৌজদারি আইনের মৌলিক বিষয় আমাদের দেশ সহ সব দেশেই। আপনি যদি কোনো চুরির বিষয়ে অভিযোগ করতে পুলিশকে ফোন করেন, পুলিশ কি তখন ওয়ারেন্ট এর জন্য বসে থাকে নাকি তাৎক্ষণিকভাবে চোরকে গ্রেফতার করে চুরির মালামালের খোঁজে তল্লাশি চালাবে? ঠিক সেভাবেই পুলিশ যদি অনলাইন হ্যাকিং সম্পর্কে তথ্য পায় ও হ্যাকারের অবস্থান খুঁজে পায়, তাহলে ওয়ারেন্ট এর জন্য অপেক্ষা করা উচিৎ নাকি তাৎক্ষণিক তাকে থামানো উচিৎ?
যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশিরভাগ দেশেই পুলিশ যদি কাউকে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সময় অনলাইনে ট্র্যাক করতে পারে, তাহলে তাকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে ও তল্লাশি চালাতে পারে। শুধুমাত্র অপরাধ সংগঠিত হয়ে যাওয়ার পর যদি গ্রেফতার বা তল্লাশি চালাতে হয়, তখন ওয়ারেন্ট এর প্রয়োজন পরে। অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় ধরা পড়লে কখনোই ওয়ারেন্ট এর প্রয়োজন পরে না।
সর্বশেষ, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা নিয়ে যে ধারা সেটা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। আমি একমত, এখানে আসলে আদালতকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সত্য আর মিথ্যা নির্ণয় করার। কিন্তু, এই ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস। প্রেস ক্লাব, সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের কোনো সংগঠনই কিন্তু তাদের নিজেদের নৈতিকতার সনদ বা আচরণবিধি প্রয়োগ করতে পারেননি। সম্পাদক পরিষদের বর্তমান প্রধান মাহফুজ আনাম, যিনি টেলিভিশনের পর্দায় স্বীকার করেছেন ১/১১ এর সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচারের কথা।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে হলে তাকে বাধ্য করা হতো সাংবাদিকতা পেশা থেকে পদত্যাগ করতে। শুধু তাই নয়, তাকে আর কোনোদিন সম্পাদক বা সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতো না। বাংলাদেশে কিন্তু সম্পাদক পরিষদ উল্টো তার পক্ষ নিয়েই তাকে তাদের জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত করেছে। বিষয়টি আমাকে অবাক করে। যেহেতু, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র মিশন এই আইন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে, আমি আশা করবো তারা মাহফুজ আনামের স্বীকারোক্তির পরেও একটি প্রথম সারির পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত থাকা নিয়েও তাদের মতামত জানাবেন। তা নাহলে, তাদের কার্যকলাপ হবে একপেশে ও আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার শামিল।
এই বিষয়টিকে থেকে আমরা সম্পাদক পরিষদের নৈতিকতা সম্পর্কে কি ধারণা পাই? পরিষ্কারভাবেই, তাদের নৈতিকতা বলে কিছু নেই। বস্তুতঃ সম্পাদক পরিষদ বলতে চায়, তাদেরকে সরকারের বিরুদ্ধে নোংরা, মিথ্যা প্রচারণা চালাতে দিতে হবে এবং সত্য অবলম্বন না করেই তাদের অপছন্দের রাজনীতিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে দিতে হবে। তারা যদি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এমন পরিকল্পনা করেন, তাহলে দেশের ভবিষ্যত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?
যেহেতু গনমাধ্যমের সম্পাদকেরা তাদের নিজেদের তৈরি নৈতিক নির্দেশনাই মানতে রাজি নন, তাহলে আমরা সত্য-মিথ্যা নির্ধারনের ভার আদালতের হাতেই তুলে দেই। গ্রেফতার মানেই জেল নয়। সরকারের প্রমান করতে হবে যে আসামী জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্রমানের দায়ভার সরকারের। যেসকল সাংবাদিকের মিথ্যা সংবাদ ছাপানোর উদ্দেশ্য নেই, তাদের ভয়েরও কিছু নেই।
সম্পাদক পরিষদ যদি এসকল ধারার সংশোধন চান, তাহলে তাদের নিজেদের নৈতিকতার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। যে সম্পাদক বা সংবাদকর্মী মিথ্যা সংবাদ ছেপেছেন, তাকে অবশ্যই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনদিন সংবাদ তৈরি বা প্রচারের কাজ করতে না পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

চীনা ঋণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ইমরান খান by অনিম আরাফাত

চীনের প্রস্তাবিত সিল্ক রোড প্রকল্পের জন্য দেশটির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ নিয়েছে পাকিস্তান। নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইতিমধ্যে চীনা ঋণের বিষয়ে নিজের উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন। ঔপনিবেশিক আমলের আরব সাগর থেকে হিন্দুকুশ পর্বতমালা পর্যন্ত দীর্ঘ রেল লাইনকে পুনরায় ঢেলে সাজানোর জন্য প্রায় ১০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে দেশটি। প্রজেক্টের একটা বড় অংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল চীন। কিন্তু চীনের ঋণের ফাঁদে আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় পিছু হটতে শুরু করেছে পাকিস্তান।
এ রেল যোগাযোগ মেগাপ্রজেক্ট পাকিস্তানের বন্দর নগর করাচি ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারকে যুক্ত করবে। এটি চীনের প্রস্তাবিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রজেক্টের অংশ। কিন্তু ইসলামাবাদ এ প্রজেক্টের ব্যয় ও অর্থায়নগত বিষয়ে আটকা পরে রয়েছে।
পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার পাকিস্তানকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন বলেই এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করেন বিশ্লেষকরা। তিনি চীনের ঋণের বিষয়ে মুখ খুলেছেন এবং পাকিস্তানের জন্য এ ঋণ যে ফাঁদ হতে পারে সেটা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তানকে অবশ্যই বৈদেশিক ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে হবে। দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী খুশরো বখতিয়ার বলেন, আমরা পাকিস্তানকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তাই নতুন কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আমরা ঝুঁকি নিতে পারি না।
দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে চীনা ঋণের বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশগুলোর নানা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে চীন এবং আরো বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে চলেছে। এ নিয়ে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলোর নতুন ক্ষমতা পাওয়া সরকারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে চীনের সিল্ক রোড প্রকল্প থেকে বেরিয়ে এসেছে মাহাথির মোহাম্মদের নতুন মালয়েশিয়া সরকার। মাহাথির বলেছেন, তার দেশ বড় প্রকল্পগুলোতে সমপ্রতি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এগুলো যাচাই বাছাই ছাড়া তার সরকার নতুন কোনো প্রজেক্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
এ বিষয়ে ইমরান খানের নতুন সরকারের মধ্যেও উদ্বিগ্নতা দেখা গেছে। ইতিমধ্যে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা বিআরআই প্রকল্পের সব কন্টাক্ট পুনঃবিবেচনা করে দেখতে চায়। দেশটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চুক্তিগুলো করার সময় নিজ স্বার্থ নিশ্চিত করে দর কষাকষি হয়নি। একইসঙ্গে তারা বলছে, প্রকল্পটি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও এ থেকে চীন একতরফা সুবিধা পাবে। তবে, ভিন্নমত রয়েছে পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের মধ্যেও। দেশটির একজন মন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। চীন ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্র পাকিস্তানে বিনিয়োগে আগ্রহী না। আমরা এখন কী করতে পারি? পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিং রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিআরআই প্রজেক্ট নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
চীন অবশ্যই পাকিস্তানের নতুন সরকারের চাহিদাগুলো পূরণ করবে। পারসপারিক আলোচনার মাধ্যমেই এ প্রজেক্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে ২০১৭ সালে পাকিস্তান চীনের প্রস্তাবিত একটি বড় বাঁধ প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছিল। হিমালয়ে একটি বাঁধ নির্মাণে ১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয় চীন। কিন্তু প্রকল্পে চীনের বিশাল বিনিয়োগ পাকিস্তানকে উদ্বিগ্ন করেছিল। দেশটির ধারণা ছিল এ ধরনের মেগা প্রজেক্টের ব্যয় বহনের ক্ষমতা পাকিস্তানের নেই।
আশঙ্কা ছিল, যদি যথাসময় ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে হয়ত শ্রীলঙ্কার বন্দরের মতো পাকিস্তানও একটি জাতীয় সমপদ হারাবে। বর্তমান সরকারও চীনের ঋণকে ফাঁদ মনে করছেন। চীনের ঋণ পরিশোধে পাকিস্তানের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান ইমরান খান। তিনি দাবি করেছেন, তার পূর্বসূরি নওয়াজ শরিফ দেশের মাথায় ব্যাপক ঋণের বোঝা চাপিয়ে গিয়েছেন। তাই চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্পে অনুদান নিয়ে তার সরকার কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়।
(রয়টার্সে প্রকাশিত সাংবাদিক ড্রাজেন জরজিকের বিশ্লেষণ অনুসারে)

সুদের টাকা ফেরত না দিতে আছিয়াকে খুন করি -সিলেটে তিন ঘাতকের স্বীকারোক্তি

লেগুনার কাগজ বন্ধকি রেখে আছিয়ার কাছ থেকে সুদে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিল চালক সুমন। কিন্তু ওই টাকা সে দিতে পারছিল না। আর টাকা পরিশোধ না করায় আছিয়া দিচ্ছিলেন না কাগজ। এ কারণে সুমনের নেতৃত্বে কয়েকজন সিলেটের মোগলাবাজারে আমেরিকা প্রবাসীর কেয়ার টেকার আছিয়াকে খুন করে। সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিকালে এসব কথা জানিয়েছে তিন ঘাতক। তারা জানায়- ‘সুদের টাকা ফেরত না দিতে আছিয়াকে গলাটিপে খুন করি। এরপর লেগুনার কাগজসহ বাসা লুট করে চলে যাই।’ রোববার বিকালে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম তিনজনের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। স্বীকারোক্তি শেষে সন্ধ্যায় তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আজবাহার শেখ।
তিনি জানান, তার নেতৃত্বে ও মোগলাবাজার থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ থানার পুলিশদের নিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোববার ভোরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। এরা হচ্ছে- মোগলাবাজার থানার রাঘবপুর গ্রামের নুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল বাছিত, একই থানার তুরখকলা গ্রামের মাওলানা আকবর আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহাদি ও বিন্নাকান্দি গ্রামের মৃত ইনসান আলীর ছেলে কামিল আহমদ। আটকের পর তিনজনই ডাকাতি করে মালামাল লুট করে আছিয়া বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তাছাড়া আটকের সময় আব্দুল বাছিতের কাছ থেকে প্রবাসীর বাড়ির লুণ্ঠিত ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। মো. আজবাহার শেখ আরো জানান, মোগলাবাজার থানার হরগৌরি গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী আবু বক্কর এর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন জৈন্তাপুর থানার চিকনাগুল পানিছড়া গ্রামের মাখন মিয়ার স্ত্রী আছিয়া বেগম। তার পূর্ব পরিচিত ছিল হরগৌরি গ্রামের সুমন। সেই সুমন পেশায় একজন লেগুনা চালক ছিল। আর নেতৃত্বেই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করে খুন করা হয় আছিয়া বেগমকে। তিনি জানান- আদালতে তিন আসামি তাদের স্বীকারোক্তিতে বলেছে, তারা তিনজনই ছিলেন লেগুনা চালক সুমনের বন্ধু। আছিয়া বেগম সুদের ব্যবসা করতেন। সুমন মাঝে মধ্যে তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিত। কিন্তু সুমন যে লেগুনা গাড়ি চালায় তার সেই গাড়ির সকল কাগজ আছিয়া বেগমের কাছে জমা রেখে সুমন বিশ হাজার টাকা সুদ নেয়। সুদ নেয়ার পর থেকে সুমন আর সুদের লাভের টাকা বা মূল টাকা ফেরত দেয়নি আছিয়া বেগমকে। এ নিয়ে আছিয়া বেগম সুমনকে বার বার টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু সুমন টাকা দেয়নি। গত ২২শে সেপ্টেম্বর সুমনের সঙ্গে আছিয়ার দেখাও হয় এবং গাড়ির কাগজ ফেরত দিতে বলে। সেদিন তার সঙ্গে আরো দুই বন্ধু ছিল। পরদিন ২৩শে সেপ্টেম্বর সুমন ও আটককৃত তিনজনসহ মোট পাঁচজনকে নিয়ে আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে যায় মূল অপরাধী সুমন। সেখানে গিয়ে তার চার বন্ধুকে ঘরে প্রবেশ করায় এবং আটককৃত তিনজনসহ মোট ৪ জন আছিয়াকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরবর্তীতে সুমন ঘরে প্রবেশ করে তার গাড়ির কাগজ ছিনিয়ে আনে ও আছিয়া বেগমকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।

আমিনীপুত্র বললেন সবই জল্পনা by জাবেদ রহিম বিজন

মহাজোটে যোগ দেয়া এবং প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিকে শুধুই জল্পনা-কল্পনা বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান এবং হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী। এ নিয়ে ধারণা করেই একেকজন একেক রকম কথা বলছেন জানিয়ে তিনি বলেন- এর স্পেসেফিক কোনো কারণ দেখাতে পারবে না কেউ। জল্পনা-কল্পনা একটা কারণ থেকে হয়, এটা কারণেরও বাইরে। তবে ইসলামের ভালোর জন্য কারো সঙ্গে যদি জোট করতে হয় সেটি তারা করবেন বলে জানান। সবকিছুই হবে তাদের মজলিশে শূরা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সিদ্ধান্তে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের যেকোনো একটিতে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে হাসনাত আমিনী এমন আলোচনা প্রবল গত একবছরের বেশি সময় ধরে। গতকাল রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সাংগঠনিক সভা শেষে মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাতকারে এ বিষয়ে মুখ খুলেন হাসনাত। এই দুটি আসনেই তার প্রচার-প্রচারণা রয়েছে।
২০০১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৪ দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন হাসনাতের পিতা ফজলুল হক আমিনী। আর হাসনাত একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন এমন আলোচনা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এর পাশাপাশি সদর আসন থেকেও তার প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে ইদানীং। গত দু-সপ্তাহ ধরে সদর আসনে তৎপর তিনি। এই সময়ে সদরের নন্দনপুর, বুধল, দারমা ও সুতিয়ারায় গণসংযোগ করেন হাসনাত। গতকাল শহরের কাজীপাড়ার সৈয়দুন্নেছা মাদরাসায় সাংগঠনিক সভা করেন তিনি। এতে জেলা ইসলামী ঐক্যজোটের কমিটি করা হয়।
৬১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হাফেজ মো. ইদ্রিসকে, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বোরহান উদ্দিন কাশেমী। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- মুফতি এনামুল হাসান, মাওলানা মেহেদী হাসান, কাওসার মোল্লা প্রমুখ। জেলার ভোট রাজনীতিতে আলোচিত হয়ে উঠেছেন হাসনাত। আবুল হাসনাত আমিনী বলেন- আগে তারা ২০ দলে ছিলেন। তখন তাদের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার গঠন করবেন তারা। কিন্তু দুটি বিষয়ে তাদের রাখা হলেও তৃতীয় বিষয়টিতে রাখা হয়নি। এরপর আর কারো সঙ্গে জোট করেননি তারা। একা নীতিতেই চলছেন। বলেন ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা চলছে। তাদের সঙ্গে আমাদের ঐক্য হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কারো সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেই। তবে ইসলামের ভালোর জন্য কারো সঙ্গে জোট করতে হলে সেটি তারা করবেন বলে জানান হাসনাত। সে বিষয়ে মজলিশে শূরা ও সারা দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামারা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। এটা আমার বিষয় না। হাসনাত বলেন, আমাদের প্রতীক মিনার। তবে জোটের স্বার্থে অন্য দলের প্রতীক নিতেও আপত্তি থাকবে না জানিয়ে বলেন, যখন ২০ দলে ছিলাম তখন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছি। এখন কোনো জোটে গেলে তাদের প্রতীক নিলে যদি ভালো হয় জোটের স্বার্থে সেটি করতে হবে। তবে আমাদের প্রতীক মিনার। জোটে গেলে তাদেরকে বলবো তোমরা আমাদের মার্কা নেও। এর কারণ হচ্ছে এদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ মুসলমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিনার প্রতীকে ভোট দেবে। এতে কেউ কার্পণ্য করবে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তার নির্বাচন করার বিষয়ে এখানকার আলেম-উলামারা সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি। বলেন তারা যে আসন থেকে আমাকে নির্বাচন করতে বলবেন সেখান থেকেই নির্বাচন করবো আমি। আমার বাবাকে সারা দেশের উলামায়ে কেরামগণ পছন্দ করতেন। সেই সুবাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলেম-উলামারা আমাকে চান।

একটা বই নিয়ে তাদের এত ভয় কেন? -বিবিসিকে বিচারপতি সিনহা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিবিসিকে বলেছেন, এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেমোক্রেসি’ বইটি তিনি নিজে লিখে নিজের উদ্যোগে প্রকাশ করেছেন, অন্য কারো এতে কোনো ইন্ধন নেই।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বইটি প্রকাশের পেছনে অনেকের ইন্ধন, উদ্যোগ এবং সাহায্যের যে কথা খোলাখুলি বলেছেন, বিচারপতি সিনহা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
‘প্রধানমন্ত্রী যদি জানেন, তাহলে তা প্রকাশ কেন করছেন না? সাংবাদিকদের তা বের করতে বলছেন কেন?’
বিচারপতি সিনহা বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় লেখা নিয়েও তাকে একই ধরনের কথা শুনতে হয়েছে। ‘তারা কখনো বলেছে আইএসআই এই রায় লিখে দিয়েছে, কখনো বলেছে ড. কামাল হোসেন লিখে দিয়েছেন। আবারো এখন এই বই নিয়ে একই প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, বইটিতে তার ব্যক্তিগত সব অভিজ্ঞতা তিনি লিখেছেন যেটা অন্য কারো পক্ষে লিখে দেওয়া সম্ভব নয়। ‘বইটিতে কিছু ভুল রয়ে গেছে, মুখবন্ধে আমি তার জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছি। অন্য কেউ যদি এডিট করে দিত, তাহলে এই ভুলগুলো থাকতো না।’
‘আসলে স্বৈরশাসনে যারা মনোনিবেশ করেন, হিটলারের ইতিহাস যদি দেখেন, তার গোয়েন্দারা মিথ্যাকে সত্য বানানোর চেষ্টা করতো। সরকারের যে সব বাহিনী এখন আছে, তাদের কথাই এখন প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) মুখে ফুটে ওঠে।’
‘উনি কেন এত ভয় পাচ্ছেন, এটা তো আত্মজীবণীমুলক একটি বই।’
বিচারপতি সিনহার বইটি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার ঢাকায় বলেন, ‘ক্ষমতা হারানোর জ্বালা থেকে বিচারপতি এস কে সিনহা বই লিখে মনগড়া কথা বলছেন। ক্ষমতায় যখন কেউ থাকে না, তখন অনেক অন্তরজ্বালা বেদনা থাকে। এই অন্তরজ্বালা থেকে অনেকে অনেক কথা বলেন।
উনি প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায়, এখন যা বলছেন বইতে, সেটা বলার সাহস কেন একজন বিচারপতির থাকে না - এটা নৈতিকতার প্রশ্ন,’ বলছেন মি. কাদের।
রাজনৈতিক আশ্রয়:
শনিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিচারপতি সিনহা জানান, দেশে তার জীবনের ঝুঁকির কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।
রোববার টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিবিসির কাছেও তার রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে তিনি এই আশ্রয় চেয়েছেন।
‘আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি হিসাবে এখানে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়াটা আমাদের দেশে, সরকার এবং মূল্যবোধের জন্য একটা প্রশ্ন .... কিন্তু আমার জীবনের নিরাপত্তা কে দেবে।’
কেন তিনি মনে করছেন দেশে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে? বিবিসির এই প্রশ্নে বিচারপতি সিনহা বলেন, জঙ্গি বিষয়ক বিভিন্ন মামলার রায় দেয়া নিয়ে একদিকে ধর্মীয় জঙ্গিদের কাছ থেকে হুমকি এবং অন্যদিকে গোয়েন্দাদের কাছ থেকে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বলে তাকে বিদেশে আশ্রয়  চাইতে হয়েছে।
‘আমাকে মারার জন্য জঙ্গিরা একাধিকবার চেষ্টা করেছে। আমার স্ত্রীর ওপর হামলা হয়েছে। আমার গ্রামের বাড়ি জ্বালিয়ে দে;য়া হয়েছে..... আমার দু’টো কুকুর পর্যন্ত তারা মেরে ফেলেছিল...।’
‘অন্যদিকে সরকার আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে, গোয়েন্দা সংস্থা আমাকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে, তারা আমাকে হুমকি দিয়েছে।’
সূত্র : বিবিসি বাংলা

ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার রোনালদোর

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ওই নারীর অভিযোগ, ২০০৯ সালে পর্তুগিজ তারকা তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে এক ভিডিওতে রোনালদো বলেন, তারা আমার নাম ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার করতে চায়। এর জন্যই তারা এটা করেছে। এটা সম্পূর্ণ একটি ভুয়া খবর। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। এই অভিযোগের খবর ছাপানো জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন রোনালদোর আইনজীবীরা। সাময়িকীটি তাদের প্রতিবেদনে লিখে, ক্যাথরিন মায়োরগা নামের অভিযোগকারী দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে একটি হোটেল কক্ষে রোনালদো তাকে ধর্ষণ করেছিল।
এ ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই লাস ভেগাসের পুলিশকে তিনি জানান। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, ২০১০ সালে আদালতের বাইরে রোনালদোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছান মায়োরগা। তিন লাখ ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে কখনো এই অভিযোগ প্রকাশ না করার ব্যাপারে রাজি হন তিনি। মায়োরগার আইনজীবীরা এখন ঘটনাটি জনসম্মুখে না আনার চুক্তি বাতিল ঘোষণা করতে চাইছে। এদিকে, এক বিবৃতিতে রোনালদোর আইনজীবী জানান, স্পিগেলের প্রতিবেদন পুরোপুরি বেআইনি। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

‘কোটি প্রাণে মিশে’ ২০ বছরে চ্যানেল আই

বিশ্বময় বাংলা ভাষাভাষীর স্বপ্ন, আকাক্সক্ষা আর জীবনধারার প্রিয় সঙ্গী চ্যানেল আই পথচলার ঊনিশ বছর পার করে এবার পা রাখলো বিশ বছরে। এ বছর চ্যানেল আই’র সেøাগান ‘কোটি প্রাণে মিশে, আমরা এখন ২০-এ’। শতভাগ পেশাদারিত্ব, নতুনত্ব, সৃজনশীলতা ও তারুণ্যের জয়গান গেয়ে চ্যানেল আই’র অভিযাত্রা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিকাশ, খাদ্য নিরাপত্তায় শতভাগ স্বনির্ভরতা অর্জন তথা বাংলাদেশের গঠনমূলক পরিবর্তনের সরব সঙ্গী চ্যানেল আই। মানুষ যা দেখতে চায়, যা শুনতে চায়, যা উপলব্ধি করতে চায় তা নিয়েই চ্যানেল আই’র পথচলা। এর সঙ্গে জীবনকে এগিয়ে নেয়া, রুদ্ধ দুয়ারকে খুলে দেয়া, সত্যকে শাণিত করার পথেও থাকতে হয়েছে অবিচল। টেলিভিশন কিংবা গণমাধ্যম নিয়ে মানুষের তৃষ্ণা ও প্রত্যাশাগুলো পূরণ করে এগিয়ে চলেছে চ্যানেল আই। তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও আকাশ সংস্কৃতির নতুন নতুন অগ্রযাত্রার ভেতর চ্যানেল আই’র পথচলা নতুন নতুন উদ্ভাবনের ভেতর দিয়ে।
প্রথম দিন যে নতুনত্বের মালা গেঁথেছিল, আজও তা গেঁথে চলেছে চ্যানেল আই।
গতকাল রাত ১২টা ০১ মিনিটে কেক কাটার মধ্য দিয়ে চ্যানেল আই’র ঊনিশ বছর পূর্তি এবং বিশ বছরে পদার্পণের পথচলা শুরু হয়। চ্যানেল আই’র ২০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বাণী দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এমপি। দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশ হয়েছে পূর্ণপৃষ্ঠা রঙিন ক্রোড়পত্র। চ্যানেল আই’র বিশ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কলাম লিখেছেন ওপার বাংলা কলকাতার বিশিষ্ট সাহিত্যিক শঙ্খ ঘোষ এবং এপার বাংলার বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। রাত ১২টা ০১ মিনিটে প্রথম প্রহরের কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এমপি, রাশেদ খান মেনন, দিলীপ বড়–য়া, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, মীর নাসির, সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম (বীরপ্রতীক), অপু উকিল, কাজী ফিরোজ রশীদ, প্রফেসর আবদুল মান্নান, বদিউল আলম মজুমদার, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, জাবেদ পাটোয়ারী, শামসুজ্জামান দুদু, আবদুল ওয়াব, চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, শিল্পী কলাকুশলী, চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদ সদস্য জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, মুকিত মজুমদার বাবু, কনা রেজা ও পরিবারের সদস্যবৃন্দ। প্রিয় চ্যানেল, চ্যানেল আই’র ২০তম জন্মদিনে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজ, রাজনীতিক, সম্পাদক, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতনরা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকরা সবজির ডালা নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন।
গুণীজনদের উপস্থিতিতে সকাল ১১টায় চ্যানেল আই ভবন চত্বরে কেক কাটা হয়। একটি দীর্ঘ কেক উপহার দেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। কেক কাটা পর্বে অংশ নেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী, চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদ সদস্য জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, মুকিত মজুমদার বাবু, সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, আমজাদ হোসেন, আসমা আব্বাসী, লেখক ও চিন্তাবিদ সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ। এরপর দিনব্যাপী চলে উন্মুক্ত মঞ্চ থেকে সংগীত পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা, ফকির আলমগীর, শফি ম-ল, আকরামুল ইসলাম, ফেরদৌস ওয়াহিদ, মো. খুরশীদ আলম, আগুন, শাহনাজ বেলী, ডলি সায়ন্তনী এবং এলআরবি ও আইয়ুব বাচ্চু। চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ, বাংলার গানের শিল্পীরা। নৃত্য পরিবেশন করেন চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ের শিল্পীরা। দিন শেষে আতশবাজির আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় একটি দীর্ঘ কেক কেটে ১৯তম বর্ষকে বিদায় জানান এবং ২০তম বর্ষকে বরণ করে নেন চ্যানেল আই পরিচালনা পর্ষদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা। রাত ১২টা ০১ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টার পর্বটি সঞ্চালনা করেন জিল্লুর রহমান। এদিকে, চ্যানেল আই’র ২০তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে চলে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজন।

মেসির ফেরার দরকার নেই: ম্যারাডোনা

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে আপাতত সাময়িক অবসরে রয়েছেন লিওনেল মেসি। জাতীয় দলে কবে ফিরবেন সেটিও পরিষ্কার করে জানাননি এই ফুটবল জাদুকর। আর দেশটির ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা বলেন মেসির আর জাতীয় দলে ফেরার দরকার নেই। গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা বলেন, তার (মেসি) ব্যাপারে কি আর বলবো? তাকে বলবো জাতীয় দলে আর ফিরে এসো না। অবসর নাও। অনূর্ধ্ব-১৫ দল হারলেও সেটা মেসির দোষ, জাতীয় দল কিছু করলেই সেটা মেসির দোষ। সব কিছুতেই মেসির দোষ দেয়া হচ্ছে। এটা থামানোর সঠিক সময়।
আমি মেসিকে বলতে চাই, তুমি এখানেই থেমে যাও। দেখ টিম ম্যানেজমেন্ট তোমাকে ছাড়া কিভাবে চলতে পারে। যারা নিজেদের বড় মাপের ভেবে বসে আছে তাদের সঙ্গ ছেড়ে দাও। আমরা মেসিকে নিয়ে বেশি আশা করি। কিন্তু, সবাই মাঠে নামেন না। সবাই বিশ্বকাপ জিততে পারেন না। বিশ্বসেরা হতে বিশ্বকাপ জিততে হয় না। আমি বিশ্বকাপ জিতেছি কিন্তু জাতীয় দল আমার জন্য কিছু করেনি, আমার সমর্থকদের জন্য কিছু করেনি। আমরা যেটা অর্জন করেছি ফুটবল ফেডারেশন সেটি টয়লেটে ছুড়ে দিয়েছে। মেসিকে আমি আবারো বলবো জাতীয় দলে ফেরার দরকার নেই। এর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা আর কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনালে দলকে শিরোপা জেতাতে না পারায় একরকম হতাশা থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন মেসি। পরে আবারো ফিরেছিলেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলেছেন মেসি। দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। এরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আপাতত বিদায় জানিয়ে রেখেছেন। বিশ্বকাপের পর মেসিকে ছাড়াই নতুন কোচ লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা খেলেছে গুয়েতামালা আর কলম্বিয়ার বিপক্ষে। গুয়েতামালাকে ৩-০ গোলে হারানোর পর কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে আর্জেন্টিনা। ভাবা হচ্ছিল সৌদি আরবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ফিরবেন মেসি। কিন্তু, ব্রাজিল কিংবা ইরাকের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও মেসিকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে রাখা হয়নি। এর আগে আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি বলেন, আমরা জানি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালে মেসির চাপ বেড়ে যায়, দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা এটাও জানি জাতীয় দলের জার্সিতে সে তার সেরাটাই ঢেলে দেয়। তার মতো খেলোয়াড়কে দলে পাওয়াটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। আগামী ১২ই অক্টোবর ইরাকের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। আর ১৬ই অক্টোবর নেইমারের ব্রাজিলের বিপক্ষে নামবে তারা।