Sunday, January 30, 2011

অটোরিকশাচালকদের দৌরাত্ম্য চলছেই by চিররঞ্জন সরকার

রাজধানীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের বাগে আনতে অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে সম্প্রতি নতুন সব নিয়মনীতি প্রবর্তন করা হলো। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না। নতুন নিয়মের বিষয়ে প্রথম দিন চালকদের কিছুটা সচেতন থাকতে দেখা গেলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আবারও অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করছেন তাঁরা। এখনো অধিকাংশ চালককে মিটারে না গিয়ে চুক্তিতে যাত্রী বহন করতে দেখা যাচ্ছে। অল্প দূরত্বে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথারীতি ‘যাব না’ জানিয়ে গাড়ি টান দিয়ে চলে যাচ্ছেন তাঁরা। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছেন; অথচ সরকার যথারীতি এ বিষয়েও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
রাজধানীতে যাদের নিজস্ব গাড়ি নেই, বাস-মিনিবাসে ওঠার মতো অভ্যাস, শারীরিক সামর্থ্য ও ধৈর্য নেই, তাদের বাধ্য হয়েই সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ট্যাক্সিক্যাব ব্যবহার করতে হয়। আর এসবের ওপর নির্ভর করাটা যে কতটা বিড়ম্বনার ব্যাপার, তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। প্রয়োজনে আপনি ঢাকা শহরে যানবাহন পাবেন না। মধ্যবিত্তরা দীর্ঘদিন রিকশানির্ভর ছিল। কিন্তু রাজধানীর ভিআইপি সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে রিকশা তুলে দেওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। ঢাকা শহরে সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাবে চলাচল করাটা যে কতটা বিড়ম্বনার ব্যাপার, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানে।
এমনিতেই আমাদের দেশের মানুষের অন্তঃকরণ-জুড়ে কেবলই ক্ষোভ-বঞ্চনা, না পাওয়ার বেদনা, জীবনের হিসাব মেলাতে না পারার একটা টানাটানি, অসহিষ্ণু পরিস্থিতি। সীমিত আয় দিয়ে সংসারজীবনের সবকিছু সামলাতে গিয়ে চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা। ঘর-কর্মক্ষেত্র কোথাও মানুষের শান্তি-স্বস্তি নেই। এমন পরিস্থিতিতে যখন রাস্তায় বের হয়ে প্রতি পদে ভোগান্তি, হয়রানি পোহাতে হয়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে যদি যুগপৎ প্রত্যাখ্যান, অপমান আর আর্থিক দণ্ড ভোগ করতে হয়, তখন সত্যিই নিজেকে খুবই তুচ্ছ, অসহায় মনে হয়। ধিক্কার দিতে ইচ্ছা হয়, সবকিছু ভেঙে ফেলতে ইচ্ছা করে! এই কি মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা? এর চেয়ে অধম জীবন আর হতে পারে?
সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে যাত্রীদের সেই ১০ বছর আগে থেকেই সমস্যা। ২০০১ সালে তদানীন্তন সরকার টু-স্ট্রোক বেবিট্যাক্সির জায়গায় যখন থ্রি-স্ট্রোক সিএনজি চালু করল, তখন আমাদের মতো রাজধানীর নাগরিকেরা বেশ খুশি হয়েছিল। স্বস্তি পেয়েছিল। সঙ্গে এল ট্যাক্সিক্যাব। বেশ কয়েকটি কোম্পানি নিয়ে এল শত শত ট্যাক্সিক্যাব। হলুদ, কালো গাড়ি। সিএনজি ও ট্যাক্সিক্যাব মিটারে ভাড়া নেবে, সরকার তা বাধ্যতামূলক করল। যাত্রীরা যে গন্তব্যে যেতে চায়, সেখানেই ভাড়ার গাড়ি যাবে—সরকার নির্দেশ দিল। চালকদের পরতে হবে ইউনিফর্ম। চালকদের ছবি, নাম ও গাড়ির বিস্তারিত বিবরণ-সংবলিত কাগজপত্র রাখতে হবে গাড়িতে—এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাত্রীরা যেন দেখতে পায়। গাড়ির গায়ে পুলিশের বেশ কয়েকটি টেলিফোন নম্বর। সেই টেলিফোন নম্বরে যাত্রীরা অভিযোগ করতে পারবে। একেবারে আদর্শ এক পরিবহন নিয়মনীতি। সরকার বাহবা পেল। যদিও সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাব-সংক্রান্ত ‘আদর্শ’ সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে বেশি দিন লাগল না। শুরুতেই গন্ডগোল। সিএনজিতে ভাড়ার মিটার চালু হলো বটে। তবে যাত্রীরা এই ব্যবস্থার সুবিধা তেমন পেল না। বিশেষ করে, সিএনজির চালকেরা প্রায় প্রথম থেকেই মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলেন। আরেকটি বিরক্তিকর কাজ তাঁরা করলেন—যাত্রী যেখানে যাবে, সেখানে তাঁরা যাবেন না। যে গন্তব্য নিজের পছন্দ, চালক সেখানে যাবেন—অন্য কোথাও না। চালকেরা ইউনিফর্ম পরলেন। গাড়ির গায়ে বড় করে অভিযোগের টেলিফোন নম্বর শোভা পেল। দুঃখের বিষয়, দুটো মূল সমস্যার কোনো সমাধান হলো না। যাত্রীর গন্তব্যে চালকেরা যাবেন না, আর মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া দাবি। বিশেষ করে, দুই মাইলের গন্তব্যে সিএনজি কখনোই মিটারের ভাড়ায় চলেনি। এখনো চলে না।
বেশি ভাড়া কেন আদায় করেন, এ ব্যাপারে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের জিজ্ঞেস করলেই তাঁরা বলেন, ‘কাগজে-কলমে ৬৫০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও মালিককে দিনান্তে জমা দিতে হয় হাজার টাকা। বিভিন্ন অজুহাতে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য গুনতে হয় গড়ে প্রায় ১০০ টাকা। এ ছাড়া তেল-গ্যাস-রক্ষণাবেক্ষণ, গ্যারেজ ভাড়া বাবদ ব্যয় করতে হয় দৈনিক প্রায় হাজার-দেড় হাজার টাকা। ঢাকা শহরে যে যানজট, তাতে করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দৈনিক কতটুকুই বা চলতে পারে, কজন যাত্রী বহন করতে পারে? কাজেই আমাদের বাড়তি আদায় না করে উপায় কী?’
মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, ‘একটি সিএনজির দাম প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। রাস্তায় চলাচলের জন্য এক বছরের কাগজপত্র তৈরি করতে ব্যয় হয় প্রায় সাত হাজার টাকা। অথচ এসব কাগজপত্র মাত্র দুই হাজার টাকায় পাওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে বিআরটিএ নামের সরকারি সংস্থাটির কর্মকর্তারা প্রতিটি সিএনজির এক বছরের কাগজপত্রের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ নেন। আর ১০ বছর পর এই সিএনজিগুলো স্রেফ ফেলে দিতে হবে। লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে যদি কোনো লাভই না হয়, তাহলে আমরা কী করব?’
ওদিকে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, ‘সবকিছুই তো ঠিকঠাক মতো চলছে। আমাদের কাছে অভিযোগ এলে তো আমরা ঠিকই চালকদের মিটারে যেতে বাধ্য করি। আর মালিকদের তো ৬৫০ টাকাই জমা দেওয়ার কথা। এর বেশি যদি কেউ দিয়ে থাকে, এর জন্য আর আমরা কী করতে পারি?’
দেখা যাচ্ছে, সবাই নিজের পক্ষে অকাট্য যুক্তি হাজির করছেন। এতে করে ভোগান্তিটা পোহাতে হচ্ছে কেবল যাত্রীদের। অথচ এ ব্যাপারে যাবতীয় দায়িত্ব সরকারের পালন করার কথা। মালিকদের জন্য একটি যৌক্তিক জমার পরিমাণ ঠিক করে দেওয়া, সেটা গ্রহণে তাদের বাধ্য করা, চালকদের যেকোনো গন্তব্যে মিটারে যেতে বাধ্য করা, সিএনজি আমদানি, লাইসেন্স থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়, সেসব ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতি কঠোরভাবে বন্ধ করার মাধ্যমে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবের চলাচলের ক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য বন্ধ করা যেতে পারে। এটা করতে পারে কেবল সরকার। কিন্তু সরকারকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব পালনে মোটেও আগ্রহী দেখা যায় না।
চিররঞ্জন সরকার: লেখক, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।
chiroranjan@gmail.com

ক্ষমতায় থাকতে ইচ্ছুক কাজাখ প্রেসিডেন্ট

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নাজারবায়েভ বলেছেন, যত দিন প্রয়োজন তত দিন তিনি দেশের জন্য কাজ করে যেতে প্রস্তুত। গতকাল শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া বাৎসরিক ভাষণে নুরসুলতান নাজারবায়েভ এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার শারীরিক সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত আমি দেশের জন্য কাজ করে যেতে প্রস্তুত। আমার প্রতি জনগণের যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্বাস রয়েছে।’

কলকাতা শহরের কেন্দ্রে সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করার দাবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সড়ক বন্ধ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ও মিছিল অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। হাওড়া গণতান্ত্রিক নাগরিক সমিতির পক্ষে মামলাটি করেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পিনাকী চন্দ্র ঘোষ ও বিচারপতি শুক্লা কবির সিনহার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে গত বৃহস্পতিবার মামলাটির প্রাথমিক শুনানি হয়। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে কলকাতার সব রাজনৈতিক দলকে নোটিশ দিতে সুভাষ দত্তকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন আদালত।

হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেট ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা (৯২) দুই দিন পর গতকাল শুক্রবার হাসপাতাল ছেড়েছেন। তিনি জোহানেসবার্গের নিজ বাসভবনে ফিরে গেছেন।
সেনাচিকিৎসক বিজয়নন্দ রামলাকেন বলেন, গতকাল ম্যান্ডেলাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি বাড়িতে আছেন। এর আগে গতকাল সেই দেশের উপরাষ্ট্রপতি কাগালেমা মোতলান্থে বলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। হাসপাতালে তাঁর শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তার পরও তিনি মানসিকভাবে চাঙা আছেন। এদিকে ম্যান্ডেলার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে দেখতে যান। ম্যান্ডেলাকে গত বুধবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এনএসজির সদস্যপদে ভারতকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

নিউক্লিয়ার সাপ্লাইয়ার্স গ্রুপের (এনএসজি) সদস্যপদ পেতে ভারতকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান বলেছে, ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্ত ‘দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপদ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে’।
জানা গেছে, নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এনএসজির সদস্যপদ পেতে ভারতের প্রতি সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কনফারেন্স অন ডিজআর্মামেন্টে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি জামির আকরাম চলতি সপ্তাহে বলেন, এনএসজির সদস্যপদ পেলে ভারতের পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি, পারমাণবিক অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো ও সরবরাহ করার সামর্থ্য বেড়ে যাবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানও তার অস্ত্র বাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যা দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান নিরাপদ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
আকরাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সংস্থা মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম, অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ ও ওয়াসেনার অ্যারেঞ্জমেন্টের সদস্যপদ পেতে ভারতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও বিরোধিতা করে পাকিস্তান। দেশটির সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে তুলনা করে পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ২০০৯ সালে নয়াদিল্লির তৈরি পারমাণবিক সাবমেরিনের ব্যাপারেও সচেতন রয়েছে।
প্রতিরক্ষা-বিষয়ক বিশ্লেষক হাসান-আসকারি রিজভি বলেন, ভারত বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। তখন নয়াদিল্লি ইসলামাবাদের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাধার সৃষ্টি করবে—পাকিস্তান হয়তো এই ভেবে ভয় পাচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত যদি সত্যিই সেই সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে ইসলামাবাদের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি (তা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হলেও) চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
অন্য বিশ্লেষকদের মত, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পারমাণবিক অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর মতো অবস্থায় নেই। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সাবেক প্রধান বিক্রম সুদ বলেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির অজুহাত দেখিয়ে তার অস্ত্রের ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করতে চায়। এর মাধ্যমে দেশটি নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করারও সুযোগ খুঁজছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটা এক প্রকার ব্ল্যাকমেইল। এনএসজিতে ভারতের সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির আওতায় থাকব। এতে অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিও অনুসরণ করা হবে।’
দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।

উত্তর কোরিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান দক্ষিণের

সামরিক বিষয় নিয়ে পার্লামেন্ট পর্যায়ে আলোচনার উত্তর কোরিয়ার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়া গতকাল শুক্রবার প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি বলেছে, উত্তর
কোরিয়ার প্রস্তাবে আন্তরিকতার ঘাটতি আছে। তাই তারা বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পরমাণু আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি ক্ষমা চাওয়ার দাবি থেকে সরে এসেছে সিউল।
দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক জুংঅং পত্রিকায় গতকালের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া এখন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়াসহ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচিকে আলাদাভাবে দেখছে। এ জন্য তারা আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবি থেকে সরে এসেছে।
তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পার্লামেন্ট পর্যায়ে আলোচনার যে প্রস্তাব উত্তর কোরিয়া দিয়েছে তা আন্তরিক মনে করছে না দক্ষিণ কোরিয়া। তাই ওই প্রস্তাবও তারা মেনে নিতে পারছে না।

পাকিস্তানে মার্কিন কনসুলেট কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হওয়া একজন মার্কিন কনসুলেট কর্মীর বিরুদ্ধে জোড়া খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগে গতকাল শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা। পুলিশ জানায়, লাহোরে মোটরসাইকেল আরোহী দুই পাকিস্তানি নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ এই বন্দুকধারীকে রেমন্ড ডেভিড বলে শনাক্ত করেছে। তিনি আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছোড়েন বলে দাবি করেন। পুলিশকে ডেভিড বলেন, দুই মোটরসাইকেল আরোহী ডাকাতির উদ্দেশে আগ্নেয়াস্ত্র বের করার পর তিনি তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বেসামরিক মার্কিন নাগরিক রেমন্ড ডেভিড লাহোরে মার্কিন কনসুলেটের হয়ে কাজ করছিলেন।
লাহোরে পুলিশের প্রধান আসলাম তারিন বলেন, রেমন্ড ডেভিড কূটনীতিক নন। তিনি কনসুলেট ভবনে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন।

সালভাদর আয়েন্দের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করবে চিলি

চিলির সাবেক সমাজতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট সালভাদর আয়েন্দের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। গত বৃহস্পতিবার সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন-সমর্থিত এক সেনা অভ্যুত্থানের সময় আয়েন্দে মারা যান। সেনা ও বিমান অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়।
আলোচিত ওই সেনা অভ্যুত্থানে মার্কিন-সমর্থিত জেনারেল আগুস্তো পিনোশে ক্ষমতা দখল করেন। পিনোশের টানা ১৭ বছরের শাসনামলে দেশে তিন হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
অভ্যুত্থানের সময় আয়েন্দে আত্মহত্যা করেছেন, না সেনারা তাঁকে হত্যা করেছে, ওই বিষয়টিই তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানী সান্তিয়াগোর একটি বিশেষ আদালতে গত বুধবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ৭২৬টি অভিযোগ বিচারের উদ্দেশ্যে তোলা হয়। এর মধ্যে আয়েন্দের ঘটনাটি অন্যতম। বিশেষ আদালতের জজ মারিও ক্যারোজা বলেছেন, ‘আয়েন্দের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করা একটি সুমহান দায়িত্ব।’
সরকারি আইনজীবী বেট্রিজ পেড্রেলস মামলাটি আদালতে তোলেন। চিলিতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনসংক্রান্ত যেসব ঘটনা এখন পর্যন্ত বিচারের আওতায় আসেনি, তা চিহ্নিত করতে এই আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বেট্রিজ পেড্রেলস বলেন, ‘যা তদন্ত করা হয়নি, আদালত তা তদন্ত করবেন। তখন কী হয়েছিল, তা উন্মোচিত হবে।’
অতীতে এক সরকারি ময়নাতদন্তে বলা হয়, আয়েন্দে আত্মহত্যা করেছিলেন। আত্মহত্যায় তিনি যে রাইফেলটি ব্যবহার করেন, সেটি ছিল তাঁর কিউবান বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রোর দেওয়া উপহার।

ঝাড়খণ্ডে বন্দুকযুদ্ধে ৯ মাওবাদী নিহত

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নয়জন মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ঝাড়খণ্ড রাজ্যের লেতাহার জেলায় এ ঘটনা ঘটে।
রাজ্যের পুলিশপ্রধান নেওয়াজ আহমেদ জানান, গতকাল ভোরে লেতাহারের মাওবাদী অধ্যুষিত লুহুর জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে ওই মাওবাদীরা নিহত হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য আহত হননি।
ভারতের কয়েকটি রাজ্যে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মাওবাদীরা বলছে, তারা গরিব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মাওবাদীদের বিদ্রোহকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছেন।
গত অক্টোবর থেকে ভারতীয় সরকার মাওবাদীদের বিদ্রোহ দমনে অপারেশন গ্রিন হান্ট নামে একটি অভিযান শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওডিশা ও ছত্তিশগড় রাজ্যে পরিচালিত এ অভিযানে ৫০ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে।

জাপানের চতুর্থ না অস্ট্রেলিয়ার প্রথম?

জাপানের সামনে দারুণ এক রেকর্ডের হাতছানি। আজ এশিয়ান কাপের ফাইনাল জিতলেই টুর্নামেন্টের সফলতম দলের তকমা উঠবে তাদের গায়ে। ইরান ও সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ তিনবার শিরোপাজয়ী জাপান সর্বোচ্চ চারবার শিরোপা জয়ের গৌরবে ভাসবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে এটিই নীল সামুরাইদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।প্রেরণা দলের ইউরোপীয় কোচ আলবার্তো জাকেরনিও। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর যখন দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো ইতালীয় এই কোচের হাতে, খোদ জাপানের ফুটবল মহলেই ছিল অনেক প্রশ্ন। আগে কখনো জাতীয় দলের কোচ ছিলেন না এমন একজনের হাতে কি দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হলো? জাতীয় দলে কোচিংয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই ঠিক, কিন্তু লাৎসিও, ইন্টার, এসি মিলানের মতো বড় দলের দায়িত্ব সামলেছেন একসময়। জাপানের দায়িত্ব নিয়েই আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছেন প্রীতি ম্যাচে। ওই ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন, আজ জিততে পারলে সংশয় থাকবে না বিন্দুমাত্র। তবে ফাইনালে শিনজি কাগাওয়াকে না পাওয়াটা জাকেরনির জন্য একটা দুঃসংবাদ। জাপানকে শেষ চারে তোলার অন্যতম নায়ক শিনজি কাগাওয়া নেই ফাইনালে, এই মৌসুমটাই শেষ হয়ে গেছে তাঁর। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে পায়ের চোট নিয়ে কাতার ছেড়ে গেছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের স্ট্রাইকার।
শিরোপার দিকে তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়াও। ২০০৭ এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালেই। প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেই সেই যন্ত্রণার ক্ষতে উপশমের প্রলেপ দিতে চায় তারা। মাঠে নেমে নিশ্চিতভাবেই একটি রেকর্ড গড়বেন অস্ট্রেলিয়ার ৩৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক মার্ক শোয়ার্জার। ফাইনালটি হবে দেশের হয়ে তাঁর সর্বোচ্চ ৮৮তম ম্যাচ।

ফাইনালে মারেকে পেলেন জোকোভিচ

গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছিলেন মা জুডি মারে। কখনো হাতে তালি দিয়ে ছেলেকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন খেলায়, কিন্তু মাঝেমধ্যেই টেনশনে নখ কামড়াতে দেখা যাচ্ছিল তাঁকে। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই টেলিভিশন ক্যামেরা ঘুরে গেল তাঁর দিকে, লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন জুডি। কারণ স্পেনের ডেভিড ফেরারকে ৪-৬, ৭-৬ (৭/২), ৬-১, ৭-৬ (৭/২) গেমে হারিয়ে যে ফাইনালে পৌঁছে গেছেন তাঁর ছেলে অ্যান্ডি মারে।
প্রথম সেটে হারের পর যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কাল সেমিফাইনাল জিতলেন, তাতে অ্যান্ডি মারেকে নিয়ে এবার হয়তো একটু বেশি করেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ব্রিটিশরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠা মারে আগামীকাল ফাইনালে পাচ্ছেন বন্ধু ও অনুশীলন-সঙ্গী সার্বিয়ান নোভাক জোকোভিচকে।
মারে গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে ওঠেন আর শুরু হয় ব্রিটিশদের স্বপ্ন দেখার। এবার কি পারবেন পুরুষ এককে ব্রিটিশদের ৭৫ বছরের গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা-বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে? ২০০৮-এর ইউএস ওপেনে প্রথমবারের মতো তাঁর স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিলেন রজার ফেদেরার। গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও স্বপ্নভঙ্গের নাম ছিল ফেদেরার। কিন্তু এবার সেমিফাইনালেই ফেদেরারের বিদায়ে মারের সম্ভাবনা উজ্জ্বল লাগছে।
দ্বিতীয় সেট টাইব্রেকারে জিতে মারে তৃতীয়টি জেতেন সহজেই। চতুর্থ সেটটি টাইব্রেকারে নিয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ফেরার। শেষ পর্যন্ত ফেরারকে পঞ্চম সেটে টেনে নিতে দেননি ম্যাচটি। ৩ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটে চার সেটের সেমিফাইনাল জিতে ফেরারকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি মারে, ‘ও আসলে অবিশ্বাস্য রকমের এক অ্যাথলেট। অবিশ্বাস্য প্রতিদ্বন্দ্বী ।’

লড়াই জমিয়েছেন মিসবাহ-আফ্রিদি

পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে দৃশ্যত একে অপরের বিপক্ষে লড়ছে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে আরেকটা লড়াইও সমানে চলছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলের সম্ভাব্য দুই অধিনায়কের মধ্যে। আর আজ চূড়ান্ত ঘোষণার শেষ মুহূর্তে সেই লড়াইটা বেশ ভালোই জমিয়ে তুলেছেন মিসবাহ-উল হক ও শহীদ আফ্রিদি। দলের খুবই সংকটপূর্ণ অবস্থায় ৬৪ বলে ৩৫ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলে ব্যাটিং বিপর্যয়টা সামাল দিয়েছেন মিসবাহ। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রানের সাইক্লোন ইনিংস খেলে আফ্রিদি পাকিস্তানকে এনে দিয়েছেন ২৯৩ রানের লড়িয়ে ইনিংস। আজকের চমত্কার এই পারফরমেন্স দিয়ে পিসিবিকে বোধহয় আরও সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিলেন দুজনই!
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক রস টেলর। শুরুতেই মাত্র ১৪ ওভারের মধ্যেই আহমেদ শাহজাদ, কামরান আকমল ও ইউনুস খানকে ফিরিয়ে দিয়ে শুরুটাও চমত্কারভাবে করেছিলেন কিউই বোলাররা। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে ৯৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয়টা সামলে নেন মিসবাহ ও ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ। ৩৫ রান করে মিসবাহ ফিরে গেলেও আরেক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেছেন হাফিজ।
৪৪তম ওভারে ১১৫ রান করে হাফিজ ফিরে যাওয়ার পর শুরু হয় উমর আকমল আর আফ্রিদির তাণ্ডব। নিউজিল্যান্ড বোলারদের নাকানিচুবানি খাইয়ে মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন আফ্রিদি। ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে তিনি আউট হন ২৫ বলে ৬৫ রান করে। উমর আকমল করেছেন ২৯ বলে ৪৪ রান। শেষ পাঁচ ওভারে তাঁরা তুলেছেন ৭৫ রান!

সিরিজে সমতা আনল পাকিস্তান

ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪৩ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১-এ সমতা এনেছে পাকিস্তান। ২৯৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে নয় উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়েছে ২৫০ রানে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরে ব্যাট করে পাকিস্তানকে নয় উইকেটে হারানোর পর আজকেও টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক রস টেলর। কিউই বোলাররা শুরুটাও করেছিলেন দুর্দান্তভাবে। মাত্র ৫৬ রানের মধ্যেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ, কামরান আকমল ও ইউনুস খানকে। কিন্তু চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৯৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সেই ধাক্কাটা সামলে নেন মিসবাহ-উল হক ও ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ। মিসবাহ ৩৫ রান করে আউট হয়ে গেলেও আরেক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেছেন হাফিজ। ৪৪তম ওভারে ১১৫ রান করে হাফিজ ফিরে যাওয়ার পর কিউই বোলারদের ওপর রীতিমতো নির্যাতন চালান উমর আকমল ও শহীদ আফ্রিদি। শেষ পাঁচ ওভারে নিউজিল্যান্ড বোলারদের নাকানিচুবানি খাইয়ে তাঁরা সংগ্রহ করেছিলেন ৭৫ রান! পাঁচটি ছয় ও পাঁচটি চারে সাজানো ৬৫ রানের সাইক্লোন ইনিংসটি আফ্রিদি খেলেছেন মাত্র ২৫ বলে। উমর আকমল ২৯ বলে করেছেন ৪৪ রান।
২৯৪ রানের কঠিন লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বেশ ভালোমতোই এগিয়ে যাচ্ছিল নিউজিল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র সাত দশমিক চার ওভারেই জেমি হাউ আর মার্টিন গাপটিল তুলেছিলেন ৪৪ রান। কিন্তু উমর গুল, সোহেল তানভির আর ওয়াহাব রিয়াজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে খুব বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে পারেনি কিউই শিবির। দলীয় ৮০ রানের মধ্যেই বিদায় নেন হাউ, টেলর আর গাপটিল। চতুর্থ উইকেটে ৮১ রানের জুটি গড়ে আবার কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন স্টাইরিস ও উইলিয়ামসন। কিন্তু দলীয় ১৬১ রানের মাথায় স্টাইরিস আউট হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ পুরোপুরিই চলে যায় পাকিস্তানের হাতে। পরে আর কোনো বড় পার্টনারশিপও গড়ে তুলতে পারেননি কিউই ব্যাটসম্যানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ২৫০ রানে। উমর গুল, তানভির সোহেল ও ওয়াহাব রিয়াজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নাপিয়েরে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে। রয়টার্স/ক্রিকইনফো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ২৯৩/৭ (৫০ ওভার)
মোহাম্মদ হাফিজ ১১৫, শহীদ আফ্রিদি ৬৫ ও উমর আকমল ৪৪
টিম সোউদি ১০-০-৫৭-২, কেইল মিলস ১০-০-৬১-২
নিউজিল্যান্ড ২৫০/৯ (৫০ ওভার)
স্কট স্টাইরিস ৪৬, কেন উইলিয়ামসন ৪২
উমর গুল ১০-০-৩১-২, সোহেল তানভির ১০-০-৫৬-২

বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ সরেই যাচ্ছে

ঐতিহাসিক ভেন্যু ইডেন থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি না সরাতে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু বিসিসিআইয়ের সেই অনুরোধকে পাত্তা দেয়নি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। বরং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এই ম্যাচের বিকল্প ভেন্যু খুঁজে বের করে তাদের জানাতে বিসিসিআইকে নির্দেশ দিয়েছে আইসিসি।
ইডেনে বিশ্বকাপ উপলক্ষে চলমান সংস্কারকাজ আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভারত ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের আগে শেষ হবে না—এই অজুহাতে আইসিসি গত বৃহস্পতিবার এক সিদ্ধান্তে ওই ম্যাচটি কলকাতার ইডেন গার্ডেন থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (ক্যাব) সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া বিসিসিআইয়ের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করেন। এ ছাড়া সংস্কারকাজ শেষ করে ফেলার জন্য ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়েও আবেদন করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার রাতে বিসিসিআইয়ের সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত জানিয়ে দিয়েছেন, এই অনুরোধ তাঁদের পক্ষে রাখা সম্ভব নয়।
আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ইডেনের সংস্কারকাজ শেষ হওয়া না হওয়া নিয়ে তাঁদের অবিশ্বাস। সময় বাড়ালেও কাজ আসলেই ঠিক সময়ে শেষ করা যাবে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস নাকি থেকেই যাচ্ছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষও নাকি এ ব্যাপারে জোর দিয়ে তাঁদের কিছু বলতে পারেনি।
এদিকে, কলকাতায় অনুষ্ঠেয় বাকি তিনটি খেলার ভবিষ্যত্ নিয়েও সংশয়টা কাটছে না। ৩১ জানুয়ারির পরই আসলে জানা যাবে, খেলাগুলো আদৌ কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে কি না। তবে, বিশ্বকাপের যে চারটি খেলা আয়োজনের দায়িত্ব কলকাতা পেয়েছিল, তার মধ্যে ভারত-ইংল্যান্ডের খেলাটিই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ‘অর্থকরী’। এই ম্যাচটি সরে যাওয়ায় কলকাতাবাসীর যে বাকি তিনটি খেলা নিয়ে কোনো আগ্রহই অবশিষ্ট থাকবে না, তা তো দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া বাকি তিনটি খেলার প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো যে সবাই ‘সহযোগী’।