Wednesday, July 23, 2025
গাজায় ক্ষুধায় লুটিয়ে পড়ছে মানুষ: ১০৯ ত্রাণ সংস্থার সতর্কবার্তা
জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন মানবিক ত্রাণ ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়নি, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। এনজিওগুলো সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, এখনই পদক্ষেপ নিন: অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি তুলুন, সব প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা দূর করুন, সব স্থল সীমান্ত খুলে দিন, গাজার প্রতিটি প্রান্তে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করুন, সেনা-নিয়ন্ত্রিত ত্রাণ বিতরণ মডেল বাতিল করুন এবং নিরপেক্ষ মানবিক সংস্থাগুলোকে তহবিল দেয়ার অনুমতি অব্যাহত রাখুন। তারা আরও জানায়, খণ্ডিত ব্যবস্থা ও প্রতীকী পদক্ষেপ- যেমন আকাশপথে সহায়তা ফেলা বা ত্রুটিপূর্ণ চুক্তি- কেবল নিষ্ক্রিয়তার আড়াল। এগুলো কোনওভাবেই রাষ্ট্রের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পূরণ করতে পারে না। এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে, মানুষের জীবন রক্ষার জন্য।
ওদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গাজার দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে এবং বলেছে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পদক্ষেপ নেয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইউরোপে যাচ্ছেন যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার ‘করিডর’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে। ওদিকে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র নেবাল ফারসাখ বলেন, গাজায় মানবিক বিপর্যয় অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, চার মাসেরও বেশি সময় ধরে সব সীমান্ত বন্ধ। গাজায় কোনও খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ কিছুই প্রবেশ করতে পারছে না। মানুষ আক্ষরিক অর্থে অনাহারে মারা যাচ্ছে। তিনি যোগ করেন, শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা বাড়ছে। ক্রমশ আরও মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে ইতিমধ্যে কমপক্ষে ৫৯,১০৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১,৪২,৫১১ জন।
গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ ৮০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সাসপেন্ড করল কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, সর্বোচ্চ তিন বছরের সাসপেনশন এবং ডিগ্রি বাতিলসহ শাস্তি দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। ছাত্রদের অধিকার বিষয়ক সংগঠন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এপারথাইড ডাইভেস্ট (সিইউএডি) এক বিবৃতিতে জানায়, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইসরাইলের আর্থিক সম্পর্ক ছিন্নের দাবি তুলেছিল, তাদেরই বড় অংশ শাস্তির মুখে পড়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এই শাস্তি পূর্ববর্তী অন্য যেকোনও দখলদারিত্বমূলক আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শাস্তি দেয়া হয়েছে মূলত ২০২৫ সালের মে মাসে বাটলার লাইব্রেরি দখল ও ২০২৪ সালের বসন্তে অ্যালামনাই উইকএন্ডে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী তাঁবু স্থাপন-সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য। তারা এক বিবৃতিতে লিখেছে, শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও নিয়মের পরিপন্থী। এর পরিণতি ভোগ করতেই হবে। ২০২৪ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-প্যালেস্টাইন শিবিরগুলো ইসরাইলের গাজা আক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শতাধিক নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশকে ক্যাম্পাসে এনে শিবির ভেঙে দেয় এবং ডজনখানেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কঠোর দমননীতি সত্ত্বেও, শিক্ষার্থীরা এ বছরের মে মাসে চূড়ান্ত পরীক্ষা চলাকালে বাটলার লাইব্রেরি দখল করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জড়িত কোম্পানি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানায় এবং গাজার মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।
এ সময় কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল পুনঃস্থাপনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদি শিক্ষার্থীদের মারাত্মক হয়রানি থেকে যথাযথভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ট্রাস্টি ক্লেয়ার শিপম্যানকে মে মাসে সমাবর্তনে শিক্ষার্থীরা প্রবলভাবে দুয়োধ্বনি দেয়। কারণ তিনি বিক্ষোভ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যা একইভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের তহবিল কর্তনের মুখে পড়েছে, এরই মধ্যে নীতিগত পরিবর্তনের সরকারি চাপ মোকাবিলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা নিয়ে প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়ান সিনেটরের শাস্তি: সাংবাদিকদের সরিয়ে নিতে ইসরাইলের প্রতি এএফপির আহ্বান
সিনেট প্রেসিডেন্ট সু লাইনস বলেন, সিনেটর ফারুকি জেনেশুনে সংসদের নীতিমালা ভেঙে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে সাইন ব্যবহার করেছেন। এতে গভর্নর-জেনারেল, প্রধান বিচারপতি ও ডেপুটি বিচারপতিকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা হয়েছে, যা অত্যন্ত অনুপযুক্ত। অস্ট্রেলিয়ান সরকার সোমবার ২৫টি দেশের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতিতে সই করে, যেখানে ইসরাইলকে আহ্বান জানানো হয় গাজায় ত্রাণ প্রবাহের ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ অবিলম্বে তুলে নিতে।
গাজা থেকে সাংবাদিকদের সরিয়ে নিতে ইসরাইলের প্রতি এএফপির আহ্বান
ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপি ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা গাজায় থাকা তাদের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের অবিলম্বে সরিয়ে নিতে সহায়তা করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চলে সাংবাদিকরা ‘অসহনীয়’ এবং ‘ভয়াবহ’ পরিস্থিতির মুখে রয়েছেন বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এএফপি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, কয়েক মাস ধরে আমরা অসহায়ভাবে দেখছি, আমাদের সহকর্মীদের জীবনযাত্রার অবস্থা নাটকীয়ভাবে অবনতি ঘটছে। তাদের সাহস, পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার পরও পরিস্থিতি এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এএফপি জানায়, গাজায় কাজ করা ফিলিস্তিনি ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে ‘বিশ্বকে সত্য জানাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু এখন তাদের জীবন হুমকির মুখে। এএফপি কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করে নিরপেক্ষ সাংবাদিক সংগঠন সোসাইটি অব জার্নালিস্টস। সোমবার তারা সতর্ক করে বলেছে, গাজায় থাকা তাদের সহকর্মীরা অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সংগঠনটি জানায়, যেকোনো মুহূর্তে তাদের মৃত্যুর খবর শোনার ভয় আমাদের তাড়া করে ফিরছে। আমরা এটা সহ্য করতে পারি না। প্রায় একাই তারা গাজা থেকে সত্য তথ্য তুলে ধরছেন। কারণ প্রায় দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আমরা চুপচাপ বসে তাদের মরতে দেখতে পারি না। সংগঠনটি ৩০ বছর বয়সী এক ফটোসাংবাদিকের (বাশার) উদাহরণ দেয়। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আমার শরীর শুকিয়ে গেছে, কাজ করার মতো শক্তি নেই।
এএফপি বলে, ১৯৪৪ সালে এএফপি প্রতিষ্ঠার পর আমরা সংঘাতে সহকর্মী হারিয়েছি, আহত ও বন্দি হয়েছি। কিন্তু কখনও কোনো সহকর্মীকে ক্ষুধায় মরতে দেখিনি। আল জাজিরা বুধবার এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়, যেন তারা সত্যের বাহক সাহসী সাংবাদিকদের বাঁচাতে ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়। আল জাজিরার মহাপরিচালক মোস্তেফা সোয়াগ বলেন, ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর জোরপূর্বক ক্ষুধা ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞে যে সাংবাদিকরা কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের কণ্ঠস্বর বিশ্বে পৌঁছে দেয়া এবং এই অসহনীয় দুর্ভোগ শেষ করা আমাদের দায়িত্ব।
বৃটেনভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামও সতর্ক করেছে যে, তাদের গাজায় কর্মরত স্টাফরাও ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছেন। অক্সফামের নীতি বিষয়ক প্রধান বুশরা খালিদি আল জাজিরাকে বলেন, আমাদের এক সহকর্মী শনিবার জানিয়েছেন, তিনি পানি ছাড়া, শুধু একটি ‘ফালাফেল’ খেয়ে কাজে গেছেন। তবু উপস্থিত থেকেছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেতানিয়াহুর প্রতি হোয়াইট হাউসের সন্দেহ দিন দিন বাড়ছে
বিভিন্ন সূত্রের মতে, বিষয়টি দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক দিন দিন আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় ট্রাম্প তৎক্ষণাৎ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি নেতানিয়াহুকে ফোন করে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং হামলাটি ‘ভুল ছিল’ বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যেন একটি বিবৃতি দেন, তা নিশ্চিত করতে চান।
একইভাবে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সরকারি ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবরে ট্রাম্প বিস্মিত হন। এমন এক সময়ে ইসরায়েল এ হামলা চালায়, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে পুনর্গঠনের জন্য কাজ করছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিবি নেতানিয়াহুর মজবুত পেশাদার সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে সিরিয়ায় বোমাবর্ষণ ও গাজার ক্যাথলিক গির্জায় হামলার ঘটনায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন।
লেভিট আরও বলেন, উভয় ঘটনাতেই প্রেসিডেন্ট দ্রুত প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা বলেন।
লেভিট পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সিরিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন। দেশটির সাবেক বিদ্রোহী নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।
ট্রাম্প এ মাসের শুরুতে হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি এই নেতার সঙ্গে এক জটিল সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পরিচিতদের মতে, শক্তিশালী মিত্র হলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা খুব একটা ঘনিষ্ঠ নন এবং মাঝেমধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তাঁদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তবু চলতি গ্রীষ্মে ট্রাম্প যখন ইরানে ইসরায়েলের বিমান হামলার পক্ষে অবস্থান নেন তখন মনে হয়েছিল, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসের ব্লুরুমে এক নৈশভোজে নেতানিয়াহু নাটকীয়ভাবে ট্রাম্পের হাতে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন, যেখানে তিনি শান্তিতে ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানান।
ট্রাম্প আশা করেছিলেন, নেতানিয়াহুর এই চার দিনের ওয়াশিংটন সফরে গাজায় যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি হবে, যাতে হামাসের হাতে আটক বন্দীদের মুক্তি এবং অবরুদ্ধ গাজায় আরও বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। সফরের আগে ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, তিনি আশা করছেন ওই সপ্তাহেই একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসবে।
কিন্তু কোনো সমঝোতার ঘোষণা ছাড়াই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। মধ্যস্থতাকারীরা সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ও বন্দী মুক্তির প্রস্তাব হামাসের কাছে জমা দিয়েছেন প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল। সবাই গাজার হামাস নেতৃত্বের জবাবের অপেক্ষায় আছেন।
সিএনএনকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, হামাস জানিয়েছে, তারা ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দী মুক্তির চুক্তিতে পৌঁছাতে দিনরাত নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধ আরও প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে গির্জায় বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ট্রাম্পকে গভীরভাবে চিন্তিত করেছে।
ট্রাম্পের প্রেস সচিব লেভিট বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে এ সংঘাত বহুদিন ধরে চলছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তা আরও নৃশংস হয়ে উঠেছে। আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন, প্রতিদিন আরও মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট কখনোই এমন মৃত্যু দেখতে চান না। তিনি চান এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক।’
লেভিট আরও বলেন, প্রশাসন গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে যেভাবে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। যদিও ২৫টি পশ্চিমা দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে ‘ফোঁটায় ফোঁটায় ত্রাণ’ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ এনে সমালোচনা করেছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মে মাসের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ ত্রাণকেন্দ্রে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হয়েছেন।
লেভিট বলেন, এই প্রেসিডেন্টের কারণেই মূলত গাজায় কিছুটা হলেও ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি চান, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক, যাতে আর কারও মৃত্যু না ঘটে।
![]() |
| হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের আমেরিকা এখন এক বারুদের বাক্স by অ্যালেক্স হিনটন
দুঃখজনক হলেও এই বোমার হুমকিতে আমি খুব অবাক হইনি। এর ঠিক কয়েক দিন আগেই ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটলে হামলার জন্য দণ্ডিত ‘প্রাউড বয়েজ’ গ্রুপের নেতা এনরিক টারিও এবং আরও কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমা করে দেন। এরপর সিপিএসি নামে ট্রাম্পের মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) আন্দোলনের একটি বড় সম্মেলনে তাঁদের ‘নায়ক’ হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সে অনুষ্ঠানে একজন গর্ব করে বলেছিলেন, ‘আমরা যেন ঈশ্বর।’
৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার নেতা টারিও সেই সম্মেলন থেকে একটি দল নিয়ে ক্যাপিটল হিলে যান এবং তাঁরা কংগ্রেস ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে স্লোগান দেন, ‘এটা কাদের হাউস! এটা আমাদের হাউস!’ এই স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা বোঝাতে চান, ‘আমরাই এখন ক্ষমতায়, কংগ্রেস এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’ এরপর তাঁদের বাধা দিতে আসা এক প্রতিবাদকারীকে টারিও আঘাত করেন এবং গ্রেপ্তার হন। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি ‘প্রিন্সিপালস ফার্স্ট’ সম্মেলনস্থলে যান এবং সেখানে ওয়াশিংটনের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মাইকেল ফ্যানোনকে (যিনি জানুয়ারি ৬ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন) গালিগালাজ করে অপমান করেন।
রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে গবেষণা করা একজন নৃবিজ্ঞানী হিসেবে আমার দৃষ্টিতে এসব ঘটনা আমেরিকার জন্য গুরুতর বিপদের ইঙ্গিত।
২০২১ সালে প্রকাশিত আমার ‘ইট ক্যান হ্যাপেন হেয়ার’ বইয়ে আমি বলেছিলাম, খারাপ মানুষেরা এখন আরও সাহসী হয়ে উঠছে; ফলে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে।
এই হুমকির বাস্তব রূপ পাওয়া যায় গত ১৪ জুনের ঘটনায়। ওই দিন ভ্যান্স বোল্টার নামের ট্রাম্পের একজন সমর্থক মিনেসোটার ডেমোক্রেটিক পার্টির দুজন নেতা ও তাঁদের সঙ্গীদের গুলি করে হত্যা করেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন স্টেট হাউস স্পিকার এমেরিটা মেলিসা হর্টম্যান ও তাঁর স্বামী। বোল্টারের গাড়িতে পরে একটি হিট লিস্ট পাওয়া যায়। সেখানে ডেমোক্রেটিক পার্টির ৪৫ জন নেতার নাম ছিল।
এর দুই মাস আগেই কোডি অ্যালেন বালমার নামের একজন ব্যক্তি পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্রেটিক পার্টির গভর্নর জোশ শাপিরোকে হত্যার চেষ্টা করেন এবং তাঁর বাড়িতে আগুন লাগান। এর বাইরে আরও কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই রাজনৈতিক সহিংসতার বিস্ফোরণের পেছনে চারটি প্রধান কারণ আছে:
প্রথম কারণ হলো শাস্তিহীনতার সংস্কৃতি। ট্রাম্প নিজেকে ‘আইন ও শৃঙ্খলার প্রেসিডেন্ট’ বললেও তিনি একধরনের শাস্তিহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছেন। তিনি নিজেই এখন একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি; যদিও ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ মামলাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তিনি শাস্তিহীনতার সংস্কৃতি এমনভাবেই গড়ে তুলেছেন যে অনেক আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ফিফথ অ্যাভিনিউর মাঝখানে দাঁড়িয়ে কাউকে গুলি করলেও ভোটার হারাব না।’
প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবার ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প ৬ জানুয়ারি হামলায় জড়িত দেড় হাজারের বেশি ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন। বিচার বিভাগে নিযুক্ত ‘পারডন অ্যাটর্নি’ বা ক্ষমাসংক্রান্ত কর্মকর্তা এড মার্টিন তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘নো মাগা লেফট বিহাইন্ড’। এর মানে দাঁড়ায়—ট্রাম্প বুঝিয়ে দিচ্ছেন, রাজনৈতিক সহিংসতা করলেও তাঁর সমর্থকদের কিছু হবে না।
দ্বিতীয় কারণ হলো আগের সহিংসতা দিয়ে ভবিষ্যতের সহিংসতাকে উসকে দেওয়া। আমার পূর্বোক্ত বইয়ে দেখিয়েছি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রাজনৈতিক সহিংসতার অনেক উদাহরণ আছে; কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
ট্রাম্প এখানে দায় এড়াতে পারেন না। ৬ জানুয়ারির হামলার আগে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ ছড়ান এবং প্রাউড বয়েজসহ ডানপন্থী জঙ্গিদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্ট্যান্ড বাই’—অর্থাৎ ‘প্রস্তুত থাকো’। ২০২০ সালের অক্টোবরে যখন মিশিগান গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারকে অপহরণের ষড়যন্ত্র করা হয় কিংবা ক্যাপিটলে হামলা হয়, তখন তা বিস্ময়ের কিছু ছিল না।
২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আবার সেই সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ে। ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে ট্রাম্প নিজেই প্রায় গুলিবিদ্ধ হন। এতে নির্বাচনকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি বেড়ে যায় এবং অনেকেই আবার বিদ্রোহের আশঙ্কা করতে থাকেন। যদিও ট্রাম্পের বিজয়ের কারণে সেই আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি।
তৃতীয় কারণ হলো বিভক্ত সমাজ। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমেরিকান সমাজ বর্তমানে ভীষণভাবে বিভক্ত। আমার গবেষণায় দেখেছি, ডান ও বাম—উভয় পক্ষ প্রতিপক্ষকে শত্রু বা স্বৈরাচার হিসেবে দেখে। রাজনীতি যেন ‘আমরা বনাম ওরা’ যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
তথ্য বলছে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান প্রতিপক্ষকে ‘খারাপ’ বা ‘অসৎ’ ভাবে। এমনকি দুই-তৃতীয়াংশ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট একে অপরকে ‘বদ্ধমনা, অসৎ ও নীতিহীন’ মনে করেন। প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং ৪০ শতাংশ বিশ্বাস করে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে।
উভয় দলই এই বিভক্তির জন্য দায়ী হলেও ট্রাম্প এই বিভাজনের প্রধান চালক। তাঁর ২০২৪ সালের প্রচারণা ছিল প্রতিশোধের ওপর ভিত্তি করে যেখানে অভিবাসী ও বামপন্থী লোকদের শত্রু বানানো হয়েছে।
চতুর্থ কারণ হলো, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়া। রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি তখনই বেশি হয়, যখন নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ছড়ায় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়। এ দুই অবস্থাই ২০২১ সালের বিদ্রোহের আগে ছিল এবং এখনো তা রয়েছে।
ট্রাম্প এখন আবার প্রেসিডেন্ট হয়ে নির্বাহী ক্ষমতা এককভাবে কুক্ষিগত করতে চান। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাক্ষেত্র, সরকারি সেবা প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং এমনকি মৌলিক নাগরিক অধিকার পর্যন্ত খর্ব করতে চাইছেন।
এ পরিস্থিতিতে বলা যায়, আজকের আমেরিকা যেন এক বিস্ফোরক বারুদের স্তূপ। পরবর্তী হামলা কোথায় ও কখন হবে, তা কেউ জানে না।
* অ্যালেক্স হিনটন, যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তাজউদ্দীন আহমদ: রোজনামচার মানুষটিকে বোঝা by সেলিম জাহান
বইটি পড়তে শুরু করে এর বিষয়বস্তুর বাইরে পাঁচটি বিষয় আমার মনোযোগ কাড়ল। এক, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ প্রতিদিনই তাঁর দিনপঞ্জিতে কিছু না কিছু লিখেছেন। এ সময়কালের মধ্যে দিনপঞ্জির কোনো পাতাই ফাঁকা যায়নি। তাঁর এই লেগে থাকার অধ্যবসায় ঈর্ষণীয় পর্যায়ের।
দুই, রোজনামচাগুলো তাজউদ্দীনের শৃঙ্খলামান্য মনের পরিচায়ক। তিনি তাঁর মনকে এমনভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছিলেন যে প্রতিটি দিনের ঘটনা, তা যত সামান্যই হোক না কেন, তিনি তা রোজনামচায় লিপিবদ্ধ করেছেন।
তিন, তাজউদ্দীন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দৈনন্দিন ঘটনাগুলো রোজনামচায় লিপিবদ্ধ করেছেন। সেখানে লোকজনের নামধাম, জায়গার নাম, নানা ঘটনাসহ সব খুঁটিনাটিই লিখেছেন। প্রতিটি বিষয়কেই তিনি নিবিড়ভাবে দেখেছেন এবং ব্যক্ত করেছেন। হয়তো তিনি বাস্তব অবস্থারই বর্ণনা দিতে চেয়েছেন, কোনো গল্প ফাঁদতে চাননি।
চার, রোজনামচার ভাষা এত সহজ যে পড়তে পড়তে মনে হয় যেন পাশে বসে কেউ গল্প করছেন।
পাঁচ, পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত রোজনামচাগুলো ইংরেজিতে লেখা, বাংলায় নয়।
রোজনামচাভিত্তিক বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। সেই কবে কিশোর বয়সে পড়েছিলাম শহীদ সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সারের ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। তবে রোজনামচাভিত্তিক বই পড়তে গিয়ে দেখেছি, এ ধরনের বইয়ের দুটো রকমফের আছে। কোনো কোনো রোজনামচা হয় তথ্যভিত্তিক; এই যেমন, কী ঘটল, কেন ঘটল এবং কেমন করে ঘটল। আমার পছন্দের নিরিখে এ জাতীয় দিনপঞ্জিগুলো বেশ নীরস এবং এগুলো আমি বড় একটা পছন্দ করি না।
অন্যদিকে কোনো কোনো রোজনামচা লেখা হয় গল্পের ভিত্তিতে। সেখানে পর্যবেক্ষণ থাকে, থাকে মানুষের মনের নানান ভাব। আমার পক্ষপাত এই দ্বিতীয় প্রকারের রোজনামচাগুলোর প্রতি। তবে বলা বাহুল্য যে জনাব তাজউদ্দীন আহমদের রোজনামচাগুলো প্রথম প্রকারের। সুতরাং আমি যখন তাঁর রোজনামচার বইটি পড়তে শুরু করি, তখন প্রথম দিকে বইটির বর্ণনা আমার কাছে যান্ত্রিক, বড় শুষ্ক এবং বেশ কিছুটা নীরস মনে হয়েছে। কিন্তু অতি দ্রুতই আমি তাঁর লেখার মধ্যে ডুবে যাই। আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে তাঁর লেখাগুলো শুধু ঘটনার বিবরণ নয়, বরং সেগুলো তখনকার সময়, সমাজ ও রাজনীতির সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তবে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো, রোজনামচাগুলো এক নেতা, তাঁর চিন্তাচেতনা ও নিজস্ব বিবর্তনের জীবন্ত সাক্ষী।
এই রোজনামচা থেকে বুঝতে পারি যে জন্মভূমি আর তার মানুষদের জনাব তাজউদ্দীন আহমদ কতটা ভালোবাসতেন। রোজনামচার নানা লেখায় জনগণের জন্য তাঁর বিপুল ভালোবাসা নানাভাবে বেরিয়ে এসেছে। কখনো স্থানীয় পর্যায়ে, যেমন জন্মস্থান কাপাসিয়ার মানুষের জন্য, কখনো তাঁর রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্র পুরান ঢাকার জন্য, কোনো কোনো সময় অবশ্য পুরো দেশের জন্য।
তাজউদ্দীনের লেখা থেকে এটা সুস্পষ্ট যে জনগণের অধিকার, তাঁদের কণ্ঠস্বরের স্বাধীনতা, তাঁদের স্বায়ত্তশাসন ও তাঁদের মুক্তির জন্য তিনি ছিলেন এক অক্লান্ত কর্মী। ওই সব প্রশ্নে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন অনড় এবং আপসহীন। তিনি জনগণের জন্য একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন। যৌবনে যেসব দেশপ্রেমমূলক ধ্যান-ধারণা তাঁর মধ্যে কাজ করেছে, সেগুলোই বহু বছর পরে যখন তিনি বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর প্রণীত বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয়ে তাঁর চিন্তা-চেতনাকে প্রভাবিত ও উদ্বুদ্ধ করেছে।
তাঁর রোজনামচা থেকে এটা খুব পরিষ্কার যে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বিপুলভাবে রাজনৈতিক মানুষ। রাজনীতি ছিল তাঁর রক্তে রক্তে। ব্যক্তিগত কিছু বিষয় ও ঘটনার উল্লেখ ভিন্ন পুরো রোজনামচাতেই তাঁর বন্ধু, সহকর্মী, চেনা-শোনা মানুষের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং আলাপ-আলোচনার বিবরণই বেশি। তাঁরা সবাই কমবেশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
মাঠপর্যায়ের সঙ্গে তাজউদ্দীনের সম্পৃক্ততা ছিল অত্যন্ত নিবিড়, ফলে স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর পরিচিতি ছিল খুবই গভীর। তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সংযোগ ছিল খুবই শক্ত। তাঁর রোজনামচায় একটি লেখা আছে, যেখানে গ্রাম থেকে আসা এক ছাত্র কর্মীর সঙ্গে তিনি মুখোমুখি একটানা চার ঘণ্টা আলাপ করেছেন। রোজনামচায় তিনি লিখছেন, ‘এই আলোচনা আমাকে ঋদ্ধ করেছে।’
রাজনীতিকে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ ক্ষমতায় যাওয়ার পন্থা হিসেবে দেখেননি, গণমানুষের কল্যাণের উপকরণ হিসেবে দেখেছিলেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিষয়গুলোয় তিনি সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও নিরাবেগ ছিলেন। পুরান ঢাকায় নানা রাজনৈতিক সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর আলাপ-আলোচনায় এ সত্য বেরিয়ে আসে।
রাজনীতিবিদ হিসেবে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ কথাসর্বস্ব রাজনীতিবিদ ছিলেন না, কিংবা তিনি বৈঠকখানার রাজনীতিবিদও ছিলেন না। তিনি ছিলেন রাজনীতির সক্রিয় কর্মী। তাঁর রোজনামচা থেকে পরিস্ফুট যে ভাষা আন্দোলনের সময় কীভাবে তিনি আন্দোলন-কৌশলগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, কীভাবে তিনি সরকারি যন্ত্রের মোকাবিলার করার কৌশল প্রণয়ন করেছিলেন, কীভাবে তিনি তাঁর বন্ধুদের সংঘবদ্ধ করেছিলেন এবং কীভাবে তিনি নিজে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
তাজউদ্দীন আহমদ সারা জীবন যা করেছেন, ঠিক সেভাবেই ভাষা আন্দোলনের সময়ও তিনি গণমানুষের সঙ্গেই ছিলেন। ভাষা আন্দোলনকে তিনি শুধু বাঙালিদের সাংস্কৃতিক আত্মসত্তার আন্দোলন হিসেবে দেখেননি, তিনি এ আন্দোলনকে দেখেছেন বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও মুক্তির সংগ্রাম হিসেবেও। রোজনামচার লেখাগুলো জনাব তাজউদ্দীন আহমদকে শুধু রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করে না, সেই সঙ্গে তাঁকে তাঁর পারিবারিক অঙ্গনে একজন সংবেদনশীল স্বামী, স্নেহপ্রবণ পিতা এবং একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবেও তুলে ধরে।
তাজউদ্দীন আহমদের পুরো রোজনামচায় সেই প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে ফিরেছি যা তাঁর সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘তাজউদ্দীন আহমদ কি সমাজতন্ত্রী ছিলেন?’ তাঁর রোজনামচা পড়ে আমার মনে হয়েছে যে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন নিঃসন্দেহে, কিন্তু সামাজিক ন্যায্যতা, জনকল্যাণ, সাম্য ও সমতার প্রতি তাঁর দৃঢ় পক্ষপাত ছিল।
তাজউদ্দীন আহমদ কি মার্ক্সবাদী ছিলেন? আমার নিজের মনে হয় যে প্রথাগত সংজ্ঞার দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি মার্ক্সবাদী ছিলেন না, কিন্তু চিন্তাচেতনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্ক্সবাদের প্রতি তাঁর দুর্বলতা ছিল। তাই তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মার্ক্সবাদী বা কমিউনিস্ট নই, কিন্তু মার্ক্সীয় শিক্ষাকে আমি আমার জীবনধারায় অনুসরণ করি।’ জনাব তাজউদ্দীন আহমদ মার্ক্সবাদী ছিলেন না ঠিকই, কিন্তু তিনি অবশ্যই সমাজতন্ত্রী ছিলেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে যেসব অর্থনৈতিক নীতিমালা, কৌশল ও পরিকল্পনা অনুসৃত হয়েছিল, তার সবগুলোয় স্বাধীন ও মুক্ত বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদের চিন্তাধারার ছাপ ছিল।
রোজনামচাগুলো পড়ে আমার ধারণা হয়েছে যে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ ইতিহাসকে অনুসরণ করেছেন, ইতিহাস তাঁকে টেনে নিয়ে যায়নি। এ প্রসঙ্গে তাঁর কথাগুলো প্রণিধানযোগ্য; ‘তুমি এমনভাবে কাজ করবে যাতে তুমি ইতিহাস গড়তে পারো, কিন্তু তোমাকে যেন সেই ইতিহাসের কোথাও খুঁজে না পাওয়া যায়’।
* সেলিম জাহান, ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ২৩ দেশের বিবৃতি
এ ধরনের বিবৃতি ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আরও ত্বরান্বিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কারণ, মিত্রদের তীব্র ভাষায় প্রতিবাদের সর্বশেষ পরিস্থিতি বলছে, গাজায় চলমান অমানবিক যুদ্ধের রেশ ইউরোপে ইসরায়েলের মিত্রদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।
সোমবার (২১ জুলাই) এ বিবৃতিটি এসেছে। ২১ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজার দুই মিলিয়নেরও বেশি বাসিন্দা বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এ পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে ইসরায়েলের সৃষ্টি।
ইসরায়েলি মিত্র যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও ২১টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়া উচিত।
স্বাক্ষরকারীরা আরও বলেন, গাজার বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ নতুন গভীরতায় পৌঁছেছে। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে বন্দিদের মুক্তি এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সাহায্যের অবাধ প্রবাহের আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।
শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের অমানবিক হত্যার নিন্দা জানিয়েছে দেশগুলো বলেছে, গাজার মানুষ পানি ও খাদ্যের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা মেটাতে চেয়ে হত্যার শিকার হচ্ছে। বিবৃতিতে ত্রাণগ্রহণকালে গাজাবাসীর ওপর ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।
জাতিসংঘ এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মে মাসের শেষের দিক থেকে খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে গাজায় ৮৭৫ জন নিহত হওয়ার রেকর্ড করেছে। তবে সংখ্যাটা আরও বেশি। কারণ, অনেক নিহতকে হাসপাতাল পর্যন্ত আনা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া অনেকের মরদেহ উদ্ধারও করা সম্ভব হয়নি। সেসব ধ্বংসস্তূপে পচে-গলে নিঃশেষ হচ্ছে।
দেশগুলো বলেছে, ইসরায়েলি সরকারের সাহায্য বিতরণ মডেল বিপজ্জনক। এটি অস্থিতিশীলতাকে ইন্ধন জোগায় এবং গাজাবাসীকে মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করে। ইসরায়েলি সরকারের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানের অস্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে ইসরায়েলকে তার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।
লন্ডন থেকে আলজাজিরার সোনিয়া গ্যালেগো বলেন, গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের মিত্রদের কাছ থেকে এই বিবৃতিটি উল্লেখযোগ্যভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি এ বিবৃতিকে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় সফলতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
![]() |
| গাজায় ত্রাণের জন্য হাহাকার। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমান দুর্ঘটনা: অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য ও ফেসবুকে গুজবের গজব by রিজওয়ান-উল-আলম
ঘটনার পরের কয়েক ঘণ্টা বোঝা গেল, বাংলাদেশে বিপদ সামলানোর ব্যবস্থায় অনেক ঘাটতি আছে। আমরা এখন এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে একটা এক্স পোস্ট (টুইট) দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে, অথচ বিপদ নিয়ে কথা বলার আমাদের পদ্ধতি এখনো অনেক পুরোনো। এই দুঃখজনক ঘটনাটা আমাদের জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশের এখনই দরকার ভালো পরিকল্পনা করে কথা বলা এবং বিপদ কমানোর ব্যবস্থা তৈরি করা। বিপদ হওয়ার পর তা নিয়ে ভাবলে হবে না, বরং এগুলো দেশ পরিচালনার এবং নাগরিকের দায়িত্বের মূল অংশ হতে হবে।
সময়মতো সুনির্দিষ্ট সরকারি তথ্যের আদান-প্রদানে না হওয়ায় ভুল তথ্য ছড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। যাচাই না করা ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশি ষড়যন্ত্র, পাইলটের আত্মহত্যা, এমনকি অদ্ভুত সব গুজবও মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল, ভালো মানুষ আর সুযোগসন্ধানী—সবাই মিলে তা ছড়াচ্ছিল। যখন সত্যি খবর দ্রুত পাওয়ার সুযোগ থাকে না, তখন মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, মানুষ আতঙ্কিত হয়। যখন বিপদ আসে, তখন সবার আগে বিশ্বাস ভেঙে যায় না—তথ্য না থাকলেই বিশ্বাস মরে যায়।
একটা খুবই খারাপ বিষয় ছিল মৃতদের ছবি—যাদের মধ্যে কিছু শিশুও ছিল—ফেসবুক, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া। কিছু ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জায়গায় শোকাহত পরিবারের মুখের ওপর জুম করে ছবি তোলা হয়েছিল, যেন তাদের কষ্ট দেখানো একটা খেলা। এটা সাংবাদিকতা নয়। এটা কৌতূহলের আড়ালে নিষ্ঠুরতা।
ইউনিসেফের নিয়ম খুব স্পষ্ট: শিশুদের ছবি কোনো দুঃখজনক ঘটনার প্রতীক হিসেবে খুব সাবধানে, তাদের সম্মান বজায় রেখে এবং তাদের অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করতে হবে। তাদের পরিচয় গোপন রাখতে হবে, তাদের গল্প সাবধানে বলতে হবে। অথচ টিকটকারদের ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় এই সাধারণ নিয়মগুলো মানা হয়নি। পরিবারের মানসিক কষ্ট শুধু তোলা হয়নি; তা সারা দুনিয়ায় দেখানো হয়েছে, শেয়ার করা হয়েছে, মন্তব্য করা হয়েছে এবং টাকা আয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
আমাদের এটা নিয়ে কথা বলতে হবে, রাগ করে নয়, বরং দায়িত্ব নিয়ে। সম্পাদকদের তাঁদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে খারাপ ছবি বা তথ্য সরিয়ে দিতে হবে, আর নাগরিকদের পোস্ট করার আগে ভাবতে হবে। একটা ছবি শেয়ার করা হয়তো সচেতনতা বাড়াচ্ছে মনে হতে পারে, কিন্তু যখন তা কারও সম্মান নষ্ট করে, তখন তা একধরনের শোষণ হয়ে যায়।
এখানে সমস্যাটা শুধু একটা প্রতিষ্ঠানের নয়। উত্তরার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে যখন সামরিক বিষয় জড়িত থাকে, তখন দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানবিক যোগাযোগ জরুরি। চুপ থাকলে তদন্ত সুরক্ষিত থাকে না, বরং সন্দেহ বাড়ে। সংবাদমাধ্যমগুলো, যদিও কিছু সংবাদমাধ্যম সংযম দেখিয়েছিল, কিন্তু চাঞ্চল্যকর খবরের পেছনে ছুটেছিল। শোকাহত বাড়ি থেকে সরাসরি দেখানো, অনুমানভিত্তিক খবর এবং একে অপরের উল্টো খবর শুধু বিভ্রান্তি বাড়িয়েছিল।
বিপদে সাংবাদিকতার প্রথম কাজ হলো খবর যাচাই করা, ভাইরাল হওয়া নয়। অনেক সংস্থারই আগে থেকে তৈরি যোগাযোগ পরিকল্পনা ছিল না। কী প্রশ্ন আসতে পারে, কী উত্তর দিতে হবে—এমন মৌলিক কোনো প্রস্তুতি ছিল না। ২০২৫ সালে এটা মানা যায় না। নাগরিক ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা, যদিও তাঁদের উদ্দেশ্য ভালো ছিল, কিন্তু তাঁরা অনেক ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন। খারাপ ছবি, ভুল খবর, ভুয়া উদ্ধারের খবর এবং মনগড়া হতাহতের তালিকা অবাধে ছড়িয়ে পড়েছে।
আগুন লাগলে কী করতে হয় বা ভূমিকম্প হলে কী করতে হয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণের মতোই সংকটকালে কী করে যোগাযোগ করতে হয়, সে বিষয়ে মানুষের শিক্ষা দরকার। কখন কিছু শেয়ার করা উচিত নয়, তা জানা, কী শেয়ার করা উচিত, তার মতোই জরুরি।
পরিকল্পিত যোগাযোগ (স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন) মানে মিথ্যা বলা বা শুধু প্রচার করা নয়। এটি হলো একটি বিপদের আগে, চলাকালীন ও পরে তথ্য ব্যবস্থাপনার একটি চিন্তাভাবনা করে করা, স্বচ্ছ ও মানুষের জন্য তৈরি পদ্ধতি।
যদি বাংলাদেশের এমন একটি ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আমরা দেখতাম যে ৬০ মিনিটের মধ্যে একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, যাচাই করা খবরসহ একটি লাইভ তথ্য বোর্ড থাকছে, বাংলা ও ইংরেজিতে নিয়মিত খবর দেওয়া হচ্ছে, সঠিক খবর ছড়ানোর জন্য সবার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং গুজব বন্ধ করার জন্য প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।
ঝুঁকি কমানো শুধু একটি ফাইলে রাখা কাগজপত্রের মতো নয়। এর মানে হলো আবাসিক এলাকার খুব কাছে থাকা প্রশিক্ষণের জায়গাগুলো চিহ্নিত করা, উড়োজাহাজের পথের নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা, শুধু উদ্ধারের জন্য নয়, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যও নকল মহড়া দেওয়া এবং বিমান দুর্ঘটনা সম্পর্কে কীভাবে দায়িত্বের সঙ্গে খবর প্রকাশ করতে হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। এর মানে হলো বিপদ মোকাবিলার প্রস্তুতিতে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা। উত্তরার মানুষ যদি বিমান দুর্ঘটনার সময় কী করতে হবে, সে বিষয়ে আগে থেকে প্রশিক্ষণ পেত, তাহলে হয়তো সেখানকার অনেক বিশৃঙ্খলা কমানো যেত।
১৮ কোটি ডিজিটাল নাগরিকের একটি সাধারণ নীতিবোধ থাকা উচিত। ডিজিটাল সহানুভূতির ওপর একটি দেশের নীতি অনেক আগেই দরকার ছিল। স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্র—সব জায়গায় অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণ শেখাতে হবে। শেয়ার করার আগে ভাবুন।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: এটা কি সত্যি? এটা কি সাহায্য করবে? এটা কি সম্মান বাড়াবে না ক্ষতি করবে? যদি আমার পরিবার কষ্টে থাকত, তাহলে কি আমি এটা শেয়ার করতাম? ভুল তথ্য মানুষকে মারে। মিথ্যা তথ্য কষ্ট দেয়। কিন্তু চুপ থাকলে দুটোই বাড়ে। ইন্টারনেট সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে। এখন সময় এসেছে, আমরা যেন বিবেক দিয়ে তা ব্যবহার করতে শিখি।
এই লেখা কোনো অভিযোগ নয়, এটা একটা অনুরোধ। আমাদের সম্মিলিত কষ্টকে সংকল্পে পরিণত করার একটা অনুরোধ। উত্তরায় যা ঘটেছে, তা আমরা পাল্টাতে পারব না।
কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে পরেরবার যখন কোনো বিপদ আসবে, তখন আমরা বিশৃঙ্খলা নয়, বরং স্পষ্টতা দিয়ে তার মোকাবিলা করব। আমরা সরকারকে বলছি দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য একটি জাতীয় কৌশলগত যোগাযোগ ইউনিট তৈরি করতে, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে বিপৎকালে যোগাযোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে এবং শিশু-কিশোরদের ছবি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তথ্য সুরক্ষা ও নৈতিক নিয়মকানুন মেনে চলতে।
আমরা সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করছি অনলাইনে মানুষের কষ্টের কথা ভেবে তাদের নৈতিক নিয়মগুলো আবার দেখতে এবং যাচাই না করা খবর বা মানুষের কষ্টকে কাজে লাগানো থেকে বিরত থাকতে। আর আমরা নাগরিকদের বলছি, অনলাইনে সম্মান বজায় রাখতে, ভুয়া খবর রিপোর্ট করতে এবং মনে রাখতে যে প্রতিটি ছবির পেছনে একটি পরিবার আছে, যারা বাঁচার চেষ্টা করছে।
একটি জাতিকে কোনো দুঃখজনক ঘটনা দিয়ে চেনা যায় না। এর প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়াই আমাদের পরিচয় তুলে ধরে। কৌশলগত যোগাযোগ এবং বিপদ কমানো শুধু কিছু কাজের অংশ নয়, এগুলো আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের আকাশ ভরে দেওয়ার জন্য যেন আরেকটা সাইরেনের অপেক্ষা করতে না হয়।
* রিজওয়ান-উল-আলম, সহযোগী অধ্যাপক, মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
| স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহত সন্তানের খোঁজে হাসপাতালে ছুটে আসেন অভিভাবকেরা। উত্তরা, ২১ জুলাই। ছবি: সাজিদ হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরেও আরেকটা সরকার আছে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
দেবপ্রিয় আরও বলেন, ‘কিন্তু এখন সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্নটা, বিশেষ করে দলীয় নিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে কারণ, এখন মোটামুটি পরিষ্কার হয়েছে যে আমরা সরকার বলতে যাদের দেখি আনুষ্ঠানিকভাবে, আসলে তার ভেতরেও আরেকটা সরকার আছে। সরকারের ভেতরে যে সরকার আছে, এটা এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। এটা সবার কাছেই প্রকাশ্য। অন্তর্নিহিতভাবে যে ক্ষমতার চক্রটি আছে, সেটাকেই সরকারকে তারা চাইলেও তার প্রার্থিত এলাকাতে পৌঁছাতে পারছে কি না, এটা একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সরকারের নিরপেক্ষতা পুনঃপ্রমাণ করা...কাদম্বরীকে করিতে হইবে।’
অন্তর্বর্তী সরকার চাইলেও এখন একটা ভালো নির্বাচন করতে পারবে কি না, বৈঠকে সেই প্রশ্ন রেখে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আপস, আঁতাত বা সিট–ভাগাভাগির নির্বাচন নয়, একটা প্রকৃত নির্বাচন। যেখানে মানুষ ভোট দেওয়ার পর শান্তিতে থাকবে। শুধু ভোটের দিন নয়, ভোটের পরের দিনও সে থাকবে। সেহেতু দ্বিতীয় প্রশ্নটা দাঁড়িয়েছে এটা এবং এই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খুব ভালো বুঝছি যে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে এটা করা সম্ভব নয়। সেনাবাহিনীর বৃহত্তর অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে এটা করা সম্ভব নয়। আমি সাধারণভাবে বুঝি যে তিন-চার মাসের জন্য তাদের মাঠে থাকতে হবে এবং তারা আসার পরেই প্রথমে অস্ত্র উদ্ধারের কাজটা করতে হবে। একই রকমভাবে হয়তো স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তভাবে তারা কী করবে...।’
সে ক্ষেত্রে ইন এইড টু সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অথবা স্ট্রাইকিং ফোর্সের বাইরে গিয়ে কিছু একটা হতে হবে এবং সেনাবাহিনীর আরেকটু প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ লাগবে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, ‘কিন্তু সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে সরকারের নিরপেক্ষতা ও সরকারের সক্ষমতা—এই দুটো বিষয় এখন দুটো বড় প্রশ্ন। যেহেতু এটা অন্তর্বর্তী সরকার, আমি মনে করি সরকারের সময় হয়েছে একটা ডেস্ক ক্লিয়ারিং লিস্ট করার। এখন যদি জাতির উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বক্তৃতা দেন, আমি প্রত্যাশা করব যে তিনি কী দিয়ে সমাপ্ত করতে চাইছেন, সেটাকে তিনি পরিষ্কার করবেন। যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেগুলো কোথায় কোথায় তিনি শেষ করবেন, কোথায় কোথায় অংশগ্রহণ করবেন...।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেছেন, ‘সংস্কার একটা অব্যাহত প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক নেতাদের এখন নির্বাচনের ইশতেহার দিতে হবে। ওই ইশতেহারে আমাদের নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে আলোচনা বা আন্দোলন দরকার হলে, তা করা দরকার। দেশ থাকবে, জনগণ থাকবে, সরকার আসবে–যাবে। এই চিন্তাটা মাথায় রেখে জাতি গঠনের এই অবস্থান থেকে ওই উত্তরণের জায়গাটাতে পৌঁছাতে হবে। এখন গত বছরের মূল্যায়নের চেয়ে আমি আগামী এক বছরের এই নিষ্ক্রমণ পদ্ধতিটা কী হবে বা এক্সিট পলিসিটা কী হবে, সেটার জন্য কী কী প্রয়োজন পড়বে, সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আমি প্রয়োজন বোধ করেছি।’
প্রথম আলোর এই গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, লেখক ও গবেষক মাহা মীর্জা, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের গবেষণা বিশেষজ্ঞ সহুল আহমদ প্রমুখ৷
![]() |
| গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় শোক জানানো হয়। সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। ছবি: সাজিদ হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুরোদমে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবি যুক্তরাজ্যের প্রায় ৬০ পার্লামেন্ট সদস্যের
এক যৌথ চিঠিতে এ আহ্বান জানান ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা। পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির জন্য সরকার যে লাইসেন্স ইস্যু করে, তার ব্যাপারে আরও স্বচ্ছতা আনার দাবি জানিয়েছেন।
১৮ জুলাই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ও বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডসের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। এর আগেই ল্যামি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতিতে না এলে ইসরায়েলের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
ইতিমধ্যে ব্রিটেন ফিলিস্তিনিদের মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার জন্য অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্সসহ ২৭টি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে ইসরায়েলের নিন্দা এবং দেশটির প্রতি ফিলিস্তিনের গাজায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার আইটিভির গুড মর্নিং ব্রিটেন অনুষ্ঠানে ল্যামি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে আমরা একাধিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছি। (গাজায় ইসরায়েলের) আচরণে পরিবর্তন না এলে এবং মানুষের দুর্দশার অবসান ঘটানো না হলে ভবিষ্যতে সব ধরনের বিকল্প গ্রহণ করার কথা বিবেচনায় আছে।’
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী এমপি ও লর্ডদের দাবি, ইসরায়েলে অবিলম্বে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ না করলে ব্রিটিশ সরকার গণহত্যায় সহায়তাকারী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পার্লামেন্টের এই সদস্যদের কয়েকজন হলেন জারাহ সুলতানা, জন ম্যাকডোনেল ও জেরেমি করবিন।
চিঠির সমন্বয় করা লেবার এমপি স্টিভ উইদারডেন বলেন, ইসরায়েল গাজা মিশিয়ে দিতে যেসব যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, সেগুলোর ১৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ ব্রিটেনে তৈরি। এ বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্রিটিশ সরকারের রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়া এ যুদ্ধবিমানগুলো উড়তে পারত না, বোমা ফেলতে পারত না।
উত্তর দাবি করছেন এমপিরা
গত মাসের পার্লামেন্ট বিতর্কের পরপরই আইনপ্রণেতারা এ চিঠি দেন। ওই বিতর্কে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৪ সালে ইসরায়েলে ব্রিটেনের অস্ত্র রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করে এক্সপোর্ট কন্ট্রোল জয়েন্ট ইউনিট (ইসিজেইউ)। এমপি ও লর্ডরা চিঠিতে এ–সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
বিতর্কে ট্রেডমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার দাবি করেন, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের জন্য অনুমোদিত ১৪২ মিলিয়ন পাউন্ডের রপ্তানি লাইসেন্সের অধিকাংশ ছিল প্রকৃতপক্ষে ন্যাটো মিত্রসহ তৃতীয় দেশগুলোতে যন্ত্রাংশ পুনঃরপ্তানির উদ্দেশ্যে।
তবে চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসিজেইউর তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ইস্যু করা ১৪১ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ‘স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডিভিজ্যুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’-এর অর্ধেকের বেশি সরাসরি ইসরায়েলে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়েছে বলে মনে হয়।
চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী অধিকাংশ লাইসেন্স তৃতীয় দেশের জন্য—এ দাবির সঙ্গে ইসিজেইউর প্রকাশিত তথ্য কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়?
আলেকজান্ডার আরও বলেন, ইসরায়েলের জন্য অনুমোদিত সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি লাইসেন্সগুলোর মধ্যে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি, অর্থাৎ মোট মূল্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ ‘একটি নির্দিষ্ট ন্যাটো মিত্রের জন্য একটি একক প্রকল্পে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর সামরিক পণ্য রপ্তানিতে সহায়তায় ব্যবহারের’ উদ্দেশ্যে ছিল।
চিঠিতে এমপি ও লর্ডরা জানতে চেয়েছেন—প্রকল্পটি কী, কোন ন্যাটো মিত্র এতে জড়িত, প্রকল্পটি কখন শুরু হয়েছে এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী।
স্টিভ উইদারডেন বলেন, অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে স্বচ্ছতার দাবিতে বারবার চাপ দেওয়া হলেও সরকার এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেয়নি।
‘যেসব রাষ্ট্র বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের কাছে কোন ধরনের অস্ত্র যাচ্ছে, সে তথ্যের ব্যাপারে আমাদের ন্যূনতম সততা থাকা উচিত’, বলেন উইদারডেন।
আদালতের রায়
গত মাসে ব্রিটিশ হাইকোর্ট একটি মামলা খারিজ করে দেন। মামলাটিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ব্রিটেনের নির্মিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ ইসরায়েলে রপ্তানি বন্ধের আবেদন করেছিল। এ যন্ত্রাংশ বিশ্বব্যাপী একটি যৌথ সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে ইসরায়েলে যায়।
এ নিয়ে ২০ মাস ধরে আইনি লড়াই শেষে বিচারকেরা বলেন, বিষয়টি আদালতের নয়; বরং নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত, যারা পার্লামেন্ট ও চূড়ান্তভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
![]() |
| ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ২১ জুলাই পার্লামেন্টে ইসরায়েল বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি: হাউস অব কমন্স/এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় অপুষ্টিতে ৮০ শিশুসহ ১০১ ফিলিস্তিনির মৃত্যু, অনাহারে বেহুঁশ হয়ে যাচ্ছেন জাতিসংঘের কর্মীরা
আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, অপুষ্টিতে ভুগে মারা যাওয়া ১০১ জনের মধ্যে আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। তাঁদের মধ্যে ১২ জন শিশু। গাজায় বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ মানুষ ক্ষুধায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া। এর মধ্যে ৭০ হাজার শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
গাজায় বর্তমানে একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। খুব সীমিত পরিমাণে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে জাতিসংঘের ত্রাণ। সেখানেও চলছে লুটপাট। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিচালিত বিতর্কিত ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রগুলোতে খাবার সংগ্রহ করতে দিয়ে নির্বিচার গুলির মুখে পড়ছেন ফিলিস্তিনিরা। ৭ মে থেকে ত্রাণকেন্দ্রগুলোর কাছে হত্যা করা হয়েছে ১ হাজারের বেশি মানুষকে।
শুধু গাজার বাসিন্দারা নয়, অনাহারে ভুগছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউর কর্মী ও চিকিৎসকেরাও। সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, অনাহার ও অবসাদের কারণে তাঁদের অনেক কর্মী ও চিকিৎসক কাজ করতে করতে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছেন। কর্মীদের কাছ থেকে এমন ঘটনার কয়েক ডজন বার্তা পেয়েছেন তিনি।
গাজায় বিতর্কিত ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামের একটি সংস্থা। জিএইচএফের সমালোচনা করে লাজ্জারিনি বলেন, সংস্থাটির ত্রাণকেন্দ্রগুলো হলো মৃত্যুর ফাঁদ। ত্রাণ নিতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের স্নাইপাররা নির্বিচার গুলি করেন, যেন তাঁদের হত্যা করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গাজায় অবস্থান করা সাংবাদিকেরাও অনাহারে মারা যেতে পারেন বলে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকদের সংগঠন। এক চিঠিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সাংবাদিকদের এভাবে মৃত্যুর মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না। পরে এএফপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে গাজায় অবস্থান করা সংস্থাটির সাংবাদিকদের বেহাল দশার কথা স্বীকার করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের এমন অসহায় অবস্থার মধ্যে গাজায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। আজ ভোর থেকে উপত্যকাটিতে অন্তত ৫১ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় সেখানে ৫৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে ‘এখনই যুদ্ধ থামানোর’ আহ্বান জানিয়ে গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ২৮টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। তাদের মতে, গাজায় ‘মানুষের দুর্ভোগ এক নতুন গভীরতায় পৌঁছেছে’। বিবৃতিতে সমঝোতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং জরুরি মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই বিবৃতিকে ‘বাস্তবতা বিচ্ছিন্ন’ বলে উল্লেখ করেছে ইসরায়েল।
| মোসাব আল-দেবসের বয়স ১৪ বছর। তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে সে। আজ মঙ্গলবার গাজা নগরীর আল-শিফা হাসপাতালে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1347)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
July
(186)
-
▼
Jul 23
(10)
- গাজায় ক্ষুধায় লুটিয়ে পড়ছে মানুষ: ১০৯ ত্রাণ সংস্থার...
- গাজা নিয়ে প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়ান সিনেটরের শাস্তি: ...
- নেতানিয়াহুর প্রতি হোয়াইট হাউসের সন্দেহ দিন দিন বাড়ছে
- ট্রাম্পের আমেরিকা এখন এক বারুদের বাক্স by অ্যালেক্...
- তাজউদ্দীন আহমদ: রোজনামচার মানুষটিকে বোঝা by সেলিম ...
- ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ২৩ দেশের ...
- বিমান দুর্ঘটনা: অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য ও ফেসবুকে গুজ...
- অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরেও আরেকটা সরকার আছে: দেবপ্...
- ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুরোদমে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবি...
- গাজায় অপুষ্টিতে ৮০ শিশুসহ ১০১ ফিলিস্তিনির মৃত্যু, ...
-
▼
Jul 23
(10)
-
▼
July
(186)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




